সুনান আদ-দারিমী
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَمَّنْ سَمِعَ عَلِيًّا يَقُولُ مَا كُنْتُ أَرَى أَنَّ أَحَدًا يَعْقِلُ يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ هَؤُلَاءِ الْآيَاتِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَإِنَّهُنَّ لَمِنْ كَنْزٍ تَحْتَ الْعَرْشِ
৩৪২৩. আবী ইসহাক এমন লোক হতে বর্ণনা করেছেন যিনি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছেন, আমি জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি যে ঘুমানোর সময় সূরা বাক্বারার শেষের এ সকল আয়াত গুলি না পড়ে। আর এগুলি হলো আরশের নিচের ধনভাণ্ডারের অন্যতম।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ; এতে অজ্ঞাত রাবী রয়েছে।
তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৭৬ তে সহীহ সনদে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য হিসেবে। সূয়ূতী দুররে মানসুর ১/৩৭৮ এ বলেন: এটি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন‘দারেমী, ইবনু নাসর, ইবনু যরীস ও ইবনু মারদুবিয়াহ …।
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ أَبِي سِنَانٍ عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ سُبَيْعٍ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ الْبَقَرَةِ عِنْدَ مَنَامِهِ لَمْ يَنْسَ الْقُرْآنَ أَرْبَعُ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِهَا وَآيَةُ الْكُرْسِيِّ وَآيَتَانِ بَعْدَهَا وَثَلَاثٌ مِنْ آخِرِهَا قَالَ إِسْحَقُ لَمْ يَنْسَ مَا قَدْ حَفِظَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد مِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ الْمُغِيرَةُ بْنُ سُمَيْعٍ
৩৪২৪. মুগীরা ইবনু সুবাঈ’ হতে বর্ণিত, যিনি আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সাথীদের একজন ছিলেন[1]- তিনি বলেন, যে ব্যক্তি (রাতে) ঘুমানোর সময় সূরাহ বাক্বারার দশটি আয়াত পাঠ করবে, তবে সেই ব্যক্তি কুরআন ভুলে যাবে না (আয়াত দশটি হলো): এর প্রথম চারটি আয়াত, আয়াতুল কুরসী ও এর পরবর্তী দু’টি আয়াত এবং শেষের তিনটি আয়াত।[2]
ইসহাক বলেন, ‘যা সে হিফজ’ (মুখস্ত) করেছে, তা ভূলে যাবে না।
আবূ মুহাম্মদ বলেন, তাদের কেউ কেউ বলেন, মুগীরাহ ইবনু সুমাঈ।
[1] আমরা যতটা জানতে পেরেছি, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সাথী ছিলেন না। আল্লাহই ভাল জানেন।
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এটির সনদ মুগীরাহ পর্যন্ত সহীহ। আর এটি তার উপর মাওকুফ।
তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪১৩, ২৪৭৩; সাঈদ ইবনু মানসূর ১৩৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১১৯৮; তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন ২৮৮২; আবূ নুয়াইম, যিকরু আখবারুল আসবাহান ১/২৩৩। তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি গারীব।’ বাইহাকী এটি অপর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যা পুর্বের চেয়েও অধিক দুর্বল।
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الْمُلَيْكِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ وَفَاتِحَةَ حم الْمُؤْمِنِ إِلَى قَوْلِهِ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ لَمْ يَرَ شَيْئًا يَكْرَهُهُ حَتَّى يُمْسِيَ وَمَنْ قَرَأَهَا حِينَ يُمْسِي لَمْ يَرَ شَيْئًا يَكْرَهُهُ حَتَّى يُصْبِحَ
৩৪২৫. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসী, সুরাহ ফাতিহা এবং সূরা মু’মিনের “হা-মীম“ থেকে “ইলাইহিল মাসীর“ পর্যন্ত (১.২.৩ নং আয়াত) তিলাওয়াত করবে তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে তার অপছন্দনীয় কোন কিছু দেখবে না। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তা পাঠ করবে সকাল পর্যন্ত সে তার অপছন্দনীয় কোন কিছু দেখবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ আব্দুর রহমান ইবনু আবী বাকর এর দুর্বলতার কারণে। অণ্যান্য রাবীগণ বিশ্বস্ত।
তাখরীজ: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি। তবে আমরা ফাতহুল মান্নান হা/ ৩৬৫১ হতে সংযোজন করলাম: তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন নং ২৮৭৯ এবং তিনি বলেন, এ হাদীসটি গারীব।’ বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১১৯৮; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪৭৩।
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا أَشْعَثُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَرْمِيُّ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ بِأَلْفَيْ عَامٍ فَأَنْزَلَ مِنْهُ آيَتَيْنِ خَتَمَ بِهِمَا سُورَةَ الْبَقَرَةِ وَلَا تُقْرَآنِ فِي دَارٍ ثَلَاثَ لَيَالٍ فَيَقْرَبُهَا شَيْطَانٌ
৩৪২৬. নু’মান ইবন বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বেই আল্লাহ তা’আলা একটি কিতাব লিপিবদ্ধ করেছেন। এর থেকে তিনি দুটো আয়াত নাযিল করেছেন, যে দুটোর মাধ্যমেই তিনি সূরা বাকারা শেষ করেছেন। যে বাড়িতে তিন রাত তা পাঠ করা হবে শয়তান সে বাড়ির নিকটবর্তী হবে না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৩২; হাকিম নং ২০৬৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৮২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৭২৬ তে।
এছাড়াও, আহমাদ ৪/২৭৪; তিরমিযী, ছাওয়াবুল কুরআন ২৮৮২; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৬৭; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪০০।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ الْآيَتَيْنِ الْآخِرَتَيْنِ مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ
৩৪২৭. আবূ মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কেউ যদি রাতে সূরাহ বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, সেদু’টিই তার জন্য যথেষ্ট হবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলূল কুরআন নং ৫০০৯; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৮০৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৮১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৫৭ তে।
এছাড়াও, ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৬১; নাসাঈ, ফাযাইলূল কুরআন নং ২৮, ২৯, ৪৩; আব্দুর রাযযাক নং ৬০২০;
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْمُ اللَّهِ الْأَعْظَمُ فِي هَاتَيْنِ الْآيَتَيْنِ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ
৩৪২৮. আসমা বিনতে ইয়াযীদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহর মহান নাম (ইসমে আযম) এই দু’ আয়াতের মধ্যে নিহিত আছে: (অনুবাদ): “আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব চিরস্থায়ী।“ (বাক্বারাঃ ২৫৫) এবং ‘‘আর তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ।’’ (২: ১৬৩)[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান উবাইদুল্লাহ ইবনু আবী যিয়াদ এর জন্য।
তাখরীজ: আহমাদ, আল মুসনাদ ৬/৪৬১; ইবনু আবী শাইবা ১০/২৭২ নং ৯৪১২; ইবনু মাজাহ, দু’আ ৩৮৫৫; আবূ দাউদ, সালাত ১৪৯৬; তিরমিযী, দাওয়াত নং ৩৪৭২; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ১৮২; তাহাবী, মুশকিলীল আছার ১/৬৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১২৬১; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৩৮৩।
حَدَّثَنَا مُجَاهِدٌ هُوَ ابْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا مَعْنٌ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ خَتَمَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ بِآيَتَيْنِ أُعْطِيتُهُمَا مِنْ كَنْزِهِ الَّذِي تَحْتَ الْعَرْشِ فَتَعَلَّمُوهُنَّ وَعَلِّمُوهُنَّ نِسَاءَكُمْ فَإِنَّهُمَا صَلَاةٌ وَقُرْآنٌ وَدُعَاءٌ
৩৪২৯. জুবাইর ইবনু নুফাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ সুরাহ বাক্বারাহ সমাপ্ত করেছেন এমন দু’টি আয়াত দ্বারা যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে তাঁর আরশের নিচের ভাণ্ডার হতে। ফলে তোমরা এ আয়াত দু’টি শিক্ষা কর এবং তোমাদের নারীদেরকে শিখাও, কেননা, এ হলো রহমত, কুরআন এবং দু’আ।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ বিশ্বস্ত; তবে এটি মুরসাল।
তাখরীজ: আবূ দাউদ, মারাসীল নং ৯১; হাকিম নং ২০৬৭; তিবরিযী, মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৭৪ মুরসাল হিসেবে।
আর হাকিম নং ২০৬৬ ও বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৪০৩ তে আবী যার হতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, যঈফ সনদে মুত্তাসিল হিসেবে।
মুসলিম হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন: “আমাকে সুরা বাক্বারার শেষাংশ দেওয়া হয়েছে আরশের নিচের ভাণ্ডার হতে।“
আমরা বলছি: এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৫/৩৮৩ ও ১৫১, ১৮০; ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন ৫৩; নাসাঈ,ফাযাইলূল কুরআন নং ৪৭; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৩৯৯। এটি গত হয়েছে নং ৩৪১৫ তে।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا بَشِيرٌ هُوَ ابْنُ الْمُهَاجِرِ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ تَعَلَّمُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ وَلَا يَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ ثُمَّ سَكَتَ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ تَعَلَّمُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ وَآلِ عِمْرَانَ فَإِنَّهُمَا الزَّهْرَاوَانِ وَإِنَّهُمَا تُظِلَّانِ صَاحِبَهُمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ غَيَايَتَانِ أَوْ فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ وَإِنَّ الْقُرْآنَ يَلْقَى صَاحِبَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حِينَ يَنْشَقُّ عَنْهُ الْقَبْرُ كَالرَّجُلِ الشَّاحِبِ فَيَقُولُ لَهُ هَلْ تَعْرِفُنِي فَيَقُولُ مَا أَعْرِفُكَ فَيَقُولُ أَنَا صَاحِبُكَ الْقُرْآنُ الَّذِي أَظْمَأْتُكَ فِي الْهَوَاجِرِ وَأَسْهَرْتُ لَيْلَكَ وَإِنَّ كُلَّ تَاجِرٍ مِنْ وَرَاءِ تِجَارَتِهِ وَإِنَّكَ الْيَوْمَ مِنْ وَرَاءِ كُلِّ تِجَارَةٍ فَيُعْطَى الْمُلْكَ بِيَمِينِهِ وَالْخُلْدَ بِشِمَالِهِ وَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ الْوَقَارِ وَيُكْسَى وَالِدَاهُ حُلَّتَيْنِ لَا يُقَوَّمُ لَهُمَا الدُّنْيَا فَيَقُولَانِ بِمَ كُسِينَا هَذَا وَيُقَالُ لَهُمَا بِأَخْذِ وَلَدِكُمَا الْقُرْآنَ ثُمَّ يُقَالُ لَهُ اقْرَأْ وَاصْعَدْ فِي دَرَجِ الْجَنَّةِ وَغُرَفِهَا فَهُوَ فِي صُعُودٍ مَا دَامَ يَقْرَأُ هَذًّا كَانَ أَوْ تَرْتِيلًا
৩৪৩০. বুরাইদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁকে আমি বলতে শুনেছি যে, “তোমরা সূরা বাক্বারা শিক্ষা কর, কেননা, এ দু’টি মনোহর জ্যোতি; আর তা শিক্ষা করাতে কল্যাণ রয়েছে এবং তা পরিত্যাগ করাতে পরিতাপ রয়েছে। আর বাতিলপন্থীগণ (যাদুকররা) এটি (মোকাবেলা করতে) সক্ষম হবে না।“
এরপর তিনি কিছু সময় চুপ করে থাকলেন। অত:পর তিনি বললেন: “তোমরা সূরা বাক্বারাহ ও আলে ইমরাণ শিক্ষা কর, কেননা, সে দুঁটি যেন সমুজ্জল জ্যোতি। কেননা, এ দুটি কিয়ামতের দিনে উপস্থিত হবে তার পাঠকের জন্য যেন সে দুটি ‘গামামা’ তথা দু’ খণ্ড মেঘ- কিংবা (তিনি বলেছিলেন) সে দুটি ‘গায়ায়া’- তথা মেঘ বা বাদল; কিংবা যেন সে দুটি ডানা বিস্তারকারী পাখীর দুটি ঝাঁক।
কিয়ামতের দিন যখন কবর ফেটে যাবে তখন কুরআন তার পাঠকের নিকট পর্যুদস্ত লোকের অবয়বে উপস্থিত হয়ে বলবে, তুমি কি আমাকে চিনতে পারছ? তখন লোকটি বলবে, নাতো, আমি তো তোমাকে চিনি না। তখন কুরআন বলবে, আমিই তোমার সাথী, কুরআন। এই আমিই তোমাকে দিনে পিপাসার্ত-পরিশ্রান্ত করেছি এবং রাতে বিনিদ্র করেছি। আর প্রত্যেক ব্যবসায়ীর ব্যবসায় zwj;মুনাফা লাভ করে, আর আজকে তুমিও তোমার সকল ব্যবসার মুনাফা লাভ করবে। তখন তার ডান হাতে রাজত্ব দান করা হবে, তার বাম হাতে অমরত্ব দান করা হবে, আর তার মাথায় মর্যাদা (এর মুকুট) পরানো হবে। আর তার মাতা-পিতাকে দু’প্রস্থ পোশাক পরিধান করানো হবে, যা দুনিয়াতে তাদের জন্য তৈরী করা হয়নি। তখন তারা উভয়ে বলবে, আমাদেরকে এ পোশাক পরিধান করানো হলো (কেন)? তখন তাদের উভয়কে বলা হবে, তোমাদের উভয়ের সন্তানদের কুরআনকে গ্রহণ করার জন্য। তখন তাকে (কুরআন পাঠককে) বলা হবে: তুমি পাঠ করতে থাকে এবং জান্নাতের সিড়ি ও কামরা বেয়ে উপরে আরোহন করতে থাকো। তার দ্রুত বা ধীর পাঠ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার আরোহন করা চলতেই থাকবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান বুশাইর ইবনু মুহাজির এর জন্য।
তাখরীজ: আহমাদ, আল মুসনাদ ৫/৩৪৮; ইবনু আবী শাইবা ১০/৪৯২-৪৯৩ নং ১০০৯৪; ইবনু মাজাহ, দু’আ ৩৭৮১; হাকিম নং ২০৫৭; আব্দুর রাযযাক নং ৬০১৪।
(তবে এর শুরু হতে ‘এবং রাতে বিনিদ্র করেছি।’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন নং ৪০৮ তে।–অনুবাদক)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ عَنْ أَبِي يَحْيَى سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا أُمَامَةَ يَقُولُ إِنَّ أَخًا لَكُمْ أُرِيَ فِي الْمَنَامِ أَنَّ النَّاسَ يَسْلُكُونَ فِي صَدْعِ جَبَلٍ وَعْرٍ طَوِيلٍ وَعَلَى رَأْسِ الْجَبَلِ شَجَرَتَانِ خَضْرَاوَانِ تَهْتِفَانِ هَلْ فِيكُمْ مَنْ يَقْرَأُ سُورَةَ الْبَقَرَةِ هَلْ فِيكُمْ مَنْ يَقْرَأُ سُورَةَ آلِ عِمْرَانَ فَإِذَا قَالَ الرَّجُلُ نَعَمْ دَنَتَا بِأَعْذَاقِهِمَا حَتَّى يَتَعَلَّقَ بِهِمَا فَتَخْطِرَانِ بِهِ الْجَبَلَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْأَعْذَاقُ الْأَغْصَانُ
৩৪৩১. সুলাইম ইবনু আমির (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি আবূ উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে zwj;শুনেছেন, তোমাদের এক ভাই স্বপ্নে দেখেছে যে, লোকদেরকে একটি পাহাড়ের সরু বিপজ্জনক একটি ফাটলের ভিতর ঢুকানো হচ্ছে। আর পাহাড়ের চুড়ায় রয়েছে দু’টি সবুজ (খেজুর) গাছ যারা ডেকে বলছিল, তোমাদের মধ্যে কি এমন কোন লোক আছে যে, সুরাহ বাক্বারা পাঠ করে? তোমাদের মধ্যে কি এমন কোন লোক আছে যে, সুরাহ আলে ইমরাণ পাঠ করে? এরপর যখন এক ব্যক্তি বলল, হাঁ। তখন এ দু’টি গাছ তাদের (ফলের) কাঁদিসহ তার নিকটবর্তী হলো, এমনকি এ দু’টি তাদের কাঁদিসহ ঝুলে রইল। অত:পর এ ব্যক্তিকে নিয়ে এ গাছ দু’টি পাহাড়ের নিকট গর্ব করতে লাগল।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ এর দুর্বলতার কারণে।
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৩৬। দেখুন, দুররে মানসুর ১/১৮।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ زَيْدٍ عَنْ جَابِرٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَرَأَ رَجُلٌ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ فَقَالَ قَرَأْتَ سُورَتَيْنِ فِيهِمَا اسْمُ اللَّهِ الْأَعْظَمُ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى
৩৪৩২. মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট এক ব্যক্তি সুরাহ বাক্বারাহ ও আলে ইমরাণ পাঠ করল। তখন তিনি (আব্দুল্লাহ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি এমন দু’টি সুরাহ পাঠ করলে, যাতে রয়েছে ‘ইসমে আ’যম’ (আল্লাহর মহান নাম), যা দ্বারা দু’আ করলে দু’আ কবুল হয়, যা দ্বারা কোন কিছু চাইলে প্রদান করা হয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ এর দুর্বলতার কারণে।
তাখরীজ: ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৪৪ যঈফ সনদে।
তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আসমা বিনতে ইয়াযিদ হতে যা গত হয়েছে নং ৩৪২৪ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবু উমামাহ হতে তাহাবী, মুশকিলীল আছার ১/৬৩; তাবারাণী, কাবীর ৮/২৮২ নং ৮৯২৫; ফিরইয়াবী, ফাযাইলুল কুরআন নং ৪৭; হাকিম নং ১৮৬১ উত্তম সনদে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَرْبٍ عَنْ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي عَطَّافٍ عَنْ كَعْبٍ قَالَ مَنْ قَرَأَ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ جَاءَتَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَقُولَانِ رَبَّنَا لَا سَبِيلَ عَلَيْهِ
৩৪৩৩. আত্তাফ হতে বর্ণিত, কা’ব (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি সুরাহ বাক্বারাহ ও আলে ইমরাণ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিনে এ সুরাহ দু’টি এসে বলবে, হে আমাদের রব্ব, এর কাছে কোনো কৈফিয়ত চাইবেন না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ আব্দুস সালাম সাঈদ ইবনু ইয়্যাস আল জারিরী নিকট থেকে শ্রবন করা হতে পিছিয়ে রয়েছে। এটি কা’ব আহবারের বক্তব্য (মাওকুফ)।
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি। দেখুন, দুররে মানসুর ১/১৯।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ سُلَيْمِ بْنِ حَنْظَلَةَ الْبَكْرِيِّ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ مَنْ قَرَأَ آلَ عِمْرَانَ فَهُوَ غَنِيٌّ وَالنِّسَاءُ مُحَبِّرَةٌ قَالَ أَبُو مُحَمَّد مُحَبِّرَةٌ مُزَيِّنَةٌ
৩৪৩৪. হানযালাহ আল বাকরী হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি সুরাহ আলে ইমরান পাঠ করে সে লোক সম্পদশালী এবং সে স্ত্রীলোক সুসজ্জিতা।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ উত্তম। এটি ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য (মাওকুফ)।
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: নং ২৩৭-২৩৮, সেখানে স্ত্রীলোক সুসজ্জিতা’ এ অংশটুকু নেই; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৬১৫; আব্দুর রাযযাক নং ৬০১৫ মু’দ্বাল সনদে; সাখাবী, জামালুল কুররা ১/১২৪।
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ ابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي الْخَيْرِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ مَنْ قَرَأَ آخِرَ آلِ عِمْرَانَ فِي لَيْلَةٍ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ
৩৪৩৫. আবুল খাইর হতে বর্ণিত, উছমান ইবনু আফ্ফান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি রাতে সুরাহ আলে ইমরানের শেষাংশ পাঠ করবে, তার জন্য কিয়ামুল লাইল’ (রাতের সালাত আদায়)-এর সাওয়াব লেখা হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ ইবনু লাহিয়াহ এর দুর্বলতার কারণে।
তাখরীজ: মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৭১ তে তিবরিযী দারেমী’র প্রতি এটি সম্বোন্থিত করেছেন। দেখুন, দুররে মানসুর ১/১১৬।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ عَنْ مَكْحُولٍ قَالَ مَنْ قَرَأَ سُورَةَ آلِ عِمْرَانَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ إِلَى اللَّيْلِ
৩৪৩৬. মাকহুল হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরাহ আলে ইমরান পাঠ করবে, তার জন্য ফিরিশতাগণ রাত পর্যন্ত রহমতের দু’আ করতে থাকবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মাকহুল পর্যন্ত সহীহ। এটি মাকহুল এর বক্তব্য (মাওকুফ)।
তাখরীজ: মিশকাতুল মাসাবীহ নং ২১৭২ তে তিবরিযী দারেমী’র প্রতি এটি সম্বোন্থিত করেছেন।
حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ سَلَّامٍ أَبُو عُبَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ الْأَشْجَعِيُّ حَدَّثَنِي مِسْعَرٌ حَدَّثَنِي جَابِرٌ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ فِيمَا وَقَعَ فِيهِ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ نِعْمَ كَنْزُ الصُّعْلُوكِ سُورَةُ آلِ عِمْرَانَ يَقُومُ بِهَا فِي آخِرِ اللَّيْلِ
৩৪৩৭. শা’বী হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নি:সম্বল হতদরিদ্র ব্যক্তির কতই না উত্তম গুপ্তধন সূরা আলে ইমরান, যা সে শেষ রাতে সালাতে পাঠ করে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য (মাওকুফ)।
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: নং ২৩৮; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৬১৬; আব্দুর রাযযাক নং ৬০১৫ মু’দ্বাল সনদে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ عَنْ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي السَّلِيلِ قَالَ أَصَابَ رَجُلٌ دَمًا قَالَ فَأَوَى إِلَى وَادِي مَجَنَّةٍ وَادٍ لَا يُمْسِي فِيهِ أَحَدٌ إِلَّا أَصَابَتْهُ حَيَّةٌ وَعَلَى شَفِيرِ الْوَادِي رَاهِبَانِ فَلَمَّا أَمْسَى قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ هَلَكَ وَاللَّهِ الرَّجُلُ قَالَ فَافْتَتَحَ سُورَةَ آلِ عِمْرَانَ قَالَا فَقَرَأَ سُورَةً طَيِّبَةً لَعَلَّهُ سَيَنْجُو قَالَ فَأَصْبَحَ سَلِيمًا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَبُو السَّلِيلِ ضُرَيْبُ بْنُ نُقَيْرٍ
৩৪৩৮. আবী সালীল হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি (পথে) আক্রান্ত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি উপত্যকায় আশ্রয় গ্রহণ করল, যা ছিল জ্বিনদের আবাসস্থল, যেখানে জ্বিনগ্রস্ত লোক ব্যতীত কেউ সেখানে রাত্রি যাপন করত না। আর এ উপত্যকার পাশেই দু’জন সন্ন্যাসী (দরবেশ) বাস করতো। এরপর যখন রাত্রি ঘনিয়ে এলে দরবেশদের একজন অপরজনকে বলতে লাগল, আল্লাহর কসম, লোকটি ধ্বংস হয়ে গেল।’
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি সুরা আলে ইমরান পাঠ করা আরম্ভ করল। তখন তারা (দরবেশ) দু’জন বলতে লাগলো, এ ব্যক্তি তো এমন উত্তম সুরাহ পাঠ করলো, সম্ভবত: (এর কারণে) সে মুক্তি লাভ করবে।
বর্ণনাকারী বলেন, এর সে লোকটি নিরাপত্তার সাথে সকালে উঠলো।[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, আবূ সালীল হলেন যুরাইব বিন নুক্বাইর- তাকে ইবনু নুফাইর বলা হতো।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। আব্দুস সালাম ইবনু আবী ইসহাকের নিকট থেকে শ্রবন করা হতে পিছিয়ে রয়েছে। এটি আবু সালীল বক্তব্য (মাওকুফ)।
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।
حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هَانِئٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ السَّبْعُ الطُّوَلُ مِثْلُ التَّوْرَاةِ وَالْمِئِينَ مِثْلُ الْإِنْجِيلِ وَالْمَثَانِي مِثْلُ الزَّبُورِ وَسَائِرُ الْقُرْآنِ بَعْدُ فَضْلٌ
৩৪৩৯. মুসাইয়্যিব ইবনু রাফি’ হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সাতটি তিওয়াল (লম্বা) সূরা হলো তাওরাতের ন্যায়, দু’ দু’শ আয়াতবিশিষ্ট সূরাগুলি হলো ইনজিলের ন্যায়, মাছানী (ফাতিহাহ) যাবুরের ন্যায়। আর অবশিষ্ট পুরো কুরআনই মর্যাদার অধিকারী।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ বিচ্ছিন্নতার কারণে। মুসাইয়্যেব ইবনু রাফি’ ইবনু মাসউদের সাক্ষাত লাভ করেনি। আল্লাহই ভাল জানেন।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫৫৪ নং ১০৩২০।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَلِيفَةَ عَنْ عُمَرَ قَالَ الْأَنْعَامُ مِنْ نَوَاجِبِ الْقُرْآنِ
৩৪৪০. আব্দুল্লাহ ইবনু খলীফাহ হতে বর্ণিত, উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সুরাহ আন’আম কুরআনের বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ সূরা সমূহের অন্তর্গত।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু পর্যন্ত সহীহ। এটি উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য (মাওকুফ)।
তাখরীজ: আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ: নং ২৪০; সাখাবী, জামালুল কুররা ১/১২৫; দেখুন, দুররে মানসুর ৩/৩।
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ عَنْ كَعْبٍ قَالَ فَاتِحَةُ التَّوْرَاةِ الْأَنْعَامُ وَخَاتِمَتُهَا هُودٌ
৩৪৪১. আব্দুল্লাহ ইবনু রাবাহ হতে বর্ণিত, কা’ব বলেন, তাওরাতের শুরু সূরা আন’আম দিয়ে, আর এর সমাপ্তি সূরাহ হুদ দিয়ে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ কা’ব পর্যন্ত সহীহ। এটি কাব এর বক্তব্য (মাওকুফ)।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৫৫৫ নং ১০৩২৩। দেখুন, দুররে মানসুর ৩/৩৫৭।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اقْرَءُوا سُورَةَ هُودٍ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
৩৪৪২. (উক্ত রাবী) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা জুমু’আর দিনে সুরাহ হুদ পাঠ কর।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ মুরসাল হওয়ার কারণে।
তাখরীজ: পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।