হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (321)


أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ، حَدَّثَنِي بَقِيَّةُ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: «نِعْمَ وَزِيرُ الْعِلْمِ، الرَّأْيُ الْحَسَنُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩২১. আওযাঈ যুহরী হতে বর্ণনা করেন, যুহরী (রহঃ) বলতেন: ‘উত্তম অভিমত’ ইলম-এর কতই না উত্তম সহযোগী![1]

[1] তাহক্কীক্ব: এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১৬১৫।









সুনান আদ-দারিমী (322)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ: «كَفَى بِالْمَرْءِ عِلْمًا أَنْ يَخْشَى اللَّهَ، وَكَفَى بِالْمَرْءِ جَهْلًا أَنْ يُعْجَبَ بِعِلْمِهِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح موقوفا




৩২২. মুসলিম থেকে বর্ণিত, তিনি মাসরুক হতে বর্ণনা করেন, মাসরুক বলেন: কোনো লোকের জ্ঞানী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে আল্লাহকে ভয় করে। আর কোনো লোকের মূর্খ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার ইলমের কারণে বিস্মিত বা আনন্দিত হয়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মাওকুফ রূপে সহীহ।

তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া, ২/৯৫; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৭৪৬, ৮৪৮; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৯৬২; আহমদ, আয যুহদ পৃ: ১৫৮।









সুনান আদ-দারিমী (323)


قَالَ: وَقَالَ مَسْرُوقٌ «الْمَرْءُ حَقِيقٌ أَنْ يَكُونَ لَهُ مَجَالِسُ يَخْلُو فِيهَا، فَيَذْكُرُ ذُنُوبَهُ، فَيَسْتَغْفِرُ اللَّهَ تَعَالَى مِنْهَا




৩২৩. তিনি বলেন, মাসুরুক্ব আরও বলেছেন:লোকের জন্য সঙ্গত হল, সে তার জন্য একটি বসার স্থান নির্ধারণ করবে, সেখানে সে নির্জনে উপবেশন করবে, অতঃপর সে তার গুনাহসমূহকে স্মরণ করবে এবং আল্লাহ তা’আলার নিকট তার পাপসমূহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আগের হাদীসের সনদের অনুরূপ। (সহীহ)

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, আল মুছান্নাফ ১৩/৪০৩ নং ১৬৭২০ সহীহ সনদে; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ২/৯৭।









সুনান আদ-দারিমী (324)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنِي مَعْنٌ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «إِذَا حَدَّثْنَاكُمْ بِالْحَدِيثِ عَلَى مَعْنَاهُ فَحَسْبُكُمْ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩২৪. মাকহুল থেকে বর্ণিত, ওয়াছিলাহ বিন আসক্বা’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমরা যখন তোমাদের নিকট অর্থের ভিত্তিতে হাদীস বর্ণনা করি, তোমাদের জন্য তা-ই যথেষ্ট হবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবু খায়ছামাহ, আল ইলম নং ১০৪; খতীব, কিফায়াহ পৃ: ২০৪; তিরমিযী, শারহে ইলালুত তিরমিযী ১/১৪৫ নং ৬৮৫; তাবারাণী, আল কাবীর ২২/৫৪, ৬৫ নং ১২৮, ১৫৮; মুসনাদুশ শামিয়্যীন নং ১৫১০, ১৯৮৩, ৩৪০২; হাকিম ৩/৫৬৯।









সুনান আদ-দারিমী (325)


أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، «أَنَّهُ كَانَ إِذَا حَدَّثَ، لَمْ يُقَدِّمْ وَلَمْ يُؤَخِّرْ، وَكَانَ الْحَسَنُ إِذَا حَدَّثَ قَدَّمَ وَأَخَّرَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩২৫. হিশাম হতে বর্ণিত, তিনি ইবনু সীরীন হতে বর্ণনা করেন, ইবনু সীরীন যখন হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন তিনি আগে-পিছে করতেন না; আর হাসান যখন হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন তিনি আগে-পিছে করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এ শব্দে এটি পাইনি। কিন্তু পরবর্তী হাদীসটি দেখুন। আরও দেখুন, মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৬৮৬, ৬৮৭, ৬৮৯।









সুনান আদ-দারিমী (326)


أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، قَالَ: كَانَ الْحَسَنُ يُحَدِّثُ بِالْحَدِيثِ الْأَصْلُ وَاحِدٌ وَالْكَلَامُ مُخْتَلِفٌ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩২৬. জারীর ইবনুল হাযিম বলেন: হাসান এমনভাবে হাদীস বর্ণনা করতেন যাতে মূল (অর্থ) একই হতো, কিন্তু শব্দাবলী ভিন্ন ভিন্ন হতো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: খতীব, আল কিফায়াহ পৃ: ২০৪ সহীহ সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (327)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَ عُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلُ الْمُنَافِقِ مَثَلُ الشَّاةِ بَيْنَ الرَّبْضَيْنِ أَوْ بَيْنَ الْغَنَمَيْنِ، فَقَالَ: ابْنُ عُمَرَ لَا، إِنَّمَا قَالَ: كَذَا وَكَذَا، قَالَ: وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَزِدْ فِيهِ، وَلَمْ يُنْقِصْ مِنْهُ، وَلَمْ يُجَاوِزْهُ، وَلَمْ يُقَصِّرْ عَنْهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩২৭. উবাইদুল্লাহ ইবনু উমাইর আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট হাদীস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুনাফিকের দৃষ্টান্ত দু’খোয়াড়ের মাঝে অথবা দু’ ছাগলের মাঝে (যাতায়াতকারী) ছাগীর ন্যায়।“ এরপর ইবনু উমার বলেন: না, বরং তিনি এমন, এমন বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: ইবনু উমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কিছু শুনলে তাতে কিছু বৃদ্ধিও করতেন না, আবার তা থেকে কিছু কমাতেনও না, তা লম্বাও করতেন না, আবার তাকে খাটোও করতেন না।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এর তাখরীজ পূর্ণভাবে দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৬৪ ও মুসনাদে হুমাইদী নং ৭০৫ এর তাখরীজে।









সুনান আদ-দারিমী (328)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، قَالَ: كَانَ الشَّعْبِيُّ، وَالنَّخَعِيُّ، وَالْحَسَنُ يُحَدِّثُونَ بِالْحَدِيثِ مَرَّةً هَكَذَا، وَمَرَّةً هَكَذَا، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِمُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ فَقَالَ: «أَمَا إِنَّهُمْ لَوْ حَدَّثُوا بِهِ كَمَا سَمِعُوهُ، كَانَ خَيْرًا لَهُمْ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩২৮. ইবনু আউন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, শা’বী, নাখঈ ও হাসান হাদীস বর্ণনা করতেন একবার এভাবে, অন্যবার অন্যভাবে (শব্দের ভিন্নতাসহ)।’ তখন আমি একথাটি মুহাম্মদ ইবনু সীরীন-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন: জেনে রাখ, যদি তারা সেভাবে হাদীস বর্ণনা করতেন যেভাবে তারা শুনেছেন, তাহলে তা-ই তাদের জন্য উত্তম ছিল।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: রমহরমুজী, আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৬৮৯; খতীব, আল কিফায়াহ পৃ: ২০৬।









সুনান আদ-দারিমী (329)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ، حَدَّثَنَا عَثَّامٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ قَالَ: «إِنِّي لَأَسْمَعُ الْحَدِيثَ لَحْنًا فَأَلْحَنُ اتِّبَاعًا لِمَا سَمِعْتُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩২৯. আবু মা’মার বলেন, আমি হাদীসের ভাষার দিকে লক্ষ্য রেখে হাদীস শুনতাম, এরপর আমি যে ভাষায় শুনতাম সেই ভাষার অনুসরণেই তা বর্ণনা করতাম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: খতীব, আল কিফায়াহ পৃ: ১৮৬ হাসান ও সহীহ দুটি সনদে ।









সুনান আদ-দারিমী (330)


أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْسَرَةَ، قَالَ: رَأَى مُجَاهِدٌ طاوُوسًا فِي الْمَنَامِ كَأَنَّهُ فِي الْكَعْبَةِ يُصَلِّي مُتَقَنِّعًا، وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى بَابِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ لَهُ «يَا عَبْدَ اللَّهِ اكْشِفْ قِنَاعَكَ وَأَظْهِرْ قِرَاءَتَكَ» قَالَ: «فَكَأَنَّهُ عَبَّرَهُ عَلَى الْعِلْمِ، فَانْبَسَطَ بَعْدَ ذَلِكَ فِي الْحَدِيثِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح غير أنه مرسل




৩৩০. ইবরাহীম ইবনু মায়সারাহ বলেন, মুজাহিদ তাউসকে স্বপ্নে দেখলেন যেন তিনি কা’বার মধ্যে মুখ ঢাকা অবস্থায় সালাত আদায় করছেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কা’বার দরজায় দাঁড়িয়ে তাকে বলছেন: “হে আব্দুল্লাহ! তোমার মুখের আবরণ খুলে ফেলো এবং সজোরে কিরা’আত করো (কুরআন তিলাওয়াত করো)।“ তিনি বলেন: ফলে তিনি এ (স্বপ্নে)’র তা’বীর (ব্যাখ্যা) করলেন ‘ইলম’। পরবর্তীতে হাদীসের ক্ষেত্রে সে বিস্তৃত জ্ঞান লাভ করেছিলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। তবে এটি মুরসাল।

তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৪/৫, সেটিও মুরসাল হিসেবে সহীহ।









সুনান আদ-দারিমী (331)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ يَمَانٍ، عَنِ ابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ كَعْبٍ قَالَ: «الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ مَلْعُونٌ مَا فِيهَا إِلَّا مُتَعَلِّمَ خَيْرٍ أَوْ مُعَلِّمَهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن يحيى بن يمان حسن الحديث فيما لم يخالف فيه




৩৩১. আব্দুল্লাহ ইবনু যামরাহ হতে বর্ণিত, তিনি কা’ব হতে বর্ণনা করেন, কা’ব বলেন: দুনিয়া ও এর মধ্যে যা কিছু আছে- সবকিছুই অভিশপ্ত, কেবল কল্যাণকর বিষয়ে শিক্ষা অর্জনকারী এবং কল্যাণের শিক্ষা দানকারী ব্যতীত।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১৩/৫৩৪ নং ১৭১৮১; তিরমিযী ২৩২৩; ইবনু মাজাহ ৪১১২; উকাইলী, আদ দু’আফা ২/৪২৬; বাইহাকী, শুয়াব নং ১৭০৮; ইবনুল জাউযী, আল ইলালুল মুতানাহিয়্যাহ নং ১৩৩০: অনেকগুলো সনদে, মারফু’ হিসেবে যেখানে রয়েছে: আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “দুনিয়া ও এর মধ্যে যা কিছু আছে, এ সবকিছুই অভিশপ্ত কেবল আল্লাহর যিকর ও এ সংশ্লিষ্ট যা কিছু আছে, কিংবা আলিম ও ইলম শিক্ষাদানাকারী ব্যতীত।“ তিরমিযী বলেন, এ হাদীস হাসান গারীব।’ দেখুন, তারগীব ওয়াত তারহীব ১/৯৮ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৪৯৯। ফলে তা এ হাদীসের শাহিদ ।









সুনান আদ-দারিমী (332)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، قَالَ: «النَّاسُ عَالِمٌ وَمُتَعَلِّمٌ، وَمَا بَيْنَ ذَلِكَ هَمَجٌ لَا خَيْرَ فِيهِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف محمد بن كثير بن أبي عطاء




৩৩২. খালিদ ইবনু মা’দান বলেন: মানুষ (এ দু’ প্রকারের): আলিম ও ইলম শিক্ষার্থী; এ দু’য়ের মাঝে রয়েছে নির্বোধ লোকজন- তাদের মাঝে কোনো কল্যাণ নেই।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কারণ মুহাম্মদ ইবনু কাছীর বিন আবী আতা যঈফ। (এর মারফু’ সহীহ শাহিদ হাদীসের কারণে সহীহ- যা তাখরীজে উল্লেখ আছে।-অনুবাদক)

তাখরীজ: কিন্তু এর শাহিদ রয়েছে ইবনু মাসউদ কর্তৃক বর্ণিত মারফু’ হাদীসে যা আমরা আমাদের তাহক্বীক্বকৃত মাওয়ারিদুয যাম’আন, নং ৪৯৮ এ বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।

এছাড়া আবু দারাদা’ হতেও এটি মারফু’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যা মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫০০ তে আমরা বিস্তারিত তাখরীজ করেছি। এছাড়া এটি রয়েছে আহমদ, আয যুহদ পৃ: ১৩৬; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১১৪ আবু দারদা’ হতে..... এ সনদ সহীহ, যদি খালিদ আবূ দারদা রা: হতে শুনে থাকেন।









সুনান আদ-দারিমী (333)


أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: كَانُوا يَقُولُونَ: «مَوْتُ الْعَالِمِ ثُلْمَةٌ فِي الْإِسْلَامِ لَا يَسُدُّهَا شَيْءٌ مَا اخْتَلَفَ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৩৩. হিশাম হতে বর্ণিত হাসান রাহি. বলেন: তারা বলতেন: “আলিমের মৃত্যু হলো ইসলামের মধ্যে এমন এক শুন্যস্থান, যা কোন কিছুতেই পূরণ হবে না- যতদিন দিন-রাত আবর্তিত হতে থাকবে (কিয়ামত পর্যন্ত)।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমদ, আয যুহদ পৃ: ২৬২; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১০২১; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৭১৯;

এছাড়া আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে এটি মারফু’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যা আমরা তাখরীজ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৯৯৯, এর সনদে অভিযুক্ত রাবী রয়েছে।

এছাড়া জাবির ও আবু দারদা হতেও এ হাদীস মারফু’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তাতে আনন্দের কিছু নেই। আমরা এগুলো তাখরীজ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১০০১ এ।









সুনান আদ-দারিমী (334)


أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَنبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُنْذِرٌ هُوَ ابْنُ النُّعْمَانِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: «مَجْلِسٌ يُتَنَازَعُ فِيهِ الْعِلْمُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ قَدْرِهِ صَلَاةً، لَعَلَّ أَحَدَهُمْ يَسْمَعُ الْكَلِمَةَ فَيَنْتَفِعُ بِهَا سَنَةً أَوْ مَا بَقِيَ مِنْ عُمُرِهِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৩৪. মুনযির ইবনু নু’মান ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যে সময়টুকু ইলম সম্পর্কে আলোচনা-পরzwnj;্যালোচনা করা হয়, সেই পরিমাণ সময় (নফল) সালাত আদায় করার চেয়েও তা আমার নিকট অধিক প্রিয়। হয়তো তাদের কেউ এমন কথা শুনবে যা দ্বারা সে এক বছর কিংবা যতদিন সে বেঁচে থাকবে ততদিন পর্যন্ত উপকৃত হতে থাকবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি- অনুবাদক।









সুনান আদ-দারিমী (335)


أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَنبَأَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: قَالَ سُفْيَانُ: «مَا أَعْلَمُ عَمَلًا أَفْضَلَ مِنْ طَلَبِ الْعِلْمِ وَحِفْظِهِ لِمَنْ أَرَادَ اللَّهَ تَعَالَى بِهِ خَيْرًا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৩৫. ওয়াকী’ হতে বর্ণিত, সুফিয়ান বলেন: ইলমের মাধ্যমে আল্লাহ যার কল্যাণ করতে চান, তার জন্য জ্ঞান অর্জন করা ও তা স্মরণ রাখার চেয়ে উত্তম কোনো আমলের কথা আমি জানি না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৬/৩৬৩; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৯৯, ১০০ সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন, “ফরয আমলসমূহের পরে জ্ঞানার্জনের চেয়ে উত্তম কোনো আমল নেই।“









সুনান আদ-দারিমী (336)


وقَالَ: قَالَ الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ، «إِنَّ النَّاسَ لَيَحْتَاجُونَ إِلَى هَذَا الْعِلْمِ فِي دِينِهِمْ، كَمَا يَحْتَاجُونَ إِلَى الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ فِي دُنْيَاهُمْ




৩৩৬. তিনি আরও বলেন, হাসান ইবনু সালিহ বলেছেন: লোকেরা যেভাবে তাদের দুনিয়াবী (পার্থিব) বিষয়ে খাদ্য ও পানীয়ের মুখাপেক্ষী, ঠিক তেমনিভাবে তারা তাদের দীনের বিষয়ে এ ইলমের মুখাপেক্ষী।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এ সনদ পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।

তাখরীজ: খতীব, শরফু আসহাবিল হাদীস নং ১৭৮।









সুনান আদ-দারিমী (337)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، وَجَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، قَالَ قَالَ: أَبُو الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، «تَعَلَّمُوا قَبْلَ أَنْ يُقْبَضَ الْعِلْمُ. فَإِنَّ قَبْضَ الْعِلْمِ قَبْضُ الْعُلَمَاءِ، وَإِنَّ الْعَالِمَ وَالْمُتَعَلِّمَ فِي الْأَجْرِ سَوَاءٌ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لانقطاعه




৩৩৭. সালিম ইবনু আবুল জা’দ বলেন, আবু দারদা’ বলেছেন, ইলম উঠিয়ে নেওয়ার পূর্বেই তোমরা ইলম শিক্ষা কর। আর ইলমকে উঠিয়ে নেওয়ার অর্থ হলো আলিমগণকে উঠিয়ে নেয়া। আর আলিম ও ইলম শিক্ষার্থী সাওয়াবের দিক দিয়ে সমান।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বিচ্ছিন্নতার কারণে যঈফ।।

তাখরীজ: ইবনু আবু শায়বাহ, ৮/৭৩০ নং ৬১৭২; আর ২৫১ নং এ এটি গত হয়েছে, পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (338)


أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْخُرَاسَانِيِّ، عَنِ الضَّحَّاكِ، (وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ) [آل عمران: 79] قَالَ: حَقٌّ عَلَى كُلِّ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ، أَنْ يَكُونَ فَقِيهًا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :لم يحكم عليه المحقق




৩৩৮. আবু আব্দুল্লাহ আল খুরাসানী থেকে বর্ণিত, তিনি দাহহাক থেকে বর্ণনা করেন, (وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ) (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) তিনি বলেন: যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে, তার উপর জরুরী হলো যে, সে একজন ফকীহ (বিশেষ জ্ঞানী) হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : ... এটি ইবনু হিব্বানের শর্তানুযায়ী (সহীহ)। (আবু আব্দুল্লাহ আল খুরাসানী বাদে) অন্যান্য বর্ণনাকারী গণ নির্ভরযোগ্য।

তাখরীজ: দাওলাবী, আল কুন্নী ২/৬১ ....।









সুনান আদ-দারিমী (339)


أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ حَفْصٍ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ سَوَّارٍ، عَنِ الْحَسَنِ، (لَوْلَا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ) [المائدة: 63] قَالَ: الْحُكَمَاءُ الْعُلَمَاءُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف أشعث بن سوار




৩৩৯. আশ’আস ইবনু সিওয়ার, হাসান হতে বর্ণনা করেন, (لَوْلَا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ) হাসান বলেন: তারা হলেন বিজ্ঞ আলিমগণ।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। আশ’আস ইবনু সিওয়ার যঈফ।

তাখরীজ: এটি এ ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি। তবে আগের এবং পরের হাদীস দু’টি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (340)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْفَزَارِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: (كُونُوا رَبَّانِيِّينَ) [آل عمران: 79] قَالَ: عُلَمَاءُ فُقَهَاءُ




৩৪০. আতা ইবনু সাইব হতে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবাইর হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (كُونُوا رَبَّانِيِّينَ) (আল্লাহওয়ালা’রা হয়ে যাও।“ সুরাহ: আলে ইমরাণ: ৭৯)nbsp; অর্থাৎ ফকীহ (বিশেষজ্ঞ) আলিমগণ।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। তবে আবু ইসহাক আতা হতে, তার স্মৃতি গোলমাল হওয়ার পূর্বে যারা হাদীস শুনেছেন, তাদের মধ্যে তার উল্লেখ পাওয়া যায় না।

তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ৩/৩২৭; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৮৫৬; খতীব, ফকীহ ওয়াল মুতাফাককিহ ১/৫১।