হাদীস বিএন


সহীহ ইবনু হিব্বান





সহীহ ইবনু হিব্বান (641)


641 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ حَيَّانَ أَبِي النَّضْرِ، قَالَ خَرَجْتُ عَائِدًا لِيَزِيدَ بْنِ الْأَسْوَدِ فَلَقِيتُ وَاثِلَةَ بْنَ الْأَسْقَعِ وَهُوَ يُرِيدُ عِيَادَتَهُ، فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ، فَلَمَّا رَأَى وَاثِلَةَ، بَسَطَ يَدَهُ، وَجَعَلَ يُشِيرُ إِلَيْهِ، فَأَقْبَلَ وَاثِلَةُ حَتَّى جَلَسَ، فَأَخَذَ يَزِيدُ بِكَفَّيْ وَاثِلَةَ، فَجَعَلَهُمَا عَلَى وَجْهِهِ، فقَالَ لَهُ وَاثِلَةُ: كَيْفَ ظَنُّكَ بِاللَّهِ؟، قَالَ: ظَنِّي بِاللَّهِ وَاللَّهِ حَسَنٌ، قَالَ: فَأَبْشِرْ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «قَالَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي إِنْ ظَنَّ خَيْرًا، وَإِنْ ظَنَّ شَرًّا». [1: 95]
رقم طبعة با وزير = (640)




হাইয়্যান আবুন নাযর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইয়াযিদ বিন আসওয়াদকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে যাই। অতঃপর আমি ওয়াসিলা বিন আশকা‘ এর সাথে সাক্ষাৎ করি, তিনিও তাকে দেখতে এসেছিলেন। অতঃপর আমরা তার কাছে গমন করলাম। তিনি যখন ওয়াসিলাকে দেখলেন, তখন তিনি তাঁর দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন এবং তাঁর দিকে ইশারা করতে লাগলেন। ফলে ওয়াসিলা তার কাছে গিয়ে বসলেন। ইয়াযিদ ওয়াসিলার হাত ধরলেন এবং হাত দুটি তার মুখের উপর রাখলেন। তখন ওয়াসিলা তাকে বললেন: “আল্লাহর ব্যাপারে আপনার ধারণা কেমন?” জবাবে তিনি বলেন: “আল্লাহর কসম! আল্লাহর ব্যাপারে আমার ধারণা ভালো।” তখন ওয়াসিলা তাকে বললেন: “আপনি শুভ সংবাদ গ্রহণ করুন। কেননা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “আমার ব্যাপারে আমার বান্দার ধারণা মোতাবেক আমি (আচরণ করে) থাকি, চাই সে ভালো ধারণা করুক অথবা মন্দ ধারণা করুক।”[1]

[1] তাবারানী, আল কাবীর: ২২/২০৯। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৬৬৩।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - وهو مكرر (632). تنبيه!! رقم (632) = (633) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.









সহীহ ইবনু হিব্বান (642)


642 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، [ص:408] عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَحَدٌ أَصْبَرَ عَلَى أَذًى يَسْمَعُهُ مِنَ اللَّهِ، يَجْعَلُونَ لَهُ نِدًّا وَيَجْعَلُونَ لَهُ وَلَدًا، وَهُوَ فِي ذَلِكَ يَرْزُقُهُمْ وَيُعَافِيهِمْ وَيُعْطِيهِمْ». [3: 66]
رقم طبعة با وزير = (641)




আব্দুল্লাহ বিন কাইস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কষ্টদায়ক কথা শুনে ধৈর্যধারন করার ক্ষেত্রে আল্লাহর চেয়ে অধিক ধৈর্যধারনকারী আর কেউ নেই। মানুষ তাঁর সমকক্ষ নির্ধারণ করে, তাঁর সন্তান সাব্যস্ত করে, তা সত্ত্বেও তিনি তাদেরকে রিযিক দেন, সুস্থতা-নিরাপত্তা দেন এবং তাঁর নায-নি‘আমত দান করেন।”[1]

[1] বুখারী, আল আদাব: ৬০৯৯; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা (তুহফাতুল আশরাফ: ৬/৪২৬); মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৯৫, সহীহ আল বুখারী: ৭৩৭৮। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ১৬৬৩।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري، أبو عبد الرحمن السلمي: هو عبد الله بن حبيب بن ربيعة الكوفي المقرئ، ثقة ثبت.









সহীহ ইবনু হিব্বান (643)


643 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ أَنَّ أَبَا النَّضْرِ حَدَّثَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ لَمَّا قُبِرَ، قَالَتْ أُمُّ الْعَلَاءِ: طِبْتَ أَبَا السَّائِبِ فِي الْجَنَّةِ، فَسَمِعَهَا نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فقَالَ: «مَنْ هَذِهِ»؟ فَقَالَتْ: أَنَا يَا نَبِيَّ اللَّهِ، قَالَ: «وَمَا يُدْرِيكِ»؟، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَجَلْ عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ، مَا رَأَيْنَاهُ إِلَّا خَيْرًا، وَهَا أَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاللَّهِ مَا أَدْرِي مَا يُصْنَعُ بِي» ، [ص:410] قَالَ عَمْرٌو: وَسَمِعَهُ أَبُو النَّضْرِ مِنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِيهِ. [3: 15]
رقم طبعة با وزير = (642)




আবুন নাযর রহিমাহুল্লাহ বলেন, যখন উসমান বিন মাযঊন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে কবরস্থ করা হয়, তখন উম্মুল ‘আলা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: “হে আবুস সাইব (এটি উসমান বিন মাযঊন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর উপনাম), আপনি তো জান্নাতে সুখের জীবন লাভ করলেন!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কথা শুনে বললেন: “কে এই মহিলা?” জবাবে মহিলা বলেন: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি বলেছি।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “আপনি কী করে জানলেন (তিনি জান্নাতে আছেন)?” মহিলা বলেন: “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইনি তো উসমান বিন মায‘ঊন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “হ্যাঁ, ইঁনি উসমান বিন মায‘ঊন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। তবে জেনে রাখুন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি জানি না যে, আমার সাথে কী আচরণ করা হবে?”[1] আমর বলেছেন: “আবুন নযর হাদীসটি খারেজা বিন যাইদ থেকে, তিনি তার বাবার সূত্রে শ্রবণ করেছেন।”

[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪৩৬; তাবারানী, আল কাবীর: ২৫/৩৩৭; সহীহ আল বুখারী: ৩৯২৯; তাবাকাতু ইবনু সা‘দ: ৩/৩৯৮। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৬৪২।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.









সহীহ ইবনু হিব্বান (644)


644 - أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْمِنْهَالِ الْعَطَّارُ* بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، سَمِعَ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُنْذِرُكُمُ النَّارَ، أُنْذِرُكُمُ النَّارَ، أُنْذِرُكُمُ النَّارَ» حَتَّى لَوْ كَانَ فِي مَقَامِي هَذَا وَهُوَ بِالْكُوفَةِ، سَمِعَهُ أَهْلُ السُّوقِ، حَتَّى وَقَعَتْ خَمِيصَةٌ كَانَتْ عَلَى عَاتِقِهِ عَلَى رِجْلَيْهِ. [3: 79]
رقم طبعة با وزير = (643)




নু‘মান বিন বাশির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করছি! আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করছি!! আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করছি!!!” নু‘মান বিন বাশির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার এই জায়গায় থাকতেন, (এসময় তিনি কুফায় ছিলেন) তবে বাজারের লোকেরাও তাঁর কথা শুনতে পেতেন। এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাঁধে একটি চাদর ছিল, সেটি তাঁর পা মোবারকের উপর পড়ে যায়!”[1]

[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৬৮; দারেমী: ২/৩৩০। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আল মিশকাত: ৫৬৮৭।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «المشكاة» (5687). * [سُلَيْمَانُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْمِنْهَالِ الْعَطَّارُ] قال الشيخ: روى له المؤلَّف نحو خمسة عشر حديثا، ولم نَجِدْ له ترجمة! وقد تُوِبعَ، فقد قال الطيالسيّ في «مسنده» (792)، وعنه أحمد (4/ 268): حدثنا شعبة ... به مختصرا، بلفظ: سَمِعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب وهو يقول ... فذكره. وهذا إسناد صحيح؛ فإن شعبة إِنَّما سَمِعَ من سِمَاك قديما.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن من أجل سماك- وهو ابن حرب الذهلي البكري الكوفي -.









সহীহ ইবনু হিব্বান (645)


645 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ الْعِجْلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَبْدِ الْغَافِرِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَأْخُذُ رَجُلٌ بِيَدِ أَبِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، يُرِيدُ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، فَيُنَادَى: أَلَا إِنَّ [ص:412] الْجَنَّةَ لَا يَدْخُلُهَا مُشْرِكٌ، قَالَ: فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ، أَبِي، قَالَ: فَيُحَوَّلُ فِي صُورَةٍ قَبِيحَةٍ، وَرِيحٍ مُنْتِنَةٍ، فَيَتْرُكُهُ» قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: كَانُوا يَقُولُونَ: إِنَّهُ إِبْرَاهِيمُ، قَالَ: وَلَمْ يَزِدْهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى ذَلِكَ. [3: 79]
رقم طبعة با وزير = (644)




আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তি তার বাবার হাত ধরে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে চাইবেন, তখন ঘোষনা করা হবে: “জেনে রাখুন, নিশ্চয়ই জান্নাতে কোন মুশরিক প্রবেশ করবে না!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তখন সেই ব্যক্তি বলবেন: “ হে আমার প্রতিপালক, ইনি তো আমার বাবা!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “অতঃপর তাকে খুবই খারাপ আকৃতি দেওয়া হবে এবং তার থেকে দুর্গন্ধ ছড়াবে ফলে তিনি তাকে ছেড়ে চলে যাবেন!”[1] আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “লোকজন বলাবলি করতেন যে, তিনি হলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেয়ে বেশি কিছু বলেননি।”

[1] উক্ত হাদীসের তাখরীজ ২৫২ নং হাদীসে গত হয়ে গিয়েছে। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৬৪৪।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى برقم (252).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري. أحمد بن المقدام من شرط البخاري، ومن فوقه على شرطهما. وقد أورده المؤلف برقم (252).









সহীহ ইবনু হিব্বান (646)


646 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا حَكِيمُ بْنُ سَيْفٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} [الشعراء: 214] جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُرَيْشًا، فقَالَ: «يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ، أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ، فَإِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا» وَلِبَنِي عَبْدِ مَنَافٍ مِثْلَ ذَلِكَ، وَلِبَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ، قَالَ: «يَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنْقِذِي نَفْسَكِ مِنَ النَّارِ، فَإِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكِ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا، إِلَّا أَنَّ لَكِ رَحِمًا سَأَبُلُّهَا بِبَلَالِهَا»
رقم طبعة با وزير = (645) [ص:414] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: هَذَا مَنْسُوخٌ، إِنَّ فِيهِ أَنَّهُ لَا يَشْفَعُ لِأَحَدٍ، واخْتِيَارُ الشَّفَاعَةِ كَانَتْ بِالْمَدِينَةِ بَعْدَهُ. [5: 45]




আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো “আর আপনি নিকটাত্নীয়দেরকে সতর্ক করুন।” (সূরা শু‘আরা: ২১৪।) তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশদেরকে একত্রিত করেন। অতঃপর বলেন: “হে কুরাইশগণ, আপনারা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। কেননা আমি আপনাদের ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখি না।” এভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বানু আবদে মানাফ ও বানু আব্দুল মুত্তালিবদেরকেও অনুরুপ কথা বলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “হে ফাতেমা বিনতু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিজেকে তুমি জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। কেননা আমি তোমার ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখি না। তবে আমার সাথে তোমার রক্ত সম্পর্ক রয়েছে, সে সম্পর্ক আমি বজায় রাখবো।[1]
আবু হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই হাদীসটি মানসূখ বা রহিত। কেননা এখানে বলা হয়েছে তিনি কারো জন্য সুপারিশ করতে পারবেন না। সুপারিশ করার ব্যাপারটি পরবর্তীতে মাদানী জীবনে সাব্যস্ত হয়েছে।”

[1] তিরমিযী: ৩১৮৫; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৩৩; সহীহ মুসলিম: ২০৪; নাসাঈ: ৬/২৪৮। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩১৭৭।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (3177): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله رجال الشيخين غير حكيم بن سيف الرقي، فقد روى له أبو داود والنسائي، وهو صدوق.









সহীহ ইবনু হিব্বান (647)


647 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نَشِيطٍ مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ بْنِ رُهَيْمٍ بَغْدَادِيٌّ ثِقَةٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ: حَدَّثَنِي رَاشِدُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ حُمَيْدٍ السَّكُونِيِّ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: لَمَّا بَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ، خَرَجَ مَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوصِيهِ مُعَاذٌ رَاكِبٌ، وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَحْتَ رَاحِلَتِهِ فَلَمَّا فَرَغَ، قَالَ: «يَا مُعَاذُ، إِنَّكَ عَسَى أَنْ لَا تَلْقَانِي بَعْدَ عَامِي هَذَا، لَعَلَّكَ أَنْ تَمُرَّ بِمَسْجِدِي [ص:415] وَقَبْرِي» فَبَكَى مُعَاذٌ خَشَعًا لِفِرَاقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ الْتَفَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَ الْمَدِينَةِ، فقَالَ: «إِنَّ أَهْلَ بَيْتِي هَؤُلَاءِ يَرَوْنَ أَنَّهُمْ أَوْلَى النَّاسِ بِي، وَإِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِي الْمُتَّقُونَ، مَنْ كَانُوا حَيْثُ كَانُوا، اللَّهُمَّ إِنِّي لَا أُحِلُّ لَهُمْ فَسَادَ مَا أَصْلَحْتَ، وَايْمُ اللَّهِ لَيَكْفَؤُونَ أُمَّتِي عَنْ دِينِهَا كَمَا يُكْفَأُ الْإِنَاءُ فِي الْبَطْحَاءِ». [3: 66]
رقم طبعة با وزير = (646)




মুয়ায বিন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইয়ামেনে পাঠান, তাকে উপদেশ দেওয়ার জন্য তিনি তার সাথে বের হলেন। এসময় মুয়ায বিন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বাহনে আরোহী ছিলেন আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহনের নিচে ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপদেশ শেষ করে বললেন: “হে মুয়ায, হতে পারে এই বছর পর তুমি আর আমার সাক্ষাৎ পাবে না! হতে পারে তুমি আমার কবর ও মাসজিদের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করবে।” ফলে মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিচ্ছেদের ভয়ে কাঁদতে লাগলেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাদীনার দিকে তাকালেন এবং বললেন: “আমার আহলে বাইতের লোকেরা মনে করে যে, তারা আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী। বস্তুত মানুষের মাঝে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হলেন মুত্তাকীগণ, তারা যে-ই হোক না কেন, আর তারা যেখানেই থাকুক না কেন! হে আল্লাহ আমি তাদের জন্য এমন কোন জিনিস বিনষ্ট করা বৈধ করি না, যা আপনি সংশোধন করে দিয়েছেন। আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমার উম্মত দ্বীন থেকে ফিরে যাবে যেমন ভাবে ময়দানে পাত্র উল্টে ফেলা হয়!”[1]

[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৩৫; তাবারানী, আল কাবীর: ২০/২৪১; সুনান আল বাইহাকী: ১০/৮৬; মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ৯/২২; সহীহ আল বুখারী: ৫৯৯০; সহীহ মুসলিম: ২১৫। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির সানাদকে শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ফিকহুস সীরাহ: ৪৮৫।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «فقه السيرة» (485)، «المشكاة» (5127 / التحقيق الثاني).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي، عاصم بن حميد السكوني ذكره المؤلف في "الثقات"، وقال الدارقطني: ثقة، وأبو المغيرة: هو عبد القدوس بن الحجاج الخولاني.









সহীহ ইবনু হিব্বান (648)


648 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مَعْشَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَكْرَمُ النَّاسِ؟، قَالَ: «أَتْقَاهُمْ»، قَالُوا: لَسْنَا عَنْ هَذَا نَسْأَلُكَ، قَالَ: «فَعَنْ مَعَادِنِ الْعَرَبِ تَسْأَلُونَنِي؟ خِيَارُكُمْ خِيَارُكُمْ فِي الْإِسْلَامِ إِذَا فَقِهُوا». [3: 65]
رقم طبعة با وزير = (647)




আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বলা হলো, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মানুষের মাঝে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কে?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যিনি তাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি তাক্বওয়াবান।” সাহাবাগণ বললেন: “তবে কি তোমরা আরবদের বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছো? তোমাদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তি যিনি ইসলামে উত্তম, যখন তারা দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করবে।”[1]

[1] সহীহ আল বুখারী: ৩৩৭৪। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ফিকহুস সীরাহ: ৫৬।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «فقه السيرة» (56): ق، وتقدم (92).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري، فإن محمد بن سنان- وهو الباهلي- من رجال البخاري، ومن فوقه على شرطهما.









সহীহ ইবনু হিব্বান (649)


649 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَبْدِ الْغَافِرِ، [ص:418] عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَانَ فِيمَنْ سَلَفَ مِنَ النَّاسِ رَجُلٌ رَغَسَهُ اللَّهُ مَالًا وَوَلَدًا، فَلَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ، جَمَعَ بَنِيهِ، فقَالَ: أَيَّ أَبٍ كُنْتُ لَكُمْ؟ قَالُوا: خَيْرَ أَبٍ، فقَالَ: إِنَّهُ وَاللَّهِ مَا ابْتَأَرَ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا قَطُّ، وَإِنَّ رَبَّهُ يُعَذِّبُهُ، فَإِذَا أَنَا مِتُّ فَأَحْرِقُونِي، ثُمَّ اسْحَقُونِي، ثُمَّ اذْرُونِي فِي رِيحٍ عَاصِفٍ، قَالَ اللَّهُ: كُنْ فَإِذَا رَجُلٌ قَائِمٌ، قَالَ: مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ؟، قَالَ: مَخَافَتُكَ، قَالَ: فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، إِنْ يَلْقَاهُ غَيْرَ أَنْ غُفِرَ لَهُ». [1: 2]
رقم طبعة با وزير = (648)




আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে একজন ব্যক্তি ছিলেন, যাকে আল্লাহ প্রচুর সম্পদ ও সন্তান দিয়েছিলেন। যখন তার মৃত্যুর সময় উপনীত হলো, তখন তিনি তার সন্তানদের একত্রিত করলেন অতঃপর বললেন: “আমি তোমাদের কাছে বাবা হিসেবে কেমন ছিলাম ?” তারা জবাব দিলেন: “উত্তম বাবা।” অতঃপর তিনি বললেন: “আল্লাহর কসম! তোমাদের বাবা আল্লাহর কাছে কখনই ভাল কিছু করেনি। নিশ্চয়ই তার প্রতিপালক তাকে শাস্তি দিবেন। কাজেই যখন আমি মারা যাবো, তখন তোমরা আমাকে পুড়িয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করবে, তারপর আমাকে প্রবল বাতাসে উড়িয়ে দিবে।” আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলেন, “তুমি হয়ে যাও” তখনই সে একজন মানুষ হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। মহান আল্লাহ তাকে বলেন: “এমন কাজ করতে তোমাকে কিসে উদ্বুদ্ধ করেছে?” জবাবে সে বলে: “আপনার ভয়।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “ঐ সত্ত্বার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহর সাক্ষাৎ পাওয়া মাত্র তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”[1]

[1] সহীহ আল বুখারী: ৩৪৭৮; সহীহ মুসলিম: ২৭৫৭। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩০৪৮।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (3048): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (650)


650 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ وَرْدَانَ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، يُحَدِّثُ عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَبْدِ الْغَافِرِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَانَ رَجُلٌ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ لَمْ يَبْتَئِرْ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا قَطُّ، قَالَ لِبَنِيهِ عِنْدَ الْمَوْتِ: يَا بَنِيَّ، أَيَّ أَبٍ كُنْتُ لَكُمْ؟ قَالُوا: خَيْرَ أَبٍ، قَالَ: [ص:420] فَإِذَا أَنَا مِتُّ، فَاحْرَقُونِي واسْحَقُونِي، فَإِذَا كَانَ فِي يَوْمِ رِيحٍ عَاصِفٍ فَذُرُّونِي، قَالَ: فَمَاتَ، فَفُعِلَ بِهِ ذَلِكَ، فقَالَ لَهُ: كُنْ فَكَانَ كَأَسْرَعِ مِنْ طَرْفَةِ الْعَيْنِ، فقَالَ اللَّهُ: يَا عَبْدِي، مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا فَعَلْتَ؟، فقَالَ: مَخَافَتُكَ أَيْ رَبِّ، قَالَ: فَمَا تَلَافَاهُ أَنْ غُفِرَ لَهُ» قَالَ الْمُعْتَمِرُ:، قَالَ أَبِي: فَحَدَّثْتُ هَذَا الْحَدِيثَ أَبَا عُثْمَانَ النَّهْدِيَّ، قَالَ: هَكَذَا حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، وَزَادَ فِيهِ: «وَذُرُّونِي فِي الْبَحْرِ». [3: 6]
رقم طبعة با وزير = (649)




আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে একজন ব্যক্তি ছিলেন, আল্লাহর কাছে তিনি কখনই ভাল কিছু করেনি। মৃত্যুর সময় তিনি তার সন্তানদের বলেন: “আমি তোমাদের কাছে বাবা হিসেবে কেমন ছিলাম ?” তারা জবাব দিলেন: “উত্তম বাবা।” অতঃপর তিনি বললেন: “যখন আমি মারা যাবো, তখন তোমরা আমাকে পুড়িয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করবে, তারপর যখন প্রবল বাতাসের দিন হবে, তখন আমাকে বাতাসে উড়িয়ে দিবে।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “অতঃপর সে লোক মারা গেলে, তার সাথে তাই করা হয়।” আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলেন, “তুমি হয়ে যাও” তখনই সে চোখের পলকের চেয়েও দ্রুত মানুষ হয়ে যায়। মহান আল্লাহ তাকে বলেন: “হে আমার বান্দা, এমন কাজ করতে তোমাকে কিসে উদ্বুদ্ধ করেছে?” জবাবে সে বলে: “হে আমার প্রতিপালক, আপনার ভয়।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “অতঃপর আল্লাহ তাকে এই প্রতিদান দিলেন যে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”[1] মু‘তামির বলেন: “আমার বাবা বলেছেন, “আমি হাদীসটি আবু উসমান আন নাহদীকে বর্ণনা করলে তিনি বলেন, “আমাকে সুলাইমান এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন, সেখানে তিনি একটু বেশি বলেছেন যে, “তোমরা আমাকে সাগরে উড়িয়ে দিবে”।”

[1] তাহাবী, মুশকিলুল আসার: ৫৫৯; সহীহ আল বুখারী: ৬৪৮১; সহীহ মুসলিম: ২৭৫৭; মুয়াত্তা ইমাম মালেক: ১/২৪০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪১৮৩; দারেমী: ২/৩৩০। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩০৪৮।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، صالح بن حاتم بن وردان روى عنه جمع، وقال أبو حاتم: شيخ، وذكره المؤلف في "الثقات" 8/ 318، وقال ابنُ قانع: صالح، واحتج به مسلم، ومن فوقه على شرطهما.









সহীহ ইবনু হিব্বান (651)


651 - أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذِ بْنِ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «تُوُفِّيَ رَجُلٌ كَانَ نَبَّاشًا، فقَالَ لِوَلَدِهِ: احْرِقُونِي، ثُمَّ اسْحَقُونِي فَذُرُّونِي فِي الرِّيحِ، فَسُئِلَ: مَا صَنَعْتَ؟، قَالَ: مَخَافَتُكَ يَا رَبِّ، قَالَ: فَغَفَرَ لَهُ». [3: 6]
رقم طبعة با وزير = (650)




হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “একজন ব্যক্তি মারা যায়, যিনি (মৃত ব্যক্তিদের) কবর খনন করতো (কাফনের কাপড় চুরি করার জন্য)। তিনি তার সন্তানদের বলেন: “তোমরা আমাকে পুড়িয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করবে, অতঃপর আমাকে বাতাসে উড়িয়ে দিবে।” অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হয়: “এমন কাজ কেন করেছো?” জবাবে সে বলে: “তোমার ভয়ে, হে আমার প্রতিপালক।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “অতঃপর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।”[1]

[1] সহীহ আল বুখারী: ৩৪৮৯; নাসাঈ: ৪/১১৩; আবু নু‘আইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৮/১২৪। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ৩০৪৮।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر (648). تنبيه!! رقم (648) = (649) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين









সহীহ ইবনু হিব্বান (652)


652 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، [ص:422] عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: {إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ} [مريم: 39]، قَالَ: «فِي الدُّنْيَا». [3: 66]
رقم طبعة با وزير = (651)




আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন “যখন ফায়সালা করা হবে অথচ তারা উদাসীনতায় রয়েছে।” (সূরা মারইয়াম: ৩৯।) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: অর্থাৎ দুনিয়াতে।”[1]

[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/৯; সহীহ মুসলিম: ২৮৪৯; তাবারী: ১৬/৮৭; সহীহ আল বুখারী: ৪৭৩০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪৩৬৬; তিরমিযী: ৩১৫৬। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (মুখতাসার মুসলিম: ২১৪৯।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (3/ 10)، «مختصر مسلم» (2149).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (653)


653 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الْحَوْضِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْعَلَاءُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَزِيدُ، أَخُو مُطَرِّفٍ، قَالَ: وَحَدَّثَنِي رَجُلَانِ آخَرَانِ أَنَّ مُطَرِّفًا حَدَّثَهُمْ: أَنَّ عِيَاضَ بْنَ حِمَارٍ حَدَّثَهُمْ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ: «إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أُعَلِّمَكُمْ مَا جَهِلْتُمْ مِمَّا عَلَّمَنِي يَوْمِي هَذَا، إِنَّ كُلَّ مَا أَنْحَلْتُهُ عَبْدِي حَلَالٌ، وَإِنِّي خَلَقْتُ عِبَادِي [ص:423] حُنَفَاءَ كُلَّهُمْ، وَإِنَّهُ أَتَتْهُمُ الشَّيَاطِينُ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِينِهِمْ، وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمْ مَا أَحْلَلْتُ لَهُمْ، فَأَمَرَتْهُمْ أَنْ يُشْرِكُوا بِي مَا لَمْ أُنْزِلْ بِهِ سُلْطَانًا، وَإِنَّ اللَّهَ اطَّلَعَ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ، فَمَقَتَهُمْ عَرَبَهُمْ وَعَجَمَهُمْ، غَيْرَ بَقَايَا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، فقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّمَا بَعَثْتُكَ لِأَبْتَلِيَكَ وَأَبْتَلِيَ بِكَ، وَأُنْزِلَ عَلَيْكَ كِتَابًا لَا يَغْسِلُهُ الْمَاءُ، تَقْرَؤُهُ يَقْظَانَ وَنَائِمًا، وَإِنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا أَمَرَنِي أَنْ أُخْبِرَ قُرَيْشًا، فَقُلْتُ: إِذًا يَثْلَغُوا رَأْسِي فَيَتْرُكُوهُ خُبْزَةً، قَالَ [ص:424] فَاسْتَخْرِجْهُمْ كَمَا اسْتَخْرَجُوكَ، وَاغْزُهُمْ يَسْتَغْزُوكَ، وَأَنْفِقْ يُنْفَقْ عَلَيْكَ، وَابْعَثْ جَيْشًا نَبْعَثْ خَمْسَةً أَمْثَالَهُمْ، وَقَاتِلْ بِمَنْ أَطَاعَكَ مَنْ عَصَاكَ وَقَالَ: أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ثَلَاثَةٌ: إِمَامٌ مُقْسِطٌ مُصَدِّقٌ مُوَفَّقٌ، وَرَجُلٌ رَحِيمٌ رَقِيقُ الْقَلْبِ بِكُلِّ ذِي قُرْبَى وَمُسْلِمٍ، وَرَجُلٌ عَفِيفٌ فَقِيرٌ مُصَّدِّقٌ وَ، قَالَ: أَصْحَابُ النَّارِ خَمْسَةٌ: رَجُلٌ جَائِرٌ لَا يَخْفَى لَهُ طَمَعٌ وَإِنْ دَقَّ، وَرَجُلٌ لَا يُمْسِي وَلَا يُصْبِحُ إِلَّا وَهُوَ يُخَادِعُكَ عَنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ، وَالضَّعِيفُ الَّذِينَ هُمْ فِيكُمْ تَبَعٌ لَا يَبْغُونَ أَهْلًا وَلَا مَالًا»، فقَالَ لَهُ رَجُلٌ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَمِنَ الْمَوَالِي هُوَ، أَوْ مِنَ الْعَرَبِ؟، قَالَ: هُوَ التَّابِعَةُ يَكُونُ لِلرَّجُلِ فَيُصِيبُ مِنْ حُرْمَتِهِ [ص:425] سِفَاحًا غَيْرَ نِكَاحٍ وَالشِّنْظِيرُ: الْفَاحِشُ وَذَكَرَ الْبُخْلَ وَالْكَذِبَ. [3: 68]
رقم طبعة با وزير = (652)




‘ইয়ায বিন হিমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খুতবায় বলতে শুনেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন, তিনি আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা হতে আজকে তোমাদেরকে শিক্ষা দিতে যা তোমরা জানো না। সেটি হলো আমি আমার বান্দাদেরকে যা দান করেছি, তা হালাল। আর আমি আমার বান্দাদেরকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। শয়তান তাদের কাছে আসে এবং তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে দেয় এবং আমি তাদের জন্য যা হালাল করে দিয়েছি, তা শয়তান তাদের উপর হারাম করে দেয়। অতঃপর সে তাদেরকে আমার সাথে শরীক করার নির্দেশ দেয়; যে ব্যাপারে আমি কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করিনি। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ জমিনবাসীর প্রতি তাকান এবং আহলে কিতাবের মধ্যে অবশিষ্ট লোক (যারা দ্বীনে হকের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তারা) ব্যতীত অন্য আরব-অনারব সবার প্রতি নারাজ হন। অতঃপর তিনি বলেন, “হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিশ্চয়ই আমি আপনাকে রাসূল করে পাঠিয়েছি আপনাকে পরীক্ষা করার জন্য এবং আপনার মাধ্যমে মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য, আপনার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এমন কিতাব যা পানি ধুয়ে (নষ্‌ট করে দিতে) পারবে না, সেটি আপনি জাগ্রত ও নিদ্রা অবস্থায় পাঠ করবেন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আমাকে আরো আদেশ করেছেন যেন আমি কুরাইশদেরকে (এই বার্তা) জানিয়ে দেই। অতঃপর আমি বললাম, “তবে তো তারা আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়ে তা রুটির মতো টুকরো টুকরো করে রেখে দিবে!” আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “তবে আপনি তাদেরকে বের করে দিবেন, যেভাবে তারা আপনাকে বের করে দিয়েছে, তাদের সাথে যুদ্ধ করবেন, যেভাবে তারা আপনার সাথে যুদ্ধ করেছে, আপনি খরচ করবেন, তবে আপনার উপরও খরচ করা হবে, আপনি একদল সেনা পাঠান, আমরা অনুরুপ পাঁচগুণ সৈন্য (ফেরেস্তা) পাঠাবো, যারা আপনার আনুগত্য স্বীকার করে, তাদের নিয়ে আপনি যারা আপনার অবাধ্য হয়েছে তাদের সাথে যুদ্ধ করুন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “জান্নাতবাসী তিন শ্রেণির মানুষ: (১) ন্যায়পরায়ণ, সত্যনিষ্ঠ ও ভাল কাজের তাওফীকপ্রাপ্ত শাসক (২) নিকটাত্বীয় ও মুসলিমদের প্রতি দয়ালূ, নরম হৃদয়ের অধিকারী মানুষ।(৩) ঐ সত্যনিষ্ঠ দরিদ্র ব্যক্তি যিনি দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও মানুষের কাছে হাত বাড়ায় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, “জাহান্নামবাসী পাঁচ শ্রেণির মানুষ: (১) অত্যাচারী ব্যক্তি, যার লোভ-লালসার ব্যাপারটি গোপন থাকে না, যদিও তা খুব ছোট হয় (২) ঐ ব্যক্তি যে সকাল-সন্ধায় আপনার পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে ধোঁকা দেয় (৩) ঐ দুর্বল ব্যক্তি যারা তোমাদের অনুগামী, যারা সহায়-সম্পদ ও সন্তান কামনা করে না। অতঃপর এক ব্যক্তি তাকে বললেন, “হে আবু আব্দুল্লাহ, তারা কি আজাদকৃত গোলামের অন্তর্ভূক্ত হবে নাকি আরবদের অন্তর্ভূক্ত হবে?” জবাবে তিনি বলেন, “এই ব্যক্তি হবে কোন ব্যক্তির অনুগামী অতঃপর সে তার পরিবারের লোকদের সাথে বিবাহবহির্ভূতভাবে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। হাদীসে বর্ণিত ‘শিনযীর’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো খারাপ লোক। অতঃপর রাবী কৃপণতা ও মিথ্যার কথা উল্লেখ করেছেন।[1]

[1] তাবারানী, আল কাবীর: ১৭/৯৯২; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৬৬; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১০৮৮; আত তায়ালিসী: ১০৭৯; সহীহ মুসলিম: ২৮৬৫; সুনান বাইহাকী: ৯/ ৬০। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তাখরীজু ফিকহুস সীরাহ.: ১৭।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «تخريج فقه السيرة» (17): م.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله ثقات رجال الصحيح غير العلاء بن زياد، فقد روى له النسائي وابن ماجة، وهو ثقة.









সহীহ ইবনু হিব্বান (654)


654 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ الْأَثْرَمِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، [ص:426] عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ، قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا أَمَرَنِي أَنْ أُعَلِّمَكُمْ مِمَّا عَلَّمَنِي يَوْمِي هَذَا، وَإِنَّهُ، قَالَ لِي: إِنِّي خَلَقْتُ عِبَادِي حُنَفَاءَ كُلَّهُمْ، وَإِنَّ كُلَّ مَا أَنْحَلْتُ عِبَادِي فَهُوَ لَهُمْ حَلَالٌ، وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ أَتَتْهُمْ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِينِهِمْ، وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمُ الَّذِي أَحْلَلْتُ لَهُمْ، وَأَمَرَتْهُمْ أَنْ يُشْرِكُوا بِي مَا لَمْ أُنْزِلْ بِهِ سُلْطَانًا، وَإِنَّ اللَّهَ أَتَى أَهْلَ الْأَرْضِ قَبْلَ أَنْ يَبْعَثَنِي، فَمَقَتَهُمْ عَرَبَهُمْ وَعَجَمَهُمْ إِلَّا بَقَايَا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، وَإِنَّهُ، قَالَ لِي: قَدْ أَنْزَلْتُ كِتَابًا لَا يَغْسِلُهُ الْمَاءُ فَاقْرَأْهُ نَائِمًا وَيَقْظَانَ، وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أُخْبِرَ قُرَيْشًا وَإِنِّي قُلْتُ: أَيْ رَبِّ، إِذًا يَثْلَغُوا رَأْسِي فَيَدَعُوهُ خُبْزَةً وَإِنَّهُ، قَالَ لِي: اسْتَخْرِجْهُمْ كَمَا اسْتَخْرَجُوكَ، وَاغْزُهُمْ يَسْتَغْزُونَكَ، وَأَنْفِقْ نُنْفِقْ عَلَيْكَ، وَابْعَثْ جَيْشًا نَبْعَثْ خَمْسَةَ أَمْثَالِهِ، وَقَاتِلْ بِمَنْ أَطَاعَكَ مَنْ عَصَاكَ». [3: 68]
رقم طبعة با وزير = (653)




‘ইয়ায বিন হিমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষনে বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন, তিনি আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা হতে আজকে তোমাদেরকে শিক্ষা দিতে যা তোমরা জানো না। সেটি হলো আমি আমার সমস্ত বান্দাকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। আমি আমাদের বান্দাদেরকে যা দান করেছি, তা তাদের জন্য হালাল। শয়তান তাদের কাছে আসে এবং তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে দেয় এবং আমি তাদের জন্য যা হালাল করে দিয়েছি, তা শয়তান তাদের উপর হারাম করে দেয়। অতঃপর সে তাদেরকে আমার সাথে শরীক করার নির্দেশ দেয়; যে ব্যাপারে আমি কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করিনি। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ জমিনবাসীর কাছে আসেন এবং আহলে কিতাবের মধ্যে অবশিষ্ট লোক (যারা দ্বীনে হকের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তারা) ব্যতীত অন্য আরব-অনারব সবার প্রতি নারাজ হন। নিশ্চয়ই তিনি আমাকে বলেছেন, “হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি এমন একটি কিতাব যা পানি ধুয়ে (নষ্‌ট করে দিতে) পারবে না, সেটি আপনি জাগ্রত ও নিদ্রা অবস্থায় পাঠ করুন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আমাকে আরো আদেশ করেছেন যেন আমি কুরাইশদেরকে (এই বার্তা) জানিয়ে দেই। এসময় নিশ্চয়ই আমি বলেছি, “হে আমার প্রতিপালক, তবে তো তারা আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়ে তা রুটির মতো টুকরো টুকরো করে রেখে দিবে!” আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আপনি তাদেরকে বের করে দিবেন, যেভাবে তারা আপনাকে বের করে দিয়েছে, তাদের সাথে যুদ্ধ করবেন, যেভাবে তারা আপনার সাথে যুদ্ধ করেছে, আপনি খরচ করবেন, তবে আপনার উপরও খরচ করা হবে, আপনি একদল সেনা পাঠান, আমরা অনুরুপ পাঁচগুণ সৈন্য (ফেরেস্তা) পাঠাবো, যারা আপনার আনুগত্য স্বীকার করে, তাদের নিয়ে আপনি যারা আপনার অবাধ্য হয়েছে, তাদের সাথে যুদ্ধ করুন।”[1]

[1] তাবারানী, আল কাবীর: ১৭/৯৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৬৬। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তাখরীজু ফিকহুস সীরাহ.: ১৭।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - هو طرف من الذي قبله.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، المعلى بن مهدي روى عنه جمع، وذكره ابن أبي حاتم في «الجرح والتعديل» 8/ 335، فقال: سألت أبي عنه، فقال: شيخ موصلى أدركته، ولم أسمع منه، يحدث أحياناً بالحديث المنكر. وذكره المؤلف في «الثقات» 9/ 182، 183، وقال الإمام الذهبي: «صدوق في نفسه». وحكيم بن الأثرم كذا ورد في الأصل زيادة «بن» بين حكيم والأثرم، والصواب أنه حكيم الأثرم كما ورد في تهذيب الكمال وفروعه، ونقل المزي عن محمد بن يحيى الذهلي قال: قلت لعلي ابن المديني: حكيم الأثرم من هو؟ قال: أعيانا هذا، وفي رواية قال: لا أدري من أين هو. ونقل مغلطاي عن ثقات ابن خلفون قول ابن المديني: حكيم الأثرم لا أدري ابن من هو، وهو ثقة. أما ابن حبان فقد سمى أباه حكيماً، فقال في «الثقات» 6/ 215: حكيم بن حكيم الأثرم يروي عن الحسن وأبي تميمة الهجيمي، عداده في أهل البصرة، روى عنه حماد بن سلمة وعوف الأعرابي. وقال الذهبي في «الكاشف»: وقال ابن حجر في «التقريب»: فيه لين. وباقي رجاله ثقات. أبو شهاب هو موسى بن نافع الحنَّاط، والحسن هو البصري.









সহীহ ইবনু হিব্বান (655)


655 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْذِرِ بْنِ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ أَحْمَدَ، أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، أَخْبَرَنَا عَوْفٌ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيِّ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ الْفَزَارِيِّ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَقُولُ: «هَلْ رَأَى أَحَدٌ مِنْ رُؤْيَا»؟ فَيَقُصُّ عَلَيْهِ مَنْ شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُصَّ، وَإِنَّهُ قَالَ لَنَا ذَاتَ غَدَاةٍ: «إِنَّهُ أَتَانِي اللَّيْلَةَ آتِيَانِ، وَإِنَّهُمَا ابْتَعَثَانِي، وَإِنَّهُمَا، قَالَا لِي: انْطَلِقْ، وَإِنِّي انْطَلَقْتُ مَعَهُمَا حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ مُضْطَجِعٍ، وَإِذَا آخَرُ قَائِمٌ عَلَيْهِ بِصَخْرَةٍ وَإِذَا هُوَ يَهْوِي بِالصَّخْرَةِ لِرَأْسِهِ، فَيَثْلَغُ بِهَا رَأْسَهُ، فَتُدَهْدِهَهُ الصَّخْرَةُ هَا هُنَا، فَيَقُومُ إِلَى الْحَجَرِ فَيَأْخُذُهُ فَمَا يَرْجِعُ إِلَيْهِ أَحْسِبُهُ، قَالَ: [ص:428] حَتَّى يَصِحَّ رَأْسُهُ كَمَا كَانَ، ثُمَّ يَعُودُ عَلَيْهِ فَيَفْعَلُ بِهِ مِثْلَ مَا فَعَلَ الْمَرَّةَ الْأُولَى، قَالَ: قُلْتُ: سُبْحَانَ اللَّهِ مَا هَذَانِ؟، قَالَا لِي: انْطَلِقِ انْطَلِقْ، قَالَ: فَانْطَلَقْتُ مَعَهُمَا فَأَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ مُسْتَلْقٍ لِقَفَاهُ وَإِذَا آخَرُ عَلَيْهِ بِكَلُّوبٍ مِنْ حَدِيدٍ، فَإِذَا هُوَ يَأْتِيَ أَحَدَ شِقَّيْ وَجْهِهِ فَيُشَرْشِرُ شِدْقَهُ إِلَى قَفَاهُ، وَمِنْخَرَهُ إِلَى قَفَاهُ، وَعَيْنَهُ إِلَى قَفَاهُ، ثُمَّ يَتَحَوَّلُ إِلَى الْجَانِبِ الْآخَرِ فَيَفْعَلُ بِهِ مِثْلَ مَا فَعَلَ بِالْجَانِبِ الْأَوَّلِ، فَمَا يَفْرُغُ مِنْ ذَلِكَ الْجَانِبِ حَتَّى يَصِحَّ الْجَانِبُ الْأَوَّلُ كَمَا كَانَ، ثُمَّ يَعُودُ فَيَفْعَلُ بِهِ مِثْلَ مَا فَعَلَ الْمَرَّةَ الْأُولَى، قَالَ: قُلْتُ: سُبْحَانَ اللَّهِ، مَا هَذَانِ؟، قَالَا: انْطَلِقِ انْطَلِقْ، فَانْطَلَقْتُ مَعَهُمَا فَأَتَيْنَا عَلَى مِثْل بِنَاءِ التَّنُّورِ، قَالَ عَوْفٌ: أَحْسِبُ أَنَّهُ، قَالَ: فَإِذَا فِيهِ لَغَطٌ وَأَصْوَاتٌ، فَاطَّلَعْنَا فَإِذَا فِيهِ رِجَالٌ وَنِسَاءٌ عُرَاةٌ وَإِذَا بِنَهْرٍ لَهِيبٍ مِنْ أَسْفَلَ مِنْهُمْ، فَإِذَا أَتَاهُمْ ذَلِكَ اللَّهَبُ تَضَوْضَوْا، قَالَ: قُلْتُ: مَا هَؤُلَاءِ؟، قَالَا لِي: انْطَلِقِ انْطَلِقْ، قَالَ: فَانْطَلَقْنَا [ص:429] عَلَى نَهَرٍ حَسِبْتُ أَنَّهُ، قَالَ: أَحْمَرَ مِثْلِ الدَّمِ وَإِذَا فِي النَّهَرِ رَجُلٌ يَسْبَحُ، وَإِذَا عِنْدَ شَطِّ النَّهَرِ رَجُلٌ قَدْ جَمَعَ عِنْدَهُ حِجَارَةً كَثِيرَةً، وَإِذَا ذَلِكَ السَّابِحُ يَسْبَحُ مَا يَسْبَحُ، ثُمَّ يَأْتِي ذَلِكَ الرَّجُلَ الَّذِي جَمَعَ الْحِجَارَةَ، فَيَفْغَرُ لَهُ فَاهُ فَيُلْقِمُهُ حَجَرًا، قَالَ: قُلْتُ: مَا هَؤُلَاءِ؟، قَالَا لِي: انْطَلِقِ انْطَلِقْ، قَالَ: فَانْطَلَقْنَا، فَأَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ كَرِيهِ الْمَرْآةِ كَأَكْرَهِ مَا أَنْتَ رَاءٍ رَجُلًا مَرْآهُ، فَإِذَا هُوَ عِنْدَ نَارٍ يَحُشُّهَا وَيَسْعَى حَوْلَهَا، قَالَ: قُلْتُ لَهُمَا: مَا هَذَا؟، قَالَا لِي: انْطَلِقِ انْطَلِقْ، فَانْطَلَقْنَا فَأَتَيْنَا عَلَى رَوْضَةٍ فِيهَا مِنْ كُلِّ نَوْرِ الرَّبِيعِ، وَإِذَا بَيْنَ ظَهْرَيِ الرَّوْضَةِ رَجُلٌ قَائِمٌ طَوِيلٌ لَا أَكَادُ أَرَى رَأْسَهُ طُولًا فِي السَّمَاءِ، وأَرَى حَوْلَ الرَّجُلِ مِنْ أَكْثَرِ وِلْدَانٍ رَأَيْتُهُمْ قَطُّ وَأَحْسَنَهُ، قَالَ: قُلْتُ لَهُمَا: مَا هَؤُلَاءِ؟، قَالَا لِي: انْطَلِقِ انْطَلِقْ، فَانْطَلَقْنَا وَأَتَيْنَا دَوْحَةً عَظِيمَةً لَمْ أَرَ دَوْحَةً قَطُّ أَعْظَمَ مِنْهَا وَلَا أَحْسَنَ، قَالَا لِي: ارْقَ فِيهَا، قَالَ: فَارْتَقَيْنَا فِيهَا، فَانْتَهَيْنَا إِلَى [ص:430] مَدِينَةٍ مَبْنِيَّةٍ بِلَبِنِ ذَهَبٍ وَلَبِنِ فِضَّةٍ، فَأَتَيْنَا بَابَ الْمَدِينَةِ، فَاسْتَفْتَحْنَا، فَفُتِحَ لَنَا، فَتَلَقَّانَا فِيهَا * رِجَالٌ، شَطْرٌ مِنْ خَلْقِهِمْ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ، وَشَطْرٌ كَأَقْبَحِ مَا أَنْتَ رَاءٍ، قَالَ: قَالَا لَهُمُ: اذْهَبُوا فَقَعُوا فِي ذَلِكَ النَّهَرِ، فَإِذَا نَهَرٌ مُعْتَرِضٌ يَجْرِي كَأَنَّ مَاءَهُ الْمَحْضُ فِي الْبَيَاضِ، فَذَهَبُوا فَوَقَعُوا فِيهِ، ثُمَّ رَجَعُوا وَقَدْ ذَهَبَ ذَلِكَ السُّوءُ عَنْهُمْ، وَصَارُوا فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ، قَالَ:، قَالَا: لِي هَذِهِ جَنَّةُ عَدْنٍ، وَهَذَاكَ مَنْزِلُكَ، قَالَ: فَسَمَا بَصَرِي صُعُدًا، فَإِذَا قَصْرٌ مِثْلُ الرَّبَابَةِ الْبَيْضَاءِ، قَالَ:، قَالَا لِي: هَذَاكَ مَنْزِلُكَ، قَالَ: قُلْتُ لَهُمَا: بَارَكَ اللَّهُ فِيكُمَا، ذَرَانِي أَدْخُلْهُ، قَالَ:، قَالَا لِي: أَمَّا الْآنَ فَلَا، وَأَنْتَ دَاخِلُهُ، قَالَ: فَإِنِّي رَأَيْتُ مُنْذُ اللَّيْلَةِ عَجَبًا، فَمَا هَذَا الَّذِي رَأَيْتُ؟، قَالَ:، قَالَا لِي: أَمَا إِنَّا سَنُخْبِرُكَ: أَمَّا الرَّجُلُ الْأَوَّلُ الَّذِي أَتَيْتَ عَلَيْهِ يُثْلَغُ رَأْسُهُ بِالْحَجَرِ، فَإِنَّهُ الرَّجُلُ يَأْخُذُ الْقُرْآنَ فَيَرْفُضُهُ، وَيَنَامُ عَنِ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ وَأَمَّا الرَّجُلُ الَّذِي أَتَيْتَ عَلَيْهِ يُشَرْشَرُ شِدْقُهُ إِلَى قَفَاهُ، وَعَيْنُهُ إِلَى قَفَاهُ، وَمِنْخَرُهُ إِلَى قَفَاهُ، فَإِنَّهُ الرَّجُلُ يَغْدُو مِنْ بَيْتِهِ فَيَكْذِبُ الْكَذْبَةَ فَتَبْلُغُ الْآفَاقَ [ص:431] وَأَمَّا الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ الْعُرَاةُ الَّذِينَ فِي مِثْلِ بِنَاءِ التَّنُّورِ، فَإِنَّهُمُ الزُّنَاةُ وَالزَّوَانِي وَأَمَّا الرَّجُلُ الَّذِي فِي النَّهَرِ، فَيَلْتَقِمُ الْحِجَارَةَ، فَإِنَّهُ آكِلُ الرِّبَا، وَأَمَّا الرَّجُلُ الْكَرِيهُ الْمَرْآةِ الَّذِي عِنْدَ النَّارِ يَحُشُّهَا فَإِنَّهُ مَالِكٌ خَازِنُ جَهَنَّمَ، وَأَمَّا الرَّجُلُ الطَّوِيلُ الَّذِي فِي الرَّوْضَةِ، فَإِنَّهُ إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَأَمَّا الْوِلْدَانُ الَّذِينَ حَوْلَهُ، فَكُلُّ مَوْلُودٍ وُلِدَ عَلَى الْفِطْرَةِ، قَالَ:، فقَالَ بَعْضُ الْمُسْلِمِينَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَوْلَادُ الْمُشْرِكِينَ؟، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَأَوْلَادُ الْمُشْرِكِينَ وَأَمَّا الْقَوْمُ الَّذِينَ شَطْرٌ مِنْهُمْ حَسَنٌ، وَشَطْرٌ مِنْهُمْ قَبِيحٌ، فَهُمْ قَوْمٌ خَلَطُوا عَمَلًا صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّئًا، فَتَجَاوَزَ اللَّهُ عَنْهُمْ». [3: 3]
رقم طبعة با وزير = (654)




সামুরা বিন জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়শই বলতেন, “কেউ কোন স্বপ্ন দেখেছে কি?” অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করতেন, তিনি তাঁর কাছে স্বপ্ন বর্ণনা করতেন। একদিন সকালে তিনি আমাদের বললেন, “আজ রাতে আমার কাছে দুইজন আগন্তুক এসেছিলেন, তাঁরা আমাকে জাগিয়ে তুলেন এবং বলেন, “চলুন।” আমি তাঁদের সাথে যাই, এভাবে এক ব্যক্তির কাছে আসি, সে ব্যক্তি শুয়ে ছিল আরেকজন ব্যক্তি তার কাছে পাথর নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই ব্যক্তি পাথর দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে তার মাথা চূর্ণ করে দেন আর পাথরটি ছিটকে দূরে সরে যায়। অতঃপর তিনি পাথরের দিকে এগিয়ে যান এবং পাথর গ্রহন করেন। রাবীর ধারণা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিনি তার কাছে ফিরে আসতেই তার মাথা আগের মতোই ঠিক হয়ে যায়। অতঃপর তিনি তার সাথে প্রথম বারের মতোই আচরণ করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ! এরা কারা?” তারা আমাকে বলেন, “সামনে চলুন, সামনে চলুন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “অতঃপর আমি তাদের সাথে চললাম তারপর আমরা এক ব্যক্তির কাছে আসলাম যে মাথার পিছনের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। তার কাছে আরেক ব্যক্তি হাতে লোহার কীলক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। সে ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির মুখের একপাশে আসেন অতঃপর তিনি তার চিবুক ঘাড়ের পশ্চাৎভাগ পর্যন্ত ফেঁড়ে ফেলেন, নাকের ছিদ্র ঘাড়ের পশ্চাৎভাগ পর্যন্ত ফেঁড়ে ফেলেন, তার চোখ ঘাড়ের পশ্চাৎভাগ পর্যন্ত ফেঁড়ে ফেলেন। তারপর তিনি অন্য পাশে যান এবং সেটার সাথেও তেমন করেন, যেমন প্রথম পাশের সাথে করেছিলেন। ঐ পাশে অনুরুপ করা শেষ হতেই প্রথম পাশ আগের মতো ভালো হয়ে যায়। তারপর তিনি আবার প্রথম পাশে যান, এবং সেটার সাথে তেমন করেন, যেমন প্রথম বার করেছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ! এরা কারা?” তারা আমাকে বলেন, “সামনে চলুন, সামনে চলুন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “অতঃপর আমি তাদের সাথে চললাম অতঃপর আমরা চুলার মতো একটা স্থাপনার কাছে আসলাম। ‘আওফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমার ধারণা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “অতঃপর আমি সেখানে প্রচুর আওয়াজ ও হৈচৈ দেখতে পেলাম। আমরা সেখানে উঁকি দিলাম অতঃপর সেখানে অনেক বিবস্ত্র নারী-পুরুষ দেখতে পেলাম। আমরা আরো দেখলাম তাদের নিচে রয়েছে অগ্নী-নদী, যখন তাদের কাছে অগ্নী-শিখা আসে, তখন তারা চিৎকার করে কান্না করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ! এরা কারা?” তারা আমাকে বলেন, “সামনে চলুন, সামনে চলুন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “অতঃপর আমি তাদের সাথে একটি নদীর কাছে আসলাম।” রাবী বলেন, “আমার ধারণা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “রক্তের মতো লাল নদী।” আমরা দেখলাম, নদীর মধ্যে একজন ব্যক্তি সাঁতার কাটছে আর নদীর কিনারায় এক ব্যক্তি তার কাছে অনেক পাথর জমা করে রেখেছেন। অতঃপর সাঁতার কাটা ব্যক্তি সাঁতার কাটতে কাটতে পাথর জমা করা ব্যক্তির কাছে আসে, অতঃপর সে তার মুখ খোলে আর কিনারার ব্যক্তি তার মুখে পাথর মারে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ! এরা কারা?” তারা আমাকে বলেন, “সামনে চলুন, সামনে চলুন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “অতঃপর আমরা এক বীভৎস চেহারার এক ব্যক্তির কাছে আসলাম যেমন তুমি সবচেয়ে বীভৎস চেহারার মানুষ দেখে থাকো। আমরা দেখলাম যে, সে ব্যক্তি আগুনের কাছে রয়েছে, সে আগুন জ্বালাচ্ছে এবং আগুনের পাশে ছুটাছুটি করছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি বললাম, এরা কারা?” তারা আমাকে বলেন, “সামনে চলুন, সামনে চলুন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “অতঃপর আমরা একটা বাগানে আসলাম, যাতে বসন্ত কালের সব ধরনের ফুল ছিল। এতে আমরা দেখলাম বাগানের সামনে এতো লম্বা একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আসেন, যে লম্বার কারণে আসমানে দিকে তাঁর মাথা প্রায় আমি দেখতেই পাচ্ছিলাম না! আমি দেখি সেই ব্যক্তির পাশে এতো বিপুল সংখ্যক ও এতো সুন্দর শিশুরা যে তা আমি আগে কখনো দেখিনি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি বললাম, এরা কারা?” তারা আমাকে বলেন, “চলুন, চলুন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “অতঃপর আমরা এতো বিশাল এক বৃক্ষের কাছে আসলাম যে, এতো বড় ও সুন্দর বৃক্ষ আমি আর কখনোই দেখিনি! সাথীদ্বয় আমাকে বললেন, “আপনি এতে আরোহন করুন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “অতঃপর আমরা তাতে আরোহন করলাম এবং আমরা একটি শহরে প্রবেশ করলাম যা স্বর্ণ ও রৌপ্যের ইট দ্বারা তৈরি ছিল। আমরা শহরের দরজার কাছে আসলাম এবং দরজা খুলে চাইলাম। অতঃপর আমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়। সেখানে আমরা দেখতে পাই এমন কিছু মানুষের যারা শরীরের একাংশ ছিল খুবই সুন্দর যেমন তুমি সবচেয়ে সুন্দর মানুষ দেখতে পাও আর অপর অংশ ছিল খুবই বিশ্রী যেমন তুমি সবচেয়ে খারাপ চেহারার মানুষ দেখতে পাও। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার সাথীদ্বয় তাদেরকে বললেন, “আপনারা যান এবং ঐ নদীতে ঝাঁপ দেন। সেখানে একটি নদী প্রবাহিত ছিল, তার পানি ছিল দুধের মতো সাদা। তারা সেখানে যান এবং নদীতে ঝাঁপ দেন তারপর তারা আবার ফিরে আসেন এমন অবস্থায় যে, তাদের চেহারার কুৎসিত অবস্থা দুর হয়ে যায় এবং তারা সর্বাধিক সুন্দর চেহারার অধিকারী হয়ে যান।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার সাথীদ্বয় আমাকে বললেন, “এটি জান্নাতু ‘আদন আর ঐটি আপনার বাসস্থান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি উপরে দৃষ্টি তুলে তাকালাম, অতঃপর আমি সাদা মেঘের ন্যায় প্রাসাদ দেখতে পেলাম। আমার সাথীদ্বয় আমাকে বললেন, “ঐটি আপনার বাসস্থান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি বললাম, “আল্লাহ আপনাদের বারাকাহ দান করুন, আপনারা আমাকে ছেড়ে দিন, আমি তাতে প্রবেশ করবো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার সাথীদ্বয় আমাকে বললেন, “এখন আপনি তাতে প্রবেশ করতে পারবেন না, তবে অবশ্যই আমি তাতে (একদিন) প্রবেশ করবেন।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি বললাম, আজ রাতে আমি অনেক বিস্ময়কর জিনিস দেখলাম, আমি যা দেখলাম, সেসবের মর্মার্থ কী?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সাথীদ্বয় আমাকে বললেন, “অচিরেই আমরা আপনাকে তা জানাবো। প্রথম ব্যক্তি, যার কাছে আপনি এসেছিলেন, যার মাথা পাথর দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে, সে হলো ঐ ব্যক্তি যে কুরআন শিক্ষা করে অতঃপর কুরআন পরিত্যাগ করে এবং ফরয সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে। আর যে ব্যক্তির কাছে আপনি এসেছিলেন, যার চিবুক মাথার পশ্চাৎভাগ পর্যন্ত ফেড়ে ফেলা হচ্ছে, চোখ চিবুক মাথার পশ্চাৎভাগ পর্যন্ত ফেড়ে ফেলা হচ্ছে, নাকের ছিদ্র চিবুক মাথার পশ্চাৎভাগ পর্যন্ত ফেড়ে ফেলা হচ্ছে, সে হচ্ছে এমন ব্যক্তি যে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়ে মিথ্যা কথা বলে, অতঃপর তা দিকদিগন্তে পৌঁছে যায়। চুলা সদৃশ স্থাপনায় বিবস্ত্র যেসব নারী-পুরুষদের দেখেছেন, এরা হলো ব্যভিচারী নর ও নারী। যে ব্যক্তি নদীতে আছে, যাকে পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছে গলাধঃকরণ করার জন্য সে হলো সুদখোর। আগুনের কাছে কুৎসিত চেহারার ব্যক্তি, যিনি আগুন জ্বালাচ্ছিলেন, তিনি হলেন জাহান্নামের রক্ষী ফেরেস্তা মালিক। বাগানে যে লম্বা ব্যক্তিকে দেখেছেন, তিনি হলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তাঁর পাশের শিশুরা হলো সেসব শিশু, যারা ফিতরাত তথা ইসলামের উপর জন্ম গ্রহণ করেছে (অতঃপর বালেগ হওয়ার আগে মারা গিয়েছে)। রাবী বলেন, “অতঃপর একজন মুসলিম ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুশরিকদের সন্তানরাও?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “মুশরিকদের সন্তানরাও।” আর যেসব ব্যক্তির দেহের একাংশ সুন্দর ছিল আর অপরাংশ ছিল কুৎসিত, তারা হলো এমন ব্যক্তি যারা ভাল-মন্দ মিশ্রিত আমল করেছে অতঃপর আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন।”[1]

[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/৮-৯; সহীহ আল বুখারী: ৭০৪৭; তাবারানী আল কাবীর: ৬৯৮৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২০৫৩; সহীহ মুসলিম: ২২৭৫; তিরমিযী: ২২৯৫; সুনানু বাইহাকী: ২/১৮৭। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তাখরীজু ফিকহুস সীরাহ.: ১৩৭।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «تخريج فقه السيرة» (137): خ. * [فَتَلَقَّانَا فِيهَا] قال الشيخ: تحرفت في طبعتي «الإحسان» إلى: «فقلنا: ما منها»!! والتصويب من صحيح البخاري (7047).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، عيسى بن أحمد روى له الترمذي والنسائي، وهو ثقة، ومن فوقه من رجال الشيخين.









সহীহ ইবনু হিব্বান (656)


656 - أَخْبَرَنَا حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شُعَيْبٍ الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْمَقَابِرِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي الْعَلَاءُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَوْ يَعْلَمُ الْمُؤْمِنُ مَا عِنْدَ اللَّهِ مِنَ الْعُقُوبَةِ، مَا طَمِعَ بِجَنَّتِهِ أَحَدٌ، وَلَوْ يَعْلَمُ الْكَافِرُ مَا عِنْدَ اللَّهِ مِنَ الرَّحْمَةِ، مَا قَنَطَ مِنْ جَنَّتِهِ أَحَدٌ». [3: 9]
رقم طبعة با وزير = (655)




আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি মু‘মিন ব্যক্তি জানতো যে, আল্লাহর কাছে কী পরিমান শাস্তি রয়েছে, তবে তাঁর জান্নাতের আশা কেউ করতো না। আর যদি কাফের ব্যক্তি জানতো যে, আল্লাহর কাছে কী পরিমান রহমত রয়েছে, তবে তাঁর জান্নাত থেকে কেউ নিরাশ হতো না।” [1]

[1] সহীহ মুসলিম: ২৭৫৫; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৯৭। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ.: ১৬৩৪।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (1634): ق.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.









সহীহ ইবনু হিব্বান (657)


657 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ مَوْلَى ثَقِيفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، [ص:433] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ يُؤَاخِذُنِي اللَّهُ، وَابْنَ مَرْيَمَ، بِمَا جَنَتْ هَاتَانِ - يَعْنِي الْإِبْهَامَ وَالَّتِي تَلِيهَا -، لَعَذَّبَنَا ثُمَّ لَمْ يَظْلِمْنَا شَيْئًا». [3: 10]
رقم طبعة با وزير = (656)




আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি আল্লাহ আমাকে এবং মারইয়াম তনয় (ইসা আলাইহিস সালাম) কে এই দুই আঙ্গুল (বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী আঙ্গুলের) ত্রুটির কারণে পাকড়াও করতেন, তবে অবশ্যই তিনি আমাদের শাস্তি দিতে পারতেন, তবুও তিনি আমাদের উপর মোটেও যুলম করতেন না।”[1]

[1] আবু নু‘আইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৮/১৩২। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ.: ৩২০০।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (3200).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، محمد بن إسحاق: هو الحافظ الإمام الثقة شيخ خراسان أبو العباس السراج، وباقي رجال السند ثقات على شرطهما غير عبد الله بن عمر- وهو ابن محمد بن أبان- فمن رجال مسلم. محمد هو ابن سيرين. هشام هو ابن حسان.









সহীহ ইবনু হিব্বান (658)


658 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، تَقُولُ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا كَانَ يَوْمُ رِيحٍ، أَوْ غَيْمٍ، عُرِفَ ذَلِكَ فِي وَجْهِهِ وَأَقْبَلَ وَأَدْبَرَ، فَإِذَا مَطَرَتْ، سُرَّ بِهِ وَذَهَبَ ذَلِكَ عَنْهُ، فَسُئِلَ، فقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي خَشِيتُ أَنْ يَكُونَ عَذَابًا سُلِّطَ عَلَى أُمَّتِي». [3: 65]
رقم طبعة با وزير = (657)




‘আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন ঝড় বা মেঘাচ্ছন্নের দিন হতো, সেটার ছাপ তাঁর চেহারায় বুঝা যেতো আর তিনি (উদ্বিগ্ন হয়ে) সামনে-পিছনে হাঁটাচলা করতেন। অতঃপর যখন বৃষ্টি হতো, তখন তিনি খুশি হতেন এবং তাঁর থেকে সেই ভাব দূর হয়ে যেতো। অতঃপর তাঁকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “আমার ভয় হয় যে, এটি আল্লাহর আযাব, যা আমার উম্মাতের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে!”[1]

[1] সহীহ মুসলিম: ৮৯৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৩৬১; সহীহ আল বুখারী: ৩২০৬; তিরমিযী: ৩২৫৭; ইবনু মাজাহ: ৩৮৯১; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৬৬; আবু দাঊদ: ৫০৯৮। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ.: ২৭৫৭।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2757).




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.









সহীহ ইবনু হিব্বান (659)


659 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَسْرُوقِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ:، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ أَنَّ اللَّهَ يُؤَاخِذُنِي وَعِيسَى بِذُنُوبِنَا، لَعَذَّبَنَا وَلَا يَظْلِمُنَا شَيْئًا»، قَالَ: وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ وَالَّتِي تَلِيهَا. [3: 66]
رقم طبعة با وزير = (658)




আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি আল্লাহ আমাকে এবং ইসা আলাইহিস সালামকে আমাদের ত্রুটির কারণে পাকড়াও করতেন, তবে অবশ্যই তিনি আমাদের শাস্তি দিতে পারতেন, তবুও তিনি আমাদের উপর মোটেও যুলম করতেন না।” রাবী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করেছেন। [1]

[1] আবু নু‘আইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৮/১৩২। শায়খ শু‘আইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ.: ৩২০০।)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - وهو مكرر ما قبله بحديث.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، محمد بن المسيب: هو الحافظ البارع الجوال الزاهد القدوة أبو عبد الله محمد بن المسيب بن إسحاق بن عبد الله النيسابوري الإسفنجي المتوفى سنة 315 وترجم في تذكرة الحافظ 3/ 789، 890، وموسى بن عبد الرحمن روى له الترمذي والنسائي وابن ماجة، وهو ثقة، ومن فوقه من رجال الشيخين. وهو مكرر (657).









সহীহ ইবনু হিব্বান (660)


660 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ أَحَدٌ مِنْكُمْ يُنْجِيهِ عَمَلُهُ، وَلَكِنْ سَدِّدُوا وَقَارِبُوا»، قَالُوا: وَلَا أَنْتَ [ص:436] يَا رَسُولَ اللَّهِ؟، قَالَ: «وَلَا أَنَا، إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِي بِمَغْفِرَةٍ وَفَضْلٍ» *
رقم طبعة با وزير = (659)




আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই, যাকে তার আমল পরিত্রাণ দিবে। তবে তোমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে এবং মধ্যমপন্থার কাছাকাছি থাকবে।” তখন এক ব্যক্তি বললেন: “ হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনাকেও না?” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “না, আমাকেও আমার আমল পরিত্রান দিবে না। তবে মহান আল্লাহ আমাকে স্বীয় অনুগ্রহ ও ক্ষমা দ্বারা ঢেকে নিবেন।”[1]

[1] মুসনা্দ আহমাদ: ২/৪৫১; সহীহ মুসলিম: ২৮১৬; আত তায়ালিসী: ২৩২২; মুসনাদ আহমাদ: ২/৫১৪; সহীহ আল বুখারী: ৬৪৬৩; সুনানু বাইহাকী: ৩/১৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৪১৯২; ইবনু মাজাহ: ৪২০১; বাযযার: ৩৪৪৮। হাদীসটির সানাদকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৬০২)




تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (349). *قال الناشر: مكرر ما تقدم (349). تنبيه!! رقم (349) = (348) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.




تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.