হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (781)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سُعَادٍ وَكَانَ مَرْضِيًّا مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمَاءُ مِنْ الْمَاءِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ليس بذاك ولكن الحديث صحيح




৭৮১. আবু আইয়্যুব আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযা সাল্লাম বলেছেন: “পানি (তথা গোসল করা) পানির (বীর্যপাতের) ফলেই ফরয হয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ ওটি নয়। কিন্তু হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা সংযোজন করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৭৩; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২২৮, ২২৯ এ; মাওয়ারিদে আমাদের সংযোজিত টীকা দেখুন। আর এ হাদীসটি মানসুখ (রহিত)। দেখুন পরবর্তী হাদীসগুলি এবং এরউপর আমাদের টীকাসমূহ।









সুনান আদ-দারিমী (782)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَمِعَ مِنْهُ وَهُوَ ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَنِي أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ أَنَّ الْفُتْيَا الَّتِي كَانُوا يُفْتَوْنَ بِهَا فِي قَوْلِهِ الْمَاءُ مِنْ الْمَاءِ رُخْصَةٌ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَخَّصَ فِيهَا فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ ثُمَّ أَمَرَ بِالِاغْتِسَالِ بَعْدُ قَالَ عَبْد اللَّهِ وَقَالَ غَيْرُهُ قَالَ الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنِي بَعْضُ مَنْ أَرْضَى عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف ولكن الحديث صحيح




৭৮২. সাহল ইবনু সা’দ আস সাঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। আর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাত (ইন্তেকাল) হয়, তখন তার বয়স ছিল পনের বছর। তিনি বলেন, আমার নিকট উবাই ইবনু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) এ বাণী: “পানি (তথা গোসল করা) পানির (বীর্যপাতের) ফলেই ফরয হয়।“ এর দ্বারা তারা যে ফতোয়া দিতেন, তা ছিলো আসলে একটি বিশেষ ছাড়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের প্রাথমিক যুগে এ ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছিলেন। তারপর তিনি পরবর্তীকালে (বীর্যপাত না হলেও) গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ বলেন: অপর একজন বলেন: যুহরী বলেছেন: সাহল ইবনু সা’দ এমন এক ব্যক্তি আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন যিনি তার প্রতি সন্তুষ্ট।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কিন্তু হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২২৮, ২২৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৭৯ এ আমরা দীর্ঘ টীকা সংযোজন করেছি। আরও দেখুন পরবর্তী টীকাটি এবং ইবনু শাহীন, নাসিখ ওয়াল মানসূখ নং ১৭।









সুনান আদ-দারিমী (783)


أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الْجَمَّالُ حَدَّثَنَا مُبَشِّرٌ الْحَلَبِيُّ عَنْ مُحَمَّدٍ أَبِي غَسَّانَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنِي أُبَيٌّ أَنَّ الْفُتْيَا الَّتِي كَانُوا يُفْتَوْنَ بِهَا الْمَاءُ مِنْ الْمَاءِ كَانَتْ رُخْصَةً رَخَّصَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ أَوْ الزَّمَانِ ثُمَّ اغْتَسَلَ بَعْدُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৮৩. সাহল ইবনু সা’দ আস সাঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট উবাই ইবনু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, “পানি (তথা গোসল করা) পানির (বীর্যপাতের) ফলেই ফরয হয়।“ এ কথার দ্বারা তারা যে ফতোয়া দিতেন, তা ছিলো আসলে একটি বিশেষ ছাড় যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের প্রথম দিকে কিংবা প্রাথমিক যুগে এ অনুমতি দিয়েছিলেন। তারপর তিনি পরবর্তীকালে (বীর্যপাত না হলেও) গোসল করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন। (আরও দেখুন, সহীহ মুসলিম ৩৫০-অনুবাদক।)









সুনান আদ-দারিমী (784)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الْأَرْبَعِ ثُمَّ جَهَدَهَا فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৮৪. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন সে (কোনো পূরুষ) তার (স্ত্রীর) চার শাখার (দু’হাত ও দু’পায়ের) মাঝখানে বসবে এবং তার সাথে (সঙ্গমে) চেষ্টারত হবে, তখন গোসল ফরয হবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ২৯১; সহীহ মুসলিম ৩৪৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা সংযোজন করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৭৪, ১১৭৮, ১১৮২।

এটি আরও বর্ণনা করেছেন, হাইছাম ইবনু কুলাইব, আল মুসনাদ নং ১৪২১।









সুনান আদ-দারিমী (785)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يَقُولُ سَأَلَتْ خَالَتِي خَوْلَةُ بِنْتُ حَكِيمٍ الْسُلَمِيَّةُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْمَرْأَةِ تَحْتَلِمُ فَأَمَرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৮৫. আতা আল খুরাসানী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহ. কে বলতে শুনেছি: আমার খালা খাওলাহ বিনতে হাকীম আল সুলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ‘ইহতিলাম’ (স্বপ্নদোষ) হওয়া স্ত্রীলোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি তাকে গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব ‘জিজ্ঞাসা’র যুগ পাননি, তবে তিনি তার খালা হতে এটি বর্ণনা করেছেন, তার খালা খাওলাহ বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম.... মুসনাদে আহমাদ ৬/৪০৯; নাসাঈ ১৯৮; তাবারাণী, আল কাবীর ২৪/২৪০ নং ৬১০; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৫/২০৬। এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ৬/৪০৯; ইবনু মাজাহ ৬০২; তাবারাণী ২৪/২৪১ নং ৬১৩... (এ সনদের) আলী ইবনু যাইদ যঈফ।

(এর শাহিদ বর্ণিত হয়েছে আনাস ইবনু মালিক, আয়িশা এবং উম্মু সালামাহ রা: হতে সহীহ মুসলিম ৩১০-৩১৪। -অনুবাদক। পরবর্তী হাদীস দু’টি দেখুন)

দেখুন, উসদুল গাবাহ ৭/৯৩; আল ইসাবা ১২/২৩৪-২৩৫; আমার তাহক্বীক্বকৃত মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৪৭৪।









সুনান আদ-দারিমী (786)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ أُمَّ بَنِي أَبِي طَلْحَةَ دَخَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنْ الْحَقِّ أَرَأَيْتَ الْمَرْأَةَ تَرَى فِي النَّوْمِ مَا يَرَى الرَّجُلُ أَتَغْتَسِلُ قَالَ نَعَمْ فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ أُفٍّ لَكِ أَتَرَى الْمَرْأَةُ ذَلِكَ فَالْتَفَتَ إِلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ تَرِبَتْ يَمِينُكِ فَمِنْ أَيْنَ يَكُونُ الشَّبَهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف عبد الله بن صالح كاتب الليث ولكن الحديث صحيح




৭৮৬. উরওয়া ইবনু যুবাইর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবী তালহার সন্তানের মাতা উম্মু সুলাইম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রবেশ করে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! নিশ্চয়ই আল্লাহ হক্ব (সত্য প্রকাশ)-এর ব্যাপারে লজ্জাবোধ করেন না। পুরুষ ঘুমের মধ্যে যা দেখতে পায়, যদি কোনো স্ত্রীলোক তা দেখে তবে সে কি গোসল করবে বলে আপনি মনে করেন? তখন তিনি বললেন: “হাঁ।“ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: তখন আমি বললাম, তোমার জন্য আফসোস! স্ত্রীলোকও কি সেটা দেখে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিকে ফিরে বললেন: “তোমার ডান হাত ধুলি মলিণ হোক! তা না হলে (সন্তান তার) সদৃশ হয় কিভাবে?“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা, লাইছের লেখক আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ যঈফ। কিন্তু হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩১৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৯৫, ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৬৬ এ।









সুনান আদ-দারিমী (787)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ دَخَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمُّ سُلَيْمٍ وَعِنْدَهُ أُمُّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ الْمَرْأَةُ تَرَى فِي مَنَامِهَا مَا يَرَى الرَّجُلُ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ تَرِبَتْ يَدَاكِ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ فَضَحْتِ النِّسَاءَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُنْتَصِرًا لِأُمِّ سُلَيْمٍ بَلْ أَنْتِ تَرِبَتْ يَدَاكِ إِنَّ خَيْرَكُنَّ الَّتِي تَسْأَلُ عَمَّا يَعْنِيهَا إِذَا رَأَتْ الْمَاءَ فَلْتَغْتَسِلْ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ وَلِلنِّسَاءِ مَاءٌ قَالَ نَعَمْ فَأَنَّى يُشْبِهُهُنَّ الْوَلَدُ إِنَّمَا هُنَّ شَقَائِقُ الرِّجَالِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف محمد بن كثير هو: الصنعاني وهو ضعيف. ولكن الحديث صحيح




৭৮৭. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উম্মু সালামাহ ছিলেন, এমতাবস্থায় উম্মু সুলাইম তাঁর নিকট প্রবেশ করে বললেন, পুরুষ ঘুমের মধ্যে যা দেখতে পায়, যদি কোনো স্ত্রীলোক তা দেখে (তবে সে কী করবে)? তখন উম্মু সালামাহ বললেন, তোমার হাত দু’টি ধুলি মলিণ হোক! হে উম্মু সুলাইম, তুমি নারী জাতিকে অপমানিত করেছো।’ তখন উম্মু সুলাইমের সাহাযার্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “বরং তোমার দু’হাত ধুলি মলিন হোক! তোমাদের মধ্যে উত্তম তো সেই স্ত্রীলোক যে তার প্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে (জেনে নেয়)। যদি সে পানি (বীর্য) দেখতে পায়, তবে সে যেন গোসল করে।“ উম্মু সালামাহ বলেন, স্ত্রীলোকদেরও কি পানি (বীর্য নির্গত) হয়? তিনি বললেন: “হাঁ, তা না হলে সন্তান তাদের সৃদশ হয় কিভাবে? নিশ্চয়ই তারা (এক্ষেত্রে) পুরুষদের সমকক্ষ।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। মুহাম্মাদ ইবনু কাছীর যঈফ। কিন্তু হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩১০, ৩১৪; আহমাদ ৩/১৯৯, ২৮২; নাসাঈ ১৯৫; বাইহাকী ১/১৬৯; ইবনু আব্দুল বার, আত তামহীদ ৮/৩৩৮; ইবনু হিব্বান নং ১১৬৪।









সুনান আদ-দারিমী (788)


أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَوْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الرَّجُلِ يَسْتَيْقِظُ فَيَرَى بَلَلًا وَلَمْ يَذْكُرْ احْتِلَامًا قَالَ لِيَغْتَسِلْ فَإِنْ رَأَى احْتِلَامًا وَلَمْ يَرَ بَلَلًا فَلَا غُسْلَ عَلَيْهِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن




৭৮৮. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেন, যে লোক জেগে উঠে কাপড়ে আদ্রতা (ভেজা) দেখে কিন্তু স্বপ্নদোষের কথা স্মরণ করতে পারে না। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “সে যেন গোসল করে, কারণ যদি তার স্বপ্নদোষ হয়েছে বলে মনে হয়, কিন্তু (বীর্যপাতের কারণে) কাপড়ে আদ্রতা দেখতে না পায়, তবে তার গোসলের প্রয়োজন নেই।“ [1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: আমরা মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৯৪ তে এ সনদ কে যঈফ বলেছি।

((বাইহাকী ১/১৬৭; আহমাদ ৬/২৫৬; আবু দাউদ ২৩৬; তিরমিযী ১১৩; ইবনু মাজাহ ৬১২।- মুহাক্বিক্ব দারানীর তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪৬৯৪ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))

এটি আরও বর্ণনা করেছেন: দারুকুতনী ১/১৩৩।









সুনান আদ-দারিমী (789)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلَا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الْوَضُوءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا




৭৮৯. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে জেগে ওঠে, তখন সে যেন তার হাত তিনবার ধোয়ার পূর্বে তা ওযুর পাত্রের পানিতে ডুবিয়ে না দেয়।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৫৮০; সহীহ মুসলিম ৬০৭।

আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৬৩, ৫৯৬১, ৫৯৭৩; ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৬১, ১০৬২; এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৮১-৯৮২।









সুনান আদ-দারিমী (790)


أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَخَلَ الْغَائِطَ ثُمَّ خَرَجَ فَأُتِيَ بِطَعَامٍ فَقِيلَ أَلَا تَتَوَضَّأُ فَقَالَ أُصَلِّي فَأَتَوَضَّأُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৯০. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি পায়খানায় প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি বের হলেন, ইতোমধ্যে খাবার নিয়ে আসা হলো। তাঁকে বলা হলো: আপনি ওযু করলেন না? তখন জবাবে তিনি বললেন: “আমি কি সালাত আদায় করবো যে, ওযু করতে হবে?“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ৩৭৪ (১১৯); তিরমিযী, শামাইল নং ১৮৬, ১৮৭; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ১/২৩৯; বাইহাকী ১/৪২; আহমদ ১/৩৫৯; আবু দাউদ ৩৭৬০; নাসাঈ ১৩২; তাবারানী, আল কাবীর ১১/১২২ নং ১১২৪১; বাগাবী, শারহুস zwj;সুন্নাহ নং ২৮৩৫; সহীহ ইবনু খুযাইমা, অপর একটি সহীহ সনদে; আহমাদ ১/২৮২ অপর সনদে; অপর সনদে তাবারানী, আল কাবীর ১২/৮২ নং ১২৫৪৭; আরও দেখুন ফাতহুল বারী ১/২৩২।









সুনান আদ-দারিমী (791)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ وَعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ اسْتُحِيضَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ وَهِيَ تَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ سَبْعَ سِنِينَ فَشَكَتْ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ هَذِهِ لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ وَإِنَّمَا هِيَ عِرْقٌ فَإِذَا أَقْبَلَتْ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ صَلِّي قَالَتْ عَائِشَةُ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلَاةٍ ثُمَّ تُصَلِّي وَكَانَتْ تَقْعُدُ فِي مِرْكَنٍ لِأُخْتِهَا زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حَتَّى إِنَّ حُمْرَةَ الدَّمِ لَتَعْلُو الْمَاءَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৯১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতে জাহশ, যিনি আব্দুর রহমান ইবনু আউফের স্ত্রী ছিলেন, তিনি সাত বছর যাবত ইসতিহাযার রোগী ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “এটি হায়েয নয়, বরং এটি শিরা থেকে প্রবাহিত রক্ত। ফলে যখন হায়েয আসবে, তখন তুমি সালাত পরিত্যাগ করবে। যখন তা চলে যাবে, তখন তুমি গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।“ আয়িশা বলেন: এরপর তিনি প্রত্যেক সালাতের জন্য ওযু করতেন এবং সালাত আদায় করতেন। আর তিনি তার বোন যায়নাব বিনতে জাহশের একটি পাত্রে বসে গোসল করতেন। এমনকি পানি রক্তে লাল হয়ে যেতো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী, ২২৮; সহীহ মুসলিম ৩৩৩। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও টীকা সংযোজন করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪৪০৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৪৮, ১৩৫০, ১৩৫৪ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৯৩।









সুনান আদ-দারিমী (792)


أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ هِشَامٍ صَاحِبِ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৯২. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিয়ামরত অবস্থায় তার সাথে মেলামেশা[1] (স্পর্শ) করতেন।[2]

[1] ‘باشر বাশিরু’ শব্দটি আসলে মেলামেশা বা স্পর্শ করা অর্থে এসেছে। এর মূল হলো সঙ্গম করা ব্যতীত পুরুষের (শরীরের) চামড়া নারীর চামড়া স্পর্শ করা।

