সহীহ ইবনু হিব্বান
3192 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ، بَلَّغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3182)
সাহল বিন হুনাইফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সততার সাথে আল্লাহর কাছে শাহাদত কামনা করবে, তাকে আল্লাহ মানযিলে পৌঁছাবেন, যদিও সে নিজ বিছানায় মারা যায়।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ১৯০৯; আবূ দাঊদ: ১৫২০; নাসাঈ: ৬/৩৬-৩৭; ইবনু মাজাহ: ২৭৯৭; সুনান বাইহাকী: ৯/১৬৯-১৭০; তিরমিযী: ১৬৫৩; দারেমী: ২/২০৫; তাবারানী: ৬/৫৫৫০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৩৬০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1360): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الصحيح
3193 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مَعْشَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَزَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، قَالَ: [ص:466] حَدَّثَتْنَا أُمُّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَا هُوَ فِي بَيْتِهَا وَعِنْدَهُ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَمْ صَدَقَةُ كَذَا وَكَذَا مِنَ التَّمْرِ؟ قَالَ: «كَذَا وَكَذَا» قَالَ الرَّجُلُ: فَإِنَّ فُلَانًا تَعَدَّى عَلَيَّ، وَأَخَذَ مِنِّي كَذَا وَكَذَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَكَيْفَ إِذَا سَعَى عَلَيْكُمْ مَنْ يَتَعَدَّى عَلَيْكُمْ أَشَدَّ مِنْ هَذَا التَّعَدِّي»، فَخَاضَ الْقَوْمُ فِي ذَلِكَ، فَقَالَ الرَّجُلُ مِنْهُمْ: فَكَيْفَ بِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا كَانَ الرَّجُلُ مِنَّا غَائِبًا فِي إِبِلِهِ وَمَاشِيَتِهِ وَزَرْعِهِ وَنَخْلِهِ، فَأَدَّى زَكَاةَ مَالِهِ، فَتَعَدَّى عَلَيْهِ الْحَقَّ، فَكَيْفَ يَصْنَعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَدَّى زَكَاةَ مَالِهِ طَيْبَةً بِهَا نَفْسُهُ يُرِيدُ بِهَا وَجْهَ اللَّهِ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ، ثُمَّ لَمْ يُغَيِّبُ مِنْهَا شَيْئًا، وَأَقَامَ الصَّلَاةَ، وَآتَى الزَّكَاةَ فَتَعَدَّى عَلَيْهِ الْحَقَّ، فَأَخَذَ سِلَاحَهُ، فَقَاتَلَ فَقُتِلَ، فَهُوَ شَهِيدٌ».
رقم طبعة با وزير = (3183) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «مَعْنَى هَذَا الْخَبَرِ إِذَا تَعَدَّى [ص:467] عَلَى الْمَرْءِ فِي أَخَذِ صَدَقَتِهِ، أَوْ مَا يُشْبِهُ هَذِهِ الْحَالَةَ، وَكَانَ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ الَّذِي يُوَاطِؤُونَهُ عَلَى ذَلِكَ، وَفِيهِمْ كِفَايَةٌ بَعْدَ أَنْ لَا يَكُونَ قَصْدُهُمُ الدُّنْيَا، وَلَا شَيْئًا مِنْهَا دُونَ إِلْقَاءِ الْمَرْءِ نَفْسَهُ إِلَى التَّهْلُكَةِ» إِذِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِأَبِي ذَرٍ: «اسْمَعْ وَأَطِعْ وَلَوْ عَبْدًا حَبَشِيًّا مُجَدَّعًا» وَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلَاحَ فَلَيْسَ مِنَّا»
উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গৃহে ছিলেন। এসময় তাঁর কাছে কিছু সাহাবী ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললো, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এতো এতো পরিমাণ খেজুরের যাকাত কত?” জবাবে তিনি বলেন, “এতো এতো পরিমাণ।” তখন লোকটি বললো, ওমুক ব্যক্তি আমার উপর সীমালঙ্ঘন করেছে এবং আমার কাছ থেকে এতো পরিমাণ যাকাত গ্রহণ করেছে।” নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “সেসময় তোমাদের অবস্থা কেমন হবে, যখন তোমার উপর এমন শাসক আসবে, যারা তোমাদের উপর এরচেয়েও বেশি সীমালঙ্ঘন করবে?” তারপর লোকজন সেই বিষয়ে বলাবলি করে। তখন তাদের মাঝে এক ব্যক্তি বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সেই সময় আমাদের কী করা উচিত, যখন আমাদের কেউ তার উট, গবাদি পশু, খেজুরের কাছে উপস্থিত থাকে না, সেসময় যাকাত করা হলে যদি তার উপর সীমালঙ্ঘন করা হয়?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি খুশি মনে, আল্লাহর সুন্তুষ্টি ও পরকালের আশায় যাকাত আদায় করে, যাকাতযোগ্য কোন পণ্যকে গোপন করে না, সালাত আদায় করে, যাকাত আদায় করে অতঃপর তার উপর সীমালঙ্ঘন করা হয় আর সেই ব্যক্তি অস্ত্র গ্রহণ করে সীমালঙ্ঘনকারীর সাথে লড়াই করে নিহত হয়, তবে সে ব্যক্তি শহীদ।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসের অর্থ হলো যখন কোন মানুষের উপর সীমালঙ্ঘন করা হবে, তার যাকাতের মাল গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অথবা এ ধরণের কোন অবস্থা সৃষ্টি হবে আর তার সাথে একদল মুসলিম থাকবে, যারা মোকাবেলা করার জন্য যথেষ্ট হবে। তাদের উদ্দেশ্য দুনিয়ার কোন কিছু হবে না এবং নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিবে না (তখন তিনি প্রতিরোধ গড়ে তুলবে; অন্যথায় নয়)। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন, “তুমি (শাসকের কথা) শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে। যদিও তিনি নাক-কান কাটা হাবশী ব্যক্তি হয়।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের উপর অস্ত্র ধারণ করবে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩০১; হাকিম: ১/৪০৪-৪০৫; সুনান বাইহাকী: ৪/১৩৭; তাবারানী আল কাবীর: ২৩/৬৩২; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/৭২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২২৯১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2291).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات رجال الصحيح غير أيوب بن محمد الوزان وهو ثقة وعبد الله بن جعفر وثقه ابن معين وأبو حاتم
3194 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى السَّخْتِيَانِيُّ، بِجُرْجَانَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ»
رقم طبعة با وزير = (3184)
সাঈদ বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি স্বীয় সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/১৮৭; হুমাইদী: ৮৩; নাসাঈ: ৭/১১৫-১১৬; ইবনু মাজাহ: ২৫৮০; আবূ ইয়ালা: ৯৪৯; সুনান বাইহাকী: ৩/২৬৬; তিরমিযী: ১৪২১; আত তায়ালিসী: ২৩৩; আবূ দাঊদ: ৪৭৭২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৫৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحكام الجنائز» (56 و 57)، «الإرواء» (3/ 164 - 165)، «الروض النضير» (329).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري
3195 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفِ ابْنِ أَخِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْلٍ الْمَدَنِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ ظَلَمَ مِنَ الْأَرْضِ شِبْرًا طَوَّقَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ». قَالَ مَعْمَرٌ: وَبَلَغَنِي عَنِ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ».
رقم طبعة با وزير = (3185) [ص:469] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: «رَوَى هَذَا الْخَبَرَ أَصْحَابُ الزُّهْرِيِّ الثِّقَاتُ الْمُتْقِنُونَ، فَاتَّفَقُوا كُلُّهُمْ عَلَى رِوَايَتِهِمْ هَذَا الْخَبَرَ عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، خَلَا مَعْمَرٍ وَحْدَهُ، فَإِنَّهُ أُدْخِلَ بَيْنَ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَبَيْنَ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْلٍ، وَأَخَافُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ وَهْمًا»، وَقَدْ قَالَ مَعْمَرٌ فِي هَذَا الْخَبَرِ «بَلَغَنِي عَنِ الزُّهْرِيِّ فَيُشَبِّهُ أَنْ يَكُونَ سَمِعَهُ مِنْ بَعْضِ أَصْحَابِهِ عَنِ الزُّهْرِيِّ فَالْقَلْبُ إِلَى رِوَايَةِ أُولَئِكَ أَمْيَلُ
সাঈদ বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি অর্ধ হাত পরিমাণ জমিন অন্যায়ভাবে দখল করে নিবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ সাত তবক পর্যন্ত সেই জমিন তার গলায় ঝুলিয়ে দিবেন।” মা‘মার রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমার কাছে ইমাম যুহরী থেকে এই হাদীস পৌঁছেছে, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি স্বীয় সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি ইমাম যুহরী রহিমাহুল্লাহর নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ছাত্ররা সবাই বর্ণনা করেছেন ইমাম যুহরী থেকে, তিনি তালহা বিন আব্দু্ল্লাহ বিন আওফ থেকে, তিনি সাঈদ বিন যাইদ থেকে। তবে মা‘মার এককভাবে হাদীসটি বর্ণনায় সানাদে তালহা বিন আব্দু্ল্লাহ ও সাঈদ বিন যাইদের মাঝে আব্দুর রহমান বিন সাহলকে ঢুকিয়েছেন। আমার আশংকা এটা তার ভুল। মা‘মার হাদীসটিতে বলেছেন, “আমার কাছে ইমাম যুহরী থেকে হাদীস পৌঁছেছে”। কাজেই হতে পারে তিনি হাদীসটি ইমাম যুহরীর কোন ছাত্র থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি ইমাম যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আমার হৃদয় ইমাম যুহরীর অন্যান্য ছাত্ররা যা ঐক্যমতের ভিত্তিতে বর্ণনা করেছেন, সেদিকেই বেশি ঝোঁকপ্রবণ।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/১৮৭; হুমাইদী: ৮৩; নাসাঈ: ৭/১১৫-১১৬; ইবনু মাজাহ: ২৫৮০; আবূ ইয়ালা: ৯৪৯; সুনান বাইহাকী: ৩/২৬৬; তিরমিযী: ১৪২১; আত তায়ালিসী: ২৩৩; আবূ দাঊদ: ৪৭৭২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আর রওয: ৩৩৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الروض النضير» (338): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3196 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: [ص:470] حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ سَلَمَةَ بْنَ الْأَكْوَعِ، قَالَ: لَمَّا كَانَ يَوْمَ خَيْبَرَ قَاتَلَ أَخِي قِتَالًا شَدِيدًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَارْتَدَّ عَلَيْهِ سَيْفُهُ فَقَتَلَهُ، فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ: رَجُلٌ مَاتَ بِسِلَاحِهِ وَشَكُّوا فِي بَعْضِ أَمْرِهِ، قَالَ سَلَمَةُ: فَقَفَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ خَيْبَرَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ائْذَنْ لِي أَنْ أَرْجُزَ بِكَ، فَأَذِنَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: أَعْلَمُ مَا تَقُولُ: وَاللَّهِ لَوْلَا اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا ... وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا ... وَثَبِّتِ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا وَالْمُشْرِكُونَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا فَلَمَّا قَضَيْتُ رَجَزِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَالَ هَذَا؟ » قُلْتُ: أَخِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَرْحَمُهُ اللَّهُ»، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ نَاسًا أَبَوْا الصَّلَاةَ عَلَيْهِ، يَقُولُونَ: رَجُلٌ مَاتَ بِسِلَاحِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَجُلٌ مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا»
رقم طبعة با وزير = (3186)
সালামাহ বিন আকওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “খায়বার যুদ্ধের দিন আমার ভাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থেকে প্রচন্ড যুদ্ধ করেন। এক পর্যায়ে তার তরবারী ফিরে এসে তাকে আঘাত লাগে এবং তিনি নিহত হোন। তখন তার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ বলেন, “লোকটি নিজের অস্ত্রের আঘাতে মারা গেলো!” এভাবে তারা তার (শাহাদাতের) ব্যাপারে সন্দেহ পোষন করলো।” সালামাহ বিন আকওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার থেকে ফিরে আসেন। আমি তাঁকে বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি আমাকে আপনার কাছে কবিতার কিছু চরণ আবৃতি করার অনুমতি দিন।” তখন তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। তখন উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি জানি তুমি কী বলবে।” (তারপর আমি কবিতা আবৃতি শুরু করি), (وَاللَّهِ لَوْلَا اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا - وَلَا تصدَّقنا وَلَا صَلَّيْنَا) (فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا - وَثَبِّتِ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا) (وَالْمُشْرِكُونَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا) “আল্লাহর কসম, আল্লাহ ছাড়া আমরা হেদায়েত পেতাম না, সাদাকাহ করতাম না এবং সালাতও আদায় করতাম না। আমাদের উপর শান্তি অবতীর্ণ করুন, আমরা যদি শত্রুর মুখোমুখি হই, তখন আমাদের পদযুগল সুদৃঢ় রাখুন। আর মুশরিকরা আমাদের উপর অত্যাচার করেছে।” যখন আমি আমার কবিতা শেষ করলাম, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এটা কে বলেছে?” আমি বললাম, “আমার ভাই।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন।” আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, লোকজন তার উপর সালাত আদায় করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা বলছে, “লোকটি নিজের অস্ত্রের আঘাতে মারা গেলো!” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তিনি জিহাদরত, মুজাহিদ অবস্থায় নিহত হয়েছেন।” [1]
[1] আবূ দাঊদ: ২৫৩৮; নাসাঈ: ৬/৩০-৩২; সহীহ মুসলিম: ১৮০২; তাবারানী আল কাবীর: ৬২২৯; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪৬-৪৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২২৮৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2289): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3197 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ مِنْ قَتْلَى أُحُدٍ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ، وَيَقُولُ: «أَيُّهُمَا أَكْثَرُ أَخْذًا لِلْقُرْآنِ؟ » فَإِذَا أُشِيرَ إِلَى أَحَدِهِمَا، قَدَّمَهُ فِي اللَّحْدِ قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا شَهِيدٌ عَلَى هَؤُلَاءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» وَأَمَرَ بِدَفْنِهِمْ بِدِمَائِهِمْ، [ص:472] وَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِمْ، وَلَمْ يُغَسَّلُوا
رقم طبعة با وزير = (3187)
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের শহীদদের দুইজনকে এক কাপড়ে কাফন করেন। তিনি বলেন, “তাদের মাঝে কে বেশি কুরআন গ্রহণকারী?” অতঃপর যখন একজনের দিকে ইঙ্গিত করা হতো, তখন তিনি তাকে বগলী কবরে সামনে রাখতেন। তিনি বলেন, “আমি এঁদের ব্যাপারে কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দিবো।” তিনি তাদেরকে রক্তসহ দাফন করার নির্দেশ দেন। তিনি তাদের জানাযার সালাত আদায় করেননি এবং তাদের গোসলও দেননি।”[1]
[1] আবূ দাউদ: ৩১৩৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২৫৩-২৫৪; সহীহুল বুখারী: ১৩৪৩; তিরমিযী: ১০৩৬; নাসাঈ: ৪/৬২; ইবনু মাজাহ: ১৫১৪; ইবনুল জারুদ: ৫৫২; তাহাবী: ১/৫০১; সুনান বাইহাকী: ৪/৩৪; বাগাবী: ১৫০০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আহকামুল জানাইয: ১৮৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «تخريج فقه السنة» (270) «أحكام الجنائز» (184 - 185): خ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3198 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادِ زُغْبَةَ، فَقَالَ: أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدِ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، خَرَجَ يَوْمًا فَصَلَّى عَلَى أَهْلِ أُحُدٍ صَلَاتَهُ عَلَى الْمَيِّتِ، ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى الْمِنْبَرِ، فَقَالَ: «إِنِّي فَرَطٌ لَكُمْ، وَأَنَا شَهِيدٌ عَلَيْكُمْ، وَإِنِّي وَاللَّهِ لَأَنْظُرُ إِلَى [ص:473] حَوْضِي الَْآنَ، وَإِنِّي قَدْ أُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الْأَرْضِ - أَوْ مَفَاتِيحَ الْأَرْضِ -، وَاللَّهِ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بَعْدِي، وَلَكِنِّي أَخَافُ أَنْ تَتَنَافَسُوا فِيهَا»
رقم طبعة با وزير = (3188)
উকবাহ বিন আমির আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বের হয়ে উহুদ যুদ্ধের শহীদদের উপর জানাযার সালাতের ন্যায় সালাত আদায় (দুআ) করেন। তারপর তিনি মিম্বারে চলে আসেন। অতঃপর বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের আগেই (হাওযে কাওসারে) গমন করবো এবং তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবো। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি এখন হাওযে কাওসার দেখতে পাচ্ছি। নিশ্চয়ই আমাকে জমিনের ধনভান্ডারের চাবিকাঠি প্রদান করা হয়েছে অথবা তিনি বলেছেন (রাবীর সন্দেহ) জমিনের চাবিকাঠিসমূহ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম, আমি ভয় করি না যে, তোমরা আমার পরে শিরক করবে তবে আমার ভয় হয় যে, তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৪৯; সহীহুল বুখারী: ১৩৪৪; সহীহ মুসলিম: ২২৯৬; আবূ দাউদ: ৩২২৩; নাসাঈ: ৪/৬১-৬২; তাহাবী: ১/৫০৪; তাবারানী আল কাবীর; ১৭/৭৬৭;বাগাবী: ৩৮২৩; দারাকুতনী: ২/৭৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আহকামুল জানাইয: ১০৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «تخريج الفقه» (271)، «أحكام الجنائز» (ص 107)، «ظلال الجنة» (735): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3199 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَهْبِ بْنِ أَبِي كَرِيمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى عَلَى قَتْلَى أُحُدٍ، ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَرَطٌ، وَإِنِّي عَلَيْكُمْ لِشَهِيدٌ، وَإِنِّي وَاللَّهِ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بَعْدِي، وَلَكِنِّي قَدْ أُعْطِيتُ اللَّيْلَةَ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الْأَرْضِ وَالسَّمَاءِ، وَأَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تَتَنَافَسُوا فِيهَا» ثُمَّ دَخَلَ، فَلَمْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا.
رقم طبعة با وزير = (3189) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «خَصَّ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الشُّهَدَاءَ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي الْمَعْرَكَةِ، بِتَرْكِ الصَّلَاةِ عَلَيْهِمْ وَفَرَّقَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ سَائِرِ الْمَوْتَى، فَإِنَّ سَائِرَ الْمَوْتَى يُغَسَّلُونَ، وَيُصَلَّى عَلَيْهِمْ، وَمَنْ قُتِلَ فِي الْمَعْرَكَةِ مِنَ الشُّهَدَاءِ لَا يُصَلَّى عَلَيْهِمْ، وَيُدْفَنُ بِدَمِهِ مِنْ غَيْرِ غُسْلٍ، فَأَمَّا خَبَرُ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ [ص:475] النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ فَصَلَّى عَلَى قَتْلَى أُحُدٍ لَيْسَ يُضَادُّ خَبَرَ جَابِرٍ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ، إِذِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ إِلَى أُحُدٍ، فَدَعَا لِشُهَدَاءِ أُحُدٍ كَمَا كَانَ يَدْعُو لِلْمَوْتَى فِي الصَّلَاةِ عَلَيْهِمْ، وَالْعَرَبُ تُسَمِّي الدُّعَاءَ صَلَاةً، فَصَارَ خُرُوجُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى شُهَدَاءِ أُحُدٍ، وَزِيَارَتُهُ إِيَّاهُمْ وَدُعَاؤُهُ لَهُمْ سُنَّةً لِمَنْ بَعْدَهُ مِنْ أُمَّتِهِ أَنْ يَزُورُوا شُهَدَاءَ أُحُدٍ يَدْعُونَ لَهُمْ كَمَا يَدْعُونَ لِلْمَيِّتِ فِي الصَّلَاةِ عَلَيْهِ، وَفِي خَبَرِ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ، ثُمَّ دَخَلَ فَلَمْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا، أَبْيَنُ الْبَيَانِ بِأَنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ كَانَتْ دُعَاءً لَهُمْ، وَزِيَادَةً قَصَدَ بِهَا إِيَّاهُمْ لَمَّا قَرُبَ خُرُوجُهُ مِنَ الدُّنْيَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَوْ كَانَتِ الصَّلَاةُ الَّتِي ذَكَرَهَا عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ كَالصَّلَاةِ عَلَى الْمَوْتَى سَوَاءً لَلَزِمَ مَنْ قَالَ بِهَذَا جَوَازُ الصَّلَاةِ عَلَى الْقَبْرِ وَلَوْ بَعْدَ سَبْعِ سِنِينَ، لِأَنَّ أُحُدًا كَانَتْ سَنَةَ ثَلَاثٍ مِنَ الْهِجْرَةِ، وَخُرُوجُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيْثُ صَلَّى عَلَيْهِمْ قُرْبَ خُرُوجِهِ مِنَ الدُّنْيَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ وَقْعَةِ أُحُدٍ بِسَبْعِ سِنِينَ، فَلَمَّا وَافَقْنَا مَنِ احْتَجَّ بِهَذَا الْخَبَرِ عَلَى أَنَّ الصَّلَاةَ عَلَى الْقُبُورِ غَيْرُ جَائِزَةٍ بَعْدَ سَبْعِ سِنِينَ، صَحَّ أَنَّ تِلْكَ الصَّلَاةَ كَانَتْ دُعَاءً لَا الصَّلَاةَ عَلَى الْمَوْتَى، سَوَاءً ضِدَّ قَوْلِ مَنْ زَعَمَ أَنَّ أَصْحَابَ الْحَدِيثِ يَرْوُونَ مَا لَا يَعْقِلُونَ، وَيَتَكَلَّمُونَ بِمَا لَا يَفْهَمُونَ، وَيَرَوُونَ الْمُتَضَادَّ مِنَ الْأَخْبَارِ»
উকবাহ বিন আমির আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন উহুদ যুদ্ধের শহীদদের উপর জানাযার সালাতের ন্যায় সালাত আদায় (দুআ) করেন। তারপর তিনি মিম্বারে বসেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করেন তারপর বলেন, “হে লোকসকল, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের আগেই (হাওযে কাওসারে) গমন করবো এবং তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবো। আল্লাহর কসম, আমি ভয় করি না যে, তোমরা আমার পরে শিরক করবে। নিশ্চয়ই আমাকে আজ রাতে আসমান ও জমিনের ধনভান্ডারের চাবিকাঠি প্রদান করা হয়েছে। আর তোমাদের ব্যাপারে আমার ভয় হয় যে, তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে।” তারপর তিনি হুজরায় প্রবেশ করেন। তারপর মৃত্যু অবধি তিনি আর বাড়ি থেকে বের হননি।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাছ করে জানাযার সালাত আদায় করেননি। তিনি তাদেরকে অন্যান্য সমস্ত মৃত ব্যক্তিদের থেকে আলাদা করেন। কেননা অন্যান্য মৃত ব্যক্তিদের গোসল করানো হয় এবং তাদের জানাযার সালাত আদায় করা হয় এবং গোসল না দিয়ে তাদেরকে রক্তসহ দাফন করা হয়। আর উকবাহ বিন আমির উকবাহ বিন আমির আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে যা বলা হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বের হয়ে উহুদ যুদ্ধের শহীদদের উপর জানাযার সালাতের ন্যায় সালাত আদায় (দুআ) করেন- এটি পুর্বে উল্লেখিত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসের বিপরীত নয়। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে উহুদ যুদ্ধের শহীদদের জন্য দুআ করেন, যেভাবে তিনি অন্যান্য মৃতদের জন্য জানাযার সালাতে দুআ করেন। আরবরা দুআকে সালাত হিসেবে অভিহিত করেন। কাজেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক উহুদে গমন, তাদেরকে দেখতে যাওয়া, তাদের জন্য দুআ করা পরবর্তী উম্মতের জন্য সুন্নাত যে, তারা উহুদের শহীদদের দেখতে যাবেন এবং তাদের জন্য দুআ করবেন, যেভাবে তারা মৃতদের জন্য জানাযার সালাতে দুআ করে থাকেন। আমাদের উল্লেখিত যাইদ বিন উনাইসার হাদীসে বলা হয়েছে, “তারপর তিনি হুজরায় প্রবেশ করেন এবং মৃত্যু অবধি তিনি আর বাড়ি থেকে বের হননি” এখানে সুস্পষ্ট বিবরণ রয়েছে এই মর্মে যে, এই সালাতটি ছিল বাড়তি দুআ, যা তিনি খাছ করে উহুদ যুদ্ধের শহীদদের জন্য করতে চেয়েছিলেন, যখন দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার সময় ঘনীভূত হয়েছিল। উকবাহ বিন আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত সালাত দ্বারা হুবহু জানাযার সালাত উদ্দেশ্য হতো, তবে যারা এমনটা বলে, তাদের জন্য জরুরী হলো এটা বলা যে, সাত বছর পরেও কবরের উপর জানাযার সালাত আদায় করা জায়েয। কেননা উহুদ যুদ্ধ সাত হিজরী তৃতীয় বছরে সংঘটিত হয়েছিল। আর রাসূল উহুদের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে হয়ে জানাযার সালাত আদায় করার এই কাজটি হয়েছিল উহুদ যুদ্ধের সাত বছর পর, তাঁর দুনিয়া ত্যাগের কাছাকাছি সময়ে। কাজেই যারা এই হাদীস দ্বারা দলীল দেন, তারা এবং আমরা এই ব্যাপারে একমত হলাম যে, সাত বছর পর মৃত ব্যক্তির কবরের উপর জানাযার সালাত আদায় করা জায়েয নেই, সুতরাং বিশুদ্ধ মত এটাই হলো যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত সালাতটি দুআ ছিল; হুবহু জানাযার সালাত ছিল না। এটা হলো তাদের কথার বিপরীত যারা বলেন, “মুহাদ্দিসগণ এমন কিছু বর্ণনা করেন, যা তারা অনুধাবন করেন না, এমন কথা বলেন, যা তারা বুঝেন না এবং তারা পরস্পর বিরোধপূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৪৯; সহীহুল বুখারী: ১৩৪৪; সহীহ মুসলিম: ২২৯৬; আবূ দাউদ: ৩২২৩; নাসাঈ: ৪/৬১-৬২; তাহাবী: ১/৫০৪; তাবারানী আল কাবীর; ১৭/৭৬৭;বাগাবী: ৩৮২৩; দারাকুতনী: ২/৭৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আহকামুল জানাইয: ১০৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - وهو مكرر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3200 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكٍ الْحَنَفِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: «صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْبَيْتِ، وَسَيَأْتِي مَنْ يَنْهَى عَنْ ذَلِكَ وَابْنُ عَبَّاسٍ جَالِسٌ إِلَى جَنْبِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3190)
সিমাক বিন হানাফী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহর ভেতরে সালাত আদায় করেছেন। অচিরেই এমন লোকের আবির্ভাব হবে, যে এরকম করতে বারণ করবে।” রাবী বলেন, “এই সময় আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার পাশে বসে ছিলেন।”[1]
[1] মুসনাদু আলী বিন জা‘দ: ১৫৫৬; আত তায়ালিসী: ১৮৬৭; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৫; তাহাবী: ১/৩৯১; সুনান বাইহাকী: ২/৩২৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯০৬৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ১/৩২১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (1/ 321).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي
3201 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي عَوْنٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ [ص:477] عِيسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْبَيْتِ بَيْنَ السَّارِيَتَيْنِ»
رقم طبعة با وزير = (3191)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার ঘরের ভেতরে দুই খুঁটির মাঝে সালাত আদায় করেছেন।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ১৩২৯; নাসাঈ: ২/৩৩-৩৪; নাসাঈ আল কুবরার বরাতে তুহফাতুল আহওয়াযী: ৫/৩৮৭; দারেমী; ২/৫৩; তাহাবী: ১/৩৮৯-৩৯০; সুনান বাইহাকী: ২/৩২৭-৩২৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৭৬৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1764 - 1766)، «الثمر المستطاب»: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
3202 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْفَتْحِ الْكَعْبَةَ وَمَعَهُ بِلَالٌ، وَعُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ، فَأَغْلَقُوا عَلَيْهِمُ الْبَابَ مِنْ [ص:478] دَاخِلٍ، فَلَمَّا خَرَجُوا سَأَلْتُ بِلَالًا، قُلْتُ: أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: رَأَيْتُهُ «صَلَّى عَلَى وَجْهِهِ حِينَ دَخَلَ بَيْنَ الْعَمُودَيْنِ عَنْ يَمِينِهِ»، ثُمَّ لُمْتُ نَفْسِي أَنْ لَا أَكُونَ سَأَلْتُهُ كَمْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
رقم طبعة با وزير = (3192)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন কা‘বা ঘরে প্রবেশ করেন, এসময় তাঁর সাথে ছিলেন বিলাল ও উসমান বিন তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা। অতঃপর তারা ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। তারপর যখন তারা বের হন, তখন আমি বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করি, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় সালাত আদায় করেছেন?” জবাবে তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘরে প্রবেশ করে সামনে দিকে গিয়ে ডান পাশের দুই খুঁটির মাঝে সালাত আদায় করেছেন।” আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “তারপর আমি নিজেকে তিরস্কার করি এজন্য যে, কেন আমি তাকে জিজ্ঞেস করিনি যে, তিনি কয় রাকা‘আত সালাত আদায় করেছেন।”[1]
[1] ইবনু মাজাহ: ৩০৬৩; তাহাবী: ১/৩৯০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৭৬৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح رجاله رجال الصحيح غير عمر بن عبد الواحد
3203 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَيْتَ وَمَعَهُ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، وَبِلَالٌ، وَعُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ، فَأَجَافُوا الْبَابَ عَلَيْهِمْ طَوِيلًا، ثُمَّ فُتِحَ، فَكُنْتُ أَوْلَ مَنْ دَخَلَ فَلَقِيتُ بِلَالًا، فَقُلْتُ: أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ: «بَيْنَ الْعَمُودَيْنِ الْمُقَدَّمَيْنِ»، فَنَسِيتُ أَنْ أَسْأَلَهُ كَمْ صَلَّى
رقم طبعة با وزير = (3193)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘরে প্রবেশ করেন। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন উসামা বিন যাইদ, বিলাল ও তালহা বিন উবাইদুল্লাহ। তারপর তারা দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ করে রাখেন। তারপর দরজা খুলে দেওয়া হয়। তারপর সর্বপ্রথম আমি কা‘বা ঘরে প্রবেশ করি এবং বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাক্ষাত পাই। আমি তাকে বললাম, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘরে কোথায় সালাত আদায় করেছেন?” জবাবে তিনি বলেন, “সামনের দুই খুঁটির মাঝে।” আমি তাকে এই প্রশ্ন করতে ভুলে যাই যে, তিনি কত রাকা‘আত সালাত আদায় করেছেন।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ১৩২৯; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৩; আবূ দাঊদ: ৫০২৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৭৬৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناد صحيح على شرط الشيخين
3204 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ الْكَعْبَةَ هُوَ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ، وَبِلَالُ بْنُ رَبَاحٍ مَعَهُ، فَأَغْلَقَهَا عَلَيْهِ وَمَكَثَ فِيهَا، قَالَ ابْنُ عُمَرَ: فَسَأَلْتُ بِلَالًا، حِينَ خَرَجَ، أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟، قَالَ: «جَعَلَ عَمُودًا عَنْ يَسَارِهِ، وَعَمُودَيْنِ عَنْ يَمِينِهِ، وَثَلَاثَةَ أَعْمِدَةٍ وَرَاءَهُ»، وَكَانَ الْبَيْتُ يَوْمَئِذٍ عَلَى سِتَّةِ أَعْمِدَةٍ
رقم طبعة با وزير = (3194)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘরে প্রবেশ করেন। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন উসামা বিন যাইদ, বিলাল ও তালহা বিন উবাইদুল্লাহ। তারপর তারা দরজা বন্ধ করে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “তারপর বের হলে আমি বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করে বললাম, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘরের কোথায় সালাত আদায় করেছেন?” জবাবে তিনি বলেন, “তিনি একটি খুঁটিকে বামে এবং দুই খুঁটি ডানে এবং পেছনে তিনটি খুঁটি রাখেন। সেসময় কা‘বা ছয়টি খুঁটির উপর স্থাপিত ছিল।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৩৯৮; সহীহুল বুখারী: ৫০৫; আবূ দাঊদ: ২০২৩; নাসাঈ: ২/৬৩; তাহাবী: ১/৩৮৯; সুনান বাইহাকী: ২/৩২৬; বাগাবী: ৪৪৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৭৬৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1764).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3205 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، قَالَ: رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ، دَاخِلَ الْبَيْتِ حَتَّى إِذَا كَانَ بَيْنَ السَّارِيَتَيْنِ صَلَّى أَرْبَعًا، فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَلَمَّا صَلَّى قُلْتُ: أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: «هَاهُنَا»، أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى.
رقم طبعة با وزير = (3195) [ص:481] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «سَمِعَ هَذَا الْخَبَرَ ابْنُ عُمَرَ عَنْ بِلَالٍ، وَأُسَامَةِ بْنِ زَيْدٍ، لِأَنَّهُمَا كَانَا مَعَ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكَعْبَةِ فَمَرَّةً أَدَّى الْخَبَرَ عَنْ بِلَالٍ، وَمَرَّةً أُخْرَى عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ فَالطَّرِيقَانِ جَمِيعًا مَحْفُوظَانِ»
আবুস সা‘সা‘ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বাইতুল্লাহর ভেতরে দেখেছি। যখন তিনি দুই খুঁটির মাঝখানে থেকেছেন, তিনি তিনি চার রাকা‘আত সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর আমি তার পাশে গিয়ে দাঁড়াই। যখন তিনি সালাত শেষ করেন, তখন আমি বললাম, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘরের কোথায় সালাত আদায় করেছেন?” জবাবে তিনি বলেন, “এখানে।” আমাকে উসামাহ বিন বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাত আদায় করতে দেখেছেন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বিলাল ও উসামাহ বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উভয় থেকেই শ্রবণ করেছিলেন। কেননা তারা দুইজনেই কা‘বা ঘরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। অতঃপর তিনি কখনো হাদীসটি বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন আবার কখন উসামাহ বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। কাজেই হাদীসটির দুটো সানাদই বিশুদ্ধ।”
[1] তাহাবী: ১/৩৯০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯০৭১; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩; সহীহুল বুখারী: ৪৬৮; সহীহ মুসলিম: ১৩২৯; দারেমী: ২/৫৩; সুনান বাইহাকী: ২/৩২৭; তিরমিযী: ৮৭৪; নাসাঈ: ৫/২১৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৭৬৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري
3206 - أَخْبَرَنَا رَوْحُ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ، بِبَلَدِ الْمَوْصِلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَذْرَمِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يُصَلِّي وَبَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ مِقْدَارُ ثَلَاثَةِ أَذْرُعٍ»
رقم طبعة با وزير = (3196)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করছিলেন, এসময় তাঁর ও কিবলার মাঝে তিন গজ পরিমাণ ব্যবধান ছিল।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ১৩৩১; মুসনাদ আহমাদ: ১/২৩৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৪/৬১; তাহাবী: ১/৩৮৯; তাবারানী আল কাবীর: ১১৩৩৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৭৬৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1765).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3207 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَطَاءٌ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «دَخَلَ الْكَعْبَةَ وَفِيهَا سِتُّ سَوَارِي، فَقَامَ عِنْدَ كُلِّ سَارِيَةٍ وَدَعَا وَلَمْ يُصَلِّ»
رقم طبعة با وزير = (3197)
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘরে প্রবেশ করেন। সেসময় কা‘বায় ছয়টি খুঁটি ছিল। তিনি প্রত্যেকটি খুঁটির কাছে দাঁড়ান এবং দুআ করেন। কিন্তু তিনি সালাত আদায় করেননি।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯০৫৬; নাসাঈ: ৫/২২০-২২১; সহীহ মুসলিম: ১৩৩০; সুনান বাইহাকী: ২/৩২৮; সহীহুল বুখারী: ৩৯৮; বাগাবী: ৪৪৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩১৯৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م (4/ 96 - 97).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3208 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَيَّانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: قُلْتُ لِعَطَاءٍ: أَسَمِعْتَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ: إِنَّمَا أُمِرْتُمْ بِالطَّوَافِ وَلَمْ تُؤْمَرُوا بِدُخُولِهِ؟ قَالَ: لَمْ يَكُنْ يَنْهَى عَنْ دُخُولِهِ، وَلَكِنْ سَمِعْتُهُ: يَقُولُ: أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا دَخَلَ الْبَيْتَ دَعَا فِي نَوَاحِيهِ كُلِّهَا وَلَمْ يُصَلِّ فِيهِ حَتَّى خَرَجَ فَصَلَّى عِنْدَ الْبَابِ، وَقَالَ: «هَاهُنَا قِبْلَةٌ» فَصَلِّهِ
رقم طبعة با وزير = (3198) [ص:483] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «هَذَانِ خَبَرَانِ قَدْ عَوَّلَ أَئِمَّتُنَا رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ وَرِضْوَانُهُ عَلَى الْكَلَامِ فِيهِمَا عَلَى النَّفْيِ وَالْإِثْبَاتِ، وَزَعَمُوا أَنَّ بِلَالًا، أَثْبَتَ صَلَاةَ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكَعْبَةِ، وَابْنُ عَبَّاسٍ، يَنْفِيهَا، وَالْحَكَمُ الْمُثْبِتُ لِلشَّيْءِ أَبَدًا، لَا لِمَنْ يَنْفِيهِ، وَهَذَا شَيْءٌ يَلْزَمُنَا فِي قِصَّةِ أُحُدٍ فِي نَفْيِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، الصَّلَاةَ عَلَى شُهَدَاءِ أُحُدٍ، وَغَسْلَهُمْ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ، وَالْأَشْبَهُ عِنْدِي فِي الْفَصْلِ بَيْنَ هَذَيْنِ الْخَبَرَيْنِ بِأَنْ يُجْعَلَا فِي فِعْلَيْنِ مُتَبَايِنَيْنِ، فَيُقَالُ: إِنَّ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا فَتَحَ مَكَّةَ دَخَلَ الْكَعْبَةَ فَصَلَّى فِيهَا عَلَى مَا رَوَاهُ أَصْحَابُ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ بِلَالٍ، وَأُسَامَةِ بْنِ زَيْدٍ، وَكَانَ ذَلِكَ يَوْمَ الْفَتْحِ، كَذَلِكَ قَالَهُ حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَيُجْعَلُ نَفْيُ ابْنِ عَبَّاسٍ صَلَاةَ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكَعْبَةِ فِي حَجَّتِهِ الَّتِي حَجَّ فِيهَا، حَتَّى يَكُونَ فِعْلَانِ فِي حَالَتَيْنِ مُتَبَايِنَتَيْنِ، لِأَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ نَفَى الصَّلَاةَ فِي الْكَعْبَةِ عَنِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَزَعَمَ أَنَّ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ أَخْبَرَهُ بِذَلِكَ، وَأَخْبَرَ أَبُو الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى فِي الْبَيْتِ، وَزَعَمَ أَنَّ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ أَخْبَرَهُ بِذَلِكَ، فَإِذَا حُمِلَ الْخَبَرَانِ [ص:484] عَلَى مَا وَصَفْنَا فِي الْمَوْضِعَيْنِ الْمُتَبَايِنَيْنِ بَطَلَ التَّضَادُّ بَيْنَهُمَا، وَصَحَّ اسْتِعْمَالُ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا»
ইবনু জুরাইজ বলেন, আমি আতা রহিমাহুল্লাহকে বললাম, “আপনি কি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, “তোমাদেরকে তাওয়াফ করতে আদেশ দেওয়া হয়েছে; কা‘বায় প্রবেশ করতে আদেশ করা হয়নি।” জবাবে তিনি বলেন, “তিনি কা‘বা ঘরে প্রবেশ করতেন না। কিন্তু আমি তাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমাকে উসামা বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কা‘বা ঘরে প্রবেশ করেন, তখন তিনি কা‘বার প্রত্যেক কোণায় দুআ করেন। কিন্তু তাতে তিনি কোন সালাত আদায় করেননি। অতঃপর তিনি বের হয়ে দরজার কাছে সালাত আদায় করেছেন এবং বলেছেন, “এটিই কিবলা। কাজেই তুমি এখানেই সালাত আদায় করো।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই দুটি হাদীসের ব্যাপারে আমাদের ইমামগণ কথা বলার প্রয়াস চালিয়েছিলেন, তারা বলেছেন, নিশ্চয়ই বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কা‘বা ঘরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায় করাকে সাব্যস্ত করেছেন পক্ষান্তরে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা সেটাকে নাকচ করেছেন। এক্ষেত্রে সব সময় যিনি কোন কিছু সাব্যস্ত করেন, হুকুম তার পক্ষেই হয়; যে নাকচ করে তা পক্ষে নয়। উহুদ যুদ্ধে শহীদদের গোসল করা ও জানাযার সালাত আদায় করা বা না করাকে অবধারিতভাবে এমনটাই আমরা বলি। কিন্তু এই দুই হাদীসের ক্ষেত্রে আমার কাছে সঠিকতর মত হলো এই দুটিকে আলাদা দুটি কাজ ধরা এবং এভাবে সমাধান বলা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা বিজয় করেন, তখন সেখানে সালাত আদায় করেছেন, যা আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার ছাত্রগণ বিলাল ও উসামা বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন। এটা ঘটেছিল মক্কা বিজয়ের দিন। এমনটাই বলেছেন হাসসান বিন আতিয়্যাহ নাফে থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন। পক্ষান্তরে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কা‘বা ঘরে সালাত করাকে নাকচ করেছেন, সেটা হয়েছিল বিদায় হজ্জের সময়। কাজেই দুটি কাজ ভিন্ন ভিন্ন দুই অবস্থায় সংঘটিত হয়েছে। কেননা আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা কা‘বা ঘরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কা‘বা ঘরে সালাত করাকে নাকচ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, উসামা বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে এটি বলেছেন। অপরদিকে আবুস সা‘সা‘ আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘরে সালাত আদায় করেছেন। এখানেও আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেছেন যে, উসামা বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে এটি বলেছেন। কাজেই দুটো হাদীসকে যখন ভিন্ন ভিন্ন দুই জায়গায় প্রয়োগ করা হবে, তখন হাদীস দুটির পরস্পর বিরোধী হওয়ার অভিযোগ বাতিল হয়ে যাবে এবং উভয়টির আমল ঠিক থাকবে।”
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯০৫৬; নাসাঈ: ৫/২২০-২২১; সহীহ মুসলিম: ১৩৩০; সুনান বাইহাকী: ২/৩২৮; সহীহুল বুখারী: ৩৯৮; বাগাবী: ৪৪৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩১৯৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null
3209 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَفَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ وَكَانَتْ إِذَا أَنْفَقَتْ شَيْئًا تُحْصِي، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنْفِقِي وَلَا تُحْصِي فَيُحْصِيَ اللَّهُ عَلَيْكِ، وَلَا تُوعِي فَيُوعِيَ اللَّهُ عَلَيْكِ»
رقم طبعة با وزير = (3199)
আসমা বিনতু আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি যখন খরচ করতেন, তখন তিনি হিসাব করে রাখতেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, “তুমি খরচ করো কিন্তু হিসাব করো না, অন্যথায় আল্লাহও হিসাব করে দিবেন। তুমি সম্পদ খরচ না করে রেখে দিবে না, তাহলে আল্লাহও তোমাকে দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৪৫; সহীহুল বুখারী: ১৪৩৩; সহীহ মুসলিম: ১০২৯; নাসাঈ: ৫/৭৩-৭৪; তাবারানী আল কাবীর: ২৪/৩৩৭; সুনান বাইহাকী: ৪/১৮৬-১৮৭; বাগাবী: ১৬৫৫; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০০৫৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৪৯০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1490): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3210 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، أَنَّهُ سَمِعَ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا عَمْرُو نِعْمَ الْمَالُ الصَّالِحُ مَعَ الرَّجُلِ الصَّالِحِ»
رقم طبعة با وزير = (3200) [ص:7] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: سَمِعَ هَذَا الْخَبَرَ عَلِيُّ بْنُ رَبَاحٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، وَسَمِعَهُ مِنْ أَبِي الْقَيْسِ بَدَلَ عَمْرٍو، عَنْ عَمْرٍو فَالطَّرِيقَانِ جَمِيعًا مَحْفُوظَانِ
আমর বিন আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হে আমর, সৎ ব্যক্তির কাছে সৎ (উপার্জনের) সম্পদ কতইনা উৎকৃষ্ট সম্পদ।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি আলী বিন রাবাহ আমর বিন আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা এবং আমর থেকে আমরের পরিবর্তে আবুল কাইস থেকেও শ্রবণ করেছেন। কাজেই হাদীসটির দুটো সানাদই সহীহ।
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৯৭; ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদ: ২৯৯; হাকিম: ২/২৩৬; বাগাবী: ২৪৯৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মিশকাত: ৩৭৫৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «المشكاة» (3756 / التحقيق الثاني).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي على شرط مسلم
3211 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا عَمْرُو اشْدُدْ عَلَيْكَ سِلَاحَكَ وَثِيَابَكَ»، قَالَ: فَفَعَلْتُ، ثُمَّ أَتَيْتُهُ فَوَجَدْتُهُ يَتَوَضَّأُ، فَرَفَعَ رَأْسَهُ، فَصَعَّدَ فِيَّ النَّظَرَ وَصَوَّبَهُ، قَالَ: «يَا عَمْرُو إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَبْعَثَكَ وَجْهًا، فَيُسَلِّمَكَ اللَّهُ وَيُغْنِمَكَ، وَأَزْعَبُ لَكَ مِنَ الْمَالِ زَعْبَةً صَالِحَةً»، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أُسْلِمْ رَغْبَةً فِي الْمَالِ إِنَّمَا أَسْلَمْتُ رَغْبَةً فِي الْجِهَادِ وَالْكَيْنُونَةِ مَعَكَ، قَالَ: «يَا عَمْرُو نِعِمَّا بِالْمَالِ الصَّالِحِ مَعَ الرَّجُلِ الصَّالِحِ»
رقم طبعة با وزير = (3201)
আমর বিন আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হে আমর, তোমার অস্ত্র-সস্ত্র ও কাপড়-চোপড় বেধে নাও।” রাবী বলেন, “আমি তাই করলাম। তারপর আমি তাঁর কাছে এসে দেখতে পেলাম। তিনি তাঁর মাথা উঠিয়ে উপরে তাকালেন তারপর দৃষ্টি নিচু করে বলেন, “হে আমর, আমি তোমাকে এক দিকে সেনাভিযানে পাঠাবো। অতঃপর আল্লাহ তোমাকে নিরাপদ রাখবেন এবং গানীমত দান করবেন। আমি তোমাকে সেই সম্পদ থেকে ন্যায়সঙ্গত একটা অংশ দিবো।” তিনি বলেন, “আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমি সম্পদের আশায় ইসলাম গ্রহণ করি নাই। আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি জিহাদ করার জন্য এবং আপনার সাথে থাকার জন্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “হে আমর, সৎ ব্যক্তির কাছে সৎ (উপার্জনের) সম্পদ কতইনা উৎকৃষ্ট সম্পদ।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৯৭; ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদ: ২৯৯; হাকিম: ২/২৩৬; বাগাবী: ২৪৯৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মিশকাত: ৩৭৫৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي