হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (3332)


3332 - أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلُ الْبَخِيلِ [ص:124] وَالْمُتَصَدِّقِ كَمَثَلِ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا جُبَّتَانِ أَوْ جَنَّتَانِ مِنْ حَدِيدٍ مِنْ لَدُنْ ثُدِيِّهِمَا إِلَى تَرَاقِيهِمَا، فَأَمَّا الْمُنْفِقُ فَكُلَّمَا تَصَدَّقَ وَحَدَّثَ نَفْسَهُ ذَهَبَتْ عَنْ جِلْدِهِ، حَتَّى تَعْفُوَ أَثَرَهُ وَتَجُوزَ بَنَانَهُ، وَالْبَخِيلُ كُلَّمَا أَنْفَقَ شَيْئًا وَحَدَّثَ بِهِ نَفْسَهُ لَزِمَتْهُ وَعَضَّتْ كُلُّ حَلْقَةٍ مِنْهَا مَكَانَهَا، فَهُوَ يُوَسِّعُهَا وَلَا تَتَّسِعُ»
رقم طبعة با وزير = (3322)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দানকারী ও কৃপণ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত হলো এমন দুই ব্যক্তির ন্যায়, যারা বুক থেকে কন্ঠাস্থি পর্যন্ত লৌহ ঢাল বা জুব্বা পরিহিত। অতঃপর দানশীল ব্যক্তি যখন দান করে এবং মনে মনে ইচ্ছা করে, তখন তার ঢাল শরীরে সম্প্রসারিত হয়, এমনকি পদচিহ্ন মুছে দেয় এবং তা হাতের আঙ্গুল অতিক্রম করে। আর কৃপণ ব্যক্তি যখন দান করতে চায়, তখন প্রতিটি আংটি নিজ নিজ স্থান আঁকড়ে ধরে, সে ব্যক্তি সেটাকে প্রশস্ত করতে চায়, কিন্তু সেটা প্রশস্ত হয় না। সে পুনরায় সেটাকে প্রশস্ত করতে চায়, কিন্তু সেটা প্রশস্ত হয় না।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫৬; হুমাইদী: ১০৬৪; সহীহুল বুখারী: ১৪৪৩; সহীহ মুসলিম: ১০২১; নাসাঈ: ৫/৭০-৭১; সুনান বাইহাকী: ৪/১৮৬; বাগাবী: ১৬৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩০২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (3302). تنبيه!! رقم (3302) = (3313) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3333)


3333 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّ مَلَكًا بِبَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَقُولُ: مَنْ يُقْرِضِ الْيَوْمَ يُجْزَ غَدًا، وَمَلَكٌ بِبَابٍ آخَرَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا، وَأَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا»
رقم طبعة با وزير = (3323)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই জান্নাতের এক দরজায় একজন ফেরেস্তা বলেন, “যে ব্যক্তি আজকে ঋণ দিবে, তাকে আগামীকাল প্রতিদান দেওয়া হবে। আরেক দরজায় আরেকজন ফেরেস্তা বলেন, “হে আল্লাহ, আপনি খরচকারীকে প্রতিবদলা দিন আর (দান না করে) সম্পদ ধারণকারীকে ধ্বংস করে দিন।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩০৫-৩০৬; নাসাঈ আল কুবরার বরাতে তুহফাতুল আহওয়াযী: ১০/১৫০; সহীহুল বুখারী: ১৪৪২; সহীহ মুসলিম: ১০১০; বাগাবী: ১৬৭৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৯২০)






تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (920).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3334)


3334 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لِأَنْ يَتَصَدَّقَ الْمَرْءُ فِي حَيَاتِهِ وَصِحَّتِهِ بِدِرْهَمٍ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِمِائَةِ دِرْهَمٍ عِنْدَ مَوْتِهِ» *
رقم طبعة با وزير = (3323 / م)




আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জীবদ্দশায় কোন ব্যক্তির এক দিরহাম দান করা মুমূর্ষু অবস্থায় একশ দিরহাম দান করার চেয়ে উত্তম।”[1]





[1] আবূ দাঊদ: ২৮৬৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ যঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফাহ: ১৩২১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الضعيفة» (1321)، «ضعيف أبي داود» (494). * قال الناشر: سقط هذا الحديث مِنَ (الأصل)، ولقد كتب شيخُنا على هامش (الأصل) ما نَصُّه: «هنا في «طبعة المؤسسة» حديثُ أبي سعيدٍ: «لأَنْ يَتَصَدَّقَ الْرَّجُل فِي حَيَاتِهِ ... »؛ كأنَّهُ سقطَ مِنَ الطابعِ - أوالناسخ -؛ فَإِنَّهُ مذكور في «الموارد» (821)، كما أنَّه سقطَ من هنا الحديثُ الآتي بعده، عن أبي الدرداء؛ فَليُنقَل إليه».




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف









সহীহ ইবনু হিব্বান (3335)


3335 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الصَّدَقَةِ أَعْظَمُ، قَالَ: «أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ تَخْشَى الْفَقْرَ وَتَأْمَلُ الْغِنَى، وَلَا تُمْهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ، قُلْتَ: لِفُلَانٍ كَذَا وَلِفُلَانٍ كَذَا أَلَا وَقَدْ كَانَ لِفُلَانٍ»
رقم طبعة با وزير = (3324)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কোন সাদাকাহ মহোত্তম?” জবাবে তিনি বলেন, “এমন অবস্থায় দান করা যে, তুমি সুস্থ, ব্যয়কুন্ঠ, দারিদ্রের ভয় করো এবং স্বাবলম্বী হওয়ার আশা করো। প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়া পর্যন্ত তুমি সাদাকাহ করতে বিলম্ব করবে না। আর তখন তুমি বলবে, “ওমুককে এটা দিলাম, ওমুককে ওটা দিলাম।” জেনে রাখো, সেটা ইতোমধ্যে ওমুকের হয়েই গেছে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫; সহীহ মুসলিম: ১০৩২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৫৪; সুনান বাইহাকী: ৪/১৮৯; সহীহুল বুখারী: ১৪১৯; ইবনু মাজাহ: ২৭০৬; বাগাবী: ১৬৭১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ:২৫৫১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - وقد مضى (435). تنبيه!! رقم (435) = (434) من «طبعة المؤسسة». لكنه غير موجود بالرقم المشار إليه وإنما موجود برقم (3301) الموافق لـ (3312) - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3336)


3336 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مِرْدَاسٍ، بِالْأُبُلَّةِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي حَبِيبَةَ الطَّائِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَثَلُ الَّذِي يَتَصَدَّقُ عِنْدَ الْمَوْتِ مَثَلُ الَّذِي يُهْدِي بَعْدَمَا يَشْبَعُ»
رقم طبعة با وزير = (3325)




আবুদ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মুমূর্ষু অবস্থায় দান করে, তার দৃষ্টান্ত হলো ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে তৃপ্তি সহকারে খাওয়ার পর (বাকী খাবার) অন্যকে হাদিয়া দেয়।”[1]



[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৬৭৪০; আত তায়ালিসী: ৯৮০; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৯৭; দারেমী: ২/৪১৩; তিরমিযী: ১২১৩; আবূ দাউদ: ৩৯৬৮; নাসাঈ: ৬/২৩৮; হাকিম: ২/২১৩; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯০। হাদীসটির ব্যাপারে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (যঈফাহ: ১৩২২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الضعيفة» (1322)، «المشكاة» (1870 / التحقيق الثاني).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (3337)


3337 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ وَرْدَانَ الْبَزَّازُ، بِالْفُسْطَاطِ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، [ص:127] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ يَوْمًا لِأَصْحَابِهِ: «تَصَدَّقُوا»، فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عِنْدِي دِينَارٌ، قَالَ: «أَنْفِقْهُ عَلَى نَفْسِكَ»، قَالَ: إِنَّ عِنْدِي آخَرَ، قَالَ «أَنْفِقْهُ عَلَى زَوْجَتِكَ»، قَالَ: «إِنَّ عِنْدِي آخَرَ، قَالَ: » أَنْفِقْهُ عَلَى وَلَدِكَ «، قَالَ: إِنَّ عِنْدِي آخَرَ، قَالَ: » أَنْفِقْهُ عَلَى خَادِمِكَ «، قَالَ: إِنَّ عِنْدِي آخَرَ، قَالَ» أَنْتَ أَبْصَرُ «
رقم طبعة با وزير = (3326)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বলেন, “তোমরা সাদাকাহ করো।” তখন এক ব্যক্তি বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার কাছে একটি দীনার রয়েছে।” তিনি বললেন, “এটা তুমি তোমার নিজের জন্য খরচ করো।” সেই ব্যক্তি বললেন, “আমার কাছে আরেক দীনার রয়েছে।” তিনি বললেন, “এটা তুমি স্ত্রীর জন্য খরচ করো।” সেই ব্যক্তি বললেন, “আমার কাছে আরেক দীনার রয়েছে।” তিনি বললেন, “এটা তুমি সন্তানের জন্য খরচ করো।” সেই ব্যক্তি আবার বললেন, “আমার কাছে আরেক দীনার রয়েছে।” তিনি জবাবে বললেন, “এই ব্যাপারে তুমি ভালো বুঝো।”[1]



[1] ইমাম শাফেঈ: ২/৬৩-৬৪; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৫১; আবূ দাঊদ: ১৬৯১; নাসাঈ: ৫/৬২; তুহফাতুল আহওয়াযী: ৯/৪৯৩-৪৯৪; হাকিম: ১/৪১৫; সুনান বাইহাকী: ৭/৪৬৬; বাগাবী: ১৬৮৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ:১৪৮৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (1484).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3338)


3338 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُجَيْرٍ الْهَمْدَانِيُّ، بِالصُّغْدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ *، عَنْ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ: «كُنَّا نَتَحَامَلُ عَلَى ظُهُورِنَا فَيَجِيءُ الرَّجُلُ بِالشَّيْءِ فَيُتَصَدَّقُ بِهِ، فَجَاءَ رَجُلٌ بِنِصْفِ صَاعٍ، وَجَاءَ إِنْسَانٌ بِشَيْءٍ كَثِيرٍ، فَقَالُوا: إِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْ صَدَقَةِ هَذَا، وَقَالُوا: هَذَا مُرَاءٍ، فَنَزَلَتِ: {الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي [ص:128] الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لَا يَجِدُونَ إِلَّا جُهْدَهُمْ} [التوبة: 79]»
رقم طبعة با وزير = (3327)




আবূ মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা আমাদের পিঠে মালামাল বহন করতাম (অর্থাৎ আমরা দিন মজুরের কাজ করতাম)। অতঃপর কোন ব্যক্তি সামান্য কিছু উপার্জন করে, তা সাদাকাহ করতেন, অপর কোন ব্যক্তি অর্ধ সা‘ সাদাকাহ নিয়ে আসতেন আবার কেউ অনেক জিনিস নিয়ে আসতেন। তখন লোকজন বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ এই (সামান্য) সাদাকাহ থেকে মুখাপেক্ষীহীন” এবং তারা আরোও বলে, “এটা লোক দেখানো কাজ।” তখন এই আয়াত নাযিল হয়, الَّذِينَ يَلْمِزُونَ المطَّوِّعين مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لَا يجدون إلا جهدهم “মুমিনদের মাঝে যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে দান করে আর যারা নিজেদের শ্রম ছাড়া আর কিছুই পায় না- যারা তাদের বদনাম করে...।”(সূরা তাওবাহ: ৭৯)[1]



[1] সহীহুল বুখারী: ১৪১৫; সহীহ মুসলিম: ১০১৮; নাসাঈ: ৫/৫৯-৬০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৫৩; তাবারানী আল কাবীর:১৭/৫৩৫;মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৭৩; ইবনু মাজাহ: ৪১৫৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান:৩৩২৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ، م. * [شُعْبَةُ] قال الشيخ: ومِنْ طَريِقِه أخرجه البخاري (4668)، ومسلم (3/ 88)، وابنُ خُزيمة (4/ 102 - 103)، وغيرهم. وتَحَرَّف أبُو مَسعودٍ إِلَى ابن مَسعودٍ على بعض النُّساخ، أو على الهيثمي، فأورده في «الموارد» على أَنَّهُ مِنَ «الزَّوَائد»، فَوهِمَ كَمَا نَبَّه عَلَيهِ الحَافِظ فِي حَاشِيَتِهِ عَلَيه (ص 431).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3339)


3339 - أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ حِبَّانَ أَبُو جَابِرٍ، بِالْمَوْصِلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَيَّاضٍ الزِّمَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَنْصَارِيُّ، عَنْ عَزْرَةَ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَنِي عُذْرَةَ أَعْتَقَ مَمْلُوكًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ مِنْهُ، فَبَعَثَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَبَاعَهُ، وَدَفَعَ إِلَيْهِ ثَمَنَهُ، وَقَالَ: «ابْدَأْ بِنَفْسِكَ فَتَصَدَّقْ عَلَيْهَا، ثُمَّ عَلَى أَبَوَيْكَ، ثُمَّ عَلَى قَرَابَتِكَ، ثُمَّ هَكَذَا، ثُمَّ هَكَذَا»
رقم طبعة با وزير = (3328)




জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “বানূ উযরাহ গোত্রের এক ব্যক্তি তার গোলামকে নিজের মৃত্যুর পর আজাদ ঘোষনা করেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই গোলামের কাছে লোক পাঠান। তারপর তিনি তাকে বিক্রি করে তার মুল্য তাকে (তার মালিককে) প্রদান করেন এবং বলেন, “তুমি নিজের থেকে শুরু করবে। নিজের উপর দান করবে। তারপর তোমার বাবা-মার জন্য দান করবে। তারপর তোমার নিকটাত্নীয়ের জন্য দান করবে। তারপর এভাবে, তারপর এভাবে (দান করবে)।”[1]



[1] ইমাম শাফেঈ: ২/৬৮; সহীহ মুসলিম: ৯৯৭; নাসাঈ: ৭/৩০৪; সুনান বাইহাকী: ১০/৩০৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৬৬৬৪; আত তায়ালিসী: ১৭৪৮; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৬৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩২৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3340)


3340 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: كَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَكْثَرَ أَنْصَارِيٍّ بِالْمَدِينَةَ مَالًا، وَكَانَ أَحَبَّ أَمْوَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرَحَاءُ، وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَةَ الْمَسْجِدِ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيهَا طَيِّبٍ، قَالَ أَنَسٌ: فَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} [آل عمران: 92]، قَامَ أَبُو طَلْحَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ فِي كِتَابِهِ: {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} [آل عمران: 92]، وَإِنَّ أَحَبَّ أَمْوَالِي إِلَيَّ بَيْرَحَاءُ، فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ لِلَّهِ أَرْجُو بِرَّهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللَّهِ، فَضَعْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ حَيْثُ شِئْتَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَخٍ ذَاكَ مَالٌ رَابِحٌ، بَخٍ ذَاكَ مَالٌ رَابِحٌ، وَقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ فِيهَا، وَإِنِّي أَرَى [ص:130] أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الْأَقْرَبِينَ»، فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ: أَفْعَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَسَمَهَا أَبُو طَلْحَةَ فِي أَقَارِبِهِ وَبَنِي عَمِّهِ
رقم طبعة با وزير = (3329)




আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আনসারীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী ছিলেন। আর তার কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় সম্পদ ছিল বাইরুহা নামক বাগান। এটা মাসজিদে নববীর সামনে ছিলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বাগানে প্রবেশ করতেন এবং সেখানকার মিষ্টি পানি পান করতেন।” আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “অতঃপর যখন এই আয়াত নাযিল হয়, لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ অর্থাৎ তোমরা কখনই পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষন না তোমরা খরচ করো সেই সম্পদ থেকে যা তোমরা পছন্দ করো। (সূরা আলু ইমরান: ৯২), তখন আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিশ্চয়ই আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ অর্থাৎ তোমরা কখনই পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষন না তোমরা খরচ করো সেই সম্পদ থেকে যা তোমরা পছন্দ করো। (সূরা আলু ইমরান: ৯২), আর আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হলো বাইরুহা বাগান। এটা আমি আল্লাহর জন্য দান করে দিলাম। আমি আল্লাহর কাছে এর সাওয়াব ও সঞ্চয় কামনা করি। হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যেখানে ইচ্ছা এটা ব্যয় করুন।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “চমৎকার! এটা তো খুবই লাভজনক সম্পদ। চমৎকার! এটা তো খুবই লাভজনক সম্পদ। তুমি এই ব্যাপারে যা বললে, তা তো আমি শুনলাম। আর আমার মত হলো, তুমি এটাকে তোমার নিকটাত্নীয়ের মাঝে খরচ করবে।” তখন আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি তা-ই করবো।” তারপর আবূ তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার নিকটাত্নীয় ও চাচাতো ভাইদের মাঝে বন্টন করে দেন।”[1]



[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৫৯৫-৫৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১৪১;দারেমী: ২/৩৯০; সহীহুল বুখারী: ১৪৬১; সহীহ মুসলিম: ৯৯৮; নাসাঈর বরাতে তুহফাতুল আহওয়াযী: ১/৯০; সুনান বাইহাকী: ৬/১৬৪-১৬৫;বাগাবী: ১৬৮৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান:৩৩২৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «أحاديث البيوع».




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3341)


3341 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، [ص:131] عَنْ طَارِقٍ الْمُحَارِبِيِّ، قَالَ: ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَائِمٌ يَخْطُبُ النَّاسَ، وَهُوَ يَقُولُ: «يَدُ الْمُعْطِي الْعُلْيَا، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ، أُمَّكَ وَأَبَاكَ وَأُخْتَكَ وَأَخَاكَ، ثُمَّ أَدْنَاكَ أَدْنَاكَ»
رقم طبعة با وزير = (3330)




তারিক মুহারিবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি মদীনায় আগমন করে দেখতে পাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষন দিচ্ছেন। তিনি বলছিলেন, “দানের হাত হলো উঁচু হাত। (দানের ক্ষেত্রে) তুমি তোমার পরিবারের লোকদের থেকে শুরু করবে; তোমার মা, তোমার বাবা, তোমার বোন এবং তোমার ভাইকে। তারপর তোমার নিকটতম ব্যক্তিকে। অতঃপর তোমার নিকটতম ব্যক্তিকে।”[1]



[1] নাসাঈ: ৫/৬১; দারাকুতনী: ৬৫২৮; আত তায়ালিসী: ১২৫৭; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২১২; সুনান বাইহাকী: ৮/৩৪৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৬৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩৩০)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3342)


3342 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلَّانَ، بِأَذَنَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الزِّمَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَجُلًا يُقَالُ لَهُ أَبُو مَذْكُورٍ دَبَّرَ غُلَامًا لَهُ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُ، وَكَانَ يُقَالُ لِلْغُلَامِ: يَعْقُوبُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَشْتَرِي هَذَا؟ »، فَاشْتَرَاهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ بِثَمَنِ مِائَةِ دِرْهَمٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ مُحْتَاجًا فَلْيَبْدَأْ [ص:132] بِنَفْسِهِ، فَإِنْ كَانَ لَهُ فَضْلٌ فَبِأَهْلِهِ، فَإِنْ كَانَ لَهُ فَضْلٌ فَبِأَقْرِبَائِهِ، فَإِنْ كَانَ لَهُ فَضْلٌ فَهَاهُنَا وَهَاهُنَا وَهَاهُنَا»
رقم طبعة با وزير = (3331)




জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আবূ মাযকূর নামে এক ব্যক্তি মরনোত্তর তার গোলামকে মুক্ত করেন। তার এই গোলাম ছাড়া আর কোন সম্পদ ছিল না। তার গোলামের নাম ছিল ইয়াকূব। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এই গোলামকে কে ক্রয় করবে?” অতঃপর বানূ আদী বিন কা‘ব গোত্রের এক ব্যক্তি তাকে একশ দিরহাম দিয়ে ক্রয় করে নেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যখন তোমাদের কেউ অভাবী হবে, তখন সে দানের ক্ষেত্রে নিজেকে দিয়ে শুরু করবে। অতঃপর যদি তার আরো অতিরিক্ত সম্পদ থাকে, তবে সে নিকটাত্নীয়দের দিবে। অতঃপর যদি তার আরো অতিরিক্ত সম্পদ থাকে, তবে সে এখানে, এখানে এখানে দিবে।”[1]



[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩০৫; সহীহ মুসলিম: ৯৯৭; আবূ দাঊদ: ৩৯৫৭; নাসাঈ: ৭/৩০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৪৫; সুনান বাইহাকী: ১০/৩০৯-৩১০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩৩১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3343)


3343 - أَخْبَرَنَا ابْنُ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ، أَنَّهَا أَعْتَقَتْ وَلِيدَةً فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «لَوْ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ كَانَ أَعْظَمَ لِأَجْرِكِ»
رقم طبعة با وزير = (3332)




মাইমূনাহ বিনতুল হারিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়কালে একটি দাসীকে মুক্ত করেন। অতঃপর তিনি বিষয়টি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বর্ণনা করলে, তিনি বলেন, “যদি তুমি এটা তোমার মামাদের দিতে, তবে এটা তোমার জন্য বেশি সাওয়াব হতো।”[1]



[1] সহীহ মুসলিম: ৯৯৯; নাসাঈর বরাতে তুহফাতুল আহওয়াযী: ১২/৪৯৫; সুনান বাইহাকী: ৪/১৭৯; সহীহুল বুখারী: ২৫৯২; তাবারানী আল কাবীর: ২৩/১০৬৭; বাগাবী: ১৬৭৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান:৩৩৩১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم









সহীহ ইবনু হিব্বান (3344)


3344 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا [ص:133] بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ الرَّائِحِ بِنْتِ صُلَيْعٍ، عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «الصَّدَقَةُ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ، وَهِيَ عَلَى ذِي الرَّحِمِ اثْنَانِ: صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3333)




সালমান বিন আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মিসকিনদের দান করলে সাদাকাহ হয়। এটি রক্ত সম্পর্কীয় কাউকে দান করলে, দ্বিগুণ সাওয়াব হয়; সাদাকার সাওয়াব ও রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখার সাওয়াব।”[1]



[1] তাবারানী: ৬২১১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৩৮৫; মুসনাদ আহমাদ: ৪/১৭; দারেমী: ১/৩৯৭; নাসাঈ: ৫/৯২; ইবনু মাজাহ: ১৮৪৪; হাকিম: ১/৪০৭; সুনান বাইহাকী: ৪/১৭৪; হুমাইদী: ৮২৩; তিরমিযী: ৬৫৮; সহীহ বুখারী: ৪১৬৬; সহীহ মুসলিম: ১০০০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল:৮৮৩)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن لغيره - «الإرواء» (883).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3345)


3345 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى بْنِ عَبْدَانَ، بِعَسْكَرِ مُكْرَمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ الْبَحْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ»
رقم طبعة با وزير = (3334)




জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “শ্রেষ্ঠ সাদাকাহ হলো যা স্বাবলম্বী অবস্থায় দান করা হয়। আর দান তোমার পরিবারের লোকদের দিয়ে শুরু করবে।”[1]



[1] ইমাম শাফেঈ: ২/৬৮; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৩০; সুনান বাইহাকী: ১০/৩০৯; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/১১৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল:৩/৩১৯)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (3/ 319).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (3346)


3346 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «جُهْدُ الْمُقِلِّ، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ»
رقم طبعة با وزير = (3335)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কোন সাদাকাহ উত্তম?” তিনি জবাবে বলেন, “অল্প সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির কষ্টার্জিত সম্পদ সাদাকাহ করা। আর তুমি তোমার পরিবারের লোকদের দিয়ে শুরু করবে।”[1]



[1] আবূ দাঊদ: ১৬৭৭; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৫৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৪৪; হাকিম: ১/৪১৪; সুনান বাইহাকী: ১/৪৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ:১৪৭২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1472).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3347)


3347 - أَخْبَرَنَا حَاجِبُ بْنُ أَرْكِينَ الْفَرْغَانِيُّ، بِدِمَشْقَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَبَقَ دِرْهَمٌ مِائَةَ أَلْفٍ»، فَقَالَ رَجُلٌ: وَكَيْفَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «رَجُلٌ لَهُ مَالٌ كَثِيرٌ أَخَذَ مِنْ عُرْضِهِ مِائَةَ أَلْفٍ، فَتَصَدَّقَ بِهَا، وَرَجُلٌ لَيْسَ لَهُ إِلَّا دِرْهَمَانِ فَأَخَذَ أَحَدَهُمَا فَتَصَدَّقَ بِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3336)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এক দিরহাম এক লক্ষ দিরহামকে ছাড়িয়ে গেছে!” তখন এক ব্যক্তি বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এটা কিভাবে?” জবাবে তিনি বলেন, “একজন মানুষের প্রচুর সম্পদ রয়েছে। সে সেখান থেকে এক লক্ষ দিরহাম নিয়ে দান করলো। আরেক ব্যক্তির কাছে মাত্র দুই দিরহাম রয়েছে, সে সেখান থেকে এক দিরহাম নিয়ে দান করে।”[1]



[1] নাসাঈ: ৫/৫৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৪৩; হাকিম: ১/৪১৬; ‍সুনান বাইহাকী: ৪/১৮১-১৮২; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৭৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব:২/২৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «التعليق الرغيب» (2/ 28).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن









সহীহ ইবনু হিব্বান (3348)


3348 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ [ص:136] حُرَيْثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ، قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَقْيُ الْمَاءِ»
رقم طبعة با وزير = (3337)




সা‘দ বিন উবাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি বললাম, হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কোন সাদাকাহ উত্তম?” তিনি জবাবে বলেন, “পানি পান করানো।”[1]



[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৯৭; নাসাঈ: ৬/২৫৪-২৫৫; ইবনু মাজাহ: ৩৬৮৪; তাবারানী: ৫৩৭৯; আবূ দাঊদ: ১৬৭৯; হাকিম: ১/৪১৪; সুনান বাইহাকী: ৪/১৮৫; আহমাদ: ৫/২৫৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির সানাদ বিচ্ছিন্ন বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৭৪)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (1474).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات رجال الشيخين إلا أنه منقطع









সহীহ ইবনু হিব্বান (3349)


3349 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، [ص:137] حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «ثَلَاثَةٌ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ، وَثَلَاثَةٌ يُبْغِضُهُمُ اللَّهُ، أَمَّا الَّذِينَ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ: فَرَجُلٌ أَتَى قَوْمًا فَسَأَلَهُمْ بِاللَّهِ وَلَمْ يَسْأَلُهُمْ بِقَرَابَةٍ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ، فَتَخَلَّفَ رَجُلٌ بِأَعْقَابِهِمْ، فَأَعْطَاهُ سِرًّا لَا يَعْلَمُ بِعَطِيَّتِهِ إِلَّا اللَّهُ وَالَّذِي أَعْطَاهُ، وَقَوْمٌ سَارُوا لَيْلَتَهُمْ حَتَّى إِذَا كَانَ النَّوْمُ أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِمَّا يَعْدِلُ بِهِ نَزَلُوا، فَوَضَعُوا رُءُوسَهُمْ، وَقَامَ يَتَمَلَّقُنِي وَيَتْلُو آيَاتِي، وَرَجُلٌ كَانَ فِي سَرِيَّةٍ فَلَقِيَ الْعَدُوَّ فَهُزِمُوا، وَأَقْبَلَ بِصَدْرِهِ يَقْتُلُ أَوْ يُفْتَحُ لَهُ، وَثَلَاثَةٌ يُبْغِضُهُمُ اللَّهُ: الشَّيْخُ الزَّانِي، وَالْفَقِيرُ الْمُخْتَالُ، وَالْغَنِيُّ الظَّلُومُ»
رقم طبعة با وزير = (3338)




আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিন শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ পছন্দ করেন এবং তিন শ্রেণির মানুষকে তিনি অপছন্দ করেন। যাদের তিনি পছন্দ করেন, তারা হলেন, (১) এক ব্যক্তি এক কওমের কাছে এসে আল্লাহর ওয়াস্তে সাহায্য চান। তার ও তাদের মাঝে আত্নীয়তার সম্পর্ক থাকার কারণে সে তাদের কাছে সাহায্য চায়নি। তারপর এক ব্যক্তি তাদের পিছনে যায় এবং তাকে গোপনে দান করেন, যে দানের কথা আল্লাহ ও যাকে দান করেছে সে ছাড়া আর কেউ জানে না। (২) একদল লোক রাত্রে সফর করে। অতঃপর যখন ঘুম তাদের কাছে ঘুমের সমপর্যায়ভুক্ত যে কোন জিনিস অপেক্ষা প্রিয় হয়, তখন তারা যাত্রা বিরতি দেয় এবং তারা মাথা এলিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে যায়। এমন সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায় আমার কাছে প্রার্থনা করার জন্য এবং সে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে। (৩) আরেক ব্যক্তি যে একটি ছোট বাহিনীতে থাকে। অতঃপর সে শত্রুর মুখোমুখি হয়। তার সঙ্গীরা পরাস্ত হয়। আর সে বুক উঁচিয়ে সামনে অগ্রসর হয়। এভাবে এক পর্যায়ে সে নিহত হয় অথবা বিজয় দেওয়া হয়। আর যেই তিনজনকে আল্লাহ ঘৃণা করেন, তারা হলেন, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহংকারী দরিদ্র ও অত্যাচারী ধনী।”[1]



[1] তিরমিযী: ২৫৬৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৫৬; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৫৩; নাসাঈ: ৫/৮৪; হাকিম: ২/১১৩; আত তায়ালিসী: ৪৬৮; তাবারানী: ১৬৩৭; সুনান বাইহাকী: ৯/১৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব:২/৩২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «التعليق الرغيب» (2/ 32)، «المشكاة» (1922 / التحقيق الثاني)، وقد صحَّ عن أبي ذر بسياق آخره ليس فيه الأول، والثاني من الثلاثة الأُوَل، وقال في الثلاثة الذين يبغضهم الله: «والفخور المختال، والبخيل المنان، والبَّياع الحلاَّف».




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح









সহীহ ইবনু হিব্বান (3350)


3350 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «ثَلَاثَةٌ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ، وَثَلَاثَةٌ يُبْغِضُهُمُ اللَّهُ: يُحِبُّ رَجُلًا كَانَ فِي قَوْمٍ فَأَتَاهُمْ سَائِلٌ، فَسَأَلَهُمْ بِوَجْهِ اللَّهِ لَا يَسْأَلُهُمْ لَقَرَابَةٍ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ، فَبَخِلُوا، فَخَلَفَهُمْ بِأَعْقَابِهِمْ حَيْثُ لَا يَرَاهُ إِلَّا اللَّهُ وَمَنْ أَعْطَاهُ، وَرَجُلٌ كَانَ فِي كَتِيبَةٍ، فَانْكَشَفُوا، فَكَبَّرَ فَقَاتَلَ حَتَّى يَفْتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ، أَوْ يُقْتَلَ، وَرَجُلٌ كَانَ فِي قَوْمٍ فَأَدْلَجُوا، فَطَالَتْ دُلْجَتُهُمْ، فَنَزَلُوا وَالنَّوْمُ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِمَّا يَعْدِلُ بِهِ، فَنَامُوا، وَقَامَ يَتْلُو آيَاتِي وَيَتَمَلَّقُنِي، وَيُبْغِضُ الشَّيْخَ الزَّانِي، وَالْبَخِيلَ الْمُتَكَبِّرَ، وَذَكَرَ الثَّالِثَ»
رقم طبعة با وزير = (3339)




আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিন শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ পছন্দ করেন এবং তিন শ্রেণির মানুষকে তিনি অপছন্দ করেন। তিনি পছন্দ করেন ঐ ব্যক্তিকে, যে এক কওমের থাকে অতঃপর এক সাহায্যপ্রার্থী এসে তাদের কাছে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাহায্য চান। তার ও তাদের মাঝে আত্নীয়তার সম্পর্ক থাকার কারণে সে তাদের কাছে সাহায্য চায়নি। অতঃপর তারা কৃপণতা করে আর সে ব্যক্তি তাদের পিছনে যায় এবং তাকে গোপনে দান করেন, যে দানের কথা আল্লাহ ও যাকে দান করেছে সে ছাড়া আর কেউ জানে না। (২) আরেক ব্যক্তি যে একটি ছোট বাহিনীতে থাকে। অতঃপর লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় আর সে ব্যক্তি আল্লাহু আকবার বলে যুদ্ধ করে যতক্ষন না মহান আল্লাহ তাকে বিজয় দেন অথবা সে নিহত হয় (৩) আরেক ব্যক্তি একদল লোকের মাঝে রাত্রে দীর্ঘ সফর করে। অতঃপর তারা যাত্রা বিরতি দেয়। অতঃপর ঘুম তাদের কাছে ঘুমের সমপর্যায়ভুক্ত যে কোন জিনিস অপেক্ষা প্রিয় হয়, ফলে তারা ঘুমিয়ে যায়। এমন সময় সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায়, সে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং আমার কাছে সাহায্য চায়। আর যেই তিনজনকে আল্লাহ ঘৃণা করেন, তারা হলেন, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহংকারী কৃপণ।” অধঃস্তন রাবী বলেন, “তিনি তৃতীয় জনের কথাও উল্লেখ করেন।”[1]



[1] তিরমিযী: ২৫৬৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৫৬; মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৫৩; নাসাঈ: ৫/৮৪; হাকিম: ২/১১৩; আত তায়ালিসী: ৪৬৮; তাবারানী: ১৬৩৭; সুনান বাইহাকী: ৯/১৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব:২/৩২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null









সহীহ ইবনু হিব্বান (3351)


3351 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، [ص:139] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ الْمِسْكِينُ الَّذِي تَرُدُّهُ التَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ، وَالْأَكْلَةُ وَالْأَكْلَتَانِ، وَلَكِنَّ الْمِسْكِينَ الَّذِي لَيْسَ لَهُ مَا يَسْتَغْنِي بِهِ، وَلَا يُعْلَمُ بِحَاجَتِهِ فَيُتَصَدَّقُ عَلَيْهِ، فَذَلِكَ الْمَحْرُومُ»
رقم طبعة با وزير = (3340)




আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ঐ ব্যক্তি (প্রকৃত) মিসকিন নয় যাকে এক গ্রাস বা দুই গ্রাস, এক লুকমা বা দুই লুকমা, একটি ও দুটি খেজুর দিয়ে বিদায় দেওয়া হয়। বস্তুত মিসকিন হলো ঐ ব্যক্তি যে এমন কিছু পায় না, যার মাধ্যমে সে স্বাবলম্বী হবেন আর তার প্রয়োজনের কথা মানুষ জানতে পারে না যে, তাকে সাদাকাহ করা হবে। এই ব্যক্তি হলো (কুরআনে বর্ণিত) মাহরুম বা বঞ্চিত ব্যক্তি।”[1]



[1] আবূ দাঊদ: ১৬৩২; সহীহুল বুখারী: ১৪৭৬; দারেমী: ১/৩৭৯; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৬০; সুনান বাইহাকী: ৭/১১; বাগাবী: ১৬০৩; সহীহ মুসলিম: ১০৯৩; নাসাঈ: ৫/৮৪-৮৫; আবূ দাঊদ: ১৬৩১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৩৬৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে “বঞ্চিত’’ অংশটুকু বাদে বাকী অংশকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৪২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح دون قوله: «فذلك المحروم»؛ فَإِنَّهُ مقطوع من كلام الزُّهْرِيّ - «صحيح أبي داود» (1442): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري