হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (341)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ، يَقُولُ: «يُرَادُ لِلْعِلْمِ الْحِفْظُ، وَالْعَمَلُ، وَالِاسْتِمَاعُ، وَالْإِنْصَاتُ، وَالنَّشْرُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أن أبا إسحاق إبراهيم بن محمد ابن الحارث ليس مذكورا فيمن سمعوا من عطاء قبل اختلاطه

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :




৩৪১. উবাইদুল্লাহ্ বিন সাঈদ বলেছেন, আমি সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাকে বলতে শুনেছি: ইলম বলতে বুঝায় হিফজ করা ((মুখস্ত/স্মরণ রাখা), আমল করা, মনোযোগ সহকারে শোনা, চুপ থাকা এবং তা প্রচার-প্রসার করা।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৭৯৭; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৭/২৭৪; কাযী আয়ায, আল ইলমা’ পৃ: ২২১; ইবনু আব্দুল বারর, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৭৬০,৭৬১ (শব্দের ক্রমের কমবেশিসহ।)









সুনান আদ-দারিমী (342)


قَالَ: وأخْبرني مُحَمَّدٌ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ قَالَ: «أَجْهَلُ النَّاسِ مَنْ تَرَكَ مَا يَعْلَمُ، وَأَعْلَمُ النَّاسِ مَنْ عَمِلَ بِمَا يَعْلَمُ، وَأَفْضَلُ النَّاسِ أَخْشَعَهُمْ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৪২. আহমদ ইবনু মুহাম্মদ হতে বর্ণিত, সুফইয়ান ইবনু উয়াইনা বলেন: সবচেয়ে জাহিল (মুর্খ) হলো ঐ ব্যক্তি, যে সে যা জানে তা (আ’মাল করা) ছেড়ে দেয়। আর সর্বাধিক জ্ঞানী ঐ ব্যক্তি, যে সে যা জানে সেই অনুযায়ী আ’মাল করে। আর সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা’র জন্য সবচেয়ে বিনীত।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এ বিষয়ে আর কিছু আমি পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (343)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ زَيْدٍ هُوَ ابْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ سَيَّارٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: " مَنْهُومَانِ لَا يَشْبَعَانِ: مَنْهُومٌ فِي الْعِلْمِ لَا يَشْبَعُ مِنْهُ، وَمَنْهُومٌ فِي الدُّنْيَا لَا يَشْبَعُ مِنْهَا، فَمَنْ تَكُنِ الْآخِرَةُ هَمَّهُ، وَبَثَّهُ، وَسَدَمَهُ، يَكْفِي اللَّهُ ضَيْعَتَهُ، وَيَجْعَلُ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ، وَمَنْ تَكُنِ الدُّنْيَا هَمَّهُ، وَبَثَّهُ، وَسَدَمَهُ، يُفْشِي اللَّهُ عَلَيْهِ ضَيْعَتَهُ، وَيَجْعَلُ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، ثُمَّ لَا يُصْبِحُ إِلَّا فَقِيرًا، وَلَا يُمْسِي إِلَّا فَقِيرًا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح إلى الحسن




৩৪৩. হাসান বলেন, দু’ প্রকারের ক্ষুধার্ত (লোভী) ব্যক্তি কখনও পরিতৃপ্ত হয় না। ১. ‘ইলমের প্রতি ক্ষুধার্ত (জ্ঞান অনুসন্ধানী) সে কখনও পরিতৃপ্ত হয় না এবং দুনিয়া’র প্রতি ক্ষুধার্ত (লোভী) সেও কথনও পরিতৃপ্ত হয় না। আর আখিরাতই যার উদ্বেগ-আগ্রহ, অস্থিরতা ও বিষন্নতা (এর কেন্দ্রবিন্দু), আল্লাহই তার সকল (দুনিয়াবী) ক্ষতির বিরুদ্ধে যথেষ্ট হয়ে যান এবং তিনি তার অন্তরকে মুখাপেক্ষীহীন (অভাবমুক্ত) করেন। আর দুনিয়াই যার সকল উদ্বেগ-আগ্রহ, অস্থিরতা ও বিষন্নতা (এর কেন্দ্রবিন্দু), আল্লাহ তার (দুনিয়াবী) ক্ষতি বাড়িয়ে দেন এবং তার দু’চোখের মাঝে দারিদ্রকে স্থাপন করেন। ফলে সে সকাল করবে দরিদ্র হিসেবে এবং সন্ধ্যাও অতিবাহিত করবে দরিদ্র হিসেবেই (দরিদ্র হিসেবেই জীবন যাপন করতে থাকবে)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : হাসান পর্যন্ত এর সনদ সহীহ। এটি তার কথা। কিন্তু ইবনু আদী (আল কামিল, ৬/২২৯৮) হাসান সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এটি মুরসাল। দেখুন পরবর্তী টীকা।









সুনান আদ-দারিমী (344)


أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، أَنبَأَنَا أَبُو عُمَيْسٍ، عَنْ عَوْنٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، " مَنْهُومَانِ لَا يَشْبَعَانِ: صَاحِبُ الْعِلْمِ، وَصَاحِبُ الدُّنْيَا، وَلَا يَسْتَوِيَانِ. أَمَّا صَاحِبُ الْعِلْمِ، فَيَزْدَادُ رِضًا لِلرَّحْمَنِ، وَأَمَّا صَاحِبُ الدُّنْيَا، فَيَتَمَادَى فِي الطُّغْيَانِ، ثُمَّ قَرَأَ عَبْدُ اللَّهِ (كَلَّا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى) [العلق: 7] قَالَ: وَقَالَ الْآخَرُ: (إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ) [فاطر: 28]

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده منقطع: عون بن عبد الله بن عتبة أرسل عن ابن مسعود وهو مرسل




৩৪৪. আউন বলেন, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: দু’ প্রকারের ক্ষুধার্ত (লোভী) ব্যক্তি কখনও পরিতৃপ্ত হয় না। জ্ঞানী ব্যক্তি ও দুনিয়াদার ব্যক্তি। তবে তারা দু’জন সমান নয়। জ্ঞানবান ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা দয়াময় আল্লাহর সন্তুষ্টি বাড়িয়ে দেয়। আর দুনিয়াদার ব্যক্তির ব্যাপার হলো, (দুনিয়ার পিছনে পড়ে) সে অবাধ্যতার সীমা ছাড়িয়ে যায়। অতঃপর আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তিলাওয়াত করলেন:

كَلَّا إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى



(অর্থ: কখনও নয়, মানুষ তো সীমালঙ্ঘন করেই থাকে, কারণ সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে।“ (সূরা আলাক্ব: ৬-৭)

তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তিনি আরও বলেন,

إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ



অর্থ: আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলিমগণই আল্লাহ তায়ালাকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।- (সূরা ফাতির: ২৮)[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ ’মুনক্বাতি’ বা বিচ্ছিন্ন। আওন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে ইরসাল করেছেন। এটি মুরসাল। কিন্তু তাবারানী, আল কাবীর ১০/২২৩ নং ১০৩৮৮ এটিকে (মাওসুল) সংযুক্ত করেছেন। তবে এর সনদও যঈফ।

তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ সম্পূর্ণ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫৭৬ এ।

আর এর শাহিদ হাদীস ইবনু আব্বাস হতে তাবারানী, আল কাবীর ১১/৭৬-৭৭ নং ১১০৯৫ যঈফ সনদে বর্ণনা করেছেন।

মারফু’ হিসেবে ইবনু আবী শাইবা, আল zwj;মুছান্নাফ ৮/৭২৯ নং ৬১৬৯; তার সনদে ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৫৮৩; আবু খায়ছামাহ, আল ইলম নং ১৪১; ইবনুল জাওযী, আল ইলালুল মুতানাহিয়্যাহ ১/৯৪-৯৫ নং ১১১।

এ দু’ হাদীসের অপর শাহিদ উল্লেখ করেছি আনাস রা: হতে। .....

সাখাবী ইবনু মাসউদ, ইবনু আব্বাস, আনাস ও অন্যান্যদের হাদীস উল্লেখ করার পর বলেন: এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, আবূ হুরাইরা হতেও বর্ণিত আছে। যদিও সেগুলি একক ভাবে যঈফ, তথাপিও সামগ্রিকভাবে শক্তিশালী....।









সুনান আদ-দারিমী (345)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُخْتَارٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ الْأَزْهَرِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، (إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ) [فاطر: 28] قَالَ: مَنْ خَشِيَ اللَّهَ فَهُوَ عَالِمٌ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :في إسناد هذا الأثر علتان: ضعف محمد بن حميد واضطراب رواية سماك عن عكرمة




৩৪৫. ইকরিমাহ, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন,

إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ



অর্থ: আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলিমগণই আল্লাহ তায়ালাকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।- (সূরা ফাতির: ২৮)

তিনি (আয়াত সম্পর্কে) বলেন: যে আল্লাহকে ভয় করে, সে-ই একজন আলিম।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’টি ত্রুটি আছে। মুহাম্মাদ ইবনু হামীদ যঈফ। ইকরিমাহ হতে সামাকের বর্ণনায় ইদ্বতিরাব তথা বিক্ষিপ্ততা রয়েছে।

তাখরীজ: তাবারী, তাফসীর ২২/১৩২; লালকাঈ, আল ই’তিক্বাদ নং ৯৪৫ যঈফ ও বিচ্ছিন্ন সনদে। এর অনেক শাহিদ বর্ণনা রয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (346)


أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: " مَنْهُومَانِ لَا يَشْبَعَانِ: طَالِبُ عِلْمٍ، وَطَالِبُ دُنْيَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف




৩৪৬. তাউস ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: দু’ প্রকারের ক্ষুধার্ত (লোভী) ব্যক্তি কখনও পরিতৃপ্ত হয় না। ১. ‘তালিবে ইলম’ (জ্ঞান অনুসন্ধানী) এবং দুনিয়া অনুসন্ধানী।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।

তাখরীজ: এর পূর্ণ তাখরীজ আমরা করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫৭৭ এ। আরও দেখুন পূর্বের হাদীস নং ৩৪৪ এর আমাদের টীকা।









সুনান আদ-দারিমী (347)


أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ رَبِيعَةَ الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: سَمِعْتُ وَاثِلَةَ بْنَ الْأَسْقَعِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ فَأَدْرَكَهُ، كَانَ لَهُ كِفْلَانِ مِنَ الْأَجْرِ، فَإِنْ لَمْ يُدْرِكْهُ، كَانَ لَهُ كِفْلٌ مِنَ الْأَجْرِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :يزيد بن ربيعة الصنعاني قال أبو حاتم: منكر الحديث واهي الحديث




৩৪৭. রবী’আহ ইবনু ইয়াযীদ বলেন, আমি ওয়াসিলা ইবনুল আসক্বা’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণ করে অত:পর তা অর্জন করতে সক্ষম হয়, তার জন্য রয়েছে দু’টি সাওয়াব; আর (অন্বেষণ করা সত্ত্বেও) যে তা অর্জন করতে সক্ষম হয়না, তার জন্য রয়েছে একটি সাওয়াব।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : ইয়াযীদ ইবনু রবী’আহ সম্পর্কে আবু হাতিম বলেন: সে মুনকারুল হাদীস (হাদীসের ক্ষেত্রে সে পরিত্যক্ত), সে ওয়াহীউল হাদীস (হাদীস শাস্ত্রে সে মূল্যহীন, তুচ্ছ)।’ নাসাঈ, উকাইলী, দারুকুতনী বলেন: (সে) মাতরুক।’ দেখুন মীযানুল ই’তিদাল ৪/৪২২; লিসানুল মীযান ৬/২৮৬।

তাখরীজ: ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম, নং ২১৩; খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাককিহ ২/৮৫; কুদায়ী, মুসনাদুশ শিহাব নং ৪৮১, ১৫১৩; তাবারানী, আল কাবীর ২২/৬৮ নং ১৬৫।









সুনান আদ-দারিমী (348)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ عَبَّاسٍ الْعَمِّيِّ، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ دَاوُدَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي دُعَائِهِ: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ، أَنْتَ رَبِّي تَعَالَيْتَ فَوْقَ عَرْشِكَ، وَجَعَلْتَ خَشْيَتَكَ عَلَى مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، فَأَقْرَبُ خَلْقِكَ مِنْكَ مَنْزِلَةً أَشَدُّهُمْ لَكَ خَشْيَةً. وَمَا عِلْمُ مَنْ لَمْ يَخْشَكَ؟ وَمَا حِكْمَةُ مَنْ لَمْ يُطِعْ أَمْرَكَ؟

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :عباس العمي مجهول وباقي رجاله ثقات




৩৪৮. আব্বাস আল ‘আম্মী (অন্ধ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট একথা পৌঁছেছে যে, নবী দাউদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দু’আয় বলতেন: ‘হে আল্লাহ, আপনি অতি পবিত্র। আপনি আমার রব, আপনি সুমহান, আপনার আরশের উর্ধ্বে। আর আপনার ভয়কে আসমানসমূহ ও পৃথিবীর অধিবাসীদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে আপনার সৃষ্টির মধ্যে আপনার ভয় যার যতবেশী, সে ততবেশী আপনার নিকটতর মর্যাদা লাভ করে। যে আপনাকে ভয় করে না, তার কোনো ইলম-ই নেই। আর যে আপনার আদেশের আনুগত্য-অনুসরণ করে না, তার কোনো হিকমাহ (বিচক্ষণতা-প্রজ্ঞা) নেই।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আব্বাস আল ‘আম্মী মাজহুল বা অজ্ঞাত পরিচয়। অন্যান্য রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১০/২৭৭ নং ৯৪৩০; দেখুন দুররে মানসুর ৫/২৫০।









সুনান আদ-দারিমী (349)


أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا سَلَّامٌ هُوَ ابْنُ أَبِي مُطِيعٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْهَزْهَازِ، يُحَدِّثُ: عَنِ الضَّحَّاكِ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، «اغْدُ عَالِمًا، أَوْ مُتَعَلِّمًا، وَلَا خَيْرَ فِيمَا سِوَاهُمَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده منقطع لم يسمع الضحاك بن مزاحم من ابن مسعود ورجاله ثقات: أبو الهزهاز هو نصر بن زياد العجلي




৩৪৯. দাহহাক থেকে বর্ণিত, ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আলিম হও, কিংবা ইলম শিক্ষার্থী হও। কেননা, এ দু’প্রকারের লোক ব্যতীত অন্যান্যদের মাঝে কোনো কল্যাণ নেই।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ বিচ্ছিন্ন (মুনাকাতি’)। দাহহাক ইবনু মাসউদ থেকে হাদীস শুনেননি। এর রাবীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য। আর হাদীসটি সহীহ। দেখুন, পূর্ববর্তী হাদীস নং ২৫৪ এবং পরবর্তী ৩৫১ নং ।

তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি- অনুবাদক।)









সুনান আদ-দারিমী (350)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَنبَأَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، أَنبَأَنَا الْوَلِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «سَتَكُونُ فِتَنٌ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا، وَيُمْسِي كَافِرًا، إِلَّا مَنْ أَحْيَاهُ اللَّهُ بِالْعِلْمِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف علي بن يزيد




৩৫০. আবু উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “অচিরেই এমন ফিতনাসমূহের আবির্ভাব হবে, তখন মানুষ সকালে উঠবে মু’মিন হিসেবে, আর সন্ধ্যায় উপনীত হবে কাফির হিসেবে। কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত আল্লাহ তা’আলা যাকে ইলম -এর মাধ্যমে জীবিত রেখেছেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কারণ, আলী ইবনু ইয়াযীদ যঈফ।

তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, ফিতান অধ্যায় নং ৩৯৫৪; তাবারানী, আল কাবীর ৮/২৭৮ নং ৭৯১০; খতীব, তারীখে বাগদাদ ৬/৩৮৫।

এ অধ্যায়ে আবু হুরায়রা, সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস, হুযাইফা, আনাস ইবনু উমার... হতেও অনেক হাদীস বর্ণিত রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।









সুনান আদ-দারিমী (351)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ رئَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: اغْدُ عَالِمًا أَوْ مُتَعَلِّمًا، وَلَا تَغْدُ فِيمَا بَيْنَ ذَلِكَ، فَإِنَّ مَا بَيْنَ ذَلِكَ جَاهِلٌ، وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَبْسُطُ أَجْنِحَتَهَا لِلرَّجُلِ، غَدَا يَبْتَغِي الْعِلْمَ مِنَ الرِّضَا بِمَا يَصْنَعُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أنه منقطع هارون بن رئاب لم يدرك ابن مسعود




৩৫১. হারুন ইবনু রিয়াব আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলতেন: আলিম হও কিংবা ইলম শিক্ষার্থী হও, এতদুভয়ের মাঝে যারা রয়েছে, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। কেননা, এদু’য়ের মাঝে রয়েছে জাহিল (মূর্খ)। আর নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে সকালে পথ চলে, ফিরিশতারা তার কৃতকর্ম (ইলম অন্বেষণ)-এর কারণে খুশী হয়ে তার জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য; তবে এর সনদ মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন। হারুন ইবনু রিয়াব ইবনু মাসউদের সাক্ষাৎ পাননি।

তাখরীজ: ফাসাওয়ী, মা’রিফাত ওয়াত তারীখ ৩/৩৯৯; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম, নং ১৪৬; পূর্ণ তাখরীজের জন্য পূর্বের হাদীস নং ২৫৪ টি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (352)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ رَجُلَيْنِ كَانَا فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ أَحَدُهُمَا كَانَ عَالِمًا يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ، ثُمَّ يَجْلِسُ فَيُعَلِّمُ النَّاسَ الْخَيْرَ، وَالْآخَرُ يَصُومُ النَّهَارَ وَيَقُومُ اللَّيْلَ أَيُّهُمَا أَفْضَلُ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَضْلُ هَذَا الْعَالِمِ الَّذِي يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ ثُمَّ يَجْلِسُ فَيُعَلِّمُ النَّاسَ الْخَيْرَ، عَلَى الْعَابِدِ الَّذِي يَصُومُ النَّهَارَ، وَيَقُومُ اللَّيْلَ، كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ رَجُلًا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أنه منقطع: ما عرفنا للأوزاعي رواية عن الحسن وهو مرسل أيضا




৩৫২. আওযাঈ হাসান হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বনী ইসরাঈলের এমন দু’ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যাদের একজন ছিলেন আলিম। তিনি ফরয সালাত আদায়ের পরেই লোকদেরকে কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য বসতেন। অপরজন দিনে সিয়াম পালন করতেন এবং রাতে কিয়াম করতেন (সালাত আদায় করতেন)। (তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো) এদের দু’জনের মধ্যে কোন্ ব্যক্তি উত্তম? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “যিনি ফরয সালাত আদায়ের পরেই লোকদেরকে কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য বসতেন, সেই আলিম ব্যক্তিটি দিনে সিয়াম পালনকারী এবং রাতে কিয়ামকারী সেই আবিদ (ইবাদতগুজার)-এর উপর ঠিক তেমনই মর্যাদাবান যেমন তোমাদের মধ্যকার সাধারণ কোনো ব্যক্তির উপরে আমার মর্যাদা।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য তবে এ সনদটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি’)। হাসান থেকে আওযাঈ’র কোনো রিওয়ায়েতের কথা আমরা জানতে পারিনি।

তাখরীজ: এ ব্যতীত আমি অন্য কোথাও এটি পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (353)


أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ ذَكْوَانَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ: دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا الْأَسْوَدُ بْنُ سُرَيْعٍ يَقُصُّ، وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَذْكُرُ الْعِلْمَ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ، فَمَيَّلْتُ إِلَى أَيِّهِمَا أَجْلِسُ، فَنَعَسْتُ فَأَتَانِي آتٍ فَقَالَ: مَيَّلْتَ إِلَى أَيِّهِمَا تَجْلِسُ؟ إِنْ شِئْتَ أَرَيْتُكَ مَكَانَ جِبْرَائِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف الحسن بن ذكوان متهم بالتدليس وقد عنعن وباقي رجاله ثقات




৩৫৩. ইবনু সীরীন রাহি. বলেন: আমি আমি মসজিদে এমন সময় গেলাম যখন আল আসওয়াদ ইবনু সারী’[1] কিচ্ছা-কাহিনীর মাধ্যমে ওয়াজ করছিলেন এবং হুমাইদ ইবনু আব্দুর রহমান মসজিদের এক কোণে ইলমের আলোচনা করছিলেন। আমি দো’টানায় পড়ে গেলাম আমি কোন্ মজলিসে বসবো। তারপর আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে গেলাম, ফলে (স্বপ্নে) আমার নিকট একজন আগন্তুক এসে বললো: তুমি কোন্ মজলিসের দিকে বসবে, সে ব্যাপারে কি zwj;তুমি দ্বিধান্বিত? তুমি যদি চাও তবে হুমাইদ ইবনু আব্দুর রহমান-এর স্থান হতে জিবরীল আলাইহিস সালামের অবস্থান আমি তোমাকে দেখাতে পারি।[2]

[1] মুলে রয়েছে ‘সামীর ইবনু আব্দুর রহমান’ কিন্তু সেটি ভুল। সঠিক হলো যা আমরা সাব্যস্ত করেছি (আল আসওয়াদ ইবনু সারী’)। দেখুন মাছাদীরুত তাখরীজ ও আসাদুল গাবাহ ১/১০৪। (মুহাক্বিক্ব)

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। হাসান ইবনু যাকওয়ান তাদলীসের দোষে অভিযুক্ত আর সে এখানে ‘আন ‘আন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। অন্যান্য রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।

তাখরীজ: ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম, নং ২১৯।









সুনান আদ-দারিমী (354)


أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ جَمِيلٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا مَعَ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ إِنِّي أَتَيْتُكَ مِنَ الْمَدِينَةِ مَدِينَةِ الرَّسُولِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحَدِيثٍ بَلَغَنِي عَنْكَ أَنَّكَ تُحَدِّثُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَمَا جَاءَ بِكَ تِجَارَةٌ؟ قَالَ: لَا، قَالَ: وَلَا جَاءَ بِكَ غَيْرُهُ؟ قَالَ: لَا. قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ بِهِ عِلْمًا، سَهَّلَ اللَّهُ بِهِ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ، وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ، وَإِنَّ طَالِبَ الْعِلْمِ، لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ حَتَّى الْحِيتَانُ فِي الْمَاءِ، وَإِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ عَلَى سَائِرِ النُّجُومِ. إِنَّ الْعُلَمَاءَ هُمْ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا، وَلَا دِرْهَمًا، وَإِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ، فَمَنْ أَخَذَ بِهِ أَخَذَ بِحَظِّهِ - أَوْ بِحَظٍّ وَافِرٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف




৩৫৪. কাছীর ইবনু কাইস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি দামিস্কের মসজিদে আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র সাথে বসে ছিলাম। তখন এক লোক এসে বললো: হে আবু দারদা! আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শহর মদীনা হতে এখানে আপনার নিকট এসেছি একটি হাদীস (সংগ্রহ)-এর জন্য, যেটি আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন বলে আমার নিকট খবর পৌঁছেছে। আবু দারদা বললেন: তবে কি ব্যবসায়িক প্রয়োজন তোমাকে এখানে আসেনি? সে বললো, না। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন,nbsp; এ ছাড়া অন্য কোনো কাজও কি তোমাকে এখানে নিয়ে আসেনি?nbsp; তিনি বললেন, না। তখন তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি ইলমের অনুসন্ধানে কোনো পথে চলে, এর মাধ্যমে আল্লাহ জান্নাতের রাস্তাসমূহের কোনো একটি রাস্তা (তার জন্য) সহজ করে দেবেন। আর নিশ্চয় ফেরেশতারা তালিবে ইলম’ (জ্ঞান অন্বেষণকারী)-এর জন্য খুশী হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেন। আর আসমানবাসী, পৃথিবীবাসী এমনকি পানির মাছসমূহ পর্যন্ত তালিবে ইলমের জন্য ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করতে থাকে। আর একজন আবিদের (ইবাদতগুজার) লোকের উপর একজন আলিমের শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক তেমন, যেমন সকল তারকার উপর চাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব। নিশ্চয় আলিমগণ হলেন নবীগণের ওয়ারীস (উত্তরাধিকারী)। আর নবীগণ দীনার বা দিরহাম (মীরাস/উত্তরাধিকার হিসেবে) রেখে যান না, নিশ্চয় তাঁরা রেখে যান ইলম। ফলে যে ইলমকে গ্রহণ করলো সে এর অংশ লাভ করলো কিংবা এর সম্পূর্ণ অংশই লাভ করলো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। (হাফিজ (ইবনু হাজার আসকালানী) ফাতহুল বারী’তে এ বাবের টীকায় বলেছেন: হাদীসের (নিশ্চয় আলিমগণ হলেন নবীগণের ওয়ারীস ... এর সম্পূর্ণ অংশই লাভ করলো।) এ অংশে আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু হিব্বান, হাকিম তার সহীহ মন্তব্যসহ আবু দারদা হতে এটি বর্ণনা করেছেন এবং হামযাহ আল কিনানী একে হাসান বলেছেন।

আর তাদের নিকট এর সনদ যঈফ কিন্তু এর অনেক শাহিদ রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে...।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮৮ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮০ তে। এটি আরও রয়েছে: তাহাবী, মুশকিলুল আছার ১/৪২৯; ইবনু আব্দুল বারর, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১৭৩, ১৭৪, ১৭৫; তাবারানী, মুসনাদুশ শামিয়্যিন নং ১২৩১; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৬৯৬; ফাসাওয়ী, মা’রিফাতুত তারীখ ৩/৪০১; পরের হাদীসের পরবর্তী হাদীস zwj;দু’টি দেখুন। আরও দেখুন তারগীব ওয়াত তারহীব ১/৯৪।









সুনান আদ-দারিমী (355)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْفَزَارِيِّ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ شِمْرِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: مُعَلِّمُ الْخَيْرِ يَسْتَغْفِرُ لَهُ كُلُّ شَيْءٍ حَتَّى الْحُوتُ فِي الْبَحْرِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد وهو موقوف على ابن عباس




৩৫৫. সাঈদ ইবনু জুবাইর, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:nbsp;কল্যাণকর (ইলম) শিক্ষাদানকারীর জন্য সকলেই -এমনকি সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।[1]

[1] তাহ্ক্বীক্ব: এর সনদ উত্তম (জাইয়্যেদ)। আর ইবনু আব্বাসের উপর এটি মাওকুফ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৮/৭২৮ নং ৬১৬৪; সহীহ সনদে; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম, নং ৭৯৬, ১৮১ সহীহ সনদে; আরও দেখুন আল জামিউল আছার, ১৮০ মাজহুল সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (356)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْ رَجُلٍ يَسْلُكُ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا، إِلَّا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَنْ أَبْطَأَ بِهِ عَمَلُهُ، لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৫৬. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তিই ইলম অন্বেষণ করার উদ্দেশ্যে কোনো রাস্তায় চলে, অবশ্যই আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের দিকে (গমনকারী) একটি রাস্তা সহজ করে দেন। যাকে তার আমল পিছিয়ে দেয়, তার বংশ-মর্যাদা তাকে আগে বাড়িয়ে দিতে পারে না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ৮/৭২৯ নং ৬১৬৮ সহীহ সনদে; আমরা বিস্তারিত তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮৪। (আহমদ ২/৪০৭; আবু দাউদ ৩৬৪৩; তিরমিযী ২৬৪৬; হাকিম ১/৮৮, ৮৯; বাগবী, শারহুস সুন্নাহ ১৩০; ইবনু আব্দুল বারর, জামি’ বায়ানিল ইলম, পৃ: ১৩ ও ১৪; আরও বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, আহমদ ২/২৫২; মুসলিম ২৬৯৬; তিরযিমী ২৯৪৫; ইবনু মাজাহ ২২৫); বাইহাক্বী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৬৯৫; খতীব, তারীখে বাগদাদ ১২/১১৪।









সুনান আদ-দারিমী (357)


أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ يَعْقُوبَ هُوَ الْقُّمِّيُّ، عَنْ هَارُونَ بْنِ عَنْتَرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «مَا سَلَكَ رَجُلٌ طَرِيقًا يَبْتَغِي فِيهِ الْعِلْمَ إِلَّا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَنْ يُبْطِئْ بِهِ عَمَلُهُ، لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৫৭. হারুন ইবনু আনতারা তার পিতা হতে, তিনি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “যে ব্যক্তিই ইলম অন্বেষণ করার উদ্দেশ্যে কোনো রাস্তায় চলে, অবশ্যই আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের দিকে (গমনকারী) একটি রাস্তা সহজ করে দেন। যাকে তার আমল পিছিয়ে দেয়, তার বংশ-মর্যাদা তাকে আগে বাড়িয়ে দিতে পারে না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ৮/৭২৮ নং ৬১৬৫; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৬৭১-৬৭২; দেখুন পরের ৩৬৮ নং হাদীসটি।









সুনান আদ-দারিমী (358)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ ابْنِ شَوْذَبٍ، عَنْ مَطَرٍ: (وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ) [القمر: 17] قَالَ: «هَلْ مِنْ طَالِبِ خَيْرٍ فَيُعَانَ عَلَيْهِ؟

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف محمد بن كثير بن أبي عطاء




৩৫৮. মাতর হতে বর্ণিত, (وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ) “আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, সুতরাং উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?“ (সুরা ক্বামার : ১৭) (এ আয়াতের ব্যাখ্যায়) তিনি বলেন: কোনো কল্যাণ অনুসন্ধানকারী আছে কি, ফলে তাকে এ বিষয়ে সাহায্য করা হবে?[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, মুহাম্মদ ইবনু কাছীর ইবনু আবী আতা।

তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ২৭/৯৬-৯৭ এ দু’টি সনদে কাতাদা হতে এটি বর্ণনা করেছেন। পরবর্তী টীকা দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (359)


وأخْبرنا مرْوانُ، عنْ ضمْرةَ، قَالَ: طالبُ عِلمٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن




৩৫৯. মারওয়ান যামরাহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (এ দ্বারা উদ্দেশ্য) জ্ঞান অন্বেষণকারী।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: ইবনু আবী হাতিম যা ইবনু কাছীর, তাফসীর ৭/৪৫৩ এ উল্লেখ করেছেন; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১৯৪৫ হাসান সনদে; তাবারী, তাফসীর, ২৭/৯৭; বুখারী, তা’লীক হিসেবে ৭৫৫১ হাদীসের পূর্বে...।









সুনান আদ-দারিমী (360)


أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ هُوَ الْقُمِّيُّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: كَانَ أَبُو الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، إِذَا رَأَى طَلَبَةَ الْعِلْمِ، قَالَ: مَرْحَبًا بِطَلَبَةِ الْعِلْمِ، وَكَانَ يَقُولُ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْصَى بِكُمْ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أنه معضل




৩৬০. আমির ইবনু ইবরাহীম বলেন, আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কোনো ইলম অন্বেষণকারী (ছাত্র) দেখলে বলতেন: জ্ঞান অন্বেষণকারীকে মারহাবা (স্বাগতম)! তিনি আরও বলতেন: নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের জন্য (এরূপ করতে) উপদেশ দিয়ে গেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত, কিন্তু এটি মু’দ্বাল (মাঝে একাধিক রাবী নাম বাদ পড়েছে)। এটি আমি আর কোথাও পাইনি। তবে এর দু’টি শাহিদ হাদীস রয়েছে, আবী সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে রমহারমুযী নং ২০ এবং ইবনু মাসউদ হতে শুয়াবে নং ১৭২৯।