হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (401)


401 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زُهَيْرٍ بِالْأُبُلَّةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا نُوحُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ: كَانَتْ تُصَلِّي خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، امْرَأَةٌ حَسْنَاءُ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ، فَكَانَ بَعْضُ الْقَوْمِ يَتَقَدَّمُ فِي الصَّفِّ الْأَوَّلِ لِأَنْ لَا يَرَاهَا، وَيَسْتَأْخِرُ بَعْضُهُمْ حَتَّى يَكُونَ فِي الصَّفِّ الْمُؤَخَّرِ، فَكَانَ إِذَا رَكَعَ، نَظَرَ مِنْ تَحْتِ إِبْطِهِ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ فِي شَأْنِهَا: {وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِينَ} [الحجر: 24]. [3: 59]
رقم طبعة با وزير = (402)




আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে এক নারী সালাত আদায় করতেন, সে মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ সুন্দরীদের একজন ছিলেন। ফলে কিছু সাহাবী প্রথম কাঁতারে সালাত আদায় করতেন যাতে তাকে না দেখা যায় আবার কেউ কেউ পেছনের কাঁতারে দাঁড়াতেন এবং রুকু করার সময় বগলের নিচ দিয়ে তার দিকে তাকাতেন। সেই নারীর ব্যাপারে মহান আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন: “নিশ্চয়ই আমি জানি তোমাদের মধ্যে যারা অগ্রগামী এবং যারা পশ্চাৎগামী তাদের সম্পর্কে।”(সূরা আল হিজর: ২৪।)[1]

[1] আত তায়ালিসী: ২৭১২; সুনান বাইহাকী: ৩/৯৮; মুসনাদ আহমাদ: ১/৩০৫; তিরমিযী: ৩১২২; নাসাঈ: ২/১১৮; ইবনু মাজাহ: ১০৪৬; হাকিম: ২/৩৫৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৪৭২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2472).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، من أجل عمرو بن مالك -وهو النكري- فإنه صدوق له أوهام، وباقي رجاله على شرط مسلم. أبو الجوزاء: اسمه أوس بن عبد الله الربعي، روى له الجماعة.









সহীহ ইবনু হিব্বান (402)


402 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ*، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ يُكَفِّرُ الْخَطَايَا، وَيَزِيدُ فِي الْحَسَنَاتِ؟ » قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ أَوِ الطُّهُورِ فِي الْمَكَارِهِ، وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى هَذَا الْمَسْجِدِ، وَالصَّلَاةُ بَعْدَ الصَّلَاةِ [ص:128] وَمَا مِنْ أَحَدٍ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ مُتَطَهِّرًا حَتَّى يَأْتِيَ الْمَسْجِدَ، فَيُصَلِّي مَعَ الْمُسْلِمِينَ، أَوْ مَعَ الْإِمَامِ، ثُمَّ يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ الَّتِي بَعْدَهَا، إِلَّا، قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ فَإِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ، فَاعْدِلُوا صُفُوفَكُمْ، وَسُدُّوا الْفُرَجَ، فَإِذَا كَبَّرَ الْإِمَامُ، فَكَبِّرُوا، فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَائِي، وَإِذَا، قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، فَقُولُوا: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَخَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ الْمُقَدَّمُ، وَشَرُّ صُفُوفِ الرِّجَالِ الْمُؤَخَّرُ، وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ الْمُؤَخَّرُ، وَشَرُّ صُفُوفِ النِّسَاءِ الْمُقَدَّمُ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ، إِذَا سَجَدَ الرِّجَالُ، فَاحْفَظْنَ أَبْصَارَكُنَّ مِنْ عَوْرَاتِ الرِّجَالِ». [ص:129] فَقُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ: مَا يَعْنِي بِذَلِكَ؟، قَالَ: ضِيقُ الْأُزُرِ. [3: 66]
رقم طبعة با وزير = (403)




আবু সা‘ঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমি কি তোমাদের এমন জিনিসের সন্ধান দিব না, যা তোমাদের পাপসমূহ মোচন করে দিবে এবং সাওয়াব বৃদ্ধি করবে?” সাহাবীগণ বললেন: “জ্বী, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সেটি হলো কষ্টের সময় পরিপূর্ণভাবে ওযূ করা বা পবিত্রতা অর্জন করা, এই মসজিদে বেশি বেশি পদক্ষেপ ফেলে আসা, এক সালাতের পর আরেক সালাত আদায় করা। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পবিত্রতা অর্জন করে বাড়ি থেকে সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মুসলিমদের সাথে অথবা (বলেছেন) ইমামের সাথে সালাত আদায় করে তারপর পরবর্তী সালাতের জন্য অপেক্ষা করে, ফেরেস্তাগণ তার জন্য দু‘আ করেন এই বলে যে, “হে আল্লাহ, তুমি তাকে ক্ষমা করো, তার প্রতি রহম করো।” যখন তোমরা সালাতে দাঁড়াবে, তখন কাঁতার সোজা করবে, ফাঁকা জায়গা বন্ধ করবে। ইমাম যখন তাকবীর দিবে, তখন তোমরাও তাকবীর দিবে। কেননা আমি পেছন থেকে তোমাদের দেখতে পাই। ইমাম যখন ‘সামি‘আল্লাহুমান হামিদাহ’ বলবে, তখন বলবে ‘রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’।” পুরুষের জন্য উত্তম হলো সামনের কাঁতার, তাদের জন্য মন্দ কাতার হলো পেছনের কাঁতার। নারীদের জন্য উত্তম হলো পেছনের কাঁতার, তাদের জন্য মন্দ কাতার হলো সামনের কাঁতার। হে নারী সম্প্রদায়, যখন পুরুষেরা সাজদা করে, তখন তোমরা পুরুষদের লজ্জাস্থান দেখা থেকে নিজেদের দৃষ্টি হেফাযত করবে।” অধঃস্তন রাবী বলেন: “আমি আব্দুল্লাহ বিন আবী বকরকে বললাম, এর দ্বারা তিনি কী বুঝিয়েছেন?” জবাবে তিনি বলেন: “লুঙ্গির সংকীর্ণতা।”[1]

[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৭৭, ৩৫৭; হাকিম: ১/১৯১, ১৯২; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩; সুনানু বাইহাকী: ২/১৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/১৬১)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 161). * [ابْنُ خُزَيْمَةَ] قال الشيخ: أخرجه في «صحيحه» مُفرَّقاً في مواضعَ (1/ 90/ 177 و185/ 353 و 3/ 28/ 1562) لكن من طريق أبي موسى: حدثني الضحَّاك بن مخلد - أبو عاصم - به. ومن هذا وجهٌ آخر: أخرجه الحاكم (1/ 191 - 192)، وقال: «صحيح على شرط الشيخين»، ووافقه الذهبي. وأعلَّهُ ابنُ خزيمةَ بتفرُّد أبي عاصمٍ، ومُخالفتِه زهيرَ بنَ محمد! وهو إعلالٌ غريبٌ، فأبو عاصمٍ ثقةٌ ثبتٌ، كما في «التقريب»، وزهيرُ بنُ محمد - وهو أبو محمد الخُراسانيُّ - فيه كلامٌ معروفٌ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري، محمد بن عبد الرحيم من رجال البخاري، ومن فوقه من رجال الشيخين، أبو عاصم هو الضحاك بن مخلد. وسفيان: هو الثوري.









সহীহ ইবনু হিব্বান (403)


403 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ بِتُسْتُرَ، مِنْ كِتَابِهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ، [ص:130] عَنْ أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا كَرِهَ اللَّهُ مِنْكَ شَيْئًا، فَلَا تَفْعَلْهُ إِذَا خَلَوْتَ». [2: 3]
رقم طبعة با وزير = (404)




উসামা বিন শারীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তোমার থেকে যে কাজ করা অপছন্দ করেন, তা তুমি করবে না, যখন তুমি নির্জনে থাকো।”[1]

[1] হাদীসটি হাফেয জালালুদ্দিন আস সুয়ূতী রহিমাহুল্লাহ তার ‘আল জামি‘উল কাবীর’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসটিকে ইবনু হিব্বান ও আল বাওয়ারদীর দিকে সস্পর্কিত করেছেন এবং সেখানে য‘ঈফ ইঙ্গিত করা হয়েছে।” হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ য‘ঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১০৫৫।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن لغيره - «الصحيحة» (1055).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف، مؤمل بن إسماعيل سيئ الحفظ.









সহীহ ইবনু হিব্বান (404)


404 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ زِيَادِ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ أَبِي سَعِيدِ بْنِ أَبِي فَضَالَةَ الْأَنْصَارِيِّ، وَكَانَ مِنَ [ص:131] الصَّحَابَةِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ، نَادَى مُنَادٍ: مَنْ كَانَ أَشْرَكَ فِي عَمَلِهِ لِلَّهِ أَحَدًا، فَلْيَطْلُبْ ثَوَابَهُ مِنْ عِنْدِهِ، فَإِنَّ اللَّهَ أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ». [2: 109]
رقم طبعة با وزير = (405)




আবু সা‘ঈদ বিন আবু ফাযালাহ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “যখন আল্লাহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত লোককে কিয়ামতে এমন এক দিনে সমবেত করবেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে, “যে ব্যক্তি তার আমলে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেছে, সে যেন তার কাছে তার কর্মের সাওয়াব তালাশ করে। কেননা আল্লাহ শরীকদের শিরক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।”[1]

[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৬৬; তিরমিযী: ৩১৫৪; ইবনু মাজাহ: ৪২০৩; তাবারানী আল কাবীর: ২২/৭৭৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (মিশকাত: ৫৩১৮।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «المشكاة» (5318)، «التعليق الرغيب» (1/ 35).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، زياد بن ميناء ذكره المؤلف في "الثقات" 4/ 258، وروى عنه أكثر من واحد، وقال ابن المديني في حديثه هذا: سنده صالح. وباقي رجاله ثقات.









সহীহ ইবনু হিব্বান (405)


405 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدُّورِيُّ بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «بَشِّرْ هَذِهِ الْأُمَّةَ بِالنَّصْرِ وَالسَّنَاءِ وَالتَّمْكِينِ، فَمَنْ عَمِلَ مِنْهُمْ عَمَلَ الْآخِرَةِ لِلدُّنْيَا، لَمْ يَكُنْ لَهُ فِي الْآخِرَةِ نَصِيبٌ». [2: 109]
رقم طبعة با وزير = (406)




উবাই বিন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “এই উম্মতকে সাহায্য, ঔজ্জ্বল্য ও কর্তৃত্ব প্রাপ্তির শুভ সংবাদ দাও। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আখিরাতের আমল দুনিয়ার স্বার্থের জন্য করবে, আখেরাতে তার কোন অংশ থাকবে না।”[1]

[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪১৪৪; হাকিম: ৪/৩১১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (আহকামুল জানাইয: ৭০।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «أحكام الجنائز» (70)، «التعليق» - أيضا - (1/ 31) *. * قال الشيخ: اقتصر المعلِّق على «الإحسان» على قوله: «إسناد حسن، الربيع بنُ أنسٍ صدوق له أوهام»، وفاتَه أنه تابعَه أيُّوب عن أبي العالية، وأيوبُ هو السَّختياني الثقة. والغريبُ أنه قد ذكر في آخر تخريجِه هذه المتابعة، ولكن دون فائدةٍ! ويُستدركُ - أيضاً - عليه أنه أخرجَها البيهقيُّ في (الشُّعَبِ) (6835).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن. الربيع بن أنس هو البكري صدوق له أوهام، وباقي رجال السند ثقات، واسم أبي العالية: رُفيع بن مهران الرِّياحي، وهو ثقة أخرج حديثه الجماعة.









সহীহ ইবনু হিব্বান (406)


406 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْمُلَائِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ جُنْدُبًا، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا غَيْرَهُ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَدَنَوْتُ قَرِيبًا مِنْهُ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَمَّعَ يُسَمِّعُ اللَّهُ بِهِ، وَمَنْ رَاءَى يُرَائِي اللَّهُ بِهِ». [2: 109]
رقم طبعة با وزير = (407)




সালামা বিন কুহাইল রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। তিনি ছাড়া আমি কাউকেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন’ বলতে শুনিনি। এজন্য আমি জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছাকাছি হলাম। অতঃপর আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি খ্যাতি লাভের জন্য আমল করবে, আল্লাহ তাকে খ্যাতি দান করবেন, যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য আমল করবে, আল্লাহ তা লোক দেখানোর ব্যবস্থা করে দিবেন।” [1]

[1] সহীহ মুসলিম: ২৯৮৭; সহীহ আল বুখারী: ৬৪৯৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪১৩৪; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩১৩; ইবনু মাজাহ: ৪২০৭; হুমাইদী: ৭১৫২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাকুল হিসান: ৪০৭।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين، الملائي هو أبو نعيم الفضل بن دكين، وجندب هو ابن عبد الله البجلي رضي الله عنه.









সহীহ ইবনু হিব্বান (407)


407 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّغُولِيُّ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ أَبُو الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سُمَيْعٍ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَمَّعَ يُسَمِّعُ اللَّهُ بِهِ وَمَنْ رَاءَى يُرَائِي اللَّهُ بِهِ». [2: 109]
رقم طبعة با وزير = (408)




আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি খ্যাতি লাভের জন্য আমল করবে, আল্লাহ তাকে খ্যাতি দান করবেন, যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য আমল করবে, আল্লাহ তা লোক দেখানোর ব্যবস্থা করে দিবেন।”[1]

[1] সহীহ মুসলিম: ২৯৮৬; আবু নু‘আইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৪/৩০১; মুসনাদ আহমাদ: ২/১৬২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪১৩৮; তিরমিযী: ২৩৮১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৪০৮।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.









সহীহ ইবনু হিব্বান (408)


408 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي [ص:136] الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي الْوَلِيدِ أَبُو عُثْمَانَ الْمَدَنِيُّ، أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ مُسْلِمٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ شُفَيًّا الْأَصْبَحِيَّ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ دَخَلَ مَسْجِدَ الْمَدِينَةِ، فَإِذَا هُوَ بِرَجُلٍ قَدِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِ النَّاسُ، فقَالَ: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: فَدَنَوْتُ مِنْهُ حَتَّى قَعَدْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَهُوَ يُحَدِّثُ النَّاسَ، فَلَمَّا سَكَتَ وَخَلَا، قُلْتُ لَهُ: أَنْشُدُكَ بِحَقِّي لَمَا حَدَّثْتَنِي حَدِيثًا سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَقَلْتَهُ وَعَلِمْتَهُ، فقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَفْعَلُ، لَأُحَدِّثَنَّكَ حَدِيثًا حَدَّثَنِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَقَلْتَهُ وَعَلِمْتُهُ، ثُمَّ نَشَغَ أَبُو هُرَيْرَةَ نَشْغَةً فَمَكَثَ قَلِيلًا، ثُمَّ أَفَاقَ، فقَالَ: لَأُحَدِّثَنَّكَ حَدِيثًا حَدَّثَنِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنَا وَهُوَ فِي هَذَا الْبَيْتِ مَا مَعَنَا أَحَدٌ غَيْرِي وَغَيْرُهُ، ثُمَّ نَشَغَ أَبُو هُرَيْرَةَ نَشْغَةً أُخْرَى، فَمَكَثَ كَذَلِكَ، ثُمَّ أَفَاقَ، فَمَسَحَ عَنْ وَجْهِهِ، فقَالَ: أَفْعَلُ، لَأُحَدِّثَنَّكَ حَدِيثًا حَدَّثَنِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنَا وَهُوَ فِي هَذَا الْبَيْتِ مَا مَعَهُ أَحَدٌ غَيْرِي وَغَيْرُهُ، ثُمَّ نَشَغَ نَشْغَةً شَدِيدَةً، ثُمَّ مَالَ خَارًّا عَلَى وَجْهِهِ، وَاشْتَدَّ بِهِ طَوِيلًا، ثُمَّ أَفَاقَ، فقَالَ: حَدَّثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى، إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ، يَنْزِلُ إِلَى الْعِبَادِ لِيَقْضِيَ بَيْنَهُمْ، وَكُلُّ أُمَّةٍ جَاثِيَةٌ فَأَوَّلُ مَنْ يَدْعُو بِهِ رَجُلٌ جَمَعَ الْقُرْآنَ، وَرَجُلٌ، يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَرَجُلٌ كَثِيرُ الْمَالِ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لِلْقَارِئِ: أَلَمْ أُعَلِّمْكَ مَا أَنْزَلْتُ عَلَى رَسُولِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟، قَالَ: بَلَى يَا رَبِّ، قَالَ: فَمَاذَا عَمِلْتَ فِيمَا عَلِمْتَ؟، قَالَ: كُنْتُ أَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَهُ: كَذَبْتَ وَتَقُولُ [ص:137] لَهُ الْمَلَائِكَةُ: كَذَبْتَ، وَيَقُولُ اللَّهُ: بَلْ أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ: فُلَانٌ قَارِئٌ، فَقَدْ قِيلَ ذَاكَ , وَيُؤْتَى بِصَاحِبِ الْمَالِ فَيَقُولُ اللَّهُ لَهُ: أَلَمْ أُوَسِّعْ عَلَيْكَ حَتَّى لَمْ أَدَعْكَ تَحْتَاجُ إِلَى أَحَدٍ؟ قَالَ: بَلَى يَا رَبِّ، قَالَ: فَمَاذَا عَمِلْتَ فِيمَا آتَيْتُكَ؟ قَالَ: كُنْتُ أَصِلُ الرَّحِمَ وَأَتَصَدَّقُ؟ فَيَقُولُ اللَّهُ لَهُ: كَذَبْتَ، وَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ لَهُ: كَذَبْتَ، وَيَقُولُ اللَّهُ: بَلْ إِنَّمَا أَرَدْتَ أَنْيُ، قَالَ: فُلَانٌ جَوَادٌ، فَقَدْ قِيلَ ذَاكَ وَيُؤْتَى بِالَّذِي قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقَالُ لَهُ: فِي مَاذَا قُتِلْتَ؟ فَيَقُولُ: أُمِرْتُ بِالْجِهَادِ فِي سَبِيلِكَ، فَقَاتَلْتُ حَتَّى قُتِلْتُ، فَيَقُولُ اللَّهُ لَهُ: كَذَبْتَ، وَتَقُولُ لَهُ الْمَلَائِكَةُ: كَذَبْتَ وَيَقُولُ اللَّهُ: بَلْ أَرَدْتَ أَنْ يُقَالَ: فُلَانٌ جَرِئٌ، فَقَدْ قِيلَ ذَاكَ» ثُمَّ ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رُكْبَتِي، فقَالَ: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أُولَئِكَ الثَّلَاثَةُ أَوَّلُ خَلْقِ اللَّهِ تُسَعَّرُ بِهِمُ النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» [ص:138] قَالَ الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي الْوَلِيدِ: فَأَخْبَرَنِي عُقْبَةُ أَنَّ شُفَيًّا هُوَ الَّذِي دَخَلَ عَلَى مُعَاوِيَةَ فَأَخْبَرَهُ بِهَذَا الْخَبَرِ، قَالَ أَبُو عُثْمَانَ الْوَلِيدُ وَحَدَّثَنِي الْعَلَاءُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، أَنَّهُ كَانَ سَيَّافًا لِمُعَاوِيَةَ، قَالَ: فَدَخَلَ عَلَيْهِ رَجُلٌ، فَحَدَّثَهُ بِهَذَا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، فقَالَ مُعَاوِيَةُ: قَدْ فُعِلَ بِهَؤُلَاءِ مِثْلُ هَذَا، فَكَيْفَ بِمَنْ بَقِيَ مِنَ النَّاسِ؟ ثُمَّ بَكَى مُعَاوِيَةُ بُكَاءً شَدِيدًا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ هَالِكٌ، وَقُلْنَا: قَدْ جَاءَنَا هَذَا الرَّجُلُ بِشَرٍّ، ثُمَّ أَفَاقَ مُعَاوِيَةُ، وَمَسَحَ عَنْ وَجْهِهِ، فقَالَ: صَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ {مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا، نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا، وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ أُولَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ، وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا، وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [هود: 16]
رقم طبعة با وزير = (409) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَلْفَاظُ الْوَعِيدِ فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَنِ كُلُّهَا مَقْرُونَةٌ بِشَرْطٍ، وَهُوَ: إِلَّا أَنْ يَتَفَضَّلَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا عَلَى مُرْتَكِبِ تِلْكَ الْخِصَالِ بِالْعَفْوِ وَغُفْرَانِ تِلْكَ الْخِصَالِ، دُونَ [ص:139] الْعُقُوبَةِ عَلَيْهَا وَكُلُّ مَا فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَنِ مِنْ أَلْفَاظِ الْوَعْدِ مَقْرُونَةٌ بِشَرْطٍ، وَهُوَ: إِلَّا أَنْ يَرْتَكِبَ عَامِلُهَا مَا يَسْتَوْجِبُ بِهِ الْعُقُوبَةَ عَلَى ذَلِكَ الْفِعْلِ، حَتَّى يُعَاقَبَ، إِنْ لَمْ يَتَفَضَّلَ عَلَيْهِ بِالْعَفْوِ، ثُمَّ يُعْطَى ذَلِكَ الثَّوَابَ الَّذِي وُعِدَ بِهِ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ الْفِعْلِ




শুফাই আল আসবাহী রহিমাহুল্লাহ বলেন, তিনি মাদীনার মসজিদে যান সেখানে একজন ব্যক্তিকে দেখতে পান যার কাছে লোকজন জমা হয়েছেন, তখন তিনি বলেন: “ইনি কে?” তারা জবাব দেন: “আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু।” তিনি বলেন, আমি তার কাছাকাছি গেলাম এমনটি তাঁর সামনে বসলাম, এসময় তিনি মানুষকে হাদীস বর্ণনা করছিলেন। যখন তিনি চুপ হলেন এবং একাকী হলেন, তখন আমি তাঁকে বললাম: “আমি আপনাকে আমার হকের মাধ্যমে শপথ দিয়ে বলছি, আপনি অবশ্যই আমাকে একটি হাদীস বর্ণনা করবেন, যা আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছ থেকে শুনেছেন, বুঝেছেন এবং শিখেছেন।” তখন আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “আমি তাই করবো। আমি তোমাকে অবশ্যই একটি হাদীস বর্ণনা করবো, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বর্ণনা করেছেন।” তারপর আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এর কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে পান। তারপর তিনি বলেন: “আমি তোমাকে অবশ্যই একটি হাদীস বর্ণনা করবো, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বর্ণনা করেছেন। সেসময় আমি এবং তিনি এই ঘরে ছিলাম। এখানে আমি আর তিনি ছাড়া আর কেউ ছিল না।” তারপর আবারও তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তারপর জ্ঞান ফিরে পান। তিনি তাঁর মুখ মুছেন। তারপর বলেন: “আমি তাই করবো। আমি তোমাকে অবশ্যই একটি হাদীস বর্ণনা করবো, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বর্ণনা করেছেন। সেসময় আমি এবং তিনি এই ঘরে ছিলাম। এখানে আমি আর তিনি ছাড়া আর কেউ ছিল না।” তারপর আবারও তিনি প্রবলভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তারপর তিনি মুখ থুবড়ে পড়ে যান। এভাবে দীর্ঘ সময় থাকেন। তারপর জ্ঞান ফিরে পান এবং বলেন, আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস বর্ণনা করেছেন: “নিশ্চয়ই যখন কিয়ামতের দিন হবে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা তখন বান্দাদের মাঝে ফায়সালা করার জন্য তাদের কাছে অবতরণ করবেন। এসময় প্রতিটি উম্মত হাঁটু গেড়ে বসে থাকবে। মহান আল্লাহ প্রথম যাদের ডাকবেন তারা হলো: যে ব্যক্তি কুরআন একত্রিত করেছে। (অর্থাৎ কুরআনের জ্ঞান অর্জন করেছে।), যে ব্যক্তি যিনি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রচুর সম্পদশালী ছিল। মহান আল্লাহ কুরআনের পাঠককে বলবেন: “আমি আমার রাসূলের উপর যা অবতীর্ণ করেছি, আমি কি তোমাকে সে জ্ঞান শিক্ষা দেইনি?” সে বলবে: “জ্বী, হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক।” মহান আল্লাহ বলবেন: “ তুমি যা জেনেছো, তার কি আমল করেছো?” সে বলবে: “আমি কুরআন দিয়ে দিবারাত্রি কিয়াম করেছি।” আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা তাকে বলবেন: “তুমি মিথ্যা বলেছো।” ফেরেস্তাগণও বলবেন: “তুমি মিথ্যা বলেছো।” আল্লাহ বলবেন: “তোমার তো বরং উদ্দেশ্য ছিল এটা যে, মানুষ তোমাকে ক্বারী বলবে। তোমাকে এমনটা বলা হয়েছেও বটে।” তারপর সম্পদশালী ব্যক্তিকে আনা হবে। মহান আল্লাহ তাকে বলবেন: “আমি কি তোমাকে প্রশস্ততা দান করিনি, এমনকি আমি তোমাকে এমনভাবে রাখিনি যে তুমি কারো মুখাপেক্ষী হবে?” সে বলবে: “জ্বী, হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক।” মহান আল্লাহ বলবেন: “ আমি তোমাকে যা দিয়েছিলাম, তাতে তুমি কি আমল করেছো?” সে বলবে: “আমি আত্নীয়তার সম্পর্ক বজায় রেখেছি এবং সাদাকা করেছি।” মহান আল্লাহ তাকে বলবেন: “তুমি মিথ্যা বলেছো।” ফেরেস্তাগণও বলবেন: “তুমি মিথ্যা বলেছো।” আল্লাহ বলবেন: “তোমার তো বরং উদ্দেশ্য ছিল এটা যে, মানুষ তোমাকে বড় দানশীল বলবে। তোমাকে এমনটা বলা হয়েছেও বটে।” তারপর আল্লাহর রাস্তায় যিনি শহীদ হয়েছে, তাকে আনা হবে। তাকে বলা হবে: “তুমি কি জন্য নিহত হয়েছো?” সে জবাবে বলবে: “আমাকে তোমার পথে জিহাদ করার জন্য আদেশ করা হয়েছিল। ফলে আমি জিহাদ করে শাহাদাত বরণ করেছি।” মহান আল্লাহ তাকে বলবেন: “তুমি মিথ্যা বলেছো।” ফেরেস্তাগণও বলবেন: “তুমি মিথ্যা বলেছো।” আল্লাহ বলবেন: “তোমার তো বরং উদ্দেশ্য ছিল এটা যে, মানুষ তোমাকে দুঃসাহসিক বলবে। তোমাকে এমনটা বলা হয়েছেও বটে।” তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার হাঁটুতে তাঁর হাত মারেন এবং বলেন: হে আবু হুরাইরা, আল্লাহর সৃষ্টিজীবের মাঝে এই তিন শ্রেণির মানুষ দ্বারা কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে প্রথম প্রজ্জ্বলিত করা হবে!”[1] ওয়ালিদ বিন ওয়ালীদ বলেন, “আমাকে উকবাহ এই মর্মে খবর দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই এই শুফাই-ই মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গিয়ে এই হাদীস বর্ণনা করেন।” আবু উসমান আল ওয়ালীদ বলেছেন, “আমাকে হাদীসটি আরো বর্ণনা করেছেন ‘আলা বিন আবু হাকীম মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর জাল্লাদ ছিলেন। তিনি বলেন, “অতঃপর এক ব্যক্তি তাঁর কাছে প্রবেশ করে আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণনা করেন। তখন মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “এই এদের সাথে এমন আচরণ করা হবে, তাহলে অন্যান্য লোকের সাথে কেমন আচরণ করা হবে?” তারপর মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এতো বেশি কান্না করেন যে, আমাদের মনে হলো যে, হয়তো তিনি মারা যাবেন। আমরা বললাম, “এই লোক তো খারাপ জিনিস নিয়ে এসেছে!” তারপর মু‘আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জ্ঞান ফিরে পান এবং তার মুখ মুছেন। তিনি বলেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যথার্থই বলেছেন, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবন ও তার চাকচিক্যতা কামনা করে, দুনিয়াতে তাদের কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দেই; এখানে মোটেও কম দেওয়া হয়না। এদের জন্য পরকালে জাহান্নাম ছাড়া আর কিছু নেই, দুনিয়াতে যা তারা আমল করেছে, তা বিনষ্ট হয়ে গেছে, আর যা তারা করবে সেসবও বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।” (সূরা হুদ: ১৫-১৬।) . আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “কুরআন ও হাদীসে শাস্তির সমস্ত শব্দ একটি শর্তের সাথে সংযুক্ত। সেটি হলো: “(তার উপর সেই শাস্তি কার্যকর হবে) যদি সেসব পাপ ও পাপীকে মহান আল্লাহ শাস্তি না দিয়ে ক্ষমা না করেন। অনুরুপভাবে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত প্রতিটি প্রতিশ্রুটির শব্দগুলো একটি শর্তের সাথে যুক্ত। সেটি হলো: “(প্রতিশ্রুতি মাফিক ফলাফল পাবে) যদি আমলকারী সেই ব্যক্তি এমন কিছু না করে যার কারণে তার উপর শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়। তখন তাকে শাস্তি দেওয়া হবে, যদি মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমার মাধ্যমে অনুগ্রহ না করেন। এরপর তাকে তার কর্মের জন্য প্রতিশ্রুত সাওয়াব দেওয়া হবে।”

[1] সহীহ মুসলিম: ১৯০৫, ২৯৮৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/১৬২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪১৩৮; তিরমিযী: ২৩৮১; নাসাঈ: ৬/২৩; সুনান বাইহাকী: ৯/১৬৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/২৯, ৩০।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 29 - 30): م مختصراً.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح. الوليد بن أبي الوليد، من رجال مسلم، وترجمه ابن أبي حاتم: 9/ 19، 20 ونقل توثيقه عن أبي زرعة، ووثقه الإمام الذهبي في «الكاشف»: 3/ 243، وذكره المؤلف في «الثقات» 5/ 494 و7/ 552، وقد وهم الحافظ في «التقريب» فوصفه بقوله: لين الحديث، وباقي رجاله ثقات.









সহীহ ইবনু হিব্বান (409)


409 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ الْبُخَارِيُّ بِبَغْدَادَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ أَبَانَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: صَعِدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمِنْبَرَ، فَلَمَّا رَقِيَ عَتَبَةً، قَالَ: «آمِينَ» ثُمَّ رَقِيَ عَتَبَةً أُخْرَى، فقَالَ: «آمِينَ» ثُمَّ رَقِيَ عَتَبَةً ثَالِثَةً، فقَالَ: «آمِينَ» ثُمَّ، قَالَ: «أَتَانِي جِبْرِيلُ، فقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ، فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، قُلْتُ: آمِينَ، قَالَ: وَمَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا، فَدَخَلَ النَّارَ، فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، قُلْتُ: آمِينَ، فقَالَ: وَمَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ، فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، قُلْ: آمِينَ، فَقُلْتُ: آمِينَ»
رقم طبعة با وزير = (410) [ص:141] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: فِي هَذَا الْخَبَرِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ الْمَرْءَ قَدِ اسْتَحَبَّ لَهُ تَرْكُ الِانْتِظَارِ لِنَفْسِهِ، وَلَا سِيَّمَا إِذَا كَانَ الْمَرْءُ مِمَّنْ يُتَأَسى بِفِعْلِهِ، وَذَاكَ أَنَّ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَمَّا، قَالَ لَهُ جِبْرِيلُ: «مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ، فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ» بَادَرَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِأَنْ، قَالَ: [ص:142] آمِينَ وَكَذَلِكَ فِي قَوْلِهِ: «وَمَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ، أَوْ أَحَدَهُمَا، فَدَخَلَ النَّارَ، أَبْعَدَهُ اللَّهُ» فَلَمَّا، قَالَ لَهُ: «وَمَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ» فَلَمْ يُبَادِرْ إِلَى قَوْلِهِ: «آمِينَ» عِنْدَ وُجُودِ حَظِّ النَّفْسِ فِيهِ، حَتَّى، قَالَ جِبْرِيلُ قُلْ: آمِينَ، قَالَ: قُلْتُ: «آمِينَ» أَرَادَ بِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، التَّأَسِّي بِهِ فِي تَرْكِ الِانْتِصَارِ لِلنَّفْسِ بِالنَّفْسِ، إِذِ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا هُوَ نَاصِرُ أَوْلِيَائِهِ فِي الدَّارَيْنِ، وَإِنْ كَرِهُوا نُصْرَةَ الْأَنْفُسِ فِي الدُّنْيَا. [3: 20]




মালিক বিন হাসান বিন মালিক বিন হুরাইরা তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, তারা দাদা বলেন: “ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বারে উঠলেন। যখন তিনি মিম্বারের এক ধাপ উঠলেন, তখন ‘আমীন’ বললেন। তারপর আরেক ধাপ উঠলেন এবং ‘আমীন’ বললেন। তারপর তৃতীয় ধাপে উঠলেন এবং ‘আমীন’ বললেন। তারপর তিনি বলেন: “আমার কাছে জিবরীল আলাইহিস সালাম এসেছিলেন এবং বলেছেন, “হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যে ব্যক্তি রমাযান মাস পায় অথচ তার গোনাহ মাফ করা হয় না, মহান আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূরে রাখুন।” এসময় আমি ‘আমীন’ (আল্লাহ, কবুল করো।) বলেছি।” তিনি আমাকে বলেছেন, “যে ব্যক্তি পিতা-মাতা দুইজনকে অথবা একজনকে পায়, তারপরেও জাহান্নামে যায়। মহান আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূরে রাখুন।” এসময় আমি ‘আমীন’ (আল্লাহ, কবুল করো।) বলেছি।” তিনি আমাকে আরো বলেছেন, “যার কাছে আমার আলোচনা করা হয়, কিন্তু আমার উপর দরুদ পাঠ করে না। মহান আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূরে রাখুন। আপনি ‘আমীন’ বলুন। ফলে আমি ‘আমীন’ (আল্লাহ, কবুল করো) বলেছি।”[1] ". আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই হাদীসে এই মর্মে দলীল রয়েছে যে, একজন মানুষের জন্য কোন কোন সময় মুস্তাহাব হলো নিজের জন্য প্রতিশোধ না নেওয়া। বিশেষত তিনি যদি এমন ব্যক্তি হন, যার কর্ম অনুসরণ করা হয়। এটার কারণ হলো আল্লাহর নাবীকে জিবরীল আলাইহিস সালাম যখন বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমাযান মাস পায় অথচ তার গোনাহ মাফ করা হয় না, মহান আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূরে রাখুন।” তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তৎক্ষণাৎ ‘আমীন’ বলেন। অনুরুপ জিবরীল আলাইহিস সালাম যখন তাকে বলেন, “যে ব্যক্তি পিতা-মাতা দুইজনকে অথবা একজনকে পায়, তারপরেও জাহান্নামে যায়। মহান আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূরে রাখুন।” তখনও তিনি অনুরুপ (ভাবে ‘আমীন’) বলেন। কিন্তু যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম যখন তাকে বলেন, “যার কাছে আমার আলোচনা করা হয়, কিন্তু আমার উপর দরুদ পাঠ করে না। মহান আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূরে রাখুন।” এসময় তিনি তৎক্ষণাৎ ‘আমীন’ বলেন নাই। কেননা এখানে তাঁর নিজের একটা অংশ আছে। এমনকি যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম যখন তাকে বলেন, “আপনি ‘আমীন’ বলূন।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তখন আমি ‘আমীন’ বলি। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিজের জন্য অন্যের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ না করার ক্ষেত্রে তার অনুসরণ করা। কারণ দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহই হচ্ছেন তাঁর বন্ধুদের সাহায্যকারী, যদিও তাঁরা নিজের প্রতিশোধ গ্রহণ করা অপছন্দ করে।”

[1] তাবারানী আল কাবীর: ১৯/২৯১; শায়খ হাইসামী, মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ১০/১৬৬; ইবনু ‘আদী, আয যু‘আফা: ৬/২৩৭৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ২/৬৬)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح لغيره - «التعليق الرغيب» (2/ 66).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح لغيره، وهذا إسناد ضعيف، عمران بن أبان هو الواسطي، قال الحافظ في «التقريب»: ضعيف، روى له النسائي، وقال ابن عدي في «الضعفاء» 5/ 1744: لم أر في حديثه منكراً. ومالك بن الحسن، قال العقيلي: فيه نظر، وقال الذهبي: منكر الحديث، وقال ابن عدي في «الضعفاء» 6/ 2378 - بعد أن أورد حديثه هذا وأربعة أحاديث أخرى من طريق عمران الواسطي عنه: هذه الأحاديث بهذا الإسناد عن مالك بن الحسن هذا لا يرويها عن مالك إلا عمران بن أبان الواسطي، وعمران بن أبان لا يأس به، وأظن أن البلاء فيه من مالك بن الحسن هذا، فإن هذا الإسناد بهذا الحديث لا يتابعه عليها أحد.









সহীহ ইবনু হিব্বান (410)


410 - أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّاجِرُ بِمَرْوَ، حَدَّثَنَا حُصَيْنُ بْنُ الْمُثَنَّى الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ رَجُلًا أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يُخَاصِمُ أَبَاهُ فِي دَيْنٍ عَلَيْهِ، فقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنْتَ وَمَالُكَ لِأَبِيكَ»
رقم طبعة با وزير = (411) [ص:143] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: مَعْنَاهُ أَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، زَجَرَ عَنْ مُعَامَلَتِهِ أَبَاهُ بِمَا يُعَامِلُ بِهِ الْأَجْنَبِيِّينَ، وَأَمَرِ بِبِرِّهِ وَالرِّفْقِ بِهِ فِي الْقَوْلِ وَالْفِعْلِ مَعًا، إِلَى أَنْ يَصِلَ إِلَيْهِ مَالُهُ، فقَالَ لَهُ: «أَنْتَ وَمَالُكَ لِأَبِيكَ»، لَا أَنَّ مَالَ الِابْنِ يَمْلِكُهُ الْأَبُ فِي حَيَاتِهِ عَنْ غَيْرِ طِيبِ نَفْسٍ مِنَ الِابْنِ بِهِ




‘আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসেন, যিনি তার বাবার ঋণ পরিশোধ করাকে কেন্দ্র করে বাবার সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছেন। তখন আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার বাবার জন্য।”[1] . আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হাদীসের মর্মার্থ হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বাবার সাথে অপরিচিত লোকের মত আচরণ করার কারণে ধমক দিয়েছেন এবং তাকে তার বাবার সাথে কথায় ও কাজে সদাচারণ ও নম্র আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এমনকি তার সম্পদকে বাবার সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন এবং বলেছেন: “তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার বাবার জন্য।” হাদীসের অর্থ এটা নয় যে, ছেলের জীবদ্দশায় ছেলে খুশি মনে বাবাকে সম্পদ না দিলেও বাবা সন্তানের সম্পদের মালিক হয়ে যাবে।”

[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/১৭৯; আবু দাউদ: ২২৯১; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ৪/১৫৮; ইবনু মাজাহ: ২২৯২; ইবনুল জারুদ: ৯৯৫; মুশকিলুল আসার: ২/২৩০; মিসবাহুয যুজাজাহ: ১৪১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন। (মিশকাত: ৩৩৫৪।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح لغيره - «المشكاة» (3354)، «الإرواء» (838).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح، عبد الله بن كيسان هو المروزي أبو مجاهد، قال الحافظ: صدوق يخطئ كثيراً. وباقي رجاله ثقات.









সহীহ ইবনু হিব্বান (411)


411 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مِسْعَرِ بْنِ كِدَامٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، [ص:144] عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مِنَ الْكَبَائِرِ أَنْ يَسُبَّ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ»، قِيلَ: وَكَيْفَ يَسُبُّ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ؟، قَالَ: «يَتَعَرَّضُ لِلنَّاسِ فَيَسُبُّ وَالِدَيْهِ». [2: 109]
رقم طبعة با وزير = (412)




আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভূক্ত হলো কোন ব্যক্তি তার বাবা-মাকে গালি দেওয়া।” তাঁকে বলা হলো: “কীভাবে একজন ব্যক্তি তার বাবা-মাকে গালি দেয়?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সে মানুষের (বাবা-মাকে নিয়ে) হস্তক্ষেপ করে, ফলে তারা তার বাবা-মাকে গালি দেয়।”[1]

[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/১৬৪; সহীহ আল বুখারী: ৫৯৭৩; আবু দাউদ: ৫১৪১; সহীহ মুসলিম: ৯০; তিরমিযী: ১৯০২; আদাবুল মুফরাদ: ২৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৩/২২১।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما بعده.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح، الحسين بن حسن لم أتبينه، ويحيى بن زكريا ومن فوقه ثقات من رجال الشيخين. سعد بن إبراهيم: هو ابن عبد الرحمن بن عوف، وحميد بن عبد الرحمن: هو ابن عوف الزهري.









সহীহ ইবনু হিব্বান (412)


412 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمَذَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ [ص:145] بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّ مِنْ أَكْبَرِ الْكَبَائِرِ أَنْ يَسُبَّ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ»، قَالَ: وَكَيْفَ يَسُبُّ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ؟، قَالَ: «يَسُبُّ أَبَا الرَّجُلِ فَيَسُبُّ أَبَاهُ، وَيَسُبُّ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّهُ». [2: 109]
رقم طبعة با وزير = (413)




আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সবচেয়ে বড় কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভূক্ত হলো কোন ব্যক্তি তার বাবা-মাকে গালি দেওয়া।” রাবী বলেন: “কীভাবে একজন ব্যক্তি তার বাবা-মাকে গালি দেয়?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সে অন্য লোকের বাবাকে গালি দেয়, ফলে সেও তার বাবাকে গালি দেয়। সে অন্য লোকের মাকে গালি দেয়, ফলে সেও তার মাকে গালি দেয়।”[1]

[1] সহীহ মুসলিম: ৯০; আত তায়ালিসী: আবু আওয়ানা: ১/৫৫; মুসনাদ আহমাদ: ২/১৯৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৩৪২৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৩/২২১।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (3/ 221): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (413)


413 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ: سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: [ص:146] حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ: «انْقَلَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ إِلَى مَنْزِلِهِ بِمِنًى، فِي آخِرِ حَجَّةٍ حَجَّهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، فقَالَ: إِنَّ فُلَانًا يَقُولُ: لَوْ قَدْ مَاتَ عُمَرُ بَايَعْتُ فُلَانًا، قَالَ عُمَرُ: إِنِّي قَائِمٌ الْعَشِيَّةَ فِي النَّاسِ، وَأُحَذِّرُهُمْ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ يُرِيدُونَ أَنْ يَغْصِبُوهُمْ أَمْرَهُمْ، قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: فَقُلْتُ: لَا تَفْعَلْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، فَإِنَّ الْمَوْسِمَ يَجْمَعُ رَعَاعَ النَّاسِ، وَغَوْغَاءَهُمْ، وَإِنَّ أُولَئِكَ الَّذِينَ يَغْلِبُونَ عَلَى مَجْلِسِكَ إِذَا أَقَمْتَ فِي النَّاسِ، فَيَطِيرُوا بِمَقَالَتِكَ، وَلَا يَضَعُوهَا مَوَاضِعَهَا أَمْهِلْ حَتَّى تَقْدُمَ الْمَدِينَةَ، فَإِنَّهَا دَارُ الْهِجْرَةِ، فَتَخْلُصَ بِعُلَمَاءِ النَّاسِ وَأَشْرَافِهِمْ، وَتَقُولُ مَا قُلْتَ مُتَمَكِّنًا، وَيَعُونَ مَقَالَتَكَ، وَيَضَعُونَهَا مَوَاضِعَهَا، فقَالَ عُمَرُ: لَئِنْ قَدِمْتَ الْمَدِينَةَ سَالِمًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَأَ تَكَلَّمَنَّ فِي أَوَّلِ مَقَامٍ أَقُومُهُ فَقَدِمَ الْمَدِينَةَ فِي عَقِبِ ذِي الْحِجَّةِ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ عَجَّلْتُ الرَّوَاحَ فِي شِدَّةِ الْحَرِّ، فَوَجَدْتُ سَعِيدَ بْنَ زَيْدٍ قَدْ سَبَقَنِي، فَجَلَسَ إِلَى رُكْنِ الْمِنْبَرِ الْأَيْمَنِ، وَجَلَسْتُ إِلَى جَنْبِهِ تَمَسُّ رُكْبَتِي رُكْبَتَهُ، فَلَمْ أَنْشَبْ أَنْ طَلَعَ عُمَرُ، فَقُلْتُ لِسَعِيدٍ: أَمَا إِنَّهُ سَيَقُولُ الْيَوْمَ عَلَى هَذَا الْمِنْبَرِ مَقَالَةً لَمْ يَقُلْهَا مُنْذُ اسْتُخْلِفَ، قَالَ: وَمَا عَسَى أَنْ يَقُولَ؟ فَجَلَسَ عُمَرُ عَلَى الْمِنْبَرِ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ، قَالَ: [ص:147] أَمَّا بَعْدُ، فَإِنِّي قَائِلٌ لَكُمْ مَقَالَةً قُدِّرَ لِي أَنْ أَقُولَهَا، لَا أَدْرِي لَعَلَّهَا بَيْنَ يَدَيْ أَجْلِي، فَمَنْ عَقَلَهَا وَوَعَاهَا، فَلْيُحَدِّثْ بِهَا حَيْثُ انْتَهَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ، وَمَنْ لَمْ يَعْقِلْهَا، فَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَكْذِبَ عَلَيَّ: إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى، بَعَثَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ، فَكَانَ فِيمَا أَنْزَلَ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ، فَقَرَأَ بِهَا، وَرَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ، وَأَخَافُ إِنْ طَالَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ أَنْ يَقُولَ قَائِلٌ: مَا نَجْدُ آيَةَ الرَّجْمِ فِي كِتَابِ اللَّهِ، فَيَضِلُّوا بِتَرْكِ فَرِيضَةٍ أَنْزَلَهَا اللَّهُ، وَالرَّجْمُ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ، إِذَا قَامَتِ الْبَيِّنَةُ، أَوْ كَانَ حَمْلٌ، أَوِ اعْتِرَافٌ، وَايْمُ اللَّهِ، لَوْلَا أَنْ يَقُولَ النَّاسُ: زَادَ عُمَرُ فِي كِتَابِ اللَّهِ، لَكَتَبْتُهَا أَلَا وَإِنَّا كُنَّا نَقْرَأُ «لَا تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ، فَإِنَّ كُفْرًا بِكُمْ أَنْ تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ»، ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى عِيسَى بْنَ مَرْيَمَ، فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ، فَقُولُوا: عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ» [ص:148] أَلَا وَإِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّ فُلَانًا، قَالَ: لَوْ قَدْ مَاتَ عُمَرُ، بَايَعْتُ فُلَانًا، فَمَنْ بَايَعَ امْرَأً مِنْ غَيْرِ مَشُورَةٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَإِنَّهُ لَا بَيْعَةَ لَهُ، وَلَا لِلَّذِي بَايَعَهُ، فَلَا يَغْتَرَّنَّ أَحَدٌ فَيَقُولُ: إِنَّ بَيْعَةَ أَبِي بَكْرٍ كَانَتْ فَلْتَةً، أَلَا وَإِنَّهَا كَانَتْ فَلْتَةً، إِلَّا أَنَّ اللَّهَ وَقَى شَرَّهَا وَلَيْسَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مَنْ تُقْطَعُ إِلَيْهِ الْأَعْنَاقُ مِثْلَ أَبِي بَكْرٍ أَلَا وَإِنَّهُ كَانَ مِنْ خَيْرِنَا يَوْمَ تَوَفَّى اللَّهُ رَسُولَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْمُهَاجِرِينَ اجْتَمَعُوا إِلَى أَبِي بَكْرٍ، وَتَخَلَّفَ عَنَّا الْأَنْصَارُ فِي سَقِيفَةِ بَنِي سَاعِدَةَ، فَقُلْتُ لِأَبِي بَكْرٍ: انْطَلِقْ بِنَا إِلَى إِخْوَانِنَا مِنَ الْأَنْصَارِ نَنْظُرُ مَا صَنَعُوا، فَخَرَجْنَا نَؤُمُّهُمْ، فَلَقِيَنَا رَجُلَانِ صَالِحَانِ مِنْهُمْ، فَقَالَا: أَيْنَ تَذْهَبُونَ يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ؟ فَقُلْتُ: نُرِيدُ إِخْوَانَنَا مِنَ الْأَنْصَارِ، قَالَ: فَلَا عَلَيْكُمْ أَنْ لَا تَأْتُوهُمْ، اقْضُوا [ص:149] أَمَرَكُمْ، يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ فَقُلْتُ: وَاللَّهِ لَا نَرْجِعُ حَتَّى نَأْتِيَهُمْ، فَجِئْنَاهُمْ، فَإِذَا هُمْ مُجْتَمِعُونَ فِي سَقِيفَةِ بَنِي سَاعِدَةَ، وَإِذَا رَجُلٌ مُزَّمِّلٌ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ، فَقُلْتُ مَنْ هَذَا؟ فَقَالُوا: سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ، قُلْتُ: مَا لَهُ؟ قَالُوا: وَجِعٌ، فَلَمَّا جَلَسْنَا قَامَ خَطِيبُهُمْ فَحَمِدَ اللَّهَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ، قَالَ: أَمَّا بَعْدُ، فَنَحْنُ أَنْصَارُ اللَّهِ وَكَتِيبَةُ الْإِسْلَامِ، وَقَدْ دَفَّتْ إِلَيْنَا - يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ - مِنْكُمْ دَافَّةٌ، وَإِذَا هُمْ قَدْ أَرَادُوا أَنْ يَخْتَصُّوا بِالْأَمْرِ، وَيُخْرِجُونَا مِنْ أَصْلِنَا، قَالَ عُمَرُ: فَلَمَّا سَكَتَ، أَرَدْتُ أَنْ أَتَكَلَّمَ، وَقَدْ كُنْتُ زَوَّرْتُ مَقَالَةً قَدْ أَعْجَبَتْنِي أُرِيدُ أَنْ أَقُولَهَا بَيْنَ يَدَيْ أَبِي بَكْرٍ، وَكُنْتُ أُدَارِي مِنْهُ بَعْضَ الْحَدِّ، وَكَانَ أَحْلَمَ مِنِّي وَأَوْقَرَ، فَأَخَذَ بِيَدِي وَقَالَ: اجْلِسْ، فَكَرِهْتُ أَنْ أُغْضِبَهُ، فَتَكَلَّمَ، فَوَاللَّهِ مَا تَرَكَ مِمَّا زَوَّرْتُهُ فِي مَقَالَتِي إِلَّا قَالَ مِثْلَهُ فِي بَدِيهَتِهِ أَوْ أَفْضَلَ، [ص:150] فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ، قَالَ: أَمَّا بَعْدُ، فَمَا ذَكَرْتُمْ مِنْ خَيْرٍ، فَأَنْتُمْ أَهْلُهُ، وَلَنْ يَعْرِفَ الْعَرَبُ هَذَا الْأَمْرَ إِلَّا لِهَذَا الْحَيِّ مِنْ قُرَيْشٍ، هُمْ أَوْسَطُ الْعَرَبِ دَارًا وَنَسَبَا، وَقَدْ رَضِيتُ لَكُمْ أَحَدَ هَذَيْنِ الرَّجُلَيْنِ، فَبَايِعُوا أَيَّهُمَا شِئْتُمْ، وَأَخَذَ بِيَدِي وَيَدِ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ، وَهُوَ جَالِسٌ بَيْنَنَا، فَلَمْ أَكْرَهُ شَيْئًا مِنْ مَقَالَتِهِ غَيْرَهَا، كَانَ وَاللَّهِ لِأَنْ أُقَدَّمَ فَتُضْرَبَ عُنُقِي فِي أَمْرٍ لَا يُقَرِّبُنِي ذَلِكَ إِلَى إِثْمٍ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُؤَمَّرَ عَلَى قَوْمٍ فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ، فقَالَ فَتَى الْأَنْصَارِ: أَنَا جُذَيْلُهَا الْمُحَكَّكُ، وَعُذَيْقُهَا الْمُرَجَّبُ، مِنَّا أَمِيرٌ وَمِنْكُمْ أَمِيرٌ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ، فَكَثُرَ اللَّغَطُ، وَخَشِيتُ الِاخْتِلَافَ، فَقُلْتُ: ابْسُطْ يَدَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ، فَبَسَطَهَا، فَبَايَعْتُهُ، وَبَايَعَهُ الْمُهَاجِرُونَ وَالْأَنْصَارُ، وَنَزَوْنَا عَلَى سَعْدٍ، فقَالَ قَائِلٌ: قَتَلْتُمْ سَعْدًا فَقُلْتُ: قَتَلَ اللَّهُ سَعْدًا فَلَمْ نَجِدْ شَيْئًا [ص:151] هُوَ أَفْضَلَ مِنْ مُبَايَعَةِ أَبِي بَكْرٍ، خَشِيتُ إِنْ فَارَقْنَا الْقَوْمَ أَنْ يُحْدِثُوا بَعْدَنَا بَيْعَةً، فَإِمَّا أَنْ نُبَايِعَهُمْ عَلَى مَا لَا نَرْضَى، وَإِمَّا أَنْ نُخَالِفَهُمْ، فَيَكُونُ فَسَادًا وَاخْتِلَافًا، فَبَايَعْنَا أَبَا بَكْرٍ جَمِيعًا، وَرَضِينَا بِهِ.
رقم طبعة با وزير = (414) [ص:152] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ قَوْلُ عُمَرَ: «قَتَلَ اللَّهُ سَعْدًا». [2: 43]




আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর জীবনের শেষ হজ্জের সময় আব্দুর রহমান বিন আওফ রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু মিনায় তাঁর বাসা থেকে ফিরে আসেন এবং বলেন, “ওমুক ব্যক্তি বলেছেন যে, যদি উমার মারা যায়, তাহলে আমি ওমুকের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবো।” তখন উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু বলেন: “আমি সন্ধায় মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে এদের সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করবো, যারা মুসলিমদের (খিলাফতের) বিষয়টি ছিনিয়ে নিতে চায়।” তখন আব্দুর রহমান রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু বলেন, “আমি বললাম: হে আমিরুল মু‘মিনুন, এমনটি করবেন না। কেননা সময়টি হজ্জের মৌসুম, এই সময় উচ্ছৃংখল, নিম্নশ্রেণির অনেক সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়। আপনি যখন মানুষের মাঝে (ভাষনের জন্য) দাঁড়াবেন, এই লোকগুলোই আপনার মাজলিসে বেশি থাকবে। এরা আপনার বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যাবে, তারা আপনার কথা যথাস্থানে ব্যবহার করবে না। মদীনায় যাওয়া পর্যন্ত আপনি বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ মদীনা হলো হিজরতের জায়গা, এখানে আপনি খাস করে উলামা ও সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে ইচ্ছামত কথা বলতে পারবেন, তারা আপনার কথা বুঝবে, সংরক্ষন করবে এবং সেটাকে তারা যথাস্থানে প্রয়োগ করবে।” উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু বলেন: “আল্লাহ চাহে তো যদি আমি মদীনায় পৌঁছি তবে সর্বপ্রথম আমি এই বিষয়েই আলোচনা করবো।” অতঃপর যিল হজ্জ মাসের শেষের দিকে তিনি মদীনায় পৌঁছেন, যখন শুক্রবার হলো, তখন আমি প্রকোট উত্তাপের মাঝে তাড়াতাড়ি মসজিদে গেলাম, সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম যে, সা‘ঈদ বিন যাইদ আমার আগেই এসেছেন। এবং তিনি মিম্বারের ডান পাশের দিকে বসেছেন। আমি গিয়ে তার পাশে বসলাম, আমার হাঁটুর সাথে তাঁর হাটু লাগছিল। একটু পরেই উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু আসেন। তখন আমি সা‘ঈদ রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুকে বললাম, “আজ তিনি মিম্বারে এমন কথা বলবেন, যা খলীফা নিযুক্ত হওয়ার পর কখনই বলেননি।” তখন সা‘ঈদ রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু বলেন, “তিনি কী কথা বলবেন?” এসময় উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু মিম্বারে বসেন, আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণকীর্তন করেন। তারপর বলেন: “অতঃপর, আজ আমি আপনাদের সামনে একটি কথা বলবো, যা বলা আমার ভাগ্যে নির্ধারিত ছিল। আমি ঠিক জানি না, হতে পারে এটি আমার মৃত্যুর পুর্বক্ষণ। কাজেই যে ব্যক্তি তা অনুধাবন করতে পারবে, এবং সংরক্ষণ করতে পারবে, সে যেন তা অন্যের কাছে বর্ণনা করে, তার বাহন তাকে যে পর্যন্ত নিয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি তা অনুধাবন করতে পারবে না, তবে কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য জায়েয নেই আমার নামে মিথ্যা কথা বলা। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, তিনি তাঁর উপর যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন, তার মধ্যে রজমের আয়াত ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা পাঠ করেছেন, নিজে রজম বাস্তবায়ন করেছেন এবং তাঁর পরে আমরাও রজম বাস্তবায়ন করেছি। আমার আশংকা হয় যে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মানুষ হয়তো বলবে, “আমরা তো আল্লাহর কিতাবে রজমের আয়াত পাচ্ছি না।” ফলে তারা আল্লাহর নাযিলকৃত একটি ফরয বিধান পরিত্যাগ করে পথভ্রষ্ট হবে। (বিবাহিত) নারী-পুরষের উপর রজম সত্য, যখন প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হবে অথবা কোন নারী স্বামী ছাড়া গর্ভবতী হবে অথবা কেউ ব্যভিচারের কথা স্বীকার করবে। আল্লাহর কসম, যদি মানুষ এরকম না বলতো যে, উমার আল্লাহর কিতাবে বৃদ্ধি করেছেন, তবে আমি তা আল্লাহর কিতাবে লিখে দিতাম। আপনারা শুনে রাখুন, আমরা রজমের আয়াত পাঠ করেছি, তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। কারণ তোমাদের জন্য কুফরী হলো তোমাদের পিতৃপুরুষদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আমার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে না, যেভাবে খ্রীষ্টানরা মরিয়ম তনয় ‘ঈসা আলাইহিস সালাম এর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছিল। নিশ্চয়ই আমি একজন বান্দা। কাজেই তোমরা বলবে, “আল্লাহর বান্দা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আপনারা জেনে রাখুন যে, ওমুক ব্যক্তি বলেছে যে, “যদি উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু মারা যান, তাহলে আমি ওমুকের কাছে বাইয়াত গ্রহণ করবো।” যে ব্যক্তি মুসলিমদের পরামর্শ ব্যতীত কোন ব্যক্তির বাইয়াত গ্রহণ করবে, তাহলে যে বাইয়াত গ্রহণ করবে এবং যার জন্য বাইয়াত গ্রহণ করবে, উভয়ের বাইয়াতই বাতিল। কাজেই কেউ যেন এর মাধ্যমে ধোঁকা না খেয়ে বলে যে, আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর বাইয়াত গ্রহণ আকস্মিক ছিল। জেনে রাখুন যে, তাঁর বাইয়াত আকস্মিক ছিল ঠিকই কিন্তু মহান আল্লাহ এর অনিষ্টতা থেকে রক্ষা করেছেন। আর আপনাদের মাঝেও বর্তমানে এমন মানুষ নেই যার কাছে আবু বকরের মত মানুষ তাদের গর্দান সমর্পন করবে। জেনে রাখুন, যেদিন মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মৃত্যু দেন, সেদিনও তিনি আমাদের মাঝে সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন। মুহাজিরগণ খলিফার জন্য আবু বকরের কাছে জমায়েত হন, আর আমাদের ভাই আনসারগণ আমাদের থেকে আলাদা হয়ে বানু সা‘ঈদা গোত্রের ছাদের নিচে অবস্থান নেন। তখন আমি আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুকে বললাম, “আপনি আমাদেরকে আমাদের আনসার ভাইদের কাছে নিয়ে চলুন, আমরা দেখবো যে, তাঁরা কী করছে।” ফলে আমরা তাঁদের উদ্দেশ্যে বের হলাম। অতঃপর (পথিমধ্যে) আমাদের সাথে তাঁদের দুইজন সৎ ব্যক্তির সাক্ষাৎ হলো। তাঁরা বললেন: “আপনারা কোথায় যাচ্ছেন?” আমি বললাম: “আমাদের আনসার ভাইদের কাছে।” তাঁরা বলেন: “আপনারা যদি আনসারদের কাছে না যান এটা আপনাদের জন্য কোন দূষনীয় হবে না। হে মুহাজিরগণ, আপনারা আপনাদের কাজ সম্পাদন করুন।” আমি বললাম: “আল্লাহর কসম, অবশ্যই আমরা তাঁদের কাছে না যাওয়া পর্যন্ত ফিরে যাবো না।” অতঃপর আমরা তাঁদের কাছে গেলাম। আমরা দেখতে পেলাম যে, তাঁরা বানু সা‘ঈদা গোত্রের ছাদের নিচে সমবেত হয়েছেন। এসময় আমরা দেখতে পেলাম যে, তাঁদের মাঝে এক ব্যক্তি চাদরাবৃত। আমি বললাম: “ইনি কে?” তাঁরা জবাব দিলেন: “সা‘দ বিন ‘উবাদা।” আমি বললাম: “তাঁর কী হয়েছে?” তাঁরা বললেন: “তিনি পীড়িত।” এরপর যখন আমরা বসলাম, তখন তাঁদের মাঝে একজন বক্তব্য দেওয়ার জন্য দন্ডায়মান হলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। তারপর বললেন: “অতঃপর, আমরা আনসারুল্লাহ (আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যকারী), ইসলামের সেনাবাহিনী। হে মুসলিমগণ, আমাদের কাছে কিছু লোক এসেছেন, তাঁরা খিলাফত নিয়ে নিতে চাচ্ছে আমাদেরকে মূল থেকে বের করে দিতে চাচ্ছে। উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু বলেন, যখন তিনি বক্তব্য শেষ করলেন, তখন আমি কথা বলতে উদ্যত হলাম। আমি সুন্দর চমকপ্রদ কিছু কথা প্রস্তুত করেছিলাম আবু বকরের উপস্থিতিতে বলার জন্য, আমি তা বলে এই ব্যাপারে তাঁদের রাগ-ক্ষোভ কিছুটা কমাতে চেয়েছিলাম। তিনি আমার চেয়ে বেশি ধৈর্যশীল ও গুরুগম্ভীর ছিলেন। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং বললেন: “আপনি বসুন।” আমি তাঁকে রাগাতে অপছন্দ করলাম। ফলে তিনি কথা বললেন। আল্লাহর কসম, আমি বলার জন্য যেসব কথা প্রস্তুত করেছিলাম তার একটি কথাও তিনি ছাড়েননি বরং সব কথাই তিনি আমার মতো অথবা তার চেয়েও উত্তমভাবে উপস্থিত বাকপটুতায় বলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। তারপর বললেন, আম্মা বা‘দ, আপনারা যে কল্যানের কথা বললেন, আপনারা সেটার উপযুক্ত। তবে নেতৃত্বের ব্যাপারটি আরবরা কুরাইশদের এই গোত্র ছাড়া অন্য কারো জন্য হওয়ার সাথে পরিচিত নয়। তাঁরা আরবদের মাঝে বাসস্থান ও বংশীয় দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ। আমি আপনাদের জন্য এই দুই ব্যক্তির যে কোন একজনকে মনোনিত করছি। আপনারা আপনাদের ইচ্ছামত তাদের যে কোন একজনের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করুন।” এই বলে তিনি আমার ও আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুমা এর হাত ধরেন। এসময় আবু উবাইদাহ আমাদের মাঝে বসে ছিলেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে যা কিছু বলেছেন এই কথাটা ছাড়া আর কোন কিছুই আমার খারাপ লাগেনি। আল্লাহর কসম, পাপ হবে না- এমন কোন বিষয়ে আমাকে আগ বাড়িয়ে দিয়ে অতঃপর আমার শিরোচ্ছেদ করা হলে- সেটা আমার কাছে অধিকতর বেশি পছন্দনীয় এমন কওমের আমীর হওয়ার চেয়ে, যাদের মাঝে আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বিদ্যমান আছেন! ” তখন আনসারী এক যুবক বললেন: “আমি এমন এক পিলার যাতে খোশ-পাঁচড়াযুক্ত উট তাদের অসুখ নিরাময়ের জন্য এতে গা ঘষে। (অর্থাৎ আমি উচ্চবংশজাত) আমি খেজুরবিশিষ্ট্য এমন গাছ, যা বিচ্যুত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য সহযোগী রয়েছে। অর্থাৎ সাহায্য-সহযোগিতা ও প্রতিরোধ করার জন্য আমার বংশ-বুনিয়াদ রয়েছে। (আমার মত হলো) আমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হোক আর আপনাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হোক।” এরপর হৈচৈ বেড়ে যায়। আমি আরো বেশি মতানৈক্য হওয়ার আশংকা করলাম। ফলে আমি বললাম: “হে আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু, আপনার হাত বাড়িয়ে দিন।” তিনি হাত বাড়িয়ে দিলেন। আমি তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করলাম। এরপর মুহাজির ও আনসারগণও তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। আমরা সা‘দ বিন ‘উবাদাহর উপর বিজয় লাভ করলাম।” তখন তাঁদের মাঝে এক ব্যক্তি বললেন যে, আপনারা তো সা‘দকে মেরে ফেললেন।” আমি বললাম: “আল্লাহ সা‘দকে মেরে ফেলুন। কাজেই সে সময় আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু কাছে বাইয়াত গ্রহণ করার চেয়ে উত্তম কিছু ছিল না। আমরা আশংকা করেছিলাম যে, যদি আমরা লোকজনকে ছেড়ে দেই, তাঁরা আমাদের পরে অন্য কারো কাছে বাইয়াত গ্রহণ করবে। তখন হয়তো আমাদের পছন্দ না সত্ত্বেও তার হাতে আমাদের বাইয়াত নিতে হবে নতুবা তাদের বিরোধিতা করতে হবে, তখন মতবিরোধ ও দ্বন্দ শুরু হবে। এজন্য আমরা সবাই আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করি এবং তাঁর প্রতি আমরা সন্তুষ্ট হয়ে যাই।”[1] আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য “আল্লাহ সা‘দকে মেরে ফেলুন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাত দান করুন।”

[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১৪/৫৬৩; সহীহ আল বুখারী: ৬৮৩০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২৩৩৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2338) طرف منه: ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (414)


414 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ بِنَسَا، وَأَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى بِالْمَوْصِلِ، وَالْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ بِالْبَصْرَةِ، وَاللَّفْظُ لِلْحَسَنِ، قَالُوا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ ابْنُ أَخِي جُوَيْرِيَةَ بْنِ أَسْمَاءَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمِّي جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ كَانَ يُقْرِئُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ، فِي خِلَافَةِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: فَلَمْ أَرَ رَجُلًا يَجِدُ مِنَ الْأَقْشَعْرِيرَةِ مَا يَجِدُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عِنْدَ الْقِرَاءَةِ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَجِئْتُ أَلْتَمِسُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ يَوْمًا، فَلَمْ أَجِدْهُ، فَانْتَظَرْتُهُ فِي بَيْتِهِ حَتَّى رَجَعَ مِنْ عِنْدِ عُمَرَ، فَلَمَّا رَجَعَ، قَالَ لِي: لَوْ رَأَيْتَ رَجُلًا آنِفًا، قَالَ لِعُمَرَ كَذَا وَكَذَا، وَهُوَ يَوْمَئِذٍ بِمِنًى، فِي آخِرِ حَجَّةٍ حَجَّهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، فَذَكَرَ [ص:153] عَبْدُ الرَّحْمَنِ لِابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ رَجُلًا أَتَى إِلَى عُمَرَ، فَأَخْبَرَهُ أَنَّ رَجُلًا قَالَ: وَاللَّهِ لَوْ مَاتَ عُمَرُ لَقَدْ بَايَعْتُ فُلَانًا، قَالَ عُمَرُ حِينَ بَلَغَهُ ذَلِكَ: إِنِّي لَقَائِمٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ الْعَشِيَّةَ فِي النَّاسِ، فَمُحَذِّرُهُمْ هَؤُلَاءِ الَّذِينَ يَغْتَصِبُونَ الْأُمَّةَ أَمَرَهُمْ، فقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، لَا تَفْعَلْ ذَلِكَ يَوْمَكَ هَذَا، فَإِنَّ الْمَوْسِمَ يَجْمَعُ رَعَاعَ النَّاسِ، وَغَوْغَاءَهُمْ، وَإِنَّهُمْ هُمُ الَّذِينَ يَغْلِبُونَ عَلَى مَجْلِسِكَ، فَأَخْشَى إِنْ قُلْتَ فِيهِمُ الْيَوْمَ مَقَالًا أَنْ يَطِيرُوا بِهَا، وَلَا يَعُوهَا، وَلَا يَضَعُوهَا عَلَى مَوَاضِعِهَا، أَمْهِلْ حَتَّى تَقْدَمَ الْمَدِينَةَ، فَإِنَّهَا دَارُ الْهِجْرَةِ وَالسُّنَّةِ، وَتَخْلُصَ لِعُلَمَاءِ النَّاسِ وَأَشْرَافِهِمْ، فَتَقُولُ مَا قُلْتَ مُتَمَكِّنًا، فَيَعُوا مَقَالَتَكَ، وَيَضَعُوهَا عَلَى مَوَاضِعِهَا، قَالَ عُمَرُ: وَاللَّهِ لَئِنْ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ صَالِحًا، لَأُكَلِّمَنَّ بِهَا النَّاسَ فِي أَوَّلِ مَقَامٍ أَقُومُهُ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَلَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فِي عَقِبِ ذِي الْحِجَّةِ، وَجَاءَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ، هَجَّرْتُ صَكَّةَ الْأَعْمَى لِمَا أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، فَوَجَدْتُ سَعِيدَ بْنَ زَيْدٍ قَدْ سَبَقَنِي بِالتَّهْجِيرِ، فَجَلَسَ إِلَى رُكْنٍ جَانِبَ الْمِنْبَرِ الْأَيْمَنِ، فَجَلَسْتُ إِلَى جَنْبِهِ تَمَسُّ [ص:154] رُكْبَتِي رُكْبَتَهُ، فَلَمْ يَنْشَبْ عُمَرُ أَنْ خَرَجَ، فَأَقْبَلَ يَؤُمُّ الْمِنْبَرَ، فَقُلْتُ لِسَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، وَعُمَرُ مُقْبِلٌ: وَاللَّهِ لَيَقُولَنَّ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى هَذَا الْمِنْبَرِ الْيَوْمَ مَقَالَةً لَمْ يَقُلْهَا أَحَدٌ قَبْلَهُ، فَأَنْكَرَ ذَلِكَ سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ وَقَالَ: مَا عَسَى أَنْ يَقُولَ مَا لَمْ يَقُلْهُ أَحَدٌ قَبْلَهُ؟ فَلَمَّا جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ، أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ، فَلَمَّا أَنْ سَكَتَ، قَامَ عُمَرُ فَتَشَهَّدَ وَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ، قَالَ: أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي قَائِلٌ لَكُمْ مَقَالَةً قَدْ قُدِّرَ لِي أَنْ أَقُولَهَا، لَعَلَّهَا بَيْنَ يَدَيْ أَجْلِي فَمَنْ عَقَلَهَا وَوَعَاهَا، فَلْيُحَدِّثْ بِهَا حَيْثُ انْتَهَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ، وَمَنْ خَشِيَ أَنْ لَا يَعِيَهَا، فَلَا أُحِلُّ لَهُ أَنْ يَكْذِبَ عَلَيَّ: إِنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا، بَعَثَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ، فَكَانَ مِمَّا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ، فَقَرَأْنَاهَا، وَعَقَلْنَاهَا، وَوَعَيْنَاهَا، وَرَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَرَجَمْنَا، بَعْدَهُ، وَأَخْشَى إِنْ طَالَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ أَنْ يَقُولَ قَائِلٌ: وَاللَّهِ مَا نَجِدُ آيَةَ الرَّجْمِ فِي كِتَابِ اللَّهِ، فَيَتْرُكَ فَرِيضَةً أَنْزَلَهَا اللَّهُ، وَإِنَّ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللَّهِ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى إِذَا أُحْصِنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ، إِذَا قَامَتِ الْبَيِّنَةُ، أَوْ كَانَ الْحَبَلُ، أَوِ الِاعْتِرَافُ ثُمَّ إِنَّا قَدْ كُنَّا نَقْرَأُ أَنْ: «لَا تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ، فَإِنَّ كُفْرًا بِكُمْ أَنْ تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ» ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا تُطْرُونِي كَمَا أُطْرِيَ ابْنُ مَرْيَمَ، فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ، فَقُولُوا: عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ» ثُمَّ إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّ فُلَانًا مِنْكُمْ يَقُولُ: وَاللَّهِ لَوْ قَدْ مَاتَ عُمَرُ [ص:155] لَقَدْ بَايَعْتُ فُلَانًا فَلَا يَغُرَّنَّ امْرَأً أَنْ يَقُولَ: إِنْ بَيْعَةَ أَبِي بَكْرٍ كَانَتْ فَلْتَةً فَتَمَّتْ، فَإِنَّهَا قَدْ كَانَتْ كَذَلِكَ، إِلَّا أَنَّ اللَّهَ وَقَى شَرَّهَا، وَلَيْسَ فِيكُمْ مَنْ تُقْطَعُ إِلَيْهِ الْأَعْنَاقُ مِثْلَ أَبِي بَكْرٍ، وَإِنَّهُ كَانَ مِنْ خَيْرِنَا حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِنَّ عَلِيًّا وَالزُّبَيْرَ، وَمَنْ مَعَهُمَا تَخَلَّفُوا عَنَّا، وَتَخَلَّفَتِ الْأَنْصَارُ عَنَّا بِأَسْرِهَا، وَاجْتَمَعُوا فِي سَقِيفَةِ بَنِي سَاعِدَةَ وَاجْتَمَعَ الْمُهَاجِرُونَ، إِلَى أَبِي بَكْرٍ، فَبَيْنَا نَحْنُ فِي مَنْزِلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذْ رَجُلٌ يُنَادِي مِنْ وَرَاءِ الْجِدَارِ: اخْرُجْ إِلَيَّ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، فَقُلْتُ: إِلَيْكَ عَنِّي فَإِنَّا مَشَاغِيلُ عَنْكَ، فقَالَ: إِنَّهُ قَدْ حَدَثَ أَمْرٌ لَا بُدَّ مِنْكَ فِيهِ، إِنَّ الْأَنْصَارَ قَدِ اجْتَمَعُوا فِي سَقِيفَةِ بَنِي سَاعِدَةَ، فَأَدْرِكُوهُمْ قَبْلَ أَنْ يُحْدِثُوا أَمْرًا، فَيَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ فِيهِ حَرْبٌ، فَقُلْتُ لِأَبِي بَكْرٍ: انْطَلِقْ بِنَا إِلَى إِخْوَانِنَا هَؤُلَاءِ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَانْطَلَقْنَا نَؤُمُّهُمْ، فَلَقِيَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ، فَأَخَذَ أَبُو بَكْرٍ بِيَدِهِ، فَمَشَى بَيْنِي وَبَيْنَهُ، حَتَّى إِذَا دَنَوْنَا مِنْهُمْ لَقِينَا رَجُلَانِ صَالِحَانِ فَذَكَرَا الَّذِي صَنَعَ الْقَوْمُ وَ، قَالَا: أَيْنَ تُرِيدُونَ يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ؟ فَقُلْتُ: نُرِيدُ إِخْوَانَنَا مِنْ هَؤُلَاءِ الْأَنْصَارِ، قَالَا: لَا عَلَيْكُمْ أَنْ لَا تَقْرَبُوهُمْ، يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ، اقْضُوا أَمَرَكُمْ، فَقُلْتُ: وَاللَّهِ لَنَأْتِيَنَّهُمْ، فَانْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَاهُمْ، فَإِذَا هُمْ فِي سَقِيفَةِ بَنِي سَاعِدَةَ فَإِذَا بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ رَجُلٌ مُزَّمِّلٌ، فَقُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ، [ص:156] قُلْتُ: فَمَا لَهُ؟ قَالُوا: هُوَ وَجِعٌ، فَلَمَّا جَلَسْنَا، تَكَلَّمَ خَطِيبُ الْأَنْصَارِ، فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ، قَالَ: أَمَّا بَعْدُ، فَنَحْنُ أَنْصَارُ اللَّهِ، وَكَتِيبَةُ الْإِسْلَامِ، وَأَنْتُمْ، يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ، رَهْطٌ مِنَّا، وَقَدْ دَفَّتْ دَافَّةٌ مِنْ قَوْمِكُمْ، قَالَ عُمَرُ: وَإِذَا هُمْ يُرِيدُونَ أَنْ يَخْتَزِلُونَا مِنْ أَصْلِنَا وَيَحُطُّوا بِنَا [مِنْهُ]، قَالَ: فَلَمَّا قَضَى مَقَالَتَهُ، أَرَدْتُ أَنْ أَتَكَلَّمَ، وَكُنْتُ قَدْ زَوَّرْتُ مَقَالَةً أَعْجَبَتْنِي، أُرِيدُ أَنْ أَقُومَ بِهَا بَيْنَ يَدَيْ أَبِي بَكْرٍ، وَكُنْتُ أُدَارِي مِنْ أَبِي بَكْرٍ بَعْضَ الْحِدَّةِ، فَلَمَّا أَرَدْتُ أَنْ أَتَكَلَّمَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: عَلَى رِسْلِكَ، فَكَرِهْتُ أَنْ أُغْضِبَهُ، فَتَكَلَّمَ أَبُو بَكْرٍ، وَهُوَ كَانَ أَحْلَمَ مِنِّي وَأَوْقَرَ، وَاللَّهِ مَا تَرَكَ مِنْ كَلِمَةٍ أَعْجَبَتْنِي فِي تَزْوِيرِي إِلَّا تَكَلَّمَ بِمِثْلِهَا أَوْ أَفْضَلَ فِي بَدِيهَتِهِ حَتَّى سَكَتَ، فَتَشَهَّدَ أَبُو بَكْرٍ، وَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ، قَالَ: أَمَّا بَعْدُ، أَيُّهَا الْأَنْصَارُ، فَمَا ذَكَرْتُمْ فِيكُمْ مِنْ خَيْرٍ، فَأَنْتُمْ أَهْلُهُ، وَلَنْ تَعْرِفَ الْعَرَبُ هَذَا الْأَمْرَ إِلَّا لِهَذَا الْحَيِّ مِنْ قُرَيْشٍ، هُمْ أَوْسَطُ الْعَرَبِ نَسَبًا وَدَارًا، وَقَدْ رَضِيتُ لَكُمْ أَحَدَ هَذَيْنِ الرَّجُلَيْنِ، فَبَايِعُوا أَيُّهُمَا شِئْتُمْ، فَأَخَذَ بِيَدِي وَبِيَدِ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ فَلَمْ أَكْرَهْ مِنْ مَقَالَتِهِ غَيْرَهَا، كَانَ وَاللَّهِ أَنْ أُقَدَّمَ فَتُضْرَبَ عُنُقِي لَا يُقَرِّبُنِي ذَلِكَ إِلَى إِثْمٍ، أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ [ص:157] أُؤَمَّرَ عَلَى قَوْمٍ فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ، إِلَّا أَنْ تَغَيَّرَ نَفْسِي عِنْدَ الْمَوْتِ فَلَمَّا قَضَى أَبُو بَكْرٍ مَقَالَتَهُ، قَالَ قَائِلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ: أَنَا جُذَيْلُهَا الْمُحَكَّكُ، وَعُذَيْقُهَا الْمُرَجَّبُ، مِنَّا أَمِيرٌ وَمِنْكُمْ أَمِيرٌ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ، قَالَ عُمَرُ: فَكَثُرَ اللَّغَطُ، وَارْتَفَعَتِ الْأَصْوَاتُ، حَتَّى أَشْفَقْتُ الِاخْتِلَافَ، قُلْتُ: ابْسُطْ يَدَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ، فَبَسَطَ أَبُو بَكْرٍ يَدَهُ، فَبَايَعَهُ وَبَايَعَهُ الْمُهَاجِرُونَ وَالْأَنْصَارُ، وَنَزَوْنَا عَلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، فقَالَ قَائِلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ: قَتَلْتُمْ سَعْدًا، قَالَ عُمَرُ: فَقُلْتُ، وَأَنَا مُغْضَبٌ: قَتَلَ اللَّهُ سَعْدًا فَإِنَّهُ صَاحِبُ فِتْنَةٍ وَشَرٍّ، وَإِنَّا وَاللَّهِ مَا رَأَيْنَا فِيمَا حَضَرَ مِنْ أَمْرِنَا أَمْرٌ أَقْوَى مِنْ بَيْعَةِ أَبِي بَكْرٍ، فَخَشِينَا إِنْ فَارَقْنَا الْقَوْمَ قَبْلَ أَنْ تَكُونَ بَيْعَةٌ، أَنْ يُحْدِثُوا بَعْدَنَا بَيْعَةً، فَإِمَّا أَنْ نُبَايِعَهُمْ عَلَى مَا لَا نَرْضَى وَإِمَّا أَنْ نُخَالِفَهُمْ، فَيَكُونُ فَسَادًا، فَلَا يَغْتَرَّنَّ امْرٌؤٌ أَنْ يَقُولَ: إِنَّ بَيْعَةَ أَبِي بَكْرٍ كَانَتْ فَلْتَةً فَتَمَّتْ، فَقَدْ كَانَتْ فَلْتَةً، وَلَكِنَّ اللَّهَ وَقَى شَرَّهَا، أَلَا وَإِنَّهُ لَيْسَ فِيكُمُ الْيَوْمَ مِثْلُ أَبِي بَكْرٍ قَالَ مَالِكٌ: أَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ أَخْبَرَهُ أَنَّ الرَّجُلَيْنِ الْأَنْصَارِيَّيْنِ اللَّذَيْنِ لَقِيَا الْمُهَاجِرِينَ هُمَا: عُوَيْمُ بْنُ سَاعِدَةَ، وَمَعْنُ بْنُ عَدِيٍّ وَزَعَمَ مَالِكٌ أَنَّ الزُّهْرِيَّ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ [ص:158] الْمُسَيِّبِ يَزْعُمُ أَنَّ الَّذِي، قَالَ يَوْمَئِذٍ: «أَنَا جُذَيْلُهَا الْمُحَكَّكُ» رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ، يُقَالُ لَهُ: حُبَابُ بْنُ الْمُنْذِرِ
رقم طبعة با وزير = (415) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُ عُمَرَ: «إِنَّ بَيْعَةَ أَبِي بَكْرٍ كَانَتْ فَلْتَةً وَلَكِنَّ اللَّهَ وَقَى شَرَّهَا» يُرِيدُ أَنَّ بَيْعَةَ أَبِي بَكْرٍ كَانَ ابْتِدَاؤُهَا مِنْ غَيْرِ مَلَأٍ، وَالشَّيْءُ الَّذِي يَكُونُ عَنْ غَيْرِ مَلَأٍ، يُقَالُ لَهُ: «الْفَلْتَةُ» وَقَدْ يُتَوَقَّعُ فِيمَا لَا يَجْتَمِعُ عَلَيْهِ الْمَلَأُ الشَّرُّ، فقَالَ: «وَقَى اللَّهُ شَرَّهَا» يُرِيدُ الشَّرَّ الْمُتَوَقَّعَ فِي الْفَلَتَاتِ، لَا أَنَّ بَيْعَةَ أَبِي بَكْرٍ كَانَ فِيهَا شَرٌّ. [1: 101]




আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর খিলাফত কালে আব্দুর রহমান বিন ‘আউফ রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুকে (কুরআন) পড়াতাম। কুরআন পাঠকালে আব্দুর রহমান বিন ‘আউফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যতোটা শিহরিত হয়ে যেতেন, অতটা অন্য কেউ শিহরিত হতো না। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “একদিন আমি আব্দুর রহমান বিন ‘আউফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ফলে আমি তাঁর বাড়িতে অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় তিনি উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছ থেকে আসেন। যখন তিনি ফিরে আসেন, তখন আমাকে বলেন, “আপনি যদি এক্ষুণি এক ব্যক্তিকে দেখতেন, যে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে এই এই বলেছে! এসময় উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জীবনের শেষ হজ্জে মিনায় ছিলেন। তখন আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলেন, “এক ব্যক্তি উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে বলেন, “এক ব্যক্তি বলেছে যে, “যদি উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মারা যান, তবে আমি ওমুক ব্যক্তির হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবো। এই খবর উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে পৌঁছলে, উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু তখন বলেন: “আমি সন্ধায় মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে এদের সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করবো, যারা মুসলিম উম্মাহর (খিলাফতের) বিষয়টি ছিনিয়ে নিতে চায়।” তখন আব্দুর রহমান রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু বলেন, “আমি বললাম: হে আমিরুল মু‘মিনুন, আজকের এই দিনে এমনটি করবেন না। কেননা সময়টি হজ্জের মৌসুম, এই সময় উচ্ছৃংখল, নিম্নশ্রেণির অনেক সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়। এই লোকগুলোই আপনার মাজলিসে বেশি থাকবে। আমার আশংকা হয় যে, আজ যদি আপনি এদের মাঝে বক্তব্য প্রদান করেন, তবে এরা আপনার বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যাবে, তারা আপনার কথা যথাস্থানে ব্যবহার করবে না। মদীনায় যাওয়া পর্যন্ত আপনি বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ মদীনা হলো হিজরত ও সুন্নাহর জায়গা, এখানে আপনি খাস করে উলামা ও সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে ইচ্ছামত কথা বলতে পারবেন, তারা আপনার কথা বুঝবে, সংরক্ষন করবে এবং সেটাকে তারা যথাস্থানে প্রয়োগ করবে।” উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু বলেন: “আল্লাহ চাহে তো যদি আমি মদীনায় নিরাপদে পৌঁছি, তবে সর্বপ্রথম আমি এই বিষয়েই আলোচনা করবো।” আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুমা বলেন, “অতঃপর যিলহজ্জ মাসের শেষের দিকে যখন আমরা মদীনায় পৌঁছলাম, এবং যখন শুক্রবার সমাগত হলো, তখন আমি অন্ধ ব্যক্তির মতো (অর্থাৎ সময় হয়েছে কি হয় নাই তার পরোওয়া না করে) তাড়াতাড়ি মসজিদে গেলাম, সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম যে, সা‘ঈদ বিন যাইদ আমার আগেই এসেছেন এবং তিনি মিম্বারের ডান পাশের দিকে বসেছেন। আমি গিয়ে তার পাশে বসলাম, আমার হাঁটুর সাথে তাঁর হাটু লাগছিল। একটু পরেই উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু মিম্বারের দিকে আসেন। উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু মিম্বার অভিমুখে আসছেন এমন সময় আমি সা‘ঈদ রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুকে বললাম, “আজ তিনি মিম্বারে এমন কথা বলবেন, যা তাঁর পূর্বে কেউ কখনই বলেননি।” সা‘ঈদ রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু আমার কথাকে অস্বীকার করেন এবং বলেন, “তিনি এমন কী কথা বলতে পারেন, যা তাঁর পূর্বে কেউ বলেননি?” উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু মিম্বারে যখন বসেন, তখন মুয়ায্যিন আযান দেন। যখন আযান শেষ করেন, তখন উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু দাঁড়ান, শাহাদাহ পাঠ করেন এবং আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণকীর্তন করেন। তারপর বলেন: “অতঃপর, আজ আমি আপনাদের সামনে একটি কথা বলবো, যা বলা আমার ভাগ্যে নির্ধারিত ছিল। হতে পারে এটি আমার মৃত্যুর পুর্বক্ষণ। কাজেই যে ব্যক্তি তা অনুধাবন করতে পারবে, এবং সংরক্ষণ করতে পারবে, সে যেন তা অন্যের কাছে বর্ণনা করে, তার বাহন তাকে যে পর্যন্ত নিয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি এই আশংকা করবে যে, সে তা সংরক্ষন করতে পারেনি, তার জন্য আমি বৈধ মনে করি না যে, সে আমার নামে মিথ্যা কথা বলবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, তিনি তাঁর উপর যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন, তার মধ্যে রজমের আয়াত ছিল। আমরা তা পাঠ করেছি, অনুধাবন করেছি এবং সংরক্ষন করেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে রজম বাস্তবায়ন করেছেন এবং তাঁর পরে আমরাও রজম বাস্তবায়ন করেছি। আমার আশংকা হয় যে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর কেউ হয়তো বলবে, “আল্লাহর কসম, আমরা তো আল্লাহর কিতাবে রজমের আয়াত পাচ্ছি না।” ফলে তারা আল্লাহর নাযিলকৃত একটি ফরয বিধান পরিত্যাগ করবে। আল্লাহর কিতাবে রজম সত্য এটি তাদের উপর প্রযোজ্য হবে বিবাহিত নারী-পুরুষের মাঝে যারা ব্যভিচার করবে, যখন প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হবে অথবা কোন নারী স্বামী ছাড়া গর্ভবতী হবে অথবা কেউ ব্যভিচারের কথা স্বীকার করবে। কুরআনে আরো ছিল, “তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। কেননা পিতৃপুরষদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কুফরি।” তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আমার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে না, যেভাবে খ্রীষ্টানরা মরিয়ম তনয় ‘ঈসা আলাইহিস সালাম এর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছিল। নিশ্চয়ই আমি একজন বান্দা। কাজেই তোমরা বলবে, “আল্লাহর বান্দা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” অতঃপর আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আপনাদের মাঝে ওমুক ব্যক্তি বলেছে যে, “আল্লাহর কসম, যদি উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু মারা যান, তাহলে আমি ওমুকের কাছে বাইয়াত গ্রহণ করবো।” কোন ব্যক্তি যেন এর মাধ্যমে ধোঁকা না খেয়ে বলে যে, আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর বাইয়াত গ্রহণ আকস্মিক ছিল। অতঃপর সেটি পূর্ণতা পেয়েছে। জেনে রাখুন যে, তাঁর ব্যাপারটি এমন ছিল ঠিকই কিন্তু মহান আল্লাহ এর অনিষ্টতা থেকে রক্ষা করেছেন। আর আপনাদের মাঝে বর্তমানে এমন মানুষ নেই যার কাছে আবু বকরের মত মানুষ তাদের গর্দান সমর্পন করবে। নিশ্চয়ই যেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মৃত্যু বরণ করেন, সেদিনও তিনি আমাদের মাঝে সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন। আলী, যুবাইর এবং তাঁদের সাথে যারা ছিলেন, তাঁরা আমাদের থেকে পিছে থাকেন। পুরো আনসাররাও পিছে থাকেন এবং তাঁরা বানু সা‘ঈদা গোত্রের ছাদের নিচে সমবেত হন। আর মুহাজিরগণ আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর কাছে একত্রিত হন। আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গৃহে ছিলাম এমন সময় এক ব্যক্তি দেয়ালের পিছন থেকে ডাকছিলেন, “হে উমার বিন খাত্তাব রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু, আপনি বাইরে আসুন।” আমি বললাম, “তুমি আমার থেকে দূর হও। কারণ তোমার কাছে যাওয়ার চেয়ে আমাদের এখানে অনেক ব্যস্ততা রয়েছে।” তিনি বলেন, “এক ঘটনা ঘটে গেছে, আর সেখানে আপনাকে অবশ্যই যেতে হবে। আনসারগণ বানু সা‘ঈদা গোত্রের ছাদের নিচে একত্রিত হয়েছেন, কাজেই কিছু ঘটার আগেই তাদের কাছে যান। অন্যথায় পরে আপনাদের ও তাঁদের মাঝে এই নিয়ে যুদ্ধ হতে পারে!” আমি তখন আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুকে বললাম, “আপনি আমাদের নিয়ে আমাদের এই আনসার ভাইদের নিকট নিয়ে চলুন।” অতঃপর আমরা তাঁদের উদ্দেশ্যে চললাম। আমাদের সাথে আবু উবাইদাহ ইবনুল জার্রাহ রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাৎ হলো। আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু তাঁর হাত ধরলেন। অতঃপর তিনি আমার ও তাঁর মাঝে চলতে লাগলেন। এভাবে যখন আমরা তাঁদের কাছাকাছি পৌঁছলাম, তখন দুইজন সৎ ব্যক্তির সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়। তাঁরা দুইজন (আনসারী) কওমের ক্রিয়াকলাপ আমাদেরকে জানালেন। তাঁরা বললেন: “হে মুহাজির সম্প্রদায়, আপনারা কোথায় যাচ্ছেন?” আমি বললাম: “আমাদের আনসার ভাইদের কাছে যাচ্ছি।” তাঁরা বলেন: “হে মুহাজির সম্প্রদায়, আপনারা যদি তাঁদের কাছে না যান, এটা আপনাদের জন্য কোন দূষনীয় হবে না। আপনারা আপনাদের কাজ সম্পাদন করুন।” আমি বললাম: “আল্লাহর কসম, অবশ্যই আমরা তাঁদের কাছে যাবো।” অতঃপর আমরা তাঁদের কাছে গেলাম। আমরা দেখতে পেলাম যে, তাঁরা বানু সা‘ঈদা গোত্রের ছাদের নিচে সমবেত হয়েছেন। আমরা আরো দেখতে পেলাম যে, তাঁদের মাঝে এক ব্যক্তি চাদরাবৃত। আমি বললাম: “ইনি কে?” তাঁরা জবাব দিলেন: “সা‘দ বিন ‘উবাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু।” আমি বললাম: “তাঁর কী হয়েছে?” তাঁরা বললেন: “তিনি পীড়িত।” এরপর যখন আমরা বসলাম, তখন আনসার ভাষ্যকার বক্তব্য দিলেন। তিনি আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন। তারপর বললেন: “অতঃপর, আমরা আনসারুল্লাহ (আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যকারী), ইসলামের সেনাবাহিনী। হে মুহাজির সম্প্রদায়, আপনারা আমাদের একটি দল। আপনাদের কিছু লোক তাঁরা খিলাফত নিয়ে নিতে চাচ্ছে।” উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তাঁরা আমাদেরকে মূল থেকে বের করে দিতে চাচ্ছে এবং আমাদেরকে সেখান থেকে নামিয়ে দিতে চাচ্ছে। তিনি বলেন: উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু বলেন, যখন তিনি বক্তব্য শেষ করলেন, তখন আমি কথা বলতে উদ্যত হলাম। আমি সুন্দর, চমকপ্রদ কিছু কথা প্রস্তুত করেছিলাম আবু বকরের উপস্থিতিতে বলার জন্য, আমি তা বলে এই ব্যাপারে তাঁদের রাগ-ক্ষোভ কিছুটা কমাতে। যখন আমি কথা বলার জন্য উদ্যত হলাম, তখন আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু বললেন: “থামুন।” আমি তাঁকে রাগাতে অপছন্দ করলাম। ফলে তিনি কথা বললেন। তিনি আমার চেয়ে বেশি ধৈর্যশীল ও গুরুগম্ভীর ছিলেন। আল্লাহর কসম, আমি বলার জন্য যেসব চমকপ্রদ কথা প্রস্তুত করেছিলাম তার একটি কথাও তিনি ছাড়েননি বরং সব কথাই তিনি আমার মতো অথবা তার চেয়েও উত্তমভাবে উপস্থিত বাকপটুতায় বলেন। তিনি শাহাদাহ পাঠ করেন এবং আল্লাহর যথাযোগ্য গুণকীর্তন করলেন। তারপর বললেন, আম্মা বা‘দ, হে আনসার সম্প্রদায়, আপনারা নিজেদের যে কল্যানের কথা বললেন, আপনারা সেটার উপযুক্ত। তবে নেতৃত্বের ব্যাপারটি আরবরা কুরাইশদের এই গোত্র ছাড়া অন্য কারো জন্য হওয়ার সাথে পরিচিত নয়। তাঁরা আরবদের মাঝে আবাসস্থল ও বংশীয় দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ। আমি আপনাদের জন্য এই দুই ব্যক্তির যে কোন একজনকে মনোনিত করছি। আপনারা আপনাদের ইচ্ছামত তাদের যে কোন একজনের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করুন।” এই বলে তিনি আমার ও আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুমা এর হাত ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে যা কিছু বলেছেন এই কথাটা ছাড়া আর কোন কিছুই আমার খারাপ লাগেনি। আল্লাহর কসম, পাপ হবে না- এমন কোন বিষয়ে আমাকে আগে পাঠানো হয় অতঃপর আমার শিরোচ্ছেদ করা হবে- সেটা আমার কাছে অধিকতর বেশি পছন্দনীয় এমন কওমের আমীর হওয়ার চেয়ে, যাদের মাঝে আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বিদ্যমান আছেন! তবে মৃত্যুর সময় যদি আমার মনের অবস্থার পরিবর্তন হয়, সেটা ভিন্ন কথা! অতঃপর আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু যখন বক্তব্য শেষ করলেন, তখন আনসারী এক যুবক বললেন: “আমি এমন এক পিলার যাতে খোশ-পাঁচড়াযুক্ত উট তাদের অসুখ নিরাময়ের জন্য এতে গা ঘষে। (অর্থাৎ আমি উচ্চবংশজাত) আমি খেজুরবিশিষ্ট্য এমন গাছ, যা পতিত হওয়া থেকে রক্ষার জন্য সহযোগী রয়েছে। (অর্থাৎ সাহায্য-সহযোগিতা ও প্রতিরোধ করার জন্য আমার বংশ-বুনিয়াদ রয়েছে) (আমার মত হলো) আমাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হোক আর আপনাদের মধ্য থেকে একজন আমীর হোক। ”উমার রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু বলেন: “এরপর হৈচৈ বেড়ে যায় আমি আরো বেশি মতানৈক্য হওয়ার আশংকা করলাম। ফলে আমি বললাম: “হে আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহু, আপনার হাত বাড়িয়ে দিন।” তিনি হাত বাড়িয়ে দিলেন। আমি তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করলাম। এরপর মুহাজির ও আনসারগণও তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। এভাবে আমরা সা‘দ বিন ‘উবাদাহ রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর উপর বিজয় লাভ করি।” এসময় তাঁদের মাঝে এক ব্যক্তি বললেন যে, আপনারা তো সা‘দ রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুকে মেরে ফেললেন।” তখন আমি রাগের বশবর্তী হয়ে বললাম: “আল্লাহ সা‘দকে মেরে ফেলুন। কারণ সে ক্ষতি ও ফিতনা সৃষ্টি করতে চায়। আল্লাহর কসম, বর্তমান এই সময়ে আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আর কোন কিছুকে মনে করিনি। আমরা আশংকা করেছিলাম, বাইয়াত গ্রহণ করার আগে যদি আমরা লোকজনকে আপন অবস্থায় ছেড়ে দেই, তাহলে তারা আমাদের অনুপস্থিতিতে বাইয়াত গ্রহণ করবে, তখন হয়তো আমাদের পছন্দ না সত্তেও তার হাতে আমাদের বাইয়াত নিতে হবে নতুবা তাদের বিরোধিতা করতে হবে, তখন মতবিরোধ ও দ্বন্দ শুরু হবে। কাজেই কেউ যেন ধোঁকাগ্রস্থ হয়ে এমনটা না বলে যে, আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর বাইয়াত গ্রহণ আকস্মিক ছিল এবং সেটি পূর্ণতা পেয়েছে। জেনে রাখুন যে, সেটি আকস্মিক ছিল ঠিকই কিন্তু মহান আল্লাহ এর অনিষ্টতা থেকে রক্ষা করেছেন। আর আপনাদের মাঝেও বর্তমানে আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর মত মানুষ নেই।”[1] ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমাকে ইমাম যুহরী বর্ণনা করেছেন যে, ‘উরওয়া বিন যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, দুইজন আনসারী ব্যক্তি যারা মুহাজিরদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, তারা হলেন ‘উআইম বিন সা‘ঈদা এবং মা‘ন বিন ‘আদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা। ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ইমাম যুহরী রহিমাহুল্লাহ সা‘ঈদ বিন মুসাইয়িব রহিমাহুল্লাহর কাছে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, যিনি বলেছিলেন যে, “আমি এমন এক পিলার যাতে খোশ-পাঁচড়াযুক্ত উট তাদের অসুখ নিরাময়ের জন্য এতে গা ঘষে। (অর্থাৎ আমি উচ্চবংশজাত)” তিনি বানু সালিমাহ গোত্রের লোক, তাঁর নাম হুবাব বিন মুনযির। . আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর বাইয়াত গ্রহণ আকস্মিক ঠিকই কিন্তু মহান আল্লাহ এর অনিষ্টতা থেকে রক্ষা করেছেন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর বাইয়াতের সূচনা বহু লোকের মাধ্যমে হয়নি। আর যে জিনিস অনেক লোকের মাধ্যমে হয়না, তাকে আকস্মিক বলা হয়। যে বিষয়ে অনেক লোক একত্রিত হয় না, তাতে মন্দ কিছু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য তিনি বলেছেন, “আল্লাহ এর অনিষ্টতা থেকে রক্ষা করেছেন” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আকস্মিক ঘটনায় মন্দ কিছু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেটি। এর দ্বারা এমনটা উদ্দেশ্য নয় যে, আবু বকর রাদ্বিয়া্ল্লাহু আনহুর বাইয়াত এর মাঝে অনিষ্টতা রয়েছে।”

[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২/৮২৩; মুসনাদ আহমাদ: ১/৫৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২৩৩৮)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (415)


415 - أَخْبَرَنَا حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، قَالَ: لَمَّا ادُّعِيَ زِيَادٌ، لَقِيتُ أَبَا بَكْرَةَ، فَقُلْتُ: مَا هَذَا الَّذِي [ص:159] صَنَعْتُمْ؟ إِنِّي سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، يَقُولُ: سَمِعَ أُذُنَايَ، وَوَعَاهُ قَلْبِي، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنِ ادَّعَى أَبًا فِي الْإِسْلَامِ، وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ، فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ»، فقَالَ أَبُو بَكْرَةَ: وَأَنَا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. [3: 19]
رقم طبعة با وزير = (416)




আবু ‍উসমান (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিয়াদের ব্যাপারে দাবী করা হয়, তখন আমি আবু বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তাকে বলি: “আপনারা এসব কী করছেন? আমি সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমার দুই কান শ্রবণ করেছে, আমার অন্তর হৃদয়ঙ্গম করেছে; নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ইসলামে কাউকে বাবা দাবী করে, অথচ সে জানে যে সে ব্যক্তি তার বাবা নয়, তবে তার জন্য জান্নাত হারাম।” তখন আবু বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “এটি আমিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি।”[1]

[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪৬; সহীহ মুসলিম: ৬৩; সুনান বাইহাকী: ৭/৪০৩; আবু আওয়ানা: ২/৩০; সহীহ আল বুখারী: ৪৩২৬; দারেমী: ২/২৪৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২৩৭৬; ইবনু মাজাহ: ২৬১০; আবু দাউদ: ৫১১৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (গায়াতুল মারাম: ২৬৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «غاية المرام» (267): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين، خالد هو ابن مهران الحذاء، وأبو عثمان هو عبد الرحمن بن مل النهدي.









সহীহ ইবনু হিব্বান (416)


416 - أَخْبَرَنَا شَبَابُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ، وَوَعَاهُ قَلْبِي مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: «مَنِ ادَّعَى أَبًا فِي الْإِسْلَامِ، وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ، فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ»، قَالَ: فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِأَبِي بَكْرَةَ، قَالَ وَأَنَا سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ، وَوَعَاهُ قَلْبِي مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. [2: 109]
رقم طبعة با وزير = (417)




সা‘দ বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার দুই কান শ্রবণ করেছে, আমার অন্তর হৃদয়ঙ্গম করেছে; নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ইসলামে কাউকে বাবা দাবী করে, অথচ সে জানে যে সে ব্যক্তি তার বাবা নয়, তবে তার জন্য জান্নাত হারাম।” তখন আবু বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “এটি আমিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি।” তিনি বলেন, আমি হাদীসটি আবু বাকরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললে, তিনি বলেন, এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আমার দুই কান শ্রবণ করেছে, আমার অন্তর হৃদয়ঙ্গম করেছে।”[1]

[1] সহীহ আল বুখারী: ৬৭৬৬; সুনানু বাইহাকী: ৭/৪০৩; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৮১; সহীহ মুসলিম: ১৩৭০; আবু দাউদ: ৫১১৫; আত তায়ালিসী: ২২৭৪; ইবনু মাজাহ: ২৬১১; মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ১/৯৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (গায়াতুল মারাম: ২৬৭)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، وهب بن بقية من رجال مسلم، ومن فوقه ثقات على شرطهما، خالد الأول هو ابن عبد الله الواسطي الطحان، وخالد الثاني هو ابن مهران الحذاء.









সহীহ ইবনু হিব্বান (417)


417 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَفَّانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ، أَوْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ، فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ، وَالْمَلَائِكَةِ، وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ». [2: 109]
رقم طبعة با وزير = (418) و (4300)




আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার বাবা ব্যতিত অন্য কোন ব্যক্তিকে বাবা দাবী করবে, অথবা নিজের মুনীব ব্যতিত অন্য কাউকে নিজের মুনীব হিসেবে গ্রহণ করবে, তার উপর আল্লাহ, ফেরেস্তা ও সমস্ত মানুষের লা‘নত বর্ষিত হবে।”[1]

[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/৩১৮, ৩২৮; ইবনু মাজাহ: ২৬০৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ৩/৮৮।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: تنبيه!! هذا الحديث تكرر في «طبعة باوزير» في موضعين الموضع الأول (418) وقال عنه الشيخ: صحيح - «التعليق الرغيب» (3/ 88). الموضع الثاني (4300) وقال عنه الشيخ: صحيح - انظر التعليق. وقال الشيخ في التعليق: [قال المعلق على «الأصل»: إلى هنا استدركنا من «موارد الظمآن» قلت: هذا استدراك لا وجه له في العلم، وما يدريه أن هذا هو محله؟! وقد وضعه المؤلف فيما تقدم من كتاب «البر والإحسان» (1/ 324 / 418)]. - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، عبد الله بن عثمان بن خثيم من رجال مسلم، وباقي السند على شرطهما.









সহীহ ইবনু হিব্বান (418)


418 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حِبَّانُ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ أُسَيْدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عُبَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ، قَالَ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ، وَأَنَا عِنْدَهُ، فقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَبَوَيَّ قَدْ هَلَكَا، فَهَلْ بَقِيَ لِي بَعْدَ مَوْتِهِمَا مِنْ بِرِّهِمَا شَيْءٌ؟، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ، الصَّلَاةُ عَلَيْهِمَا، وَالِاسْتِغْفَارُ لَهُمَا، وَإِنْفَاذُ عُهُودِهِمَا مِنْ بَعْدِهِمَا، وَإِكْرَامُ صَدِيقِهِمَا، وَصِلَةُ رَحِمِهِمَا الَّتِي لَا رَحِمَ لَكَ إِلَّا مِنْ قِبَلِهِمَا»، قَالَ الرَّجُلُ: مَا أَكْثَرَ هَذَا، يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَأَطْيَبَهُ، قَالَ: «فَاعْمَلْ بِهِ». [1: 2]
رقم طبعة با وزير = (419)




আবু উসাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে বানু সালিমাহ গোত্রের একজন ব্যক্তি আসলেন, এসময় আমি তাঁর কাছেই ছিলাম। তিনি বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার বাবা-মা মারা গেছেন, তাদের মৃত্যু বরণ করার পর তাদের সাথে আমার সদাচারণ করার কোন কিছু বাকি আছে কি?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “হ্যাঁ। তাদের জন্য দু‘আ করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাদের পরে তাদের কৃত চুক্তি-ওয়াদা-অঙ্গিকার বাস্তবায়ন করা, তাদের বন্ধুদের সম্মান করা ও তাদের রক্ত সর্ম্পকীয় ব্যক্তি; যারা কেবল তাদের দিক দিয়েই তোমার রক্ত সর্ম্পকীয়- তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।” তখন সে লোকটি বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এই হকগুলো কতইনা বেশি এবং সুন্দর!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তুমি এগুলো অনুযায়ী কাজ করো।”[1]

[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৯৭; আবু দাউদ: ৫১৪২; ইবনু মাজাহ: ৩৬৬৪; আদাবুল মুফরাদ: ৩৫; তাবারানী আল কাবীর: ১৯/৫৯২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ য‘ঈফ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে য‘ঈফ বলেছেন। (আয য‘ঈফাহ: ৫৯৭।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: ضعيف - «الضعيفة» (597).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: علي بن عبيد مجهول، لم يوثقه غير المؤلف، ولم يرو عنه سوى ابنه أسيد، وباقي رجاله ثقات. حبان: هو ابن موسى، وعبد الله: هو ابن المبارك. وعبد الرحمن بن سليمان: هو ابنُ الغسيل. ومع ذلك فقد صححه الحاكم 4/ 154، ووافقه الذهبي.









সহীহ ইবনু হিব্বান (419)


419 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ الْحَافِظُ السَّرَّادُ بِتُسْتُرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ الْبَحْرَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالُوا: حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ [وَقَدْ أَسْلَم] *، فقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُبَايِعَكَ عَلَى الْهِجْرَةِ، وَتَرَكْتُ أَبَوَيَّ يَبْكِيَانِ، فقَالَ: «ارْجِعْ إِلَيْهِمَا، فَأَضْحِكْهُمَا كَمَا أَبْكَيْتَهُمَا». [1: 2]
رقم طبعة با وزير = (420)




আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি আপনার কাছে হিজরতের বাইয়াত নিতে চাচ্ছি কিন্তু আমার বাবা-মা কান্না করছে!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তুমি তোমার বাবা-মার কাছে ফিরে যাও। অতঃপর তুমি তাদেরকে হাসাও, যেভাবে তুমি তাদের কাঁদিয়েছিলে।”[1]

[1] হুমাইদী: ৫৮৪; মুসনাদ আহমাদ: ২/১৯৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯২৮৫; আবু দাউদ: ২৫২৮; আদাবুল মুফরাদ: ১৯; সুনান বাইহাকী: ৯/২৬; হাকিম: ৪/১৫২; নাসাঈ: ৭/১৪৩; ইবনু মাজাহ: ২৭৮২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবু দাউদ: ২২৮১।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2281). [وَقَدْ أَسْلَم] قال الشيخ: ما بين المعقوفين سقط من الأصل، وهي زيادة في الحديث (424). تنبيه!! رقم (424) = (423) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، عطاء بن السائب اختلط بأخرة، إلا أن رواية سفيان الثوري عنه قديمة قبل اختلاطه، وكذا حماد بن سلمة.









সহীহ ইবনু হিব্বান (420)


420 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ وَهُوَ السَّائِبُ بْنُ فَرُّوخٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أُجَاهِدُ؟، فقَالَ: «لَكَ أَبَوَانِ؟ »، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ». [1: 2]
رقم طبعة با وزير = (421)




আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি জিহাদ করতে চাই।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমার বাবা-মা কি (বেঁচে) আছেন?” সে বললো: “জ্বী, হ্যাঁ।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তুমি তাদের মাঝেই জিহাদ করো। (তোমার সাধ্যমত তাদের খেদমত করো, এটাই তোমার জন্য জিহাদ সমতূল্য হবে)”[1]

[1] সহীহ আল বুখারী: ৫৯৭২; আবু দাউদ: ২৫২৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৯২৮৪। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ১১৯৯।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (1199): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.