হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (3403)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ مَثَلُ الَّذِي أُوتِيَ الْإِيمَانَ وَلَمْ يُؤْتَ الْقُرْآنَ مَثَلُ التَّمْرَةِ طَعْمُهَا طَيِّبٌ وَلَا رِيحَ لَهَا وَمَثَلُ الَّذِي أُوتِيَ الْقُرْآنَ وَلَمْ يُؤْتَ الْإِيمَانَ مَثَلُ الرَّيْحَانَةِ الْآسَةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ وَمَثَلُ الَّذِي أُوتِيَ الْقُرْآنَ وَالْإِيمَانَ مَثَلُ الْأُتْرُجَّةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبٌ وَمَثَلُ الَّذِي لَمْ يُؤْتَ الْإِيمَانَ وَلَا الْقُرْآنَ مَثَلُ الْحَنْظَلَةِ رِيحُهَا خَبِيثٌ وَطَعْمُهَا خَبِيثٌ




৩৪০৩. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যাকে ঈমান প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু কুরআন প্রদান করা হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে খেজুরের মত, যা সুগন্ধহীন, কিন্তু খেতে সুস্বাদু। আর যাকে কুরআন প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু ঈমান প্রদান করা হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে রায়হানা জাতীয় লতা-গুল্মের মত যা সুগন্ধযুক্ত, কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যাকে কুরআন ও ঈমান উভয়ই প্রদান করা হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন কমলালেবুর মত যা সুগন্ধযুক্ত, আবার খেতেও সুস্বাদু। আর যাকে কুরআন ও ঈমান কোনটিই প্রদান করা হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে মাকাল ফলের মত, যা খেতেও বিস্বাদ এবং যা র্দুগন্ধযুক্ত।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবূ উবাইদ, ফাযাইল পৃ: ৩৮৭ সহীহ সনদে; এটি গত হয়েছে নং ৩৩৯৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (3404)


أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ وَاثِلَةَ أَنَّ نَافِعَ بْنَ عَبْدِ الْحَارِثِ لَقِيَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ بِعُسْفَانَ وَكَانَ عُمَرُ اسْتَعْمَلَهُ عَلَى أَهْلِ مَكَّةَ فَسَلَّمَ عَلَى عُمَرَ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ مَنْ اسْتَخْلَفْتَ عَلَى أَهْلِ الْوَادِي فَقَالَ نَافِعٌ اسْتَخْلَفْتُ عَلَيْهِمْ ابْنَ أَبْزَى فَقَالَ عُمَرُ وَمَنْ ابْنُ أَبْزَى فَقَالَ مَوْلًى مِنْ مَوَالِينَا فَقَالَ عُمَرُ فَاسْتَخْلَفْتَ عَلَيْهِمْ مَوْلًى فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّهُ قَارِئٌ لِكِتَابِ اللَّهِ عَالِمٌ بِالْفَرَائِضِ فَقَالَ عُمَرُ أَمَا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ




৩৪০৪. নাফি‘ ইবনু ‘আবদুল হারিস (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি ‘উসফান নামক স্থানে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে মক্কার গভর্নর নিয়োগ করেছিলেন। তিনি উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে সালাম দেন। তখন ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে বলেন, উপত্যকাবাসী (বেদুঈন)-দের জন্য তুমি কাকে প্রশাসক নিয়োগ করেছ? নাফি’ বলেন, আমি ইবনু আবযা কে তাদের প্রশাসক নিয়োগ করেছি। ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ইবনু আবযা কে? তিনি বলেন, সে আমাদের একজন মুক্তদাস। ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তুমি একজন মুক্তদাসকে জনগণের প্রশাসক নিয়োগ করলে? তিনি বলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! সে তো মহান আল্লাহর কিতাবের বিশেষজ্ঞ আলিম, ফারায়িয সম্পর্কে অভিজ্ঞ। ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, শোন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এই কিতাবের দ্বারা কতক লোককে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন এবং কতককে অবনমিত করেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৮১৭ ও এর পরে নম্বরবিহীনভাবে; বাইহাকী, সালাত ৩/৮৯।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মুাউসিলী নং ২১০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৭২।

এছাড়াও, তাহাবী, শারহু মুশকিলীল আছার ৩/৫৭; আব্দুর রাযযাক নং ২০৯৪৩; আবীল ওয়ালীদ, আখবারু মক্কা ২/১৫২; আবুল ফাযল আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৬৩।









সুনান আদ-দারিমী (3405)


حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ إِنَّ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ لَهُ أَجْرٌ وَإِنَّ الَّذِي يَسْتَمِعُ لَهُ أَجْرَانِ




৩৪০৫. খালিদ ইবনু মা’দান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে, তার জন্য একটি বিনিময়; আর যে ব্যক্তি তা মনযোগসহকারে শ্রবন করে তার জন্য রয়েছে দু’টি বিনিময়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আবিদাহ বিনতে খালিদের জীবনী আমি পাইনি।

তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (3406)


حَدَّثَنَا رَزِينُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُمَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَنْ اسْتَمَعَ إِلَى آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ كَانَتْ لَهُ نُورًا




৩৪০৬. আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস বলেন, যে ব্যক্তি কুরআনের একটি আয়াতও মনোযোগসহকারে শুনবে, তা তার জন্য আলোকবর্তিকা স্বরূপ হবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, ইবনু জুরাইজ এটি ‘আন আন’ শব্দে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া, রযীন ইবনু আব্দুল্লাহ বিন হামীদ মাজহুল (অজ্ঞাত পরিচয়)।

তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৬০১২; ফাযাইলুল কুরআন নং ৬৪।









সুনান আদ-দারিমী (3407)


أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ وَهَمَّامٌ قَالَا حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَهُوَ مَاهِرٌ بِهِ فَهُوَ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ وَالَّذِي يَقْرَؤُهُ وَهُوَ يَشْتَدُّ عَلَيْهِ فَلَهُ أَجْرَانِ




৩৪০৭. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কুরআনের সুদক্ষ পাঠক সম্মানিত লিপিকার মালাকের (ফিরিশতার) সাথে থাকবে। আর খুব কষ্টদায়ক হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যক্তি (বারবার) কুরআন মাজীদ পাঠ করে, সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর নং ৪৯৩৭; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৯৮।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৬৭ তে।

এছাড়াও, নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ৭০, ৭১, ৭২; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৯, ৩০; ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৩, ৪, ৫; আবুল ফাযল আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৯৮; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ১৪/১৩৪; তামাম ফী ফাওয়াইদ নং ১১৯৬-১১৯৭।









সুনান আদ-দারিমী (3408)


حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ هُوَ ابْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ وَهْبٍ الذِّمَارِيِّ قَالَ مَنْ آتَاهُ اللَّهُ الْقُرْآنَ فَقَامَ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ وَعَمِلَ بِمَا فِيهِ وَمَاتَ عَلَى الطَّاعَةِ بَعَثَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ السَّفَرَةِ وَالْأَحْكَامِ قَالَ سَعِيدٌ السَّفَرَةُ الْمَلَائِكَةُ وَالْأَحْكَامُ الْأَنْبِيَاءُ قَالَ وَمَنْ كَانَ حَرِيصًا وَهُوَ يَتَفَلَّتُ مِنْهُ وَهُوَ لَا يَدَعُهُ أُوتِيَ أَجْرَهُ مَرَّتَيْنِ وَمَنْ كَانَ عَلَيْهِ حَرِيصًا وَهُوَ يَتَفَلَّتُ مِنْهُ وَمَاتَ عَلَى الطَّاعَةِ فَهُوَ مِنْ أَشْرَافِهِمْ وَفُضِّلُوا عَلَى النَّاسِ كَمَا فُضِّلَتْ النُّسُورُ عَلَى سَائِرِ الطَّيْرِ وَكَمَا فُضِّلَتْ مَرْجَةٌ خَضْرَاءُ عَلَى مَا حَوْلَهَا مِنْ الْبِقَاعِ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ قِيلَ أَيْنَ الَّذِينَ كَانُوا يَتْلُونَ كِتَابِي لَمْ يُلْهِهِمْ اتِّبَاعُ الْأَنْعَامِ فَيُعْطَى الْخُلْدَ وَالنَّعِيمَ فَإِنْ كَانَ أَبَوَاهُ مَاتَا عَلَى الطَّاعَةِ جُعِلَ عَلَى رُءُوسِهِمَا تَاجُ الْمُلْكِ فَيَقُولَانِ رَبَّنَا مَا بَلَغَتْ هَذَا أَعْمَالُنَا فَيَقُولُ بَلَى إِنَّ ابْنَكُمَا كَانَ يَتْلُو كِتَابِي




৩৪০৮. ইসমাঈল ইবনু উবাইদুল্লাহ হতে বর্ণিত, ওয়াহব যিমারী বলেন, আল্লাহ যাকে কুরআন দিয়েছেন, আর সে দিন রাত্রি তা পাঠ করে এবং কুরআন অনুযায়ী আমল করে এবং তার আনুগত্যের মধ্যেই মৃত্যু বরণ করে, কিয়ামত দিবসে তিনি তাকে লিপিকার ও অনুগত-বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সাথে উঠাবেন।

(বর্ণনাকারী) সাঈদ বলেন, লিপিকার অর্থ: ফিরিশতা এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তি অর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামগণ আ:।

তিনি বলেন, যে ব্যক্তির কুরআনের প্রতি আগ্রহী, আর তা তার থেকে ছুটে যায় (মুখস্ত রাখতে পারে না), কিন্তু সে তা (পড়া বা মুখস্ত করা) ছাড়ে না, তাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তির কুরআনের প্রতি আগ্রহী, আর তা তার থেকে ছুটে যায় (মুখস্ত রাখতে পারে না), কিন্তু সে এর অনুসরণের মধ্যেই মৃত্যু বরণ করে, তবে সে ব্যক্তি তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্যতম বলে গণ্য। আর তাকে লোকদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হবে, যেমন ঈগল পাখিকে সকল পাখির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন সবুজ-শ্যামল বাগানকে এর আশপাশের ভূমির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে।

এরপর কিয়ামত দিবসে তাকে বলা হবে: সেসব লোকগুলো কোথায়, যারা আমার কিতাব তিলাওয়াত করতো, পশুপালের পেছনে লেগে থাকা যাদেরকে (তা থেকে) ভূলিয়ে রাখতে পারিনি? ফলে তাদেরকে (জান্নাতে) অমরত্ব ও নিয়ামত সমুহ দেওয়া হবে। আর তাদের পিতা-মাতা যদি আনুগত্যের মাঝে মৃত্যুবরণ করে থাকে, তবে তাদের উভয়ে মাথায় রাজমুকুট পরানো হবে। তখন তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের আমল তো এ পর্যন্ত পৌঁছে না (এমন আমল তো আমরা করতে পারিনি যার বিনিময়ে আমরা এটি পেতে পারি)? তখন মহান আল্লাহ বলবেন, নিশ্চয়ই, কারণ তোমাদের সন্তানেরা আমার কিতাব পাঠ করতো (যার বিনিময়ে তোমাদেরকে তা দেওয়া হয়েছে)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : ওয়াহব আদ দিমারীকে ইবনু আবী হাতিম তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন কিন্তু তার জারাহ ও তা’দীল (সমালোচনা বা প্রশংসা) কোনটাই করেননি। ফলে এটি ইবনু হিব্বানের শর্তানুযায়ী (সহীহ)।

তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (3409)


أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي فَاتِحَةِ الْكِتَابِ شِفَاءٌ مِنْ كُلِّ دَاءٍ




৩৪০৯. আব্দুল মালিক ইবনু উমাইর (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ফাতিহাতুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) সকল রোগের ঔষধ।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৩৭০; মুত্তাকী আল হিন্দ, কানযুল উম্মাল নং ২৫০০ ও খতীব তাবরীযী, মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৭০ এবং সুয়ূতী, দুররে মানসূর ১/৫ তে একে দারেমী ও বাইহাকীর শুয়াবুল ঈমানের দিকে সম্বোন্ধিত করেছেন। সুয়ুতী বলেন, এর রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত।’ আরো দেখুন, আসরারুল মারফু’আ নং ৩১৩ ও কাশফুল খ’ফা নং ১৮১৬।









সুনান আদ-দারিমী (3410)


حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي سَعِيدِ بْنِ الْمُعَلَّى الْأَنْصَارِيِّ قَالَ مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَلَمْ يَقُلْ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ قَالَ أَلَا أُعَلِّمُكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنْ الْمَسْجِدِ فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُوتِيتُمْ




৩৪১০. আবূ সা‘ঈদ ইবনু মু‘আল্লা আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমি একদা মসজিদে নাববীতে সালাত আদায় করছিলাম,) এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে গমণ করেন। তিনি বললেন, “আল্লাহ কি বলেননি যে, “ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা সাড়া দেবে আল্লাহ্ ও রাসূলের ডাকে, যখন তিনি তোমাদেরকে ডাক দেন।“ (সূরাহ আনফালঃ ২৪)?“ তারপর তিনি আমাকে বললেন, “আমি মাসজিদ থেকে বের হওয়ার আগেই আমি কি তোমাকে কুরআনের এক অতি মহান সূরাহ্ শিক্ষা দিব না?। এরপর যখন তিনি মাসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করেন তখন তিনি বললেন, الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্ব জগতের প্রতিপালক।“ (সুরা ফাতিহাহ: ১) এটা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন যা কেবল তোমাদেরকেই দেয়া হয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর নং ৪৪৭৪;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মুাউসিলী নং ৬৮৩৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৭৭ তে।

এছাড়াও, নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন নং ৩৫; তাহাবী, মুশকিলীল আছার ২/৭৭; আলিমুদ্দীন সাখাবী, জামালুল কুররা ১/১১৪।









সুনান আদ-দারিমী (3411)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاتِحَةُ الْكِتَابِ هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي




৩৪১১. উবাই ইবনু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ফাতিহাতুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) হলো ‘সাব’উল মাছানী’ (বারবার পঠিত সাতটি আয়াত)।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৪৬; আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ, যাওয়াইদু আলাল মুসনাদ ৫/১১৪; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ ৫০০; হাকিম ১/৫৫৭ ও ২/২৫৭-২৫৮; বাইহাকী, সালাত ২/৩৭৫-৩৭৬; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১১৮৮; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/৭৭-৭৮।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৭৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৭১৪ তে।









সুনান আদ-দারিমী (3412)


حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا أُنْزِلَتْ فِي التَّوْرَاةِ وَلَا فِي الْإِنْجِيلِ وَالزَّبُورِ وَالْقُرْآنِ مِثْلُهَا يَعْنِي أُمَّ الْقُرْآنِ وَإِنَّهَا لَسَبْعٌ مِنْ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُعْطِيتُ




৩৪১২. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তাওরাত ও ইনজিল ও যাবূর এবং কুরআনে এর অনুরূপ- অর্থাৎ ‘উম্মুল কুরআন’ (ফাতিহা)-এর অনুরূপ কোনো সুরা নাযিল করা হয়নি। আর এটিই হলো ‘সাবউল মাছানী’ (বারংবার পঠিত সাতটি আয়াত) এবং মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান নুয়াইম ইবনু হাম্মাদের কারণে।

তাখরীজ: তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন নং ২৮৭৫ ও তাফসীর নং ৩১২৫; সাখাবী, জামালুল কুররা ১/১১৫-১১৬।

তবে এর মুতাবিয়াত রয়েছে কুতাইবার সুত্রে তিরমিযী তে যা এর সনদকে সহীহতে পরিণত করে।









সুনান আদ-দারিমী (3413)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَمْدُ لِلَّهِ أُمُّ الْقُرْآنِ وَأُمُّ الْكِتَابِ وَالسَّبْعُ الْمَثَانِي




৩৪১৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল হামদুলিল্লাহ্ (সুরা ফাতিহাহ) হল, ‘উম্মুল কুরআন’, ‘উম্মুল কিতাব’ ও সা‘বউল মাছানী’ (বারংবার পঠিত সাতটি আয়াত)।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: তিরমিযী, তাফসীর নং ৩১২৪ তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ; আহমাদ, আল মুসনাদ ২/৪৪৮; বুখারী, তাফসীর নং ৪৭০৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১১৮৭; বাইহাকী, সালাত ২/৩৭৬; আবূ দাউদ, সালাত ১৪৫৭; তাহাবী, মুশকিলীল আছার ২/৭৮।









সুনান আদ-দারিমী (3414)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا فِطْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَا مِنْ بَيْتٍ يُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ إِلَّا خَرَجَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ وَلَهُ ضَرِيطٌ




৩৪১৪. আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: যে বাড়িতে সূরা বাকারা পাঠ করা হয়, তা থেকে শয়তান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে বের হয়ে যায়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ; ফিতর আবী ইসহাক সাবিঈ হতে হাদীস শ্রবন করা থেকে পিছিয়ে। আর এটি মাওকুফ।

তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৭৫ সনদ সহীহ; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৩৭৯; তাবারাণী, আওসাত নং ২২৬৯; সাগীর ১/৫৩-৫৪; কাবীর ৯/১৩৮ নং ৮৬৪৩; হাকিম নং ২০৬২, ২০৬৩।আর এটি সামনে আসছে।









সুনান আদ-দারিমী (3415)


حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ سُورَةُ الْبَقَرَةِ تَعْلِيمُهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكُهَا حَسْرَةٌ وَلَا يَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ وَهِيَ فُسْطَاطُ الْقُرْآنِ




৩৪১৫. খালিদ ইবনু মা’দান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: সূরা বাকারা শিক্ষা করাতে কল্যাণ রয়েছে এবং তা পরিত্যাগ করাতে পরিতাপ রয়েছে। আর বাতিলপন্থীগণ (যাদুকররা) এটি (মোকাবেলা করতে) সক্ষম হবে না। আর এটি হলো কুরআনের শামিয়ানা স্বরূপ।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আবিদাহ বিনতে খালিদের জীবনী আমি কোথাও পাইনি। আর এটি খালিদের উপর মাওকুফ (তার বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত)।

তাখরীজ: আমি এটি খালিদের উপর মাওকুফ (তার বক্তব্য হিসেবে) আর কোথাও পাইনি। দেখুন, দুররে মানসূর ১/২০।

তবে এটি মারফু’ (আবূ উমামাহ হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে) বর্ণিত আছে সহীহ মুসলিম ২৫২ (৮০৪) তে।









সুনান আদ-দারিমী (3416)


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ إِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ سَنَامًا وَإِنَّ سَنَامَ الْقُرْآنِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ وَإِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ لُبَابًا وَإِنَّ لُبَابَ الْقُرْآنِ الْمُفَصَّلُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد اللُّبَابُ الْخَالِصُ




৩৪১৬. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যেক বস্তুর চুড়া থাকে; আর কুরআনের চুড়া হলো সুরা বাকারাহ। আবার প্রত্যেক বস্তুর মজ্জা বা শ্রেষ্ঠ অংশ থাকে; কুরআনের মজ্জা বা শ্রেষ্ঠ অংশ হলো মুফাস্সাল সুরাহ সমূহ। (সুরাহ হুজুরাত হতে শেষ পর্যন্ত)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান আসিম ইবনু আবীন নুজুদের কারণে। আর এটি ইবনু মাসউদের উপর মাওকুফ (তার বক্তব্য)।

তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৭৮; তাবারাণী, কাবীর ৯/১৩৮ নং ৮৬৪৪; হাকিম নং ২০৬০; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৩৭৬ মাওকুফ হিসেবে।

মারফু’ হিসেবে হাকিম নং ২০৬০; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৩৭৭ হাসান সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (3417)


حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ زُبَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ قَالَ مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ تُوِّجَ بِهَا تَاجًا فِي الْجَنَّةِ




৩৪১৭. আব্দুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সূরা বাকারা পাঠ করে, তাকে জান্নাতে তার একটি তাজ বা মুকুট পরানো হবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৬৫; আরও দেখুন, দুররে মানসুর ১/২১।









সুনান আদ-দারিমী (3418)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّ الشَّيْطَانَ إِذَا سَمِعَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ تُقْرَأُ فِي بَيْتٍ خَرَجَ مِنْهُ




৩৪১৮. আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: যখন শয়তান কোনো বাড়িতে সূরা বাকারা পাঠ করতে শোনে, তখন তা থেকে সে বের হয়ে যায়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। আর এটি আব্দুল্লাহ হতে মাওকুফ।

তাখরীজ: হাকিম নং ২০৬২; হাকিম ও যাহবী এর সনদকে সহীহ বলেছেন; ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৩৯, ৪০।









সুনান আদ-দারিমী (3419)


حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ حَدَّثَنِي أَيْفَعُ بْنُ عَبْدٍ الْكَلَاعِيُّ قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ سُورَةِ الْقُرْآنِ أَعْظَمُ قَالَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ قَالَ فَأَيُّ آيَةٍ فِي الْقُرْآنِ أَعْظَمُ قَالَ آيَةُ الْكُرْسِيِّ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ قَالَ فَأَيُّ آيَةٍ يَا نَبِيَّ اللَّهِ تُحِبُّ أَنْ تُصِيبَكَ وَأُمَّتَكَ قَالَ خَاتِمَةُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فَإِنَّهَا مِنْ خَزَائِنِ رَحْمَةِ اللَّهِ مِنْ تَحْتِ عَرْشِهِ أَعْطَاهَا هَذِهِ الْأُمَّةَ لَمْ تَتْرُكْ خَيْرًا مِنْ خَيْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ




৩৪১৯. আইফা’ ইবনু আব্দুল কালাঈ’ বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলো, কুরআনের কোন সূরাটি সবচেয়ে মহান? তিনি বললেন, “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ।“ (সুরা ইখলাস: ১)

লোকটি আবারও বলল, কুরআনের কোন্ আয়াতটি সবচেয়ে মহান? তিনি বললেন, “আয়াতুল কুরসী: (আল্লাহু লা ইলা-হা ইল্লা- হুওয়া আলহাইয়্যূল ক্বইয়্যূম।“ (সুরাহ বাক্বারাহ: ২৫৫)

লোকটি আবার বললো, হে আল্লাহর নবী! কোন্ আয়াতটির (বরকত) আপনি ও আপনার উম্মাত লাভ করুক- আপনি তা পছন্দ করেন? তিনি বলেন, “সূরা বাক্বারার শেষাংশ; কেননা, তা আল্লাহর আরশের নিচে অবস্থিত রহমতের ভাণ্ডারসমূহের অন্যতম, তা তিনি এ উম্মাতকে প্রদান করেছেন; আর দুনিয়া ও আখিরাতের এমন কোনো কল্যাণ নেই, যা এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত নেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ; এটি মুরসাল কিংবা মু’দ্বাল হওয়ার কারণে। (তথা রাবী বাদ পড়ার কারণে)

তাখরীজ: ছুলিছিয়াত ৬১টির মধ্যে নং ১৫ দু’ উস্তাদের তাহক্বীক্বকৃত: ১. আলী রেযা ও আহমাদ আল বাযরাহ।

হাফিজ ইবনু হাজার তার ইসাবাহ ১/২২২ তে বলেন: ‘দারেমী তার সনদে বলেন,…। এটি মুরসাল … অথবা মু’দ্বাল।’









সুনান আদ-দারিমী (3420)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الثَّقَفِيُّ حَدَّثَنَا الشَّعْبِيُّ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ لَقِيَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ رَجُلًا مِنْ الْجِنِّ فَصَارَعَهُ فَصَرَعَهُ الْإِنْسِيُّ فَقَالَ لَهُ الْإِنْسِيُّ إِنِّي لَأَرَاكَ ضَئِيلًا شَخِيتًا كَأَنَّ ذُرَيِّعَتَيْكَ ذُرَيِّعَتَا كَلْبٍ فَكَذَلِكَ أَنْتُمْ مَعْشَرَ الْجِنِّ أَمْ أَنْتَ مِنْ بَيْنِهِمْ كَذَلِكَ قَالَ لَا وَاللَّهِ إِنِّي مِنْهُمْ لَضَلِيعٌ وَلَكِنْ عَاوِدْنِي الثَّانِيَةَ فَإِنْ صَرَعْتَنِي عَلَّمْتُكَ شَيْئًا يَنْفَعُكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ تَقْرَأُ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّكَ لَا تَقْرَؤُهَا فِي بَيْتٍ إِلَّا خَرَجَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ لَهُ خَبَجٌ كَخَبَجِ الْحِمَارِ ثُمَّ لَا يَدْخُلُهُ حَتَّى يُصْبِحَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الضَّئِيلُ الدَّقِيقُ وَالشَّخِيتُ الْمَهْزُولُ وَالضَّلِيعُ جَيِّدُ الْأَضْلَاعِ وَالْخَبَجُ الرِّيحُ




৩৪২০. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী এক জ্বিনের সাথে সাক্ষাত হলে সে তার সাথে লড়াই করতে লাগলো ফলে তিনিও তার সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হন। তখন লোকটি জ্বিনটিকে বললো, আমি লক্ষ্য করছি, তুমি খুব সুক্ষ্ম, কৃশকায় এবং তোমার হাতদু’টিও যেন কুকুরের হাতের মতোই (কৃশকায়)। আর তোমরা জ্বিন জাতি কি এমনই, কেবল তাদের মধ্যে তুমিই এমন (হালকা-পাতলা)? সে বললো, না, আল্লাহর কসম, আমিই তাদের মধ্যে সুঠামদেহী। তবে তুমি আমাকে পুণরায় আক্রমণ করে দেখ। তখন যদি তুমি আমাকে পরাজিত করতে পার, তবে আমি তোমার জন্য উপকারী একটি বিষয় তোমাকে শিখিয়ে দেব। ফলে তিনি তাকে পুণরায় আক্রমণ করলেন এবং তাকে পরাজিত করলেন।

অত:পর তিনি বললেন, এবার তবে আমাকে তা শিখিয়ে দাও। সে বললো, আচ্ছা ঠিক আছে। সে বললো, তুমি কি পাঠ করো: “আল্লাহু লা- ইলা-হা ইল্লা-হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বইয়্যূম।“ (সুরা বাক্বারাঃ ১৫৫)? তিনি বললেন, হাঁ, তা করি। সে বললো, যখন তুমি তা কোনো বাড়িতে পাঠ করবে, তখন অবশ্যই শয়তান তা থেকে বের হয়ে যাবে। আর তা গাধার গন্ধ ছড়ানোর মতো গন্ধ ছড়াতে ছড়াতে বেরিয়ে যাবে। এরপর সকাল পর্যন্ত আর সেখানে প্রবেশ করবে না।[1]আবূ মুহাম্মদ বলেন, ‘যয়ীলু’ অর্থ সুক্ষ্ম বা পাতলা, ‘শাখীতু’ অর্থ ‘কৃশকায়’, ‘যলীউ’ অর্থ বেশ শক্তিশালী’ এবং ‘খাবাজু’ অর্থ গন্ধ।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত; তবে বর্ণিত আছে যে, আমির শা’বী ইবনু মাসউদ হতে শ্রবণ করেননি।

তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ৯/১৮৩-১৮৪ নং ৮৮২৪, ৮৮২৬; সূয়ূতী দুররে মানসুর ১/২০ এ বলেন: ইবনু আবীদ দুনিয়া, মাকাইদুশ শাইতান অধ্যায়ে ইবনু মাসউদ হতে বর্ণনা করেছেন…।









সুনান আদ-দারিমী (3421)


حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا أَبُو الْعُمَيْسِ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ لَمْ يَدْخُلْ ذَلِكَ الْبَيْتَ شَيْطَانٌ تِلْكَ اللَّيْلَةَ حَتَّى يُصْبِحَ أَرْبَعًا مِنْ أَوَّلِهَا وَآيَةُ الْكُرْسِيِّ وَآيَتَانِ بَعْدَهَا وَثَلَاثٌ خَوَاتِيمُهَا أَوَّلُهَا لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ




৩৪২১. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি (বাড়িতে) রাতে সূরাহ বাক্বারার দশটি আয়াত পাঠ করবে, তবে শয়তান সেই রাতে সকাল পর্যন্ত আর ঐ বাড়িতে প্রবেশ করবে না। (আয়াত দশটি হলো:) প্রথম চারটি আয়াত, আয়াতুল কুরসী ও এর পরবর্তী দু’টি আয়াত এবং শেষের তিনটি আয়াত যার শুরু: لِلَّهِ مَا فِى السَّمَوَاتِ (“লিল্লাহি মা ফিস্ সামাওয়াতি… সুরা বাক্বারাহ: ২৮৪)[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত; তবে এটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি’)।

তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ৯/ ১৪৭ নং ৮৬৭৩। পুর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসগুলি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (3422)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ مَنْ قَرَأَ أَرْبَعَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَآيَةَ الْكُرْسِيِّ وَآيَتَانِ بَعْدَ آيَةِ الْكُرْسِيِّ وَثَلَاثًا مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ لَمْ يَقْرَبْهُ وَلَا أَهْلَهُ يَوْمَئِذٍ شَيْطَانٌ وَلَا شَيْءٌ يَكْرَهُهُ وَلَا يُقْرَأْنَ عَلَى مَجْنُونٍ إِلَّا أَفَاقَ




৩৪২২. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি (বাড়িতে) সূরাহ বাক্বারার প্রথম চারটি আয়াত, আয়াতুল কুরসী ও আয়াতুল কুরসীর পরবর্তী দু’টি আয়াত এবং শেষের তিনটি আয়াত পাঠ করবে, তবে শয়তান এবং তার অপছন্দনীয় কোনো কিছু সেই দিন তার ও তার পরিবারের নিকটবর্তী হবে না। আর এটি যদি কোনো উন্মাদ বা জ্বিনগ্রস্ত ব্যক্তির উপর পাঠ করা হয়, তবে সে অবশ্যই সুস্থ্যতা লাভ করবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এটির সনদ পূর্বেরটির মতই বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি’)।

তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৬৬, ১৭৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪১২। আগের টীকাটি দেখুন।