সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ، حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ عُبَيْدٍ، قَالَ: كَانَ يُقَالُ: تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ وَانْتَفِعُوا بِهِ، وَلَا تَعَلَّمُوهُ لِتَتَجَمَّلُوا بِهِ، فَإِنَّهُ يُوشِكُ إِنْ طَالَ بِكُمْ عُمُرٌ، أَنْ يَتَجَمَّلَ ذُو الْعِلْمِ بِعِلْمِهِ، كَمَا يَتَجَمَّلُ ذُو الْبِزَّةِ بِبِزَّتِهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৩৮১. হারীয হাবীব ইবনু উবাইদ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে: তোমরা ইলম শিক্ষা কর এবং তা দ্বারা উপকৃত হও। তা দ্বারা সাজসজ্জা (সৌন্দর্যমণ্ডিত) করার উদ্দেশ্যে তা শিক্ষা করো না। যদি বেশি দিন বেঁচে থাকো, তবে অচিরেই দেখবে যে, ইলমের অধিকারী ব্যক্তি তার ইলম দ্বারা নিজেকে সুসজ্জিত করছে, যেভাবে পোশাকের অধিকারী ব্যক্তি তার পোশাক দ্বারা নিজেকে সুসজ্জিত করে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমদ, আয যুহদ পৃ: ৩৮৬; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৬/১০২; ইবনুল মুবারক, আয যুহদ নং ১৩৪৫; মিশকাতে তিবরিযী একে দারেমী’র সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন।
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنِ الْأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الشَّرِّ فَقَالَ: «لَا تَسْأَلُونِي عَنِ الشَّرِّ، وَاسْأَلُونِي عَنِ الْخَيْرِ، يَقُولُهَا ثَلَاثًا» ثُمَّ قَالَ: أَلَا إِنَّ شَرَّ الشَّرِّ، شِرَارُ الْعُلَمَاءِ، وَإِنَّ خَيْرَ الْخَيْرِ، خِيَارُ الْعُلَمَاءِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :الأحوص ضعيف الحفظ وبقية مدلس وقد عنعن وحكيم بن عمير تابعي فالحديث مرسل أيضا
৩৮২. আহওয়াস ইবনু হাকীম তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক ব্যক্তি অকল্যাণকর বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তখন তিনি বলেন: “আমাকে তোমরা অকল্যাণকর বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না, বরং কল্যাণকর বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো- তিনি একথা তিনবার বললেন।“ তারপর তিনি বললেন: “জেনে রাখো, সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি হলো ঐ ব্যক্তি যে আলিমদের মধ্যে খারাপ; আবার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ব্যক্তি হলো ঐ ব্যক্তি যে আলিমদের মধ্যে ভালো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আল আহওয়াস যঈফুল হিফয’ বা স্মৃতিশক্তি দূর্বল। এছাড়া বাকিয়াহ মুদাল্লিস এবং সে ‘আন আ‘ন’ পদ্ধতিতে এটি বর্ণনা করেছেন। আর হাকিম ইবনু উমাইর তাবিঈ। সুতরাং হাদীসটি মুরসালও বটে।
তাখরীজ: খতীব তিবরিযী মিশকাত নং ২৬৭ এ একে দারেমীর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ الْأَسْوَدِ، عَنْ عِيسَى، قَالَ: سَمِعْتُ الشَّعْبِيَّ، يَقُولُ: " إِنَّمَا كَانَ يَطْلُبُ هَذَا الْعِلْمَ مَنِ اجْتَمَعَتْ فِيهِ خَصْلَتَانِ: الْعَقْلُ وَالنُّسُكُ، فَإِنْ كَانَ نَاسِكًا، وَلَمْ يَكُنْ عَاقِلًا، قَالَ: هَذَا أَمْرٌ لَا يَنَالُهُ إِلَّا الْعُقَلَاءُ فَلَمْ يَطْلُبْهُ. وَإِنْ كَانَ عَاقِلًا، وَلَمْ يَكُنْ نَاسِكًا قَالَ: هَذَا أَمْرٌ لَا يَنَالُهُ إِلَّا النُّسَّاكُ، فَلَمْ يَطْلُبْهُ. فَقَالَ: الشَّعْبِيُّ وَلَقَدْ رَهِبْتُ أَنْ يَكُونَ يَطْلُبُهُ الْيَوْمَ مَنْ لَيْسَتْ فِيهِ وَاحِدَةٌ مِنْهُمَا: لَا عَقْلٌ وَلَا نُسُكٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৩৮৩. ঈসা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শা’বীকে বলতে শুনেছি: কেবল সেই ব্যক্তিই এ ইলম অন্বেষণ করতো, যে তার নিজের মধ্যে দু’টি গুণের সমাবেশ করতে সক্ষম: আকল’ বা বুদ্ধি এবং সাধনা বা ইবাদত। ফলে যে ব্যক্তি শুধু ইবাদতগুজার হয় কিন্তু ‘আকিল’ বা বুদ্ধিমান নয়, সে বলে: এটি এমন একটি বিষয় যেটি বুদ্ধিমান লোকেরা ব্যতীত কেউ লাভ করতে পারে না। যার ফলে সে তা অন্বেষণ (করার চেষ্টা-ই) করে না। আর যে বুদ্ধিমান হয় কিন্তু ইবাদতগুজার না হয়, সে বলে: এটি এমন একটি বিষয় যেটি ইবাদতগুজার লোকেরা ব্যতীত কেউ লাভ করতে পারবে না। যার ফলে সেও তা অন্বেষণ (করার চেষ্টা) করে না। তারপর শা’বী বললেন: আমার ভয় হয় যে, এখন এমন ব্যক্তি হয়তো তা (জ্ঞান) অন্বেষণ করবে, যার মধ্যে এ দু’টি গুণের একটিও নেই: না আছে বুদ্ধি বা জ্ঞান, আর না আছে ইবাদত বা সাধনা।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবীদ দুনিয়া, আল আকল ওয়া ফাদলুহু নং ৫১; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৮০১।
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ: زَعَمَ لِي سُفْيَانُ، قَالَ: كَانَ الرَّجُلُ لَا يَطْلُبُ الْعِلْمَ حَتَّى يَتَعَبَّدَ قَبْلَ ذَلِكَ أَرْبَعِينَ سَنَةً
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৩৮৪. আবু আসিম বলেন, সুফিয়ান আমার সম্পর্কে ধারণা করে বলেন: “এ লোকটি ইলম অর্জনের পূর্বে চল্লিশ বছর ধরে ইবাদতে না কাটানো পর্যন্ত এ ইলম অন্বেষণ করেন নি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: রমহরমুযী, আলমুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৫১।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ بُرْدِ بْنِ سِنَانٍ أَبِي الْعَلَاءِ، عَنْ مَكْحُولٍ، قَالَ: «مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ وَلِيُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ، أَوْ لِيَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ، فَهُوَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات وهذا إسناده صحيح
৩৮৫. মাকহুল হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি এ উদ্দেশ্যে ইলম শিক্ষা করবে যে, তা দ্বারা জাহিলদের (মুর্খদের) সাথে তর্ক-বিতর্ক করবে, বা তা দ্বারা আলিমদের সাথে প্রতিযোগিতা করবে অথবা তা দ্বারা লোকদের মনোযোগ নিজের দিকে আকৃষ্ট করবে, তাহলে সে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য এবং এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ৮/৭৩১ নং ৬১৭৭ সহীহ সনদে; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমদ, যিয়াদাতুহু ফিয যুহদ পৃ: ২৬৪; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১১৩২; পূর্বের টীকা দেখুন।
