সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْثَرٌ، عَنْ بُرْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى الدِّمَشْقِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: «لَا تَكُونُ عَالِمًا حَتَّى تَكُونَ مُتَعَلِّمًا، وَلَا تَكُونُ بِالْعِلْمِ عَالِمًا حَتَّى تَكُونَ بِهِ عَامِلًا، وَكَفَى بِكَ إِثْمًا أَنْ لَا تَزَالَ مُخَاصِمًا، وَكَفَى بِكَ إِثْمًا أَنْ لَا تَزَالَ مُمَارِيًا، وَكَفَى بِكَ كَاذِبًا أَنْ لَا تَزَالَ مُحَدِّثًا فِي غَيْرِ ذَاتِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن
৩০১. আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: তুমি শিক্ষার্থী না হওয়া পর্যন্ত আলিম হতে পারবেনা; আর তুমি অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল না করা পর্যন্ত শুধু জ্ঞান অর্জন দ্বারা আলিম হতে পারবে না। তোমার পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তুমি সর্বদা ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত থাকবে; তোমার পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তুমি সর্বদা তর্ক-বিতর্ক করতে থাকবে; আবার তোমার মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তুমি একমাত্র আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ব্যতীত অন্যের বিষয়ে অধিক আলোচনা করতে থাকবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: ওয়াকী’, আয যুহদ নং ২২০; তার সূত্রে খতীব, ইক্বতিযাউল ইলম নং ১৬; এ সনদটি মুনাকাত্বি’। আরও দেখুন মুক্বতাদি নং ১৭ এবং ইবনু আব্দুল বার, আল জামি’ নং ১১২০।
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا الْمُبَارَكُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَخِيهِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ عِمْرَانَ الْمِنْقَرِيِّ، قَالَ: قُلْتُ لِلْحَسَنِ يَوْمًا فِي شَيْءٍ قَالَهُ: يَا أَبَا سَعِيدٍ، لَيْسَ هَكَذَا يَقُولُ الْفُقَهَاءُ. فَقَالَ: «وَيْحَكَ وَرَأَيْتَ أَنْتَ فَقِيهًا قَطُّ، إِنَّمَا الْفَقِيهُ الزَّاهِدُ فِي الدُّنْيَا، الرَّاغِبُ فِي الْآخِرَةِ، الْبَصِيرُ بِأَمْرِ دِينِهِ، الْمُدَاوِمُ عَلَى عِبَادَةِ رَبِّهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৩০২. ইমরান আল মিনকারী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একদিন কোনো এক বিষয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে হাসানকে বললাম: হে আবু সা’ঈদ! ফকীহগণ (বিশেষজ্ঞ আলিমগণ) তো এভাবে বলেন না। তিনি বললেন: তোমার জন্য আফসোস! তুমি নিজ চোখে কখনো কি কোনো আলিমকে দেখেছো? আলিম তো হলো সেই ব্যক্তি যে দুনিয়ার প্রতি নিরাসক্ত / অনাগ্রহী, আখিরাতের প্রতি আগ্রহী, তার দীনের কাজের ব্যাপারে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন; আর তার রবের ইবাদতের ব্যাপারে ধারাবাহিকতা রক্ষাকারী বা নিরবচ্ছিন্ন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৩১/৪৯৮ নং ১৭০৩৭; তার সূত্রে আবী নুয়াইম, হিলইয়া ২/১৪৭; ইবনুল মুবারক, আয যুহদ সনদ অন্ধকারাচ্ছন্ন; খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাককিহ নং ১০৬৬, ১০৬৭ দু’টি সনদে।
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبَجَلِيُّ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: قِيلَ لَهُ: " مَنْ أَفْقَهُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ؟ قَالَ: أَتْقَاهُمْ لِرَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده فيه النضر بن إسماعيل وليس بالقوي وهذا إسناد ضعيف
৩০৩. মিস’আর সা’দ ইবনু ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেন, ইবরাহীম বলেন, তাকে একবার বলা হলো: মদীনাবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলিম কে? তিনি বললেন: যে তার রব আযযা ওয়া জাল্লা’কে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে নাদ্বর ইবনু ইসমাঈল রয়েছে, সে শক্তিশালী নয়।
তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৩/১৬৯ এ সনদ যঈফ; এর পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আছারটি দেখুন যা একে অপরকে শক্তিশালী করে।
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: إِنَّمَا الْفَقِيهُ مَنْ يَخَافُ اللَّهَ تَعَالَى
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف ليث بن أبي سليم
৩০৪. লাইছ ইবনু আবু সালীম হতে বর্ণিত, মুজাহিদ বলেন, আলিম হলেন সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, লাইছ ইবনু আবী সালীম যঈফ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, নং ১৭৩০১; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৩/২৮০; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১৫৪৭।
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ يَعْقُوبَ الْقُمِّيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي لَيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ يَحْيَى هُوَ ابْنُ عَبَّادٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: إِنَّ الْفَقِيهَ حَقَّ الْفَقِيهِ، مَنْ لَمْ يُقَنِّطِ النَّاسَ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ، وَلَمْ يُرَخِّصْ لَهُمْ فِي مَعَاصِي اللَّهِ، وَلَمْ يُؤَمِّنْهُمْ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ، وَلَمْ يَدَعِ الْقُرْآنَ رَغْبَةً عنْهُ إِلَى غَيْرِهِ، إِنَّهُ لَا خَيْرَ فِي عِبَادَةٍ لَا عِلْمَ فِيهَا، وَلَا عِلْمٍ لَا فَهْمَ فِيهِ، وَلَا قِرَاءَةٍ لَا تَدَبُّرَ فِيهَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :في هذا الإسناد علتان: الأولى: ضعف ليث بن أبي سليم والثانية: الانقطاع يحيى بن عباد بن شيبان لم يدرك عليا فيما نعلم
৩০৫. ইবনু আব্বাদ আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “নিশ্চয়ই প্রকৃত আলিম হলেন সেই আলিম যিনি লোকদেরকে আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ করেন না এবং আল্লাহর অবাধ্যতার অনুমতিও লোকদেরকে দেন না; আর আল্লাহর আযাব হতে লোকদেরকে নির্ভীকও করেন না। আবার অন্য কোনো কিছুর আশায় কুরআনকে ছেড়ে দেন না। নিশ্চয়ই ইলমবিহীন (জ্ঞানহীন) ইবাদাতের মধ্যে কোন কল্যাণ নেই, আর উপলব্ধি বা অনুধাবন ব্যতীত কোন ইলম নেই এবং গভীর চিন্তাভাবনা ব্যতীত কুরআন তিলাওয়াত নেই (তেলাওয়াত করে কোন কল্যাণ অর্জন করা যাবে না)।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’টি ত্রুটি বিদ্যমান। ১. লাইছ ইবনু আবী সালীমের দুর্বলতা। ২. ইনকিতা’ বা বিচ্ছিন্নতা। ইয়াহইয়া ইবনু ইবাদ ইবনু শাইবান আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাক্ষাৎ লাভ করেননি, আমরা যতটা জানতে পেরেছি। আল্লাহই ভাল জানেন।
তাখরীজ: ইবনুদ দ্বরীস, ফাদ্বাইলুল কুরআন নং ৬৯; আবু খায়ছামা, আল ইলম নং ১৪৩; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ১/৭৭; খতীব, ফাকিহ ওয়াল মুতাফাককিহ ২/১৬১; ইবনু আব্দুল বার তাঁর জামি’ বায়ানিল ইলম গ্রন্থে ১৫১০ নং এ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এটি বর্ণনা করেছেন; এর সনদও যঈফ। দেখুন, আলবানী, যঈফাহ ২/১৬১ নং ৭৩৪।
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادٍ، قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ: «الْفَقِيهُ حَقُّ الْفَقِيهِ الَّذِي لَا يُقَنِّطُ النَّاسَ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ، وَلَا يُؤَمِّنُهُمْ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ، وَلَا يُرَخِّصُ لَهُمْ فِي مَعَاصِي اللَّهِ، إِنَّهُ لَا خَيْرَ فِي عِبَادَةٍ لَا عِلْمَ فِيهَا، وَلَا خَيْرَ فِي عِلْمٍ لَا فَهْمَ فِيهِ، وَلَا خَيْرَ فِي قِرَاءَةٍ لَا تَدَبُّرَ فِيهَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف
৩০৬. ইয়াহইয়া ইবনু ‘ইবাদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “সেই আলিমই হলেন প্রকৃত আলিম যিনি লোকদেরকে আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ করেন না এবং আল্লাহর আযাব হতে লোকদেরকে নির্ভীকও করেন না। যিনি লোকদেরকে আল্লাহর অবাধ্যতার অনুমতিও দেন না। নিশ্চয়ই ইলমবিহীন ইবাদতের মধ্যে কোনোই কল্যাণ নেই; আর এমন ইলমেও কোনো কল্যাণ নেই, যাতে কোনো উপলব্ধি বা অনুধাবন নেই; আর এমন কুরআন তিলাওয়াতেও কোনো কল্যাণ নেই যার মধ্যে কোনো গভীর চিন্তাভাবনা নেই।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।
তাখরীজ: পূর্বের হাদীসের টীকা দ্রষ্টব্য।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ حَازِمٍ، حَدَّثَنِي عَمِّي جَرِيرُ بْنُ زَيْدٍ أَنَّهُ سَمِعَ تُبَيْعًا يُحَدِّثُ عَنْ كَعْبٍ، قَالَ: «إِنِّي لَأَجِدُ نَعْتَ قَوْمٍ يَتَعَلَّمُونَ لِغَيْرِ الْعَمَلِ، وَيَتَفَقَّهُونَ لِغَيْرِ الْعِبَادَةِ، وَيَطْلُبُونَ الدُّنْيَا بِعَمَلِ الْآخِرَةِ. وَيَلْبَسُونَ جُلُودَ الضَّأْنِ. وَقُلُوبُهُمْ أَمَرُّ مِنَ الصَّبْرِ، فَبِي يَغْتَرُّونَ، أَوْ إِيَّايَ يُخَادِعُونَ؟ فَحَلَفْتُ بِي لَأُتِيحَنَّ لَهُمْ فِتْنَةً تَتْرُكُ الْحَلِيمَ فِيهَا حَيْرَانَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৩০৭. তুবাইয়া বর্ণনা করেন, কা’ব বলেন: আমি (পূর্ববর্তী কিতাবে) এমন এক জাতির গুণাবলীর বর্ণনা পেয়েছি যারা আমলের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে ইলম শিক্ষা করবে; ইবাদত ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে গভীর জ্ঞান (ফিকহ্) অর্জন করবে; আখিরাতের আমলের দ্বারা দুনিয়া’ (এর ধন-সম্পদ) প্রত্যাশা করবে; ভেড়ার চামড়া পরিধান করবে। আর তাদের হৃদয়সমূহ হবে তেতো গাছ (যথা নিম)-এর তিক্ততার চেয়েও অধিক তিক্ততর। তবে কি তারা আমাকে ধোঁকা দেবে অথবা আমারই সাথে প্রতারণা করবে? আমি আমার সত্তার কসম করে বলছি,[1] অবশ্যই আমি এমন কঠিন ফিতনা তাদের জন্য সহজ করে দেব, যা তাদের মহা ধৈর্য্যশীল বা জ্ঞানী লোকদেরকেও হয়রান করে ছাড়বে।[2]
[1] অপর হাদীস, আবু দারদা হতে (খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাককিহ, ২/১৬২; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম ১/২৩১; ইবনু আসাকীর, নং ৮; ইবনু নাজ্জার, যাইলুত তারীখ বাগদাদ ২/৩৭) হতে জানা যায় যে, এটি মহান আল্লাহ বাণী হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন, ফতহুল মান্নান শরহে দারেমী, ২য় খণ্ড পৃ: ৪৭৩; ৩১১ নং হাদীসের টীকা)
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৯১৮; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১১৪১ মুনকাতি’ সনদে। তবে এর অনেক শাহিদ রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে।
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ الْعَمِّيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ، عَنْ هَرِمِ بْنِ حَيَّانَ، أَنَّهُ قَالَ: «إِيَّاكُمْ وَالْعَالِمَ الْفَاسِقَ»، فَبَلَغَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - فَكَتَبَ إِلَيْهِ - وَأَشْفَقَ مِنْهَا مَا الْعَالِمُ الْفَاسِقُ؟ قَالَ: فَكَتَبَ إِلَيْهِ هَرِمٌ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ بِهِ إِلَّا الْخَيْرَ: يَكُونُ إِمَامٌ يَتَكَلَّمُ بِالْعِلْمِ، وَيَعْمَلُ بِالْفِسْقِ، فَيُشَبِّهُ عَلَى النَّاسِ فَيَضِلُّوا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৩০৮. আবু ইমরান আল জাওনী বর্ণনা করেন, হারিম ইবনু হাইয়্যান বলতেন: “তোমরা ফাসিক আলিম থেকে বেঁচে থাকো। এরপর এ খবর উমার ইবনুল খাত্ত্বাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট পৌঁছলে তিনি তাকে লিখে পাঠালেন- ফাসিক আলিম কে? এতে তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: হারিম তাকে লিখে পাঠালেন: হে আমীরুল মু’মিনীন! আল্লাহর কসম, এ দ্বারা কল্যাণ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না। কোন কোন আলিম এমন হবে, যে ইলমসমৃদ্ধ কথা বলবে কিন্তু তার কাজ হবে ফাসিক ব্যক্তির ন্যায়। আর (এভাবে) সে লোকদের মাঝে সন্দেহ সৃষ্টি করবে ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৭/১/৯৬; যাহাবী, সিয়ারু আ’লাম আন নুবালা ৪/৪৯।
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُطَرِّفٍ وَعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْمُهَاجِرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: «مَنْ أَرَادَ أَنْ يُكْرَمَ دِينُهُ، فَلَا يَدْخُلْ عَلَى السُّلْطَانِ، وَلَا يَخْلُوَنَّ بِالنِّسْوَانِ، وَلَا يُخَاصِمَنَّ أَصْحَابَ الْأَهْوَاءِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أن الوليد بن مسلم قد عنعن وهو مدلس والإسناد منقطع وربما كان معضلا
৩০৯. উবাইদুল্লাহ ইবনু আবুল মুহাজির হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: যে ব্যক্তি তার দীনকে মর্যাদামণ্ডিত করতে চায়, সে যেন সুলতান বা শাসকের নিকট না যায়, আরnbsp;কখনোই সে যেন নারীদের সাথেnbsp;একাকী অবস্থান না করে এবং প্রবৃত্তির অনুসারীদের সাথে তর্কে লিপ্ত না হয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তবে ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম মুদাল্লিস, আর সে ‘আন‘আন’ পদ্ধতিতে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এর সনদ মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন। আর সম্ভবত এটি মু’দ্বাল (সনদের মাঝে পরপর দুই বা ততোধিক রাবীর নাম বাদ পড়েছে)।
তাখরীজ: (এর কোনো তাখরীজ মুহাক্বিক্ব দেননি- অনুবাদক)
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ يُونُسَ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ مَيْمُونُ بْنُ مِهْرَانَ " إِيَّاكَ وَالْخُصُومَةَ وَالْجِدَالَ فِي الدِّينِ، وَلَا تُجَادِلَنَّ عَالِمًا، وَلَا جَاهِلًا: أَمَّا الْعَالِمُ، فَإِنَّهُ يَخْزُنُ عَنْكَ عِلْمَهُ وَلَا يُبَالِي مَا صَنَعْتَ، وَأَمَّا الْجَاهِلُ، فَإِنَّهُ يُخَشِّنُ بِصَدْرِكَ وَلَا يُطِيعُكَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৩১০. ইউনুস রাহি. বলেন, মায়মুন ইবনু মিহরান আমার নিকট লিখে পাঠান: তুমি দীনী বিষয়ে ঝগড়া-বিবাদ ও তর্ক-বিতর্ক করা হতে দূরে থাকবে। আর তুমি কখনোই তর্ক-বিতর্ক করবে না কোনো আলিমের সাথে , আর না কোনো জাহিলের (মুর্খের) সাথে। কেননা, আলিম তো তোমার থেকে তার ইলমকে সংরক্ষণ করবেন, আর তুমি কী আমল করছো, সে ব্যাপারে তিনি পরোয়া করবেন না; আর জাহিল তো তোমার অন্তরকে কঠিন করে ফেলবে[1] অথচ সে তোমার আনুগত্য-অনুসরণও করবে না।[2]
[1] তোমার অন্তরকে ক্রোধান্বিত করবে/ ক্ষেপিয়ে তুলবে। (মুহাক্কিক্বের টীকা)
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া, ৪/৮২ সহীহ সনদে;
এর কোনো অংশের শাহিদ রয়েছে আবী হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীসে, যা বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক, আয যুহদ (৫০); তার সনদে তিরমিযী ২৪০৬, এর সনদে ইয়াহইয়া ইবনু আব্দুল্লাহ রয়েছে, সে পরিত্যক্ত রাবী।
এর অপর শাহিদ ইবনু উমার হতে যা তিরমিযী (২৪০৭) বর্ণনা করেছেন। এ সনদে রয়েছে হামযাহ ইবনু আবী মুহাম্মদ আর সে যঈফ বা দুর্বল।
এর অপর শাহিদ আবী দারদা হতে ইবনু আব্দুল বার তার জামি’ বায়ানিল ইলম-এ ১১৩৯ নং এর বর্ণনা করেছেন। এর সনদও যঈফ।
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامُ لِابْنِهِ: «دَعِ الْمِرَاءَ فَإِنَّ نَفْعَهُ قَلِيلٌ، وَهُوَ يُهَيِّجُ الْعَدَاوَةَ بَيْنَ الْإِخْوَانِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده معضل
৩১১. ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুলাইমান ইবনু দাউদ (আ:) তাঁর পূত্রকে বলেন: তর্ক-বিতর্ক পরিত্যাগ কর, কেননা এতে উপকার খুবই কম। আর তা ভাইদের মাঝে শত্রুতার আগুন প্রজ্জ্বলিত করে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মু’দ্বাল।
তাখরীজ: এ ব্যতীত এ বিষয়ে আর কোথাও এটি দেখতে পাইনি।
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، «يَقُولُ مَنْ جَعَلَ دِينَهُ غَرَضًا لِلْخُصُومَاتِ، أَكْثَرَ التَّنَقُّلَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৩১২. ইসমাঈল ইবনু আবী হাকীম বলেন, আমি উমার ইবনু আব্দুল আযীযকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি তার দীনকে ঝগড়া-বিবাদের লক্ষ্যবস্তু বানাল, সে বার বার (তার দীনকে) পরিবর্তন করল।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৫/২৭৩; ইবনু বাত্তাহ, আল ইবানাহ নং ৫৬৬, ৫৬৯, ৫৮০, ৭৬৮,৭৬৯; লালিকাঈ, উসুলুল ই’তিকাদ আহলুস সুন্নাহ নং ২১৬; আজুরী, আশ শরীয়াহ পৃ: ৬২; খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাককিহ ১/২৩৫; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১৭৭০; এ সনদ সহীহ।
أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ: «كَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى أَهْلِ الْمَدِينَةِ أنَّهُ مَنْ تَعَبَّدَ بِغَيْرِ عِلْمٍ، كَانَ مَا يُفْسِدُ أَكْثَرَ مِمَّا يُصْلِحُ، وَمَنْ عَدَّ كَلَامَهُ مِنْ عَمَلِهِ، قَلَّ كَلَامُهُ إِلَّا فِيمَا يَعْنِيهِ، وَمَنْ جَعَلَ دِينَهُ غَرَضًا لِلْخُصُومَاتِ، كَثُرَ تَنَقُّلُهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أنه منقطع سعيد بن عبد العزيز لم يدرك عمر بن عبد العزيز فيما نعلم
৩১৩. সাঈদ ইবনু আব্দুল আযীয হতে বর্ণিত, উমার ইবনু আব্দুল আযীয মদীনাবাসীকে লিখে পাঠিয়েছিলেন: যে ব্যক্তি ইলম ব্যতীত ইবাদত করবে, সে নেক আমল করার চেয়ে খারাপ কাজই বেশি করবে। আর যে তার আমলের চেয়ে কথা বেশী হিসাব করে বলবে, তার কথা কমে যাবে। তবে তার জন্য উপকারী বিষয়ে সে কথা বলবে। আর যে ব্যক্তি তার দীনকে ঝগড়া-বিবাদের লক্ষ্যবস্তু বানাবে, তার (মতা/অবস্থা) অধিক হারে পরিবর্তিত হবে।“[1].।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। তবে এতে ‘ইনকিতা’ বা বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। সাঈদ্ বিন আব্দুল আযীয উমার ইবনু আব্দুল আযীযের সাক্ষাৎ লাভ করেননি- আমরা যতটা জানি, আল্লাহই সবচেয়ে অধিক জানেন।
তাখরীজ: ইবনু্ আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১৩২; মুনকাতি সনদে; খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাককিহ ১/১৯ অজ্ঞাত সনদে; আহমদ, আয যুহদ পৃ: ৩০২ যঈফ সনদে..
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ: سَأَلَهُ رَجُلٌ عَنْ شَيْءٍ مِنَ الْأَهْوَاءِ فَقَالَ: «عَلَيْكَ بِدِينِ الْأَعْرَابِيِّ، وَالْغُلَامِ فِي الْكُتَّابِ، وَالْهَ عَمَّا سِوَى ذَلِكَ» قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: كَثُرَ تَنَقُّلُهُ، أَيْ: يَنْتَقِلُ مِنْ رَأْيٍ إِلَى رَأْيٍ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده منقطع جعفر بن برقان لم يدرك عمر بن عبد العزيز
৩১৪. জা’ফর ইবনু বুরক্বান বর্ণনা করেন, উমার ইবনু্ আব্দুল আযীয রাহি. বলেন: এক ব্যক্তি তাঁকে প্রবৃত্তি সম্পর্কিত কোনো একটি বিষয়ে প্রশ্ন করলো। তখন তিনি বললেন: (সহজ-সরল) বেদুঈনদের এবং মাদরাসার (অবুঝ) বালকের দীনকে তুমি আকড়ে ধর। এ ব্যতীত আর সকল কিছুকে পরিত্যাগ কর।[1]
আবু মুহাম্মদ বলেন: ‘অধিক হারে পরিবর্তিত হওয়া’ অর্থ এক মত থেকে আরেক মতে আসা-যাওয়া করা।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুনকাতি’। জা’ফর ইবনু বুরক্বান উমার ইবনু আব্দুল আযীযের সাক্ষাৎ পাননি।
তাখরীজ: লালিকাঈ, শারহু উসুল নং ২৫০।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ: قَالَ: عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِذَا رَأَيْتَ قَوْمًا يُنْتِجُونَ بِأَمْرٍ دُونَ عَامَّتِهِمْ، فَهُمْ عَلَى تَأْسِيسِ الضَّلَالَةِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده منقطع الأوزاعي لم يدرك ابن عبد العزيز
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
৩১৫. আওযাঈ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার ইবনু আব্দুল আযীয বলেন, যখন কোনো সম্প্রদায়কে দেখবে, তারা সাধারণ্যে গৃহীত বিষয়াবলীর বাইরে গোপণে কিছু করছে, তখন (জানবে) তাদের ভিত্তি পথভ্রষ্টতার উপর প্রতিষ্ঠিত।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুনকাতি’। আওযাঈ ইবনু আব্দুল আযীযের সাক্ষাৎ পাননি।
তাখরীজ: আহমদ, আয যুহদ পৃ: ২৮৯; লালিকাঈ, শারহু উসুল নং ২৫১; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১৭৭৪।
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ: " قَالَ إِبْلِيسُ لِأَوْلِيَائِهِ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ تَأْتُونَ بَنِي آدَمَ؟ فَقَالُوا: مِنْ كُلِّ شَيْءٍ. قَالَ: فَهَلْ تَأْتُونَهُمْ مِنْ قِبَلِ الِاسْتِغْفَارِ؟ فَقَالُوا: هَيْهَاتَ، ذَاكَ شَيْءٌ قُرِنَ بِالتَّوْحِيدِ. قَالَ: لَأَبُثَّنَّ فِيهِمْ شَيْئًا لَا يَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ مِنْهُ. قَالَ: فَبَثَّ فِيهِمُ الْأَهْوَاءَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৩১৬. ইবনুল zwj;মুবারক থেকে বর্ণিত, আওযাঈ বলেন, ইবলিস তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের বলে: তোমরা বনী আদমের কোন্ কোন্ জিনিস এনেছো? তারা বলে, সবকিছুই তো আমরা নিয়ে এসেছি। সে বলে, তোমরা কি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) ও নিয়ে এসেছো? তারা বলে, হায় হায়! এটি তো এমন বিষয় যা তাওহীদ’ (একত্ববাদ) এর কাছাকাছি। তখন সে বলে, আমি এমন জিনিস তাদের মাঝে ছড়িয়ে দেবো, যা থেকে তারা আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করবে না। তিনি বলেন, অতঃপর সে তাদের মাঝে প্রবৃত্তি (ভাল লাগা ও মন্দ লাগা’র অনুসরণকে) ছড়িয়ে দিল।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: লালিকাঈ, আল ই’তিকাদ নং ২৩৭; ফাসাওয়ী ৩/৩৮৯ সহীহ সনদে।
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الْمُحَارِبِيِّ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: مَا أَدْرِي أَيُّ النِّعْمَتَيْنِ عَلَيَّ أَعْظَمُ: أَنْ هَدَانِي لِلْإِسْلَامِ، أَوْ عَافَانِي مِنْ هَذِهِ الْأَهْوَاءِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات ولكن عبد الرحمن بن محمد المحاربي مدلس وقد عنعن
৩১৭. আ’মাশ থেকে বর্ণিত, মুজাহিদ রাহি. বলেন, “আমাকে ইসলামের প্রতি হেদায়েত করা এবং এ প্রবৃত্তি থেকে নিরাপত্তা প্রদান করা“- আমার জন্য এ দু’টি নিয়া’মাতের মাঝে কোনটি মহত্তর, তা আমি জানি না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। কিন্তু আব্দুর রহমান ইবনু মুহাম্মদ আল মুহারিবী মুদাল্লিস, আর তিনি ‘আন‘আন পদ্ধতিতে এটি বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: বা’লী হতে আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৩/২৯৩, আমি এ সূত্র সম্পর্কে অবগত নই।
আবু কিলাবাহ হতে এর শাহিদ বর্ণিত হয়েছে, লালকাঈ, আল ই’তিক্বাদ নং ২৩০; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ২/২১৮।
أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ الْأَعْوَرِ، عَنْ حَبَّةَ بْنِ جُوَيْنٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا أَوْ قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «لَوْ أَنَّ رَجُلًا صَامَ الدَّهْرَ كُلَّهُ، وَقَامَ الدَّهْرَ كُلَّهُ، ثُمَّ قُتِلَ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ، لَحَشَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ مَنْ يُرَى أَنَّهُ كَانَ عَلَى هُدًى
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
৩১৮. হাব্বাহ ইবনু জুয়াইন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি কিংবা তিনি বলেন, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: যদি কোনো লোক সর্বদা রোযা রাখে ও সর্বদা সালাত আদায় করে, এরপর সে রুকন (ইয়ামানী) ও মাকাম (ইবরাহীম)-এর মাঝে নিহত হয়, তবে আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার হাশর করাবেন সেই ব্যক্তির সাথে যে মনে করে, সে হেদায়েতের উপর রয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কেননা, মুসলিম ইবনু আউর যঈফ। কিন্তু এর শাহিদ থাকলে একে শক্তিশালী করবে।
তাখরীজ: এর কোনো তাখরীজ মুহাক্বিক্ব দেননি - অনুবাদক।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ هَارُونَ هُوَ ابْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي صَادِقٍ، قَالَ: قَالَ سَلْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، «لَوْ وَضَعَ رَجُلٌ رَأْسَهُ عَلَى الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ، فَصَامَ النَّهَارَ، وَقَامَ اللَّيْلَ، لَبَعَثَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ هَوَاهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف محمد بن حميد
৩১৯. আবু সাদিক্ব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: কোনো লোক যদি তার মাথা হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর)-এর উপর রাখে, আর দিনে সিয়াম পালন করে এবং রাতে সালাত আদায় করে, তবুও তাকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার প্রবৃত্তির চাহিদা অনুসারেই পুনরুত্থিত করবেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। মুহাম্মদ ইবনু হুমাইদ যঈফ।
তাখরীজ: আগের এবং পরের হাদীসের টীকা দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ، حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ هُوَ ابْنُ أَبِي الْأَسْوَدِ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ حَصِيرَةَ، عَنْ أَبِي صَادِقٍ الْأَزْدِيِّ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ نَاجِذٍ، قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، " كُونُوا فِي النَّاسِ كَالنَّحْلَةِ فِي الطَّيْرِ: إِنَّهُ لَيْسَ مِنَ الطَّيْرِ شَيْءٌ إِلَّا وَهُوَ يَسْتَضْعِفُهَا، وَلَوْ يَعْلَمُ الطَّيْرُ مَا فِي أَجْوَافِهَا مِنَ الْبَرَكَةِ، لَمْ يَفْعَلُوا ذَلِكَ بِهَا، خَالِطُوا النَّاسَ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَأَجْسَادِكُمْ، وَزَايِلُوهُمْ بِأَعْمَالِكُمْ وَقُلُوبِكُمْ، فَإِنَّ لِلْمَرْءِ مَا اكْتَسَبَ، وَهُوَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ مَنْ أَحَبَّ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح وهو موقوف على علي
৩২০. রবীয়াহ ইবনু নাজিয থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: তোমরা মানুষের মাঝে এমন হও, পক্ষীকুলের মাঝে মৌমাছি যেমন। সকল পাখিই তাকে (মৌমাছিকে) তারা সবচেয়ে দুর্বল মনে করে। আর মৌমাছির পেটের মধ্যে কী বরকত নিহিত রয়েছে, তা যদি পাখিরা জানতো, তবে মৌমাছিকে তারা এমন (মনে) করতো না। তোমরা মানুষের সাথে জিহবা (কথা-বার্তা) ও শরীর (লেন-দেন) দ্বারা মেলামেশা কর। কিন্তু তোমাদের আ’মল ও তোমাদের মন দ্বারা তাদের থেকে পৃথক থেকো। কেননা, মানুষের জন্য তো তা-ই রয়েছে যা সে উপার্জন (আ’মল) করে। আর সে যাকে ভালোবাসে, কিয়ামতের দিন সে তার সাথেই থাকবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি-অনুবাদক।