হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (3132)


3132 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عُمَرَ لَمَّا طُعِنَ عَوَّلَتْ عَلَيْهِ حَفْصَةُ، فَقَالَ لَهَا عُمَرُ: يَا حَفْصَةُ أَمَا سَمِعْتِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الْمُعَوَّلَ عَلَيْهِ يُعَذَّبُ» فَقَالَتْ: بَلَى
رقم طبعة با وزير = (3122)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন ‍উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আঘাত করা হয়, তখন হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ‘হায় দুর্ভোগ’ বলেন। তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তুমি কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনোনি, তিনি বলেছেন, “যার জন্য ‘হায় দুর্ভোগ’ বলা হয়, তাকে শাস্তি দেওয়া হয়?” তখন তিনি জবাবে বলেন, “জ্বী, হ্যাঁ।”[1]



[1] আত তায়ালিসী: ১০; মুসনাদ আহমাদ: ১/৩৯; সহীহ মুসলিম: ৯২৭; সুনান বাইহাকী: ৪/৭২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৮৯; সহীহুল বুখারী: ১২৯২; নাসাঈ: ৪/১৬-১৭; ইবনু মাজাহ: ১৫৯৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৪০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «أحكام الجنائز» (40).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3133)


3133 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْكَافِرَ لِيَزْدَادَ عَذَابًا بِبَعْضِ بُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ»
رقم طبعة با وزير = (3123)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই কাফির ব্যক্তির পরিবারের লোকদের কান্নার কারণে তার আযাব বৃদ্ধি পায়।”[1]



[1] নাসাঈ: ৪/১৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩১২৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (3126). تنبيه!! رقم (3126) = (3136) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3134)


3134 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ بِخَبَرٍ غَرِيبٍ بِحَرَّانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صُبَيْحٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ الْحَيِّ». فَقُلْتُ لِمُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ مَنْ قَالَهُ؟: قَالَ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
رقم طبعة با وزير = (3124)




মুহাম্মাদ বিন সিরীন রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জীবিতদের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হয়।” অধঃস্তন রাবী জিজ্ঞেস করেন, “আমি মুহাম্মাদ বিন সিরীন রহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম, “এই হাদীস আপনাকে কে বর্ণনা করেছেন?” জবাবে তিনি বলেন, “ইমরান বিন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।”[1]



[1] আত তায়ালিসী: ৮৫৫; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৯১; মুসনাদ আহমাদ: ২/১৩৪; সহীহ মুসলিম: ৯৩০; তাবারানী: ১২/১৩১২৬২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৪০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «أحكام الجنائز» (40).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات رجال الصحيح غير عبد الله بن صبيح فقد روى له النسائي وهو صدوق









সহীহ ইবনু হিব্বান (3135)


3135 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ النَّرْسِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ»
رقم طبعة با وزير = (3125)




আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পরিবারের লোকদের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হয়।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৯১; তাবারানী: ১২/১৩২২৯৯; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৪০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» -أيضا-: ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3136)


3136 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ: حَضَرْتُ جَنَازَةَ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ فَجَاءَ ابْنُ عُمَرَ، فَجَلَسَ، [ص:406] وَجَاءَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَجَلَسَ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: أَلَا تَنْهَى هَؤُلَاءِ عَنِ الْبُكَاءِ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الْمَيِّتَ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ». فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مُجِيبًا لَهُ: قَدْ كَانَ عُمَرُ يَقُولُ بَعْضَ ذَلِكَ
رقم طبعة با وزير = (3126)

3136 - خَرَجْنَا مَعَ عُمَرَ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ، إِذَا رَاكِبٌ فِي ظِلِّ شَجَرَةٍ، فَقَالَ: يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ انْظُرْ مَنِ الرَّاكِبُ، فَجِئْتُ فَإِذَا صُهَيْبٌ مَعَهُ أَهْلُهُ، فَقَالَ لِيَ: ادْعُ لِي صُهَيْبًا، فَصَحِبَهُ حَتَّى دَخَلَ الْمَدِينَةَ، فَأُصِيبَ عُمَرُ، فَقَالَ: وَاأَخَاهُ، وَاصَاحِبَاهُ، فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: يَا صُهَيْبُ، لَا تَبْكِي، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «يُعَذَّبُ الْمَيِّتِ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ»
رقم طبعة با وزير = (3126)

3136 - فَذَكَرَ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ، فَقَالَتْ: وَاللَّهِ مَا تَحَدِّثُونَ عَنْ كَذَّابِينَ وَلَا مُكَذَّبَيْنِ، وَإِنَّ لَكُمْ فِي الْقُرْآنِ مَا يَكْفِيَكُمْ عَنْ ذَلِكَ {وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [الأنعام: 164] وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ يَزِيدُ الْكَافِرَ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ»
رقم طبعة با وزير = (3126)




ইবনু আবী মুলাইকাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আবান বিন উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর জানাযায় উপস্থিত হই। অতঃপর আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা এসে বসেন। অতঃপর আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা এসে বসেন। এসময় আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “আপনি কি এদেরকে কান্না করতে নিষেধ করবেন না? নিশ্চয়ই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তির পরিবারের লোকদের কান্নার কারণে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়।” তখন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা জবাবে বলেন, “উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও এরকম কিছু বলতেন। আমরা একবার উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে বের হই। অতঃপর যখন আমরা বাইদাহ নামক জায়গায় আসি, সেসময় গাছের ছায়ায় এক আরোহী ব্যক্তিকে দেখা যায়। উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেন, “হে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস, দেখ তো, আরোহী ব্যক্তিটি কে?” তারপর আমি এসে দেখি তিনি সুহাইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং তাঁর সাথে তাঁর পরিবার। উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেন, “সুহাইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আমার কাছে নিয়ে আসো।” অতঃপর তিনি তাকে সাথে নেন অতঃপর মাদীনায় প্রবেশ করেন। অতঃপর উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন আক্রান্ত হন, তখন সুহাইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হায়! আমার ভাই! হায়! আমার সঙ্গী!” তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে সুহাইব, কান্না করো না। কেননা নিশ্চয়ই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “পরিবারের লোকদের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হয়।” তারপর সুহাইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হাদীসটি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছে বর্ণনা করলে, তিনি বলেন, “আল্লাহর কসম, নিশ্চয়িই তোমরা মিথ্যুক ব্যক্তিদের থেকে হাদীস বর্ণনা করছো না। আর এই ব্যাপারে কুরআনে যা এসেছে, সেটাই যথেষ্ট। মহান আল্লাহ বলেছেন, وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى (আর কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। -সুরা আনআম: ১৬৪)। বস্তুত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পরিবারের লোকদের কারণে কাফির ব্যক্তির আযাব বৃ্দ্ধি করা হয়।”[1]



[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৬৭৫; মুসনাদ ইমাম শাফেঈ: ১/৫৫৮; সহীহুল বুখারী: ১২৮৬; নাসাঈ: ৪/১৮-১৯; ‍সুনান বাইহাকী: ৪/৭৩; বাগাবী: ১৫৩৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ সুনান আন নাসাঈ: ১৭৫৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح سنن النسائي» (1753): خ (1286 - 1288)، م (3/ 43 - 44).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3137)


3137 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ لَمَّا مَاتَ رَافِعُ بْنُ خَدِيجٍ قَالَ لَهُمْ: لَا تَبْكُوا، فَإِنَّ بُكَاءَ الْحَيِّ عَذَابٌ لِلْمَيِّتِ، قَالَتْ عَمْرَةُ: فَسَأَلْتُ عَائِشَةَ، فَقَالَتْ: يَرْحَمُهُ اللَّهُ، إِنَّمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَهُودِيَّةٍ وَأَهْلُهَا يَبْكُونَ عَلَيْهَا: «» إِنَّهُمْ لَيَبْكُونَ، وَإِنَّهَا لَتُعَذَّبُ فِي قَبْرِهَا «»
رقم طبعة با وزير = (3127)




আমরাহ বিনতু আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন রাফে‘ বিন খাদীজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মারা যান, তখন আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা তাদেরকে বলেন, “তোমরা কান্না করো না। কেননা জীবিতদের কান্না মৃতদের জন্য শাস্তির কারণ হয়।” আমরাহ বিনতু আব্দুর রহমান বলেন, “তারপর আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন, “আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। বস্তুত রাসূল এটা এক (মৃত) ইয়াহুদী নারীর ব্যাপারে বলেছিলেন, যার পরিবারের লোকজন কান্না করছিলো। তখন তিনি বলেছিলেন, “নিশ্চয়ই ওরা কান্না করছে, নিশ্চয়ই তাকে কবরে এজন্য শাস্তি দেওয়া হবে।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২৩৪; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১০৭; সহীহুল বুখারী: ১২৮৯; সহীহ মুসলিম: ৯৩২; তিরমিযী: ১০০৬; নাসাঈ: ৪/১৭; সুনান বাইহাকী: ৪/৭২; ইবনু মাজাহ: ১৫৯৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩১১৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح ابن ماجه» (1595) - مضى (3117). تنبيه!! رقم (3117) = (3127) من «طبعة المؤسسة». لكن الحديث ليس موجود بالرقو المشار إليه، وإنما موجود برقم (3113) الموافق لـ (3123) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3138)


3138 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، [ص:408] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كُلُّ ابْنِ آدَمَ يَأْكُلُهُ التُّرَابُ إِلَّا عَجْبَ الذَّنَبِ، مِنْهُ خُلِقَ، وَفِيهِ يُرَكَّبُ»
رقم طبعة با وزير = (3128)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আদম সন্তানের পুরো শরীর সত্তা মাটি খেয়ে ফেলবে মেরুদন্ডের নিম্নাংশের টেলবোন ব্যতিত। এখান থেকেই তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এখান থেকেই তাকে (পুনরায়) বিন্যস্ত করা হবে।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২৩৯; নাসাঈ: ৪/১১১-১১২; আবূ দাঊদ: ৪৭৪৩; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩২২; সহীহ মুসলিম: ২৯৫৫; সহীহুল বুখারী: ৪৮১৪; ইবনু মাজাহ: ৪২৬৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ ইবনু মাজাহ: ৪২৬৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح ابن ماجه» (4266): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3139)


3139 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فِي الْإِنْسَانِ عَظْمٌ لَا تَأْكُلُهُ الْأَرْضُ أَبَدًا، مِنْهُ يُرَكَّبُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» قَالُوا: وَأَيُّ [ص:409] عَظْمٍ هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «عَجْبُ الذَّنَبِ»
رقم طبعة با وزير = (3129)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আদম সন্তানের পুরো শরীর সত্তা মাটি খেয়ে ফেলবে মেরুদন্ডের নিম্নাংশের টেলবোন ব্যতিত। এখান থেকেই তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এখান থেকেই তাকে (পুনরায়) বিন্যস্ত করা হবে।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২৩৯; নাসাঈ: ৪/১১১-১১২; আবূ দাঊদ: ৪৭৪৩; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩২২; সহীহ মুসলিম: ২৯৫৫; সহীহুল বুখারী: ৪৮১৪; ইবনু মাজাহ: ৪২৬৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ ইবনু মাজাহ: ৪২৬৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق؛ إلا قوله «أبداً» - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3140)


3140 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ دَرَّاجًا أَبَا السَّمْحِ، حَدَّثَهُ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَأْكُلُ التُّرَابُ كُلَّ شَيْءٍ مِنَ الْإِنْسَانِ إِلَّا عَجْبَ ذَنْبِهِ» قِيلَ: وَمَا هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «مِثْلُ حَبَّةِ خَرْدَلٍ، مِنْهُ يَنْشَأُ»
رقم طبعة با وزير = (3130)




আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আদম সন্তানের মেরুদন্ডের নিম্নাংশের টেলবোন ব্যতিত পুরো শরীর সত্তা মাটি খেয়ে ফেলবে।” তাঁকে বলা হলো, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা কী?” জবাবে তিনি বলেন, “সরিষার দানা বরাবর। এখান থেকেই নতুনভাবে সৃষ্টি করবেন।”[1]



[1] হাকিম: ৪/৬০৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৮; আবূ ইয়ালা: ১৩৮২; হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ১০/৩৩২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির ব্যাপারে স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৪/১৯২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «التعليق الرغيب» (4/ 192)، وصح دون قوله: «مِثْلُ حَبَّةِ خَرْدَلٍ» انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: دراج أبو السمح ضعيف وباقي رجاله ثقات ويشهد له ما قبله









সহীহ ইবনু হিব্বান (3141)


3141 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا رِبْعِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «ثَلَاثٌ مِنْ عَمَلِ الْجَاهِلِيَّةِ لَا يَتْرُكُهُنَّ أَهْلُ الْإِسْلَامِ: النِّيَاحَةُ، وَالِاسْتِسْقَاءُ بِالْأَنْوَاءِ، وَالتَّعَايُرُ». «[ص:411] رِبْعِيٌّ هُوَ أَخُو إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُلَيَّةَ»
رقم طبعة با وزير = (3131)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জাহেলী যুগের তিনটি কাজ যা ইসলামপন্থীরা পরিত্যাগ করবে না। সেগুলো হলো বিলাপ-আহাজারী করা, নক্ষত্রের মাধ্যমে পানি প্রার্থনা করা এবং বংশ তুলে গালি দেওয়া।”[1] হাদীসের রাবী রিবঈ হলেন ইসমাঈল বিন উলিয়্যাহর ভাই।



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/২৬২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩৯০; ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদ: ৩৯৫; সহীহ মুসলিম: ৬৭; সুনান বাইহাকী: ৪/৬৩; বাযযার: ৭৯৭; তাবারানী: ২১৭৮; সহীহুল বুখারী: ৩৮৫০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৮০১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1801).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3142)


3142 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ *، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ *، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ ذَكْوَانَ، [ص:412] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَرْبَعٌ مِنَ الْجَاهِلِيَّةِ لَنْ يَدَعَهَا النَّاسُ: النِّيَاحَةُ، وَالتَّعَايُرُ، أَوِ التَّعَايُرُ فِي الْأَنْسَابِ، وَمُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا، وَالْعَدْوَى: جَرِبَ بَعِيرٌ فِي مِئَةِ بَعِيرٍ، فَمَنْ أَعْدَى الْأَوْلَ؟ »
رقم طبعة با وزير = (3132)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জাহেলী যুগের চারটি কাজ, যা লোকজন কখনই পরিত্যাগ করবে না। সেগুলো হলো বিলাপ-আহাজারী করা, বংশ তুলে গালি দেওয়া, এরকম বলা “ওমুক ওমুক নক্ষত্রের কারণে আমাদের বৃষ্টি দেওয়া হয়েছে” এবং সংক্রমনে বিশ্বাস করা; একশ উটের মাঝে একটি উট পাঁচড়াযুক্ত হলে বলা হয়, এ রোগ অন্য উটকে সংক্রমিত করেছে, (নবী ﷺ বললেন) তাহলে প্রথম উটকে কে সংক্রমিত করলো?”[1]



[1] আত তায়ালিসী: ২৩৯৫; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৫৫; তিরমিযী: ১০০১; বাযযার: ৮০০; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/১৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৮৩৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (735). * [عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ] قال الشيخ: هو ابن بُحير الحافظ الثبت، أكثرَ المُصَنِّفُ عنه، وله تَرجَمةٌ في «سير الذهبي» (14/ 405). ومن فوقه ثقاتٌ رجال الشيخين، وهو إسنادٌ عَزِيز، غير إسناد الترمذي المُخَرَّج في «الصحيحة». * [أَبُو عَامِرٍ] قال الشيخ: وهو عبد الملك بن عمرو القَيْسيّ العقدي.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3143)


3143 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ الْقَيْسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ سَلَّامٍ، عَنْ أَبِي سَلَّامٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَهْوَاءِ الْجَاهِلِيَّةِ لَا يَتْرُكُونَهُنَّ: الْفَخْرُ فِي [ص:413] الْأَحْسَابِ، وَالطَّعْنُ فِي الْأَنْسَابِ، وَالِاسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ، وَالنِّيَاحَةُ، وَالنَّائِحَةُ إِذَا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا يُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهَا سِرْبَالٌ مِنْ قَطِرَانٍ وَدِرْعٌ مِنْ جَرَبٍ»
رقم طبعة با وزير = (3133)




আবূ মালিক আল আশ‘আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমার উম্মতের মাঝে জাহেলী যুগের প্রবৃত্তির চাহিদামূলক চারটি কাজ থাকবে; তারা এগুলো পরিত্যাগ করবে না। সেগুলো হলো বংশীয় অহমিকা, বংশ তুলে গালি দেওয়া, নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং বিলাপ করা। বিলাপকারিনী নারী, যদি মৃত্যুর আগে তাওবা করে মারা না যায়, তবে কিয়ামতের দিন তাকে দাঁড় করানো হবে এমন অবস্থায় যে, তার পরিধানে থাকবে আল কাতরার পাজামা ও পাঁচড়াযুক্ত ওড়না!”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৯০; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৩৪২; সহীহ মুসলিম: ৯৩৪; তাবারানী: ৩/৩৪২৬; সুনান বাইহাকী: ৪/৬৩; বাগাবী: ১৫৩৩; হাকিম: ১/৩৮৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৬৮৬; ইবনু মাজাহ: ১৫৮১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৭৩৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (734)، «الأحكام» (39).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3144)


3144 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ: [ص:414] قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ: لَمَّا مَاتَ أَبُو سَلَمَةَ قُلْتُ: غَرِيبٌ فِي أَرْضِ غُرْبَةٍ، لَأَبْكِيَنَّ بُكَاءً يُتَحَدَّثُ عَنْهُ، وَكُنْتُ قَدْ هَيَّأْتُ الْبُكَاءُ عَلَيْهِ، إِذْ أَقْبَلَتِ امْرَأَةٌ مِنَ الْمُسْعِدَاتِ تُرِيدُ أَنْ تُسْعِدَنِي، فَاسْتَقْبَلَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: «تُرِيدِينَ أَنْ تُدْخِلِي الشَّيْطَانَ بَيْتًا أَخْرَجَهُ اللَّهُ مِنْهُ» قَالَتْ: فَكَفَفْتُ عَنِ الْبُكَاءِ، وَلَمْ أَبْكِ
رقم طبعة با وزير = (3134)




উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন আবূ সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মারা যান, তখন আমি বললা, “এক প্রবাসী প্রবাসে মারা গেলো। আমি এমন কাঁদা কাঁদবো যে, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর তার জন্য কান্নার প্রস্তুতিও গ্রহণ করি। এমন সময় এক মহিলা কান্নায় সহযোগিতা করতে আসে। তখন তার সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখা হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তুমি এমন ঘরে শয়তানকে প্রবেশ করাতে চাচ্ছো, যে ঘর থেকে আল্লাহ শয়তানকে বের করে দিয়েছেন।” উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “অতঃপর আমি কান্না করা থেকে বিরত থাকি। আমি আর মোটেও কান্না করিনি।”[1]



[1] তাবারানী: ২৩/৬০১; ‍মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৯১; মুসনাদ আহমাদ: ৬/২৮৯; হুমাইদী: ২৯১; সহীহ মুসলিম: ৯২২; সুনান বাইহাকী: ৪/৬৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩১৩৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3145)


3145 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ: لَمَّا نَزَلَتْ {إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ} [الممتحنة: 12] إِلَى قَوْلِهِ: {وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ} [الممتحنة: 12] قَالَتْ: كَانَ مِنْهُ النِّيَاحَةُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلَّا آلَ فُلَانٍ، فَإِنَّهُمْ قَدْ كَانُوا أَسْعَدُونِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَلَابُدَّ لِي [ص:415] مِنْ أَنْ أُسْعِدَهُمْ، فَقَالَ: «إِلَّا آلَ فُلَانٍ»
رقم طبعة با وزير = (3135)




উম্মু আতিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়, إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ (যখন মুমিনা নারীগণ বাইয়াত করার জন্য আপনার কাছে আসে ...। -সূরা মুমতাহিনাহ: ১২) এই পর্যন্ত وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ (আর তারা সৎ কাজে আপনার অবাধ্য হবে না। -সূরা মুমতাহিনাহ: ১২), উম্মু আতিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “বিলাপ করার বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ওমুক পরিবার ব্যতীত। কেননা তারা জাহেলী যুগে আমার কাঁদার কাজে সহযোগিতা করেছিল। কাজেই আমাকে অবশ্যই তাদের সহযোগিতা করতে হবে।” তখন তিনি বলেন, “ঠিক আছে, ঐ পরিবার বাদে।”[1]



[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৮৯; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪০৭; সহীহ মুসলিম: ৯৩৬; তাবারানী: ২৫/১৩৬; হাকিম: ১/৩৮৩; সহীহুল বুখারী: ৪৮৯২; সুনান বাইহাকী: ৪/৬২; নাসাঈ: ৭/১৪৮-১৪৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আন নাসাঈ: ৩৮৯৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح النسائي» (3895).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3146)


3146 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: أَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَلَى النِّسَاءِ حَيْثُ بَايَعَهُنَّ أَنْ لَا يَنُحْنَ، فَقُلْنَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ نِسَاءً أَسْعَدْنَنَا فِي [ص:416] الْجَاهِلِيَّةِ، فَنُسْعِدُهُنَّ فِي الْإِسْلَامِ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا إِسْعَادَ فِي الْإِسْلَامِ، وَلَا شِغَارَ فِي الْإِسْلَامِ، وَلَا عَقْرَ فِي الْإِسْلَامِ، وَلَا جَلَبَ، وَلَا جَنَبَ وَمَنِ انْتَهَبَ فَلَيْسَ مِنَّا»
رقم طبعة با وزير = (3136)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “মেয়েরা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বাইয়াত গ্রহণ করে, তখন তিনি তাদের কাছে এই অঙ্গিকার গ্রহণ করেন যে, তারা কারো মৃত্যুতে বিলাপ-আহাজারী করবে না। তখন নারীরা বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কিছু নারী আমাদেরকে জাহেলী যুগে সহযোগিতা করেছে, আমরা কি তাদেরকে ইসলামে আসার পর সহযোগিতা করবো?” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ইসলামে কান্নার কাজে কোন সহযোগিতা নেই, ইসলামে শিগার (এক পক্ষের কোন নারীকে বিবাহ দিয়ে মোহর হিসেবে অন্য পক্ষের কোন মেয়েকে প্রথম পক্ষের কারো সাথে বিবাহ দেওয়া। ঊভয় বিবাহেই কোন মোহর থাকে না) নেই, ইসলামে কোন আকার (কোন দানশীল ব্যক্তির কবরে পশু জবাই করে রেখে দেয়, যাতে সেগুলো পশু-পাখি খেতে পারে, সে যে বেঁচে থাকতে মানুষকে খাওয়াতো, সেটা যেন মরণের পরেও অব্যাহত থাকে), কোন জালাব (যাকাতযোগ্য পশুর যাকার দেওয়ার জন্য পশুকে যাকাত উসূলকারীর কাছে আনা যাবে না) নেই, নেই কোন জানাব (উটের মালিককে দূরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। বরং পশুর যাকাত পশু অবস্থানের জায়গায় গ্রহণ করতে হবে)। আর যে ব্যক্তি লুন্ঠন করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”[1]



[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৬৯০; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৯৭; নাসাঈ: ৪/১৬; সুনান বাইহাকী: ৪/৬২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মিশকাত: ২৯৪৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «المشكاة» (2947).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (3147)


3147 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، بِحَرَّانَ قَالَ: حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: لَمَّا جَاءَ نَعْيُ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ، وَجَعْفَرٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَوَاحَةَ جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يُعْرَفُ فِي وَجْهِهِ الْحُزْنُ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ: هَذِهِ نِسَاءُ جَعْفَرٍ يَنُحْنَ عَلَيْهِ، وَقَدْ أَكْثَرْنَ بُكَاءَهُنَّ، قَالَ: فَأَمَرَهُ أَنْ يَنْهَاهُنَّ، فَمَكَثَ شَيْئًا ثُمَّ رَجَعَ، فَذَكَرَ أَنَّهُ نَهَاهُنَّ، فَأَبَيْنَ أَنْ يُطِعْنَهُ، فَأَمَرَهُ الثَّانِيَةَ أَنْ يَنْهَاهُنَّ، قَالَ: فَذَكَرَ أَنَّهُ قَدْ غَلَبْنَهُ قَالَ: «فَاحْثُ فِي وُجُوهِهِنَّ التُّرَابَ». قَالَتْ عَمْرَةُ: فَقَالَتْ عَائِشَةُ عِنْدَ ذَلِكَ: «أَرْغَمَ اللَّهُ بِآنَافِهِنَّ، وَاللَّهِ مَا تَرَكْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَا أَنْتَ بِفَاعِلٍ»
رقم طبعة با وزير = (3137)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন যাইদ বিন হারিসা, জা‘ফর বিন আবী তালিব ও আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমদের মৃত্যু সংবাদ আসলো, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসেন, এমন অবস্থায় তাঁর চেহারায় দুঃখিত হওয়ার ছাপ পরিলক্ষিত হচ্ছিল। এসময় এক ব্যক্তি এসে বলেন, “জা‘ফর বিন আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের নারীরা বিলাপ করছে এবং অত্যধিক কান্না করছে।” রাবী বলেন, “তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে (কান্না-বিলাপ করতে) বারণ করার জন্য তাকে আদেশ করেন। তারপর সেই ব্যক্তি কিছুক্ষন পর ফিরে এসে বলেন যে, তিনি তাদেরকে নিষেধ করেছেন কিন্তু তারা তার কথা মানেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দ্বিতীয়বার তাদেরকে নিষেধ করার আদেশ দেন। রাবী বলেন, “সেই ব্যক্তি আবারো এসে বলেন যে, তারা তাকে পরাভূত করেছে। তখন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তবে তাদের মুখে তুমি মাটি নিক্ষেপ করো!” আমরাহ বলেন, “তখন আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আল্লাহ তাদের নাকগুলোকে ধুলোমলিন করুন। আল্লাহর কসম, তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ছাড়ছো না আবার নিজেও কিছু করতে পারছো না!” [1]



[1] সহীহুল ‍বুখারী: ১২৯৯; সহীহ মুসলিম: ৯৩৫; সুনান বাইহাকী: ৪/৫৯; নাসাঈ: ৪/১৪-১৫; আবূ দাঊদ: ৩১২২; মুসনাদ আহমাদ: ৬/২৭৬-২৭৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৯২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২৭৩৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2734): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (3148)


3148 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ الرَّيَّانِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةِ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ، عَنِ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ، أَنَّهَا قَالَتْ: لَمَّا أُصِيبَ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «تَسَلَّمِي ثَلَاثًا، ثُمَّ [ص:419] اصْنَعِي بَعْدُ مَا شِئْتِ»
رقم طبعة با وزير = (3138) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «تَسَلَّمِي ثَلَاثًا» لَفْظَةُ أَمْرٍ قُرِنَتْ بِعَدَدٍ مَوْصُوفٍ قُصِدَ بِهِ الْحَسْمُ عَمَّا لَا يَحِلُّ اسْتِعْمَالٌ فِي ذَلِكَ الْعَدَدِ، قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اصْنَعِي بَعْدُ مَا شِئْتِ» لَفْظَةُ أَمْرٍ قُصِدَ بِهِ الِإبَاحَةُ فِي ظَاهِرِ الْخَطَّابِ، مُرَادُهَا الزَّجْرُ عَنِ اسْتِعْمَالِ مَا أَمَرَ بِهِ، يُرِيدُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَوْلِهِ مَا وَصَفْتُ التَّسْلِيمَ لِأَمْرِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا فِي الْأَيَّامِ الثَّلَاثِ وَقَبْلَهَا وَبَعْدَهَا




আসমা বিনতু উমাইস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন জা‘ফর বিন আবী তালিব শাহাদাত বরণ করেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করে বলেন, “তুমি তিনদিন শোকের পোশাক পরবে। তারপর এরপর যা ইচ্ছা করো ”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “তুমি তিনদিন শোকের পোশাক পরবে” এটি একটি নির্দেশসূচক শব্দ, যার সাথে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা যুক্ত হয়েছে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনগুলোতে যা করা বৈধ নয়, তা বাদ দেওয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “ তারপর এরপর যা ইচ্ছা করো” এই বক্তব দ্বারা বাহ্যিকভাবে বৈধতা বুঝা যায়। কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা তিনি আদেশ করেছেন, তা প্রতিপালন করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা। সুতরাং বর্ণিত বাক্য দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্য হলো ঐ তিন দিন, তার আগে ও পরে আল্লাহর নির্দেশের কাছে আত্নসমর্পন করা।”



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৬৯; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ৩/৭৫; তাবারানী: ২৪/৩৬৯; সুনান বাইহাকী: ৭/৪৩৮; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/১৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৩২২৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (3226).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (3149)


3149 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ [ص:421] ضَرَبَ الْخُدُودَ، وَشَقَّ الْجُيُوبَ، وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ»
رقم طبعة با وزير = (3139)




আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ঐ ব্যক্তি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে গালে আঘাত করে, জামার পকেট ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহেলী যুগের লোকদের ন্যায় চিৎকার করে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/৪৩২; সহীহুল বুখারী: ২১৯৭; সহীহ মুসলিম: ১০৩; ইবনু মাজাহ: ১৫৮৪; সুনান বাইহাকী: ৪/৬৩; বাগাবী: ১৫৩৩; তিরমিযী: ৯৯৯; নাসাঈ: ৪/২০; ইবনুল জারূদ: ৫১৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৪২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (42): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (3150)


3150 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى الْفُضَيْلِ، عَنْ أَبِي حَرِيزٍ، أَنَّ أَبَا بُرْدَةَ، حَدَّثَهُ، أَنَّ أَبَا مُوسَى حِينَ حَضَرَهُ الْمَوْتُ قَالَ: «إِذَا انْطَلَقْتُمْ [ص:422] بِجِنَازَتِي، فَأَسْرِعُوا الْمَشْيَ وَلَا تُتْبِعُونِي بِجَمْرٍ، وَلَا تَجْعَلُوا عَلَى لَحْدِي شَيْئًا يَحُولُ بَيْنِي وَبَيْنَ التُّرَابِ، وَلَا تَجْعَلُوا عَلَى قَبْرِي بِنَاءً، وَأُشْهِدُكُمْ أَنِّي بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ حَالِقَةٍ أَوْ سَالِقَةٍ أَوْ خَارِقَةٍ»، قَالُوا: سَمِعْتَ فِيهِ شَيْئًا؟ قَالَ: نَعَمْ، مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
رقم طبعة با وزير = (3140)




আবূ বুরদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আবূ মুসা আশ‘আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মুমূর্ষু অবস্থায় বলেন, “যখন তোমরা আমার জানাযা নিয়ে যাবে, তখন তোমরা দ্রুত গতিতে হেঁটে যাবে, আমার সাথে কোন আগুনের অঙ্গার সাথে নিবে না, আমার বগলি কবরে আমার মাঝে ও মাটির মাঝে কোন কিছু রাখবে না এবং আমার কবরের উপর কোন স্থাপনা নির্মাণ করবে না। আমি তোমাদেরকে সাক্ষ্যি রেখে বলছি, “নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক মাথা মুন্ডনকারিনী, উচ্চ আওয়াজে বিলাপকারিনী ও কাপড় বিদীর্ণকারিনী থেকে মুক্ত।” লোকজন বললো, “আপনি কি এই ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন কিছু শ্রবণ করেছেন?” জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৯৭; ইবনু মাজাহ: ১৪৮৭; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২২৬; আবূ দাঊদ: ৩১৭১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৪৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (43): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3151)


3151 - أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ مُسْلِمٍ بِفَرْهَاذْجِرْدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْجُعْفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ خَالِدٍ الْأَحْدَبِ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ، قَالَ: لَمَّا حَضَرَ أَبُو مُوسَى، صَاحُوا عَلَيْهِ فَقَالَ: قَالَ [ص:423] النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ سَلَقَ، وَلَا خَرَقَ وَلَا حَلَقَ»
رقم طبعة با وزير = (3141)




সাফওয়ান বিন মুহরিয থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যখন আবূ মুসা আশআরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মুমূর্ষু অবস্থায় পৌঁছেন, তখন লোকজন চিৎকার করেন। সেসময় আবূ মুসা আশআরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি উচ্চ আওয়াজে বিলাপ করে, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে ও মাথার চুল মুন্ডন করে।”[1]



[1] নাসাঈ: ৪/২০; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৯৬; সহীহ মুসলিম: ১০৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে উত্তম বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৪৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» -أيضا-: ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده جيد