সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَطَاءٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ عَرْضُ الْكِتَابِ وَالْحَدِيثُ سَوَاءٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف
৬৬১. জা’ফর ইবনু মুহাম্মদ তার পিতা মুহাম্মদ রাহি. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (মুহাদ্দিসের সামনে) লিখিত পাণ্ডুলিপি উপস্থাপন করা এবং হাদীস (শোনানোর মাধ্যমে) উপস্থাপন করা- উভয়ই সমান।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।
তাখরীজ: ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ২/৮২৬; খতীব, আল কিফায়াহ পৃ: ২৬৪।
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَطَاءٍ قَالَ كَانَ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ يَرَى عَرْضَ الْكِتَابِ وَالْحَدِيثَ سَوَاءً وَكَانَ ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ يَرَى ذَلِكَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده ضعيف لضعف داود بن عطاء
৬৬২. দাউদ ইবনু আতা বলেন: (লিখিত) পাণ্ডুলিপি উপস্থাপন করা এবং হাদীস (শোনানোর মাধ্যমে) উপস্থাপন করা- উভয়কেই যাইদ ইবনু আসলাম রাহি. সমান গণ্য করতেন। এছাড়া ইবনু আবু যি’বও এই মত পোষণ করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যযীফ, কেননা, দাউদ ইবনু আত্বা যঈফ।
তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি। তবে অপর সূত্রে বর্ণনা করেছেন খতীব, আল কিফায়াহ পৃ: ২৭৬ ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেছেন: ইবনু আবূ যি’ব ‘আলিম কর্তৃক তোমাকে পাঠ করে শোনানোর চেয়ে আলিমের নিকট (হাদীস) পাঠ করে শোনানোকে উত্তম গণ্য করতেন।’
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ حَدَّثَنَا مُطَرِّفٌ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ أَنَّهُ كَانَ يَرَى الْعَرْضَ وَالْحَدِيثَ سَوَاءً
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬৬৩. মুতাররিফ মালিক ইবনু আনাস রাহি. হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (পাণ্ডুলিপি) উপস্থাপন করা এবং হাদীস (শোনানো)- উভয়কেই সমান গণ্য করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মালিক ইবনু আনাস হতে অনুরূপ কথা বর্ণনা করেছেন খতীব, আল কিফায়াহ পৃ: ২৭০, সনদ সহীহ।
أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ قَالَ كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَقُولُ يَقُومُ عَنْ يَسَارِهِ فَحَدَّثْتُهُ عَنْ سُمَيْعٍ الزَّيَّاتِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقَامَهُ عَنْ يَمِينِهِ فَأَخَذَ بِهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬৬৪. আ’মাশ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবরাহীম বলতেন: (ইমামের পিছনে মুকতাদী একজন হলে সেক্ষেত্রে) সে (ইমামের) বাম পাশে দাঁড়াবে। তারপর আমি যখন তার নিকট সুমাই’ আয যাইয়াতের সূত্রে ইবনু আব্বাস হতে হাদীস শুনালাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন’, তখন তিনি (তার পূর্বের মত পরিত্যাগ করে), এ মত গ্রহণ করলেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। ইবনু আব্বাস কর্তৃক তার খালা মায়মুনা’র ঘরে রাত্রিযাপন’-এর হাদীসের অংশ বিশেষ এ হাদীসটি। এটি বুখারী-মুসলিম উভয়ের বর্ণিত হাদীস।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৮৫৯, ১১৭ তে এর মূল রয়েছে। সহীহ মুসলিম ৭৬৩; আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৬৫ নং, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৯০, ১৪৪৫, ২১৯৬, ২৫৯২; মু’জামুশ শুয়ুখিল মাউসিলী নং ৩২৯; এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৭৭ এ।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ عَقَّارِ بْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنْ أَبِيهِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ نَشَدَ عُمَرُ النَّاسَ أَسَمِعَ مِنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدٌ مِنْكُمْ فِي الْجَنِينِ فَقَامَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فَقَالَ قَضَى فِيهِ عَبْدًا أَوْ أَمَةً فَنَشَدَ النَّاسَ أَيْضًا فَقَامَ الْمَقْضِيُّ لَهُ فَقَالَ قَضَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِي بِهِ عَبْدًا أَوْ أَمَةً فَنَشَدَ النَّاسَ أَيْضًا فَقَامَ الْمَقْضِيُّ عَلَيْهِ فَقَالَ قَضَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيَّ غُرَّةً عَبْدًا أَوْ أَمَةً فَقُلْتُ أَتَقْضِي عَلَيَّ فِيهِ فِيمَا لَا أَكَلَ وَلَا شَرِبَ وَلَا اسْتَهَلَّ وَلَا نَطَقَ أَنْ تُطِلَّهُ فَهُوَ أَحَقُّ مَا يُطَلُّ فَهَمَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِ بِشَيْءٍ مَعَهُ فَقَالَ أَشِعْرٌ فَقَالَ عُمَرُ لَوْلَا مَا بَلَغَنِي مِنْ قَضَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَجَعَلْتُهُ دِيَةً بَيْنَ دِيَتَيْنِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :الحديث صحيح متفق عليه
৬৬৫.[1] মুগীরাহ ইবনু zwj;শু’বাহ বলেন: উমার ইবনুল খাত্ত্বাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদেরকে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে গর্ভস্থ শিশু বা ভ্রূণ (হত্যার) ব্যাপারে ফায়সালা দিতে আপনাদের কেউ শুনেছেন কি? তখন মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেন, তিনি এরূপ ক্ষেত্রে একটি গোলাম অথবা বাঁদী প্রদানের ফায়সালা করেছেন।
তিনি পুনরায় লোকদেরকে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তখন যার পক্ষে তিনি এ ফায়সালা দিয়েছিলেন সেই বাদী ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার পক্ষে (গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতিপূরণ বা দিয়াত স্বরূপ) একটি গোলাম অথবা বাঁদী প্রদানের ফায়সালা করেছেন। তিনি পুনরায় লোকদেরকে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তখন যার বিপক্ষে তিনি এ ফায়সালা দিয়েছিলেন সেই বিবাদী ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার বিপক্ষে ‘গুররাহ’ (গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতিপূরণ বা দিয়াত) স্বরূপ একটি গোলাম অথবা বাঁদী প্রদানের ফায়সালা করেছেন। তখন আমি বলেছিলাম: আপনি আমার বিপক্ষে এমন একজনের বিষয়ে (ক্ষতিপূরণের) ফায়সালা দিলেন, যা খায়নি, পানও করেনি আবার কাঁন্নাকাটিও করেনি এবং কথাও বলেনি। বরং এ (দিয়াত) রহিত হওয়াই ছিল অধিকতর সঙ্গত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাতে থাকা কোনো একটি বস্তু তার দিকে ছুঁড়ে মারলেন এবং বললেন: এ কি কাব্য? (এ হাদীস শুনে) তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন: যদি আমার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ ফায়সালা না পৌঁছতো, তবে আমি দুটি দিয়াতের মধ্য থেকে অবশ্যই একটি দিয়াতের ব্যবস্থা করতাম।[2]
[1] এখানে আরো একটি ক্রমিক নং (৬৫৭) বাদ পড়েছে। ফলে সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত তিনটি সংখ্যা বাদ যাওয়ায় মুহাক্কিকের নুসখায় এটির নং হয়েছে ৬৬৮ যেখানে আমাদের অনুবাদে বাদ পড়া নং গুলো ঠিক করে এর নম্বর হয়েছে ৬৬৫।
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, তবে হাদীসটি সহীহ। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের বর্ণিত হাদীস।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী, ৭৩১৭, ৭৩১৮, ৬৯০৫, ৬৯০৭; সহীহ মুসলিম ১৬৮১-১৬৮৩। আমরা এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬০১৬। এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবু হুরাইরা হতে যা সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন আমার তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯১৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান ৬০১৮, ৬০২০।
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ قَالَ كَانَ سَلَّامٌ يَذْكُرُ عَنْ أَيُّوبَ قَالَ إِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَعْرِفَ خَطَأَ مُعَلِّمِكَ فَجَالِسْ غَيْرَهُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬৬৬. সালাম আউয়্যুব হতে উল্লেখ করতেন যে, তিনি বলেন: যদি তুমি তোমার শিক্ষকের দোষ-ত্রুটি জানতে চাও, তবে তিনি ব্যতীত অন্যদের সাথে বসো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৩/৯ সহীহ সনদে; আবু যুর’আহ, তারীখ নং ২০৭২
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ قَالَ تَذَاكَرْنَا بِمَكَّةَ الرَّجُلَ يَمُوتُ فَقُلْتُ عِدَّتُهَا مِنْ يَوْمِ يَأْتِيهَا الْخَبَرُ لِقَوْلِ الْحَسَنِ وَقَتَادَةَ وَأَصْحَابِنَا قَالَ فَلَقِيَنِي طَلْقُ بْنُ حَبِيبٍ الْعَنَزِيُّ فَقَالَ إِنَّكَ عَلَيَّ كَرِيمٌ وَإِنَّكَ مِنْ أَهْلِ بَلَدٍ الْعَيْنُ إِلَيْهِمْ سَرِيعَةٌ وَإِنِّي لَسْتُ آمَنُ عَلَيْكَ وَإِنَّكَ قُلْتَ قَوْلًا هَا هُنَا خِلَافَ قَوْلِ أَهْلِ الْبَلَدِ وَلَسْتُ آمَنُ فَقُلْتُ وَفِي ذَا اخْتِلَافٌ قَالَ نَعَمْ عِدَّتُهَا مِنْ يَوْمِ يَمُوتُ فَلَقِيتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ عِدَّتُهَا مِنْ يَوْمِ تُوُفِّيَ قَالَ وَسَأَلْتُ مُجَاهِدًا فَقَالَ عِدَّتُهَا مِنْ يَوْمِ تُوُفِّيَ وَسَأَلْتُ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ فَقَالَ مِنْ يَوْمِ تُوُفِّيَ وَسَأَلْتُ أَبَا قِلَابَةَ فَقَالَ مِنْ يَوْمِ تُوُفِّيَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ سِيرِينَ فَقَالَ مِنْ يَوْمِ تُوُفِّيَ وَحَدَّثَنِي نَافِعٌ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ مِنْ يَوْمِ تُوُفِّيَ وَسَمِعْت عِكْرِمَةَ يَقُولُ مِنْ يَوْمِ تُوُفِّيَ قَالَ وَقَالَ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ مِنْ يَوْمِ تُوُفِّيَ قَالَ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ مِنْ يَوْمِ تُوُفِّيَ قَالَ حَمَّادٌ وَسَمِعْتُ لَيْثًا حَدَّثَ عَنْ الْحَكَمِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ قَالَ مِنْ يَوْمِ تُوُفِّيَ قَالَ تُوُفِّيَ عَلِيٌّ مِنْ يَوْمِ يَأْتِيهَا الْخَبَرُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَقُولُ مِنْ يَوْمِ تُوُفِّيَ
৬৬৭. আইয়্যুব বলেন: আমরা মক্কায় এক মৃতব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন আমি বললাম: এর (মৃতব্যক্তির) স্ত্রী যেদিন স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারবে, সেদিন হতে তার ইদ্দত গণনা শুরু হবে। কারণ, হাসান, কাতাদাহ ও আমাদের সাথীরা সবাই এ মত পোষণ করেন। তারপর তালক ইবনু হাবীব আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: আপনি আমাদের নিকট সম্মানিত ব্যক্তি এবং আপনি সেই শহরের বাসিন্দাদের অন্যতম, যাদের দিকে দ্রুত সকলের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। এতদসত্ত্বেও আমি আপনার উপর নির্ভর করতে পারছি না। তিনি বললেন: আপনি এমন একটি কথা বললেন যা এ শহরাসীদের বক্তব্যের বিপরীত ফলে আমি (আপনার কথার উপর) নির্ভর করতে পারছি না। আমি বললাম: এ নিয়ে ইখতিলাফ রয়েছে কি? তিনি বলেন: হাঁ, তার (মহিলার) ইদ্দত শুরু হবে তার (স্বামীর) মৃত্যুর দিন থেকেই।
