হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (3112)


3112 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ صَفِيَّةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لِلْقَبْرِ ضَغْطَةٌ لَوْ نَجَا مِنْهَا أَحَدٌ، لَنَجَا مِنْهَا سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ»
رقم طبعة با وزير = (3102)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কবরের চাপ রয়েছে। যদি সেখান থেকে পরিত্রাণ পেতো, তবে সা‘দ বিন মু‘আয পরিত্রাণ পেতেন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৫৫; বাগাবী: ১৬০১; তাহাবী, শারহু মুশকিলুল আসার: ২৭৪; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/৪৬; ইমাম আহমাদ, আস সুন্নাহ: ১৩৩৭; নাসাঈ: ৪/১০০-১০১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৬৯৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1695).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3113)


3113 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرٍو، يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْمَيِّتَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ إِنَّهُ يَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ حِينَ يُوَلُّونَ عَنْهُ، فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا، كَانَتِ الصَّلَاةُ عِنْدَ رَأْسِهِ، وَكَانَ الصِّيَامُ عَنْ يَمِينِهِ، وَكَانَتِ الزَّكَاةُ عَنْ شِمَالِهِ، وَكَانَ فِعْلُ الْخَيْرَاتِ مِنَ الصَّدَقَةِ وَالصِّلَةِ وَالْمَعْرُوفِ وَالْإِحْسَانِ إِلَى النَّاسِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ، فَيُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ، فَتَقُولُ الصَّلَاةُ: مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ، ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ يَمِينِهِ، فَيَقُولُ الصِّيَامُ: مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ، ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ يَسَارِهِ، فَتَقُولُ الزَّكَاةُ: مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ، ثُمَّ يُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ، فَتَقُولُ فَعَلُ الْخَيْرَاتِ مِنَ الصَّدَقَةِ وَالصِّلَةِ وَالْمَعْرُوفِ [ص:381] وَالْإِحْسَانِ إِلَى النَّاسِ: مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ، فَيُقَالُ لَهُ: اجْلِسْ فَيَجْلِسُ، وَقَدْ مُثِّلَتْ لَهُ الشَّمْسُ وَقَدْ أُدْنِيَتْ لِلْغُرُوبِ، فَيُقَالُ لَهُ: أَرَأَيْتَكَ هَذَا الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ فِيكُمْ مَا تَقُولُ فِيهِ، وَمَاذَا تَشَهَّدُ بِهِ عَلَيْهِ؟ فَيَقُولُ: دَعُونِي حَتَّى أُصَلِّيَ، فَيَقُولُونَ: إِنَّكَ سَتَفْعَلُ، أَخْبَرَنِي عَمَّا نَسْأَلُكُ عَنْهُ، أَرَأَيْتَكَ هَذَا الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ فِيكُمْ مَا تَقُولُ فِيهِ، وَمَاذَا تَشَهَّدُ عَلَيْهِ؟ قَالَ: فَيَقُولُ: مُحَمَّدٌ أَشْهَدُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ، وَأَنَّهُ جَاءَ بِالْحَقِّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ، فَيُقَالُ لَهُ: عَلَى ذَلِكَ حَيِيتَ وَعَلَى ذَلِكَ مِتَّ، وَعَلَى ذَلِكَ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا مَقْعَدُكَ مِنْهَا، وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ فِيهَا، فَيَزْدَادُ غِبْطَةً وَسُرُورًا، ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ النَّارِ، فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا مَقْعَدُكَ مِنْهَا وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ فِيهَا لَوْ عَصَيْتَهُ، فَيَزْدَادُ غِبْطَةً وَسُرُورًا، ثُمَّ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا، وَيُنَوَّرُ لَهُ فِيهِ، وَيُعَادُ الْجَسَدُ لِمَا بَدَأَ مِنْهُ، فَتَجْعَلُ نَسْمَتُهُ فِي النَّسَمِ الطِّيِّبِ وَهِيَ طَيْرٌ يَعْلُقُ فِي شَجَرِ الْجَنَّةِ، قَالَ: فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} [إبراهيم: 27] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ» قَالَ: «وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا أُتِيَ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ، لَمْ يُوجَدْ شَيْءٌ، ثُمَّ أُتِيَ عَنْ يَمِينِهِ، فَلَا يُوجَدُ شَيْءٌ، ثُمَّ أُتِيَ عَنْ شِمَالِهِ، فَلَا يُوجَدُ شَيْءٌ، ثُمَّ أُتِيَ مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ، فَلَا يُوجَدُ شَيْءٌ، فَيُقَالُ لَهُ: [ص:382] اجْلِسْ، فَيَجْلِسُ خَائِفًا مَرْعُوبًا، فَيُقَالُ لَهُ: أَرَأَيْتَكَ هَذَا الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ فِيكُمْ مَاذَا تَقُولُ فِيهِ؟ وَمَاذَا تَشَهَّدُ بِهِ عَلَيْهِ؟ فَيَقُولُ: أَيُّ رَجُلٍ؟ فَيُقَالُ: الَّذِي كَانَ فِيكُمْ، فَلَا يَهْتَدِي لِاسْمِهِ حَتَّى يُقَالَ لَهُ: مُحَمَّدٌ، فَيَقُولُ: مَا أَدْرِي، سَمِعْتُ النَّاسَ قَالُوا قَوْلًا، فَقُلْتُ كَمَا قَالَ النَّاسُ، فَيُقَالُ لَهُ: عَلَى ذَلِكَ حَيِيتَ، وَعَلَى ذَلِكَ مِتَّ، وَعَلَى ذَلِكَ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ النَّارِ، فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا مَقْعَدُكَ مِنَ النَّارِ، وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ فِيهَا، فَيَزْدَادُ حَسْرَةً وَثُبُورًا، ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ، فَيُقَالُ لَهُ: ذَلِكَ مَقْعَدُكَ مِنَ الْجَنَّةِ، وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ فِيهِ لَوْ أَطَعْتَهُ فَيَزْدَادُ حَسْرَةً وَثُبُورًا، ثُمَّ يُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُهُ، فَتِلْكَ الْمَعِيشَةُ الضَّنْكَةُ الَّتِي قَالَ اللَّهُ: {فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى} [طه: 124]»
رقم طبعة با وزير = (3103)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয়, তখন সে লোকদের ফিরে যাওয়ার সময়ের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। যদি সে মুমিন ব্যক্তি হয়, তবে তার মাথার কাছে সালাত, ডানে সিয়াম, বামে যাকাত আর সাদাকাহ, রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখা, সৎ কাজ ও লোকদের সাথে সদাচারণ প্রভৃতি ভালো আমল তার দুই পায়ের কাছে থাকে। অতঃপর (ফেরেস্তা) তার মাথার দিকদিয়ে আসার চেষ্টা করে, তখন সালাত বলে, “আমার দিক দিয়ে প্রবেশ করার জায়গা নেই।” অতঃপর (ফেরেস্তা) তার ডান দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করে, তখন সিয়াম বলে, “আমার দিক দিয়ে প্রবেশ করার জায়গা নেই।” অতঃপর (ফেরেস্তা) তার বাম দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করে, তখন যাকাত বলে, “আমার দিক দিয়ে প্রবেশ করার জায়গা নেই।” অতঃপর (ফেরেস্তা) তার দুই পায়ের দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করে, তখন সাদাকাহ, রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখা, সৎ কাজ ও লোকদের সাথে সদাচারণ প্রভৃতি ভালো আমল বলে, “আমার দিক দিয়ে প্রবেশ করার জায়গা নেই।” অতঃপর তাকে বলা হবে, ‘তুমি বসো।” অতঃপর সে বসবে। অতঃপর সে দেখতে পাবে যে, সূর্য অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তখন তাকে বলা হবে, “এই ব্যক্তির ব্যাপারে তোমার কী অভিমত, তার ব্যাপারে তুমি কী বলো এবং তার ব্যাপারে তুমি কী সাক্ষ্য দাও?” তখন সে ব্যক্তি বলবে, “তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি সালাত আদায় করবো।” ফেরেস্তাগণ বলবেন, “তুমি অচিরেই তা করবে। আমরা তোমাকে যা প্রশ্ন করেছি, তার জবাব দাও। এই ব্যক্তির ব্যাপারে তোমার কী অভিমত, তার ব্যাপারে তুমি কী বলো এবং তার ব্যাপারে তুমি কী সাক্ষ্য দাও?” তখন সে ব্যক্তি বলবে, “তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রাসূল। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে হক নিয়ে এসেছিলেন।” তখন তাকে বলা হবে, “এর উপরই তুমি বেঁচে ছিলে। এর উপরই তুমি মৃত্যুবরণ করেছিলে। এর উপরই তোমার পুনরুত্থান হবে ইনশাআল্লাহ।” তারপর তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে অতঃপর তাকে বলা হবে, “জান্নাতের এখানে তোমার বাসস্থান, এখানে আল্লাহ যা প্রস্তুত করে রেখেছেন, তা তোমার জন্য। “তখন তার আনন্দ ও ঈর্ষা বেড়ে যাবে। তারপর তার জন্য জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং বলা হবে, জাহান্নামের এখানে তোমার বাসস্থান, এখানে আল্লাহ যা প্রস্তুত করে রেখেছেন, তা তোমার জন্য হতো, যদি তুমি তাঁর নাফরমানি করতে। “তখন তার আনন্দ ও ঈর্ষা আরো বেড়ে যাবে। তারপর তার কবরকে সত্তর গজ প্রশস্ত করা হবে, সেটা আলোকিত করা হবে, তার দেহকে সেই অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে, যে অবস্থায় তাকে প্রথমে সৃষ্টি করা হয়েছিল।তারপর তার আত্নাকে পবিত্র আত্নাদের মাঝে রাখা হবে। এসময় তিনি পাখি হবে এবং জান্নাতের বৃক্ষরাজির সাথে ঝুলে থাকবে।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এটাই হলো আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ। তিনি বলেছেন, يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ (যারা ঈমান আনয়ন করেছে, আল্লাহ তাদেরকে দৃঢ় বাণীর মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে এবং পরকালে সৃদৃঢ় রাখবেন। -সূরা ইবরাহিম: ২৭)।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আর কাফির ব্যক্তির (ফেরেস্তা) তার মাথার দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করবে, কিন্তু সেখানে কোন কিছু পাওয়া যাবে না। অতঃপর (ফেরেস্তা) তার ডান দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করবে, কিন্তু সেখানে কোন কিছু পাওয়া যাবে না। অতঃপর (ফেরেস্তা) তার বাম দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করবে, কিন্তু সেখানে কোন কিছু পাওয়া যাবে না। অতঃপর (ফেরেস্তা) তার দুই পায়ের দিক দিয়ে আসার চেষ্টা করবে, কিন্তু সেখানে কোন কিছু পাওয়া যাবে না। অতঃপর তাকে বলা হবে, ‘তুমি বসো।” অতঃপর সে ভীত-বিহবল হয়ে বসবে। তখন তাকে বলা হবে, “এই ব্যক্তির ব্যাপারে তোমার কী অভিমত, তার ব্যাপারে তুমি কী বলো এবং তার ব্যাপারে তুমি কী সাক্ষ্য দাও?” তখন সে ব্যক্তি বলবে, “কোন ব্যক্তি?” তখন বলা হবে, “যিনি তোমাদের মাঝে ছিলেন।” অতঃপর সে নামও বলতে পারবে না। তখন তাকে বলা হবে, “মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।” সে বলবে, “আমি জানি না। আমি লোকদের কিছু বলতে শুনেছি, অতঃপর তাদের মতো আমিও বলেছি।” তখন তাকে বলা হবে, “এর উপরই তুমি বেঁচে ছিলে। এর উপরই তুমি মৃত্যুবরণ করেছিলে। এর উপরই তোমার পুনরুত্থান হবে ইনশাআল্লাহ।” তারপর তার জন্য জাহান্নামের একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে অতঃপর তাকে বলা হবে, “জাহান্নামের এখানে তোমার বাসস্থান, এখানে আল্লাহ যা প্রস্তুত করে রেখেছেন, তা তোমার জন্য। “ তখন তার আক্ষেপ-অনুশোচনা বেড়ে যাবে। তারপর তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং বলা হবে, “জান্নাতের এখানে তোমার বাসস্থান, এখানে আল্লাহ যা প্রস্তুত করে রেখেছেন, তা তোমার জন্য হতো, যদি তুমি তাঁর আনুগত্য করতে। “ তখন তার আক্ষেপ-অনুশোচনা আরো বেড়ে যাবে। তারপর তার কবরকে সংকুচিত করা হবে, এমন তার দুই পাজরের হাড়সমূহ পরস্পরের মাঝে ঢুকে যাবে। সুতরাং এটাই হলো সংকীর্ণ জীবন। মহান আল্লাহ বলেছেন, فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضنكاً ونحشره يوم القيامة أعمى (তবে নিশ্চয়ই তার জন্য রয়েছে সংকীর্ণ জীবন এবং আমরা তাকে অন্ধ করে উপস্থিত করাবো।–সূরা ত্ব-হা: ১২৪)।”[1]



[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৭০৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৮৩-৩৮৪; হাকিম: ১/৩৭৯-৩৮০; ইমাম বাইহাকী, আল ই‘তিকাদ: ২২০ পৃষ্ঠা; ইসবাতু আযাবিল কবর: ৬৭; মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/৫১-৫২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ১৯৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «التعليق الرغيب» (4/ 188 - 189)، «أحكام الجنائز» (198 - 202).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن من أجل محمد بن عمرو









সহীহ ইবনু হিব্বান (3114)


3114 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ الطَّائِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهَا قَالَتْ: أَتَيْتُ عَائِشَةَ حِينَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَإِذَا النَّاسُ قِيَامٌ يُصَلُّونَ، وَإِذَا هِيَ قَائِمَةٌ تُصَلِّي، فَقُلْتُ: مَا لِلنَّاسِ؟ فَأَشَارَتْ بِيَدِهَا إِلَى السَّمَاءِ، وَقَالَتْ: سُبْحَانَ اللَّهِ فَقُلْتُ: آيَةٌ؟ فَأَشَارَتْ: أَيْ نَعَمْ، قَالَتْ: فَقُمْتُ حَتَّى تَجَلَّانِي الْغَشْيُ، فَجَعَلْتُ أُصُبُّ الْمَاءَ فَوْقَ رَأْسِي، فَلَمَّا انْصَرَفَ حَمِدَ اللَّهَ رَسُولَ اللَّهِ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «مَا مِنْ شَيْءٍ كُنْتُ لَمْ أَرَهُ إِلَّا قَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا حَتَّى الْجَنَّةَ وَالنَّارَ، وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ مِثْلَ أَوْ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ - لَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ - يُؤْتَى أَحَدُكُمْ، فَيُقَالُ لَهُ: مَا عِلْمُكَ بِهَذَا الرَّجُلِ، فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ أَوِ الْمُوقِنُ - فَلَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ - فَيَقُولُ: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى، فَأَجَبْنَا وَآمَنَّا وَاتَّبَعْنَا، فَيُقَالُ لَهُ: نَمْ صَالِحًا قَدْ عَلِمْنَا إِنْ كُنْتَ لَمُؤْمِنًا، وَأَمَّا الْمُنَافِقُ أَوِ الْمُرْتَابُ - لَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ - فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُهُ»
رقم طبعة با وزير = (3104)




আসমা বিনতু আবী বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “সূর্য গ্রহণের সময় আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছে আসি। অতঃপর আমি দেখতে পাই যে, লোকজন সালাত আদায় করছে। এসময় আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাও সালাত আদায় করছিলেন। তখন আমি বললাম, “লোকদের কী হয়েছে?” তখন তিনি হাত দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করলেন এবং ‘সুবহানাল্লাহ’ বললেন। তখন আমি বললাম, “কোন নিদর্শন?” তিনি ইশারায় ইতিবাচক জবাব দিলেন।” আসমা বিনতু আবী বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “অতঃপর আমিও সালাতে দাঁড়িয়ে যাই এবং এতো দীর্ঘ কিয়াম করি যে, সঙ্গাহীন অবস্থা আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করেন, তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ-কীর্তন করেন। তারপর তিনি বলেন, “যেসব জিনিস আমাকে ইতিপূর্বে দেখানো হয়নি, তা আমাকে এই জায়গায় দেখানো হয়েছে। এমনকি জান্নাত ও জাহান্নামও দেখানো হয়েছে। আমার কাছে অহী করা হয়েছে যে, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে কবরে দাজ্জালের ফিতনার মতো অথবা দাজ্জালের ফিতনার কাছাকাছি ফিতনায় তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হবে -অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ যে, আসমা বিনতু আবী বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কোন শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন-। তোমাদেরকে আনা হবে, অতঃপর বলা হবে, “এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী জেনেছো?” অতঃপর মুমিন অথবা দৃঢ় বিশ্বাসী ব্যক্তি -অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ যে, আসমা বিনতু আবী বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কোন শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন- বলবেন, “তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি আমাদের কাছে হিদায়েত ও সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছিলেন, অতঃপর আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছি, তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন করেছি এবং তাকে অনুসরণ করেছি।” তখন তাকে বলা হবে, “আপনি শান্তিতে ঘুমান। আমরা জানতাম যে, আপনি মুমিন ছিলেন।” পক্ষান্তরে মুনাফিক অথবা সংশয়বাদী হলে, -অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ যে, আসমা বিনতু আবী বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা কোন শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন- সে বলবে, “আমি জানি না। আমি লোকদেরকে একটি কথা শুনেছি, অতঃপর আমিও সেটাই বলেছি।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৮৮-১৮৯; সহীহুল ‍বুখারী: ১৮৪; আবূ আওয়ানা: ২/৩৭০; বাগাবী: ১১৩৭; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৪৫; সহীহ মুসলিম: ৯০৫; বাইহাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর: ১০২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ১৯৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3115)


3115 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى الْمِصْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي حُيَيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَعَافِرِيُّ، أَنَّ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ، حَدَّثَهُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ذَكَرَ فَتَّانَيِ الْقَبْرِ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: أَتُرَدُّ عَلَيْنَا عُقُولُنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ: «[ص:385] نَعَمْ، كَهَيْئَتِكُمُ الْيَوْمَ» قَالَ: فَبِفِيهِ الْحَجَرُ
رقم طبعة با وزير = (3105)




আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের পরীক্ষক দুই ফেরেস্তা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তখন উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সেসময় কি আমাদের জ্ঞান ফিরিয়ে দেওয়া হবে?” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “হ্যাঁ। আজকের দিনের তোমাদের যে অবস্থায়, ঠিক তার মতোই (ফিরিয়ে দেওয়া হবে)।” তখন উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তবে তো তার মুখে পাথর দেওয়া যাবে (অর্থাৎ তাকে সন্তোষজনক উত্তর দেওয়া যাবে)।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/১৭২; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৩/৪৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৪/১৮৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «التعليق الرغيب» (4/ 183).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3116)


3116 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى، بِعَسْكَرِ مُكْرَمٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَحْطَبَةَ بْنِ مَرْزُوقٍ، بِفَمِ الصِّلْحِ، قَالَا: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ حَفْصٍ الْأُبُلِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا دَخَلَ الْمَيِّتُ الْقَبْرَ، مُثِّلَتْ لَهُ الشَّمْسُ عِنْدَ غُرُوبِهَا، فَيَقُولُ: دَعُونِي أُصَلِّي»
رقم طبعة با وزير = (3106)




জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন মৃত ব্যক্তি কবরে প্রবেশ করবে, তখন সূর্যকে অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি মনে হবে। তখন সেই ব্যক্তি বলবে, “তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি সালাত আদায় করবো!”[1]



[1] ইবনু মাজাহ: ৪২৭২; ইবনু আবী আসিম, আস সুন্নাহ: ৮৬৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (যিলালুল জান্নাহ: ৮৬৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «ظلال الجنة» (867).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3117)


3117 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا قُبِرَ أَحَدُكُمْ أَوِ الْإِنْسَانُ، أَتَاهُ مَلَكَانِ أَسْوَدَانِ أَزْرَقَانِ، يُقَالُ لِأَحَدِهِمَا: الْمُنْكَرُ وَالْآخَرُ: النَّكِيرُ، فَيَقُولَانِ لَهُ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ مُحَمَّدٍ؟ فَهُوَ قَائِلٌ مَا كَانَ يَقُولُ، فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا قَالَ: هُوَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، فَيَقُولَانِ لَهُ: إِنْ كُنَّا لِنَعْلَمُ إِنَّكَ لَتَقُولُ ذَلِكَ، ثُمَّ يَفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا فِي سَبْعِينَ ذِرَاعًا، وَيُنَوَّرُ لَهُ فِيهِ، فَيُقَالُ لَهُ: نَمْ فَيَنَامُ كَنَوْمَةِ الْعَرُوسِ الَّذِي لَا يُوقِظُهُ إِلَّا أَحَبُّ أَهْلِهِ إِلَيْهِ حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ، وَإِنْ كَانَ مُنَافِقًا قَالَ: لَا أَدْرِي كُنْتُ أَسْمَعُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا، فَكُنْتُ أَقُولُهُ، فَيَقُولَانِ لَهُ: إِنْ كُنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُولُ ذَلِكَ، ثُمَّ يُقَالُ لِلْأَرْضِ: الْتَئِمِي عَلَيْهِ، فَتَلْتَئِمُ عَلَيْهِ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهَا أَضْلَاعُهُ، فَلَا يَزَالُ مُعَذَّبًا حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ».
رقم طبعة با وزير = (3107) [ص:387] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ: «خَبَرُ الْأَعْمَشِ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ زَاذَانَ، عَنِ الْبَرَاءِ، سَمِعَهُ الْأَعْمَشُ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُمَارَةَ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، وَزَاذَانُ لَمْ يَسْمَعْهُ مِنَ الْبَرَاءِ فَلِذَلِكَ لَمْ أُخَرِّجْهُ»




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কাউকে অথবা কোন মানুষকে কবরস্থ করা হয়, তখন তার কাছে কালো-নীল বর্ণের দুইজন ফেরেস্তা আসেন। তাদের একজনের নাম মুনকার আরেকজনের নাম নাকীর। অতঃপর তারা দুইজন তাকে বলেন, “তোমরা এই ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কী বলতে?” অতঃপর সে যা বলতো, তাই বলবে। যদি সে ব্যক্তি মুমিন হয়ে থাকে, তবে তিনি বলবেন, “তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই।” ফেরেস্তাগণ তাকে বলবেন, “নিশ্চয়েই আমরা জানতাম যে, আপনি এটাই বলবেন।” তারপর তার জন্য তার কবরকে (দৈর্ঘ-প্রস্থে) ৭০ গজ প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। তার কবরকে আলোকিত করা হবে এবং তাকে বলা হবে, “আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন।” অতঃপর তিনি বাসর রাতের ন্যায় ঘুমিয়ে যাবেন, যাকে পরিবারের সবচেয়ে প্রিয়জন ছাড়া কেউ জাগিয়ে তুলে না। তিনি এভাবেই থাকবেন, যতক্ষন না তাকে তার শয়ন থেকে পুনরুত্থান করেন। আর যদি সে ব্যক্তি মুনাফিক হয়, তবে সে ব্যক্তি বলবে, “আমি জানি না। আমি লোকদেরকে একটা কিছু বলতে শুনতাম, অতঃপর আমিও বলতাম।” তখন ফেরেস্তাগণ বলবেন, “নিশ্চয়ই আমরা জানতাম যে, তুমি এরকম কিছু বলবে।” তারপর মাটিকে বলা হবে, “তাকে চাপ দাও।” অতঃপর মাটি তাকে এমন চাপ দিবে যে, তার দুই পাজরের হাড়গুলো পরস্পরের মাঝে ঢুকে যাবে! অতঃপর যতক্ষন না মহান আল্লাহ তাকে সেখান থেকে পুনরুত্থান না করবেন, ততক্ষন পর্যন্ত সে এভাবে শাস্তিপ্রাপ্ত হতেই থাকবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মিনহাল বিন আমর যাযান থেকে, তিনি বারা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আ‘মাশের হাদীসটি আ‘মাশ হাসান বিন উমারাহ থেকে, তিনি মিনহাল বিন আমর থেকে এভাবে শ্রবণ করেছেন। এই হাদীসটি যাযান বারা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে শ্রবণ করেননি। এই জন্য হাদীসটি আমরা সংকলন করি নাই।”



[1] ইমাম বাইহাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর: ৫৬; ইবনু আবী আসিম, আস সুন্নাহ: ৮৬৪; আল আজুর্রী, আল শারী‘আহ: ৩৬৫; তিরমিযী: ১০৭১; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৭৩৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৮০-৩৮১; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৮৭; আত তায়ালিসী: ৭৫৩; আবূ দাঊদ: ৪৭৫৩; হাকিম: ১/৩৭-৪০; ইবনুল কাইয়্যিম, তাহযীবুস সুন্নাহ: ৪/৩৩৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৩৯১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «الصحيحة» (1391)، «الظلال» (8641).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (3118)


3118 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ، بِتُسْتَرَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُخَرِّمِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْمَيِّتَ لَيَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ»
رقم طبعة با وزير = (3108)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি লোকদের জুতার শব্দ শুনতে পায়, যখন তারা সেখান থেকে চলে যায়।”[1]



[1] বাযযার: ৮৭৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৭৮; ইমাম আহমাদ, আস সুন্নাহ: ১৩৪৩; আত তাবারানী: ১১১৩৫; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৩/৫৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৪/১৮৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (4/ 188 - 189).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (3119)


3119 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، [ص:389] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي قَوْلِهِ جَلَّ وَعَلَا: {فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا} [طه: 124] قَالَ: «عَذَابُ الْقَبْرِ»
رقم طبعة با وزير = (3109)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর এই বাণী “ فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضنكا (তবে নিশ্চয়ই তার জন্য থাকবে সংকীর্ণ জীবন।– সূরা ত্বহা: ১২৪)” সম্পর্কে বলেন, “এটা হলো কবরের আযাব।”[1]



[1] ইমাম বাইহাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর: ৫৭; হাকিম: ১/৩৮১; ইমাম আহমাদ, আস সুন্নাহ: ১৩৫৭; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৭/৬৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহুল মাওয়ারিদ: ১৭৫১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح الموارد» (1751).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3120)


3120 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ النَّرْسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ، وَتَوَلَّوْا عَنْهُ أَصْحَابُهُ حَتَّى إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ، أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُولَانِ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فِي مُحَمَّدٍ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ: أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، فَيُقَالُ لَهُ: انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ مَقْعَدًا مِنَ الْجَنَّةِ» - قَالَ قَتَادَةُ: وَذُكِرَ لَنَا أَنَّهُ يَفْسَخُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا، وَيُمْلَأُ عَلَيْهِ خَضِرًا إِلَى يَوْمِ يَبْعَثُونَ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى حَدِيثِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - قَالَ: «وَأَمَّا الْكَافِرُ وَالْمُنَافِقُ، فَيُقَالُ لَهُ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ، فَيُقَالُ: لَا دَرَيْتَ، وَلَا تَلَيْتَ، ثُمَّ يُضْرَبُ بِمِطْرَاقٍ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةً بَيْنَ أُذُنَيْهِ، فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ عَلَيْهَا غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ»
رقم طبعة با وزير = (3110)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই বান্দাকে যখন কবরে রাখা হয় এবং তার সঙ্গীরা চলে আসে, তখন সে তাদের জুতার আওয়াজ ‍শুনতে পায়। এসময় দুইজন ফেরেস্তা আসেন এবং তাকে বসান। অতঃপর তারা বলেন, “তুমি এই ব্যক্তি অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কী বলতে?” তখন মুমিন ব্যক্তি বলবেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।” তখন তাকে বলা হবে, “জাহান্নামে আপনার স্থানের দিকে লক্ষ্য করুন। আল্লাহ আপনাকে সেই স্থানের পরিবর্তে একটি স্থান দান করেছেন।” কাতাদাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমাদের কাছে হাদীস বলা হয়েছে যে, তার জন্য তার কবরে ৭০ গজ প্রশস্ত করা হবে এবং পুনরুত্থান দিবস অবধি তার কবরকে সবুজ-শ্যামল দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেওয়া হবে।” তারপর তিনি আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস বর্ণনায় ফিরে যান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আর কাফির ও মুনাফিক ব্যক্তি হলে, তাকে বলা হবে, “তুমি এই ব্যক্তির ব্যাপারে কী বলতে?” সে বলবে, “আমি জানি না। আমি তাই বলতাম, যা লোকজন বলতো।” তখন বলা হবে, “তুমি জানতে না। তেলাওয়াতও করতে না। তারপর তাকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে দুই কানের মাঝে প্রহার করা হবে, ফলে সে এমন চিৎকার করবে যা জিন-ইনসান ব্যতিত সবাই শুনতে পাবে।”[1]



[1] ইমাম বাইহাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর: ১৫; আল আজুর্রী, আশ শারী‘আহ: ৩৬৫; সহীহুল বুখারী: ১৩৩৮; সহীহ মুসলিম: ২৮৭০; নাসাঈ: ৪/৯৭; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১২৬; ইমাম আহমাদ, আস সুন্নাহ: ১৩৫৫; সুনান বাইহাকী: ৪/৮০; নাসাঈ: ৪/৯৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৩৪৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1344)، «الآيات البينات» (45 - 46).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3121)


3121 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ: سَمِعْتُ دَرَّاجًا أَبَا السَّمْحِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا الْهَيْثَمِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُسَلَّطُ عَلَى الْكَافِرِ فِي قَبْرِهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ تِنِّينًا تَنْهَشُهُ وَتَلْدَغُهُ، [ص:392] حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ، فَلَوْ أَنَّ تِنِّينًا مِنْهَا نَفَخَتْ فِي الْأَرْضِ مَا أَنْبَتَتْ خَضِرًا»
رقم طبعة با وزير = (3111)




আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কাফির ব্যক্তির কবরে ৯৯ টি মহাকায় সাপ চাপিয়ে দেওয়া হবে, যেগুলি তাকে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত দংশন করতে থাকবে। যদি সেগুলোর মধ্যে একটি অজগর সাপও পৃথিবীতে ফুঁ দিতো, তবে এই জমিন সবুজ কোন কিছু উৎপন্ন করতো না।” [1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা: ১৩২৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৮; দারেমী: ২/৩৩১; আল আজুর্রী, আশ শারী‘আহ: ৩৫৯; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৩/৫৫; ইমাম বাইহাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর: ৬১; জামিউল বায়ান: ১৬/২২৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৪/১৮২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «التعليق الرغيب» (4/ 182).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (3122)


3122 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا السَّمْحِ، حَدَّثَهُ، عَنِ ابْنِ حُجَيْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْمُؤْمِنَ فِي قَبْرِهِ لَفِي رَوْضَةٍ خَضْرَاءَ، وَيُرْحَبُ لَهُ قَبْرُهُ سَبْعُونَ ذِرَاعًا، وَيُنَوَّرُ لَهُ كَالْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ أَتَدْرُونَ فِيمَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى} [طه: 124] أَتَدْرُونَ مَا الْمَعِيشَةُ الضَّنْكَةُ؟ » [ص:393] قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ: «عَذَابُ الْكَافِرِ فِي قَبْرِهِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، إِنَّهُ يُسَلَّطَ عَلَيْهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ تِنِّينًا، أَتَدْرُونَ مَا التِّنِّينُ؟ سَبْعُونَ حَيَّةً، لِكُلِّ حَيَّةٍ سَبْعُ رُءُوسٍ يِلْسَعُونَهُ، وَيَخْدِشُونَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»
رقم طبعة با وزير = (3112)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি কবরে সবুজ বাগানে থাকবে। তার কবরকে ৭০ গজ প্রশস্ত করা হবে এবং সেটাকে পুর্ণিমার রাতের চাঁদের ন্যায় আলোকিত করা হবে। তোমরা কি জানো আল্লাহর বাণী, “তবে নিশ্চয়ই তার জন্য রয়েছে সংকীর্ণ জীবন এবং আমরা তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ করে উঠাবো।”–সূরা ত্বহা: ১২৪। কোন বিষয়ে এটি অবতীর্ণ হয়েছে?” তোমরা কি জানো ‘সংকীর্ণ জীবন’ কী?” সাহাবীগণ জবাব দিলেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই ভালো জানেন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এটা হলো কবরে কাফির ব্যক্তির কবরের আযাব। ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই তার উপর ৯৯ টি বিশালাকার সাপ চাপিয়ে দেওয়া হবে? তোমরা কি জানো বিশালাকার সাপ কি? এটা হলো ৭০ টি সাপ। প্রত্যেকটি সাপের সাতটি করে মাথা রয়েছে, যা তাকে কিয়ামত পর্যন্ত দংশন করবে এবং তাকে আঁচড় মারবে।”[1]



[1] তাফসীরে তাবারী: ১৬/২২৮; ইমাম বাইহাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর: ৬৮; বাযযার: ২২৩৩; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৭/৬৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৪/১৮৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «التعليق الرغيب» (4/ 182).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3123)


3123 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، [ص:394] أَنَّهَا سَمِعَتْ عَائِشَةَ، وَذُكِرَ لَهَا أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ، يَقُولُ: إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبُكَاءِ الْحَيِّ، قَالَتْ عَائِشَةُ: يَغْفِرُ اللَّهُ لِأَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَمَا إِنَّهُ لَمْ يَكْذِبْ وَلَكِنَّهُ نَسِيَ أَوْ أَخْطَأَ، إِنَّمَا مَرَّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى يَهُودِيَّةٍ يُبْكَى عَلَيْهَا، فَقَالَ: «» إِنَّهُمْ يَبْكُونَ عَلَيْهَا وَإِنَّهَا لَتُعَذَّبُ فِي قَبْرِهَا «»
رقم طبعة با وزير = (3113)




আমরাহ বিনতু আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছে আলোচনা হলো যে, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তিকে জীবিত ব্যক্তিদের (উচ্চ আওয়াজে) কান্নার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়।” তখন আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আবূ আব্দুর রহমানকে আল্লাহ ক্ষমা করুন। জেনে রাখুন, নিশ্চয়ই তিনি মিথ্যা বলেননি, তবে তিনি ভুলে গেছেন অথবা ভুল করেন। বস্তুত একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মৃত ইয়াহুদী নারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন, যার মৃত্যুতে কান্না করা হচ্ছিল। তখন তিনি বলেন, “তোমরা কান্না করছো, নিশ্চয়ই তাকে কবরে এজন্য শাস্তি দেওয়া হবে।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২৩৪; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১০৭; সহীহুল বুখারী: ১২৮৯; সহীহ মুসলিম: ৯৩২; তিরমিযী: ১০০৬; নাসাঈ: ৪/১৭; সুনান বাইহাকী: ৪/৭২; ইবনু মাজাহ: ১৫৯৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩১১৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3124)


3124 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، [ص:395] عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعَ صَوْتًا حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ، فَقَالَ: «هَذِهِ أَصْوَاتُ الْيَهُودِ تُعَذَّبُ فِي قُبُورِهَا»
رقم طبعة با وزير = (3114)




আবূ আইয়ূব আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য অস্ত যাওয়ার পর একটি আওয়াজ শুনতে পান। তখন তিনি বলেন, “এটা ইয়াহুদিদের আওয়াজ, তাদেরকে কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২৩৪; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১০৭; সহীহুল ‍বুখারী: ১২৮৯; সহীহ মুসলিম: ৯৩২; তিরমিযী: ১০০৬; নাসাঈ: ৪/১৭-১৮; সুনান বাইহাকী: ৪/৭২; ইবনু মাজাহ: ১৫৯৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩১১৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ (1375)، م (8/ 161).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3125)


3125 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أُمِّ مُبَشِّرٍ، قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنَا فِي حَائِطٍ مِنْ حَوَائِطِ بَنِي النَّجَّارِ، فِيهِ قُبُورٌ مِنْهُمْ، وَهُوَ يَقُولُ: «اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ» فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلِلْقَبْرِ [ص:396] عَذَابٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ، وَإِنَّهُمْ لَيُعَذَّبُونَ فِي قُبُورِهِمْ تَسْمَعُهُ الْبَهَائِمُ»
رقم طبعة با وزير = (3115)




উম্মু মুবাশ্শির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসেন, এমন অবস্থায় যে, আমি বানী নাজ্জার গোত্রের এক বাগানে ছিলাম। সেখানে তাদের অনেক কবর ছিলো। এসময় তিনি বলেন, “তোমরা আল্লাহর কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর।” তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কবরের আযাবও রয়েছে?” জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ। নিশ্চয়ই তাদেরকে কবরে আযাব দেওয়া হয়, যা প্রাণীকুল শুনতে পায়।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৭৪; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৬২; তাবারানী: ২৫/২৬৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৭৪২; ইমাম আহমাদ, আস সুন্নাহ: ১৩৬০; বাগাবী: ১৫২৬; নাসাঈ: ৪/১০২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ১৪৪৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1445).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3126)


3126 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْمَقَابِرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ دَخَلَ حَائِطًا مِنْ حَوَائِطِ بَنِي النَّجَّارِ، فَسَمِعَ صَوْتًا مِنْ قَبْرٍ، قَالَ: «مَتَى دُفِنَ صَاحِبُ هَذَا الْقَبْرِ؟ » فَقَالُوا: فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَسُرَّ بِذَلِكَ، وَقَالَ: «[ص:397] لَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا، لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ عَذَابَ الْقَبْرِ»
رقم طبعة با وزير = (3116)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বানূ নাজ্জার গোত্রের এক বাগানে প্রবেশ করেন, অতঃপর তিনি সেখানে কবর থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন, “এই কবরবাসীকে কখন দাফন করা হয়েছে?” সাহাবীগণ উত্তর দিলেন, “জাহেলী যুগে।” তখন তিনি খুশি হয়ে গেলেন এবং তিনি বলেন, “যদি এই আশংকা না থাকতো যে, তোমরা পরস্পরকে দাফন করা ছেড়ে দিবে, তবে আমি আল্লাহর কাছে দু‘আ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকে কবরের আযাব শুনান।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ২৮৬৮; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৭৬; ইমাম বাইহাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর: ৯২; আল আজুর্রী, আশ শারী‘আহ: ৩৬৩-৩৬৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৫৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (158).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3127)


3127 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَسَنَةَ، قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَفِي يَدِهِ كَهَيْئَةِ الدَّرَقَةِ، فَوَضَعَهَا، ثُمَّ بَالَ إِلَيْهَا فَقَالَ بَعْضُ [ص:398] الْقَوْمِ: انْظُرُوا إِلَيْهِ يَبُولُ كَمَا تَبُولُ الْمَرْأَةُ، قَالَ: فَسَمِعَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «وَيْحَكَ مَا عَلِمْتَ مَا أَصَابَ صَاحِبَ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانُوا إِذَا أَصَابَهُمْ شَيْءٌ مِنَ الْبَوْلِ، قَرَضُوا بِالْمَقَارِيضِ فَنَهَاهُمْ، فَعُذِّبَ فِي قَبْرِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3117)




আব্দুর রহমান বিন হাসানাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাদের কাছে আসেন, আর এসময় তাঁর হাতে ছিল চামড়ার বর্ম জাতীয় কোন কিছু। অতঃপর তিনি সেটা স্থাপন করলেন তারপর তিনি সেটাকে সামনে রেখে পেশাব করেন। তখন কওমের এক ব্যক্তি বলেন, “তোমরা তাঁর দিকে দেখো, তিনি মেয়েদের ন্যায় পেশাব করছেন!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা শ্রবণ করে বলেন, “দুর্ভোগ তোমার জন্য! তুমি কি জানো না বানী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির কী ঘটেছিল? তাদের কারো গায়ে যদি প্রস্রাবের কিছু অংশ লাগত, তখন তারা সেটা কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলতো। অতঃপর সেই ব্যক্তি তাদেরকে এমন করতে নিষেধ করে ফলে (মান্য না করায়) তাকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়।”[1]



[1] মুসনাদু আবী ইয়ালা: ৯৩২; নাসাঈ: ১/২৬-২৮; ইবনু মাজাহ: ৩৪৬; মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৯৬; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১২২; আবূ দাঊদ: ২২; হুমাইদী: ৮৮২; হাকিম: ১/১৮৪; সুনান বাইহাকী: ১/১০৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (16).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3128)


3128 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى قَبْرَيْنِ، فَقَالَ: «إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ، وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ»، ثُمَّ قَالَ: «بَلَى، أَمَا أَحَدُهُمَا، فَكَانَ يَسْعَى بِالنَّمِيمَةِ، وَأَمَّا الْآخَرُ، فَكَانَ لَا يَسْتَنْزِهُ مِنْ بَوْلِهِ» ثُمَّ أَخَذَ عُودًا، فَكَسَرَهُ بِاثْنَيْنِ، ثُمَّ غَرَزَ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى قَبْرٍ، ثُمَّ [ص:399] قَالَ: «لَعَلَّهُ يُخَفِّفُ عَنْهُمَا الْعَذَابَ مَا لَمْ يَيْبَسَا»
رقم طبعة با وزير = (3118)




আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দুটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন। তখন তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই এদেরকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অথচ তাদেরকে বড় (বেঁচে থাকা কঠিন) কোন বিষয়ে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। তারপর তিনি বলেন, “হ্যাঁ। তাদের একজন চোগলখুরি করতো আর অপরজন পেশাবের ছিটা থেকে বেঁচে থাকতো না।” তারপর তিনি একটি ডাল নেন অতঃপর সেটাকে ভেঙ্গে দুই ভাগ করেন। তারপর দুই কবরে তা গেড়ে দেন। অতঃপর বলেন, “হয়তো আল্লাহ এগুলো না শুকানো পর্যন্ত তাদের শাস্তি লাঘব করে দিবেন।” [1]



[1] সহীহুল বুখারী: ১৩৭৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৭৫; মুসনাদ আহমাদ: ১/২২৫; সহীহ মুসলিম: ২৯২; নাসাঈ: ১/২৮-৩০; আবূ দাঊদ: ২০; ইবনু মাজাহ: ৩৪৭; সুনান বাইহাকী: ২/৪১২; বাগাবী: ১৮৩; দারেমী: ১/১৮৮-১৮৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (178 و 283)، «صحيح أبي داود» (15): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3129)


3129 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مَعْشَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، [ص:400] عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِقَبْرَيْنِ، فَقَالَ: «إِنَّ هَذَيْنِ يُعَذَّبَانِ فِي غَيْرِ كَبِيرٍ: فِي النَّمِيمَةِ وَالْبَوْلِ»، ثُمَّ دَعَا بِجَرِيدَةٍ فَكَسَرَهَا، فَوَصَلَهَا عَلَيْهِمَا، وَقَالَ: «عَسَى أَنْ يُخَفَّفَ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا».
رقم طبعة با وزير = (3119) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: سَمِعَ هَذَا الْخَبَرَ مُجَاهِدٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَسَمِعَهُ عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فَالطَّرِيقَانِ جَمِيعًا مَحْفُوظَانِ




আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দুটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন। তখন তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই এদেরকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অথচ তাদেরকে বড় (বেঁচে থাকা কঠিন) কোন বিষয়ে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। তারপর তিনি বলেন, “হ্যাঁ। তাদের একজন চোগলখুরি করতো আর অপরজন পেশাবের ছিটা থেকে বেঁচে থাকতো না।” তারপর তিনি একটি ডাল নেন অতঃপর সেটাকে ভেঙ্গে দুই ভাগ করেন। তারপর দুই কবরে তা গেড়ে দেন। অতঃপর বলেন, “হয়তো আল্লাহ এগুলো না শুকানো পর্যন্ত তাদের শাস্তি লাঘব করে দিবেন।” [1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ সরাসরি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে শ্রবণ করেছেন আবার তাওস রহিমাহুল্লাহর সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে শ্রবণ করেছেন। কাজেই হাদীসটির দুটো সানাদই মাহফূয বা সহীহ।”



[1] সহীহুল বুখারী: ১৩৭৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৭৫; মুসনাদ আহমাদ: ১/২২৫; সহীহ মুসলিম: ২৯২; নাসাঈ: ১/২৮-৩০; আবূ দাঊদ: ২০; ইবনু মাজাহ: ৩৪৭; সুনান বাইহাকী: ২/৪১২; বাগাবী: ১৮৩; দারেমী: ১/১৮৮-১৮৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3130)


3130 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، [ص:401] عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا مَاتَ عُرِضَ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ، إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَمَنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، فَمَنْ أَهْلِ النَّارِ، يُقَالُ: هَذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى يَبْعَثَكَ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ»
رقم طبعة با وزير = (3120)




আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই যখন তোমাদের কেউ মারা যায়, তখন সকাল-বিকাল তার সামনে তার বাসস্থান পেশ করা হয়। যদি সে ব্যক্তি জান্নাতী হয়ে থাকে, তবে তাকে জান্নাতে তার ঠিকানা দেখানো হয় আর যদি সে জাহান্নামী হয়ে থাকে, তবে তাকে জাহান্নামে তার ঠিকানা দেখানো হয়। তাকে বলা হয়, “কিয়ামতের দিন আল্লাহু তোমাকে পুনরুত্থিত না করা পর্যন্ত এটাই তোমার বাসস্থান ।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২৩৯; মুসনাদ আহমাদ: ২/১১৩; সহীহুল বুখারী: ১৩৭৯; সহীহ মুসলিম: ২৮৬৬; নাসাঈ: ৪/১০৭-১০৮; বাগাবী: ১৫২৪; তিরমিযী: ১০৭২; ইবনু মাজাহ: ৪২৭০; আত তায়ালিসী: ১৮৩২; ইমাম বাইহাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর: ৪৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আর রওয: ৪৯৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الروض» (495): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3131)


3131 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، [ص:402] عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ عَذَابَ الْقَبْرِ»
رقم طبعة با وزير = (3121)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যদি এই আশংকা না থাকতো যে, তোমরা পরস্পরকে দাফন করা ছেড়ে দিবে, তবে আমি আল্লাহর কাছে দু‘আ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকে কবরের আযাব শুনান।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ২৮৬৮; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৭৬; ইমাম বাইহাকী, ইসবাতু আযাবিল কবর: ৯২; আল আজুর্রী, আশ শারী‘আহ: ৩৬৩-৩৬৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৫৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (3116). تنبيه!! رقم (3116) = (3126) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما