সহীহ ইবনু হিব্বান
2101 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ الرَّيَّانِ [ص:458] الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ زَائِدَةَ بْنِ قُدَامَةَ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، قَالَ: سَأَلَنِي أَبُو الدَّرْدَاءِ أَيْنَ مَسْكَنُكَ؟ قُلْتُ: فِي قَرْيَةٍ دُونَ حِمْصٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ ثَلَاثَةٍ فِي قَرْيَةٍ وَلَا بَدْوٍ لَا تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلَاةُ إِلَّا اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ، فَعَلَيْكَ بِالْجَمَاعَةِ، فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ الْقَاصِيَةَ». [ص:459] قَالَ السَّائِبُ: إِنَّمَا يَعْنِي بِالْجَمَاعَةِ جَمَاعَةَ الصَّلَاةِ. [1: 78]
رقم طبعة با وزير = (2098)
মা‘দান বিন আবূ তালহা বলেন, “আমাকে আবূ তালহা জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনার বাসা কোথায়?’ আমি বললাম, ‘হিমস শহরের কাছে।’ তখন তিনি বলেন, ‘আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘যদি তিনজন ব্যক্তি কোন শহর অথবা কোন গ্রামে থাকে, যাতে জামা‘আতে সালাত আদায় করা হয় না, তবে শয়তান তাদের উপর কর্তৃত্ব লাভ করে। কাজেই তোমার জন্য আবশ্যক হলো জামা‘আতকে আঁকড়ে ধরা। কেননা শয়তান দল-বিচ্ছিন্ন প্রাণীকেই খেয়ে ফেলে।’[1] সায়িব রহিমাহুল্লাহ বলেন, “তিনি এখানে জামা‘আত দ্বারা সালাতের জামা‘আত বুঝিয়েছেন।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৯৬; আবূ দাঊদ: ৫৪৭; নাসাঈ: ২/১০৬-১০৭; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৭৯৩; হাকিম: ১/২১১; সুনান বাইহাকী: ৩/৫৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৪৭৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (556).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، السائب بن حبيش: صدوق صالح الحديث، وباقي رجاله ثقات رجال الصحيح.
2102 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: سَقَطَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ فَرَسٍ فَجُحِشَ شِقُّهُ الْأَيْمَنُ فَحَضَرَتْ صَلَاةٌ فَصَلَّى بِنَا قَاعِدًا، فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ قَالَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعِينَ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2099)
আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার ঘোড়া থেকে পড়ে যান ফলে তিনি ডান পার্শ্বে আঘাতপ্রাপ্ত হন। অতঃপর এক সালাতের সময় হলে তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বলেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়, তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই যখন তিনি তাকবীর দিবেন, তখন তোমরাও তাকবীর দিবে, যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন তিনি (রুকূ‘ থেকে মাথা) উত্তোলন করবেন, তখন তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে, যখন তিনি سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) বলবেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা) আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও সবাই বসে সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৫; সহীহ মুসলিম: ৪১১; হুমাইদী: ১১৮৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১১০; সহীহ আল বুখারী: ৮০৫; নাসাঈ: ২/১৯৫-১৯৬; ইবনু মাজাহ: ১২৩৮; আবূ আওয়ানা: ২/১০৫; ইবনুল জারূদ: ২২৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৭৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 118 / 394)، «صحيح أبي داود» (614): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
2103 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، [ص:462] عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكِبَ فَرَسًا فَصُرِعَ يَعْنِي فَجُحِشَ شِقُّهُ الْأَيْمَنُ، فَصَلَّى صَلَاةً مِنَ الصَّلَوَاتِ وَهُوَ قَاعِدٌ فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ قُعُودًا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2100)
আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার ঘোড়ায় আরোহন করার পর পড়ে যান ফলে তিনি ডান পার্শ্বে আঘাতপ্রাপ্ত হন। অতঃপর তিনি বসে সালাত আদায় করেন। আর আমরাও তাঁর পিছনে বসে সালাত আদায় করি। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বলেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়, তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই যখন তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন তিনি (রুকূ‘ থেকে মাথা) উত্তোলন করবেন, তখন তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে, যখন তিনি سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) বলবেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা) আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৫; সহীহ মুসলিম: ৪১১; হুমাইদী: ১১৮৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১১০; সহীহ আল বুখারী: ৮০৫; নাসাঈ: ২/১৯৫-১৯৬; ইবনু মাজাহ: ১২৩৮; আবূ আওয়ানা: ২/১০৫; ইবনুল জারূদ: ২২৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৭৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
2104 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: صَلَّى رسولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ [ص:463] وَسَلَّمَ فِي بَيْتِهِ وَهُوَ شَاكٍ فَصَلَّى جَالِسًا وَصَلَّى وَرَاءَهُ قَوْمٌ قِيَامًا فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ أَنِ اجْلِسُوا فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2101) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «هَذِهِ السُّنَّةُ رَوَاهَا عَنِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ وَعَائِشَةُ، [ص:464] وَأَبُو هُرَيْرَةَ، وَجَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَأَبُو أُمَامَةَ الْبَاهِلِيُّ. وَهُوَ قَوْلُ أُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ، وَقَيْسِ بْنِ قَهْدٍ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَبِهِ قَالَ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ، وَالْأَوْزَاعِيُّ، [ص:465] وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَأَبُو أَيُّوبَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ، وَأَبُو خَيْثَمَةَ، وَابْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ مِثْلَ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ، وَمُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ»
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থ অবস্থায় নিজ গৃহে বসে সালাত আদায় করেন, আর তাঁর একদল সাহাবী দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন, তখন তিনি তাদেরকে ইশারায় বলেন যে, তোমরা বসে সালাত আদায় করো। অতঃপর যখন তিনি সালাম ফেরালেন, তখন বললেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়, তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই ইমাম যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন তিনি (রুকূ‘ থেকে মাথা) উত্তোলন করবেন, তখন তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে, আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আনাস বিন মালিক, আয়িশা, আবূ হুরাইরা, জাবির বিন আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ বিন উমার, আবূ উমামাহ আল বাহেলী প্রমুখ সাহাবী বর্ণনা করেছেন। আর মত পোষন করেছেন উসাইদ বিন হুদাইর, কাইস বিন ফাহাদ, জাবির বিন আব্দুল্লাহ, আবূ হুরাইরা প্রমুখ সাহাবী। এই মত আরো পোষন করেছেন জাবির বিন যাইদ, আওযাঈ, মালিক বিন আনাস, আহমাদ বিন হাম্বাল, ইসহাক বিন ইবরাহিম, আবূ আইয়ূব সুলাইমান বিন দাঊদ হাশেমী, আবূ খাইসামাহ, ইবনু আবী শাইবাহ, মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল বুখারী এবং তাদের অনুগামী মুহাদ্দিসগণ। যেমন- মুহাম্মাদ বিন নাসর, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুযাইমাহ রহিমাহুমুল্লাহ।”
[1] বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৮৫১; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৩৫; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১৪২; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৪৮; সহীহ আল বুখারী: ৬৮৮; আবূ দাঊদ: ৬০৫; আবূ আওয়ানা: ২/১০২; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/২৩৫; সহীহ মুসলিম: ৪১২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 119)، «صحيح أبي داود» (618): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
2105 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ قَبْلَكُمْ بِسُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاجْتَنِبُوهُ، وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِالْأَمْرِ فَأَتَوْا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2102)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি তোমাদেরকে যে অবস্থায় রাখি, তোমরা আমাকে সে অবস্থায় থাকতে দাও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতীর লোকেরা তাদের নবীদের ব্যাপারে মতানৈক্য ও অধিক প্রশ্ন করার কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। কাজেই আমি যখন তোমাদের কোন কিছু থেকে নিষেধ করি, তখন তোমরা তা থেকে বিরত থাকবে আর যখন কোন কিছুর আদেশ করি, তখন সেখান থেকে তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী আমল করবে।”[1]
[1] হাদীসটির তাখরীজ ১৮ নং হাদীসে গত হয়ে গেছে। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৮৫০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (850)، «الإرواء» (155 و 314).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
2106 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:466] قَالَ: «ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِسُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ فَمَا، أُمِرْتُمْ فَأَتَوْا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَمَا نَهَيْتُ، عَنْهُ فَانْتَهُوا». قَالَ ابْنُ عَجْلَانَ: حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَزَادَ فِيهِ: «وَمَا أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّهُ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَهُوَ الَّذِي لَا شَكَّ فِيهِ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2103) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فِي هَذَا الْخَبَرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ أَنَّ النَّوَاهِيَ عَنِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلَّهَا عَلَى الْحَتْمِ وَالْإِيجَابِ حَتَّى تَقُومَ الدَّلَالَةُ عَلَى نُدْبِيَّتِهَا، وَأَنَّ أَوَامِرَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَسْبِ الطَّاقَةِ وَالْوُسْعِ عَلَى الْإِيجَابِ حَتَّى تَقُومَ الدَّلَالَةُ عَلَى نُدْبِيَّتِهَا، قَالَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7]، ثُمَّ نَفَى الْإِيمَانَ، عَنْ مَنْ لَمْ يُحَكِّمْ رَسُولَهُ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ مِنْ حَيْثُ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ مِمَّا قَضَى وَحَكَمَ حَرَجًا وَيُسَلِّمُوا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا بِتَرْكِ الْآرَاءِ الْمَعْكُوسَةِ وَالْمُقَايَسَاتِ الْمَنْكُوسَةِ، فَقَالَ: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى [ص:467] يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65]»
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি তোমাদেরকে যে অবস্থায় রাখি, তোমরা আমাকে সে অবস্থায় থাকতে দাও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতীর লোকেরা তাদের নবীদের ব্যাপারে মতানৈক্য ও অধিক প্রশ্ন করার কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। কাজেই আমি যখন কোন কিছুর আদেশ করি, তখন সেখান থেকে তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী আমল করবে, আর যখন তোমাদেরকে কোন কিছু থেকে নিষেধ করি, তখন তোমরা তা থেকে বিরত থাকবে।” আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে ভিন্ন আরেকটি সানাদে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আর আমি তোমাদেরকে যেই ব্যাপারে বলি যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাতে কোন সন্দেহ নেই।” [1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রত্যেকটি নিষেধ অবধারিতভাবে বর্জনীয়, যতক্ষন না অন্য কোন দলীল তা মুস্তাহাব হওয়ার উপর প্রমাণ করে। আর তাঁর প্রতিটি আদেশ সাধ্য অনুযায়ী অবধারিতভাবে পালনীয়, যতক্ষন না অন্য কোন দলীল তা মুস্তাহাব হওয়ার উপর প্রমাণ করে। মহান আল্লাহ বলেছেন, وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا (আর রাসূল তোমাদেরকে যা প্রদান করেন, তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো)।”–সূরা হাশর: ৭। তারপর মহান আল্লাহ তাদের ঈমান নাকচ করে দিয়েছেন যারা পরস্পরের মাঝে বিদ্যমান বিবাদের বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ফায়সালীকারী হিসেবে নির্ধারণ না করবে অতঃপর তাঁর কৃত ফায়সালা কোন রকম বিরুদ্ধ মতামত না করে নির্দিধায় সর্বান্তকরণে মেনে নিবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আত্নসমর্পন করবে। মহান আল্লাহ বলেন, فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (কিন্তু না, আপনার প্রভুর কসম, তারা মু‘মিন হবে না, যতক্ষন না নিজেদের বিবাদের বিষয়ে আপনাকে শালিস নিযু্ক্ত না করবে, অতঃপর আপনি যা ফায়সালা দিবেন, তাতে তারা নিজেদের মনে কোন সংকোচ অনুভব করবে না এবং তা সর্বান্তকরণে মেনে নিবে।-সূরা নিসা: ৭৫।”
[1] হাদীসটির তাখরীজ ১৮ নং হাদীসে গত হয়ে গেছে। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৮৫০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي على شرط مسلم
2107 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَلَا تَخْتَلِفُوا عَلَيْهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا: اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2104) [ص:468] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «قَدْ زَجَرَ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْخَبَرِ الْمَأْمُومِينَ عَنِ الِاخْتِلَافِ عَلَى إِمَامِهِمْ إِذَا صَلَّى قَاعِدًا وَهُوَ مِنَ الضَّرْبِ الَّذِي ذَكَرْتُ فِي غَيْرِ مَوْضِعٍ مِنْ كُتُبِنَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ يَزْجُرُ عَنِ الشَّيْءِ بِلَفْظِ الْعُمُومِ، ثُمَّ يَسْتَثْنِي بَعْضَ ذَلِكَ الشَّيْءِ الْمَزْجُورِ عَنْهُ فَيُبِيحُهُ لِعِلَّةٍ مَعْلُومَةٍ كَمَا نَهَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْمُزَابَنَةِ بِلَفْظٍ مُطْلَقٍ، ثُمَّ اسْتَثْنَى بَعْضَهَا وَهُوَ الْعَرِيَّةُ [ص:469] فَأَبَاحَهَا بِشَرْطٍ مَعْلُومٍ لِعِلَّةٍ مَعْلُومَةٍ وَكَذَلِكَ يَأْمُرُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَمْرَ بِلَفْظِ الْعُمُومِ، ثُمَّ يَسْتَثْنِي بَعْضَ ذَلِكَ الْعُمُومِ فَيَحْظُرُهُ لِعِلَّةٍ مَعْلُومَةٍ كَمَا أَمَرَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَأْمُومِينَ وَالْأَئِمَّةَ جَمِيعًا أَنْ يُصَلُّوا قِيَامًا إِلَّا عِنْدَ الْعَجْزِ عَنْهُ، ثُمَّ اسْتَثْنَى بَعْضَ هَذَا الْعُمُومِ وَهُوَ إِذَا صَلَّى إِمَامُهُمْ قَاعِدًا فَزَجَرَهُمْ، عَنِ اسْتِعْمَالِهِ مَسْتَثْنًى مِنْ جُمْلَةِ الْأَمْرِ الْمُطْلَقِ وَلِهَذَا نَظَائِرُ كَثِيرَةٌ مِنَ السُّنَنِ سَنَذْكُرُهَا فِي مَوَاضِعِهَا مِنْ هَذَا الْكِتَابِ إِنْ قَضَى اللَّهُ ذَلِكَ وَشَاءَهُ»
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়, তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই তোমরা তার বিরুদ্ধাচারণ করবে না। যখন তিনি তাকবীর দিবেন, তখন তোমরাও তাকবীর দিবে, যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন তিনি سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) বলবেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা) আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুক্তাদীদেরকে ইমামের বিরুদ্ধাচারণ করতে নিষেধ করেছেন, যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করেন। এই ধরণের বিষয় আমরা এই কিতাবে একাধিক জায়গায় বর্ণনা করেছি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কোন সময় ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ দিয়ে কোন কিছু নিষেধ করেন, তারপর ঐ নিষিদ্ধ জিনিস থেকে কোন জিনিসকে আলাদা করেন এবং নির্দিষ্ট কারণবশত তার বৈধতা দেন। যেমন- তিনি মুযাবানাহ (ওজন, পরিমাপ বা সংখ্যা ইত্যাদি না জেনে অনুমান করে কোন কিছু বিক্রয় করা) নিষেধ করেছেন। তারপর সেই বিধান থেকে আরায়া বিক্রয় আলাদা করেছেন এবং নির্দিষ্ট কারণবশত ও নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে তার বৈধতা দিয়েছেন। অনুরুপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কোন সময় ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ দিয়ে কোন কিছু আদেশ করেন, তারপর সুনির্দিষ্ট কারণবশত ঐ আদিষ্ট জিনিস থেকে কোন জিনিসকে আলাদা করেন এবং তার বৈধতা দেন। যেমন- তিনি ইমাম ও মুক্তাদী সবাইকে অপারগ না হলে সবাইকে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করার আদেশ দিয়েছেন, তারপর তিনি ব্যাপক অর্থবোধক নির্দেশ থেকে কোন কিছুকে আলাদা করেন, আর সেটা হলো যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করেন। এজন্য তিনি ব্যাপক অর্থবোধক নির্দেশ থেকে আলাদাকৃত বিষয়কে ব্যাপক অর্থবোধক নির্দেশের পর্যায়ভুক্ত গণ্য করতে নিষেধ করেছেন। হাদীসে এর বহু উপমা রয়েছে, যা আমরা এই কিতাবের বিভিন্ন জায়গায় বর্ণনা করবো, যদি আল্লাহ তা ফায়সালা করেন এবং চান।”
[1] হুমাইদী: ৯৫৮; সহীহ আল বুখারী: ৭৩৪; সহীহ মুসলিম: ৪১৪; আবূ আওয়ানা: ২/১০৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬১৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৪১; আবূ দাঊদ: ৬০৩; নাসাঈ: ২/১৪১; ইবনু মাজাহ: ৮৪৬; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৮২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৮৫২; হুমাইদী: ৯৫৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২/১১৯-১২০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 119 - 120): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
2108 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكِبَ فَرَسًا فَصُرِعَ عَنْهُ فَجُحِشَ شِقُّهُ الْأَيْمَنُ، قَالَ أَنَسٌ: فَصَلَّى لَنَا يَوْمَئِذٍ صَلَاةً مِنَ الصَّلَوَاتِ وَهُوَ قَاعِدٌ فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ قُعُودًا، ثُمَّ قَالَ حِينَ سَلَّمَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا صَلَّى الْإِمَامُ قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ [ص:470] فَقُولُوا: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2105)
আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার ঘোড়া থেকে পড়ে যান ফলে তিনি ডান পার্শ্বে আঘাতপ্রাপ্ত হন। অতঃপর এক সালাতের সময় হলে তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বলেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়, তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই যখন তিনি তাকবীর দিবেন, তখন তোমরাও তাকবীর দিবে, যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন তিনি (রুকূ‘ থেকে মাথা) উত্তোলন করবেন, তখন তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে, যখন তিনি سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) বলবেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা) আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৫; সহীহ মুসলিম: ৪১১; হুমাইদী: ১১৮৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১১০; সহীহ আল বুখারী: ৮০৫; নাসাঈ: ২/১৯৫-১৯৬; ইবনু মাজাহ: ১২৩৮; আবূ আওয়ানা: ২/১০৫; ইবনুল জারূদ: ২২৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৭৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر (2099). تنبيه!! رقم (2099) = (2102) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله ثقات رجال الشيخين غير عمرو بن عثمان وأبيه، وهما ثقتان.