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ بِسْطَامَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ حَمْزَةَ، حَدَّثَنِي النُّعْمَانُ، عَنْ مَكْحُولٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ، أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ، أَوْ يُرِيدُ أَنْ يُقْبِلَ بِوُجُوهِ النَّاسِ إِلَيْهِ، أَدْخَلَهُ اللَّهُ جَهَنَّمَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات غير أنه مرسل
৩৮৬. মাকহুল হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি এ উদ্দেশ্যে ইলম শিক্ষা করবে যে, তা দ্বারা আলিমদের সাথে প্রতিযোগিতা করবে, কিংবা তা দ্বারা জাহিলদের (মুর্খদের) সাথে তর্ক-বিতর্ক করবে, কিংবা তা দ্বারা লোকদের মনোযোগ নিজের দিকে আকৃষ্ট করবে, তাহলে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত। তবে এটি মুরসাল। (তবে মারফু’ হিসেবেও এটি সহীহ-যা তাখরীজে উল্লেখ আছে।-অনুবাদক)
তাখরীজ: তবে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীসটি এর শাহিদ হাদীস যা আমরা মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৭ এ পূর্ণ তাখরীজ করেছি। আরও দেখুন মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস নং ৮৭৫-৮৭৮।
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ خَلِيفَةَ، عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: إِنَّمَا يُحْفَظُ حَدِيثُ الرَّجُلِ عَلَى قَدْرِ نِيَّتِهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف
৩৮৭. শাহার ইবনু হাওশাব, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কোনো লোকের হাদীস ততটুকুই মুখস্ত থাকে, যতটুকুর নিয়াত (বিশুদ্ধ) থাকে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।
তাখরীজ: এ সম্পর্কে আমি আর কোথাও পাইনি।
أَخْبَرَنَا يَعْلَى، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنِ الْقَاسِمِ، قَالَ: قَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ إِنِّي لَأَحْسَبُ الرَّجُلَ يَنْسَى الْعِلْمَ كَانَ يَعْلَمُهُ لِلْخَطِيئَةِ كَانَ يَعْمَلُهَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف
৩৮৮. কাসিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেন: আমার ধারণা, কোনো লোক যে পরিমাণে পাপ করে, সে তার শিক্ষাকৃত ইলম সেই পরিমাণে ভুলে যায়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। আবু খায়ছামাহ, ইলম নং ১৩২; ইবনুল মুবারক, আয যুহদ নং ৮৩; ওয়াকী’, আয যুহদ নং ২৬৯; আহমদ, আয zwj;যুহদ পৃ: ১৯৫-১৯৬; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ১/১৩১; খতীব, ইক্বতিদাউল ইলমুল আমল নং ৯৬; জামি’ নং ১৮৫০; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১১৯৫। পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দেখুন, আমার তাহক্বীক্বকৃত মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৯৯০ হাদীস।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ لُقْمَانَ الْحَكِيمَ كَانَ يَقُولُ لِابْنِهِ: «يَا بُنَيَّ، لَا تَعَلَّمِ الْعِلْمَ لِتُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ، أَوْ لِتُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ، أَوْ تُرَائِيَ بِهِ فِي الْمَجَالِسِ، وَلَا تَتْرُكِ الْعِلْمَ زُهْدًا فِيهِ، وَرَغْبَةً فِي الْجَهَالَةِ. يَا بُنَيَّ اخْتَرِ الْمَجَالِسَ عَلَى عَيْنِكَ، وَإِذَا رَأَيْتَ قَوْمًا يَذْكُرُونَ اللَّهَ، فَاجْلِسْ مَعَهُمْ، فَإِنَّكَ إِنْ تَكُنْ عَالِمًا، يَنْفَعْكَ عِلْمُكَ، وَإِنْ تَكُنْ جَاهِلًا، يُعَلِّمُوكَ، وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَطَّلِعَ عَلَيْهِمْ بِرَحْمَتِهِ، فَيُصِيبَكَ بِهَا مَعَهُمْ، وَإِذَا رَأَيْتَ قَوْمًا، لَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ، فَلَا تَجْلِسْ مَعَهُمْ، فَإِنَّكَ إِنْ تَكُنْ عَالِمًا، لَا يَنْفَعْكَ عِلْمُكَ، وَإِنْ تَكُنْ جَاهِلًا، زَادُوكَ غَيًّا، وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَطَّلِعَ عَلَيْهِمْ بِعَذَابٍ فَيُصِيبَكَ مَعَهُمْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن إلى شهر بن حوشب
৩৮৯. শাহর ইবনু হাওশাব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার নিকট এ খবর পৌঁছেছে যে, লুকমান হাকীম তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন: হে আমার পুত্র! তুমি এ উদ্দেশ্যে ইলম শিক্ষা করবে না যে, তা দ্বারা আলিমদের সাথে প্রতিযোগিতা করবে, কিংবা তা দ্বারা জাহিলদের (মুর্খদের) সাথে তর্ক-বিতর্ক করবে, কিংবা সমাবেশে লোকদেরকে তা প্রদর্শন করবে। আর ইলম থেকে উদাসীন হয়ে এবং মূর্খতার আশায় তুমি ইলমকে পরিত্যাগ করবে না।
হে আমার পুত্র! তোমার সামনের মজলিসকে অগ্রাধিকার দাও; আর যখন তুমি লোকদেরকে আল্লাহর যিকির করতে দেখবে, তখন তাদের সাথে বসে যাও। ফলে তুমি যদি আলিম হও, তবে (অন্যদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে) তোমার ইলম তোমার উপকারে আসবে। আর যদি জাহিল হও, তবে তারা তোমাকে ইলম শিক্ষা দেবে। আশা করা যায় আল্লাহ তাদের উপর রহমত বর্ষণ করবেন; ফলে তাদের সাথে zwj;তুমিও সেই রহমত প্রাপ্ত হবে।
আর যখন লোকদেরকে দেখবে, তারা আল্লাহর যিকির করছে না, তখন তুমি তাদের সাথে বসবে না। তাহলে যদি তুমি আলিম হও, তবে তোমার ইলম তখন তোমার কোনো উপকারে আসবে না। আর তুমি যদি একজন জাহিল (মুর্খ্য) হও, তারা তোমার অজ্ঞতা আরও বৃদ্ধি করবে। এবং হতে পারে আল্লাহ তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন এবং তাদের সাথে সেই আযাব তোমার উপরও আপতিত হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ শাহর ইবনু হাওশাব পর্যন্ত হাসান।
তাখরীজ: ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম, নং ৬৭৮; আহমদ, আয যুহদ ১/১৫৩; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৯/৫৫ উবাইদ ইবনু আমির বলেন, লুকমান বলেন....। পরবর্তী আছারটিও দেখুন।
أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، عَنْ سَلْمَانَ بْنِ سُمَيْرٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، قَالَ: «لَا تُحَدِّثِ الْبَاطِلَ الْحُكَمَاءَ فَيَمْقُتُوكَ، وَلَا تُحَدِّثِ الْحِكْمَةَ لِلسُّفَهَاءِ، فَيُكَذِّبُوكَ، وَلَا تَمْنَعِ الْعِلْمَ أَهْلَهُ، فَتَأْثَمَ، وَلَا تَضَعْهُ فِي غَيْرِ أَهْلِهِ فَتُجَهَّلَ. إِنَّ عَلَيْكَ فِي عِلْمِكَ حَقًّا، كَمَا أَنَّ عَلَيْكَ فِي مَالِكَ حَقًّا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৩৯০. কাছীর ইবনু মুররাহ বলেন: জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিকট মিথ্যা কথা বলো না, তাহলে তারা তোমাকে অবজ্ঞা/ঘৃণা করবে। আর মুর্খদের নিকট জ্ঞানের কথা বলো না, তাহলে তারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। ইলমের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিকে ইলম থেকে বঞ্চিত করো না, তাহলে তুমি পাপী হবে। আর ইলমকে তার উপযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্যত্র দান করো না, তাহলে সে তোমাকে অজ্ঞ বলবে। তোমার উপর তোমার ইলমের হক রয়েছে, যেভাবে তোমার উপর তোমার মাল-সম্পদের হক রয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমদ, আয যুহদ পৃ: ৩৮৬; রমহরমুযী, আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৮০৪; থতীব, আলজামি’ লি আখলাকির রাবী নং ৭৯০।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ، أَنَّ أَبَا فَرْوَةَ، حَدَّثَهُ: أَنَّ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَانَ يَقُولُ: «لَا تَمْنَعِ الْعِلْمَ مِنْ أَهْلِهِ، فَتَأْثَمَ، وَلَا تَنْشُرْهُ عِنْدَ غَيْرِ أَهْلِهِ فَتُجَهَّلَ، وَكُنْ طَبِيبًا رَفِيقًا، يَضَعُ دَوَاءَهُ حَيْثُ يَعْلَمُ أَنَّهُ يَنْفَعُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف فيه عبد الله بن صالح كاتب الليث وهو ضعيف وفي الإسناد إعضال
৩৯১. মুয়াবিয়া বর্ণনা করেন যে, আবু ফুরুত তার নিকট বর্ণনা করেন যে, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিস সালাম বলতেন: ইলমের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিকে ইলম থেকে বঞ্চিত করো না, তাহলে তুমি পাপী হবে। আর উপযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্যত্র ইলম প্রকাশ করো না, তাহলে তোমাকে অজ্ঞ বলা হবে। তুমি এমন নরম অন্তরের ডাক্তার হয়ে যাও, যিনি সেখানেই তার ঔষধ প্রয়োগ করেন, যেখানে তা উপকারী হবে বলে তিনি জানেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এতে লাইছের কাতিব (লেখক) আব্দুল্লাহ ইবনু সলিহ রয়েছে, তিনি যঈফ।...।
তাখরীজ: তবে আব্দুল্লাহ ইবনু সলিহের মুতাবিয়াত বর্ণনা রয়েছে, যা ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৬৯৬ এ বর্ণনা করেছেন। আরও দেখুন, মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৮০৮; হিলইয়াতুল আউলিয়া ৭/২৭৩।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ، عَنْ غَيْلَانَ، عَنْ مُطَرِّفٍ، قَالَ: «لَا تُطْعِمْ طَعَامَكَ مَنْ لَا يَشْتَهِيهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৩৯২. গায়লান মুতাররিফ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তুমি এমন ব্যক্তিকে তোমার খাদ্য দান করো না, যে তা কামনা-প্রত্যাশা করে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: রমহরমুযী, আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৮৪৩; খতীব, আল জামি’উল আখলাকুর রাবী নং ৭৩৮।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ شَابُورَ، سَمِعَ شَهْرَ بْنَ حَوْشَبٍ، يَقُولُ: قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ: «يَا بُنَيَّ لَا تَعَلَّمِ الْعِلْمَ لِتُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ، وتُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ، وَتُرَائِيَ بِهِ فِي الْمَجَالِسِ، وَلَا تَتْرُكِ الْعِلْمَ زَهَادَةً فِيهِ، وَرَغْبَةً فِي الْجَهَالَةِ، وَإِذَا رَأَيْتَ قَوْمًا لا يَذْكُرُونَ اللَّهَ، فَاجْلِسْ مَعَهُمْ، إِنْ تَكُ عَالِمًا، يَنْفَعْكَ عِلْمُكَ، وَإِنْ تَكُ جَاهِلًا، عَلَّمُوكَ، وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَطَّلِعَ عَلَيْهِمْ بِرَحْمَتِهِ، فَيُصِيبَكَ بِهَا مَعَهُمْ، وَإِذَا رَأَيْتَ قَوْمًا لَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ فَلَا تَجْلِسْ مَعَهُمْ، إِنْ تَكُ عَالِمًا لَمْ يَنْفَعْكَ عِلْمُكَ، وَإِنْ تَكُ جَاهِلًا، زَادُوكَ غَيًّا - أَوْ عِيًّا - وَلَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَطَّلِعَ عَلَيْهِمْ بِسَخَطٍ فَيُصِيبَكَ بِهِ مَعَهُمْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح إلى شهر بن حوشب ولكنه معضل
৩৯৩. দাউদ ইবনু সাবূর হতে বর্ণিত, তিনি শাহর ইবনু হাওশাবকে বলতে শুনেছেন, লুকমান হাকীম তাঁর পূত্র কে বলেছিলেন: হে আমার পূত্র! তুমি এ উদ্দেশ্যে ইলম শিক্ষা করবে না যে, তা দ্বারা আলিমদের সাথে প্রতিযোগিতা (গর্ব) করবে, কিংবা তা দ্বারা জাহিলদের (মুর্খদের) সাথে তর্ক-বিতর্ক করবে, কিংবা সমাবেশে লোকদেরকে তা প্রদর্শন করবে। আর ইলম থেকে উদাসীন হয়ে এবং মুর্খতার আশায় তুমি ইলমকে পরিত্যাগ করো না।
আর যখন তুমি লোকদেরকে আল্লাহর যিকির করতে[1] দেখ, তখন তাদের সাথে বসে যাও। ফলে তুমি যদি একজন আলিম হও, তবে তোমার ইলম তোমার উপকারে আসবে। আর যদি জাহিল হও, তবে তারা তোমাকে ইলম শিক্ষা দেবে। আশা করা যায় আল্লাহ তাদের উপর রহমত বর্ষণ করবেন; ফলে তাদের সাথে zwj;তুমিও সেই রহমত প্রাপ্ত হবে।
আর যখন লোকদেরকে দেখবে, তারা আল্লাহর যিকির করছে না, তখন তুমি তাদের সাথে বসবে না। কেননা, তুমি যদি একজন আলিম হও, তবে তোমার ইলম তখন তোমার কোনো উপকারে আসবে না। আর তুমি যদি একজন জাহিল (মুর্খ্য) হও, তাহলে তারা তোমার বিভ্রান্তি- কিংবা অজ্ঞতা আরও বৃদ্ধি করবে। এবং হতে পারে আল্লাহ তাদের উপর ক্রোধ নাযিল করবেন এবং তাদের সাথে সেই ক্রোধ তোমার উপরও আপতিত হবে।[2]
[1] (এখানে মুহাক্কিক্বের তাহক্বীক্বকৃত এ কিতাবে ‘লা’ বা না শব্দটি রয়েছে। কিন্তু পূর্বে উল্লেখিত এ হাদীসে এ শব্দটি নাই। আমাদের ধারণা শব্দটি ভুল করে দুইবার হয়ে গিয়েছে, যা পরের বাক্যেও রয়েছে। তাই আমরা শব্দটি বাদ দিয়ে অনুবাদ করেছি।- অনুবাদক)
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : শাহর ইবনু হাওশাব পর্যন্ত এর সনদ সহীহ। কিন্তু এটি zwj;মু’দ্বাল।
তাখরীজ: ইবনুল মুবারক, আয যুহদ নং ৯৫২; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৬/৬২-৬৩; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৬৭৯, ইবনু মানসুর ইবনু উয়াইনাহ হতে এ সনদে বর্ণনা করেছেন। পূর্বের ৩৮৯ নং আছারটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ ثُوَيْرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: «يَا حَمَلَةَ الْعِلْمِ اعْمَلُوا بِهِ، فَإِنَّمَا الْعَالِمُ مَنْ عَمِلَ بِمَا عَلِمَ وَوَافَقَ عِلْمُهُ عَمَلَهُ، وَسَيَكُونُ أَقْوَامٌ يَحْمِلُونَ الْعِلْمَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، يُخَالِفُ عَمَلُهُمْ عِلْمَهُمْ، وَتُخَالِفُ سَرِيرَتُهُمْ عَلَانِيَتَهُمْ، يَجْلِسُونَ حِلَقًا فَيُبَاهِيَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا، حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ لَيَغْضَبُ عَلَى جَلِيسِهِ أَنْ يَجْلِسَ إِلَى غَيْرِهِ وَيَدَعَهُ، أُولَئِكَ لَا تَصْعَدُ أَعْمَالُهُمْ فِي مَجَالِسِهِمْ، تِلْكَ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :بشر بن سلم منكر الحديث وثوير بن أبي فاخته ضعيف ويحيى بن جعدة ما عرفنا له رواية عن علي فيما نعلم
৩৯৪. ইয়াহইয়া ইবনু জা’দাহ আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: হে ইলমের ধারক (আলিম)গণ! তোমরা তোমাদের ইলম অনুযায়ী আমল কর; কেননা, আলিম তো হলেন সেই ব্যক্তি যিনি তার জ্ঞান অনুসারে আমল করেন এবং তার আমল তার ইলমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আর অচিরেই এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে, যারা ইলমের ধারক (আলিম) হবে কিন্তু তাদের ইলম তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তাদের আমল হবে তাদের ইলমের বিপরীত। তাদের গোপন বিষয়সমূহ হবে প্রকাশ্য বিষয়সমূহের বিপরীত। তারা গোলাকৃতি হয়ে (হালাকায়) বসে একে অপরের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে। এমনকি কোনো ব্যক্তি তার নিকট না বসে অন্যের নিকট বসলে সে এতে রাগান্বিত হবে এবং সে তাকে পরিত্যাগ করবে। আর এরা হলো ঐ সকল লোক যাদের সেই সকল মজলিসে কৃত আমলসমূহ আল্লাহ তা’আলা’-র নিকট উঠবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : বাশার ইবনু সালম মুনকারুল হাদীস (হাদীসের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত)। ছাবীর ইবনু আবী ফাখতাহ যঈফ। আমরা যতটা জানতে পেরেছি, ইয়াহইয়া ইবনু জা’দাহ কর্তৃক আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কোনো বর্ণনা আমরা জানতে পারিনি। আল্লাহই সর্বাধিক জানেন।
তাখরীজ: খতীব, ইক্বতিদাউল ইলমুল আমল নং ৯; আল জামি’ নং ৩২১; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ১২৩৬ এর টীকায় সংযোজন করেছেন।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: كَفَى بِالْمَرْءِ عِلْمًا أَنْ يَخْشَى اللَّهَ، وَكَفَى بِالْمَرْءِ جَهْلًا، أَنْ يُعْجَبَ بِعِلْمِهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৩৯৫. মুসলিম মাসরুক হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: কোনো লোকের আলিম হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে আল্লাহকে ভয় করে। আবার কোনো লোকের জাহিল হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার ইলমের জন্য বিস্মিত/আনন্দিত হয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি ৩২২ নং এ গত হয়েছে।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَنبَأَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُجَيْرٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، قَالَ: لَوْ أَنَّ أَدْنَى هَذِهِ الْأُمَّةِ عِلْمًا أَخَذَتْ أُمَّةٌ مِنَ الْأُمَمِ بِعِلْمِهِ، لَرَشَدَتْ تِلْكَ الْأُمَّةُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن
৩৯৬. আব্দুল্লাহ ইবনু জুবায়ের মুয়াবিয়া ইবনু ক্বুররাহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: পূর্ববর্তী জাতীসমূহের কোন জাতি এ উম্মতের কোন সাধারণ ইলমধারী ব্যক্তিকে তার ইলমের কারণে আঁকড়ে ধরে, তবে নিশ্চয়ই সেই জাতি সঠিক পথ (হেদায়েত) লাভ করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।
তাখরীজ: আমি এ বিষয়টি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: «إِنْ كَانَ الرَّجُلُ لَيُصِيبُ الْبَابَ مِنَ الْعِلْمِ فَيَعْمَلُ بِهِ، فَيَكُونُ خَيْرًا لَهُ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، لَوْ كَانَتْ لَهُ، فَجَعَلَهَا فِي الْآخِرَةِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :ثلاثة أحاديث بإسناد واحد وهو إسناد صحيح
৩৯৭. হিশাম হাসান হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যদি কোনো লোক জ্ঞানের কোনো একটি অধ্যায় শিক্ষা করে এবং সে অনুযায়ী সে আমল করে, তবে তা তার জন্য দুনিয়া ও এর মধ্যে যা কিছু আছে- তা থেকে উত্তম হবে। যদি তা (দুনিয়া ও এর মধ্যে যা কিছু আছে) সে লাভ করতো, তবে তাও সে আখিরাতে (-এর কাজে) নিযুক্ত করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এটি ও পরের দু’টি- মোট তিনটি হাদীসের সনদ একই। আর তা সহীহ।
তাখরীজ: ইবনুল মুবারক, আয যুহদ নং ৭৯; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ২৭৩, ৩১৫; ইবনু আবী শাইবা, ১৩/৫০১ নং ১৭০৫০;
قَالَ: قَالَ الْحَسَنُ،: " كَانَ الرَّجُلُ إِذَا طَلَبَ الْعِلْمَ لَمْ يَلْبَثْ أَنْ يُرَى ذَلِكَ فِي بَصَرِهِ، وَتَخَشُّعِهِ، وَلِسَانِهِ، وَيَدِهِ، وَصَلَاتِهِ، وَزُهْدِهِ
৩৯৮. তিনি বলেন, হাসান আরও বলেছেন: কোনো লোক যখন জ্ঞান অর্জন করে, তখন তার দৃষ্টিতে, তার খুশু’তে, তার জিহবাতে, তার হাতে, তার সালাতে এবং তার ধার্মিকতায় তা পরিলক্ষিত হোক- এর অপক্ষায় সে থাকে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আগের হাদীসটির মতই একই সহীহ সনদবিশিষ্ট ।
তাখরীজ: আগের হাদীসের মতই। তার সাথে আহমদ, আয যুহদ পৃ: ২৬১।
قَالَ: وَقَالَ مُحَمَّدٌ،: انْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ هَذَا الْحَدِيثَ، فَإِنَّمَا هُوَ دِينُكُمْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :ثلاثة أحاديث بإسناد واحد وهو إسناد صحيح
৩৯৯. তিনি বলেন, আর মুহাম্মদ (ইবনু সীরীন) বলেন: তোমরা ভাল করে লক্ষ্য করো, কার নিকট হতে তোমরা এ হাদীস গ্রহণ করছো। কেননা, তা-ই তোমাদের দীন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : হাদীস তিনটি একই সহীহ সনদবিশিষ্ট।
তাখরীজ: সামনে ৪৪৩ এ এ সনদে এবং ৪৩৮ নং এ অপর একটি সনদে আসছে। তা ইবনু সীরীনের কথা হিসেবে সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দমা, সনদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত।; খতীব, আল ফাকিহ ওয়াল মুতাফাককিহ ২/৯৬।
আর এটি মারফু’ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, তবে তা সহীহ নয়। সহীহ তাই, যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ، يَقُولُ: مَا ازْدَادَ عَبْدٌ عِلْمًا، فَازْدَادَ فِي الدُّنْيَا رَغْبَةً، إِلَّا ازْدَادَ مِنَ اللَّهِ بُعْدًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪০০. বাশার ইবনুল হাকাম বলেন, আমি সুফইয়ানকে বলতে শুনেছি: যখন কোনো বান্দা ইলম বৃদ্ধি করে আবার (এর দ্বারা) সে zwj;দুনিয়ার প্রতি আকাংখাও বৃদ্ধি করে, তখন অবশ্যই আল্লাহ হতে তার দূরত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এখানে ব্যতীত অন্যত্র আমি এটি পাইনি।