সহীহ ইবনু হিব্বান
3572 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَصُومُ الْمَرْأَةُ وَبَعْلُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3564)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন নারীর জন্য বৈধ নয়, তার স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া সিয়াম রাখা।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৮৮৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩১৬; সহীহ মুসলিম: ১০২৬; আবূ দাঊদ: ২৪৫৮; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯২; বাগাবী: ১৬৯৪; সহীহুল বুখারী: ৫১৯২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২১২১)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2121): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
3573 - أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ، بِطَرْطُوسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى الْبَلْخِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَصُومَنَّ امْرَأَةٌ [ص:340] يَوْمًا سِوَى شَهْرِ رَمَضَانَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3565)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন নারী –রমযান মাস ছাড়া- একদিনও তার স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া সিয়াম রাখবে না।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/২৪৫; হুমাইদী: ১০১৬; দারেমী: ২/১২; হাকিম: ৪/১৭৩; তিরমিযী: ৭৮২; ইবনু মাজাহ: ১৭৬১; সহীহুল বুখারী: ৫১৯৫; বাগাবী: ১৬৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৭/৬৩-৬৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «الإرواء» (7/ 63 - 64).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي
3574 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُوَاصِلُوا»، قَالُوا: فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «إِنِّي لَسْتُ كَأَحَدِكُمْ، إِنَّ رَبِّي يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِي»
رقم طبعة با وزير = (3566)
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সাওমে বিসাল (একবার সাহারী খেয়ে তারপর ইফতার ও সাহারী না খেয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কয়েকদিন সিয়াম রাখা) পালন করবে না।” সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যে সাওমে বিসাল পালন করেন?” তিনি জবাবে বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতো নই। নিশ্চয়ই আমার প্রভু আমাকে খাওয়ান এবং পান করান।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৩৫; তিরমিযী: ৭৭৮; আবূ ইয়ালা: ২৮৭৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৮২; সহীহুল বুখারী: ৭২৪১; সহীহ মুসলিম: ১১০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৭০; সুনান বাইহাকী: ৪/২৮২; বাগাবী: ১৭৩৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৬৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
3575 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ مُحَمَّدٌ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ [ص:342] إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا تُوَاصِلُوا»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّكَ تُوَاصِلُ، فَقَالَ: «إِنِّي لَسْتُ مِثْلَكُمْ، إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِي»، فَلَمْ يَنْتَهُوا عَنِ الْوِصَالِ، فَوَاصَلَ بِهِمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَيْنِ وَلَيْلَتَيْنِ، ثُمَّ رَأَوَا الْهِلَالَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ تَأَخَّرَ الْهِلَالُ لَزِدْتُكُمْ»، كَالْمُنَكِّلِ لَهُمْ
رقم طبعة با وزير = (3567)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সাওমে বিসাল (একবার সাহারী খেয়ে তারপর ইফতার ও সাহারী না খেয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কয়েকদিন সিয়াম রাখা) পালন করবে না।” সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যে সাওমে বিসাল পালন করেন?” তিনি জবাবে বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতো নই। নিশ্চয়ই আমি ঘুমাই আর আমার প্রভু আমাকে খাওয়ান এবং পান করান।” তারপরেও তারা সাওমে বিসাল থেকে বিরত না থাকলে, তিনি তাদেরকে নিয়ে দুই দিন দুই রাত বিসাল সাওম পালন করেন। তারপর তারা নতুন চাঁদ দেখেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যদি নতুন চাঁদ আরো দেরিতে উদিত হতো, তবে আমি তোমাদের নিয়ে এভাবে বিসাল সাওম পালন করতেই থাকতাম।” যেন তিনি তাদেরকে শাস্তি দিতে চেয়েছিলেন।” [1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৮২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৭৫৩; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৮১; সহীহুল বুখারী: ৭২৯৯; মুসনাদ আহমাদ: ২/৫১৬; দারেমী: ২/৮; সহীহ মুসলিম: ১১০৩; সুনান বাইহাকী: ৪/২৮২; বাগাবী: ১৭৩৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৭১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৬৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
3576 - أَخْبَرَنَا الْبُجَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، [ص:343] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِيَّاكُمْ وَالْوِصَالَ، إِيَّاكُمْ وَالْوِصَالَ»، قَالُوا: فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ: «إِنِّي لَسْتُ فِي ذَلِكَ مِثْلَكُمْ، إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِي، فَاكْلَفُوا مِنَ الْعَمَلِ مَا لَكُمْ بِهِ طَاقَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3568)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সাওমে বিসাল পালন করা থেকে বিরত থাকবে।” সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যে সাওমে বিসাল পালন করেন?” তিনি জবাবে বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতো নই। নিশ্চয়ই আমি ঘুমাই আর আমার প্রভু আমাকে খাওয়ান এবং পান করান। কাজেই তোমরা তোমাদের সাধ্যমত কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করো।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৩০১; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৩৭; দারেমী: ২/৭-৮; বাগাবী: ১৭৩৭; হুমাইদী: ১০০৯; সহীহ মুসলিম: ১১০৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৬৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৬৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3577 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي حَيْوَةُ، وَعُمَرُ بْنُ مَالِكٍ، وَذَكَرَ، عُمَرُ آخَرَ مَعَهُمَا، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى عَنِ الْوِصَالِ، فَقِيلَ لَهُ: فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ، قَالَ: «لَسْتُمْ كَهَيْئَتِي، إِنِّي أَبِيتُ لِيَ مُطْعِمٌ يُطْعِمُنِي وَسَاقٍ يَسْقِيَنِي، فَأَيُّكُمْ وَاصَلَ فَمِنْ سَحَرٍ إِلَى سَحَرٍ»
رقم طبعة با وزير = (3569)
আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাওমে বিসাল করতে নিষেধ করেছেন। তখন তাঁকে বলা হয়, “আপনি যে সাওমে বিসাল পালন করেন?” তিনি জবাবে বলেন, “নিশ্চয়ই তোমরা আমার মতো নই। নিশ্চয়ই আমি ঘুমাই আর তখন আমার জন্য একজন পানাহার দানকারী থাকেন, তিনি আমাকে পানাহার করান। কাজেই তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি সাওমে বিসাল পালন করতে চায়, সে যেন এক সাহারী থেকে আরেক সাহারী পর্যন্ত বিসাল করে।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৭৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৮; দারেমী: ২/৮; সহীহুল বুখারী: ১৯৬৩; আবূ দাঊদ: ২৩৬১; সুনান বাইহাকী: ২/২৮২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৭৫৫; আবূ ইয়ালা: ১১৩৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০৪৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2044): خ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري
3578 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ قَزَعَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا وِصَالَ فِي الصِّيَامِ»
رقم طبعة با وزير = (3570)
আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সাওমে কোন বিসাল নেই।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৬২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৮৯৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2894).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي
3579 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، [ص:345] عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا تُوَاصِلُوا»، قَالُوا: إِنَّكَ تُوَاصِلُ، قَالَ: «إِنِّي لَسْتُ كَأَحَدِكُمْ، إِنِّي أُطْعَمُ وَأُسْقَى»
رقم طبعة با وزير = (3571) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: هَذَا الْخَبَرُ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ الْأَخْبَارَ الَّتِي فِيهَا ذِكْرُ وَضْعِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَجَرَ عَلَى بَطْنِهِ هِيَ كُلُّهَا أَبَاطِيلُ، وَإِنَّمَا مَعْنَاهَا الْحُجَزُ لَا الْحَجَرُ، وَالْحُجَزُ طَرَفُ الْإِزَارِ، إِذِ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا كَانَ يُطْعِمُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَسْقِيهِ إِذَا وَاصَلَ فَكَيْفَ يَتْرُكُهُ جَائِعًا مَعَ عَدَمِ الْوِصَالِ حَتَّى يَحْتَاجَ إِلَى شَدِّ حَجَرٍ عَلَى بَطْنِهِ، وَمَا يُغْنِي الْحَجَرُ عَنِ الْجُوعِ؟ *
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সাওমে বিসাল (একবার সাহারী খেয়ে তারপর ইফতার ও সাহারী না খেয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কয়েকদিন সিয়াম রাখা) পালন করবে না।” সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যে সাওমে বিসাল পালন করেন?” তিনি জবাবে বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতো নই। নিশ্চয়ই আমাকে খাওয়ানো হয় এবং পান করানো হয়।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীস প্রমাণ করে যে, যেসব হাদীসে বলা হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেটে পাথর বেঁধেছিলেন- এসবগুলোই বাতিল। বস্তুত সেসব হাদীসের অর্থ হবে الحُجَزُ ; الحَجَر নয়। الحُجَزُ অর্থ লুঙ্গির পার্শ্ব। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাওমে বিসাল করতেন, তখন আল্লাহ তাঁকে পানাহার করাতেন। কাজেই সাওমে বিসাল না করার সময় কিভাবে তাঁকে এমন ক্ষুধার্ত রাখবেন যে, তিনি পেটে পাথর বাঁধবেন? আর ক্ষুধায় পাথর কী-ই-বা উপকার করবে?”[2]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৩৫; তিরমিযী: ৭৭৮; আবূ ইয়ালা: ২৮৭৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৮২; সহীহুল বুখারী: ৭২৪১; সহীহ মুসলিম: ১১০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৭০; সুনান বাইহাকী: ৪/২৮২; বাগাবী: ১৭৩৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৬৬)
[2] বিদ্বানগণ ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহর এই মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারী: ৪/২০৮। -অনুবাদক
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - مكرر (3566). * [قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: هَذَا الْخَبَرُ ... عَنِ الْجُوعِ؟ ] قال النَّاشِر: أشار الشيخ - رحمه الله - في هامش الأصل إلى لزوم التعليق على كلام أبي حاتم - رحمه الله - هذا؛ لكنَّهُ - رحمه الله - لم يُسْعِفْهُ الوقت لذلك. وانظر كلام الحافظ ابن حجر في «الفتح» حول هذا. تنبيه!! رقم (3566) = (3574) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري
3580 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْخَلِيلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «مَا صَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَهْرًا قَطُّ كَامِلًا إِلَّا رَمَضَانَ، وَلَا أَفْطَرَ شَهْرًا كَامِلًا قَطُّ، وَمَا كَانَ يَصُومُ شَهْرًا أَكْثَرَ مِمَّا كَانَ يَصُومُ فِي شَعْبَانَ»
رقم طبعة با وزير = (3572)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম –রমযান মাস ছাড়া- কোন মাস পুরো সিয়াম রাখেননি এবং কোন মাস পুরোপুরি সিয়াম ভঙ্গ করেননি। তিনি সবচেয়ে বেশি সিয়াম রেখেছেন শা‘বান মাসে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/২১৮; সহীহ মুসলিম: ১১৫৬; নাসাঈ: ৪/১৫২; তিরমিযী: ৭৬৮; আত তায়ালিসী: ১৪৯৭; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৭৭; সুনান বাইহাকী: ৪/২৯২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৭২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3581 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَامَ الْأَبَدَ فَلَا صَامَ وَلَا أَفْطَرَ»
رقم طبعة با وزير = (3573)
আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সবসময় সিয়াম রাখে, সে সিয়াম রাখেনি এবং সিয়াম ছাড়েওনি।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/১৯৮; নাসাঈ: ৪/২০৬; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৮৬৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭৮; সহীহুল বুখারী: ১৯৭৭; সহীহ মুসলিম: ১১৫৯; ইবনু মাজাহ: ১৭০৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৮৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (2/ 88): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري
3582 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِيلَ لَهُ: إِنَّ فُلَانًا لَا يُفْطِرُ نَهَارَ الدَّهْرِ إِلَّا لَيْلًا، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا صَامَ وَلَا أَفْطَرَ»
رقم طبعة با وزير = (3574) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: فِي هَذَا الْخَبَرِ كَالدَّلِيلِ عَلَى أَنَّ اللَّفْظَةَ الَّتِي فِي خَبَرِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو: «مَنْ صَامَ الْأَبَدَ فَلَا صَامَ وَلَا أَفْطَرَ»، أَرَادَ بِهِ الْأَبَدَ وَفِيهِ الْأَيَّامُ الَّتِي نُهِيَ عَنْهَا عَنْ صِيَامِهَا، مِثْلُ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ وَالْعِيدَيْنِ
ইমরান বিন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হয়, “ওমুক ব্যক্তি সারা বছর রাত ছাড়া দিনে সিয়াম ছাড়েন না।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সে সিয়াম রাখেনি এবং ছাড়েওনি।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে যেন এই মর্মে দলীল রয়েছে, আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীসের শব্দে যা বর্ণিত হয়েছে “যে ব্যক্তি সবসময় সিয়াম রাখে, সে সিয়াম রাখেনি এবং সিয়াম ছাড়েওনি” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘সবসময়’। এর মাঝে সেসব দিনগুলোও অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোতে সিয়াম রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। যেমন: আইয়ামে তাশরীক ও দুই ঈদের দিন।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪২৬; নাসাঈ: ৪/২০৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১৫১; হাকিম: ১/৪৩৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৮৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق» -أيضا-.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3583 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي [ص:349] شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَامَ الْأَبَدَ فَلَا صَامَ وَلَا أَفْطَرَ»
رقم طبعة با وزير = (3575) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَامَ الْأَبَدَ فَلَا صَامَ وَلَا أَفْطَرَ»، يُرِيدُ بِهِ: مَنْ صَامَ الْأَبَدَ وَفِيهِ الْأَيَّامُ الَّتِي نُهِيَ عَنْ صِيَامِهَا مِثْلُ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ مِنَ الْعِيدَيْنِ فَلَا صَامَ وَلَا أَفْطَرَ، يُرِيدُ بِهِ: فَلَا صَامَ الدَّهْرَ كُلَّهُ فَيُؤْجَرَ عَلَيْهِ مِنْ غَيْرِ مُفَارَقَتِهِ الْإِثْمَ الَّذِي ارْتَكَبَهُ بِصَوْمِ الْأَيَّامِ الَّتِي نُهِيَ عَنْ صِيَامِهَا، وَلِهَذَا قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَامَ الدَّهْرَ ضُيِّقَ عَلَيْهِ جَهَنَّمُ هَكَذَا» وَعَقَدَ عَلَيْهِ تِسْعِينَ، يُرِيدُ بِهِ: ضُيِّقَ عَلَيْهِ جَهَنَّمُ بِصَوْمِهِ الْأَيَّامَ الَّتِي نُهِيَ عَنْ صِيَامِهَا فِي دَهْرِهِ
আব্দুল্লাহ বিন শিখখীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সবসময় সিয়াম রাখে, সে সিয়াম রাখেনি এবং সিয়াম ছাড়েওনি।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বার রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “যে ব্যক্তি সবসময় সিয়াম রাখে, সে সিয়াম রাখেনি এবং সিয়াম ছাড়েওনি” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে ব্যক্তি সবমসময় সিয়াম রাখে। এর মাঝে সেসব দিনগুলোও অন্তর্ভুক্ত, যাতে সিয়াম পালন করা নিষেধ। যেমন: আইয়ামে তাশরীক ও ঈদের দিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “সে সিয়াম রাখেনি এবং সিয়াম ছাড়েওনি” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে এমনভাবে হামেশায় সিয়াম রাখেনি যে, তাকে সাওয়াব দেওয়া হবে। কেননা সে নিষিদ্ধ দিনে সিয়াম পালনের গোনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করেনি। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সবসময় সিয়াম রাখে, তার উপর জাহান্নামকে এভাবে সংকুচিত করে দেওয়া হবে।” এই তিনি আঙ্গুলিসমূহকে ৯০ গিরা দেন। নিষিদ্ধ দিনগুলিতে সিয়াম রাখার কারণে জাহান্নামকে তার উপর সংকুচিত করে দেওয়া হবে।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/১৯৮; নাসাঈ: ৪/২০৬; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৮৬৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭৮; সহীহুল বুখারী: ১৯৭৭; সহীহ মুসলিম: ১১৫৯; ইবনু মাজাহ: ১৭০৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৮৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق» -أيضا-.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3584 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْحَوْضِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ صَامَ الدَّهْرَ ضُيِّقَتْ عَلَيْهِ جَهَنَّمُ هَكَذَا» وَعَقَدَ تِسْعِينَ، [ص:350] أَخْبَرَنَاهُ الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ مَرَّةً أُخْرَى، قَالَ: وَضَمَّ عَلَى تِسْعِينَ
رقم طبعة با وزير = (3576) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: الْقَصْدُ فِي هَذَا الْخَبَرِ صَوْمُ الدَّهْرِ الَّذِي فِيهِ أَيَّامُ التَّشْرِيقِ وَالْعِيدَيْنِ، وَأَوْقَعَ التَّغْلِيظَ عَلَى مَنْ صَامَ الدَّهْرَ مِنْ أَجْلِ صَوْمِهِ الْأَيَّامَ الَّتِي نُهِيَ عَنْ صِيَامِهَا، لَا أَنَّهُ إِذَا صَامَ الدَّهْرَ وَقَوِيَ عَلَيْهِ مِنْ غَيْرِ الْأَيَّامِ الَّتِي نُهِيَ عَنْ صِيَامِهَا يُعَذَّبُ فِي الْقِيَامَةِ، وَأَبُو تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيُّ اسْمُهُ: طَرِيفُ بْنُ مُجَالِدٍ بَصْرِيٌ مَاتَ سَنَةَ خَمْسٍ وَتِسْعِينَ
আবূ মুসা আল আশআরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সবসময় সিয়াম রাখে, তার উপর জাহান্নামকে এভাবে সংকুচিত করে দেওয়া হবে।” এই বলে তিনি হাতের আঙ্গুলসমূহকে ৯০ গিরা দেন।”[1]
আমাদেরকে ফাযল বিন হুবাব আরেকবার এভাবে বর্ণনা করেছেন… তিনি বলেন, “আর এই বলে তিনি ৯০ এর উপর গিরা বাঁধেন।” আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সারা বছর সিয়াম রাখা। এর মাঝে আইয়ামে তাশরীক ও ঈদের সালাতও রয়েছে। কঠোর বার্তা তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে, নিষিদ্ধ দিনেও সিয়াম রাখে; এর দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নয় যে, যে সারা বছর সিয়াম রাখে, এবং সে সারা বছর সিয়াম রাখার জন্য সে যথেষ্ট শক্তিশালী, এক্ষেত্রে সে নিষিদ্ধ দিনগুলোতে সিয়াম রাখা ছেড়ে দিয়েছে- এমন নয় যে, এই অবস্থায় তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।” হাদীসের রাবী, আবূ তামীমাহ আল জুহানীর নাম তারিফ বিন মুজালিদ। তিনি বসরার অধিবাসী্। তিনি ৯৫ হিজরী সনে মারা যান।”
[1] আত তায়ালিসী: ৫১৪; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪১৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭৮; বাযযার: ১০৪১; সুনান বাইহাকী: ৪/৩০০; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১৫৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৮৬৬; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৩/১৯৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৩২০২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (3202).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح
3585 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدَيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ فَأُتِيَ بِشَاةٍ مَصْلِيَّةٍ، فَقَالَ: كُلُوا، فَتَنَحَّى بَعْضُ الْقَوْمِ، وَقَالَ: إِنِّي صَائِمٌ، فَقَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ: «مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»
رقم طبعة با وزير = (3577)
সিলাহ বিন যুফার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা আম্মার বিন ইয়াসির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে ছিলাম, অতঃপর তার কাছে একটি ভুনা করা মেষের গোসত আনা হয়। তখন তিনি বলেন, “তোমরা খাও।” এই সময় এক ব্যক্তি দুরে সরে যায় এবং বলেন, “আমি সিয়াম রেখেছি।” তখন আম্মার বিন ইয়াসির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যে ব্যক্তি সন্দেহের দিনে সিয়াম রাখে, সে আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাফরমানী করলো।”[1]
[1] দারেমী: ২/২; তিরমিযী: ৬৮৬; নাসাঈ: ৪/১৫৩; তাহাবী: ২/১১১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৯১৪; দারাকুতনী: ২/১৫৭; হাকিম: ১/৪২৩-৪২৪; সুনান বাইহাকী: ৪/২০৮; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৭২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৩১৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০২২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2022).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح
3586 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، [ص:353] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقَدَّمُوا صِيَامَ شَهْرِ رَمَضَانَ بِصِيَامِ يَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ، إِلَّا رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صِيَامًا فَلْيَصُمْهُ»
رقم طبعة با وزير = (3578)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা রমযানের একদিন বা দুইদিন আগে সিয়াম পালন করবে না। তবে যে ব্যক্তি নিয়মিত সিয়াম পালন করে (আর তার নিয়মিত পালনীয় সিয়ামটি ঐ দিন হয়ে যায়, তবে), সে যেন তা পালন করে।”[1]
[1] ইবনু মাজাহ: ১৬৫০; নাসাঈ: ৪/১৪৯; মুসনাদ ইমাম শাফেঈ: ১/২৭৫; বাগাবী: ১৭১৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৩১৫; আত তায়ালিসী: ২৩১৬; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২৩; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৩৪; দারেমী: ২/৪; সহীহুল বুখারী: ১৯১৪; সহীহ মুসলিম: ১০৮২; তিরমিযী: ৬৮৫; তাহাবী: ২/৮৪; ইবনুল জারুদ: ৩৭৮; সুনান বাইহাকী: ৪/২০৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০২৩)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2023): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري
3587 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، [ص:354] عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ أَوْ لِرَجُلٍ: «أَصُمْتَ مِنْ سَرَرِ هَذَا الشَّهْرِ شَيْئًا؟ »، قَالَ: لَا، قَالَ: «فَإِذَا أَفْطَرْتَ فَصُمْ يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ»
رقم طبعة با وزير = (3579)
ইমরান বিন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে অথবা অন্য এক ব্যক্তিকে বলেছেন, “তুমি কি এই মাসের শেষের দিকে কোন সিয়াম রেখেছো?” সে ব্যক্তি জবাবে বলেন, “জ্বী, না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যখন তুমি (কোন মাসে) সিয়াম না রাখবে, তখন (অন্তত) এক, দুইদিন সিয়াম রাখবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪২৮; দারেমী: ২/১৮; সহীহুল বুখারী: ১৯৮৩; সহীহ মুসলিম: ১১৬১; আবূ দাঊদ: ২৩২৮; সুনান বাইহাকী: ৪/২১০; খাত্তাবী, মাআলিমুস সুনান: ২/৯৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০১৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2016): ق
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3588 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ أوَ لِرَجُلٍ أَصُمْتَ مِنْ سَرَرِ شَعْبَانَ شَيْئًا قَالَ لَا قَالَ: فَإِذَا أَفْطَرْتَ فَصُمْ يَوْمَيْنِ.
رقم طبعة با وزير = (3580) [ص:355] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم أَصُمْتَ مِنْ سَرَرِ هَذَا الشَّهْرِ لَفْظَةُ اسْتِخْبَارٍ عَنْ فَعَلٍ مُرَادُهَا الإِعْلامَ بِنَفِيِ جَوَازِ اسْتِعْمَالِ ذَلِكَ الْفِعْلِ الْمُسْتَخْبَرِ عَنْهُ كَالْمُنْكِرِ عَلَيْهِ لَوْ فَعَلَهُ وَهَذَا كَقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم لِعَائِشَةَ أَتَسْتُرِينَ الْجِدَارَ أَرَادَ بِهِ الإِنْكَارِ عَلَيْهَا بِلَفْظِ الاسْتِخْبَارِ وَأَمَرَهُ صلى الله عليه وسلم بِصَوْمِ يَوْمَيْنِ مِنْ شَوَّالٍ أَرَادَ بِهِ أَنَّهَا السِّرَارُ وَذَلِكَ أَنَّ الشَّهْرَ إِذَا كَانَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ يَسْتَتِرُ الْقَمَرُ يَوْمًا وَاحِدًا وَإِذَا كَانَ الشَّهْرُ ثَلاثِينَ يَسْتَتِرُ الْقَمَرُ يَوْمَيْنِ وَالُوَقْتُ الَّذِي خَاطَبَ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْخِطَابِ يُشْبِهُ أَنْ يَكُونَ عَدَدُ شَعْبَانَ كَانَ ثَلاثِينَ مِنْ أَجْلِهِ أَمَرَ بِصَوْمِ يَوْمَيْنِ مِنْ شَوَّالٍ.
ইমরান বিন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে অথবা অন্য এক ব্যক্তিকে বলেছেন, “তুমি কি এই মাসের শেষের দিকে কোন সিয়াম রেখেছো?” সে ব্যক্তি জবাবে বলেন, “জ্বী, না।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যখন তুমি (কোন মাসে) সিয়াম না রাখবে, তখন (অন্তত) এক, দুইদিন সিয়াম রাখবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তুমি কি এই মাসের শেষের দিকে কোন সিয়াম রেখেছো?” এখানে একটি কাজ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এই ধরণের কাজ সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে দেওয়া। যেন বিষয়টি এমন যে, যদি সে ব্যক্তি এমন করতো, তবে তিনি ইনকার (অগ্রাহ্য করা) করতেন। এটা ঐ কথার মতোই, যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বলেছিলেন, “তুমি কি দেয়ালের সাথে পর্দা করো?” এখানে তিনি প্রশ্ন করার দ্বারা উদ্দেশ্য সেই কাজ ইনকার করা। তিনি সেই ব্যক্তিকে তাকে শা‘বান মাসে দুই দিন সিয়াম রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মাসের শেষের দিকে। কারণ মাস যখন ২৯ দিনে হয়, তখন চন্দ্র একদিন লুকায়িত থাকে। আর মাস যখন ৩০ দিনে হয়, তখন চন্দ্র দুইদিন লুকায়িত থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে যেই সময়ে এই কথা বলেছিলেন, খুব সম্ভব সেই মাস ৩০ দিনের ছিল। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দুইদিন সিয়াম রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪২৮; দারেমী: ২/১৮; সহীহুল বুখারী: ১৯৮৩; সহীহ মুসলিম: ১১৬১; আবূ দাঊদ: ২৩২৮; সুনান বাইহাকী: ৪/২১০; খাত্তাবী, মাআলিমুস সুনান: ২/৯৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০১৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مكرر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم
3589 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا [ص:356] يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ حَبِيبِ بْنِ نُدْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا كَانَ النِّصْفُ مِنْ شَعْبَانَ، فَأَفْطِرُوا حَتَّى يَجِيءَ رَمَضَانُ»
رقم طبعة با وزير = (3581)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন শা‘বানের অর্ধ মাস এসে যায়, তখন তোমরা রমযান না পর্যন্ত সিয়াম রাখা ছেড়ে দিবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৪২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৩২৫; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২১; দারেমী: ২/১৭; আবূ দাঊদ: ২৩৩৭; ইবনু মাজাহ: ১৬৫১; তিরমিযী: ৭৩৮; সুনান বাইহাকী: ৪/২০৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০২৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2025)، «المشكاة» (1974).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح
3590 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّكَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عِكْرِمَةَ فِي الْيَوْمِ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ مِنْ رَمَضَانَ وَهُوَ يَأْكُلُ، فَقَالَ: ادْنُ فَكُلْ، قُلْتُ: إِنِّي صَائِمٌ، فَقَالَ: وَاللَّهِ لَتَدْنُوَنَّ، قُلْتُ: فَحَدِّثْنِي، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ، أَنَّ [ص:357] رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا تَسْتَقْبِلُوا الشَّهْرَ اسْتِقْبَالًا، صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ، وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، فَإِنْ حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ غَبَرَةُ سَحَابٍ، أَوْ قَتَرَةٌ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثَلَاثِينَ»
رقم طبعة با وزير = (3582)
সিমাক বিন হারব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি ইকরামার কাছে যাই, এমন দিনে যেদিন রমযান হওয়া সন্দেহপূর্ণ ছিল। এসময় তিনি খাবার গ্রহণ করছিলেন। তখন তিনি বলেন, “কাছে আসো এবং খাবার খাও।” আমি বললাম, “আমি সিয়াম রেখেছি।” তখন তিনি বলেন, “আল্লাহর কসম, অবশ্যই তুমি কাছে আসবে।” আমি বললাম, “আমাকে হাদীস বলুন।” তখন তিনি বলেন, “আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা (রমযান) মাসকে আগেভাগেই গ্রহণ করে নিবে না (অর্থাৎ মাস শুরু হওয়ার আগেই সিয়াম রাখা শুরু করো না)। তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম রাখবে এবং চাঁদ দেখে সিয়াম রাখা বাদ দিবে। যদি চাঁদ ও তোমাদের মাঝে মেঘের ধূসরতা ও কালিমা অন্তরায় হয়, তবে তোমরা (শা‘বাস মাসকে) ৩০ দিন গণনা করবে।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৯১২; হাকিম: ১/৪২৪-৪২৫; মুসনাদ আহমাদ: ১/২২৬; দারেমী: ২/২; নাসাঈ: ৪/১৩৬; সুনান বাইহাকী: ৪/২০৭; বাগাবী: ১৭১৬; তাবারানী: ১১৭৫৫; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/২৮৭; মুসনাদ ইমাম শাফেঈ: ১/২৭৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৩০২; ইবনুল জারূদ: ৩৭৫; সহীহ মুসলিম: ১০৮৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০১৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2016).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن
3591 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا صَوْمَ بَعْدَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ حَتَّى يَجِيءَ شَهْرُ رَمَضَانَ»
رقم طبعة با وزير = (3583)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “অর্ধ শা‘বানের পর রমযান পর্যন্ত কোন সিয়াম নেই।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৪৪২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৩২৫; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/২১; দারেমী: ২/১৭; আবূ দাঊদ: ২৩৩৭; ইবনু মাজাহ: ১৬৫১; তিরমিযী: ৭৩৮; সুনান বাইহাকী: ৪/২০৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০২৫)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (3581). تنبيه!! رقم (3581) = (3589) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: Null