সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ نُعْمَانَ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّ عَبِيدَةَ، دَعَا بِكُتُبِهِ، فَمَحَاهَا عِنْدَ الْمَوْتِ، وَقَالَ: إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَلِيَهَا قَوْمٌ، فَلَا يَضَعُونَهَا مَوَاضِعَهَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪৮১. নু’মান ইবনু কায়েস হতে বর্ণিত, উবাইদাহ তার মৃত্যুকালীন সময়ে তার লেখা কিতাবসমূহ চাইলেন এবং (সেগুলো নিয়ে আসা হলে) তিনি সেগুলো মুছে দিলেন। আর বললেন: আমার আশংকা হয় যে, পরবর্তীতে এমন লোকেরা এগুলোর মালিক হবে, যারা এগুলোকে এর যথাযোগ্য স্থানে স্থাপন করবে না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৯/১৭ নং ৬৩৫৩; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৬/৬৩; খতীব, তাক্বয়ীদুল ইলম পৃ: ৬১, ৬২; আবু খায়ছামা, আল ইলম নং ১১২; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৩৬৩, ৩৬৪ এর সনদও সহীহ।
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ، وَزَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، أَنَّهُ كَرِهَ أَنْ يُكْتَبَ الْعِلْمُ فِي الْكَرَارِيسِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف ليث وهو: ابن أبي سليم
৪৮২. লাইছ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি খাতায় ইলম লিপিবদ্ধ করাকে অপছন্দ করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, লাইছ যঈফ হওয়ার কারণে। (সহীহ শাহিদ থাকার কারণে এটি সহীহ। তাখরীজে দেখুন।-অনুবাদক)
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ৯/১৮ নং ৬৩৫৯; খতীব, তাক্বয়ীদুল ইলম পৃ: ৪৭ লাইছ থেকে মাওকুফ হিসেবে।
এর শাহিদ পূর্ববর্তী ৪৭৯ নং হাদীসটি, যা সহীহ।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: مَا زَالَ هَذَا الْعِلْمُ عَزِيزًا، يَتَلَقَّاهُ الرِّجَالُ، حَتَّى وَقَعَ فِي الصُّحُفِ، فَحَمَلَهُ أَوْ دَخَلَ فِيهِ غَيْرُ أَهْلِهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪৮৩. আওযায়ী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: লোকদের (মাঝে) এ জ্ঞান অর্জন সম্মানের সাথেই অব্যাহত থাকবে যতদিন পর্যন্ত তা গ্রন্থ বা পুস্তিকায় লিপিবদ্ধ করা না হবে এবং তা (এ ইলম)nbsp; কিংবা এর (ইলমের) মধ্যে যথাযোগ্য ব্যক্তি ব্যতীত অন্যরা তা বহন না করবে বা এতে অনুপ্রবেশ না করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, তাক্বয়ীদুল ইলম পৃ: ৬৪; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৩৭১ সহীহ সনদে।
أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يُونُسَ، قَالَ: «كَانَ الْحَسَنُ يَكْتُبُ وَيُكْتِبُ» وَكَانَ ابْنُ سِيرِينَ لَا يَكْتُبُ وَلَا يُكْتِبُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪৮৪. শু’বাহ, ইউনুস হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হাসান নিজে (ইলম) লিপিবদ্ধ করে রাখতেন এবং অন্যদের দিয়েও লেখাতেন; কিন্তু ইবনু সীরীন লিখতেনও না, অন্যদের দ্বারাও লেখাতেন না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: দেখুন, জামি’ বায়ানিল ইলম ১/৯০ নং ৩৮৭, ৩৯০।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، أَنبَأَنَا الْعَوَّامُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، قَالَ: بَلَغَ ابْنَ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ عِنْدَ نَاسٍ كِتَابًا يُعْجَبُونَ بِهِ، فَلَمْ يَزَلْ بِهِمْ حَتَّى أَتَوْهُ بِهِ، فَمَحَاهُ ثُمَّ قَالَ: «إِنَّمَا هَلَكَ أَهْلُ الْكِتَابِ قَبْلَكُمْ، أَنَّهُمْ أَقْبَلُوا عَلَى كُتُبِ عُلَمَائِهِمْ، وَتَرَكُوا كِتَابَ رَبِّهِمْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪৮৫. ইবরাহীম তাইমী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট খবর পৌঁছল যে, লোকদের নিকট একটি কিতাব (লেখা) রয়েছে যা তাদেরকে বিস্মিত/আনন্দিত করছে। আর তার নিকট এটি নিয়ে আসার আগ পর্যন্ত তা অব্যাহত রইল। আর যখন তার নিকট এটি নিয়ে আসা হলো, তখন তিনি এটি মুছে/নিশ্চিহ্ন করে দিলেন এবং বললেন: তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের (ইয়াহুদী ও খৃস্টানদের) ধ্বংসের কারণ তারা তাদের উলামাগণের (লিখিত) কিতাবসমূহে আত্মনিয়োগ করেছিলো, কিন্তু তাদের রবের কিতাবকে পরিত্যাগ করেছিলো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, তাক্বয়ীদুল ইলম পৃ: ৫৬; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৩১৯ সহীহ সনদে।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ: قُلْتُ لِعَبِيدَةَ أَكْتُبُ مَا أَسْمَعُ مِنْكَ، قَالَ: «لَا» قُلْتُ: فَإِنْ وَجَدْتُ كِتَابًا أَقْرَؤُهُ، قَالَ: لَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
৪৮৬. মুহাম্মদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উবাইদাহকে জিজ্ঞেস করলাম: আমি আপনার নিকট থেকে যা কিছু শুনি, তা কি আমি লিপিবদ্ধ করতে পারি? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: তাহলে আমি যদি কোনো কিতাব/লিখিত কিছু পাই, তবে আমি কি সেটা পড়তে পারি? তিনি বললেন: না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, তাক্বয়ীদুল ইলম পৃ: ৪৫; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৩৬০; ইবনু আবী শাইবা ৯/১৭ নং ৬৩৫৬; আবু খাইছামা, আল ইলম নং ১৫০।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنبَأَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ،: أَلَا تُكْتِبُنَا، فَإِنَّا لَا نَحْفَظُ؟ فَقَالَ: «لَا، إِنَّا لَنْ نُكْتِبَكُمْ، وَلَنْ نَجْعَلَهُ قُرْآنًا، وَلَكِنِ احْفَظُوا عَنَّا، كَمَا حَفِظْنَا نَحْنُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪৮৭. আবু নাযরাহ বলেন: আমি আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম: আপনি কি আমাদেরকে (হাদীস) লেখাবেন না? কেননা, আমরা মনে রাখতে পারি না। তখন তিনি বললেন: না। আমরা কখনোই তোমাদেরকে লেখেবো না, আর না আমরা একে কুরআনে (’র মতো কিতাবে) পরিণত করব। বরং আমরা যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মুখস্ত বা স্মরণ রেখেছি, তোমরাও তদ্রূপ আমাদের থেকে মুখস্ত বা হিফয করো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, তাক্বয়ীদুল ইলম পৃ: ৩৮ সহীহ সনদে, পৃ: ৩৬, ৩৭, ৩৮ অপর সনদে; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৩৩৮, ৩৩৯,৩৪০; ইবনু আবী শাইবা ৯/৫২ নং ৬৪৯১; রমহরমুযী, আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৩৬৩ সবাই বিভিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا كَثِيرٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ: إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ لَا يَكْتُبُ وَلَا يُكْتِبُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف محمد بن كثير الصنعاني ولكنه لم ينفرد به بل تابعه عليه المعافى بن عمران وهو ثقة فيصح الإسناد
৪৮৮. আওযাঈ বলেন, আমি আবু কাছীরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে zwj;শুনেছি: নিশ্চয়ই আবু হুরাইরা ( নিজে হাদীস) লিপিবদ্ধ করেন না এবং তিনি (অন্যকে দিয়েও) লেখান না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা, মুহাম্মদ ইবনু কাছীর যঈফ। তবে এটি বর্ণনায় তিনি একাকী নন, তার অনুসরণে এটি আরও বর্ণনা করেছেন আল মু’আফা ইবনু ইমরান, আর তিনি নির্ভরযোগ্য। ফলে সেটি এর সনদকে নির্ভরযোগ্য (সহীহ) বানিয়ে দেয়। আল্লাহই ভাল জানেন।
তাখরীজ: আবু খায়ছামা, আল ইলম, নং ১৪০; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৩৫৭; খতীব, তাক্বয়ীদুল ইলম পৃ: ৪২।
أَخْبَرَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ أَنَّهُ كَانَ يَكْتُبُ حَدِيثَ أَبِيهِ، فَرَآهُ أَبُو مُوسَى، فَمَحَاهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لجهالة أبي موسى
৪৮৯. হুমাইদ ইবনু হিলাল, আবু বুরদাহ হতে বর্ণনা করেন: তিনি তার পিতার হাদীস লিপিবদ্ধ করতেন। তারপর যখন আবু মুসা তা দেখলেন, তখন সেটা মুছে দিলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কেননা, আবু মুসা অজ্ঞাত পরিচয়। (তবে অপর দু’টি সহীহ ও জাইয়্যেদ সনদে এটি আবূ বুরদা হতে বর্ণিত আছে। তাখরীজ দেখুন-অনুবাদক)
তাখরীজ: রমহরমুযী, আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৩৬৯; খতীব, তাক্বয়ীদুল ইলম পৃ: ৩৯-৪০ সহীহ সনদে,; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৩৪৭; ইবনু আবী শাইবা ৯/৫৩ নং ৬৪৯৫; আবু খায়ছামা, আল ইলম, নং ১৪০ জায়্যেদ সনদে।
أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ، حَدَّثَنِي قُرَيْشُ بْنُ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ لِي: ابْنُ عَوْنٍ، وَاللَّهِ مَا كَتَبْتُ حَدِيثًا قَطُّ، قَالَ: وقال ابْنُ سِيرِينَ لَا وَاللَّهِ مَا كَتَبْتُ حَدِيثًا قَطُّ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : أسناده فيه قريش بن أنس وقد اختلط وهو من رجال البخاري في صحيحه
৪৯০. কুরাইশ ইবনু আনাস বলেন, আমাকে ইবনু আউন বলেন: আল্লাহর কসম! আমি কখনোই কোনো হাদীস লিপিবদ্ধ করিনি। তিনি বলেন: আর ইবনু সীরীন বলেন: না, আল্লাহর কসম! আমি কখনোই কোনো হাদীস লিপিবদ্ধ করিনি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ সনদে কুরাইশ ইবনু আনাস রয়েছেন, তিনি (বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুর পূর্বে হাদীস বর্ণনায়) তালগোল পাকিয়ে ফেলতেন। তবে তিনি ইমাম বুখারীর, আস সহীহ’ গ্রন্থের একজন বর্ণনাকারী...।
তাখরীজ: রমহরমুযী, আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৩৬৮।
قَالَ ابْنُ عوْنٍ، قَالَ لِي: ابْنُ سِيرينَ، عنْ زيْدِ بْنِ ثابتٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَرَادِنِي مرْوانُ بْنُ الْحَكَمِ - وَهُوَ أَمِيرٌ عَلَى الْمَدِينَةِ - أنْ أُكْتِبَهُ شَيْئًا، قَالَ: «فَلَمْ أَفْعَلْ»، قَالَ: «فَجَعَلَ سِتْرًا بَيْنَ مَجْلِسِهِ وَبَيْنَ بَقِيَّةِ دَارِهِ» قَالَ: فَكَانَ أَصْحَابُهُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِ، وَيَتَحَدَّثُونَ فِي ذَلِكَ الْمَوْضِعِ، فَأَقْبَلَ مَرْوَانُ عَلَى أَصْحَابِهِ، فَقَالَ: مَا أُرَانَا إِلَّا قَدْ خُنَّاهُ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيَّ قَالَ: قُلْتُ وَمَا ذَاكَ؟ قَالَ: مَا أُرَانَا إِلَّا قَدْ خُنَّاكَ، قَالَ: قُلتُ: وَمَا ذَاكَ؟ قَالَ: إِنَّا أَمَرْناَ رَجُلًا يَقْعُدُ خَلْفَ هَذَا السِّتْرِ فَيَكْتُبَ مَا تُفْتِي هَؤُلَاءِ وَمَا تَقُولُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪৯১. ইবনু সীরীন, যায়েদ ইবনু ছাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন: মদীনার আমীর মারওয়ান ইবনুল হাকাম চাইলো আমি যেনো তাকে কিছু লিখে দেই। তিনি বলেন: কিন্তু আমি তাকে কিছু লিখে দিলাম না। রাবী বলেন: তারপর সে তার মজলিস ও তার বাড়ীর বাকী অংশের মাঝে একটি পর্দা দিয়ে দিলেন। তিনি (রাবী) বলেন: তার সাথীরা তার নিকট এসে এ স্থানে বসে কথা-বার্তা বলতে লাগলো। তখন মারওয়ান তার সাথীদের কাছে এসে বললো: আমাদেরকে দেখে মনে হচ্ছে যে, ‘আমরা তার সাথে খেয়ানত করেছি।’ এরপর সে আমার নিকট এলো। তিনি বলেন: আমি বললাম: ওটা আবার কী? সে বলল: আমাদেরকে দেখে মনে হচ্ছে যে, ‘আমরা আপনার সাথে খেয়ানত করেছি (তথা আপনার বিনা অনুমতিতে গোপনে আমরা আপনার মতামত লিখার জন্য পর্দার পেছনে লোককে বসিয়েছি)।’ তিনি বলেন: আমি বললাম: সেটা আবার কী? সে বলল: আমরা একজন লোককে এ পর্দার পিছনে বসে এসকল লোকদেরকে আপনি যে ফাতওয়া দেন এবং যে সকল কথাবার্তা বলেন, তা লিখতে নির্দেশ দিয়েছি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ পূর্বের হাদীসের সনদের অনুরূপ। (তবে অন্য শব্দে ইবনু আব্দুল বারর এটি বর্ণনা করেছেন যার সনদ সহীহ। তাখরীজ দ্রষ্টব্য।- অনুবাদক)
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৯/৫৩ নং ৬৪৯৭ সংক্ষেপে; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৩৪৯; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ২/২/১১৭ এভাবে: মারওয়ান পর্দার পিছনে যাইদ ইবনু ছাবিতের জন্য কয়েকজন লোককে বসিয়ে রেখেছিলো এবং তারপর তাকে ডেকে তাকে প্রশ্ন করছিলো এবং তারা তার কথা লিখতে ছিলো। যখন যায়েদ এদেরকে দেখতে পেলেন, তখন বললেন: হে মারওয়ান, আমি ওযর পেশ করছি, আমি কিন্তু আমার নিজস্ব রায় বা মতামত থেকে বলছি।“ এর সনদ সহীহ।
তাবারানী, কাবীর ৫/১৩৭ নং ৪৮৭১ এ অতি দুর্বল সনদে।
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ قَالَ: قُلْتُ لِإِبْرَاهِيمَ: إِنَّ سَالِمًا أَتَمُّ مِنْكَ حَدِيثًا؟ قَالَ: إِنَّ سَالِمًا كَانَ يَكْتُبُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪৯২. মানসুর বলেন: আমি ইবরাহীমকে বললাম, সালিম কি আপনার থেকে হাদীস (সংরক্ষণ)-এর ক্ষেত্রে অধিক পূর্ণাঙ্গ? তিনি বললেন: (হতে পারে, কারণ) সালিম হাদীস লিখে রাখতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৬/২০৩; রমহরমুযী, আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৩৪৯; খতীব, তাক্বয়ীদুল ইলম পৃ: ১০৮-১০৯; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৩৮৫।
أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ يَزِيدَ الْحِمْصِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: وَفَدْتُ مَعَ أَبِي إِلَى يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ بِحُوَّارَيْنَ حِينَ تُوُفِّيَ مُعَاوِيَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، نُعَزِّيهِ وَنُهَنِّيهِ بِالْخِلَافَةِ، فَإِذَا رَجُلٌ فِي مَسْجِدِهَا يَقُولُ: أَلَا إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُرْفَعَ الْأَشْرَارُ، وَيُوضَعَ الْأَخْيَارُ. أَلَا إِنَّ «مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ، أَنْ يَظْهَرَ الْقَوْلُ وَيُخْزَنَ الْعَمَلُ، أَلَا إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ، أَنْ تُتْلَى الْمَثْنَاةُ فَلَا يُوجَدُ مَنْ يُغَيِّرُهَا»، قِيلَ لَهُ: وَمَا الْمَثْنَاةُ؟ قَالَ: «مَا اسْتُكْتِبَ مِنْ كِتَابٍ غَيْرِ الْقُرْآنِ، فَعَلَيْكُمْ بِالْقُرْآنِ فَبِهِ هُدِيتُمْ، وَبِهِ تُجْزَوْنَ، وَعَنْهُ تُسْأَلُونَ». فَلَمْ أَدْرِ مَنِ الرَّجُلُ، فَحَدَّثْتُ هَذَا الْحَدِيثِ بَعْدَ ذَلِكَ بِحِمْصَ، فَقَالَ لِي رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: أَوَ مَا تَعْرِفُهُ؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: ذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
৪৯৩. আমর ইবনু কায়িস বলেন: যখন মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মৃত্যু বরণ করলেন, তখন আমি ইয়াযীদ ইবনু মুয়াবিয়াকে সান্ত্বনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এবং শাসনভার লাভের কারণে তাকে অভিনন্দন জানানোর উদ্দেশ্যে হুওয়ারিণ শহরে আমার পিতার সাথে তার নিকট গমন করলাম। তখন সেখানকার মসজিদে এক ব্যক্তি বলছিলেন: জেনে রাখ! কিয়ামতের আলামত সমূহের মধ্যে রয়েছে, নিকৃষ্ট লোকদের উচ্চাসনে বসা এবং উত্তম লোকদের অপদস্থ হওয়া।
জেনে রাখ! কিয়ামতের আলামতের মধ্যে রয়েছে (আপন) মত জাহির করা এবং আমল সঞ্চয় করা।
আরও জেনে রাখো! কিয়ামতের আলামতের মধ্যে রয়েছে ‘আল-মাছনাহ’[1] পঠিত হবে (অনুসরণ করা হবে) কিন্তু তাতে বাধা দেওয়ার মত কাউকে পাওয়া যাবে না।
তাকে বলা হলো: ‘আল মাছনাহ’ আবার কী? তিনি বললেন: কুরআন ব্যতীত অন্য যে কোনো কিতাব লিখিয়ে নেয়া। কেননা, কুরআনকে আঁকড়ে ধরা তোমাদের উপর অপরিহার্য্য। কারণ এর মাধ্যমেই তোমাদেরকে হেদায়েত করা হয়েছে এবং এর জন্যই তোমাদেরকে প্রতিদান দান করা হবে এবং এ সম্পর্কেই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে।
আমি জানতাম না লোকটি কে। ফলে যখন আমি হাদীসটি হিমসে বর্ণনা করছিলাম, তখন লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমাকে বলল: হায়! তুমি কি তাকে (বর্ণনাকারীকে) চিনতে পারনি? আমি বললাম: না। সে বলল: তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা।[2]
[1] মাছনাহ’ বলতে এখানে বনী ইসরাঈলের আহবার (আলিমগণ) মুসা আলাইহিস সালামের পরে তাওরাত ব্যতীত অন্যান্য যে সকল কিতাব রচনা করেছিল- ইবনুল আছীর০ মুহাক্কিক্বেরে টীকা।
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।
তাখরীজ: হাকিম, ৪/৫৫৪- ৫৫৫।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو زُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ مُرَّةَ الْهَمْدَانِيِّ، قَالَ: جَاءَ أَبُو قُرَّةَ الْكِنْدِيُّ بِكِتَابٍ مِنَ الشَّامِ، فَحَمَلَهُ فَدَفَعَهُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَنَظَرَ فِيهِ فَدَعَا بِطَسْتٍ، ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَمَرَسَهُ فِيهِ، وَقَالَ: «إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِاتِّبَاعِهِمُ الْكُتُبَ وَتَرْكِهِمْ كِتَابَهُمْ» قَالَ: حُصَيْنٌ فَقَالَ مُرَّةُ: أَمَا إِنَّهُ لَوْ كَانَ مِنَ الْقُرْآنِ أَوِ السُّنَّةِ لَمْ يَمْحُهُ، وَلَكِنْ كَانَ مِنْ كُتُبِ أَهْلِ الْكِتَابِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪৯৪. মুররাহ আল হামদানী বলেন, আবু মুররাহ আল কিনদী শাম হতে একটি কিতাব নিয়ে আসলেন। এরপর সেটি নিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে দিলেন। তিনি এর দিকে তাকিয়ে একটি থালা (ট্রে) এবং পানি আনালেন এবং একে তাতে ডুবিয়ে হাত দিয়ে ডলতে লাগলেন আর বললেন: তোমাদের পূর্ববর্তীগণ নিশ্চয় ধ্বংস হয়েছেnbsp;তাদের প্রতি প্রেরিত কিতাব (তাওরাত) কে পরিত্যাগ করে (তাদের লিখিত) অন্যান্য কিতাবের অনুসরণ করার কারণে।[1]
হুসাইন (বর্ণনাকারী) বলেন: এরপর মুররাহ বললেন: জেনে রাখো! যদি সেটি কুরআন কিংবা সুন্নাহ (বা হাদীস)-এর অংশ বিশেষ হতো, তবে তিনি অবশ্যই তা মুছে দিতেন না। কিন্তু সেটি ছিল মূলত: আহলে কিতাবদের কিতাবসমূহের অংশবিশেষ।
[1] তাহক্বীক্ক: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, তাক্বয়ীদুল ইলম, পৃ: ৫৩; আরো দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ৯/১৭ নং ৬৩৫৫।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ، قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَتِفٍ فِيهِ كِتَابٌ، فَقَالَ: " كَفَى بِقَوْمٍ ضَلَالًا، أَنْ يَرْغَبُوا عَمَّا جَاءَ بِهِ نَبِيُّهُمْ، إِلَى مَا جَاءَ بِهِ نَبِيٌّ غَيْرُ نَبِيِّهِمْ، أَوْ كِتَابٌ غَيْرُ كِتَابِهِمْ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ يُتْلَى عَلَيْهِمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَرَحْمَةً وَذِكْرَى لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ) [العنكبوت: 51] " الْآيَةَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح وهو مرسل
৪৯৫. ইয়াহইয়া ইবনু জা’দাহ বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট একটি কিতাব কাঁধে বহন করে নিয়ে আসা হলো। তখন তিনি বললেন: কোন ক্বওমের পথভ্রষ্ট হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তাদের নবী যে সকল বিষয়সমূহ নিয়ে এসেছেন, তা বর্জন করে তাদের নবী ব্যতীত অন্য নবী যা নিয়ে এসেছিলেন, তারা সেই সকল বিষয়সমূহের প্রতি মনোযোগী/আগ্রহী হবে কিংবা তাদের (নবী কর্তৃক আনীত) কিতাবকে বাদ অন্য কিতাবের প্রতি মনোযোগী/আগ্রহী হবে। তারপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নাযিল করলেন: “তাদের জন্য কি এটাই যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার উপর কিতাব নাযিল করেছি যা তাদের নিকট পাঠ করা হচ্ছে? নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, সেই সকল লোকদের জন্য এতে রহমত ও উপদেশ রয়েছে ।“- (সূরা আনকাবুত: ৫১)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। কিন্তু এটি মুরসাল।
তাখরীজ: আবু দাউদ, মারাসিল নং ৪৫৪; ইবনু জারীর তাবারী, আত তাফসীর ২১/৭ যঈফ সনদে...।
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْأَشْعَثِ، عَنْ أَبِيهِ، وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: رَأَيْتُ مَعَ رَجُلٍ صَحِيفَةً، فِيهَا سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، فَقُلْتُ لَهُ: أَنْسِخْنِيهَا، فَكَأَنَّهُ بَخِلَ بِهَا، ثُمَّ وَعَدَنِي أَنْ يُعْطِيَنِيهَا، فَأَتَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَإِذَا هِيَ بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ: " إِنَّ مَا فِي هَذَا الْكِتَابِ بِدْعَةٌ، وَفِتْنَةٌ، وَضَلَالَةٌ، وَإِنَّمَا أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ هَذَا، وَأَشْبَاهُ هَذَا، إِنَّهُمْ كَتَبُوهَا، فَاسْتَلَذَّتْهَا أَلْسِنَتُهُمْ، وَأُشْرِبَتْهَا قُلُوبُهُمْ، فَأَعْزِمُ عَلَى كُلِّ امْرِئٍ يَعْلَمُ مكانِ كِتَابٍ، إِلَّا دَلَّ عَلَيْهِ، وَأُقْسِمُ بِاللَّهِ، - قَالَ: شُعْبَةُ فَأَقْسَمَ بِاللَّهِ؟ قَالَ: أَحْسَبُهُ أَقْسَمَ - لَوْ أَنَّهَا ذُكِرَتْ لهُ بِديرِ لهنْدِ نُراهُ - يَعْنِي مَكَانًا بِالْكُوفَةِ بَعِيدًا - لأتيْتهُ وَلَوْ مَشْيًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح
৪৯৬. আশ’আস তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, যিনি আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথী ছিলেন, তিনি বলেন: আমি এক ব্যক্তির নিকট একটি সহীফা (পুস্তিকা) দেখলাম যাতে রয়েছে: সুবহানাল্লাহ, ওয়ালহামদু লিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার। তখন আমি তাকে বললাম: আমাকে এর একটি অনুলিপি করে দিন। সে যেনো এতে কৃপণতা দেখাতে লাগল। তারপর সে আমাকে সেটা দেওয়ার ওয়াদা করল। তারপর আমি যখন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এলাম, তখন (দেখলাম) সেটি তার সামনে ছিল। তখন তিনি বললেন: এ কিতাবের মধ্যে যা কিছু আছে, সবই বিদ’আত, ফিতনা ও বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা। আর এটিই এবং এর অনুরূপ বিষয়াবলীই তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে ধ্বংস করেছে। (তা হলো) তারা সেগুলো লিখতো, তারপর এগুলো তাদের জবানকে খুব আনন্দ দিতো; এগুলো তাদের অন্তরসমূহ (গভীরভাবে) তাতে মজা উপভোগ করতো; আর সেগুলো প্রত্যেক ব্যক্তির উপর যাদুর প্রভাব বিস্তার করতো, যারা কোন কিতাবের মর্যাদা সম্পর্কে অবগত ছিল, সে-ই এর দিকে পথ দেখাতো। অত:পর আমি আল্লাহ’র কসম করে বলছি। শু’বা বলেন: তিনি আল্লাহর নামে কসম করলেন? তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমার ধারণা তিনি কসম করে (বললেন): যদি আমাদের দেখা কুফা হতে দূরে অবস্থিত ‘দায়র হিন্দ’ নামক স্থানেও এটি বর্ণিত হতো, তবুও আমি তার নিকট যেতাম এমনকি পায়ে হেঁটে হলেও।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: খতীব, তাক্বয়ীদুল ইলম, পৃ: ৫৫; ইবনু আবী শাইবা, ৯/৫৩ নং ৬৪৯৮; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৩৫০ সহীহ সনদে
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ هُوَ ابْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، «أَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَتَبُوا كِتَابًا، فَتَبِعُوهُ، وَتَرَكُوا التَّوْرَاةَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح وهو موقوف
৪৯৭. আবু বুরদাহ আবু মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, বনী ইসরাঈলগণ একটি কিতাব লিখেছিল, তারপর তাওরাত ছেড়ে তারা সেটিই অনুসরণ করেছিল।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ আর তা মাওকুফ।
তাখরীজ: খতীব, তাক্বয়ীদুল ইলম পৃ: ৫৬; তাবারানী, আল কাবীর (মাজমাউল যাওয়াইদ, নং ৬৭৬, ৯৪০) মারফু’ হিসেবে হাসান সনদে।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْمُغِيرَةِ، عَنْ عَفَّاقٍ الْمُحَارِبِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ: «إِنَّ نَاسًا يَسْمَعُونَ كَلَامِي، ثُمَّ يَنْطَلِقُونَ فَيَكْتُبُونَهُ، وَإِنِّي لَا أُحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يَكْتُبَ إِلَّا كِتَابَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
৪৯৮. ইফ্ফাক আল মুহারিবী তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: লোকেরা আমার কথা শুনে, অত:পর তারা ফিরে গিয়ে তা লিখে রাখে। কিন্তু আমি কারো জন্য আল্লাহর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিছু লিপিবদ্ধ করাকে জায়েয মনে করি না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জায়্যেদ।
তাখরীজ: মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ করেননি।
أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شُبْرُمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ الشَّعْبِيَّ، يَقُولُ: «مَا كَتَبْتُ سَوْدَاءَ فِي بَيْضَاءَ، وَلَا اسْتَعَدْتُ حَدِيثًا مِنْ إِنْسَانٍ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৪৯৯. ইবনু শুবরুমাহ বলেন, আমি শা’বীকে বলতে শুনেছি, আমি সাদা (পাতার) মধ্যে কখনো কালো দাগ দেইনি (কখনো কোনো কিছু লিপিবদ্ধ করিনি)। আর না লোকদের থেকে কোনো হাদীস পুনরায় শুনেছি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: রমহরমুযী, আল মুহাদ্দিসুল ফাসিল নং ৩৬০; আবু খায়ছামাহ, আল ইলম, নং ২৮; খতীব, তারিখ বাগদাদ ১২/২২৯, আল জামি’ নং ১৮৩২; ইবনু আব্দুল বার, জামি’ বায়ানিল ইলম নং ৩৬৮,৩৬৯; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৪/৩২১।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَخِيهِ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ: «لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَكْثَرَ حَدِيثًا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنِّي، إِلَّا مَا كَانَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فَإِنَّهُ كَانَ يَكْتُبُ وَلَا أَكْتُبُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৫০০. ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ তার ভাই থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের মাঝে আমার চেয়ে অধিক হাদীস জানে এমন কেউ নেই। তবে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ব্যতীত। কারণ, তিনি লিখে রাখতেন, আর আমি লিখতাম না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী, ৩১১; এর বিস্তারিত তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১৫২।