সহীহ ইবনু হিব্বান
2112 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: رَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَسًا بِالْمَدِينَةِ فَصَرَعَهُ عَلَى جِذْعِ نَخْلَةٍ، فَانْفَكَّتْ قَدَمُهُ فَأَتَيْنَاهُ نَعُودُهُ فَوَجَدْنَاهُ فِي مَشْرُبَةٍ لِعَائِشَةَ يُسَبِّحُ جَالِسًا فَقُمْنَا خَلْفَهُ فَتَنَكَّبَ عَنا، ثُمَّ أَتَيْنَاهُ مَرَّةً أُخْرَى فَوَجَدْنَاهُ يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ، فَقُمْنَا خَلْفَهُ فَأَشَارَ إِلَيْنَا فَقَعَدْنَا، فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ قَالَ: «إِذَا صَلَّى الْإِمَامُ جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا، وَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَلَا تَفْعَلُوا كَمَا يَفْعَلُ أَهْلُ فَارِسٌ بِعُظَمَائِهَا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2109) [ص:477] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فِي هَذَا الْخَبَرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ أَنَّ اللَّفْظَةَ الَّتِي فِي خَبَرِ حُمَيْدٍ حَيْثُ صَلَّى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهِمْ قَاعِدًا وَهُمْ قِيَامٌ إِنَّمَا كَانَتْ تِلْكَ سُبْحَةً، فَلَمَّا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ الْفَرِيضَةُ أَمَرَهُمْ أَنْ يُصَلُّوا قُعُودًا كَمَا صَلَّى هُوَ فَفِي هَذَا أَوْكَدُ الْأَشْيَاءِ أَنَّ الْأَمْرَ مِنْهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَا وَصَفْنَا أَمْرُ فَرِيضَةٍ لَا فَضِيلَةٍ»
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় ঘোড়ায় আরোহন করেন, অতঃপর ঘোড়া তাঁকে একটি খেজুর গাছের ডালের উপর ফেলে দেয় ফলে তাঁর পা ফেটে যায়। অতঃপর আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কামরায় আমরা তাঁকে দেখতে পেলাম, এসময় তিনি বসে নফল সালাত আদায় করছিলেন। অতঃপর আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। তিনি আমাদের থেকে সরে গেলেন। তারপর আমরা আবার তাঁর কাছে আসি এবং তাঁকে ফরয সালাত আদায় করতে দেখি। আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়াই। তিনি আমাদের দিকে ইশারা করলেন ফলে আমরা বসে পড়লাম। অতঃপর যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন, “যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে, আর যখন ইমাম ইমাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। পারসিকরা যেমন তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে করে, তোমরা সেরকম করবে না।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের শব্দে বলা হয়েছে যে, তিনি বসে সালাত আদায় করছিলেন আর সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন। এটি ছিল নফল সালাত। যখন ফরয সালাতের সময় হয়, তখন তিনি তাদেরকে বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেন, যেভাবে তিনি নিজে বসে সালাত আদায় করছিলেন। কাজেই এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূরণ বিষয় হলো যা আমরা বর্ণনা করলাম সেটা হলো এই নির্দেশ ফরয নির্দেশ; মুস্তাহাব নির্দেশক নয়।”
[1] আবূ দাঊদ: ৬০২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬১৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 122)، «صحيح أبي داود» (615).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي على شرط مسلم، أبو سفيان: هو طلحة بن نافع الواسطي، ويقال: المكي صاحب جابر، قال أحمد، والنسائي: ليس به بأس، ابن أبي خيثمة عن ابن معين: ليس بشيء، وقال أبو حاتم: أبو الزبير أحب إلي منه، وقال ابن عدي: أحاديث الأعمش عنه مستقيمة، وقال ابن عيينة: حديثه عن جابر صحيفة، وقال شعبة: لم يسمع من جابر إلا أربعة أحاديث، وكذا قال ابن المديني في العلل عن معلى بن منصور، عن ابن أبي زائدة مثله، أخرج له البخاري أربعة أحاديث، وهو مقرون فيها عنده بغيره، واحتج به الباقون، وقال في «التقريب»: صدوق.
2113 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهِبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: خَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ فَرَسٍ فَجُحِشَ، فَصَلَّى لَنَا قَاعِدًا فَصَلَّيْنَا مَعَهُ قُعُودًا، ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ: «إِنَّمَا الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا، وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2110) [ص:478] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: زَعَمَ بَعْضُ الْعِرَاقِيِّينَ مِمَّنْ كَانَ يَنْتَحِلُ مَذْهَبَ الْكُوفِيِّينَ أَنَّ قَوْلَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَرَادَ بِهِ، وَإِذَا تَشَهَّدَ قَاعِدًا فَتَشَهَّدُوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ» فَحَرَّفَ الْخَبَرَ عَنْ عُمُومِ مَا وَرَدَ الْخَبَرُ فِيهِ بِغَيْرِ دَلِيلٍ يَثْبُتُ لَهُ عَلَى تَأْوِيلِهِ
আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার ঘোড়া থেকে পড়ে যান ফলে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন। অতঃপর এক সালাতের সময় হলে তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বলেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়, তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই যখন তিনি তাকবীর দিবেন, তখন তোমরাও তাকবীর দিবে, যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন তিনি (রুকূ‘ থেকে মাথা) উত্তোলন করবেন, তখন তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে, যখন তিনি سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) বলবেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা) আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও সবাই বসে সালাত আদায় করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কিছু ইরাকবাসী, যারা নিজেদের কুফাবাসীদের মাযহাবের (হানাফী মাযহাবের) দাবী করেন, তারা মনে করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও সবাই বসে সালাত আদায় করবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো “যখন ইমাম বসে তাশাহহুদ পড়বে, তখন তোমরাও সবাই বসে তাশাহহুদ পড়বে!” এভাবে তারা তাদের ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে কোন রকম দলীল ছাড়া হাদীসের ব্যাপক অর্থকে বিকৃত করেছে!”
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৫; সহীহ মুসলিম: ৪১১; হুমাইদী: ১১৮৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১১০; সহীহ আল বুখারী: ৮০৫; নাসাঈ: ২/১৯৫-১৯৬; ইবনু মাজাহ: ১২৩৮; আবূ আওয়ানা: ২/১০৫; ইবনুল জারূদ: ২২৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৭৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر (2099). تنبيه!! رقم (2099) = (2102) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله رجال الشيخين غير يزيد بن موهب، وهو يزيد بن خالد بن يزيد بن عبد الله بن موهب، فإنه لم يخرجا له ولا أحدهما، وهو ثقة.
2114 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: صُرِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ فَرَسٍ لَهُ فَوَقَعَ عَلَى جِذْعِ نَخْلَةٍ، فَانْفَكَّتْ قَدَمُهُ فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ نَعُودُهُ وَهُوَ يُصَلِّي فِي مَشْرُبَةٍ لِعَائِشَةَ جَالِسًا فَصَلَّيْنَا بِصَلَاتِهِ وَنَحْنُ قِيَامٌ، ثُمَّ دَخَلْنَا عَلَيْهِ مَرَّةً أُخْرَى وَهُوَ يُصَلِّي جَالِسًا فَصَلَّيْنَا بِصَلَاتِهِ وَنَحْنُ قِيَامٌ فَأَوْمَأَ إِلَيْنَا أَنِ اجْلِسُوا فَلَمَّا صَلَّى قَالَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِنْ صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا وَلَا تَقُومُوا وَهُوَ جَالِسٌ كَمَا يَصْنَعُ [ص:479] أَهْلُ فَارِسٍ بِعُظَمَائِهَا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2111) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فِي قَوْلِ جَابِرٍ: فَصَلَّيْنَا بِصَلَاتِهِ وَنَحْنُ قِيَامٌ، بَيَانٌ وَاضِحٌ عَلَى دَحْضِ قَوْلِ هَذَا الْمُتَأَوِّلِ إِذِ الْقَوْمُ لَمْ يَتَشَهَّدُوا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُمْ قِيَامٌ وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ فِي الصَّلَاةِ الْأُخْرَى فَصَلَّيْنَا بِصَلَاتِهِ وَنَحْنُ قِيَامٌ فَأَوْمَأَ إِلَيْنَا أَنِ اجْلِسُوا أَرَادَ بِهِ الْقِيَامَ الَّذِي هُوَ فَرْضُ الصَّلَاةِ لَا التَّشَهُّدَ»
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় ঘোড়ায় আরোহন করেন, অতঃপর ঘোড়া তাঁকে একটি খেজুর গাছের ডালের উপর ফেলে দেয় ফলে তাঁর পা ফেটে যায়। অতঃপর আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কামরায় আমরা তাঁকে দেখতে পেলাম, এসময় তিনি বসে নফল সালাত আদায় করছিলেন। অতঃপর আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। তিনি আমাদের থেকে সরে গেলেন। তারপর আমরা আবার তাঁর কাছে আসি এবং তাঁকে ফরয সালাত আদায় করতে দেখি। আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়াই। তিনি আমাদের দিকে ইশারা করলেন ফলে আমরা বসে পড়লাম। অতঃপর যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন, “যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে, আর যখন ইমাম ইমাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। পারসিকরা যেমন তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে করে, তোমরা সেরকম করবে না।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্যে বলা হয়েছে “অতঃপর আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করি” এটি এই লোকের ব্যাখ্যাকে স্পষ্টভাবে বাতিল করে। কেননা সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে দাঁড়িয়ে তাশাহ্হুদ পড়েননি। অনুরুপভাবে অন্য সালাতে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্যে বলা হয়েছে “আমরা দাঁড়ানো অবস্থায় তাঁর মতো সালাত আদায় করি।তখন তিনি আমাদের ইঙ্গিত করে বলেন, “তোমরা বসে সালাত আদায় করো।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কিয়াম, যা সালাতে ফরয; এখানে তাশাহ্হুদ উদ্দেশ্য নয়।”
[1] আবূ দাঊদ: ৬০২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬১৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: وهو مكرر (2109). تنبيه!! رقم (2109) = (2112) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي على شرط مسلم
2115 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي يُونُسَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا: [ص:480] اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ، وَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2112) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فِي تَقْرِيرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَمْرَ لِلْمَأْمُومِينَ أَنْ يُصَلُّوا قِيَامًا إِذَا صَلَّى إِمَامُهُمْ قَائِمًا بِالْأَمْرِ بِالصَّلَاةِ قُعُودًا إِذَا صَلَّى إِمَامُهُمْ جَالِسًا أَعْظَمُ الْبَيَانِ أَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يُرِدْ بِهِ التَّشَهُّدَ فِي الْأَمْرَيْنِ جَمِيعًا وَإِنَّمَا أَرَادَ الْقِيَامَ الَّذِي هُوَ فَرْضُ الصَّلَاةِ أَنْ يُؤْتَى بِهِ كَمَا يَأْتِي الْإِمَامُ»
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয় তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই যখন তিনি তাকবীর দিবেন, তখন তোমরাও তাকবীর দিবে, যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করবেন, তখন তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে, যখন তিনি سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) বলবেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা), যখন তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখানে মুক্তাদীদের দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন, যখন ইমাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি সাথে এটাও নির্দেশ দিয়েছেন যে, ইমাম যখন বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তারাও বসে সালাত আদায় করবে। কাজেই এটি সবচেয়ে বড় দলীল যে, উভয় ক্ষেত্রে রাসূল তাশাহ্হুদ উদ্দেশ্য নেননি বরং তিনি কিয়াম উদ্দেশ্য নিয়েছেন, যা সালাতের একটি ফরয বিধান। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এটা যেন সেভাবেই সম্পন্ন করা হয়, যেভাবে ইমাম সম্পন্ন করেন।”
[1] হুমাইদী: ৯৫৮; সহীহ আল বুখারী: ৭৩৪; সহীহ মুসলিম: ৪১৪; আবূ আওয়ানা: ২/১০৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬১৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৪১; আবূ দাঊদ: ৬০৩; নাসাঈ: ২/১৪১; ইবনু মাজাহ: ৮৪৬; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৮২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৮৫২; হুমাইদী: ৯৫৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২/১১৯-১২০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق، وتقدم (2104). تنبيه!! رقم (2104) = (2107) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي على شرط مسلم، أبو يونس: اسمه سليم بن جبير وهو مولى أبي هريرة.
2116 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ لَهَا: أَلَا تُحَدِّثِينِي عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَتْ: بَلَى، ثَقُلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أَصَلَّى النَّاسُ؟ » فَقُلْتُ: لَا هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ» قَالَتْ: فَفَعَلْنَا فَاغْتَسَلَ، ثُمَّ ذَهَبَ لِيَنْوِيَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ، ثُمَّ أَفَاقَ، [ص:481] فَقَالَ: «أَصَلَّى النَّاسُ؟ » فَقُلْتُ: لَا هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالنَّاسُ عُكُوفٌ فِي الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُونَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِصَلَاةِ الْعِشَاءِ الْآخِرَةِ، قَالَتْ: فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أَنْ صَلِّ بِالنَّاسِ فَأَتَاهُ الرَّسُولُ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُكَ أَنْ تُصَلِّيَ بِالنَّاسِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَكَانَ رَجُلًا رَقِيقًا: يَا عُمَرُ صَلِّ بِالنَّاسِ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: أَنْتَ أَحَقُّ بِذَلِكَ، قَالَ: فَصَلَّى بِهِمْ أَبُو بَكْرٍ تِلْكَ الْأَيَّامَ، قَالَتْ: ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَدَ مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً فَخَرَجَ بَيْنَ رَجُلَيْنِ لِصَلَاةِ الظُّهْرِ وَأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ، قَالَتْ: فَلَمَّا رَآهُ أَبُو بَكْرٍ ذَهَبَ لِيَتَأَخَّرَ، فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ أَنْ لَا يَتَأَخَّرَ، وَقَالَ لَهُمَا: «أَجْلِسَانِي إِلَى جَنْبِهِ» فَأَجْلَسَاهُ إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ فَجَعَلَ أَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي وَهُوَ قَائِمٌ بِصَلَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلَاةِ أَبِي بَكْرٍ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدٌ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: فَدَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ: أَلَا أَعْرِضُ عَلَيْكَ مَا حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ، عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ: هَاتِ فَعَرَضْتُ حَدِيثَهَا عَلَيْهِ، فَمَا أَنْكَرَ مِنْهُ شَيْئًا. [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2113)
উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছে গিয়ে বললাম, “আপনি কি আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতা সম্পর্কে আমাকে হাদীস বর্ণনা করবেন না?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতা অত্যন্ত বেড়ে যায়, সে সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, “লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে?” আমরা বললাম, “জ্বী, না। হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।” তিনি বললেন, “আমার জন্য পাত্রে পানি দাও।” আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন। অতঃপর একটু উঠতে চাইলেন, কিন্তু বেহুঁশ হয়ে গেলেন। তারপর কিছুক্ষণ পর হুঁশ ফিরে পেয়ে বললেন, “লোকজন কি সালাত আদায় করে নিয়েছে?” আমি বললাম, “জ্বী, না। হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।” এসময় সাহাবীগণ ইশার সালাতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপেক্ষায় মসজিদে অবস্থান করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এ মর্মে লোক পাঠালেন যে, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। সংবাদ বাহক আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।” আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত কোমল মনের লোক ছিলেন, তিনি ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুরকে বললেন, “হে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, আপনি সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করুন।” উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আপনিই এর অধিক উপযুক্ত। তাই আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সে কয়দিন সালাত আদায় করলেন। আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু হাল্কাবোধ করলেন এবং দু’জন লোকের কাঁধে ভর করে যুহরের সালাতের জন্য বের হলেন। এসময় আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন।” আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “যখন আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেলেন, পিছনে সরে আসতে চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পিছিয়ে না আসার জন্য ইঙ্গিত করলেন এবং তিনি তাঁর দুই পাশের ব্যক্তিদ্বয়কে বললেন, “তোমরা আমাকে তাঁর পাশে বসিয়ে দাও।” ফলে তাঁরা তাঁকে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পাশে বসিয়ে দিলেন। অতঃপর আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের ইক্তিদা করে সালাত আদায় করতে লাগলেন। আর সাহাবীগণ আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সালাতের ইক্তিদা করতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উপবিষ্ট ছিলেন।” উবাইদুল্লাহ বলেন, “অতঃপর আমি আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তিমকালের অসুস্থতা সম্পর্কে আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা আমাকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তা কি আমি আপনার নিকট পেশ করব না?” তিনি বললেন, “বলুন।” তারপর আমি তাঁর কাছে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার হাদীস পেশ করলাম। হাদীস শুনার পর তিনি সেই ব্যাপারে কোন রকম আপত্তি করেননি।” [1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু শাইবাহ: ২/৩৩২; আহমাদ: ৬/৬/২৫১; নাসাঈ: ১০১-১০২; সহীহুল বুখারী: ৬৮৭; সহীহ মুসলিম: ৪১৮; আবূ আওয়ানা: ২/১১১; দারেমী: ১/২৮৭; তাহাবী, শারহু মাআনিল আসার: ১/৪০৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৮০; হুমাইদী: ২৩৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯৭৫৪; আহমাদ: ৬/২২৮; ইবনু মাজাহ: ১৬৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা'লীকাতুল হিসান: ১১১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، زائدة: هو ابن قدامة.
2117 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَدَلُ بْنُ الْمُحَبَّرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ، عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّ أَبَا بَكْرٍ صَلَّى بِالنَّاسِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّفِّ خَلْفَهُ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2114) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: خَالَفَ شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ زَائِدَةَ بْنَ قُدَامَةَ فِي مَتْنِ هَذَا الْخَبَرِ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ فَجَعَلَ شُعْبَةُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَأْمُومًا حَيْثُ صَلَّى قَاعِدًا وَالْقَوْمُ قِيَامٌ وَجَعَلَ زَائِدَةُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِمَامًا حَيْثُ صَلَّى قَاعِدًا وَالْقَوْمُ قِيَامٌ وَهُمَا مُتْقِنَانِ حَافِظَانِ فَكَيْفَ يَجُوزُ أَنْ تُجْعَلُ إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ اللَّتَيْنِ تَضَادَّتَا فِي الظَّاهِرِ فِي فِعْلٍ وَاحِدٍ نَاسِخًا لِأَمْرٍ مُطْلَقٍ مُتَقَدِّمٍ، فَمَنْ جَعَلَ أَحَدَ الْخَبَرَيْنِ [ص:484] نَاسِخًا لِمَا تَقَدَّمَ مِنْ أَمْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَرَكَ الْآخَرَ مِنْ غَيْرِ دَلِيلٍ يَثْبُتُ لَهُ عَلَى صِحَّتِهِ سَوَّغَ لِخَصْمِهِ أَخْذَ مَا تَرَكَ مِنَ الْخَبَرَيْنِ وَتَرْكَ مَا أَخَذَ مِنْهُمَا، وَنَظِيرُ هَذَا النَّوْعِ مِنَ السُّنَنِ خَبَرُ ابْنِ عَبَّاسٍ «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَكَحَ مَيْمُونَةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ»، وَخَبَرُ أَبِي رَافِعٍ «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَكَحَهَا وَهُمَا حَلَالَانِ» فَتَضَادَّ الْخَبَرَانِ فِي فِعْلٍ وَاحِدٍ فِي الظَّاهِرِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُونَ بَيْنَهُمَا تَضَادٌّ عِنْدَنَا فَجَعَلَ جَمَاعَةٌ مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ الْخَبَرَيْنِ اللَّذَيْنِ رُوِيَا فِي نِكَاحِ مَيْمُونَةَ مُتَعَارِضَيْنِ وَذَهَبُوا إِلَى خَبَرِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَنْكِحُ الْمُحْرِمُ وَلَا يُنْكِحُ» فَأَخَذُوا بِهِ إِذْ هُوَ يُوَافِقُ إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ اللَّتَيْنِ رُوِيَتَا فِي نِكَاحِ مَيْمُونَةَ وَتَرَكُوا خَبَرَ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَكَحَهَا وَهُوَ مُحْرِمٌ. [ص:485] فَمَنْ فَعَلَ هَذَا لَزِمَهُ أَنْ يَقُولَ تَضَادَّ الْخَبَرَانِ فِي صَلَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عِلَّتِهِ عَلَى حَسْبِ مَا ذَكَرْنَاهُ قَبْلُ فَيَجِبُ أَنْ نَجِيءَ إِلَى الْخَبَرِ الَّذِي فِيهِ الْأَمْرُ بِصَلَاةِ الْمَأْمُومِينَ قُعُودًا إِذَا صَلَّى إِمَامُهُمْ قَاعِدًا فَنَأْخُذُ بِهِ إِذْ هُوَ يُوَافِقُ إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ اللَّتَيْنِ رُوِيَتَا فِي صَلَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عِلَّتِهِ وَنَتْرُكَ الْخَبَرَ الْمُنْفَرِدَ عَنهُمَا كَمَا فَعَلَ ذَلِكَ فِي نِكَاحِ مَيْمُونَةَ وَلَيْسَ عِنْدَنَا بَيْنَ هَذِهِ الْأَخْبَارِ تَضَادٌّ وَلَا تَهَاتُرٌ وَلَا نَاسِخٌ وَلَا مَنْسُوخٌ بَلْ مِنْهَا مُخْتَصَرٌ وَمُتَقَصًّى وَمُجْمَلٌ وَمُفَسَّرٌ إِذَا ضُمَّ بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ بَطَلَ التَّضَادُّ بَيْنَهُمَا وَاسْتُعْمِلَ كُلُّ خَبَرٍ فِي مَوْضِعِهِ عَلَى مَا سَنُبَيِّنُهُ إِنْ قَضَى اللَّهُ ذَلِكَ وَشَاءَهُ
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “ আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেছেন এমন অবস্থায় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর পিছনের কাতারে ছিলেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসের মূল বক্তব্যে শু‘বাহ বিন হাজ্জাজ মূসা বিন আবূ আয়িশা থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে যায়িদাহ বিন কুদামার বিরোধিতা করেছেন। ইমাম শু‘বাহর বর্ণনায় এসেছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্তাদী হয়ে বসে সালাত আদায় করেছেন আর লোকজন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন। আর যায়িদার বর্ণনায় এসেছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম হয়ে বসে সালাত আদায় করেছেন আর লোকজন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন। এখানে শু‘বাহ ও যায়িদাহ উভয়েই হাফেযে হাদীস ও মজবূত রাবী। কাজেই এটা কিভাবে জায়েয হতে পারে যে, একই কাজে বাহ্যত পরস্পর বিরোধী দুটো হাদীসের মধ্যে একটিকে রহিতকারী সাব্যস্ত করা যাবে, যা পূ্র্বের ব্যাপক অর্থবোধক কোন বিষয়কে রহিত করে দিবে? সুতরাং যিনি দুই হাদীসের মধ্যে একটিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বের নির্দেশকে বিশুদ্ধ কোন প্রমাণ ছাড়াই রহিতকারী নির্ধারণ করবে, তিনি এর মাধ্যমে তার বিরোধীদেরকে তিনি যে হাদীস গ্রহণ করেছেন, তা বর্জন করা, আর যা তিনি বর্জন করেছেন, তা গ্রহণ করার বৈধতা দিয়েছেন! হাদীসে এর আরো দৃষ্টান্ত হলো আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীস। যেখানে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন।” পক্ষান্তরে আবূ রাফি‘ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহ করেছিলেন এমন অবস্থায় যে, তাঁরা দুইজনই হালাল ছিলেন।” কাজেই একই কাজের ব্যাপারে হাদীস দুটো বাহ্যত পরস্পর বিরোধী। যদিও আমাদের নিকট উভয় হাদীসের মাঝে কোন বৈপরীত্ব নেই। এক্ষেত্রে একদল মুহাদ্দিস মাইমূনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহ করার ব্যাপারে হাদীস দুটোকে পরস্পর বিরোধী সাব্যস্ত করেছেন। অতঃপর তাঁরা এই ব্যাপারে উসমান বিন আফ্ফান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসকে গ্রহণ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, “মুহরিম ব্যক্তি নিজে বিবাহ করতে পারবে না এবং তাকে বিবাহ দেওয়াও যাবে না” তাঁরা এই হাদীসকে গ্রহণ করেছেন। কেননা মাইমূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহ করার ব্যাপারে বর্ণিত দুটি হাদীসের মধ্যে একটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাঁরা আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীস বর্জন করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন। যিনি এমন পন্থা অবলম্বন করেছেন, তার জন্য জরুরী হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থতার সময় তাঁর সালাতের বিষয়ে পরস্পর বিরোধী দুটি হাদীসের ক্ষেত্রেও অনুরুপ কথা বলা, যা আমরা পূর্বে বর্ণনা করলাম। কাজেই আমাদের জন্য আবশ্যক হলো ঐ হাদীসের দিকে যাওয়া যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্তাদীদেরকে বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন, যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করেন। আমরা এই হাদীস গ্রহণ করবো, কেননা এই হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থতার সময় তাঁর সালাতের বিষয়ে পরস্পর বিরোধী দুটি হাদীসের মধ্যে একটি হাদীসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর আমরা দুই জনের মাঝে যিনি এককভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার হাদীসটি বর্জন করবো, যেমনটা মাইমূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহ করার ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদীসের ব্যাপারে করা হয়েছে। আর আমাদের নিকট এসব হাদীসের মাঝে কোন বৈপরীত্ব, রহিতকারী, রহিত কোন কিছু নেই। বরং এসব হাদীসের মাঝে কোনটা সংক্ষিপ্ত কোনটা বিস্তারিত, কোনটা ব্যাখ্যাকৃত কোনটা ব্যাখ্যাহীন। যখন এক হাদীসকে অপর হাদীসের সাথে যুক্ত করা হবে, তখন উভয়ের মাঝে আর কোন বৈপরীত্ব থাকবে না। বরং প্রত্যেকটি হাদীস স্বস্বস্থানে ব্যবহৃত হবে, যা আমরা যথাস্থানে বর্ণনা করবো যদি আল্লাহ তা ফায়সালা করেন এবং চান।”
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬২১; নাসাঈ: ২/৮৩-৮৪; আবূ আওয়ানা: ২/১১২-১১৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২১১৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري.
2118 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ مَوْلَى ثَقِيفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ الْعَبْسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَاصِمٍ *، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: أُغْمِيَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ: «أَصَلَّى النَّاسُ؟ » قُلْنَا: لَا قَالَ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسُ؟ » فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ أَسِيفٌ إِذَا قَامَ مَقَامَكَ لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ، - قَالَ عَاصِمٌ: وَالْأَسِيفُ الرَّقِيقُ الرَّحِيمُ - قَالَ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ» قَالَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ أَرُدُّ عَلَيْهِ قَالَتْ: [ص:486] فَصَلَّى أَبُو بَكْرٍ بِالنَّاسِ، ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَدَ خِفَّةً مِنْ نَفْسِهِ فَخَرَجَ بَيْنَ بَرِيرَةَ وَنُوبَةَ إِنِّي لَأَنْظُرُ إِلَى نَعْلَيْهِ تَخُطَّانِ فِي الْحَصَا وَأَنْظُرُ إِلَى بُطُونِ قَدَمَيْهِ، فَقَالَ لَهُمَا: «أَجْلِسَانِي إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ» فَلَمَّا رَآهُ أَبُو بَكْرٍ ذَهَبَ يَتَأَخَّرُ، فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ أَنِ اثْبُتْ مَكَانَكَ فَأَجْلَسَاهُ إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ: فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يُصَلِّي وَهُوَ جَالِسٌ وَأَبُو بَكْرٍ قَائِمٌ يُصَلِّي بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلَاةِ أَبِي بَكْرٍ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2115)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, তারপর আবার জ্ঞান ফিরে পান। অতঃপর তিনি বলেন, “লোকজন কি সালাত আদায় করেছে?” আমরা বললাম, “জ্বী, না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমি বললাম, নিশ্চয়ই আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নরম হৃদয়ের মানুষ। যখন তিনি আপনার জায়গায় দাঁড়াবেন, তখন তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে পারবেন না।” আসিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “أَسِيفٌ এর অর্থ কোমল, দয়ালূ।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা তিনবার বলেন। আর আমি প্রত্যেকবার একই জবাব দিয়েছি। তারপর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুটা হালকা অনুভব করেন। তারপর তিনি বারীরা ও নূবা মাঝে থেকে মাসজিদের দিকে বের হন। আমি তাঁর দেখছিলাম, তাঁর জুতা দুটো কঙ্করের মাঝে হেঁচড়ে যাচ্ছিলো, আমি তাঁর পায়ের পেট দেখতে পাচ্ছিলাম। তিনি তাদের দুইজনকে বললেন, “তোমরা আমাকে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পাশে বসিয়ে দাও। অতঃপর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন তাঁকে দেখতে পান, তখন তিনি পিছু হটতে উদ্যত হন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইশারায় বললেন, “আপনি নিজ জায়গায় থাকুন।” তারপর তারা দুইজন তাঁকে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পাশে বসিয়ে দেন। আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সময় বসে সালাত আদায় করেন, আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের অনুসরণ করেন আর লোকজন আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সালাতের অনুসরণ করেন।”[1]
[1] মুসন্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫২৪; শামাইলে তিরমিযী: ৩৭৮; ইবনু মাজাহ: ১২৩৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২১১৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - انظر التعليق. * [عَنْ عَاصِمٍ] قال الشيخ: هو ابن بهدلة، أبي النَّجود، وهو حسن الحديث، كما تقَّدَم - مِراراً - وقد توبع كما يأتي، وبقيَّةُ الرجال ثقات معروفون. وعثمان بن أبي شيبة العَبْسِيُّ: هو صاحب «المسند» المعروف به، وهو أخو أبي بكر بن أبي شيبة صاحب «المصنَّف» المشهور به. وقد تابعه فيه، فقال فيه (2/ 331): حدثنا حسين بن عليٍّ به. ويأتي الحديث (2221) من طريق نُعيمِ بنِ أبِي هندٍ، عن أبي وائل (وهو شقيق) - أحسِبُه - عن مسروق به. ومن هذا الوجه أخرج الجملة الأخيرة، وهي مُخَالِفةٌ لرواية ابن بَهدلَه؛ لأنَّها صريحةٌ بأنَّهُ صلى الله عليه وسلم صَلَّى خَلفَ أبي بكرٍ: أخرجه البيهقيُّ (3/ 82)، وأحمد (6/ 159)، وكذا ابن أبي شيبة (2/ 332). وفي روايةِ ابن بَهدَلة: أن أبا بكرٍ صلَّى خَلفَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يقتدي به، ويقتدي الناس بصلاة أبي بكرٍ. وقد جَمَعَ المُؤلِّف بَينَ الرِّوَايَتَيْنِ على أنَّهُما صلاتان فراجعه. تنبيه!! رقم (2221) = (2224) من «طبعة المؤسسة». لكن الحديث ليس موجود بالرقم المشار إليه وإنما موجود برقم: (2121) الموافق لـ (2124) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، عاصم: هو ابن بهدلة، حسن الحديث، أخرجا له في الصحيحين مقروناً، وباقي السند رجاله رجال الشيخين غير زائدة –وهو ابن قدامة الثقفي- فإنه من رجال البخاري.
2119 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ أَبِي هِنْدَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ قَاعِدًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2116) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «خَالَفَ نُعَيْمُ بْنُ أَبِي هِنْدَ، عَاصِمَ بْنَ أَبِي النَّجُودِ فِي مَتْنِ هَذَا الْخَبَرِ فَجَعَلَ عَاصِمٌ أَبَا بَكْرٍ مَأْمُومًا وَجَعَلَ نُعَيْمُ بْنُ أَبِي هِنْدَ أَبَا بَكْرٍ إِمَامًا وَهُمَا ثِقَتَانِ حَافِظَانِ مُتْقِنَانِ، فَكَيْفَ يَجُوزُ أَنْ يُجْعَلَ خَبَرُ أَحَدِهِمَا نَاسِخًا لِأَمْرٍ [ص:488] مُتَقَدِّمٍ، وَقَدْ عَارَضَهُ فِي الظَّاهِرِ مِثْلُهُ؟ وَنَحْنُ نَقُولُ بِمَشِيئَةِ اللَّهِ وَتَوْفِيقِهِ: إِنَّ هَذِهِ الْأَخْبَارَ كُلَّهَا صِحَاحٌ وَلَيْسَ شَيْءٌ مِنْهَا يُعَارِضُ الْآخَرَ وَلَكِنَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى فِي عِلَّتِهِ صَلَاتَيْنِ فِي الْمَسْجِدِ جَمَاعَةً لَا صَلَاةً وَاحِدَةً فِي إِحْدَاهُمَا كَانَ مَأْمُومًا وَفِي الْأُخْرَى كَانَ إِمَامًا وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّهُمَا كَانَا صَلَاتَيْنِ لَا صَلَاةً وَاحِدَةً أَنَّ فِي خَبَرِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ بَيْنَ رَجُلَيْنِ يُرِيدُ أَحَدُهُمَا الْعَبَّاسَ وَالْآخَرَ عَلِيًّا وَفِي خَبَرِ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ بَيْنَ بَرِيرَةَ وَنُوبَةَ فَهَذَا يَدُلَّكُ عَلَى أَنَّهَا كَانَتْ صَلَاتَيْنِ لَا صَلَاةً وَاحِدَةً»
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অসুস্থতায় মারা যান, সে সময় তিনি আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পিছনে বসে সালাত আদায় করেছেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসের মূল বক্তব্যে নু‘আইম বিন আবূ হিনদ আসিম বিন আবুন নাজূদের বিরোধিতা করেছেন। আসিম বিন আবুন নাজূদের বর্ণনায় এসেছে যে, আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মুক্তাদী হয়ে সালাত আদায় করেছেন আর নু‘আইম বিন আবূ হিনদের বর্ণনায় এসেছে যে, আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইমাম হয়ে সালাত আদায় করেছেন। এখানে উভয় জনই হাফেযে হাদীস, নির্ভরযোগ্য মজবূত রাবী। কাজেই এটা কিভাবে জায়েয হতে পারে যে, দুটো হাদীসের মধ্যে একটিকে রহিতকারী সাব্যস্ত করা যাবে, যা পূ্র্বের ব্যাপক অর্থবোধক কোন বিষয়কে রহিত করে দিবে, অথচ তার মতোই আরেকটি হাদীসটি বাহ্যত তার সাথে সাংঘর্ষিক? আমরা আল্লাহ তাওফীক ও ইচ্ছায় বলি: এই ব্যাপারে সবগুলো হাদীসই বিশুদ্ধ। এর একটি হাদীসও অপর হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। বস্তুত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অসুস্থতার সময় জামা‘আতে দুইবার সালাত আদায় করেছেন; একবার নয়। একবার তিনি ইমাম ছিলেন আরেকবার তিনি মু্ক্তাদী ছিলেন। তিনি যে জামা‘আতে দুইবার সালাত আদায় করেছেন; একবার নয়- এই ব্যাপারে দলীল হলো উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজন ব্যক্তির মাঝে থেকে মাসজিদের উদ্দেশ্য বের হয়েছিলেন, তাদের একজন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আরেকজন আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। আর মাসরূক রহিমাহুল্লাহ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজন ব্যক্তির মাঝে থেকে মাসজিদের উদ্দেশ্য বের হয়েছিলেন, তাদের একজন বারীরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা আরেকজন নূবা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা। কাজেই এটি প্রমাণ করে যে, এখানে দুটি সালাত ছিল; একটি নয়।”
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ: ২/৩৩২; শারহু মাআনিল আসার: ১/৪০৬; আহমাদ: ৬/১৫৯; তিরমিযী: ৩৬২; সুনান বাইহাকী: ৩০৮৩; নাসাঈ: ২/৭৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬২০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা'লীকাতুল হিসান: ২১১৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله ثقات رجال الشيخين غيرنعيم بن أبي هند، فإنه من رجال مسلم وحده.
2120 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، وَعُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُجَيْرٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ جُنَادَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: لَمَّا مَرِضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَضَهُ الَّذِي مَاتَ فِيهِ جَاءَهُ بِلَالٌ يُؤْذِنُهُ بِالصَّلَاةِ، فَقَالَ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ» قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ أَسِيفٌ وَمَتَى يَقُمْ مَقَامَكَ يَبْكِ فَلَوْ أَمَرْتَ عُمَرَ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ قَالَ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ لِيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ» ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، «فَإِنَّكُنَّ صَوَاحِبَاتُ يُوسُفَ»، قَالَتْ: فَأَرْسَلْنَا إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَصَلَّى بِالنَّاسِ فَوَجَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً فَخَرَجَ يُهَادَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ وَرِجْلَاهُ تَخُطَّانِ فِي الْأَرْضِ، فَلَمَّا حَسَّ * بِهِ أَبُو بَكْرٍ ذَهَبَ يَتَأَخَّرُ، فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ مَكَانَكَ قَالَ: فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَلَسَ إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ فَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَأْتَمُّ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ يَأْتَمُّونَ بِأَبِي بَكْرٍ. [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2117) [ص:490] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «هَذَا خَبَرٌ مُخْتَصَرٌ مُجْمِلٌ فَأَمَّا اخْتِصَارُهُ، فَلَيْسَ فِيهِ ذِكْرُ الْمَوْضِعِ الَّذِي جَلَسَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعَلَى يَمِينِ أَبِي بَكْرٍ أَوْ عَنْ يَسَارِهِ؟ »
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, তারপর আবার জ্ঞান ফিরে পান। অতঃপর তিনি বলেন, “লোকজন কি সালাত আদায় করেছে?” আমরা বললাম, “জ্বী, না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমি বললাম, নিশ্চয়ই আবূ নরম হৃদয়ের মানুষ। যখন তিনি আপনার জায়গায় দাঁড়াবেন, তখন তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে পারবেন না।” আসিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “أَسِيفٌ এর অর্থ কোমল, দয়ালূ।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা তিনবার বলেন। আর আমি প্রত্যেকবার একই জবাব দিয়েছি। তারপর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুটা হালকা অনুভব করেন। তারপর তিনি বারীরা ও নূবা মাঝে থেকে মাসজিদের দিকে বের হন। আমি তাঁর দেখছিলাম, তাঁর জুতা দুটো কঙ্করের মাঝে হেঁচড়ে যাচ্ছিলো, আমি তাঁর পায়ের পেট দেখতে পাচ্ছিলাম। তিনি তাদের দুইজনকে বললেন, “তোমরা আমাকে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পাশে বসিয়ে দাও। অতঃপর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন তাঁকে দেখতে পান, তখন তিনি পিছু হটতে উদ্যত হন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইশারায় বললেন, “আপনি নিজ জায়গায় থাকুন।” তারপর তারা দুইজন তাঁকে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পাশে বসিয়ে দেন। আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সময় বসে সালাত আদায় করেন, আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের অনুসরণ করেন আর লোকজন আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সালাতের অনুসরণ করেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসটি সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যাহীন। সংক্ষিপ্ত এজন্য যে, এখানে উল্লেখ করা হয়নি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় বসেছিলেন; আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ডান দিকে না বাম দিকে।”
[1] মুসন্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫২৪; শামাইলে তিরমিযী: ৩৭৮; ইবনু মাজাহ: ১২৩৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২১১৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (2115). * [حَسَّ]: قال الشيخ: في الأصل: «أحس». تنبيه!! رقم (2115) = (2118) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله رجال الشيخين غير سلم بن جنادة، وهو ثقة.
2121 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: لَمَّا وَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً جَاءَ حَتَّى جَلَسَ عَنْ يَسَارِ أَبِي بَكْرٍ وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يُصَلِّي بِالنَّاسِ قَاعِدًا وَأَبُو بَكْرٍ قَائِمًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2118) [ص:491] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «وَأَمَّا إِجْمَالُ الْخَبَرِ فَإِنَّ عَائِشَةَ حَكَتْ هَذِهِ الصَّلَاةَ إِلَى هَذَا الْمَوْضِعِ وَآخِرُ الْقِصَّةِ عِنْدَ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ إِذِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُمْ بِالْقُعُودِ أَيْضًا فِي هَذِهِ الصَّلَاةِ كَمَا أَمَرَهُمْ بِهِ عِنْدَ سُقُوطِهِ عَنِ فَرَسِهِ عَلَى حَسْبِ مَا ذَكَرْنَاهُ قَبْلُ»
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কিছুটা হালকা অনুভব করলেন, তিনি মাসজিদে আসলেন এবং আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বাম পাশে বসলেন। এই সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন, আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসটি ব্যাখ্যাহীন হওয়ার কারণ হলো আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা সালাতের এই পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ঘটনার শেষ পর্যন্ত বর্ণনা রয়েছে জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায়। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সালাতে তাদেরকে বসে সালাত আদায় করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেমনভাবে তিনি আদেশ করেছিলেন ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার সময়, যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।”
[1] মুসন্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫২৪; শামাইলে তিরমিযী: ৩৭৮; ইবনু মাজাহ: ১২৩৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২১১৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
2122 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهِبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: اشْتَكَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ وَهُوَ قَاعِدٌ وَأَبُو بَكْرٍ يُكَبِّرُ يُسْمِعُ النَّاسَ تَكْبِيرَهُ قَالَ: فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا فَرَآنَا قِيَامًا، فَأَشَارَ إِلَيْنَا فَقَعَدْنَا فَصَلَّيْنَا بِصَلَاتِهِ قُعُودًا، فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ: «كِدْتُمْ أَنْ تَفْعَلُوا فِعْلَ فَارِسَ وَالرُّومَ يَقُومُونَ عَلَى مُلُوكِهِمْ وَهُمْ قُعُودٌ فَلَا تَفْعَلُوا [ص:492] ائْتَمُّوا بِإِمَامِكُمْ إِنْ صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِنْ صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2119) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فِي هَذَا الْخَبَرِ الْمُفَسِّرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَعَدَ عَنْ يَسَارِ أَبِي بَكْرٍ وَتَحَوَّلَ أَبُو بَكْرٍ مَأْمُومًا يَقْتَدِي بِصَلَاتِهِ، وَيُكَبِّرُ يُسْمِعُ النَّاسَ التَّكْبِيرَ لِيَقْتَدُوا بِصَلَاتِهِ أَمَرَهُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَئِذٍ بِالْقُعُودِ حِينَ رَآهُمْ قِيَامًا وَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ أَمَرَهُمْ أَيْضًا بِالْقُعُودِ إِذَا صَلَّى إِمَامُهُمْ قَاعِدًا وَقَدْ شَهِدَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ صَلَاتِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيْثُ سَقَطَ عَنْ فَرَسِهِ فَجُحِشَ شِقُّهُ الْأَيْمَنُ وَكَانَ سُقُوطُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنِ الْفَرَسِ فِي شَهْرِ ذِي الْحِجَّةِ آخِرَ سَنَةِ خَمْسٍ مِنَ الْهِجْرَةِ وَشَهِدَ هَذِهِ الصَّلَاةَ فِي عِلَّتِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَدَّى كُلَّ خَبَرٍ بِلَفْظِهِ، أَلَا تَرَاهُ يَذْكُرُ فِي هَذِهِ الصَّلَاةِ رَفْعَ أَبِي بَكْرٍ صَوْتَهُ بِالتَّكْبِيرِ لِيَقْتَدِيَ النَّاسُ بِهِ وَتِلْكَ الصَّلَاةُ الَّتِي صَلَّاهَا صَلَّى اللَّهُ [ص:493] عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْتِهِ عِنْدَ سُقُوطِهِ عَنْ فَرَسِهِ لَمْ يَحْتَجْ أَبُو بَكْرٍ إِلَى أَنْ يَرْفَعَ صَوْتَهُ بِالتَّكْبِيرِ لَيُسْمِعَ النَّاسَ تَكْبِيرَهُ عَلَى صِغَرُ حُجْرَةُ عَائِشَةَ وَإِنَّمَا رَفْعُهُ بِالصَّوْتِ بِالتَّكْبِيرِ فِي الْمَسْجِدِ الْأَعْظَمِ الَّذِي صَلَّى فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عِلَّتِهِ، فَلَمَّا صَحَّ مَا وَصَفْنَا لَمْ يَجُزْ أَنْ يُجْعَلَ بَعْضُ هَذِهِ الْأَخْبَارِ نَاسِخًا لِمَا تَقَدَّمَ عَلَى حَسْبِ مَا وَصَفْنَاهُ».
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ্ হলে আমরা তাঁর পিছনে সালাত আদায় করি। এসময় তিনি বসে সালাত আদায় করছিলেন। আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকবীর দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাকবীর লোকদের শুনাচ্ছিলেন। তিনি আমাদের দিকে তাকিয়ে আমাদেরকে দাঁড়ানো দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি আমাদেরকে (বসার জন্য) ইশারা করলেন। ফলে আমরা বসে পড়লাম। অতঃপর যখন সালাম ফেরালেন, তখন বলেন, “তোমরা তো প্রায় পারসিক ও রোমকদের মতো করছিলে। তাদের রাজা-বাদশা বসা থাকলে, তারা দাঁড়িয়ে থাকতো। তোমরা এরকম করবে না। তোমরা তোমাদের ইমামদের অনুসরণ করবে। যদি তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। আর যদি বসে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই ব্যাখ্যাকারী হাদীসে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বাম পার্শ্বে দাঁড়িয়েছিলেন আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মুক্তাদীতে পরিণত হয়েছিলেন, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের অনুসরণ করছিলেন এবং লোকদেরকে তাঁর তাকবীর শুনাচ্ছিলেন, যাতে তারা তাঁর অনুসরণ করতে পারেন। এসময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাদেরকে দেখলেন যে, তারা দাঁড়িয়ে আছেন, তখন তিনি তাদেরকে বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেন। অতঃপর যখন সালাত শেষ করলেন, তখনও তিনি তাদেরকে বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেন, যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করবেন। জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সালাতেও উপস্থিত ছিলেন, যখন তিনি ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়েছিলেন এবং ডান পার্শ্বে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া থেকে পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন হিজরী পঞ্চম বছরের শেষ দিকে জিলহজ্জ মাসে। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সালাতেও উপস্থিত ছিলেন, যখন তিনি অসুস্থতাকালিন আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি প্রত্যেকটি হাদীস স্বস্ব শব্দে বর্ণনা করেছেন। তুমি কি দেখতে পাও না যে, তিনি এই সালাতের ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উচ্চ আওয়াজে তাকবীর দিচ্ছিলেন যাতে লোকজন তাঁর অনুসরণ করতে পারেন। আর যেই সালাত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার পর বাড়িতে আদায় করেছেন, সেখানে মানুষকে শুনানোর জন্য তাকবীরের সময় আওয়াজ করার প্রয়োজন হয়নি, যদিও আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার ঘরটি ছোট ছিল। বস্তুত তাকবীরের সময় আওয়াজ উচু করার প্রয়োজন হয়েছিল, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড় মাসজিদে আদায় করছিলেন। আমরা যা বর্ণনা করলাম, যখন তা বিশুদ্ধরুপে প্রমাণিত হলো, সুতরাং এটা জায়েয হবে না যে, এসব হাদীসগুলোর মাঝে একটিকে রহিতকারী হিসেবে সাব্যস্ত করা, যা আমরা ইতিপু্র্বে বর্ণনা করেছি।”
[1] আবূ দাঊদ: ৬০৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৩৪; সহীহ মুসলিম: ৪১৩; নাসাঈ: ৩/৯; ইবনু মাজাহ: ১২৪০; আবূ আওয়ানা: ২/১০৮; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (619): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، يزيد بن موهب ثقة، وباقي السند من رجال الشيخين غير أبي الزبير، فمن رجال مسلم
2123 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سَهْلٍ الْجَعْفَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حُمَيْدٍ أَبُو عَوْفٍ الرُّؤَاسِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الظُّهْرِ وَهُوَ جَالِسٌ وَأَبُو بَكْرٍ خَلْفَهُ، فَإِذَا كَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَبَّرَ أَبُو بَكْرٍ يُسْمِعُنَا، قَالَ: فَنَظَرَنَا قِيَامًا فَقَالَ: «اجْلِسُوا» أَوْمَأَ بِذَلِكَ إِلَيْهِمْ قَالَ: فَجَلَسْنَا فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ قَالَ: «كِدْتُمْ تَفْعَلُوا فِعْلَ فَارِسَ وَالرُّومَ بِعُظَمَائِهِمِ ائْتَمُّوا بِأَئِمَّتِكُمْ، فَإِنْ صَلُّوا جُلُوسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا، وَإِنْ صَلُّوا قِيَامًا فَصَلُّوا قِيَامًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2120)
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ্ হলে আমরা তাঁর পিছনে সালাত আদায় করি। এসময় তিনি বসে সালাত আদায় করছিলেন। আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার পিছে ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকবীর দিতেন, তখন আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের শুনিয়ে তাকবীর দিতেন। রাবী বলেন, যখন তিনি আমাদেরকে দাঁড়ানো দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি আমাদেরকে বললেন, “তোমরা বসে সালাত আদায় করো। ” –এটা তিনি তাদেরকে ইশারায় বলেছিলেন- রাবী বলেন, “ফলে আমরা বসে পড়লাম। অতঃপর যখন সালাম ফেরালেন, তখন বলেন, “তোমরা তো প্রায় পারসিক ও রোমকদের মতো করছিলে, তারা যেমনটা তাদের রাজা-বাদশাদের সাথে করে। তোমরা তোমাদের ইমামদের অনুসরণ করবে। যদি তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। আর যদি বসে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] আবূ দাঊদ: ৬০৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৩৪; সহীহ মুসলিম: ৪১৩; নাসাঈ: ৩/৯; ইবনু মাজাহ: ১২৪০; আবূ আওয়ানা: ২/১০৮; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: الحسن بن سهل الجعفري: روى عنه الحسن بن سفيان، وأبو زرعة وغيرهما، وذكره ابن أبي حاتم 3/ 17 فلم يذكر فيه جرحاً ولا تعديلاً، وأورده المؤلف في «الثقات» 8/ 177، ونسبه الجعفي، ويغلب على الظن أنه تحريف من النساخ، وباقي رجال الصحيح.
