হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (2603)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مَالِكٍ قِرَاءَةً عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي رَافِعٍ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اسْتَسْلَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَكْرًا فَجَاءَتْ إِبِلٌ مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ قَالَ أَبُو رَافِعٍ فَأَمَرَنِي أَنْ أَقْضِيَ الرَّجُلَ بَكْرَهُ فَقُلْتُ لَمْ أَجِدْ فِي الْإِبِلِ إِلَّا جَمَلًا خِيَارًا رَبَاعِيًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطِهِ إِيَّاهُ فَإِنَّ خَيْرَ النَّاسِ أَحْسَنُهُمْ قَضَاءً قَالَ عَبْد اللَّهِ هَذَا يُقَوِّي قَوْلَ مَنْ يَقُولُ الْحَيَوَانُ بِالْحَيَوَانِ




২৬০৩. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্ত দাস আবূ রাফে রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট থেকে ধারে একটি উঠতি বয়সের উট কিনেন অতঃপর যাকাতের উট এলো। আবূ রাফে’ বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন সেই লোকের উটটি পরিশোধ করি। তখন আমি বললাম, আমি তো চার বছর বা ততোধিক বয়সের উট ছাড়া আর কোন উট পাচ্ছি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “ওটাই তাকে দাও। কেননা লোকেদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ করে।“[1]

আবূ মুহাম্মদ বলেন, এটি ঐ লোকদের মতকে শক্তিশালী করে, যারা বলেন, পশুর বদলে পশু প্রদান (জায়েয)।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মালিক, বুয়ূ ৮৯; মুসলিম, মাসাকাত ১৬০০; আহমাদ ৬/২৯০; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৩৪৬; তিরমিযী, বুয়ূ ১৩১৮; নাসাঈ, বুয়ূ ৭.২৯১, কুবরা নং ৬২১০; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২১৮৫; শাফিঈ, আল উম্ম ৩/১১৭; আর রিসালাহ নং ১৬০৬; বাইহাকী, বুয়ূ ৬/২১, আল মারিফাহ ৭/১৯০ নং ১১৫৯৫; ইবনুল কা’নি’, মুজামুস সাহাবাহ নং ৩৮।









সুনান আদ-দারিমী (2604)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَلَقَّوْا الْجَلَبَ مَنْ تَلَقَّاهُ فَاشْتَرَى مِنْهُ شَيْئًا فَهُوَ بِالْخِيَارِ إِذَا دَخَلَ السُّوقَ




২৬০৪. আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা আমদানিকৃত পণ্য (বাহী কাফেলা)-এর সাথে মাঝপথে অগ্রসর হয়ে সাক্ষাত কর না। আর কোনো ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাত করে তার থেকে কিছু ক্রয় করলে পরে যখন মালের মালিক বিক্রেতা বাজারে এসে পৌছাবে, তখন তার এখতিয়ার থাকবে।“[1] (অর্থাৎ ইচ্ছা করলে এই লেনদেন প্রত্যাখান করতে পারবে।)

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী। আর হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৬২, ২১৪০; মুসলিম, বুয়ূ ১৫১৯।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৭৩, ৬০৭৮, ৬১৮৭ ও আরও দেখুন, ৫৮৮৪, ৫৮৮৭, ৫৮৭০, ৬০৪৯, ৬০৬৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৬১ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2605)


أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَبِيعُ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ وَلَا تَلَقَّوْا السِّلَعَ حَتَّى يُهْبَطَ بِهَا الْأَسْوَاقَ وَلَا تَنَاجَشُوا




২৬০৫. ইবনু ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “তোমাদের একজনের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর অপরজন ক্রয়-বিক্রয় করবে না আবার তোমরা পণ্যবাহী কাফেলার সাথে মাঝপথে অগ্রসর হয়ে সাক্ষাত করবে না, যতক্ষণ মালের মালিক বিক্রেতা বাজারে এসে না পৌছাবে। আর তোমরা ‘নাজাশ্’ তথা (খরিদ করার উদ্দেশ্য ব্যতীত ক্ষতিসাধনের জন্য অযথা দরদাম করে) মূল্য বৃদ্ধি করবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।

তাখরীজ: মালিক, বুয়ূ ৯৫; বুখারী, বুয়ূ ২১৩৯; মুসলিম, বুয়ূ ১৪১২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮০১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৫৯, ৪৯৬২ ৪৯৬১ তে। আর এটি গত হয়েছে ২২২২ (অনুবাদে ২২১২) নং তে।









সুনান আদ-দারিমী (2606)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَمَهْرِ الْبَغِيِّ وَحُلْوَانِ الْكَاهِنِ قَالَ عَبْد اللَّهِ حُلْوَانُ الْكَاهِنِ مَا يُعْطَى عَلَى كَهَانَتِهِ




২৬০৬. আবূ মাসঊদ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গণকের পারিতোষিক (গ্রহণ করা) হতে নিষেধ করেছেন।[1] আব্দুল্লাহ বলেন, গণকের পারিতোষিক হলো যা তাকে ভাগ্য গণনা করার জন্য প্রদান করা হয়।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২২৩৭; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৬৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৫৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৫৫ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2607)


أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتْ الْآيَةُ فِي آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي الرِّبَا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَلَاهُنَّ عَلَى النَّاسِ ثُمَّ حَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ




২৬০৭. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন সূদ সম্পর্কে সুরা বাকারাহ শেষদিকের আয়াতটি নাযিল হলো তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে লোকদের সামনে আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করলেন, অত:পর মদ বিষয়ক সকল লেনদেন হারাম ঘোষণা করলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২২২৬, সালাত ৪৫৯; মুসলিম, মাসাকাত ১৮৫০।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৬৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2608)


أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتْ الْآيَاتُ مِنْ أَوَاخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاقْتَرَأَهُنَّ عَلَى النَّاسِ ثُمَّ نَهَى عَنْ التِّجَارَةِ فِي الْخَمْرِ




২৬০৮. (অপর সনদে) আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন সুরা বাকারাহ শেষদিকের আয়াতসমূহ নাযিল হলো তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে লোকদের সামনে আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করলেন, অত:পর মদ বিষয়ক সকল লেনদেন নিষিদ্ধ করলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।









সুনান আদ-দারিমী (2609)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَعْلَةَ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ جُلُودِ الْمَيْتَةِ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِبَاغُهَا طَهُورُهَا وَسَأَلْتُهُ عَنْ بَيْعِ الْخَمْرِ مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّ لَنَا أَعْنَابًا وَإِنَّا نَتَّخِذُ مِنْهَا هَذِهِ الْخُمُورَ فَنَبِيعُهَا مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَهْدَى رَجُلٌ مِنْ ثَقِيفٍ أَوْ دَوْسٍ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَاوِيَةً مِنْ خَمْرٍ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَا عَلِمْتَ يَا أَبَا فُلَانٍ أَنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَهَا قَالَ لَا وَاللَّهِ قَالَ فَإِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَهَا فَالْتَفَتَ إِلَى غُلَامِهِ فَقَالَ اخْرُجْ بِهَا إِلَى الْحَزْوَرَةِ فَبِعْهَا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوَ مَا عَلِمْتَ يَا أَبَا فُلَانٍ أَنَّ الَّذِي حَرَّمَ شُرْبَهَا حَرَّمَ بَيْعَهَا قَالَ فَأَمَرَ بِهَا فَأُفْرِغَتْ فِي الْبَطْحَاءِ




২৬০৯. আব্দুর রহমান ইবনু ওয়ালাতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট মৃতজন্তুর চামড়া ব্যবহার করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “চামড়া প্রক্রিয়াজাত করাই হলো এর পবিত্র হয়ে যাওয়া।“ আমি তাকে চুক্তিবদ্ধ (কাফির) সম্প্রদায়ের কাছে মদ বিক্রয় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাকে বললাম, আমরা আঙ্গুর উৎপাদন করি এবং তা থেকে এ মদ তৈরী করে তা চুক্তিবদ্ধ (কাফির) সম্প্রদায়ের নিকট বিক্রয় করি। তখন ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, বিদায় হজ্জের সময় ছাকীফ অথবা, দাওস গোত্রের এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক মশক মদ হাদিয়া স্বরুপ নিয়ে আসে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ “হে আবূ অমুক! তুমি কি জান না যে, আল্লাহ উহা হারাম করে দিয়েছেন?“ সে বলল, আল্লাহর কসম, না। অতঃপর সে এক ব্যক্তি তার গোলামের কাছে ফিরে গিয়ে তাকে বলল, তুমি হাযওয়ারাহ’ (নামক বাজারে) গিয়ে ইহা বিক্রি করে দাও। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হে আবূ অমুক! তুমি কি জান না যে, যিনি ইহা পান করা হারাম করেছেন, তিনি ইহার বিক্রিও হারাম করে দিয়েছেন?“ তিনি (রাবী) বলেন, এরপর সে তাকে নির্দেশ দিলে তা ‘বাতহা’ উপত্যকায় ঢেলে ফেলা হলো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত তবে ইবনু ইসহাক এটি ‘আন আন’ শব্দে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি মুদাল্লিস রাবী। (তবে হাদীসটি সহীহ)

তাখরীজ: মালিক, আশরিবাহ ১২ সহীহ সনদে; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৭৯।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৬৮, ২৫৯০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৪২, ৪৯৪৪ তে। আর এটি গত হয়েছে ২০২৮ (অনুবাদে ২০১৮) নং তে।









সুনান আদ-দারিমী (2610)


أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْوَلَاءِ وَعَنْ هِبَتِهِ قَالَ عَبْد اللَّهِ الْأَمْرُ عَلَى هَذَا لَا يُبَاعُ وَلَا يُوهَبُ




২৬১০. ইবনু ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রীতদাসের অভিভাবকত্ব বিক্রি করতে এবং তা দান করতে নিষেধ করেছেন।[1] আব্দুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে নির্দেশ হলো, তা বিক্রি করাও যাবে না, দান করাও যাবে না।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।

তাখরীজ: মালিক, আল ইতক ২০; বুখারী, আল ইতক ২৫৩৫; মুসলিম, আল ইতক ১৫০৬।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৪৮, ৪৯৪৯, ৪৯৫০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৫৩ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৬/১২১ নং ৫০৫, ১১/৪১৮ নং ১১৬৫৪; আব্দুর রাযযাক ১৬১৩৮; তাবারাণী, আল কাবীর ১২/৪৪৮ নং ১৩৬২৫, ১৩৬২৬; ইবনু আদী, আল কামিল ৪/১৫৭৩, ১৬০৭, ৬/২০৩৭; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৭/৩৩১-৩৩২; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৪/৯৩; যা সামনে ৩২০০, ৩২০১ নং এ আসছে।









সুনান আদ-দারিমী (2611)


أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيَّ قَالَ أَعْتَقَ رَجُلٌ مِنَّا عَبْدًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ قَالَ فَدَعَا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَاعَهُ قَالَ جَابِرٌ وَإِنَّمَا مَاتَ عَامَ أَوَّلَ




২৬১১. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরে তার গোলাম আযাদ হবে বলে ঘোষণা দিল। তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকালেন এবং গোলামটিকে কিনে নিলেন। জাবির বলেন, তিনি প্রথম বছরেই মৃত্যু বরণ করলেন।[1] আব্দুল্লাহ কে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার মতও কি তাই? তিনি বললেন, লোকেরা একথা বলে থাকেন।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৪১; মুসলিম, ঈমান ৯৯৭ (৫৯)।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮২৫, ১৯৩২, ১৯৭৭,২১৬৬, ২১৬৭, ২২৩৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩৪২, ৪৯২৯, ৪৯৩০, ৪৯৩১, ৪৯৩২, ৪৯৩৩, ৪৯৩৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৫৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2612)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا وَلَدَتْ أَمَةُ الرَّجُلِ مِنْهُ فَهِيَ مُعْتَقَةٌ عَنْ دُبُرٍ مِنْهُ أَوْ بَعْدَهُ




২৬১২. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কোন ব্যক্তির ঔরসে তার বাঁদীর গর্ভে সন্তান হলে, সে বাঁদী তার (মালিকের) মৃত্যুর পর স্বয়ং দাসত্বমুক্ত হয়ে যাবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ ‘যঈফ জিদ্দান’ বা অত্যন্ত দুর্বল হুসাইন ইবনু আব্দুল্লাহর কারণে।

তাখরীজ: দারুকুতনী ৪/১৩১; ইবনু আবী শাইবা ৬/৪৩৬ নং ১৬৩০; আব্দুর রাযযাক নং ১৩২১৯; আহমাদ ১/৩০৩, ৩১৭, ৩২০; ইবনু মাজাহ, আল ইতক ২৫১৫; হাকিম ২/১৯; বাইহাকী, ইতক ১০/৩৪৬।









সুনান আদ-দারিমী (2613)


أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَنَفِيُّ الْمَدَنِيُّ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي مِكْيَالِهِمْ وَبَارِكْ لَهُمْ فِي صَاعِهِمْ وَمُدِّهِمْ يَعْنِي الْمَدِينَةَ




২৬১৩. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের মাপের পাত্রে বরকত দিন এবং তাদের সা‘আ ও মুদ্দ-এ বরকত দিন অর্থাৎ মদিনাবাসীদের।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবী আবূ মুহাম্মদ আল হানাফীকে আমি চিনি না। ((তবে হাদীসটি সহীহ-যেমন তাখরীজে উল্লেখিত হয়েছে-অনুবাদক))

তাখরীজ: মালিক, জামি’ ১ সহীহ সনদে; বুখারী, বুয়ূ ২১৩০; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৬৮।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৪৬ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/৯৭; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ১/২৭৮।









সুনান আদ-দারিমী (2614)


أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ بِلَالٍ قَالَ كَانَ عِنْدِي مُدُّ تَمْرٍ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَجَدْتُ أَطْيَبَ مِنْهُ صَاعًا بِصَاعَيْنِ فَاشْتَرَيْتُ مِنْهُ فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مِنْ أَيْنَ لَكَ هَذَا يَا بِلَالُ قُلْتُ اشْتَرَيْتُ صَاعًا بِصَاعَيْنِ قَالَ رُدَّهُ وَرُدَّ عَلَيْنَا تَمْرَنَا




২৬১৪. বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য এক মুদ খেজুর ছিল। এরপর আমি এ থেকে দু’ সা’আ পরিমাণ খেুজর দিয়ে এক সা’আ পরিমাণ এর থেকে উত্তম খেজুর ক্রয় করলাম। এরপর তা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এলে তিনি বললেন: “হে বিলাল! তুমি এটা কোথায় পেলে?“ আমি বললাম, (আমার খেজুর) দু’ সা’আ দিয়ে (এ খেজুর) এক সা’আ কিনেছি। তিনি বললেন: “এটি ফিরিয়ে দাও এবং আমাদের খেজুর আমাদের নিকট ফিরিয়ে নিয়ে আস।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ যদি মাসরুক বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে শ্রবণ করে থাকেন।

তাখরীজ: তাহাবী, মা’আনিল আছার ৪/৬৮; তাবারাণী, কাবীর ১/৩৫৯ নং ১০৯৭; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৫/১৩৪; বাযযার, কাশফুল আসতার ২/১০৮ নং ১৩১৬; হারিছ ইবনু আবী উসামাহ, বুগইয়াতুল বাহিছ নং ৪৪২ মাতরুক ও যঈফ সনদে।

তবে এ হাদীসের অনেকগুলি শাহিদ রয়েছে। দেখুন আমাদের তাহক্বীক্বকৃত মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৬৩৮, ৬৬৩৯ তে। এছাড়াও, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে এর শাহিদ রয়েছে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলীতে নং ৫৭১০ সেখানে এর শাহিদসমূহও উল্লেখ করেছি। এরপরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (2615)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ هُوَ ابْنُ بِلَالٍ عَنْ عَبْدِ الْمَجِيدِ بْنِ سُهَيْلِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يُحَدِّثُ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ وَأَبَا هُرَيْرَةَ حَدَّثَاهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ أَخَا بَنِي عَدِيٍّ الْأَنْصَارِيَّ فَاسْتَعْمَلَهُ عَلَى خَيْبَرَ فَقَدِمَ بِتَمْرٍ جَنِيبٍ قَالَ ابْنُ مَسْلَمَةَ يَعْنِي جَيِّدًا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكُلُّ تَمْرِ خَيْبَرَ هَكَذَا قَالَ لَا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لَنَشْتَرِي الصَّاعَ بِالصَّاعَيْنِ مِنْ الْجَمْعِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَفْعَلُوا وَلَكِنْ مِثْلًا بِمِثْلٍ أَوْ بِيعُوا هَذَا وَاشْتَرُوا بِثَمَنِهِ مِنْ هَذَا وَكَذَلِكَ الْمِيزَانُ




২৬১৫. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও আবু হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী আদী আল আনসারী’র ভাইকে খায়বারে (তহসীলদার) নিযুক্ত করেন। সে জানীব নামক (রাবী মাসলামাহ এর ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ-উত্তম) খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, “খায়বারের সব খেজুর কি এ রকমের?“ সে বলল, না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! এরূপ নয়, বরং আমরা দু’ সা’ (সাধারণ খেজুর)- এর পরিবর্তে এ ধরনের এক সা’ খেজুর একত্রে ক্রয় করে থাকি এবং তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এরূপ করবে না। তবে সমপরিমান এর বিনিময়ে অনুরুপ পরিমান করে (বিনিময় করবে) অথবা, এ (মিশ্রিত) খেজুর বিক্রি করে এর মুল্য দিয়ে জানীব খেজুর ক্রয় করবে। আর এটাই হলো নিয়ম।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২২০১, ২২০২, ই’তিসাম বিসসুন্নাহ ৩৭৫০, ৩৭৫১; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৯৩।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০২১ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/১২২, মা’আনিল আছার ৪/৬৭; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৫/১২৭-১২৮; বাইহাকী ৫/২৯১।









সুনান আদ-দারিমী (2616)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ النَّصْرِيِّ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ هَاءَ وَهَاءَ وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ هَاءَ وَهَاءَ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ هَاءَ وَهَاءَ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ هَاءَ وَهَاءَ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ هَاءَ وَهَاءَ وَلَا فَضْلَ بَيْنَهُمَا




২৬১৬. ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “(সমানে সমানে) স্বর্ণের বদলে স্বর্ণে আদান-প্রদান করো, (সমানে সমানে) রৌপ্যের বদলে রৌপ্য আদান-প্রদান করো, (সমানে সমানে) গমের বদলে গম আদান-প্রদান করো, (সমানে সমানে) যবের বদলে যব আদান-প্রদান করো, (সমানে সমানে) খেজুরের বিনিময়ে খেজুর আদান-প্রদান করো। তবে এদের মাঝে (কোনোটি কম, আবার কোনোটি) বেশি করা যাবে না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত তবে ইবনু ইসহাক এটি ‘আন আন’ শব্দে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি মুদাল্লিস রাবী। তবে হাদীসটি (সহীহ এবং) হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৩৪, ২১৭০, ২১৭৪; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৮৬।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৪৯, ২০৮, ২০৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০১৩, ৫০১৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2617)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا خَالِدٌ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ قَالَ قَامَ نَاسٌ فِي إِمَارَةِ مُعَاوِيَةَ يَبِيعُونَ آنِيَةَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ إِلَى الْعَطَاءِ فَقَامَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ بَيْعِ الذَّهَبِ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ بِالْفِضَّةِ وَالْبُرِّ بِالْبُرِّ وَالتَّمْرِ بِالتَّمْرِ وَالشَّعِيرِ بِالشَّعِيرِ وَالْمِلْحِ بِالْمِلْحِ إِلَّا مِثْلًا بِمِثْلٍ سَوَاءً بِسَوَاءٍ فَمَنْ زَادَ أَوْ ازْدَادَ فَقَدْ أَرْبَى




২৬১৭. আবী আশ’আস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মু’আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামলে এক ব্যক্তি এক পাত্র সোন ও রূপা নিয়ে দাঁড়াল এবং তা আতা’র নিকট বিক্রি করতে লাগল। তখন উবাদাহ ইবনু সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সোনার বিনিময়ে সোনা, রূপার বিনিময়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, যবের বিনিময়ে যব এবং লবণের বিনিময়ে লবণ ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তবে (দু’বস্তুর) পরিমাণ সমান সমান হলে (ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে)। এইসব ক্ষেত্রে কেউ অতিরিক্ত দিলে বা অতিরিক্ত চাইলে তা হবে সূদ।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, মাসাকাত ১৫৮৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০১৫, ৫০১৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৯৪ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৩৪৯-৩৩৫০; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৪০; নাসাঈ, ৭/২৭৪-২৭৫; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২২৫৪-ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৫৭৯ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2618)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا الرِّبَا فِي الدَّيْنِ قَالَ عَبْد اللَّهِ مَعْنَاهُ دِرْهَمٌ بِدِرْهَمَيْنِ




২৬১৮. ইবনু ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমাকে উসামা ইবনু যায়দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কেবল ঋণ বা ধার- কর্য (বাঁকী বিক্রয়)-এর ক্ষেত্রেই ‘রিবা’ (সুদ) হয়।“[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, এর অর্থ: এক দিরহামের বিনিময়ে (বাকিতে) দু’ই দিরহাম।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৭৮, ২১৭৯ ; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৯৬। ((তিরমিযী, ১২৪১; নাসাঈ ৪৫৬৫, ৪৫৮১; ইবনু মাজাহ ২২৫৭।–অনুবাদক))

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০২৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৫৫ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৩৪৯-৩৩৫০; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৪০; নাসাঈ, ৭/২৭৪-২৭৫; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২২৫৪-ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৫৭৯ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2619)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كُنْتُ أَبِيعُ الْإِبِلَ بِالْبَقِيعِ فَأَبِيعُ بِالدَّنَانِيرِ وَآخُذُ الدَّرَاهِمَ وَأَبِيعُ بِالدَّرَاهِمِ وَآخُذُ الدَّنَانِيرَ وَرُبَّمَا قَالَ أَقْبِضُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ رُوَيْدَكَ أَسْأَلُكَ إِنِّي أَبِيعُ الْإِبِلَ بِالْبَقِيعِ فَأَبِيعُ بِالدَّنَانِيرِ وَآخُذُ الدَّرَاهِمَ وَأَبِيعُ بِالدَّرَاهِمِ وَآخُذُ الدَّنَانِيرَ قَالَ لَا بَأْسَ أَنْ تَأْخُذَ بِسِعْرِ يَوْمِكَ مَا لَمْ تَفْتَرِقَا وَبَيْنَكُمَا شَيْءٌ




২৬১৯. ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাকীতে উট বিক্রি করতাম। অনেক সময় দীনার বা র্স্বমুদ্রায় তা বিক্রি করে তদস্থলে রৌপ্যমুদ্রা আবার রৌপ্য মুদ্রায় বিক্রি করে তদস্থলে দীনার গ্রহণ করতাম। একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি একটু শান্তভাবে শুনুন! আমি আপনার নিকট জানতে চাই যে, আমি বাকীতে উট বিক্রি করি। অনেক সময় দীনার বা র্স্বমুদ্রায় তা বিক্রি করে তদস্থলে রৌপ্যমুদ্রা আবার রৌপ্য মুদ্রায় বিক্রি করে তদস্থলে দীনার গ্রহণ করি। তিনি বললেন, “এতে কোন দোষ নেই, তবে শর্ত হলো-সেদিনের বাজার দর অনুসারে লেন-দেন করবে এবং তোমরা দু#39;জন (ক্রেতা-বিক্রেতা) বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই ব্যাপারটি সম্পন্ন করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯২০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১২৮ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ, ৩৩৫৪, তিরমিযী, বুয়ূ ১২৪২, নাসায়ী, বুয়ূ, বাব ৫০, ৫২ নং (৪৫৮২, ৪৫৮৩, ৪৫৮৯); ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২২৬২ আহমাদ ৪৮৬৮, ৫৫৩০, ৫৭৩৯, ৬২০৩, ৬৩৯১- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী, হা/ ২৫৮১ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2620)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنَّ دِرْعَهُ لَمَرْهُونَةٌ عِنْدَ رَجُلٍ مِنْ الْيَهُودِ بِثَلَاثِينَ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ




২৬২০. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইনতিকাল করেন, তখন তাঁর লৌহবর্মটি এক ইয়াহুদীর নিকট তিরিশ সা’আ যবের বিনিময়ে বন্ধক ছিল।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ১/২৬১; তিরমিযী, বুয়ূ ১২১৪; মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬৯৫; নাসাঈ, বুয়ূ ৭/৩০৩; ইবনু মাজাহ, রুহুন ৩৪৩৯ সহীহ সনদে; বাইহাকী রাহন ৬/৩৬।

আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বুখারী, বুয়ূ ২২০০ ও মুসলিম, মাসাকাত ১৬০৩।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯৩৬ ও ৫৯৩৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2621)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَثِيرٍ عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَهُمْ يُسْلِفُونَ فِي الثِّمَارِ فِي سَنَتَيْنِ وَثَلَاثٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَلِّفُوا فِي الثِّمَارِ فِي كَيْلٍ مَعْلُومٍ وَوَزْنٍ مَعْلُومٍ وَقَدْ كَانَ سُفْيَانُ يَذْكُرُهُ زَمَانًا إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ ثُمَّ شَكَّكَهُ عَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ




২৬২১. ইবনু ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আসেন তখন মদীনাবাসী ফলে দু’-তিন বছরের মেয়াদে অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “ফলের মাপ ও ওজন নির্দিষ্ট করে নিয়ে তোমরা অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করতে পারো।“[1]

সুফিয়ান সময় হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের কথা উল্লেখ করতেন, অত:পর আব্দুল্লাহ ইবনু কাছীর একে সন্দেহপূর্ণ করেছেন।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, সালাম ২২৪০, ২২৪১; মুসলিম, মাসাকাত ১৬০৪। ((আবূ দাউদ, ইজারাত ৩৪৬৩-অনুবাদক))

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪০৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯২৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫২০ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2622)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَارِبٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَزَنَ لَهُمْ دَرَاهِمَ فَأَرْجَحَهَا




২৬২২. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দিরহাম ওজন করে দিলেন এবং তা (দাঁড়ি পাল্লা) ঝুঁকিয়ে কিছু বেশি দিলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। আর এটি লম্বা হাদীসের অংশবিশেষ, যেটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২০৯৭, সালাত ৪৪২; মুসলিম, মুসাফিরীন ৭১৫; মাসাকাত ৭১৫ (১১৫, ১১৬); ইমারাহ ৭১৫ (১৮৪, ১৮৫)।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৯৩, ১৮৫০, ১৮৯৮, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯১১, ৬৫১৭, ৬৫১৮, ৬৫১৯, ৭১৪১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৩২২ তে।