2109 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا حَوْثَرَةُ بْنُ أَشْرَسَ الْعَدَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ أَبِي الصَّهْبَاءِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ: «أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ؟ » قَالُوا: بَلَى نَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ قَالَ: «أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنَّهُ مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمِنْ طَاعَةِ اللَّهِ طَاعَتِي؟ » قَالُوا: بَلَى نَشْهَدُ أَنَّهُ مَنْ أَطَاعَكَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمِنْ طَاعَةِ اللَّهِ طَاعَتُكَ، قَالَ: «فَإِنَّ مِنْ طَاعَةِ اللَّهِ أَنْ تُطِيعُونِي، وَمِنْ طَاعَتِي أَنْ تُطِيعُوا [ص:471] أُمَرَاءَكُمْ، وَإِنْ صَلُّوا قُعُودًا فَصَلُّوا قُعُودًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2106)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার তাঁর একদল সাহাবীদের মাঝে ছিলেন, তখন তিনি বলেন, “তোমরা কি জানো না যে, আমি তোমাদের প্রতি প্রেরিত রাসূল?” সাহাবীগণ জবাব দিলেন, “জ্বী, হ্যা। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল।” তিনি বলেন, “তোমরা কি জানো না যে, যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করলো, সে আল্লাহরই অনুসরণ করলো এবং আল্লাহর অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত হলো আমার অনুসরণ?” তারা জবাব দিলেন, “জ্বী, হ্যা। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যে ব্যক্তি আপনার অনুসরণ করলো, সে আল্লাহরই অনুসরণ করলো এবং আল্লাহর অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত হলো আপনার অনুসরণ।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহর অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত হলো তোমরা আমার অনুসরণ করবে। আর আমার অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত হলো তোমরা তোমাদের শাসকদের অনুসরণ করবে। আর যদি তারা বসে সালাত আদায় করে, তবে তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৯৩; তাবারানী আল কাবীর: ১৩২৩৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৪; মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ২/৬৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ১/১২২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 122).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، حوثرة بن أشرس: روى عنه جمع، وذكره المؤلف في «الثقات» 8/ 215، وأورده ابن أبي حاتم 3/ 283 فلم يذكر فيه جرحاً ولا تعديلاً، وقد توبع، وباقي رجاله ثقات.
2110 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَوْثَرَةُ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: «وَمِنْ طَاعَتِي أَنْ تُطِيعُوا أَئِمَّتَكُمْ» أَخْبَرْنَاهُ أَبُو يَعْلَى الْمَوْصِلِيُّ قَالَ: سَأَلْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ أَبِي الصَّهْبَاءِ فَقَالَ: ثِقَةٌ.
رقم طبعة با وزير = (2107) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: فِي هَذَا الْخَبَرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ أَنَّ صَلَاةَ الْمَأْمُومِينَ قُعُودًا إِذَا صَلَّى إِمَامُهُمْ قَاعِدًا مِنْ طَاعَةِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا الَّتِي أَمَرَ عِبَادَهُ وَهُوَ عِنْدِي ضَرْبٌ مِنَ الْإِجْمَاعِ الَّذِي أَجْمَعُوا عَلَى إجَازَتِهِ؛ لِأَنَّ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعَةٌ أَفْتَوْا بِهِ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَأَبُو هُرَيْرَةَ، وَأُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ، وَقَيْسُ بْنُ قَهْدٍ، وَالْإِجْمَاعُ عِنْدَنَا إِجْمَاعُ الصَّحَابَةِ الَّذِينَ شَهِدُوا هُبُوطَ الْوَحْيِ وَالتَّنْزِيلِ وَأُعِيذُوا مِنَ التَّحْرِيفِ وَالتَّبْدِيلِ [ص:472] حَتَّى حَفِظَ اللَّهُ بِهِمُ الدِّينَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ وَصَانَهُ عَنْ ثَلْمِ الْقَادِحِينَ، وَلَمْ يُرْوَ عَنْ أَحَدٍ مِنَ الصَّحَابَةِ خِلَافٌ لِهَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَةِ لَا بِإِسْنَادٍ مُتَّصِلٍ وَلَا مُنْقَطِعٍ، فَكَأَنَّ الصَّحَابَةَ أَجْمَعُوا عَلَى أَنَّ الْإِمَامَ إِذَا صَلَّى قَاعِدًا كَانَ عَلَى الْمَأْمُومِينَ أَنْ يُصَلُّوا قُعُودًا وَقَدْ أَفْتَى بِهِ مِنَ التَّابِعِينَ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ أَبُو الشَّعْثَاءِ وَلَمْ يُرْوَ عَنْ أَحَدٍ مِنَ التَّابِعِينَ أَصْلًا بِخِلَافِهِ لَا بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ وَلَا وَاهٍ فَكَأَنَّ التَّابِعِينَ أَجْمَعُوا عَلَى أَجَازَتِهِ، وَأَوَّلُ مَنْ أَبْطَلَ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ صَلَاةَ الْمَأْمُومِ قَاعِدًا إِذَا صَلَّى إِمَامُهُ جَالِسًا الْمُغِيرَةُ بْنُ مِقْسَمٍ صَاحِبُ النَّخَعِيِّ وَأَخَذَ [ص:473] عَنْهُ حَمَّادُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، ثُمَّ أَخَذَ عَنْ حَمَّادٍ أَبُو حَنِيفَةَ وَتَبِعَهُ عَلَيْهِ مَنْ بَعْدَهُ مِنْ أَصْحَابِهِ وَأَعْلَى شَيْءٍ احْتَجُّوا بِهِ فِيهِ شَيْءٌ رَوَاهُ جَابِرٌ الْجُعْفِيُّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَؤُمَّنَّ أَحَدٌ بَعْدِي جَالِسًا» وَهَذَا [ص:474] لَوْ صَحَّ إِسْنَادُهُ لَكَانَ مُرْسَلًا وَالْمُرْسَلُ مِنَ الْخَبَرِ وَمَا لَمْ يُرْوَ سِيَّانِ فِي الْحُكْمِ عِنْدَنَا؛ لَأَنَّا لَوْ قَبْلِنَا إِرْسَالَ تَابِعِيٍّ وَإِنْ كَانَ ثِقَةً فَاضِلًا عَلَى حُسْنِ الظَّنِّ لَزِمَنَا قَبُولُ مِثْلِهِ عَنْ أَتْبَاعِ التَّابِعِينَ وَمَتَى قَبْلِنَا ذَلِكَ لَزِمَنَا قَبُولُ مِثْلِهِ عَنْ تَبَعِ الْأَتْبَاعِ، وَمَتَى قَبْلِنَا ذَلِكَ لَزِمَنَا قَبُولُ مِثْلِ ذَلِكَ عَنْ تُبَّاعِ التَّبَعِ، وَمَتَى قَبْلِنَا ذَلِكَ لَزِمَنَا أَنْ نَقْبَلَ مِنْ كُلِّ إِنْسَانٍ إِذَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَفِي هَذَا نَقْضُ الشَّرِيعَةِ، وَالْعَجَبُ مِمَّنْ يَحْتَجُّ بِمِثْلِ هَذَا الْمُرْسَلِ وَقَدْ قَدَحَ فِي رِوَايَتِهِ زِعِيمُهُمْ فِيمَا أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْقَطَّانُ بِالرَّقَّةِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا يَحْيَى الْحِمَّانِيَّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ يَقُولُ: مَا رَأَيْتُ فِيمَنْ لَقِيتُ أَفْضَلَ مِنْ عَطَاءٍ وَلَا لَقِيتُ فِيمَنْ لَقِيتُ أَكْذَبَ مِنْ جَابِرٍ الْجُعْفِيِّ مَا أَتَيْتُهُ بِشَيْءٍ قَطُّ مِنْ رَأْيٍ إِلَّا جَاءَنِي فِيهِ بِحَدِيثٍ وَزَعَمَ أَنَّ عِنْدَهُ كَذَا وَكَذَا أَلْفَ حَدِيثٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَنْطِقْ بِهَا، فَهَذَا أَبُو حَنِيفَةَ يُجَرِّحُ جَابِرًا الْجُعْفِيَّ وَيُكَذِّبُهُ ضِدَّ قَوْلِ مَنِ انْتَحَلَ مِنْ أَصْحَابِهِ مَذْهَبَهُ وَزَعَمَ أَنَّ قَوْلَ أَئِمَّتِنَا فِي كُتُبِهِمْ: فُلَانٌ ضَعِيفٌ غِيبَةٌ، ثُمَّ لَمَّا اضْطَرُّهُ الْأَمْرُ جَعَلَ يَحْتَجُّ بِمَنْ كَذَّبَهُ شَيْخُهُ فِي شَيْءٍ يَدْفَعُ بِهِ سُنَّةً مِنْ سُنَنِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:475] فَأَمَّا جَابِرٌ الْجُعْفِيَّ فَقَدْ ذَكَرْنَا قِصَّتَهُ فِي كِتَابِ الْمَجْرُوحِينَ مِنَ الْمُحَدِّثِينَ بِالْبَرَاهِينِ الْوَاضِحَةِ الَّتِي لَا يَخْفَى عَلَى ذِي لُبٍّ صِحَّتُهَا فَأَغْنَى ذَلِكَ عَنْ تِكْرَارِهَا فِي هَذَا.
ইমাম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন, আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন হাওসারাহ... পূর্বের সানাদের মতোই। তবে এই সানাদে বলা হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আর আমার অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত হলো তোমরা তোমাদের শাসকদের অনুসরণ করবে।”[1] আমাদেরকে এটি বর্ণনা করেছেন আবূ ইয়া‘লা আল মাওসিলী, তিনি বলেন, “আমি ইয়াহইয়া বিন মা‘ঈনকে উকবাহ বিন আবূ সাহবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “তিনি নির্ভরযোগ্য রাবী।” আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, ইমাম যখন বসে সালাত আদায় করবে, তখন মুক্তাদীদেরও বসে সালাত আদায় করা মহান আল্লাহর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত, যেই আনুগত্য করার তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। এটা আমার কাছে এমন ইজমার অন্তর্ভুক্ত, যার বৈধতার ব্যাপারে বিদ্বানগণ ঐক্যমত পোষন করেছেন। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চারজন সাহাবী এই মর্মে ফাতাওয়া দিয়েছেন। তাঁরা হলেন, জাবির বিন আব্দুল্লাহ, আবূ হুরাইরা, উসাইদ বিন হুদ্বাইর ও কাইস বিন কাহদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম। আর আমাদের নিকট বস্তুত ইজমা হলো সাহাবীদের ইজমা, যারা অহী অবতীর্ণ হওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁরা এতে পরিবর্তন, বিকৃতি সাধন করা প্রভৃতি থেকে মুক্ত, মহান আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে মুসলিমদের জন্য দ্বীন সংরক্ষন করেছেন এবং ছিদ্রকারীদের ছিদ্র থেকে হেফাযত করেছেন। আর সাহাবীদের মধ্যে কোন একজন সাহাবী এই চারজন সাহাবীর বিরোধিতা করেছেন এমন কোন বর্ণনা অবিচ্ছিন্ন বা বিচ্ছিন্ন কোন সানাদে বর্ণিত হয়নি। কাজেই যেন সমস্ত সাহাবা এই ব্যাপারে একমত যে, ইমাম যখন বসে সালাত আদায় করবেন, তখন মুক্তাদীদের জন্য কর্তব্য হলো তারাও বসে সালাত আদায় করবে। তাবে‘ঈদের ব্যাপারে এই ব্যাপারে ফাতাওয়া দিয়েছেন : জাবির বিন যায়েদ আবূ শা‘সা রহিমাহুল্লাহ। আর তাবে‘ঈদের মধ্যে কোন তাবে‘ঈ তার বিরোধিতা করেছেন তা সহীহ কিংবা দুর্বল কোন সানাদে আদৌ বর্ণিত হয়নি। কাজেই যেন তাবে‘ঈনরাও এর বৈধতার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করেছেন। বস্তুত ইমাম বসে সালাত আদায় করলে, মুক্তাদীও যদি বসে সালাত আদায় করে, তবে মুক্তাদীদের সালাত হয়ে যাবে, এমন কথা এই উম্মাতের মাঝে প্রথম বলেছেন ইমাম নাখ‘ঈর ছাত্র মুগীরা বিন মিকসাম, তার কাছ ইলম গ্রহণ করেন হাম্মাদ বিন আবূ সালামা। তারপর হাম্মাদ বিন আবূ সালামা থেকে ইলম গ্রহণ করেন ইমাম আবূ হানিফা। পরবর্তীতে এই ব্যাপারে তাঁর অনুসারীরা তাঁর অনুসরণ করেন। তারা সবচেয়ে বড় যেই জিনিস দিয়ে দলীল দেন, তা হলো একটা হাদীস যা জাবির আল জু‘ফী ইমাম শা‘বী থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার পরে আর কেউ বসে যেন বসে ইমামতি না করে।” এই হাদীসটির সানাদ যদি বিশুদ্ধ হয়, তবুও সেটা মুরসাল হাদীস। আমাদের নিকট মুরসাল হাদীস এবং যে হাদীস বর্ণিত হয়নি- বিধানের ক্ষেত্রে উভয়টি সমান। কেননা আমরা যদি তাবে‘ঈর মুরসাল গ্রহণ করি, -যদিও উত্তম ধারণার ভিত্তিতে তাবে‘ঈ নির্ভরযোগ্য, মর্যাদাবান হন- তবে আমাদের জন্য অবধারিত হবে অনুরুপ তাবে তাবে‘ঈর মুরসাল হাদীস গ্রহণ করা, যখন আমরা সেটা গ্রহণ করবো, তখন আমাদের জন্য আবশ্যক হবে তার মতো তাবে তাবে‘ঈদের ছাত্রদের মুরসাল বর্ণনা। যখন আমরা সেটা গ্রহণ করবো, তখন আমাদের জন্য আবশ্যক হবে প্রত্যেক মানুষের বর্ণনা, যখন তিনি বলবেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। এভাবে তো পুরো শরীয়তই ভেঙ্গে পড়বে! আশ্চার্যের বিষয় হলো তারা এরকম মুরসাল হাদীস দিয়ে দলীল দেন অথচ তাদের নেতা জাবির আল জু‘ফীর বর্ণনার নিন্দা করেছেন। আমাদেরকে হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযিদ আল কাত্তান রাক্কায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, “আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আবুল হাওয়ারী, তিনি বলেছেন, আমি আবূ ইয়াহইয়া আল হিম্মানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আবূ হানিফা রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তাদের মাঝে আতা রহিমাহুল্লাহর চেয়ে উত্তম আর কাউকে দেখিনি আর জাবির আল জু‘ফীর চেয়ে বড় মিথ্যুক আর কাউকে দেখিনি। আমি যখনই তার কাছে কোন মত উপস্থাপন করি, তখনই সে সেই বিষয়ে হাদীস পেশ করে! সে মনে করে যে, তার কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এতো এতো হাজার হাদীস আছে, যা সে বর্ণনা করেনি! এই হলেন ইমাম আবূ হানিফা, যিনি জাবির আল জু‘ফীকে জারাহ করেছেন এবং তাকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন, এটা তার কথার বিপরীত যিনি নিজেকে আবূ হানিফার অনুসারী দাবী করেন, তার মতে, আমাদের ইমামদের কিতাবে তাদের যে মন্তব্য রয়েছে “তিনি দুর্বল” –এগুলো গীবত! তারপর সে বাধ্য হয়ে এমন ব্যক্তির দলীল গ্রহণ করেন, যাকে তার ইমাম মিথ্যুক বলেছেন এবং তিনি এর মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি সুন্নাতকে প্রতিহত করতে চান। আমরা জাবির আল জু‘ফীর ব্যাপারটি আমাদের ‘মাজরূহীন’ নামক কিতাবে এমন সুস্পষ্ট দলীলের মাধ্যমে বর্ণনা করেছি, যা কোন সুস্থ জ্ঞান সম্পন্ন মানুষের কাছে অস্পষ্ট থাকবে না। এজন্য এখানে তার আলোচনা পুনরায় করা প্রয়োজন মনে করছি না।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৯৩; তাবারানী আল কাবীর: ১৩২৩৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৪; মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ২/৬৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬২০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (620).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: هو مكرر ما قبله.
2111 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُجَيْرٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَاهُ الْقَوْمُ وَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ، فَصَلَّى بِهِمْ قَاعِدًا وَهُمْ قِيَامٌ، فَلَمَّا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ الْأُخْرَى ذَهَبُوا يَقُومُونَ فَقَالَ: «ائْتَمُّوا بِإِمَامِكُمْ، وَإِنْ صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا، وَإِنْ صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2108)
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার এক সম্প্রদায়ের লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসেন, তখন সালাতের সময় হয়ে যায়, ফলে তিনি তাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন আর তারা ছিলেন দন্ডায়মান। অতঃপর যখন পরবর্তী সালাতের সময় হলো, তখন তারা সালাতের জন্য দাঁড়াতে উদ্যত হলে তিনি বলেন, “তোমরা তোমাদের ইমামের অনুসরণ করো; যদি তিনি বসে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরা বসে সালাত আদায় করবে, আর যদি তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/২০০; সহীহ আল বুখারী: ৩৭৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৫; সহীহ মুসলিম: ৪১১; হুমাইদী: ১১৮৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১১০; সহীহ আল বুখারী: ৮০৫; নাসাঈ: ২/১৯৫-১৯৬; ইবনু মাজাহ: ১২৩৮; আবূ আওয়ানা: ২/১০৫; ইবনুল জারূদ: ২২৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৭৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২/১১৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 119).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، رجاله ثقات رجال الشيخين غير محمد بن عبد الأعلى، فإنه من رجال مسلم وحده.
