হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (361)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِمَجْلِسَيْنِ فِي مَسْجِدِهِ فَقَالَ: «كِلَاهُمَا عَلَى خَيْرٍ، وَأَحَدُهُمَا أَفْضَلُ مِنْ صَاحِبِهِ. أَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَدْعُونَ اللَّهَ وَيَرْغَبُونَ إِلَيْهِ، فَإِنْ شَاءَ أَعْطَاهُمْ، وَإِنْ شَاءَ مَنَعَهُمْ، وَأَمَّا هَؤُلَاءِ فَيَتَعَلَّمُونَ الْفِقْهَ والعلمَ وَيُعَلِّمُونَ الْجَاهِلَ، فَهُمْ أَفْضَلُ، وَإِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلِّمًا» قَالَ: ثُمَّ جَلَسَ فِيهِمْ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :في إسناده ضعيفان: عبد الرحمن بن زياد وعبد الرحمن بن رافع




৩৬১. আব্দুল্লাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মসজিদে দু’টি মজলিসের পাশ দিয়ে গেলেন। তখন বললেন: “উভয়টিই কল্যাণের উপর রয়েছে। তবে একটির চেয়ে অন্যটির শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আর এরা (একদল লোক) আল্লাহর নিকট দু’আ করছে এবং তাঁর নিকটই (জান্নাতের) আশা পোষণ করছে। আর তিনি চাইলে তা তাদেরকে দেবেন আর যদি চান তবে তাদেরকে তা দেয়া থেকে বিরত থাকবেন। আর এরা (অপরদল) পরস্পর ফিকহ ও ইলম শিক্ষা করছে এবং জাহিলদেরকে শিক্ষা দিচ্ছে। সুতরাং এরাই শ্রেষ্ঠ। কেননা, আমি শিক্ষক হিসেবেই প্রেরিত হয়েছি।“ তিনি (রাবী) বলেন: অতঃপর তিনি তাদের মাঝে বসে গেলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’জন যঈফ রাবী রয়েছে: ১. আব্দুর রহমান ইবনু যিয়াদ ও আব্দুর রহমান ইবনু রফি’।

তাখরীজ: ইবনুল মুবারক, আয যুহদ নং ১৩৮৯; তায়ালিসী ১/৩৬ নং ৮২; খতীব, ফকীহ ওয়াল মুতাফাককিহ ১/১০,১১; ইবনু মাজাহ, মুকাদ্দামাহ ২২৯, এ সনদে দাউদ মাতরুক রাবী ও দুজন যঈফ রয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (362)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، أَنَّهُ قَالَ لِابْنِهِ: يَا بُنَيَّ، إِنَّ «الْعِلْمَ خَيْرٌ مِنَ الْعَمَلِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده فيه علتان: ضعف عبد الرحمن بن عبد الله المسعودي والانقطاع عون بن عبد الله لا نعلم له رواية عن مطرف




৩৬২. মুতাররিফ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু শিখখীর থেকে বর্ণিত, তিনি তার পুত্রকে বলেন: হে আমার পুত্র! নিশ্চয় আমলের চেয়ে ইলম শ্রেষ্ঠতর।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদে দু’টি ত্রুটি রয়েছে: আব্দুর রহমান ইবনু আব্দুল্লাহ আল মাসউদী যঈফ এবং ‘আল ইনকিতা’ বা বিচ্ছিন্নতা। মুতাররিফ হতে আওন ইবনু আব্দুল্লাহ’র কোনো রিওয়ায়েত আমরা পাইনি। আল্লাহই ভাল জানেন। (তবে অপর একটি সহীহ সনদে এটি বর্ণিত হয়েছে- তাখরীজ দেখুন।-অনুবাদক)

তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া ২/২০৯ এ সনদ সহীহ।; খতীব, ফকীহ ওয়াল মুতাফাককিহ ১/১৯।









সুনান আদ-দারিমী (363)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، أَخْبَرَنَا شُرَحْبِيلُ بْنُ شَرِيكٍ، أَنَّهُ: سَمِعَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ يَقُولُ: «لَيْسَ هَدِيَّةٌ أَفْضَلَ مِنْ كَلِمَةِ حِكْمَةٍ تُهْدِيهَا لِأَخِيكَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৬৩. শুরাহবীল ইবনু শারীক থেকে বর্ণিত, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল হুবুলী’কে বলতে শুনেছেন: হিকমাতপূর্ণ বা প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা বলার চেয়ে উত্তম কোনো হাদিয়া নেই, যা তুমি তোমার কোনো ভাইকে হাদিয়া হিসেবে দিতে পারো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি আমি আর কোথাও পাইনি। তবে এর অনেক শাহিদ রয়েছে ইবনু উমার, ইবনু ‘আস এর হাদীস যা বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৭৬৪ নং এ বর্ণনা করেছেন। আবু নুয়াইম .... আব্দুল্লাহ ইবনু আমর থেকে মারফু’ হিসেবে যঈফ সনদে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়া ইবনু খয়ের, ফাহারাসাত পৃ: ৮ ইবনু আব্বাসের হাদীসও এর শাহিদ হয়, এর সনদে এমন রাবী রয়েছে যাকে আমি চিনি না। দেখুন, মাকাসিদুল হাসানাহ নং ৯৩৮; কাশফুল খফা নং ২১৮২; শাজারাহ নং ৮০৪; আরও দেখুন তাবারাণী, মু’জামুল কাবীর ১২/৪৩ নং ১২৪২০।









সুনান আদ-দারিমী (364)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْمُجْتَهِدِ مِائَةُ دَرَجَةٍ، مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ خَمْسُ مِائَةِ سَنَةٍ حُضْرُ الْفَرَسِ الْمُضَمَّرِ السَّرِيعِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده إلى الزهري ضعيف




৩৬৪. মুহাম্মদ ইবনু ’আজলান যুহরী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (ইবাদতে) ‘মুজাহাদাহ’-কারী (প্রচেষ্টাকারী) অর্থাৎ অনেক ইবাদাতগুজার ব্যক্তির তুলনায় একজন আলিমের মর্যাদা একশ স্তর উপরে। আর এ দু’টি স্তরের মধ্যে দূরত্ব হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতকৃত দ্রুত ধাবমান কৃশ ঘোড়ার পাঁচশ’ বছর সময়ে (অতিক্রান্ত) ময়দানের সমান।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : যুহরী পর্যন্ত এর সনদ যঈফ। এটি তার কথা।

তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৩/৩৬৫, এর রাবী শাযিকুনী মাতরুক।









সুনান আদ-দারিমী (365)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي السَّكَنُ بْنُ أَبِي كَرِيمَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ " (يَرْفَعُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ) [المجادلة: 11] قَالَ: يَرْفَعُ اللَّهُ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا بِدَرَجَاتٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৬৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার মুক্তদাস ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনু আব্বাস হতে বর্ণনা করেন, (يَرْفَعُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ) (“তোমাদের মধ্যকার ঈমানদারদেরকে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদেরকে উচ্চ মর্যাদা দান করা হয়েছে।“- আল-মুজাদালাহ: ১১) (এ আয়াত সম্পর্কে) তিনি বলেন: যাদেরকে ইলম দেওয়া হয়েছে তাদেরকে আল্লাহ (সাধারণ) মু’মিনদের উপর অনেক উচ্চ মযার্দা দান করেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: হাকিম, আল মুসতাদরাক ২/৪৮১; হাকিম বলেন: এ হাদীসের সনদ সহীহ যদিও তারা বর্ণনা করেননি।“ যাহাবী তার সমর্থন করেছেন।









সুনান আদ-দারিমী (366)


أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ ثَابِتٍ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ كَثِيرٍ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «مَنْ جَاءَهُ الْمَوْتُ وَهُوَ يَطْلُبُ الْعِلْمَ لِيُحْيِيَ بِهِ الْإِسْلَامَ، فَبَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّبِيِّينَ دَرَجَةٌ وَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده مسلسل بالمجاهيل




৩৬৬. হাসান (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তির মৃত্যু উপস্থিত হয়েছে অথচ সে ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে ইলম অন্বেষণে রত রয়েছে, জান্নাতে তার ও নবীগণের মাঝে মাত্র একটি মর্যাদা (’এর স্তরের) পার্থক্য থাকবে।“[1] [1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে ধারাবাহিকভাবে অজ্ঞাত রাবী রয়েছে।

তাখরীজ: তাবারানী, আল আওসাত নং ৯৪৫০; খতীব, তারীখ ৩/৭৮ সাঈব ইবনু মুসাইয়্যেব থেকে তিনি ইবনু আব্বাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে।









সুনান আদ-দারিমী (367)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا مِهْرَانُ، حَدَّثَنَا أَبُو سِنَانٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ: «ذَهَبَ عُمَرُ بِثُلُثَيِ الْعِلْمِ». قَالَ: فَذَكَرْتُ لِإِبْرَاهِيمَ، فَقَالَ: ذَهَبَ عُمَرُ بِتِسْعَةِ أَعْشَارِ الْعِلْمِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :في إسناده علتان: ضعف محمد بن حميد وأبو سنان سعيد بن سنان متأخر السماع من أبي إسحاق السبيعي




৩৬৭. আবু ইসহাক হতে বর্ণিত, তিনি আমর ইবনু মাইমুন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমার রাদ্বিয়াল্লাহ আনহু জ্ঞানের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ে চলে গিয়েছেন (মৃত্যুবরণ করেছেন)। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এ কথা ইবরাহীমের নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন: বরং দশভাগের নয়ভাগ ইলম নিয়ে উমার রাদ্বিয়াল্লাহ আনহু চলে গিয়েছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে দু’টি ত্রুটি রয়েছে। মুহাম্মদ্ বিন হুমাইদ যঈফ। আবু সিনান সাঈদ ইবনু সিনান আবু ইসহাক সাবিঈ থেকে কিছু শোনা থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

তাখরীজ: এখানে ছাড়া এ আছারটি আর কোথাও আমরা পাইনি।

তবে ইবরাহীমের দিকে সম্পৃক্ত না করে ইবনু মাসউদের কথা হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন আবু খায়ছামা, আল ইলম নং ৬১, এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য কিন্তু এটি মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন। ইবরাহীম নাখঈ ইবনু মাসউদ থেকে কিছু শ্রবণ করেননি।









সুনান আদ-দারিমী (368)


أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ ثَابِتٍ، أَنبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ هَارُونَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ يَتَذَاكَرُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ، إِلَّا أَظَلَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ. وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَبْتَغِي بِهِ الْعِلْمَ، سَهَّلَ اللَّهُ طَرِيقَهُ إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَنْ أَبْطَأَ بِهِ عَمَلُهُ، لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৬৮. হারুন তার পিতা হতে, তিনি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন কিছু লোক নিজেরা পরস্পরকে আল্লাহর কিতাব স্মরণ করানো বা আলোচনা ও শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি ঘরে একত্রিত হয়, তখন ফিরিশতাগণ তাদের উপর তাদের ডানা দ্বারা ছায়া দান করতে থাকে, যতক্ষণ না তারা তা ছেড়ে অন্য কথায় রত হয়। আর যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে পথ চলে আল্লাহ তাকে জান্নাতের দিকে তার পথ সহজ করে দেন। আর যাকে তার আমল পিছিয়ে দিয়েছে, বংশ-মর্যাদা তাকে সামনে এগিয়ে দিতে পারে না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৬৭১;

আর এর কিছু অংশের তাখরীজ ৩৫৭ নং এ গত হয়েছে। সেখানে পূর্ণ তাখরীজ দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (369)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ هُوَ ابْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ قَالَ: غَدَوْتُ عَلَى صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ الْمُرَادِيِّ، وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَهُ عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ، فَقَالَ: مَا جَاءَ بِكَ؟ قُلْتُ: ابْتِغَاءُ الْعِلْمِ. قَالَ: أَلَا أُبَشِّرُكَ؟ قُلْتُ: بَلَى. فَقَالَ: رَفَعَ الْحَدِيثَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: «إِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ، رِضًا بِمَا يَطْلُبُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن




৩৬৯. আসিম বর্ণনা করেন, যার বলেন: আমি সাফওয়ান ইবনু আসসাল আল মুরাদীর নিকট এ উদ্দেশ্যে সকালে গিয়ে উপস্থিত হলাম যে, আমি তাকে চামড়ার মোজার উপর মাসেহ করা সম্পর্কে প্রশ্ন করবো। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ জিনিস তোমাকে (এখানে) নিয়ে এসেছে? আমি বললাম: ইলম অন্বেষণ। তিনি বলেন: আমি কি তোমাকে সুসংবাদ দেব না? আমি বললাম, নিশ্চয়ই। তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত সূত্র মিলিয়ে হাদীস বর্ণনা করলেন। তিনি বলেছেন: “নিশ্চয় ফেরেশতাগণ তালিবে ইলম’- (জ্ঞান শিক্ষার্থী)-এর জন্য তার (জ্ঞান) অন্বেষণে খুশী হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আবু খায়ছামা, আল ইলম নং ৫; এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি আমি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩১৯-১৩২১, ১৩৩৫; ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭৯, ১৭৯, ১৮০, ১৮৬ এ।









সুনান আদ-দারিমী (370)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ مُنْذُ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ: «مَا كَانَ طَلَبُ الْحَدِيثِ أَفْضَلَ مِنْهُ الْيَوْمَ». قَالُوا لِسُفْيَانَ إِنَّهُمْ يَطْلُبُونَهُ بِغَيْرِ نِيَّةٍ؟ قَالَ: «طَلَبُهُمْ إِيَّاهُ نِيَّةٌ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن




৩৭০. ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামান বলেন, আমি চল্লিশ বছর ধরে সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি: হাদীস অন্বেষণ (শিক্ষা) করার চেয়ে এখনকার সময়ে উত্তম কিছুই নাই। তারা সুফিয়ানকে বললো: তারা তো নিয়ত ছাড়াই তা শিক্ষা (অন্বেষণ) করছে! তিনি বলেন: তাদের শিক্ষা করাটাই তো তাদের নিয়ত।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: খতীব, আল-জামি’ আখলাকুর রাবী নং ৭৭৯; রমহরমুযী, মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৪০; আরও দেখুন, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১৩৮২।









সুনান আদ-দারিমী (371)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْأَجْلَحِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: طَلَبْنَا هَذَا الْعِلْمَ وَمَا لَنَا فِيهِ كَبِيرُ نِيَّةٍ، ثُمَّ رَزَقَ اللَّهُ بَعْدُ فِيهِ النِّيَّةَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن




৩৭১. আব্দুল্লাহ ইবনু আজলাহ তার পিতা হতে, তিনি মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা এ ইলম (হাদীস) শিক্ষা করতে লাগলাম, তখন এ ব্যাপারে আমাদের পাকাপোক্ত কোনো নিয়ত ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ তা’আলা এ শিক্ষার মধ্যে নিয়ত দান করলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: ফাসাওয়ী, মা’রিফাতুত তারীখ ১/৭১২; রমহরমুযী, মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৩৯, এ সনদ যঈফ।









সুনান আদ-দারিমী (372)


أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ ثَابِتٍ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: «لَقَدْ طَلَبَ أَقْوَامٌ الْعِلْمَ مَا أَرَادُوا بِهِ اللَّهَ تَعَالَى، وَلَا مَا عِنْدَهُ» قَالَ: «فَمَا زَالَ بِهِمُ الْعِلْمُ حَتَّى أَرَادُوا بِهِ اللَّهَ وَمَا عِنْدَهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :حسان بن مسلم ما وجدت له ترجمة وباقي رجاله ثقات. وما وجدته مسندا في غير هذا الموضع




৩৭২. ইউনুস ইবনু উবাইদ হাসান (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: লোকেরা ইলম শিক্ষা করেছে বটে, তবে এটি তারা আল্লাহ তা’আলার (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যেও করেনি, কিংবা তাঁর নিকট যা কিছু রয়েছে, সেসব লাভের আশায়ও তারা এটি (জ্ঞানার্জন) করেনি। রাবী বলেন: যখন তারা এ (ইলম অন্বেষণ) দ্বারা আল্লাহ (এর সন্তুষ্টি লাভ) এবং তাঁর নিকট যা কিছু রয়েছে- সেসব (লাভ করা)কে উদ্দেশ্য করেছে, তখন থেকে এ ইলম তাদের মাঝে অব্যাহত রয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : হাসসান ইবনু মুসলিমের জীবনী আমি কোথাও পাইনি। বাকী রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।

তাখরীজ: এটি আমি সনদসহ আর কোথাও পাইনি।

তবে ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১৩৮৩ তে এটি উল্লেখ করে বলেন, হাসান বলেন...।









সুনান আদ-দারিমী (373)


أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ قَالَ: قَالَ أَبُو مُسْلِمٍ الْخَوْلَانِيُّ،: الْعُلَمَاءُ ثَلَاثَةٌ، فَرَجُلٌ عَاشَ فِي عِلْمِهِ، وَعَاشَ مَعَهُ النَّاسُ فِيهِ، وَرَجُلٌ عَاشَ فِي عِلْمِهِ، وَلَمْ يَعِشْ مَعَهُ فِيهِ أَحَدٌ، وَرَجُلٌ عَاشَ النَّاسُ فِي عِلْمِهِ، وَكَانَ وَبَالًا عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৭৩. আবু কিলাবা বলেন, আবু মুসলিম আল খাওলানী বলেন: আলিম তিন শ্রেণির। যথা: এক. যে ব্যক্তি (’আলিম) তার ইলম অনুযায়ী নিজে জীবন যাপন করেন এবং সাধারণ মানুষও তার ইলমের অনুসরণ করে জীবন যাপন করে। দুই. যে ব্যক্তি (’আলিম) তার ইলম অনুযায়ী নিজে চলেন কিন্তু কোন লোক তাঁর ইলম অনুসরণ করে জীবন যাপন করে না। তিন. যে ব্যক্তি (’আলিম) তার ইলম অনুসরণ করে সাধারণ মানুষ চলে অর্থাৎ জীবন যাপন করে (কিন্তু সে নিজে ইলম অনুযায়ী জীবন যাপন করে না), ফলে তা তার জন্য খারাপ পরিণতি বা কঠিন শাস্তির কারণ হবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১৪/৫৫ নং ১৭৫৪৭; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৫/১২১; মা’মার, আল জামি’ নং ২০৪৭২ আবু কিলাবার বক্তব্য হিসেবে সহীহ সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (374)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عَطَاءٍ، " قَالَ: قَالَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ، يَا رَبِّ أَيُّ عِبَادِكَ أَحْكَمُ؟ قَالَ: الَّذِي يَحْكُمُ لِلنَّاسِ كَمَا يَحْكُمُ لِنَفْسِهِ قَالَ: يَا رَبِّ، أَيُّ عِبَادِكَ أَغْنَى؟ قَالَ: أَرْضَاهُمْ بِمَا قَسَمْتُ لَهُ قَالَ: يَا رَبِّ، أَيُّ عِبَادِكَ أَخْشَى لَكَ؟ قَالَ: أَعْلَمُهُمْ بِي

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح إلى عطاء وهو منقطع




৩৭৪. আতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মূসা আলাইহিস সালাম বলেন: হে রব! আপনার কোন্ বান্দাগণ সর্বোত্তম বিচারক? তিনি (আল্লাহ) বলেন: যে অপরের জন্যও সেই ফায়সালাই করে, যা সে নিজের জন্য ফায়সালা করে, (সে-ই সর্বোত্তম বিচারক)। তিনি (মূসা আ:) জিজ্ঞেস করলেন: হে রব! আপনার কোন্ বান্দাগণ সবচেয়ে ধনী/ মুখাপেক্ষীহীন? তিনি বললেন: আমি তার জন্য যা বণ্টন করেছি, তা-তে যে সন্তুষ্ট থাকে। তিনি আরও জিজ্ঞেস করলেন: হে রব! আপনার কোন্ বান্দাগণ আপনাকে সবচেয়ে বেশী ভয় করে? তিনি বলেন: তাদের মধ্যে যে আমার সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।[1]

[1] এর সনদ আতা পর্যন্ত সহীহ। আর তা মুনকাতি’ ।

তাখরীজ: ইবনুল মুবারক, আয যুহদ নং ২২৩, ৫৩৩; দেখুন আবু খায়ছামা, আল ইলম নং ৮৬।









সুনান আদ-দারিমী (375)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ قَالَ: كَانَ يُقَالُ: " الْعُلَمَاءُ ثَلَاثَةٌ: عَالِمٌ بِاللَّهِ يَخْشَى اللَّهَ لَيْسَ بِعَالِمٍ بِأَمْرِ اللَّهِ، وَعَالِمٌ بِاللَّهِ عَالِمٌ بِأَمْرِ اللَّهِ يَخْشَى اللَّهَ، فَذَاكَ الْعَالِمُ الْكَامِلُ، وَعَالِمٌ بِأَمْرِ اللَّهِ لَيْسَ بِعَالِمٍ بِاللَّهِ لَا يَخْشَى اللَّهَ، فَذَلِكَ الْعَالِمُ الْفَاجِرُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৭৫. মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ সুফিয়ান হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তার নিকট বর্ণিত হয়েছিল যে, আলিম তিন শ্রেণির; এক. আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানী, সে আল্লাহকে ভয় করে; কিন্তু আল্লাহর আদেশ সম্পর্কে সে জ্ঞানী নয় (ফলে সেগুলো ঠিকমতো অনুসরণ করতে পারে না)। দুই. আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানী, আবার সে আল্লাহকে ভয়ও করে। এ শ্রেণির আলিমই হলেন পরিপূর্ণ আলিম। আবার এমন এক শ্রেণির আলিম রয়েছে, যে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে জানে, কিন্তু আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানী নয়, ফলে সে আল্লাহকে ভয় করে না। আর এ শ্রেণির আলিমগণই হলো ‘ফাজির’ (ফাসিক/পাপী) আলিম।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া, ৭/২৮০; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৯১৯; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১৫৪৩; আবী হাইয়্যানের কথা হিসেবে বর্ণিত, এর সনদ সহীহ।









সুনান আদ-দারিমী (376)


أَخْبَرَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: " الْعِلْمُ عِلْمَانِ: فَعِلْمٌ فِي الْقَلْبِ فَذَلِكَ الْعِلْمُ النَّافِعُ، وَعِلْمٌ عَلَى اللِّسَانِ فَذَلِكَ حُجَّةُ اللَّهِ عَلَى ابْنِ آدَمَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح إلى الحسن وهو موقوف عليه




৩৭৬. হিশাম হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইলম হল দু’ প্রকার: (এক.) অন্তরে অবস্থিত ইলম, আর এ ইলমই হলো উপকারী ইলম। (দুই.) এবং জিহবার উপরস্থিত ইলম (যা তার অন্তরে প্রবেশ করেনি), ফলে এ (ইলম) আদম সন্তানের বিপক্ষে আল্লাহ’র হুজ্জাত (দলীল)।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১৩/২৩৫; মারওয়াযী, যিয়াদাহ আলায যুহদ লি ইবনুল মুবারক নং ১১৬১; খতীব, তারীখ ৪/৩৪৬ মারফু’ হিসেবে হাসান সনদে; ......।









সুনান আদ-দারিমী (377)


أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ ذَلِكَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৩৭৭. হিশাম হাসান হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। (তবে এটি মুরসাল)

তাখরীজ: এটি আমি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি। পূর্বের টীকাটি দেখুন। আর ইবনুল জাওযী, আল ইলাল নং ৮৯ এ আনাস হতে মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদে মিথ্যাবাদী রাবী রয়েছে।









সুনান আদ-দারিমী (378)


أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَنبَأَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: تَعَلَّمُوا، تَعَلَّمُوا، فَإِذَا عَلِمْتُمْ، فَاعْمَلُوا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف يزيد بن أبي زياد




৩৭৮. আলকামাহ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: তোমরা ইলম শিখে নাও। তোমরা ইলম শিখে নাও। আর যখন তোমরা তা শিখে নেবে, তখন তোমরা (সেই ইলম অনুযায়ী) আমল করবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, ইয়াযীদ ইবনু আবী যিয়াদ যঈফ রাবী।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১৩/২৯৪ নং ১৬৩৯৪; খতীব, ইক্বতিদাউল ইলম ওয়াল আমল নং ১০; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১২৬৬; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ১/১৩১।









সুনান আদ-দারিমী (379)


أَخْبَرَنَا أَبُو عُبَيْدٍ الْقَاسِمُ بْنُ سَلَّامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ هُوَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُؤَدِّبُ، عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ، عَنْ مَنْ حَدَّثَهُ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: " مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِأَرْبَعٍ، دَخَلَ النَّارَ - أَوْ نَحْوَ هَذِهِ الْكَلِمَةِ -: لِيُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ. أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ، أَوْ لِيَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ، أَوْ لِيَأْخُذَ بِهِ مِنَ الْأُمَرَاءِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف فيه جهالة وهو موقوف على عبد الله




৩৭৯. আবু ওয়াইল আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি চার উদ্দেশ্যের কোনো একটি উদ্দেশ্যে ইলম শিক্ষা করবে, সে জাহান্নামে যাবে,- অথবা তিনি অনুরূপ কথা বলেছেন। যথা: তা (অর্জিত ইলম) দ্বারা আলিমদের সাথে প্রতিযোগিতা করার উদ্দেশ্যে, কিংবা তা দ্বারা জাহিলদের (মুর্খদের) সাথে তর্ক-বিতর্ক করার উদ্দেশ্যে, কিংবা এর মাধ্যমে লোকদের মনোযোগ নিজের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে, কিংবা আমীর-উমারাদের (শাসকদের) নিকট হতে কিছু (হাদীয়া) লাভের উদ্দেশ্যে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এতে অজ্ঞাত পরিচয় রাবী রয়েছে। আর তা আব্দুল্লাহ’র উপর মাওকুফ (তার বক্তব্য) হিসেবে বর্ণিত। দেখুন মাতালিবুল আলিয়া, নং ৩০২৮।

এর শাহিদ হাদীস রয়েছে যা আমরা মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৮৭৫-৮৭৮ এ তাখরীজ করেছি। আরও দেখুন পরবর্তী ৩৮৫, ৩৮৬ নং হাদীস দু’টি।









সুনান আদ-দারিমী (380)


أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ هِشَامٍ صَاحِبِ الدَّسْتَوَائِيِّ، قَالَ قَرَأْتُ فِي كِتَابٍ بَلَغَنِي أَنَّهُ مِنْ كَلَامِ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ: " تَعْمَلُونَ لِلدُّنْيَا، وَأَنْتُمْ تُرْزَقُونَ فِيهَا بِغَيْرِ عَمَلٍ، وَلَا تَعْمَلُونَ لِلْآخِرَةِ، وَأَنْتُمْ لَا تُرْزَقُونَ فِيهَا، إِلَّا بِالْعَمَلِ، ويلَّكمْ عُلَمَاءَ السَّوْءِ: الْأَجْرَ تَأْخُذُونَ، وَالْعَمَلَ تُضَيِّعُونَ، يُوشِكُ رَبُّ الْعَمَلِ أَنْ يَطْلُبَ عَمَلَهُ، وَتُوشِكُونَ أَنْ تَخْرُجُوا مِنَ الدُّنْيَا الْعَرِيضَةِ إِلَى ظُلْمَةِ الْقَبْرِ وَضِيقِهِ. اللَّهُ ينهاكمْ عَنِ الْخَطَايَا كَمَا أَمَرَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَالصِّيَامِ، كَيْفَ يَكُونُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مَنْ سَخِطَ رِزْقَهُ وَاحْتَقَرَ مَنْزِلَتَهُ، وَقَدْ عَلِمَ أَنَّ ذَلِكَ مِنْ عِلْمِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ؟ كَيْفَ يَكُونُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مَنِ اتَّهَمَ اللَّهَ فِيمَا قَضَى لَهُ، فَلَيْسَ يَرْضَى شَيْئًا أَصَابَهُ؟ كَيْفَ يَكُونُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مَنْ دُنْيَاهُ آثَرُ عِنْدَهُ مِنْ آخِرَتِهِ، وَهُوَ فِي الدُّنْيَا أَفْضَلُ رَغْبَةً؟ كَيْفَ يَكُونُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مَنْ مَصِيرُهُ إِلَى آخِرَتِهِ، وَهُوَ مُقْبِلٌ عَلَى دُنْيَاهُ، وَمَا يَضُرُّهُ أَشْهَى إِلَيْهِ - أَوْ قَالَ أَحَبُّ إِلَيْهِ - مِمَّا يَنْفَعُهُ؟ كَيْفَ يَكُونُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مَنْ يَطْلُبُ الْكَلَامَ لِيُخْبِرَ بِهِ، وَلَا يَطْلُبُهُ لِيَعْمَلَ بِهِ؟

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده معضل




৩৮০. সাঈদ ইবনু আমির হিশাম দাস্তাওয়ায়ী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:nbsp;আমি কোন একটি কিতাবে পড়েছিলাম, যা ঈসা আলাইহিস সালামের বাণী বলে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে: তোমরা তো দুনিয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছো, কিন্তু দুনিয়াতে কোনো কাজ করা ছাড়াও তোমাদেরকে রিযিক দেয়া হয়। আর তোমরা তো আখিরাতের জন্য কোনো কাজ করছ না, কিন্তু সেখানে আমল (কাজ) ব্যতীত তোমাদেরকে রিযিক দেয়া হবে না। তোমাদের জন্য আফসোস, হে নিকৃষ্ট আলিম সমাজ! তোমরা যে বিনিময় গ্রহণ করছো এবং তোমরা যে আমল নষ্ট করছো তার জন্য আফসোস! আমলের স্রষ্টা অচিরেই তোমাদের নিকট থেকে তাঁর আমল (এর হিসাব) চাইবেন। সেই সময় অতি নিকটবর্তী যখন তোমরা প্রশস্ত দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবে এবং সংকীর্ণ অন্ধকার কবরে প্রবেশ করবে।

আল্লাহ তোমাদেরকে পাপ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন যেভাবে তিনি তোমাদেরকে সালাত আদায় ও সিয়াম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই ব্যক্তি কিভাবে আলিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে যে তার রিযিকে অসন্তুষ্ট এবং নিজের অবস্থানকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, অথচ সে জানে, এটি আল্লাহরই ইলম ও তাঁর তাকদীর (নির্ধারণ অনুযায়ী হয়েছে)? সেই ব্যক্তি কিভাবে আলিমগণের অন্তর্ভুক্ত হবে যে আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন সেই জন্য সে আল্লাহকে দোষারোপ করে, ফলে সে যেটুকু পায়, তাতে সে মোটেও সন্তুষ্ট থাকে না? সেই ব্যক্তি কিভাবে আলিমগণের অন্তর্ভুক্ত হবে যে দুনিয়াকে আখিরাতের উপর প্রাধান্য দেয় এবং সে দুনিয়ার প্রতিই অধিক আশান্বিত?

সেই ব্যক্তি কিভাবে আলিমগণের অন্তর্ভুক্ত হবে যার প্রত্যাবর্তনস্থল হলো আখিরাত অথচ সে দুনিয়ামুখী হয়ে বসে আছে। আর যা তার উপকারে আসবে তার চেয়ে যা তার জন্য ক্ষতিকর তার প্রতি সে অধিক আকাঙ্ক্ষা করছে - কিংবা তিনি বলেন: অধিক মহব্বত করছে? সে কিভাবে জ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যে ব্যক্তি কালাম (ইলম) অন্বেষণ করে তা (লোকদের নিকট) বর্ণনা করার জন্য অথচ তা আমল করার উদ্দেশ্যে অন্বেষণ করে না?[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মু’দ্বাল (পরপর কয়েকজন রাবী বাদ পড়েছে)।

তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৬/২৭৯-২৮০; আহমদ, আয যুহদ পৃ: ৭৫।