সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ وَحَجَّاجٌ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُدْرِكٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ يُحَدِّثُ عَنْ خَرَشَةَ بْنِ الْحُرِّ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمْ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هُمْ خَابُوا وَخَسِرُوا فَأَعَادَهَا فَقُلْتُ مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ الْمُسْبِلُ وَالْمَنَّانُ وَالْمُنَفِّقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ كَاذِبًا
২৬৪৩. আবূ যারর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ্তা’আলা কিয়ামত দিবসে তিনপ্রকার লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের তিনি পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক আযাব।“ আমি বললাম এরা কারা? ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এরা তো হতাশা গ্রস্থ ও ক্ষতিগ্রস্থ। তিনি এর পুনরাবৃত্তি করলেন। তখন আমি বললাম, এরা কারা? ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি তার ইযার (লুঙ্গি, পাজামা- প্যান্ট) (গোড়ালীর নীচে) ঝুলিয়ে পরিধান করে; যে অনুগ্রহ করার করার পর খোটা দেয়; আর যে ব্যক্তি মিথ্যা কসমের মাধ্যমে তার পন্য বিক্রয় করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৫/১৪৮, ১৫৮, ১৬২, ১৭৭;ইবনু আবী শাইবা ৭/২২ নং ২২৪৩, ৮/৩৮৯ নং ৪৮৬৫ ও ৯/৯২ নং ৬৬৪২; মুসলিম, ঈমান ১০৬; আবূ দাউদ, লিবাস ৪০৮৭, ৪০৮৮; তিরমিযী, বুয়ূ ১২১১; নাসাঈ, বুয়ূ ৭/২৪৫; বাইহাকী, বুয়ূ ৫/২৬৫; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২২০৮ (যঈফ সনদে); আবূ আওয়ানাহ ১/৩৯; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৭/১৩০; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৪/৩৭৮-৩৭৯।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي طَلْحَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَهْلٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ زَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ ظَلَمَ مِنْ الْأَرْضِ شِبْرًا فَإِنَّهُ يُطَوَّقُهُ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ
২৬৪৪. সাঈদ ইবনু যায়দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কারো এক বিঘত জমিও জুলুম করে কেড়ে নেয়, কিয়ামতের দিন এর সাত তবক জমিন তার গলায় লটকিয়ে দেয়া হবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, মাযালিম ১১২; মুসলিম, মাসাকাত ১৬১০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৪৯, ৯৫০, ৯৫১, ৯৫২, ৯৫৩, ৯৫৪, ৯৫৫, ৯৫৬, ৯৫৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩১৯৪, ৩১৯৫, ৫১৪১, ৬৯৯৩, ৬৯৯৬ এবং মুসনাদুল হুমাইদী ৮৩ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ أَخْبَرَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيْتَةً فَلَهُ فِيهَا أَجْرٌ وَمَا أَكَلَتْ الْعَافِيَةُ مِنْهَا فَلَهُ فِيهَا صَدَقَةٌ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْعَافِيَةُ الطَّيْرُ وَغَيْرُ ذَلِكَ
২৬৪৫. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “পড়ে থাকা (মালিকানাহীন) জমিকে যদি কোন লোকআবাদ করে তাহলে এতে তার জন্য বিনিময় (সাওয়াব) রয়েছে; আর যে সকল রিযিক সন্ধানী প্রাণী এ জমির ফসল থেকে খাবে, তা ঐ ব্যক্তির জন্য সাদাকারূপে গণ্য হবে।“[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন: ‘আফিয়াহ’ অর্থ: পাখি ও অন্যান্য প্রাণীকুল।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮০৫, ২১৯৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২০২, ৫২০৩, ৫২০৪ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৩৬, ১১৩৭, ১১৩৮ তে। ((প্রথম অংশ বর্ণনা করেছেন: তিরমিযী, আহকাম ১৩৭৮, ১৩৭৯; আবূ দাউদ, খারাজ ওয়াল ইমারাহ ৩০৭৪; আহমাদ ৩/৩০৪, ৩৩৮ ও অন্যান্যরা। আর দ্বিতীয় অংশের শাহিদ বর্ণনা রয়েছে: আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে তিরমিযী, আহকাম ১৩৮২ তে, যেখানে অনাবাদী জমি’র কথা উল্লেখ ছাড়াই জমিতে চাষাবাদের ফসল হতে মানুষ অথবা পশু-পাখি খেয়ে নিলে তা সাদাকা স্বরুপ হবে বলে বর্ণিত হয়েছে। তিরমিযী বলেন: এ বাবে আবূ আইয়ুব, উম্মু মুবাশ্বির ও যাইদ ইবনু খালিদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতেও হাদীস বর্ণিত আছে, আর আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।–অনুবাদক))
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا الْفَرَجُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَلْقَمَةَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ السَّبَائِيُّ الْمَأْرِبِيُّ حَدَّثَنِي عَمِّي ثَابِتُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبْيَضَ أَنَّ أَبَاهُ سَعِيدَ بْنَ أَبْيَضَ حَدَّثَهُ عَنْ أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ أَنَّهُ اسْتَقْطَعَ الْمِلْحَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي يُقَالُ لَهُ مِلْحُ شَذَّا بِمَأْرِبَ فَأَقْطَعَهُ ثُمَّ إِنَّ الْأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ التَّمِيمِيَّ قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي قَدْ وَرَدْتُ الْمِلْحَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَهُوَ بِأَرْضٍ لَيْسَ بِهَا مَاءٌ وَمَنْ وَرَدَهُ أَخَذَهُ وَهُوَ مِثْلُ مَاءِ الْعِدِّ فَاسْتَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَبْيَضَ فِي قَطِيعَتِهِ فِي الْمِلْحِ فَقُلْتُ قَدْ أَقَلْتُهُ عَلَى أَنْ تَجْعَلَهُ مِنِّي صَدَقَةً فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ مِنْكَ صَدَقَةٌ وَهُوَ مِثْلُ مَاءِ الْعِدِّ مَنْ وَرَدَهُ أَخَذَهُ قَالَ وَقَطَعَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْضًا وَكَذَا بِالْجَوْفِ جَوْفِ مُرَادٍ مَكَانَهُ حِينَ أَقَالَهُ مِنْهُ قَالَ الْفَرَجُ فَهُوَ عَلَى ذَلِكَ مَنْ وَرَدَهُ أَخَذَهُ
২৬৪৬. আবইয়াদ ইবনু হাম্মাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। ‘সাদ্দ মা‘রিব’ নামক লবণ খনির কিছু জমি জায়গিররূপে দেওয়ার জন্য তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আবেদন করলেন। ফলে তিনি তাকে সেটি জায়গিররূপে প্রদান করলেন। অতঃপর আকরা ইবনু হাবিস আত-তামীমী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এসে বলেন, ইয়া নবীয়াল্লাহ! জাহিলী যুগে আমি লবণের খনিটিতে গিয়েছিলাম। ঐ এলাকায় কোন পানি নাই। যে ব্যক্তিই সেখানে যায় সে-ই কিছু লবণ সংগ্রহ করে নেয়। তা প্রবাহিত পানির মতই (স্থায়ী)। (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবইয়াদের নিকট লবনের জমির চুক্তি প্রত্যাহার করতে চাইলেন।
তখন আমি বললাম: আমি আপনার সাথে চুক্তি প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত এই শর্তে যে, সেটিকে আপনি আমার পক্ষ থেকে সাদাকা হিসেবে গণ্য করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “তা তোমার পক্ষ থেকে সাদাকা হিসাবেই গণ্য হবে। আর তা তো প্রবহমান পানির ন্যায়, যে-ই সেখানে যাবে, সে তা নিতে পারবে।“
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে সেটি ফেরত নেয়ার বিনিময়ে তাকে ‘জাউফি মুরাদ’ নামক স্থানের এক খন্ড জমি ও একটি খেজুর বাগান জায়িগিররূপে দান করেন।
অধস্তন রাবী ফারাজ বলেন, সেটা বর্তমানেও সেভাবেই আছে। যে-ই সেখানে যায়, সে তা থেকে সংগ্রহ করে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আবূ দাউদ, খারাজ ৩০৬৪, ৩০৬৬; দারুকুতনী ৩/৭৬; ইবনু মাজাহ, রুহন ২৪৭৫; তিরমিযী, আহকাম ১৩৮০; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ২৪৭০; তাবারাণী, কাবীর ১/২৭৮ নং ৮০৮; দারুকুতনী ৪/২২১; বুখারী, কাবীর ২/৫৯; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ ৫৯; বাইহাকী, আল মা’রিফাহ নং ১২২২২; আবী উবাইদ, কিতাবুল আমওয়াল ৬৮৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৯৯ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৪০, ১১৪২ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْطَعَهُ أَرْضًا قَالَ فَأَرْسَلَ مَعِي مُعَاوِيَةَ قَالَ أَعْطِهَا إِيَّاهُ قَالَ يَحْيَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ بِهَذَا الْحَدِيثِ
২৬৪৭. আলকামাহ ইবনু ওয়ায়িল হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এক খন্ড জমি জায়গীর হিসেবে দান করেন। তিনি (রাবী) বলেন, তখন তিনি মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে আমার সাথে পাঠান এবং বলেন, “এটি তাকেই দিয়ে দাও।“[1] ইয়াহইয়া বলেন, মুহাম্মদ ইবনু বাশার গুনদার হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেন।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭২০৫ তে। এটি মাওয়ারিদ-এর শর্তানুযায়ীও, তবে হাইছামী তাতে এটি বর্ণনা করেননি।
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا أَبُو سُفْيَانَ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ حَدَّثَتْنِي أُمُّ مُبَشِّرٍ امْرَأَةُ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ قَالَتْ دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَائِطٍ لِي فَقَالَ يَا أُمَّ مُبَشِّرٍ أَمُسْلِمٌ غَرَسَ هَذَا أَمْ كَافِرٌ قُلْتُ مُسْلِمٌ فَقَالَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا فَيَأْكُلُ مِنْهُ إِنْسَانٌ أَوْ دَابَّةٌ أَوْ طَيْرٌ إِلَّا كَانَتْ لَهُ صَدَقَةٌ
২৬৪৮. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যাইদ ইবনু হারিছাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর স্ত্রী উম্মু মুবাশশির আমার নিকট বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দেয়াল ঘেরা বাগানে প্রবেশ করেন। তিনি বললেনঃ “হে উম্মু মুবাশশির! এই গাছগুলি কে লাগিয়েছে, কোন মুসলিম না কাফের?“ আমি বললাম, মুসলিম। তিনি বললেনঃ “যখন কোন মুসলিম কোন গাছ লাগায় আর তা থেকে কোন মানুষ, কিংবা চতুষ্পদ জন্তু অথবা কোন পাখী খায়, তা তার জন্য সদকা হিসাবে গন্য হবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৩৬২, ৪২০; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৫২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২২১৩, ২২৪৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩৬৮, ৩৩৬৯ এবং মুসনাদুল হুমাইদী ১৩১১ তে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا الْفَرَجُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَمِّي ثَابِتُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ سَعِيدٍ عَنْ جَدِّهِ أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ حِمَى الْأَرَاكِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا حِمَى فِي الْأَرَاكِ فَقَالَ أَرَاكَةٌ فِي حِظَارِي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا حِمَى فِي الْأَرَاكِ قَالَ فَرَجٌ يَعْنِي أَبْيَضُ بِحِظَارِي الْأَرْضَ الَّتِي فِيهَا الزَّرْعُ الْمُحَاطُ عَلَيْهَا
২৬৪৯. আবয়ায ইবনু হাম্মাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পিলু বৃক্ষ সংরক্ষণ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেনঃ “পিলু বৃক্ষ সংরক্ষণ করা যাবে না।“ তখন তিনি (ইবন হাম্মাল) বলেনঃ আমার বেড়ার মধ্যকার পীলু গাছ? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পিলু বৃক্ষ সংরক্ষণ করা যাবে না।“[1] রাবী ফারাজ বলেনঃ ইবনু আবইয়াদ ‘আমার বেড়ার মধ্যকার’ দ্বারা বুঝিয়েছেন: ঐ শস্য ক্ষেতকে, যার চারদিক থেকে ঘেরা ছিল।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আবূ দাউদ, খারাজ ৩০৬৬; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ২৪৭২। এটি গত ২৬৪৩ নং হাদীসের অংশবিশেষ। সেখানে পূর্ণ তাখরীজ দেখুন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ قَالَ سَمِعْتُ إِيَاسَ بْنَ عَبْدٍ الْمُزَنِيَّ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَبِيعُوا الْمَاءَ فَإِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنْ بَيْعِ الْمَاءِ وَقَالَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ لَا نَدْرِي أَيَّ مَاءٍ قَالَ يَقُولُ لَا أَدْرِي مَاءً جَارِيًا أَوْ الْمَاءَ الْمُسْتَقَى
২৬৫০. আবুল মিনহাল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াস ইবনে আবদ আল-মুযানী-যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ছিলেন, তাকে আমি বলতে শুনেছি যে, তিনি (কিছু লোককে পানি বিক্রয় করতে দেখে) বলেন, তোমরা পানি বিক্রয় করো না। কেননা, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পানি বিক্রয় করতে নিষেধ করতে শুনেছি।[1] আমর ইবনু দীনার বলেন, আমি জানি না কোন্ পানি। তিনি বলেন: তিনি বলতেন: আমি জানি না যে তা প্রবহমান পানি, নাকি (কুপের) পানের পানি।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৫২ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১১৭ এবং মুসনাদুল হুমাইদী ৯৩৬ তে। ((আহমাদ ৩/৪১৭, ৪/১৩৮; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৪৭৮; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৭১; নাসাঈ, বুয়ূ, নং ৪৬৪১; ইবনু মাজাহ ২৪৭৬; হাকিম ২/৬১ ...।–ফাতহুল মান্নান হা/২৭৭৬ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا كَهْمَسٌ عَنْ سَيَّارٍ رَجُلٍ مِنْ فَزَارَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ بُهَيْسَةَ عَنْ أَبِيهَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاسْتَأْذَنَهُ فَدَخَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ قَمِيصِهِ وَقَدْ قَالَ عُثْمَانُ فَالْتَزَمَهُ فَقَالَ مَا الشَّيْءُ الَّذِي لَا يَحِلُّ مَنْعُهُ فَقَالَ الْمِلْحُ وَالْمَاءُ قَالَ مَا الشَّيْءُ الَّذِي لَا يَحِلُّ مَنْعُهُ قَالَ إِنْ تَفْعَلْ الْخَيْرَ خَيْرٌ لَكَ قَالَ مَا الشَّيْءُ الَّذِي لَا يَحِلُّ مَنْعُهُ قَالَ إِنْ تَفْعَلْ الْخَيْرَ خَيْرٌ لَكَ وَانْتَهَى إِلَى الْمِلْحِ وَالْمَاءِ قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ تَقُولُ بِهِ فَأَوْمَأَ بِرَأْسِهِ
২৬৫১. বুহায়সাহ (রহঃ) তার পিতার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি (তার পিতা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমতি নিয়ে তাঁর জামার অভ্যন্তরে ঢুকে যান--(বর্ণনাকারী উছমান বলেছেন) এবং তাঁর দেহ মুবারকের সংগে সেঁটে যান। এ সময় তিনি বলেনঃ এমন কোন বস্তু আছে যা দিতে নিষেধ করা যায় না? তিনি বলেনঃ “পানি এবং লবন।“ এরপর তিনি বলেনঃ এমন কোন বস্তু আছে যা দিতে নিষেধ করা যায় না? তিনি বলেনঃ “(তা) এই যে, তুমি যত ভাল কাজ করবে, তা তোমার জন্য ততই উত্তম।“
এরপর তিনি বলেনঃ এমন কোন বস্তু আছে যা দিতে নিষেধ করা যায় না? তিনি বলেনঃ “(তা) এই যে, তুমি যত ভাল কাজ করবে, তা তোমার জন্য ততই উত্তম।“ (এভাবে বলতে বলতে) তিনি ‘লবন ও পানি’র কথায় এসে থামলেন।[1]আব্দুল্লাহ কে বলা হলো, আপনিও কি তাই বলেন? তখন তিনি তার মাথা দ্বারা ইশারা করলেন।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১৭৭ তে। এছাড়াও, ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৯/৫৪;
((আহমাদ ৩/৪৮০, ৪৮১; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৪৭৬; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৭১;...।–ফাতহুল মান্নান হা/২৭৭৭ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَلَ خَيْبَرَ بِشَطْرِ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا مِنْ ثَمَرَةٍ أَوْ زَرْعٍ
২৬৫২. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের (বাসীদের) গাছের ফল অথবা ক্ষেতের ফসলের অর্ধেক ভাগে (চাষাবাদের) কাজ করিয়ে নেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, আল হারছু ওয়াল মাযারা’আহ ২৩২৮, ২৩২৯, ২৩৩১; মুসলিম, মাসাকাহ ১৫৫১; আহমাদ ২/১৭; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৪০৮; তিরমিযী, আহকাম ১৩৮৩; ইবনু আবী শাইবা, ৬/৩৪৩-৩৪৪ নং ১২৯০, ১৪/২৮৬ নং ১৮৩৬২; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৬/৪৭৩।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ إِسْحَقَ حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا يَقُولُ كُنَّا نُخَابِرُ قَبْلَ أَنْ يَنْهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْخِبْرِ بَسَنَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثٍ عَلَى الثُّلُثِ وَالشَّطْرِ وَشَيْءٍ مِنْ تِبْنٍ فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَانَتْ لَهُ أَرْضٌ فَلْيَحْرُثْهَا فَإِنْ كَرِهَ أَنْ يَحْرُثَهَا فَلْيَمْنَحْهَا أَخَاهُ فَإِنْ كَرِهَ أَنْ يَمْنَحَهَا أَخَاهُ فَلْيَدَعْهَا
২৬৫৩. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বর্গা চাষ হতে নিষেধ করার পূর্বে আমরা দুই কিংবা তিন বছরের জন্য এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতুর্থাংশ ফসলের ও (এমনকি) খড়ের শর্তে বর্গা চাষ করতাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, “যে ব্যক্তির নিকট জমি রয়েছে, সে যেন নিজে চাষ করে অথবা নিজে চাষ করতে অপছন্দ করলে তা যেন তার ভাইকে দিয়ে দেয়। যদি সে তা তার ভাইকে দিয়ে দিতে অপছন্দ করে, তবে সে যেন তার জমি ফেলে রাখে।“[1]
মুখাবারাহ: ইমাম নাবাবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘বর্গা চাষ বা ভাগে চাষ ও ‘মুখাবারাহ কাছাকাছি দু’টি চাষাবাদ পদ্ধতি; তা হলো: জমিতে উৎপাদিত ফসলের এক তৃতীয়াংশ, এক চতুর্থাংশ কিংবা অন্য যেকোন নির্ধারিত অংশ প্রদানের শর্তে (অন্যের দ্বারা) জমি চাষ করিয়ে নেওয়া। তবে বর্গাচাষে বীজ থাকে জমির মালিকের আর মাখাবারাহ’ পদ্ধতিতে বীজ থাকে বর্গাচাষীর।… (মুহাক্কিক্বের টীকা-অনুবাদক)
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, মাযারাআ’হ ২৩৪০; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৩৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৪৪, ১৯৯৬, ২০৩৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯৯৫ এবং মুসনাদুল হুমাইদী ১৩১৮, ১৩১৯ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَعْقِلٍ عَنْ الْمُزَارَعَةِ فَقَالَ أَخْبَرَنِي ثَابِتُ بْنُ الضَّحَّاكِ الْأَنْصَارِيُّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْمُزَارَعَةِ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ تَقُولُ بِهِ قَالَ لَا أَقُولُ بِالْأَوَّلِ
২৬৫৪. আবদুল্লাহ ইবনু সায়িব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু মা’কিল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ‘মুযারিয়া’ (ভাগচাষ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমাকে সাবিত ইবনু দাহহাক আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘মুযারাআ’ (বর্গা বা ভাগে চাষ) করতে নিষেধ করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৬/৩৪৪-৩৪৫ নং ১২৯৩; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৪৯; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/১০৭; আহমাদ ৪/৩৩; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৮/১৮২; বাইহাকী, মুযারা’আহ ৬/১৩৩।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْأَرْضِ الْبَيْضَاءِ سَنَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا
২৬৫৫. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পতিত জমি দুই বা তিন বছরের জন্য বিক্রি করতে (ভাড়ায় দিতে) নিষেধ করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৪/৩৩; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৪৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮০৬, ১৮৩৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৯২, ৫০০০, ৫১৯২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৯২ তে।
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عِكْرِمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَبِيبَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ كُنَّا نُكْرِي الْأَرْضَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَا عَلَى السَّوَاقِي مِنْ الزَّرْعِ وَبِمَا سَعِدَ مِنْ الْمَاءِ مِنْهَا فَنَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ وَأَذِنَ لَنَا أَوْ قَالَ رَخَّصَ لَنَا فِي أَنْ نُكْرِيَهَا بِالذَّهَبِ وَالْوَرِقِ
২৫৫৬. সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জামানায় নালার নিকটবর্তী কৃষি উপযোগী জমি এবং যেখানে আপনা-আপনি পানি উঠতো, তা বর্গা দিতাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এরূপ করতে নিষেধ করেন এবং আমাদের এরূপ অনুমতি কিংবা অবকাশ দেন যে, আমরা যেন সোনা বা রূপার বিনিময়ে জমি বর্গা দেই।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮১১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২০১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৩৩ তে।((আহমাদ ১/১৭৮, ১৮২; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৩৯১; নাসাঈ, মুযারা’আহ ৩৮৯৪; বাইহাকী, কুবরা ৬/১৩৩।–ফাতহুল মান্নান হা/২৭৮২ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَسْعُودِ بْنِ نِيَارٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ جَاءَ سَهْلُ بْنُ أَبِي حَثْمَةَ إِلَى مَجْلِسِنَا فَحَدَّثَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا خَرَصْتُمْ فَخُذُوا وَدَعُوا دَعُوا الثُّلُثَ فَإِنْ لَمْ تَدَعُوا الثُّلُثَ فَدَعُوا الرُّبُعَ
২৬৫৭. আব্দুর রহমান ইবন মাসউদ ইবন নিয়ার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহল ইবন আবু হাসমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একবার আমাদের বৈঠকে আসেন এবং হাদীছ বর্ণনা করলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ তোমরা (যাকাত আদায়কারী) যদি ফসলাদির অনুমান কর তবে সে হারে (যাকাত) গ্রহণ করবে এবং (যাকাত পরিমাণ থেকেও) এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ (যাকাত দাতার জন্য) ছেড়ে দিবে। যদি এক তৃতীয়াংশ না ছাড় তবে এক চতুর্থাংশ ছেড়ে দিবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৮০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭৯৮ তে।((আহমাদ ৩/৪৪৮, ৪/২-৩,৩; আবূ দাউদ, যাকাত ১৬০৫; তিরমিযী, যাকাত ৬৪৩; নাসাঈ, যাকাত ২৪৯১; বাইহাকী, কুবরা ৪/১২৩; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ ২৩১৯, ২৩২০; হাকিম ১/৪০২।–ফাতহুল মান্নান হা/২৭৮৩ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كَسْبِ الْإِمَاءِ
২৬৫৮. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাসীদের (অবৈধ) উপার্জন নিষিদ্ধ করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, ইজারাহ ২২৮৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৫৮, ৫১৫৯ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৪২৫; আহমাদ ২/২৮৭, ৩৮২, ৪৩৭-৪৩৮, ৪৫৪- ফাতহুল মান্নান হা/২৭৮৪ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
সংযোজনী: এছাড়াও, আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৭/১৬৩; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১০/৪৩৩।
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَارِظٍ أَنَّ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ حَدَّثَهُ أَنَّ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيثٌ وَمَهْرُ الْبَغِيِّ خَبِيثٌ وَثَمَنُ الْكَلْبِ خَبِيثٌ
২৬৫৯. রাফি ইবনু খাদীজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক ঘৃণ্য, পতিতার উপার্জন ঘৃণ্য, কুকুরের বিক্রি-মূল্য ঘৃণ্য।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, মাসাকাহ ১৫৬৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৫২, ৫১৫৩ তে। ((আহমাদ ৩/৪৬৪, ৪৬৫, ৪/১৪০, ১৪১; আবু দাউদ, বুয়ূ ৩৪২১; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৭৫; নাসাঈ, সাইদ ওয়াল যাবাইহ নং ৪২৯৪…।-ফাতহুল মান্নান, হা/২৭৮৫ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৪/৪২; হাকিম ২/৪২; ইবনু আব্দুল বারর, তামহীদ ২/২২৬; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/৫২।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَجَمَهُ أَبُو طَيْبَةَ وَأَمَرَ لَهُ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ
২৬৬০. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তায়বা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শিঙ্গা লাগালেন তখন তিনি তাকে দু’ সা‘আ পরিমাণ খাদ্য দিতে আদেশ করলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১০২; মুসলিম, মাসাকাহ ১৫৭৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৩৫, ৩০৪১, ৩০৪৮, ৩৭০৯, ৩৭১০, ৩৭৫৮, ৩৮৫০, ৪২২৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৫১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৫১ তে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ثَمَنِ عَسْبِ الْفَحْلِ
২৬৬১. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ষাঁড় বা পাঁঠা (কর্তৃক পশুকে) পাল দিয়ে এর মুল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৭১ ও আবী ইয়া’লার মু’জামুশ শুয়ূখ নং ১৯৭ তে।
((নাসাঈ, আল কুবরা, বুয়ূ নং ৪৬৯৮, ৪৬৯৯; ইবনু মাজাহ, তিজারাত নং ২১৬০; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/৫৩।-ফাতহুল মান্নান, হা/২৭৮৭ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা, ৭/১৪৫, ১৪৬।
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ الْمَهْرِيِّ قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ عَسْبِ الْفَحْلِ وَأَجْرِ الْمُومِسَةِ
২৬৬২. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ষাঁড় বা পাঠা (কর্তৃক পশুকে) পাল দিয়ে এর মুল্য এবং পতিতার মজুরী গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।
তাখরীজ: আহমাদ ২/৩৩২, ৪১৫; বুখারী, কাবীর তা’লিক হিসেবে ৭/১১৫।