সহীহ ইবনু হিব্বান
2121 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: لَمَّا وَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً جَاءَ حَتَّى جَلَسَ عَنْ يَسَارِ أَبِي بَكْرٍ وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يُصَلِّي بِالنَّاسِ قَاعِدًا وَأَبُو بَكْرٍ قَائِمًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2118) [ص:491] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «وَأَمَّا إِجْمَالُ الْخَبَرِ فَإِنَّ عَائِشَةَ حَكَتْ هَذِهِ الصَّلَاةَ إِلَى هَذَا الْمَوْضِعِ وَآخِرُ الْقِصَّةِ عِنْدَ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ إِذِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُمْ بِالْقُعُودِ أَيْضًا فِي هَذِهِ الصَّلَاةِ كَمَا أَمَرَهُمْ بِهِ عِنْدَ سُقُوطِهِ عَنِ فَرَسِهِ عَلَى حَسْبِ مَا ذَكَرْنَاهُ قَبْلُ»
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কিছুটা হালকা অনুভব করলেন, তিনি মাসজিদে আসলেন এবং আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বাম পাশে বসলেন। এই সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন, আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসটি ব্যাখ্যাহীন হওয়ার কারণ হলো আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা সালাতের এই পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ঘটনার শেষ পর্যন্ত বর্ণনা রয়েছে জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায়। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সালাতে তাদেরকে বসে সালাত আদায় করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেমনভাবে তিনি আদেশ করেছিলেন ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার সময়, যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।”
[1] মুসন্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫২৪; শামাইলে তিরমিযী: ৩৭৮; ইবনু মাজাহ: ১২৩৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২১১৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
2122 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهِبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: اشْتَكَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ وَهُوَ قَاعِدٌ وَأَبُو بَكْرٍ يُكَبِّرُ يُسْمِعُ النَّاسَ تَكْبِيرَهُ قَالَ: فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا فَرَآنَا قِيَامًا، فَأَشَارَ إِلَيْنَا فَقَعَدْنَا فَصَلَّيْنَا بِصَلَاتِهِ قُعُودًا، فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ: «كِدْتُمْ أَنْ تَفْعَلُوا فِعْلَ فَارِسَ وَالرُّومَ يَقُومُونَ عَلَى مُلُوكِهِمْ وَهُمْ قُعُودٌ فَلَا تَفْعَلُوا [ص:492] ائْتَمُّوا بِإِمَامِكُمْ إِنْ صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِنْ صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2119) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فِي هَذَا الْخَبَرِ الْمُفَسِّرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَعَدَ عَنْ يَسَارِ أَبِي بَكْرٍ وَتَحَوَّلَ أَبُو بَكْرٍ مَأْمُومًا يَقْتَدِي بِصَلَاتِهِ، وَيُكَبِّرُ يُسْمِعُ النَّاسَ التَّكْبِيرَ لِيَقْتَدُوا بِصَلَاتِهِ أَمَرَهُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَئِذٍ بِالْقُعُودِ حِينَ رَآهُمْ قِيَامًا وَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ أَمَرَهُمْ أَيْضًا بِالْقُعُودِ إِذَا صَلَّى إِمَامُهُمْ قَاعِدًا وَقَدْ شَهِدَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ صَلَاتِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيْثُ سَقَطَ عَنْ فَرَسِهِ فَجُحِشَ شِقُّهُ الْأَيْمَنُ وَكَانَ سُقُوطُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنِ الْفَرَسِ فِي شَهْرِ ذِي الْحِجَّةِ آخِرَ سَنَةِ خَمْسٍ مِنَ الْهِجْرَةِ وَشَهِدَ هَذِهِ الصَّلَاةَ فِي عِلَّتِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَدَّى كُلَّ خَبَرٍ بِلَفْظِهِ، أَلَا تَرَاهُ يَذْكُرُ فِي هَذِهِ الصَّلَاةِ رَفْعَ أَبِي بَكْرٍ صَوْتَهُ بِالتَّكْبِيرِ لِيَقْتَدِيَ النَّاسُ بِهِ وَتِلْكَ الصَّلَاةُ الَّتِي صَلَّاهَا صَلَّى اللَّهُ [ص:493] عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْتِهِ عِنْدَ سُقُوطِهِ عَنْ فَرَسِهِ لَمْ يَحْتَجْ أَبُو بَكْرٍ إِلَى أَنْ يَرْفَعَ صَوْتَهُ بِالتَّكْبِيرِ لَيُسْمِعَ النَّاسَ تَكْبِيرَهُ عَلَى صِغَرُ حُجْرَةُ عَائِشَةَ وَإِنَّمَا رَفْعُهُ بِالصَّوْتِ بِالتَّكْبِيرِ فِي الْمَسْجِدِ الْأَعْظَمِ الَّذِي صَلَّى فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عِلَّتِهِ، فَلَمَّا صَحَّ مَا وَصَفْنَا لَمْ يَجُزْ أَنْ يُجْعَلَ بَعْضُ هَذِهِ الْأَخْبَارِ نَاسِخًا لِمَا تَقَدَّمَ عَلَى حَسْبِ مَا وَصَفْنَاهُ».
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ্ হলে আমরা তাঁর পিছনে সালাত আদায় করি। এসময় তিনি বসে সালাত আদায় করছিলেন। আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকবীর দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাকবীর লোকদের শুনাচ্ছিলেন। তিনি আমাদের দিকে তাকিয়ে আমাদেরকে দাঁড়ানো দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি আমাদেরকে (বসার জন্য) ইশারা করলেন। ফলে আমরা বসে পড়লাম। অতঃপর যখন সালাম ফেরালেন, তখন বলেন, “তোমরা তো প্রায় পারসিক ও রোমকদের মতো করছিলে। তাদের রাজা-বাদশা বসা থাকলে, তারা দাঁড়িয়ে থাকতো। তোমরা এরকম করবে না। তোমরা তোমাদের ইমামদের অনুসরণ করবে। যদি তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। আর যদি বসে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই ব্যাখ্যাকারী হাদীসে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বাম পার্শ্বে দাঁড়িয়েছিলেন আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মুক্তাদীতে পরিণত হয়েছিলেন, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের অনুসরণ করছিলেন এবং লোকদেরকে তাঁর তাকবীর শুনাচ্ছিলেন, যাতে তারা তাঁর অনুসরণ করতে পারেন। এসময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাদেরকে দেখলেন যে, তারা দাঁড়িয়ে আছেন, তখন তিনি তাদেরকে বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেন। অতঃপর যখন সালাত শেষ করলেন, তখনও তিনি তাদেরকে বসে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেন, যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করবেন। জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সালাতেও উপস্থিত ছিলেন, যখন তিনি ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়েছিলেন এবং ডান পার্শ্বে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া থেকে পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন হিজরী পঞ্চম বছরের শেষ দিকে জিলহজ্জ মাসে। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সালাতেও উপস্থিত ছিলেন, যখন তিনি অসুস্থতাকালিন আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি প্রত্যেকটি হাদীস স্বস্ব শব্দে বর্ণনা করেছেন। তুমি কি দেখতে পাও না যে, তিনি এই সালাতের ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উচ্চ আওয়াজে তাকবীর দিচ্ছিলেন যাতে লোকজন তাঁর অনুসরণ করতে পারেন। আর যেই সালাত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার পর বাড়িতে আদায় করেছেন, সেখানে মানুষকে শুনানোর জন্য তাকবীরের সময় আওয়াজ করার প্রয়োজন হয়নি, যদিও আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার ঘরটি ছোট ছিল। বস্তুত তাকবীরের সময় আওয়াজ উচু করার প্রয়োজন হয়েছিল, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড় মাসজিদে আদায় করছিলেন। আমরা যা বর্ণনা করলাম, যখন তা বিশুদ্ধরুপে প্রমাণিত হলো, সুতরাং এটা জায়েয হবে না যে, এসব হাদীসগুলোর মাঝে একটিকে রহিতকারী হিসেবে সাব্যস্ত করা, যা আমরা ইতিপু্র্বে বর্ণনা করেছি।”
[1] আবূ দাঊদ: ৬০৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৩৪; সহীহ মুসলিম: ৪১৩; নাসাঈ: ৩/৯; ইবনু মাজাহ: ১২৪০; আবূ আওয়ানা: ২/১০৮; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (619): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، يزيد بن موهب ثقة، وباقي السند من رجال الشيخين غير أبي الزبير، فمن رجال مسلم
2123 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سَهْلٍ الْجَعْفَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حُمَيْدٍ أَبُو عَوْفٍ الرُّؤَاسِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الظُّهْرِ وَهُوَ جَالِسٌ وَأَبُو بَكْرٍ خَلْفَهُ، فَإِذَا كَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَبَّرَ أَبُو بَكْرٍ يُسْمِعُنَا، قَالَ: فَنَظَرَنَا قِيَامًا فَقَالَ: «اجْلِسُوا» أَوْمَأَ بِذَلِكَ إِلَيْهِمْ قَالَ: فَجَلَسْنَا فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ قَالَ: «كِدْتُمْ تَفْعَلُوا فِعْلَ فَارِسَ وَالرُّومَ بِعُظَمَائِهِمِ ائْتَمُّوا بِأَئِمَّتِكُمْ، فَإِنْ صَلُّوا جُلُوسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا، وَإِنْ صَلُّوا قِيَامًا فَصَلُّوا قِيَامًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2120)
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ্ হলে আমরা তাঁর পিছনে সালাত আদায় করি। এসময় তিনি বসে সালাত আদায় করছিলেন। আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার পিছে ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকবীর দিতেন, তখন আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের শুনিয়ে তাকবীর দিতেন। রাবী বলেন, যখন তিনি আমাদেরকে দাঁড়ানো দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি আমাদেরকে বললেন, “তোমরা বসে সালাত আদায় করো। ” –এটা তিনি তাদেরকে ইশারায় বলেছিলেন- রাবী বলেন, “ফলে আমরা বসে পড়লাম। অতঃপর যখন সালাম ফেরালেন, তখন বলেন, “তোমরা তো প্রায় পারসিক ও রোমকদের মতো করছিলে, তারা যেমনটা তাদের রাজা-বাদশাদের সাথে করে। তোমরা তোমাদের ইমামদের অনুসরণ করবে। যদি তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। আর যদি বসে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] আবূ দাঊদ: ৬০৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৩৪; সহীহ মুসলিম: ৪১৩; নাসাঈ: ৩/৯; ইবনু মাজাহ: ১২৪০; আবূ আওয়ানা: ২/১০৮; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: الحسن بن سهل الجعفري: روى عنه الحسن بن سفيان، وأبو زرعة وغيرهما، وذكره ابن أبي حاتم 3/ 17 فلم يذكر فيه جرحاً ولا تعديلاً، وأورده المؤلف في «الثقات» 8/ 177، ونسبه الجعفي، ويغلب على الظن أنه تحريف من النساخ، وباقي رجال الصحيح.
2124 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذِ بْنِ مُعَاذٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ أَبِي هِنْدَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، أَحْسَبُهُ عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: أُغْمِيَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ: «هَلْ نُودِيَ بِالصَّلَاةِ؟ » فَقُلْنَا: لَا فَقَالَ: «مُرِي بِلَالًا فَلْيُبَادِرْ بِالصَّلَاةِ وَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ أَبُو بَكْرٍ» قَالَتْ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ أَسِيفٌ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقُومَ مَقَامَكَ قَالَتْ: فَنَظَرَ إِلَيَّ حِينَ فَرَغَ مِنْ كَلَامِهِ، ثُمَّ أُغْمِيَ عَلَيْهِ فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ: «هَلْ نُودِيَ بِالصَّلَاةِ؟ » قَالَتْ: فَقُلْتُ: لَا قَالَ: «مُرِي بِلَالًا فَلْيُنَادِ بِالصَّلَاةِ وَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ أَبُو بَكْرٍ» قَالَتْ: فَأَوْمَأَتْ إِلَى حَفْصَةَ فَقَالَتْ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ رَقِيقٌ [ص:495] لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقْرَأَ إِلَّا يَبْكِي قَالَ: فَنَظَرَ إِلَيْهَا حِينَ فَرَغَتْ مِنْ كَلَامِهَا، ثُمَّ أُغْمِيَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ: «هَلْ نُودِيَ بِالصَّلَاةِ؟ » قَالَتْ: فَقُلْتُ: لَا فَقَالَ: «مُرِي بِلَالًا فَلْيُنَادِ بِالصَّلَاةِ وَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ أَبُو بَكْرٍ، فَإِنَّكُنَّ صَوَاحِبَاتُ يُوسُفَ»، ثُمَّ أُغْمِيَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: فَأَقَامَ بِلَالٌ الصَّلَاةَ وَصَلَّى بِالنَّاسِ أَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ أَفَاقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَ بِنُوبَةَ، وَبَرِيرَةَ فَاحْتَمَلَاهُ قَالَتْ عَائِشَةُ: فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى أَصَابِعِ قَدَمَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَخُطُّ فِي الْأَرْضِ قَالَتْ: فَلَمَّا أَحَسَّ أَبُو بَكْرٍ بِمَجِيءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَادَ أَنْ يَسْتَأْخِرَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ أَنْ يَثْبُتَ قَالَتْ: وَجِيءَ بِنَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوُضِعَ بِحِذَاءِ أَبِي بَكْرٍ فِي الصَّفِّ. [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2121) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «هَذَا خَبَرٌ يُوهِمُ مَنْ لَمْ يُحْكِمْ صِنَاعَةِ الْأَخْبَارِ وَلَا يَفْقَهُ فِي صَحِيحِ الْآثَارِ أَنَّهُ يُضَادُّ سَائِرَ الْأَخْبَارِ الَّتِي تَقَدَّمَ ذِكْرُنَا لَهَا وَلَيْسَ بَيْنَ أَخْبَارِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَضَادٌّ وَلَا تَهَاتُرٌ وَلَا يُكَذِّبُ بَعْضُهَا بَعْضًا [ص:496] وَلَا يُنْسَخُ بِشَيْءٍ مِنْهَا الْقُرْآنُ بَلْ يُفَسَّرُ عَنْ مُجْمَلِ الْكِتَابِ وَمُبْهَمِهِ وَيُبَيِّنُ عَنْ مُخْتَصَرِهِ وَمُشْكِلِهِ وَقَدْ دَلَّلْنَا بِحَمْدِ اللَّهِ وَمَنِّهِ عَلَى أَنَّ هَذِهِ الْأَخْبَارَ الَّتِي رُوِيَتْ كَانَتْ فِي صَلَاتَيْنِ لَا فِي صَلَاةٍ وَاحِدَةٍ عَلَى حَسْبِ مَا وَصَفْنَاهُ، فَأَمَّا الصَّلَاةُ الْأُولَى فَكَانَ خُرُوجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهَا بَيْنَ رَجُلَيْنِ وَكَانَ فِيهَا إِمَامًا وَصَلَّى بِهِمْ قَاعِدًا وَأَمَرَهُمْ بِالْقُعُودِ فِي تِلْكَ الصَّلَاةِ، وَهَذِهِ الصَّلَاةُ كَانَ خُرُوجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهَا بَيْنَ بَرِيرَةَ وَنُوبَةَ وَكَانَ فِيهَا مَأْمُومًا وَصَلَّى قَاعِدًا فِي الصَّفِّ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ»
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, তারপর আবার জ্ঞান ফিরে পান। অতঃপর তিনি বলেন, “সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়েছে কি?” আমি বললাম, “জ্বী, না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো সে যেন দ্রুত আযান দেয় আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, নিশ্চয়ই আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নরম হৃদয়ের মানুষ। তিনি আপনার জায়গায় দাঁড়াতে পারবেন না।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “যখন তিনি কথা শেষ করেন, তখন তিনি আমার দিকে তাকান। তারপর তিনি আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তারপর আবার জ্ঞান ফিরে পান। অতঃপর তিনি বলেন, “সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়েছে কি?” আমরা বললাম, “জ্বী, না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো সে যেন দ্রুত আযান দেয় আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “তখন আমি হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে ইশারা করলাম, তখন তিনি বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, নিশ্চয়ই আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নরম হৃদয়ের মানুষ। তিনি কিরা‘আত পাঠ করতে গেলেই কেঁদে ফেলবেন।” রাবী বলেন, “যখন হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কথা শেষ করেন, তখন তিনি তাঁর দিকে তাকান। তারপর তিনি আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তারপর আবার জ্ঞান ফিরে পান। অতঃপর তিনি বলেন, “সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়েছে কি?” আমি বললাম, “জ্বী, না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করো সে যেন দ্রুত আযান দেয় আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। নিশ্চয়ই তোমরা ইউসূফ আলাইহিস সালামের সঙ্গীদের মতোই! তারপর তিনি আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “অতঃপর বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সালাতের জন্য আযান দেন। আর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তারপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্ঞান ফিরে পান। তারপর তিনি নূবা ও বারীরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার কাছে আসেন, অতঃপর তারা তাঁকে মাসজিদে নিয়ে যান। আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমি যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো দেখতে পাচ্ছি, সেগুলি জমিনে হেঁচড়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল! অতঃপর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন বুঝতে পারেন, তখন তিনি পিছে হটতে উদ্যত হন কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইশারায় সেখানেই থাকতে বলেন।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আনা হয় এবং তাঁকে কাতারে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বরাবর রাখা হয়।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি হাদীস শাস্ত্রে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এই সংশয়ে ফেলে দেয় যে, হাদীসটি হয়তো আমাদের পূর্বে উল্লেখিত সমস্ত হাদীসের বিপরীত। আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহের মাঝে কোন রকম বৈপরীত্ব নেই, এক হাদীস আদৌ আরেক হাদীসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না, কোন হাদীসের মাধ্যমে কুরআন রহিত হয় না। বরং কুরআনের হয়তো কোন ব্যাখ্যাহীন, অস্পষ্ট আয়াতকে ব্যাখ্যা করে, নতুবা কোন জটিল ও সংক্ষিপ্ত আয়াতের ব্যাখ্যা স্পষ্ট করে দেয়। আমরা আল্লাহর প্রশংসা ও দয়ায় প্রমাণ পেশ করেছি যে, যেসব হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তা দুটো সালাতের ব্যাপারে ছিল; এক সালাতের ব্যাপারে নয়। প্রথম সালাতে সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজন ব্যক্তির মাঝে থেকে মাসজিদে গমন করেছিলেন আর সেখানে তিনি ইমাম ছিলেন, বসে সালাত আদায় করেছিলেন এবং লোকজনকেও বসে সালাত আদায় করতে বলেছিলেন। আর এই সালাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরা ও নূবার মাঝে থেকে মাসজিদে গমন করেছিলেন, এই সালাতে তিনি মুক্তাদী ছিলেন এবং আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পিছনে মুসল্লীদের কাতারে বসে সালাত আদায় করেনে।”
[1] মুসন্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫২৪; শামাইলে তিরমিযী: ৩৭৮; ইবনু মাজাহ: ১২৩৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২১১৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (2115). تنبيه!! رقم (2115) = (2118) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، رجاله رجال الشيخين غير نعيم بن أبي هند، فإنه من رجال مسلم وحده.
2125 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سُوَيْدٍ الرَّمْلِيُّ *، قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «آخِرُ صَلَاةٍ صَلَّاهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ الْقَوْمِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُتَوَشِّحًا بِهِ يُرِيدُ قَاعِدًا خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2122) [ص:497] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «هَذَا الْخَبَرُ يَنْفِي الِارْتِيَابَ عَنِ الْقُلُوبِ أَنَّ شَيْئًا مِنْ هَذِهِ الْأَخْبَارِ يُضَادُّ مَا عَارَضَهَا فِي الظَّاهِرِ وَلَا يَتَوَهَّمَنَّ مُتَوَهِّمٌ أَنَّ الْجَمْعَ بَيْنَ الْأَخْبَارِ عَلَى حَسْبِ مَا جَمَعْنَا بَيْنَهَا فِي هَذَا النَّوْعِ مِنْ أَنْوَاعِ السُّنَنِ يُضَادُّ قَوْلَ الشَّافِعِيِّ رَحْمَةُ اللَّهِ وَرِضْوَانُهُ عَلَيْهِ وَذَلِكَ أَنَّ كُلَّ أَصْلٍ تَكَلَّمْنَا عَلَيْهِ فِي كُتُبِنَا أَوْ فَرْعٍ اسْتَنْبَطْنَاهُ مِنَ السُّنَنِ فِي مُصَنَّفَاتِنَا هِيَ كُلُّهَا قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَهُوَ رَاجِعٌ عَمَّا فِي كُتُبِهِ وَإِنْ كَانَ ذَلِكَ الْمَشْهُورَ مِنْ قَوْلِهِ وَذَاكَ أَنِّي سَمِعْتُ ابْنَ خُزَيْمَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ الْمُزَنِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ: إِذَا صَحَّ لَكُمُ الْحَدِيثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخُذُوا بِهِ وَدَعُوا قُولِي، [ص:498] وَللِشَّافِعِيِّ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ فِي كَثْرَةِ عِنَايَتِهِ بِالسُّنَنِ وَجَمْعِهِ لَهَا وَتَفَقُّهِهِ فِيهَا وَذَبِّهِ عَنْ حَرِيمِهَا وَقَمْعِهِ مَنْ خَالَفَهَا زَعَمَ أَنَّ الْخَبَرَ إِذَا صَحَّ فَهُوَ قَائِلٌ بِهِ رَاجِعٌ عَمَّا تَقَدَّمَ مِنْ قَوْلِهِ فِي كُتُبِهِ وَهَذَا مِمَّا ذَكَرْنَاهُ فِي كِتَابِ الْمُبَيِّنِ أَنَّ لِلشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ ثَلَاثُ كَلِمَاتٍ مَا تَكَلَّمُ بِهَا أَحَدٌ فِي الْإِسْلَامِ قَبْلَهُ وَلَا تَفَوَّهَ بِهَا أَحَدٌ بَعْدَهُ إِلَّا وَالْمَأْخَذُ فِيهَا كَانَ عَنْهُ، إِحْدَاهَا مَا وَصَفْتُ وَالثَّانِيَةُ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْذِرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ [ص:499] مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ: مَا نَاظَرْتُ أَحَدًا قَطُّ فَأَحْبَبْتُ أَنْ يُخْطِئَ، وَالثَّالِثَةُ سَمِعْتُ مُوسَى بْنَ مُحَمَّدٍ الدَّيْلَمِيَّ بِأَنْطَاكِيَّةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بْنَ سُلَيْمَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ: وَدِدْتُ أَنَّ النَّاسَ تَعَلَّمُوا هَذِهِ الْكُتُبَ وَلَمْ يَنْسِبُوهَا إِلَيَّ»
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ যে সালাত সাহাবীদের সাথে আদায় করেছেন, তা তিনি আদায় করেছিলেন এক কাপড়ে তাওয়াশ্শুহ[1] করে।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পিছনে বসে সালাত আদায় করেছিলেন।”[2] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীস অন্তর থেকে এই সংশয় দূর করে দেয় যে, এসব হাদীসের মাঝে আদৌ কোন বৈপরীত্ব আছে। আর কোন সংশয়কারী ব্যক্তি এই সংশয় করতে পারে না যে, আমরা হাদীসগুলোর মাঝে যেভাবে সমন্নয় সাধন করেছি, তা ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহর কথার সাথে সাংঘর্ষিক। কেননা আমরা আমাদের কিতাবে যেসব মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করেছি অথবা আমাদের লেখনীতে আমরা যেসব শাখাগত নিয়ম উদ্ভাবন করেছি- তার প্রত্যেকটি ইমাম শাফে‘ঈর বক্তব্য এবং তাঁর কিতাব যা এসেছে, তা থেকে এই মতের দিকে ফিরে আসবে। যদিও সেই কিতাবের মতটি তাঁর মত হিসেবে প্রশিদ্ধি লাভ করে থাকে। কেননা আমি ইবনু খুযাইমাহ রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি মুযানী রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “যখন তোমাদের কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ হাদীস পৌঁছবে, তখন তোমরা হাদীস গ্রহণ করবে আর আমার কথা পরিত্যাগ করবে। ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহ হাদীস সংকলন, অনুধাবন প্রভৃতিতে প্রচুর প্রয়াস থাকা, হাদীসের সম্মান রক্ষার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলা, সুন্নাহর বিরোধীদের উৎপাটন করা সত্তেও, তিনি বলেছেন, “যখন কোন সহীহ হাদীস পাওয়া যাবে, তবে সেটাই তাঁর কথা, তাঁর কিতাবে তাঁর যে কথা রয়েছে, তা থেকে এই কথার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। এটি সেই কথার অন্তর্ভুক্ত যা আমরা ‘আল মুবায়্যিন’ কিতাবে উল্লেখ করেছি যে, ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহর তিনটি বক্তব্য রয়েছে, ইসলামে এমন কথা আগে কেউ বলেননি, এবং তাঁর পরে কেউ এমন কথা বললে, সেই কথার উৎস হবেন ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহ। প্রথম বক্তব্য: যা আমরা বর্ণনা করলাম। (যখন তোমাদের কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ হাদীস পৌঁছবে, তখন তোমরা হাদীস গ্রহণ করবে আর আমার কথা পরিত্যাগ করবে।) দ্বিতীয় বক্তব্য: আমাকে মুহাম্মাদ বিন মুনযির বিন সা‘ঈদ রহিমাহুল্লাহ হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন সাব্বাহ যা‘ফারানী রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমি ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি যাদের সাথেই মুনাযারা করেনি, কারো ব্যাপারেই আমি চায়নি যে, তিনি ভুল করুক!” তৃতীয় বক্তব্য: আমি মূসা বিন মুহাম্মাদ দাইলামীকে আনতাকিয়াতে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি রাবী‘ বিন সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি ইমাম শাফে‘ঈ রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি কামনা করি যে, লোকজন আমার এসব কিতাব থেকে ইলম অর্জন করুক আর সেসবকে আমার দিকে সম্পর্কিত না করুক!”
[1] ‘‘তাওয়াশশুহ হলো কাপড়ের এক প্রান্ত বাম হাতের নিচ দিয়ে ডান কাঁধের উপর রাখবে আর আরেক প্রান্ত ডান হাতের নিচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর রাখবে অতঃপর দুই প্রান্ত বুকের উপর নিয়ে বাধবে।” –অনুবাদক।
[2] তিরমিযী: ৩৬৩; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৬; বাইহাকী, দালাইলুন নুবুওওয়াহ: ৭/১৯২; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৫৯; নাসাঈ: ২/৭৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ২১২২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر التعليق. * [إِبْرَاهِيمَ بْنِ سُوَيْدٍ الرَّمْلِيُّ] قال الشيخ: هو ثقة بلا خِلاف، ومن فوقه ثِقات رجال الشيخين غير أيُّوب بن سُلَيمَان، وهو القرشي؛ فهو مِنْ رِجَال البخاري. وقولُ المُعَلِّق (5/ 496) أَنَّهُ من رجال الشيخين من أوهامه الكثيرة؛ انظر «الجمع بين رجال الصحيحين» (1/ 35)، وكتب التراجم؛ كالتهذيب وفروعه. وأبو بكر بن أبي أُويسٍ: هو عبد الحميد بن عبد الله الأصبحيُّ المدنيُّ. وقد أخرجه الترمذيُّ (2/ 36 / 363) من غير طريقه عن حُمَيد الطويل، وقال: «حديث حسن صحيح»، وهو كما قال.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، إسحاق بن إبراهيم بن سويد الرملي، ثقة، روى له أبو داود والنسائي، ومن فوقه من رجال الشيخين، وأبو بكر بن أبي أويس: هو عبد الحميد بن عبد الله الأصبحي.