2112 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: رَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَسًا بِالْمَدِينَةِ فَصَرَعَهُ عَلَى جِذْعِ نَخْلَةٍ، فَانْفَكَّتْ قَدَمُهُ فَأَتَيْنَاهُ نَعُودُهُ فَوَجَدْنَاهُ فِي مَشْرُبَةٍ لِعَائِشَةَ يُسَبِّحُ جَالِسًا فَقُمْنَا خَلْفَهُ فَتَنَكَّبَ عَنا، ثُمَّ أَتَيْنَاهُ مَرَّةً أُخْرَى فَوَجَدْنَاهُ يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ، فَقُمْنَا خَلْفَهُ فَأَشَارَ إِلَيْنَا فَقَعَدْنَا، فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ قَالَ: «إِذَا صَلَّى الْإِمَامُ جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا، وَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَلَا تَفْعَلُوا كَمَا يَفْعَلُ أَهْلُ فَارِسٌ بِعُظَمَائِهَا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2109) [ص:477] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فِي هَذَا الْخَبَرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ أَنَّ اللَّفْظَةَ الَّتِي فِي خَبَرِ حُمَيْدٍ حَيْثُ صَلَّى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهِمْ قَاعِدًا وَهُمْ قِيَامٌ إِنَّمَا كَانَتْ تِلْكَ سُبْحَةً، فَلَمَّا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ الْفَرِيضَةُ أَمَرَهُمْ أَنْ يُصَلُّوا قُعُودًا كَمَا صَلَّى هُوَ فَفِي هَذَا أَوْكَدُ الْأَشْيَاءِ أَنَّ الْأَمْرَ مِنْهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَا وَصَفْنَا أَمْرُ فَرِيضَةٍ لَا فَضِيلَةٍ»
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় ঘোড়ায় আরোহন করেন, অতঃপর ঘোড়া তাঁকে একটি খেজুর গাছের ডালের উপর ফেলে দেয় ফলে তাঁর পা ফেটে যায়। অতঃপর আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কামরায় আমরা তাঁকে দেখতে পেলাম, এসময় তিনি বসে নফল সালাত আদায় করছিলেন। অতঃপর আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। তিনি আমাদের থেকে সরে গেলেন। তারপর আমরা আবার তাঁর কাছে আসি এবং তাঁকে ফরয সালাত আদায় করতে দেখি। আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়াই। তিনি আমাদের দিকে ইশারা করলেন ফলে আমরা বসে পড়লাম। অতঃপর যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন, “যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে, আর যখন ইমাম ইমাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। পারসিকরা যেমন তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে করে, তোমরা সেরকম করবে না।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, হুমাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের শব্দে বলা হয়েছে যে, তিনি বসে সালাত আদায় করছিলেন আর সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন। এটি ছিল নফল সালাত। যখন ফরয সালাতের সময় হয়, তখন তিনি তাদেরকে বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেন, যেভাবে তিনি নিজে বসে সালাত আদায় করছিলেন। কাজেই এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূরণ বিষয় হলো যা আমরা বর্ণনা করলাম সেটা হলো এই নির্দেশ ফরয নির্দেশ; মুস্তাহাব নির্দেশক নয়।”
[1] আবূ দাঊদ: ৬০২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬১৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 122)، «صحيح أبي داود» (615).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي على شرط مسلم، أبو سفيان: هو طلحة بن نافع الواسطي، ويقال: المكي صاحب جابر، قال أحمد، والنسائي: ليس به بأس، ابن أبي خيثمة عن ابن معين: ليس بشيء، وقال أبو حاتم: أبو الزبير أحب إلي منه، وقال ابن عدي: أحاديث الأعمش عنه مستقيمة، وقال ابن عيينة: حديثه عن جابر صحيفة، وقال شعبة: لم يسمع من جابر إلا أربعة أحاديث، وكذا قال ابن المديني في العلل عن معلى بن منصور، عن ابن أبي زائدة مثله، أخرج له البخاري أربعة أحاديث، وهو مقرون فيها عنده بغيره، واحتج به الباقون، وقال في «التقريب»: صدوق.
2113 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهِبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: خَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ فَرَسٍ فَجُحِشَ، فَصَلَّى لَنَا قَاعِدًا فَصَلَّيْنَا مَعَهُ قُعُودًا، ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ: «إِنَّمَا الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا، وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2110) [ص:478] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: زَعَمَ بَعْضُ الْعِرَاقِيِّينَ مِمَّنْ كَانَ يَنْتَحِلُ مَذْهَبَ الْكُوفِيِّينَ أَنَّ قَوْلَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَرَادَ بِهِ، وَإِذَا تَشَهَّدَ قَاعِدًا فَتَشَهَّدُوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ» فَحَرَّفَ الْخَبَرَ عَنْ عُمُومِ مَا وَرَدَ الْخَبَرُ فِيهِ بِغَيْرِ دَلِيلٍ يَثْبُتُ لَهُ عَلَى تَأْوِيلِهِ
আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার ঘোড়া থেকে পড়ে যান ফলে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন। অতঃপর এক সালাতের সময় হলে তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বলেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়, তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই যখন তিনি তাকবীর দিবেন, তখন তোমরাও তাকবীর দিবে, যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন তিনি (রুকূ‘ থেকে মাথা) উত্তোলন করবেন, তখন তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে, যখন তিনি سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) বলবেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা) আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও সবাই বসে সালাত আদায় করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কিছু ইরাকবাসী, যারা নিজেদের কুফাবাসীদের মাযহাবের (হানাফী মাযহাবের) দাবী করেন, তারা মনে করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও সবাই বসে সালাত আদায় করবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো “যখন ইমাম বসে তাশাহহুদ পড়বে, তখন তোমরাও সবাই বসে তাশাহহুদ পড়বে!” এভাবে তারা তাদের ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে কোন রকম দলীল ছাড়া হাদীসের ব্যাপক অর্থকে বিকৃত করেছে!”
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৫; সহীহ মুসলিম: ৪১১; হুমাইদী: ১১৮৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১১০; সহীহ আল বুখারী: ৮০৫; নাসাঈ: ২/১৯৫-১৯৬; ইবনু মাজাহ: ১২৩৮; আবূ আওয়ানা: ২/১০৫; ইবনুল জারূদ: ২২৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৭৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر (2099). تنبيه!! رقم (2099) = (2102) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله رجال الشيخين غير يزيد بن موهب، وهو يزيد بن خالد بن يزيد بن عبد الله بن موهب، فإنه لم يخرجا له ولا أحدهما، وهو ثقة.
2114 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: صُرِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ فَرَسٍ لَهُ فَوَقَعَ عَلَى جِذْعِ نَخْلَةٍ، فَانْفَكَّتْ قَدَمُهُ فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ نَعُودُهُ وَهُوَ يُصَلِّي فِي مَشْرُبَةٍ لِعَائِشَةَ جَالِسًا فَصَلَّيْنَا بِصَلَاتِهِ وَنَحْنُ قِيَامٌ، ثُمَّ دَخَلْنَا عَلَيْهِ مَرَّةً أُخْرَى وَهُوَ يُصَلِّي جَالِسًا فَصَلَّيْنَا بِصَلَاتِهِ وَنَحْنُ قِيَامٌ فَأَوْمَأَ إِلَيْنَا أَنِ اجْلِسُوا فَلَمَّا صَلَّى قَالَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِنْ صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا وَلَا تَقُومُوا وَهُوَ جَالِسٌ كَمَا يَصْنَعُ [ص:479] أَهْلُ فَارِسٍ بِعُظَمَائِهَا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2111) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فِي قَوْلِ جَابِرٍ: فَصَلَّيْنَا بِصَلَاتِهِ وَنَحْنُ قِيَامٌ، بَيَانٌ وَاضِحٌ عَلَى دَحْضِ قَوْلِ هَذَا الْمُتَأَوِّلِ إِذِ الْقَوْمُ لَمْ يَتَشَهَّدُوا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُمْ قِيَامٌ وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ فِي الصَّلَاةِ الْأُخْرَى فَصَلَّيْنَا بِصَلَاتِهِ وَنَحْنُ قِيَامٌ فَأَوْمَأَ إِلَيْنَا أَنِ اجْلِسُوا أَرَادَ بِهِ الْقِيَامَ الَّذِي هُوَ فَرْضُ الصَّلَاةِ لَا التَّشَهُّدَ»
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় ঘোড়ায় আরোহন করেন, অতঃপর ঘোড়া তাঁকে একটি খেজুর গাছের ডালের উপর ফেলে দেয় ফলে তাঁর পা ফেটে যায়। অতঃপর আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কামরায় আমরা তাঁকে দেখতে পেলাম, এসময় তিনি বসে নফল সালাত আদায় করছিলেন। অতঃপর আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। তিনি আমাদের থেকে সরে গেলেন। তারপর আমরা আবার তাঁর কাছে আসি এবং তাঁকে ফরয সালাত আদায় করতে দেখি। আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়াই। তিনি আমাদের দিকে ইশারা করলেন ফলে আমরা বসে পড়লাম। অতঃপর যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন, “যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে, আর যখন ইমাম ইমাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। পারসিকরা যেমন তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে করে, তোমরা সেরকম করবে না।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্যে বলা হয়েছে “অতঃপর আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করি” এটি এই লোকের ব্যাখ্যাকে স্পষ্টভাবে বাতিল করে। কেননা সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে দাঁড়িয়ে তাশাহ্হুদ পড়েননি। অনুরুপভাবে অন্য সালাতে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্যে বলা হয়েছে “আমরা দাঁড়ানো অবস্থায় তাঁর মতো সালাত আদায় করি।তখন তিনি আমাদের ইঙ্গিত করে বলেন, “তোমরা বসে সালাত আদায় করো।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কিয়াম, যা সালাতে ফরয; এখানে তাশাহ্হুদ উদ্দেশ্য নয়।”
[1] আবূ দাঊদ: ৬০২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬১৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: وهو مكرر (2109). تنبيه!! رقم (2109) = (2112) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي على شرط مسلم
2115 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي يُونُسَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا: [ص:480] اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ، وَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2112) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فِي تَقْرِيرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَمْرَ لِلْمَأْمُومِينَ أَنْ يُصَلُّوا قِيَامًا إِذَا صَلَّى إِمَامُهُمْ قَائِمًا بِالْأَمْرِ بِالصَّلَاةِ قُعُودًا إِذَا صَلَّى إِمَامُهُمْ جَالِسًا أَعْظَمُ الْبَيَانِ أَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يُرِدْ بِهِ التَّشَهُّدَ فِي الْأَمْرَيْنِ جَمِيعًا وَإِنَّمَا أَرَادَ الْقِيَامَ الَّذِي هُوَ فَرْضُ الصَّلَاةِ أَنْ يُؤْتَى بِهِ كَمَا يَأْتِي الْإِمَامُ»
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয় তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই যখন তিনি তাকবীর দিবেন, তখন তোমরাও তাকবীর দিবে, যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করবেন, তখন তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে, যখন তিনি سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) বলবেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা), যখন তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখানে মুক্তাদীদের দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন, যখন ইমাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি সাথে এটাও নির্দেশ দিয়েছেন যে, ইমাম যখন বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তারাও বসে সালাত আদায় করবে। কাজেই এটি সবচেয়ে বড় দলীল যে, উভয় ক্ষেত্রে রাসূল তাশাহ্হুদ উদ্দেশ্য নেননি বরং তিনি কিয়াম উদ্দেশ্য নিয়েছেন, যা সালাতের একটি ফরয বিধান। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এটা যেন সেভাবেই সম্পন্ন করা হয়, যেভাবে ইমাম সম্পন্ন করেন।”
[1] হুমাইদী: ৯৫৮; সহীহ আল বুখারী: ৭৩৪; সহীহ মুসলিম: ৪১৪; আবূ আওয়ানা: ২/১০৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬১৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৪১; আবূ দাঊদ: ৬০৩; নাসাঈ: ২/১৪১; ইবনু মাজাহ: ৮৪৬; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৮২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৮৫২; হুমাইদী: ৯৫৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২/১১৯-১২০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق، وتقدم (2104). تنبيه!! رقم (2104) = (2107) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي على شرط مسلم، أبو يونس: اسمه سليم بن جبير وهو مولى أبي هريرة.
2116 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ لَهَا: أَلَا تُحَدِّثِينِي عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَتْ: بَلَى، ثَقُلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أَصَلَّى النَّاسُ؟ » فَقُلْتُ: لَا هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ» قَالَتْ: فَفَعَلْنَا فَاغْتَسَلَ، ثُمَّ ذَهَبَ لِيَنْوِيَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ، ثُمَّ أَفَاقَ، [ص:481] فَقَالَ: «أَصَلَّى النَّاسُ؟ » فَقُلْتُ: لَا هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالنَّاسُ عُكُوفٌ فِي الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُونَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِصَلَاةِ الْعِشَاءِ الْآخِرَةِ، قَالَتْ: فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أَنْ صَلِّ بِالنَّاسِ فَأَتَاهُ الرَّسُولُ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُكَ أَنْ تُصَلِّيَ بِالنَّاسِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَكَانَ رَجُلًا رَقِيقًا: يَا عُمَرُ صَلِّ بِالنَّاسِ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: أَنْتَ أَحَقُّ بِذَلِكَ، قَالَ: فَصَلَّى بِهِمْ أَبُو بَكْرٍ تِلْكَ الْأَيَّامَ، قَالَتْ: ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَدَ مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً فَخَرَجَ بَيْنَ رَجُلَيْنِ لِصَلَاةِ الظُّهْرِ وَأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ، قَالَتْ: فَلَمَّا رَآهُ أَبُو بَكْرٍ ذَهَبَ لِيَتَأَخَّرَ، فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ أَنْ لَا يَتَأَخَّرَ، وَقَالَ لَهُمَا: «أَجْلِسَانِي إِلَى جَنْبِهِ» فَأَجْلَسَاهُ إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ فَجَعَلَ أَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي وَهُوَ قَائِمٌ بِصَلَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلَاةِ أَبِي بَكْرٍ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدٌ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: فَدَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ: أَلَا أَعْرِضُ عَلَيْكَ مَا حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ، عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ: هَاتِ فَعَرَضْتُ حَدِيثَهَا عَلَيْهِ، فَمَا أَنْكَرَ مِنْهُ شَيْئًا. [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2113)
উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছে গিয়ে বললাম, “আপনি কি আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতা সম্পর্কে আমাকে হাদীস বর্ণনা করবেন না?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতা অত্যন্ত বেড়ে যায়, সে সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, “লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে?” আমরা বললাম, “জ্বী, না। হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।” তিনি বললেন, “আমার জন্য পাত্রে পানি দাও।” আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন। অতঃপর একটু উঠতে চাইলেন, কিন্তু বেহুঁশ হয়ে গেলেন। তারপর কিছুক্ষণ পর হুঁশ ফিরে পেয়ে বললেন, “লোকজন কি সালাত আদায় করে নিয়েছে?” আমি বললাম, “জ্বী, না। হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।” এসময় সাহাবীগণ ইশার সালাতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপেক্ষায় মসজিদে অবস্থান করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এ মর্মে লোক পাঠালেন যে, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। সংবাদ বাহক আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।” আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত কোমল মনের লোক ছিলেন, তিনি ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুরকে বললেন, “হে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, আপনি সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করুন।” উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আপনিই এর অধিক উপযুক্ত। তাই আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সে কয়দিন সালাত আদায় করলেন। আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু হাল্কাবোধ করলেন এবং দু’জন লোকের কাঁধে ভর করে যুহরের সালাতের জন্য বের হলেন। এসময় আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন।” আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “যখন আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেলেন, পিছনে সরে আসতে চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পিছিয়ে না আসার জন্য ইঙ্গিত করলেন এবং তিনি তাঁর দুই পাশের ব্যক্তিদ্বয়কে বললেন, “তোমরা আমাকে তাঁর পাশে বসিয়ে দাও।” ফলে তাঁরা তাঁকে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পাশে বসিয়ে দিলেন। অতঃপর আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের ইক্তিদা করে সালাত আদায় করতে লাগলেন। আর সাহাবীগণ আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সালাতের ইক্তিদা করতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উপবিষ্ট ছিলেন।” উবাইদুল্লাহ বলেন, “অতঃপর আমি আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তিমকালের অসুস্থতা সম্পর্কে আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা আমাকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তা কি আমি আপনার নিকট পেশ করব না?” তিনি বললেন, “বলুন।” তারপর আমি তাঁর কাছে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার হাদীস পেশ করলাম। হাদীস শুনার পর তিনি সেই ব্যাপারে কোন রকম আপত্তি করেননি।” [1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু শাইবাহ: ২/৩৩২; আহমাদ: ৬/৬/২৫১; নাসাঈ: ১০১-১০২; সহীহুল বুখারী: ৬৮৭; সহীহ মুসলিম: ৪১৮; আবূ আওয়ানা: ২/১১১; দারেমী: ১/২৮৭; তাহাবী, শারহু মাআনিল আসার: ১/৪০৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৮০; হুমাইদী: ২৩৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯৭৫৪; আহমাদ: ৬/২২৮; ইবনু মাজাহ: ১৬৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা'লীকাতুল হিসান: ১১১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، زائدة: هو ابن قدامة.
2117 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَدَلُ بْنُ الْمُحَبَّرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ، عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّ أَبَا بَكْرٍ صَلَّى بِالنَّاسِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّفِّ خَلْفَهُ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2114) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: خَالَفَ شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ زَائِدَةَ بْنَ قُدَامَةَ فِي مَتْنِ هَذَا الْخَبَرِ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ فَجَعَلَ شُعْبَةُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَأْمُومًا حَيْثُ صَلَّى قَاعِدًا وَالْقَوْمُ قِيَامٌ وَجَعَلَ زَائِدَةُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِمَامًا حَيْثُ صَلَّى قَاعِدًا وَالْقَوْمُ قِيَامٌ وَهُمَا مُتْقِنَانِ حَافِظَانِ فَكَيْفَ يَجُوزُ أَنْ تُجْعَلُ إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ اللَّتَيْنِ تَضَادَّتَا فِي الظَّاهِرِ فِي فِعْلٍ وَاحِدٍ نَاسِخًا لِأَمْرٍ مُطْلَقٍ مُتَقَدِّمٍ، فَمَنْ جَعَلَ أَحَدَ الْخَبَرَيْنِ [ص:484] نَاسِخًا لِمَا تَقَدَّمَ مِنْ أَمْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَرَكَ الْآخَرَ مِنْ غَيْرِ دَلِيلٍ يَثْبُتُ لَهُ عَلَى صِحَّتِهِ سَوَّغَ لِخَصْمِهِ أَخْذَ مَا تَرَكَ مِنَ الْخَبَرَيْنِ وَتَرْكَ مَا أَخَذَ مِنْهُمَا، وَنَظِيرُ هَذَا النَّوْعِ مِنَ السُّنَنِ خَبَرُ ابْنِ عَبَّاسٍ «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَكَحَ مَيْمُونَةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ»، وَخَبَرُ أَبِي رَافِعٍ «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَكَحَهَا وَهُمَا حَلَالَانِ» فَتَضَادَّ الْخَبَرَانِ فِي فِعْلٍ وَاحِدٍ فِي الظَّاهِرِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُونَ بَيْنَهُمَا تَضَادٌّ عِنْدَنَا فَجَعَلَ جَمَاعَةٌ مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ الْخَبَرَيْنِ اللَّذَيْنِ رُوِيَا فِي نِكَاحِ مَيْمُونَةَ مُتَعَارِضَيْنِ وَذَهَبُوا إِلَى خَبَرِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَنْكِحُ الْمُحْرِمُ وَلَا يُنْكِحُ» فَأَخَذُوا بِهِ إِذْ هُوَ يُوَافِقُ إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ اللَّتَيْنِ رُوِيَتَا فِي نِكَاحِ مَيْمُونَةَ وَتَرَكُوا خَبَرَ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَكَحَهَا وَهُوَ مُحْرِمٌ. [ص:485] فَمَنْ فَعَلَ هَذَا لَزِمَهُ أَنْ يَقُولَ تَضَادَّ الْخَبَرَانِ فِي صَلَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عِلَّتِهِ عَلَى حَسْبِ مَا ذَكَرْنَاهُ قَبْلُ فَيَجِبُ أَنْ نَجِيءَ إِلَى الْخَبَرِ الَّذِي فِيهِ الْأَمْرُ بِصَلَاةِ الْمَأْمُومِينَ قُعُودًا إِذَا صَلَّى إِمَامُهُمْ قَاعِدًا فَنَأْخُذُ بِهِ إِذْ هُوَ يُوَافِقُ إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ اللَّتَيْنِ رُوِيَتَا فِي صَلَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عِلَّتِهِ وَنَتْرُكَ الْخَبَرَ الْمُنْفَرِدَ عَنهُمَا كَمَا فَعَلَ ذَلِكَ فِي نِكَاحِ مَيْمُونَةَ وَلَيْسَ عِنْدَنَا بَيْنَ هَذِهِ الْأَخْبَارِ تَضَادٌّ وَلَا تَهَاتُرٌ وَلَا نَاسِخٌ وَلَا مَنْسُوخٌ بَلْ مِنْهَا مُخْتَصَرٌ وَمُتَقَصًّى وَمُجْمَلٌ وَمُفَسَّرٌ إِذَا ضُمَّ بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ بَطَلَ التَّضَادُّ بَيْنَهُمَا وَاسْتُعْمِلَ كُلُّ خَبَرٍ فِي مَوْضِعِهِ عَلَى مَا سَنُبَيِّنُهُ إِنْ قَضَى اللَّهُ ذَلِكَ وَشَاءَهُ