তখন আমি সাঈদ ইবনু জুবাইরের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে এটি জিজ্ঞেস করলাম। তিনি উত্তরে বলেন: তার (মহিলার) ইদ্দত শুরু হবে তার (স্বামীর) মৃত্যুর দিন থেকেই। আর আমি মুজাহিদকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: তার (মহিলার) ইদ্দত শুরু হবে তার (স্বামীর) মৃত্যুর দিন থেকেই। আর আমি আতা ইবনু আবী রাবাহকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: (মহিলার ইদ্দত শুরু হবে) তার (স্বামীর) মৃত্যুর দিন থেকেই। আর আমি আবু কিলাবাহকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: (মহিলার ইদ্দত শুরু হবে) তার (স্বামীর) মৃত্যুর দিন থেকেই। আর আমি মুহাম্মদ ইবনু সীরীনকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: (মহিলার ইদ্দত শুরু হবে) তার (স্বামীর) মৃত্যুর দিন থেকেই।
তিনি বলেন: আমাকে নাফি’ রাহি. বর্ণনা করেছেন: ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন: (মহিলার ইদ্দত শুরু হবে) তার (স্বামীর) মৃত্যুর দিন থেকেই। আমি ইকরিমাহকে বলেতে শুনেছি, তিনি বলেন: (মহিলার ইদ্দত শুরু হবে) তার (স্বামীর) মৃত্যুর দিন থেকেই। তিনি বলেন: তিনি আরও বললেন: জাবির ইবনু যাইদ বলেন: (মহিলার ইদ্দত শুরু হবে) তার (স্বামীর) মৃত্যুর দিন থেকেই। তিনি বলেন: তিনি আরও বললেন: ইবনু আব্বাস রাদ্বিযাল্লাহু আনহুমা বলতেন: (মহিলার ইদ্দত শুরু হবে) তার (স্বামীর) মৃত্যুর দিন থেকেই। হাম্মাদ বলেন, আমি লাইছকে হাকাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: (মহিলার ইদ্দত শুরু হবে) তার (স্বামীর) মৃত্যুর দিন থেকেই। তিনি বলেন: আলীরাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: (মহিলার ইদ্দত শুরু হবে) তার (স্বামীর) মৃত্যুর খবর তার নিকট পৌঁছানোর দিন থেকে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।।
তাখরীজ: দেখুন, মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ৫/১৯৬-১৯৮; সুনান ইবনু মানসূর ১/২৮৮, ২৮৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৬/৩২৭, ৩২৮, ৩২৯; সুনান বাইহাকী ৭/৪২৫, এখানে এটি অবিচ্ছিন্ন সনদে রয়েছে।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ سِمَاكِ بْنِ الْفَضْلِ عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ عَنْ الْحَكَمِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ أَتَيْنَا عُمَرَ فِي الْمُشَرَّكَةِ فَلَمْ يُشَرِّكْ ثُمَّ أَتَيْنَاهُ الْعَامَ الْمُقْبِلَ فَشَرَّكَ فَقُلْنَا لَهُ فَقَالَ تِلْكَ عَلَى مَا قَضَيْنَا وَهَذِهِ عَلَى مَا قَضَيْنَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده جيد
৬৬৮. ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত, হাকাম ইবনু মাসউদ বলেন: “আমরা শরীকানা (ভাগাভাগি)-এর বিষয়ে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট এলাম। কিন্তু তিনি আমাদের মাঝে তা বন্টন করলেন না। অতঃপর পরবর্তী বছরেও আমরা বিষয়টি নিয়ে তাঁর নিকট এলে তিনি আমাদের মাঝে বন্টন করে দিলেন। তখন আমরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: সেটিও ছিল আমাদের রায় অনুযায়ী, এটিও আমাদের রায় অনুযায়ী।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ১১/২৫৫ নং ১১১৪৪; বুখারী, আল কাবীর ২/৩৩১-৩৩২; ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ২/২২৩; বাইহাকী, ৬/২৫৫; আব্দুর রাযযাক ১০/২৪৯ নং ১৯০০৫; দেখুন লীসানুল মীযান ২/৩৩৮-৩৩৯ ও সুনানে সাঈদ ইবনু মানসূর পৃ: ৫৭।
أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ الْأَسْوَدُ قَالَ قَالَ ابْنُ مُنَبِّهٍ كَانَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِيمَا مَضَى يَضَنُّونَ بِعِلْمِهِمْ عَنْ أَهْلِ الدُّنْيَا فَيَرْغَبُ أَهْلُ الدُّنْيَا فِي عِلْمِهِمْ فَيَبْذُلُونَ لَهُمْ دُنْيَاهُمْ وَإِنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ الْيَوْمَ بَذَلُوا عِلْمَهُمْ لِأَهْلِ الدُّنْيَا فَزَهِدَ أَهْلُ الدُّنْيَا فِي عِلْمِهِمْ فَضَنُّوا عَلَيْهِمْ بِدُنْيَاهُمْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لانقطاعه: حجاج الأسود لم يدرك وهبا فيما نعلم والله أعلم
৬৬৯. হাজ্জাজ আল আসওয়াদ বলেন, ইবনু মুনাব্বিহ বলেছেন: ইতিপূর্বে ইলমের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ দুনিয়াদার লোকদেরকে তাদের ইলম প্রদান করতে কার্পণ্য করতেন। ফলে দুনিয়াদার লোকেরা তাদের (আহলে ইলমদের) ইলমের প্রতি আগ্রহী হতো। ফলে তারা তাদের দুনিয়া (এর মাল-সম্পদ) তাদের (আহলে ইলমদের) জন্য নিয়োজিত বা ব্যয় করতো। কিন্তু আজকের আহলে ইলম (ইলমের অধিকারীগণ) তাদের ইলমকে zwj;দুনিয়াদারদের জন্যই নিয়োজিত করেছেন। এতে দুনিয়াদাররা তাদের (ইলমের অধিকারীগণ) ইলমের ব্যাপারে অনাগ্রহী হয়েছে। ফলে তারা তাদের দুনিয়া (এর ধন-সম্পদ) এদের (আহলে ইলমদের)কে প্রদান করতে কার্পণ্য করে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ বিচ্ছিন্নতার কারণে। হাজ্জাজ আল আসওয়াদ, আমাদের জানামতে, ওয়াহাবের সাক্ষাত পাননি। আল্লাহই ভাল জানেন।
তাখরীজ: মুহাক্বিক্ব এর কোন তাখরীজ করেননি- অনুবাদক।
أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْكُمَيْتِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ وَهْبٍ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مُوسَى قَالَ مَرَّ سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بِالْمَدِينَةِ وَهُوَ يُرِيدُ مَكَّةَ فَأَقَامَ بِهَا أَيَّامًا فَقَالَ هَلْ بِالْمَدِينَةِ أَحَدٌ أَدْرَكَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا لَهُ أَبُو حَازِمٍ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ قَالَ لَهُ يَا أَبَا حَازِمٍ مَا هَذَا الْجَفَاءُ قَالَ أَبُو حَازِمٍ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَأَيُّ جَفَاءٍ رَأَيْتَ مِنِّي قَالَ أَتَانِي وُجُوهُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَلَمْ تَأْتِنِي قَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أُعِيذُكَ بِاللَّهِ أَنْ تَقُولَ مَا لَمْ يَكُنْ مَا عَرَفْتَنِي قَبْلَ هَذَا الْيَوْمِ وَلَا أَنَا رَأَيْتُكَقَالَ فَالْتَفَتَ سُلَيْمَانُ إِلَى مُحَمَّدِ بْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ فَقَالَ أَصَابَ الشَّيْخُ وَأَخْطَأْتُ قَالَ سُلَيْمَانُ يَا أَبَا حَازِمٍ مَا لَنَا نَكْرَهُ الْمَوْتَ قَالَ لِأَنَّكُمْ أَخْرَبْتُمْ الْآخِرَةَ وَعَمَّرْتُمْ الدُّنْيَا فَكَرِهْتُمْ أَنْ تُنْقَلُوا مِنْ الْعُمْرَانِ إِلَى الْخَرَابِ قَالَ أَصَبْتَ يَا أَبَا حَازِمٍ فَكَيْفَ الْقُدُومُ غَدًا عَلَى اللَّهِ قَالَ أَمَّا الْمُحْسِنُ فَكَالْغَائِبِ يَقْدُمُ عَلَى أَهْلِهِ وَأَمَّا الْمُسِيءُ فَكَالْآبِقِ يَقْدُمُ عَلَى مَوْلَاهُ فَبَكَى سُلَيْمَانُ وَقَالَ لَيْتَ شِعْرِي مَا لَنَا عِنْدَ اللَّهِ قَالَ اعْرِضْ عَمَلَكَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ قَالَ وَأَيُّ مَكَانٍ أَجِدُهُ قَالَ إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ وَإِنَّ الْفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٍ قَالَ سُلَيْمَانُ فَأَيْنَ رَحْمَةُ اللَّهِ يَا أَبَا حَازِمٍ قَالَ أَبُو حَازِمٍ رَحْمَةَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِنْ الْمُحْسِنِينَ قَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ يَا أَبَا حَازِمٍ فَأَيُّ عِبَادِ اللَّهِ أَكْرَمُ قَالَ أُولُو الْمُرُوءَةِ وَالنُّهَى قَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ فَأَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ أَبُو حَازِمٍ أَدَاءُ الْفَرَائِضِ مَعَ اجْتِنَابِ الْمَحَارِمِ قَالَ سُلَيْمَانُ فَأَيُّ الدُّعَاءِ أَسْمَعُ قَالَ أَبُو حَازِمٍ دُعَاءُ الْمُحْسَنِ إِلَيْهِ لِلْمُحْسِنِ قَالَ فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ لِلسَّائِلِ الْبَائِسِ وَجُهْدُ الْمُقِلِّ لَيْسَ فِيهَا مَنٌّ وَلَا أَذًى قَالَ فَأَيُّ الْقَوْلِ أَعْدَلُ قَالَ قَوْلُ الْحَقِّ عِنْدَ مَنْ تَخَافُهُ أَوْ تَرْجُوهُ قَالَ فَأَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْيَسُ قَالَ رَجُلٌ عَمِلَ بِطَاعَةِ اللَّهِ وَدَلَّ النَّاسَ عَلَيْهَا قَالَ فَأَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَحْمَقُ قَالَ رَجُلٌ انْحَطَّ فِي هَوَى أَخِيهِ وَهُوَ ظَالِمٌ فَبَاعَ آخِرَتَهُ بِدُنْيَا غَيْرِهِ قَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ أَصَبْتَ فَمَا تَقُولُ فِيمَا نَحْنُ فِيهِ قَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَوَ تُعْفِينِي قَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ لَا وَلَكِنْ نَصِيحَةٌ تُلْقِيهَا إِلَيَّ قَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ آبَاءَكَ قَهَرُوا النَّاسَ بِالسَّيْفِ وَأَخَذُوا هَذَا الْمُلْكَ عَنْوَةً عَلَى غَيْرِ مَشُورَةٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ وَلَا رِضَاهُمْ حَتَّى قَتَلُوا مِنْهُمْ مَقْتَلَةً عَظِيمَةً فَقَدْ ارْتَحَلُوا عَنْهَا فَلَوْ أُشْعِرْتَ مَا قَالُوا وَمَا قِيلَ لَهُمْ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنْ جُلَسَائِهِ بِئْسَ مَا قُلْتَ يَا أَبَا حَازِمٍ قَالَ أَبُو حَازِمٍ كَذَبْتَ إِنَّ اللَّهَ أَخَذَ مِيثَاقَ الْعُلَمَاءِ لَيُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا يَكْتُمُونَهُ قَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ فَكَيْفَ لَنَا أَنْ نُصْلِحَ قَالَ تَدَعُونَ الصَّلَفَ وَتَمَسَّكُونَ بِالْمُرُوءَةِ وَتَقْسِمُونَ بِالسَّوِيَّةِ قَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ كَيْفَ لَنَا بِالْمَأْخَذِ بِهِ قَالَ أَبُو حَاَزِمٍ تَأْخُذُهُ مِنْ حِلِّهِ وَتَضَعُهُ فِي أَهْلِهِ قَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ هَلْ لَكَ يَا أَبَا حَازِمٍ أَنْ تَصْحَبَنَا فَتُصِيبَ مِنَّا وَنُصِيبَ مِنْكَ قَالَ أَعُوذُ بِاللَّهِ قَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ وَلِمَ ذَاكَ قَالَ أَخْشَى أَنْ أَرْكَنَ إِلَيْكُمْ شَيْئًا قَلِيلًا فَيُذِيقَنِي اللَّهُ ضِعْفَ الْحَيَاةِ وَضِعْفَ الْمَمَاتِ قَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ ارْفَعْ إِلَيْنَا حَوَائِجَكَ قَالَ تُنْجِينِي مِنْ النَّارِ وَتُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ قَالَ سُلَيْمَانُ لَيْسَ ذَاكَ إِلَيَّ قَالَ أَبُو حَازِمٍ فَمَا لِي إِلَيْكَ حَاجَةٌ غَيْرُهَا قَالَ فَادْعُ لِي قَالَ أَبُو حَازِمٍ اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ سُلَيْمَانُ وَلِيَّكَ فَيَسِّرْهُ لِخَيْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَإِنْ كَانَ عَدُوَّكَ فَخُذْ بِنَاصِيَتِهِ إِلَى مَا تُحِبُّ وَتَرْضَى قَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ قَطُّ قَالَ أَبُو حَازِمٍ قَدْ أَوْجَزْتُ وَأَكْثَرْتُ إِنْ كُنْتَ مِنْ أَهْلِهِ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ مِنْ أَهْلِهِ فَمَا يَنْفَعُنِي أَنْ أَرْمِيَ عَنْ قَوْسٍ لَيْسَ لَهَا وَتَرٌ قَالَ لَهُ سُلَيْمَانُ أَوْصِنِي قَالَ سَأُوصِيكَ وَأُوجِزُ عَظِّمْ رَبَّكَ وَنَزِّهْهُ أَنْ يَرَاكَ حَيْثُ نَهَاكَ أَوْ يَفْقِدَكَ حَيْثُ أَمَرَكَ فَلَمَّا خَرَجَ مِنْ عِنْدِهِ بَعَثَ إِلَيْهِ بِمِائَةِ دِينَارٍ وَكَتَبَ إِلَيْهِ أَنْ أَنْفِقْهَا وَلَكَ عِنْدِي مِثْلُهَا كَثِيرٌ قَالَ فَرَدَّهَا عَلَيْهِ وَكَتَبَ إِلَيْهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أُعِيذُكَ بِاللَّهِ أَنْ يَكُونَ سُؤَالُكَ إِيَّايَ هَزْلًا أَوْ رَدِّي عَلَيْكَ بَذْلًا وَمَا أَرْضَاهَا لَكَ فَكَيْفَ أَرْضَاهَا لِنَفْسِي وَكَتَبَ إِلَيْهِ إِنَّ مُوسَى بْنَ عِمْرَانَ لَمَّا وَرَدَ مَاءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهَا رِعَاءً يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِنْ دُونِهِمْ جَارِيَتَيْنِ تَذُودَانِ فَسَأَلَهُمَا فَقَالَتَا لَا نَسْقِي حَتَّى يُصْدِرَ الرِّعَاءُ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ فَسَقَى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ وَذَلِكَ أَنَّهُ كَانَ جَائِعًا خَائِفًا لَا يَأْمَنُ فَسَأَلَ رَبَّهُ وَلَمْ يَسْأَلْ النَّاسَ فَلَمْ يَفْطِنْ الرِّعَاءُ وَفَطِنَتْ الْجَارِيتَانِ فَلَمَّا رَجَعَتَا إِلَى أَبِيهِمَا أَخْبَرَتَاهُ بِالْقِصَّةِ وَبِقَوْلِهِ فَقَالَ أَبُوهُمَا وَهُوَ شُعَيْبٌ هَذَا رَجُلٌ جَائِعٌ فَقَالَ لِإِحْدَاهُمَا اذْهَبِي فَادْعِيهِ فَلَمَّا أَتَتْهُ عَظَّمَتْهُ وَغَطَّتْ وَجْهَهَا وَقَالَتْ إِنَّ أَبِي يَدْعُوكَ لِيَجْزِيَكَ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا فَشَقَّ عَلَى مُوسَى حِينَ ذَكَرَتْ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا وَلَمْ يَجِدْ بُدًّا مِنْ أَنْ يَتْبَعَهَا إِنَّهُ كَانَ بَيْنَ الْجِبَالِ جَائِعًا مُسْتَوْحِشًا فَلَمَّا تَبِعَهَا هَبَّتْ الرِّيحُ فَجَعَلَتْ تَصْفِقُ ثِيَابَهَا عَلَى ظَهْرِهَا فَتَصِفُ لَهُ عَجِيزَتَهَا وَكَانَتْ ذَاتَ عَجُزٍ وَجَعَلَ مُوسَى يُعْرِضُ مَرَّةً وَيَغُضُّ أُخْرَى فَلَمَّا عِيلَ صَبْرُهُ نَادَاهَا يَا أَمَةَ اللَّهِ كُونِي خَلْفِي وَأَرِينِي السَّمْتَ بِقَوْلِكِ ذَا فَلَمَّا دَخَلَ عَلَىشُعَيْبٍ إِذَا هُوَ بِالْعَشَاءِ مُهَيَّأً فَقَالَ لَهُ شُعَيْبٌ اجْلِسْ يَا شَابُّ فَتَعَشَّ فَقَالَ لَهُ مُوسَى أَعُوذُ بِاللَّهِ فَقَالَ لَهُ شُعَيْبٌ لِمَ أَمَا أَنْتَ جَائِعٌ قَالَ بَلَى وَلَكِنِّي أَخَافُ أَنْ يَكُونَ هَذَا عِوَضًا لِمَا سَقَيْتُ لَهُمَا وَإِنَّا مِنْ أَهْلِ بَيْتٍ لَا نَبِيعُ شَيْئًا مِنْ دِينِنَا بِمِلْءِ الْأَرْضِ ذَهَبًا فَقَالَ لَهُ شُعَيْبٌ لَا يَا شَابُّ وَلَكِنَّهَا عَادَتِي وَعَادَةُ آبَائِي نُقْرِي الضَّيْفَ وَنُطْعِمُ الطَّعَامَ فَجَلَسَ مُوسَى فَأَكَلَ فَإِنْ كَانَتْ هَذِهِ الْمِائَةُ دِينَارٍ عِوَضًا لِمَا حَدَّثْتُ فَالْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ فِي حَالِ الِاضْطِرَارِ أَحَلُّ مِنْ هَذِهِ وَإِنْ كَانَ لِحَقٍّ لِي فِي بَيْتِ الْمَالِ فَلِي فِيهَا نُظَرَاءُ فَإِنْ سَاوَيْتَ بَيْنَنَا وَإِلَّا فَلَيْسَ لِي فِيهَا حَاجَةٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده مسلسل بالمجاهيل
৬৭০. দাহহাক ইবনু মুসা বলেন: সুলায়মান ইবনু আব্দুল মালেক মক্কার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে মদীনা অতিক্রম করছিলেন। সেখানে তিনি কয়েকদিন অবস্থান করেন। তখন তিনি বলেন, মদীনাতে এমন কেউ আছেন কি যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন? তখন লোকেরা তাকে বলল, আবু হাযিম রয়েছেন। তখন তিনি তার নিকট লোক পাঠালেন। আর যখন তিনি তার কাছে এলেন, তিনি তাকে বললেন: হে আবু হাযিম, (আপনার) এই কঠোরতার কারণ কী? আবু হাযিম বলেন: হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি আমার পক্ষ থেকে কী কঠোরতা দেখলেন? তিনি বললেন: আমার নিকট মদীনার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সকলেই এলো, কিন্তু আপনি এলেন না।
তিনি বললেন: হে আমীরুল মু’মিনীন! আমি আল্লাহর নিকট আপনার থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যে, যা হয়নি আপনি তা বলবেন। আজকের আগে আপনি আমাকে চিনতেন না, আর আমিও আপনাকে দেখিনি।
বর্ণনাকারী বলেন: এরপর সুলায়মান মুহাম্মদ ইবনু শিহাব যুহরী রাহ. দিকে ফিরে বললেন: এ শাইখ ঠিকই বলেছেন, আমিই ভুল করেছি। সুলায়মান বলেন: হে আবু হাযিম, আমাদের কী হলো যে, আমরা মৃত্যুকে অপছন্দ করছি? তিনি জবাবে বলেন: আপনারা আখিরাতকে বরবাদ বা শূন্য করে দিচ্ছেন এবং দুনিয়াকে আবাদ বা সমৃদ্ধ করছেন। ফলে সমৃদ্ধ (দুনিয়া) হতে বিরাণ বা শূন্য (আখিরাতে)’র দিকে স্থানান্তরিত হতে আপনারা অপছন্দ করছেন।
তিনি (সুলাইমান) বললেন: আপনি ঠিকই বলেছেন, হে আবু হাযিম। তাহলে আমরা আগামীকাল কিভাবে আল্লাহর সামনে যাবো? তিনি বললেন: মুহসিন বা নেককার ব্যক্তিগণ ঠিকমতোই উপস্থিত হবেন, যেভাবে অনুপস্থিত ব্যক্তি তার পরিবারের নিকট উপস্থিত হয়। আর খারাপ লোকেরা সেভাবেই যাবে, যেভাবে পলায়নকারী গোলাম তার মনিবের নিকট (লাঞ্ছিত ও ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায়) উপস্থিত হয়।
তখন সুলাইমান কাঁদতে লাগলেন। এরপর বললেন: হায়! আমি যদি জানতে পারতাম আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য কী রয়েছে! তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাবের সামনে আপনার আমলকে উপস্থাপন করুন (মিলিয়ে দেখুন)। তিনি (সুলাইমান) বলেন: আমি এটি (কুরআনে) কোন্ স্থানে পাব? তিনি (আবু হাযিম) বলেন: “
إِنَّ الْأَبْرَارَ لَفِي نَعِيمٍ وَإِنَّ الْفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٍ
অর্থ: নিশ্চয় নেককারগণ জান্নাতে এবং পাপীগণ জাহান্নামে থাকবে।“ –সূরা ইনফিতার: ১৩।
সুলাইমান বলেন: হে আবু হাযিম! তাহলে আল্লাহর রহমত কোথায়? আবু হাযিম তিলাওয়াত করলেন:
رَحْمَةَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِنْ الْمُحْسِنِينَ
অর্থ:আল্লাহর রহমত নেককারগণের অতি নিকটবর্তী ।“ সূরা আ’রাফ: ৫৬।
সুলাইমান তাকে বললেন: হে আবু হাযিম! আল্লাহর কোন্ বান্দা সবচেয়ে সম্মানিত? তিনি বলেন: মানবতা ও বিচক্ষণতার অধিকারী ব্যক্তিগণ। সুলাইমান তাকে বললেন: হে আবু হাযিম! কোন্ আমল সবচেয়ে উত্তম? আবু হাযিম বলেন: হারাম কাজসমূহ পরিত্যাগ করার সাথে সাথে ফরয ইবাদতসমূহ পালন করা। সুলাইমান তাকে বললেন: কোন্ দো’আ সর্বাধিক কবুল হয়? আবু হাযিম বলেন: যাকে ইহসান করা হয়, ইহসানকারীর জন্য তার দু’আ। তিনি বলেন: তারপর কোন্ সাদাকাহ বা দান সর্বোত্তম? তিনি (আবু হাযিম) বলেন: বিপদগ্রস্ত যাচ্ণাকারীকে করা দান এবং দরিদ্র-অভাবী পরিশ্রমের (উপার্জন হতে কৃত দান) যাতে কোনো খোঁটা ও কষ্ট প্রদান করা হয় নাই। তিনি বলেন: সবচেয়ে ন্যায্য কথা কোনটি? তিনি বলেন: সে যাকে ভয় করে এবং সে যার নিকট কিছু আশা করে- এমন লোকের সামনে ন্যায়সঙ্গত কথা বলা। তিনি বলেন: আর কোন্ মু’মিন সবচেয়ে বুদ্ধিমান? তিনি (আবু হাযিম) বলেন: এমন লোক যে আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজ করে এবং লোকদেরকে সে কাজের দিকে আহবান করে।
তিনি বলেন: কোন্ মু’মিন সর্বাধিক বোকা? তিনি বলেন: এমন লোক যে তার জালিম ভাইয়ের (কু-)প্রবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করে। ফলে সে অপরের দুনিয়ার বিনিময়ে নিজের আখেরাতকে বিক্রয় করে দেয়। সুলাইমান তাকে বললেন: আপনি ঠিকই বলেছেন। তাহলে আমরা যে অবস্থায় রয়েছি, সে ব্যাপারে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি আমাকে মাফ করবেন কি? সুলাইমান তাকে বললেন: না, তবে আপনি আমাকে নসীহত করুন। তিনি বললেন: হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার বাপ-দাদা তলোয়ার দিয়ে লোকদেরকে বশীভূত করেছেন। আর এ রাজ্য মুসলিমগণের সাথে পরামর্শ ছাড়াই জোরপূর্বক দখল করেছেন এবং তারা এতে সন্তুষ্ট ছিল না। এমনকি তারা তাদেরকে ব্যাপক আকারে হত্যা করেছেন। এরপর তারা গত হয়েছেন। আর আপনার জানা আছে, তারা কী বলেছে এবং তাদেরকে কী বলা হয়েছে? তখন মাজলিসে উপবিষ্ট লোকদের মধ্যেকার এক ব্যক্তি বলে উঠলো: হে আবু হাযিম, আপনি যা বললেন, তা কতই না মন্দ! আবু হাযিম বললেন: তুমি মিথ্যাচার করছো। আল্লাহ আলিমগণের নিকট থেকে এ অঙ্গীকার নিয়েছেন, যে তারা যেন অবশ্যই লোকদেরকে সবকিছু জানিয়ে দেয়, আর কোনো কিছু গোপন না করে। সুলাইমান তাকে বললেন: তাহলে এখন আমরা কিভাবে সংশোধিত হতে পারি? তিনি (আবু হাযিম) বলেন: আপনারা গর্ব-অহংকার পরিত্যাগ করুন এবং মানবিকতাকে আঁকড়ে ধরুন এবং (লোকদের মাঝে) সমানভাবে বণ্টন করুন।
সুলাইমান তাকে বললেন: (লোকদের নিকট থেকে আমাদের কর) গ্রহণ করার ত্রুটি কেমন? তিনি (আবু হাযিম) বলেন: এর হালালকে গ্রহণ করুন এবং যথাযোগ্য পাত্রে তা খরচ করুন। সুলাইমান তাকে বললেন: হে আবু হাযিম, আপনি কি আমাদেরকে সঙ্গ দান করবেন, যাতে আমরা আপনার নিকট থেকে কিছু লাভ করতে পারি এবং আপনিও আমাদের নিকট হতে কিছু লাভ করতে পারি। তিনি বলেন: আউযুবিল্লাহ (তা থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি)! সুলাইমান তাকে বললেন: তা কেন? তিনি বলেন: আমার ভয় হয়, যদি আমি যদি আপনাদের দিকে সামান্যও ঝুঁকে যাই, হয়তো আল্লাহ আমাকে জীবন ও মৃত্যুতে দ্বিগুণ (শাস্তির) স্বাদ আস্বাদন করাবেন। সুলাইমান তাকে বললেন: আপনি আমাদের নিকট আপনার প্রয়োজনসমূহ বলুন। তিনি বলেন: আপনি আমাকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দিন এবং আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। সুলাইমান বলেন: তা আমার আয়ত্বে নেই। আবু হাযিম বলেন: তাহলে এছাড়া আপনার নিকট আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন: আমার জন্য আপনি দো’আ করুন। আবু হাযিম বলেন: হে আল্লাহ, সুলাইমান যদি আপনার বন্ধু হয়ে থাকে, তবে দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণ লাভ তার জন্য সহজ করে দিন। আর যদি সে আপনার শত্রু হয়ে থাকে, তাকে তার কপালের চুল ধরে আপনি যা পছন্দ করেন এবং যাতে সন্তুষ্ট হন, সেদিকে ফিরিয়ে দিন। সুলাইমান বললেন: ব্যস! আর নয়। আবু হাযিম বলেন: আমি সংক্ষেপ করেছি অথচ অনেক বেশিও করে ফেলেছি, অবশ্য যদি আপনি এর উপযুক্ত হন। আর আপনি যদি এর উপযুক্ত না হন, তবে যে ধনুকের ছিলা নেই, তা থেকে তীর নিক্ষেপ করাতে আমার কী লাভ হবে?
সুলাইমান তাকে বললেন: আপনি আমাকে উপদেশ দিন। আবু হাযিম বলেন: আমি আপনাকে উপদেশ দিচ্ছি এবং সংক্ষেপ করছি: আপনি আপনার রবের মহত্ব-বড়ত্ব প্রচার করুন এবং তিনি আপনাকে যে স্থানে থাকতে নিষেধ করেছেন, সেখানে আপনাকে দেখা হতে তাকে মুক্ত রাখুন (সে স্থান হতে আপনি দূরে থাকুন)। অথবা, তিনি যা করতে আদেশ করেছেন, সেই সকল স্থানে তিনি যেন আপনাকে অনুপস্থিত না পান।
এরপর যখন তার নিকট থেকে তিনি চলে গেলেন, তারপর তিনি তার নিকট একশ’ দীনার পাঠিয়ে দিলেন। আর তার নিকট লিখে পাঠালেন: আপনি এ থেকে ব্যয় করুন। আর আপনার জন্য আমার নিকট এরূপ আরো অনেক রয়েছে।
তিনি (রাবী) বলেন: কিন্তু তিনি তার নিকট তা ফেরত দিলেন এবং লিখে পাঠালেন: হে আমীরুল মু’মিনীন, আমি আপনার থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি তামাশা স্বরূপ একমাত্র আমাকেই আপনার প্রশ্ন করা হতে কিংবা আপনার নিকট দান স্বরূপ আমার (এ অর্থ) ফিরিয়ে দেয়া হতে । আর যা আমি আপনার জন্যই পছন্দ করিনা, তা আমার নিজের জন্য কিভাবে পছন্দ করতে পারি?
