হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (3463)


حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ مَعْنٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ الْمُسَبِّحَاتِ عِنْدَ النَّوْمِ وَيَقُولُ إِنَّ فِيهِنَّ آيَةً تَعْدِلُ أَلْفَ آيَةٍ




৩৪৬৩. খালিদ ইবনু মা’দান হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ঘুমের পূর্বে ‘মুসাব্বিহাত’ (যে সকল সূরা শুরু ‘সাব্বাহা বা ইউসাব্বিহু’ দিয়ে) পাঠ করতেন এবং তিনি বলতেন: “এগুলোর মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে, যা এক হাজার আয়াতের সমান।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ, মুরসাল, তবে সম্ভবত মু’দ্বাল।

তাখরীজ: নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫৫১।

নাসাঈ বলেন, ‘মু’আবিয়া বলেন: কোন কোন আহলে ইলম ছয়টি সুরাহকে মুসাব্বিহাত গণ্য করতেন: সুরাহ হাদীদ, হাশর, ওয়াল হাওয়ারিঈন (আস সফ); সুরাহ জুমু’আ, তাগাবুন এবং সুরা আ’লা।’

এর বিপরীত বর্ণিত হয়েছে বুকাইয়া হতে… খালিদ ইবনু মা’দান হতে … ইরবায ইবনু সারিয়াহ হতে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম… এর সনদ যঈফ। বুকাইয়া এটি আন’আন শব্দে বর্ণনা করেছেন আর তিনি মুদাল্লিস।

আবূ দাউদ, আদাব ৫০৫৭; তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন নং ২৯২২; দাওয়াত ৩৪০৩; নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫৫০; আমলুল ইয়ামি ওয়াল লাইল নং ৭১৩; ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়ামি ওয়াল লাইল নং ৬৮২; তাবারাণী, কাবীর ১৮/২৪৭ নং ৬২৪।

তবে আহমাদ ৪/১২৮ ও বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫০৩ তে বুকাইয়া সূত্রে হাদ্দাছানা শব্দে আগের সনদে বর্ণনা করেছেন। এ সনদটি সহীহ।









সুনান আদ-দারিমী (3464)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَجِ الْبَغْدَادِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ طَهْمَانَ أَبُو الْعَلَاءِ الْخَفَّافُ حَدَّثَنِي نَافِعُ بْنُ أَبِي نَافِعٍ عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ وَثَلَاثَ آيَاتٍ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْحَشْرِ وَكَّلَ اللَّهُ بِهِ سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ يُصَلُّونَ عَلَيْهِ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنْ قَالَهَا مَسَاءً فَمِثْلُ ذَلِكَ حَتَّى يُصْبِحَ




৩৪৬৪. মা’কিল ইবনু ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ‘আউযু বিল্লাহিস্ সামি’য়ি্zwnj;ল আলিমি মিনাশ শায়ত্বনির রজীম’ পাঠ করবে এবং (এরপর) সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করবে, আল্লাহ্ তা’আলা তার জন্য সত্তর হাজার ফিরিশতা নিযুক্ত করে দেন, যাঁরা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য রহমতের দু’আ করতে থাকেন। আর যদি সে সন্ধ্যায় পাঠ করে তবুও সে সকাল পর্যন্ত অনুরূপ (ফযীলত) পেতে থাকবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। নাফি’ ইবনু আবী নাফি’ তিনি বাযযার নন, বরং তিনি নাফী’ ইবনুল হারিছ আল আ’মা, তার যঈফ হওয়া সম্পর্কে সকলেই একমত।

তাখরীজ: আহমাদ ৫/২৬; তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন নং ২৯২৩; ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়ামি ওয়াল লাইল নং ৮০; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৩০; তাবারাণী, কাবীর ২০/২২৯ নং ৫৩৭; কিতাবুদ দু’আ নং ৩০৮; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫০২।









সুনান আদ-দারিমী (3465)


حَدَّثَنَا أَبُو زَيْدٍ سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ مُهَاجِرٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ زَمَنَ زِيَادٍ إِلَى الْكُوفَةِ فَسَمِعْتُهُ يُحَدِّثُ أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَسِيرٍ لَهُ قَالَ وَرُكْبَتِي تُصِيبُ أَوْ تَمَسُّ رُكْبَتَهُ فَسَمِعَ رَجُلًا يَقْرَأُ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ قَالَ بَرِئَ مِنْ الشِّرْكِ وَسَمِعَ رَجُلًا يَقْرَأُ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ قَالَ غُفِرَ لَهُ




৩৪৬৫. আবুল হাসান মুহাজির হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিয়াদের শাসনামলে এক ব্যক্তি কুফায় এলো। এরপর আমি তাকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনলাম। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলেন। তিনি বলেন, আমার হাঁটু তাঁর হাঁটুর সঙ্গে লাগানো ছিল, এমতাবস্থায় তিনি এক ব্যক্তিকে “ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন“ (সুরা কাফিরুন) পাঠ করতে শুনলেন। তখন তিনি বললেন, “সে শিরক হতে মুক্তি পেল।“ আবার তিনি অপর এক ব্যক্তিকে “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ“ (সুরা ইখলাস) পাঠ করতে শুনলেন, তখন তিনি বললেন, “তাকে ক্ষমা করা হয়েছে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। সাহাবী’র নাম উল্লেখ না থাকা হাদীসকে সমালোচিত করে না।

তাখরীজ: ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ৩০৫ সনদ সহীহ; নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫৪০; আহমাদ ৪/৬৩, ৬৪, ৬৫ হাসান সনদে; সুয়ূতী, দুররে মানসুর ৬/৪০৫ তে আহমদা, ইবনু যরীস, বাগাবীর প্রতি এটি সম্বোন্ধিত করেছেন।









সুনান আদ-দারিমী (3466)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَجِيءٌ مَا جَاءَ بِكَ قَالَ جِئْتُ لِتُعَلِّمَنِي شَيْئًا أَقُولُهُ عِنْدَ مَنَامِي قَالَ فَإِذَا أَخَذْتَ مَضْجَعَكَ فَاقْرَأْ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَثُمَّ نَمْ عَلَى خَاتِمَتِهَا فَإِنَّهَا بَرَاءَةٌ مِنْ الشِّرْكِ




৩৪৬৬. ফুরওয়াহ ইবনু নাওফিল তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন প্রয়োজন তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে? তিনি বলেন, আমি আপনার নিকট এসেছি এজন্য যে, আপনি আমাকে এমন একটি বিষয় (দু’আ বা যিকির) শিখিয়ে দিবেন, যা আমি ঘুমের সময় পড়তে পারি। তিনি বললেন, “যখন তুমি শয্যা গ্রহণ করবে, তখন “ক্বুল ইয়া আইয়্যূহাল কাফিরূন“ (সূরাহ কাফিরূন) পাঠ করবে, এরপর তুমি তা শেষ করে ঘুমাবে। কেননা, কেননা, এ সূরা শিরক থেকে মুক্তিদানকারী।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মুাউসিলী নং ১৫৯৬; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৬৩, ২৩৬৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৮৯, ৭৯০ তে। এছাড়াও, আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ২৬৪; নাসাঈ, কুবরা নং ১০৬৩৭, ১০৬৩৮। দেখুন, সুয়ূতী, দুররে মানসুর ৬/৪০৫। (আবূ দাউদ, আদাব ৫০৫৫; তিরমিযী, দাওয়াত ৩৪০৩)









সুনান আদ-দারিমী (3467)


حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ حَدَّثَنَا إِيَاسٌ الْبِكَالِيُّ عَنْ نَوْفٍ الْبِكَالِيِّ قَالَ إِنَّ اللَّهَ جَزَّأَ الْقُرْآنَ عَلَى ثَلَاثَةِ أَجْزَاءٍ فَجَعَلَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ثُلُثَ الْقُرْآنِ




৩৪৬৭. নাওফ আল বিকালী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ কুরআনকে তিনটি অংশে বিভক্ত করেছেন। অত:পর তিনি “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ“ (সুরাহ ইখলাস: ১)-কে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ বানিয়েছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : ইয়্যাস আল বিকালী মাজহুল (অজ্ঞাত পরিচয়) রাবী। আর নাওফ ইবনু ফুযালাহর উপর মাওকুফ।

তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (3468)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو عَقِيلٍ أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يَقُولُ إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ عَشْرَ مَرَّاتٍ بُنِيَ لَهُ بِهَا قَصْرٌ فِي الْجَنَّةِ وَمَنْ قَرَأَ عِشْرِينَ مَرَّةً بُنِيَ لَهُ بِهَا قَصْرَانِ فِي الْجَنَّةِ وَمَنْ قَرَأَهَا ثَلَاثِينَ مَرَّةً بُنِيَ لَهُ بِهَا ثَلَاثَةُ قُصُورٍ فِي الْجَنَّةِ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَنْ لَتَكْثُرَنَّ قُصُورُنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُ أَوْسَعُ مِنْ ذَلِكَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَبُو عَقِيلٍ زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ وَزَعَمُوا أَنَّهُ كَانَ مِنْ الْأَبْدَالِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :




৩৪৬৮. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ“ (সুরাহ ইখলাস: ১) দশবার পাঠ করবে, জান্নাতে তার জন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে। যে ব্যক্তি তা বিশবার পাঠ করবে, জান্নাতে তার জন্য দু’টি প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে। যে ব্যক্তি তা ত্রিশবার পাঠ করবে, জান্নাতে তার জন্য তিনটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে।“ তখন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আল্লাহর কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে তো আমাদের অনেক প্রাসাদ হবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আল্লাহ (এর ভাণ্ডার) এ থেকেও অধিক প্রশস্ত।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুরসাল হওয়ার কারণে যঈফ। তবে তাবারানী এটি মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তাখরীজ: তাবারাণী, আওসাত নং ২৮৩ আবী হুরাইরা হতে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে …। এ সনদে দু’জন যঈফ রাবী রয়েছে।

তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে মুয়ায ইবনু আনাস হতে আহমাদ ৩/৪৩৭ এ, যা ইবনু কাছীর তার তাফসীর, ৫/২৫১; ইবনুস সু্ন্নী, আমলুল ইয়াওমী ওয়াল লাইলাহ নং ৬৯৩; উকাইলী, আয যু’আফা ২/৯৬; তাবারাণী, কাবীর ২০/১৮৪ নং ৩৯৭ ও ৩৯৮ যঈফ সনদে।

আমাদের বক্তব্য: মুরসাল সহ এ সকল বর্ণনাগুলি একটি অপরটিকে শক্তিশালী করবে ফলে হাদীসটি হাসান স্তরে উন্নীত হবে, আল্লাহই ভাল জানেন।









সুনান আদ-দারিমী (3469)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ عَنْ عُتْبَةَ بْنِ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ كَانَ إِذَا قَرَأَ سُورَةً فَخَتَمَهَا أَتْبَعَهَا بِقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ




৩৪৬৯. উতবাহ ইবনু যামরাহ ইবনু হাবীব তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, যে, তিনি যখন কোন সুরাহ পাঠ শেষ করতেন তখন তারপরই তিনি “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ“ (সুরাহ ইখলাস: ১) পাঠ করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যামরাহ ইবনু হাবীব পর্যন্ত সহীহ। আর এটি তার উপর মাওকুফ।

তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (3470)


حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبَانَ بْنِ يَزِيدَ الْعَطَّارِ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ فِي لَيْلَةٍ ثُلُثَ الْقُرْآنِ قَالُوا نَحْنُ أَعْجَزُ وَأَضْعَفُ مِنْ ذَلِكَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ جَزَّأَ الْقُرْآنَ ثَلَاثَةَ أَجْزَاءٍ فَجَعَلَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ثُلُثَ الْقُرْآنِ




৩৪৭০. আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ কি এতে অক্ষম যে, এক রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়বে?“ তারা (সাহাবাগণ) বললেন, কুরআনের তৃতীয়াংশ পড়তে তো আমরা অক্ষম অথবা দুর্বল। তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ কুরআনকে তিনটি অংশে বিভক্ত করেছেন। অত:পর তিনি “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ“ (সুরাহ ইখলাস: ১)-কে কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য বানিয়েছেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবূ দাউদ তায়ালিসী ২/২৭ নং ১৯৯২; আহমাদ ৫/১৯৫, ৬/৪৪২, ৪৪৭; আব্দ ইবনু হুমাইদ, আল মুনতাখাব নং ২১১; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৮১১; নাসাঈ, আমলুল ইয়ামি ওয়াল লাইল নং ৭০১; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৫২; আব্দুর রহমান ইবনু আহমাদ আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ১০৫; আবূ উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. নং ২৬৮-২৬৯; আবূ নুয়াইম, যিকরু আখবারিল আসবাহান ২/২৮৬; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৭/২৫৭; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫৩৪।









সুনান আদ-দারিমী (3471)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَعِيلَ بْنِ مُجَمِّعٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ أَنَّ حُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يَقُولُ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ




৩৪৭১. হুমাইদ ইবনু আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ“ (সুরাহ ইখলাস: ১) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। আর এটি আবূ হুরাইরার উপর মাওকুফ।

তাখরীজ: তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন নং ২৯০১; ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭৮৭; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৪৮; তাহাবী, মুশকিলিল আছার নং ১২২১, ১২২২; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৭/২৫৪ আবূ হুরাইরা হতে মারফু’ হিসেবে; এর সনদ সহীহ।

এছাড়াও, এর সহীহ শাহিদ রয়েছে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬১৮০ তে। আরও দেখুন, বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫৩৭।









সুনান আদ-দারিমী (3472)


أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ عَنْ سَلَّامِ بْنِ أَبِي مُطِيعٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ




৩৪৭২. যির হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস: ১) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আসিম ইবনু আবী নুজুদ এর কারণে হাসান। আর এটি আব্দুল্লাহ’র উপর মাওকুফ।

তাখরীজ: দেখুন পরবর্তী হাদীসটি।









সুনান আদ-দারিমী (3473)


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ مِثْلَهُ




৩৪৭৩. (অপর সনদে) যির হতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদও হাসান।

তাখরীজ: নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫০৯, ১০৫১১; আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ২৬৮; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৪৩, ২৬২; আব্দুর রহমান ইবনু আহমাদ আর রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ১০৬ যঈফ সনদে; তাবারাণী, কাবীর ১০/১৭২ নং ১০২৪৫, ১০৪৮৪ মারফু’ হিসেবে; তায়ালিসী ২/২৬ নং ১৯৯১; ইবনুস সু্ন্নী, আমলুল ইয়াওমী ওয়াল লাইলাহ নং ৬৯২; তাহাবী, মুশকিলিল আছার নং ২/৮০; বাযযার, বাহরুয যুখ্খার নং ১৮৬৬ যা কাশফুল আস্তার ৩/৮৫ নং ২২৯৮; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৭/২২৪-২২৫ মারফু’ হিসেবে সহীহ সনদে। ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭৮৯; আহমাদ ৪/১২২ সহীহ সনদে।…

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৭৬; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৬৬ তে।









সুনান আদ-দারিমী (3474)


حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَجُلًا قَالَ وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّ هَذِهِ السُّورَةَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُبُّكَ إِيَّاهَا أَدْخَلَكَ الْجَنَّةَ




৩৪৭৪. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বললো, আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই এ সূরাহ ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরাহ ইখলাস: ১)-কে ভালবাসি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এ সূরাহ’র ভালবাসাই তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩৩৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৯৩, ৭৯৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৭৭৪, ১৭৭৫ তে।

এছাড়াও, রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ১০৮; ইবনুস সু্ন্নী, আমলুল ইয়াওমী ওয়াল লাইলাহ নং ৬৯০; ইবনু খুযাইমা নং ৫৩৭; আব্দ ইবনু হুমাইদ, আল মুনতাখাব নং ১৩০৬।









সুনান আদ-দারিমী (3475)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ شِهَابٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أُمِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ فَقَالَ ثُلُثُ الْقُرْآنِ أَوْ تَعْدِلُهُ




৩৪৭৫. হুমাইদ ইবনু আব্দুর রহমান তার মাতা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ“ (সুরাহ ইখলাস: ১) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেন, “কুরআনের এক তৃতীয়াংশ অথবা তার সমান।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: রাযী, ফাযাইলুল কুরআন নং ১০৭; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৪২; তাবারাণী, কাবীর ২৫/৭৪ নং ১৮২; আওসাত- মাজমাউল বাহরাইন নং ৩৪৩৪; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৭/২৫২; আহমাদ ৬/৪০৪; নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫৩১।

মালিক, কুরআন ১৯, মুরসালরূপে এবং আবূ সাঈদ হতে সহীহ সনদে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৯১ তে।…









সুনান আদ-দারিমী (3476)


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ هِلَالٍ عَنْ الرَّبِيعِ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ امْرَأَةٍ مِنْ الْأَنْصَارِ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ أَتَاهَا فَقَالَ أَلَا تَرَيْنَ إِلَى مَا جَاءَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ رُبَّ خَيْرٍ قَدْ أَتَانَا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا هُوَ قَالَ قَالَ لَنَا أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ ثُلُثَ الْقُرْآنِ فِي لَيْلَةٍ قَالَ فَأَشْفَقْنَا أَنْ يُرِيدَنَا عَلَى أَمْرٍ نَعْجِزُ عَنْهُ فَلَمْ نَرْجِعْ إِلَيْهِ شَيْئًا حَتَّى قَالَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ أَمَا يَسْتَطِيعُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ اللَّهُ الْوَاحِدُ الصَّمَدُ




৩৪৭৬. এক মহিলা আনসারী সূত্রে আবূ আইয়্যুব আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি সে মহিলার নিকট আগমণ করে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন, সে দিকে কি তোমরা লক্ষ্য কর না? মহিলা বললো, সম্ভবত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য কল্যাণই নিয়ে এসেছেন। তবে তা কি? তিনি বললেন, তিনি আমাদের বলেন: “তোমাদের কেউ কি এতে অক্ষম যে, এক রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়বে?“ তিনি বলেন, আমরা আশংকা করলাম যে, তিনি হয়তো (কুরআন পাঠের) বাড়তি নির্দেশ দিবেন, যা পালন করতে আমরা অক্ষম। ফলে আমরা তাঁর কথার প্রতি উত্তর দিলাম না। এমনকি তিনি তিনবার একথাটি বললেন। এরপর তিনি বললেন, “তোমাদের কেউ কি এতে সক্ষম নয় যে, সে “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ“ (সুরাহ ইখলাস: ১) পাঠ করবে?“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : যদি এ মহিলা সাহাবী হন, তবে এর সনদ সহীহ। আর তা নাহলে এ সনদে অজ্ঞাত পরিচয় রাবী রয়েছে।

তাখরীজ: তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন নং ২৮৯৮; নাসাঈ, কুবরা নং ১০৫১৪, ১০৫১৬, ১০৫১৭, ১০৫১৯; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৫৪, ২৫৯,২৬৮,; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৭/২৫৫-২৫৬। …

আমাদের বক্তব্য: হাদীসটি সহীহ। দেখুন, এর শাহিদ হিসেবে আবী সাঈদ খুদরীর হাদীসের উপর আমাদের টীকাটি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০১৮ তে।









সুনান আদ-দারিমী (3477)


حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ نُوحِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ مُحَمَّدٍ الْعَطَّارِ عَنْ أُمِّ كَثِيرٍ الْأَنْصَارِيَّةِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَرَأَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ خَمْسِينَ مَرَّةً غَفَرَ اللَّهُ لَهُ ذُنُوبَ خَمْسِينَ سَنَةً




৩৪৭৭. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ“ (সুরাহ ইখলাস: ১) পঞ্চাশবার পাঠ করবে, আল্লাহ তার পঞ্চাশ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : উম্মু কাছীর আল আনসারীর পরিচয় আমি জানতে পারিনি। অন্যান্য রাবীগণ বিশ্বস্ত।

তাখরীজ: ইবনু কাছীর, তাফসীর ৮/৫৪৪ তে একে আবু ইয়ালা মাউসিলী’র প্রতি সম্বোন্ধিত করেছেন। কিন্তু আমি মাউসিলীর কোন কিতাবে পাইনি। এবং মাউসিলীর ছাত্রদের মধ্যে ইবনু হিব্বানের সহীহ তেও পাইনি।

তবে তিরমিযী, ছাওবুল কুরআন নং ২৯০০; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫৪৭, ২৫৪৮; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩৬৫; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৬/২০৪ অন্য সনদে আনাস হতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণান করেছেন: “যে ব্যক্তি প্রত্যেক দিন “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ“ (সুরাহ ইখলাস: ১) দু’শবার পাঠ করবে, তার পঞ্চাশ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।“ এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল।

এছাড়াও, ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৬৬; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫৬৪; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৬/১৮৭ তে অপর সুত্রে আনাস হতে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন: ““যে ব্যক্তি “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ“ (সুরাহ ইখলাস: ১) দু’শবার পাঠ করবে, তার দু’শ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।“ এর সনদও দুর্বল। এর বক্তব্য মুযতারিব (বিক্ষিপ্ত); এতে অস্বীকৃতি রয়েছে। আল্লাহই ভাল জানেন।









সুনান আদ-দারিমী (3478)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ وَابْنُ لَهِيعَةَ قَالَا سَمِعْنَا يَزِيدَ بْنَ أَبِي حَبِيبٍ يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبُو عِمْرَانَ أَنَّهُ سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ تَعَلَّقْتُ بِقَدَمِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقْرِئْنِي سُورَةَ هُودٍ وَسُورَةَ يُوسُفَ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عُقْبَةُ إِنَّكَ لَنْ تَقْرَأَ مِنْ الْقُرْآنِ سُورَةً أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ وَلَا أَبْلَغَ عِنْدَهُ مِنْ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ قَالَ يَزِيدُ فَلَمْ يَكُنْ أَبُو عِمْرَانَ يَدَعُهَا كَانَ لَا يَزَالُ يَقْرَؤُهَا فِي صَلَاةِ الْمَغْرِبِ




৩৪৭৮. উক্ববাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কদমে (তাঁর খিদমাতে) লেগে থাকতাম। এমতাবস্থায় আমি তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাকে সূরাহ হুদ ও সুরাহ ইউসূফ শিক্ষা দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: “হে উক্ববাহ! কুরআনের “ক্বুল আউযু বিরব্বিল ফালাক্ব“ (সূরাহ ফালাক্ব: ১) এর চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় ও তার নিকট সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কোনো সূরাহ তুমি কখনো পাঠ করবে না।“ বর্ণনাকারী ইয়াযীদ বলেন, (উর্ধ্বতন বর্ণনাকারী) আবূ ইমরান মাগরিবের সালাতে তা পাঠ করা ছাড়তেন না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ৪/১৫৯, ৫/১৫৫; তাবারাণী, কাবীর ১৭/৩১২ নং ৮৬০, ৮৬২; ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৪২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১২১৩; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৮১৪।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৩৪, ১৭৩৫, ১৭৩৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৯৫, ১৮১৮, ১৮৪২; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৭৪ তে। এর বর্ণনাগুলি বিভিন্ন রকমের।

এছাড়াও, ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন নং ২৮২-২৮৯; আবী উবাইদ, ফাযাইলুল কুরআন পৃ. ২৭১; ইবনুস সু্ন্নী, আমলুল ইয়াওমী ওয়াল লাইলাহ নং ৬৯৬।









সুনান আদ-দারিমী (3479)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا لَيْثٌ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ قَالَ مَشَيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِي قُلْ يَا عُقْبَةُ فَقُلْتُ أَيَّ شَيْءٍ أَقُولُ قَالَ فَسَكَتَ عَنِّي ثُمَّ قَالَ يَا عُقْبَةُ قُلْ فَقُلْتُ أَيَّ شَيْءٍ أَقُولُ قَالَ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ فَقَرَأْتُهَا حَتَّى جِئْتُ عَلَى آخِرِهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ ذَلِكَ مَا سَأَلَ سَائِلٌ وَلَا اسْتَعَاذَ مُسْتَعِيذٌ بِمِثْلِهَا




৩৪৭৯. উক্ববাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হাঁটছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: “হে উক্ববাহ! বল। আমি বললাম, আমি কী বলব, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেন, এরপর তিনি আমার কথার জবাবে চুপ থাকলেন। এরপর তিনি আবার বললেন, “হে উক্ববাহ! বল। আমি বললাম, আমি কী বলব, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরপর তিনি আবার বললেন, “ক্বুল আউযু বিরব্বিল ফালাক্ব“ (সূরাহ ফালাক্ব: ১) এরপর আমি এর শেষ পর্যন্ত পাঠ করলাম। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “এর অনুরূপ কোন প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা এবং কোন আশ্রয় প্রার্থনাকারীর আশ্রয় প্রার্থনা নেই।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান মুহাম্মদ ইবনু ইজলান এর কারণে; তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: নাসাঈ, আল ইসতিয়াযাহ ৮/২৫৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২৫৬৪। আগের ও পরের হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (3480)


حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ هُوَ ابْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسٍ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ أُنْزِلَ عَلَيَّ آيَاتٌ لَمْ أَرَ أَوْ لَمْ يُرَ مِثْلَهُنَّ يَعْنِي الْمُعَوِّذَتَيْنِ




৩৪৮০. উকবা ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমার উপরে এমন কতক আয়াত নাযিল করা হয়েছে যার মত আর কখনও দেখিনি কিংবা দেখা যায় নি । অর্থাৎ তা হল ‘মু-আববিযাতাইন’।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৮১৪; নাসাঈ, আল ইসতিয়াযাহ ৮/২৫৪; ফাযাইলুল কুরআন নং ৫৫।আগের হাদীস দু’টি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (3481)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِسْطَامَ عَنْ يَحْيَى بْنِ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ الْحَارِثِ عَنْ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ ح وَحَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ الْعَبَّاسِ بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ قَالَ مَنْ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ فِي لَيْلَةٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنْ الْغَافِلِينَ




৩৪৮১. আল কাসিম আবূ আব্দুর রহমান ও আব্বাস ইবনু মাইমুন হতে বর্ণিত, তারা উভয়ে বলেন, তামীম দারী বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে দশটি আয়াত (সালাতে) পাঠ করবে, তাকে গাফিলদের মধ্যে লিখা হবে না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এটি তামীর দারীর উপর মাওকুফ।

তাখরীজ: পরবর্তী হাদীসগুলি দেখুন। এবং এর শাহিদ হাদীসও সামনে আসছে।









সুনান আদ-দারিমী (3482)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِسْطَامَ عَنْ يَحْيَى بْنِ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ الْحَارِثِ عَنْ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ وَفَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَا مَنْ قَرَأَ بِعَشْرِ آيَاتٍ فِي لَيْلَةٍ كُتِبَ مِنْ الْمُصَلِّينَ




৩৪৮২. আল কাসিম আবূ আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তামীম দারী ও ফুযালাহ ইবনু উবাইদ উভয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে দশটি আয়াত (সালাতে) পাঠ করবে, তাকে মুসল্লী (সালাত আদায়কারীদের) মধ্যে লিখা হবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ এটি বিচ্ছিন্নতার কারণে। কাসিম আবূ আব্দুর রহমান তামীম দারীর সাক্ষাত পাননি। তবে এর কিছু অংশ পূর্বের টীকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তাখরীজ: বর্ণনা করেছেন ইবনু মানসূর ১/১১৬ নং ২৩; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ২১৯৬ মারফু’ হিসেবে। এর সনদও যঈফ। আবী হাতিম তার ইলাল ১/১৫১ নং ৪২২ তে এ হাদীস সম্পর্কে তার ছেলের জিজ্ঞাসার জবাবে বলেন, এটি ভূল, বরং এটি তামীম ও ফুযালা’র উপর মাওকুফ (তাদের ব্কতব্য)।