হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (1341)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنِي عَمِّي إِيَاسُ بْنُ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ لَمَّا نَزَلَتْ فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اجْعَلُوهَا فِي رُكُوعِكُمْ فَلَمَّا نَزَلَتْ سَبِّحْ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى قَالَ اجْعَلُوهَا فِي سُجُودِكُمْ




১৩৪১. ইয়াস ইবনু আমির বলেন, আমি উকবাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহুকে বলতে শুনেছি, যখন [(فسبح باسم ربك العظيم ) (অর্থ: “ফলে তুমি তোমার মহান প্রভুর নামে তাসবীহ পাঠ করো।“ সুরা: ওয়াকিয়াহ: ৭৪)] আয়াতটি নাযিল হলো, তখন তিনি আমাদেরকে বললেন: “তোমাদের রুকূ’তে (পাঠ করার জন্য) একে নিধারণ করো। আবার যখন [(سبح اسم ربك الأعلى) অর্থ: “তোমার সর্বোচ্চ প্রতিপালকের নামে তাসবীহ পাঠ করো।“ (সুরা আ’লা: ১) এ সুরা নাযিল হলে তিনি আমাদেরকে বললেন: “তোমরা তোমাদের সিজদা’র মধ্যে (পাঠ করার জন্য) একে নির্ধারণ করো।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৩৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৯৮ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৫০৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1342)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ الْمُسْتَوْرِدِ عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَكَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ وَفِي سُجُودِهِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى وَمَا أَتَى عَلَى آيَةِ رَحْمَةٍ إِلَّا وَقَفَ عِنْدَهَا فَسَأَلَ وَمَا أَتَى عَلَى آيَةِ عَذَابٍ إِلَّا تَعَوَّذَ




১৩৪২. হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এক রাতে তিনি সালাত আদায় করলেন। তিনি রুকু’তে গিয়ে ‘সুবহানা রব্বী আল’আ’যীম’ এবং সিজদায় গিয়ে ‘সুবহানা রব্বী আল ‘আ’লা’ পাঠ করছিলেন। এছাড়াও (কিরা’আত পাঠের সময়) যখনই কোনো রহমতের বর্ণনা সম্বলিত আয়াত আসছিল তখনই তিনি সেখানে থেমে তিনি (রহমত) প্রার্থনা করছিলেন। আবার যখনই কোনো আযাবের বর্ণনা সম্বলিত আয়াত আসছিল, তখনই সেখানে থেমে তিনি (আযাব হতে) আশ্রয় প্রার্থনা করছিলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম ৭৭২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৯৭, ২৬০৪ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1343)


أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَبَّاسِ بْنِ سَهْلٍ قَالَ اجْتَمَعَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ وَأَبُو أُسَيْدٍ وَأَبُو حُمَيْدٍ وَسَهْلُ بْنُ سَعْدٍ فَذَكَرُوا صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فَكَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ ثُمَّ رَكَعَ وَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ كَأَنَّهُ قَابِضٌ عَلَيْهِمَا وَوَتَرَ يَدَيْهِ فَنَحَّاهُمَا عَنْ جَنْبَيْهِ وَلَمْ يُصَوِّبْ رَأْسَهُ وَلَمْ يُقْنِعْهُ




১৩৪৩. আব্বাস ইবনু সাহল হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনু মাসলামাহ, আবু উসাইদ, আবু হুমাইদ ও সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম এক মজলিসে একত্রিত হন এবং তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত সম্পর্কে আলোচনা করেন। তখন আবু হুমাইদ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়অ সাল্লামের সালাত সম্পর্কে আপনাদের চেয়ে সমধিক অবগত আছি। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়অ সাল্লাম (সালাতে) দাঁড়াতেন তখন তাকবীর দিতেন এবং তাঁর দু’হাত উঠাতেন। এরপর যখন রুকূ’র জন্য তাকবীর দিতেন তখনও তাঁর দু’হাত উঠাতেন, এরপর রুকূ’তে যেতেন এবং তাঁর দু’ হাত দু’ হাঁটুর উপর স্থাপন করতেন যেন তিনি সে দু’টিকে আঁকড়ে ধরেছেন। আর তিনি তাঁর হাতদু’টিকে বিচ্ছিন্ন করে পার্শ্বদেশ হতে দূরে সরিয়ে রাখতেন এবং মাথাকে (পিঠের চেয়ে) নিচু করতেন না, আবার উঁচুও করতেন না (সমান করে রাখতেন)।









সুনান আদ-দারিমী (1344)


أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ فَإِذَا رَكَعَ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ وَقَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَلَا يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي السُّجُودِ




১৩৪৪. সালিমের পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনু উমার) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন, তখন কাঁধ বরাবর তাঁর উভয় হাত উঠাতেন, এরপর যখন রুকূ’ করতেন তখনও এরূপ করতেন। আবার যখন রুকূ’ হতে মাথা উঠাতেন তখনও এরূপ করতেন, এবং বলতেন, ‘সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’, আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ্। কিন্তু তিন সাজদায় এরূপ করতেন না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী। তবে হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৭৩৫; মুসলিম ৩৯০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪২০, ৫৪৮০, ৫৫৩৪, ৫৫৬৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৬১, ১৮৬৪, ১৮৬৮, ১৮৭৭ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1345)


أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ




১৩৪৫. (অপর সূত্রে) ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে তিনি (সেখানে) বলেছেন: “রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। ফলে সেটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1346)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ وَإِذَا قَالَ الْإِمَامُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ




১৩৪৬. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ইমাম যখন ‘সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’, তখন তোমরা বলো, ‘রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি ১২৯১ (অনূবাদে ১২৮৮) নং এ দীর্ঘ বর্ণনাসহ গত হয়েছে। আরও দেখুন সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯০৮।









সুনান আদ-দারিমী (1347)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ وَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ




১৩৪৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “ইমাম এজন্যই বানানো হয়, যাতে তার অনুসরণ করা হয়। ফলে সে যখন তাকবীর দিবে, তখন তোমরাও তাকবীর দিবে। আর সে যখন রুকূ’ করে, তোমরাও তখন রুকূ’ করবে, আবার সে যখন সাজদা করে, তোমরাও সাজদা করবে। আর সে যখন ‘সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ্’ বলে, তোমরা তখন বলবে, ‘আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’। আর সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। আর সে বসে সালাত আদায় করলে তোমরাও সকলেই বসে সালাত আদায় করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৭২২; ৪১৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯০৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১০৭, ২১১৫ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1348)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ عَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّهُ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَنَا فَعَلَّمَنَا صَلَاتَنَا وَسَنَّ لَنَا سُنَّتَنَا قَالَ أَحْسَبُهُ قَالَ إِذَا أُقِيمَتْ الصَّلَاةُ فَلْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا قَالَ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ يُجِبْكُمْ اللَّهُ وَإِذَا كَبَّرَ وَرَكَعَ فَكَبِّرُوا وَارْكَعُوا فَإِنَّ الْإِمَامَ يَرْكَعُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتِلْكَ بِتِلْكَ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ أَوْ قَالَ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّ اللَّهَ قَالَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ




১৩৪৮. আবী মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সামনে খুতবা দিয়েছেন এরপর আমাদেরকে সালাত শিক্ষা দিয়েছেন এবং আমাদের জন্য পন্থা-পদ্ধতি প্রবর্তন করেছেন। তিনি বলেন, আমার ধারণা, তিনি বলেছেন: “সালাতের ইকামাত দেয়া হলে তোমাদের মধ্যে থেকে কোনো একজন যেন তোমাদের ইমামতি করে। ফলে সে যখন তাকবীর দেবে, তখন তোমরাও তাকবীর দেবে। আর যখন সে পাঠ করবে [“গয়রিল মাগদ্বুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দ্বল্লীন।“ (সুরা ফাতিহা: ৭)] তখন তোমরা বলবে, ‘আমীন’। তাহলে আল্লাহ তোমাদের (দু’আ) কে কবুল করবেন।

আর যখন সে তাকবীর দিয়ে রুকূ’ করবে তখন তোমরাও তাকবীর দিয়ে রুকূ’ করবে। তবে ইমাম অবশ্যই তোমাদের পূর্বে রুকু’ করবেন এবং তোমাদের পূর্বেই রুকূ’ হতে উঠবেন।“ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ফলে ঐটার সঙ্গেই ঐটা। আর যখন সে বলবে, ‘সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ তখন তোমরা বলবে, আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’ অথবা, তিনি বলেন: ‘রব্বানা লাকাল হামদ’। কেননা, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর নবীর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন, ‘সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ (অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহ’র প্রশংসা করে, মহান আল্লাহ তা শোনেন।’)“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সাঈদ ইবনু আমির সাঈদ ইবনু আবী আরুবাহ হতে কিছু শ্রবণ করা হতে পিছিয়ে। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম ৪০৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২২৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৬৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (1349)


أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ عَطِيَّةَ بْنِ قَيْسٍ عَنْ قَزَعَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ قَالَ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ




১৩৪৯. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকূ’ থেকে মাথা উত্তোলনের সময় বলতেন, “রব্বানা লাকাল হামদু মিল’আস সামাওয়াতি ওয়া মিল’আল আরদ্বু, ওয়া মিল’আ মা শি’তা মিন শাইয়্যিম বা’দু আহলুস ছানাই ওয়াল মাজদি, আহাক্বু মা ক্বলাল আব্দু, ওয়া কুল্লুনা লাকা আব্দুন; আল্লাহুম্মা লা মানি’আ লিমা আ’তইতা, ওয়ালা মু’তিয়া লিমা মানা’তা; ওয়ালা ইয়ানফা’উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম ৪০৪; আমরা এর তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৭২২৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২১৬৭।









সুনান আদ-দারিমী (1350)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَمِّهْ الْمَاجِشُونَ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا بَيْنَهُمَا وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ تَأْخُذُ بِهِ قَالَ لَا وَقِيلَ لَهُ تَقُولُ هَذَا فِي الْفَرِيضَةِ قَالَ عَسَى وَقَالَ كُلُّهُ طَيِّبٌ




১৩৫০. আলী ইবনু আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকূ’ থেকে মাথা উত্তোলনের সময় বলতেন, “সামি’য়াল্লাহু লিমান হামিদাহ, রব্বানা লাকাল হামদু, মিল’আস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বু, ওয়া মিল’আ মা বাইনাহুমা ওয়া মিল’আ মা শি’তা মিন শাইয়্যিম বা’দু।“[1] আব্দুল্লাহ কে বলা হলো, আপনি কি এটি অবলম্বন করছেন? তিনি বললেন: না। তাকে আরও বলা হলো, আপনি কি একে ফরয বলে মনে করেন। তিনি বললেন: সম্ভবত। তিনি আরও বললেন: এসবগুলোই উত্তম।“

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম ৭৭১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৫, ৫৭৪, ৫৭৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯০৪, ১৭৭১, ১৭৭২, ১৭৭৩, ১৭৭৪।









সুনান আদ-দারিমী (1351)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنِّي قَدْ بَدَّنْتُ فَلَا تَسْبِقُونِي بِالرُّكُوعِ وَلَا بِالسُّجُودِ فَإِنِّي مَهْمَا أَسْبِقُكُمْ حِينَ أَرْكَعُ تُدْرِكُونِي حِينَ أَرْفَعُ وَمَهْمَا أَسْبِقُكُمْ حِينَ أَسْجُدُ تُدْرِكُونِي حِينَ أَرْفَعُ




১৩৫১. মু’য়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমি এখন আমি কিছুটা মোটা হয়ে গেছি। ফলে আমার পূর্বে তোমরা রুকূ’-সিজদা করবে না। (কখনো কখনো এরূপ হয় যে,) আমি তোমাদের যত আগেই রুকূ’তে যায় না কেন, তোমরা আমার মাথা উঠানোর পূর্বেই আমাকে পেয়ে যাও (ধরে ফেলো)। আবার আমি তোমাদের যত আগেই সিজদা করি না কেন, তোমরা আমাকে সিজদা হতে মাথা উঠানোর আগেই পেয়ে যাও।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২২৯, ২২৩০; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৮২, ৩৮৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬১৩ তে। (আহমাদ ৪/৯২; বাইহাকী ২/৯২; সহীহ ইবনু খুযাইমা ১৫৯৪; আবু দাউদ ৬১৯; ইবনু মাজাহ ৯৬৩; তাবারাণী, আল কাবীর ১৯/২৭৩-২৭৪ নং ৮৬২।- মুহাক্বিক্বের মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৮৩ এর টীকা হতে। - অনুবাদক)









সুনান আদ-দারিমী (1352)


حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَا يَخْشَى أَحَدُكُمْ أَوْ أَلَا يَخْشَى أَحَدُكُمْ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ قَبْلَ الْإِمَامِ أَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ أَوْ صُورَتَهُ صُورَةَ حِمَارٍ




১৩৫২. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন ইমামের পূর্বে মাথা উঠায় তখন সে কি ভয় করে না যে, তার মাথাকে আল্লাহ গাধার মাথায় পরিবর্তিত করে দেবেন কিংবা তার চেহারাকে গাধার চেহারায় রূপান্তরিত করে দেবেন?“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৬৯১; মুসলিম ৪২৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৮২, ২২৮৩।

এছাড়া, বাইহাকী মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ৩৪৫৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩/৪১৭ নং ৮৪৯; আবু নুয়াইম, যিকরু আখবারু আসবাহান ১/২৬৯, ২/৫৫, ২১৮, ২৯৯; উকাইলী, আদ দুয়া’ফা ২/৭৩; ইবনু আদী, আল কামিল ৩/১০৬১, ৪/১৫৬৬, ৬/২২৩৭; ইবনু হিব্বান, আল মাজরুহীন ২/৩৫-৩৬; তাবারাণী, আল আওসাত ৩৩৩০, ৩৬০৯, ৩৯৩০, ৫৯৫৯, ৭১৯৩; ও সগীর ১/১১০; আরও দেখুন, তালখীসুল হাবীর ২/২৮।









সুনান আদ-দারিমী (1353)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا الْمُخْتَارُ بْنُ فُلْفُلٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَثَّهُمْ عَلَى الصَّلَاةِ وَنَهَاهُمْ أَنْ يَسْبِقُوهُ إِذَا كَانَ يَؤُمُّهُمْ بِالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَأَنْ يَنْصَرِفُوا قَبْلَ انْصِرَافِهِ مِنْ الصَّلَاةِ وَقَالَ إِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ خَلْفِي وَأَمَامِي




১৩৫৩. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে সালাতের ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করতেন এবং তিনি যখন তাদের ইমামতি করতেন তখন তাঁর পূর্বে রুকূ’ সিজদায় গমণ করতে তাদেরকে নিষেধ করতেন। এছাড়া তাঁর সালাত শেষ করার পূর্বেই তাদেরকে সালাত শেষ করতে যেতে নিষেধ করতেন। এবং তিনি বলেন: “আমি তোমাদেরকে আমার পিছন দিক থেকেও দেখতে পাই, আর সামনের দিক থেকে তো দেখিই।“[1]

[1] তাহক্বীক্ব; এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩২৮; মুসলিম ৪২৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৯৫২, ৩৯৫৭, ৩৯৬০, ৩৯৬৩;

এছাড়া, আবু আওয়ানাহ ২/১৩৬; বাইহাকী ২/৯১-৯২।









সুনান আদ-দারিমী (1354)


أَخْبَرَنَا أَبُو النَّضْرِ هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ طَاوُسًا يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أُمِرَ نَبِيُّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةٍ وَأُمِرَ أَنْ لَا يَكُفَّ شَعَرًا وَلَا ثَوْبًا قَالَ شُعْبَةُ وَحَدَّثَنِيهِ مَرَّةً أُخْرَى قَالَ أُمِرْتُ بِالسُّجُودِ وَلَا أَكُفَّ شَعَرًا وَلَا ثَوْبًا




১৩৫৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমারদের নবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তিনি যেন সাতটি অঙ্গের উপর সাজদা করেন এবং চুল ও পোশাক গুটিয়ে না রাখেন। শু’বা বলেন, অন্য আরেকবার তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে সাজদা করতে এবং চুল ও পোশাক না গুটাতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৮০৯; মুসলিম ৪৯০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি zwj;মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৮৯, ২৪৩১, ২৪৬৪, ২৬৬৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯২১, ১৯২৩, ১৯২৪, ১৯২৫ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫০০, ৫০১, ৫০২। দেখুন পরবর্তী হাদীসটি।









সুনান আদ-দারিমী (1355)


أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَيَحْيَى بْنُ حَسَّانَ قَالَا حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُمِرْتُ أَنْ أَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُمٍ الْجَبْهَةِ قَالَ وُهَيْبٌ وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى أَنْفِهِ وَالْيَدَيْنِ وَالرُّكْبَتَيْنِ وَأَطْرَافِ الْقَدَمَيْنِ وَلَا نَكُفَّ الثِّيَابَ وَلَا الشَّعَرَ




১৩৫৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমাকে সাতটি অঙ্গ যথা: কপাল, - (বর্ণনাকারী উহাইব বলেন, একথা বলে তিনি (ইবনু আব্বাস) তার নাকের দিকে ইশারা করলেন;) - দু’হাত, দু’হাঁটু দু’পায়ের আঙ্গুলসমূহ- এর উপর সাজদা করতে এবং পোশাক ও চুল না গুটাতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক্ব; এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৮১২; মুসলিম ৪৯০; এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। ফলে পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (1356)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَجَدَ يَضَعُ رُكْبَتَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ وَإِذَا نَهَضَ رَفَعَ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ




১৩৫৬. ওয়ায়িল ইবনু হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি, তিনি যখন সাজদায় যেতেন তখন মাটিতে হাত রাখার পূর্বেই হাঁটু রাখতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। এবং এর পূর্বে আমরা যতস্থানে একে (বর্ণনাকারী শারীককে) যঈফ বলেছি, তা এ তাহক্বীক্ব দ্বারা মানসূখ (রহিত) বলে গণ্য হবে।

((এ হাদীসটি নিয়ে ব্যাপক ইখতিলাফ পরিলক্ষিত হয়। এর সনদকে তিরমিযী হাসান গরীব বলেছেন; ইবনু খুযাইমা, হাকিম সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা বজায় রেখেছেন। তবে বুখারী, তিরমিযী, দারুকুতনী, ইবনু আবী দাউদ, বাইহাকী এ বর্ণনায় শারীকের একাকী হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন (ইবনু হাজার, তালখীসুল হাবীর ১/২৫৪ নং হা/৩৮০ /১৫) এবং দারুকুতনী শারীকের ব্যাপারে মূলনীতি উল্লেখ করে বলেছেন: শারীক কোনো বর্ণনায় একাকী হলে তা যঈফ। আর এর যঈফ হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন বাইহাকী (আফ্ফান হতে), আলবানী, আরনাউত্ব, মুস্তফা আ’যমী, মাহির ইয়াসীন আল ফাহল (তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : ইবনু খুযাইমা, তা’লীকাতুল হিসান, আল ইহসান)। এছাড়াও, এটি দু’টি সহীহ হাদীসের বিপরীত বর্ণনা যা ১. ইবনু উমার হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: “তিনি সিজদা করার সময় হাঁটুর পূর্বে দু’হাত মাটিতে রাখতেন“ (বুখারী, আযান বাব ১২, তা’লিক হিসেবে; দারুকুতনী ১/৩৪৪ নং ২ (নং ১৩০৩ আরনাউত্বের টীকাসহ মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ হতে),; তাহাবী ১/২৫৪; সহীহ বলেছেন ইবনু খুযাইমা ৬২৭; হাকিম ১/২২৬ ও যাহাবী তা বজায় রেখেছেন) ও

২. পরের হাদীসটি যা আবী হুরাইরা হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে যে, “... তোমাদের যখন কেউ সাজদায় গমণ করে, তখন সে যেন উটের মতো হাঁটু গেড়ে না বসে, বরং সে যেন হাঁটু মাটিতে রাখার পূর্বে দু’হাত রাখে।“ (আবু দাউদ ৮৪০, আহমাদ ২/৩৮১; বাগাবী, শারহুস zwj;সুন্নাহ ৩/১৩৪; বাইহাকী ২/৯৯; তাহাবী ১/২৫৪ ও অন্যান্য)

যাহোক, এজন্য সালাফগণ এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক মতভেদ করেছেন। মালিক ও আউযাঈ, আহমদেরও একটি মত (আল মুগনী ১/৫১৪ তে বর্ণিত) এবং আহলে হাদীসের অধিকাংশের মতে হাঁটুর পূর্বে হাত রাখা মুস্তাহাব। বিপরীতে ‘হাতের পূর্বে হাঁটু রাখা’ সম্পর্কে ইমাম তিরমিযী ও খাত্তাবী উল্লেখ করেছেন যে, এটি অনেক উলামার মত। ইবনুল মুনযির এটি উমার, নাখঈ, মুসলিম ইবনু ইয়াসার, সুফিযান সাওরী, আহমদ, ইসহাক ও ‘আসহাবুর রাই’ (হানাফী)-দের থেকে উল্লেখ করেছেন।- আল ইহসান, তাহ: আরনাউত্ব হা/১৯১২ এর টীকা দ্র:) - অনুবাদক))

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯১২; মাওয়ারিদুয যাম’আন ৪৮৭। আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫৪০ তে আমাদের টীকাটি।

((আবু দাউদ ৮৩৮; তিরমিযী ২৬৮; ইবনু মাজাহ ৮৮২; নাসাঈ ১/২০৬; দারুকুতনী ১/৩৪৫; তাবারাণী ২২/৯৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/২৫৫; বাইহাকী ২/৯৮; হাযিমী, আল ই’তিবার পৃ: ১৬১; ইবনু খুযাইমা নং ৬২৬, ৬২৯; হাকিম ১/২২৬।- আল ইহসান, তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আরনাউত্ব, ১৯১২ এর টীকা দ্র:- অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1357)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلَا يَبْرُكْ كَمَا يَبْرُكُ الْبَعِيرُ وَلْيَضَعْ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ مَا تَقُولُ قَالَ كُلُّهُ طَيِّبٌ وَقَالَ أَهْلُ الْكُوفَةِ يَخْتَارُونَ الْأَوَّلَ




১৩৫৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের যখন কেউ সালাত আদায় করে করে, তখন সে যেন উটের মতো হাঁটু গেড়ে না বসে, বরং সে যেন দু’হাঁটু মাটিতে রাখার পূর্বে দু’হাত রাখে।“[1]

আব্দুল্লাহ কে বলা হলো, আপনি কী বলেন?

তিনি বলেন, প্রত্যেকটিই উত্তম। তিনি আরও বলেন, আহলে কুফা’ (কুফাবাসীগণ তথা হানাফীগণ) প্রথমটি (হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখা) কে পছন্দ করেছেন।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি এবং হাদীস বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৬৫৪০। এছাড়া আগের টীকাটিও দেখুন। (((আবু দাউদ ৮৪০, আহমাদ ২/৩৮১; বাগাবী, শারহুস zwj;সুন্নাহ ৩/১৩৪; বাইহাকী ২/৯৯; তাহাবী ১/২৫৪; হাযিমী, আল ই’তিবার পৃ: ১৫৮-১৫৯। - মুসনাদুল মাউসিলী ৬৫৪০ নং মুহাক্বিক্বের টীকা হতে। -অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1358)


أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ وَسَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اعْتَدِلُوا فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَلَا يَبْسُطْ أَحَدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ بِسَاطَ الْكَلْبِ




১৩৫৮. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ধীর-স্থিরতার সাথে রুকূ’ করো এবং তোমাদের কেউ যেন (সিজদা সময়) তার (কনুই পর্যন্ত) দু’হাত কুকুরের মতো বিছিয়ে না দেয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৮২২; সহীহ মুসলিম ৪৯৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৫৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯২৬ এ।









সুনান আদ-দারিমী (1359)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ تَمِيمِ بْنِ مَحْمُودٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِبْلٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ افْتِرَاشِ السَّبُعِ وَنَقْرَةِ الْغُرَابِ وَأَنْ يُوطِنَ الرَّجُلُ الْمَكَانَ كَمَا يُوطِنُ الْبَعِيرُ




১৩৫৯. আব্দুর রহমান ইবনু শিবলি আল আনসারী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিংস্র জন্তুর মতো (কনুই পর্যন্ত দু’হাত) বিছিয়ে দিতে, কাকের মতো ঠোকর মারতে এবং উটের জায়গা নির্দিষ্ট করার ন্যায় (মসজিদে মধ্যে) কোনো লোকের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে নিতে নিষেধ করেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, তামীম ইবনু মাহমূদের কারণে।

তাখরীজ: আমরা তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৭৭ এ। ((আবু দাউদ ৮৬২, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ -অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (1360)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَزِيدَ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ رَبِّ اغْفِرْ لِي فَقِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ تَقُولُ هَذَا قَالَ رُبَّمَا قُلْتُ وَرُبَّمَا سَكَتُّ




১৩৬০. হুযাইফাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’ সিজদার মাঝে বলতেন: “রব্বিগফির লী।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তবে নাসাঈ বলেছেন: তালহাহ ইবনু ইয়াযীদ হুযাইফাহ হতে শ্রবণ করেছেন বলে আমি জানি না। তবে হাকিম একে বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।

তাখরীজ: আহমাদ ৫/৩৯৭, ৪০০; ইবনু মাজাহ ৮৯৭ সহীহ সনদে; নাসাঈ, আল zwj;কুবরা ৬৫৬, ৭৩১, ১৩৭৮, ১৩৭৯; নাসাঈ বলেন, “এ হাদীসটি আমার নিকট মুরসাল।“ আবু দাউদ ৮৭৪; তিরমিযী, শামাইল ২৭০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৯১০; বাইহাকী ২/১২১-১২২; আবু দাউদ তায়ালিসী ৪১৬।...