2124 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذِ بْنِ مُعَاذٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ أَبِي هِنْدَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، أَحْسَبُهُ عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: أُغْمِيَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ: «هَلْ نُودِيَ بِالصَّلَاةِ؟ » فَقُلْنَا: لَا فَقَالَ: «مُرِي بِلَالًا فَلْيُبَادِرْ بِالصَّلَاةِ وَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ أَبُو بَكْرٍ» قَالَتْ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ أَسِيفٌ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقُومَ مَقَامَكَ قَالَتْ: فَنَظَرَ إِلَيَّ حِينَ فَرَغَ مِنْ كَلَامِهِ، ثُمَّ أُغْمِيَ عَلَيْهِ فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ: «هَلْ نُودِيَ بِالصَّلَاةِ؟ » قَالَتْ: فَقُلْتُ: لَا قَالَ: «مُرِي بِلَالًا فَلْيُنَادِ بِالصَّلَاةِ وَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ أَبُو بَكْرٍ» قَالَتْ: فَأَوْمَأَتْ إِلَى حَفْصَةَ فَقَالَتْ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ رَقِيقٌ [ص:495] لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقْرَأَ إِلَّا يَبْكِي قَالَ: فَنَظَرَ إِلَيْهَا حِينَ فَرَغَتْ مِنْ كَلَامِهَا، ثُمَّ أُغْمِيَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ: «هَلْ نُودِيَ بِالصَّلَاةِ؟ » قَالَتْ: فَقُلْتُ: لَا فَقَالَ: «مُرِي بِلَالًا فَلْيُنَادِ بِالصَّلَاةِ وَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ أَبُو بَكْرٍ، فَإِنَّكُنَّ صَوَاحِبَاتُ يُوسُفَ»، ثُمَّ أُغْمِيَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: فَأَقَامَ بِلَالٌ الصَّلَاةَ وَصَلَّى بِالنَّاسِ أَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ أَفَاقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَ بِنُوبَةَ، وَبَرِيرَةَ فَاحْتَمَلَاهُ قَالَتْ عَائِشَةُ: فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى أَصَابِعِ قَدَمَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَخُطُّ فِي الْأَرْضِ قَالَتْ: فَلَمَّا أَحَسَّ أَبُو بَكْرٍ بِمَجِيءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَادَ أَنْ يَسْتَأْخِرَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ أَنْ يَثْبُتَ قَالَتْ: وَجِيءَ بِنَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوُضِعَ بِحِذَاءِ أَبِي بَكْرٍ فِي الصَّفِّ. [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2121) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «هَذَا خَبَرٌ يُوهِمُ مَنْ لَمْ يُحْكِمْ صِنَاعَةِ الْأَخْبَارِ وَلَا يَفْقَهُ فِي صَحِيحِ الْآثَارِ أَنَّهُ يُضَادُّ سَائِرَ الْأَخْبَارِ الَّتِي تَقَدَّمَ ذِكْرُنَا لَهَا وَلَيْسَ بَيْنَ أَخْبَارِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَضَادٌّ وَلَا تَهَاتُرٌ وَلَا يُكَذِّبُ بَعْضُهَا بَعْضًا [ص:496] وَلَا يُنْسَخُ بِشَيْءٍ مِنْهَا الْقُرْآنُ بَلْ يُفَسَّرُ عَنْ مُجْمَلِ الْكِتَابِ وَمُبْهَمِهِ وَيُبَيِّنُ عَنْ مُخْتَصَرِهِ وَمُشْكِلِهِ وَقَدْ دَلَّلْنَا بِحَمْدِ اللَّهِ وَمَنِّهِ عَلَى أَنَّ هَذِهِ الْأَخْبَارَ الَّتِي رُوِيَتْ كَانَتْ فِي صَلَاتَيْنِ لَا فِي صَلَاةٍ وَاحِدَةٍ عَلَى حَسْبِ مَا وَصَفْنَاهُ، فَأَمَّا الصَّلَاةُ الْأُولَى فَكَانَ خُرُوجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهَا بَيْنَ رَجُلَيْنِ وَكَانَ فِيهَا إِمَامًا وَصَلَّى بِهِمْ قَاعِدًا وَأَمَرَهُمْ بِالْقُعُودِ فِي تِلْكَ الصَّلَاةِ، وَهَذِهِ الصَّلَاةُ كَانَ خُرُوجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهَا بَيْنَ بَرِيرَةَ وَنُوبَةَ وَكَانَ فِيهَا مَأْمُومًا وَصَلَّى قَاعِدًا فِي الصَّفِّ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ»
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, তারপর আবার জ্ঞান ফিরে পান। অতঃপর তিনি বলেন, “সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়েছে কি?” আমি বললাম, “জ্বী, না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো সে যেন দ্রুত আযান দেয় আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, নিশ্চয়ই আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নরম হৃদয়ের মানুষ। তিনি আপনার জায়গায় দাঁড়াতে পারবেন না।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “যখন তিনি কথা শেষ করেন, তখন তিনি আমার দিকে তাকান। তারপর তিনি আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তারপর আবার জ্ঞান ফিরে পান। অতঃপর তিনি বলেন, “সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়েছে কি?” আমরা বললাম, “জ্বী, না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো সে যেন দ্রুত আযান দেয় আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “তখন আমি হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে ইশারা করলাম, তখন তিনি বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, নিশ্চয়ই আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নরম হৃদয়ের মানুষ। তিনি কিরা‘আত পাঠ করতে গেলেই কেঁদে ফেলবেন।” রাবী বলেন, “যখন হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কথা শেষ করেন, তখন তিনি তাঁর দিকে তাকান। তারপর তিনি আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তারপর আবার জ্ঞান ফিরে পান। অতঃপর তিনি বলেন, “সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়েছে কি?” আমি বললাম, “জ্বী, না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো সে যেন দ্রুত আযান দেয় আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। নিশ্চয়ই তোমরা ইউসূফ আলাইহিস সালামের সঙ্গীদের মতোই! তারপর তিনি আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “অতঃপর বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সালাতের জন্য আযান দেন। আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তারপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্ঞান ফিরে পান। তারপর তিনি নূবা ও বারীরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার কাছে আসেন, অতঃপর তারা তাঁকে মাসজিদে নিয়ে যান। আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমি যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো দেখতে পাচ্ছি, সেগুলি জমিনে হেঁচড়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল! অতঃপর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন বুঝতে পারেন, তখন তিনি পিছে হটতে উদ্যত হন কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইশারায় সেখানেই থাকতে বলেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আনা হয় এবং তাঁকে কাতারে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বরাবর রাখা হয়।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি হাদীস শাস্ত্রে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে উল্লেখিত সমস্ত হাদীসের বিপরীত। আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহের মাঝে কোন রকম বৈপরীত্ব নেই, এক হাদীস আদৌ আরেক হাদীসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না, কোন হাদীসের মাধ্যমে কুরআন রহিত হয় না। বরং কুরআনের হয়তো কোন ব্যাখ্যাহীন, অস্পষ্ট আয়াতকে ব্যাখ্যা করে, নতুবা কোন জটিল ও সংক্ষিপ্ত আয়াতের ব্যাখ্যা স্পষ্ট করে দেয়। আমরা আল্লাহর প্রশংসা ও দয়ায় প্রমাণ পেশ করেছি যে, যেসব হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তা দুটো সালাতের ব্যাপারে ছিল; এক সালাতের ব্যাপারে নয়। প্রথম সালাতে সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজন ব্যক্তির মাঝে থেকে মাসজিদে গমন করেছিলেন আর সেখানে তিনি ইমাম ছিলেন, বসে সালাত আদায় করেছিলেন এবং লোকজনকেও বসে সালাত আদায় করতে বলেছিলেন। আর এই সালাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরা ও নূবার মাঝে থেকে মাসজিদে গমন করেছিলেন, এই সালাতে তিনি মুক্তাদী ছিলেন এবং আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পিছনে মুসল্লীদের কাতারে বসে সালাত আদায় করেনে।”
[1] মুসন্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫২৪; শামাইলে তিরমিযী: ৩৭৮; ইবনু মাজাহ: ১২৩৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২১১৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (2115). تنبيه!! رقم (2115) = (2118) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، رجاله رجال الشيخين غير نعيم بن أبي هند، فإنه من رجال مسلم وحده.
2125 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سُوَيْدٍ الرَّمْلِيُّ *، قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «آخِرُ صَلَاةٍ صَلَّاهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ الْقَوْمِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُتَوَشِّحًا بِهِ يُرِيدُ قَاعِدًا خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2122) [ص:497] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «هَذَا الْخَبَرُ يَنْفِي الِارْتِيَابَ عَنِ الْقُلُوبِ أَنَّ شَيْئًا مِنْ هَذِهِ الْأَخْبَارِ يُضَادُّ مَا عَارَضَهَا فِي الظَّاهِرِ وَلَا يَتَوَهَّمَنَّ مُتَوَهِّمٌ أَنَّ الْجَمْعَ بَيْنَ الْأَخْبَارِ عَلَى حَسْبِ مَا جَمَعْنَا بَيْنَهَا فِي هَذَا النَّوْعِ مِنْ أَنْوَاعِ السُّنَنِ يُضَادُّ قَوْلَ الشَّافِعِيِّ رَحْمَةُ اللَّهِ وَرِضْوَانُهُ عَلَيْهِ وَذَلِكَ أَنَّ كُلَّ أَصْلٍ تَكَلَّمْنَا عَلَيْهِ فِي كُتُبِنَا أَوْ فَرْعٍ اسْتَنْبَطْنَاهُ مِنَ السُّنَنِ فِي مُصَنَّفَاتِنَا هِيَ كُلُّهَا قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَهُوَ رَاجِعٌ عَمَّا فِي كُتُبِهِ وَإِنْ كَانَ ذَلِكَ الْمَشْهُورَ مِنْ قَوْلِهِ وَذَاكَ أَنِّي سَمِعْتُ ابْنَ خُزَيْمَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ الْمُزَنِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ: إِذَا صَحَّ لَكُمُ الْحَدِيثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخُذُوا بِهِ وَدَعُوا قُولِي، [ص:498] وَللِشَّافِعِيِّ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ فِي كَثْرَةِ عِنَايَتِهِ بِالسُّنَنِ وَجَمْعِهِ لَهَا وَتَفَقُّهِهِ فِيهَا وَذَبِّهِ عَنْ حَرِيمِهَا وَقَمْعِهِ مَنْ خَالَفَهَا زَعَمَ أَنَّ الْخَبَرَ إِذَا صَحَّ فَهُوَ قَائِلٌ بِهِ رَاجِعٌ عَمَّا تَقَدَّمَ مِنْ قَوْلِهِ فِي كُتُبِهِ وَهَذَا مِمَّا ذَكَرْنَاهُ فِي كِتَابِ الْمُبَيِّنِ أَنَّ لِلشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ ثَلَاثُ كَلِمَاتٍ مَا تَكَلَّمُ بِهَا أَحَدٌ فِي الْإِسْلَامِ قَبْلَهُ وَلَا تَفَوَّهَ بِهَا أَحَدٌ بَعْدَهُ إِلَّا وَالْمَأْخَذُ فِيهَا كَانَ عَنْهُ، إِحْدَاهَا مَا وَصَفْتُ وَالثَّانِيَةُ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْذِرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ [ص:499] مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ: مَا نَاظَرْتُ أَحَدًا قَطُّ فَأَحْبَبْتُ أَنْ يُخْطِئَ، وَالثَّالِثَةُ سَمِعْتُ مُوسَى بْنَ مُحَمَّدٍ الدَّيْلَمِيَّ بِأَنْطَاكِيَّةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بْنَ سُلَيْمَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ: وَدِدْتُ أَنَّ النَّاسَ تَعَلَّمُوا هَذِهِ الْكُتُبَ وَلَمْ يَنْسِبُوهَا إِلَيَّ»
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ যে সালাত সাহাবীদের সাথে আদায় করেছেন, তা তিনি আদায় করেছিলেন এক কাপড়ে তাওয়াশ্শুহ[1] করে।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পিছনে বসে সালাত আদায় করেছিলেন।”[2] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীস অন্তর থেকে এই সংশয় দূর করে দেয় যে, এসব হাদীসের মাঝে আদৌ কোন বৈপরীত্ব আছে। আর কোন সংশয়কারী ব্যক্তি এই সংশয় করতে পারে না যে, আমরা হাদীসগুলোর মাঝে যেভাবে সমন্নয় সাধন করেছি, তা ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহর কথার সাথে সাংঘর্ষিক। কেননা আমরা আমাদের কিতাবে যেসব মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করেছি অথবা আমাদের লেখনীতে আমরা যেসব শাখাগত নিয়ম উদ্ভাবন করেছি- তার প্রত্যেকটি ইমাম শাফে‘ঈর বক্তব্য এবং তাঁর কিতাব যা এসেছে, তা থেকে এই মতের দিকে ফিরে আসবে। যদিও সেই কিতাবের মতটি তাঁর মত হিসেবে প্রশিদ্ধি লাভ করে থাকে। কেননা আমি ইবনু খুযাইমাহ রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি মুযানী রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “যখন তোমাদের কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ হাদীস পৌঁছবে, তখন তোমরা হাদীস গ্রহণ করবে আর আমার কথা পরিত্যাগ করবে। ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহ হাদীস সংকলন, অনুধাবন প্রভৃতিতে প্রচুর প্রয়াস থাকা, হাদীসের সম্মান রক্ষার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলা, সুন্নাহর বিরোধীদের উৎপাটন করা সত্তেও, তিনি বলেছেন, “যখন কোন সহীহ হাদীস পাওয়া যাবে, তবে সেটাই তাঁর কথা, তাঁর কিতাবে তাঁর যে কথা রয়েছে, তা থেকে এই কথার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। এটি সেই কথার অন্তর্ভুক্ত যা আমরা ‘আল মুবায়্যিন’ কিতাবে উল্লেখ করেছি যে, ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহর তিনটি বক্তব্য রয়েছে, ইসলামে এমন কথা আগে কেউ বলেননি, এবং তাঁর পরে কেউ এমন কথা বললে, সেই কথার উৎস হবেন ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহ। প্রথম বক্তব্য: যা আমরা বর্ণনা করলাম। (যখন তোমাদের কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ হাদীস পৌঁছবে, তখন তোমরা হাদীস গ্রহণ করবে আর আমার কথা পরিত্যাগ করবে।) দ্বিতীয় বক্তব্য: আমাকে মুহাম্মাদ বিন মুনযির বিন সা‘ঈদ রহিমাহুল্লাহ হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন সাব্বাহ যা‘ফারানী রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমি ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি যাদের সাথেই মুনাযারা করেনি, কারো ব্যাপারেই আমি চায়নি যে, তিনি ভুল করুক!” তৃতীয় বক্তব্য: আমি মূসা বিন মুহাম্মাদ দাইলামীকে আনতাকিয়াতে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি রাবী‘ বিন সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি কামনা করি যে, লোকজন আমার এসব কিতাব থেকে ইলম অর্জন করুক আর সেসবকে আমার দিকে সম্পর্কিত না করুক!”
[1] ‘‘তাওয়াশশুহ হলো কাপড়ের এক প্রান্ত বাম হাতের নিচ দিয়ে ডান কাঁধের উপর রাখবে আর আরেক প্রান্ত ডান হাতের নিচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর রাখবে অতঃপর দুই প্রান্ত বুকের উপর নিয়ে বাধবে।” –অনুবাদক।
[2] তিরমিযী: ৩৬৩; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৬; বাইহাকী, দালাইলুন নুবুওওয়াহ: ৭/১৯২; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৫৯; নাসাঈ: ২/৭৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২১২২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر التعليق. * [إِبْرَاهِيمَ بْنِ سُوَيْدٍ الرَّمْلِيُّ] قال الشيخ: هو ثقة بلا خِلاف، ومن فوقه ثِقات رجال الشيخين غير أيُّوب بن سُلَيمَان، وهو القرشي؛ فهو مِنْ رِجَال البخاري. وقولُ المُعَلِّق (5/ 496) أَنَّهُ من رجال الشيخين من أوهامه الكثيرة؛ انظر «الجمع بين رجال الصحيحين» (1/ 35)، وكتب التراجم؛ كالتهذيب وفروعه. وأبو بكر بن أبي أُويسٍ: هو عبد الحميد بن عبد الله الأصبحيُّ المدنيُّ. وقد أخرجه الترمذيُّ (2/ 36 / 363) من غير طريقه عن حُمَيد الطويل، وقال: «حديث حسن صحيح»، وهو كما قال.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، إسحاق بن إبراهيم بن سويد الرملي، ثقة، روى له أبو داود والنسائي، ومن فوقه من رجال الشيخين، وأبو بكر بن أبي أويس: هو عبد الحميد بن عبد الله الأصبحي.
2126 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَطَاءٍ، مَوْلَى أَبِي أَحْمَدَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْثًا وَهُمْ نَفَرٌ فَدَعَاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَاذَا مَعَكُمْ مِنَ الْقُرْآنِ؟ » فَاسْتَقْرَأَهُمْ حَتَّى مَرَّ عَلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ هُوَ مِنْ أَحْدَثِهِمْ سِنًّا فَقَالَ: «مَاذَا مَعَكَ يَا فُلَانُ؟ » قَالَ مَعِي كَذَا وَكَذَا وَسُورَةُ الْبَقَرَةِ قَالَ: «مَعَكَ سُورَةُ الْبَقَرَةِ؟ » قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «اذْهَبْ فَأَنْتَ أَمِيرُهُمْ» فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَشْرَفِهِمْ وَالَّذِي كَذَا وَكَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يَمْنَعُنِي أَنْ أَتَعَلَّمَ الْقُرْآنَ إِلَّا خَشْيَةَ أَنْ لَا أَقُومَ بِهِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَعَلَّمِ الْقُرْآنَ وَاقْرَأْهُ وَارْقُدْ، فَإِنَّ مَثَلَ الْقُرْآنِ لِمَنْ تَعَلَّمَهُ فَقَرَأَهُ وَقَامَ بِهِ كَمَثَلِ جِرَابٍ مَحْشُوٍّ مِسْكًا يَفُوحُ رِيحُهُ [ص:500] عَلَى كُلِّ مَكَانٍ، وَمَنْ تَعَلَّمَهُ فَرْقَدَ وَهُوَ فِي جَوْفِهِ كَمَثَلِ جِرَابٍ وُكِئَ عَلَى مِسْكٍ».
رقم طبعة با وزير = (2123)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একটি সেনাদলকে অভিযানে প্রেরণ করলেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে ডাকলেন এবং বললেন, “তোমাদের কাছে কুরআনের কী পরিমাণ মুখস্ত আছে?” তারপর তিনি তাদের থেকে এক এক করে কুরআন শ্রবণ করেন, এভাবে একজনের কাছে আসলেন, যিনি কওমের মাঝে বয়সে সবচেয়ে নবীন ছিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “হে ওমুক, তোমার কতটুকু কুরআন মুখস্ত আছে?” জবাবে তিনি বলেন, “আমার এই এই মুখস্ত আছে এবং সূরা বাকারাও মুখস্ত আছে।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমার সূরা বাকারাহ মুখস্ত আছে?” তিনি জবাবে বললেন, “জ্বী, হ্যাঁ।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যাও, তুমি তাদের আমীর।” তখন তাদের মাঝে এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি বললেন, “ঐ সত্তার কসম, যিনি এরকম, এরকম! হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন শিক্ষা করতে আমাকে স্রেফ এটাই বাধা দিয়েছে যে, আমি আশংকা করেছি যে, হয়তো আমি তা নফল সালাতে পাঠ করতে পারবো না। “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করো, তা তিলাওয়াত করো এবং ঘুমাও। কেননা যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে, তা পাঠ করে এবং তা পাঠ করে নফল সালাত (বিশেষত তাহাজ্জুদ সালাত) আদায় করে, তবে তার দৃষ্টান্ত হলো ঐ থলের ন্যায়, যা মিশকে আম্বর সুগন্ধি দিয়ে ভর্তি, যার ঘ্রাণের বিচ্ছুরণ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। আর যিনি কুরআন শিক্ষা করেন, অতঃপর তা পেটে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকে, তার দৃষ্টান্ত হলো ঐ থলের ন্যায় যা মিশকে আম্বর সুগন্ধি দিয়ে ভর্তি করে মুখ বেধে রাখা রয়েছে।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫০৯; তিরমিযী: ২৮৭৬; ইবনু মাজাহ: ২১৭। হাদীসটির ব্যাপারে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। তবে হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার মতের দিকেই তাঁর ঝোঁক বুঝা যায়। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে য‘ঈফ বলেছেন। (আয য‘ঈফা: ৬৪৮৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «التعليق الرغيب» (2/ 208 - 209)، «التعليق على ابن خزيمة» (3/ 5 / 1509)، «المشكاة» (2143 / التحقيق الثاني)، «الضعيفة» (6483).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: عطاء مولى أبي أحمد أو ابن أبي أحمد: لم يوثقه غير المؤلف، ولم يرو عنه غير سعيد المقبري، وقال الإمام الذهبي في «الميزان» و «المغني»: لا يعرف، وباقي رجاله رجال الشيخين غير عبد الحميد بن جعفر، فهو من رجال مسلم وحده، أبو عمار: هو الحسين بن حريث.
2127 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَاشِمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْمُونِ بْنِ الرَّمَّاحِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ ضَمْعَجٍ، [ص:501] عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ، فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ، فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً، فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَأَكْبَرُهُمْ سِنًّا، وَلَا يُؤَمَّ الرَّجُلُ فِي سُلْطَانِهِ وَلَا يُجْلَسَ عَلَى تَكْرِمَتِهِ فِي بَيْتِهِ حَتَّى يَأْذَنَ لَهُ». [2: 3]
رقم طبعة با وزير = (2124)
আবূ মাসঊদ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সম্প্রদায়ের ইমাম হবেন ঐ ব্যক্তি যিনি আল্লাহর কিতাব অধিক পড়তে জানেন। যদি তারা কুরআন পাঠে সমান হন, তবে যিনি সুন্নাহ সম্পর্কে বেশি অবগত। যদি তারা সুন্নাহর ক্ষেত্রে সমান হন, তবে যিনি আগে হিজরত করেছেন। যদি হিজরত করার ক্ষেত্রেও সমান হন, তবে যিনি বয়সে বড়। আর কোন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রনাধীন জায়গায় অন্য কারো ইমামতি করা যাবে না, বাড়িতে তার সম্মানজনক জায়গায় বসা যাবে না, যতক্ষন না তিনি অনুমতি প্রদান করেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৭২; সহীহ মুসলিম: ৬৭৩; তিরমিযী: ২৩৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫০৭; তাবারানী আল কাবীর: ১৭/৬০৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৮০৮; হুমাইদী: ৪৫৭; আবূ দাঊদ: ৫৮৪; নাসাঈ: ২/৭৬; ইবনুল জারূদ, আল মুনতাকা: ৩০৮; দারাকুতনী: ১/২৮০; আবূ আওয়ানা: ২/৩৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৯০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৮৩২; হাকিম: ১/২৪৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৫৯৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (597): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، عبد الله بن عمر بن ميمون: ذكره ابن أبي حاتم 5/ 111، ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا، وذكره المؤلف في «ثقاته» 8/ 357، وقال: مستقيم الحديث إذا حدث عن الثقات، وقال الإمام الذهبي في «السير» 11/ 12 - 13: كان صاحب سنَّة، وصدع بالحق، وثَّقه الذهلي، وباقي رجال السند ثقات رجال الصحيح.
2128 - أَخْبَرَنَا شَبَّابُ بْنُ صَالِحٍ الْمُعَدِّلُ، بِوَاسِطٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَصَاحِبٌ لِي فَقَالَ: «إِذَا صَلَّيْتُمَا فَأَذِّنَا وَأَقِيمَا وَلْيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا» قَالَ: وَكَانَا مُتَقَارِبَيْنِ. [1: 14]
رقم طبعة با وزير = (2125) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَأَذِّنَا وَأَقِيمَا أَرَادَ بِهِ أَحَدَهُمَا لَا كِلَيْهِمَا»
মালিক বিন হুরাইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা সালাত আদায় করবে, তখন তোমরা আযান দিবে ও ইকামত দিবে আর তোমাদের মাঝে বয়সে প্রবীণ ব্যক্তি যেন সালাত আদায় করে।”[1] আবূ কিলাবা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “তারা দুইজনেই (কিরাআতে) কাছাকাছি পর্যায়ের ছিলেন।” আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তোমরা আযান দিবে এবং ইকামত দিবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমাদের একজন আযান ও ইকামত দিবে; দুইজনেই আযান, ইকামত দিবে এটা উদ্দেশ্য নয়।”
[1] সহীহ আল বুখারী: ৬০০৮; আদাবুল মুফরাদ: ২১৩; সুনান আবূ দাঊদ: ৫৮৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১২০; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; সহীহ মুসলিম: ৬৭৪; নাসাঈ: ২/৯; তাবারানী: ১৯/৬৪০; দারাকুতনী: ১/২৭২-২৭৩; দারেমী: ১/২৮৬; আবূ আওয়ানা: ১/৩৩১; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১২৯; তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ২/২৯৬; ইবনু মাজাহ: ৯৭৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (1656)، وانظر ما بعده. تنبيه!! رقم (1656) = (1658) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، وهب بن بقية: يقة من رجال مسلم ومن فوقه من رجال الشيخين، خالد الحذاء: هو خالد بن مهران، وأبو قلابة: هو عبد الله بن زيد الجرمي.
2129 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ [ص:503] مُسَرْهَدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ وَلِصَاحِبٍ لَهُ: «إِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَأَذِّنَا ثُمَّ أَقِيمَا، ثُمَّ لِيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا». قَالَ خَالِدٌ: فَقُلْتُ لِأَبِي قِلَابَةَ: فَأَيْنَ الْقِرَاءَةُ؟ قَالَ: إِنَّهُمَا كَانَا مُتَقَارِبَيْنِ. [1: 14]
رقم طبعة با وزير = (2126)
মালিক বিন হুরাইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আর যখন সালাতের সময় হবে, তখন তোমরা আযান দিবে তারপর ইকামত দিবে আর তোমাদের মাঝে বয়সে প্রবীণ ব্যক্তি যেন সালাত আদায় করেন।”[1] অধঃস্তর রাবী খালিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “অতঃপর আমি আবূ কিলাবাহ রহিমাহুল্লাহকে বললাম, তাহলে কিরাআতের ব্যাপারটি কোথায় গেলো?” জবাবে তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে তারা কাছাকাছি ছিলেন।”
[1] সহীহ আল বুখারী: ৬০০৮; আদাবুল মুফরাদ: ২১৩; সুনান আবূ দাঊদ: ৫৮৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১২০; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; সহীহ মুসলিম: ৬৭৪; নাসাঈ: ২/৯; তাবারানী: ১৯/৬৪০; দারাকুতনী: ১/২৭২-২৭৩; দারেমী: ১/২৮৬; আবূ আওয়ানা: ১/৩৩১; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১২৯; তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ২/২৯৬; ইবনু মাজাহ: ৯৭৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আবূ কিলাবার ব্ক্তব্যটি মুরসাল।” (ইরওয়াউল গালীল: ২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (604): ق، وقول أبي قلابة مرسل.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري، مسدد بن مسرهد: من رجال البخاري، ومن فوقه من رجال الشيخين، وانظر (1658).
2130 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الدُّولَابِيُّ، مُنْذُ ثَمَانِينَ سَنَةً، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِي وَلِصَاحِبٍ لِي: «إِذَا خَرَجْتُمَا فَلْيُؤَذِّنْ أَحَدَكُمَا وَلْيَقُمْ وَلْيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا». [1: 14]
رقم طبعة با وزير = (2127)
মালিক বিন হুরাইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ও আমার সঙ্গীকে বলেন, “যখন তোমরা বের হবে, তখন তোমাদের একজন যেন আযান দেয় এবং ইকামত দেয় আর তোমাদের মাঝে বয়সে প্রবীণ ব্যক্তি যেন সালাত আদায় করান (ইমামতি করেন)।”[1]
[1] সহীহ আল বুখারী: ৬০০৮; আদাবুল মুফরাদ: ২১৩; সুনান আবূ দাঊদ: ৫৮৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১২০; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; সহীহ মুসলিম: ৬৭৪; নাসাঈ: ২/৯; তাবারানী: ১৯/৬৪০; দারাকুতনী: ১/২৭২-২৭৩; দারেমী: ১/২৮৬; আবূ আওয়ানা: ১/৩৩১; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১২৯; তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ২/২৯৬; ইবনু মাজাহ: ৯৭৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، وانظر (1658).
2131 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، [ص:504] عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ: أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً فَظَنَّ أَنَّا قَدِ اشْتَقْنَا إِلَى أَهْلِينَا سَأَلَنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا فِي أَهْلِنَا فَأَخْبَرْنَاهُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحِيمًا رَفِيقًا فَقَالَ: «ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ فَعَلِّمُوهُمْ وَمُرُوهُمْ وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ أَحَدُكُمْ وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ».
رقم طبعة با وزير = (2128) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي» لَفْظَةُ أَمْرٍ تَشْتَمِلُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ كَانَ يَسْتَعْمِلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي صَلَاتِهِ، فَمَا كَانَ مِنْ تِلْكَ الْأَشْيَاءِ خَصَّهُ الْإِجْمَاعُ أَوِ الْخَبَرُ بِالنَّقْلِ فَهُوَ لَا حَرَجَ عَلَى تَارِكِهِ فِي صَلَاتِهِ وَمَا لَمْ يَخُصَّهُ الْإِجْمَاعُ أَوِ الْخَبَرُ بِالنَّقْلِ فَهُوَ أَمْرٌ حَتْمٌ عَلَى الْمَخَاطَبِينَ كَافَّةً لَا يَجُوزُ تَرْكُهُ بِحَالٍ
মালিক বিন হুরাইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা (আমাদের এলাকা থেকে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসি, আমরা ছিলাম কাছাকাছি বয়সের যুবক। অতঃপর আমরা তাঁর কাছে কুড়ি দিন অবস্থান করি। অতঃপর তিনি মনে করলেন যে, আমরা হয়তো আমাদের পরিবারে প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছি। ফলে তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে, আমরা বাড়িতে কাদের রেখে এসেছি। আমরা তাকে আমাদের বৃত্তান্ত জানাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত দয়ালূ, বন্ধুসুলভ মানুষ ছিলেন। তিনি বললেন, “তোমরা তোমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাও, গিয়ে তাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিবে, তাদের বিভিন্ন আমলের নির্দেশ দিবে এবং ঠিক সেভাবে সালাত আদায় করবে যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছো। আর যখন সালাতের হবে, তখন তোমাদের কেউ যেন আযান দেয় আর তোমাদের মাঝে বয়সে প্রবীণ ব্যক্তি যেন সালাত আদায় করান (ইমামতি করেন)।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তোমরা সেভাবে সালাত আদায় করবে যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছো” এটি একটি নির্দেশসূচক শব্দ, যা সালাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক আচরিত সব কিছুকে বুঝায়। সুতরাং সালাতে আচরিত জিনিসগুলোর মাঝে যদি ইজমা‘ অথবা হাদীস কোন আমলকে নফল হওয়ার উপর প্রমাণ করে, তাহলে সেটা তরক করাতে কোন দোষ নেই, আর যেটাকে ইজমা‘ অথবা হাদীস নফল হওয়ার উপর প্রমাণ না করে, তাহলে সেটা সকল মুখাতাবের (যাদের উপর শরীয়তের আদেশ-নিষেধ বর্তায়, এমন ব্যক্তি) উপর ফরয, তা কোন অবস্থাতেই পরিত্যাগ করা যাবে না।”
[1] সহীহ আল বুখারী: ৬০০৮; আদাবুল মুফরাদ: ২১৩; সুনান আবূ দাঊদ: ৫৮৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১২০; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; সহীহ মুসলিম: ৬৭৪; নাসাঈ: ২/৯; তাবারানী: ১৯/৬৪০; দারাকুতনী: ১/২৭২-২৭৩; দারেমী: ১/২৮৬; আবূ আওয়ানা: ১/৩৩১; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১২৯; তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ২/২৯৬; ইবনু মাজাহ: ৯৭৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري، وهو مكرر (1658).