সহীহ ইবনু হিব্বান
3101 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، وَأَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، نَعَى النَّجَاشِيَّ يَوْمَ تُوُفِّيَ، وَقَالَ: «اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ» ثُمَّ خَرَجَ بِالنَّاسِ إِلَى الْمُصَلَّى، فَصَفُّوا وَرَاءَهُ، وَكَبَّرَ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ
رقم طبعة با وزير = (3091)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাদশা নাজশীর মৃত্যু সংবাদ প্রচার করেন, যেদিন তিনি মারা গিয়েছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। তারপর তিনি সাহাবীদের নিয়ে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হন এবং তাদেরকে কাতারবন্দি করে চার তাকবীরে জানাযার সালাত আদায় করেন।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২২৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৩৮; সহীহুল বুখারী: ১৩৪৫; সহীহ মুসলিম: ৯৫১; আবূ দাঊদ: ৩২০৪; নাসাঈ: ৪/৭২; বাগাবী: ১৪৮৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ১১৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله. تنبيه!! قول الشيخ: انظر ما قبله أي الحديث رقم (3090) الموافق لـ (3098) من طبعة المؤسسة. مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3102 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو قِلَابَةَ، عَنْ عَمِّهِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: «أَنْبَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّ أَخَاكُمْ النَّجَاشِيَّ تُوُفِّيَ، فَقُومُوا فَصَلُّوا عَلَيْهِ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَصَفُّوا خَلْفَهُ، وَكَبَّرَ أَرْبَعًا وَهُمْ لَا يَظُنُّونَ إِلَّا أَنَّ جَنَازَتَهُ بَيْنَ يَدَيْهِ»
رقم طبعة با وزير = (3092)
ইমরান বিন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেন, “তোমাদের ভাই নাজাশী মারা গিয়েছেন। কাজেই তোমরা উঠ এবং তার জানাযার সালাত আদায় করো।” তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ান আর সাহাবীগণ তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে কাতারবন্দি হন। তিনি চার তাকবীরে জানাযার সালাত আদায় করেন। সাহাবীদের এটাই ধারণা ছিল যে, যেন নাজাশীর লাশ তাঁর সামনে আছে।”[1]
[1] তাবারানী: ১৮/৪৮২; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪৩৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৬২; সহীহ মুসলিম: ৯৫৩; সুনান বাইহাকী: ৪/৫০; ইবনু মাজাহ: ১৫৩৫; তিরমিযী: ১০৩৯; নাসাঈ: ৪/৭০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩০৯২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3103 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ الْقُطَيْعِيُّ، قَالَ: حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: «إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، خَطَبَ يَوْمًا، فَذَكَرَ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِهِ كُفِّنَ فِي كَفَنٍ غَيْرِ طَائِلٍ، وَدُفِنَ لَيْلًا فَزَجَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّ يُقْبَرَ الرَّجُلُ لَيْلًا إِلَّا أَنْ يُضْطَرَّ الْإِنْسَانُ إِلَى ذَلِكَ»
رقم طبعة با وزير = (3093)
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ভাষন দেন, তিনি তাঁর এক সাহাবীর কথা স্মরণ করেন, যাকে নাতিদীর্ঘভাবে রাতে দাফন করা হয়েছিল। তখন তিনি একান্ত বাধ্য না হলে কোন ব্যক্তিকে রাতে দাফন করতে নিষেধ করেন।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ৯৪৩; নাসাঈ: ৪/৩৩; ইবনুল জারূদ: ৫৪৬; সুনান বাইহাকী: ৪/৩২; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৯৫; আবূ দাঊদ: ৩১৪৮; হাকিম: ১/৩৬৮-৩৬৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৭৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (77).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
3104 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُكْرَمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «إِذَا تَبِعَ أَحَدُكُمُ الْجَنَازَةَ فَلَا يَجْلِسْ حَتَّى تُوضَعَ»
رقم طبعة با وزير = (3094)
আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ জানাযার অনুসরণ করবে, তখন জানাযা না রাখা পর্যন্ত যেন না বসে।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৩২৭; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৫; আত তায়ালিসী: ২১৯০; সহীহুল বুখারী: ১৩১০; সহীহ মুসলিম: ৯৫৯; তিরমিযী: ১০৪৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩০৮-৩০৯; তাহাবী: ১/৪৮৭; সুনান বাইহাকী: ৪/২৬; নাসাঈ: ৪/৪৪; আবূ দাঊদ: ৩১৭৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৩৯৬৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (3967): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3105 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «إِذَا كَانَ مَعَ الْجَنَازَةِ، لَمْ يَجْلِسْ حَتَّى تُوضَعَ فِي اللَّحْدِ، أَوْ تُدْفَنَ» - شَكَّ أَبُو مُعَاوِيَةَ *-
رقم طبعة با وزير = (3095)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন জানাযার সাথে থাকতেন, তখন তিনি মৃত ব্যক্তিকে বগলী কবরে না রাখা পর্যন্ত অথবা তাকে দাফন না করা পর্যন্ত বসতেন না। আবূ মুআবিয়া সন্দেহের ভিত্তিতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।”[1]
[1] হাকিম: ১/৩৫৬; নাসাঈ: ৪/৪৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩০৯৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر التعليق. * [شَكَّ أَبُو مُعَاوِيَةَ] قال الشيخ: هو الضرير محمد بن حازم. قال الحافظ: «ثقة؛ أحفظُ الناس لحديث الأعمش، وقد يهم في حديث غيره». ورواه الحاكم (1/ 356) من طريق آخر عن أبي معاوية بلفظ: «حتَّى يُرفع أو يُوضَع» وصحَّحه على شرط مسلم، ووافقه الذهبي. لكن خالفه سفيان الثوري؛ فرواه عن سهل به؛ إِلاَّ أَنَّهُ جعله من قوله صلى الله عليه وسلم: «إذا اتَّبَعَ أحدكم جنازة؛ فلا يَجْلِس حَتَّى تُوضَعَ فِي الأرض». أخرجه البيهقي (4/ 26)، وَعَلَّقَةُ أبو داود (3173)، وقال: «وسفيانُ أحفظُ مِنْ أبي مُعَاوية». لكنْ لَهُ أصلٌ مِنْ فِعلِه صلى الله عليه وسلم: أخرجه النسائي (1/ 271) من طريق ابن عجلان، عن سعيد، عن أبي هريرة وأبي سعيد مرفوعا نحوه بلفظ: «حتَّى تُوضَع». وسندُه حسن؛ فله شاهد من حديث عليّ فِي أحكام الجنائز (78).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3106 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ مَعَ [ص:374] الْجَنَازَةِ لَمْ يَجْلِسْ حَتَّى تُوضَعَ فِي اللَّحْدِ، أَوْ حَتَّى تُدْفَنَ» - شَكَّ أَبُو مُعَاوِيَةَ -
رقم طبعة با وزير = (3096)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন জানাযার সাথে থাকতেন, তখন তিনি মৃত ব্যক্তিকে বগলী কবরে না রাখা পর্যন্ত অথবা তাকে দাফন না করা পর্যন্ত বসতেন না। আবূ মুআবিয়া সন্দেহের ভিত্তিতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।”[1]
[1] হাকিম: ১/৩৫৬; নাসাঈ: ৪/৪৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩০৯৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح دون قوله: «في اللحد ... ».
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3107 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجُنَيْدِ بِبُسْتَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَتْبَعُ الْمَيِّتَ ثَلَاثَةٌ، فَيَرْجِعُ اثْنَانِ وَيَبْقَى وَاحِدٌ: يَتْبَعُهُ أَهْلُهُ وَمَالُهُ وَعَمَلُهُ، فَيَرْجِعُ أَهْلُهُ وَمَالُهُ، وَيَبْقَى عَمَلُهُ»
رقم طبعة با وزير = (3097)
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তিনটি জিনিস মৃত ব্যক্তির অনুগামী হয়; দুটি ফিরে যায় আর একটি তার সাথে থেকে যায়। তার অনুগামী হয় তার পরিবার, তার মাল ও তার আমল। অতঃপর তার পরিবার ও সম্পদ ফিরে আসে আর তার আমল তার সাথে থেকে যায়।”[1]
[1] মুসনাদুল হুমাইদী: ১১৮৬; আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, আয যুহদ: ৬৩৬; সহীহুল বুখারী: ৬৫১৪; সহীহ মুসলিম: ২৯৬০; তিরমিযী: ২৩৭৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩০৯৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (3399): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3108 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ الْقَطَّانُ، عَنْ قَتَادَةَ، [ص:375] عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لِابْنِ آدَمَ ثَلَاثَةٌ أَخِلَّاءُ: أَمَّا خَلِيلٌ، فَيَقُولُ: مَا أَنْفَقَتْ فَلَكَ، وَمَا أَمْسَكَتْ فَلَيْسَ لَكَ، فَهَذَا مَالُهُ، وَأَمَّا خَلِيلٌ فَيَقُولُ: أَنَا مَعَكَ فَإِذَا أَتَيْتَ بَابَ الْمَلِكِ تَرَكْتُكَ وَرَجَعْتُ، فَذَلِكَ أَهْلُهُ وَحَشَمُهُ، وَأَمَّا خَلِيلٌ، فَيَقُولُ: أَنَا مَعَكَ حَيْثُ دَخَلْتَ وَحَيْثُ خَرَجْتَ، فَهَذَا عَمَلُهُ، فَيَقُولُ: إِنْ كُنْتَ لَأَهْوَنَ الثَّلَاثَةِ عَلَيَّ»
رقم طبعة با وزير = (3098)
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আদম সন্তানের তিনটি বন্ধু আছে। এক বন্ধু বলে, “যা তুমি খরচ করেছো, তা তোমার, আর যা তুমি ধরে রেখেছো, তা তোমার নয়।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এটা হলো তার সম্পদ।” আরেক বন্ধু বলে, “আমি তোমার সাথে আছি। অতঃপর যখন তুমি তোমার মালিকের দরজায় যাবে, তখন আমি তোমাকে ছেড়ে চলে আসবো।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এরা হলো তার পরিবার-পরিজন।” আর তৃতীয় বন্ধু বলে, “আমি তোমার সাথেই থাকবো, তুমি যেখানেই প্রবেশ করো না কেন অথবা যেখানেই বের হয়ে যাও না কেন?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এটা হলো তার আমল।” তখন সেই ব্যক্তি বলবে, “এই তিনটির মাঝে তুমিই তো আমার কাছে সবচেয়ে বেশি নগণ্য জিনিস হিসেবে বিবেচিত ছিলে!”[1]
[1] আত তায়ালিসী: ২০১৩; হাকিম: ১/৩৭১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৩২৯৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «الصحيحة» (3299).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد حسن
3109 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَحْطَبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا وَضَعَ الْمَيِّتَ فِي [ص:376] الْقَبْرِ قَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى مِلَّةِ رَسُولِ اللَّهِ»
رقم طبعة با وزير = (3099)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখতেন, তখন তিনি বলতেন, بِسْمِ اللَّهِ وعلى ملة رسول الله “অর্থাৎ আল্লাহর নামে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিল্লাতের উপর (তাকে কবরে রাখছি)।”[1]
[1] হাকিম: ১/৩৭১; সুনান বাইহাকী: ৪/৫৫; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৭; আবূদাঊদ: ৩২১৩; তিরমিযী: ১০৪৬; ইবনু মাজাহ: ১৫৫০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ১৯৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (193).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح رجاله ثقات رجال الصحيح
3110 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا وَضَعْتُمْ مَوْتَاكُمْ فِي اللَّحْدِ، فَقُولُوا: بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ».
رقم طبعة با وزير = (3100) [ص:377] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «أَبُو الصِّدِّيقِ بَكْرُ بْنُ قَيْسٍ»
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখতেন, তখন তিনি বলতেন, بِسْمِ اللَّهِ وعلى ملة رسول الله “অর্থাৎ আল্লাহর নামে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিল্লাতের উপর (তাকে কবরে রাখছি)।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসের রাবী আবুস সিদ্দীক হলেন বাকর বিন কাইস।”
[1] হাকিম: ১/৩৭১; সুনান বাইহাকী: ৪/৫৫; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৭; আবূদাঊদ: ৩২১৩; তিরমিযী: ১০৪৬; ইবনু মাজাহ: ১৫৫০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ১৯৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
3111 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ عَلَى سَرِيرِهِ يَقُولُ: قَدِّمُونِي قَدِّمُونِي، وَإِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ عَلَى سَرِيرِهِ يَقُولُ: يَا وَيْلَتِي أَيْنَ تَذْهَبُونَ بِي؟ » - يُرِيدُ: الْمُسْلِمَ وَالْكَافِرَ -.
رقم طبعة با وزير = (3101) [ص:379] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهِ عَنْهُ: رَوَى هَذَا الْخَبَرَ سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ. «» فَالطَّرِيقَانِ جَمِيعًا مَحْفُوظَانِ، وَمَتْنُ خَبَرِ أَبِي سَعِيدٍ أَتَمُّ مِنْ خَبَرِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَدْ ذَكَرْنَاهُ فِي أَوْلِ هَذَا الْبَابِ «»
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাকে যখন খাটিয়ার উপর রাখা হয়, তখন সে বলে, “আমাকে সামনে নিয়ে চলো। আমাকে সামনে নিয়ে চলো।” অপর কিছু লোককে যখন খাটিয়ার উপর রাখা হয়, তখন সে বলে, “হায়! আমার দু্র্ভোগ! তোমরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্বারা মুসলিম ও কাফির ব্যক্তিকে বুঝিয়েছেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি সা‘ঈদ আল মাকবূরী তার বাবার সূত্রে আবূ সাঈদ খুদরী ও আব্দুর রহমান বিন মিহরানের সূত্রে আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। কাজেই দুটো সানাদই মাহফূয বা সহীহ। আর আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের মূল বক্তব্য আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসের মূল অপেক্ষা বেশি পরিপূর্ণ, যা আমরা এই অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করেছি।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৭৪; আত তায়ালিসী: ২৩৩৬; নাসাঈ: ৪/৪০-৪১; সুনান বাইহাকী: ৪/২১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৪৪৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (444).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3112 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ صَفِيَّةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لِلْقَبْرِ ضَغْطَةٌ لَوْ نَجَا مِنْهَا أَحَدٌ، لَنَجَا مِنْهَا سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ»
رقم طبعة با وزير = (3102)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কবরের চাপ রয়েছে। যদি সেখান থেকে পরিত্রাণ পেতো, তবে সা‘দ বিন মু‘আয পরিত্রাণ পেতেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৫৫; বাগাবী: ১৬০১; তাহাবী, শারহু মুশকিলুল আসার: ২৭৪; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/৪৬; ইমাম আহমাদ, আস সুন্নাহ: ১৩৩৭; নাসাঈ: ৪/১০০-১০১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৬৯৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1695).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3113 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرٍو، يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْمَيِّتَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ إِنَّهُ يَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ حِينَ يُوَلُّونَ عَنْهُ، فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا، كَانَتِ الصَّلَاةُ عِنْدَ رَأْسِهِ، وَكَانَ الصِّيَامُ عَنْ يَمِينِهِ، وَكَانَتِ الزَّكَاةُ عَنْ شِمَالِهِ، وَكَانَ فِعْلُ الْخَيْرَاتِ مِنَ الصَّدَقَةِ وَالصِّلَةِ وَالْمَعْرُوفِ وَالْإِحْسَانِ إِلَى النَّاسِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ، فَيُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ، فَتَقُولُ الصَّلَاةُ: مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ، ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ يَمِينِهِ، فَيَقُولُ الصِّيَامُ: مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ، ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ يَسَارِهِ، فَتَقُولُ الزَّكَاةُ: مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ، ثُمَّ يُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ، فَتَقُولُ فَعَلُ الْخَيْرَاتِ مِنَ الصَّدَقَةِ وَالصِّلَةِ وَالْمَعْرُوفِ [ص:381] وَالْإِحْسَانِ إِلَى النَّاسِ: مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ، فَيُقَالُ لَهُ: اجْلِسْ فَيَجْلِسُ، وَقَدْ مُثِّلَتْ لَهُ الشَّمْسُ وَقَدْ أُدْنِيَتْ لِلْغُرُوبِ، فَيُقَالُ لَهُ: أَرَأَيْتَكَ هَذَا الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ فِيكُمْ مَا تَقُولُ فِيهِ، وَمَاذَا تَشَهَّدُ بِهِ عَلَيْهِ؟ فَيَقُولُ: دَعُونِي حَتَّى أُصَلِّيَ، فَيَقُولُونَ: إِنَّكَ سَتَفْعَلُ، أَخْبَرَنِي عَمَّا نَسْأَلُكُ عَنْهُ، أَرَأَيْتَكَ هَذَا الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ فِيكُمْ مَا تَقُولُ فِيهِ، وَمَاذَا تَشَهَّدُ عَلَيْهِ؟ قَالَ: فَيَقُولُ: مُحَمَّدٌ أَشْهَدُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ، وَأَنَّهُ جَاءَ بِالْحَقِّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ، فَيُقَالُ لَهُ: عَلَى ذَلِكَ حَيِيتَ وَعَلَى ذَلِكَ مِتَّ، وَعَلَى ذَلِكَ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا مَقْعَدُكَ مِنْهَا، وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ فِيهَا، فَيَزْدَادُ غِبْطَةً وَسُرُورًا، ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ النَّارِ، فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا مَقْعَدُكَ مِنْهَا وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ فِيهَا لَوْ عَصَيْتَهُ، فَيَزْدَادُ غِبْطَةً وَسُرُورًا، ثُمَّ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا، وَيُنَوَّرُ لَهُ فِيهِ، وَيُعَادُ الْجَسَدُ لِمَا بَدَأَ مِنْهُ، فَتَجْعَلُ نَسْمَتُهُ فِي النَّسَمِ الطِّيِّبِ وَهِيَ طَيْرٌ يَعْلُقُ فِي شَجَرِ الْجَنَّةِ، قَالَ: فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} [إبراهيم: 27] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ» قَالَ: «وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا أُتِيَ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ، لَمْ يُوجَدْ شَيْءٌ، ثُمَّ أُتِيَ عَنْ يَمِينِهِ، فَلَا يُوجَدُ شَيْءٌ، ثُمَّ أُتِيَ عَنْ شِمَالِهِ، فَلَا يُوجَدُ شَيْءٌ، ثُمَّ أُتِيَ مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ، فَلَا يُوجَدُ شَيْءٌ، فَيُقَالُ لَهُ: [ص:382] اجْلِسْ، فَيَجْلِسُ خَائِفًا مَرْعُوبًا، فَيُقَالُ لَهُ: أَرَأَيْتَكَ هَذَا الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ فِيكُمْ مَاذَا تَقُولُ فِيهِ؟ وَمَاذَا تَشَهَّدُ بِهِ عَلَيْهِ؟ فَيَقُولُ: أَيُّ رَجُلٍ؟ فَيُقَالُ: الَّذِي كَانَ فِيكُمْ، فَلَا يَهْتَدِي لِاسْمِهِ حَتَّى يُقَالَ لَهُ: مُحَمَّدٌ، فَيَقُولُ: مَا أَدْرِي، سَمِعْتُ النَّاسَ قَالُوا قَوْلًا، فَقُلْتُ كَمَا قَالَ النَّاسُ، فَيُقَالُ لَهُ: عَلَى ذَلِكَ حَيِيتَ، وَعَلَى ذَلِكَ مِتَّ، وَعَلَى ذَلِكَ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ النَّارِ، فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا مَقْعَدُكَ مِنَ النَّارِ، وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ فِيهَا، فَيَزْدَادُ حَسْرَةً وَثُبُورًا، ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، فَيُقَالُ لَهُ: ذَلِكَ مَقْعَدُكَ مِنَ الْجَنَّةِ، وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ فِيهِ لَوْ أَطَعْتَهُ فَيَزْدَادُ حَسْرَةً وَثُبُورًا، ثُمَّ يُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُهُ، فَتِلْكَ الْمَعِيشَةُ الضَّنْكَةُ الَّتِي قَالَ اللَّهُ: {فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى} [طه: 124]»
رقم طبعة با وزير = (3103)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয়, তখন সে লোকদের ফিরে যাওয়ার সময়ের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। যদি সে মুমিন ব্যক্তি হয়, তবে তার মাথার কাছে সালাত, ডানে সিয়াম, বামে যাকাত আর সাদাকাহ, রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখা, সৎ কাজ ও লোকদের সাথে সদাচারণ প্রভৃতি ভালো আমল তার দুই পায়ের কাছে থাকে। অতঃপর (ফেরেস্তা) তার মাথার দিকদিয়ে আসার চেষ্টা করে, তখন সালাত বলে, “আমার দিক দিয়ে প্রবেশ করার জায়গা নেই।” অতঃপর (ফেরেস্তা) তার ডান দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করে, তখন সিয়াম বলে, “আমার দিক দিয়ে প্রবেশ করার জায়গা নেই।” অতঃপর (ফেরেস্তা) তার বাম দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করে, তখন যাকাত বলে, “আমার দিক দিয়ে প্রবেশ করার জায়গা নেই।” অতঃপর (ফেরেস্তা) তার দুই পায়ের দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করে, তখন সাদাকাহ, রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখা, সৎ কাজ ও লোকদের সাথে সদাচারণ প্রভৃতি ভালো আমল বলে, “আমার দিক দিয়ে প্রবেশ করার জায়গা নেই।” অতঃপর তাকে বলা হবে, ‘তুমি বসো।” অতঃপর সে বসবে। অতঃপর সে দেখতে পাবে যে, সূর্য অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তখন তাকে বলা হবে, “এই ব্যক্তির ব্যাপারে তোমার কী অভিমত, তার ব্যাপারে তুমি কী বলো এবং তার ব্যাপারে তুমি কী সাক্ষ্য দাও?” তখন সে ব্যক্তি বলবে, “তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি সালাত আদায় করবো।” ফেরেস্তাগণ বলবেন, “তুমি অচিরেই তা করবে। আমরা তোমাকে যা প্রশ্ন করেছি, তার জবাব দাও। এই ব্যক্তির ব্যাপারে তোমার কী অভিমত, তার ব্যাপারে তুমি কী বলো এবং তার ব্যাপারে তুমি কী সাক্ষ্য দাও?” তখন সে ব্যক্তি বলবে, “তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রাসূল। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে হক নিয়ে এসেছিলেন।” তখন তাকে বলা হবে, “এর উপরই তুমি বেঁচে ছিলে। এর উপরই তুমি মৃত্যুবরণ করেছিলে। এর উপরই তোমার পুনরুত্থান হবে ইনশাআল্লাহ।” তারপর তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে অতঃপর তাকে বলা হবে, “জান্নাতের এখানে তোমার বাসস্থান, এখানে আল্লাহ যা প্রস্তুত করে রেখেছেন, তা তোমার জন্য। “তখন তার আনন্দ ও ঈর্ষা বেড়ে যাবে। তারপর তার জন্য জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং বলা হবে, জাহান্নামের এখানে তোমার বাসস্থান, এখানে আল্লাহ যা প্রস্তুত করে রেখেছেন, তা তোমার জন্য হতো, যদি তুমি তাঁর নাফরমানি করতে। “তখন তার আনন্দ ও ঈর্ষা আরো বেড়ে যাবে। তারপর তার কবরকে সত্তর গজ প্রশস্ত করা হবে, সেটা আলোকিত করা হবে, তার দেহকে সেই অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে, যে অবস্থায় তাকে প্রথমে সৃষ্টি করা হয়েছিল।তারপর তার আত্নাকে পবিত্র আত্নাদের মাঝে রাখা হবে। এসময় তিনি পাখি হবে এবং জান্নাতের বৃক্ষরাজির সাথে ঝুলে থাকবে।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এটাই হলো আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ। তিনি বলেছেন, يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ (যারা ঈমান আনয়ন করেছে, আল্লাহ তাদেরকে দৃঢ় বাণীর মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে এবং পরকালে সৃদৃঢ় রাখবেন। -সূরা ইবরাহিম: ২৭)।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আর কাফির ব্যক্তির (ফেরেস্তা) তার মাথার দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করবে, কিন্তু সেখানে কোন কিছু পাওয়া যাবে না। অতঃপর (ফেরেস্তা) তার ডান দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করবে, কিন্তু সেখানে কোন কিছু পাওয়া যাবে না। অতঃপর (ফেরেস্তা) তার বাম দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করবে, কিন্তু সেখানে কোন কিছু পাওয়া যাবে না। অতঃপর (ফেরেস্তা) তার দুই পায়ের দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করবে, কিন্তু সেখানে কোন কিছু পাওয়া যাবে না। অতঃপর তাকে বলা হবে, ‘তুমি বসো।” অতঃপর সে ভীত-বিহবল হয়ে বসবে। তখন তাকে বলা হবে, “এই ব্যক্তির ব্যাপারে তোমার কী অভিমত, তার ব্যাপারে তুমি কী বলো এবং তার ব্যাপারে তুমি কী সাক্ষ্য দাও?” তখন সে ব্যক্তি বলবে, “কোন ব্যক্তি?” তখন বলা হবে, “যিনি তোমাদের মাঝে ছিলেন।” অতঃপর সে নামও বলতে পারবে না। তখন তাকে বলা হবে, “মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।” সে বলবে, “আমি জানি না। আমি লোকদের কিছু বলতে শুনেছি, অতঃপর তাদের মতো আমিও বলেছি।” তখন তাকে বলা হবে, “এর উপরই তুমি বেঁচে ছিলে। এর উপরই তুমি মৃত্যুবরণ করেছিলে। এর উপরই তোমার পুনরুত্থান হবে ইনশাআল্লাহ।” তারপর তার জন্য জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে অতঃপর তাকে বলা হবে, “জাহান্নামের এখানে তোমার বাসস্থান, এখানে আল্লাহ যা প্রস্তুত করে রেখেছেন, তা তোমার জন্য। “ তখন তার আক্ষেপ-অনুশোচনা বেড়ে যাবে। তারপর তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং বলা হবে, “জান্নাতের এখানে তোমার বাসস্থান, এখানে আল্লাহ যা প্রস্তুত করে রেখেছেন, তা তোমার জন্য হতো, যদি তুমি তাঁর আনুগত্য করতে। “ তখন তার আক্ষেপ-অনুশোচনা আরো বেড়ে যাবে। তারপর তার কবরকে সংকুচিত করা হবে, এমন তার দুই পাজরের হাড়সমূহ পরস্পরের মাঝে ঢুকে যাবে। সুতরাং এটাই হলো সংকীর্ণ জীবন। মহান আল্লাহ বলেছেন, فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضنكاً ونحشره يوم القيامة أعمى (তবে নিশ্চয়ই তার জন্য রয়েছে সংকীর্ণ জীবন এবং আমরা তাকে অন্ধ করে উপস্থিত করাবো।–সূরা ত্ব-হা: ১২৪)।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৭০৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৮৩-৩৮৪; হাকিম: ১/৩৭৯-৩৮০; ইমাম বাইহাকী, আল ই‘তিকাদ: ২২০ পৃষ্ঠা; ইসবাতু আযাবিল কবর: ৬৭; মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/৫১-৫২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ১৯৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «التعليق الرغيب» (4/ 188 - 189)، «أحكام الجنائز» (198 - 202).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن من أجل محمد بن عمرو
3114 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ الطَّائِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهَا قَالَتْ: أَتَيْتُ عَائِشَةَ حِينَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَإِذَا النَّاسُ قِيَامٌ يُصَلُّونَ، وَإِذَا هِيَ قَائِمَةٌ تُصَلِّي، فَقُلْتُ: مَا لِلنَّاسِ؟ فَأَشَارَتْ بِيَدِهَا إِلَى السَّمَاءِ، وَقَالَتْ: سُبْحَانَ اللَّهِ فَقُلْتُ: آيَةٌ؟ فَأَشَارَتْ: أَيْ نَعَمْ، قَالَتْ: فَقُمْتُ حَتَّى تَجَلَّانِي الْغَشْيُ، فَجَعَلْتُ أُصُبُّ الْمَاءَ فَوْقَ رَأْسِي، فَلَمَّا انْصَرَفَ حَمِدَ اللَّهَ رَسُولَ اللَّهِ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «مَا مِنْ شَيْءٍ كُنْتُ لَمْ أَرَهُ إِلَّا قَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا حَتَّى الْجَنَّةَ وَالنَّارَ، وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ مِثْلَ أَوْ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ - لَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ - يُؤْتَى أَحَدُكُمْ، فَيُقَالُ لَهُ: مَا عِلْمُكَ بِهَذَا الرَّجُلِ، فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ أَوِ الْمُوقِنُ - فَلَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ - فَيَقُولُ: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى، فَأَجَبْنَا وَآمَنَّا وَاتَّبَعْنَا، فَيُقَالُ لَهُ: نَمْ صَالِحًا قَدْ عَلِمْنَا إِنْ كُنْتَ لَمُؤْمِنًا، وَأَمَّا الْمُنَافِقُ أَوِ الْمُرْتَابُ - لَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ - فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُهُ»
رقم طبعة با وزير = (3104)
আসমা বিনতু আবী বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “সূর্য গ্রহণের সময় আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছে আসি। অতঃপর আমি দেখতে পাই যে, লোকজন সালাত আদায় করছে। এসময় আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাও সালাত আদায় করছিলেন। তখন আমি বললাম, “লোকদের কী হয়েছে?” তখন তিনি হাত দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করলেন এবং ‘সুবহানাল্লাহ’ বললেন। তখন আমি বললাম, “কোন নিদর্শন?” তিনি ইশারায় ইতিবাচক জবাব দিলেন।” আসমা বিনতু আবী বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “অতঃপর আমিও সালাতে দাঁড়িয়ে যাই এবং এতো দীর্ঘ কিয়াম করি যে, সঙ্গাহীন অবস্থা আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করেন, তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ-কীর্তন করেন। তারপর তিনি বলেন, “যেসব জিনিস আমাকে ইতিপূর্বে দেখানো হয়নি, তা আমাকে এই জায়গায় দেখানো হয়েছে। এমনকি জান্নাত ও জাহান্নামও দেখানো হয়েছে। আমার কাছে অহী করা হয়েছে যে, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে কবরে দাজ্জালের ফিতনার মতো অথবা দাজ্জালের ফিতনার কাছাকাছি ফিতনায় তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হবে -অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ যে, আসমা বিনতু আবী বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কোন শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন-। তোমাদেরকে আনা হবে, অতঃপর বলা হবে, “এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী জেনেছো?” অতঃপর মুমিন অথবা দৃঢ় বিশ্বাসী ব্যক্তি -অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ যে, আসমা বিনতু আবী বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কোন শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন- বলবেন, “তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি আমাদের কাছে হিদায়েত ও সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছিলেন, অতঃপর আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছি, তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন করেছি এবং তাকে অনুসরণ করেছি।” তখন তাকে বলা হবে, “আপনি শান্তিতে ঘুমান। আমরা জানতাম যে, আপনি মুমিন ছিলেন।” পক্ষান্তরে মুনাফিক অথবা সংশয়বাদী হলে, -অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ যে, আসমা বিনতু আবী বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কোন শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন- সে বলবে, “আমি জানি না। আমি লোকদেরকে একটি কথা শুনেছি, অতঃপর আমিও সেটাই বলেছি।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৮-১৮৯; সহীহুল বুখারী: ১৮৪; আবূ আওয়ানা: ২/৩৭০; বাগাবী: ১১৩৭; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৪৫; সহীহ মুসলিম: ৯০৫; বাইহাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর: ১০২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ১৯৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
3115 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى الْمِصْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي حُيَيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَعَافِرِيُّ، أَنَّ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ، حَدَّثَهُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ذَكَرَ فَتَّانَيِ الْقَبْرِ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: أَتُرَدُّ عَلَيْنَا عُقُولُنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ: «[ص:385] نَعَمْ، كَهَيْئَتِكُمُ الْيَوْمَ» قَالَ: فَبِفِيهِ الْحَجَرُ
رقم طبعة با وزير = (3105)
আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের পরীক্ষক দুই ফেরেস্তা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তখন উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সেসময় কি আমাদের জ্ঞান ফিরিয়ে দেওয়া হবে?” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “হ্যাঁ। আজকের দিনের তোমাদের যে অবস্থায়, ঠিক তার মতোই (ফিরিয়ে দেওয়া হবে)।” তখন উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তবে তো তার মুখে পাথর দেওয়া যাবে (অর্থাৎ তাকে সন্তোষজনক উত্তর দেওয়া যাবে)।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/১৭২; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৩/৪৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৪/১৮৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «التعليق الرغيب» (4/ 183).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن
3116 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى، بِعَسْكَرِ مُكْرَمٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَحْطَبَةَ بْنِ مَرْزُوقٍ، بِفَمِ الصِّلْحِ، قَالَا: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ حَفْصٍ الْأُبُلِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا دَخَلَ الْمَيِّتُ الْقَبْرَ، مُثِّلَتْ لَهُ الشَّمْسُ عِنْدَ غُرُوبِهَا، فَيَقُولُ: دَعُونِي أُصَلِّي»
رقم طبعة با وزير = (3106)
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন মৃত ব্যক্তি কবরে প্রবেশ করবে, তখন সূর্যকে অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি মনে হবে। তখন সেই ব্যক্তি বলবে, “তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি সালাত আদায় করবো!”[1]
[1] ইবনু মাজাহ: ৪২৭২; ইবনু আবী আসিম, আস সুন্নাহ: ৮৬৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (যিলালুল জান্নাহ: ৮৬৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «ظلال الجنة» (867).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن
3117 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا قُبِرَ أَحَدُكُمْ أَوِ الْإِنْسَانُ، أَتَاهُ مَلَكَانِ أَسْوَدَانِ أَزْرَقَانِ، يُقَالُ لِأَحَدِهِمَا: الْمُنْكَرُ وَالْآخَرُ: النَّكِيرُ، فَيَقُولَانِ لَهُ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ مُحَمَّدٍ؟ فَهُوَ قَائِلٌ مَا كَانَ يَقُولُ، فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا قَالَ: هُوَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، فَيَقُولَانِ لَهُ: إِنْ كُنَّا لِنَعْلَمُ إِنَّكَ لَتَقُولُ ذَلِكَ، ثُمَّ يَفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا فِي سَبْعِينَ ذِرَاعًا، وَيُنَوَّرُ لَهُ فِيهِ، فَيُقَالُ لَهُ: نَمْ فَيَنَامُ كَنَوْمَةِ الْعَرُوسِ الَّذِي لَا يُوقِظُهُ إِلَّا أَحَبُّ أَهْلِهِ إِلَيْهِ حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ، وَإِنْ كَانَ مُنَافِقًا قَالَ: لَا أَدْرِي كُنْتُ أَسْمَعُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا، فَكُنْتُ أَقُولُهُ، فَيَقُولَانِ لَهُ: إِنْ كُنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُولُ ذَلِكَ، ثُمَّ يُقَالُ لِلْأَرْضِ: الْتَئِمِي عَلَيْهِ، فَتَلْتَئِمُ عَلَيْهِ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهَا أَضْلَاعُهُ، فَلَا يَزَالُ مُعَذَّبًا حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ».
رقم طبعة با وزير = (3107) [ص:387] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ: «خَبَرُ الْأَعْمَشِ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ زَاذَانَ، عَنِ الْبَرَاءِ، سَمِعَهُ الْأَعْمَشُ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُمَارَةَ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، وَزَاذَانُ لَمْ يَسْمَعْهُ مِنَ الْبَرَاءِ فَلِذَلِكَ لَمْ أُخَرِّجْهُ»
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কাউকে অথবা কোন মানুষকে কবরস্থ করা হয়, তখন তার কাছে কালো-নীল বর্ণের দুইজন ফেরেস্তা আসেন। তাদের একজনের নাম মুনকার আরেকজনের নাম নাকীর। অতঃপর তারা দুইজন তাকে বলেন, “তোমরা এই ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কী বলতে?” অতঃপর সে যা বলতো, তাই বলবে। যদি সে ব্যক্তি মুমিন হয়ে থাকে, তবে তিনি বলবেন, “তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই।” ফেরেস্তাগণ তাকে বলবেন, “নিশ্চয়েই আমরা জানতাম যে, আপনি এটাই বলবেন।” তারপর তার জন্য তার কবরকে (দৈর্ঘ-প্রস্থে) ৭০ গজ প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। তার কবরকে আলোকিত করা হবে এবং তাকে বলা হবে, “আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন।” অতঃপর তিনি বাসর রাতের ন্যায় ঘুমিয়ে যাবেন, যাকে পরিবারের সবচেয়ে প্রিয়জন ছাড়া কেউ জাগিয়ে তুলে না। তিনি এভাবেই থাকবেন, যতক্ষন না তাকে তার শয়ন থেকে পুনরুত্থান করেন। আর যদি সে ব্যক্তি মুনাফিক হয়, তবে সে ব্যক্তি বলবে, “আমি জানি না। আমি লোকদেরকে একটা কিছু বলতে শুনতাম, অতঃপর আমিও বলতাম।” তখন ফেরেস্তাগণ বলবেন, “নিশ্চয়ই আমরা জানতাম যে, তুমি এরকম কিছু বলবে।” তারপর মাটিকে বলা হবে, “তাকে চাপ দাও।” অতঃপর মাটি তাকে এমন চাপ দিবে যে, তার দুই পাজরের হাড়গুলো পরস্পরের মাঝে ঢুকে যাবে! অতঃপর যতক্ষন না মহান আল্লাহ তাকে সেখান থেকে পুনরুত্থান না করবেন, ততক্ষন পর্যন্ত সে এভাবে শাস্তিপ্রাপ্ত হতেই থাকবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মিনহাল বিন আমর যাযান থেকে, তিনি বারা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আ‘মাশের হাদীসটি আ‘মাশ হাসান বিন উমারাহ থেকে, তিনি মিনহাল বিন আমর থেকে এভাবে শ্রবণ করেছেন। এই হাদীসটি যাযান বারা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে শ্রবণ করেননি। এই জন্য হাদীসটি আমরা সংকলন করি নাই।”
[1] ইমাম বাইহাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর: ৫৬; ইবনু আবী আসিম, আস সুন্নাহ: ৮৬৪; আল আজুর্রী, আল শারী‘আহ: ৩৬৫; তিরমিযী: ১০৭১; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৭৩৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৮০-৩৮১; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৮৭; আত তায়ালিসী: ৭৫৩; আবূ দাঊদ: ৪৭৫৩; হাকিম: ১/৩৭-৪০; ইবনুল কাইয়্যিম, তাহযীবুস সুন্নাহ: ৪/৩৩৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৩৯১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «الصحيحة» (1391)، «الظلال» (8641).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي
3118 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ، بِتُسْتَرَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُخَرِّمِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْمَيِّتَ لَيَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ»
رقم طبعة با وزير = (3108)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি লোকদের জুতার শব্দ শুনতে পায়, যখন তারা সেখান থেকে চলে যায়।”[1]
[1] বাযযার: ৮৭৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৭৮; ইমাম আহমাদ, আস সুন্নাহ: ১৩৪৩; আত তাবারানী: ১১১৩৫; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৩/৫৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৪/১৮৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (4/ 188 - 189).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف
3119 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، [ص:389] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي قَوْلِهِ جَلَّ وَعَلَا: {فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا} [طه: 124] قَالَ: «عَذَابُ الْقَبْرِ»
رقم طبعة با وزير = (3109)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর এই বাণী “ فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضنكا (তবে নিশ্চয়ই তার জন্য থাকবে সংকীর্ণ জীবন।– সূরা ত্বহা: ১২৪)” সম্পর্কে বলেন, “এটা হলো কবরের আযাব।”[1]
[1] ইমাম বাইহাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর: ৫৭; হাকিম: ১/৩৮১; ইমাম আহমাদ, আস সুন্নাহ: ১৩৫৭; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৭/৬৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহুল মাওয়ারিদ: ১৭৫১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح الموارد» (1751).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن
3120 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ النَّرْسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ، وَتَوَلَّوْا عَنْهُ أَصْحَابُهُ حَتَّى إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ، أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُولَانِ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فِي مُحَمَّدٍ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ: أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، فَيُقَالُ لَهُ: انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ مَقْعَدًا مِنَ الْجَنَّةِ» - قَالَ قَتَادَةُ: وَذُكِرَ لَنَا أَنَّهُ يَفْسَخُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا، وَيُمْلَأُ عَلَيْهِ خَضِرًا إِلَى يَوْمِ يَبْعَثُونَ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى حَدِيثِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - قَالَ: «وَأَمَّا الْكَافِرُ وَالْمُنَافِقُ، فَيُقَالُ لَهُ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ، فَيُقَالُ: لَا دَرَيْتَ، وَلَا تَلَيْتَ، ثُمَّ يُضْرَبُ بِمِطْرَاقٍ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةً بَيْنَ أُذُنَيْهِ، فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ عَلَيْهَا غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ»
رقم طبعة با وزير = (3110)
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই বান্দাকে যখন কবরে রাখা হয় এবং তার সঙ্গীরা চলে আসে, তখন সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। এসময় দুইজন ফেরেস্তা আসেন এবং তাকে বসান। অতঃপর তারা বলেন, “তুমি এই ব্যক্তি অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কী বলতে?” তখন মুমিন ব্যক্তি বলবেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।” তখন তাকে বলা হবে, “জাহান্নামে আপনার স্থানের দিকে লক্ষ্য করুন। আল্লাহ আপনাকে সেই স্থানের পরিবর্তে একটি স্থান দান করেছেন।” কাতাদাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমাদের কাছে হাদীস বলা হয়েছে যে, তার জন্য তার কবরে ৭০ গজ প্রশস্ত করা হবে এবং পুনরুত্থান দিবস অবধি তার কবরকে সবুজ-শ্যামল দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেওয়া হবে।” তারপর তিনি আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস বর্ণনায় ফিরে যান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আর কাফির ও মুনাফিক ব্যক্তি হলে, তাকে বলা হবে, “তুমি এই ব্যক্তির ব্যাপারে কী বলতে?” সে বলবে, “আমি জানি না। আমি তাই বলতাম, যা লোকজন বলতো।” তখন বলা হবে, “তুমি জানতে না। তেলাওয়াতও করতে না। তারপর তাকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে দুই কানের মাঝে প্রহার করা হবে, ফলে সে এমন চিৎকার করবে যা জিন-ইনসান ব্যতিত সবাই শুনতে পাবে।”[1]
[1] ইমাম বাইহাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর: ১৫; আল আজুর্রী, আশ শারী‘আহ: ৩৬৫; সহীহুল বুখারী: ১৩৩৮; সহীহ মুসলিম: ২৮৭০; নাসাঈ: ৪/৯৭; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১২৬; ইমাম আহমাদ, আস সুন্নাহ: ১৩৫৫; সুনান বাইহাকী: ৪/৮০; নাসাঈ: ৪/৯৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৩৪৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1344)، «الآيات البينات» (45 - 46).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين