হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (3012)


3012 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، عَنْ مَعْبَدِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ بْنِ رِبْعِيٍّ، أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مُرَّ عَلَيْهِ بِجِنَازَةٍ فَقَالَ: «مُسْتَرِيحٌ وَمُسْتَرَاحٌ مِنْهُ» فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنِ الْمُسْتَرِيحُ وَالْمُسْتَرَاحُ مِنْهُ؟ فَقَالَ: «الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ يَسْتَرِيحُ مِنْ نَصَبِ الدُّنْيَا وَأَذَاهَا إِلَى رَحْمَةِ اللَّهِ، وَالْمُسْتَرَاحُ مِنْهُ الْعَبْدُ الْفَاجِرُ يَسْتَرِيحُ مِنْهُ الْعِبَادُ وَالْبِلَادُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ»
رقم طبعة با وزير = (3001)




আবূ কাতাদা বিন রিবঈ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশ দিয়ে একটি জানাযা অতিক্রম করলে তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিজে স্বস্তি লাভকারী, অথবা তার থেকে অন্যরা স্বস্তি লাভকারী।” সাহাবীগণ বলেন, “নিজে স্বস্তি লাভকারী, অথবা তার থেকে অন্যরা স্বস্তি লাভকারী” কারা?” তখন তিনি বলেন, “মুমিন বান্দা দুনিয়ার সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ও বালা-মুসিবত থেকে স্বস্তি পেয়ে আল্লাহর রহমতের দিকে যায়, আর কাফির ব্যক্তি (তার অনিষ্ট) থেকে আল্লাহর বান্দাগণ, শহর-নগর, বৃক্ষরাজি, ও প্রাণীকুল স্বস্তি পায়।”[1]



[1] নাসাঈ: ৪/৪৮-৪৯; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২৪১; সহীহুল বুখারী: ৬৫১২; সহীহ মুসলিম: ৯৫০; ‍সুনান বাইহাকী: ৩/৩৭৯; বাগাবী: ১৪৫৩; মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৯৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৭১০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - وهو مكرر (2996). تنبيه!! رقم (2996) = (3007) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3013)


3013 - (1) أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ حَضَرَتْهُ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ، فَإِذَا قُبِضَتْ نَفْسُهُ جُعِلَتْ فِي حَرِيرَةٍ بَيْضَاءَ، فَيُنْطَلَقُ بِهَا إِلَى بَابِ السَّمَاءِ، فَيَقُولُونَ: مَا وَجَدْنَا رِيحًا أَطْيَبَ مِنْ هَذِهِ، فَيُقَالَ: دَعُوهُ يَسْتَرِيحُ، فَإِنَّهُ كَانَ فِي غَمٍّ، فَيُسْأَلُ مَا فَعَلَ فُلَانٌ؟ مَا فَعَلَ فُلَانٌ؟ مَا فَعَلَتْ فُلَانَةُ؟. وَأَمَّا الْكَافِرُ فَإِذَا قُبِضَتْ نَفْسُهُ وَذُهِبَ بِهَا إِلَى بَابِ الْأَرْضِ يَقُولُ خَزَنَةُ الْأَرْضِ: مَا وَجَدْنَا رِيحًا أَنْتَنَ مِنْ هَذِهِ، فَتَبْلُغُ بِهَا إِلَى الْأَرْضِ السُّفْلَى»
رقم طبعة با وزير = (3002)


3013 - (2) قَالَ قَتَادَةَ: وَحَدَّثَنِي رَجُلٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: «أَرْوَاحُ الْمُؤْمِنِينَ تُجْمَعُ بِالْجَابِيَتِيْنِ، وَأَرْوَاحُ الْكُفَّارِ تُجْمَعُ بِبُرْهُوتَ: سَبِخَةٌ بِحَضْرَمَوْتَ.
رقم طبعة با وزير = (3002) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: هَذَا الْخَبَرُ رَوَاهُ مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ قَسَامَةَ بْنِ زُهَيْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، نَحْوَهُ مَرْفُوعًا. الْجَابِيَتَانِ بِالْيَمَنِ، وَبُرْهُوتَ مِنْ نَاحِيَةِ الْيَمَنِ




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুমিন ব্যক্তির কাছে যখন মৃত্যু উপনিত হয়, তখন তার কাছে রহমতের ফেরেস্তাগণ আসেন, যখন তার রূহ কবয করা হয়, তখন তা সাদা রেশমের কাপড়ে রাখা হয়। অতঃপর তাকে আসমানের দরজার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন তারা বলেন, “এর চেয়ে অধিক সুঘ্রাণ আমরা ইতিপূর্বে পাইনি। তখন বলা হবে, “তোমরা তাকে ছেড়ে দাও, তিনি বিশ্রাম নিবেন। কেননা তিনি (দুনিয়াতে) দুঃখ-কষ্ট-দুশ্চিন্তায় ছিলেন। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, “ওমুক কী আমল করেছে? ওমুক কী আমল করেছে? ওমুক নারী কী আমল করেছে?” আর কাফির ব্যক্তির রূহ যখন কবয করা হয়, এবং সেটা জমিনের দরজার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন জমিনের রক্ষী ফেরেস্তাগণ বলেন, “এর চেয়ে অধিক দুর্গন্ধ আমরা কখনই পাইনি। তারপর সেটাকে সবচেয়ে নিম্নভূমিতে নিয়ে যাওয়া হয়।”[1] কাতাদা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমাকে এক ব্যক্তি সা‘ঈদ বিন মুসাইয়্যিবের মাধ্যমে আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, “মুমিনদের রূহগুলো জাবিয়াতাইনে একত্রিত করা হয় আর কাফেরদের রূহগুলো বুরহুতে জমা করা হয়। এটা হলো হাযারামাউতের জলাভূতিতে অবস্থিত।”[2] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি মু‘আয বিন হিশাম, তার বাবা থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি কাসামাহ বিন যুহাইর থেকে তিনি আবূ হুরাইরা থেকে অনুরুপ মারফূ‘ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। জাবিয়াতান হলো ইয়ামিনে আর বুরহুত ইয়ামানের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত।”



[1] হাকিম: ১/৩৫৩; নাসাঈ: ৪/৮-৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৪/১৮৭)



[2] শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩০০২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: (1) صحيح - «التعليق الرغيب» (4/ 187). <br> (2) ضعيف.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: (1) إسناد صحيح على شرط الشيخين <br> (2) Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (3014)


3014 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ قَسَامَةَ بْنِ زُهَيْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا قُبِضَ أَتَتْهُ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ بِحَرِيرَةٍ بَيْضَاءَ، فَتَقُولُ: اخْرُجِي إِلَى رَوْحِ اللَّهِ، فَتَخْرُجُ كَأَطْيَبِ رِيحِ مِسْكٍ حَتَّى إِنَّهُمْ لِيُنَاوِلُهُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا [ص:285] يَشُمُّونَهُ، حَتَّى يَأْتُونَ بِهِ بَابَ السَّمَاءِ، فَيَقُولُونَ: مَا هَذِهِ الرِّيحُ الطَّيِّبَةُ الَّتِي جَاءَتْ مِنَ الْأَرْضِ؟ وَلَا يَأْتُونَ سَمَاءً إِلَّا قَالُوا مِثْلَ ذَلِكَ، حَتَّى يَأْتُونَ بِهِ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ فَلَهُمْ أَشَدُّ فَرَحًا بِهِ مِنْ أَهْلِ الْغَائِبِ بِغَائِبِهِمْ، فَيَقُولُونَ: مَا فَعَلَ فُلَانٌ؟ فَيَقُولُونَ: دَعُوهُ حَتَّى يَسْتَرِيحَ، فَإِنَّهُ كَانَ فِي غَمِّ الدُّنْيَا، فَيَقُولُ: قَدْ مَاتَ، أَمَا أَمَاتَكُمْ؟ فَيَقُولُونَ: ذُهِبَ بِهِ إِلَى أُمِّهِ الْهَاوِيَةِ، وَأَمَّا الْكَافِرُ فَيَأْتِيهُ مَلَائِكَةُ الْعَذَابِ بِمُسْحٍ، فَيَقُولُونَ: اخْرُجِي إِلَى غَضِبِ اللَّهِ، فَتَخْرُجُ كَأَنْتَنِ رِيحِ جِيفَةٍ فَتَذْهَبُ بِهِ إِلَى بَابِ الْأَرْضِ»
رقم طبعة با وزير = (3003)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুমিন ব্যক্তির রূহ কবয করা হয়, তখন তার কাছে রহমতের ফেরেস্তাগণ সাদা রেশমের কাপড় নিয়ে আসেন, তারা বলেন, “আল্লাহর রহমতের দিকে বেরিয়ে আসুন।” অতঃপর সেটি মিশকে আম্বরের চেয়েও বেশি সুঘ্রাণময় হয়ে বের হয়। তারা সেই রূহ এক থেকে আরেকজন গ্রহণ করেন। তারা তার ঘ্রাণ গ্রহণ করেন। এভাবে আসমানের দরজার কাছে আসেন। অতঃপর তারা (আসমানের ফেরেস্তাগণ) বলেন, “এই পবিত্র ঘ্রাণটা কিসের, যা জমিন থেকে এসেছে?” ফেরেস্তাগণ তাকে যেই আসমানেই নিয়ে যাবে, সেখানকার ফেরেস্তাগণ অনুরুপ প্রশ্ন করবেন। অতঃপর মুমিনদের রূহের কাছে আসবেন। দুনিয়াতে প্রবাসী ব্যক্তি আপনজনের কাছে আসলে যে খুশি হন, তারা (মুমিনদের রূহগুলো) তার চেয়ে বেশি খুশি হবেন। তারা জিজ্ঞেস করবেন, “ওমুক কী আমল করেছে?” তারা বলবেন, “তোমরা তাকে ছেড়ে দাও, তিনি বিশ্রাম নিবেন। কেননা তিনি দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট-দুশ্চিন্তায় ছিলেন।” তিনি জবাব দিবেন, “সে তো মারা গেছে। সে কি আপনাদের কাছে আসেনি?” তারা জবাব দিবেন, “তাকে তার মা হাবিয়া জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” আর কাফির ব্যক্তির কাছে আযাবের ফেরেস্তাগণ ত্যানা-নেকড়েসহ আসেন। তারা বলেন, “তুমি আল্লাহর গযবের দিকে আসো।” তখন সেটি লাশের চেয়ে দুর্গন্ধময় হয়ে বের হয়। অতঃপর তারা তাকে নিয়ে জমিনের দরজার দিকে নিয়ে যায়।”[1]