2126 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَطَاءٍ، مَوْلَى أَبِي أَحْمَدَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْثًا وَهُمْ نَفَرٌ فَدَعَاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَاذَا مَعَكُمْ مِنَ الْقُرْآنِ؟ » فَاسْتَقْرَأَهُمْ حَتَّى مَرَّ عَلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ هُوَ مِنْ أَحْدَثِهِمْ سِنًّا فَقَالَ: «مَاذَا مَعَكَ يَا فُلَانُ؟ » قَالَ مَعِي كَذَا وَكَذَا وَسُورَةُ الْبَقَرَةِ قَالَ: «مَعَكَ سُورَةُ الْبَقَرَةِ؟ » قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «اذْهَبْ فَأَنْتَ أَمِيرُهُمْ» فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَشْرَفِهِمْ وَالَّذِي كَذَا وَكَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يَمْنَعُنِي أَنْ أَتَعَلَّمَ الْقُرْآنَ إِلَّا خَشْيَةَ أَنْ لَا أَقُومَ بِهِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَعَلَّمِ الْقُرْآنَ وَاقْرَأْهُ وَارْقُدْ، فَإِنَّ مَثَلَ الْقُرْآنِ لِمَنْ تَعَلَّمَهُ فَقَرَأَهُ وَقَامَ بِهِ كَمَثَلِ جِرَابٍ مَحْشُوٍّ مِسْكًا يَفُوحُ رِيحُهُ [ص:500] عَلَى كُلِّ مَكَانٍ، وَمَنْ تَعَلَّمَهُ فَرْقَدَ وَهُوَ فِي جَوْفِهِ كَمَثَلِ جِرَابٍ وُكِئَ عَلَى مِسْكٍ».
رقم طبعة با وزير = (2123)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একটি সেনাদলকে অভিযানে প্রেরণ করলেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে ডাকলেন এবং বললেন, “তোমাদের কাছে কুরআনের কী পরিমাণ মুখস্ত আছে?” তারপর তিনি তাদের থেকে এক এক করে কুরআন শ্রবণ করেন, এভাবে একজনের কাছে আসলেন, যিনি কওমের মাঝে বয়সে সবচেয়ে নবীন ছিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “হে ওমুক, তোমার কতটুকু কুরআন মুখস্ত আছে?” জবাবে তিনি বলেন, “আমার এই এই মুখস্ত আছে এবং সূরা বাকারাও মুখস্ত আছে।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমার সূরা বাকারাহ মুখস্ত আছে?” তিনি জবাবে বললেন, “জ্বী, হ্যাঁ।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যাও, তুমি তাদের আমীর।” তখন তাদের মাঝে এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি বললেন, “ঐ সত্তার কসম, যিনি এরকম, এরকম! হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন শিক্ষা করতে আমাকে স্রেফ এটাই বাধা দিয়েছে যে, আমি আশংকা করেছি যে, হয়তো আমি তা নফল সালাতে পাঠ করতে পারবো না। “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করো, তা তিলাওয়াত করো এবং ঘুমাও। কেননা যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে, তা পাঠ করে এবং তা পাঠ করে নফল সালাত (বিশেষত তাহাজ্জুদ সালাত) আদায় করে, তবে তার দৃষ্টান্ত হলো ঐ থলের ন্যায়, যা মিশকে আম্বর সুগন্ধি দিয়ে ভর্তি, যার ঘ্রাণের বিচ্ছুরণ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। আর যিনি কুরআন শিক্ষা করেন, অতঃপর তা পেটে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকে, তার দৃষ্টান্ত হলো ঐ থলের ন্যায় যা মিশকে আম্বর সুগন্ধি দিয়ে ভর্তি করে মুখ বেধে রাখা রয়েছে।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫০৯; তিরমিযী: ২৮৭৬; ইবনু মাজাহ: ২১৭। হাদীসটির ব্যাপারে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। তবে হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার মতের দিকেই তাঁর ঝোঁক বুঝা যায়। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে য‘ঈফ বলেছেন। (আয য‘ঈফা: ৬৪৮৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «التعليق الرغيب» (2/ 208 - 209)، «التعليق على ابن خزيمة» (3/ 5 / 1509)، «المشكاة» (2143 / التحقيق الثاني)، «الضعيفة» (6483).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: عطاء مولى أبي أحمد أو ابن أبي أحمد: لم يوثقه غير المؤلف، ولم يرو عنه غير سعيد المقبري، وقال الإمام الذهبي في «الميزان» و «المغني»: لا يعرف، وباقي رجاله رجال الشيخين غير عبد الحميد بن جعفر، فهو من رجال مسلم وحده، أبو عمار: هو الحسين بن حريث.
2127 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَاشِمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْمُونِ بْنِ الرَّمَّاحِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ ضَمْعَجٍ، [ص:501] عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ، فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ، فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً، فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَأَكْبَرُهُمْ سِنًّا، وَلَا يُؤَمَّ الرَّجُلُ فِي سُلْطَانِهِ وَلَا يُجْلَسَ عَلَى تَكْرِمَتِهِ فِي بَيْتِهِ حَتَّى يَأْذَنَ لَهُ». [2: 3]
رقم طبعة با وزير = (2124)
আবূ মাসঊদ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সম্প্রদায়ের ইমাম হবেন ঐ ব্যক্তি যিনি আল্লাহর কিতাব অধিক পড়তে জানেন। যদি তারা কুরআন পাঠে সমান হন, তবে যিনি সুন্নাহ সম্পর্কে বেশি অবগত। যদি তারা সুন্নাহর ক্ষেত্রে সমান হন, তবে যিনি আগে হিজরত করেছেন। যদি হিজরত করার ক্ষেত্রেও সমান হন, তবে যিনি বয়সে বড়। আর কোন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রনাধীন জায়গায় অন্য কারো ইমামতি করা যাবে না, বাড়িতে তার সম্মানজনক জায়গায় বসা যাবে না, যতক্ষন না তিনি অনুমতি প্রদান করেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৭২; সহীহ মুসলিম: ৬৭৩; তিরমিযী: ২৩৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫০৭; তাবারানী আল কাবীর: ১৭/৬০৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৮০৮; হুমাইদী: ৪৫৭; আবূ দাঊদ: ৫৮৪; নাসাঈ: ২/৭৬; ইবনুল জারূদ, আল মুনতাকা: ৩০৮; দারাকুতনী: ১/২৮০; আবূ আওয়ানা: ২/৩৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৯০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৮৩২; হাকিম: ১/২৪৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৫৯৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (597): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، عبد الله بن عمر بن ميمون: ذكره ابن أبي حاتم 5/ 111، ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا، وذكره المؤلف في «ثقاته» 8/ 357، وقال: مستقيم الحديث إذا حدث عن الثقات، وقال الإمام الذهبي في «السير» 11/ 12 - 13: كان صاحب سنَّة، وصدع بالحق، وثَّقه الذهلي، وباقي رجال السند ثقات رجال الصحيح.
2128 - أَخْبَرَنَا شَبَّابُ بْنُ صَالِحٍ الْمُعَدِّلُ، بِوَاسِطٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَصَاحِبٌ لِي فَقَالَ: «إِذَا صَلَّيْتُمَا فَأَذِّنَا وَأَقِيمَا وَلْيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا» قَالَ: وَكَانَا مُتَقَارِبَيْنِ. [1: 14]
رقم طبعة با وزير = (2125) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَأَذِّنَا وَأَقِيمَا أَرَادَ بِهِ أَحَدَهُمَا لَا كِلَيْهِمَا»
মালিক বিন হুরাইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা সালাত আদায় করবে, তখন তোমরা আযান দিবে ও ইকামত দিবে আর তোমাদের মাঝে বয়সে প্রবীণ ব্যক্তি যেন সালাত আদায় করে।”[1] আবূ কিলাবা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “তারা দুইজনেই (কিরাআতে) কাছাকাছি পর্যায়ের ছিলেন।” আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তোমরা আযান দিবে এবং ইকামত দিবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমাদের একজন আযান ও ইকামত দিবে; দুইজনেই আযান, ইকামত দিবে এটা উদ্দেশ্য নয়।”
[1] সহীহ আল বুখারী: ৬০০৮; আদাবুল মুফরাদ: ২১৩; সুনান আবূ দাঊদ: ৫৮৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১২০; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; সহীহ মুসলিম: ৬৭৪; নাসাঈ: ২/৯; তাবারানী: ১৯/৬৪০; দারাকুতনী: ১/২৭২-২৭৩; দারেমী: ১/২৮৬; আবূ আওয়ানা: ১/৩৩১; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১২৯; তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ২/২৯৬; ইবনু মাজাহ: ৯৭৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (1656)، وانظر ما بعده. تنبيه!! رقم (1656) = (1658) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، وهب بن بقية: يقة من رجال مسلم ومن فوقه من رجال الشيخين، خالد الحذاء: هو خالد بن مهران، وأبو قلابة: هو عبد الله بن زيد الجرمي.
2129 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ [ص:503] مُسَرْهَدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ وَلِصَاحِبٍ لَهُ: «إِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَأَذِّنَا ثُمَّ أَقِيمَا، ثُمَّ لِيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا». قَالَ خَالِدٌ: فَقُلْتُ لِأَبِي قِلَابَةَ: فَأَيْنَ الْقِرَاءَةُ؟ قَالَ: إِنَّهُمَا كَانَا مُتَقَارِبَيْنِ. [1: 14]
رقم طبعة با وزير = (2126)
মালিক বিন হুরাইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আর যখন সালাতের সময় হবে, তখন তোমরা আযান দিবে তারপর ইকামত দিবে আর তোমাদের মাঝে বয়সে প্রবীণ ব্যক্তি যেন সালাত আদায় করেন।”[1] অধঃস্তর রাবী খালিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “অতঃপর আমি আবূ কিলাবাহ রহিমাহুল্লাহকে বললাম, তাহলে কিরাআতের ব্যাপারটি কোথায় গেলো?” জবাবে তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে তারা কাছাকাছি ছিলেন।”
[1] সহীহ আল বুখারী: ৬০০৮; আদাবুল মুফরাদ: ২১৩; সুনান আবূ দাঊদ: ৫৮৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১২০; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; সহীহ মুসলিম: ৬৭৪; নাসাঈ: ২/৯; তাবারানী: ১৯/৬৪০; দারাকুতনী: ১/২৭২-২৭৩; দারেমী: ১/২৮৬; আবূ আওয়ানা: ১/৩৩১; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১২৯; তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ২/২৯৬; ইবনু মাজাহ: ৯৭৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আবূ কিলাবার ব্ক্তব্যটি মুরসাল।” (ইরওয়াউল গালীল: ২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (604): ق، وقول أبي قلابة مرسل.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري، مسدد بن مسرهد: من رجال البخاري، ومن فوقه من رجال الشيخين، وانظر (1658).
2130 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الدُّولَابِيُّ، مُنْذُ ثَمَانِينَ سَنَةً، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِي وَلِصَاحِبٍ لِي: «إِذَا خَرَجْتُمَا فَلْيُؤَذِّنْ أَحَدَكُمَا وَلْيَقُمْ وَلْيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا». [1: 14]
رقم طبعة با وزير = (2127)
মালিক বিন হুরাইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ও আমার সঙ্গীকে বলেন, “যখন তোমরা বের হবে, তখন তোমাদের একজন যেন আযান দেয় এবং ইকামত দেয় আর তোমাদের মাঝে বয়সে প্রবীণ ব্যক্তি যেন সালাত আদায় করান (ইমামতি করেন)।”[1]
[1] সহীহ আল বুখারী: ৬০০৮; আদাবুল মুফরাদ: ২১৩; সুনান আবূ দাঊদ: ৫৮৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১২০; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; সহীহ মুসলিম: ৬৭৪; নাসাঈ: ২/৯; তাবারানী: ১৯/৬৪০; দারাকুতনী: ১/২৭২-২৭৩; দারেমী: ১/২৮৬; আবূ আওয়ানা: ১/৩৩১; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১২৯; তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ২/২৯৬; ইবনু মাজাহ: ৯৭৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، وانظر (1658).
2131 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، [ص:504] عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ: أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً فَظَنَّ أَنَّا قَدِ اشْتَقْنَا إِلَى أَهْلِينَا سَأَلَنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا فِي أَهْلِنَا فَأَخْبَرْنَاهُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحِيمًا رَفِيقًا فَقَالَ: «ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ فَعَلِّمُوهُمْ وَمُرُوهُمْ وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ أَحَدُكُمْ وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ».
رقم طبعة با وزير = (2128) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي» لَفْظَةُ أَمْرٍ تَشْتَمِلُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ كَانَ يَسْتَعْمِلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي صَلَاتِهِ، فَمَا كَانَ مِنْ تِلْكَ الْأَشْيَاءِ خَصَّهُ الْإِجْمَاعُ أَوِ الْخَبَرُ بِالنَّقْلِ فَهُوَ لَا حَرَجَ عَلَى تَارِكِهِ فِي صَلَاتِهِ وَمَا لَمْ يَخُصَّهُ الْإِجْمَاعُ أَوِ الْخَبَرُ بِالنَّقْلِ فَهُوَ أَمْرٌ حَتْمٌ عَلَى الْمَخَاطَبِينَ كَافَّةً لَا يَجُوزُ تَرْكُهُ بِحَالٍ
মালিক বিন হুরাইরিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা (আমাদের এলাকা থেকে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসি, আমরা ছিলাম কাছাকাছি বয়সের যুবক। অতঃপর আমরা তাঁর কাছে কুড়ি দিন অবস্থান করি। অতঃপর তিনি মনে করলেন যে, আমরা হয়তো আমাদের পরিবারে প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছি। ফলে তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে, আমরা বাড়িতে কাদের রেখে এসেছি। আমরা তাকে আমাদের বৃত্তান্ত জানাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত দয়ালূ, বন্ধুসুলভ মানুষ ছিলেন। তিনি বললেন, “তোমরা তোমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাও, গিয়ে তাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিবে, তাদের বিভিন্ন আমলের নির্দেশ দিবে এবং ঠিক সেভাবে সালাত আদায় করবে যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছো। আর যখন সালাতের হবে, তখন তোমাদের কেউ যেন আযান দেয় আর তোমাদের মাঝে বয়সে প্রবীণ ব্যক্তি যেন সালাত আদায় করান (ইমামতি করেন)।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তোমরা সেভাবে সালাত আদায় করবে যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছো” এটি একটি নির্দেশসূচক শব্দ, যা সালাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক আচরিত সব কিছুকে বুঝায়। সুতরাং সালাতে আচরিত জিনিসগুলোর মাঝে যদি ইজমা‘ অথবা হাদীস কোন আমলকে নফল হওয়ার উপর প্রমাণ করে, তাহলে সেটা তরক করাতে কোন দোষ নেই, আর যেটাকে ইজমা‘ অথবা হাদীস নফল হওয়ার উপর প্রমাণ না করে, তাহলে সেটা সকল মুখাতাবের (যাদের উপর শরীয়তের আদেশ-নিষেধ বর্তায়, এমন ব্যক্তি) উপর ফরয, তা কোন অবস্থাতেই পরিত্যাগ করা যাবে না।”
[1] সহীহ আল বুখারী: ৬০০৮; আদাবুল মুফরাদ: ২১৩; সুনান আবূ দাঊদ: ৫৮৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১২০; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৩৬; সহীহ মুসলিম: ৬৭৪; নাসাঈ: ২/৯; তাবারানী: ১৯/৬৪০; দারাকুতনী: ১/২৭২-২৭৩; দারেমী: ১/২৮৬; আবূ আওয়ানা: ১/৩৩১; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১২৯; তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ২/২৯৬; ইবনু মাজাহ: ৯৭৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২১৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري، وهو مكرر (1658).
2132 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، وَهِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، [ص:505] عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فِي سَفَرٍ فَلْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ وَأَحَقَّكُمْ بِالْإِمَامَةِ أَقْرَؤُكُمْ». [1: 14]
رقم طبعة با وزير = (2129)
আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা সফরে তিনজন থাকবে, তখন তোমাদের একজন ইমামতি করবে। তোমাদের মাঝে ইমামতির ক্ষেত্রে সেই উপযুক্ত, যিনি তোমাদের মাঝে কুরআন পাঠে বেশি অভিজ্ঞ।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫০৮; আত তায়ালিসী: ২১৫২; সহীহ মুসলিম: ৬৭২; নাসাঈ: ৩/১১৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১১৯; দারেমী: ১/২৮৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩৯৭৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (3979): م دون «في سفر».
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، رجاله ثقات رجال الشيخين غير أبي نضرة -واسمه المنذر بن مالك- فإنه من رجال مسلم.
2133 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ ضَمْعَجٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ، فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ، فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ [ص:506] هِجْرَةً، فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ سِنًّا وَلَا يَؤُمَّنَّ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فِي سُلْطَانِهِ وَلَا يَقْعُدُ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إِلَّا بِإِذْنِهِ». [3: 10]
رقم طبعة با وزير = (2130)
আবূ মাসঊদ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সম্প্রদায়ের ইমাম হবেন ঐ ব্যক্তি যিনি আল্লাহর কিতাব অধিক পড়তে জানেন। যদি তারা কুরআন পাঠে সমান হন, তবে যিনি সুন্নাহ সম্পর্কে বেশি অবগত। যদি তারা সুন্নাহর ক্ষেত্রে সমান হন, তবে যিনি আগে হিজরত করেছেন। যদি হিজরত করার ক্ষেত্রেও সমান হন, তবে যিনি বয়সে বড়। আর কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিয়ন্ত্রনাধীন জায়গায় ইমামতি করবে না, তার সম্মানজনক জায়গায় বসবে না তার অনুমতি ছাড়া।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৭২; সহীহ মুসলিম: ৬৭৩; তিরমিযী: ২৩৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫০৭; তাবারানী আল কাবীর: ১৭/৬০৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৮০৮; হুমাইদী: ৪৫৭; আবূ দাঊদ: ৫৮৪; নাসাঈ: ২/৭৬; ইবনুল জারূদ, আল মুনতাকা: ৩০৮; দারাকুতনী: ১/২৮০; আবূ আওয়ানা: ২/৩৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৯০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৮৩২; হাকিম: ১/২৪৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৫৯৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (4/ 127).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، أبو خالد الأحمر: هو سليمان بن حيان، روى له جماعة، إلا أن البخاري روى له متابعة، وهو صدوق يخطئ، كما في «التقريب»، وقد تابعه أبو معاوية عند المؤلف برقم (2127) وغيره.
2134 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَبِيبٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَخْلَفَ ابْنَ أُمِّ مَكْتُومٍ عَلَى الْمَدِينَةِ يُصَلِّي بِالنَّاسِ». [5: 10]
رقم طبعة با وزير = (2131)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আব্দুল্লাহ বিন উম্মু মাকতূমকে লোকদের সালাত পড়ানোর জন্য স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন।”[1]
[1] আবূ দাঊদ: ৫৯৫; ইবনুল জারূদ: ৩১০; সুনান বাইহাকী: ৩/৮৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৮২৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৫৯৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (608)، «الإرواء» (2/ 311 - 312).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
2135 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَبِيبٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَخْلَفَ ابْنَ أُمِّ مَكْتُومٍ عَلَى الْمَدِينَةِ يُصَلِّي بِالنَّاسِ». [4: 1]
رقم طبعة با وزير = (2132)
. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আব্দুল্লাহ বিন উম্মু মাকতূমকে লোকদের সালাত পড়ানোর জন্য স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন।”[1]
[1] আবূ দাঊদ: ৫৯৫; ইবনুল জারূদ: ৩১০; সুনান বাইহাকী: ৩/৮৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৮২৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৫৯৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مكرر الذي قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: هو مكرر ما قبله.
2136 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ بِالنَّاسِ فَلْيُخَفِّفْ، فَإِنَّ فِي النَّاسِ الضَّعِيفَ وَالسَّقِيمَ وَذَا الْحَاجَةِ». [1: 95]
رقم طبعة با وزير = (2133)
আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ লোকদের সালাত আদায় করাবে, তখন সে যেন হালকা করে সালাত আদায় করে। কেননা তাদের মাঝে দুর্বল, অসুস্থ ও প্রয়োজনশীল মানুষ আছে।”[1]
[1] সুনান বাইহাকী: ৩/১১৫-১১৬; সহীহ মুসলিম: ৪৬৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৭১৩; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৭১; আবূ দাঊদ: ৭৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৫৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (759 - 760)، «الإرواء» (2/ 290 / 512): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.
2137 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، [ص:509] عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَأَتَأَخَّرُ عَنْ صَلَاةِ الْغَدَاةِ مِمَّا يُطِيلُ بِنَا فُلَانٌ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا رَأَيْتُهُ فِي مَوْعِظَةٍ أَشَدَّ غَضَبًا مِنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ مِنْكُمْ مُنَفِّرِينَ فَأَيُّكُمْ مَا صَلَّى بِالنَّاسِ فَلْيَتَجَوَّزْ، فَإِنَّ فِيهِمُ الضَّعِيفَ وَالْكَبِيرَ وَذَا الْحَاجَةِ». [1: 95]
رقم طبعة با وزير = (2134)
আবূ মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমি ফজরের সালাতে দেরিতে আসি, কারণ ওমুক ব্যক্তি আমাদের নিয়ে দীর্ঘ করে সালাত আদায় করে!” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে যান। সেদিনের চেয়ে আর কোন উপদেশে তাঁকে এতোটা রাগান্বিত হতে দেখিনি। তিনি বলেন, “হে লোকসকল, তোমাদের মাঝে বিতৃষ্ণা সৃষ্টিকারী কিছু মানুষ আছে! তোমাদের কেউ যখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে, সে যেন সংক্ষেপে সালাত আদায় করে। কেননা তাদের মাঝে দুর্বল, বয়োবৃদ্ধ ও প্রয়োজনশীল মানুষ রয়েছে।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৫৪-৫৫; সহীহ মুসলিম: ৪৬৬; মুসনাদ িইমাম শাফে‘ঈ: ১/১৩১-১৩২; হুমাইদী: ৪৫৩; আত তায়ালিসী: ৬০৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৭২৬; মুসনাদ আহমাদ: ৪/১১৮; সহীহ আল বুখারী: ৯০; ইবনু মাজাহ: ৯৮৪; দারেমী: ১/২৮৮; তাবারানী আল কাবীর: ১৭/৫৫৫; বাগাবী,শারহুস সুন্নাহ: ৮৪৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৫৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (759): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
2138 - أَخْبَرَنَا ابْنُ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: «مَا صَلَّيْتُ خَلْفَ إِمَامٍ قَطُّ أَخَفَّ صَلَاةً وَلَا أَتَمَّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ». [5: 4]
رقم طبعة با وزير = (2135)
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া এমন কারো পিছনে সালাত আদায় করিনি, যিনি সালাত পরিপূর্ণভাবে আদায় করেও সবচেয়ে হালকা করে সালাত আদায় করেন।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৫২; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৮২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৮৪০; আত তায়ালিসী: ১৯৯৭; সহীহ মুসলিম: ৪৬৯; তিরমিযী: ২৩৭; নাসাঈ: ২/৯৪; দারেমী: ১/২৮৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬০৪; আবূ আওয়ানা: ২/৮৯; সুনান বাইহাকী: ৩/১১৫; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৭১৮; সহীহ আল বুখারী: ৭০৬; ইবনু মাজাহ: ৯৮৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৯৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - مضى (1853). تنبيه!! رقم (1853) = (1856) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري
2139 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَأَدْخُلُ فِي الصَّلَاةِ أُرِيدُ أَنْ أُطِيلَهَا فَأَسْمَعَ بُكَاءَ الصَّبِيِّ، فَأُخَفِّفَ مِمَّا أَعْلَمُ مِنْ شِدَّةِ وَجْدِ أُمِّهِ بِهِ». [4: 1]
رقم طبعة با وزير = (2136)
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি সালাতে প্রবেশ করি এই ইচ্ছা নিয়ে যে, আমি সালাতকে দীর্ঘ করবো, অতঃপর আমি শিশুর কান্না শুনতে পাই ফলে আমি সালাত হালকা করে আদায় করি। কেননা আমি জানি এতে তার মা প্রচন্ড কষ্ট অনুভব করে।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ৪৭০; সুনান বাইহাকী: ২/৩৯৩; সহীহ আল বুখারী: ৭১০; ইবনু মাজাহ: ৯৮৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৮৪৫; তিরমিযী: ৩৭৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬১০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৫৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৫৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (755): خ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده على شرطهما، سعيد: هو ابن أبي عروبة، وهو من أثبت الناس في قتادة.
2140 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ لِسَعْدٍ: قَدْ شَكَاكَ أَهْلُ الْكُوفَةِ فِي كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى فِي الصَّلَاةِ، فَقَالَ: «أُطِيلُ الْأُولَيَيْنِ وأَحْذِمُ فِي الْأُخْرَيَيْنِ وَمَا آلُو مِنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» فَقَالَ: ذَاكَ الظَّنُّ بِكَ. أَبُو عَوْنٍ اسْمُهُ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ. [5: 8]
رقم طبعة با وزير = (2137)
জাবির বিন সামুরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন, “কুফাবাসীরা আপনার সব বিষয়ে অভিযোগ করেছে এমনকি সালাতের ব্যাপারেও!” জবাবে সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি সালাতের প্রথম দুই রাকা‘আত দীর্ঘ করি এবং শেষ দুই রাকা‘আত হালকা করি। আর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মতো আদায় করতে মোটেও ত্রুটি করি না।” তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আপনার ব্যাপারে আমার ধারণাও তো এমনি।”[1] হাদীসের রাবী আবূ আওনের নাম মুহাম্মাদ বিন উবাইদুল্লাহ।”
[1] সহীহ মুসলিম: ৪৫৩; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৮০; আত তায়ালিসী: ২১৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৩৭০৬; সহীহ আল বুখারী: ৭৫৫; নাসাঈ: ২/১৭৪; আবূ আওয়ানা: ২/১৪৯; তাবারানী আল কাবীর: ৩০৮; সুনান বাইহাকী: ২/৬৫; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৫০৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৬৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (1934). تنبيه!! رقم (1934) = (1937) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، وهو مكرر (1937)، وانظر (1859).