তিনি তার নিকট আরও লিখেছিলেন: মূসা ইবনু ইমরান যখন মাদায়েনে পানির কুপের নিকট পৌঁছলেন, তখন একদল রাখালকে তাদের জন্তুদের পানি পান করাতে দেখলেন এবং তারা ছাড়াও তিনি দু’জন বালিকাকে দেখলেন তাদের পশুগুলোকে থামিয়ে রাখছে। তখন তিনি তাদের দু’জনকে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তারা জবাবে বললেন:
لَا نَسْقِي حَتَّى يُصْدِرَ الرِّعَاءُ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ فَسَقَى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
অর্থ: রাখালরা চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের পশুদেরকে পানি পান করাতে পারিনা। আমাদের পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ। তখন তিনি তাদের জানোয়ারগুলিকে পানি পান করালেন। অতঃপর গাছের ছায়ার নীচে আশ্রয় গ্রহণ করলেন এবং বললেন: হে আমার প্রতিপালক। আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই করবেন, আমি তারই মুখাপেক্ষী।“ সূরা ক্বসাস: ২৩-২৪।
এর কারণ হলো যে, তিনি ছিলেন ক্ষুধার্ত, ভীত এবং অনিরাপদ। তাই তিনি তার প্রতিপালকের নিকট চেয়েছিলেন, আর তিনি মানুষের কাছে চাননি। আর রাখালরা বুঝতে পারেনি, কিন্তু বালিকা দু’টি বুঝতে পেরেছিল। ফলে যখন তারা তাদের পিতার নিকট ফিরে এলো, তখন তারা দু’জন তাকে এ ঘটনা ও তাঁর কথা জানালো। তখন তাদের পিতা -যিনি ছিলেন শুয়াইব আ:, তিনি বললেন: এ লোকটি তো ক্ষুধার্ত। তিনি তাদের একজনকে বললেন: যাও, তাকে ডেকে নিয়ে আস। আর যখন সে তার নিকট আসল, তখন সে তার মুখ ঢেকে তাঁকে যথাযথ সম্মানের সাথে বললো:
(إِنَّ أَبِي يَدْعُوكَ لِيَجْزِيَكَ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا)
অর্থ: “আমার পিতা আপনাকে ডেকেছেন কারণ আপনি আমাদের (পশুগুলি)কে পানি পান করিয়েছেন, তার বিনিময় দানের জন্য।“ [সূরা ক্বসাস: ২৫]।
সে যখন উল্লেখ করল যে, আপনি আমাদের পশুকে যে পান করিয়েছেন, তা বিনিময় দেবেন,- এ কথাটি মূসা আ: এর উপর অত্যন্ত কষ্টকর বোধ হলো। কিন্তু তিনি তাকে অনুসরণ করা ব্যতীত আর কোনো উপায় খুঁজে পেলেন না। কারণ, তিনি এ পাহাড়ী এলাকার মাঝে একজন ক্ষুধার্ত আপনজনহীন ব্যক্তি। ফলে যখন তিনি তার অনুসরণ করলেন, তখন (সজোরে) বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল ফলে তার কাপড় তার পিছনে আছড়ে পড়ছিল। আর তার নিতম্ব তাঁর দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল। আর সে ছিল উঁচু নিতম্ব বিশিষ্টা। ফলে মূসা আ: একবার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন, আরেকবার দৃষ্টি নিচু করে ফেলছিলেন। এভাবে (একসময়) যখন তিনি ধৈর্য্য হারিয়ে ফেললেন, তখন বললেন, হে আল্লাহর বান্দী! আমার পিছনে পিছনে চলো এবং পেছন থেকে আমাকে রাস্তা বলে দাও।
অতঃপর যখন তিনি শুয়াইব আ:-এর নিকট উপস্থিত হলেন, তখন তিনি রাতের খাবার প্রস্তুত করছিলেন। তখন শুয়াইব তাঁকে বললেন: হে যুবক! বসে পড়ো এবং তিনি তাকে রাতের খাবার পরিবেশন করলেন।
তখন মূসা আ: তাঁকে বললেন: আউযুবিল্লাহ! তখন শুয়াইব তাঁকে বললেন: কেন? তুমি কি ক্ষুধার্ত নও? তিনি বললেন: অবশ্যই। কিন্তু আমার ভয় হয় যে, আমি যে তাদের পশুকে পানি করিয়েছিলাম, এ খাবার তার বিনিময় হয়ে যাচ্ছে। আর আমি হলো সেই বংশের সন্তান যে, আমরা দুনিয়া ভর্তি সোনার বিনিময়েও আমাদের দীনের সামান্য অংশও বিক্রয় করি না।
তখন শুয়াইব আ: তাঁকে বললেন: না, হে যুবক (এটি কোনো বিনিময় নয়)। তবে এটি আমার এবং আমার পূর্বপুরুষদের রীতি যে, আমরা মেহমানদের আপ্যায়ন করি এবং তাদেরকে খাদ্য খাওয়াই। তখন মূসা আ: বসে গেলেন এবং খাবার খেলেন।’ (আবু হাযিম বললেন:) আমি আপনাকে যা বলেছি, এই একশ দীনার যদি তার বিনিময় হয়, তবে অপারগ অবস্থায় মৃত জন্তু, রক্ত এবং শুকরের মাংশ এর চেয়েও অধিক হালাল। আর এটা যদি বায়তুল মালের (রাষ্ট্রীয় কোষাগারের) থেকে গৃহীত হয়, তবে আমার জন্য এটি বিতর্কিত জিনিস। অবশ্য যদি আপনি আমাদের মাঝে সমতা বিধান করতে পারেন (তবে সেটি ভিন্ন কথা)। তা না হলে আমার এর কোনো প্রয়োজন নেই।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ ধারাবাহিকভাবে অজ্ঞাত রাবী দ্বারা বর্ণিত। মুহাম্মদ ইবনু উমার, আলী ইবনু ওয়াহহাব এবং দাহহাক ইবনু মূসা- এদের একজনের জীবনীও আমি খুঁজে পাইনি।
তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৩/২৩৪-২৩৭।
أَخْبَرَنَا أَبُو عُثْمَانَ الْبَصْرِيُّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُسْلِمٍ الْقَسْمَلِيِّ أَخْبَرَنَا زَيْدٌ الْعَمِّيُّ عَنْ بَعْضِ الْفُقَهَاءِ أَنَّهُ قَالَ يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ اعْمَلْ بِعِلْمِكَ وَأَعْطِ فَضْلَ مَالِكَ وَاحْبِسْ الْفَضْلَ مِنْ قَوْلِكَ إِلَّا بِشَيْءٍ مِنْ الْحَدِيثِ يَنْفَعُكَ عِنْدَ رَبِّكَ يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ إِنَّ الَّذِي عَلِمْتَ ثُمَّ لَمْ تَعْمَلْ بِهِ قَاطِعٌ حُجَّتَكَ وَمَعْذِرَتَكَ عِنْدِ رَبِّكَ إِذَا لَقِيتَهُ يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ إِنَّ الَّذِي أُمِرْتَ بِهِ مِنْ طَاعَةِ اللَّهِ لَيَشْغَلُكَ عَمَّا نُهِيتَ عَنْهُ مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ لَا تَكُونَنَّ قَوِيًّا فِي عَمَلِ غَيْرِكَ ضَعِيفًا فِي عَمَلِ نَفْسِكَ يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ لَا يَشْغَلَنَّكَ الَّذِي لِغَيْرِكَ عَنْ الَّذِي لَكَ يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ جَالِسْ الْعُلَمَاءَ وَزَاحِمْهُمْ وَاسْتَمِعْ مِنْهُمْ وَدَعْ مُنَازَعَتَهُمْ يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ عَظِّمْ الْعُلَمَاءَ لِعِلْمِهِمْ وَصَغِّرْ الْجُهَّالَ لِجَهْلِهِمْ وَلَا تُبَاعِدْهُمْ وَقَرِّبْهُمْ وَعَلِّمْهُمْ يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ لَا تُحَدِّثْ بِحَدِيثٍ فِي مَجْلِسٍ حَتَّى تَفْهَمَهُ وَلَا تُجِبْ امْرَأً فِي قَوْلِهِ حَتَّى تَعْلَمَ مَا قَالَ لَكَ يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ لَا تَغْتَرَّ بِاللَّهِ وَلَا تَغْتَرَّ بِالنَّاسِ فَإِنَّ الْغِرَّةَ بِاللَّهِ تَرْكُ أَمْرِهِ وَالْغِرَّةَ بِالنَّاسِ اتِّبَاعُ أَهْوَائِهِمْ وَاحْذَرْ مِنْ اللَّهِ مَا حَذَّرَكَ مِنْ نَفْسِهِ وَاحْذَرْ مِنْ النَّاسِ فِتْنَتَهُمْ يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ إِنَّهُ لَا يَكْمُلُ ضَوْءُ النَّهَارِ إِلَّا بِالشَّمْسِ كَذَلِكَ لَا تَكْمُلُ الْحِكْمَةُ إِلَّا بِطَاعَةِ اللَّهِ يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ إِنَّهُ لَا يَصْلُحُ الزَّرْعُ إِلَّا بِالْمَاءِ وَالتُّرَابِ كَذَلِكَ لَا يَصْلُحُ الْإِيمَانُ إِلَّا بِالْعِلْمِ وَالْعَمَلِ يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ كُلُّ مُسَافِرٍ مُتَزَوِّدٌ وَسَيَجِدُ إِذَا احْتَاجَ إِلَى زَادِهِ مَا تَزَوَّدَ وَكَذَلِكَ سَيَجِدُ كُلُّ عَامِلٍ إِذَا احْتَاجَ إِلَى عَمَلِهِ فِي الْآخِرَةِ مَا عَمِلَ فِي الدُّنْيَا يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ إِذَا أَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَحُضَّكَ عَلَى عِبَادَتِهِ فَاعْلَمْ أَنَّهُ إِنَّمَا أَرَادَ أَنْ يُبَيِّنَ لَكَ كَرَامَتَكَ عَلَيْهِ فَلَا تَحَوَّلَنَّ إِلَى غَيْرِهِ فَتَرْجِعَ مِنْ كَرَامَتِهِ إِلَى هَوَانِهِ يَا صَاحِبَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِنْ تَنْقُلْ الْحِجَارَةَ وَالْحَدِيدَ أَهْوَنُ عَلَيْكَ مِنْ أَنْ تُحَدِّثَ مَنْ لَا يَعْقِلُ حَدِيثَكَ وَمَثَلُ الَّذِي يُحَدِّثُ مَنْ لَا يَعْقِلُ حَدِيثَهُ كَمَثَلِ الَّذِي يُنَادِي الْمَيِّتَ وَيَضَعُ الْمَائِدَةَ لِأَهْلِ الْقُبُورِ
৬৭১. যাইদ আল আম্মী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ফকীহ বলেছেন:
হে জ্ঞানী! তুমি তোমার ইলম অনুযায়ী আমল করো। আর তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ তুমি দান করো। তোমার রবের নিকট তোমার উপকারে আসবে এমন কথা ছাড়া আর যে কোনো প্রকার অতিরিক্ত কথা বলা হতে বিরত থাকো।
হে জ্ঞানী! তুমি যা জান, এরপরও তোমার ইলম অনুযায়ী আমল না করো, তাহলে তুমি যখন তোমার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তা তোমার রবের নিকট তোমার পক্ষে কৈফিয়ত ও ওজর-আপত্তি ছিন্নকারী বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
হে জ্ঞানী! যে সকল কাজে তোমাকে আল্লাহর আনুগত্য করার আদেশ দেয়া হয়েছে, তা যেন তোমাকে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখে, যা থেকে তোমাকে নিষেধ করা হয়েছে।
হে জ্ঞানী! তুমি অপরের কাজের ব্যাপারে শক্তিশালী, আর নিজের আমলের ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ো না।
হে জ্ঞানী! অন্যের কাজ যেন তোমাকে তোমার আপন কাজ হতে অবশ্যই বিরত না রাখে।
হে জ্ঞানী! আলিমগণকে সম্মান করো। আর তাদের নিকটে ভীঁড় জমাও এবং তাদের কথা শোনো এবং তাদের সাথে ঝগড়া-বিতর্ক করা থেকে দূরে থাকো।
হে জ্ঞানী! আলিমগণকে তাদের ইলমের কারণে সম্মান করো এবং জাহিলদেরকে তাদের জাহালাত (মুর্খতা)-এর কারণে ছোট জানো। আর তাদেরকে দূরে ঠেলে দিওনা, বরং তাদের নিকটবর্তী হও এবং তাদেরকে ইলম শিক্ষা দাও।
হে জ্ঞানী! তুমি কোনো মাজলিসে এমন বক্তব্য দেবে না, যতক্ষণ না তা নিজে বুঝো। আর তুমি কোনো লোকের কোনো কথার জবাব দেবে না, যতক্ষণ না তুমি জানতে পারবে, তোমাকে কী বলা হলো।
হে জ্ঞানী! তুমি আল্লাহর ব্যাপারে ধোঁকায় পড়ো না, আর লোকদের ব্যাপারেও ধোকাগ্রস্ত হবে না। আর আল্লাহর বিষয়ে ধোঁকায় পড়া হলো তাঁর নির্দেশ পরিত্যাগ করা। আর লোকদের ব্যাপারে ধোঁকায় পড়া হলো তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করা। আল্লাহকে ভয় করো, যেভাবে তোমাকে তাঁর আপন সত্তার ভয় দেখানো হয়েছে। আর লোকদের ফিতনাকে তুমি ভয় করো।
হে জ্ঞানী! যেভাবে সূর্য ব্যতীত দিনের আলো পূর্ণতা লাভ করে না, তদ্রূপ আল্লাহর আনুগত্য ব্যতীত হিকমাত (গভীর জ্ঞান) পূর্ণতা পায় না।
হে জ্ঞানী! পানি ও মাটি ব্যতীত যেমন ফসল ভাল হয় না, তদ্রূপ ইলম ও আমল ব্যতীত ঈমান পূর্ণতা লাভ করে না।
হে জ্ঞানী! প্রত্যেক মুসাফির (অভিযাত্রী) যেমন পাথেয় সাথে নেয় এবং যা সে সাথে নিয়েছে, তার চেয়েও অধিক প্রয়োজন হলে দ্রুতই সে তা লাভ করে, ঠিক তদ্রূপ আখিরাতে যখন প্রত্যেক আমলকারী তার এ আমলের মুখাপেক্ষী হবে, তখন সে অবিলম্বেই তা পেয়ে যাবে, যা সে দুনিয়াতে আমল করেছিলো।
হে জ্ঞানী! আল্লাহ যখন তোমাকে তাঁর ইবাদতের দিকে উদ্বুদ্ধ করেন, তখন জেনে রেখো যে, তাঁর নিকট তোমার যে মর্যাদা-সম্মান রয়েছে, তা তোমার নিকট প্রকাশ করাই তাঁর উদ্দেশ্য। তাই তিনি ব্যতীত আর কারও নিকট তুমি যাবে না। (যদি যাও), তাহলে তাঁর প্রদত্ত সম্মান-মর্যাদার আসন থেকে লাঞ্ছনা-অপমানের দিকেই তুমি ফিরে যাবে। হে জ্ঞানী! তোমার কথা যে অনুধাবন করে না, তার নিকট তোমার কথা বলার চেয়ে পাথর ও শিলাখণ্ড সরানোও তোমার জন্য অধিকতর সহজ হবে। যে ব্যক্তি তার কথা অনুধাবন করে না, এমন ব্যক্তির নিকট কথা বলার দৃষ্টান্ত হচ্ছে সেই ব্যক্তির মতো যে মৃত ব্যক্তিকে আহবান করে এবং কবরবাসীর জন্য খাবার প্রস্তুত করে (যারা কখনো ডাকে সাড়া দিতে পারে না এবং খেতে পারে না)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ অন্ধকারাচ্ছন্ন।
তাখরীজ: আমি এ ব্যতীত অন্য কোথাও এটি আছে বলে জানি না।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ سُلَيْمَانَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَنْطَاكِيُّ عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبَّادٍ الْخَوَّاصِ الشَّامِيِّ أَبِي عُتْبَةَ قَالَ أَمَّا بَعْدُ اعْقِلُوا وَالْعَقْلُ نِعْمَةٌ فَرُبَّ ذِي عَقْلٍ قَدْ شُغِلَ قَلْبُهُ بِالتَّعَمُّقِ عَمَّا هُوَ عَلَيْهِ ضَرَرٌ عَنْ الِانْتِفَاعِ بِمَا يَحْتَاجُ إِلَيْهِ حَتَّى صَارَ عَنْ ذَلِكَ سَاهِيًا وَمِنْ فَضْلِ عَقْلِ الْمَرْءِ تَرْكُ النَّظَرِ فِيمَا لَا نَظَرَ فِيهِ حَتَّى لَا يَكُونَ فَضْلُ عَقْلِهِ وَبَالًا عَلَيْهِ فِي تَرْكِ مُنَافَسَةِ مَنْ هُوَ دُونَهُ فِي الْأَعْمَالِ الصَّالِحَةِ أَوْ رَجُلٍ شُغِلَ قَلْبُهُ بِبِدْعَةٍ قَلَّدَ فِيهَا دِينَهُ رِجَالًا دُونَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ اكْتَفَى بِرَأْيِهِ فِيمَا لَا يَرَى الْهُدَى إِلَّا فِيهَا وَلَا يَرَى الضَّلَالَةَ إِلَّا بِتَرْكِهَا يَزْعُمُ أَنَّهُ أَخَذَهَا مِنْ الْقُرْآنِ وَهُوَ يَدْعُو إِلَى فِرَاقِ الْقُرْآنِ أَفَمَا كَانَ لِلْقُرْآنِ حَمَلَةٌ قَبْلَهُ وَقَبْلَ أَصْحَابِهِ يَعْمَلُونَ بِمُحْكَمِهِ وَيُؤْمِنُونَ بِمُتَشَابِهِهِ وَكَانُوا مِنْهُ عَلَى مَنَارٍ كَوَضَحِ الطَّرِيقِ فَكَانَ الْقُرْآنُ إِمَامَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ إِمَامًا لِأَصْحَابِهِ وَكَانَ أَصْحَابُهُ أَئِمَّةً لِمَنْ بَعْدَهُمْ رِجَالٌ مَعْرُوفُونَ مَنْسُوبُونَ فِي الْبُلْدَانِ مُتَّفِقُونَ فِي الرَّدِّ عَلَى أَصْحَابِ الْأَهْوَاءِ مَعَ مَا كَانَ بَيْنَهُمْ مِنْ الِاخْتِلَافِ وَتَسَكَّعَ أَصْحَابُ الْأَهْوَاءِ بِرَأْيِهِمْ فِي سُبُلٍ مُخْتَلِفَةٍ جَائِرَةٍ عَنْ الْقَصْدِ مُفَارِقَةٍ لِلصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ فَتَوَّهَتْ بِهِمْ أَدِلَّاؤُهُمْ فِي مَهَامِهَ مُضِلَّةٍ فَأَمْعَنُوا فِيهَا مُتَعَسِّفِينَ فِي تِيهِهِمْ كُلَّمَا أَحْدَثَ لَهُمْ الشَّيْطَانُ بِدْعَةً فِي ضَلَالَتِهِمْ انْتَقَلُوا مِنْهَا إِلَى غَيْرِهَا لِأَنَّهُمْ لَمْ يَطْلُبُوا أَثَرَ السَّالِفِينَ وَلَمْ يَقْتَدُوا بِالْمُهَاجِرِينَ وَقَدْ ذُكِرَ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ لِزِيَادٍ هَلْ تَدْرِي مَا يَهْدِمُ الْإِسْلَامَ زَلَّةُ عَالِمٍ وَجِدَالُ مُنَافِقٍ بِالْقُرْآنِ وَأَئِمَّةٌ مُضِلُّونَ اتَّقُوا اللَّهَ وَمَا حَدَثَ فِي قُرَّائِكُمْ وَأَهْلِ مَسَاجِدِكُمْ مِنْ الْغِيبَةِ وَالنَّمِيمَةِ وَالْمَشْيِ بَيْنَ النَّاسِ بِوَجْهَيْنِ وَلِسَانَيْنِ وَقَدْ ذُكِرَ أَنَّ مَنْ كَانَ ذَا وَجْهَيْنِ فِي الدُّنْيَا كَانَ ذَا وَجْهَيْنِ فِي النَّارِ يَلْقَاكَ صَاحِبُ الْغِيبَةِ فَيَغْتَابُ عِنْدَكَ مَنْ يَرَى أَنَّكَ تُحِبُّ غِيبَتَهُ وَيُخَالِفُكَ إِلَى صَاحِبِكَ فَيَأْتِيهِ عَنْكَ بِمِثْلِهِ فَإِذَا هُوَ قَدْ أَصَابَ عِنْدَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْكُمَا حَاجَتَهُ وَخَفِيَ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْكُمَا مَا أُتِيَ بِهِ عِنْدَ صَاحِبِهِ حُضُورُهُ عِنْدَ مَنْ حَضَرَهُ حُضُورُ الْإِخْوَانِ وَغَيْبَتُهُ عَلَى مَنْ غَابَ عَنْهُ غَيْبَةُ الْأَعْدَاءِ مَنْ حَضَرَ مِنْهُمْ كَانَتْ لَهُ الْأَثَرَةُ وَمَنْ غَابَ مِنْهُمْ لَمْ تَكُنْ لَهُ حُرْمَةٌ يَفْتِنُ مَنْ حَضَرَهُ بِالتَّزْكِيَةِ وَيَغْتَابُ مَنْ غَابَ عَنْهُ بِالْغِيبَةِ فَيَا لَعِبَادَ اللَّهِ أَمَا فِي الْقَوْمِ مِنْ رَشِيدٍ وَلَا مُصْلِحٍ يَقْمَعُ هَذَا عَنْ مَكِيدَتِهِ وَيَرُدُّهُ عَنْ عِرْضِ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ بَلْ عَرَفَ هَوَاهُمْ فِيمَا مَشَى بِهِ إِلَيْهِمْ فَاسْتَمْكَنَ مِنْهُمْ وَأَمْكَنُوهُ مِنْ حَاجَتِهِ فَأَكَلَ بِدِينِهِ مَعَ أَدْيَانِهِمْ فَاللَّهَ اللَّهَ ذُبُّوا عَنْ حُرَمِ أَغْيَابِكُمْ وَكُفُّوا أَلْسِنَتَكُمْ عَنْهُمْ إِلَّا مِنْ خَيْرٍ وَنَاصِحُوا اللَّهَ فِي أُمَّتِكُمْ إِذْ كُنْتُمْ حَمَلَةَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ فَإِنَّ الْكِتَابَ لَا يَنْطِقُ حَتَّى يُنْطَقَ بِهِ وَإِنَّ السُّنَّةَ لَا تَعْمَلُ حَتَّى يُعْمَلَ بِهَا فَمَتَى يَتَعَلَّمُ الْجَاهِلُ إِذَا سَكَتَ الْعَالِمُ فَلَمْ يُنْكِرْ مَا ظَهَرَ وَلَمْ يَأْمُرْ بِمَا تُرِكَ وَقَدْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ اتَّقُوا اللَّهَ فَإِنَّكُمْ فِي زَمَانٍ رَقَّ فِيهِ الْوَرَعُ وَقَلَّ فِيهِ الْخُشُوعُ وَحَمَلَ الْعِلْمَ مُفْسِدُوهُ فَأَحَبُّوا أَنْ يُعْرَفُوا بِحَمْلِهِ وَكَرِهُوا أَنْ يُعْرَفُوا بِإِضَاعَتِهِ فَنَطَقُوا فِيهِ بِالْهَوَى لَمَّا أَدْخَلُوا فِيهِ مِنْ الْخَطَإِ وَحَرَّفُوا الْكَلِمَ عَمَّا تَرَكُوا مِنْ الْحَقِّ إِلَى مَا عَمِلُوا بِهِ مِنْ بَاطِلٍ فَذُنُوبُهُمْ ذُنُوبٌ لَا يُسْتَغْفَرُ مِنْهَا وَتَقْصِيرُهُمْ تَقْصِيرٌ لَا يُعْتَرَفُ بِهِ كَيْفَ يَهْتَدِي الْمُسْتَدِلُّ الْمُسْتَرْشِدُ إِذَا كَانَ الدَّلِيلُ حَائِرًا أَحَبُّوا الدُّنْيَا وَكَرِهُوا مَنْزِلَةَ أَهْلِهَا فَشَارَكُوهُمْ فِي الْعَيْشِ وَزَايَلُوهُمْ بِالْقَوْلِ وَدَافَعُوا بِالْقَوْلِ عَنْ أَنْفُسِهِمْ أَنْ يُنْسَبُوا إِلَى عَمَلِهِمْ فَلَمْ يَتَبَرَّءُوا مِمَّا انْتَفَوْا مِنْهُ وَلَمْ يَدْخُلُوا فِيمَا نَسَبُوا إِلَيْهِ أَنْفُسَهُمْ لِأَنَّ الْعَامِلَ بِالْحَقِّ مُتَكَلِّمٌ وَإِنْ سَكَتَ وَقَدْ ذُكِرَ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ إِنِّي لَسْتُ كُلَّ كَلَامِ الْحَكِيمِ أَتَقَبَّلُ وَلَكِنِّي أَنْظُرُ إِلَى هَمِّهِ وَهَوَاهُ فَإِنْ كَانَ هَمُّهُ وَهَوَاهُ لِي جَعَلْتُ صَمْتَهُ حَمْدًا وَوَقَارًا لِي وَإِنْ لَمْ يَتَكَلَّمْ وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا لَمْ يَعْمَلُوا بِهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا كُتُبًا وَقَالَ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ قَالَ الْعَمَلُ بِمَا فِيهِ وَلَا تَكْتَفُوا مِنْ السُّنَّةِ بِانْتِحَالِهَا بِالْقَوْلِ دُونَ الْعَمَلِ بِهَا فَإِنَّ انْتِحَالَ السُّنَّةِ دُونَ الْعَمَلِ بِهَا كَذِبٌ بِالْقَوْلِ مَعَ إِضَاعَةِ الْعَمَلِ وَلَا تَعِيبُوا بِالْبِدَعِ تَزَيُّنًا بِعَيْبِهَا فَإِنَّ فَسَادَ أَهْلِ الْبِدَعِ لَيْسَ بِزَائِدٍ فِي صَلَاحِكُمْ وَلَا تَعِيبُوهَا بَغْيًا عَلَى أَهْلِهَا فَإِنَّ الْبَغْيَ مِنْ فَسَادِ أَنْفُسِكُمْ وَلَيْسَ يَنْبَغِي لِلطَّبِيبِ أَنْ يُدَاوِيَ الْمَرْضَى بِمَا يُبَرِّئُهُمْ وَيُمْرِضُهُ فَإِنَّهُ إِذَا مَرِضَ اشْتَغَلَ بِمَرَضِهِ عَنْ مُدَاوَاتِهِمْ وَلَكِنْ يَنْبَغِي أَنْ يَلْتَمِسَ لِنَفْسِهِ الصِّحَّةَ لِيَقْوَى بِهِ عَلَى عِلَاجِ الْمَرْضَى فَلْيَكُنْ أَمْرُكُمْ فِيمَا تُنْكِرُونَ عَلَى إِخْوَانِكُمْ نَظَرًا مِنْكُمْ لِأَنْفُسِكُمْ وَنَصِيحَةً مِنْكُمْ لِرَبِّكُمْ وَشَفَقَةً مِنْكُمْ عَلَى إِخْوَانِكُمْ وَأَنْ تَكُونُوا مَعَ ذَلِكَ بِعُيُوبِ أَنْفُسِكُمْ أَعْنَى مِنْكُمْ بِعُيُوبِ غَيْرِكُمْ وَأَنْ يَسْتَطْعِمَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا النَّصِيحَةَ وَأَنْ يَحْظَى عِنْدَكُمْ مَنْ بَذَلَهَا لَكُمْ وَقَبِلَهَا مِنْكُمْ وَقَدْ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ رَحِمَ اللَّهُ مَنْ أَهْدَى إِلَيَّ عُيُوبِي تُحِبُّونَ أَنْ تَقُولُوا فَيُحْتَمَلَ لَكُمْ وَإِنْ قِيلَ لَكُمْ مِثْلُ الَّذِي قُلْتُمْ غَضِبْتُمْ تَجِدُونَ عَلَى النَّاسِ فِيمَا تُنْكِرُونَ مِنْ أُمُورِهِمْ وَتَأْتُونَ مِثْلَ ذَلِكَ فَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يُوجَدَ عَلَيْكُمْ اتَّهِمُوا رَأْيَكُمْ وَرَأْيَ أَهْلِ زَمَانِكُمْ وَتَثَبَّتُوا قَبْلَ أَنْ تَكَلَّمُوا وَتَعَلَّمُوا قَبْلَ أَنْ تَعْمَلُوا فَإِنَّهُ يَأْتِي زَمَانٌ يَشْتَبِهُ فِيهِ الْحَقُّ وَالْبَاطِلُ وَيَكُونُ الْمَعْرُوفُ فِيهِ مُنْكَرًا وَالْمُنْكَرُ فِيهِ مَعْرُوفًا فَكَمْ مِنْ مُتَقَرِّبٍ إِلَى اللَّهِ بِمَا يُبَاعِدُهُ وَمُتَحَبِّبٍ إِلَيْهِ بِمَا يُغْضِبُهُ عَلَيْهِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى أَفَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَآهُ حَسَنًا الْآيَةَ فَعَلَيْكُمْ بِالْوُقُوفِ عِنْدَ الشُّبُهَاتِ حَتَّى يَبْرُزَ لَكُمْ وَاضِحُ الْحَقِّ بِالْبَيِّنَةِ فَإِنَّ الدَّاخِلَ فِيمَا لَا يَعْلَمُ بِغَيْرِ عِلْمٍ آثِمٌ وَمَنْ نَظَرَ لِلَّهِ نَظَرَ اللَّهُ لَهُ عَلَيْكُمْ بِالْقُرْآنِ فَأْتَمُّوا بِهِ وَأُمُّوا بِهِ وَعَلَيْكُمْ بِطَلَبِ أَثَرِ الْمَاضِينَ فِيهِ وَلَوْ أَنَّ الْأَحْبَارَ وَالرُّهْبَانَ لَمْ يَتَّقُوا زَوَالَ مَرَاتِبِهِمْ وَفَسَادَ مَنْزِلَتِهِمْ بِإِقَامَةِ الْكِتَابِ وَتِبْيَانِهِ مَا حَرَّفُوهُ وَلَا كَتَمُوهُ وَلَكِنَّهُمْ لَمَّا خَالَفُوا الْكِتَابَ بِأَعْمَالِهِمْ الْتَمَسُوا أَنْ يَخْدَعُوا قَوْمَهُمْ عَمَّا صَنَعُوا مَخَافَةَ أَنْ تَفْسُدَ مَنَازِلُهُمْ وَأَنْ يَتَبَيَّنَ لِلنَّاسِ فَسَادُهُمْ فَحَرَّفُوا الْكِتَابَ بِالتَّفْسِيرِ وَمَا لَمْ يَسْتَطِيعُوا تَحْرِيفَهُ كَتَمُوهُ فَسَكَتُوا عَنْ صَنِيعِ أَنْفُسِهِمْ إِبْقَاءً عَلَى مَنَازِلِهِمْ وَسَكَتُوا عَمَّا صَنَعَ قَوْمُهُمْ مُصَانَعَةً لَهُمْ وَقَدْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ بَلْ مَالَئُوا عَلَيْهِ وَرَقَّقُوا لَهُمْ فِيهِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف عبد الملك بن سليمان الأنطاكي مجهول
৬৭২. মালিক ইবনু সুলাইমান আবু আব্দুর রহমান আল ইনতাকী থেকে বর্ণিত, আব্বাদ ইবনু আব্বাদ আল খাওয়াসী আশ শামী আবী উতবাহ বলেন: অতঃপর, তোমরা বুঝে নাও যে, আকল বা বুদ্ধি-বিবেক একটি নিয়া’মত। কেননা, অনেক বুদ্ধিমান লোক তার জন্য ক্ষতিকর বিষয়ে তার অন্তরকে গভীর চিন্তা-ভাবনায় মগ্ন রেখেছে তার প্রয়োজনীয় বিষয় বাদ দিয়ে- এমনকি সে তা থেকে অমনোযোগী হয়ে গেছে। কোনো লোকের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হচ্ছে সেই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া পরিত্যাগ করা (ইতোপূর্বে) যাতে সে ভ্রুক্ষেপ করেনি। তার নিম্নস্তরের লোকের সাথে নেক আমলের ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করা ত্যাগ করার ব্যাপারে তার বুদ্ধিমত্তার শ্রেষ্ঠত্ব যেন তার ক্ষতির কারণ হয়ে না যায়। কিংবা, যে লোক তার অন্তরকে বিদ’আতে লিপ্ত রেখেছে, সেই বিষয়ে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ ব্যতীত অন্য লোকদের নিকট তার দীনকে সঁপে দিয়েছে; কিংবা যে তার আপন মতামতের উপর সন্তুষ্ট হয়ে গিয়েছে, তার মতামত ব্যতীত অন্য কোথাও (কারও মতামতের মধ্যে) সে হেদায়েত দেখতে পায় না এবং কেবল তা পরিত্যাগ করাকেই পথভ্রষ্টতা বলে মনে করে; তার ধারণা সে কুরআন থেকেই তার মতামত গ্রহণ করেছে। আসলে সে কুরআন থেকে বিচ্ছিন্নতার দিকেই (লোকদেরকে) আহবান করছে। (কেন?) তার ও তার সাথীদের পূর্বে কি কুরআনের ধারক কেউ ছিলো না, যারা কুরআনের মুহকাম আয়াতের উপর আমল করতেন এবং এর মুতাশাবিহাহ আয়াতের উপর ঈমান রাখতেন? তারা ছিলেন রাস্তা আলোকিত করা আলোকস্তম্ভের সারি।
আর কুরআন ছিলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথ নির্দেশক, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন তাঁর সাহাবীগণের ইমাম বা পথ প্রদর্শক। আর তাঁর সাহাবীগণ ইমাম ছিলেন পরবর্তীদের লোকদের, যারা ছিলেন বিভিন্ন শহরে প্রসিদ্ধ ও নেতৃস্থানীয়। তাদের নিজেদের মধ্যকার (ছোট-খাটো ফিকহী) ইখতিলাফসহ-ই তারা প্রবৃত্তির অনুসারীদের খণ্ডনে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। এবং এ প্রবৃত্তির অনুসারীদেরকে তাদের আপন রায় (মতামতসমূহ) উদ্দেশ্যহীন ভাবে বহু রাস্তা ঘুরিয়ে তাদেরকে হয়রান করেছে, যার প্রত্যেকটি পন্থাই ছিল মধ্যমপন্থা বিরোধী এবং তা হতে বাড়াবাড়িমূলক এবং সঠিক পথ হতে বিচ্ছিন্ন। তাদের পথপ্রদর্শকরা বিভ্রান্তকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এ মিশনে তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে। ফলে বিপথগামীরা তাদের বিভ্রান্তিতেই একাগ্রচিত্ত হয়েছে। এদের বিভ্রান্তির মধ্যে শয়তান যখনই কোনো বিদ’আত চালু করেছে তখনই এরা তা (তাদের বর্তমান বিভ্রান্তি) ছেড়ে অন্যটির দিকে ঘুরে গিয়েছে। কারণ, তারা তো পূর্ববর্তীদের (সালফে সালেহীনদের) হাদীস (মতামত-আমল) সন্ধান করে না এবং মুহাজির (সাহাবী)গণের অনুসরণ করে না।
উমার রা: হতে বর্ণিত আছে, যে তিনি যিয়াদকে বলেছিলেন: তুমি জান কি, কোন্ জিনিসটি ইসলামকে ধ্বংস করবে? আলিমগণের পদস্খলন, কুর’আন নিয়ে মুনাফিকদের ঝগড়া-বিতর্ক এবং বিভ্রান্তকারী নেতৃবৃন্দ। আল্লাহকে ভয় করবে এবং তোমাদের কারী (কুর’আনে অভিজ্ঞ আলিম) ও মসজিদে অবস্থানকারীগণের মধ্যে যারা গীবত, চোগলখুরী এবং লোকদের মাঝে দু’ই মুখ ও দুই জিহবা নিয়ে বিচরণ করে, তাদের থেকে সাবধান থাকবে। আরও বর্ণিত, হয়েছে যে, zwj;দুনিয়াতে যে দু’মুখের অধিকারী হবে জাহান্নামেও সে দু’মুখের অধিকারী হবে।
গীবতকারী তোমার সাথে মিলিত হয়ে তোমার নিকট ঐ ব্যক্তি গীবত করে, যার গীবত করাকে তুমি পছন্দ কর বলে সে ধারণা করে। এরপর তোমার সাথীর (দুশমনের) সাথে তোমার অসাক্ষাতে মিলিত হয়ে তোমার থেকে তার নিকট অনুরূপ কথা পৌঁছে দেয়। এভাবে তোমাদের প্রত্যেকের নিকট থেকে সে নিজের প্রয়োজন পূরণ করে নেয়। এবং সে তোমাদের দু’জনের প্রত্যেকের নিকটই গোপন রাখে, যা সে তোমাদের একজনের পক্ষ থেকে অপর জনের নিকট পৌছে দেয়। যার নিকট সে সাক্ষাৎ করে, এমনভাবেই তার সাথে সাক্ষাৎ করে, যেভাবে দু’ভাই সাক্ষাত করে। আর যার নিকট থেকে সে চলে যায়, এমনভাবেই চলে যায় যেন দুশমন চলে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে যার যে তার সামনে উপস্থিত থাকে, তার নিকট তার কৃতিত্ব বজায় থাকে। কিন্তু তাদের মধ্যকার যে তার নিকট থেকে চলে যায়, তার কোনো সম্মানই সে অবশিষ্ট রাখে না। যে তার নিকট উপস্থিত থাকে, তার প্রশংসাগীতি গেয়ে তাকে মুগ্ধ করে আর যে তার নিকট অনুপস্থিত জঘন্যভাবে তার গীবত করতে থাকে। সুতরাং, হে আল্লাহর বান্দারা! লোকদের মধ্যে এমন উত্তম ও সংশোধনকারী কেউ নেই যে একে তার প্রতারণা থেকে নিবৃত্ত করবে এবং তার মুসলিম ভাইয়ের সম্মান (নষ্ট করা) থেকে একে ফেরাবে? বরং সে যেভাবে তাদের নিকট যায়, তাতে তাদের প্রবৃত্তি-ই প্রকাশ পায়।
এভাবে সে তাদের উপর কর্তৃত্ব লাভ করে এবং তারা তার প্রয়োজনটাকে পূরণ করে দেয়। ফলে সে তাদের দীনের সাথে নিজের দীনকেও বরবাদ করে দেয়। তাই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা তোমাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান রক্ষা করো এবং কল্যাণমূলক আলোচনা ব্যতীত তাদের ব্যাপারে তোমাদের জিহবাকে বিরত রাখো। তোমাদের উম্মতের ব্যাপারে আল্লাহকে উপদেশদাতা হিসেবে গ্রহণ করো, কেননা তোমরা হলে কিতাব ও zwj;সুন্নাতের ধারক। আর কিতাব ততক্ষণ কথা বলে না, যতক্ষণ তার সাথে কথা বলা না হয়। আর সুন্নাত নিজে আমল করিয়ে দেয় না, যদি না তা আমল করা হয়। সুতরাং যদি আলিমগণ চুপ থাকে, আর যে অনিষ্ট প্রকাশ পেয়েছে, তা না চেনে এবং যা পরিত্যাগ করা হয়েছে তা করতে আদেশ না করে, তবে জাহিলরা কখন (কিভাবে) জানবে? অথচ, “যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের থেকে এ ওয়াদা নেয়া হয়েছিল যে, তারা লোকদের নিকট কিতাবের শিক্ষা বর্ণনা করে দেবে এবং তা গোপন করবে না।“- (সূরা আলে ইমরান: ১৮৭)
তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, কেননা, তোমরা এমন এক সময়ে আছো যখন তাকওয়া দুর্বল হয়ে গেছে এবং বিনয়ও কমে গেছে। ইলমের বাহকরাই ইলম নষ্ট করছে। কারণ তারা তাদের ইলমের দ্বারা প্রসিদ্ধি লাভের আকাঙ্ক্ষা করছে। আর ইলম বিনষ্টকারী হিসেবে তাদের পরিচিতি লাভকে তারা পছন্দ করছে না। কিন্তু ইলমের ব্যাপারে নিজেদের মনগড়া কথা বলে তাতে ভুল-ত্রুটির অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে। আবার যে সত্যকে তারা পরিত্যাগ করছে, সেই সকল বাণীর অপব্যাখ্যা করে তারা যে বাতিল আমল করছে সেদিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। ফলে তাদের গুনাহগুলো এমন (মারাত্মক) গুনাহ যা ক্ষমার যোগ্য নয়। তাদের এ কাটছাঁট কোনোভাবেই মেনে নেয়ার যোগ্য নয়। পথপ্রদর্শকই যদি বিপথগামী হয়, তবে সেই পথপ্রদর্শক কিভাবে পথের দিশা প্রার্থীদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে?
তারা (নিজেরাই) দুনিয়াকে ভালোবাসে, কিন্তু দুনিয়াদার লোকদেরকে তারা অপছন্দ করছে। ফলে তারা দুনিয়াদারদের সাথে তাদের জীবন-জীবিকায় অংশীদার হচ্ছে, আর শুধু কথায় তারা তাদের থেকে পৃথক থাকছে। আর শুধু কথার মাধ্যমেই তারা আত্মপক্ষ সমর্থন করছে যে, তাদেরকে (মিছামিছি) zwj;তাদের (দুনিয়াদারদের) কাজের দিকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে এবং যে স্থানে তারা উপস্থিত থাকে না, সেখান (সংঘটিত অপরাধ) খেকেও তারা অব্যাহতি পাচ্ছে না। আবার তারা নিজেরা যেদিকে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করছে, তাতেও তারা অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ সত্যের উপর আমলকারী (সত্যের) কথক, এমনকি যদিও সে চুপ থাকে। কেননা, উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা’আলা বলেন: “আমি প্রত্যেক জ্ঞানগর্ভ কথাকেই কবুল করি না। বরং আমি দেখি তার অভিপ্রায় ও কামনাকে। যদি তার ইচ্ছা ও কামনা শুধুই আমার জন্য হয়, তবে আমি তার নিশ্চুপ থাকাকে (আমার) প্রশংসা ও মর্যাদা (বর্ণনায়) পরিণত করে দিই, যদিও সে কোনো কথা বলে না“। আর আল্লাহ তা’আলা কিতাবে বলেছেন: “যারা তাওরাত দেয়া হয়েছিল কিন্তু তারা তা বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত সেই গাধার মতো যা শুধু কিতাবের বোঝা-ই বহন করে চলেছে।“ (সূরা জুমু’আহ: ৫)
আল্লাহ আরও বলেছেন: “আমি যা তোমাদেরকে যা দেই, তা দৃঢ়ভাবে ধারণ কর।“ (সূরা বাকারাহ: ৬৩)
তিনি বলেছেন: এর মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তার উপর আমল করা সম্পর্কে। সুন্নাতের আমল করা ছাড়াই সুন্নাত ধারণের শুধু মৌখিক দাবী করাকেই যথেষ্ট মনে করো না। কেননা, সুন্নাতের উপর আমল না করেই সুন্নাতের মৌখিক দাবী করা সম্পূর্ণই মিথ্যাচার, সেই সাথে তা ইলম বিনষ্ট করাও বটে। তোমরা নিজেরা একই দোষে দুষ্ট হয়ে সেই দোষের কারণে বিদ’আতীদের দোষারোপ করো না। তোমাদের নিজেদের সংশোধনের চেয়ে বিদ’আতীদের বিভ্রান্তি অধিক (দুষণীয়) নয়। আর বিদ’আতীদের দোষারোপের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে ফেলো না; কারণ বাড়াবাড়ি করা বরং তোমাদের পক্ষেই অন্যায় হবে। আর ডাক্তারের জন্য এটা সঙ্গত নয় যে, তিনি অসুস্থ ব্যক্তিদেরকে ওষুধ দেবেন, যা দ্বারা তারা সুস্থ্য হবে ঠিকই কিন্তু ডাক্তার নিজে অসুস্থ হয়ে পড়বেন। কারণ, তিনি নিজেই যখন অসুস্থ হবেন, তখন তাদের চিকিৎসা করা থেকে তার নিজের অসুস্থতা নিয়েই তিনি অধিক ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। বরং তার উচিত নিজের সুস্থতা চাওয়া যাতে তিনি রোগীর চিকিৎসা করতে সক্ষম হন।
সুতরাং তোমাদের কাজ হবে, ভাইদের মন্দ থেকে ফিরিয়ে রাখতে গিয়ে নিজেদের কল্যাণের জন্য তোমাদের নিজেদের দিকে অধিক নজর দেয়া। আর তোমাদের রবের (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে তোমাদের পক্ষ থেকে (তাদের জন্য) কল্যাণ কামনা করা এবং তোমাদের ভাইদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। আর সেই সাথে অন্যের দোষের চেয়ে তোমাদের নিজেদের দোষ নিয়ে অধিক উদ্বিগ্ন হওয়াই তোমাদের কাজ। তোমাদের উচিত পরস্পরকে নসীহত করতে থাকা। যে তোমাদেরকে সম্মান দান করে সে যেন তোমাদের নিকট সম্মান লাভ করে এবং তোমরা যেন তা মেনে নাও।
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার দোষ-ত্রুটি আমাকে দেখিয়ে দেয, আল্লাহ তাকে রহম করুন। তোমরা পছন্দ কর যে, তোমরা যখন বলো, তখন যেন তা সহ্য করা হয়। কিন্তু তোমরা যা বলো, তার অনুরূপ কথা যদি তোমাদেরকে বলা হয়, তবে তোমরা রেগে যাও। লোকেরা যে সকল কাজ করে, সেই একই কাজ থেকে যখন তোমাদেরকে নিষেধ করা হচ্ছে, তখন তোমরা লোকদের উপর রেগে যাচ্ছো, অথচ তোমরাই সে ধরনের কাজ করছো। তবে তোমরা কি পছন্দ করো না যে, তোমাদের বিপক্ষে (অন্য লোকদেরকে) পাকড়াও করা হোক?
তোমাদের নিজস্ব মতামত ও তোমাদের সমকালীন লোকদের মতামতকে তোমরা ত্রুটিযুক্ত মনে করবে; আর কথা বলার পূর্বে তোমরা নিজেদেরকে দৃঢ় করে নেবে, আর আমল করার পূর্বে (সেই বিষয়ে) তোমরা জ্ঞান অর্জন করে নেবে। কেননা, এমন এক সময় আসবে যখন হক ও বাতিল অস্পষ্ট হয়ে যাবে, যখন ভালো কাজ মন্দ হয়ে যাবে এবং মন্দ কাজ ভালো হিসেবে গণ্য হবে। ফলে (মন্দ কাজকে) আল্লাহর নৈকট্য দানকারী (কথা ও কাজ মনে করবে) কিন্তু তা তাকে আল্লাহ থেকে আরও দূরে ঠেলে দেবে। (তারা আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজকে) আল্লাহর পছন্দনীয় (বলে মনে করবে) ফলে তা তাঁকে তার বিরুদ্ধে ক্রুদ্ধ করে তুলবে।
আল্লাহ তা’আলা বলেন: “আর যাকে তার মন্দ কর্ম সুন্দর করে দেখানো হয় এবং সে ওটাকে উত্তম মনে করে“।... আয়াতের শেষ পর্যন্ত। zwj;সূরা ফাতির: ৮)
সন্দেহজনক বিষয়ের নিকট থেমে যাওয়া তোমাদের জন্য অপরিহার্য যতক্ষণ না তোমাদের নিকট হকের সুস্পষ্টতা প্রমাণসহ প্রকাশিত হয়ে যায়। কেননা, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে না জেনে ইলম ছাড়া প্রবেশ করে, সেও পাপী। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি লক্ষ্য রাখবে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন। কুরআনকে আঁকড়ে ধরা এবং এর অনুসরণ করা এবং এ অনুসারে (অন্যদেরকে) পরিচালিত করা তোমাদের জন্য অপরিহার্য। এবং তোমাদের উপর অপরিহার্য হলো যারা গত হয়েছেন (সাহাবীগণের) কুরআনের আয়াতসমূহ সম্পর্কে তাদের মতামতসমূহ অনুসন্ধান করা। যদি (আহলে কিতাবদের) আলিমগণ ও সন্ন্যাসীগণের আশঙ্কা না থাকতো যে, যদি তারা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আমল করা ও তা বর্ণনা করে দেওয়ার মাধ্যমে কিতাবকে কায়েম রাখেন তাহলে তাদের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়ে যাবে এবং তাদের অবস্থান নষ্ট হয়ে যাবে, তাহলে তারা কিতাবের অপব্যাখ্যা করতো না এবং তা লুকাতোও না। কিন্তু যখন তারা কিতাবের বিপরীত আমল করলো, তখন তাদের অবস্থান নষ্ট হওয়া এবং তাদের নষ্টামী লোকদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তারা ইচ্ছা করেছিল যে তাদের কওমকে তাদের কৃতকর্মের ব্যাপারে প্রতারিত করবে, তাই তারা অপব্যাখ্যার নামে কিতাবে পরিবর্তন করতে শুরু করলো। আর যেখানে পরিবর্তন করতে পারলো না, তা গোপন করে গেলো। আর তাদের অবস্থানকে টিকিয়ে রাখার জন্য তারা নিরবতা অবলম্বন করলো এবং তাদের কওমের লোকদের তোষামোদের উদ্দেশ্যে তাদের কৃতকর্মের ব্যাপারেও তারা চুপ করে রইলো। অথচ যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিলো, তাদের নিকট থেকে আল্লাহ তা’আলা এই প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, অবশ্যই তারা লোকদের নিকট তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেবে আর তা গোপন করবে না। বরং তারা তাদের কাজে সহায়তা করতে লাগলো এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা আরম্ভ করলো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। আব্দুল মালিক ইবনু সুলাইমান আলআনতাকী অজ্ঞাত পরিচয়। দেখুন, হিলইয়া ৮/২৮২; তাহযীবুল কামাল ১৪/১৩৫।
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি- অনুবাদক)।
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ لَمَّا نُهِينَا أَنْ نَبْتَدِئَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَقْدُمَ الْبَدَوِيُّ وَالْأَعْرَابِيُّ الْعَاقِلُ فَيَسْأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ عِنْدَهُ فَبَيْنَا نَحْنُ كَذَلِكَ إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَجَثَا بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ رَسُولَكَ أَتَانَا فَزَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ قَالَ فَبِالَّذِي رَفَعَ السَّمَاءَ وَبَسَطَ الْأَرْضَ وَنَصَبَ الْجِبَالَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّ رَسُولَكَ زَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّ رَسُولَكَ زَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرٍ فِي السَّنَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّ رَسُولَكَ زَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ عَلَيْنَا فِي أَمْوَالِنَا الزَّكَاةَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّ رَسُولَكَ زَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ عَلَيْنَا الْحَجَّ إِلَى الْبَيْتِ مَنْ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ قَالَ فَوَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَدَعُ مِنْهُنَّ شَيْئًا وَلَا أُجَاوِزُهُنَّ قَالَ ثُمَّ وَثَبَ الْأَعْرَابِيُّ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ صَدَقَ الْأَعْرَابِيُّ دَخَلَ الْجَنَّةَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح والحديث متفق عليه
৬৭৩. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আগবাড়িয়ে (প্রশ্ন করা) থেকে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিলো, তখন কোনো মরুবাসী ও বুদ্ধিমান বেদুঈন এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করলে তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত হতাম। (একদিন) আমরা তাঁর নিকট বসে ছিলাম, এমতাবস্থায় তেমনি একটি ঘটনা ঘটলো। এক বেদু’ঈন এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। তারপর সে বললো: হে মুহাম্মদ, আপনার দূত আমাদের নিকট এসে দাবী করেছিলো যে, আপনার নাকি বলেন, আল্লাহ আপনাকে (রাসূল) হিসেবে পাঠিয়েছেন?
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “সে সত্যই বলেছে“। বেদুঈন লোকটি বললো: সেই সত্তার কসম, যিনি আসমানকে সুউচ্চ করেছেন এবং ভূমিকে বিস্তৃত করেছেন এবং পাহাড়সমূহকে প্রোথিত করেছেন! আল্লাহই কি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “হাঁ।“
সে বললো: আপনার দূত আমাদের নিকট এসে দাবী করেছিলো যে, আপনার নাকি বলেন: আমাদের উপর নাকি দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে? তখন উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সে সত্যই বলেছে।“
সে বললো: সেই সত্তার কসম (দিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করছি), যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন! আল্লাহই কি আপনাকে এ আদেশ করেছেন? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “হাঁ।“
সে বললো: আপনার দূত আমাদের নিকট এসে দাবী করেছিলো যে, আপনার নাকি বলেন: বছরে একমাস সিয়াম পালন করা নাকি আমাদের উপর ফরয করা হয়েছে? তখন উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সে সত্যই বলেছে।“
সে বললো: সেই সত্তার কসম (দিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করছি), যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন! আল্লাহই কি আপনাকে এর আদেশ দিয়েছেন? তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “হাঁ।“
সে বললো: আপনার দূত আমাদের নিকট এসে দাবী করেছিলো যে, আপনার নাকি বলেন: আমাদের মাল-সম্পদ থেকে যাকাত দেওয়া নাকি আমাদের উপর ফরয করা হয়েছে? তখন উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সে সত্যই বলেছে।“
সে বললো: সেই সত্তার কসম (দিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করছি), যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন! আল্লাহই কি আপনাকে এর আদেশ দিয়েছেন? তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “হাঁ।“
সে বললো: আপনার দূত আমাদের নিকট এসে দাবী করেছিলো যে, আপনি নাকি বলেন: আমাদের মধ্যে থেকে বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে সামর্থবানদের উপর বায়তুল্লাহ’র হাজ্জ্ব পালন করা নাকি ফরয করা হয়েছে? তখন উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “সে সত্যই বলেছে।“
সে বললো: সেই সত্তার কসম (দিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করছি), যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন! আল্লাহই কি আপনাকে এর আদেশ দিয়েছেন? তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “হাঁ।“
সে বললো: তাহলে সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন! আমি এর থেকে কোনো কিছু ছেড়েও দিব না, আবার এর থেকে কোনো কিছু অতিরিক্তও করব না।“ তিনি (আনাস রা:) বলেন: এরপর বেদুঈন লোকটি লাফাতে লাফাতে দৌড় দিলো। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন: “বেদুঈন লোকটি যদি সত্য বলে থাকে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণিত হাদীস।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইলম ৬৩; সহীহ মুসলিম ১২; আর আমরা মুসনাদুল মাউসিলী ৩৩৩৩ নং ও সহীহ ইবনু হিব্বান ১৫৪, ১৫৫ নং হাদীসের তাখরীজে এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا غُلَامَ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالَ وَعَلَيْكَ وَقَالَ إِنِّي رَجُلٌ مِنْ أَخْوَالِكَ مِنْ بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ وَأَنَا رَسُولُ قَوْمِي إِلَيْكَ وَوَافِدُهُمْ وَإِنِّي سَائِلُكَ فَمُشَدِّدٌ مَسْأَلَتِي إِلَيْكَ وَمُنَاشِدُكَ فَمُشَدِّدٌ مُنَاشَدَتِي إِيَّاكَ قَالَ خُذْ عَنْكَ يَا أَخَا بَنِي سَعْدٍ قَالَ مَنْ خَلَقَكَ وَخَلَقَ مَنْ قَبْلَكَ وَمَنْ هُوَ خَالِقُ مَنْ بَعْدَكَ قَالَ اللَّهُ قَالَ فَنَشَدْتُكَ بِذَلِكَ أَهُوَ أَرْسَلَكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ مَنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ السَّبْعَ وَالْأَرَضِينَ السَّبْعَ وَأَجْرَى بَيْنَهُنَّ الرِّزْقَ قَالَ اللَّهُ قَالَ فَنَشَدْتُكَ بِذَلِكَ أَهُوَ أَرْسَلَكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ إِنَّا وَجَدْنَا فِي كِتَابِكَ وَأَمَرَتْنَا رُسُلُكَ أَنْ نُصَلِّيَ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ لِمَوَاقِيتِهَا فَنَشَدْتُكَ بِذَلِكَ أَهُوَ أَمَرَكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّا وَجَدْنَا فِي كِتَابِكَ وَأَمَرَتْنَا رُسُلُكَ أَنْ نَأْخُذَ مِنْ حَوَاشِي أَمْوَالِنَا فَنَرُدَّهَا عَلَى فُقَرَائِنَا فَنَشَدْتُكَ بِذَلِكَ أَهُوَ أَمَرَكَ بِذَلِكَ قَالَ نَعَمْ ثُمَّ قَالَ أَمَّا الْخَامِسَةُ فَلَسْتُ بِسَائِلِكَ عَنْهَا وَلَا أَرَبَ لِي فِيهَا ثُمَّ قَالَ أَمَا وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَأَعْمَلَنَّ بِهَا وَمَنْ أَطَاعَنِي مِنْ قَوْمِي ثُمَّ رَجَعَ فَضَحِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ ثُمَّ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف محمد بن فضيل متأخر السماع من عطاء
৬৭৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: (একদা) এক বেদু’ঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো: হে বনী আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র! ‘আস-সালামু আলাইকা’ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। তখন তিনি বললেন: “ওয়া আলাইকা (তোমার উপরও)।“
লোকটি বললো: আমি আপনার মাতুল বংশ বনী সা’দ ইবনু বাকর গোত্রের এক ব্যক্তি। আর আমি আমার গোত্রের দূত ও প্রতিনিধি হিসেবে আপনার নিকট এসেছি। আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব এবং সে প্রশ্ন করার ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করবো এবং আমি কসম দিয়ে আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করবো এবং আমার এ কসম দিয়ে জিজ্ঞাসার ব্যাপারে আমি আপনার প্রতিই কঠোরতা অবলম্বন করবো। তিনি বললেন: “হে বনী সা’দ গোত্রের ভাই! তুমি তোমার প্রশ্ন করা শুরু কর।“
সে লোকটি বললো, আপনাকে কে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী লোকদেরকেই বা কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: “আল্লাহ।“
লোকটি বলল, আমি আপনাকে তাঁর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তিনিই কি আপনাকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: “হাঁ।“
সে বললো, সাত আসমান ও সাত জমিনকে কে সৃষ্টি করেছেন এবং এদের মাঝে রিযিকের ব্যবস্থা করেছেন কে? তিনি বললেন: “আল্লাহ।“
লোকটি বলল, আমি আপনাকে তাঁরই কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তিনিই কি আপনাকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: “হাঁ।“
সে বলল, আমরা আপনার (প্রেরিত) পত্রে পেয়েছি এবং আপনার দূত আমাদেরকে আদেশ করেছে যে, আমরা যেন দিনে ও রাতে নির্দিষ্ট সময়মত পাঁচবার সালাত আদায় করি। আমি আপনাকে তাঁর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তিনিই কি আপনাকে (এর) আদেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: “হাঁ।“
অতঃপর সে বলল, আমরা আপনার (প্রেরিত) পত্রে পেয়েছি এবং আপনার দূত আমাদেরকে আদেশ করেছে যে, আমরা যেন আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের নিকট থেকে সম্পদ (এর কিছু অংশ) সংগ্রহ করি এবং আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করি। আমি আপনাকে তাঁর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তিনিই কি আপনাকে (এর) আদেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: “হাঁ।“
অতঃপর সে বলল, পঞ্চম (প্রশ্ন)টি আমি আর জিজ্ঞেস করছি না। এবং এর কোনো প্রয়োজনও আমার নেই। তারপর সে বললো, আমি এবং আমার কওমের যারা আমার অনুসরণ করবে, আমরা সকলে অবশ্যই এর উপর আমল করব।’ এরপর সে ফিরে গেল। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেঁসে ফেললেন, এমনকি তাঁর দাঁত পর্যন্ত প্রকাশিত হয়ে পড়লো। অতঃপর তিনি বললেন: “যে সত্তার হাতের মুঠোয় আমার প্রাণ, সেই সত্তার কসম! যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।“[1]
[1] তাহকীক: এর সনদ যঈফ। মুহাম্মদ ইবনু ফুযাইল আতা হতে হাদীস শ্রবণ হতে পিছিয়ে রয়েছে। (কিন্তু হাদীসটি সহীহ। পূর্বের ও পরের হাদীসটি দেখুন।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, আল ঈমান; আমরা মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৬২৩ নং এ এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا سَلَمَةُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ نُوَيْفِعٍ عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بَعَثَ بَنُو سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ ضِمَامَ بْنَ ثَعْلَبَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدِمَ عَلَيْهِ فَأَنَاخَ بَعِيرَهُ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ ثُمَّ عَقَلَهُ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ فِي أَصْحَابِهِ وَكَانَ ضِمَامٌ رَجُلًا جَلْدًا أَشْعَرَ ذَا غَدِيرَتَيْنِ حَتَّى وَقَفَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَيُّكُمْ ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالَ مُحَمَّدٌ قَالَ نَعَمْ قَالَ يَا ابْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ إِنِّي سَائِلُكَ وَمُغَلِّظٌ فِي الْمَسْأَلَةِ فَلَا تَجِدَنَّ فِي نَفْسِكَ قَالَ لَا أَجِدُ فِي نَفْسِي فَسَلْ عَمَّا بَدَا لَكَ قَالَ إِنِّي أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ إِلَهِكَ وَإِلَهِ مَنْ كَانَ قَبْلَكَ وَإِلَهِ مَنْ هُوَ كَائِنٌ بَعْدَكَ آللَّهُ بَعَثَكَ إِلَيْنَا رَسُولًا قَالَ اللَّهُمَّ نَعَمْ قَالَ فَأَنْشُدُكَ بِاللَّهِ إِلَهِكَ وَإِلَهِ مَنْ كَانَ قَبْلَكَ وَإِلَهِ مَنْ هُوَ كَائِنٌ بَعْدَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نَعْبُدَهُ وَحْدَهُ لَا نُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَأَنْ نَخْلَعَ هَذِهِ الْأَنْدَادَ الَّتِي كَانَتْ آبَاؤُنَا تَعْبُدُهَا مِنْ دُونِهِ قَالَ اللَّهُمَّ نَعَمْ قَالَ فَأَنْشُدُكَ بِاللَّهِ إِلَهِكَ وَإِلَهِ مَنْ كَانَ قَبْلَكَ وَإِلَهِ مَنْ هُوَ كَائِنٌ بَعْدَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نُصَلِّيَ هَذِهِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ قَالَ اللَّهُمَّ نَعَمْ قَالَ ثُمَّ جَعَلَ يَذْكُرُ فَرَائِضَ الْإِسْلَامِ فَرِيضَةً فَرِيضَةً الزَّكَاةَ وَالصِّيَامَ وَالْحَجَّ وَشَرَائِعَ الْإِسْلَامِ كُلَّهَا وَيُنَاشِدُهُ عِنْدَ كُلِّ فَرِيضَةٍ كَمَا نَاشَدَهُ فِي الَّتِي قَبْلَهَا حَتَّى إِذَا فَرَغَ قَالَ فَإِنِّي أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَسَأُؤَدِّي هَذِهِ الْفَرِيضَةَ وَأَجْتَنِبُ مَا نَهَيْتَنِي عَنْهُ ثُمَّ قَالَ لَا أَزِيدُ وَلَا أُنْقِصُ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى بَعِيرِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ وَلَّى إِنْ يَصْدُقْ ذُو الْعَقِيصَتَيْنِ يَدْخُلْ الْجَنَّةَ فَأَتَى إِلَى بَعِيرِهِ فَأَطْلَقَ عِقَالَهُ ثُمَّ خَرَجَ حَتَّى قَدِمَ عَلَى قَوْمِهِ فَاجْتَمَعُوا إِلَيْهِ فَكَانَ أَوَّلَ مَا تَكَلَّمَ أَنْ قَالَ بِاسْتِ اللَّاتِ وَالْعُزَّى قَالُوا مَهْ يَا ضِمَامُ اتَّقِ الْبَرَصَ وَاتَّقِ الْجُنُونَ وَاتَّقِ الْجُذَامَ قَالَ وَيْلَكُمْ إِنَّهُمَا وَاللَّهِ مَا يَضُرَّانِ وَلَا يَنْفَعَانِ إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ رَسُولًا وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ كِتَابًا اسْتَنْقَذَكُمْ بِهِ مِمَّا كُنْتُمْ فِيهِ وَإِنِّي أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَقَدْ جِئْتُكُمْ مِنْ عِنْدِهِ بِمَا أَمَرَكُمْ بِهِ وَنَهَاكُمْ عَنْهُ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا أَمْسَى مِنْ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَفِي حَاضِرِهِ رَجُلٌ وَلَا امْرَأَةٌ إِلَّا مُسْلِمًا قَالَ يَقُولُ ابْنُ عَبَّاسٍ فَمَا سَمِعْنَا بِوَافِدِ قَوْمٍ كَانَ أَفْضَلَ مِنْ ضِمَامِ بْنِ ثَعْلَبَةَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف ولكن الحديث صحيح
৬৭৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনু সা’দ ইবনু বাকর, যিমাম ইবনু ছা’লাবা রাদ্বিযাল্লাহু আনহুকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পাঠিয়েছিলো। এরপর সে এসে তাঁর নিকট উপস্থিত হলো। এরপর সে তার উটটিকে মসজিদের দরজার সামনে বসিয়ে বেঁধে রাখলো এবং সে মসিজেদ প্রবেশ করলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীগণের মাঝে বসে ছিলেন। আর যিমাম ছিল শক্তিশালী এক পুরুষ, যার লম্বা চুলগুলোতে দুটি বেনী করা ছিলো। সে সোজা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এসে থামলো। অতঃপর সে বললো: তোমাদের মধ্যে আব্দুল মুত্তালিবের (বংশের) পুত্র কে?
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আমি হলাম আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র।
সে জিজ্ঞেস করলো: (আপনি কি) মুহাম্মাদ? তিনি বললেন: “হাঁ।“
সে বললো: হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র! আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো এবং আমি সে প্রশ্নের ব্যাপারে রূঢ়তা দেখাবো। কিন্তু আপনি আমার উপর অসন্তুষ্ট হবেন না।
তিনি বললেন: “তোমার যা মনে চায় জিজ্ঞেস কর, আমি অসন্তুষ্ট হবো না।
আমি আপনাকে স্বীয় ইলাহ ও আপনার পূর্ববর্তীদের এবং আপনার পরবর্তীতে সৃষ্ট সকল সৃষ্টির ইলাহ, আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহই কি আপনাকে আমাদের নিকট রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (তথা আল্লাহ সাক্ষী), হাঁ।“
আমি আপনাকে স্বীয় ইলাহ ও আপনার পূর্ববর্তীদের এবং আপনার পরবর্তীতে সৃষ্ট সকল সৃষ্টির ইলাহ, আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহই কি আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা যেন একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি, তাঁর সাথে কোনোকিছুকে যেন শরীক না করি? আরে আমাদের পূর্ব পূরুষরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যে সকল শরীকদের ইবাদত করতো, আমরা তাদেরকে পরিত্যাগ করি? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (তথা আল্লাহ সাক্ষী), হাঁ।“
আমি আপনাকে স্বীয় ইলাহ ও আপনার পূর্ববর্তীদের এবং আপনার পরবর্তীতে সৃষ্ট সকল সৃষ্টির ইলাহ, আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আল্লাহই কি আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা যেন এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (তথা আল্লাহ সাক্ষী), হাঁ।“
তিনি (বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস রা:) বলেন: এরপর সে একটি একটি করে ইসলামের ফরযসমূহের প্রত্যেক ফরয যেমন, যাকাত, সিয়াম, হাজ্জ্ব ও ইসলামী বিধানসমূহ উল্লেখ করতে লাগলো। এবং এর প্রত্যেকটি উল্লেখ করার সময় তাঁকে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করলো যেভাবে সে পূর্বে উল্লেখিত বিষয়গুলিতে তাঁকে শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করল। এরপর যখন সে বিরত হলো, তখন বলল: তাহলে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) মা’বুদ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আর আমি অবিলম্বেই এসকল ফরয আদায় করব এবং আপনি আমাকে যেসকল বিষয় থেকে নিষেধ করলেন, আমি সেগুলো পরিহার করবো।
তারপর সে বললো: আমি এতে কিছু বাড়াবোও না, আবার কমাবোও না। তারপর সে তার উটের নিকট ফিরে গেলো। আর যখন সে ফিরে গেলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “দু’বেনীওয়ালা যদি সত্য বলে থাকে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।“
তারপর লোকটি তার উটের নিকট এসে তার বাঁধন খুলে দিলো তারপর চলে গেল। তারপর সে তার কওমের নিকট উপনীত হয়ে তাদেরকে তার নিকট একত্রিত করলো। এরপর সেই প্রথমে কথা বলা শুরু করলো। সে বললো: কত মন্দ লাত ও উযযা!
তারা (কওমের লোকজন) বলল: হে যিমাম, থামো! কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হওয়াকে ভয় করো, পাগল হওয়াকে ভয় করো এবং গোদ রোগকে ভয় করো।
সে বললো: তোমরা ধ্বংস হও! আল্লাহর কসম! এ দুটো তোমাদের কোনোই ক্ষতি করতে পারে না এবং কোনোই উপকার করতে পারে না। তোমরা যে অবস্থায় ছিলে, তা থেকে তোমাদেরকে উদ্ধার করার জন্য আল্লাহ রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) মা’বুদ নেই, এবং আরও (সাক্ষ্য দিচ্ছি) যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আর তিনি তোমাদেরকে যা করার আদেশ করেছেন এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন, সেসব নিয়ে আমি তাঁর নিকট থেকে তোমাদের কাছে এসেছি।
তিনি (ইবনু আব্বাস রা:) বলেন: আল্লাহর কসম! সেদিন সেখানে উপস্থিত পুরুষ ও নারী সকলেই সন্ধ্যা হওয়ার পূর্বেই মুসলিম হয়ে গিয়েছি। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু আব্বাস রা: বলেন: আমরা যিমাম ইবনু ছা’লাবার চেয়ে উত্তম কোনো কওমের প্রতিনিধির কথা শুনিনি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কিন্তু হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৬২২ এর তাখরীজে এ হাদীসের পূর্ণ তাখরীজ করেছি। আরও দেখুন, পূর্বের টীকা দু’টি দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَبَانُ هُوَ ابْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ زَيْدٍ عَنْ أَبِي سَلَّامٍ عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ يَمْلَأُ الْمِيزَانَ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ يَمْلَآَنِ مَا بَيْنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالصَّلَاةُ نُورٌ وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ وَالْوُضُوءُ ضِيَاءٌ وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ وَكُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَائِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح
৬৭৬. আবু মালিক আল আশ’আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: পবিত্রতা ঈমানের অর্ধাংশ, আর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ মীযান (ওজনের পাল্লা) পূর্ণ করে দেয়। আর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার’ আসমান ও জমিন- এতদুভয়ের মধ্যবর্তী শূন্যস্থল পূর্ণ করে দেয়। আর সালাত হচ্ছে নূর, সাদাকা (দান) দলীল এবং ওযু হচ্ছে উজ্জ্বলতা। আর কুরআন তোমার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রমাণ। প্রত্যেক মানুষ প্রতিদিন সকালে নিজ সত্তাকে বিক্রয় করে, ফলে হয় সে নিজেকে (আগুন থেকে) মুক্তিদানকারী হয়, অথবা, সে নিজেকে ধ্বংসকারী হয়।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। এটি মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদীস।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম, তাহারাত ২২৩; আর আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৩৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮৪৪ নং এ; সেখানে দেখতে চাইলে দেখুন।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ جُرَيٍّ النَّهْدِيِّ عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ قَالَ عَقَدَهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي يَدِي أَوْ قَالَ عَقَدَهُنَّ فِي يَدِهِ وَيَدُهُ فِي يَدِي سُبْحَانَ اللَّهِ نِصْفُ الْإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ يَمْلَأُ الْمِيزَانَ وَاللَّهُ أَكْبَرُ يَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَالْوُضُوءُ نِصْفُ الْإِيمَانِ وَالصَّوْمُ نِصْفُ الصَّبْرِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده جيد
৬৭৭. বনী সালীম গোত্রের এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার হাতের মধ্যে তাঁর হাত রেখে (একে) শক্ত করে ধরলেন- অথবা তিনি বলেছেন, তিনি তাঁর হাতে আমার হাত নিয়ে (একে) শক্ত করে ধরলেন- আর তাঁর (অপর) হাত ছিল আমার হাতের মধ্যে (এমতাবস্থায় তিনি বললেন): “সুবহানাল্লাহ মীযানের অর্ধেক (ভরে দেয়), আলহামদুলিল্লাহ’ মীযানকে পরিপূর্ণ ভরে দেয়। আর ‘আল্লাহু আকবার’ আসমান ও জমিন- এতদুভয়ের মধ্যবর্তী শূন্যস্থল পূর্ণ করে দেয়। আর ওযু হচ্ছে ঈমানের অর্ধাংশ। আর সিয়াম হচ্ছে সবরের (ধৈর্য্যের) অর্ধাংশ।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।
তাখরীজ: আহমদ ৪/২৬০, ৫/৩৭০; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ৩/২৯১ নং ৩৫৭৫; তিরমিযী, ৩৫১৪ (সংক্ষেপে); আহমদ (অপর একটি হাসান সনদে) ৫/৩৬৫০।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ وَالْأَعْمَشِ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ خَيْرَ أَعْمَالِكُمْ الصَّلَاةُ وَقَالَ الْآخَرُ إِنَّ مِنْ خَيْرِ أَعْمَالِكُمْ الصَّلَاةَ وَلَنْ يُحَافِظَ عَلَى الْوُضُوءِ إِلَّا مُؤْمِنٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৬৭৮. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্ত গোলাম সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা (দ্বীনের বিধি-বিধান পালনে) অটল থাকো, আর তোমরা কখনো (তোমাদের আমলসমূহকে) গুণে গুণে রেখো না। আর তোমরা জেনে রাখো, তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমল হলো সালাত।“ তিনি অন্যত্র বলেন: “আর তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমল হলো সালাত। আর মু’মিন ব্যতীত অন্য কেউই উযু’র যথাযোগ্য হিফাযত করে না।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এটি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৩৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৪ এ পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ দিয়েছি। এছাড়া এটি বর্ণনা করেছেন, খতীব, তারীখ ১/২৯৩; মালিক, মু’য়াত্তা ৩৭।
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ ثَوْبَانَ قَالَ حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ أَنَّ أَبَا كَبْشَةَ السَّلُولِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَدِّدُوا وَقَارِبُوا وَخَيْرُ أَعْمَالِكُمْ الصَّلَاةُ وَلَنْ يُحَافِظَ عَلَى الْوُضُوءِ إِلَّا مُؤْمِنٌ
৬৭৯. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্ত গোলাম সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ঠিকভাবে (ও মধ্যমপন্থায় আমল) করতে থাকো এবং নৈকট্য লাভ করো। আর তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমল হলো সালাত। আর মু’মিন ব্যতীত অন্য কেউই উযু’র যথাযোগ্য হিফাযত করে না।“[1]
[1] তাহক্বীক্ব এর সনদ হাসান, আব্দুর রহমান ইবনু ছাবিত ইবনু ছাওবানের কারণে। কিন্তু হাদীসটি সহীহ, আয়শা রা: হতে বুখারী মুসলিম বর্ণনা করেছেন হাদীস।
তাখরীজ: আহমদ, ৫/২৮২; ইবনু হিব্বান নং ১০৩৭; তাবারানী, কাবীর ২/১০১ নং ১৪৪৪; (আয়শা রা: হতে সহীহ বুখারী, ৬৪৬৩, ৬৪৬৪, ৬৪৬৭; সহীহ মুসলিম ২৮১৬)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا مَسْعُودُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ عِكْرِمَةَ أَنَّ سَعْدًا كَانَ يُصَلِّي الصَّلَوَاتِ كُلَّهَا بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ وَأَنَّ عَلِيًّا كَانَ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلَاةٍ وَتَلَا هَذِهِ الْآيَةَ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ الْآيَةَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :رجاله ثقات ولكنه منقطع قال أبو حاتم: عكرمة لم يسمع من سعد بن أبي وقاص
৬৮০. ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত, সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এক ওযু দিয়েই সব সালাত আদায় করতেন। আর আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু প্রত্যেক সালাতের জন্য (নতুন) ওযু করতেন। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: “যখন তোমরা সালাতে দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল এবং দু’হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত কর।“[1] (সূরা মায়িদাহ: ৬)
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত । কিন্তু সনদ বিচ্ছিন্ন। আবী হাতিম বলেন: ইকরিমা সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস হতে কিছু শোনেননি।...
তাখরীজ: সা’দ রা: এর হাদীসটি তাবারী, তাফসীর ৬/১১১; আলী রা: এর হাদীসটিও বর্ণনা করেছেন, তাবারী, তাফসীর ৬/১১২। আরও দেখুন নাসিখুল কুরআন ওয়াল মানসূখাহ;- ইবনুল জাওযী, নাওয়াসিখুল কুরআন, পৃ: ৩৬৯-৩৭০ আমার তাহক্বীক্বকৃত; নাহহাস, নাসিখ ওয়াল মানসুখ পৃ: ১২২; দূররে মানসূর ২/২৬২।