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “ আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেছেন এমন অবস্থায় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর পিছনের কাতারে ছিলেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসের মূল বক্তব্যে শু‘বাহ বিন হাজ্জাজ মূসা বিন আবূ আয়িশা থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে যায়িদাহ বিন কুদামার বিরোধিতা করেছেন। ইমাম শু‘বাহর বর্ণনায় এসেছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্তাদী হয়ে বসে সালাত আদায় করেছেন আর লোকজন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন। আর যায়িদার বর্ণনায় এসেছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম হয়ে বসে সালাত আদায় করেছেন আর লোকজন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন। এখানে শু‘বাহ ও যায়িদাহ উভয়েই হাফেযে হাদীস ও মজবূত রাবী। কাজেই এটা কিভাবে জায়েয হতে পারে যে, একই কাজে বাহ্যত পরস্পর বিরোধী দুটো হাদীসের মধ্যে একটিকে রহিতকারী সাব্যস্ত করা যাবে, যা পূ্র্বের ব্যাপক অর্থবোধক কোন বিষয়কে রহিত করে দিবে? সুতরাং যিনি দুই হাদীসের মধ্যে একটিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বের নির্দেশকে বিশুদ্ধ কোন প্রমাণ ছাড়াই রহিতকারী নির্ধারণ করবে, তিনি এর মাধ্যমে তার বিরোধীদেরকে তিনি যে হাদীস গ্রহণ করেছেন, তা বর্জন করা, আর যা তিনি বর্জন করেছেন, তা গ্রহণ করার বৈধতা দিয়েছেন! হাদীসে এর আরো দৃষ্টান্ত হলো আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীস। যেখানে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন।” পক্ষান্তরে আবূ রাফি‘ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহ করেছিলেন এমন অবস্থায় যে, তাঁরা দুইজনই হালাল ছিলেন।” কাজেই একই কাজের ব্যাপারে হাদীস দুটো বাহ্যত পরস্পর বিরোধী। যদিও আমাদের নিকট উভয় হাদীসের মাঝে কোন বৈপরীত্ব নেই। এক্ষেত্রে একদল মুহাদ্দিস মাইমূনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহ করার ব্যাপারে হাদীস দুটোকে পরস্পর বিরোধী সাব্যস্ত করেছেন। অতঃপর তাঁরা এই ব্যাপারে উসমান বিন আফ্ফান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসকে গ্রহণ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, “মুহরিম ব্যক্তি নিজে বিবাহ করতে পারবে না এবং তাকে বিবাহ দেওয়াও যাবে না” তাঁরা এই হাদীসকে গ্রহণ করেছেন। কেননা মাইমূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহ করার ব্যাপারে বর্ণিত দুটি হাদীসের মধ্যে একটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাঁরা আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীস বর্জন করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে ইহরাম অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন। যিনি এমন পন্থা অবলম্বন করেছেন, তার জন্য জরুরী হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থতার সময় তাঁর সালাতের বিষয়ে পরস্পর বিরোধী দুটি হাদীসের ক্ষেত্রেও অনুরুপ কথা বলা, যা আমরা পূর্বে বর্ণনা করলাম। কাজেই আমাদের জন্য আবশ্যক হলো ঐ হাদীসের দিকে যাওয়া যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্তাদীদেরকে বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন, যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করেন। আমরা এই হাদীস গ্রহণ করবো, কেননা এই হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থতার সময় তাঁর সালাতের বিষয়ে পরস্পর বিরোধী দুটি হাদীসের মধ্যে একটি হাদীসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর আমরা দুই জনের মাঝে যিনি এককভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার হাদীসটি বর্জন করবো, যেমনটা মাইমূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহ করার ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদীসের ব্যাপারে করা হয়েছে। আর আমাদের নিকট এসব হাদীসের মাঝে কোন বৈপরীত্ব, রহিতকারী, রহিত কোন কিছু নেই। বরং এসব হাদীসের মাঝে কোনটা সংক্ষিপ্ত কোনটা বিস্তারিত, কোনটা ব্যাখ্যাকৃত কোনটা ব্যাখ্যাহীন। যখন এক হাদীসকে অপর হাদীসের সাথে যুক্ত করা হবে, তখন উভয়ের মাঝে আর কোন বৈপরীত্ব থাকবে না। বরং প্রত্যেকটি হাদীস স্বস্বস্থানে ব্যবহৃত হবে, যা আমরা যথাস্থানে বর্ণনা করবো যদি আল্লাহ তা ফায়সালা করেন এবং চান।”
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬২১; নাসাঈ: ২/৮৩-৮৪; আবূ আওয়ানা: ২/১১২-১১৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২১১৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري.
2118 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ مَوْلَى ثَقِيفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ الْعَبْسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَاصِمٍ *، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: أُغْمِيَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ: «أَصَلَّى النَّاسُ؟ » قُلْنَا: لَا قَالَ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسُ؟ » فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ أَسِيفٌ إِذَا قَامَ مَقَامَكَ لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ، - قَالَ عَاصِمٌ: وَالْأَسِيفُ الرَّقِيقُ الرَّحِيمُ - قَالَ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ» قَالَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ أَرُدُّ عَلَيْهِ قَالَتْ: [ص:486] فَصَلَّى أَبُو بَكْرٍ بِالنَّاسِ، ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَدَ خِفَّةً مِنْ نَفْسِهِ فَخَرَجَ بَيْنَ بَرِيرَةَ وَنُوبَةَ إِنِّي لَأَنْظُرُ إِلَى نَعْلَيْهِ تَخُطَّانِ فِي الْحَصَا وَأَنْظُرُ إِلَى بُطُونِ قَدَمَيْهِ، فَقَالَ لَهُمَا: «أَجْلِسَانِي إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ» فَلَمَّا رَآهُ أَبُو بَكْرٍ ذَهَبَ يَتَأَخَّرُ، فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ أَنِ اثْبُتْ مَكَانَكَ فَأَجْلَسَاهُ إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ: فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يُصَلِّي وَهُوَ جَالِسٌ وَأَبُو بَكْرٍ قَائِمٌ يُصَلِّي بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلَاةِ أَبِي بَكْرٍ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2115)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, তারপর আবার জ্ঞান ফিরে পান। অতঃপর তিনি বলেন, “লোকজন কি সালাত আদায় করেছে?” আমরা বললাম, “জ্বী, না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমি বললাম, নিশ্চয়ই আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নরম হৃদয়ের মানুষ। যখন তিনি আপনার জায়গায় দাঁড়াবেন, তখন তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে পারবেন না।” আসিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “أَسِيفٌ এর অর্থ কোমল, দয়ালূ।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা তিনবার বলেন। আর আমি প্রত্যেকবার একই জবাব দিয়েছি। তারপর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুটা হালকা অনুভব করেন। তারপর তিনি বারীরা ও নূবা মাঝে থেকে মাসজিদের দিকে বের হন। আমি তাঁর দেখছিলাম, তাঁর জুতা দুটো কঙ্করের মাঝে হেঁচড়ে যাচ্ছিলো, আমি তাঁর পায়ের পেট দেখতে পাচ্ছিলাম। তিনি তাদের দুইজনকে বললেন, “তোমরা আমাকে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পাশে বসিয়ে দাও। অতঃপর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন তাঁকে দেখতে পান, তখন তিনি পিছু হটতে উদ্যত হন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইশারায় বললেন, “আপনি নিজ জায়গায় থাকুন।” তারপর তারা দুইজন তাঁকে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পাশে বসিয়ে দেন। আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সময় বসে সালাত আদায় করেন, আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের অনুসরণ করেন আর লোকজন আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সালাতের অনুসরণ করেন।”[1]
[1] মুসন্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫২৪; শামাইলে তিরমিযী: ৩৭৮; ইবনু মাজাহ: ১২৩৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২১১৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - انظر التعليق. * [عَنْ عَاصِمٍ] قال الشيخ: هو ابن بهدلة، أبي النَّجود، وهو حسن الحديث، كما تقَّدَم - مِراراً - وقد توبع كما يأتي، وبقيَّةُ الرجال ثقات معروفون. وعثمان بن أبي شيبة العَبْسِيُّ: هو صاحب «المسند» المعروف به، وهو أخو أبي بكر بن أبي شيبة صاحب «المصنَّف» المشهور به. وقد تابعه فيه، فقال فيه (2/ 331): حدثنا حسين بن عليٍّ به. ويأتي الحديث (2221) من طريق نُعيمِ بنِ أبِي هندٍ، عن أبي وائل (وهو شقيق) - أحسِبُه - عن مسروق به. ومن هذا الوجه أخرج الجملة الأخيرة، وهي مُخَالِفةٌ لرواية ابن بَهدلَه؛ لأنَّها صريحةٌ بأنَّهُ صلى الله عليه وسلم صَلَّى خَلفَ أبي بكرٍ: أخرجه البيهقيُّ (3/ 82)، وأحمد (6/ 159)، وكذا ابن أبي شيبة (2/ 332). وفي روايةِ ابن بَهدَلة: أن أبا بكرٍ صلَّى خَلفَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يقتدي به، ويقتدي الناس بصلاة أبي بكرٍ. وقد جَمَعَ المُؤلِّف بَينَ الرِّوَايَتَيْنِ على أنَّهُما صلاتان فراجعه. تنبيه!! رقم (2221) = (2224) من «طبعة المؤسسة». لكن الحديث ليس موجود بالرقم المشار إليه وإنما موجود برقم: (2121) الموافق لـ (2124) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، عاصم: هو ابن بهدلة، حسن الحديث، أخرجا له في الصحيحين مقروناً، وباقي السند رجاله رجال الشيخين غير زائدة –وهو ابن قدامة الثقفي- فإنه من رجال البخاري.
2119 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ أَبِي هِنْدَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ قَاعِدًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2116) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «خَالَفَ نُعَيْمُ بْنُ أَبِي هِنْدَ، عَاصِمَ بْنَ أَبِي النَّجُودِ فِي مَتْنِ هَذَا الْخَبَرِ فَجَعَلَ عَاصِمٌ أَبَا بَكْرٍ مَأْمُومًا وَجَعَلَ نُعَيْمُ بْنُ أَبِي هِنْدَ أَبَا بَكْرٍ إِمَامًا وَهُمَا ثِقَتَانِ حَافِظَانِ مُتْقِنَانِ، فَكَيْفَ يَجُوزُ أَنْ يُجْعَلَ خَبَرُ أَحَدِهِمَا نَاسِخًا لِأَمْرٍ [ص:488] مُتَقَدِّمٍ، وَقَدْ عَارَضَهُ فِي الظَّاهِرِ مِثْلُهُ؟ وَنَحْنُ نَقُولُ بِمَشِيئَةِ اللَّهِ وَتَوْفِيقِهِ: إِنَّ هَذِهِ الْأَخْبَارَ كُلَّهَا صِحَاحٌ وَلَيْسَ شَيْءٌ مِنْهَا يُعَارِضُ الْآخَرَ وَلَكِنَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى فِي عِلَّتِهِ صَلَاتَيْنِ فِي الْمَسْجِدِ جَمَاعَةً لَا صَلَاةً وَاحِدَةً فِي إِحْدَاهُمَا كَانَ مَأْمُومًا وَفِي الْأُخْرَى كَانَ إِمَامًا وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّهُمَا كَانَا صَلَاتَيْنِ لَا صَلَاةً وَاحِدَةً أَنَّ فِي خَبَرِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ بَيْنَ رَجُلَيْنِ يُرِيدُ أَحَدُهُمَا الْعَبَّاسَ وَالْآخَرَ عَلِيًّا وَفِي خَبَرِ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ بَيْنَ بَرِيرَةَ وَنُوبَةَ فَهَذَا يَدُلَّكُ عَلَى أَنَّهَا كَانَتْ صَلَاتَيْنِ لَا صَلَاةً وَاحِدَةً»
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অসুস্থতায় মারা যান, সে সময় তিনি আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পিছনে বসে সালাত আদায় করেছেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসের মূল বক্তব্যে নু‘আইম বিন আবূ হিনদ আসিম বিন আবুন নাজূদের বিরোধিতা করেছেন। আসিম বিন আবুন নাজূদের বর্ণনায় এসেছে যে, আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মুক্তাদী হয়ে সালাত আদায় করেছেন আর নু‘আইম বিন আবূ হিনদের বর্ণনায় এসেছে যে, আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইমাম হয়ে সালাত আদায় করেছেন। এখানে উভয় জনই হাফেযে হাদীস, নির্ভরযোগ্য মজবূত রাবী। কাজেই এটা কিভাবে জায়েয হতে পারে যে, দুটো হাদীসের মধ্যে একটিকে রহিতকারী সাব্যস্ত করা যাবে, যা পূ্র্বের ব্যাপক অর্থবোধক কোন বিষয়কে রহিত করে দিবে, অথচ তার মতোই আরেকটি হাদীসটি বাহ্যত তার সাথে সাংঘর্ষিক? আমরা আল্লাহ তাওফীক ও ইচ্ছায় বলি: এই ব্যাপারে সবগুলো হাদীসই বিশুদ্ধ। এর একটি হাদীসও অপর হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। বস্তুত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অসুস্থতার সময় জামা‘আতে দুইবার সালাত আদায় করেছেন; একবার নয়। একবার তিনি ইমাম ছিলেন আরেকবার তিনি মু্ক্তাদী ছিলেন। তিনি যে জামা‘আতে দুইবার সালাত আদায় করেছেন; একবার নয়- এই ব্যাপারে দলীল হলো উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজন ব্যক্তির মাঝে থেকে মাসজিদের উদ্দেশ্য বের হয়েছিলেন, তাদের একজন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আরেকজন আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। আর মাসরূক রহিমাহুল্লাহ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজন ব্যক্তির মাঝে থেকে মাসজিদের উদ্দেশ্য বের হয়েছিলেন, তাদের একজন বারীরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা আরেকজন নূবা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা। কাজেই এটি প্রমাণ করে যে, এখানে দুটি সালাত ছিল; একটি নয়।”
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ: ২/৩৩২; শারহু মাআনিল আসার: ১/৪০৬; আহমাদ: ৬/১৫৯; তিরমিযী: ৩৬২; সুনান বাইহাকী: ৩০৮৩; নাসাঈ: ২/৭৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬২০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা'লীকাতুল হিসান: ২১১৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله ثقات رجال الشيخين غيرنعيم بن أبي هند، فإنه من رجال مسلم وحده.
2120 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، وَعُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُجَيْرٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ جُنَادَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: لَمَّا مَرِضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَضَهُ الَّذِي مَاتَ فِيهِ جَاءَهُ بِلَالٌ يُؤْذِنُهُ بِالصَّلَاةِ، فَقَالَ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ» قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ أَسِيفٌ وَمَتَى يَقُمْ مَقَامَكَ يَبْكِ فَلَوْ أَمَرْتَ عُمَرَ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ قَالَ: «مُرُوا أَبَا بَكْرٍ لِيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ» ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، «فَإِنَّكُنَّ صَوَاحِبَاتُ يُوسُفَ»، قَالَتْ: فَأَرْسَلْنَا إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَصَلَّى بِالنَّاسِ فَوَجَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً فَخَرَجَ يُهَادَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ وَرِجْلَاهُ تَخُطَّانِ فِي الْأَرْضِ، فَلَمَّا حَسَّ * بِهِ أَبُو بَكْرٍ ذَهَبَ يَتَأَخَّرُ، فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ مَكَانَكَ قَالَ: فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَلَسَ إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ فَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَأْتَمُّ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسُ يَأْتَمُّونَ بِأَبِي بَكْرٍ. [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2117) [ص:490] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «هَذَا خَبَرٌ مُخْتَصَرٌ مُجْمِلٌ فَأَمَّا اخْتِصَارُهُ، فَلَيْسَ فِيهِ ذِكْرُ الْمَوْضِعِ الَّذِي جَلَسَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعَلَى يَمِينِ أَبِي بَكْرٍ أَوْ عَنْ يَسَارِهِ؟ »
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, তারপর আবার জ্ঞান ফিরে পান। অতঃপর তিনি বলেন, “লোকজন কি সালাত আদায় করেছে?” আমরা বললাম, “জ্বী, না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমি বললাম, নিশ্চয়ই আবূ নরম হৃদয়ের মানুষ। যখন তিনি আপনার জায়গায় দাঁড়াবেন, তখন তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে পারবেন না।” আসিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “أَسِيفٌ এর অর্থ কোমল, দয়ালূ।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা তিনবার বলেন। আর আমি প্রত্যেকবার একই জবাব দিয়েছি। তারপর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুটা হালকা অনুভব করেন। তারপর তিনি বারীরা ও নূবা মাঝে থেকে মাসজিদের দিকে বের হন। আমি তাঁর দেখছিলাম, তাঁর জুতা দুটো কঙ্করের মাঝে হেঁচড়ে যাচ্ছিলো, আমি তাঁর পায়ের পেট দেখতে পাচ্ছিলাম। তিনি তাদের দুইজনকে বললেন, “তোমরা আমাকে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পাশে বসিয়ে দাও। অতঃপর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন তাঁকে দেখতে পান, তখন তিনি পিছু হটতে উদ্যত হন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইশারায় বললেন, “আপনি নিজ জায়গায় থাকুন।” তারপর তারা দুইজন তাঁকে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পাশে বসিয়ে দেন। আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সময় বসে সালাত আদায় করেন, আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের অনুসরণ করেন আর লোকজন আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সালাতের অনুসরণ করেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসটি সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যাহীন। সংক্ষিপ্ত এজন্য যে, এখানে উল্লেখ করা হয়নি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় বসেছিলেন; আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ডান দিকে না বাম দিকে।”
[1] মুসন্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫২৪; শামাইলে তিরমিযী: ৩৭৮; ইবনু মাজাহ: ১২৩৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২১১৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (2115). * [حَسَّ]: قال الشيخ: في الأصل: «أحس». تنبيه!! رقم (2115) = (2118) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله رجال الشيخين غير سلم بن جنادة، وهو ثقة.