হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (761)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ ابْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ أَنَّ فَأْرَةً وَقَعَتْ فِي سَمْنٍ فَمَاتَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلْقُوهَا وَمَا حَوْلَهَا وَكُلُوهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৬১. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা মাইমুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন, ঘিয়ের মধ্যে একটি ইঁদুর পড়ে মরে গিয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “সেটি (ইঁদুরটি) এবং এর আশপাশের ঘি ফেলে দাও এবং (অবশিষ্ট ঘি থেকে) তোমরা খাও।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৩৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৭০৮৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৯২ এ। এছাড়া মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৩১৪। সামনে আসছে ২১২৮ নং এ।









সুনান আদ-দারিমী (762)


أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ فِي قُبُورِهِمَا وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ كَانَ أَحَدُهُمَا يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ وَكَانَ الْآخَرُ لَا يَسْتَنْزِهُ عَنْ الْبَوْلِ أَوْ مِنْ الْبَوْلِ قَالَ ثُمَّ أَخَذَ جَرِيدَةً رَطْبَةً فَكَسَرَهَا فَغَرَزَ عِنْدَ رَأْسِ كُلِّ قَبْرٍ مِنْهُمَا قِطْعَةً ثُمَّ قَالَ عَسَى أَنْ يُخَفَّفَ عَنْهُمَا حَتَّى تَيْبَسَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৬২. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তিনি বললেন: এদের কবরে আযাব দেয়া হচ্ছে, তবে কোনো গুরুতর অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তাদের একজন চোগলখুরী করে বেড়াতো এবং অপরজন পেশাব হতে পবিত্র থাকতো না।“ তিনি বলেন: অতঃপর তিনি একটি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে (দু’ টুকরো করে) ভেঙ্গে প্রত্যেক কবরের মাথার নিকট এক টুকরো করে পুঁতে দিলেন। তারপর বললেন: “আশা করি, এ দু’টি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত এদের আযাব হালকা করা হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২১৬; সহীহ মুসলিম ২৯২; (আহমাদ ১৯৮০)। জাবির রা: হতে বর্ণিত এর শাহিদ হাদীসটির পূর্ণ তাখরীজ করেছি আমি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪/৪৩, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩১২৮-৩১২৯ এবং মুসনাদুল মাওসিলী নং ১০৫০ এ জাবির রা: এর সহীহ হাদীসের টীকাটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (763)


حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا قَامَ بَالَ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ قَالَ فَصَاحَ بِهِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَفَّهُمْ عَنْهُ ثُمَّ دَعَا بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَصَبَّهُ عَلَى بَوْلِهِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح




৭৬৩. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এক বেদুঈন এলো। অতঃপর সে উঠে দাঁড়াল এবং মসজিদের এক কোণে পেশাব করতে শুরু করলো।তিনি (রাবী) বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ হৈ চৈ শুরু করে দিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার থেকে তাদেরকে নিবৃত্ত করলেন, অতঃপর এক বালতি পানি আনিয়ে তার পেশাবের উপর ঢেলে দিলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২১৯; সহীহ মুসলিম ২৮৪। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৩৪৬৭, ৩৬৫২, ৩৬৫৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪০১ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৩০; আরও দেখুন নাইলুল আওতার ১/৫৩।









সুনান আদ-দারিমী (764)


أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَحَدَّثَنَاهُ عَنْ يُونُسَ أَيْضًا عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ أَنَّهَا أَتَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِابْنٍ لَهَا لَمْ يَبْلُغْ أَنْ يَأْكُلَ الطَّعَامَ فَأَجْلَسَتْهُ فِي حِجْرِهِ فَبَالَ عَلَيْهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَنَضَحَهُ وَلَمْ يَغْسِلْهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح




৭৬৪. উম্মু কায়িস বিনতে মিহসান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট তার এক শিশু পুত্রকে নিয়ে এলেন, যে তখনও খাবার খাওয়ার মতো বয়সে পৌঁছায়নি। তিনি তাকে তাঁর কোলে বসালেন। তখন সে শিশুটি তাঁর কোলে পেশাব করে দিলো। তখন তিনি পানি আনালেন, অতঃপর তা তাঁর (কাপড়ের) উপর ছিটিয়ে দিলেন কিন্তু তিনি তা ধৌত করলেন না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২২৩; সহীহ মুসলিম ২৮৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৭৩, ১৩৭৪ এ।









সুনান আদ-দারিমী (765)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَارَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ أُمِّ وَلَدٍ لِإِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهَا سَأَلَتْ أُمَّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ إِنِّي امْرَأَةٌ أُطِيلُ ذَيْلِي فَأَمْشِي فِي الْمَكَانِ الْقَذِرِ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُطَهِّرُهُ مَا بَعْدَهُ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَأْخُذُ بِهَذَا قَالَ لَا أَدْرِي

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :في إسناده جهالة ولكنه صحيح بشواهده




৭৬৫. ইবরাহীম ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আউফ এর উম্মু ওয়ালাদ (দাসী) হতে বর্ণিত, তিনি উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে প্রশ্ন করেছিলেন এই বলে: আমি একজন নারী, আমার কাপড়ের নিম্নভাগ প্রলম্বিত করে (ঝুলিয়ে) পরি। এরপর (অনেক সময়) আমি ময়লা আবর্জনার স্থান দিয়েও চলাচল করি। (ফলে আমার কাপড় কিভাবে পবিত্র করবো?) উম্মু সালামাহ বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “এ (অপবিত্র মাটির) পরবর্তী যে (পবিত্র) মাটি রয়েছে, তা একে পবিত্র করে দেবে।“[1] আমি (রাবী) আবু মুহাম্মদ (দারেমী)কে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কি এটি গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: আমি জানি না।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে অজ্ঞাত পরিচয় রাবী রয়েছে। কিন্তু হাদীসটি শাহিদ থাকার কারণে সহীহ। পূর্বের উম্মু কায়িস বিনতে zwj;মিহসান বর্ণিত হাদীসটি এর শাহিদ।

আবার এর শাহিদ আয়েশা রা: হতে বর্ণিত হাদীসটি যা সহীহ বুখারী নং ২২২; সহীহ মুসলিম ২৮৬ এ সংকলিত হয়েছে। আর এর তাখরীজ করেছি আমরা মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪৬২৩ এ এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৭২ এ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯২৫, ৬৯৮১ এ।









সুনান আদ-দারিমী (766)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا عَوْفٌ حَدَّثَنِي أَبُو رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيُّ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ ثُمَّ نَزَلَ فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ نُودِيَ بِالصَّلَاةِ فَصَلَّى بِالنَّاسِ فَلَمَّا انْفَتَلَ مِنْ صَلَاتِهِ إِذَا هُوَ بِرَجُلٍ مُعْتَزِلٍ لَمْ يُصَلِّ فِي الْقَوْمِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مَنَعَكَ يَا فُلَانُ أَنْ تُصَلِّيَ فِي الْقَوْمِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصَابَتْنِي جَنَابَةٌ وَلَا مَاءَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْكَ بِالصَّعِيدِ فَإِنَّهُ يَكْفِيكَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৬৬. ‘ইমরান ইবনু হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। এরপর (পথিমধ্যে) তিনি অবতরণ করলেন এবং ওযুর পানি চাইলেন অতঃপর ওযু করলেন। অতঃপর সালাতের জন্য আহবান করা হলে তিনি লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এরপর যখন তিনি সালাত (শেষ করে পিছনে) ঘুরলেন, তখন দেখলেন এক ব্যক্তি লোকদের সাথে সালাত আদায় না করে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী দাঁড়িয়ে আছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “হে অমুক! কিসে তোমাকে লোকদের সাথে সালাত আদায়ে বাধা দিল? তখন সে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার উপর জানাবাতের কারণে গোসল ফরয হয়েছে, কিন্তু পানি নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “মাটি ব্যবহার করো (তায়াম্মুম করো)। আর এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩৪৪; সহীহ মুসলিম ৬৮২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩০১, ১৩০২, ১৪৬১; এটি আরও বর্ণনা করেছেন: ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা নং ১২২; বাইহাকী, দালাইলুন নবুওয়াত ৪/২৭৭-২৭৮।









সুনান আদ-দারিমী (767)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ عَنْ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ خَرَجَ رَجُلَانِ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَتْهُمَا الصَّلَاةُ وَلَيْسَ مَعَهُمَا مَاءٌ فَتَيَمَّمَا صَعِيدًا طَيِّبًا فَصَلَّيَا ثُمَّ وَجَدَا الْمَاءَ بَعْدُ فِي الْوَقْتِ فَأَعَادَ أَحَدُهُمَا الصَّلَاةَ بِوُضُوءٍ وَلَمْ يُعِدْ الْآخَرُ ثُمَّ أَتَيَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَا ذَلِكَ فَقَالَ لِلَّذِي لَمْ يُعِدْ أَصَبْتَ السُّنَّةَ وَأَجْزَتْكَ صَلَاتُكَ وَقَالَ لِلَّذِي تَوَضَّأَ وَأَعَادَ لَكَ الْأَجْرُ مَرَّتَيْنِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن




৭৬৭. আবু সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দু’ব্যক্তি কোনো এক সফরে বের হলো। এরপর সালাতের সময় উপস্থিত হলো, কিন্তু তাদের সাথে কোনো পানি ছিল না। তখন তারা উভয়ে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করলো এবং সালাত আদায় করলো। এরপর সালাতের ওয়াক্ত পার হওয়ার পর তারা পানি পেলো। ফলে তাদের মধ্যেকার একজন ওযু করে পুনরায় সালাত আদায় করলো, কিন্তু অপর জন তা পুনরায় আদায় করলো না। তারপর তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে এ ঘটনা উল্লেখ করলো। তখন যে লোকটি সালাত পুনরায় আদায় করেনি, তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তুমি সুন্নাতকে গ্রহণ করেছো এবং তোমার এ সালাত তোমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে।“ আর যে ওযু করে পুনরায় সালাত আদায় করেছিলো, তিনি তাকে বললেন: “তোমার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, আব্দুল্লাহ ইবনু নাফি’ এর কারণে।

তাখরীজ: আবুদাউদ ৩৩৮; নাসাঈ ৪৩৩; দারুকুতনী ১/১৮৯; বাইহাকী ১/২৩১; এটি ইবনু লাহিয়া ও লাইছের কাতিব আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ -এ দু’জনের সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আর এ দু’জনই যঈফ।

আর শাহিদ আয়িশা রা: বর্ণিত হাদীস যা এর মানকে সমুন্নত করে, তা সামনে ৭৭৩ নং এ আসছে।









সুনান আদ-দারিমী (768)


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ الْعَطَّارُ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ عَزْرَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي التَّيَمُّمِ ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ قَالَ عَبْد اللَّهِ صَحَّ إِسْنَادُهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৬৮. আম্মার ইবনু ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তায়াম্মুমের ব্যাপারে বলতেন: “মুখমণ্ডল ও হাত (মাসেহ)-এর জন্য মাটিতে (হাত) মারা একবার।“[1] আব্দুল্লাহ বলেন: এর সনদ সহীহ।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের।

তাখরীজ: (সহীহ বুখারী ৩৪৭; সহীহ মুসলিম ৩৬৮) আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩০৩, ১৮৬৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৪৪।

এটি আরও বর্ণনা করেছেন: ইবনুল জারুদ নং ১২৬; দারুকুতনী ১/১৮২-১৮৩। আরও দেখুন মুয়ায রা: এর হাদীস যা ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাদের সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৬৭ তে।









