সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ جَلَبْتُ أَنَا وَمَخْرَمَةُ الْعَبْدِيُّ بَزًّا مِنْ الْبَحْرَيْنِ إِلَى مَكَّةَ فَأَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْشِي فَسَاوَمَنَا بِسَرَاوِيلَ أَوْ اشْتَرَى مِنَّا سَرَاوِيلَ وَثَمَّ وَزَّانٌ يَزِنُ بِالْأَجْرِ فَقَالَ لِلْوَزَّانِ زِنْ وَأَرْجِحْ فَلَمَّا ذَهَبَ يَمْشِي قَالُوا هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২৬২৩. সুওয়াইদ ইবনু কাইস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং মাখরামা আবদী বাহরাইন থেকে মক্কায় কিছু কাপড় আমদানী করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়ে হেঁটে আমাদের কাছে এলেন এবং একটি পাজামা ক্রয়ের দর স্থির করলেন, অথবা আমাদের নিকট থেকে একটি পায়জামা ক্রয় করলেন এবং সেখানে একজন ওজনকারী ছিল। সে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ওজন করে দিত। তিনি এ ওজনকারীকে বললেন, “ওযন করো এবং (পাল্লা ঝুঁকিয়ে দাও বা) একটু বেশি দাও।“ এরপর যখন তিনি হেঁটে চলে গেলেন, তারা বললেন, ইনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৪৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৪৪৪ তে। ((সুনানে আরবা’আ, আহমাদ, হাকিম, ইবনু হিব্বান।–ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৫৮৫ এর টীকা।–অনুবাদক))
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ وَإِذَا أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيءٍ فَلْيَتْبَعْ
২৬২৪. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। যখন তোমাদের কাউকে (তার ঋণ আদায়ের জন্যে) কোন ধনী ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয়, তখন সে যেন তা মেনে নেয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।
তাখরীজ: মালিক, বুয়ূ ৮৪ সহীহ সনদে; বুখারী, হাওয়ালাহ ২২৮৭; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৬৪। ((তিরমিযী, বুয়ূ ১৩০৮; নাসায়ী, বুয়ূ ৭/৩১৬ নং ৪৬৮৮, ৪৬৯১, আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৩৪৫, ইবনু মাজাহ, সাদাকাত ২৪০৩; আহমাদ ৭২৯১, ২৭৭৭৮, ৭৪৮৮, ২৭৩৯২, ৮৬৭৯, ২৭২৩৯, ৯৬৭৬, মুয়াত্তা মালেক ১৩৭৯।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৫৮৫ এর টীকা।–অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৮৩, ৬২৯৮, ৬৩৪৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৫৩, ৫০৯০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৬২ তে।
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ تَقَاضَى ابْنَ أَبِي حَدْرَدٍ دَيْنًا كَانَ لَهُ عَلَيْهِ فِي الْمَسْجِدِ فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا حَتَّى سَمِعَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي بَيْتِهِ فَخَرَجَ إِلَيْهِمَا فَنَادَى يَا كَعْبُ قَالَ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ ضَعْ مِنْ دَيْنِكَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ أَيْ الشَّطْرَ قَالَ قَدْ فَعَلْتُ قَالَ قُمْ فَاقْضِهِ
২৬২৫. কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি মসজিদের ভিতরে ইবনু আবূ হাদরাদ-এর নিকট তাঁর পাওনা ঋণের তাগাদা করলেন। দু’জনের মধ্যে এ নিয়ে বেশ উচ্চস্বরে কথাবার্তা হলো। এমনকি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘর হতেই তাদের কথার আওয়ায শুনলেন এবং তিনি তাদের নিকট বেরিয়ে গেলেন। আর ডাক দিয়ে বললেনঃ “হে কা‘ব! তিনি উত্তর দিলেন, আমি হাযির আছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তোমার পাওনা ঋণ হতে এতটুকু কমিয়ে দাও।“ এ বলে তিনি হাতে ইঙ্গিত করে বোঝালেন, অর্থাৎ অর্ধেক পরিমাণ। তখন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি তাই করলাম। তিনি (ইবনু আবূ হাদরাদকে) বললেনঃ “উঠে গিয়ে বাঁকীটা পরিশোধ করে দাও।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৩৯০; বুখারী, সালাত ৪৫৭, ৪৭১; খুসুমাত ২৪১৮, সুলহ ২৭১০; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৫৮; নাসাঈ, আদাবুল কাযী ৮/২৪০; ইবনু মাজাহ, সাদাকাহ ২৪২৯; তাবারাণী, কাবীর ১৯/৬৭ নং ১২৭; আবূ দাউদ, আকযিয়া ৫৩৯৫; বাইহাকী, সুলহ ৬/৬৩-৬৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২১৫১।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ رِبْعِيٍّ عَنْ أَبِي الْيَسَرِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا أَوْ وَضَعَ عَنْهُ أَظَلَّهُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ قَالَ فَبَزَقَ فِي صَحِيفَتِهِ فَقَالَ اذْهَبْ فَهِيَ لَكَ لِغَرِيمِهِ وَذَكَرَ أَنَّهُ كَانَ مُعْسِرًا
