সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي السَّفَرِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: جَالَسْتُ ابْنَ عُمَرَ سَنَةً. فَلَمْ أَسْمَعْهُ يَذْكُرُ حَدِيثًا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২৮১. আব্দুল্লাহ্ ইবনু আবু সাফার শা’বী হতে বর্ণনা করেন, শা’বী বলেন, আমি ইবনু উমার এর নিকট এক বছর যাবত বসেছি, কিন্তু আমি তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একটি হাদীসও বর্ণনা করতে শুনিনি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ৮/৭৫৫ নং ৬২৭৯; তার সনদে ইবনু মাজাহ, মুকদ্দামাহ ২৬; রমহারমুযী, আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৭৩৯।
أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ قُطْبَةَ الْأَنْصَارِيِّ، قَالَ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يُحَدِّثُنَا فِي الشَّهْرِ بِالْحَدِيثَيْنِ أَوِ الثَّلَاثَةِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن من أجل أبي بكر بن عياش
২৮২. শা’বী হতে বর্ণিত, ছাবিত ইবনু কুতবাহ আল আনছারী বলেন, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু পুরো মাসের মধ্যে বড় জোর দু’টি কিংবা তিনটি হাদীস আমাদের নিকট বর্ণনা করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: এ শব্দে এটি ব্যতীত এ বিষয়ে আমি আর কোনো হাদীস পাইনি।
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَنبَأَنَا يُونُسُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ مَرَّ بِنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، فَقُلْنَا: «حَدِّثْنَا بِبَعْضِ مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟» فَقَالَ: وَأَتَحَلَّلُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
২৮৩. আব্দুল মালিক ইবনু উবাইদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট দিয়ে আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যাচ্ছিলেন। তখন আমরা তাকে বললাম, আপনি আমাদেরকে এমন কিছু হাদীস বর্ণনা করুন যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছেন। তখন তিনি বললেন: ‘তবে তো আমি বিলীন হয়ে যাব।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।
তাখরীজ: (মুহাক্কিক্ব কোন তাখরীজ করেননি) পরবর্তী হাদীস দেখুন।
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: ثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ: كَانَ أَنَسٌ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ " قَلِيلَ الْحَدِيثِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ إِذَا حَدَّثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২৮৪. মুহাম্মদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে খুবই কম সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করতেন। আর যখন তিনি রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনো হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন: ‘অথবা রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেরূপ বলেছেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ৮/৭৫৪ নং ৬২৭৪; তার সনদে ইবনু মাজাহ, মুকদ্দামাহ ২৪; রমহারমুযী, আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৭৩৬; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৪২৬; খতীব, আল কিফায়াহ পৃ. ২০৬;
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ: كَانَ أَنَسٌ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِذَا " حَدَّثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثًا، قَالَ: أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২৮৫. অপর সূত্রে মুহাম্মদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনো হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন তিনি বলতেন: ‘অথবা রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেরূপ বলেছেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: পূর্বের হাদীসটি দেখুন।
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: «خَرَجْتُ مَعَ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَى مَكَّةَ فَمَا سَمِعْتُهُ يُحَدِّثُ حَدِيثًا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২৮৬. সাইব ইবনু ইয়াযীদ বলেন, আমি সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহ আনহু’র সঙ্গে মক্কা পর্যন্ত যাত্রা করলাম। কিন্তু (সেখান থেকে) মদীনায় ফিরে আসা পর্যন্ত আমি তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একটি হাদীসও বর্ণনা করতে শুনলাম না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ৮/৭৫৫ নং ৬২৭৭; তার সনদে ইবনু মাজাহ, মুকদ্দামাহ ২৯; ইবনু সাদ, আত তাবাকাত ৩/১/১০২; অপর সনদে রমহারমুযী, আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৭৫২।
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا بَيَانٌ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ قَرَظَةَ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، شَيَّعَ الْأَنْصَارَ حِينَ خَرَجُوا مِنَ الْمَدِينَةِ فَقَالَ: «أَتَدْرُونَ لِمَ شَيَّعْتُكُمْ» قُلْنَا: لِحَقِّ الْأَنْصَارِ. قَالَ: «إِنَّكُمْ تَأْتُونَ قَوْمًا تَهْتَزُّ أَلْسِنَتُهُمْ بِالْقُرْآنِ اهْتِزَازَ النَّخْلِ، فَلَا تَصُدُّوهُمْ بِالْحَدِيثِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا شَرِيكُكُمْ» قَالَ: فَمَا حَدَّثْتُ بِشَيْءٍ وَقَدْ سَمِعْتُ كَمَا سَمِعَ أَصْحَابِي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২৮৭. কুরাযাহ ইবনু কা’ব আনসারী হতে বর্ণিত, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আনসার সাহাবীগণকে বিদায় জানানোর জন্য পিছনে পিছনে চলতে লাগলেন, এরপর যখন তারা মদীনা হতে বাইরে চলে আসলেন, তখন তিনি বললেন: তোমরা জানো কি, কেন আমি তোমাদের পিছনে পিছনে বিদায় জানানোর জন্য এসেছি? আমরা বললাম, আনসারগণের সম্মানে। তিনি বললেন: তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হতে যাচ্ছ যাদের জিহবা কুরআন পাঠের দ্বারা (সর্বদা) আন্দোলিত হবে, যেভাবে খেজুর গাছ আন্দোলিত হতে থাকে। সুতরাং তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীসের মাধ্যমে তাদেরকে ফিরিয়ে রেখো না, আমি তোমাদের সাথেই আছি।
তিনি বলেন, আমি কোনো বিষয়েই হাদীস বর্ণনা করি না, যদিও আমি তা শুনেছি যেমন আমার সাথীরা শুনেছে।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৬/২; হাকিম ১/১০২; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১৬৯১, ১৬৯২; হাকিম বলেন: এ হাদীসের সনদ সহীহ।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنبَأَنَا أَشْعَثُ بْنُ سَوَّارٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ قَرَظَةَ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: بَعَثَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، رَهْطًا مِنَ الْأَنْصَارِ إِلَى الْكُوفَةِ، فَبَعَثَنِي مَعَهُمْ، فَجَعَلَ يَمْشِي مَعَنَا حَتَّى أَتَى صِرَارَ - وَصِرَارُ: مَاءٌ فِي طَرِيقِ الْمَدِينَةِ - فَجَعَلَ يَنْفُضُ التُّرَابَ عَنْ رِجْلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: " إِنَّكُمْ تَأْتُونَ الْكُوفَةَ، فَتَأْتُونَ قَوْمًا لَهُمْ أَزِيزٌ بِالْقُرْآنِ فَيَأْتُونَكُمْ فَيَقُولُونَ: قَدِمَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ قَدِمَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ فَيَأْتُونَكُمْ فَيَسْأَلُونَكُمْ عَنِ الْحَدِيثِ، فَاعْلَمُوا أَنَّ أَسْبَغَ الْوُضُوءِ ثَلَاثٌ، وَثِنْتَانِ تُجْزِيَانِ ". ثُمَّ قَالَ: " إِنَّكُمْ تَأْتُونَ الْكُوفَةَ فَتَأْتُونَ قَوْمًا لَهُمْ أَزِيزٌ بِالْقُرْآنِ فَيَقُولُونَ: قَدِمَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ قَدِمَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ فَيَأْتُونَكُمْ فَيَسْأَلُونَكُمْ عَنِ الْحَدِيثِ. فَأَقِلُّوا الرِّوَايَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنَا شَرِيكُكُمْ فِيهِ قَالَ قَرَظَةُ: وَإِنْ كُنْتُ لَأَجْلِسُ فِي الْقَوْمِ فَيَذْكُرُونَ الْحَدِيثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وإِنِّي لَمِنْ أَحْفَظِهِمْ لَهُ. فَإِذَا ذَكَرْتُ وَصِيَّةَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَكَتُّ. قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: مَعْنَاهُ عِنْدِي: الْحَدِيثُ عَنْ أَيَّامِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ السُّنَنَ وَالْفَرَائِضَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف فيه أشعث بن سوار
২৮৮. কুরাযাহ ইবনু কা’ব আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কুফায় আনসারদের একটি দলকে পাঠালেন, আমাকেও তাদের সাথে পাঠালেন। আর তিনিও আমাদের সাথে হেঁটে চললেন, এমনকি তিনি ‘সিরার’ পর্যন্ত চলে আসলেন। ‘সিরার’ হলো: মদীনার রাস্তায় অবস্থিত একটি জলাশয়। এরপর তিনি তাঁর দু’পা থেকে মাটি ধুতে লাগলেন এবং তারপর বললেন: ‘তোমরা কুফায় যাচ্ছো। সুতরাং তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছো, যারা (বুলন্দ) আওয়াজে কুরআন পাঠে রত থাকে। তারা তোমাদের নিকট এসে বলবে: মুহাম্মদের সাহাবীগণ এসেছেন! মুহাম্মদের সাহাবীগণ এসেছেন! তারা তোমাদের নিকট এসে হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে। সুতরাং তোমরা জেনে রাখো যে, পরিপূর্ণরুপে উযু করা হল তিনবার করে (অযুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো ধোয়া)। আর দু’-দু’বার করে (ধোয়াই) যথেষ্ট (জায়েয)। তারপর বললেন: ‘তোমরা কুফায় যাচ্ছো। সুতরাং তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছো, যারা (বুলন্দ) আওয়াজে কুরআন পাঠে রত থাকে। তারা তোমাদেরকে বলবে: মুহাম্মদের সাহাবীগণ এসেছেন! মুহাম্মদের সাহাবীগণ এসেছেন! তারা তোমাদের নিকট এসে হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে। সুতরাং তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে খুব কম সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করবে, আর আমিও তাতে তোমাদের অংশীদার।“[1]
কুরাযাহ বলেন: আমি যেসকল লোকদের মাঝে বসতাম, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতো, যদিও নিশ্চয়ই আমি তাদের চেয়ে তা অধিক হাদীস সংরক্ষণকারী ছিলাম। কিন্তু যখনই আমি উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র ওয়াসিয়াত (উপদেশ) স্মরণ করতাম, তখনই আমি চুপ হয়ে যেতাম। আবু মুহাম্মদ (দারিমী) বলেন: আমার নিকট মনে হয়, ঐ হাদীসগুলো দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুদ্ধবিগ্রহ বিষয়ক হাদীসের কথা বলা হয়েছে। এ দ্বারা সুনান ও ফারায়েয বিষয়ক হাদীস বোঝানো হয়নি।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এ সনদে আশ’আস ইবনু সিওয়ার রয়েছে। (তবে হাদীস সহীহ। আগের হাদীসটি ও তাখরীজ দ্রষ্টব্য।-অনুবাদক)
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, মুকদ্দমাহ ২৮, সনদ সহীহ; দেখুন মিসবাহুয যুজাজাহ ১/৫০ এবং পূর্বের হাদীসটি। এছাড়াও দেখুন, ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১৬৯০।
أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ: قَالَ: عَبْدُ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، " قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ ارْتَعَدَ، ثُمَّ قَالَ: نَحْوَ ذَلِكَ أَوْ فَوْقَ ذَاكَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২৮৯. আলকামাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন’, অত:পর তিনি ভয়ে কেঁপে উঠলেন। তারপর বললেন: এই রকম কিংবা এর কিছু অধিক।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবু যুরআহ, তারীখ নং ১৬৪; আহমদ (মাকতাবাতুল ইসলামী প্রকাশনা) নং ৪০১৬; হাকিম, ১/১১১, এ সনদ সহীহ; আহমদ ৩৬৬৯, যঈফ সনদে; খতীব, আল কিফায়াহ পৃ. ২০৫; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৪২৭ ।
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: صَحِبْتُ ابْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، إِلَى الْمَدِينَةِ فَلَمْ أَسْمَعْهُ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَدِيثٍ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُتِيَ بِجُمَّارٍ، فَقَالَ: «إِنَّ مِنَ الشَّجَرِ شَجَرًا مِثْلَ الرَّجُلِ الْمُسْلِمِ» فَأَرَدْتُ أَنْ أَقُولَ: هِيَ النَّخْلَةُ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا أَنَا أَصْغَرُ الْقَوْمِ، فَسَكَتُّ. [ص: 331] قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَدِدْتُ أَنَّكَ قُلْتَ، وَعَلَيَّ كَذَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح وابن أبي نجيح هو: عبد الله. والحديث متفق عليه
২৯০. মুজাহিদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদীনার পথে ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র সঙ্গী হয়েছিলাম। (পুরো রাস্তায়) আমি তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোন হাদীস বর্ণনা করতে শুনিনি। কেবল এই একটি মাত্র হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম, তখন তাঁর নিকট খেজুর গাছের মজ্জা আনা হলে তিনি বললেন: “এমন একটি গাছ রয়েছে, যা মুসলিম ব্যক্তির সাথে তুলনীয়।“ তখন আমি এ কথা বলতে চেয়েছিলাম যে, তা হলো খেজুর গাছ। কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম যে, আমি ছিলাম লোকদের মাঝে সবচেয়ে অল্প বয়স্ক। ফলে আমি চুপ করে গেলাম। উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন: zwj;তুমি যদি তা বলতে, তবে আমার নিকট অমুক জিনিস থাকার চেয়ে তা অধিক পছন্দনীয় হতো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : হাদীসটি সহীহ। বুখারী ও মুসলিমের হাদীস।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী, ৭২; সহীহ মুসলিম, ২৮১১।
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ الْهَدَادِيُّ، حَدَّثَنَا صَالِحٌ الدَّهَّانُ، قَالَ: مَا سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ زَيْدٍ يَقُولُ قَطُّ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِعْظَامًا وَاتِّقَاءً أَنْ يَكْذِبَ عَلَيْهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
২৯১. সালিহ আদ দাহহান বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু যায়িদকে কখনও বলতে শুনিনি: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন’। এটিকে অত্যন্ত বড় বিষয় মনে করার কারণে ও তাঁর উপর মিথ্যারোপ করার ভয়ে (তিনি এরূপ করতেন)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: ফাসাওয়ী, মারিফাহ ২/১৫।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنبَأَنَا رَوْحٌ، عَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ: جَاءَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَى كَعْبٍ يَسْأَلُ عَنْهُ، وَكَعْبٌ فِي الْقَوْمِ، فَقَالَ كَعْبٌ: مَا تُرِيدُ مِنْهُ؟ فَقَالَ: أَمَا إِنِّي لَا أَعْرِفُ لِأَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَكُونَ أَحْفَظَ لِحَدِيثِهِ مِنِّي. فَقَالَ كَعْبٌ: أَمَا إِنَّكَ لَنْ تَجِدَ طَالِبَ شَيْءٍ إِلَّا سَيَشْبَعُ مِنْهُ يَوْمًا مِنَ الدَّهْرِ، إِلَّا طَالِبَ عِلْمٍ أَوْ طَالِبَ دُنْيَا. فَقَالَ: أَنْتَ كَعْبٌ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: لِمِثْلِ هَذَا جِئْتُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لانقطاعه
২৯২. আব্দুল্লাহ ইবনু শাক্বীক্ব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কা’ব -এর নিকট এসে তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করলেন। আর কা’ব তখন লোকদের মধ্যে ছিলেন। কা’ব বললেন: আপনার এ কথার উদ্দেশ্য কী? তখন তিনি বলেন: ‘জেনে রাখ! রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যে আমি এমন কাউকে জানিনা যে আমার থেকে অধিক হাদীস মুখস্থ রেখেছেন।
তখন কা’ব বলেন, আপনিও জেনে রাখুন! আপনি কখনোই এমন কোন জিনিস অন্বেষণকারী ব্যক্তিকে পাবেন না, যে কোন দিন কোন সময় পরিতৃপ্ত হবে। সে জ্ঞান অন্বেষণকারী হোক কিংবা দুনিয়া (’র ধন-সম্পদ) অন্বেষণকারীই হোক। তখন তিনি বললেন: তুমিই কি কা’ব? সে জবাব দিল, হাঁ। তখন তিনি বললেন: এ কারণেই আমি (তোমার নিকট) এসেছিলাম।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বিচ্ছিন্নতার কারণে যঈফ। হাকিম সহীহ বললেও যাহাবী বলেন: এতে ‘ইনকিতা’ বা বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।
তাখরীজ: হাকিম, আল মুসতাদরাক ১/৯২।
أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا شِبْلٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ النَّاسِ أَعْلَمُ؟ قَالَ: مَنْ جَمَعَ عِلْمَ النَّاسِ إِلَى عِلْمِهِ، وَكُلُّ طَالِبِ عِلْمٍ غَرْثَانُ إِلَى عِلْمٍ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
২৯৩. তাউস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! সবচেয়ে জ্ঞানী লোক কে? তিনি বলেন: “যে ব্যক্তি সকল মানুষের জ্ঞানকে তার জ্ঞানের সাথে জমা করেছে এবং প্রত্যেক জ্ঞান অন্বেষণকারী জ্ঞানের জন্য লালায়িত থাকে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। (তবে এটি মুরসাল)।
তাখরীজ: এ আছারটি আমি অন্য কোথাও পাইনি, তবে আবু ইয়ালা, মুসনাদ (৪/১৩২) নং ২১৮৩ তে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যার সনদ যঈফ জিদ্দান বা অত্যন্ত দুর্বল।
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنِ الْخَلِيلِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، قَالَ: " كُنْتُ فِي حَلْقَةٍ فِيهَا الْمَشْيَخَةُ وَهُمْ يَتَرَاجَعُونَ فِيهِمْ عابدُ بْنُ عَمْرٍو، فَقَالَ شَابٌّ فِي نَاحِيَةِ الْقَوْمِ: أَفِيضُوا فِي ذِكْرِ اللَّهِ بَارَكَ اللَّهُ فِيكُمْ، فَنَظَرَ الْقَوْمُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ. فِي أَيِّ شَيْءٍ رَآنَا؟ ثُمَّ قَالَ بَعْضُهُمْ: مَنْ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ فَمُرْ، لَئِنْ عُدْتَ، لَنَفْعَلَنَّ وَلَنَفْعَلَنَّ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :لم يحكم عليه المحقق
২৯৪. মুয়াবিয়া ইবনু কুররাহ বলেন, আমি একটি হালাকায় (বৃত্তাকার সমাবেশে) ছিলাম যাতে একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিল, যার পিছনে পিছনে লোকেরা চলছিল। আর তাদের মধ্যে আবিদ ইবনু আমর ছিলেন। লোকদের মাঝ থেকে এক যুবক বলতে লাগলো: তোমরা আল্লাহর যিকিরের দিকে ধাবিত হও, আল্লাহ তোমাদের বরকত দান করুন। তখন লোকেরা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল। সে আমাদেরকে কোন্ বিষয়ে রত দেখছে? তারপর তাদের কেউ একজন বলল: ‘তোমাকে কে এ কাজের নির্দেশ দিল? অত:পর সে তাকে তাড়িয়ে দিল। (তারা বলল:) যদি তুমি পুনরায় একাজ কর, তবে নিশ্চয়ই আমরাও (এই এই) করব।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : খলীল ইবনু মুররাহ যঈফ। অন্যান্য রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। এর অনেক যঈফ শাহিদ রয়েছে যা পরস্পরকে শক্তিশালী করে।
أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، أَنبَأَنَا أَبُو عَامِرٍ، أَنْبَأَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: نِعْمَ الْمَجْلِسُ مَجْلِسٌ تُنْشَرُ فِيهِ الْحِكْمَةُ وَتُرْجَى فِيهِ الرَّحْمَةُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أنه منقطع عون بن عبد الله لم يسمع من عبد الله فيما نعلم
২৯৫. আউন ইবনু আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কতই না উত্তম সেই মজলিস যে মজলিসে হিকমাত (জ্ঞান) ছড়িয়ে পড়ে এবং যাতে রহমত কামনা করা হয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। তবে এটি ‘মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন বর্ণনা। আউন ইবনু আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ হতে কিছু শ্রবণ করেননি যতদুর আমরা জানতে পেরেছি; আল্লাহহ সবচেয়ে ভাল জানেন।
তাখরীজ: দেখুন আমার তাহক্বীক্বকৃত মাজমাউয যাওয়াইদ, নং ৭৭৫ এর তাখরীজ।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ جُبْيَرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَشَخَصَ بِبَصَرِهِ إِلَى السَّمَاءِ ثُمَّ قَالَ: «هَذَا أَوَانُ يُخْتَلَسُ الْعِلْمُ مِنَ النَّاسِ حَتَّى لَا يَقْدِرُوا مِنْهُ عَلَى شَيْءٍ» فَقَالَ زِيَادُ بْنُ لَبِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ يُخْتَلَسُ مِنَّا وَقَدْ قَرَأْنَا الْقُرْآنَ؟ فَوَاللَّهِ لَنَقْرَأَنَّهُ، وَلَنُقْرِئَنَّهُ نِسَاءَنَا وَأَبْنَاءَنَا، فَقَالَ: «ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا زِيَادُ، إِنْ كُنْتُ لَأَعُدُّكَ مِنْ فُقَهَاءِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، هَذِهِ التَّوْرَاةُ وَالْإِنْجِيلُ عِنْدَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى، فَمَاذَا يُغْنِي عَنْهُمْ؟» قَالَ جُبَيْرٌ: فَلَقِيتُ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قُلْتُ أَلَا تَسْمَعُ مَا يَقُولُ أَخُوكَ أَبُو الدَّرْدَاءِ؟ فَأَخْبَرْتُهُ بِالَّذِي قَالَ. قَالَ: صَدَقَ أَبُو الدَّرْدَاءِ إِنْ شِئْتَ لَأُحَدِّثَنَّكَ بِأَوَّلِ عِلْمٍ يُرْفَعُ مِنَ النَّاسِ: الْخُشُوعُ، يُوشِكُ أَنْ تَدْخُلَ مَسْجِدَ الْجَمَاعَةِ فَلَا تَرَى فِيهِ رَجُلًا خَاشِعًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف عبد الله بن صالح سيئ الحفظ وفيه غفلة وباقي رجاله ثقات
২৯৬. জুবাইর ইবনু নুফাইর আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। তিনি আকাশের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললেন: “এই সময়ে লোকদের নিকট থেকে ইলমকে কেড়ে নেয়া হবে, এমনকি এর উপর তাদের কোনো ক্ষমতাই থাকবে না।“ তখন যিয়াদ ইবনু লাবীদ আল আনসারী বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, কিভাবে আমাদের থেকে জ্ঞানকে কেড়ে নেয়া হবে, অথচ আমরা কুরআন পড়ছি? আল্লাহর কসম, আমরা তো অবশ্যই পড়ছি, এমনকি আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকেও পড়াচ্ছি। তখন তিনি বললেন: “হে যিয়াদ, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! আমি তো তোমাকে মদীনাবাসীদের মধ্যে ফকীহ হিসেবে গণ্য করতাম! এই যে ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের নিকট তাওরাত ও ইন্জিল কিতাব রয়েছে, তা তাদের কোন্ কাজে আসছে?“ জুবাইর বলেন: আমি উবাদাহ ইবনু সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র সাথে সাক্ষাৎ করলাম।’ তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তিনি বললেন: আমি বললাম, আপনি কি শুনেননি আপনার ভাই আবু দারদা কী বলছেন? তিনি যা বলেছিলেন, আমি তাকে তা জানালাম।
তখন তিনি বললেন: আবু দারদা সত্যই বলেছেন, তুমি চাইলে আমি তোমার নিকট এ সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করতে পারি যে, সর্বপ্রথম কোন্ জ্ঞান লোকদের থেকে উঠিয়ে নেয়া হবে। (সর্বপ্রথম লোকদের নিকট থেকে জ্ঞানের যে অংশটুকু উঠিয়ে নেয়া হবে তা হলো) ‘খুশু’ (আল্লাহর ভয়)। শীঘ্রই তুমি কোনো জামে’ মসজিদে প্রবেশ করে সেখানে ‘খুশু’ ওয়ালা (ভয়াবনত) একজন লোককেও পাবে না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ’র স্মৃতিশক্তি ত্রুটিযুক্ত। এবং তার মধ্যে ঢিলেমী রয়েছে। অন্যান্য রাবীগণ বিশ্বস্ত। তবে তিরমিযী বলেন: এটি হাসান ও গরীব। হাকিম বলেন: বাসরাবাসীর হাদীসের মধ্যে এ হাদীসটি সহীহ। যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন।
তাখরীজ: তিরমিযী, ২৬৫৫; হাকিম, ১/৯৯।
أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ جَمِيلٍ الْكِنَانِيُّ، حَدَّثَنَا مَكْحُولٌ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ، كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ» ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ (إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ) [فاطر: 28] ثُمَّ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ، وَأَهْلَ سَمَاوَاتِهِ وَأَرَضِيهِ، وَالنُّونَ فِي الْبَحْرِ يُصَلُّونَ عَلَى الَّذِينَ يُعَلِّمُونَ النَّاسَ الْخَيْرَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :هكذا جاء مرسلا
২৯৭. মাকহুল বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মধ্যকার সাধারণ একজন ব্যক্তির উপর আমার যেরূপ মর্যাদা রয়েছে, একজন আবিদ’ (অধিক ইবাদতগুজার) এর উপর একজন আলিমের তদ্রূপ মর্যাদা রয়েছে। তারপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন- “নিশ্চয় আল্লাহ’র বান্দাগণের মাঝে আলিমগণই আল্লাহকে ভয় করে।“ (সুরা ফাতির: ২৮) অতঃপর তিনি বলেন: “আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর রহম করেন এবং তাঁর ফেরেশতামণ্ডলী, আসমানসমূহ ও পৃথিবীর অধিবাসীগণ, সাগরের মাছসমূহ সকলেই ঐ ব্যক্তির জন্য রহমত কামনা করে দু’আ করে, যে ব্যক্তি লোকদেরকে কল্যাণকর বিষয় শিক্ষাদান করে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এটি মুরসাল হিসেবে এসেছে। । কিন্তু তিরিমিযী এটি আবু উমামা হতে মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি হাসান, সহীহ গরীব। (আলবানী একে সহীহ বলেছেন (সহীহুল জামি’ ৪/৮৬)- অনুবাদক)।
তাখরীজ: তিরমিযী, আল জামি’, নং ২৬৮৬; তাবারানী, আল কাবীর ৮/২৭৮ নং ৭৯১১।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَسَدٍ أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ رَجُلٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «لَا يَكُونُ الرَّجُلُ عَالِمًا حَتَّى لَا يَحْسُدَ مَنْ فَوْقَهُ، وَلَا يَحْقِرَ مَنْ دُونَهُ، وَلَا يَبْتَغِيَ بِعِلْمِهِ ثَمَنًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :في إسناده ليث بن أبي سليم وهو ضعيف وفيه جهالة الرجل الراوي عن ابن عمر
২৯৮. কোন এক ব্যক্তি ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত আলিম হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার চেয়ে উচ্চস্তরের লোক তাকে হিংসা করবে, তার চেয়ে নিম্নস্তরের লোক তাকে হেয়জ্ঞান করবে; আর সে তার জ্ঞানের বিনিময়ে মূল্য গ্রহণ করবে না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদে লাইছ ইবনু আবী সালীম রয়েছে যে দুর্বল রাবী। এছাড়া ইবনু উমার থেকে যে ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন তিনি অজ্ঞাত।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১৩/৩২৩ নং ১৬৪৭৭; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ১/৩০৬; ইবনু আব্দুল বারর, জামি’ বায়ান নং ৮৫৮। এর শাহিদ বর্ণনা সামনে আসছে ৩০০ নং এ।
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ مِسْعَرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الْأَعْلَى التَّيْمِيَّ يَقُولُ: " مَنْ أُوتِيَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَا يُبْكِيهِ، لَخَلِيقٌ أَنْ لَا يَكُونَ أُوتِيَ عِلْمًا يَنْفَعُهُ، لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى نَعَتَ الْعُلَمَاءَ ثُمَّ قَرَأَ: (إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ) [الإسراء: 107] إِلَى قَوْلِهِ (يَبْكُونَ) [الإسراء: 109]
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
২৯৯. মিস’আর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আব্দুল আ’লা আত তাইমীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যাকে এমন জ্ঞান দান করা হয়েছে, যা তাকে কাঁদায় না, তবে অবশ্যই আল্লাহ সে ব্যক্তিকে তার জন্য উপকারী জ্ঞান দান করেননি। কেননা, আল্লাহ তা’আলাই আলিমগণের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।“ অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন: “নিশ্চয় যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে (সূরা ইসরা’: ১০৭) ... তারা কাঁদতে থাকে“ (সূরা ইসরা’: ১০৯) - এ পর্যন্ত।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, আল মুছান্নাফ ১৩/৫৪২-৫৪৩; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৫/৮৮; ইবনুল মুবারক, আয যুহদ নং ১২৫।
أَخْبَرَنَا عِصْمَةُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، عَنْ مُبَارَكِ بْنِ فَضَالَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ الْعُمَرِيِّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ: " لَا تَكُونُ عَالِمًا حَتَّى يَكُونَ فِيكَ ثَلَاثُ خِصَالٍ: لَا تَبْغِي عَلَى مَنْ فَوْقَكَ وَلَا تَحْقِرُ مَنْ دُونَكَ، وَلَا تَأْخُذُ عَلَى عِلْمِكَ دُنْيَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :مبارك بن فضال يدلس تدليس تسوية وقد عنعن. فالإسناد ضعيف
৩০০. আবু হাযিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমার মধ্যে তিনটি গুণ না থাকা পর্যন্ত তুমি একজন আলিম হতে পারবে না: ১. তোমার চেয়ে উচ্চস্তরের লোকদের প্রতি সীমালংঘন করবে না; ২. তোমার চেয়ে নিম্নস্তরের লোকদেরকে হেয়জ্ঞান/অবজ্ঞা করবে না। আর তোমার ইলমের বিনিময়ে দুনিয়া (-এর ভোগ সম্ভার) গ্রহণ করবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। মুবারক ইবনু ফুদালাহ, তাদলীস করেন এবং তিনি ‘আন’‘আন’ পদ্ধতিতে এটি বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৩/২৪৩; এর শাহিদ পূর্ববর্তী ২৯৮ নং হাদীসটি দেখুন।