সুনান আদ-দারিমী (769)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا اسْتَعَارَتْ قِلَادَةً مِنْ أَسْمَاءَ فَهَلَكَتْ فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَاسًا مِنْ أَصْحَابِهِ فِي طَلَبِهَا فَأَدْرَكَتْهُمْ الصَّلَاةُ فَصَلَّوْا مِنْ غَيْرِ وُضُوءٍ فَلَمَّا أَتَوْا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَكَوْا ذَلِكَ إِلَيْهِ فَنَزَلَتْ آيَةُ التَّيَمُّمِ فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ جَزَاكِ اللَّهُ خَيْرًا فَوَاللَّهِ مَا نَزَلَ بِكِ أَمْرٌ قَطُّ إِلَّا جَعَلَ اللَّهُ لَكِ مِنْهُ مَخْرَجًا وَجَعَلَ لِلْمُسْلِمِينَ فِيهِ بَرَكَةً

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৬৯. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি আসমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা’র নিকট হতে একটি গলার হার ধার করেছিলেন। (পাথিমধ্যে) সেটি হারিয়ে গেলো। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকজন সাহাবীকে সেটির খোঁজে পাঠালেন। যখন সালাতের সময় হলো, তখন তারা ওযু ছাড়াই সালাত আদায় করলেন। যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ফিরে এলেন, তখন তারা এ ব্যাপারে তাঁর নিকট অভিযোগ পেশ করলেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হলো। তখন উসাইদ ইবনু হুযাইর (আয়েশা রা: কে লক্ষ্য করে) বললেন: ‘আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।’ কেননা, আল্লাহর কসম! আপনি যখনি কোনো (অপছন্দনীয়) অবস্থায় পড়েছেন, তখনই আল্লাহ আপনাকে তা থেকে মুক্তির পথ বের করে দিয়েছেন এবং সেই বিষয়টিতে মুসলিমগণের জন্য বরকত রেখেছেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩৩৪-৩৩৬; সহীহ মুসলিম ৩৬৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩০০, ১৭০৯।









সুনান আদ-দারিমী (770)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ كُرَيْبٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ قَالَتْ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاءً فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ فَجَعَلَ يَغْسِلُ بِهَا فَرْجَهُ فَلَمَّا فَرَغَ مَسَحَهَا بِالْأَرْضِ أَوْ بِحَائِطٍ شَكَّ سُلَيْمَانُ ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ وَصَبَّ عَلَى رَأْسِهِ وَجَسَدِهِ فَلَمَّا فَرَغَ تَنَحَّى فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ فَأَعْطَيْتُهُ مِلْحَفَةً فَأَبَى وَجَعَلَ يَنْفُضُ بِيَدِهِ قَالَتْ فَسَتَرْتُهُ حَتَّى اغْتَسَلَ قَالَ سُلَيْمَانُ فَذَكَرَ سَالِمٌ أَنَّ غُسْلَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذَا كَانَ مِنْ جَنَابَةٍ




৭৭০. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা মাইমুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহ আনহা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের (জানাবাতের গোসলের) জন্য পানি রাখলাম। (প্রথমে) তিনি তাঁর হাত দু’টিতে পানি ঢাললেন। এরপর (বাম) হাত দিয়ে তাঁর লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। এরপর তিনি (হাতে) পানি ঢাললেন এবং মাটিতে কিংবা দেয়ালে (রাবী সুলাইমানের সন্দেহ) (বাম) হাত ঘষে নিলেন। অতঃপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। এরপর তাঁর মুখমণ্ডল ও উভয় হাত ধুলেন। এবং এরপর তিনি মাথা ও সারা শরীরে পানি ঢাললেন। যখন তিনি গোসল শেষ করলেন, তখন একটু সরে গিয়ে দু’পা ধুলেন। এরপর আমি তাকে একটি রুমাল দিলাম, তিনি তা নিতে অস্বীকার করলেন এবং হাত দিয়ে পানি ঝাড়তে লাগলেন। তিনি (আরও) বলেন: তিনি যতক্ষণ গোসল করতেন, ততক্ষণ আমি তাঁকে পর্দা করে রাখতাম। (বর্ণনাকারী) সুলাইমান বলেন: (অপর বর্ণনাকারী) সালিম উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ গোসল ছিল জানাবাতের গোসল।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৪৯; সহীহ মুসলিম ৩১৭;

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১০১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৯০ এ।









সুনান আদ-দারিমী (771)


أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْدَأُ فَيَغْسِلُ يَدَيْهِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يُدْخِلُ كَفَّهُ فِي الْمَاءِ فَيُخَلِّلُ بِهَا أُصُولَ شَعْرِهِ حَتَّى إِذَا خُيِّلَ إِلَيْهِ أَنَّهُ قَدْ اسْتَبْرَأَ الْبَشَرَةَ غَرَفَ بِيَدِهِ ثَلَاثَ غَرَفَاتٍ فَصَبَّهَا عَلَى رَأْسِهِ ثُمَّ اغْتَسَلَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هَذَا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ حَدِيثِ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৭১. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (জানাবাতের গোসলের) শুরুতে দু’হাত ধুতেন। এরপর সালাতের ওযুর ন্যায় ওযু করতেন। তারপর পানিতে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে হাত দিয়ে তাঁর চুলের গোড়া খিলাল করতেন যতক্ষণ না তাঁর মনে হতো যে (চুলের গোড়ার) মাথার চামড়া ভিজে গেছে। হাত দিয়ে অঞ্জলী ভরে মাথায় তিন অঞ্জলী পানি ঢালতেন। তারপর মাথায় পানি ঢালতেন এবং (এরপর সারা শরীর) ধৌত করতেন।[1] আবু মুহাম্মদ বলেন: সালিম ইবনু আবীল জা’দের হাদীসের চেয়ে এটাই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৪৮; সহীহ মুসলিম ৩১৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৮২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৯১, ১১৯৬, ১১৯৭; ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৬৩।









সুনান আদ-দারিমী (772)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ مِنْ الْجَنَابَةِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : الحديث صحيح




৭৭২. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই পাত্র হতে (পানি নিয়ে) জানাবাতের গোসল করেছি।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : মুহাম্মাদ ইবনু কাছীর যঈফ; অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৫০; সহীহ মুসলিম ৩১৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪১২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১০৮, ১১৯৩-১১৯৫; ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৫৯।









সুনান আদ-দারিমী (773)


أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ وَهُوَ الْفَرَقُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৭৩. (অপর সনদে) আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই পাত্র হতে (পানি নিয়ে) গোসল করেছি। আর সেই পাত্রটি ছিল ‘ফারাক’[1]।’[2]

[1] ফারাক’ : পিতল, তামা কিংবা কাঁসার পাত্র যার ধারণক্ষমতা ষোল রতল, বা তিন সা’, যা ১০ কিলোগ্রাম এর সমান।...

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।।

তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরুক্তি।









সুনান আদ-দারিমী (774)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ زَاذَانَ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَرَكَ مَوْضِعَ شَعْرَةٍ مِنْ جَنَابَةٍ لَمْ يُصِبْهَا الْمَاءُ فُعِلَ بِهَا كَذَا وَكَذَا مِنْ النَّارِ قَالَ عَلِيٌّ فَمِنْ ثَمَّ عَادَيْتُ رَأْسِي وَكَانَ يَجُزُّ شَعْرَهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :لم يحكم عليه المحقق




৭৭৪. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি জানাবাতের গোসলে চুল পরিমাণ স্থানও (শুকনো অবস্থায়) ছেড়ে দেয়, যেখানে পানি পৌঁছায়নি, তাকে জাহান্নামে এই এই শাস্তি দেয়া হবে“। আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আর এই জন্যই আমি আমার মাথার সাথে শত্রুতা করি। আর তিনি তাঁর চুলকে কেটে ফেলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : (মুহাক্বিক্ব এ হাদীসের সরাসরি কোনো হুকুম লাগাননি। বরং প্রায় দু’পৃষ্ঠা ব্যাপী এ হাদীসের রাবীদের সম্পর্কে বিভিন্ন মুহাদ্দিসের সমালোচনা ও মন্তব্য এবং একে যঈফ বলার কারণসমূহ উল্লেখ করে সেগুলো খণ্ডনের চেষ্টা করেছেন। এবং উপসংহারে একে সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে শাইখ শুয়াইব আরনাউত্ব এবং আলবানী (আবু দাউদ ২৪৯) এটাকে যঈফ বলেছেন এবং আহমাদ শাকির (তাহক্বীক্ব, মুসনাদে আহমাদ ১/৯৪ নং ৭২৭) এটাকে সহীহ বলেছেন- অনুবাদক।)

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১০০; ইবনু মাজাহ ৫৯৯; তায়ালিসী ১/৬১ নং ২৩১; আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৪/২০০; আহমাদ ১/৯৪, ১০৪; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ, যাওয়াইদ আল মুসনাদ ১/১৩৩; আবু দাউদ ২৪৯; বাইহাকী ১/১৭৫, ২২৭; তাবারী, তাহযীবুল আছার, মুসনাদে আলী পৃ: ২৭৬ নং ৪১, ৪২; বাযযার, আল বাহরুয zwj;যুখ্খার নং ৮১৩।









সুনান আদ-দারিমী (775)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ قَالَ إِنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يُخْبِرُ أَنَّ رَجُلًا أَصَابَهُ جُرْحٌ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ أَصَابَهُ احْتِلَامٌ فَأُمِرَ بِالِاغْتِسَالِ فَمَاتَ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ قَتَلُوهُ قَتَلَهُمْ اللَّهُ أَلَمْ يَكُنْ شِفَاءَ الْعِيِّ السُّؤَالُ وَقَالَ عَطَاءٌ بَلَغَنِي أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ بَعْدَ ذَلِكَ فَقَالَ لَوْ غَسَلَ جَسَدَهُ وَتَرَكَ رَأْسَهُ حَيْثُ أَصَابَهُ الْجُرْحُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده منقطع ولكن الحديث صحيح




৭৭৫. আতা ইবনু আবী রাবাহ বলেন, আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে এক ব্যক্তি আহত হয়। এরপর (রাতে) তার স্বপ্নদোষ হয়। আর লোকেরা তাকে গোসল করার জন্য নির্দেশ দেয়। ফলে সে মৃত্যু বরণ করে। তখন এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন: “তারা তাকে হত্যা করেছে। আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন! প্রশ্ন করাই (তাদের) অজ্ঞতার প্রতিকার নয় কি?“[1]আতা বলেন: আমার কাছে এ সংবাদ পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরবর্তীতে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: “সে যদি তার আঘাতপ্রাপ্ত স্থান মাথা বাদ দিয়ে শরীর ধুয়ে ফেলতো, (তবে তা-ই যথেষ্ট হতো)।“[2]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪২০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩১৪; ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২০১। ((হাকিম ১/১৬৫, ১৭৮, হাকিম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন; ইবনু মাজাহ ৫৭২; বাইহাকী ১/২২৬-২২৭; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ নং ২৭৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩০৪; আব্দুর রাযযাক, আল মুছান্নাফ ৮৬৭; আহমাদ ১/৩৩০; আবু দাউদ ৩৩৭।

আর এর শাহিদ হাদীস জাবির রা: থেকে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ৩৩৫, ৩৩৬; বাইহাকী ১/২২৭ )

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদও মুনকাতি’। এটি আতা’ হতে মুরসাল বর্ণনাসমূহের একটি।

তাখরীজ: দারুকুতনী ১/১৯১; খতীব, ফাকীহ ওয়াল মুতাফাককিহ ২/৬৮।









সুনান আদ-দারিমী (776)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَافَ عَلَى نِسَائِهِ فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৭৬. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই রাতে পর্যায়ক্রমে স্ত্রীগণের নিকট গমণ করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের হাদীস।

তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১২৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৪২, ৩১৭৫, ৩১৭৬, ৩২০৩, ৩৭১৮, ৩৭১৯, ৩৮৮৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২০৬-১২০৯; এবং পরের টীকাটি দেখুন। (সহীহ বুখারী ২৬৮; সহীহ মুসলিম ৩০৯; আহমাদ ৩/১৮৫; তিরমিযী ১৪০; আবু দাউদ ২১৮; নাসাঈ ১/১৪৩, ১৪৪ ও ৬/৫৩, ৫৪; ইবনু মাজাহ ৫৮৮; বাইহাকী ১/২০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমা ২৩১; সহীহ ইবনু হিব্বান , ১১৯৫. ১১৯৬; আব্দুর রাযযাক, আল মুছান্নাফ ১০৬১; বাগাবী, শারহুস zwj;সুন্নাহ নং ২৬৯, ২৭০; আবুশ শাইখ, আখলাকুন নাবী সা:, পৃ: ২৩১; আবু আওয়ানাহ ১/২৮০; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৭/২৩২; তাবারানী, আস সগীর ১/২৪৬; অনেকগুলো সূত্রে। - মুহাক্বিক্বের তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৪১, ২৯৪২ এর টীকা অনুসরণে।- অনুবাদক))









সুনান আদ-দারিমী (777)


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَافَ عَلَى نِسَائِهِ فِي لَيْلَةٍ وَاحِدَةٍ جُمَعَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৭৭. (অপর সূত্রে) আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই রাতে পর্যায়ক্রমে স্ত্রীগণের সাথে মিলিত হতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ৩/২৫২; আর পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (778)


أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ مَوْلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ أَرْدَفَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ خَلْفَهُ فَأَسَرَّ إِلَيَّ حَدِيثًا لَا أُحَدِّثُ بِهِ أَحَدًا مِنْ النَّاسِ وَكَانَ أَحَبَّ مَا اسْتَتَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحَاجَتِهِ هَدَفٌ أَوْ حَائِشُ نَخْلٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৭৮. আব্দুল্লাহ ইবনু জা’ফর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা আমাকে তাঁর বাহনে তাঁর পিছনে আরোহন করালেন। তারপর তিনি আমাকে একটি গোপন কথা বললেন যা আমি কোনো লোককে বলিনি। আর তাঁর হাজত পূরণের সময় যা দিয়ে আড়াল করতে তিনি পছন্দ করতেন, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় ছিল টিলা (উচ্চভূমি) অথবা, ঘন খেজুর বাগান।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আর এটি গত হয়েছে ৬৯০ নং এ গত হয়েছে (আমাদের গণনায় তা ৬৮৬ নং-অনুবাদক)। দেখুন নাইলুল আওতার ১/৯২।









সুনান আদ-দারিমী (779)


أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَأَلَ عُمَرُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ تُصِيبُنِي الْجَنَابَةُ مِنْ اللَّيْلِ فَأَمَرَهُ أَنْ يَغْسِلَ ذَكَرَهُ وَيَتَوَضَّأَ ثُمَّ يَرْقُدَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح




৭৭৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) উমার রিদওয়ানুল্লাহু আলাইহি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করলেন। বললেন: ‘রাতে যদি ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) হয়ে পড়ি (এমতাবস্থায় আমি গোসল না করে ঘুমাতে পারব কি)? তখন তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন যে, সে যেন তার পুরুষাঙ্গ ধুয়ে নেয় এবং ওযু করে, এরপর ঘুমায়।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী, ২৮৭; সহীহ মুসলিম ৩০৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২১৭, ১২১৮ এ; এটি আরও বর্ণিত, হয়েছে: বাইহাকী, মা’রেফাতুস zwj;সুনান নং ১৫১৬; দেখুন, ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ১/৮৬।









সুনান আদ-দারিমী (780)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ وَهُوَ جُنُبٌ فَقَالَتْ كَانَ يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يَنَامُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :محمد بن إسحاق مدلس وقد عنعن ولكن الحديث صحيح




৭৮০. আব্দুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করলাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘জুনুবী’ (অপবিত্র) অবস্থায় ঘুমাতে চাইলে কী করতেন? তিনি বললেন: তিনি সালাতের ওযুর ন্যায় ওযু করতেন এরপর ঘুমাতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক মুদাল্লিস। আর তিনি এটি ‘আন ‘আন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন (ফলে এর সনদ যঈফ-অুনবাদক)। তবে হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৮৬; সহীহ মুসলিম ৩০৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২১৭, ১২১৮ এ; এটি আরও বর্ণিত, হয়েছে: বাইহাকী, মা’রেফাতুস zwj;সুনান নং ১৫১৭, ১৫২০; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/২২০, ২২১।