সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ هُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ عُمَيْرٍ يُحَدِّثُ قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ حُرَيْثٍ عَنْ أَخِيهِ سَعِيدِ بْنِ حُرَيْثٍ وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ بَاعَ مِنْكُمْ دَارًا أَوْ عَقَارًا قَمِنٌ أَنْ لَا يُبَارَكَ لَهُ إِلَّا أَنْ يَجْعَلَهُ فِي مِثْلِهِ
২৬৬৩. সাঈদ ইবনু হুরাইস-যিনি সাহাবা হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছেন- তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি কোনো ঘরবাড়ি বা ভূসম্পত্তি বিক্রয় করে, তবে তা (মুল্য) যদি অনুরূপ (বাড়ি বা সম্পত্তি ক্রয় করার)-এর ব্যাপারে ব্যয় না করে, তবে তা (তার বাড়ি বিক্রয়) বরকত লাভের যোগ্য হবে না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম বিন মুহাজির এর দুর্বলতার কারণে।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৪৫৮ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতুত তারীখ ১/২৯৪; তাবারাণী, কাবীর ৬/৬৫ নং ৫৫২৬; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ৭০৯, ৭১০; ইবনুল কানি, মু’জামুস সাহাবাহ তারজমাহ নং ৩০৮।
তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে কয়েকটি যা এটিকে শক্তিশালী করে। আমরা এগুলি তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৬২৭-৬৬৩২।
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا عَرْعَرَةُ بْنُ الْبِرِنْدِ السَّامِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ احْتَفَرَ بِئْرًا فَلَيْسَ لِأَحَدٍ أَنْ يَحْفِرَ حَوْلَهُ أَرْبَعِينَ ذِرَاعًا عَطَنًا لِمَاشِيَتِهِ
২৬৬৪. আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “কোনো ব্যক্তি যখন কোনো কূপ খনন করে, তখন তার গবাদিপশুকে পানি পান করানোর পর বিশ্রাম গ্রহণের জন্য কূপের চারপাশে চল্লিশ হাত জায়গার মধ্যে অন্য কারো জন্য অপর কোনো কুপ খনন করা উচিত নয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’টি ত্রুটি বিদ্যমান: ১. ইসমাঈল ইবনু মুসলিমের দুর্বল হওয়া; ২. হাসান কর্তৃক এটি ‘আন আন’ শব্দে বর্ণনা করা।
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, রুহূন ২৪৮৬।
তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৭০৫ তে।
আরও দেখুন, নাসবুর রায়াহ ৪/২৯১-২৯৩; তালখীসুল হাবীর ৩/৬৩; আবী উবাইদ, আল আমওয়াল নং ৭১৮; দারুকুতনী, আল ইলাল ১০/৪৬ নং ১৮৪৮; বাইহাকী ৬/১৫৫; আল মা’রিফাহ ৯/৩১-৩২; হাকিম ৪/৯৭; দারুকুতনী, ৪/২২০।
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الشُّفْعَةِ إِذَا كَانَ طَرِيقُهُمَا وَاحِدًا قَالَ يُنْظَرُ بِهَا وَإِنْ كَانَ صَاحِبُهَا غَائِبًا
২৬৬৫. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাদের (ক্রেতা-বিক্রেতার) উভয়ের (বাড়ীতে) যাতায়াতের রাস্তা এক হয়, তাদের মধ্যে শুফ’আ (ক্রয়ে অগ্রাধিকার)-’র ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যদি তার সাথী (প্রতিবেশী) উপস্থিত না থাকে, তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১৪৩৯৬; তায়ালিসী ২/২৭৮ নং ১৪০৪; আহমাদ ৩/৩০৩; আবু দাউদ, বুয়ূ ৩৫১৮; ইবনু হাযম, আল zwj;মুহাল্লা ৯/১০১; তিরমিযী, আহকাম ১৩৬৯; ইবনু মাজাহ, শুফ’আহ ২৪৯৪;তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/১২০, ১২১; বাইহাকী, শুফ’আহ ৬/১০৬। দেখুন, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার ৮/৩১৫; ইবনু আব্দুল বারর, তামহীদ ৭/৪৭; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ, ৮/২৪২; ফাতহুল বারী ৪/৪৩৮; বাইহাকী, সুনান ৬/১০৬-১০৮।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالشُّفْعَةِ فِي كُلِّ شِرْكٍ لَمْ يُقْسَمْ رَبْعَةٍ أَوْ حَائِطٍ لَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَبِيعَ حَتَّى يُؤْذِنَ شَرِيكَهُ فَإِنْ شَاءَ أَخَذَ وَإِنْ شَاءَ تَرَكَ فَإِنْ بَاعَ وَلَمْ يُؤْذِنْهُ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَقُولُ بِهَذَا قَالَ نَعَمْ
২৬৬৬. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক শরীকী মালে #39;শুফআ#39;-এর আদেশ করেছেন যা এখনও বণ্টন করা হয়নি: ঘর-বাড়ি অথবা বাগানের এক অংশীদারের নিজের অংশ অন্য অংশীদারের অনুমতি না নেওয়া পর্যন্ত বিক্রি করা বৈধ নয়। সেই অংশীদারের ইচ্ছা সে নিতেও পারে, নাও নিতে পারে। আর যদি কোন অংশীদার অন্য অংশীদারের অনুমতি না নিয়ে বিক্রি করে দেয়- তবে এক্ষেত্রে সে-ই তার অধিক হকদার।[1] আবূ মুহাম্মদ কে বলা হলো: আপনি কি এমত পোষণ করেন? তিনি বলেন, হাঁ।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২২১৩; মুসলিম, মাসাকাহ ১৬০৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৩৫, ১৮৫১, ২১৭১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৭৯, ৫১৮৪, ৫১৮৬, ৫১৮৭ তে।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا دَاوُدُ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ أَبَا مُوسَى الْأَشْعَرِيَّ اسْتَأْذَنَ عَلَى عُمَرَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَلَمْ يُؤْذَنْ لَهُ فَرَجَعَ فَقَالَ مَا رَجَعَكَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا اسْتَأْذَنَ الْمُسْتَأْذِنُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَإِنْ أُذِنَ لَهُ وَإِلَّا فَلْيَرْجِعْ فَقَالَ لَتَأْتِيَنَّ بِمَنْ يَشْهَدُ مَعَكَ أَوْ لَأَفْعَلَنَّ وَلَأَفْعَلَنَّ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَأَتَانَا وَأَنَا فِي قَوْمٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ وَهُوَ فَزِعٌ مِنْ وَعِيدِ عُمَرَ إِيَّاهُ فَقَامَ عَلَيْنَا فَقَالَ أَنْشُدُ اللَّهَ مِنْكُمْ رَجُلًا سَمِعَ ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا شَهِدَ لِي بِهِ قَالَ فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَقُلْتُ أَخْبِرْهُ أَنِّي مَعَكَ عَلَى هَذَا وَقَالَ ذَاكَ آخَرُونَ فَسُرِّيَ عَنْ أَبِي مُوسَى
২৬৬৭. আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মুসা আশ’আরী তিনবার ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট অনুমতি চাইলো, কিন্তু তাঁকে অনুমতি দেয়া হলো না। তাই তিনি ফিরে এলেন। ‘উমার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কিসে তোমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যদি তোমাদের কেউ তিনবার প্রবেশের অনুমতি চায়, কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়া না হয় তবে সে যেন ফিরে যায়।“ তখন ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তোমাকে এ কথার উপর অবশ্যই সাক্ষী উপস্থিত করতে হবে। নচেত নিশ্চয় আমি তোমাকে এই এই (শাস্তি প্রদান) করব। আবূ সাঈদ বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের সাথে মসজিদে উপস্থিত ছিলাম।
এমন সময় আবূ মূসা আমাদের নিকট আসলেন। আর তিনি এসময় উমারের হুমকি’র কারণে ভীষণ ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলেন। তিনি দাঁড়িয়ে বললেনঃ আমি আপনাদেরকে আল্লাহর দোহায় দিয়ে অনুরোধ করছি আপনাদের মাঝে যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীস শুনেছেন, তিনি আমার পক্ষে এর সাক্ষ্য দান করবেন। তিনি বলেনঃ তখন আমি দলের প্রধান ব্যক্তি (উবাই ইবনু কা’ব)-এর নিকট উঠে গিয়ে বললাম, আপনি তাকে বলে দিন আমিই এজন্য আপনার সাথে যাচ্ছি। অপর একজনও একথা বললেন। ফলে আবী মুসার দু:খ দূর হয়ে গেলো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, ইসতি’যান ৬২৪৫; মুসলিম, আদাব ২১৫৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৮১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮০৬, ৫৮০৭, ৫৮১০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৫১ তে।
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضَرَبْتُ بَابَهُ فَقَالَ مَنْ ذَا فَقُلْتُ أَنَا قَالَ أَنَا أَنَا فَكَرِهَ ذَاكَ
২৬৬৮. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম এবং তাঁর দরজায় আঘাত করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কে? আমি বললামঃ আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি, আমি। যেন তিনি তা অপছন্দ করলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, ইসতি’যান ৬২৫০; মুসলিম, আদাব ২১৫৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮০৮ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, নাসাঈ, আল কুবরা ১০১৬০।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ سَمِعْتُ مُحَارِبَ بْنَ دِثَارٍ يَذْكُرُ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَطْرُقَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ لَيْلًا أَوْ يُخَوِّنَهُمْ أَوْ يَلْتَمِسَ عَثَرَاتِهِمْ قَالَ سُفْيَانُ قَوْلُهُ أَوْ يُخَوِّنَهُمْ أَوْ يَلْتَمِسَ عَثَرَاتِهِمْ مَا أَدْرِي شَيْءٌ قَالَهُ مُحَارِبٌ أَوْ شَيْءٌ هُوَ فِي الْحَدِيثِ
২৬৬৯. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফর থেকে ফিরে এসে রাতে ঘরে প্রবেশ করা হতে অথবা, তাদের (আপন পরিবার সম্পর্কে) সন্দেহ পোষণ করা হতে, অথবা তাদের স্খলন বা দোষত্রুটি অন্বেষণ করা হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।[1] সুফিয়ান বলেন: তাঁর বাণীঃ ‘অথবা তাদের (আপন পরিবার সম্পর্কে) সন্দেহ পোষণ করা হতে, অথবা তাদের স্খলন বা দোষত্রুটি অন্বেষণ করা হতে’ সম্পর্কে আমি জানিনা ওটা কি। এ ব্যাপারে মুহারিব বলেন: অথবা, হাদীসের মধ্যকার বিষয়টি কী (তা জানি না)।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫২৪৩; মুসলিম, ইমারাহ ৭১৫ (১৮৪)।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৪৩, ১৮৯১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭১৩, ২৭১৪, ৪১৮৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৩৩৪ তে।
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ عَوْفٍ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ قَالَ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ اسْتَشْرَفَهُ النَّاسُ فَقَالُوا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَخَرَجْتُ فِيمَنْ خَرَجَ فَلَمَّا رَأَيْتُ وَجْهَهُ عَرَفْتُ أَنَّ وَجْهَهُ لَيْسَ بِوَجْهِ كَذَّابٍ فَكَانَ أَوَّلَ مَا سَمِعْتُهُ يَقُولُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشُوا السَّلَامَ وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ وَصِلُوا الْأَرْحَامَ وَصَلُّوا وَالنَّاسُ نِيَامٌ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ
২৬৭০. আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (হিজরত করে মক্কা থেকে) মদীনায় এলেন তখন লোকেরা তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকাতে লাগলো এবং বলাবলি হতে লাগলোঃ আল্লাহর রাসূল এসেছেন। আমিও লোকজনের সাথে (তাঁকে) দেখতে গেলাম। আমি তাঁর মুখমন্ডল উত্তমরূপে দেখার পর বুঝতে পারলাম যে, এই চেহারা কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। সর্বপ্রথম তাঁর মুখে আমার শোনা কথা এই যে, তিনি বললেন: “হে লোক সকল! তোমরা সালামের ব্যাপক প্রসার করো, খাদ্য খাওয়াও, আত্মীয়তার সম্পর্ক বহাল রাখো এবং লোকজন যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন (রাতের বেলা) নামায পড়ো। তাহলে তোমরা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৮/৫৩৬ নং ৫৪৪১, ১৪/৯৫ নং ১৭৬৯৬; ইবনু মাজাহ, আতইমাহ ৩২৫১, ইকামাতিস সালাত ১৩৩৪; আহমাদ ৫/৪৫১; তিরমিযী, সিফাতুল কিয়ামাহ ২৪৮৭; ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়ামু ওয়াল লাইলাহ নং ২১৫; ইবনু সা’দ, তাবাকাত ১/১/১৫৯; হাকিম ৩/১৩, ৪/১৬০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৪/৪০ নং ৯২৬। দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৩৪ এ আমাদের প্রদত্ত টীকা দেখুন।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ يُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِذَا لَقِيَهُ وَيُشَمِّتُهُ إِذَا عَطَسَ وَيَعُودُهُ إِذَا مَرِضَ وَيُجِيبُهُ إِذَا دَعَاهُ وَيَشْهَدُهُ إِذَا تُوُفِّيَ وَيُحِبُّ لَهُ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ وَيَنْصَحُ لَهُ بِالْغَيْبِ
২৬৭১. আবু হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মুসলিমের প্রতি মুসলিমের হক ছয়টি (সেগুলো হলোঃ) তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তাকে সালাম করবে; সে হাঁচি দিয়ে (আলহামদু লিল্লাহ বললে) তার জন্য সে (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে) রহমতের দুআ করবে; সে অসুস্হ হলে সে তার সেবা- zwj;শুশ্রুষা করবে; তাকে আহবান করলে সে তাতে সাড়া দেবে; সে মারা গেলে তার (জানাযায়) উপস্থিত হবে, সে তার জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করবে এবং তার অনুপস্থিতিতে তার কল্যাণ কামনা করবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৫ তে এবং সেখানে আমি নিজে তাহক্বীক্ব করার পূর্বে অন্যান্যদের অনুসরণে হারিছকে যঈফ বলেছি।
এছাড়াও, খতীব, তারীখ বাগদাদ ৭/৪৮।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবূ হুরাইরা হতে সহীহ মুসলিম, সালাম ২১৬২ তে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৪২ তে।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ أَخْبَرَنَا أَبُو هَانِىءٍ الْخَوْلَانِيُّ أَنَّ أَبَا عَلِيٍّ الْجَنْبِيَّ حَدَّثَهُ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي وَالْقَائِمُ عَلَى الْقَاعِدِ وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ
২৬৭২. ফাযালা ইবনু উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আরোহী ব্যক্তি পথচারী ব্যক্তিকে, পথচারী ব্যক্তি দন্ডায়মান ব্যক্তিকে এবং কমসংখ্যক লোক বেশী সংখ্যক লোককে সালাম দিবে।“[1]
[1]তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৩৬ তে।
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْيَهُودَ إِذَا سَلَّمَ أَحَدُهُمْ فَإِنَّمَا يَقُولُ السَّامُ عَلَيْكَ قُلْ عَلَيْكَ
২৬৭৩. আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোনো ইয়াহূদী তোমাদের কাউকে সালাম দেয়, তখন সে বলেঃ আস-সামু আলাইকা, অর্থাৎ তুমি মর। কাজেই তুমি (তার সালামের জবাবে) বলবেঃ ওয়া- আলাইকা- অর্থাৎ তুমি মর।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫২৪৩; মুসলিম, ইমারাহ ৭১৫ (১৮৪)।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৭ তে।
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَيَّارٍ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ فَمَرَّ بِصِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ وَحَدَّثَ ثَابِتٌ أَنَّهُ كَانَ مَعَ أَنَسٍ فَمَرَّ بِصِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ وَحَدَّثَ أَنَسٌ أَنَّهُ كَانَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَرَّ بِصِبْيَانٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ
২৬৭৪. সায়ার (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ছাবিত আল বুনানী (রহঃ) এর সঙ্গে চলছিলাম। একদল শিশুদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তাদের সালাম দেন এবং ছাবিত (রহঃ) বলেন যে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি শিশুদের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রমের সময় তাদের সালাম দেন এবং তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন। এসময় তিনি শিশুদের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম কালে তাদের সালাম করেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তিরমিযী, ইসতি’আযান ২৬৯৭; বুখারী, ইসতি’আযান ৬২৪৭, আদাবুল মুফরাদ নং ১০৪৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৩৩০৫; ইবনুস zwj;সুন্নী, আমলুল ইয়ামু ওয়াল লাইল নং ২২৬; মুসলিম, সালাম ২১৬৮; নাসাঈ, কুবরা নং ১০১৬২; আবু দাউদ, আদাব ৫২০২; আহামদ ৩/১৮৩; ইবনু আবী শাইবা ৮/৬৩৪ নং ৫৮২৫; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৮/৩৬৮; ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭০০।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ ابْنِ أَبِي حُسَيْنٍ حَدَّثَنِي شَهْرٌ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ بْنِ السَّكَنِ إِحْدَى نِسَاءِ بَنِي عَبْدِ الْأَشْهَلِ أَنَّهَا بَيْنَا هِيَ فِي نِسْوَةٍ مَرَّ عَلَيْهِنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِنَّ
২৬৭৫. বনী আব্দু আশহাল গোত্রের এক নারী আসমা বিনতে ইয়াযীদ ইবনু সাকান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি কিছু মহিলাদের মাঝে ছিলেন, এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মহিলাদের নিকট দিয়ে যাবার সময় তাদের সালাম দিয়েছেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান। শাহর ইবনু হাওশাব সম্পর্কে তিরমিযী বলেন, মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল তার সম্পর্কে বলেন, ‘শাহর ইবনু হাওশাব হাসানুল হাদীস, এবং তার হুকুম শক্তিশালী।’
তাখরীজ: আহামদ ৬/৪৫২; ইবনু আবী শাইবা ৮/৬৩৪-৬৩৫ নং ৫৮২৬; আবু দাউদ, আদাব ৫২০৪; ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭০১; তিরমিযী, ইসতি’আযান ২৬৯৮; বুখারী, আদাবুল মুফরাদ নং ১০৪৭।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عَائِشُ هَذَا جِبْرِيلُ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلَامَ قَالَتْ وَعَلَيْهِ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ قَالَتْ وَهُوَ يَرَى مَا لَا أَرَى
২৬৭৬. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ “হে আয়িশা! জীবরীল (আ.) তোমাকে সালাম দিচ্ছেন।“ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘তাঁর প্রতিও সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত।’ তিনি বলেন, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন কিছু দেখতেন, যা আমরা দেখতে পেতাম না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবাহ ২৪৪৭; বুখারী, ইসতি’আযান ৬২৪৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৭৮১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭০৯৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৭৯ তে।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ هُوَ ابْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَيْتُهُ حِينَ قَضَى صَلَاتَهُ فَكُنْتُ أَوَّلَ مَنْ حَيَّا بِتَحِيَّةِ الْإِسْلَامِ قَالَ عَلَيْكَ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ مِمَّنْ أَنْتَ قَالَ قُلْتُ مِنْ غِفَارٍ قَالَ فَأَهْوَى بِيَدِهِ قُلْتُ فِي نَفْسِي كَرِهَ أَنِّي انْتَمَيْتُ إِلَى غِفَارٍ
২৬৭৭. আবী যারর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করলেন এবং মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দুই রাকআত) সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি সালাত শেষ করলে আমি তাঁর কাছে আসলাম। আর আমিই হলাম প্রথম ব্যক্তি যে তাঁকে ইসলামী রীতি অনুযায়ী সালাম দিয়েছে। (আমি বললাম, আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ!) তিনি বললেনঃ “ওয়া আলাইকাস-সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। তুমি কোন্ গোত্রের লোক?“ তিনি বলেন, আমি বললাম, গিফার গোত্রের। তিনি বলেন, তখন তিনি হাত দিয়ে আঘাত করতে লাগলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, আমার নিজেকে গিফার গোত্রের সাথে সম্পর্কিত করাকে তিনি অপছন্দ করলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবাহ ২৪৭৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১৩৩ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১৪/৩১৮ নং ১৭৪৪৭; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/৬; তায়ালিসী, মানহাতুল মা’বুদ নং ২৫৮২, ২৫৮৩, ২৫৮৪; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/১৪৭।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَوْفٍ عَنْ أَبِي رَجَاءٍ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ فَرَدَّ عَلَيْهِ وَقَالَ عَشْرٌ ثُمَّ جَاءَ رَجُلٌ فَسَلَّمَ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ فَرَدَّ عَلَيْهِ وَقَالَ عِشْرُونَ ثُمَّ جَاءَ رَجُلٌ فَسَلَّمَ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ فَرَدَّ عَلَيْهِ وَقَالَ ثَلَاثُونَ
২৬৭৮. ইমরান ইবনু হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল: আস্zwnj; সালামু আলাইকুম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দিলেন এবং বললেন: “দশ (নেকী)।“ তারপর অন্য এক ব্যক্তি এসে সালাম দিতে গিয়ে বলল: আস্ সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দিলেন এবং বললেন: “বিশ (নেকী)।“ তারপর আরেক ব্যক্তি এসে সালাম দিতে গিয়ে বলল: আস্ সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দিলেন এবং বললেন: “ত্রিশ (নেকী)।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহামদ ৪/৪৩৯-৪৪০; আবু দাউদ, আদাব ৫১৯৫; তিরমিযী, ইসতি’আযান ২৬৯০; তাবারাণী, কাবীর ১৮/১৩৪ নং ২৮০।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৩১ তে।
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ الْحُضَيْنِ عَنْ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ أَنَّهُ سَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَبُولُ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ حَتَّى تَوَضَّأَ فَلَمَّا تَوَضَّأَ رَدَّهُ عَلَيْهِ
২৬৭৯. আল-মুহাজির ইবন কুনফুয রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন যে, একদা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে তাঁকে সালাম দিলেন যখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পেশাবরত ছিলেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ না করা পর্যন্ত তার সালামের জবাব দিলেন না। অতঃপর তিনি উযূ করে তার সালামের জবাব দিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮০৩, ৮০৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৮৯, ১৯০ তে। ((আহমাদ ৪/৩৪৫, ৫/৮০; আবু দাউদ, তাহারাত ১৭; নাসাঈ, তাহারাত ৩৮; ইবনু মাজাহ, তাহারাত ৩৫০; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৮৫; হাকিম ১/১৬৭; বাইহাকী, কুবরা ১/৯০।– ফাতহুল মান্নান হা/২৮০৫ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
সংযোজনী: এছাড়াও, তাবারাণী, কাবীর ২০/৩২৯ নং ৭৮০; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ৬৭৪; ইবনুল কানি’, মুজামুস সাহাবাহ নং ১০০৮।
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ بِسْطَامَ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي الْخَيْرِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَدْخُلُوا عَلَى النِّسَاءِ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلَّا الْحَمْوُ قَالَ الْحَمْوُ الْمَوْتُ قَالَ يَحْيَى الْحَمْوُ يَعْنِي قَرَابَةَ الزَّوْجِ
২৬৮০. উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা স্ত্রীলোকদের কাছে যেও না।“ তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! ‘হামউ’ (দেবর-ভাসূর-স্বামীর ভগ্নিপতি) বাদে। তিনি বললেন, ‘হামউ’ তো মৃত্যুতুল্য।“[1] ইয়াহইয়া বলেন, ‘হামউ’ অর্থ স্বামীর নিকটাত্মীয় পুরুষগণ।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫২৩২; মুসলিম, সালাম ২১৭২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৮৮ তে। ((তিরমিযী, রাদা’আ ১১৭১; আহমাদ ৪/১৪৯।–অনুবাদক))
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৪/৩২৪।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ وَأَبُو نُعَيْمٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ يُونُسَ عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ عَنْ جَرِيرٍ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَظْرَةِ الْفَجْأَةِ فَقَالَ اصْرِفْ بَصَرَكَ
২৬৮১. জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: তুমি তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, আদাব ২১৫৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৭১ তে। ((আবু দাউদ, নিকাহ ২১৪৮; তিরমিযী, আদাব ২৭৭৬; হাকিম ২/৩৯৬।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৬৪৩ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৪/৩২৪।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْحَقَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَيْلِ الْمَرْأَةِ فَقَالَ شِبْرًا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَنْ تَبْدُوَ أَقْدَامُهُنَّ قَالَ قَدْرَ ذِرَاعٍ لَا يَزِدْنَ عَلَيْهِ قَالَ عَبْد اللَّهِ النَّاسُ يَقُولُونَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ
২৬৮২. উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মহিলাদের আঁচল বা কাপড়ের নিম্নপ্রান্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, “(নিসফে সাক্ব হতে) এক বিঘত (নিচে নামিয়ে দিবে)।“ আমি বললাম, তা হলে তো তাদের পা অনাবৃত হয়ে যেতে পারে?
তিনি বললেন, তা হলে এক হাত (নিচে ঝুলিয়ে দিবে)। এর বেশী করবে না।“[1] আব্দুল্লাহ বলেন, লোকেরা নাফি’ হতে সুলাইমান ইবনু ইয়াসার সূত্রে (এটি) বর্ণনা করতো।[2]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, ইবনু ইসহাক কর্তৃক এটি ‘আন আন’ শব্দে বর্ণিত হওয়ার কারণে। তবে এর মুতাবি’আত বা অনুসরণে বর্ণিত হাদীস রয়েছে যা এর সনদকে সহীহতে উন্নীত করে। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮৯১, ৬৯৭৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৪৫১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৪৫১ তে। পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
[2] আহমাদ ৬/২৯৩, ৩১৫; আবূ দাউদ, লিবাস ৪১১৮; নাসাঈ, যীনাত ৮/২০৯; ইবনু মাজাহ, লিবাস ৩৫৮০ সহীহ সনদে।