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ বুখারী ১৯২৭; সহীহ মুসলিম ১১০৬; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও টীকা সংযোজন করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪৪২৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৩৭।









সুনান আদ-দারিমী (793)


أَخْبَرَنَا أَبُو حَاتِمٍ الْبَصْرِيُّ رَوْحُ بْنُ أَسْلَمَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৯৩. (অপর সনদে) আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিয়ামরত অবস্থায় তার সাথে মেলামেশা[1] (স্পর্শ) করতেন।[2]

[1] ‘باشر বাশিরু’ শব্দটি আসলে মেলামেশা বা স্পর্শ করা অর্থে এসেছে। এর মূল হলো সঙ্গম করা ব্যতীত পুরুষের (শরীরের) চামড়া নারীর চামড়া স্পর্শ করা।

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি আগের হাদীসের পূনরুক্তি। আগের টীকাটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (794)


أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سُلَيْمَانُ أَخْبَرَنِي عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهَا نَاوِلِينِي الْخُمْرَةَ قَالَتْ إِنِّي حَائِضٌ قَالَ إِنَّهَا لَيْسَتْ فِي يَدِكِ




৭৯৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন: “আমাকে জায়নামায[1] এনে দাও।“ তখন তিনি (আয়েশা) বলেন, আমি তো হায়েযগ্রস্ত। তখন তিনি বলেন: “তা তো তোমার হাতে লেগে নেই।“[2]

[1] الخمرة ‘খুমরাহ’ অর্থ ‘سجادة ’ (জায়নামায)।

[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৯৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও টীকা সংযোজন করেছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৪৪৮৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৫৭, ১৩৫৮ এ।









সুনান আদ-দারিমী (795)


أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ عَنْ جَدَّتِهَا أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ سَمِعْتُ امْرَأَةً وَهِيَ تَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ تَصْنَعُ بِثَوْبِهَا إِذَا طَهُرَتْ مِنْ مَحِيضِهَا قَالَ إِنْ رَأَيْتِ فِيهِ دَمًا فَحُكِّيهِ ثُمَّ اقْرُصِيهِ ثُمَّ انْضَحِي فِي سَائِرِ ثَوْبِكِ ثُمَّ صَلِّي فِيهِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৯৫. ফাতিমা বিনতে আল মুনযির তার দাদি আসমা বিনতে আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি এক মহিলা হতে শুনেছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, যখন সে হায়েয হতে পবিত্র হবে, তখন সে তার কাপড় কিভাবে (পবিত্র) করবে? তিনি বলেছিলেন: “যদি সে তার কাপড়ে রক্ত দেখতে পায় তবে সে তা ঘষে ও খুঁটিয়ে তুলে ফেলবে অতঃপর তোমার পুরো কাপড়ে পানি ছিটিয়ে দেবে। এরপর তুমি সেই কাপড়ে সালাত আদায় করবে।“[1]



[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবু দাউদ ৩৫৬, ৩৬১; আহমাদ ৬/৩৪৫, ৩৪৬,৩৫৩; ইবনু আবী শাইবা ১/৯৫; বুখারী ২২৭; সহীহ মুসলিম ২৯১; তিরমিযী ১৩৮; নাসাঈ ২৯৪; আমি এটি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৯৬-১৩৯৮ নং ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩২২ তে পূর্ণ তাখরীজ করেছি।









সুনান আদ-দারিমী (796)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ سَأَلَتْ امْرَأَةٌ مِنْ الْأَنْصَارِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْحَيْضِ قَالَ خُذِي مَاءَكِ وَسِدْرَكِ ثُمَّ اغْتَسِلِي وَأَنْقِي ثُمَّ صُبِّي عَلَى رَأْسِكِ حَتَّى تَبْلُغِي شُؤُونَ الرَّأْسِ ثُمَّ خُذِي فِرْصَةً مُمَسَّكَةً قَالَتْ كَيْفَ أَصْنَعُ بِهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَسَكَتَ قَالَتْ فَكَيْفَ أَصْنَعُ بِهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَسَكَتَ فَقَالَتْ عَائِشَةُ خُذِي فِرْصَةً مُمَسَّكَةً فَتَتَبَّعِي بِهَا آثَارَ الدَّمِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْمَعُ فَمَا أَنْكَرَ عَلَيْهَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৯৬. উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারদের এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হায়িয (এর গোসল) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি জবাবে বললেন: “তোমরা কুলপাতা মিশ্রিত পানি নাও, এরপর (তা দিয়ে) সুন্দরভাবে ধৌত করো এবং মাথায় পানি ঢালবে যাতে তা তোমার চুলের গোড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছে যায়। তারপর সুগন্ধিযুক্ত এক টুকরো কাপড় নিয়ে তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা দ্বারা সে কিভাবে (পবিত্রতা অর্জন) করবে? তখন তিনি চুপ থাকলেন। সে আবার বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা দ্বারা সে কিভাবে (পবিত্রতা অর্জন) করবে? তখনও তিনি চুপ থাকলেন। তখন আয়িশা বললেন: সুগন্ধিযুক্ত এক টুকরো কাপড় নিয়ে তা রক্তের চিহ্নের উপর বুলিয়ে দিবে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা শুনলেন কিন্তু তিনি এতে অস্বীকৃতি জানাননি।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: বুখারী ৩১৪; সহীহ মুসলিম ৩৩২;

আমি এটি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৭৩৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১১৯৯, ১২০০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৬৭ তে পূর্ণ তাখরীজ ও পার্শ্বটীকা দিয়েছি, কিন্তু সহীহ ইবনু হিব্বানে সূত্র উল্লেখে করতে ভুল করেছি।









সুনান আদ-দারিমী (797)


أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلَا أَطْهُرُ أَفَأَدَعُ الصَّلَاةَ قَالَ لَا إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ فَإِذَا أَقْبَلَتْ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৭৯৭. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে আবী হুবাইশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলা। আমি পবিত্র হই না, ফলে সালাত পরিত্যাগ করি। তখন তিনি বললেন: না, বরং এটি শিরা থেকে প্রবাহিত রক্ত। ফলে যখন হায়েয আসবে, তখন তুমি সালাত পরিত্যাগ করবে। যখন তা চলে যাবে, তখন তোমার (দেহ) হতে রক্ত ধুয়ে ফেলবে এবং সালাত আদায় করবে।“[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আবু আউয়ানাহ, ১/৩১৯; সহীহ বুখারী ২২৮; সহীহ মুসলিম ৩৩৩।

আমি এটি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৮৬, ৪৭৯৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৫০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৯৩ তে পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি। হাদীসটি সামনে ৮০৬ নং আসছে।









সুনান আদ-দারিমী (798)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ ابْنَةَ جَحْشٍ اسْتُحِيضَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْغُسْلِ لِكُلِّ صَلَاةٍ فَإِنْ كَانَتْ لَتَدْخُلُ الْمِرْكَنَ وَإِنَّهُ لَمَمْلُوءٌ مَاءً فَتَنْغَمِسُ فِيهِ ثُمَّ تَخْرُجُ مِنْهُ وَإِنَّ الدَّمَ لَعَالِيهِ فَتُصَلِّي

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف فيه عنعنة محمد بن إسحاق




৭৯৮. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহাশের কন্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ইস্তিহাযাগ্রস্ত হয়েছিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে সে পানি ভরা একটি পাত্রের মধ্যে বসতো এবং তাতে (শরীরের নিম্নাংশ) ডুবানোর পর পাত্র হতে উঠে আসতো। তখন পানির উপরিভাগ পর্যন্ত রক্তবর্ণ ধারণ করতো। অতঃপর সে সালাত আদায় করতো।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক এটি ‘আন‘আন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হাদীসটি সহীহ।

তাখরীজ: আহমাদ ৬/২৩৭; তাবারানী, আস সগীর ১/৭৫; আবু দাউদ ২৯২; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৯৮, ১০১; দেখুন সামনের ৮০৫ নং হাদীসটি। আমি এটি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪০৫, ৪৪১০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৫০. ১৩৫৩ তে পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি।









সুনান আদ-দারিমী (799)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِنَّمَا هِيَ فُلَانَةُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ أَمَرَهَا بِالْغُسْلِ لِكُلِّ صَلَاةٍ فَلَمَّا شَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهَا أَمَرَهَا أَنْ تَجْمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ بِغُسْلٍ وَاحِدٍ وَبَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِغُسْلٍ وَاحِدٍ وَتَغْتَسِلَ لِلْفَجْرِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد النَّاسُ يَقُولُونَ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلٍ قَالَ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ سُهَيْلَةُ بِنْتُ سَهْلٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف فيه عنعنة ابن إسحاق




৭৯৯. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জনৈক মহিলাকে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করতে নির্দেশ দেন। ফলে সেটি তার উপর কষ্টদায়ক হলে যোহর ও আসর সালাতকে একত্রে এক গোসলে, মাগরিব ও ঈশা’ এক গোসলে এবং ফজর এক গোসলে আদায় করতে নির্দেশ দেন।[1] আবু মুহাম্মদ বলেন: লোকেরা বলতো, (মহিলাটির নাম ছিল) সাহলাহ বিনতু সুহাইল; ইয়াযীদ ইবনু হারুন বলেন, (তার নাম) সুহাইলাহ বিনতু সাহল।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক এটি ‘আন‘আন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তার মুতাবি’আত হাদীস রয়েছে যা এর সনদকে সহীহ তে উন্নীত করে। আল্লাহই ভাল জানেন।

তাখরীজ: আবু দাউদ ২৯৫ (একই অর্থে ভিন্ন সনদে); যা সামনে ৮১২ নং এ আসছে। এর জন্য পূর্বের আয়িশার হাদীসটি ও পরের হাদীসটি দেখুন।









সুনান আদ-দারিমী (800)


أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ عَنْ الْمُسْتَحَاضَةِ فَأَخْبَرَنِي عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ امْرَأَةً اسْتُحِيضَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُمِرَتْ قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهَا قَالَ لَا أُحَدِّثُكَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا فَأُمِرَتْ أَنْ تُؤَخِّرَ الظُّهْرَ وَتُعَجِّلَ الْعَصْرَ وَتَغْتَسِلَ لَهُمَا غُسْلًا وَتُؤَخِّرَ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلَ الْعِشَاءَ وَتَغْتَسِلَ لَهُمَا غُسْلًا وَتَغْتَسِلَ لِلصُّبْحِ غُسْلًا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৮০০. শু’বাহ বলেন, আমি আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিমকে মুসতাহাযাহ’ (ইস্তিহাযাহগ্রস্ত) নারী’র ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি তার পিতার সূত্রে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করলেন, তিনি বলেন, জনৈক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ইস্তিহাযাগ্রস্ত হয়েছিলেন। ফলে তাকে আদেশ দেয়া হয়েছিল.... তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি আব্দুর রহমানকে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে আদেশ করেছিলেন? তিনি বললেন: আমি তোমাকে আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে কোনোকিছু বর্ণনা করব না। তিনি বলেন: তাকে আদেশ করা হয়েছিল, সে (মহিলা) যেন আসরের সালাত তার প্রারম্ভিক সময়ে এবং zwj;যুহরের সালাত তার শেষ সময়ে একই গোসলে আদায় করে। একইভাবে সে যেন মাগরিবকে পিছিয়ে তার শেষ সময়ে এবং ঈশা’কে তার প্রথম সময়ে একই গোসলে আদায় করে এবং ফজরের সালাতের জন্য একবার গোসল করে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: তায়ালিসী ১/৬৩ নং ২৪১; আবু দাউদ ২৯৪; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০০; বাইহাকী ১/৩৫২।