২৬২৬. আবীল ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে লোক কোন অভাবগ্রস্ত মানুষকে (ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে) অবকাশ দেয় অথবা মাফ করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তাকে তাঁর স্বীয় ছায়ার নীচে আশ্রয় প্রদান করবেন সেই দিনে, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তিনি বলেন, এরপর তিনি ঋণপত্রটিতে থুথু নিক্ষেপ করে বললেন, যাও, ওটা তোমার।’ তথা তার ঋণগ্রস্ততার জন্য। আর তিনি উল্লেখ করলেন যে, তিনি ছিলেন অভাবী বা দরিদ্র লোক।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, যুহদ ৩০০৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৪৪ তে।
সংযোজনী: ইবনু আবী শাইবা ৬/১১ নং ২২১১, ২২১২, ৭/২৫২ নং ৩০৬৩; আব্দ ইবনু হুমাইদ নং ৩৭৮; দাওলাবী, আল zwj;কুন্নী ১/৬২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২১৪২।
আর এর অনেকগুলি শাহিদ রয়েছে, যা আপনি পাবেন আমাদের তাহ্ক্বীক্বকৃত মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৭৫৩ থেকে ৬৭৬৬ পর্যন্ত।
حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الْخَطْمِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ نَفَّسَ عَنْ غَرِيمِهِ أَوْ مَحَا عَنْهُ كَانَ فِي ظِلِّ الْعَرْشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
২৬২৭. আবী কাতাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “যে লোক কোনো ঋণগ্রস্থ মানুষকে ঋণ পরিশোধে অবকাশ দেয় অথবা তার ঋণ মওকুফ করে দেয়, কিয়ামতের দিন সেই লোক আরশের ছায়ার নিচে স্থান লাভ করবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ১/৩০০, ৩০৮, ৫/৩০০; ইবনু আবী শাইবা ৭/১২, ২৫০ নং ২২১৬, ৩০৫৯।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا يَحْيَى أَنَّ أَبَا بَكْرِ بْنَ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ يُحَدِّثُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَدْرَكَ مَالَهُ بِعَيْنِهِ عِنْدَ إِنْسَانٍ قَدْ أَفْلَسَ أَوْ عِنْدَ رَجُلٍ قَدْ أَفْلَسَ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ مِنْ غَيْرِهِ
২৬২৮. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন কেউ তার মাল এমন লোকের কাছে পায়, যে নিঃসম্বল হয়ে গেছে, তবে অন্যের চেয়ে সে-ই এর বেশী হকদার।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, ইসতিক্বরায ২৪০২; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৫৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪৭০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৩৬, ৫০৩৭, ৫০৩৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৬৫, ১০৬৬ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ مَا كَانَ عَلَيْهِ دَيْنٌ
২৬২৯. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মুমিনের রূহ তার (ঋণের কারণে) ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, যতক্ষণ তার zwj;উপর কোনো ঋণ থাকে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ উমার ইবনু আবী সালামাহ’র কারণে হাসান, তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৯৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩০৬১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৫৮ তে। ((তিরমিযী, জানাইয ১০৭৮, ১০৭৯; ইবনে মাজাহ্, সাদাকাত ২৪১৩; আহমাদ ২/৪৪০-৪৭৫-৫০৮; বাইহাকী; ইবনু হিব্বান; হাকিম ২/২৬-২৭।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৫৯১ এর টীকা হতে। –অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ فَارَقَ الرُّوحُ الْجَسَدَ وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلَاثٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ مِنْ الْكِبْرِ وَالْغُلُولِ وَالدَّيْنِ
২৬৩০. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্তদাস সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “তিনটি বিষয় থেকে মুক্ত অবস্থায় যার দেহ থেকে তার প্রাণ বের হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে: অহংকার, আত্মসাৎ ও ঋণ থেকে।“ [1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: নাসাঈ, আল কুবরা ৮৭৬৪; আহমাদ ৫/২৭৬, ২৭৭, ২৮১, ২৮২; হাকিম ২/২৬; বাইহাকী, বুয়ূ ৫/৩৫৫; তিরমিযী, সিয়ার ১৫৭২; ইবনু মাজাহ, সাদাকাত ২৪১২; আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ১০/৪৯১ ও বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১১/১১৮।
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ وَأَبُو الْوَلِيدِ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِرَجُلٍ لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَالَ صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ فَإِنَّ عَلَيْهِ دَيْنًا قَالَ أَبُو قَتَادَةَ هُوَ عَلَيَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ بِالْوَفَاءِ قَالَ بِالْوَفَاءِ قَالَ فَصَلَّى عَلَيْهِ
২৬৩১. আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। জানাযার সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তির লাশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসা হলো। তিনি বলেনঃ “তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাযার সালাত আদায় করো। কেননা সে ঋণগ্রস্ত।“ আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তার ঋণের দায়িত্ব আমার উপর রইল। তিনি বললেনঃ “পরিশোধ করার জন্য তো?“ তিনি বলেন, পরিশোধ করার জন্য। এরপর তিনি তার উপর জানাযার সালাত আদায করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩০৫৮, ৩০৫৯, ৩০৬০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৫৯, ১১৬০, ১১৬১ তে। ((আহমাদ ৫/৩০১-৩০২; তিরমিযী, জানাইয ১০৬৯ নাসাঈ, জানাইয; ইবনু মাজাহ, সাদাকাত ২৪০৭...।–ফাতহুল মান্নান হা/২৭৫৬ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا عَلَى الْأَرْضِ مُؤْمِنٌ إِلَّا أَنَا أَوْلَى النَّاسِ بِهِ فَمَنْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضَيَاعًا فَلْأُدْعَ لَهُ فَأَنَا مَوْلَاهُ وَمَنْ تَرَكَ مَالًا فَلِعَصَبَتِهِ مَنْ كَانَ قَالَ عَبْد اللَّهِ ضَيَاعًا يَعْنِي عِيَالًا وَقَالَ فَلْأُدْعَ لَهُ يَعْنِي ادْعُونِي لَهُ أَقْضِ عَنْهُ
২৬৩২. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! দুনিয়াতে আমি প্রত্যেক মু’মিনেরই সকল মানুষের চেয়ে সর্বাধিক ঘনিষ্ঠ। তাই যখন কোন মু’মিন ঋণ কিংবা অসহায় পরিবার-পরিজন রেখে (মারা) যায়, তবে তার জন্য আমার নিকট বলতে হবে (তাহলে আমি তার পক্ষে তা আদায় করে দেবো।) কেননা, আমিই তার অভিভাবক। আর যদি কোনো ব্যক্তি মাল-সম্পদ রেখে যায়, তাহলে তার যে আত্মীয়-স্বজন থাকে তারা তার ওয়ারিস হবে।“[1]
আব্দুল্লাহ বলেন, ضَيَاعاً অর্থ পরিবার পরিজন বা পোষ্য (কিংবা ভরণপোষনের দায়িত্ব); আর فَلأُدْعَ لَهُ অর্থ: ‘আমার নিকট চাইলে আমি তার পক্ষ হতে তা আদায় করবো।’
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, কিফালাহ ২২৯৮; মুসলিম, ফারাইয ১৬১৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৪৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩০৬৩, ৪৮৫৪, ৫০৫৪ তে।
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي فُدَيْكٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُفْيَانَ مَوْلَى الْأَسْلَمِيِّينَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الدَّائِنِ حَتَّى يُقْضَى دَيْنُهُ مَا لَمْ يَكُنْ فِيمَا يَكْرَهُ اللَّهُ قَالَ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ يَقُولُ لِخَازِنِهِ اذْهَبْ فَخُذْ لِي بِدَيْنٍ فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ أَبِيتَ لَيْلَةً إِلَّا وَاللَّهُ مَعِي بَعْدَمَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২৬৩৩. আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার সাথে থাকেন, যদি না সে আল্লাহর অপছন্দনীয় উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করে থাকে।“ রাবী বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার কোষাধ্যক্ষকে বলতেন, যাও, আমার জন্য ঋণ গ্রহণ করো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যে হাদীস শুনেছি তারপর থেকে আল্লাহ আমার সঙ্গে থাকা ছাড়া একটি রাত কাটাতেও আমি অপছন্দ করি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, সাদাকাত ২৪০৯; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৩/২০৪; বুখারী, কাবীর ৩/৪৭৬; তাবারাণী, আওসাত নং ৪৬০; হাকিম ২/২৩; হাকিম বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ যদিও তারা বর্ণনা করেননি।’ যাহাবী তা বজায় রেখেছেন। হাফিজ (ইবনু হাজার) ফাতহুল বারী ৫/৫৪ তে এ হাদীস উল্লেখ করে বলেছেন: এর সনদ হাসান।’
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে মায়মুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৭০৮৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৪১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৫৭ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْيَدِ مَا أَخَذَتْ حَتَّى تُؤَدِّيَهُ
২৬৩৪. সামুরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “কোন ব্যক্তি (ধারে) যা গ্রহণ করেছে, তা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার জন্য সে দায়ী থাকবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ৭/২০৮ নং ২৮৬২; ইবনু আবী শাইবা ৬/১৪৬ নং ৬০৪; আহমাদ ৫/৮. ১২, ১৩; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৫৬১; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৬৬;
নাসাঈ, আল কুবরা ৫৭৮৩; ইবনু মাজাহ, সাদাকাহ ২৪০০; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ১০২৪; হাকিম ২/৪৭; বাইহাকী, আরিয়াহ ৬/৯০; কুদাঈ, মুসনাদুশ শিহাব নং ২৮০, ২৮১।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ عَنْ شَرِيكٍ وَقَيْسٍ عَنْ أَبِي حَصِينٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَدِّ إِلَى مَنْ ائْتَمَنَكَ وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ
২৬৩৫. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে তোমার নিকট আমানত রেখেছে তুমি তার নিকট সেই আমানত আদায় করে দাও। আর যে তোমার সঙ্গে খিয়ানত করেছে তার সঙ্গে তুমি খিয়ানত করো না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৫৩৫; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৬৪; দারুকুতনী, ৩/৩৫; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/৩৩৮; তাবারাণী, আওসাত নং ৩৬১৯; তামামু ফাওয়াইদাহ নং ৫৯৩; কুদাঈ, মুসনাদুশ শিহাব নং ৭৪২ হাকিম ২/৪৬; বাইহাকী, দাওয়াত ওয়াত তিবিইয়ান ১০/২৭১; শুয়াবুল ঈমান ৫২৫২; আবূ নুয়াইম, যিকরু তারীখ আসবাহান ১/২৬৯; আরও দেখুন, তারীখুল কাবীর ৪/৩৬০।
আর এর শাহিদ রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যা মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৭৯২ তে। সেখানে আরও একটি শাহিদ হাদীস রয়েছে। ফলে এর দ্বারা হাদীসটি সহীহতে উন্নীত হয়। আল্লাহই ভাল জানেন।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ أَهْدَى بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِ قَصْعَةً فِيهَا ثَرِيدٌ وَهُوَ فِي بَيْتِ بَعْضِ أَزْوَاجِهِ فَضَرَبَتْ الْقَصْعَةَ فَانْكَسَرَتْ فَجَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْخُذُ الثَّرِيدَ فَيَرُدُّهُ فِي الصَّحْفَةِ وَهُوَ يَقُولُ كُلُوا غَارَتْ أُمُّكُمْ ثُمَّ انْتَظَرَ حَتَّى جَاءَتْ قَصْعَةٌ صَحِيحَةٌ فَأَخَذَهَا فَأَعْطَاهَا صَاحِبَةَ الْقَصْعَةِ الْمَكْسُورَةِ قَالَ عَبْد اللَّهِ نَقُولُ بِهَذَا
২৬৩৬. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক সহধর্মিণীর কাছে ছিলেন। তাঁর অপর এক সহধর্মিণী খাদিমের মারফত এক পাত্রে ‘ছারীদ’ (এক প্রকার খাবার) পাঠালেন। তিনি (সেই সহধর্মিণী) আঘাত করে পাত্রটি ভেঙ্গে ফেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তা জোড়া লাগিয়ে) ‘ছারীদ’ তুলে সেই পাত্রটিতে রাখতে লাগলেন এবং আর তিনি (সাথীদেরকে) বলেন, “তোমরা খাও, তোমাদের মায়ের আত্মমর্যাদায় আঘাত লেগেছে।“ যে পর্যন্ত তিনি (তাঁর সহধর্মিণী) একটি ভাল পাত্র না নিয়ে আসলেন, সে পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা করলেন। এরপর তিনি পাত্রটি নিয়ে যার পাত্রটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিলো, তাকে প্রদান করলেন।[1] আব্দুল্লাহ বলেন, আমার মতও তাই।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, মুযালিম ২৪৮১;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩৩৯, ৩৭৭৪, ৩৮৪৯ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ عَمْرٍو وَعَاصِمٍ ابْنَيْ سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبِيعَةَ الثَّقَفِيِّ أَنَّ سُفْيَانَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ وَجَدَ عَيْبَةً فَأَتَى بِهَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقَالَ عَرِّفْهَا سَنَةً فَإِنْ عُرِفَتْ فَذَاكَ وَإِلَّا فَهِيَ لَكَ فَلَمْ تُعْرَفْ فَلَقِيَهُ بِهَا فِي الْعَامِ الْمُقْبِلِ فِي الْمَوْسِمِ فَذَكَرَهَا لَهُ فَقَالَ عُمَرُ هِيَ لَكَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَنَا بِذَلِكَ قَالَ لَا حَاجَةَ لِي بِهَا فَقَبَضَهَا عُمَرُ فَجَعَلَهَا فِي بَيْتِ الْمَالِ
২৬৩৭. সুফিয়ান ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু রবীয়াহ আস সাকাফী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর দু’পুত্র আমর ও আসিম থেকে বর্ণিত যে, সুফিয়ান ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একটি চামড়ার ব্যাগ পেলেন এবং তা নিয়ে উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট আসলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি এক বছর যাবত এটি (লোকদেরকে) অবহিত করতে থাকো। এরপর যদি তা কেউ (তার নিজের বলে) চিনে নেয়, তবে তো হলোই। তা না হলে সেটি তোমার। কিন্তু তা (কার তা) জানা না যাওয়ায় তিনি পরের বছরও তা নিয়ে হাজ্জের সময়ে তার সাথে সাক্ষাত করে বিষয়টি তার নিকট বর্ণনা করলেন। তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন: এটি তুমি নিয়ে যাও। কেননা, এর নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বললেন, আমার এর কোনো প্রয়োজন নেই। তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তা নিয়ে বায়তুল মালে জমা দিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/১৩৭, ১৩৮; মুশকিলিল আছার নং ৪৬৯৫, ৪৬৯৬; নাসাঈ, আল কুবরা ৫৮১৮বাইহাকী, লুকাতাহ ৬/১৮৭।
أَخْبَرَنَا مُعَاذُ بْنُ هَانِئٍ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ حَدَّثَنَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّهُ عَامَ فُتِحَتْ مَكَّةُ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ حَبَسَ عَنْ مَكَّةَ الْفِيلَ وَسَلَّطَ عَلَيْهِمْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمُؤْمِنِينَ أَلَا وَإِنَّهَا لَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي وَلَا تَحِلُّ لِأَحَدٍ بَعْدِي أَلَا وَإِنَّهَا سَاعَتِي هَذِهِ حَرَامٌ لَا يُخْتَلَى خَلَاهَا وَلَا يُعْضَدُ شَجَرُهَا وَلَا تُلْتَقَطُ سَاقِطَتُهَا إِلَّا لِمُنْشِدٍ
২৬৩৮. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, মক্কা বিজয়ের কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেনঃ “আল্লাহ তা‘আলা মক্কা থেকে হাতী (বাহিনী) কে রোধ করেছেন এবং মক্কাবাসীদের উপর রাসূলুল্লাহ্zwnj; সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মু’মিনগনকে (যুদ্ধের মাধ্যমে) ক্ষমতাশালী করেছেন। জেনে রাখ, আমার পূর্বে কারো জন্য মক্কা (নগরীতে লড়াই করা) হালাল করা হয়নি এবং আমার পরও কারো জন্য হালাল হবে না। জেনে রাখ, আমার এই (কথা বলার) মুহূর্তে আবার তা হারাম হয়ে গেছে। সেখানকার কোন কাঁটা ও কোন গাছপালা কাটা যাবে না এবং সেখানে পড়ে থাকা কোন বস্তু কুড়িয়ে নেওয়া যাবেনা। তবে ঘোষণা করার জন্য নিতে পারবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, ইলম ১১২; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৫৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৫৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭১৫ তে।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ عَنْ الْجَارُودِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَالَّةُ الْمُسْلِمِ حَرَقُ النَّارِ
২৬৩৯. জারুদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মুসলিমের হারানো বস্তু জাহান্নামের লেলিহান (অগ্নি) শিখা সমতুল্য।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ২/২৬৫ নং ২১০৯ (সনদ সহীহ), ২১১০, ২১১১, ২১১২, ২১১৩, ২১১৪, ২১১৫, ২১১৬, ২১১৭; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ১৬৪; আব্দুর রাযযাক নং ১৮৬০৩; বাইহাকী, লুকাতাহ ৬/১৯১।
আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ১৫৩৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৮৭; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৭০ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৯২৮ তে।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا الْجُرَيْرِيُّ عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ الْجَذْمِيِّ عَنْ الْجَارُودِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَالَّةُ الْمُسْلِمِ حَرَقُ النَّارِ ضَالَّةُ الْمُسْلِمِ حَرَقُ النَّارِ ضَالَّةُ الْمُسْلِمِ حَرَقُ النَّارِ لَا تَقْرَبَنَّهَا قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ اللُّقَطَةُ نَجِدُهَا قَالَ أَنْشِدْهَا وَلَا تَكْتُمْ وَلَا تُغَيِّبْ فَإِنْ جَاءَ رَبُّهَا فَادْفَعْهَا إِلَيْهِ وَإِلَّا فَمَالُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ
২৬৪০. জারুদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মুসলিমের হারানো বস্তু জাহান্নামের লেলিহান (অগ্নি) শিখা সমতুল্য। মুসলিমের হারানো বস্তু জাহান্নামের লেলিহান (অগ্নি) শিখা সমতুল্য। মুসলিমের হারানো বস্তু জাহান্নামের লেলিহান (অগ্নি) শিখা সমতুল্য। তোমরা এর নিকটবর্তী হবে না।“ তখন এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা যে হারানো বস্তু কুড়িয়ে পাই, (তা কী করতে হবে)? তিনি বললেন, “এর ঘোষণা দিতে থাকবে; আর তা গোপন করবে না এবং তা লুকিয়ে রাখবে না। এরপর যদি এর মালিক আসে, তবে তাকে তা অর্পণ করবে। আর তা না হলে তা আল্লাহর মাল, আল্লাহ তা যাকে ইচ্ছা দান করবেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর নং ২১১৯, ২১২০, ২১২১, ২১২২;
তাখরীজের জন্য দেখুন, আগের টীকাটি এবং মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৯২৯ তে।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْكُوفِيُّ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ الْعَلَاءِ عَنْ مَعْبَدِ بْنِ كَعْبٍ السَّلَمِيِّ عَنْ أَخِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ فَقَدْ أَوْجَبَ اللَّهُ لَهُ النَّارَ وَحَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ وَإِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيرًا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ وَإِنْ قَضِيبٌ مِنْ أَرَاكٍ
২৬৪১. আবূ উমামা আল-হারিসী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ “কোন ব্যক্তি অপর মুসলিমের প্রাপ্য স্বত্ব মিথ্যা শপথের মাধ্যমে কর্তন করে নিলে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম তার জন্য অবধারিত করে দিবেন এবং জান্নাত হারাম করে দিবেন। উপস্থিত লোকজনের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি তা সামান্য জিনিস হয়। তিনি বললেনঃ “যদি তা পিলু গাছের একটি কর্তিত ডালও হয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, ঈমান ১৩৭।
আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৮৭ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, আবূ আওয়ানাহ ১/৩২; বাইহাকী, মা’রিফাহ নং ২০০৬১; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৯/৩৯১; ইবনু আবী শাইবা ৭/৩ নং ২১৮৪। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৫১১৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৮৪, ৫০৮৫, ৫০৮৬; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৫ তে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَخَاهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ يُحَدِّثُ أَنَّ أَبَا أُمَامَةَ الْحَارِثِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ
২৬৪২. (অপর সূত্রে) আবূ উমামা আল-হারিসী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ এরপর তিনি অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৭/৩ নং ২১৮৪; মুসলিম, ঈমান ১৩৭ (২১৯); ইবনু মাজাহ, আহকাম ২৩২৪; নাসাঈ, আল কুবরা ৫৯৮১;
তাবারানী, কাবীর নং ৭৯৯। পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।