[1] হাকিম: ১/৩৫৩; নাসাঈ: ৪/৮-৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৩০৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1309).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3015)


3015 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، [ص:286] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ وَلَا يَدْعُو بِهِ قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَهُ، إِنَّهُ إِذَا مَاتَ انْقَطَعَ عَمَلُهُ، وَإِنَّهُ لَا يَزِيدُ الْمُؤْمِنَ عُمُرُهُ إِلَّا خَيْرًا»
رقم طبعة با وزير = (3004)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মৃত্যুর সময় আসার আগে তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই মৃত্যু কামনা না করে এবং মৃত্যুর জন্য দু‘আ না করে। নিশ্চয়ই যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। নিশ্চয়ই বয়স মুমিন ব্যক্তির কল্যাণ কেবল বৃদ্ধিই করে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩১৬; সহীহ মুসলিম: ২৬৮২; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৭৭; বাগাবী: ১৪৪৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২৭২১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2721): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3016)


3016 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هَاجِكٍ الْهَرَوِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ: صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ»
رقم طبعة با وزير = (3005)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কোন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি আমল ব্যতীত। (১) সাদাকায়ে জারিয়া, (২) এমন ইলম, যা দ্বারা উপকার সাধিত হয় এবং (৩) সৎ সন্তান, যে তার জন্য তার দু‘আ করে।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ১৬৩১; তিরমিযী: ১৩৭৬; নাসাঈ: ৬/২৫১; বাগাবী: ১৩৯; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৭২; ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদ: ৩৮; তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ২৪৬; সুনান বাইহাকী: ৬/২৭৮; আবূ দাঊদ: ৩৮৮০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২৫৬৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2564): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3017)


3017 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُلَيَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَبَى عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَدِمَ الطُّفَيْلُ بْنُ عَمْرٍو الدَّوْسِيُّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَكَّةَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلُمَّ إِلَى حِصْنٍ وَعَدَدٍ وَعِدَّةٍ، قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ: حِصْنٌ فِي رَأْسِ الْجَبَلِ لَا يُؤْتَى إِلَّا فِي مِثْلِ الشِّرَاكِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَعَكَ مَنْ وَرَاءَكَ؟ » قَالَ: لَا أَدْرِي فَأَعْرَضَ عَنْهُ، فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ، قَدِمَ الطُّفَيْلُ بْنُ عَمْرٍو مُهَاجِرًا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَعَهُ رَجُلٌ مِنْ رَهْطِهِ، فَحُمَّ ذَلِكَ الرَّجُلُ حِمَّى [ص:288] شَدِيدَةً، فَجَزِعَ، فَأَخَذَ شَفْرَةً، فَقَطَعَ بِهَا رَوَاجِبَهُ فَتَشَخَّبَتْ حَتَّى مَاتَ، فَدُفِنَ، ثُمَّ إِنَّهُ جَاءَ فِيمَا يَرَى النَّائِمُ مِنَ اللَّيْلِ إِلَى الطُّفَيْلِ بْنِ عَمْرٍو فِي شَارَةٍ حَسَنَةٍ وَهُوَ مُخَمِّرٌ يَدَهُ، فَقَالَ لَهُ الطُّفَيْلُ: أَفُلَانٌ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: كَيْفَ فَعَلْتَ؟ قَالَ: صَنَعَ بِي رَبِّي خَيْرًا، غَفَرَ لِي بِهِجْرَتِي إِلَى نَبِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَمَا فَعَلَتْ يَدَاكَ؟ قَالَ: قَالَ لِي رَبِّي: لَنْ نُصْلِحَ مِنْكَ مَا أَفْسَدْتَ مِنْ نَفْسِكَ قَالَ: فَقَصَّ الطُّفَيْلُ رُؤْيَاهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ: «اللَّهُمَّ وَلِيَدَيْهِ فَاغْفِرْ، اللَّهُمَّ وَلِيَدَيْهِ فَاغْفِرْ، اللَّهُمَّ وَلِيَدَيْهِ فَاغْفِرْ»
رقم طبعة با وزير = (3006)




জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “তুফাইল বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মক্কায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি দুর্গের দিকে আসুন, এখানে অস্ত্র-সস্ত্রসহ যথেষ্ট লোকবল রয়েছে।” আবুয যুবাইর বলেন, “দুর্গটি পাহাড়ের চূড়ায় ছিল, যেখানে খুবই কষ্ট করে পৌঁছা সম্ভব।” অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যারা তোমার পিছনে রয়েছে, তারা কি তোমার সাথের লোক?” জবাবে তিনি বলেন, “আমি জানি না।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন তুফাইল বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার গোত্রের একজন লোকসহ হিজরত করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসেন। এখানে এসে সেই ব্যক্তি প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। অতঃপর সে অস্থির হয়ে যায়। ফলে সে একটি ছুরি হাতে নেয় এবং তার রগ কেটে ফেলে। এতে তার রক্তক্ষরণ হয় এবং মারা যায়। তারপর রাতে স্বপ্নে সেই ব্যক্তি তুফাইল বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে সুন্দর অলঙ্কার-বেশভূষা নিয়ে আসেন, এসময় তিনি তার হাতকে ঢেকে রেখেছিলেন, তখন তুফাইল বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তুমি কি ওমুক?” সে জবাব দিল, “হ্যাঁ।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কী ব্যাপার তোমার?” সে জবাবে বলেন, “আমার প্রভু আমার সাথে উত্তম আচরণ করেছেন। আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে হিজরত করার কারণে মহান আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।” তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন, “তোমার হাতের কী খবর?” সে জবাবে বলেন, “আমার প্রভু বলেছেন, “তুমি নিজে যা নষ্ট করেছো, তা আমি ঠিক করে দিবো না।” তারপর তুফাইল বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু স্বপ্নের ব্যাপারটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বর্ণনা করলে তিনি দুই হাত উঠিয়ে দু‘আ করেন, اللَّهُمَّ وَلِيَدَيْهِ فَاغْفِرْ اللَّهُمَّ وَلِيَدَيْهِ فَاغْفِرْ اللَّهُمَّ وَلِيَدَيْهِ فاغفر (হে আল্লাহ, আপনি তার ‍দুই হাতকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ, আপনি তার ‍দুই হাতকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ, আপনি তার ‍দুই হাতকে ক্ষমা করে দিন)।”[1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা: ২১৭৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৭০; সহীহ মুসলিম: ১১৬; ‍সুনান বাইহাকী: ৮/১৭; হাকিম: ৪/৭৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির রাবীদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফ আদাবুল মুফরাদ: ৯৫-৯৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «مختصر مسلم» (ص 35)، «ضعيف الأدب المفرد» (95 و 96).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات









সহীহ ইবনু হিব্বান (3018)


3018 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ الْكَلَاعِيُّ، بِحِمْصَ، [ص:289] قَالَ: حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمَذْحِجِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا مَاتَ صَاحِبُكُمْ فَدَعُوهُ»
رقم طبعة با وزير = (3007)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের সঙ্গী মারা যাবে, তখন তোমরা তাকে ছেড়ে দিবে (অর্থাৎ তার সমালোচনা করবে না) ।”[1]



[1] তিরমিযী: ৩৮৯৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৮৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (285).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3019)


3019 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ هَاشِمٍ، وَوَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا مَاتَ صَاحِبُكُمْ فَدَعُوهُ»
رقم طبعة با وزير = (3008)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের সঙ্গী মারা যাবে, তখন তোমরা তাকে ছেড়ে দিবে (অর্থাৎ তার সমালোচনা করবে না) ।”[1]



[1] তিরমিযী: ৩৮৯৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৮৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مكرر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده من طريق وكيع على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3020)


3020 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اذْكُرُوا مَحَاسِنَ مَوْتَاكُمْ وَكُفُّوا عَنْ مَسَاوِئِهِمْ»
رقم طبعة با وزير = (3009)




আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা তোমাদের মৃতদের ভালো বিষয়গুলো আলোচনা করো আর মন্দ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকো।”[1]



[1] আবূ দাঊদ: ৪৯০০; তিরমিযী: ১-১৯; তাবারানী আল কাবীর: ১২/১৩৫৯৯; তাবারানী আস সগীর: ৪৬১; হাকিম: ১/৩৮৫; সুনান বাইহাকী: ৪/৭৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (মিশকাত: ১৬৭৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «المشكاة» (1678)، «الروض» (485).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (3021)


3021 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ [ص:291] عُمَرَ بْنِ أَبَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْثَرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةَ: مَا فَعَلَ يَزِيدُ بْنُ قَيْسٍ عَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ؟ قَالُوا: قَدْ مَاتَ. قَالَتْ: فَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، فَقَالُوا لَهَا: مَا لَكَ لَعَنْتِيهِ، ثُمَّ قُلْتِ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ؟ قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ، فَإِنَّهُمْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا».
رقم طبعة با وزير = (3010) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «مَاتَتْ عَائِشَةُ سَنَةَ سَبْعٍ وَخَمْسِينَ، وَوُلِدَ مُجَاهِدٌ سَنَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ فِي خِلَافَةِ عُمَرَ، فَدَلَكَ هَذَا عَلَى أَنَّ مَنْ زَعَمَ أَنَّ مُجَاهِدًا لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عَائِشَةَ كَانَ وَاهِمًا فِي قَوْلِهِ ذَلِكَ»




মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “ইয়াযিদ বিন কাইস কী করলো? তারপর উপর আল্লাহর লা‘নত বর্ষিত হোক!” লোকজন বললো, “সে মারা গিয়েছে।” তখন আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।” লোকজন তাঁকে বললো, “কী ব্যাপার, আপনি তার প্রতি লা‘নত করলেন, তারপর আবার বললেন, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি?” জবাবে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা মৃতদের গালি দিবে না। কেননা তারা যা আগে পাঠিয়েছে, সেদিকে তারা চলে গিয়েছে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ৫৭ হিজরীতে মারা যান আর মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে ২১ হিজরীতে জন্ম গ্রহণ করেন। কাজেই যে ব্যক্তি মনে করে যে, মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে হাদীস শ্রবণ করেননি, তিনি তার এই কথায় ভ্রমের মধ্যে রয়েছেন।”



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৮০; দারেমী: ২/২৩৯; সহীহুল বুখারী: ১৩৯৩; নাসাঈ: ৪/৫৩; মুসনাদ আশ শিহাব: ৯২৩; সুনান বাইহাকী: ৪/৭৫; বাগাবী: ১৫০৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আর রওযুন নাযীর: ১/৪৩৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الروض النضير» (1/ 437): خ المرفوع فقط.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3022)


3022 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْمُلَائِيُّ، وَأَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ فَتُؤْذُوا الْأَحْيَاءَ»
رقم طبعة با وزير = (3011)




মুগীরা বিন শু‘বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা মৃত ব্যক্তিদের গালী দিয়ো না। তাহলে তোমরা (এর মাধ্যমে) জীবিত ব্যক্তিদের কষ্ট দিবে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৫২; তাবারানী: ২০/১০১৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৩৯৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2397).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3023)


3023 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: مَرُّوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِجِنَازَةٍ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا شَرًّا، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَجَبَتْ»، وَمَرُّوا بِأُخْرَى، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَجَبَتْ»، فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا وَجَبَتْ؟ قَالَ: «مَرُّوا بِتِلْكَ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا شَرًّا، فَوَجَبَتِ النَّارُ، [ص:293] وَمَرُّوا بِهَذِهِ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا فَوَجَبَتِ الْجَنَّةُ، وَأَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ»
رقم طبعة با وزير = (3012)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “লোকজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যায়, তখন লোকজন তার সম্পর্কে মন্দ বলে। তাদের কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” অতঃপর লোকজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে আরেকটি জানাযা নিয়ে যায়, তখন লোকজন তার সম্পর্কে ভালো বলে। তাদের কথা শুনে বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কী অবধারিত হয়ে গেলো?” জবাবে তিনি বলেন, “ঐ জানাযা গমন করলে তারা তার সম্পর্কে মন্দ বলে, ফলে তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে যায় আর এই জানাযা গমন করলে তারা তার সম্পর্কে ভালো বলে, ফলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। আর তোমরা হলে জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।”[1]



[1] আত তায়ালিসী: ২০৬২; বাগাবী, মুসনাদু ইবনুল জা‘দ: ১৪৮৯; সহীহুল বুখারী: ১৩৬৭; সুনান বাইহাকী: ৪/৭৪-৭৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৭৯; তিরমিযী: ১০৫৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৬০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحكام الجنائز» (60): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3024)


3024 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مُرَّ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِجِنَازَةٍ فَأُثْنِيَّ عَلَيْهَا خَيْرًا مِنْ مَنَاقِبِ الْخَيْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: [ص:294] وَجَبَتْ أَنْتُمْ شُهُودُ اللهِ فِي الأَرْضِ.
رقم طبعة با وزير = (3013)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলে লোকজন তার ভালো প্রশংসা করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো। তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৫২৮; ইবনু মাজাহ: ১৪৯২; মিসবাহুয যুজাজাহ: ১/৪৮৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৬০ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «الأحكام» (ص 60).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3025)


3025 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حِسَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ مُرَّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِجِنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا خَيْرًا فَقَالَ صلى الله عليه وسلم وَجَبَتْ، ثُمَّ مُرَّ عَلَيْهِ بِجِنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا شَرًّا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَجَبَتْ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ قُلْتَ لِهَذَا وَجَبَتْ وَقُلْتَ لِهَذَا وَجَبَتْ فَقَالَ شَهَادَةُ الْقَوْمِ وَالْمُؤْمِنُونَ شُهَدَاءُ اللهِ فِي الأَرْضِ.
رقم طبعة با وزير = (3014)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলে লোকজন তার ভালো প্রশংসা করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” তারপর তাঁর পাশ দিয়ে আরেকটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলে লোকজন তার সম্পর্কে মন্দ কথা বলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” তখন বলা হলো, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি এই জানাযার ক্ষেত্রেও বললেন, “অবধারিত হয়ে গেলো” আবার ঐ জানাযার ক্ষেত্রেও বললেন, “অবধারিত হয়ে গেলো”? জবাবে তিনি বলেন, “লোকদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে (তাদের জন্য জান্নাত ও জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেছে)। মুমিনগণ জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৮৬৫; সহীহুল বুখারী: ২৬৪২; সহীহ মুসলিম: ৯৪৯; ইবনু মাজাহ: ১৪৯১; সুনান বাইহাকী: ১০/২০৯; বাগাবী: ১৫০৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৬০ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (ص 60): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3026)


3026 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ الْوَكِيعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فَيَشْهَدُ لَهُ أَرْبَعَةُ أَهْلِ أَبْيَاتٍ مِنْ جِيرَتِهِ الْأَدْنَيْنَ أَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ إِلَّا خَيْرًا إِلَّا قَالَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا: قَدْ قَبِلْتُ عِلْمَكُمْ فِيهِ، وَغَفَرْتُ لَهُ مَا لَا تَعْلَمُونَ»
رقم طبعة با وزير = (3015)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে কোন মুসলিম ব্যক্তি মারা যায়, অতঃপর তার ব্যাপারে তার নিকটতম চার পরিবারের লোকজন সাক্ষ্য দেন যে, তারা তার ব্যাপারে ভালো ছাড়া অন্য কিছু জানেন না, তবে মহান আল্লাহ বলেন, “তার ব্যাপারে তোমাদের যে ইলম, তা আমি গ্রহণ করলাম। আর তোমরা যা জানো না, তা আমি ক্ষমা করে দিলাম।”[1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা: ৩৪৮১; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৪২; হাকিম: ১/৩৭৮; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৩/৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সমার্থক হাদীস থাকার কারণে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحكام الجنائز».




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح بشواهده









সহীহ ইবনু হিব্বান (3027)


3027 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ: مَاتَ رَجُلٌ فَمَرُّوا بِجَنَازَتِهِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا شَرًّا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَجَبَتْ»، وَمَرُّوا بِأُخْرَى، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَجَبَتْ» فَسَأَلَهُ عُمَرُ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: «أَنْتُمْ شُهُودُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ»
رقم طبعة با وزير = (3016)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি মারা যায়, অতঃপর লোকজন তার জানাযা নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে লোকজন তার সম্পর্কে মন্দ কথা বলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” তারপর তাঁর পাশ দিয়ে আরেকটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলে লোকজন তার সম্পর্কে ভালো কথা বলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৮৬৫; সহীহুল বুখারী: ২৬৪২; সহীহ মুসলিম: ৯৪৯; ইবনু মাজাহ: ১৪৯১; সুনান বাইহাকী: ১০/২০৯; বাগাবী: ১৫০৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৬০ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» - أيضا -: ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (3028)


3028 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الطَّالَقَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي الْفُرَاتِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ الدِّيلِيِّ، قَالَ: أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ وَقَدْ وَقَعَ بِهَا مَرَضٌ، فَهُمْ يَمُوتُونَ مَوْتًا ذَرِيعًا، فَجَلَسْتُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَمَرَّتْ بِهِ جَنَازَةٌ، فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبِهَا خَيْرًا، فَقَالَ عُمَرُ: وَجَبَتْ، ثُمَّ مُرَّ بِأُخْرَى فَأُثْنِيَ عَلَى صَاحِبُهَا شَرًّا، فَقَالَ عُمَرُ: وَجَبَتْ، قَالَ أَبُو الْأَسْوَدِ: وَمَا وَجَبَتْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ: كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّمَا مُسْلِمٍ يَشْهَدُ لَهُ أَرْبَعَةٌ بِخَيْرٍ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ» قَالَ: قُلْنَا: وَثَلَاثَةٌ قَالَ: «وَثَلَاثَةٌ» قَالَ: فَقُلْنَا: وَاثْنَانِ قَالَ: «وَاثْنَانِ»، وَلَمْ نَسْأَلَهُ عَنِ الْوَاحِدِ
رقم طبعة با وزير = (3017)




আবুল আসওয়াদ আদ দিলী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি একবার মদীনায় আসি এমন অবস্থায় যে, তখন সেসময় এক মরণ ব্যধির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। ফলে লোকজন দ্রুত মারা যাচ্ছিল। আমি উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পাশে বসলাম। অতঃপর তার আনহু পাশ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলে লোকজন তার ভালো প্রশংসা করেন। তখন উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” তারপর তাঁর পাশ দিয়ে আরেকটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলে লোকজন তার সম্পর্কে মন্দ কথা বলেন। তখন উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও বলেন, “অবধারিত হয়ে গেলো।” আবুল আসওয়াদ বলেন, “হে আমীরুল মুমিনীন, কী অবধারিত হয়ে গেলো?” জবাবে তিনি বলেন, “বিষয়টি তেমনিই, যেমনটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনি বলেছেন, “কোন মুসলিম ব্যক্তির পক্ষে চারজন ব্যক্তি ভালো সাক্ষ্য দিলে, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তখন আমরা বললাম, “আর তিনজন (ভালো সাক্ষ্যি দিলে)?” জবাবে তিনি বলেন, “তিনজন সাক্ষ্যি দিলেও (মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন)।” উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমরা বললাম, “আর দুইজন (ভালো সাক্ষ্যি দিলে)?” জবাবে তিনি বলেন, “দুইজন সাক্ষ্যি দিলেও।” আর আমরা তাঁকে একজন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/৩০; নাসাঈ: ৪/৫০-৫১; সহীহুল বুখারী: ১৩৬৮; তিরমিযী: ১০৫৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৬১ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحكام الجنائز» (61): خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3029)


3029 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَائِشَةَ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ قَبَّلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مَيِّتٌ.
رقم طبعة با وزير = (3018)




আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস ও আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মৃত অবস্থায় চুম্বন করেছেন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪৪; সহীহুল বুখারী: ৪৪৫৫; নাসাঈ: ৪/১১; ইবনু মাজাহ: ১৪৫৭; বাগাবী: ১৪৭১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৩১ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحكام الجنائز» (ص 13): خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3030)


3030 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ *، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَخِي، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَتِيقٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ الْمَسْجِدَ وَعُمَرُ يُكَلِّمُ النَّاسَ حِينَ دَخَلَ بَيْتَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، وَهُوَ بَيْتُ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَشَفَ عَنْ وَجْهِهِ بُرْدَ حِبَرَةٍ كَانَ مُسَجًّى بِهِ، فَنَظَرَ إِلَى وَجْهِهِ، ثُمَّ أَكَبَّ عَلَيْهِ، فَقَبَّلَهُ، وَقَالَ: «بِأَبِي أَنْتَ، فَوَاللَّهِ لَا يَجْمَعُ اللَّهُ عَلَيْكَ مَوْتَتَيْنِ، لَقَدْ مِتَّ الْمُوتَةَ الَّتِي لَا تَمُوتُ بَعْدَهَا»
رقم طبعة با وزير = (3019)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মাসজিদে প্রবেশ করেন, এসময় উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের সাথে কথা-বার্তা বলছিলেন। আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই ঘরে প্রবেশ করেন, যে ঘরে তাঁর ওফাত হয়েছে, সেটা হলো আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার ঘর। অতঃপর আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর চেহারা উন্মুক্ত করলেন, এসময় তাঁর চেহারা হেবরায় তৈরি চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল। তিনি তাঁর চেহারার দিকে তাকালেন তারপর তিনি তাঁর প্রতি ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁকে চুম্বন করলেন। অতঃপর তিনি বলেন, “আপনার জন্য আমার বাবা কুরবান হোক। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে দুইবার মৃত্যু দিবেন না। অবশ্যই আপনি সেই মৃত্যুই বরণ করেছেন, যার পর আপনি আর মৃত্যু বরণ করবেন না।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/৩৩৪; সহীহুল বুখারী: ১২৪১; নাসাঈ: ৪/১১; সুনান বাইহাকী: ৩/৪০৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩০১৯ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - انظر التعليق. * [إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ] قال الشيخ: هذا مع كونِه من رجال الشيخين، ففيه كلامٌ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ. وأخوه اسمه: عبد الحميد، أبو بكر بنُ عبد الله بن أبي أويسٍ، ثقة من رجالهما. ومحمد بن أبي عتيق نُسِبَ إِلَى جَدَّهِ، واسمُ أَبِيهِ: عبد الله، وهو ثقة؛ خلافاً للحافظ. وسائرُ الرجال ثقات رجال الشيخين؛ فالإسنادُ حسنٌ. وهو صحيحٌ، فقد تُوبِع إسماعيل فَقَالَ ابنُ سعد (2/ 268): أخبرنا أبو بكر بن عبد الله بن أبي أويس به. وهذا إسناد صحيح. ثُمَّ روى له شاهدا من حديث عائشة نحوه: رواه البخاري وغيره، وهو مخرَّجٌ في «أحكام الجنائز» (20 - 21).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3031)


3031 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ قُطْبَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا جَمَّرْتُمُ الْمَيِّتَ فَأَوْتِرُوا»
رقم طبعة با وزير = (3020)




জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা মৃত ব্যক্তিকে কঙ্করময় মাটি দিবে, তখন তোমরা বেজোড় সংখ্যায় মাটি দিবে।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২৬৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৩১; হাকিম: ১/৩৩৫; সুনান বাইহাকী: ৩/৪০৫; বাযযার: ৮১৩; মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/২৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৮৪ পৃষ্ঠা)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (84).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم