সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَصْنَعُونَ فِي الْحَائِضِ نَحْوًا مِنْ صَنِيعِ الْمَجُوسِ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَزَلَتْ وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَلَمْ يَزْدَدْ الْأَمْرُ فِيهِنَّ إِلَّا شِدَّةً
১১৬১. ইকরিমাহ রাহি. বলেন, জাহিলী যুগের লোকেরা স্ত্রীলোকের হায়িয অবস্থায় মাজুসী (অগ্নিপুজারী) সম্প্রদায়ের লোকদের মতো (তাদের সাথে সহবাস) করতো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বিষয়টি উত্থাপিত হলো, তখন এ আয়াত নাযিল হলো: [“তারা তোমাকে (স্ত্রী লোকদের) হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে; তুমি বলো, ওটা হচ্ছে কষ্টদায়ক অবস্থা। অতএব, হায়িয অবস্থায় স্ত্রীলোকদের থেকে (সঙ্গম না করে) বিরত থাক এবং উত্তমরূপে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তাদের নিকট যেওনা।“ (সুরা বাকারা: ২২২)] ফলে এ আদেশটি (হায়িয অবস্থায় উভয় রাস্তায় সংগম হারাম করার মাধ্যমে[1]) স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে কঠোরতাই বৃদ্ধি করেছে।[2]
[1] ((ফাতহুল মান্নান অত্র (১২৩০ নং) হাদীসের ব্যাখ্যা দ্র:-অনুবাদক))
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও সনদ সহ পাইনি। ইবনু আবী শাইবা ৪/২২৯ সাকাফীর সুত্রে সংক্ষেপে।
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قُلْ هُوَ أَذًى قَالَ هُوَ الدَّمُ
১১৬২. আবী নাজীহ হতে বর্ণিত, [“তুমি বলো, ওটা হচ্ছে কষ্টদায়ক অবস্থা।“ (সুরা বাকারা : ২২২)] এ আয়াত সম্পর্কে মুজাহিদ রাহি. বলেন, ওটা (কষ্টদায়ক অবস্থা অর্থ) হচ্ছে রক্ত।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। মুয়াম্মিল হচ্ছে ইবনু ইসমাঈল। তিনি যঈফ।
তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ২/৩৮১ যঈফ সনদে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ قَتَادَةَ قُلْ هُوَ أَذًى قَالَ قَذَرٌ
১১৬৩. মু’তামির হতে বর্ণিত, [“তুমি বলো, ওটা হচ্ছে কষ্টদায়ক অবস্থা।“ (সুরা বাকারা : ২২২)] এ আয়াত সম্পর্কে কাতাদা রাহি. বলেন, ওটা (‘কষ্টদায়ক অবস্থা’ অর্থ) হচ্ছে অপরিচ্ছন্নতা বা পঙ্কিলতা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ২/৩৮১ সহীহ সনদে।
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ قَالَ سَمِعْتُ لَيْثًا حَدَّثَ عَنْ عِيسَى بْنِ قَيْسٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ قَالَ إِنْ شِئْتَ فَاعْزِلْ وَإِنْ شِئْتَ فَلَا تَعْزِلْ
১১৬৪. ঈসা ইবনু কায়িস হতে বর্ণিত, (আল্লাহর বাণী:) [“তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।“ (সুরা বাকারা: ২২৩)] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহি. বলেন, তোমরা ইচ্ছা করলে ‘আযল’ করো, আবার ইচ্ছা করলে ‘আযল’ নাও করতে পারো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। লাইছ হচ্ছে আবী সালিম, তিনি যঈফ।
তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ২/৩৯৫ যঈফ সনদে। নতুবা, এমন বর্ণনাকারীর সূ্ত্রে যাকে আমি চিনি না।
ওয়াহিদী, আসবাবুন নুযূল পৃ: ৫৪ যঈফ সনদে: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩২।
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ عَنْ عَوْفٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ كَيْفَ شِئْتَ يَعْنِي إِتْيَانَهَا فِي الْفَرْجِ
১১৬৫. আউফ হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন, তুমি যে অবস্থায় ইচ্ছা কর, (স্ত্রী-সহবাস করতে পারো)? অর্থা সহবাস করবে স্ত্রীলোকদের যৌনাঙ্গে।’ [1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: দেখুন, সয়ূতী, দুররে মানছুর ১/২৬২।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ الْيَهُودَ قَالُوا لِلْمُسْلِمِينَ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ وَهِيَ مُدْبِرَةٌ جَاءَ وَلَدُهُ أَحْوَلَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ
১১৬৬. মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির রাহি. হতে বর্ণিত, জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইয়াহুদীগণ মুসলিমদেরকে বলতো, যে লোক পিছনের দিক থেকে স্ত্রী সহবাস করবে, তার সন্তান টেরা চোখবিশিষ্ট হবে। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন: [“তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।“[1] (সুরা বাকারা: ২২৩)]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের হাদীস।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ২০২৪ এ ((“বুখারী, আস সহীহ ৪৫২৮; মুসলিম, আস সহীহ ১৪৩৫; আবু দাউদ ২১৬৩; তিরমিযী ২৯৮২; ইবনু মাজাহ ১৯২৫; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/৪০; তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৯৬; বাইহাকী, আস সুনান ৭/১৯৪-১৯৫; ইবনু হিব্বান ৪১৭৪, ৪২০৫“- মুসনাদুল মাওসিলী নং ২০২৪ এর মুহাক্বিক্বের টীকা হতে-অনুবাদক। )) ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৭৪, ৪২০৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৩০০ এ।
এছাড়াও : ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩০; বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান ১০/১৬০ নং ১৪৫২; আরও দেখুন, দুররে মানছুর ১/২৬১।
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ عِكْرِمَةَ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ قَالَ يَأْتِي أَهْلَهُ كَيْفَ شَاءَ قَائِمًا وَقَاعِدًا وَبَيْنَ يَدَيْهَا وَمِنْ خَلْفِهَا
১১৬৭. খালিদ আল হাজ্জা হতে বর্ণিত, [“অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।“ (সুরা বাকারা: ২২৩)] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) ’ইকরিমাহ রাহি. বলেন, ‘স্ত্রীলোকের দাঁড়ানো কিংবা বসা অবস্থায়, সামনে থেকে কিংবা পিছন থেকে, যে অবস্থায়ই চায়, সেভাবেই সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২২৯ সহীহ সনদে।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْأَشَجُّ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمْ اللَّهُ قَالَ فِي الْفَرْجِ
১১৬৮. ইয়াযীদ ইবনুল ওয়ালীদ থেকে বর্ণিত, [“তখন তাদের নিকট গমণ করো, যেখান দিয়ে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন।“ সুরা বাকারা: ২২২] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) ইবরাহীম রাহি. বলেন, (সহবাস হতে হবে) যৌনাঙ্গে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩২; তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৮৮।
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا فَهُوَ مِنْ الْمَرْأَةِ مِثْلُهُ مِنْ الرَّجُلِ ثُمَّ تَلَا وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمْ اللَّهُ أَنْ تَعْتَزِلُوهُنَّ فِي الْمَحِيضِ الْفَرْجَ ثُمَّ تَلَا نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ قَائِمَةً وَقَاعِدَةً وَمُقْبِلَةً وَمُدْبِرَةً فِي الْفَرْجِ
১১৬৯. উছমান ইবনুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত, মুজাহিদ রাহি. বলেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করবে, তবে এ স্ত্রীলোক পুরুষের স্থলাভিষিক্ত হবে (কেননা, সেটা পুরুষের সাথে ‘লিওয়াতাত’ এর মতো)। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: [“তারা তোমাকে (স্ত্রী লোকদের) হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে; তুমি বলো, ওটা হচ্ছে কষ্টদায়ক অবস্থা। অতএব, হায়িয অবস্থায় স্ত্রীলোকদের থেকে (সঙ্গম না করে) বিরত থাক এবং উত্তমরূপে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তাদের নিকট যেওনা। অতঃপর যখন তারা উত্তমরূপে পবিত্র হবে, তখন তাদের নিকট গমণ করো, যেখান দিয়ে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন।“ (সুরা বাকারা: ২২২)] (এ আয়াতের) ‘তোমরা তাদেরকে পরিত্যাগ করবে’ অর্থ: হায়িয অবস্থায় যৌনাঙ্গ (দিয়ে সহবাস পরিত্যাগ করবে)। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: [“তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।“ (সুরা বাকারা: ২২৩)] (এর অর্থ:) দাড়ানো ও বসা অবস্থায়, সামনের দিক থেকে এবং পিছনের দিক থেকে (সঙ্গম করতে পারো, তবে তা হতে হবে) যৌনাঙ্গে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: দুররে মানছুর ১/২৬৫ এ সুয়ূতী একে আব্দ ইবনু হুমাইদ এর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।
এছাড়া বর্ণনা করেছেন তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৮৭-৩৮৮; ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩২, ২৩৩ সহীহ সনদে; পূর্বের ১১৬০, ১১৬১, ১১৬৩ (অনূবাদে ১১৫৪, ১১৫৫, ১১৫৭) নং হাদীসগুলি দেখুন।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ حَكِيمٍ الْأَثْرَمِ عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَتَى حَائِضًا أَوْ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا أَوْ كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ
১১৭০. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে, “যে ব্যক্তি হায়িযগ্রস্ত স্ত্রীলোকের সাথে সঙ্গম করে কিংবা স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে, অথবা গণকের কাছে যায় এবং সে যা বলে তা সত্য বলে বিশ্বাস করে, তবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, সে ব্যক্তি তাতে কুফরী করলো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫২-২৫৩; আহমাদ ২/৪০৮, ৪৭৬; বুখারী, আল কাবীর ৩/১৬, ১৭; আবু দাউদ ৩৯০৪; তিরমিযী ১৩৫; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৯০১৬; ইবনু মাজাহ ৬৩৯; ইবনুল জারুদ নং ১০৭; উকাইলী, আদ দুয়া’ফা ১/৩১৮; ইবনু আদী, আল কামিল ২/৬৩৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/৪৫; বাইহাকী ৭/১৯৮।
তিরমিযী বলেন: আহলুল ইলম গণের নিকট এর অর্থ ‘কঠোরতা’ করা.... । কেননা, যদি হায়িয অবস্থায় স্ত্রী-গমণ (প্রকৃত) কুফর হতো, তবে এর জন্য কাফ্ফারা দেওয়ার আদেশ করা হতো না।’
দেখুন, ইবনু আব্বাসের হাদীস গত ১১৪৬ (অনূবাদে ১১৪০) নং এবং পরবর্তী ১১৮০ (অনূবাদে ১১৭৪) নং হাদীসটি। আরও দেখুন, তালখীসুল হাবীর ৩/১৮০-১৮৮; তাবারাণী, মু’জামুল আওসাত নং ৯১৭৫; মাজমাউল বাহরাইন ৪/১৯০ নং ২৩১১।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو هِلَالٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الشَّقَرِيِّ عَنْ أَبِي الْقَعْقَاعِ الْجَرْمِيِّ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ آتِي امْرَأَتِي حَيْثُ شِئْتُ قَالَ نَعَمْ قَالَ وَمِنْ أَيْنَ شِئْتُ قَالَ نَعَمْ قَالَ وَكَيْفَ شِئْتُ قَالَ نَعَمْ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّ هَذَا يُرِيدُ السُّوءَ قَالَ لَا مَحَاشُّ النِّسَاءِ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ سُئِلَ عَبْد اللَّهِ تَقُولُ بِهِ قَالَ نَعَمْ
১১৭১. আবী কা’কা’ আজ জারমী রাহি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে বলল, হে আবূ আব্দুর রহমান! আমি কি আমার স্ত্রীর সাথে যেখান দিয়ে ইচ্ছা মিলিত হতে পারবো? তিনি বললেন: হাঁ। লোকটি তাকে জিজ্ঞেস করলো, আমি যে দিক দিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করি, (সেদিক দিয়েই)? তিনি বললেন, হাঁ।
লোকটি আবার বললো, আমি যেভাবে ইচ্ছা করি, (সেভাবেই)? তিনি বললেন: হাঁ। তখন তাকে এক লোক বললো, হে আবূ আব্দুর রহমান, এ লোক মন্দ কাজ করার ইচ্ছা করছে। তিনি বললেন, না, বরং মহিলাদের পশ্চাদ্দার তোমাদের জন্য হারাম।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, যদি আবী কা’কা’ ইবনু মাসউদ হতে শ্রবণ করে থাকেন।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫২; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/৪৬ অতি সংক্ষেপে যঈফ সনদে, উভয়েই মাওকুফ হিসেবে।
কিন্তু দাওলাবী, আল কু্ন্নী ২/৮৫ ইবনু মাসউদ হতে তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে....। এর রাবী বিসর মাজহুল। বুখারী তার সম্পর্কে বলেন: মুনকার (হাদীস বর্ণনায় অস্বীকৃত) এবং এ সনদ মাজহুল (অজ্ঞাত)।....
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ دَاوُدَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ إِتْيَانَ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا وَيَعِيبُهُ عَيْبًا شَدِيدًا
১১৭২. ইকরিমাহ রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে, কোনো লোকের জন্য তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে তার সাথে মিলিত হওয়াকে তিনি অপছন্দ (‘মাকরূহ’ মনে) করতেন। এবং (কোনো ব্যক্তি এমন কাজ করলে) তিনি তাকে কঠিনভাবে তিরস্কার করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বাইহাকী ৭/১৯৯; তাবারী, আত তাফসীর ২০/১৪৪ যঈফ সনদে।
حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ الْعَالَمِينَ قَالَ مَا نَزَى ذَكَرٌ عَلَى ذَكَرٍ حَتَّى كَانَ قَوْمُ لُوطٍ
১১৭৩. আবী নাজীহ হতে বর্ণিত, [“তোমরা তো এমন এক অশ্লীল কর্ম করছো, যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেউ করেনি।“ (সুরা ’আনকাবুত ২৯: ২৮)] (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) আমর ইবনু দীনার রাহি. বলেন: ‘লূত সম্প্রদায়ের পূর্ব পর্যন্ত পূরুষ কর্তৃক পুরুষে উপগত হওয়ার কুকর্ম কখনো সংঘটিত হয়নি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৯৩; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৫৪০০।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ مُخَلَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا لَمْ يَنْظُرْ اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
১১৭৪. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করে, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামত দিবসে তার দিকে তাকাবেন না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)। বূসীরী ‘মিসবাহুয zwj;যুজাজাহ’ ২/৯৭ এ বলেন: ‘এ সনদ সহীহ’, এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।
তাখরীজ: আহমাদ ২/৪৪৪; আবু দাউদ ২১৬২; বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান নং ১৪০৬৯; নাসাঈ, আল কুবরা ৯০১৫। এর শব্দাবলী হলো: “যে লোক তার স্ত্রীর পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করলো, সে অভিশপ্ত।“ এর তাখরীজ আমরা মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪৬২ এ দিয়েছি।
এছাড়াও, আব্দুর রাযযাক- মা’মারের জামি’ তে ২০৯৫২ নং এ; এর সূত্রে নাসাঈ, আল কুবরা ৯১৪ নং এ; বাইহাকী ৭/১৯৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২২৯৭।
এর শাহিদ রয়েছে ইবনু আব্বাস হতে যা আমরা মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৭৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩০২, ১৩০৩ এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২০৩, ৪২০৪, ৪৪১৮ তে আমরা তাখরীজ করেছি। আরও দেখুন, তারীখ জুরজান পৃ: ৩২৭ এবং ইবনু আদী, আল কামিল ৩/১১৩০।
আবার (অপর সনদে) ইবনু মাজাহ ১৯২৩; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৪৪; ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫৩; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৯০১১, ৯০১২, ৯০১৮, ৯০১৯.....।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ عَنْ عِيسَى بْنِ حِطَّانَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ سَلَّامٍ الْحَنَفِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ طَلْقٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَحْدَثَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَنْصَرِفْ وَلْيَتَوَضَّأْ ثُمَّ يُصَلِّي وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَأْتُوا النِّسَاءَ فِي أَدْبَارِهِنَّ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنْ الْحَقِّ سُئِلَ عَبْد اللَّهِ عَلِيُّ بْنُ طَلْقٍ لَهُ صُحْبَةٌ قَالَ نَعَمْ
১১৭৫. আলী ইবনু তালক হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি তোমাদের কারো সালাতের মধ্যে ‘হাদাস’ (ওযু ভঙ্গ) হয়, তবে সে যেন ফিরে যায় এবং ওযু করে, তারপর (পূণরায়) সালাত আদায় করে।“
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: “তোমরা স্ত্রীলোকদের পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করো না। আর আল্লাহ তা’আলা সত্য কথার (প্রকাশে) ব্যাপারে লজ্জা করেন না।“[1]আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হলো, আলী ইবনু তালক কি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) ‘সুহবত’ (সঙ্গ) লাভ করেছিলেন? তিনি বললেন: হাঁ।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। [তবে এ সনদকে শাইখ আলবানী ও আরনাউত্ব যঈফ বলেছেন। তবে হাদীসটি সহীহ লিগয়রিহী। দেখুন, সুনানুত তিরমিযী, নং ১১৬৪ (আলবানীর তাহক্বীক্বে), আর ১১৯৮ (আরনাউত্বের তাহক্বীক্বে)। তবে হাদীসটির দু’টি অংশই পৃথক পৃথকভাবে সহীহ শাহিদ রয়েছে বিভিন্ন সাহাবী হতে যেমন তিরমিযী ও আরনাউত্ব তাখরীজে বলেছেন।-অনুবাদক]
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২০৩, ২০৪ ((আবু দাউদ ২০৫, ১০০৫; দারুকুতনী ১/১৫৩; বাইহাকী ২/২৫৫; বাগাবী শারহুস zwj;সুন্নাহ ৩/২৭৭ নং ৭৫২; আব্দুর রাযযাক ১/১৩৯ নং ৫২৯; তাহাবী ৩/৪৫; আহমাদ ১/৮৬; তিরমিযী নং ১১৬৪, ১১৬৬। - মাওয়ারিদে মুহাক্বিক্বের টীকা হতে- অনুবাদক)) ; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৩৭, ৪১৯৯, ৪২০১ এ।
এছাড়া দেখুন, মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ৪/২৫১; সুনানে বাইহাকী ৭/১৯৮; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৯০২৩-৯০২৬।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي الْحَارِثُ بْنُ يَعْقُوبَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ أَبِي الْحُبَابِ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ مَا تَقُولُ فِي الْجَوَارِي حِينَ أُحَمِّضُ بِهِنَّ قَالَ وَمَا التَّحْمِيضُ فَذَكَرْتُ الدُّبُرَ فَقَالَ هَلْ يَفْعَلُ ذَاكَ أَحَدٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ
১১৭৬. সাঈদ্ ইবনু ইয়াসার আবী হুব্বাব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা কে বললাম, দাসীদের সাথে যদি আমি ‘তাহমীদ’ করি, সে ব্যাপারে আপনার মত কি? তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: ‘তাহমীদ’ করা কি? তখন আমি পশ্চাদ্দারে (সঙ্গম করা)-এর কথা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন: মুসলিমদের মাঝেও একাজ কেউ করে না-কি?[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। আব্দুল্লাহ ইবুন সালিহ লাইছের লিখক, তার স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত দূর্বল।
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৪১ সহীহ সনদে; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৮৯৭৯;
ইবনু কাছীর তার তাফসীর ১/৩৮৯ এ এ হাদীস সম্পর্কে বলেন: ‘এটি তার তথা ইবনু উমার হতে সাব্যস্ত রয়েছে।
আর এটি আবী হানীফা, শাফিঈ, আহমাদ ইবনু হাম্বল ও তার সাথীদেরও মত।
আবার এটি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব, আবী সালামাহ, ইকরিমাহ, তাউস, আতা, সাঈদ ইবনু জুবাইর, উরওয়া ইবনু জুবাইর, মুজাহিদ ইবনু জাবির, হাসান ও অন্যান্য সালাফদের মত যে: তারা এটিকে কঠিনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন; আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন কর্মকারীর উপর ‘কুফর’ শব্দ প্রয়োগ করেছেন। আর এটি জমহুর (অধিকাংশ) উলামার মত।’
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُصَيْنٍ الْأَنْصَارِيِّ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِي وَكَانَ مِنْ أَسْنَانِي حَدَّثَنِي هَرَمِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ تَذَاكَرْنَا شَأْنَ النِّسَاءِ فِي مَجْلِسِ بَنِي وَاقِفٍ وَمَا يُؤْتَى مِنْهُنَّ فَقَالَ خُزَيْمَةُ بْنُ ثَابِتٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنْ الْحَقِّ لَا تَأْتُوا النِّسَاءَ فِي أَعْجَازِهِنَّ
১১৭৭. হারাম ইবনু আব্দুল্লাহ বলেন: আমরা বনী ওয়াকিফ গোত্রের এক মজলিসে নারীদের অবস্থা এবং তাদের সাথে মিলিত হওয়ার অবস্থা সম্পর্কে পরস্পর আলোচনা করছিলাম। তখন খুযাইমাহ ইবনু ছাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “হে মানবমণ্ডলী! আল্লাহ তা’আলা সত্য কথা (প্রকাশের) ব্যাপারে লজ্জা করেন না। তোমরা স্ত্রীলোকদের পশ্চাদ্দারে সঙ্গম করো না।“[1]
[1] তাহক্বীক্ব এর সনদ জাইয়্যেদ। আমরা মাওয়ারিদুয যামআন নং ১২৯৯, ১৩০০, ১৩০১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৯৮, ৪১৯৯, ৪২০০ তে এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি। দেখুন, নাসাঈ, সুনানুল কুবরা নং ৮৯৮২, ৮৯৮৩-৮৯৮৮।
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا خُصَيْفٌ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ كَانُوا يَجْتَنِبُونَ النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَيَأْتُونَهُنَّ فِي أَدْبَارِهِنَّ فَسَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمْ اللَّهُ فِي الْفَرْجِ وَلَا تَعْدُوهُ
১১৭৮. মুজাহিদ রাহি. বলেন, তারা (লোকেরা) হায়িযের সময় নারীদের (যৌনাঙ্গে সঙ্গম করা)-কে পরিত্যাগ করতো, কিন্তু তখন তাদের পশ্চাদ্দার দিয়ে সঙ্গম করতো। তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলো, ফলে আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করলেন: [“তারা তোমাকে (স্ত্রী লোকদের) হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে; তুমি বলো, ওটা হচ্ছে কষ্টদায়ক অবস্থা। অতএব, হায়িয অবস্থায় স্ত্রীলোকদের থেকে (সঙ্গম না করে) বিরত থাক এবং উত্তমরূপে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তাদের নিকট যেওনা। অতঃপর যখন তারা উত্তমরূপে পবিত্র হবে, তখন তাদের নিকট গমণ করো, যেখান দিয়ে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন।“ (সুরা বাকারা: ২২২)] (তা হলো) যৌনাঙ্গ, আর একে অতিক্রম করবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, খুযাইফের কারণে। তিনি ইবনু আব্দুর রহমান।
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ২/৩৮১।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنِي ابْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي أَبَانُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ طَاوُسٍ وَسَعِيدٍ وَمُجَاهِدٍ وَعَطَاءٍ أَنَّهُمْ كَانُوا يُنْكِرُونَ إِتْيَانَ النِّسَاءِ فِي أَدْبَارِهِنَّ وَيَقُولُونَ هُوَ الْكُفْرُ
১১৭৯. আবাদ ইবনু সালিহ তাউস, সাঈদ, মুজাহিদ ও আতা রাহিমাহুমুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন, তারা এটিকে কঠিনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন; আর তারা বলতেন, এমন কর্ম ‘কুফর’।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪ সহীহ সনদে; দেখুন দুররে মানছুর ১/২৬২-২৬৭।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ عَطَاءٍ وَالزُّهْرِيِّ قَالَا الْغُسْلُ مِنْ الْجَنَابَةِ وَالْحَيْضِ وَاحِدٌ
১১৮০. আওযাঈ হতে বর্ণিত, আতা ও যুহরী রাহি. উভয়ে বলতেন: ‘জানাবাতের গোসল’ ও হায়িযের গোসল হবে একটিই।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৭৪ সহীহ সনদে।