হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (3212)


3212 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ النَّرْسِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي وَجَعِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ: «يَا عَائِشَةُ مَا فَعَلْتِ الذَّهَبُ»، قَالَتْ: قُلْتُ: هِيَ عِنْدِي، قَالَ: «فَأْتِينِي بِهَا» - وَهِيَ بَيْنَ السَّبْعَةِ وَالْخَمْسَةِ - فَجِئْتُ فَوَضَعْتُهَا فِي كَفِّهِ، ثُمَّ قَالَ: «مَا ظَنُّ مُحَمَّدٍ بِاللَّهِ لَوْ لَقِيَ اللَّهَ وَهَذِهِ عِنْدَهُ، أَنْفِقِيهَا»
رقم طبعة با وزير = (3202)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেই অসুস্থতায় মারা যান, সেই অসুস্থতার সময় বলেছেন, “হে আয়িশা, স্বর্ণগুলো কী করেছো?” তিনি বলেন, “আমি বললাম, সেগুলো আমার কাছে আছে।” তিনি আমাকে বলেন, “সেগুলো আমার কাছে নিয়ে আসো। -সেগুলো সংখ্যায় পাঁচটি থেকে সাতটি ছিল- আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “অতঃপর সেগুলো আমি নিয়ে এসে তাঁর হাতের মুঠোয় দেই। তারপর তিনি বলেন, “আল্লাহর ব্যাপারে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কী ধারণা, যদি তিনি এসব কাছে রেখে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করেন? (হে আয়িশা) এগুলো দান করে দাও।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪৯; বাগাবী: ১৬৫৮; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/২৩৯-২৪০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১০১৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 42)، «الصحيحة» (1014).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3213)


3213 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجُنَيْدِ، بِبُسْتَ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنْ مُوسَى بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، قَالَ: دَخَلْتُ أَنَا وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ عَلَى عَائِشَةَ، فَقَالَتْ: لَوْ رَأَيْتُمَا نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ فِي مَرَضٍ لَهُ وَكَانَتْ لَهُ عِنْدِي سِتَّةُ دَنَانِيرَ أَوْ سَبْعَةٌ، قَالَتْ: فَأَمَرَنِي أَنْ أُفَرِّقَهَا، فَشَغَلَنِي وَجَعُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى عَافَاهُ اللَّهُ، قَالَتْ: ثُمَّ سَأَلَنِي عَنْهَا، فَقُلْتُ: لَا وَاللَّهِ قَدْ كَانَ شَغَلَنِي وَجَعُكَ، قَالَتْ: فَدَعَا بِهَا فَوَضَعَهَا فِي كَفِّهِ، ثُمَّ قَالَ: «مَا ظَنُّ نَبِيِّ اللَّهِ لَوْ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عِنْدَهُ؟ »
رقم طبعة با وزير = (3203)




আবূ উমামাহ সাহল বিন হুনাইফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি এবং উরওয়া বিন যুবাইর আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছে প্রবেশ করি। তখন তিনি বলেন, “যদি তোমরা আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে, একদিন তিনি অসুস্থ ছিলেন, আমার কাছে তাঁর ছয়টি অথবা সাতটি দীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) ছিল। তিনি বলেন, “অতঃপর তিনি আমাকে তা দান করতে বলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতা আমাকে ব্যস্ত করে তুলে। তারপর যখন তিনি সুস্থ হলেন, তখন তিনি আমাকে সেই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। আমি বলি, “জ্বী, না। আল্লাহর কসম! আপনার অসুস্থতা আমাকে ব্যস্ত করে তুলেছিল।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “তারপর তিনি আমাকে সেগুলো আনতে বলেন। অতঃপর সেগুলো তিনি তাঁর হাতের তালূতে রেখে বলেন, “আল্লাহর নাবীর কী ধারণা, যদি তিনি এগুলো নিজের কাছে রেখে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করেন![1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪৯; বাগাবী: ১৬৫৮; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/২৩৯-২৪০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১০১৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (3214)


3214 - أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ الْقَيْسِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَا يَسُرُّنِي أَنَّ أُحُدًا لِي ذَهَبًا يَأْتِي عَلَيَّ ثَلَاثٌ، وَعِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ غَيْرَ [ص:10] شَيْءٍ أَرْصُدُهُ فِي دَيْنٍ عَلَيَّ».
رقم طبعة با وزير = (3204)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি পছন্দ করি না যে, আমি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণের মালিক হই, অতঃপর তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমার কাছে একটি স্বর্ণ মুদ্রা থাকুক, তবে সেটা ব্যতীত যা আমি ঋণ পরিশোধ করার জন্য রেখে দেই।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৬৭; সহীহ মুসলিম: ৯৯১; সহীহুল বুখারী: ২৩৮৯; ইবনু মাজাহ: ৪২৩১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১০২৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «فقه السيرة» (48)، «الصحيحة» (1028): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3215)


3215 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا تَمِيمُ بْنُ الْمُنْتَصِرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الْأَزْرَقُ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّ الدُّنْيَا خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ، فَمَنْ أَعْطَيْنَاهُ مِنْهَا شَيْئًا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنَّا وَحَسَنِ طُعْمَةٍ مِنْهُ، مِنْ غَيْرِ شَرِهِ نَفْسٍ، بُورِكَ لَهُ فِيهِ، وَمَنْ أَعْطَيْنَاهُ مِنْهَا شَيْئًا بِغَيْرِ طِيبِ نَفْسٍ مِنَّا، وَحَسَنِ طُعْمَةٍ مِنْهُ، وَإِشْرَافِ نَفْسٍ، كَانَ غَيْرَ مُبَارَكٍ لَهُ فِيهِ»
رقم طبعة با وزير = (3205)




আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই দুনিয়া সবুজ-শ্যামল ও সুমিষ্ট। সুতরাং যাকে আমরা দুনিয়ার কোন কিছু খুশি মনে প্রদান করি আর সে তাতে নির্লোভ থাকে, তবে তাতে বারাকাহ দেওয়া হবে। সুতরাং যাকে আমরা দুনিয়ার কোন কিছু অখুশি মনে প্রদান করি আর সে তাতে লোভাতুর থাকে, তবে তাতে বারাকাহ দেওয়া হয় না।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৬৮; হাইসামী, মাজমাঊয যাওয়াইদ: ৩/১০০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/১৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح لغيره - «التعليق الرغيب» (2/ 14).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (3216)


3216 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ الْحَارِثِ، يَقُولُ: حَدَّثَنِي دَرَّاجٌ أَبُو السَّمْحِ، عَنِ ابْنِ حُجَيْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَدَّيْتَ زَكَاةَ مَالِكَ فَقَدْ قَضَيْتَ مَا عَلَيْكَ فِيهِ، وَمَنْ جَمَعَ مَالًا حَرَامًا ثُمَّ تَصَدَّقَ بِهِ لَمْ يَكُنْ لَهُ فِيهِ أَجْرٌ، وَكَانَ إِصْرُهُ عَلَيْهِ»
رقم طبعة با وزير = (3206)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তুমি তোমার সম্পদের যাকাত আদায় করবে, তবে সম্পদে তোমার উপর যে হক ছিল, তা তুমি আদায় করে ফেললে। আর যে ব্যক্তি হারাম মাল জমা করে, তারপর সেখান থেকে দান করে, এতে তার জন্য কোন সাওয়াব নেই। আর তার পাপের বোঝা তার উপর বর্তাবে।”[1]



[1] হাকিম: ১/৩৯০; সুনান বাইহাকী: ৪/৮৪; তিরমিযী: ৬১৮; বাগাবী: ১৫৯১; ইবনু মাজাহ: ১৭৮৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২৬৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «التعليق الرغيب» (1/ 266).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3217)


3217 - أَخْبَرَنَا الْفِرْيَابِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، [ص:12] عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَحْنُ الْآخِرُونَ وَالْأَوَّلُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَإِنَّ الْأَكْثَرِينَ هُمُ الْأَسْفَلُونَ، إِلَّا مَنْ قَالَ هَكَذَا وَهَكَذَا عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ، وَمِنْ خَلْفِهِ وَبَيْنَ يَدَيْهِ، وَيَحْثِي بِثَوْبِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3207)




আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমরা দুনিয়ায় আগমনের দিক দিয়ে সর্বশেষ আর কিয়ামতের আমরা প্রথমে আবির্ভুত হবো। নিশ্চয়ই সম্পদশালী লোকেরা কিয়ামতের দিন নিচে অবস্থান করবে। তবে যে ব্যক্তি এভাবে ডানে, বামে, সামনে, পিছনে খরচ করে।” তিনি তাঁর কাপড় ফেলে দেখান।”[1]



[1] ইমাম সুয়ূতী, আল জামিউল কাবীর: ২/৮৫১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৪১২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2412)، «التعليق الرغيب» (4/ 108).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات رجال الصحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3218)


3218 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، بِالْمَوْصِلِ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ حَمَّادٍ سَجَّادَةٌ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ، وَعَبْدُ الدِّرْهَمِ، وَعَبْدُ الْقَطِيفَةِ، وَعَبْدُ الْخَمِيصَةِ، إِنْ أُعْطِيَ رَضِيَ، وَإِنْ مُنِعَ سَخِطَ»
رقم طبعة با وزير = (3208)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হতভাগ্য স্বর্ণের গোলাম, রৌপ্যের গোলাম, মখমল কাপড়ের গোলাম, চাদরের গোলাম, যদি তাকে দেওয়া হয়, সে খুশি হয় আর যদি না দেওয়া হয়, তবে নারাজ হয়।”[1]



[1] সহীহুল বুখারী: ২৮৮৬; ইবনু মাজাহ: ৪১৩৫; সুনান বাইহাকী: ১০/২৪৫; বাগাবী: ৪০৫৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩২০৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (3219)


3219 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْخَلِيلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنِي فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي هِلَالُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أُسَامَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَلْبُ ابْنِ آدَمَ شَابٌّ عَلَى حُبِّ اثْنَتَيْنِ: طُولِ الْعُمُرِ وَالْمَالِ»
رقم طبعة با وزير = (3209)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আদম সন্তানের অন্তর দুটি জিনিসকে ভালবাসার ক্ষেত্রে ‍যুবক থাকে। তা হলো: দীর্ঘায়ূ ও সম্পদ।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৩৫; সহীহ মুসলিম: ১০৪৬; হাকিম: ৪/৩২৮; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৬৮; সহীহুল বুখারী: ৬৪২০; বাগাবী: ৪০৮৮; তিরমিযী: ২৩৩৮; ইবনু মাজাহ: ৪২৩৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৯০৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1906)، «التعليق الرغيب» (3/ 105).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3220)


3220 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، وَسَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ، حَدَّثَاهُ أَنَّ حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ سَأَلْتُ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ، إِنَّ هَذَا الْمَالَ حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ فَمَنْ أَخَذَهُ بِسَخَاوَةِ نَفْسٍ بُورِكَ لَهُ فِيهِ، وَمَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ، وَكَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ، وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى»، قَالَ حَكِيمُ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَرْزَأُ أَحَدًا بَعْدَكَ شَيْئًا حَتَّى أُفَارِقَ الدُّنْيَا، قَالَ عُرْوَةُ، وَسَعِيدٌ: فَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَدْعُو حَكِيمًا فَيُعْطِيهِ الْعَطَاءَ فَيَأْبَى، ثُمَّ كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يُعْطِيهِ فَيَأْبَى، فَيَقُولُ عُمَرُ: إِنِّي أُشْهِدُكُمْ يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ أَنِّي أَعْرِضُ عَلَيْهِ حَقَّهُ الَّذِي قُسِمَ لَهُ مِنْ هَذَا الْفَيْءِ فَيَأْبَى يَأْخُذُهُ، قَالَ: فَلَمْ يَرْزَأْ حَكِيمٌ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى تُوُفِّيَ
رقم طبعة با وزير = (3210)




হাকিম বিন হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিছু চাইলে তিনি আমাকে কিছু প্রদান করেন। তারপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আবার কিছু চাই, তিনি আমাকে কিছু প্রদান করেন। তারপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আবার কিছু চাই, তিনি আমাকে কিছু প্রদান করেন। তারপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আবার কিছু চাই, তিনি আমাকে আবার কিছু প্রদান করেন। তারপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আবার কিছু চাই, তিনি আমাকে আবার কিছু প্রদান করেন। তারপর তিনি বলেন, “হে হাকিম বিন হিযাম, নিশ্চয়ই এই সম্পদ সবুজ-শ্যামল, সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা নির্লোভ মনে গ্রহণ করে, তার জন্য তাতে বারাকাহ দেওয়া হয় আর যে ব্যক্তি তা লোভাতূর মনে গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বারাকাহ দেওয়া হয় না এবং সে ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির মতো, যে খায় কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না। আর উঁচু হাত নিচু হাত অপেক্ষা উত্তম।” হাকিম বিন হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে হক সহ পাঠিয়েছেন, আপনার পর দুনিয়া ত্যাগ করা পর্যন্ত আমি আর কারো কাছে কোন কিছু চাইবো না। উরওয়া ও সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “পরবর্তীতে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে হাকিম বিন হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ডেকে ভাতা দান করতে চাইতেন, কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন। তারপর ‍উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে ভাতা দান করতে চান, কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন। তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, “হে মুসলিম সম্প্রদায়, নিশ্চয়ই আমি হাকিম বিন হিযামের ব্যাপারে তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি তার কাছে ফাইয়ের (কাফেরদের থেকে যুদ্ধবিহীন প্রাপ্ত) মাল তার কাছে পেশ করেছি, কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।” রাবী বলেন, “অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর তিনি মৃত্যু অবধি আর কারো কাছে কোন কিছু চাননি।”[1]



[1] নাসাঈ: ৫/১০১-১০২; তাবারানী: ৩০৮৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০০৪১; সহীহুল বুখারী: ১৪৭২; তিরমিযী: ২৪৬৩; দারেমী: ১/৩৮৮; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯৬; বাগাবী: ১৬১৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪০৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩২১০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحاديث البيوع»: ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3221)


3221 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي مَسْلَمَةَ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، [ص:16] عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّ الدُّنْيَا خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ، وَإِنَّ اللَّهَ سَيُخْلُفُكُمْ فِيهَا لِيَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ، فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ، فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتِ النِّسَاءَ»
رقم طبعة با وزير = (3211)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই দুনিয়া সবুজ-শ্যামল, সুমিষ্ট। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে তাতে স্থলাভিষিক্ত করবেন এটা দেখার জন্য যে, তোমরা কেমন আমল করো। অতএব তোমরা দুনিয়ার (প্রলোভনের) ব্যাপারে সতর্ক থাকবে এবং নারীদের (প্রলোভনের) ব্যাপারে সতর্ক থাকবে । কেননা বানী ইসরাঈলের প্রথম ফিতনার সূত্রপাত হয়েছিল, নারীকে কেন্দ্র করে।”[1]



[1] নাসাঈর বরাতে তুহফাতুল আহওয়াযী: ৩/৪৬৩; সহীহ মুসলিম: ২৭৪২; মুসনাদুশ শিহাব: ১১৪২; মুসনাদ আহমাদ: ৩/২২; তিরমিযী: ২১৯১; ইবনু মাজাহ: ৪০০০; আবূ ইয়ালা: ১১০১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৪৮৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (486 و 911): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3222)


3222 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ حَيَّانَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْأَصَمِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَخْشَى عَلَيْكُمْ بَعْدِي [ص:17] الْفَقْرَ، وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمُ التَّكَاثُرُ، وَمَا أَخْشَى عَلَيْكُمُ الْخَطَأَ، وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمُ الْعَمْدَ»
رقم طبعة با وزير = (3213)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে দারিদ্রের ভয় করি না বরং আমি তোমাদের ব্যাপারে সম্পদের প্রাচুর্যের ভয় করি এবং আমি তোমাদের ব্যাপারে ভুলবশত (গোনাহের কাজ) করার ভয় করি না বরং আমি তোমাদের ব্যাপারে ইচ্ছাকৃত (গোনাহের কাজ) করার আশংকা করি।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩০৮; হাকিম: ২/৫৩৪; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/১২১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৫৯৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (593).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3223)


3223 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْذِرِ بْنِ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ الْبُرُلُّسِيُّ، حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عِيَاضٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «لِكُلِّ أُمَّةٍ فِتْنَةٌ، وَإِنَّ فِتْنَةَ أُمَّتِي الْمَالُ»
رقم طبعة با وزير = (3212)




কা‘ব বিন ইয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক ‍উম্মতের জন্য একটি ফিতনা রয়েছে। আর আমার উম্মতের ফিতনা হলো সম্পদ।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৬০; তিরমিযী: ২৩৩৬; তাবারানী: ১৯/৪০৪; হাকিম: ৪/৩১৮; ইমাম বুখারী, আত তারীখুল কাবীর: ৭/২২০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির সানাদকে শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২২১৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2216).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (3224)


3224 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنَ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ أَبَا الْخَيْرِ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ، يَقُولُ: آخِرُ مَا خَطَبَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ صَلَّى عَلَى شُهَدَاءِ أُحُدٍ، ثُمَّ رَقِيَ الْمِنْبَرَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «إِنِّي لَكُمْ فَرَطٌ، وَأَنَا عَلَيْكُمْ شَهِيدٌ، وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَى حَوْضِي الْآنَ فِي مَقَامِي هَذَا، وَإِنِّي وَاللَّهِ مَا أَخَافُ أَنْ تُشْرِكُوا بَعْدِي، وَلَكِنِّي أُرِيتُ أَنِّي أُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الْأَرْضِ، فَأَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تَنَافَسُوا فِيهَا»
رقم طبعة با وزير = (3214)




উকবাহ আল আমির আল জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সর্বশেষ যে ভাষন দিয়েছিলেন, সেটা ছিল এমন যে, তিনি উহুদ যুদ্ধের শহীদদের জন্য সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি মিম্বারে উঠেন অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ-কীর্তন করেন। তারপর তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের আগে চলে যাবো। আমি তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবো। আমি এখন আমার এই জায়গা থেকে আমার হাওযে কাওসার দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি এই আশংকা করি না যে, তোমরা আমার পরে শিরক করবে কিন্তু আমাকে দেখানো হয়েছে যে, আমাকে দুনিয়ার ধন-ভান্ডারের চাবিকাঠিসমূহ প্রদান করা হয়েছে। কাজেই আমার আশংকা হয় যে, তোমরা তাতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে যাবে!”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৪৯; সহীহুল বুখারী: ১৩৪৪; সহীহ মুসলিম: ২২৯৬; আবূ দাঊদ: ৩২২৩; নাসাঈ: ৪/৬১-৬২; হাকিম: ১/৩৬৬; সুনান বাইহাকী: ৪/১৪; বাগাবী: ৩৮২৩; তাবারানী: ১৭/৭৬৭; আবূ ইয়ালা: ১৭৪৮; বাগাবী: ৩৮২২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ১০৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (ص 107): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3225)


3225 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ الدَّسْتُوَائِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ مَا يُخْرِجُ اللَّهُ مِنْ زِينَةِ الدُّنْيَا وَزَهْرَتِهَا»، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوَ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ؟، فَسَكَتَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَرَأَيْنَا أَنَّهُ يُنَزَّلُ عَلَيْهِ، فَقِيلَ لَهُ: مَا شَأْنُكَ تُكَلِّمُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا يُكَلِّمُكَ؟ فَسُرِّيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَعَلَ يَمْسَحُ عَنْهُ الرُّحَضَاءَ، وَقَالَ: «أَيْنَ السَّائِلُ»، وَرَأَيْنَا أَنَّهُ حَمِدَهُ، فَقَالَ: «إِنَّ الْخَيْرَ لَا يَأْتِي بِالشَّرِّ، وَإِنَّ مِمَّا يُنْبِتُ [ص:20] الرَّبِيعُ يَقْتُلُ أَوْ يُلِمُّ حَبَطًا، أَلَمْ تَرَ إِلَى آكِلَةِ الْخَضِرِ، أَكَلَتْ حَتَّى امْتَلَأَتْ خَاصِرَتَاهَا، اسْتَقْبَلَتْ عَيْنَ الشَّمْسِ فَثَلَطَتْ وَبَالَتْ، ثُمَّ رَتَعَتْ، وَإِنَّ الْمَالَ حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ، وَنِعْمَ صَاحِبُ الْمُسْلِمِ هُوَ إِنْ وَصَلَ الرَّحِمَ، وَأَنْفَقَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَمَثَلُ الَّذِي يَأْخُذُهُ بِغَيْرِ حَقِّهُ كَمَثَلِ الَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ، وَيَكُونُ عَلَيْهِ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
رقم طبعة با وزير = (3215)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার ভাষনে আমাদের বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ব্যাপারে যা আশংকা করি, তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশি আশংকাজনক হলো আল্লাহ দুনিয়ার যে সৌন্দর্য ও চাকচিক্য বের করে দিবেন।” তখন এক ব্যক্তি বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কোন কল্যাণ কি অকল্যাণকে বয়ে আনতে পারে?” অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকেন। তারপর আমরা দেখলাম যে, তার উপর অহী অবতীর্ণ হচ্ছে। অতঃপর সেই ব্যক্তিকে বলা হয়, “তোমার কী হলো, তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে (এমন কথা) বলছো যে, তিনি তোমার সাথে কথা বলছেন না?” অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে (অহী অবতীর্ণ হওয়ার সময়ের অবস্থা) কেটে যায়। তখন তিনি শরীর থেকে ঘাম মুছতে শুরু করেন এবং তিনি বলেন, “প্রশ্নকারী কোথায়?” আমরা তাঁকে দেখেছি যে, তিনি আল্লাহর প্রশংসা করেন তারপর তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই কল্যাণ কোন অকল্যাণকে বয়ে আনে না। নিশ্চয়ই নদীর তীরে যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তা তৃণভোজী প্রাণীকে মেরে ফেলে অথবা মেরে ফেলার উপক্রম করে। তুমি কি দেখনি, তৃণভোজী প্রাণী ঘাস খেয়ে তার দুই পার্শ্বদেশ পরিপূর্ণ হয়ে যায়, তখন সেটি রৌদ্রে যায় অতঃপর মলমুত্র ত্যাগ করে। তারপর সেটি আবার চরে বেরায়। নিশ্চয়ই এই সম্পদ সুমিষ্ট ও সবুজ-শ্যামল। মুসলিম ব্যক্তি উৎকৃষ্ট সম্পদের অধিকারী হবে, যদি সে রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখে এবং আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে। আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রহণ করে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে খায় কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না। আর এই সম্পদ কিয়ামতের দিন তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে।”[1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা: ১২৪২; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৯১; নাসাঈ: ৫/৯০; সহীহ মুসলিম: ১০৫২; সহীহুল বুখারী: ৯২১; আত তায়ালিসী: ২১৮০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০০২৮; বাগাবী: ৪০৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩২১৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ (1465)، م (3/ 101 - 102).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3226)


3226 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ وَرْدَانَ، بِالْفُسْطَاطِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخَطَبَ النَّاسَ، فَقَالَ: «لَا وَاللَّهِ مَا أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ إِلَّا مَا يُخْرِجُ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ زُهْرَةِ الدُّنْيَا»، فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ؟، فَصَمَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاعَةً، ثُمَّ قَالَ: «كَيْفَ [ص:22] قُلْتَ»؟، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَهَلْ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ؟، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْخَيْرَ لَا يَأْتِي إِلَّا بِخَيْرٍ، وَلَكِنْ هُوَ أَنَّ كُلَّ مَا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ حَبَطًا، أَوْ يُلِمُّ إِلَّا آكِلَةَ الْخَضِرِ أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا امْتَلَأَتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلْتِ الشَّمْسَ، فَثَلَطَتْ، وَبَالَتْ ثُمَّ اجْتَرَّتْ فَعَادَتْ فَأَكَلَتْ، فَمَنْ أَخَذَ مَالًا بِحَقِّهِ يُبَارَكُ لَهُ، وَمَنْ أَخَذَ مَالًا بِغَيْرِ حَقِّهِ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ»
رقم طبعة با وزير = (3216)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দাঁড়িয়ে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষনে বলেন, “না, আল্লাহর কসম, হে লোকসকল, আল্লাহ দুনিয়ার যে সৌন্দর্য-চাকচিক্য বের করে দিবেন, আমি তোমাদের ব্যাপারে কেবল সেসব জিনিসের ব্যাপারেই আশংকা করি।” তখন এক ব্যক্তি বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কোন কল্যাণ কি অকল্যাণকে বয়ে আনতে পারে?” অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষন চুপ থাকেন। তারপর তিনি বলেন, “তুমি কিভাবে বললে?” সে ব্যক্তি বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কোন কল্যাণ কি অকল্যাণকে বয়ে আনতে পারে?” তারপর তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই কল্যাণ কোন অকল্যাণকে বয়ে আনে না। কিন্তু নদীর তীরে যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তা তৃণভোজী প্রাণীকে মেরে ফেলে অথবা মেরে ফেলার উপক্রম করে। তবে ঐ তৃণভোজী প্রাণী ছাড়া, যে ঘাস খায়, অতঃপর যখন তার দুই পার্শ্বদেশ পরিপূর্ণ হয়ে যায়, তখন সে রৌদ্রে যায় অতঃপর মলমুত্র ত্যাগ করে। তারপর সেটি আবার ফিরে এসে ঘাস খায়। যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পদ গ্রহণ করে, তার জন্য তাতে বারাকাহ দেওয়া হয় আর যে ব্যক্তি মাল অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে, তার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে খায় কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না।”[1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা: ১২৪২; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৯১; নাসাঈ: ৫/৯০; সহীহ মুসলিম: ১০৫২; সহীহুল বুখারী: ৯২১; আত তায়ালিসী: ২১৮০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০০২৮; বাগাবী: ৪০৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩২১৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3227)


3227 - أَخْبَرَنَا ابْنُ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ النَّاسَ، فَقَالَ: «إِنَّ مِمَّا أَتَخَوَّفُ عَلَيْكُمْ مَا يُفْتَحُ عَلَيْكُمْ مِنْ زُهْرَةِ الدُّنْيَا وَزِينَتِهَا»، فَقَامَ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَيَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ؟، قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: فَرَأَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْزِلُ عَلَيْهِ، فَلُمْنَا [ص:23] الرَّجُلَ حِينَ يُكَلِّمُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا يُكَلِّمُهُ، فَلَمَّا جُلِّيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، جَعَلَ يَمْسَحُ الرُّحَضَاءَ عَنْ وَجْهِهِ وَهُوَ يَقُولُ: «أَيْنَ السَّائِلُ؟ »، فَكَأَنَّهُ قَدْ حَمِدَهُ، فَقَالَ: «إِنَّ الْخَيْرَ لَا يَأْتِي بِالشَّرِّ، وَإِنَّ مِمَّا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ مَا يَقْتُلُ حَبَطًا، أَوْ يُلِمُّ إِلَّا آكِلَةَ الْخَضِرِ أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا هِيَ امْتَلَأَتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلَتْ عَيْنَ الشَّمْسِ، فَثَلَطَتْ وَبَالَتْ، وَإِنَّ هَذَا الْمَالَ نِعْمَ صَاحِبُ الْمُسْلِمِ لِمَنْ أَخَذَهُ بِحَقِّهِ، فَأَعْطَى مِنْهُ الْيَتِيمَ وَالْمِسْكِينَ وَالسَّائِلَ، وَمَنْ أَخَذَهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ، ثُمَّ يَكُونُ عَلَيْهِ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
رقم طبعة با وزير = (3217)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাদের মাঝে লোকদের ভাষন দিচ্ছিলেন, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ব্যাপারে যা আশংকা করি, তন্মধ্যে অন্যতম হলো আল্লাহ দুনিয়ার সৌন্দর্য ও চাকচিক্যতা।” তখন এক ব্যক্তি বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কোন কল্যাণ কি অকল্যাণকে বয়ে আনতে পারে?” আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “অতঃপর আমরা দেখলাম যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অহী অবতীর্ণ হচ্ছে। আমরা সেই ব্যক্তিকে তিরস্কার করি কারণ সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে (এমন কথা) বলেছে যে, তিনি তোমার সাথে কথা বলেননি!” অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে (অহী অবতীর্ণ হওয়ার সময়ের অবস্থা) কেটে যায়। তখন তিনি তাঁর চেহারা থেকে ঘাম মুছতে শুরু করেন এবং তিনি বলেন, “প্রশ্নকারী কোথায়?” (তিনি এমন মনোভাব প্রকাশ করেন) যেন তিনি তার প্রশংসা করছেন। তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই কল্যাণ কোন অকল্যাণকে বয়ে আনে না। নিশ্চয়ই নদীর তীরে যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তা তৃণভোজী প্রাণীকে মেরে ফেলে অথবা মেরে ফেলার উপক্রম করে। তবে ঐ তৃণভোজী প্রাণী নয়, যে ঘাস খেয়ে তার দুই পার্শ্বদেশ পরিপূর্ণ হয়ে যায়, তখন সে রৌদ্রে যায় অতঃপর মলমুত্র ত্যাগ করে। নিশ্চয়ই মুসলিম ব্যক্তি উৎকৃষ্ট সম্পদের অধিকারী হবে, যদি সে ন্যায় সঙ্গতভাবে তা গ্রহণ করে এবং ইয়াতিম, মিসকীন, ও সাহায্যপ্রার্থীকে দান করে। আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রহণ করে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে খায় কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না। তারপর এই সম্পদ কিয়ামতের দিন তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে।”[1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা: ১২৪২; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৯১; নাসাঈ: ৫/৯০; সহীহ মুসলিম: ১০৫২; সহীহুল বুখারী: ৯২১; আত তায়ালিসী: ২১৮০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২০০২৮; বাগাবী: ৪০৫। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩২১৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مكرر (3215). تنبيه!! رقم (3215) = (3225) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (3228)


3228 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى الْمُخَرِّمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الْأَزْرَقُ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ، عَنِ ابْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا ذِئْبَانِ جَائِعَانِ أُرْسِلَا فِي غَنَمٍ بِأَفْسَدَ لَهَا مِنْ حِرْصِ الرَّجُلِ عَلَى الْمَالِ وَالشَّرَفِ لِدِينِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3218)




কা‘ব বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সম্পদ ও সম্মান প্রাপ্তির লালসা একজন ব্যক্তির দ্বীনকে যতটা ক্ষতি করে, দুটো ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে একপাল মেষের মাঝে ছেড়ে দিলেও ততটা ক্ষতি করতে পারে না।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৬০; তিরমিযী: ২৩৭৬; তাবারানী আল কাবীর: ১৯/১৮৯; বাগাবী: ৪০৪৫; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১৩/২৪১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আর রওয: ৭০৫)






تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الروض النضير» (رقم 5 - 7).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3229)


3229 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ الْبَزَّارُ، وَسَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حِسَابٍ، وَعَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، قَالُوا: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «يَهْرَمُ ابْنُ آدَمَ وَتَشِبُّ فِيهِ اثْنَتَانِ: الْحِرْصُ عَلَى الْمَالِ، وَالْحِرْصُ عَلَى الْعُمُرِ» *
رقم طبعة با وزير = (3218 / م)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আদম সন্তান বৃদ্ধ হয়, কিন্তু তার দুটি জিনিস যুবক থাকে: সম্পদের ব্যাপারে লোভ-লালসা ও জীবনের ব্যাপারে লোভ-লালসা।”[1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা: ২৮৫৭; ‍মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৯২; সহীহ মুসলিম: ১০৪৭; তিরমিযী: ২৪৫৫; ইবনু মাজাহ: ৪২৩৪; মুসনাদুশ শিহাব: ৫৯৮; বাগাবী: ৪০৮৭; আত তায়ালিসী: ২০০৫; সহীহুল বুখারী: ৬৪২১; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৬৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৯০৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1906). قال الناشر: هذا الحديث ساقط من «الأصل»، واستركناه من «طبعة الؤسسة».




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3230)


3230 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، [ص:26] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَلْبُ الْكَبِيرِ شَابَ عَلَى حُبِّ اثْنَتَيْنِ: عَلَى حُبِّ الْحَيَاةِ، وَحُبِّ الْمَالِ»، قَالَ ابْنُ عَرَفَةَ: وَأَنَا وَاحِدٌ مِنْهُمْ
رقم طبعة با وزير = (3219)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বয়োবৃদ্ধ লোকদের অন্তর দুটি জিনিসের ভালবাসায় যুবক থাকে: জীবন ও সম্পদের প্রতি ভালবাসা।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৫০১; বাগাবী: ৪০৮৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১৯০৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1906): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3231)


3231 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَطَاءً، يَقُولُ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «لَوْ أَنَّ لِابْنِ آدَمَ مِلْءَ وَادِي مَالٍ لَأَحَبَّ أَنْ يَكُونَ لَهُ مِثْلُهُ، وَلَا يَمْلَأُ نَفْسَ ابْنِ آدَمَ إِلَّا التُّرَابُ، وَاللَّهُ يَتُوبُ عَلَى مِنْ تَابَ»
رقم طبعة با وزير = (3220)




আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যদি আদম সন্তানের একটি উপত্যকা ভর্তি সম্পদ থাকতো, তবুও সে চাইতো অনুরুপ আরেক উপত্যকা ভর্তি সম্পদ। আদম সন্তানের মন মাটি ছাড়া আর কিছুই পূর্ণ করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি তাওবা করে, আল্লাহ তার তাওবা কবূল করেন।”[1]



[1] মুসনাদ আবী ইয়ালা: ২৫৭৩; সহীহ মুসলিম: ১০৪৯; মুসনাদ আহমাদ: ১/৩৭০; সহীহুল বুখারী: ৬৪৩৬; তাবারানী: ১১৪২৩; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৬৮; বাগাবী: ৪০৯০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আর রওয: ৩৩২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الروض النضير» (332): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين