হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (3252)


3252 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ: «آكُلُ الرِّبَا وَمُوكِلُهُ وَكَاتِبُهُ وَشَاهِدَاهُ إِذَا عَلِمُوا بِهِ، وَالْوَاشِمَةُ وَالْمُسْتَوْشِمَةُ لِلْحُسْنِ، وَلَاوِي الصَّدَقَةِ، وَالْمُرْتَدُّ أَعْرَابِيًّا بَعْدَ هِجْرَتِهِ مَلْعُونُونَ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
رقم طبعة با وزير = (3241)




আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “সুদ দাতা, সুদ গ্রহিতা, লেখক, সাক্ষী (যারা এ ব্যাপারে সাক্ষী দেয় অথচ জানে এটি সুদের লেনদেন) সৌন্দর্যের জন্য উল্কি অঙ্কনকারী, উল্কি গ্রহণকারী, যাকাত প্রদানে খেয়ানতকারী, হিজরতের পর মুরতাদ বেদুঈন- এসব ব্যক্তিরা কিয়ামতের দিন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানিতে অভিশপ্ত হবে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/৪০৯; নাসাঈ: ৮/১৪৭; আবূ ইয়ালা: ৫২৪১; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৫৩৫০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৫০; হাকিম: ১/৩৮৭-৩৮৮; বাইহাকী: ৯/১৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৩/৪৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (3/ 49)، «البيوع».




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3253)


3253 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ [ص:45] يَحْيَى الْحَسَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَا مِنْ عَبْدٍ لَهُ مَالٌ لَا يُؤَدِّي زَكَاتَهُ إِلَّا جَمَعَ اللَّهُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُحْمَى عَلَيْهِ صَفَائِحُ مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ، يُكْوَى بِهَا جَبِينُهُ وَظَهْرُهُ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ بَيْنَ عِبَادِهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ، ثُمَّ يَرَى سَبِيلَهُ إِمَّا إِلَى جُنَّةٍ وَإِمَّا إِلَى نَارٍ، وَمَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ لَا يُؤَدِّي زَكَاتَهَا إِلَّا بُطِحَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ أَوْفَرَ مَا كَانَتْ تَسِيرُ عَلَيْهِ، كُلَّمَا مَضَى عَلَيْهِ [ص:46] أُخْرَاهَا رُدَّتْ عَلَيْهِ أُولَاهَا، حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ بَيْنَ عِبَادِهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، ثُمَّ يَرَى سَبِيلَهُ إِمَّا إِلَى جُنَّةٍ وَإِمَّا إِلَى نَارٍ، وَمَا مِنْ صَاحِبِ غَنَمٍ لَا يُؤَدِّي زَكَاتَهَا إِلَّا بُطِحَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ كَأَوْفَرِ مَا كَانَتْ، فَتَطَؤُهُ بِأَظْلَافِهَا، وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا، لَيْسَ فِيهَا عَقْصَاءُ وَلَا جَلْحَاءُ، كُلَّمَا مَضَتْ عَلَيْهِ أُخْرَاهَا رُدَّتْ عَلَيْهِ أُولَاهَا، حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ بَيْنَ عِبَادِهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، ثُمَّ يَرَى سَبِيلَهُ إِمَّا إِلَى جُنَّةٍ وَإِمَّا إِلَى نَارٍ»
رقم طبعة با وزير = (3242)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে কোন সম্পদশালী ব্যক্তি, যদি তার সম্পদের যাকাত আদায় না করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা একত্রিত করবেন, তার উপর জাহান্নামের আগুনের প্লেট তপ্ত করে তা দিয়ে তার ললাট ও পিঠ সেঁক দেওয়া হতে থাকবে, যতক্ষন না আল্লাহ তার বান্দাদের মাঝে বিচার-ফায়সালা করবেন এমন দিনে যা তোমাদের গণনায় ৫০ হাজার বছরের সমপরিমাণ। তারপর সে তার পথ দেখতে পাবে, হয়তো জান্নাতের দিকে নতুবা জাহান্নামের দিকে। কোন উটের মালিক যদি তার উটের যাকাত আদায় না করে, তবে সেগুলোর জন্য বিশাল-বিস্তৃত বালুময় ময়দান স্থাপন করা হবে, সেগুলো তাকে পদদলিত করবে। যখন তার উপর শেষ উট আসবে, তখন প্রথম উট পুনরায় ফিরে আসবে। এভাবেই চলতে থাকবে, যতক্ষন না আল্লাহ তার বান্দাদের মাঝে বিচার-ফায়সালা করবেন এমন দিনে যা তোমাদের গণনায় ৫০ হাজার বছরের সমপরিমাণ। তারপর সে তার পথ দেখতে পাবে, হয়তো জান্নাতের দিকে নতুবা জাহান্নামের দিকে। কোন মেষের মালিক যদি তার মেষের যাকাত আদায় না করে, তবে সেগুলোর জন্য বিশাল-বিস্তৃত বালুময় ময়দান স্থাপন করা হবে, সেগুলো তাকে তাদের খুর দ্বারা পদদলিত করবে, শিং দ্বারা আঘাত করবে। কোন মেষের শিং ভাঙ্গা বা শিংবিহীন থাকবে না। যখন তার উপর শেষ মেষ আসবে, তখন প্রথম মেষ পুনরায় ফিরে আসবে। এভাবেই চলতে থাকবে, যতক্ষন না আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মাঝে বিচার-ফায়সালা করবেন এমন দিনে যা তোমাদের গণনায় ৫০ হাজার বছরের সমপরিমাণ। তারপর সে তার পথ দেখতে পাবে, হয়তো জান্নাতের দিকে নতুবা জাহান্নামের দিকে।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৫৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৮৫৮; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৬২; সহীহ মুসলিম: ৯৮৭; আবূ দাঊদ: ১৬৫৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৫২; সুনান বাইহাকী: ৪/৮১; বাগাবী: ১৫৬২; নাসাঈ: ৫/১২-১৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৬২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1462): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3254)


3254 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، [ص:47] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَأْتِي الْمَالُ الَّذِي لَمْ يُعْطَ الْحَقُّ مِنْهَا، فَتَطَأُ الْإِبِلُ سَيِّدَهَا بِأَخْفَافِهَا، وَيَأْتِي الْبَقَرُ وَالْغَنَمُ فَتَطَأُ صَاحِبَهَا بِأَظْلَافِهَا، وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا، وَيَأْتِي الْكَنْزُ شُجَاعًا أَقْرَعَ، فَيَلْقَى صَاحِبَهُ فَيَفِرُّ مِنْهُ، ثُمَّ يَسْتَقْبِلُهُ وَيَفِرُّ مِنْهُ، فَيَقُولُ: مَا لِي وَمَا لَكَ؟، فَيَقُولُ أَنَا كَنْزُكَ أَنَا كَنْزُكَ، فَيتَلَقَّاهُ صَاحِبُهُ بِيَدِهِ فَيَلْقَمُ يَدَهُ»
رقم طبعة با وزير = (3243)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যেসব মালের হক আদায় করা হয়নি, তা কিয়ামতের দিন আসবে। উট তার মালিককে খুর দ্বারা পদদলিত করবে। গরু ও মেষ আসবে অতঃপর তাদের মালিককে খুর দ্বারা পদদলিত করবে আর শিং দ্বারা আঘাত করবে। আর গুপ্তধন কেশহীন বিশাল আকারের বিষাক্ত সাপ হিসেবে আবির্ভুত হবে। অতঃপর সে তার মালিকের সাথে সাক্ষাত করতে চাইবে, তখন সে পলায়ন করবে। তারপর সে আবার তার সামনে আসবে তখনও সে পালাবে এবং বলবে, “আমার সাথে তোমার কী হয়েছে?” সে জবাবে বলবে, “আমি তোমার গচ্ছিত সম্পদ, আমি তোমার গচ্ছিত সম্পদ।” অতঃপর সে তার হাত দ্বারা তার সাথে সাক্ষাত করবে। তখন সাপ তার হাত গ্রাস করবে।”[1]



[1] ইবনু মাজাহ: ১৭৮৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/৫২০; সহীহুল বুখারী: ১৪০২; নাসাঈ: ৬/২৩-২৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৬২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «صحيح أبي داود» (1462): ق نحوه.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3255)


3255 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَدِينِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، [ص:48] أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ لَا يَفْعَلُ فِيهَا خَيْرًا إِلَّا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرَ مَا كَانَتْ، وَأُقْعِدَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ تَسْتَنُّ عَلَيْهِ بِقَوَائِمِهَا وَأَخْفَافِهَا، وَلَا صَاحِبِ بَقَرٍ إِلَّا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرَ مَا كَانَتْ، وَأُقْعِدَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ تَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا وَتَطَؤُهُ بِأَظْلَافِهَا لَيْسَ فِيهَا جَمَّاءُ وَلَا مُكَسَّرٌ قَرْنُهَا، وَلَا صَاحِبِ كَنْزٍ لَا يَفْعَلُ فِيهِ حَقَّهُ إِلَّا جَاءَ كَنْزُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ يَتْبَعُهُ فَاغِرًا فَاهُ، فَإِذَا أَتَاهُ فَرَّ مِنْهُ فَيُنَادِيهِ رَبُّهُ: كَنْزُكَ الَّذِي خَبَّأْتَهُ، فَإِذَا رَأَى أَنْ لَابُدَّ لَهُ مِنْهُ سَلَكَ يَدَهُ فِي فِيهِ فَيَقْضَمُهَا قَضْمَ الْفَحْلِ»
رقم طبعة با وزير = (3244)




জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যদি কোন উটের মালিক তার উটের ক্ষেত্রে ভালো কিছু না করে, তবে সেগুলো কিয়ামতের দিন অধিক সংখ্যায় আবির্ভুত হবে। সেগুলোর জন্য বালুময় উন্মুক্ত ময়দান স্থাপন করা হবে। সেগুলো তাকে তাদের পা ও পায়ের খুর দ্বারা আঘাত করবে। যদি কোন গরুর মালিক (তার গরুর ক্ষেত্রে ভালো কিছু না করে), তবে সেগুলো কিয়ামতের দিন অধিক সংখ্যায় আবির্ভুত হবে। সেগুলোর জন্য বালুময় উন্মুক্ত ময়দান স্থাপন করা হবে। সেগুলো তাকে তাদের পায়ের খুর দ্বারা আঘাত করবে এবং শিং দ্বারা আঘাত করবে। সেগুলোর মাঝে কোন শিং ভাঙ্গা বা শিংবিহীন গরু থাকবে না। যদি কোন গুপ্তধনের মালিক, তাদের সম্পদের হক আদায় না করে, তবে সেগুলো কিয়ামতের দিন টাকবিশিষ্ট্য সাপে পরিণত হবে। সেগুলো মুখ হা করে তার পিছু ধাওয়া করবে। যখন সেটা তার কাছে আসবে, তখন সে পলায়ন করবে। সেসময় তার প্রভু ডাক দিবে, “এটা তোমার গুপ্তধন, যা তুমি লুকিয়ে রেখেছিলে।” অতঃপর যখন সে দেখবে যে, সে অবশ্যই তাকে ধরে ফেলবে, তখন সে তার হাত সাপের মুখে দিবে। অতঃপর সাপ হাত কামড়াবে, যেভাবে পুরুষ উট কামড় দেয়।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩২১; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৮৫৯; দারেমী: ১/৩৮০; সহীহ মুসলিম: ৯৮৮; ইবনুল জারুদ: ৩৩৫; সুনান বাইহাকী: ৪/১৮৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২১৩; নাসাঈ: ৫/২৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৫৫৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (558): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3256)


3256 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ الْمِقْدَامِ، قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ الطَّائِيُّ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، [ص:49] عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يَمُوتُ رَجُلٌ فَيَدَعُ إِبِلًا أَوْ بَقَرًا أَوْ غَنَمًا لَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهَا إِلَّا مُثِّلَتْ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْظَمَ مَا تَكُونُ وَأَسْمَنَهُ، تَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا وَتَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا، كُلَّمَا ذَهَبَ أُخْرَاهَا رَجَعَ أُولَاهَا كَذَلِكَ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ بَيْنَ النَّاسِ»
رقم طبعة با وزير = (3245)




আবূ যার আল গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি এমন উট, গরু ও মেষ রেখে মারা যায়, যেগুলোর সে যাকাত আদায় করেনি, তবে সেগুলোকে কিয়ামতের দিন ‍দুনিয়ার চেয়ে বিশালাকার ও বেশি মোটা করে উপস্থাপন করা হবে, সেগুলো তাদের শিং দিয়ে তাকে গুতা দিবে এবং খুর দ্বারা আঘাত করবে। যখনই তাদের সর্বশেষটি চলে যাবে, তখন আবার প্রথমটি চলে আসবে। মহান আল্লাহ মানুষেরে মাঝে বিচার-ফায়সালা না করা পর্যন্ত এভাবেই তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৫৭-১৫৮; সহীহ মুসলিম: ৯৯০; ইবনু মাজাহ: ১৭৮৫; নাসাঈ: ৫/২৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৫১; সুনান বাইহাকী: ৪/৯৭; সহীহুল বুখারী: ১৪৬০; তিরমিযী: ৬১৭; দারেমী: ১/৩৮১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২৬৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 267): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3257)


3257 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ ثَوْبَانَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ تَرَكَ بَعْدَهُ كَنْزًا مُثِّلَ لَهُ شُجَاعًا أَقْرَعَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَهُ زَبِيبَتَانِ يَتْبَعُهُ، فَيَقُولُ: مَنْ أَنْتَ؟، فَيَقُولُ: أَنَا كَنْزُكَ الَّذِي خَلَّفْتَ بَعْدَكَ، فَلَا يَزَالُ يَتْبَعُهُ حَتَّى يُلْقِمَهُ يَدَهُ فَيَقْضِمُهَا، ثُمَّ يَتْبَعُهُ سَائِرَ جَسَدِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3246)




সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার পরে গুপ্তধন রেখে যায়, সেগুলোকে কিয়ামতের দিন টাকবিশিষ্ট্য বিশাল বিষাক্ত সাপে রুপ দেওয়া হবে, যার চোখে থাকবে, দুটি কালো দাগ। সে তার মালিকের পিছু নিবে। তার মালিক বলবে, “তুমি কে?” সে জবাবে বলবে, “আমি তোমার গুপ্তধন, যা তুমি তোমার পিছনে রেখে এসেছিলে!” অতঃপর সেটা তাকে ধাওয়া করতেই থাকবে এক পর্যায়ে সে তার হাত সাপের মুখে ‍দিবে অতঃপর সাপ তা গ্রাস করবে তারপর ক্রমান্বয়ে তার পুরো শরীর গ্রাস করবে।”[1]



[1] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/১৮১; তাবারানী: ১৪০৮; হাকিম: ১/৩৮৮-৩৮৯; বাযযার: ৮৮২; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/৬৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২৬৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 269).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3258)


3258 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ وَرْدَانَ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «يَكُونُ كَنْزُ أَحَدِكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ، يَتْبَعُ صَاحِبَهُ وَهُوَ يَتَعَوَّذُ مِنْهُ، فَلَا يَزَالُ يَتْبَعُهُ حَتَّى يُلْقِمَهُ أُصْبُعَهُ»
رقم طبعة با وزير = (3247)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের গুপ্তধনগুলো কিয়ামতের দিন টাকবিশিষ্ট্য বিশাল বিষাক্ত সাপে পরিণত হবে। সে তার মালিকের অনুসরণ করবে আর সে ব্যক্তি তার থেকে আশ্রয় চাইবে। সে তার পিছু ধাওয়া করতেই থাকবে, এক পর্যায়ে সে তার আঙ্গুল গ্রাস করবে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৫৫; সহীহুল বুখারী: ১৪০৩; নাসাঈ: ৫/৩৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির সানাদকে শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৫৫৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (558): خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (3259)


3259 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْأَسَدِيُّ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ، عَنِ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَبَيْنَا أَنَا فِي حَلْقَةٍ وَفِيهَا مَلَأٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ، أَخْشَنُ الثِّيَابِ، أَخْشَنُ الْجَسَدِ، أَخْشَنُ الْوَجْهِ، فَقَامَ عَلَيْهِمْ، فَقَالَ: «بَشِّرِ الْكَنَّازِينَ بِرَضْفٍ يُحْمَى عَلَيْهِمْ فِي نَارِ جَهَنَّمَ، فَيُوضَعُ عَلَى حَلَمَةِ ثَدْيِ أَحَدِهِمْ حَتَّى يَخْرُجَ مِنْ نُغْضِ كَتِفِهِ، وَيُوضَعَ عَلَى نُغْضِ كَتِفِهِ حَتَّى يَخْرُجَ مِنْ حَلَمَةَ ثَدْيهِ، فَوَضَعُوا رُءُوسَهُمْ، فَمَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْهُمْ رَجَعَ إِلَيْهِ شَيْئًا، قَالَ: وَأَدْبَرَ، فَاتَّبَعْتُهُ حَتَّى جَلَسَ إِلَى سَارِيَةٍ، فَقُلْتُ: مَا رَأَيْتُ هَؤُلَاءِ إِلَّا كَرِهُوا مَا قُلْتَ لَهُمْ، قَالَ: إِنَّ هَؤُلَاءِ لَا يَعْقِلُونَ، إِنَّ خَلِيلِي أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعَانِي، فَقَالَ: » يَا أَبَا ذَرٍّ «: فَأَجَبْتُهُ، قَالَ: » أَتَرَى أُحُدًا «، قَالَ: فَنَظَرْتُ مَا عَلَيَّ مِنَ الشَّمْسِ وَأَنَا أَظُنُّهُ يَبْعَثُنِي لِحَاجَةٍ لَهُ، فَقَالَ: » مَا يَسُرُّنِي أَنَّ لِي مِثْلَهُ ذَهَبًا أُنْفِقُهُ كُلَّهُ غَيْرَ ثَلَاثَةِ دَنَانِيرَ، ثُمَّ هَؤُلَاءِ يَجْمَعُونَ الدُّنْيَا لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا «، قَالَ: قُلْتُ: مَا لَكَ وَلِإِخْوَانِكَ قُرَيْشٍ؟ قَالَ: لَا وَرَبِّكَ لَا أَسْأَلُهُمْ دُنْيَا وَلَا أَسْتَفْتِيهِمْ فِي دِينِي حَتَّى أَلْحَقَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
رقم طبعة با وزير = (3248)




আহনাফ বিন কাইস (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আমি মাদীনায় আগমন করি। আমি একটি হালাকায় ছিলাম, সেখানে কুরাইশ বংশের একদল নেতৃস্থানীয় লোক ছিলেন। এমন সময় একজন ব্যক্তি আগমন করেন, যার কাপড়, চেহারা ও দেহ খশখশে ছিল। তিনি তাদের কাছে এসে দাঁড়ান অতঃপর বলেন, “(যাকাত আদায় না করে) সম্পদ জমাকারীদের তপ্ত পাথরের সুসংবাদ দিন, তাদের জন্য জাহান্নামে আগুনে সেটাকে তাপ দেওয়া হবে। অতঃপর সেটা তাদের বুকের স্তনের বোটার উপর রাখা হবে, অতঃপর সেটা কাঁধের হাড় দিয়ে বের হবে। তারপর সেটাকে কাঁধের হাড়ের উপর রাখা হবে, অতঃপর তা স্তনের বোটা দিয়ে বের হবে।” এই হাদীস শ্রবণ করে তারা তাদের মাথা নিচু করেন। আমি তাদের একজনকেও কোন প্রতিউত্তর করতে দেখলাম না।” রাবী বলেন, “তারপর তিনি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যান। আমি তার অনুসরণ করি। তিনি একটি খুঁটির কাছে গিয়ে বসেন। তখন আমি বললাম, “আমার তো মনে হয়, আপনি তাদেরকে যা বলেছেন, সেটা তারা অপছন্দই করেছে!” তিনি বলেন, “এরা বুঝতে পারছে না। নিশ্চয়ই আমার বন্ধু আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাকে ডাক দিয়ে বলেন, “হে আবূ যার।” আমি তাঁর ডাকে সাড়া দেই। তিনি বলেন, “তুমি কি উহুদ পাহাড় দেখতে পাচ্ছো?” অতঃপর আমি আমার ‍উপর প্রখর সূর্যতাপ লক্ষ্য করলাম আর আমি মনে করলাম, তিনি আমাকে তার কোন প্রয়োজনে পাঠাবেন। অতঃপর তিনি বলেন, “আমি মোটেও খুশি হবো না যে, আমার উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ হোক। এরকম হলে আমি তার তিনটি দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) ছাড়া বাকি সমস্ত স্বর্ণ দান করে দিবো।” আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তারপর এই লোকগুলো দুনিয়া জমা করছে, তারা ‍কিছুই বুঝতে পারছে না।” রাবী বলেন, “আমি বললাম, আপনার সাথে আপনার কুরাইশ ভাইদের কী হয়েছে?” জবাবে তিনি বলেন, “না, কিছুই না। তোমার প্রভুর কসম, আমি তাদের কাছে দুনিয়া চাই না, আর আমার দ্বীনের বিষয়েও তাদেরকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করতে চাই না, এভাবেই আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মিলিত হবো।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৬০; সহীহ মুসলিম : ৯৯২; সহীহুল বুখারী: ১৪০৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১০২৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1028).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (3260)


3260 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْأَشْهَبِ، قَالَ: حَدَّثَنَا خُلَيْدٌ الْعَصَرِيُّ، عَنِ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: كُنْتُ فِي نَفَرٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَمَرَّ أَبُو ذَرٍّ وَهُوَ يَقُولُ: «بَشِّرِ الْكَنَّازِينَ فِي ظُهُورِهِمْ بِكَيٍّ يَخْرُجُ مِنْ جُنُوبِهِمْ، وَبِكَيٍّ مِنْ قِبَلِ قَفَاهِمْ يَخْرُجُ مِنْ جِبَاهِهِمْ، ثُمَّ تَنَحَّى فَقَعَدَ»، فَقُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: أَبُو ذَرٍّ فَقُمْتُ إِلَيْهِ، فَقُلْتُ: مَا شَيْءٌ سَمِعْتُكَ تَقُولُهُ قُبَيْلُ؟، قَالَ: مَا قُلْتُ إِلَّا شَيْئًا سَمِعْتُهُ مِنْ نَبِيِّهِمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: قُلْتُ: فَمَا تَقُولُ فِي هَذَا الْعَطَاءِ، قَالَ: خُذْهُ فَإِنَّ فِيهِ الْيَوْمَ مَعُونَةً، فَإِذَا كَانَ ثَمَنًا لِدِينِكَ فَدَعْهُ
رقم طبعة با وزير = (3249)




আহনাফ বিন কাইস (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আমি কুরাইশদের একদল ব্যক্তির মাঝে ছিলাম, এসময় আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন, তখন তিনি বলছিলেন, “সম্পদ জমাকারীদেরকে সুসংবাদ দিন, তাদের পৃষ্ঠদেশে সেক দেওয়া হবে, সেটা তাদের পার্শ দিয়ে বের হবে, তাদের মাথার পশ্চাৎভাগে এক সেক দেওয়া হবে, সেটা তাদের ললাট দিয়ে বের হবে।” তারপর তিনি সরে গিয়ে বসে পড়েন। তখন আমি বললাম, “ইনি কে?” তারা জবাবে বলেন, “আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু।” অতঃপর আমি উঠে তার কাছে যাই এবং তাকে বলি, “একটু আগে আমি আপনার কাছে কী শুনতে পেলাম?” জবাবে তিনি বলেন, “আমি সেটাই বলেছি, যা আমি তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শ্রবণ করেছি।” রাবী বলেন, “আমি বললাম, তবে আপনি রাষ্ট্রীয় ভাতার ব্যাপারে কী বলবেন?” জবাবে তিনি বলেন, “তুমি সেটা গ্রহণ করো। কেননা এটা তোমার জন্য এখন সহায়ক হবে। অতঃপর যখন এই ভাতা তোমার দ্বীনের মুল্য হয়ে যাবে (ভাতার মাধ্যমে মানুষের দ্বীনদারিতা ক্রয় করার চেষ্টা করা হবে), তখন তুমি সেটা বর্জন করবে।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ৯৯২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩২৪৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م (992/ 35).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3261)


3261 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَأْتِي الْمَالُ الَّذِي لَا يُعْطَى فِيهِ الْحَقُّ تَطَأُ الْإِبِلُ سَيِّدَهَا بِأَخْفَافِهَا، وَيَأْتِي الْبَقَرُ وَالْغَنَمُ فَتَطَأُ صَاحِبَهَا بِأَظْلَافِهَا، وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا، وَيَأْتِي الْكَنْزُ شُجَاعًا أَقْرَعَ فَيَلْقَى صَاحِبَهُ، فَيَفِرُّ مِنْهُ صَاحِبُهُ، ثُمَّ يَسْتَقْبِلُهُ وَيَفِرُّ مِنْهُ، وَيَقُولُ: مَا لِي وَلَكَ؟، فَيَقُولُ: أَنَا كَنْزُكَ، فَيَلْقَمُ يَدَهُ»
رقم طبعة با وزير = (3250)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যেসব মালের হক আদায় করা হয়নি, তা কিয়ামতের দিন আসবে। উট তার মালিককে খুর দ্বারা পদদলিত করবে। গরু ও মেষ আসবে অতঃপর তাদের মালিককে খুর দ্বারা পদদলিত করবে আর শিং দ্বারা আঘাত করবে। আর গুপ্তধন কেশহীন বিশাল আকারের বিষাক্ত সাপ হিসেবে আবির্ভুত হবে। অতঃপর সে তার মালিকের সাথে সাক্ষাত করতে চাইবে, তখন সে পলায়ন করবে। তারপর সে আবার তার সামনে আসবে তখনও সে পালাবে এবং বলবে, “আমার সাথে তোমার কী হয়েছে?” সে জবাবে বলবে, “আমি তোমার গচ্ছিত সম্পদ, আমি তোমার গচ্ছিত সম্পদ।” অতঃপর সে তার হাত দ্বারা তার সাথে সাক্ষাত করবে। তখন সাপ তার হাত গ্রাস করবে।”[1]



[1] ইবনু মাজাহ: ১৭৮৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/৫২০; সহীহুল বুখারী: ১৪০২; নাসাঈ: ৬/২৩-২৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৬২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (3243). تنبيه!! رقم (3243) = (3254) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3262)


3262 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنُ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرَ الرَّأْسِ يُسْمَعُ دَوِيُّ صَوْتِهِ وَلَا يُفْقَهُ مَا يَقُولُ، حَتَّى دَنَا، فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الْإِسْلَامِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَمْسُ [ص:54] صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ»، قَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟، قَالَ: «لَا إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ» قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَصِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ»، فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُ؟، قَالَ: «لَا إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ»، قَالَ: وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الزَّكَاةَ، فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟ قَالَ: لَا إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ «، قَالَ: فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ وَاللَّهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: » أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ «
رقم طبعة با وزير = (3251)




সুহাইল বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি তালহা বিন উবাইদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “নজদের অধিবাসী এলোমেলো চুলধারী এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসেন, তার কথার উচ্চ আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল কিন্তু সে যা বলছিল তা বুঝা যাচ্ছিল না। এক পর্যায়ে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা।” সে ব্যক্তি বলেন, “আমার উপর এছাড়া আর কোন সালাত আবশ্যক আছে কি?” জবাবে তিনি বলেন, “না, তবে যদি তুমি নফল সালাত আদায় করো, সেটা ভিন্ন কথা।” রাবী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরোও বলেন, “এবং রমযান মাসের সিয়াম পালন করা।” সে ব্যক্তি বলেন, “আমার উপর এছাড়া আর কোন সিয়াম আবশ্যক আছে কি?” জবাবে তিনি বলেন, “না, তবে যদি তুমি নফল সিয়াম পালন করো, সেটা ভিন্ন কথা।” রাবী বলেন, “এছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যাকাতের কথা বলেন। সে ব্যক্তি বলেন, “আমার উপর এছাড়া আর কোন আবশ্যক বিধান আছে কি?” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “না, তবে যদি তুমি নফল ইবাদত পালন করো, সেটা ভিন্ন কথা।” রাবী বলেন, “অতঃপর সে ব্যক্তি এই বলতে বলতে চলে যান, “আল্লাহর কসম, আমি এর চেয়ে বেশি করবো না, এর কোন কিছু কমও করবো না।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে সফল হবে।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৭৫; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৪৬; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৬২; সহীহ মুসলিম: ১১; আবূ দাঊদ: ৩৯১; নাসাঈ: ১/২২৬-২২৮; ইবনুল জারূদ, আল মুনতাকা: ১৪৪; সুনান বাইহাকী: ১/৩৬১; সহীহ আল বুখারী: ১৮৯১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ ‍বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুর হিসান: ১৭২১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما









সহীহ ইবনু হিব্বান (3263)


3263 - أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْعُمَرِيُّ، بِالْمَوْصِلِ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: تُوُفِّيَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الصُّفَّةِ فَوَجَدُوا فِي شَمْلَتِهِ دِينَارَيْنِ، فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «كَيَّتَانِ»
رقم طبعة با وزير = (3252)




আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আহলে সুফফার এক ব্যক্তি মারা যায়, অতঃপর সাহাবীগণ তার চাদরে দুই দীনার পান। অতঃপর তারা বিষয়টি আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবহিত করেন। তখন তিনি বলেন, “এই দুটি দ্বারা তাকে সেক দেওয়া হবে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/৪৫৭; আবূ ইয়ালা: ৫০৩৭; বাযযার: ৩৬৫২; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/২৪০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৪৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 43).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3264)


3264 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، [ص:55] عَنْ سَلَمَةَ بْنَ الْأَكْوَعِ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُتِيَ بِجِنَازَةٍ، فَقَالُوا: صَلِّ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «هَلْ تَرَكَ عَلَيْهِ دَيْنًا»، قَالُوا: لَا، قَالَ: «فَهَلْ تَرَكَ مِنْ شَيْءٍ»، قَالُوا: ثَلَاثَةُ دَنَانِيرَ، قَالَ: «ثَلَاثُ كَيَّاتٍ» ثُمَّ أُتِيَ بِالثَّانِيَةِ، فَقَالُوا: يَا نَبِيَّ اللَّهِ صَلِّ عَلَيْهَا، قَالَ: «هَلْ تَرَكَ مِنْ دَيْنٍ»، قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: «فَهَلْ تَرَكَ مِنْ شَيْءٍ»، قَالُوا: لَا، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ أَبُو قَتَادَةَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَيَّ دَيْنُهُ، قَالَ: «فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»
رقم طبعة با وزير = (3253)




সালামাহ বিন আকওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম, এমন সময় তাঁর কাছে একটি জানাযা আনা হলো। লোকজন বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি এর জানাযার সালাত আদায় করুন।” তিনি জিজ্ঞেস করেন, “সে কি কোন ঋণ রেখে গিয়েছে?” সাহাবীগণ জবাব দিলেন, “জ্বী, না।” তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, “সে কি কোন কিছু রেখে গিয়েছে?” সাহাবীগণ জবাব দিলেন, “তিন দীনার।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তিনটি সেক দেওয়ার মাধ্যম।” তারপর তাঁর কাছে দ্বিতীয় আরেকটি জানাযা আনা হলো। লোকজন বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আপনি এর জানাযার সালাত আদায় করুন।” তিনি জিজ্ঞেস করেন, “সে কি কোন ঋণ রেখে গিয়েছে?” সাহাবীগণ জবাব দিলেন, “জ্বী, হ্যাঁ।” তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, “সে কি কোন কিছু রেখে গিয়েছে?” সাহাবীগণ জবাব দিলেন, “জ্বী, না।” তখন আবূ কাতাদা নামক একজন আনসারী সাহাবী বলেন, “হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তার ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার।” রাবী বলেন, “তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করেন।”[1]



[1] তাবারানী: ৬২৯১; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪৭; সহীহুল বুখারী: ২২৮৯; সুনান বাইহাকী: ৬/৭২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৩৭১; নাসাঈ: ৪/৬৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৪৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 44).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري









সহীহ ইবনু হিব্বান (3265)


3265 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا [ص:56] فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَحْيَى الْأَسْلَمِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَسِّمُ ذَهَبًا إِذْ أَتَاهُ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْطِنِي، فَأَعْطَاهُ، ثُمَّ قَالَ: زِدْنِي فَزَادَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ وَلَّى مُدْبِرًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَأْتِينِي الرَّجُلُ فَيَسْأَلُنِي فَأُعْطِيهِ، ثُمَّ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ وَلَّى مُدْبِرًا وَقَدْ جَعَلَ فِي ثَوْبِهِ نَارًا إِذَا انْقَلَبَ إِلَى أَهْلِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3254)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন স্বর্ণ বন্টন করছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমাকে দিন।” অতঃপর তিনি তাকে প্রদান করেন। তারপর সেই ব্যক্তি বলেন, “আমাকে আরেকটু বাড়িয়ে দিন।” অতঃপর তিনি তিনবার তাকে বাড়িয়ে দেন। তারপর সে ব্যক্তি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যায়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমার কাছে এক ব্যক্তি এসে সাহায্য চায়। অতঃপর আমি তাকে প্রদান করি। তারপর সে আমার কাছে আবার চায়। আমি তাকে তিনবার সাহায্য প্রদান করি। তারপর সে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলে যায়। মহান আল্লাহ তার কাপড়ে আগুন রেখে দিয়েছেন, যখন সে বাড়ি চলে যায়।”[1]



[1] হাদীসটির ব্যাপারে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 8).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: فضيل بن سليمان كثير الخطأ وباقي السند رجاله ثقات









সহীহ ইবনু হিব্বান (3266)


3266 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُجَيْرٍ الْبُجَيْرِيُّ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، بِبُسْتَ، قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ ثُمَامَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ لَمَّا اسْتُخْلِفَ كَتَبَ لَهُ حِينَ وَجَّهَهُ إِلَى الْيَمَنِ هَذَا الْكِتَابَ: «بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، هَذِهِ فَرِيضَةُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ بِهَا رَسُولَهُ، فَمَنْ سُئِلَهَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى وَجْهِهَا فَلْيُعْطِهَا، وَمَنْ سُئِلَ فَوْقَهَا فَلَا يُعْطِهَا، فِي أَرْبَعَةٍ وَعِشْرِينَ مِنَ الْإِبِلِ فَمَا دُونَهَا الْغَنَمُ فِي كُلِّ خَمْسٍ شَاةٌ، فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ إِلَى خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ فَفِيهَا ابْنَةُ مَخَاضٍ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ بِنْتُ مَخَاضٍ، فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَثَلَاثِينَ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَفِيهَا ابْنَةُ لَبُونٍ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَأَرْبَعِينَ إِلَى سِتِّينَ فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْجَمَلِ، فَإِذَا [ص:58] بَلَغَتْ وَاحِدَةً وَسِتِّينَ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَفِيهَا جَذَعَةٌ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَسَبْعِينَ إِلَى تِسْعِينَ فَفِيهَا ابْنَتَا لَبُونٍ، فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْجَمَلِ، فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِئَةٍ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ، وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ، وَإِنَّ مَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ مِنَ الْإِبِلِ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْحِقَّةُ، وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا، وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ حِقَّةٌ وَعِنْدَهُ جَذَعَةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْجَذَعَةُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَّدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ، وَمَنْ بَلَغَتْ صَدَقَتُهُ الْحِقَّةُ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلَّا ابْنَةُ لَبُونٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ، وَيُعْطِي شَاتَيْنِ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا، وَمَنْ بَلَغَتْ صَدَقَتُهُ ابْنَةَ لَبُونٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلَّا حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْحِقَّةُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَّدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ، وَمَنْ بَلَغَتْ صَدَقَتُهُ ابْنَةَ لَبُونٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ ابْنَةُ مَخَاضٍ وَيُعْطِي مَعَهَا عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ صَدَقَتُهُ ابْنَةَ مَخَاضٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ، وَعِنْدَهُ ابْنَةُ لَبُونٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ ابْنَةُ لَبُونٍ وَيُعْطِيهِ الْمُصَّدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ ابْنَةُ مَخَاضٍ، وَعِنْدَهُ ابْنُ لَبُونٍ فَإِنَّهُ يُقْبَلُ مِنْهُ وَلَيْسَ مَعَهُ شَيْءٌ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ إِلَّا أَرْبَعَةٌ مِنَ الْإِبِلِ فَلَيْسَ فِيهَا صَدَقَةٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا، فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا مِنَ الْإِبِلِ فَفِيهَا شَاةٌ، [ص:59] وَصَدَقَةُ الْغَنَمِ فِي كُلِّ سَائِمَتِهَا إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ شَاةٌ، فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِئَةٍ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ مِائَتَيْنِ، فَفِيهَا شَاتَانِ فَإِنْ زَادَتْ عَلَى الْمِئَتَيْنِ إِلَى ثَلَاثِ مِائَةٍ فَفِيهَا ثَلَاثُ شِيَاهٍ، فَإِذَا زَادَتْ عَلَى ثَلَاثِ مِئَةٍ فَفِي كُلِّ مِئَةٍ شَاةٌ، وَلَا يَخْرُجُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلَا ذَاتُ عَوَارٍ، وَلَا تَيْسٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ، وَلَا يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلَا يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ، وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ، وَإِذَا كَانَتْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ نَاقِصَةً مِنْ أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةً وَاحِدَةً فَلَيْسَ فِيهَا صَدَقَةٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا، وَفِي الرِّقَةِ رُبْعُ الْعُشْرِ فَإِذَا لَمْ يَكُنْ مَالٌ إِلَّا تِسْعِينَ وَمِئَةً فَلَيْسَ فِيهَا صَدَقَةٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا»
رقم طبعة با وزير = (3255)




আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন খলিফা নিযুক্ত হন, তখন তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে যাকাত আদায়ের জন্য ইয়ামানে প্রেরণ করেন, তখন তিনি তার উদ্দেশ্যে এই চিঠি লিখেছিলেন: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সর্বদয়ালূ, সবিশেষ করুণাময়। এটা যাকাতের বাধ্যবাধকা, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের উপর ফরয করেছেন এবং এটি আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আদেশ করেছেন। কাজেই যেকোন মুসলিমের নিকট বিধি অনুসারে যাকাত চাওয়া হবে, সে যেন তা দিয়ে দেয়। কিন্তু কারো কাছে অতিরিক্ত দাবি করা হলে সে যেন অতিরিক্ত না দেয়। পঁচিশটি উটের কম হলে প্রতি পাঁচটি উটের জন্য একটি মাদী মেষ দিতে হবে। উটের সংখ্যা পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ হলে তাতে একটি বিনতু মাখাদ (দুই বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। তার কাছে এরূপ উট না থাকলে একটি ’ইবনু লাবূন’ (তিন বছরের) পুরুষ উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে হলে তাতে একটি ’বিনতু লাবূন’ (তিন বছর বয়সের উষ্ট্রী) দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছেচল্লিশ থেকে ষাট পর্যন্ত হলে তাতে পাল দেওয়ার উপযুক্ত একটি ’হিক্কাহ’ (চার বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। উটের সংখ্যা একষট্রি থেকে পঁচাত্তর হলে তাতে একটি ’জাযাআহ্’ (পাঁচ বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর থেকে নব্বই হলে তাতে দু’টি ’বিনতু লাবূন’ দিতে হবে। উটের সংখ্যা একানব্বই থেকে একশত বিশ হলে পাল দেওয়ার উপযুক্ত দু’টি হিক্কাহ দিতে হবে। এক শত বিশ-এর উর্ধে হলে প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি করে ’বিনতু লাবূন’ এবং প্রতি পঞ্চাশটির জন্য একটি করে ’হিক্কাহ’ দিবে। যদি কারো যাকাত হিসেবে জাযাআহ্ ওয়াজিব হয়, কিন্তু তার কাছে সেটার পরিবর্তে হিক্কাহ থাকে, তখন হিক্কাহ গ্রহণ করা হবে এবং এর সাথে দু’টি মেষ কিংবা বিশ দিরহামও দিতে হবে। অনুরুপভাবে কারো উপর হিক্কাহ দেয়া ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে সেটা নেই বরং জাযাআহ আছে। তখন তার থেকে জাযাআহ গ্রহণ করা হবে এবং যাকাত উসুলকারী বিশ দিহরাম কিংবা দু’টি মেষ যাকাত প্রদানকারীকে দিবে। এমনিভাবে কারো উপর হিক্কাহ ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে তা নেই, বরং বিনতু লাবূন আছে। তবে তার থেকে সেটাই গ্রহণ করা হবে এবং এর সাথে দু’টি মেষ কিংবা বিশ দিরহামও দিতে হবে। যদি কারো যাকাত হিসেবে বিনতু লাবূন ওয়াজিব হয়, কিন্তু তার কাছে সেটার পরিবর্তে হিক্কাহ থাকে, তখন হিক্কাহ গ্রহণ করা হবে এবং যাকাত উসুলকারী বিশ দিহরাম কিংবা দু’টি মেষ যাকাত প্রদানকারীকে দিবে। যদি কারো যাকাত হিসেবে বিনতু লাবূন ওয়াজিব হয়, কিন্তু তার কাছে সেটা না থাকে (বরং তার কাছে বিনতু মাখাদ রয়েছে), তখন তার কাছ থেকে বিনতু মাখাদ গ্রহণ করা হবে এবং এর সাথে দু’টি মেষ কিংবা বিশ দিরহামও দিতে হবে। যদি কারো যাকাত হিসেবে বিনতু মাখাদ ওয়াজিব হয়, কিন্তু তার কাছে সেটা না থাকে, বরং তার কাছে বিনতু লাবূন রয়েছে, তখন তার কাছ থেকে বিনতু লাবূন গ্রহণ করা হবে এবং যাকাত উসূলকারী তাকে দু’টি মেষ কিংবা বিশ দিরহাম প্রদান করবেন। আর যার কাছে বিনতু মাখাদ নেই, কিন্তু তার কাছে ইবনু লাবূন রয়েছে, তবে তার কাছ থেকে সেটাই গ্রহণ করা হবে। সে তার সাথে আর কোন কিছু পাবে না। আর কারো কাছে চারটি উট থাকলে তাকে কিছুই দিতে হবে না। অবশ্য উটের মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিলে তা ভিন্ন কথা। অতঃপর যখন উটের সংখ্যা পাঁচটি হবে, তখন তাতে একটি মেষ যাকাত দিতে হবে। মাঠে বিচরণশীল মেষের সংখ্যা চল্লিশ থেকে একশো বিশ পর্যন্ত পৌছলে একটি মেষ দিতে হবে। একশত বিশ অতিক্রম করে দুইশ পর্যন্ত পৌঁছলে দু’টি মেষ মেষের সংখ্যা দুইশ অতিক্রম করে তিনশ পর্যন্ত হলে তিনটি মেষ এবং তিনশ থেকে অধিক হলে প্রতি একশটির জন্য একটি মেষ যাকাত দিতে হবে। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ অথবা লেংড়া মেষ বা পাঠা নেয়া হবে না। তবে আদায়কারী তা নিতে চাইলে ভিন্ন কথা। যাকাতের ভয়ে পৃথক পৃথক মালকে একত্রিত করা যাবে না এবং একত্রে থাকা মালকে পৃথক করা যাবে না। দুই শরীকের কাছ থেকে যে যাকাত আদায় করা হবে সেটা তারা নিজ নিজ অংশ অনুপাতে সমানহারে তাদের মাঝে ফিরে আসবে। মাঠে চরে বেড়ানো মেষের সংখ্যা চল্লিশ থেকে একটি কম হলেও তাতে যাকাত নেই। তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে ভিন্ন কথা। রূপার যাকাতের পরিমাণ হলো চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। রৌপ্য মুদ্রা একশ নব্বই হলে তাতে যাকাত দিতে হবে না। তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে ভিন্ন কথা।[1]



[1] আবূ দাঊদ: ১৫৬৭; মুসনাদ আহমাদ: ১/১১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৬১; ইবনু মাজাহ: ১৮০০; সহীহুল বুখারী: ১৪৪৮; তাহাবী: ২/৩৩; ইবনুল জারূদ: ৩৪২; সুনান বাইহাকী: ৪/৮৫; দারাকুতনী: ২/১১৩-১১৪; বাগাবী: ১৫৭; নাসাঈ: ৫/১৮-২৩; আবূ ইয়ালা: ১২৭; হাকিম: ১/৩৯-৪০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৩/২৬৫)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (3/ 265 - 266).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3267)


3267 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، [ص:62] عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا جَلَبَ، وَلَا جَنَبَ، وَلَا شِغَارَ، وَمَنِ انْتَهَبَ نُهْبَةً فَلَيْسَ مِنَّا»
رقم طبعة با وزير = (3256)




ইমরান বিন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইসলামে জালাব (যাকাতের ভয়ে যাকাতযোগ্য সম্পদ একত্রিতকরণ), জানাব (যাকাতের ভয়ে যাকাতযোগ্য সম্পদ দুরে সরানো), শিগার (বিনিময় বিবাহ, যেখানে কোন মোহর থাকে না) নেই। আর যে ব্যক্তি ছিনতাই করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪৪৩; আত তায়ালিসী: ৮৩৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৪/৩৮১; সুনান বাইহাকী: ১০/২১; নাসাঈ: ৬/১১১; দারাকুতনী: ৪/৩০৩; আবূ দাঊদ: ১৫৯১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২৩২৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2324).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3268)


3268 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حِسَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَأَيُّوبُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ، وَلَا فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ، [ص:63] وَلَا فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3257) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: هَذَا الْخَبَرُ يُبَيِّنُ بِأَنَّ الْمُرَادَ مِنْ قَوْلِهِ: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ} [التوبة: 103] أَرَادَ بِهِ بَعْضَ الْمَالِ، إِذِ اسْمُ الْمَالِ وَاقِعٌ عَلَى مَا دُونَ الْخَمْسِ مِنَ الذَّوْدِ، وَالْخَمْسِ مِنَ الْأَوَاقِ، وَالْخَمْسِ مِنَ الْأَوْسُقِ، وَقَدْ نَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِيجَابَ الصَّدَقَةِ عَنْ مَا دُونَ الَّذِي حَدَّ




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পাঁচ উটের কমে কোন যাকাত নেই। পাঁচ উকিয়ার (২০০ দিরহাম) কমে কোন যাকাত নেই। পাঁচ ওয়াসাকের (এক ওয়াসাক সমান ৬০ সা‘) কমে কোন যাকাত নেই।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি স্পষ্ট করে দেয় যে, আল্লাহর বাণী “আপনি তাদের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করুন, যা তাদেরকে পবিত্র করবে এবং এর মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কিছু সম্পদ। কেননা পাঁচ উটের কম, পাঁচ উকিয়ার (২০০ দিরহাম) কম এবং পাঁচ ওয়াসাকের (এক ওয়াসাক সমান ৬০ সা‘) কম সম্পদের ক্ষেত্রেও ‘সম্পদ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। অথচ এই সীমার কম সম্পদে যাকাত নেই।”



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৯৩; তাহাবী: ২/৩৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৩৯৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1394): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3269)


3269 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، [ص:64] عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: بَعَثَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى صَدَقَةِ بَلِيَّ وَعُذْرَةَ، فَمَرَرْتُ بِرَجُلٍ مِنْ بَلِيَّ لَهُ ثَلَاثُونَ بَعِيرًا، فَقُلْتُ لَهُ: إِنَّ عَلَيْكَ فِي إِبِلِكَ هَذِهِ بِنْتَ مَخَاضٍ، قَالَ: ذَاكَ مَا لَيْسَ فِيهِ ظَهْرٌ وَلَا لَبَنٌ، وَإِنِّي لَأَكْرَهُ أَنْ أُقْرِضُ اللَّهَ شَرَّ مَالِي، فَتَخَيَّرْهُ، فَقَالُ لَهُ أُبَيُّ: مَا كُنْتُ لِآخُذَ فَوْقَ مَا عَلَيْكَ، وَهَذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأْتِهِ، فَأَتَاهُ، فَقَالَ نَحْوًا مِمَّا قَالَ لِأَبِيٍّ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا مَا عَلَيْكَ فَإِنْ جِئْتَ بِفَوْقِهِ، قَبِلْنَاهُ مِنْكَ»، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ نَاقَةٌ عَظِيمَةٌ سَمِينَةٌ فَمَنْ يَقْبِضُهَا؟، فَأَمَرَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ يَقْبِضُهَا، وَدَعَا لَهُ فِي مَالِهِ بِالْبَرَكَةِ قَالَ عُمَارَةُ: فَضَرَبَ الدَّهْرُ ضَرْبَةً فَوَلَّانِي مَرْوَانُ صَدَقَةَ بَلِيَّ وَعُذْرَةَ فِي زَمَنِ مُعَاوِيَةَ، فَمَرَرْتُ بِهَذَا الرَّجُلِ فَصَدَقْتُ مَالَهُ ثَلَاثِينَ حِقَّةً، فِيهَا فَحْلُهَا عَلَى أَلْفٍ وَخَمْسِ مِائَةِ بَعِيرٍ، قَالَ ابْنَ إِسْحَاقَ: قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ: مَا فَحْلُهَا؟، قَالَ: فِي السُّنَّةِ إِذَا بَلَغَ صَدَقَةُ الرَّجُلِ ثَلَاثُونَ حِقَّةً أُخِذَ مَعَهَا فَحْلُهَا
رقم طبعة با وزير = (3258)




উবাই বিন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বালী ও উজরার যাকাত আদায় করার জন্য পাঠান। অতঃপর আমি বালীর এক পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন, যা ৩০ টি উট ছিল। আমি তাকে বললাম, “নিশ্চয়ই আপনার উপর একটি দুই বছরের উষ্ট্রী ফরয হয়েছে।” জবাবে তিনি বলেন, “এই উট তো দুধ দিবে না, তার উপর সওয়ারও হওয়া যাবে না। আমি অপছন্দ করি যে, আমি মন্দ সম্পদ আল্লাহকে ঋণ দিবো। কাজেই আপনি বেছে নিন।” তখন উবাই বিন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে বলেন, “আপনার উপর যা ওয়াজিব হয়েছে, আমি তার চেয়ে বেশি বয়সের উট নিবো না। এখানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আছেন, কাজেই আপনি তাঁর কাছে যান।” অতঃপর তিনি তাঁর কাছে এসে সেই কথাই বলেছেন, যা উবাই বিন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমার উপর এটা ফরয হয়েছে। তবে তুমি যদি তার চেয়ে বেশি বয়সের উট দাও, তবে আমরা তোমার থেকে তা গ্রহণ করবো।” তিনি বলেন, “হে আল্লহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এটা বিশাল মোটাতাজা উষ্ট্রী, এটাকে কে গ্রহণ করবে?” অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে তা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন এবং তার জন্য তার সম্পদে বারাকাতের দুআ করেন।” উমারাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তারপর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়। অতঃপর মুআবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সময়কালে মারওয়ান আমাকে বালী ও উজরার যাকাত আদায় করার জন্য পাঠান। অতঃপর আমি এই ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করি। অতঃপর আমি তার সম্পদ থেকে ৩০ হিক্কাহ বা চার বছর বয়সী উষ্ট্রী গ্রহণ করি। সেখানে একটি নর উট ছিল। তার উটের সংখ্যা ছিল ১৫০০।” ইবনু ইসহাক রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি আব্দুল্লাহ বিন আবূ বকর রহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম, فَحْلُها দ্বারা উদ্দেশ্য কী?” জবাবে তিনি বলেন, “সুন্নাহ হলো কারো যাকাত যখন ৩০ টি হিক্কাহ হবে, তখন সেগুলোর সাথে একটি নর উট নেওয়া হবে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৪২; আবূ দাঊদ: ১৫৮৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৭৭; হাকিম: ১/৩৯৯-৪০০; সুনান বাইহাকী: ৪/৯৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪১১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (1411).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي









সহীহ ইবনু হিব্বান (3270)


3270 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْأُمَوِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، [ص:65] عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ مُصَّدِّقًا، وَقَالَ: «إِيَّاكَ يَا سَعْدُ أَنْ تَجِيءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِبَعِيرٍ لَهُ رُغَاءٌ»، فَقَالَ: لَا أَجِدُهُ وَلَا أَجِيءُ بِهِ، فَأَعْفَاهُ
رقم طبعة با وزير = (3259)




আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা‘দ বিন উবাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে যাকাত উসূলকারী হিসেবে পাঠানোর সময় বলেন, “হে সা‘দ, তুমি কিয়ামতের দিন উটসহ আগমন করা থেকে বিরত থাকো যে, উট গরগর আওয়াজ করতে থাকবে!” তখন তিনি বলেন, “আমি এটা করতে পারবো না, আমি কিয়ামতের দিন সেটা সহও আসবো না।” অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।”[1]



[1] বাযযার: ৮৯৮; হাকিম: ১/৩৯৯; মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৮৫; তাবারানী: ৫৩৬৩; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/৮৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৫৪২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح الموارد» (669/ 804)، «الصحيحة» (2542).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3271)


3271 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي غَيْلَانَ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمَاجِشُونِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي فَرَسِهِ، وَلَا عَبْدِهِ، صَدَقَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3260)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুসলিম ব্যক্তির ঘোড়া ও দাসে কোন যাকাত নেই।”[1]



[1] বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৫৭৪; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২৭৭; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬৮৭৮; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৪২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/১৫১; দারেমী: ১/৩৮৪; সহীহুল বুখারী: ১৪৬৪; সহীহ মুসলিম: ৯৮২; আবূ দাঊদ: ১৫৯৫; ইবনু মাজাহ: ১৮১২; তাহাবী: ২/২৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৮৫; দারাকুতনী: ২/২৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪২১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1421): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري