সহীহ ইবনু হিব্বান
3352 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، بِمَنْبِجَ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَيْسَ الْمِسْكِينُ بِهَذَا الطَّوَّافِ الَّذِي يَطُوفُ عَلَى النَّاسِ تَرُدُّهُ اللُّقْمَةُ وَاللُّقْمَتَانِ، وَالتَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ»، قَالُوا: فَمَنِ الْمِسْكِينُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟، قَالَ: «الَّذِي لَا يَجِدُ غِنًى يُغْنِيهِ، وَلَا يُفْطَنُ لَهُ فَيُتَصَدَّقُ عَلَيْهِ، وَلَا يَقُومُ فَيَسْأَلُ النَّاسَ»
رقم طبعة با وزير = (3341)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মিসকিন সে নয়, যে মানুষের কাছে ঘুরে ঘুরে সাহায্য চায়। অতঃপর তাকে একটি বা দুটি খেজুর অথবা এক বা দু্‘লুকমা খাবার দিয়ে বিদায় করা হয়।” সাহাবীগণ বললেন, “তাহলে কিসকীন কে?” জবাবে তিনি বলেন, “যে ব্যক্তির এমন সহায়-সম্বল নেই যার মাধ্যমে সে স্বাবলম্বী হয়ে চলবে। আর তার অভাব বুঝাও যায় না, তাকে সাদাকাহ করা হবে। আর সে উঠে গিয়ে মানুষের কাছে সাহায্যও চায় না।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৯২৩; সহীহুল বুখারী: ১৪৭৯; নাসাঈ: ৫/৮৫; সুনান বাইহাকী: ৭/১১; বাগাবী: ১৬০২; সহীহ মুসলিম: ১০৩৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৪২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3353 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا، وَأُرَاهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ، أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ»
رقم طبعة با وزير = (3342)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, “আমার মা আকস্মিক মারা গিয়েছে। আমার ধারণা তিনি যদি কথা বলতে পারতেন, তবে তিনি সাদাকাহ করতেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে সাদাকাহ করবো?” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, “হ্যাঁ (পারবে)।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৭৬০; সহীহুল বুখারী: ২৭৬০; নাসাঈ: ৬/২৫০; সুনান বাইহাকী: ৬/২৭৭; বাগাবী: ১৬৯০; সহীহ মুসলিম: ১০০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৯৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২৫৬৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الأحكام» (217)، «صحيح أبي داود» (2565) «التعليق على ابن خزيمة» (2499): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3354 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: خَرَجَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ وَحَضَرَتْ أُمَّهُ الْوَفَاةُ بِالْمَدِينَةِ، فَقِيلَ لَهَا: أُوصِي، فَقَالَتْ: فَبِمَ أُوصِي، إِنَّمَا الْمَالُ مَالُ سَعْدٍ، فَتُوُفِّيَتْ قَبْلَ أَنْ يَقْدِمَ سَعْدٌ، فَلَمَّا [ص:141] قَدِمَ سَعْدٌ ذُكِرَ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ سَعْدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ يَنْفَعُهَا أَنْ أَتَصَدَّقُ عَنْهَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ»، فَقَالَ سَعْدٌ: حَائِطُ كَذَا وَكَذَا صَدَقَةٌ عَلَيْهَا، لِحَائِطٍ سَمَّاهُ
رقم طبعة با وزير = (3343)
সাঈদ বিন আমর বিন শুরাহবীল বিন সাঈদ বিন সা‘দ বিন উবাদাহ তার ও দাদার পরম্পরায় হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার দাদা বলেন, “একবার সা‘দ বিন উবাদাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কোন এক যুদ্ধে বের হন। এই সময় মদীনার তার মা মুমূর্ষু অবস্থায় নিপতিত হন। তখন তার মাকে বলা হলো, “আপনি অসিয়ত করুন।” জবাবে তিনি বলেন, “আমি কী অসিয়ত করবো, সম্পদ তো সা‘দের।” অতঃপর সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মদীনায় আসার আগেই তিনি মারা যান। তারপর সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মদীনায় আসলে, তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তখন সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি যদি তার পক্ষ থেকে সাদাকাহ করি, তবে সেটা কি তার উপকারে আসবে?” তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “হ্যাঁ (উপকার হবে)।” তখন সা‘দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “ওমুক ওমুক বাগান তার পক্ষ থেকে সাদাকাহ করে দিলাম।” রাবী বলেন, “তিনি বাগানের নাম ধরে বলেন।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৭৬০; নাসাঈ: ৬/২৫০-২৫১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৫০০; হাকিম: ১/৪২০; সুনান বাইহাকী: ৬/২৭৮; তাবারানী: ৫৩৮২; সহীহুল বুখারী: ২৭৬২; আবূ দাঊদ: ২৮৮২; তিরমিযী: ৬৬৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকু আলা সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৫০০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «التعليق على «صحيح ابن خزيمة»» (2500).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح
3355 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «بَيْنَمَا رَجُلٌ بِفَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ إِذْ رَأَى سَحَابَةً فَسَمِعَ فِيهَا صَوْتًا: اسْقِ حَدِيقَةَ فُلَانٍ، فَجَاءَ ذَلِكَ السَّحَابُ فَأَفْرَغَ مَا فِيهِ فِي حُرَّةٍ، قَالَ: فَانْتَهَيْتُ فَإِذَا فِيهَا أَذْنَابُ شِرَاجٍ، وَإِذَا شَرْجَةٌ مِنْ تِلْكَ الشُّرَجِ قَدِ اسْتَوْعَبَتِ الْمَاءَ فَسَقَتْهُ، فَانْتَهَيْتُ إِلَى رَجُلٍ قَائِمٍ يَحُولُ الْمَاءَ بِمِسْحَاتِهِ فِي حَدِيقَةٍ، فَقُلْتُ لَهُ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، مَا اسْمُكَ؟، فَقَالَ: فُلَانٌ، الِاسْمُ الَّذِي سَمِعَ فِيَ السَّحَابَةِ، قَالَ: كَيْفَ تَسْأَلُنِي يَا عَبْدَ اللَّهِ عَنِ اسْمِي؟، قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ فِيَ السَّحَابَةِ الَّذِي هَذَا مَاؤُهَا يَقُولُ: اسْقِ حَدِيقَةَ فُلَانٍ بِاسْمِكَ، فَأَخْبِرْنِي مَا تَصْنَعُ فِيهَا، قَالَ: أَمَا إِذَا قُلْتَ هَذَا فَإِنِّي أَنْظُرُ إِلَى مَا خَرَجَ مِنْهَا فَأَصَّدَقُ بِثُلُثِهِ، وَآكُلُ أَنَا وَعِيَالِي ثُلُثَهُ، وَأُعِيدُ فِيهَا ثُلُثَهُ»
رقم طبعة با وزير = (3344)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “একবার এক ব্যক্তি জনমানবহীন প্রান্তরে ছিলেন, এমন সময় তিনি একটি মেঘ দেখতে পান। অতঃপর তিনি তাতে এই আওয়াজ শুনতে পান, “ওমুকের বাগানে পানি বর্ষন করো।” অতঃপর সেই মেঘ তার মধ্যস্থিত সব পানি এক কঙ্করময় জায়গায় বর্ষন করলো। আমি সেখানে পানির বেশ কিছু নালা দেখতে পেলাম। আমি দেখলাম একটি নালা সব পানিকে নিয়ে নেয় এবং তাকে পানি দেয়। আমি সেখানে গিয়ে দেখি এক ব্যক্তি তার দাঁড়িয়ে কোদাল দিয়ে পানি বাগানে ঘুরিয়ে নিচ্ছে। তখন আমি বললাম, “আল্লাহর বান্দা, আপনার নাম কী?” তিনি জবাব দেন, “ওমুক।” –যেই নাম মেঘে বলা হয়েছে।– সেই ব্যক্তি বলেন, “হে আল্লাহর বান্দা, আপনি কিভাবে আমার নাম জিজ্ঞেস করলেন?” তিনি বলেন, “এই পানি যেই মেঘ থেকে এসেছে, আমি সেই মেঘে বলতে শুনেছি, “ওমুকের বাগানে পানি বর্ষন করো।” সেখানে আপনার নাম বলা হয়েছে। আপনি আমাকে বলুন, আপনি এই বাগানের মালে কী করেন?’’ জবাবে তিনি বলেন, “আপনি যখন এটা বললেন, তবে শুনুন, “নিশ্চয়ই আমি লক্ষ্য করি এই বাগান থেকে কতটুকু ফল উৎপন্ন হয়। অতঃপর আমি এর এক-তৃতীয়াংশ সাদাকাহ করি। এক-তৃতীয়াংশ আমি ও আমার পরিবার ভক্ষন করি। আর এক-তৃতীয়াংশ বাগানে পুনরায় খরচ করি।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ২৯৮৪; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৯৬; আত তায়ালিসী: ২৫৮৭; সুনান বাইহাকী: ৩/১৩৩; হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/২৭৫-২৭৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ১১৯৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1197).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
3356 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الدَّغُولِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُشْكَانَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْرَجُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَالَ رَجُلٌ: لَأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ زَانِيَةٍ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ: تُصُدِّقَ اللَّيْلَةَ عَلَى زَانِيَةٍ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى زَانِيَةٍ، لَأَتَصَدَّقَنَّ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ سَارِقٍ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ: تُصُدِّقَ اللَّيْلَةَ عَلَى سَارِقٍ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى سَارِقٍ، لَأَتَصَدَّقَنَّ اللَّيْلَةَ بِصَدَقَةٍ، فَخَرَجَ بِصَدَقَتِهِ فَوَضَعَهَا فِي يَدِ غَنِيٍّ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ: تُصُدِّقَ اللَّيْلَةَ عَلَى غَنِيٍّ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ عَلَى غَنِيٍّ، فَأُتِيَ، فَقِيلَ: أَمَّا صَدَقَتُكَ فَقَدْ قُبِلَتْ، أَمَّا الزَّانِيَةُ فَلَعَلَّهَا تَسْتَعِفُّ بِهَا [ص:144] عَنْ زِنَاهَا، وَأَمَّا السَّارِقُ فَلَعَلَّهُ يَسْتَعِفُّ عَنْ سَرِقَتِهِ، وَلَعَلَّ الْغَنِيَّ يَعْتَبِرُ فَيُنْفِقُ مِمَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ تَعَالَى»
رقم طبعة با وزير = (3345)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এক ব্যক্তি বললো, “অবশ্যই আমি সাদাকাহ করবো।” অতঃপর সে সাদাকাহ নিয়ে বের হয়। অতঃপর সে তা এক বেশ্যা নারীর হাতে দেয়। অতঃপর সকালে লোকজন বলাবলি করতে থাকে, “আজ রাতে এক বেশ্যা নারীকে সাদাকাহ করা হয়েছে।” সেই ব্যক্তি বলে, “হে আল্লাহ, আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, এক বেশ্যা নারীর হাতে (আমার সাদাকাহ পড়েছে)। অবশ্যই আমি আরেকটি সাদাকাহ করবো।” তারপর সে আবার সাদাকাহ নিয়ে বের হয়। অতঃপর সে এক চোরের হাতে তা সোপর্দ করে। অতঃপর সকালে লোকজন বলাবলি করতে থাকে, “আজ রাতে এক চোরকে সাদাকাহ করা হয়েছে।” সেই ব্যক্তি বলে, “হে আল্লাহ, আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, এক চোরের হাতে (আমার সাদাকাহ পড়েছে)। অবশ্যই আমি আরেকটি সাদাকাহ করবো।” তারপর সে আবার সাদাকাহ নিয়ে বের হয়। অতঃপর সে এক ধনী ব্যক্তির হাতে তা সোপর্দ করে। অতঃপর সকালে লোকজন বলাবলি করতে থাকে, “আজ রাতে এক ধনী ব্যক্তিকে সাদাকাহ করা হয়েছে।” সেই ব্যক্তি বলে, “হে আল্লাহ, আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, এক ধনী ব্যক্তির হাতে (আমার সাদাকাহ পড়েছে)। তারপর তাকে (আল্লাহর কাছে) আনা হয়। অতঃপর তাকে বলা হয়, “তোমার সাদাকাহ কবূল করা হয়েছে। বেশ্যা নারী হয়তো সে এর মাধ্যমে তার ব্যভিচার থেকে নিজেকে পবিত্র রাখবে। চোর হয়তো, এর মাধ্যমে তার চৌর্যবৃত্তি থেকে নিজেকে পবিত্র রাখবে। আর ধনী ব্যক্তি হয়তো এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে অতঃপর আল্লাহ তাকে যা কিছু প্রদান করেছেন, সেখান থেকে সে দান করবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৩২২; সহীহুল বুখারী: ১৪২১; সহীহ মুসলিম: ১০২২; নাসাঈ: ৫/৫৫-৫৬; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯১-১৯২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মুশকিলাতুল ফাকর: ৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «مشكلة الفقر» (6).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح
3357 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْذِرِ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهَا جَاءَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: «يَا نَبِيَّ اللَّهِ لَيْسَ لِي شَيْءٌ إِلَّا مَا أَدْخَلَ عَلَيَّ الزُّبَيْرُ، فَهَلْ عَلَيَّ مِنْ جُنَاحٍ أَنْ أَرْضَخَ مِمَّا يُدْخِلُ عَلَيَّ؟، قَالَ: » ارْضَخِي مَا اسْتَطَعْتِ، وَلَا تُوعِي فَيُوعِيَ اللَّهُ عَلَيْكِ «
رقم طبعة با وزير = (3346)
আসমা বিনতে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তিনি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ঘরে যা নিয়ে আসেন, তা ছাড়া আমার কোন কিছুই নেই। কাজেই তিনি যা ঘরে নিয়ে আসেন, যদি আমি সেখান থেকে দান করি, তবে কি আবার গোনাহ হবে?” জবাবে তিনি বলেন, “তুমি যথাসাধ্য দান করো। তুমি টাকা থলেতে বেধে রাখবে না, তাহলে আল্লাহও তোমাকে দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।”[1]
[1] সহীহুল বুখারী: ১৪৩৪; সহীহ মুসলিম: ১০২৯; নাসাঈ: ৫/৭৪; সুনান বাইহাকী: ৪/১৮৭; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৫৪; বাগাবী: ১৬৫৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৬৬১৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৯০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1490): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3358 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا تَصَدَّقْتِ الْمَرْأَةُ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا غَيْرَ مُفْسِدَةٍ فَلَهَا أَجْرُهَا وَلِزَوْجِهَا أَجْرُ مَا اكْتَسَبَ، وَلَهَا أَجْرُ مَا نَوَتْ، وَلِلْخَازِنِ مِثْلُ ذَلِكَ»
رقم طبعة با وزير = (3347)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন কোন নারী ফাসাদ সৃষ্টি না করে স্বামীর সম্পদ থেকে দান করে, তবে তার জন্য সাওয়াব রয়েছে। তার স্বামীর জন্য সম্পদ উপার্জন করার সাওয়াব রয়েছে, সেই নারী যে নিয়ত করেছে, তার সাওয়াব রয়েছে, অনুরুপভাবে সম্পদ হেফাযতকারীর জন্যও সাওয়াব রয়েছে।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭২৭৫; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪৪; সহীহুল বুখারী: ১৪২৫; সহীহ মুসলিম: ১০২৪; আবূ দাঊদ: ১৬৮৫; তিরমিযী: ৬৭২; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯২; বাগাবী: ১৬৯২; নাসাঈ: ৫/৬৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৭৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1479): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3359 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ حَمَّادٍ، سَجَّادَةٌ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنِي بُرَيْدٌ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «الْخَازِنُ الْمُسْلِمُ الْأَمِينُ الَّذِي يُنْفِقُ»، وَرُبَّمَا قَالَ: «يُعْطِي مَا أُمِرَ، فَيُعْطِيهِ كَامِلًا مُوَفَّرًا طَيِّبَةً بِهِ نَفْسُهُ، فَيَدْفَعُهُ إِلَى الَّذِي أُمِرَ بِهِ أَحَدُ الْمُتَصَدِّقِينَ»
رقم طبعة با وزير = (3348)
আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমানতদার মুসলিম মালরক্ষক যে খরচ করে –কোন কোন সময় তিনি বলেছেন, দান করে- যা তাকে আদেশ করা হয়। সে সেটা খুশি মনে পরিপূর্ণভাবে দান করে, যাকে দেওয়ার জন্য আদেশ করা হয়, তাকেই প্রদান করে, সে দুইজন দানকারীর একজন হিসেবে বিবেচিত।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৯৪; সহীহুল বুখারী: ১৪৩৮; সহীহ মুসলিম: ১০২৩; আবূ দাঊদ: ১৬৮৪; মুসনাদুশ শিহাব: ৩০২; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯২; নাসাঈ: ৫/৭৯-৮০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৭৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1478): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3360 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ، قَالَ: كُنْتُ مَمْلُوكًا، فَكُنْتُ أَتَصَدَّقُ بِلَحْمٍ مِنْ لَحْمِ مَوْلَايَ، فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «تَصَدَّقْ وَالْأَجْرُ بَيْنَكُمَا نِصْفَانِ»
رقم طبعة با وزير = (3349) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: أُضْمِرَ فِي هَذَا الْخَبَرِ: تَصَدَّقْ بِإِذْنِهِ، فَذِكْرُ الْإِذْنِ فِيهِ مُضْمَرٌ، وَعُمَيْرٌ مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ إِنَّمَا قِيلَ: آبِي اللَّحْمِ، لِأَنَّهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ حَرَّمَ عَلَى نَفْسِهِ اللَّحْمَ وَأَبَى أَنْ يَأْكُلَ، فَقِيلَ: آبِي اللَّحْمِ، [ص:148] وَمُحَمَّدُ بْنُ زَيْدٍ هَذَا هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ زَيْدِ بْنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ الْجُدْعَانِيُّ الْقُرَشِيُّ، سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، وَمُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، رَوَى عَنْهُ مَالِكٌ وَأَهْلُ الْمَدِينَةِ
আবুল লাহমের আজাদকৃত দাস উমাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি কৃতদাস ছিলাম। অতঃপর আমি আমার মুনিবের গোসত থেকে কিছু গোসত সাদাকাহ করতাম। তারপর একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন, “তুমি সাদাকাহ করতে থাকো আর সাওয়াব তোমাদের উভয়ের মাঝে আধা আধি হবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে একটি কথা উহ্য রয়েছে। সেটা হলো তুমি তোমার মুনিবের অনুমতি নিয়ে সাদাকাহ করবে। কাজেই অনুমতি নেওয়ার কথা এখানে উহ্য রয়েছে। আর উমাইর হলেন আবিল লাহমের আজাদকৃত দাস। তাকে আবিল লাহম বলার কারণ হলো তিনি জাহেলী যুগে নিজের উপর গোসত খাওয়া হারাম করে নিয়েছিলেন। তিনি গোসত খেতে অস্বীকৃতি জানাতেন। এজন তাকে আবিল লাহম বা গোসত ক্ষেত্রে অস্বীকারকারী বলা হয়। আর মুহাম্মাদ বিন যাইদের নাম হলো মুহাম্মাদ বিন যাইদ আল মুহাজির বিন কুনফুয আল জুদ‘আনী আল কুরাশী। তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমার, মুয়াবিয়া বিন আবী সুফিয়ান থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তার কাছ থেকে ইমাম মালিক ও মদীনাবাসী হাদীস বর্ণনা করেছেন।”
[1] সহীহ মুসলিম: ১০২৫; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/১৬৪; ইবনু মাজাহ: ২২৯৭; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯৪; নাসাঈ: ৫/৬৩-৬৪; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩৪৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م (3/ 91).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3361 - أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى السَّاجِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى»
رقم طبعة با وزير = (3350)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামক বলেছেন, “নিচু হাত অপেক্ষা উঁচু হাত উত্তম।”[1]
[1] সুনান বাইহাকী: ৪/১৯৮; আল কাযাঈ: ১২৩০, ১২৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৫৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1454): ق بزيادة تأتي (3353). تنبيه!! رقم (3353) = (3364) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3362 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ بْنِ الصَّبَّاحِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الزَّعْرَاءِ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ أَبِيهِ مَالِكِ بْنِ نَضْلَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْأَيْدِي ثَلَاثَةٌ: فَيَدُ اللَّهِ الْعُلْيَا، وَيَدُ الْمُعْطِي الَّتِي تَلِيهَا، وَيَدُ السُّفْلَى السَّائِلَةُ، فَأَعْطِ الْفَضْلَ، وَلَا تَعْجِزْ عَنْ نَفْسِكِ»
رقم طبعة با وزير = (3351) [ص:149] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: فِي هَذَا الْخَبَرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ بِأَنَّ الْأَخْبَارَ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا قَبْلُ فِي كِتَابِنَا هَذَا، أَنَّ الْيَدَ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى، أَرَادَ بِهِ أَنَّ يَدَ الْمُعْطِي خَيْرٌ مِنْ يَدِ الْآخِذِ، وَإِنْ لَمْ يَسْأَلْ، وَأَبُو الزَّعْرَاءِ هَذَا: هُوَ الصَّغِيرُ، وَاسْمُهُ عَمْرُو بْنُ عَمْرِو بْنِ مَالِكِ بْنِ أَخِي أَبِي الْأَحْوَصِ، وَأَبُو الزَّعْرَاءِ الْكَبِيرُ: اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ هَانِئٍ، يَرْوِي عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ «
মালিক বিন নাযলাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হাত তিন ধরণের। আল্লাহর হাত সমুন্নত। তারপরের হাত হলো, যে হাত (অন্যকে দান) দান করে আর নিচু হাত হলো সাহায্য প্রার্থী হাত। কাজেই উদ্বৃত্ত সম্পদ দান করো আর নফসের (চাহিদার) কাছে অক্ষম হয়ে যেয়ো না।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে এই ব্যাপারে যে, আমরা এই কিতাবে যেসব হাদীস ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি এই মর্মে যে, নিচু হাত অপেক্ষা উঁচু হাত উত্তম, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দানকারীর হাত উত্তম গ্রহণকারীর হাতের চেয়ে, যদিও সে সাহায্য নিজে না চায়। হাদীসের একজন রাবী আবুয যা‘রা হলেন ছোট আবুয যা‘রাহ, তার নাম আমর বিন আমর বিন মালিক, মালিকের বাবা হলেন আবুল আহওয়াসের ভাই। বড় আবুয যা‘রার নাম আব্দুল্লাহ বিন হানী। তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৭৩; আবূ দাঊদ: ১৬৪৯; হাকিম: ১/৪০৭; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৫৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1455).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3363 - أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّاجِيُّ، بِالْبَصْرَةِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «خَيْرُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى، وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى، وَلْيَبْدَأْ أَحَدُكُمْ بِمَنْ يَعُولُ، تَقُولُ امْرَأَتُهُ: أَنْفِقْ عَلَيَّ، وَتَقُولُ أُمُّ وَلَدِهِ: إِلَى مَنْ تَكِلُنِي؟، وَيَقُولُ لَهُ عَبْدُهُ: أَطْعِمْنِي وَاسْتَعْمِلْنِي»
رقم طبعة با وزير = (3352) [ص:150] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى» عِنْدِي أَنَّ الْيَدَ الْمُتَصَدِّقَةَ أَفْضَلُ مِنَ الْيَدِ السَّائِلَةِ، لَا الْآخِذَةِ دُونَ السُّؤَالِ، إِذْ مُحَالٌ أَنْ تَكُونَ الْيَدُ الَّتِي أُبِيحَ لَهَا اسْتِعْمَالُ فِعْلٍ بِاسْتِعْمَالِهِ أَحْسَنَ مِنْ آخَرَ فُرِضَ عَلَيْهِ إِتْيَانُ شَيْءٍ، فَأَتَى بِهِ أَوْ تَقَرَّبَ إِلَى بَارِئِهِ مُتَنَفِّلًا فِيهِ، وَرُبَّمَا كَانَ الْمُعْطِي فِي إِتْيَانِهِ ذَلِكَ أَقَلَّ تَحْصِيلًا فِي الْأَسْبَابِ مِنَ الَّذِي أَتَى بِمَا أُبِيحَ لَهُ، وَرُبَّمَا كَانَ هَذَا الْآخِذُ بِمَا أُبِيحَ لَهُ أَفْضَلَ وَأَوْرَعَ مِنَ الَّذِي يُعْطِي، فَلَمَّا [ص:151] اسْتَحَالَ هَذَا عَلَى الْإِطْلَاقِ دُونَ التَّحْصِيلِ بِالتَّفْضِيلِ صَحَّ أَنَّ مَعْنَاهُ أَنَّ الْمُتَصَدِّقَ أَفْضَلُ مِنَ الَّذِي يَسْأَلُهَا
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “উত্তম সাদাকাহ সেটাই যা, স্বাবলম্বী অবস্থায় প্রদান করা হয়। নিচু হাত অপেক্ষা উঁচু হাত উত্তম। আর তোমরা পরিবারভুক্ত লোকের মাধ্যমে দান শুরু করবে। তার স্ত্রী বলে, “আমাকে খরচা দিন।” তার সন্তানের মা (দাসী) বলে, “আপনি আমাকে কার কাছে ন্যস্ত করছেন?” তার গোলাম তাকে বলে, “আমাকে খেতে দিন এবং আমাকে কাজ দিন।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “নিচু হাত অপেক্ষা উঁচু হাত উত্তম” আমার নিকট এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাদাকাহকারী হাত দান প্রার্থী হাত অপেক্ষা উত্তম; সেই হাত অপেক্ষা নয়, যে হাত সাহায্য প্রার্থনা করে না। কেননা এটা অসম্ভব যে, কোন ব্যক্তির জন্য যে কাজ করা বৈধ করা হয়েছে, সেটা করার কারণে সে অন্যের চেয়ে অনুত্তম বিবেচিত হবে, ঐ ব্যক্তির চেয়ে যে ব্যক্তি আল্লাহ নির্দেশিত ফরয সাদাকাহ প্রদান করে অথবা নফল সাদাকাহ প্রদান করে আল্লাহর নৈকট্য পেতে চায়। আবার কোন কোন সময় দান প্রদান কারীর চেয়ে দান গ্রহণকারী ব্যক্তি বেশি সাওয়াবের কাজ আঞ্জাম দেয়। কোন কোন সময় দান প্রদান কারীর চেয়ে দান গ্রহণকারী ব্যক্তি বেশি পরহেযগার ও উত্তম ব্যক্তি হয়ে থাকেন। সুতরাং যখন সাধারণভাবে এটা বলা অসম্ভব যে, দান গ্রহণকারী অপেক্ষা দান প্রদানকারী উত্তম, সুতরাং এখান থেকে এই অর্থ সঠিক হলো যে, দান চেয়ে নেওয়া ব্যক্তির চেয়ে দান প্রদানকারী ব্যক্তি উত্তম (কিন্তু যে চেয়ে নেয় না, তার চেয়ে সবসময় দানকারীর উত্তমতা সাব্যস্ত হয় না)।”
[1] সুনান বাইহাকী: ৭/৪৭০; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৭৬; সহীহুল বুখারী: ৫৩৫৫; সুনান বাইহাকী: ৭/৪৬৬; নাসাঈ: ৫/৬৯; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২১২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৮৩৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح، لكن قوله: «تقول امرأته ... » مدرج من قول أبي هريرة - «الإرواء» (834): خ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن
3364 - أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ صُلَيْحٍ الْعَابِدُ، بِوَاسِطَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى، وَالْيَدُ الْعُلْيَا الْمُنْفِقَةُ وَالْيَدُ السُّفْلَى السَّائِلَةُ»
رقم طبعة با وزير = (3353)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামক বলেছেন, “নিচু হাত অপেক্ষা উঁচু হাত উত্তম। উঁচু হাত হলো দানকারী আর নিচু হাত হলো দান প্রার্থী হাত।”[1]
[1] সুনান বাইহাকী: ৪/১৯৮; আল কাযাঈ: ১২৩০, ১২৬০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৫৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر (3350). تنبيه!! رقم (3350) = (3361) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده على شرط البخاري
3365 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُكْرَمٍ الْبَزَّارُ، بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: [ص:152] حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: جَاءَهَا سَائِلٌ، فَأَمَرَتْ لَهُ عَائِشَةُ بِشَيْءٍ، فَلَمَّا خَرَجَتِ الْخَادِمُ دَعَتْهَا، فَنَظَرَتْ إِلَيْهِ، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا تُخْرِجِينَ شَيْئًا إِلَّا بِعِلْمِكِ»، قَالَتْ: إِنِّي لَأَعْلَمُ، فَقَالَ لَهَا: «لَا تُحْصِي فَيُحْصِيَ اللَّهُ عَلَيْكِ»
رقم طبعة با وزير = (3354)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, একবার তার কাছে একজন সাহায্য প্রার্থী আসে, তখন আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা তাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দেন। অতঃপর যখন খাদেমা সাদাকাহ বের করে, তখন আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা তাকে ডাক দেন। তারপর তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে তাকান। এসময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তুমি কেবল (পরিমাণ) জেনেই সাদাকাহ করো।” আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আমি পরিমাণ জেনে-শুনেই কেবল সাদাকাহ করি।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তুমি (সাদাকাহ) গুণবে না, অন্যথায় আল্লাহও তোমাকে গুণে গুণে দিবেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৭০-৭১; আবূ দাঊদ: ১৭০০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৯১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (1491).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
3366 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْجُنَيْدِ، بِبُسْتَ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: دَخَلَ ابْنُ عُمَرَ عَلَى ابْنِ عَامِرٍ يَعُودُهُ، فَقَالَ: يَا ابْنَ عُمَرَ أَلَا تَدْعُوا لِي، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: [ص:153] سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ إِلَّا بِطَهُورٍ، وَلَا صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ»، وَقَدْ كُنْتُ عَلَى الْبَصْرَةِ
رقم طبعة با وزير = (3355)
মুসআব বিন সা‘দ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে অসুস্থতার সময় দেখতে যান, অতঃপর তিনি বলেন, “হে আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা, আপনি কি আমার জন্য দু‘আ করবেন না?” তখন আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “ওযূ ছাড়া সালাত কবূল করা হয় না এবং আত্নসাতের মাল থেকে সাদাকাহ কবূল করা হয় না।” আর আপনি তো বসরার গভর্নর ছিলেন।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ২২৪; তিরমিযী: ১; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯১; মুসনাদ আবী আওয়ানা: ১/২৩৪; আত তায়ালিসী: ১৮৭৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৪-৫; মুসনাদ আহমাদ: ২/১৯-২০; ইবনু মাজাহ: ২৭২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৪৯১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن على شرط مسلم
3367 - أَخْبَرَنَا ابْنُ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ الْحَارِثِ، يَقُولُ: حَدَّثَنِي دَرَّاجٌ أَبُو السَّمْحِ، عَنِ ابْنِ حُجَيْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ جَمَعَ مَالًا حَرَامًا ثُمَّ تَصَدَّقَ بِهِ لَمْ يَكُنْ لَهُ فِيهِ أَجْرٌ، وَكَانَ إِصْرُهُ عَلَيْهِ»
رقم طبعة با وزير = (3356)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি হারাম মাল জমা করে, অতঃপর সেখান থেকে খরচ করে, তবে এতে তার কোন সাওয়াব হয় না। আর তার পাপ তার উপর বর্তাবে।”[1]
[1] ইমাম সুয়ূতী, আল জামিউল কাবীর: ২/৭৭০; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/২৯৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/২৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «التعليق الرغيب» (2/ 28).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن
3368 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أُمِّ مُبَشِّرٍ الْأَنْصَارِيَّةِ فِي نَخْلٍ لَهَا، فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ غَرَسَ هَذَا النَّخْلَ؟ أَمُسْلِمٌ أُمْ كَافِرٌ»؟ فَقَالَتْ: بَلْ مُسْلِمٌ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَغْرِسُ الْمُسْلِمُ غَرْسًا وَلَا يَزْرَعُ زَرْعًا، فَيَأْكُلُ مِنْهُ إِنْسَانٌ وَلَا دَابَّةٌ وَلَا شَيْءٌ إِلَّا كَانَتْ لَهُ صَدَقَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3357)
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মু মুবাশশির আল আনসারিয়ার একটি খেজুর বাগানে প্রবেশ করেন। অতঃপর তিনি বলেন, “এই খেজুর গাছগুলো কে রোপন করেছে, কোন মুসলিম ব্যক্তি নাকি কাফির ব্যক্তি?” তিনি জবাবে বলেন, “বরং মুসলিম ব্যক্তি।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি কোন বৃক্ষ রোপন করলে অথবা কোন শষ্য রোপন করে, অতঃপর সেখান থেকে মানুষ, চতুষ্পদ প্রাণী অথবা অন্য কোন কিছু সেখান থেকে কিছু ফল-ফসল খেয়ে নেয়, তবে সেটা তার জন্য সাদাকাহ হিসেবে গণ্য হবে।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ১৫৫২; সুনান বাইহাকী: ৬/১৩৮; হুমাইদী: ১২৭৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩৫৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3369 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى الْجَوَالِيقِيُّ، بِعَسْكَرِ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيِّ بْنِ بَحْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، [ص:155] يَقُولُ: «لَا يَغْرِسُ مُسْلِمٌ غَرْسًا فَيَأْكُلَ مِنْهُ سَبْعٌ وطيرٌ وَشَيْءٌ إِلَّا كَانَ لَهُ فِيهِ أَجْرٌ»
رقم طبعة با وزير = (3358)
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি কোন কিছু রোপন করে, অতঃপর সেখান থেকে কোন হিংস্র প্রাণী, পাখি বা অন্য কোন কিছু খেয়ে নিলে, তবে তাতে তার জন্য সাওয়াব রয়েছে।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ১৫৫২; সুনান বাইহাকী: ৬/১৩৮; হুমাইদী: ১২৭৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৩৫৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
3370 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي السَّرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «لَمْ أَتَخَلَّفْ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا، حَتَّى كَانَتْ غَزْوَةَ تَبُوكَ إِلَّا بَدْرٍ، وَلَمْ يُعَاتِبِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدًا تَخَلَّفَ عَنْ بَدْرٍ، إِنَّمَا خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُرِيدُ الْعِيرَ، وَخَرَجَتْ قُرَيْشٌ مُغِيثِينَ لِعِيرِهِمْ، فَالْتَقَوْا عَلَى غَيْرِ مَوْعِدٍ كَمَا قَالَ اللَّهُ، وَلَعَمْرِي إِنَّ أَشْرَفَ مَشَاهِدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّاسِ لَبَدْرٌ، وَمَا أُحِبُّ أَنِّي [ص:156] كُنْتُ شَهِدْتُهَا مَكَانَ بَيْعَتِي لَيْلَةَ الْعَقَبَةِ حِينَ تَوَاثَقْنَا عَلَى الْإِسْلَامِ، وَلَمْ أَتَخَلَّفْ بَعْدُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا، حَتَّى كَانَتْ غَزْوَةُ تَبُوكَ، وَهِيَ آخِرُ غَزْوَةٍ غَزَاهَا، آذَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّاسَ بِالرَّحِيلِ وَأَرَادَ أَنْ يَتَأَهَّبُوا أُهْبَةَ غَزْوِهِمْ، وَذَلِكَ حِينَ طَابَ الظِّلَالُ وَطَابَتِ الثِّمَارُ، وَكَانَ قَلَّمَا أَرَادَ غَزْوَةً إِلَّا وَرَّى غَيْرَهَا، وَكَانَ يَقُولُ: » الْحَرْبُ خُدْعَةٌ «، فَأَرَادَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ أَنْ يَتَأَهَّبَ النَّاسُ أُهْبَتَهُ، وَأَنَا أَيْسَرُ مَا كُنْتُ، قَدْ جَمَعْتُ رَاحِلَتَيْنِ لِي، فَلَمْ أَزَلْ كَذَلِكَ حَتَّى قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَادِيًا بِالْغَدَاةِ، وَذَلِكَ يَوْمُ الْخَمِيسِ، وَكَانَ يُحِبُّ أَنْ يَخْرُجَ يَوْمَ الْخَمِيسِ، فَأَصْبَحَ غَادِيًا، فَقُلْتُ: أَنْطَلِقُ إِلَى السُّوقِ وَأَشْتَرِي جِهَازِي، ثُمَّ أَلْحَقُ بِهَا، فَانْطَلَقْتُ إِلَى السُّوقِ مِنَ الْغَدِ، فَعَسُرَ عَلَيَّ بَعْضُ شَأْنِي فَرَجَعْتُ، فَقُلْتُ: » أَرْجِعُ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَأَلْحَقُ بِهِمْ، فَعَسُرَ عَلَيَّ بَعْضُ شَأْنِي أَيْضًا، فَلَمْ أَزَلْ كَذَلِكَ حَتَّى لَبَّسَ بِيَ الذَّنْبُ، وَتَخَلَّفْتُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَعَلْتُ أَمْشِي فِي الْأَسْوَاقِ وَأَطْرَافِ الْمَدِينَةِ فَيُحْزِنُنِي أَنْ لَا أَرَى أَحَدًا تَخَلَّفَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا [ص:157] رَجُلًا مَغْمُوصًا عَلَيْهِ فِي النِّفَاقِ، وَكَانَ لَيْسَ أَحَدٌ تَخَلَّفَ إِلَّا أَرَى ذَلِكَ سَيَخْفَى لَهُ، وَكَانَ النَّاسُ كَثِيرًا لَا يَجْمَعُهُمْ دِيوَانٌ، وَكَانَ جَمِيعُ مَنْ تَخَلَّفَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَضْعَةً وَثَمَانِينَ رَجُلًا، وَلَمْ يَذْكُرْنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَلَغَ تَبُوكَ، فَلَمَّا بَلَغَ تَبُوكَ، قَالَ: «مَا فَعَلَ كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ»؟، فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِي: خَلَّفَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بُرْدَاهُ وَالنَّظَرُ فِي عِطْفَيْهِ، فَقَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ: بِئْسَ مَا قُلْتَ، وَاللَّهِ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا نَعْلَمُ إِلَّا خَيْرًا، قَالَ: فَبَيْنَا هُمْ كَذَلِكَ إِذَا رَجُلٌ يَزُولُ بِهِ السَّرَابُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُنَّ أَبَا خَيْثَمَةَ»، فَإِذَا هُوَ أَبُو خَيْثَمَةَ، فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ تَبُوكَ، [ص:158] وَقَفَلَ وَدَنَا مِنَ الْمَدِينَةِ جَعَلْتُ أَتَذَكَّرُ مَاذَا أَخْرُجُ بِهِ مِنْ سَخَطِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَسْتَعِينُ عَلَى ذَلِكَ بِكُلِّ ذِي رَأْيٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي، حَتَّى إِذَا قِيلَ: النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُصَبِّحُكُمْ بِالْغَدَاةِ، رَاحَ عَنِّي الْبَاطِلُ، وَعَرَفْتُ أَنِّي لَا أَنْجُو إِلَّا بِالصِّدْقِ، فَدَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَحًى، فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ رَكْعَتَيْنِ، وَكَانَ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ فَعَلَ ذَلِكَ، دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى فِيهِ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ جَلَسَ فَجَعَلَ يَأْتِيهِ مَنْ تَخَلَّفَ، فَيَحْلِفُونَ لَهُ وَيَعْتَذِرُونَ إِلَيْهِ، فَيَسْتَغْفِرُ لَهُمْ وَيَقْبَلُ عَلَانِيَتَهُمْ، وَيَكِلُ سَرَائِرَهُمْ إِلَى اللَّهِ، فَدَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ جَالِسٌ، فَلَمَّا رَآنِي تَبَسَّمَ تَبَسُّمَ الْمُغْضَبِ، فَجِئْتُ فَجَلَسْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَمْ تَكُنِ ابْتَعْتَ ظَهْرًا»، قُلْتُ: بَلَى يَا نَبِيَّ اللَّهِ، فَقَالَ: «مَا خَلَّفَكَ عَنِّي»؟، فَقُلْتُ: وَاللَّهِ لَوْ بَيْنَ يَدَيْ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ غَيْرِكَ جَلَسْتُ لَخَرَجْتُ مِنْ سَخَطِهِ عَلَيَّ بِعُذْرٍ، وَلَقَدْ أُوتِيتُ جَدَلًا وَلَكِنِّي قَدْ عَلِمْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَنِّي إِنْ حَدَّثْتُكَ الْيَوْمَ بِقَوْلٍ تَجِدُ عَلَيَّ فِيهِ وَهُوَ حَقٌّ، فَإِنِّي أَرْجُو فِيهِ عُقْبَى اللَّهِ، وَإِنْ حَدَّثْتُكَ الْيَوْمَ بِحَدِيثٍ تَرْضَى عَنِّي فِيهِ وَهُوَ كَذِبٌ أَوْشَكَ أَنْ يُطْلِعَكَ اللَّهُ عَلَيَّ، وَاللَّهِ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا كُنْتُ قَطُّ أَيْسَرَ، وَلَا أَخَفَّ حَاذًا مِنِّي، حَيْثُ تَخَلَّفْتُ عَلَيْكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَّا هَذَا فَقَدْ صَدَقَكُمُ الْحَدِيثَ، قُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ فِيكَ»، فَقُمْتُ فَثَارَ عَلَى أَثَرِي نَاسٌ مِنْ قَوْمِي يُؤَنِّبُونَنِي، فَقَالُوا: وَاللَّهِ مَا نَعْلَمُكَ أَذْنَبْتَ ذَنْبًا قَطُّ قَبْلَ هَذَا، فَهَلَّا اعْتَذَرْتَ إِلَى [ص:159] رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعُذْرٍ يَرْضَاهُ عَنْكَ فِيهِ، وَكَانَ اسْتِغْفَارُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَيَأْتِي مِنْ وَرَاءِ ذَلِكَ، وَلَمْ تَقِفْ مَوْقِفًا لَا نَدْرِي مَاذَا يُقْضَى لَكَ فِيهِ، فَلَمْ يَزَالُوا يُؤَنِّبُونَنِي حَتَّى هَمَمْتُ أَنْ أَرْجِعَ فَأُكَذِّبَ نَفْسِي، فَقُلْتُ هَلْ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ أَحَدٌ غَيْرِي، قَالُوا: نَعَمْ، قَالَهُ هِلَالُ بْنُ أُمَيَّةَ وَمُرَارَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، فَذَكَرُوا رَجُلَيْنِ صَالِحَيْنِ شَهِدَا بَدْرًا لِيَ فِيهِمَا أُسْوَةٌ، فَقُلْتُ: وَاللَّهِ لَا أَرْجِعُ إِلَيْهِ فِي هَذَا أَبَدًا، وَلَا أُكَذِّبُ نَفْسِي، [ص:160] وَنَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كَلَامِنَا أَيُّهَا الثَّلَاثَةُ، فَجَعَلْتُ أَخْرُجُ إِلَى السُّوقِ وَلَا يُكَلِّمُنِي أَحَدٌ، وَتَنَكَّرَ لَنَا النَّاسُ، حَتَّى مَا هُمْ بِالَّذِينَ نَعْرِفُ، وَتَنَكَّرَ لَنَا الْحِيطَانُ حَتَّى مَا هِيَ بِالْحِيطَانِ الَّتِي نَعْرِفُ، وَتَنَكَّرَتْ لَنَا الْأَرْضُ حَتَّى مَا هِيَ بِالْأَرْضِ الَّتِي نَعْرِفُ، وَكُنْتُ أَقْوَى أَصْحَابِي، فَكُنْتُ أَخْرُجُ فَأَطُوفُ فِي الْأَسْوَاقِ فَآتِي الْمَسْجِدَ، وَآتِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُسَلِّمُ عَلَيْهِ، وَأَقُولُ: هَلْ حَرَّكَ شَفَتَيْهِ بِالسَّلَامِ، فَإِذَا قُمْتُ أُصَلِّي إِلَى سَارِيَةٍ، وَأَقْبَلْتُ عَلَى صَلَاتِي، نَظَرَ إِلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمُؤَخَّرِ عَيْنَيْهِ، وَإِذَا نَظَرْتُ إِلَيْهِ أَعْرَضَ عَنِّي، وَاشْتَكَى صَاحِبَايَ فَجَعَلَا يَبْكِيَانِ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ، وَلَا يُطْلِعَانِ رُءُوسَهُمَا، قَالَ: فَبَيْنَا أَنَا أَطُوفُ فِي الْأَسْوَاقِ إِذَا رَجُلٌ نَصْرَانِيٌّ قَدْ جَاءَ بِطَعَامٍ لَهُ يَبِيعُهُ، يَقُولُ: مَنْ يَدُلُّ عَلَى كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، فَطَفِقَ النَّاسُ يُشِيرُونَ لَهُ إِلَيَّ، فَأَتَانِي بِصَحِيفَةٍ مِنْ مَلِكِ غَسَّانَ، فَإِذَا فِيهَا: أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّ صَاحِبَكَ قَدْ جَفَاكَ وَأَقْصَاكَ وَلَسْتَ بِدَارِ هَوَانٍ وَلَا مَضْيَعَةٍ، فَالْحَقْ بِنَا نُوَاسِكَ، فَقُلْتُ: هَذَا أَيْضًا مِنَ الْبَلَاءِ، فَسَجَرْتُ لَهَا التَّنُّورَ، فَأَحْرَقْتُهَا فِيهِ، [ص:161] فَلَمَّا مَضَتْ أَرْبَعُونَ لَيْلَةً إِذَا رَسُولٌ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَتَانِي، فَقَالَ: اعْتَزَلِ امْرَأَتَكَ، فَقُلْتُ: أُطَلِّقُهَا، قَالَ: لَا، وَلَكِنْ لَا تَقْرَبْهَا، فَجَاءَتِ امْرَأَةُ هِلَالِ بْنِ أُمَيَّةَ، فَقَالَتْ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّ هِلَالَ بْنَ أُمَيَّةَ شَيْخٌ ضَعِيفٌ، فَهَلْ تَأْذَنْ لِي أَنْ أَخْدُمَهُ، قَالَ: «نَعَمْ، وَلَكِنْ لَا يَقْرَبَنَّكِ»، قَالَتْ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا بِهِ حَرَكَةٌ لِشَيْءٍ، مَا زَالَ مُتَّكِئًا يَبْكِي اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ مُذْ كَانَ مِنْ أَمْرِهِ مَا كَانَ، قَالَ كَعْبٌ: فَلَمَّا طَالَ عَلَيَّ الْبَلَاءُ، اقْتَحَمْتُ عَلَى أَبِي قَتَادَةَ حَائِطَهُ، وَهُوَ ابْنُ عَمِّي، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ، فَقُلْتُ: أَنْشُدُكَ اللَّهَ يَا أَبَا قَتَادَةَ أَتَعْلَمُ أَنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، فَسَكَتَ، فَقُلْتُ: أَنْشُدُكَ اللَّهَ يَا أَبَا قَتَادَةَ أَتَعْلَمُ أَنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ؟ فَسَكَتَ، فَقُلْتُ: أَنْشُدُكَ اللَّهَ يَا أَبَا قَتَادَةَ أَتَعْلَمُ أَنِّي أُحَبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، فَقَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: فَلَمْ أَمْلِكْ نَفْسِي أَنْ بَكَيْتُ، ثُمَّ اقْتَحَمْتُ الْحَائِطَ خَارِجًا، حَتَّى إِذَا مَضَتْ خَمْسُونَ لَيْلَةً مِنْ حِينَ نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كَلَامِنَا، صَلَّيْتُ عَلَى ظَهْرِ بَيْتٍ لَنَا [ص:162] صَلَاةَ الْفَجْرِ، وَأَنَا فِي الْمَنْزِلَةِ الَّتِي قَالَ اللَّهُ، قَدْ ضَاقَتْ عَلَيْنَا الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْنَا أَنْفُسُنَا، إِذْ سَمِعْتُ نِدَاءً مِنْ ذِرْوَةِ سَلْعٍ أَنْ أَبْشِرْ يَا كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ، فَخَرَرْتُ سَاجِدًا، وَعَرَفْتُ أَنَّ اللَّهَ قَدْ جَاءَنَا بِالْفَرَجِ، ثُمَّ جَاءَ رَجُلٌ يَرْكُضُ عَلَى فَرَسٍ يُبَشِّرُنِي، فَكَانَ الصَّوْتُ أَسْرَعَ مِنْ فَرَسِهِ، فَأَعْطَيْتُهُ ثَوْبِي بِشَارَةً، وَلَبِسَتْ ثَوْبَيْنِ آخَرِينَ، وَكَانَتْ تَوْبَتُنَا نَزَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُلُثَ اللَّيْلِ، فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَلَا نُبَشِّرُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ، فَقَالَ: «إِذًا يَحْطِمُكُمُ النَّاسُ وَيَمْنَعُونَكُمُ النَّوْمَ سَائِرَ اللَّيْلَةِ»، قَالَ: وَكَانَتْ أُمُّ سَلَمَةَ مُحْسِنَةً فِي شَأْنِي، تُخْبِرُنِي بِأَمْرِي، فَانْطَلَقْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِذَا هُوَ جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ وَحَوْلَهُ الْمُسْلِمُونَ، وَهُوَ يَسْتَنِيرُ كَاسْتِنَارِ الْقَمَرِ، وَكَانَ إِذَا سُرَّ بِالْأَمْرِ اسْتَنَارَ، فَجِئْتُ فَجَلَسْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَقَالَ: «يَا كَعْبُ بْنَ مَالِكٍ، أَبْشِرْ بِخَيْرِ يَوْمٍ أَتَى عَلَيْكَ مُنْذُ وَلَدَتْكَ أُمُّكَ»، قَالَ: فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، أَمِنْ عِنْدِ اللَّهِ أُمْ مِنْ عِنْدِكَ؟، قَالَ: «بَلْ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ»، ثُمَّ تَلَا عَلَيْهِمْ {لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ} [التوبة: 117]، حَتَّى بَلَغَ {هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} [التوبة: 118]، قَالَ: وَفِينَا نَزَلَتِ {اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ} [التوبة: 119]، قَالَ: فَقُلْتُ: [ص:163] يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّ مِنْ تَوْبَتِي أَنِّي لَا أُحَدِّثُ إِلَّا صِدْقًا، وَأَنْ أَنْخَلِعَ مِنْ مَالِي كُلِّهِ صَدَقَةً إِلَى اللَّهِ، وَإِلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «أَمْسِكْ عَلَيْكَ بَعْضَ مَالِكَ، فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ»، قَالَ: فَقُلْتُ: فَإِنِّي أُمْسِكُ سَهْمِيَ الَّذِي بِخَيْبَرَ، قَالَ: فَمَا أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيَّ مِنْ نِعْمَةٍ بَعْدَ الْإِسْلَامِ أَعْظَمَ فِي نَفْسِي مِنْ صِدْقِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ صَدَقْتُهُ أَنَا وَصَاحِبَايَ، أَنْ لَا نَكُونَ كَذَبْنَا فَهَلَكْنَا كَمَا هَلَكُوا، وَمَا تَعَمَّدْتُ لِكَذْبَةٍ بَعْدُ، وَإِنِّي لَأَرْجُو أَنْ يَحْفَظَنِيَ اللَّهُ فِيمَا بَقِيَ، قَالَ الزُّهْرِيُّ: فَهَذَا مَا انْتَهَى إِلَيْنَا مِنْ حَدِيثِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ
رقم طبعة با وزير = (3359)
কা’ব ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, “তাবূক যুদ্ধের আগ পর্যন্ত বদর যুদ্ধ ছাড়া কোন যুদ্ধে আমি অংশগ্রহণ না করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পিছে পড়ে থাকিনি। তবে যারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি তাদের কাউকেও আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোষারোপ করেননি। বস্তুত সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবলমাত্র কুরায়শদের একটি বানিজ্যিক কাফিলাকে ধরার উদ্দেশে বের হয়েছিলেন। আর কুরাইশ বাহিনী তাদের বানিজ্যিক কাফেলাকে সাহায্য করার জন্য বের হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা মুসলিম ও কাফিরদের অনির্ধারিত সময়ে একত্রিত করে দিলেন, যেমনটা মহান আল্লাহ কুরআনে বলেছেন। আমার আয়ুষ্কালের প্রভুর কসম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুদ্ধসমূহের মাঝে বদর যুদ্ধ মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশী মর্যাদাবান। আর আমি পছন্দ করি না যে, আমি ’আকাবার রাত্রে উপস্থিত হওয়ার পরিবর্তে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। আকাবায় আমরা ইসলামের উপর অঙ্গীকার নিয়েছিলাম। তারপর তাবূক যুদ্ধ পর্যন্ত আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন গাজওয়ায় অংশগ্রহণ না করে পিছে পড়ে থাকিনি। এটা ছিল তাঁর সর্বশেষ যুদ্ধ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধে বের হওয়ার জন্য লোকদের ঘোষনা দিলেন। তিনি চাচ্ছিলেন যে, লোকজন তাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুক। সময়টা ছিল প্রখর রৌদ্রময় আর গাছের ফলও পেকে গিয়েছিল। তিনি প্রায় সব যুদ্ধেই তাওরিয়া করতেন। তিনি বলতেন, “যুদ্ধ হলো কৌশল।” কিন্তু তিনি তাবূক যুদ্ধে চাচ্ছিলেন যে, লোকজন তাদের যুদ্ধের জন্য ভালভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করুক। এসময় আমি ছিলাম অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে স্বচ্ছল। আমি দুটি বাহন একত্রিত করেছিলাম। আমি এমন অবস্থাতেই ছিলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহস্প্রতিবার সকালে দাঁড়ান। তিনি বৃহস্প্রতিবার সফরে বের হওয়া পছন্দ করতেন। তিনি সকালে যাত্রা শুরু করেন। তখন আমি বললাম, আমি বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় মাল-সামান ক্রয় করবো। তারপর আমি তাদের সাথে গিয়ে যুক্ত হবো। পরের দিন সকালে আমি বাজারে যাই। আমার কোন কাজে আমি জটিলতায় পড়ে যাই। ফলে আমি বাড়িতে ফিরে আসি। তারপর আমি বলি, ইনশাল্লাহ আমি আগামীকাল সকালে বের হয়ে তাদের সাথে যুক্ত হবো। অতঃপর সেদিনও আমার কোন কাজে আমি জটিলতায় পড়ে যাই। অতঃপর সেই অবস্থাতেই থেকে যাই। এভাবে পাপ আমাকে পেয়ে বসে। আমি রাসূল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পিছে থেকে যাই। অতঃপর আমি হাট-বাজার ও মদীনার বিভিন্ন প্রান্তে বের হতাম, অতঃপর আমাকে এই বিষয়টি পীড়া দিতো যে, নিফাকের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধে যায়নি এমন কাউকে দেখতে পেতাম না। যেই যুদ্ধে থেকে পিছে ছিল, তার ব্যাপারেই আমার এমনটাই মনে হতো। আমি মনে করতাম যে, বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গোপন থাকবে (কারণ এতো বিপুল সংখ্যক সাহাবীর মাঝে আসলো আর কে আসলো না, সেটা নির্ণয় করা কঠিন বটে)। লোক সংখ্যা ছিল অনেক বেশি যা, কোন রেকর্ড বই ধারণ করতে পারবে না। আর যারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পিছে পড়ে ছিলো, তাদের সংখ্যা ৮০ জনের বেশি ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক পৌঁছার আগ পর্যন্ত আমার কথা আলোচনা করেননি। অতঃপর যখন তাবুক পৌঁছেন, তখন তিনি বলেন, “কা’ব ইবনু মালিকের কী হয়েছে?” তখন আমার গোত্রের এক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তার জোড়া জামা এবং সুন্দর পোশাকের দিকে তার দৃষ্টিপাত তাকে বিরত রেখেছে। তখন মুআয ইবনু জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তুমি অনেক খারাপ কথা বলছ। আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা তার ব্যাপারে ভাল ছাড়া মন্দ কিছু জানি না।” রাবী বলেন, “আমরা এই অবস্থার মাঝেই ছিলাম। এমন সময় একজন ব্যক্তিকে দেখা গেলো, যার ব্যাপারে মরীচিকা দৃষ্টিভ্রম সৃষ্টি করছিল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আবু খাইসামা হতে পারে।” অতঃপর দেখা গেল, তিনি আবু খাইসামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু । অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক যুদ্ধ শেষ করে মদীনার ফিরে আসেন। যখন তিনি মদীনার কাছাকাছি আসেন, তখন আমি মনে মনে চিন্তা করতে লাগলাম যে, কী বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্রোধ থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারি এবং আমি আমার পরিবারে সকল জ্ঞানী লোকদের এই ব্যাপারে সহযোগিতা নিব। পরিশেষে যখন আমাকে বলা হলো যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালেই পৌঁছবেন, তখন আমার থেকে মিথ্যা অপসারিত হয়ে যায়। আমি বুঝতে পারি যে, আমি কেবল সত্যের মাধ্যমেই মুক্তি পেতে পারি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুর্বাহ্ণে সফর থেকে আগমন করেন। তারপর তিনি মাসজিদে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তিনি যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন তিনি এরকম করতেন। মাসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি বসেন, অতঃপর যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি তারা এসে শপথ করে অজুহাত দেয়া শুরু করে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাদের বাহ্যিক কথাবার্তা গ্রহণ করেন আর তাদের গোপন বিষয়টি আল্লাহর উপর ন্যস্ত করেন। তারপর আমি মাসজিদে প্রবেশ করি। আমি তাঁকে বসা দেখতে পাই। যখন তিনি আমাকে দেখেন, তখন তিনি ক্রুদ্ধ লোকের হাসির মতো মুচকি হাসলেন। আমি তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর সামনে বসি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রশ্ন করলেন, “তুমি কি সওয়ারী কিনে ছিলে না?” আমি বললাম, “জ্বী, হ্যাঁ। হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!” তখন তিনি বলেন, “কিসে তোমাকে পিছনে ফেলে রেখেছিল?” আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহর শপথ, আমি যদি আপনি ছাড়া দুনিয়ার অন্য কোন মানুষের সামনে বসতাম তবে আমি ওজর পেশ করে তার ক্রোধ হতে বের হয়ে যেতাম। অবশ্যই আমাকে যথেষ্ট যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করার পারদর্শিতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর শপথ, আমি জানি, যদি আমি সত্য কথা বলি এবং এতে আপনি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হন, তবে এতে আল্লাহর তরফ হতে আমি কল্যাণজনক পরিণামের প্রত্যাশা রাখি। আর আজ যদি আমি মিথ্যা কথা বলি যাতে আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হন, তবে শীঘ্রই হয়তো আল্লাহ তা’আলা আপনাকে আমার ব্যাপারটি অবহিত করবেন। আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যখন আমি আপনার থেকে পিছনে ছিলাম, তখন আমি যতটা স্বচ্ছল ছিলাম, ততটা স্বচ্ছল আমি কখনই ছিলাম না এবং এই সময়ের চেয়ে বেশি অবসর আর কখনই ছিলাম না।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি সত্য কথা বলেছে। যাও, যতক্ষন না আল্লাহ তোমার ব্যাপারে ফায়সালা করেন।” তারপর আমি চলে যাই। তখন আমার গোত্রের কিছু লোক দ্রুত আমার নিকটে এসে আমাকে তিরস্কার করেন। তারা বলেন, আল্লাহর কসম আমরা তো ইতোপূর্বে তোমাকে কোন অন্যায় করতে দেখিনি। তুমি কেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন ওজর পেশ করলে না, যাতে তিনি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যেতেন, তারপর তিনি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, আর তুমি এমন অবস্থানে থাকতে না, যেখানে আমরা জানি না যে, কী ফায়সালা করা হবে?!” এভাবে তারা আমাকে তিরস্কার করতেই থাকে, এমনকি ইচ্ছা করলাম যে, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফিরে গিয়ে নিজেকে মিথ্যাবাদী দাবি করবো। এসময় আমি বললাম, “আমি ছাড়া এরকম আরো কেউ বলেছে কী?” লোকজন বললেন, “হ্যাঁ। এরকম কথা হিলাল বিন উমাইয়্যা ও মুরারাহ বিন রাবিআহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন। কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তারা আমার কাছে এমন দু লোকের কথা বর্ণনা করল, যারা ছিলেন সৎকর্মশীল, বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী। তাদের মাঝে আমার জন্য আদর্শ ছিলো। তখন আমি বললাম, “আল্লাহর কসম, আমি এই তাঁর কাছে কখনই যাব না। আমি নিজেকে মিথ্যাবাদী দাবি করবো না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তিন জনের সাথে মুসলিমদের কথা বলতে নিষেধ করে দিলেন। আমি বাজারে যেতাম, কিন্তু কেউ আমার সাথে কথা বলতো না। আমাদের সাথে লোকদের আচরন এমনভাবে বদলে গেলো যেন আমরা তাদেরকে চিনি না। আমাদের কাছে বাগানের চেহারা পাল্টে গেলো, এমনকি মনে হলো এ যেন আমাদের চিরচেনা সেই বাগান নয়। আমাদের কাছে জমিনের চেহারা পাল্টে গেলো, এমনকি মনে হলো এ যেন আমাদের জানাশুনা সেই জমিন নয়। আমি আমার সঙ্গীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ছিলাম। ফলে আমি বাজারে হাঁটাহাঁটি করতাম, মাসজিদে গমন করতাম। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসতাম, তাঁকে সালাম দিতাম। আমি মনে মনে বলতাম, দেখি তিনি ঠোট নাড়িয়ে সালামের জবাব দেন কিনা। আমি যখন খুঁটি সামনে রেখে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতাম, তখন আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চোখের কোণায় আমার দিকে তাকাতেন। আর যখন আমি তাঁর দিকে তাকাতাম, তখন তিনি মুখ ফিরিয়ে নিতেন। আমার অপর দুই সঙ্গী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা রাত-দিন কাঁদতে থাকেন। তারা মাথাও তুলতেন না। তিনি বলেন, “আমি বাজারে ঘুরছিলাম, এমন সময় একজন খ্রীষ্টান ব্যক্তি বাজারে খাদ্য নিয়ে এসেছিল, বিক্রি করার জন্য। সে বলে, “আমাকে কা‘ব বিন মালিকের সন্ধান কে দিতে পারবে?” তখন লোকজন আমার দিতে ইশারা করতে থাকে। অতঃপর সে আমাকে গাসসানের অধিপতির কাছ থেকে একটি চিঠি দেয়। অতঃপর আমি দেখতে পাই সেখানে লেখা আছে, “অতঃপর, নিশ্চয়ই আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আপনার সঙ্গী আপনার সাথে রুঢ় আচরণ করছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার জন্য অবমাননাকর ও অধিকারবঞ্ছিত জায়গা নির্ধারণ করেননি। সুতরাং আপনি আমাদের কাছে চলে আসুন, আমরা আপনার সমব্যথি হবো।” কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তখন আমি বললাম, এটাও একটা পরীক্ষা। ফলে আমি চুলা জ্বালালাম। অতঃপর আমি সেটা আগুনে জ্বালিয়ে দেই। এভাবে যখন ৪০ দিন অতিবাহিত হয়ে যায়, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন দূত আমার কাছে এসে বলেন, “আপনি আপনার স্ত্রীকে আলাদা করে দিন।” তখন আমি বললাম, “আমি কি তাকে তালাক দিবো?” জবাবে তিনি বলেন, “না, তবে তার কাছে যাবে না।” তারপর হিলাল বিন উমাইয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী এসে বলেন, “হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিশ্চয়ই হিলাল বিন উমাইয়্যাহ একজন দুর্বল বৃদ্ধ মানুষ। আপনি কি আমাকে তার খেদমত করার অনুমতি দিবেন?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “হ্যাঁ। তবে সে যেন অবশ্যই তোমার নিকটবর্তী না হয়।” তার স্ত্রী বলেন, “হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তার তো কোন কিছুর জন্য নড়াচড়া করার ক্ষমতা নেই। তার এই ব্যাপারটি ঘটার পর থেকে তিনি হেলান দিয়ে রাত-দিন শুধু কান্না করেই যাচ্ছেন!” কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যখন আমার বিপদ দীর্ঘ হয়ে গেলো, তখন আমি আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাগানে প্রবেশ করি। আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার চাচাতো ভাই ছিলো। আমি তাকে সালাম দিলাম। কিন্তু তিনি আমার সালামের জবাব দিলেন না। তখন আমি বললাম, “আবূ কাতাদা, আমি তোমার আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি, তুমি কি জানো যে, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসি? অতঃপর তিনি চুপ থাকেন। আমি তাকে আবার বললাম, “আবূ কাতাদা, আমি তোমার আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি, তুমি কি জানো যে, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসি? অতঃপর তিনি চুপ থাকেন। আমি তাকে পুনরায় বললাম, “আবূ কাতাদা, আমি তোমার আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি, তুমি কি জানো যে, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসি? তখন তিনি বলেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভাল জানেন।” তখন আমি নিজেকে সংবরণ করতে পারলাম না। ফলে আমি কেঁদে ফেললাম। তারপর আমি বাগান থেকে বের হয়ে আসি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করার পর যখন ৫০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলো, তখন আমি আমাদের ঘরের ছাদে ফজরের সালাত আদায় করছিলাম, এসময় আমি সেই বাড়িতে ছিলাম, যে ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন যে, জমিন প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও, তা আমাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিলো, আমাদের নিজেদের জীবন আমাদের উপর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিলো! এসময় আমি আমি সাল‘ পাহাড়ের চূড়া থেকে আওয়াজ শুনতে পেলাম, “কা‘ব বিন মালিক, শুভ সংবাদ গ্রহণ করুন।” তখন আমি সাজদায় লুটিয়ে পড়লাম। আমি বুঝতে পারলাম যে, মহান আল্লাহ আমাদের বিপদমুক্তি নিয়ে এসেছেন। তারপর এক ব্যক্তি আমাকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য ঘোড়ায় পদাঘাত করে আরোহন করে আসেন। তার আওয়াজ ঘোড়ার চেয়ে দ্রুত গতির ছিল। আমাকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য আমি তাকে আমার জামা দিয়ে দেই। আর আমি অন্য দুটি জামা পরিধান করি। আমাদের তাওবার বিষয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার সময় অবতীর্ণ হয়। তখন উম্মু সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমরা কি কা‘ব বিন মালিককে সুসংবাদ দিব না?” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তাহলে লোকজন তোমাদের কাছে এসে ভীড় জমাবে এবং সারা রাত তোমাদের ঘুমাতে দিবে না।” কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “উম্মু সালামাহ আমার সাথে ভাল আচরণ করেন। তিনি আমার ব্যাপারে আমাকে খবর জানান। তারপর আমি আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যাই, অতঃপর আমি তাঁকে মাসজিদে বসা অবস্থায় দেখতে পাই। তাঁর পাশে মুসলিমগণ ছিলেন। এসময় তিনি চাদের ন্যায় আলোকোজ্জ্বল ছিলেন। যখন তাঁর কাছে কোন খুশির কিছু ঘটতো, তখন তিনি নূরান্বিত হয়ে যেতেন। আমি এসে তাঁর সামনে বসলাম। তখন তিনি বলেন, “হে কা‘ব বিন মালিক, তোমার মা যেদিন তোমাকে জন্ম দিয়েছেন, সেদিন থেকে অদ্যবধি শ্রেষ্ঠ দিনের শুভ সংবাদ গ্রহণ করো, যেই শুভদিন তোমার কাছে এসেছে!” কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি বললাম, হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এটা কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নাকি আপনার পক্ষ থেকে?” জবাবে তিনি বলেন, “বরং এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে। তারপর তিনি এই আয়াত পাঠ করে শুনান, لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ ...هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ “অবশ্যই আল্লাহ নাবী, মুহাজির ও আনসারদের তাওবা কবূল করেছেন... তিনি তাওবা কবূলকারী ও সবিশেষ করুনাময়।” (সূরা আত তাওবাহ: ১১৭-১১৮) তিনি বলেন, “আমাদের ব্যাপারে এই আয়াতটিও অবতীর্ণ হয়, اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো।” (সূরা আত তাওবাহ: ১১৯) তিনি বলেন, “আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এটা আমার তাওবার অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, আমি কেবল সত্য কথাই বলবো এবং আমি আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে সাদাকাহ করবো।” তখন তিনি বলেন, “তুমি তোমার কিছু সম্পদ রেখে দাও। এটা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে।” তিনি বলেন, “আমি বললাম, আমি আমার খায়বারের অংশ রেখে দিবো।” তিনি আরো বলেন, “ইসলাম গ্রহণের পর আল্লাহ আমাকে যত নি'আমত দান করেছেন, তন্মধ্যে আমার মনে সবচেয়ে বড় নি'আমত ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সত্য বলা, যখন আমি ও আমার দুই সঙ্গী সত্য কথা বলেছিলাম। আমরা মিথ্যা বলি নাই, অন্যথায় আমরা ধ্বংস হয়ে যেতাম, যেভাবে ওরা ধ্বংস হয়ে গেছে! তারপর আমি ইচ্ছাকৃতভাবে আর কখনই মিথ্যা কথা বলি নাই। আর আমি আশাবাদী যে, মহান আল্লাহ আমাকে বাকী দিনগুলোতেও হিফাযত করবেন।” ইমাম যুহরী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কা‘ব বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের কাছে এই হাদীসটিই পৌঁছেছে।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৯৭৪৪; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৩৮৭; তিরমিযী: ৩১০২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১৪/৫৪০-৫৪৫; তিরমিযী: ৩১০২; সহীহুল বুখারী: ৪৪১৮; সহীহ মুসলিম: ২৭৬৯; আবূ দাউদ: ৩৩২০; ইবনু মাজাহ: ১৩৯৩; আদাবুল মুফরাদ: ৯৪৪; সহীহ মুসলিম: ৭১৬; নাসাঈ: ২/৫৩-৫৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২৪২; তাবারানী: ১৯/৯৬; সুনান বাইহাকী: ৪/১৮১; বাগাবী: ১৬৭৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৩১২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 231 - 232/ 473)، «تخريج فقه السيرة» (48)، «صحيح الأدب المفرد» (739)، «صحيح أبي داود» (1312 و 2370): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح
3371 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ الْكَلَاعِيُّ، [ص:165] بِحِمْصَ، قَالَ: حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ السَّائِبِ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ جَدَّهُ أَبَا لُبَابَةَ، حِينَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي تَخَلُّفِهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَفِيمَا كَانَ سَلَفَ قَبْلَ ذَلِكَ فِي أُمُورٍ وَجَدَ عَلَيْهِ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَهْجُرُ دَارِيَ الَّتِي أَصَبْتُ فِيهَا الذَّنْبَ، وَأَنْتَقِلُ إِلَيْكَ وَأُسَاكِنُكَ، وَإِنِّي أَنْخَلِعُ مِنْ مَالِي كُلِّهِ صَدَقَةً إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُجْزِئُكَ مِنْ ذَلِكَ الثُّلُثُ»
رقم طبعة با وزير = (3360)
হুসাইন বিন সাইব বিন আবূ লুবাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তার দাদার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে পিছে থাকা ও ইতিপূর্বে তার যেসব কাজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মনে কষ্ট পান, অতঃপর যখন মহান আল্লাহ তার তাওবা কবূল করেন, তখন তিনি বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি আমার এই ঘর ত্যাগ করবো, যেখানে আমার এই পাপ সংঘটিত হয়েছে এবং আমি আপনার কাছে এসে বসবাস করবো। আমি আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে দান করতে চাই।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, “এক্ষেত্রে তোমার জন্য এক-তৃতীয়াংশ সম্পদই যথেষ্ট।”[1]
[1] সুনান বাইহাকী: ৪/১৮১; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৫২-৪৫৩; ইমাম বুখারী, আত তারীখুল কাবীর: ২/৩৮৫; তাবারানী: ৪৫০৯; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৪৮১; দারেমী: ১/৩৯০; আবূ দাঊদ: ৩৩২০। হাদীসটির ব্যাপারে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। (তাখরীজুল মিশকাত: ৩৪৩৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف والمحفوظ أنَّ صاحب القصة كعب بن مالك - «تخريج المشكاة» (3439).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null