হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (2683)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ حَدَّثَنِي رِبْعِيُّ بْنُ حِرَاشٍ عَنْ امْرَأَتِهِ عَنْ أُخْتٍ لِحُذَيْفَةَ قَالَتْ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ أَمَا لَكُنَّ فِي الْفِضَّةِ مَا تَحَلَّيْنَ بِهِ أَمَا إِنَّهُ لَيْسَتْ مِنْكُنَّ امْرَأَةٌ تَحَلَّى الذَّهَبَ فَتُظْهِرَهُ إِلَّا عُذِّبَتْ بِهِ




২৬৮৩. হুযাইফার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বোন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দানকালে বলেন: “হে নারী সমাজ! তোমাদের কি রূপা (এর অলংকার) নেই যা দিয়ে তোমরা নিজেকে অলংকৃত করবে? তোমাদের মধ্যে যে কোনো নারী সোনা (এর অলংকার) পরিধান করবে, অত:পর তা প্রকাশ (বা প্রদর্শন) করে বেড়াবে, তাকে এর দ্বারাই শাস্তি দেওয়া হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, এতে রবী’ ইবনু হিরাশের এক স্ত্রী রয়েছে, যে মাজহুল (অজ্ঞাত পরিচয়)।

তাখরীজ: আহমাদ ৬/৩৫৭-৩৫৮; নাসাঈ, কুবরা ৯৪৩৭, ৯৪৩৮; তাবারাণী, কাবীর ২৪/২৪৩ নং ৬১৮, ৬১৯, ৬২০, ৬২১, ৬২২, ৬২৩, ৬২৪, ৬২৫; আবূ দাউদ, খতামা ৪২৩৭; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ১০/৮৩।









সুনান আদ-দারিমী (2684)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُمَارَةَ عَنْ غُنَيْمِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِي مُوسَى أَيُّمَا امْرَأَةٍ اسْتَعْطَرَتْ ثُمَّ خَرَجَتْ لِيُوجَدَ رِيحُهَا فَهِيَ زَانِيَةٌ وَكُلُّ عَيْنٍ زَانٍ وَقَالَ أَبُو عَاصِمٍ يَرْفَعُهُ بَعْضُ أَصْحَابِنَا




২৬৮৪. আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে কোন মহিলা সুগন্ধি লাগিয়ে বাইরে যায়, যাতে তার সুগন্ধি পাওয়া যায়, তবে সে হল ব্যভিচারিণী। আর প্রতিটি চোখই ব্যভিচারী।“[1] আবী আসিম বলেন, আমাদের কোনো কোনো সাথী এটিকে মারফু’ হিসেবে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে) বর্ণনা করেছেন।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুরসাল হিসেবে সহীহ, মাওসূল হিসেবেও সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪২৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৪৭৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2685)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَعَنَ اللَّهُ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُسْتَوْشِمَاتِ وَالْمُتَنَمِّصَاتِ وَالْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ فَبَلَغَ ذَلِكَ امْرَأَةً مِنْ بَنِي أَسَدٍ يُقَالُ لَهَا أُمُّ يَعْقُوبَ فَجَاءَتْ فَقَالَتْ بَلَغَنِي أَنَّكَ لَعَنْتَ كَيْتَ وَكَيْتَ فَقَالَ وَمَا لِي لَا أَلْعَنُ مَنْ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَقَالَتْ لَقَدْ قَرَأْتُ مَا بَيْنَ اللَّوْحَيْنِ فَمَا وَجَدْتُ فِيهِ مَا تَقُولُ قَالَ لَئِنْ كُنْتِ قَرَأْتِيهِ لَقَدْ وَجَدْتِيهِ أَمَا قَرَأْتِ مَا آتَاكُمْ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا فَقَالَتْ بَلَى قَالَ فَإِنَّهُ قَدْ نَهَى عَنْهُ فَقَالَتْ فَإِنِّي أَرَى أَهْلَكَ يَفْعَلُونَهُ قَالَ فَادْخُلِي فَانْظُرِي فَدَخَلَتْ فَنَظَرَتْ فَلَمْ تَرَ مِنْ حَاجَتِهَا شَيْئًا فَقَالَ لَوْ كَانَتْ كَذَلِكِ مَا جَامَعْتُهَا




২৬৮৫. ‘আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ লা’নাত করেছেন ঐ সমস্ত নারীর প্রতি যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকণ করে এবং যারা নিজ শরীরে উল্কি অংকন করায়, যারা (ভ্রু-চুল) উপড়িয়ে ফেলে এবং সৌন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। সে সব নারী আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি আনয়ন করে। এরপর বানী আসাদ গোত্রের উম্মু ইয়াকূব নামের এক মহিলার কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে সে এসে বলল, আমি জানতে পারলাম, আপনি এই এই ধরনের মহিলাদের প্রতি লা’নাত করেছেন। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার প্রতি লা’নাত করেছেন, আল্লাহর কিতাবে তা রয়েছে, আমি তার প্রতি লা’নাত করব না কেন? তখন মহিলা বলল, আমি দুই ফলকের মাঝে যা আছে তা (পূর্ণ কুরআন) পড়েছি। কিন্তু আপনি যা বলেছেন, তা তো এতে পাইনি।

‘আবদুল্লাহ্ বললেন, যদি তুমি কুরআন পড়তে তাহলে অবশ্যই তা পেতে, তুমি কি পড়নি: “রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক।“ (সূরা হাশর: ৭) মহিলাটি বলল, হাঁ নিশ্চয়ই পড়েছি। ‘আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তখন মহিলা বলল, আমার মনে হয় আপনার পরিবারও এ কাজ করে। তিনি বললেন, তুমি যাও এবং ভালমত দেখে এসো। এরপর মহিলা গেল এবং ভালভাবে দেখে এলো। কিন্তু তার দেখার বিষয়ে কিছুই দেখতে পেলো না। তখন ‘আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, যদি আমার স্ত্রী এমন করত, তবে সে আমার সঙ্গে একত্র থাকতে পারত না।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর সুরাতুল হাশর ৪৮৮৬; মুসলিম, লিবাস ২১২৫।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৪১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫০৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2686)


أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْحَضْرَمِيُّ أَخْبَرَنِي عَيَّاشُ بْنُ عَبَّاسٍ الْحِمْيَرِيُّ عَنْ أَبِي الْحُصَيْنِ الْحَجْرِيِّ عَنْ أَبِي عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا رَيْحَانَةَ صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنْ عَشْرِ خِصَالٍ مُكَامَعَةِ الرَّجُلِ الرَّجُلَ فِي شِعَارٍ وَاحِدٍ لَيْسَ بَيْنَهُمَا شَيْءٌ وَمُكَامَعَةِ الْمَرْأَةِ الْمَرْأَةَ فِي شِعَارٍ وَاحِدٍ لَيْسَ بَيْنَهُمَا شَيْءٌ وَالنَّتْفِ وَالْوَشْمِ وَالنُّهْبَةِ وَرُكُوبِ النُّمُورِ وَاتِّخَاذِ الدِّيبَاجِ هَا هُنَا عَلَى الْعَاتِقَيْنِ وَفِي أَسْفَلِ الثِّيَابِ قَالَ عَبْد اللَّهِ أَبُو عَامِرٍ شَيْخٌ لَهُمْ وَالْمُكَامَعَةُ الْمُضَاجَعَةُ




২৬৮৬. আবু আমের থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আবু রাইহানা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশটি জিনিস থেকে নিষেধ করেছেনঃ উভয়ের শরীরে (পোশাক বা বস্ত্র জাতীয়) কোনো কিছু ব্যতীত এক পুরুষের সাথে অন্য পুরুষের একই কাপড়ের মধ্যে শয়ন করা, অনুরুপ উভয়ের শরীরে (পোশাক বা বস্ত্র জাতীয়) কোনোকিছু ব্যতীত অন্য মহিলার সাথে কোন মহিলার একই কাপড়ের মধ্যে শয়ন করা, (ভ্রু-চুল) উপড়িয়ে ফেলা, শরীরে উল্কি অংকন করা, (কারো সম্পদ) লুট করা, চিতা বাঘের চামড়া ব্যবহার করা, (বস্ত্রের) দুই কাঁধের উপরে রেশম ব্যবহার করা, কাপড় (পায়ের গিঁঠের) নিচে ঝুলিয়ে পরিধান করা।“[1]আব্দুল্লাহ বলেন, আবূ আমির তাদের শাইখ। আর মুকা’আমাহ’ অর্থ একত্রে শয়ন করা।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে আবূ আমির আল হুজরী রয়েছে, যার সম্পর্কে বুখারী তার কাবীর ৯/৫৭ ও ইবনু আবী হাতিম তার জারহু ওয়াত তা’দীল ৯/৪১১ এ উল্লেখ করেছেন কিন্তু তার সম্পর্কে ‘জারাহ’ বা তা’দীল করেননি। আর তার জারাহ’ (সমালোচনা) করতে আমি কাউকে দেখিনি।... ফলে এটি ইবনু হিব্বানের শর্তানুযায়ী (সহীহ)। অন্যান্য রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৮/৪৯৩-৪৯৪ নং ৫২৯৫; ইবনু মাজাহ, লিবাস ৩৬৫৫ সংক্ষেপে; আহমাদ ৪/১৩৪, ১৩৫; ইবনুল আসীর, আসাদুল গাবাহ ২/৫২৯-৫৩০; আবূ দাউদ, লিবাস ৪০৪৯; নাসাঈ, কুবরা নং ৯৩৬৬; মুজতাবা ৮/১৪৩; মিযযী, তাহযীবুল কামাল ১২/৫৬৫।









সুনান আদ-দারিমী (2687)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَوَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ قَالَا حَدَّثَنَا هِشَامٌ هُوَ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ الْمُخَنَّثِينَ مِنْ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِّلَاتِ مِنْ النِّسَاءِ وَقَالَ أَخْرِجُوهُمْ مِنْ بُيُوتِكُمْ قَالَ فَأَخْرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فُلَانًا وَأَخْرَجَ عُمَرُ فُلَانًا أَوْ فُلَانَةً قَالَ عَبْد اللَّهِ فَأَشُكُّ




২৬৮৭. ইবনু ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর বেশধারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষের বেশধারী নারীদের উপর লা’নত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ “ওদেরকে তোমাদের ঘর থেকে বের করে দাও।“ ইবনু ‘আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুককে বের করেছেন এবং ‘উমার অমুক পুরুষকে অথবা অমুক নারীকে বের করে দিয়েছেন- আবূ মুহাম্মদ বলেন, আমার সন্দেহ।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, লিবাস ৫৮৮৫, ৫৮৮৬, ৬৮৩৪;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৩৩ তে।

সংযোজনী: বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩২০৭; আবূ নুয়াইম, আখবারু আসবাহান ১/১২০।









সুনান আদ-দারিমী (2688)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي النَّضْرِ عَنْ زُرْعَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ الصُّفَّةِ قَالَ جَلَسَ عِنْدَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفَخِذِي مُنْكَشِفَةٌ فَقَالَ خَمِّرْ عَلَيْكَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْفَخِذَ عَوْرَةٌ




২৬৮৮. যুর’আহ ইবনু আব্দুর রহমান তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, -আর তিনি আসহাবে সুফফা’র অন্তর্ভূক্ত ছিলেন- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বসলেন, তখন আমার উরু খোলা ছিল। ফলে তিনি বললেন: “তোমার উরু ঢেকে রাখো। তুমি কি জান না যে, উরু সতরের অন্তর্ভূক্ত?“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ। আর শাহিদ রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭১০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৮০, ৮৮১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৩৫৩ তে। আরও দেখুন, ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ ১৫৩; ইবনুল জাওযী, তাহক্বীক্ব ১/৩২০-৩২৩; তাবারাণী, কাবীর ২/২৭৩ নং ২১৫০।









সুনান আদ-দারিমী (2689)


أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ قَالَ دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ نِسْوَةٌ مِنْ أَهْلِ حِمْصَ يَسْتَفْتِينَهَا فَقَالَتْ لَعَلَّكُنَّ مِنْ النِّسْوَةِ اللَّاتِي يَدْخُلْنَ الْحَمَّامَاتِ قُلْنَ نَعَمْ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ امْرَأَةٍ تَضَعُ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِ زَوْجِهَا إِلَّا هَتَكَتْ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ




২৬৮৯. সালিম ইবনু আবীল জা’দ বলেন, হিমসবাসী কয়েকজন মহিলা আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর কাছে প্রবেশ করে ফতোয়া জানতে চায়। তিনি বলেন, সম্ভবত: তোমরা সেই নারীদের অন্তর্ভূক্ত যারা হাম্মামখানায় প্রবেশ করো। তারা বললো, হাঁ। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে মহিলা তার স্বামীর ঘর ছাড়া অন্য কোথাও স্বীয় কাপুড় খুলে রাখল সে তার ও আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা’র মাঝের পর্দা ছিন্ন করল।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন। আবীল জা’দ সালিম আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে কিছু শোনেননি। তবে পরবর্তী হাদীসটির সনদ সহীহ।

তাখরীজ: পরবর্তী টীকাটি দেখুন। ((আবূ দাউদ, হাম্মাম ৪০১৪; তিরমিযী, আদাব ২৭৯৫; আহমাদ ৩/৪৭৮-৪৭৯; তায়ালিসী, হা/১১৭৬; হাকিম, ইবনু হিব্বান।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৬৫১ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2690)


قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ عَنْ عَائِشَةَ هَذَا الْحَدِيثَ




২৬৯০. আবী মালিহ (রহঃ) আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি। এছাড়াও, বুখারী, কাবীর ৫/২৯২; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৩/৫৮; হাকিম ৪/২৮৯।









সুনান আদ-দারিমী (2691)


أَخْبَرَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُقِيمُ الرَّجُلُ يَعْنِي أَخَاهُ مِنْ مَجْلِسِهِ ثُمَّ يَقْعُدُ فِيهِ وَلَكِنْ تَفَسَّحُوا وَتَوَسَّعُوا




২৬৯১. ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলু্ল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন লোক তার (মুসলিম) ভাইকে আসন থেকে উঠিয়ে দিয়ে তাতে আসন গ্রহণ করবে না। তবে তোমরা বসার জায়গা করে দেবে এবং প্রশস্ত করে দেবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, জুমু’আহ ৯১১; মুসলিম, সালাম ২১৭৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৬, ৫৮৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৭৯ তে। ((আবূ দাউদ, আদাব ৪৮২৮; তিরমিযী, আদাব ২৭৪৯, ২৭৫০; আহমাদ ২/১৭, ৪৫, ৩৩৮, ৪৮৩, ৫২৩ ৫/৪৮; হাকিম ১/২৯৩।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৬৫৩ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (2692)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ أَوْ الرَّجُلُ مِنْ مَجْلِسِهِ ثُمَّ رَجَعَ إِلَيْهِ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ




২৬৯২. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “তোমাদের কেউ তার বসার স্থান থেকে উঠে গিয়ে আবার ফিরে এলে সে-ই উক্ত স্থানের অধিক হকদার।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, সালাম ২১৭৯। ((আবূ দাউদ, আদাব ৪৮৫৩; ইবনু মাজাহ আদাব ৩৭১৭।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৬৫৪ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৫৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2693)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ عَنْ الْبَرَاءِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِنَاسٍ جُلُوسٍ مِنْ الْأَنْصَارِ فَقَالَ إِنْ كُنْتُمْ لَا بُدَّ فَاعِلِينَ فَاهْدُوا السَّبِيلَ وَأَفْشُوا السَّلَامَ وَأَعِينُوا الْمَظْلُومَ قَالَ شُعْبَةُ لَمْ يَسْمَعْ هَذَا الْحَدِيثَ أَبُو إِسْحَقَ مِنْ الْبَرَاءِ




২৬৯৩. বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় আনসারী লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা পথে বসা ছিল। তিনি তাদের বললেন:“তোমাদের যদি পথের পাশে বসতেই হয়, তবে (লোকদেরকে) পথ দেখিয়ে দেবে, সালামের প্রসার করবে এবং মজলুমের সাহায্য করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন। তবে হাদীসটি সহীহ।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭১৭, ১৭১৮ তে।((তিরমিযী, ইসতি’আযান ২৭২৬। -অনুবাদক))

সংযোজনী: এছাড়াও, তাহাবী, মুশকিলিল আছার ১/৫৯, ৬০।

তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবূ সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১২৪৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯৫ তে।

এর শাহিদ সহীহ হাদীস রয়েছে আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৫৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2694)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ عَنْ عَمِّهِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَلْقِيًا فِي الْمَسْجِدِ وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى




২৬৯৪. ‘আব্বাদ ইবনু তামীম (রহ.) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন, তিনি (তাঁর চাচা) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মসজিদে চিত হয়ে এক পায়ের উপর আরেক পা রেখে শুয়ে থাকতে দেখেছি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, সালাত ৪৭৫; মুসলিম, লিবাস ২১০০।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৫২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪১৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2695)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ صَاحِبِهِمَا فَإِنَّ ذَلِكَ يُحْزِنُهُ




২৬৯৫. আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা যখন তিনজন থাকবে তখন সঙ্গীকে বাদ দিয়ে দুইজনে চুপে চুপে কথা বলবে না। কেননা এ জিনিস তাকে চিন্তিত করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, ইসতি’আযান ৬২৯০; মুসলিম, সালাম ২১৮৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৫১১৪, ৫১৩২, ৫২২০, ৫২৫৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2696)


حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ يَعْنِي ابْنَ دِينَارٍ عَنْ أَبِي هَاشِمٍ عَنْ رُفَيْعٍ أَبِي الْعَالِيَةِ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ قَالَ لَمَّا كَانَ بِأَخَرَةٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَلَسَ فِي الْمَجْلِسِ فَأَرَادَ أَنْ يَقُومَ قَالَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ لَتَقُولُ الْآنَ كَلَامًا مَا كُنْتَ تَقُولُهُ فِيمَا خَلَا فَقَالَ هَذَا كَفَّارَةٌ لِمَا يَكُونُ فِي الْمَجَالِسِ




২৬৯৬. আবূ বারযা আসলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন মজলিসে বসতেন, এরপর বসা শেষে উঠে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি এ দু#39;আ পাঠ করতেনঃ “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আন লা-ইলাহা ইল্লা আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়া-আতুবু ইলায়কা।’ তখন তারা বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আজকে এমন দু#39;আ পাঠ করলেন, যা ইতোপূর্বে আর কখনো পাঠ করেন নি। তখন তিনি বলেনঃ “এ (দু#39;আ) হলো মজলিসের (কথাবার্তার) ভুল-ত্রুটির জন্য কাফফারা স্বরূপ।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৭৪২৬ তে।

এর শাহিদ সহীহ হাদীস রয়েছে আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৬৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2697)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أَخِيهِ عِيسَى عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْعَاطِسُ يَقُولُ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ وَيَقُولُ الَّذِي يُشَمِّتُهُ يَرْحَمُكُمْ اللَّهُ وَيَرُدُّ عَلَيْهِ يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ




২৬৯৭. আবূ আয়্যুব আল আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হাঁচি দানকারী বলবে: ‘আলহামদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল’ (অর্থ: সর্বাবস্থায় আল্লাহরই সকল প্রশংসা)। আর যে এটি (হাঁচিদাতাকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে) শুনবে, সে যেন বলে: ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ (অর্থ: আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন)। এরপর হাঁচিদাতা জবাবে বলবে: ‘ইয়াহদীকুমুল্লাহ ওয়া ইউসলিহু বালাকুম’ (অর্থ: আল্লাহ তোমাদের হেদায়েত দান করুন এবং তোমাদের অবস্থা ভাল বানিয়ে দিন)।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুহাম্মদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হিফজ’ (স্মরণ শক্তি) খুবই দুর্বল।

তাখরীজ: হাকিম ৪/২৬৬; তায়ালিসী, মানিহাতুল মা’বুদ ১/৩৬১ নং ১৮৬৪; আহমাদ ৫/৪১৯-৪২২; তিরমিযী, আদাব ২৭৪২; ইবনুস সু্ন্নী, আমলুল ইয়ামি ওয়াল লাইলাহ নং ২৫৫; তাবারাণী, কাবীর ৪/১৬১ নং ৪০০৯; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৭/১৬৩।

তিরমিযী বলেন, ‘ইবনু আবী লাইলা এ হাদীসটিতে ইযতিরাব করেছেন। কখনো এটি আবী আইয়্যুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আবার কখনো এটি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।’

তিরমিযী আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর থেকে যে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, আমরা এ হাদীসটির পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩০৬ তে।

এর শাহিদ সহীহ হাদীস রয়েছে আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বুখারী, আদাব ৬২২৪ ও আবূ দাউদ, আদাব ৫০৩৩ তে, ফলে এ শাহীদ আমাদের এ হাদীসটিকে সহীহতে উন্নীত করে। আল্লাহই ভাল জানেন।









সুনান আদ-দারিমী (2698)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ عَطَسَ رَجُلَانِ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَشَمَّتَ أَوْ سَمَّتَ أَحَدَهُمَا وَلَمْ يُشَمِّتْ الْآخَرَ فَقِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ شَمَّتَّ هَذَا وَلَمْ تُشَمِّتْ الْآخَرَ فَقَالَ إِنَّ هَذَا حَمِدَ اللَّهَ وَإِنَّ هَذَا لَمْ يَحْمَدْ اللَّهَ قَالَ عَبْد اللَّهِ سُلَيْمَانُ هُوَ التَّيْمِيُّ




২৬৯৮. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে দু’ ব্যক্তি হাঁচি দিল। তখন তিনি তাদের একজনের জবাবে দু’আ করলেন[1] আর অন্যজনের জন্য দু’আ করলেন না। তাঁকে কারণ জিজ্ঞেস করা হলো: ইয়া রাসূলুল্লাহ! এ ব্যক্তির জবাবে দু’আ করলেন আর অন্যজনের জন্য দু’আ করলেন না। তিনি বললেনঃ এ ব্যক্তি ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলেছে। আর ঐ ব্যক্তি ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলেনি।“[2] আবূ মুহাম্মদ বলেন, সুলাইমান হলেন তাইমী।

[1] আত ‘তাশমীত’: কল্যাণ ও বরকতের দু’আ করা।…

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, আদাব ৬২২১; মুসলিম, যুহদ ২৯৯১।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪০৬০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬০১০, ৬০১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৪২ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2699)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ هُوَ ابْنُ عَمَّارٍ قَالَ حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ عَطَسَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَرْحَمُكَ اللَّهُ ثُمَّ عَطَسَ أُخْرَى فَقَالَ الرَّجُلُ مَزْكُومٌ




২৬৯৯. সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত এক ব্যক্তি হাঁচি দেয়। তখন তিনি বললেন: “ইয়ারহামুকাল্লাহ।“ লোকটি দ্বিতীয়বার হাঁচি দিল। তখন তিনি বললেন: “এই লোকটি তো সর্দিতে আক্রান্ত।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শক্তিশালী।

তাখরীজ: মুসলিম, যুহদ ২৯৯৩।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬০৩ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনুস সু্ন্নী, আমলুল ইয়ামি ওয়াল লাইলাহ নং ২৫৫; তাবারাণী, কাবীর ৪/১৬১ নং ৪০০৯;









সুনান আদ-দারিমী (2700)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ كَانَ لَنَا ثَوْبٌ فِيهِ تَصَاوِيرُ فَجَعَلْتُهُ بَيْنَ يَدَيْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُصَلِّي فَنَهَانِي أَوْ قَالَتْ فَكَرِهَهُ قَالَتْ فَجَعَلْتُهُ وَسَائِدَ




২৭০০. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের একখন্ড কাপড় ছিল, যাতে ছবি ছিল এবং তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে স্থাপন করলাম। আর তখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। কিন্তু তিনি আমাকে নিষেধ করলেন। অথবা, তিনি (আয়েশা) বলেনঃ কিন্তু তিনি সেটি অপছন্দ করলেন। তিনি বলেন, এরপর আমি সেটি দিয়ে কয়েকটি বালিশ বানিয়ে নিলাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।

তাখরীজ: বুখারী, মাযালিম ২৪৭৬; মুসলিম, লিবাস ২১০৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪০৩, ৪৪০৯, ৪৪৩৮, ৪৪৬৮, ৪৬৪১, ৪৬৪৬, ৪৭২৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৪৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৫৩ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2701)


أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ الْقَعْقَاعِ حَدَّثَنَا الْحَارِثُ الْعُكْلِيُّ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُجَيٍّ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْمَلَكَ لَا يَدْخُلُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلَا صُورَةٌ وَلَا جُنُبٌ




২৭০১. আলী ইবনে আবু তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ঘরে কুকুর, ছবি ও ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) ব্যক্তি থাকে, সেই ঘরে ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ যদি আব্দুল্লাহ বিন নুজাই আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে শ্রবণ করে থাকেন।...

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩১৩ (জাইয়্যেদ সনদে), ৫৯২, ৬২৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২০৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৪৮৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (2702)


حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ أَخْبَرَنِي قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ الْمُسْلِمُ إِذَا أَنَفْقَ نَفَقَةً عَلَى أَهْلِهِ وَهُوَ يَحْتَسِبُهَا فَهِيَ لَهُ صَدَقَةٌ




২৭০২. আবী মাসউদ আল বাদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন মুসলিম তার পরিবারের জন্য সাওয়াবের আশায় যখন খরচ করে তখন তা হয় তার পক্ষ থেকে সাদাকা স্বরূপ।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ৫৫; মুসলিম, যাকাত ১০০২।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২৩৮, ৪২৩৯ তে।

সংযোজনী: এছাড়াও, তায়ালিসী, মানিহাতুল মা’বুদ ১/৩২৫ নং ১৬৩৮; আরও দেখুন, মা’রিফাতুস সুনান ৮/২০৮ নং ৮৫০৮।