সহীহ ইবনু হিব্বান
2832 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءَ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ، قَالَ: خَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالنَّاسُ مَعَهُ، فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا نَحْوًا مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، ثُمَّ رَفَعَ، فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا، وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ قَامَ قِيَامًا طَوِيلًا، دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ، فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا، وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدْ تَجَلَّتِ الشَّمْسُ، فَقَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، لَا يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ، وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ، فَاذْكُرُوا [ص:73] اللَّهَ» فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ رَأَيْنَاكَ تَنَاوَلْتَ شَيْئًا فِي مَقَامِكَ هَذَا، ثُمَّ رَأَيْنَاكَ تَكَعْكَعْتَ، قَالَ: «إِنِّي رَأَيْتُ الْجَنَّةَ - أَوْ أُرِيتُ الْجَنَّةَ -، فَتَنَاوَلْتُ مِنْهَا عُنْقُودًا، وَلَوْ أَخَذْتُهُ لَأَكَلْتُمْ مِنْهُ مَا بَقِيَتِ الدُّنْيَا، وَرَأَيْتُ النَّارَ، فَلَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ مَنْظَرًا قَطُّ، وَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ» قَالُوا: بِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «بِكُفْرِهِنَّ» قِيلَ: يَكْفُرْنَ بِاللَّهِ؟ قَالَ: «يَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ، وَيَكْفُرْنَ الْإِحْسَانَ، لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ، ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ: وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ».
رقم طبعة با وزير = (2821) [ص:74] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنْوَاعُ صَلَاةِ الْكُسُوفِ سَنَذْكُرُهَا فِيمَا بَعْدُ بِالتَّفْصِيلِ فِي الْقِسْمِ الْخَامِسِ فِي نَوْعِ الْأَفْعَالِ الَّتِي هِيَ مِنِ اخْتِلَافِ الْمُبَاحِ إِنَّ شَاءَ اللَّهُ ذَلِكَ وَيَسَّرَهُ «
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় সূর্য গ্রহণ লাগে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। অতঃপর তিনি সূরা বাকারার ন্যায় দীর্ঘ কিয়াম করেন। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি সাজদা করেন। তারপর তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। অতঃপর দীর্ঘ কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর সাজদা করেন। তারপর সালাত শেষ করেন এমন অবস্থায় যে সূর্য পরিস্ফুট হয়ে গেছে। তখন তিনি বলেন, নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহ হতে দুটি নিদর্শন, এগুলি কারো জীবিত থাকা বা মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। কাজেই যেখন তোমরা আল্লাহর যিকির করো।” সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমরা আপনাকে দেখেছি যে, আপনি আপনার এই জায়গা থেকে কিছু গ্রহণ করছেন তারপর আমরা দেখি যে, আপনি পিছু সরে আসছেন!” জবাবে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমি জান্নাত দেখেছি। -অথবা (রাবীর সন্দেহ তিনি বলেছেন) আমাকে জান্নাত দেখানো হয়েছে- অতঃপর আমি সেখান থেকে একটি থোকা (ফল) নিতে চাই। যদি আমি তা গ্রহণ করতাম, তবে দুনিয়া যতদিন বাকী থাকতো, ততদিন তোমরা তা খেতে পারতে। আর আমি জাহান্নামের আগুন দেখেছি। আমি আজকের মতো দৃশ্য আর কখনই দেখিনি। আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী!” সাহাবীগণ আরজ করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এর কারণ কী?” তিনি জবাবে বলেন, “তাদের কুফরীর কারণে।” তাঁকে বলা হলো, “তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরী করে?” তিনি বলেন, “তারা স্বামীর নাফরমানী করে। তারা অনুগ্রহের অকৃতজ্ঞতা করে। যদি তাদের কারো প্রতি যুগ যুগ ধরে উত্তম আচরণ করো। অতঃপর সে যদি তোমার মাঝে (মন্দ) কিছু দেখতে পায়, তবে বলবে, “আমি তোমার মাঝে কখনই কোন ভালো কিছু দেখিনি!”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সূর্য গ্রহণের সালাতের বিভিন্ন ধরণ আমরা পরিবর্তীতে বিস্তারিত পঞ্চম ভাগে আলোচনা করবো সেসব কর্মের আলোচনায় যেসব কর্ম বৈধ মতভেদ থেকে উদ্ভুত, যদি আল্লাহ চান এবং সহজ করে দেন।”
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৬-১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৯৮; সহীহুল বুখারী: ১০৫২; সহীহ মুসলিম: ৯০৭; নাসাঈ: ৩/১৪৬-১৪৮; বাগাবী: ১১৪০; আবূ দাঊদ: ১১৮৯; দারেমী: ১/৩৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «جزء الكسوف»، «صحيح أبي داود» (1075): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
2833 - أَخْبَرَنَا بَكْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سَعِيدٍ الْعَابِدُ، حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ نَصْرٍ، قَالَ: خَبَّرَنَا نُوحُ بْنُ قَيْسٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ، وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَصَلُّوا، حَتَّى تَنْجَلِيَ، أَوْ يُحَدِّثَ اللَّهُ أَمْرًا»
رقم طبعة با وزير = (2822)
আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূর্য গ্রহণ লাগে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র কারো বেঁচে থাকা ও মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। কাজেই যখন তোমরা এরকম কিছু দেখবে, তখন আল্লাহ কর্তৃক কোন কিছু ঘটানো অথবা গ্রহণ শেষে চন্দ্র বা সূর্য সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৬-১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৯৮; সহীহুল বুখারী: ১০৫২; সহীহ মুসলিম: ৯০৭; নাসাঈ: ৩/১৪৬-১৪৮; বাগাবী: ১১৪০; আবূ দাঊদ: ১১৮৯; দারেমী: ১/৩৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «جزء صلاة الكسوف»: خ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2834 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ الْقَيْسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، جُلُوسًا فَانْكَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَزِعًا يَجُرُّ ثَوْبَهُ حَتَّى دَخَلَ الْمَسْجِدِ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، فَلَمْ يَزَلْ يُصَلِّيهَا، حَتَّى انْجَلَتْ، وَكَانَ ذَلِكَ عِنْدَ مَوْتِ إِبْرَاهِيمَ ابْنِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ النَّاسُ: إِنَّمَا انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ لِمَوْتِ إِبْرَاهِيمَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، [ص:76] لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ، فَادْعُوا حَتَّى يَكْشِفَ مَا بِكُمْ».
رقم طبعة با وزير = (2823) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَادْعُوا: أَرَادَ بِهِ فَصَلُّوا، إِذِ الْعَرَبُ تُسَمِّي الصَّلَاةَ دُعَاءً»
আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসে ছিলাম। অতঃপর সূর্য গ্রহণ লাগে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত-সন্ত্রস্ত্র অবস্থায় নিজের কাপড় টানতে টানতে দাঁড়ান অতঃপর মাসজিদে প্রবেশ করেন এবং দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি সূর্য গ্রহণ ছেড়ে স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সালাত অব্যাহত রাখেন। এটা ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে ইবরাহিম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মৃত্যুবরণ করার দিন। ফলে লোকজন বলতে থাকে, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে ইবরাহিম মৃত্যুবরণ করার কারণে সূর্য গ্রহণ লেগেছে।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। এগুলো কারো মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। কাজেই যখন তোমরা এরকম কিছু দেখবে, তখন তোমরা তোমাদের কাছে যা আরোপিত হয়েছে, তা উন্মোচিত না হওয়া পর্যন্ত দু‘আ করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “তোমরা দু‘আ করো” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমরা সালাত আদায় করো। কারণ আরবরা সালাতকে দু‘আ হিসেবে অভিহিত করে থাকে।”
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৬-১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৯৮; সহীহুল বুখারী: ১০৫২; সহীহ মুসলিম: ৯০৭; নাসাঈ: ৩/১৪৬-১৪৮; বাগাবী: ১১৪০; আবূ দাঊদ: ১১৮৯; দারেমী: ১/৩৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات إلا أن مبارك بن فضالة مدلس وقد عنعن
2835 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَقَامَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَجْلَانًا إِلَى الْمَسْجِدِ فَجَرَ إِزَارَهُ - أَوْ ثَوْبَهُ - وَثَّابَ إِلَيْهِ نَاسٌ، فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ نَحْوَ مَا تُصَلُّونَ، ثُمَّ جُلِّيَ عَنْهَا، فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَثَّابَ إِلَيْهِ النَّاسُ، فَقَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ يُخَوِّفُ بِهِمَا عِبَادَهُ، وَإِنَّهُمَا لَا يَنْكَسِفَانِ [ص:77] لِمَوْتِ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ، وَكَانَ ابْنُهُ تُوُفِّيَ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْهَا شَيْئًا، فَصَلُّوا حَتَّى يَكْشِفَ مَا بِكُمْ».
رقم طبعة با وزير = (2824) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «قَوْلُ أَبِي بَكْرَةَ: فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ نَحْوَ مَا تُصَلُّونَ، أَرَادَ بِهِ تُصَلُّونَ صَلَاةَ الْكُسُوفِ رَكْعَتَيْنِ فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ، وَأَرْبَعِ سَجَدَاتٍ عَلَى حَسَبِ مَا تَقَدَّمَ ذِكْرُنَا لَهُ»
আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিলাম। এমন সময় সূর্য গ্রহণ লাগে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তরাপ্রবণ হয়ে মাসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ান। তিনি নিজের লুঙ্গি –অথবা তার জামা- টানতে ছিলেন। লোকজনও তাঁর কাছে দ্রুত চলে আসেন। অতঃপর দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন, যেভাবে তোমরা সালাত আদায় করে থাকো। তারপর সূর্য গ্রহণ কেটে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মুখোমুখি হন আর লোকজনও তাঁর কাছে দ্রুত চলে আসেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। আল্লাহ তা‘আলা এই দুটির মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের ভয় দেখান। এদুটি কারা মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। (এদিন তাঁর ছেলে মারা গিয়েছিলেন।) কাজেই যখন তোমরা এরকম কিছু দেখবে, তখন তোমরা তোমাদের কাছে যা আরোপিত হয়েছে, তা উন্মোচিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “অতঃপর দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন, যেভাবে তোমরা সালাত আদায় করে থাকো” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমরা যেমন চার রুকূ‘ ও চার সাজদার মাধ্যমে সূর্য গ্রহণের দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করে থাকো, যেমনটা আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি।”
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৬-১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৯৮; সহীহুল বুখারী: ১০৫২; সহীহ মুসলিম: ৯০৭; নাসাঈ: ৩/১৪৬-১৪৮; বাগাবী: ১১৪০; আবূ দাঊদ: ১১৮৯; দারেমী: ১/৩৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
2836 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بُرَيْدٌ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: كَسَفَتِ الشَّمْسُ زَمَنَ [ص:78] رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ فَزِعًا، خَشِينَا أَنْ تَكُونَ السَّاعَةُ، حَتَّى أَتَى الْمَسْجِدَ، فَقَامَ فَصَلَّى بِأَطْوَلِ قِيَامٍ، وَرُكُوعٍ، وَسُجُودٍ مَا رَأَيْتُهُ يَفْعَلُ فِي صَلَاةٍ قَطُّ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ هَذِهِ الْآيَاتِ الَّتِي يُرْسِلُ اللَّهُ لَا تَكُونُ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنَّ اللَّهَ يُرْسِلُهَا يُخَوِّفُ بِهَا عِبَادَهُ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْهَا شَيْئًا، فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِهِ، وَدُعَائِهِ، وَاسْتِغْفَارِهِ»
رقم طبعة با وزير = (2825)
আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে সূর্য গ্রহণ লাগে। অতঃপর তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত্র হয়ে দাঁড়ান, এমনকি আমরা আশংকা করলাম যে, হয়তো কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। অতঃপর তিনি মাসজিদে আসেন। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে এতো দীর্ঘতর কিয়াম, রুকূ‘ ও সাজদার মাধ্যমে সালাত আদায় করেন, এরকম আর কোন সালাতে তাঁকে এরকম করতে দেখিনি। তারপর তিনি বলেন, “এসব নিদর্শনগুলি আল্লাহ পাঠান, যা কারো বেঁচে থাকা অথবা মৃত্যুবরণ করার কারণে হয় না। বরং আল্লাহই তা পাঠান তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করার জন্য। যখন তোমরা এর কোন কিছু দেখবে, তখন তোমরা দ্রুত যিকর, দু‘আ ও ইস্তিগফারের দিকে ধাবিত হও।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ১০৫৯; সহীহ মুসলিম: ৯১২; নাসাঈ: ৩/১৫৩-১৫৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৭১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (জুযউল কুসূফ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «جزء الكسوف»: م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
2837 - أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّاجِرُ الْمَرْوَزِيُّ، بِمَرْوَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ السُّكَّرِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ «صَلَّى فِي كُسُوفِ [ص:79] الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ رَكْعَتَيْنِ مِثْلَ صَلَاتِكُمْ».
رقم طبعة با وزير = (2826) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «قَوْلُ أَبِي بَكْرَةَ: » رَكْعَتَيْنِ مِثْلَ صَلَاتِكُمْ «أَرَادَ بِهِ مِثْلَ صَلَاتِكُمْ فِي الْكُسُوفِ»
আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সালাত তোমাদের সালাতের মতোই দুই রাকা‘আত আদায় করেছেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবূ বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “অতঃপর দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন, যেভাবে তোমরা সালাত আদায় করে থাকো” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমরা যেভাবে সূর্য গ্রহণের দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করে থাকো।”
[1] নাসাঈ: ১/৩৩৪-৩৩৫। হাদীসটির ব্যাপারে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে চন্দ্রের উল্লেখসহ শায বা দুর্বল বলেছেন। (যঈফ আল মাওয়ারিদ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: شاذ أو منكر بذكر القمر - «ضعيف الموارد».
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات غير عبد الكريم بن عبد الله السكري لم أقف له على ترجمة
2838 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يُصَلِّي حَتَّى لَمْ يَكَدْ أَنْ يَرْكَعَ، ثُمَّ رَكَعَ حَتَّى لَمْ يَكَدْ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَجَعَلَ يَتَضَرَّعُ، وَيَبْكِي، وَيَقُولُ: «رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ، وَأَنَا فِيهِمْ، أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَنَحْنُ نَسْتَغْفِرُكَ»، فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْجَلَتِ الشَّمْسُ، فَقَامَ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَقَالَ «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، فَإِذَا انْكَسَفَا، فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ» ثُمَّ قَالَ: «لَقَدْ عُرِضَتْ عَلَيَّ الْجَنَّةُ [ص:80] حَتَّى لَوْ شِئْتُ لَتَعَاطَيْتُ قِطْفًا مِنْ قُطُوفِهَا، وَعُرِضَتْ عَلَيَّ النَّارُ، حَتَّى جَعَلْتُ أَتَّقِيهَا حَتَّى خَشِيتُ أَنْ تَغْشَاكُمْ، فَجَعَلْتُ أَقُولُ: أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَأَنَا فِيهِمْ، رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرِونَكَ»، قَالَ: «فَرَأَيْتُ فِيهَا الْحَمَيرِيَةَ السَّوْدَاءَ صَاحِبَةَ الْهِرَّةِ كَانَتْ حَبَسَتْهَا، فَلَمْ تُطْعِمْهَا وَلَمْ تَسْقِهَا، وَلَمْ تَتْرُكْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ، فَرَأَيْتُهَا كُلَّمَا أَدْبَرَتْ نُهِشَتْ فِي النَّارِ، وَرَأَيْتُ فِيهَا صَاحِبَ بَدَنَتَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَخَا دَعْدَعٍ، يُدْفَعُ فِي النَّارِ بِقَضِيبَيْنِ ذِي شُعْبَتَيْنِ، وَرَأَيْتُ صَاحِبَ الْمِحْجَنِ، فَرَأَيْتُهُ فِي النَّارِ عَلَى مِحْجَنِهِ مُتَوَكِّئًا»
رقم طبعة با وزير = (2827)
আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে সূর্য গ্রহণ হয়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন যে যেন তিনি রুকূ‘ই করবেন না। তারপর এতো দীর্ঘক্ষন রুকূ‘ করেন, যেন তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করবেন না। তারপর মাথা উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি আকুতি-মিনতি ও ক্রন্দন করতে থাকেন এবং বলেন, رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُم وَأَنَا فِيهِمْ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَنَحْنُ نَسْتَغْفِرُكَ (হে আমার প্রভু, আপনি কি আমাকে প্রতিশ্রুতি দেননি যে, আপনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না এমন অবস্থায় যে আমি তাদের মাঝে বিদ্যমান আছি। আপনি কি আমাকে প্রতিশ্রুতি দেননি যে, আপনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না এমন অবস্থায় যে, আমরা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি?)।” অতঃপর যখন তিনি সালাত আদায় করেন, তখন সূর্য গ্রহণ কেটে যায়। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ-কীর্তন করেন এবং বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর দুটি নিদর্শন। যখন এই দুটি গ্রহণ লাগবে, তখন তোমরা ভীত হয়ে আল্লাহর যিকিরে মনোনিবেশ করবে।” তারপর তিনি বলেন, “অবশ্যই আমার সামনে জান্নাত পেশ করা হয়, এমনকি যদি আমি চাইতাম, তবে তার কোন আহরণ করতে পারতাম এবং আমার কাছে জাহান্নামের আগুন পেশ করা হয়, এমনকি আমি তা থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করি, এমনকি আমার আশংকা হয় যে, এই আগুন তোমাদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলবে! তখন আমি বলতে থাকি, أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَأَنَا فِيهِمْ رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرِونَكَ (আপনি কি আমাকে প্রতিশ্রুতি দেননি যে, আপনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না এমন অবস্থায় যে আমি তাদের মাঝে বিদ্যমান আছি। হে আমার প্রভু, আপনি কি আমাকে প্রতিশ্রুতি দেননি যে, আপনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না এমন অবস্থায় যে, তারা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছে?)।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তারপর আমি সেখানে হিমইয়ারী গোত্রের কৃষ্ণবর্ণের বিড়ালের মালিক সেই মহিলাকে দেখেছি, যে তার বিড়ালকে আটকে রেখেছিল; সে তাকে খেতেও দেয়নি, পান করায়নি আবার সে তাকে ছেড়েও দেয়নি যে, সেটা জমিনের কীট-পতঙ্গ খাবে। আমি তাকে দেখেছি যে, যখনই সে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে, তখনই তাকে জাহান্নামে কামড়ানো হয়।আমি সেখানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুটি উষ্ট্রীর রাখালকে দেখেছি, যে বানূ দা‘দা‘ গোত্রের লোক ছিল। তাকে দুই কোণ বিশিষ্ট্য দুটি ডাল দ্বারা জাহান্নামে তাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমি লাঠিওয়ালা এক ব্যক্তিকে দেখেছি। আমি দেখেছি যে, তাকে জাহান্নামের আগুনে তার লাঠিতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৮৯; মুসনাদ আহমাদ: ২/১৫৯; নাসাঈ: ৩/১৩৭-১৩৮; হাকিম: ১/৩২৯; আবূ দাঊদ: ১১৯৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। কিন্তু মাহফূয হলো প্রত্যেক রাকা‘আতে দুটি করে রুকূ‘ করা এবং বানূ দা‘দা‘ গোত্রের লোক হলো লাঠিওয়ালা সেই ব্যক্তি। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح لغيره - «صحيح أبي داود» (1079)، لكن المحفوظ ركوعان في كل ركعة، وأن (أخا بني دعدع): هو صاحب المحجن. استراك على «طبعة باوزير»!! هناك حاشية بعد جملة «لَقَدْ عُرِضَتْ عَلَيَّ الْجَنَّةُ حَتَّى لَوْ» قال فيها الشيخ: ما بين المعقوفين سقط من مطبوعة «دار الكتب العلمية». لكنهم لم يضعوا المعقوفين؟! - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح
2839 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُعَافَى الْعَابِدُ، بِصَيدَا، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، بِحِمْصَ، وَعُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، بِصُغْدَ، وَأَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ يُوسُفَ، بِدِمَشْقَ، قَالُوا: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبَّاسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يَوْمَ كَسَفَتَ الشَّمْسُ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي رَكْعَتَيْنِ، وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ»
رقم طبعة با وزير = (2828)
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যে দিন সূর্য গ্রহণ হয়, সেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার রুকূ‘ ও চার সাজদার মাধ্যমে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৬-১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৯৮; সহীহুল বুখারী: ১০৫২; সহীহ মুসলিম: ৯০৭; নাসাঈ: ৩/১৪৬-১৪৮; বাগাবী: ১১৪০; আবূ দাঊদ: ১১৮৯; দারেমী: ১/৩৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1072)، «جزء الكسوف».
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null
2840 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَتْهُ، أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهَا، أَنَّ يَهُودِيَّةً أَتَتْهَا، فَقَالَتْ: أَجَارَكِ اللَّهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ النَّاسَ لَيُفْتَنُونَ فِي الْقَبْرِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَائِذٌ بِاللَّهِ»، قَالَتْ عَائِشَةُ: ثُمَّ إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مَخْرَجًا فَخَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَخَرَجْنَا إِلَى الْحُجْرَةِ، وَاجْتَمَعَ إِلَيْنَا النِّسَاءُ، وَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَذَلِكَ ضَحْوَةً، فَقَامَ يُصَلِّي فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا، ثُمَّ رَفَعَ [ص:82] رَأْسَهُ، فَقَامَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ دُونَ رُكُوعِهِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ قَامَ الثَّانِيَةَ، وَصَنَعَ مِثْلَ ذَلِكَ إِلَّا أَنَّ رُكُوعَهُ دُونَ الرَّكْعَةِ الْأُولَى، ثُمَّ سَجَدَ وَتَجَلَّتِ الشَّمْسُ، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَقَالَ: فِيمَا يَقُولُ: «إِنَّ النَّاسَ يُفْتَنُونَ فِي قُبُورِهِمْ كَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ»، قَالَتْ عَائِشَةُ: فَكُنَّا نَسْمَعُهُ بَعْدَ ذَلِكَ بِتَعَوُّذٍ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ
رقم طبعة با وزير = (2829)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ইয়াহুদী মহিলা তাঁর কাছে এসে বলেন, “আল্লাহ আপনাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন।” অতঃপর আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলেন, “লোকদেরকে কি কবরে শাস্তি দেওয়া হবে?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বাড়ি থেকে বের হন অতঃপর সূর্য গ্রহণ লাগে। তারপর আমরা হুজরার উদ্দেশ্যে বের হই। নারীরা আমাদের কাছে সমবেত হন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেন। সময়টা ছিল পুর্বাহ্ন। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে সালাত পড়তে শুরু করেন। তিনি দীর্ঘক্ষন কিয়াম করেন। তারপর রুকূ‘ করেন। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম দীর্ঘ। তারপর রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম দীর্ঘের। তারপর সাজদা করেন। তারপর দ্বিতীয়বার দাঁড়ান এবং আগের মতোই আমল করেন। তবে এখানে তাঁর রুকূ‘ প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম দীর্ঘের ছিল। তারপর তিনি সাজদা করেন। সেসময় সূর্য পরিস্ফূট হয়ে যায়। অতঃপর যখন সালাত শেষ করেন, তখন তিনি মিম্বারের উপর বসেন এবং বলেন, “নিশ্চয়ই লোকদের কবরে দাজ্জালের পরীক্ষার ন্যায় পরীক্ষা করা হবে।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “তারপর আমরা শুনতাম, তিনি কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাইতেন।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৭-১৮৮; সহীহুল বুখারী: ১০৪৯; বাগাবী: ১১৪১; নাসাঈ: ৩/১৩৩-১৩৪; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৫৩; সহীহ মুসলিম: ৯০৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৭৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (জুযউল কুসূফ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «جزء الكسوف»: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2841 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الصَّلَاةِ، فَقَرَأَ بِسُورَةِ طَوِيلَةٍ، ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَافْتَتَحَ بِسُورَةٍ أُخْرَى، حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْهَا رَكَعَ ثَانِيَةً، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَسَجَدَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ، فَقَرَأَ أَيْضًا بِسُورَةٍ، وَقَامَ دُونَ الْقِرَاءَةِ الْأُولَى، ثُمَّ رَكَعَ فَكَانَ رُكُوعُهُ دُونَ الْأَوْلِ، ثُمَّ سَجَدَ فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ، قَالَ: «مَا مِنْ شَيْءٍ تُوعَدُونَهُ إِلَّا وَقَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا، وَلَقَدْ رَأَيْتُنِي أُرِيدُ أَنْ آخُذَ قِطْفًا مِنَ الْجَنَّةِ حِينَ رَأَيْتُمُونِي أَتَقَدَّمُ، وَلَقَدْ رَأَيْتُ جَهَنَّمَ يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا حِينَ رَأَيْتُمُونِي تَأَخَّرْتُ، وَرَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ لُحَيٍّ وَهُوَ الَّذِي سَيَّبَ السَّوَائِبَ»
رقم طبعة با وزير = (2830)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে একবার সূর্য গ্রহণ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়ান। তিনি দীর্ঘ সূরা পাঠ করেন। তারপর তিনি কিয়ামের মতো লম্বা রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি আরেকটি সূরা পাঠ শুরু করেন। যখন তিনি পাঠ শেষ করেন, তখন রুকূ‘ করেন, তখন দ্বিতীয় রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন অতঃপর সাজদা করেন। তারপর তিনি দ্বিতীয় রাকা‘আতের জন্য দাঁড়ান এবং দাঁড়িয়ে আরেকটি সূরা পাঠ করেন, তবে সেটা প্রথম কিরা‘আত অপেক্ষা ছোট। তারপর তিনি রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা ছোট। তারপর সাজদা করেন। অতঃপর যখন সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করেন, তখন তিনি বলেন, “যেসব জিনিস তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার সবকিছু আমাকে এই জায়গায় দেখানো হয়েছে। আমি জান্নাতের এক থোকা ফল নিতে চেয়েছিলাম, যখন তোমরা আমাকে দেখেছো যে, আমি সামনে অগ্রসর হচ্ছি। অবশ্যই আমি জাহান্নামকে দেখেছি, তার একাংশ আরেক অংশকে আঘাত করছে, এটা আমি দেখেছি, যখন তোমরা আমাকে দেখেছো যে, আমি পিছু হটছি। আমি জাহান্নামে আমর বিন লুহাইকেও দেখেছি। সে হলো ঐ ব্যক্তি যে, সায়িবা (প্রতিমার নামে প্রাণী ছেড়ে দেওয়া) এর প্রচলন করেছিল।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ১২১২; সহীহ মুসলিম: ৯০১; নাসাঈ: ৩/১৩০-১৩২; দারাকুতনী: ২/৬৩; আবূ দাউদ: ১১৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1071): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
2842 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَمِرٍ، أَنَّهُ سَأَلَ الزُّهْرِيَّ، عَنْ سُنَّةِ صَلَاةِ الْكُسُوفِ فَقَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا فَنَادَى أَنَّ الصَّلَاةَ جَامِعَةٌ، فَاجْتَمَعَ النَّاسَ، فَصَلَّى بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَبَّرَ، ثُمَّ قَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً، ثُمَّ كَبَّرَ، فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا مِثْلَ قِيَامِهِ أَوْ أَطْوَلَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، ثُمَّ قَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ كَبَّرَ، فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا، وَهُوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، ثُمَّ كَبَّرَ، فَسَجَدَ سُجُودًا [ص:85] طَوِيلًا وَهُوَ أَدْنَى مِنْ رُكُوعِهِ أَوْ أَطْوَلُ، ثُمَّ كَبَّرَ، فَرَفَعَ رَأْسَهُ، ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ، ثُمَّ كَبَّرَ فَقَامَ، فَقَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الْأُولَى، ثُمَّ كَبَّرَ، فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا هُوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، ثُمَّ قَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الْأُولَى فِي الْقِيَامِ الثَّانِي، ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ كَبَّرَ، فَرَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ»، ثُمَّ كَبَّرَ، فَسَجَدَ أَدْنَى مِنْ سُجُودِهِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، ثُمَّ تَشَهَّدَ، ثُمَّ سَلَّمَ، وَقَامَ فِيهِمْ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَنْخَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، فَإِنْ خُسِفَ بِهِمَا أَوْ بِأَحَدِهِمَا فَافْزَعُوا إِلَى اللَّهِ وَالصَّلَاةِ». قَالَ الزُّهْرِيُّ: فَقُلْتُ لِعُرْوَةَ: وَاللَّهِ مَا صَنَعَ هَذَا أَخُوكَ عَبْدُ اللَّهِ حِينَ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ وَهُوَ بِالْمَدِينَةِ، وَمَا صَلَّى إِلَّا رَكْعَتَيْنِ مِثْلَ صَلَاةِ الصُّبْحِ، قَالَ: أَجَلْ، كَذَلِكَ صَنَعَ، وَأَخْطَأَ السُّنَّةَ «
رقم طبعة با وزير = (2831)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “(রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে একবার) সূর্য গ্রহণ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন ফলে তিনি জামা‘আতে সালাত সংঘটিত হবে মর্মে আহবান করলেন। অতঃপর লোকজন সমবেত হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি প্রথমে তাকবীর দেন। তারপর তিনি দীর্ঘ কিরা‘আত পাঠ করেন। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং কিয়ামের মতো অথবা তারচেয়ে বেশি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং বলেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেছেন, ঐ ব্যক্তির প্রশংসা, যে তার প্রশংসা করে)। তারপর তিনি দীর্ঘ কিরা‘আত পাঠ করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং বলেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেছেন, ঐ ব্যক্তির প্রশংসা, যে তার প্রশংসা করে)। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং রুকূ‘র মতো অথবা তার চেয়ে দীর্ঘ সাজদা করেন। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর আবার তাকবীর দেন এবং সাজদা করেন। তারপর তিনি তাকবীর দিয়ে দাঁড়ান। তারপর তিনি দীর্ঘ কিরা‘আত পাঠ করেন, তবে সেটা প্রথম কিরা‘আত অপেক্ষা ছোট। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম দৈর্ঘের। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং বলেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেছেন, ঐ ব্যক্তির প্রশংসা, যে তার প্রশংসা করে)। তারপর তিনি দ্বিতীয় কিয়ামে দীর্ঘ কিরা‘আত পাঠ করেন, তবে সেটা প্রথম কিরা‘আত অপেক্ষা কম। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং বলেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেছেন, ঐ ব্যক্তির প্রশংসা, যে তার প্রশংসা করে)। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং দীর্ঘ সাজদা করেন, তবে সেটা প্রথম সাজদা অপেক্ষা কম। তারপর তিনি তাকবীর দেন এবং সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি তাশাহ্হুদ পাঠ করেন। তারপর সালাম ফেরান। অতঃপর তিনি সাহাবীদের মাঝে দাঁড়ান। তারপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ-কীর্তন করেন। অতঃপর বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র কারো বেঁচে থাকা অথবা কারো মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। বরং এগুলি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কাজেই এদুটি অথবা এদের যে কোন একটি গ্রহণ লাগবে, তখন তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত্র অবস্থায় আল্লাহর দিকে এবং সালাত আদায় করার দিকে ধাবিত হবে।” ইমাম যুহরী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি উরওয়া বিন যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, “আল্লাহর কসম, আপনার ভাই আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মদীনায় অবস্থানকালে সূর্যগ্রহণ লাগলে এমনটা করেননি। তিনি ফজরের দুই রাকা‘আত সালাতের মতোই দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেছেন।” জবাবে উরওয়া বিন যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আপনি ঠিকই বলেছেন। তিনি এমনটাই করেছেন, তবে তিনি সুন্নাহ-পরিপন্থী কাজ করেছেন।”[1]
[1] নাসাঈ: ৩/১২৭; আবূ দাঊদ: ১১৯০; দারাকুতনী: ২/৬২-৬৩; সহীহুল বুখারী: ১০৬৫-১০৬৬; বাগাবী: ১১৪৬; সহীহ মুসলিম: ৯০১; ইবনু মাজাহ: ১২৬৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৬৮; তিরমিযী: ৫৬১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1072): خ (1076)، م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: عمرو بن عثمان صدوق ومن فوقه من رجال الشيخين
2843 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ رَكَعَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَامَ دُونَ قِيَامِهِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَامَ دُونَ قِيَامِهِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ ثَلَاثَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَامَ، فَرَكَعَ ثَلَاثَ رَكَعَاتٍ قَامَ فِيهِنَّ دُونَ قِيَامِهِ [ص:87] الْأَوْلِ، ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدْ تَجَلَّتِ الشَّمْسُ فَقَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ كُسُوفَهُمَا فَصَلُّوا حَتَّى يَنْجَلِيَ»
رقم طبعة با وزير = (2832)
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে সূর্য গ্রহণ লাগলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘক্ষন কিয়াম করেন। তারপর রুকূ‘ করেন। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর আবার কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর রুকূ‘ করেন। তারপর রুকূ‘ মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ করেন। তিনটি রুকূ‘। তারপর সাজদা করেন। তারপর সাজদা থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি দাঁড়ান। অতঃপর তিনটি রুকূ‘ করেন। এতে তিনি কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর আবার সাজদা করেন। তারপর সালাম ফেরান। ইতোমধ্যে সূর্য গ্রহণ শেষ হয়ে গেছে। তখন তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র কারো বেঁচে থাকা অথবা কারো মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। বরং এগুলি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কাজেই যখন তোমরা এদের গ্রহণ দেখবে, তখন তোমরা গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৮৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২১৭-২১৮; আবূ দাঊদ: ১১৭৮; সহীহ মুসলিম: ৯০৪; আবূ আওয়ানা: ২/৩৭২-৩৭৩; সুনান বাইহাকী: ৩/৩২৪; আত তায়ালিসী: ১৭৫৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তবে তিন রুকূ‘ করার বিষয়টি শায। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৬৯-১০৭০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (656)، «صحيح أبي داود» (1069 - 1070): م، لكن قوله: ثلاث ركعات .. شاذ، والمحفوظ: ركعتان؛ كما في بعض طرقه.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2844 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَذَلِكَ يَوْمَ مَاتَ فِيهِ إِبْرَاهِيمُ، فَقَالَ النَّاسُ: إِنَّمَا انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ لِمَوْتِ إِبْرَاهِيمَ، فَقَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى بِالنَّاسِ سِتَّ رَكَعَاتٍ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ، كَبَّرَ، ثُمَّ قَرَأَ، فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ، ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَامَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَرَأَ دُونَ الْقِرَاءَةِ الْأُولَى، ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَرَأَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَرَأَ دُونَ الْقِرَاءَةِ الثَّانِيَةِ، ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَرَأَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى ثَلَاثَ رَكَعَاتٍ قَبْلَ أَنْ يَسْجُدَ لَيْسَ فِيهَا رَكْعَةٌ إِلَّا الَّتِي قَبْلَهَا أَطْوَلُ مِنَ الَّتِي بَعْدَهَا إِلَّا أَنَّ رُكُوعَهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ، ثُمَّ تَأَخَّرَ فِي صَلَاتِهِ، فَتَأَخَّرَتِ الصُّفُوفُ مَعَهُ، ثُمَّ تَقَدَّمَ، فَتَقَدَّمْتُ الصُّفُوفُ مَعَهُ فَقَضَى الصَّلَاةَ وَقَدْ أَضَاءَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ [ص:88] إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ بَشَرٍ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَصَلُّوا حَتَّى يَنْجَلِيَ»
رقم طبعة با وزير = (2833)
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে সূর্য গ্রহণ লাগে। এটা হয় যেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে ইবরাহিম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মারা যায়। তখন লোকজন বলতে থাকে, “ইবরাহিম মারা যাওয়ার কারণে সূর্য গ্রহণ লেগেছে।” তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ান এবং ছয়টি রুকূ‘ ও চারটি সাজদা করেন। তিনি তাকবীর দেন এবং দীর্ঘক্ষন কিরাআত পাঠ করেন। তারপর প্রায় কিয়ামের মতো রুকূ‘ করেন। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি কিরাআত পাঠ করেন, তবে তা প্রথম কিরা‘আত অপেক্ষা কম। তারপর তিনি কিরা‘আত সমপরিমাণ রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি কিরাআত পাঠ করেন, তবে তা দ্বিতীয় কিরা‘আত অপেক্ষা কম। তারপর তিনি কিরা‘আত সমপরিমাণ রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি দুটি সাজদা করেন। তারপর তিনি আবার দাঁড়ান। তারপর তিনি সাজদা করার আগে তিনটি রুকূ‘ করেন। প্রতিটি রাকা‘আতে আগের রাকা‘আত পরের রাকা‘আত অপেক্ষা দীর্ঘ ছিল। অবশ্য তাঁর রুকূ‘ তাঁর কিয়ামের প্রায় সমপরিমাণ ছিল। তারপর তিনি সালাতে পিছু হটে আসেন, ফলে তাঁর সাথে কাতারের লোকজনও পিছু হটে। তারপর তিনি সামনে অগ্রসর হন, তাঁর সাথে কাতারের লোকজনও সামনে অগ্রসর হয়। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করেন। তখন ইতোমধ্যে সূর্য পরিস্ফূট হয়ে গেছে। তারপর তিনি বলেন, “হে লোকসকল, নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মাঝে দুটি নিদর্শন। যা কোন মানুষের মৃত্যুতে গ্রহণ লাগে না। কাজেই যখন তোমরা এর কোন কিছু দেখবে, তখন তোমরা গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৮৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২১৭-২১৮; আবূ দাঊদ: ১১৭৮; সহীহ মুসলিম: ৯০৪; আবূ আওয়ানা: ২/৩৭২-৩৭৩; সুনান বাইহাকী: ৩/৩২৪; আত তায়ালিসী: ১৭৫৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তবে ছয় রুকূ‘ করার বিষয়টি শায। চার রুকূ‘ সহীহ। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৬৯-১০৭০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح؛ لكن قوله: ست ركعات .. شاذ، والمحفوظ: أربع ركعات: م - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2845 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ الطَّائِيُّ، بِمَنْبِجَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، [ص:89] عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: خَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّاسِ، فَقَامَ وَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ رَكَعَ، فَأَطَالَ الرُّكُوعَ، ثُمَّ قَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ فَسَجَدَ، ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الْأُخْرَى مِثْلَ مَا فَعَلَ فِي الْأُولَى، ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدِ انْجَلَتِ الشَّمْسُ، فَخَطَبَ النَّاسَ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرِ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَا يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَادْعُوا اللَّهَ وَكَبِّرُوا وَتَصَدَّقُوا» وَقَالَ: «يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاللَّهِ مَا مِنْ أَحَدٍ أَغْيَرُ مِنَ اللَّهِ أَنْ يَزْنِي عَبْدُهُ أَوْ تَزْنِي أُمَّتُهُ، يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا، وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا»
رقم طبعة با وزير = (2834)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে একবার সূর্য গ্রহণ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি দাঁড়ান এবং দীর্ঘক্ষন কিয়াম করেন। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন অতঃপর সাজদা করেন। তারপর তিনি প্রথম রাকা‘আতে যেমন করেন, অনুরুপ দ্বিতীয় রাকা‘আতেও করেন। তারপর তিনি সালাম ফেরান, তখন ইতোমধ্যে সূর্য প্রকাশিত হয়ে গেছে। অতঃপর তিনি সাহাবীদের উদ্দেশ্যে ভাষন দেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ-কীর্তন করেন। অতঃপর বলেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। এগুলি কারো বেঁচে থাকা অথবা কারো মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। বরং কাজেই যখন এরকম দেখবে, তখন তোমরা আল্লাহর কাছে দু‘আ করবে, তাকবীর দিবে এবং সাদাকাহ করবে।” তিনি আরো বলেন, “হে মুহাম্মদের উম্মাত, আল্লাহর কসম, আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্নমর্যাদার অধিকারী আর কেউ নেই, তাঁর কোন বান্দা বা বান্দী ব্যভিচার করুক। হে মুহাম্মদের উম্মাত, আল্লাহর কসম, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অল্প হাসতে আর বেশি কাঁদতে।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৮৬; সহীহুল বুখারী: ১০৪৪; সহীহ মুসলিম: ৯০১; নাসাঈ: ৩/১৩২-১৩৩; আবূ দাঊদ: ১১৯১; দারেমী: ১/৩৬০; বাগাবী: ১১৪২; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৬৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1077)، «جزء الكسوف»، «الإرواء» (658): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
2846 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الصَّلَاةِ، فَأَطَالَ الْقِيَامَ جِدًّا، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ جِدًّا، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَأَطَالَ الْقِيَامَ وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، ثُمَّ انْحَدَرَ بِالسُّجُودِ، فَسَجَدَ، ثُمَّ قَامَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ، فَأَطَالَ الْقِيَامَ وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَأَطَالَ الْقِيَامَ وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوْلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَانْحَدَرَ بِالسُّجُودِ فَسَجَدَ، ثُمَّ قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَا يَنْخَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَصَلُّوا وَتَصَدَّقُوا وَكَبِّرُوا» «يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ إِنْ أَحَدٌ أَغْيَرَ مِنَ اللَّهِ أَنْ يَزْنِيَ عَبْدُهُ أَوْ تَزْنِيَ أُمَّتُهُ، يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا»
رقم طبعة با وزير = (2835)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে একবার সূর্য গ্রহণ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়িয়ে যান। তিনি দীর্ঘক্ষন কিয়াম করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ করেন, খুবই দীর্ঘ রুকূ‘ করেন। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন অতঃপর সাজদায় চলে গেলেন এবং সাজদা করেন। তারপর তিনি দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়ান। অতঃপর তিনি কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন, তবে সেটা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে সেটা প্রথম রুকূ‘ অপেক্ষা কম। তারপর তিনি রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করেন অতঃপর সাজদায় চলে গেলেন এবং সাজদা করেন। তারপর বলেন, “হে লোকসকল, নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। এগুলি কারো বেঁচে থাকা অথবা কারো মৃত্যুবরণ করার কারণে গ্রহণ লাগে না। বরং যখন এরকম দেখবে, তখন তোমরা সালাত আদায় করবে, তাকবীর দিবে এবং সাদাকাহ করবে। হে মুহাম্মাদের উম্মাত, আল্লাহর কসম, আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্নমর্যাদার অধিকারী আর কেউ নেই, তাঁর কোন বান্দা বা বান্দী ব্যভিচার করার ব্যাপারে। হে মুহাম্মাদের উম্মাত, আল্লাহর কসম, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অল্প হাসতে আর বেশি কাঁদতে।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৮৬; সহীহুল বুখারী: ১০৪৪; সহীহ মুসলিম: ৯০১; নাসাঈ: ৩/১৩২-১৩৩; আবূ দাঊদ: ১১৯১; দারেমী: ১/৩৬০; বাগাবী: ১১৪২; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৬৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
2847 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَسْرُوقِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: خَسَفَتِ الشَّمْسُ زَمَنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ فَزِعًا، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ هَذِهِ الْآيَاتُ الَّتِي يُرْسِلُ اللَّهُ لَا تَكُونُ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنَّ اللَّهَ يُرْسِلُهَا يُخَوِّفُ بِهَا عِبَادَهُ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْهَا شَيْئًا فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِهِ وَاسْتِغْفَارِهِ».
رقم طبعة با وزير = (2836) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِهِ: يُرِيدُ بِهِ إِلَى صَلَاةِ الْكُسُوفِ لِأَنَّ الصَّلَاةَ تُسَمَّى ذِكْرًا، أَوْ فِيهَا ذِكْرُ اللَّهِ، فَسَمَّى الصَّلَاةَ ذِكْرًا»
আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে সূর্য গ্রহণ লাগে। অতঃপর তিনি বলেন, “এসব নিদর্শনগুলি আল্লাহ পাঠান, যা কারো বেঁচে থাকা অথবা মৃত্যুবরণ করার কারণে হয় না। বরং আল্লাহ তা পাঠান তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করার জন্য। কাজেই যখন তোমরা এর কোন কিছু দেখবে, তখন তোমরা দ্রুত যিকর ও ইস্তিগফারের দিকে ধাবিত হবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “তখন তোমরা দ্রুত যিকরের দিকে ধাবিত হবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সূর্য গ্রহণের সালাতের দিকে। কেননা সালাতকে যিকর অভিহিত করা হয়, অথবা সালাতের মাঝে যিকর রয়েছে, এজন্য সালাতকে যিকির বলা হয়েছে।”
[1] সহীহুল বুখারী: ১০৫৯; সহীহ মুসলিম: ৯১২; নাসাঈ: ৩/১৫৩-১৫৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৭১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (জুযউল কুসূফ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (2825). تنبيه!! رقم (2825) = (2836) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
2848 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ حَيَّانَ بْنِ عُمَيْرٍ، [ص:92] عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: «كُنْتُ أَرْمِي بَأْسَهُمٍ بِالْمَدِينَةِ، إِذْ خَسَفَتْ فَنَبَذْتُهَا»، فَقُلْتُ: «وَاللَّهِ لَأَنْظُرَنَّ مَا يُحَدِّثُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ» قَالَ: «فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَائِمٌ فِي الصَّلَاةِ رَافِعٌ يَدَيْهِ، قَالَ: فَجَعَلَ يُسَبِّحُ، وَيَحْمَدُ، وَيُكَبِّرُ، وَيُهَلِّلُ، وَيَدْعُو، حَتَّى حَسَرَ، فَلَمَّا حَسَرَ عَنْهَا قَرَأَ سُورَتَيْنِ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ»
رقم طبعة با وزير = (2837)
আব্দুর রহমান বিন সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি মদীনায় তীর নিক্ষেপ করছিলাম। এমন সময় সূর্য গ্রহণ লাগে। তখন আমি তীর ফেলে দিলাম এবং মনে মনে বললাম, “আল্লাহর কসম, অবশ্যই আমি দেখব যে, সূর্য গ্রহণের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কী অবস্থা ঘটে।” রাবী বলেন, “তারপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসি এমন অবস্থায় যে, তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, দুই হাত উত্তোলন করে ছিলেন।” রাবী বলেন, “তারপর তিনি তাসবীহ, তাহমীদ, তাকবীর, তাহলীল ও দু‘আ করতে লাগেন। অতঃপর গ্রহণ শেষ হয়ে যায়। যখন গ্রহণ শেষ হয়ে যায়, তখন তিনি দুটো সূরা পাঠ করে দুই রাকা‘আত সালাত সম্পন্ন করেন।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ১০৫৯; সহীহ মুসলিম: ৯১২; নাসাঈ: ৩/১৫৩-১৫৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৩৭১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (জুযউল কুসূফ)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - على أن المراد أن ذلك في كل ركعة؛ كما في حديث عائشة (2830) - «صحيح أبي داود» (1080): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
2849 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَمِرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، [ص:93] عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «جَهَرَ بِالْقِرَاءَةِ فِي صَلَاةِ الْكُسُوفِ»
رقم طبعة با وزير = (2838)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য গ্রহণের সালাতে জোরে কিরা‘আত পাঠ করেছেন।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৬৯; সহীহ মুসলিম: ৯১৩; আবূ দাঊদ: ১১৯৫; হাকিম: ১/৩২৯; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৬১; নাসাঈ: ৩/১২৪-১২৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৮০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1074): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
2850 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَمِرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَصَلَّى بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي رَكْعَتَيْنِ، وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ، وَجَهَرَ بِالْقِرَاءَةِ»
رقم طبعة با وزير = (2839)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় সূর্য গ্রহণ হলে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে চার রুকূ‘ ও চার সাজদার মাধ্যমে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তিনি এই সালাতে জোরে কিরা‘আত পাঠ করেন।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৪৬৯; সহীহ মুসলিম: ৯১৩; আবূ দাঊদ: ১১৯৫; হাকিম: ১/৩২৯; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৬১; নাসাঈ: ৩/১২৪-১২৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৮০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
2851 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ الْعَبْدِيِّ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ عَبَّادٍ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ: «صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكُسُوفِ لَا نَسْمَعُ لَهُ صَوْتًا»
رقم طبعة با وزير = (2840)
সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সূর্য গ্রহণের সালাত আদায় করেন। আমরা তাঁর কোন আওয়াজ শুনতে পাইনি।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৯; ইবনু মাজাহ: ১২৬৪; নাসাঈ: ৩/১৪৮; তাবারানী: ৭/৬৭৯৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (মিশকাত: ১৪৯০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - وهو مختصر الآتي بعده - «المشكاة» (1490).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف