সুনান আদ-দারিমী
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ اسْتُحِيضَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ سَبْعَ سِنِينَ وَهِيَ تَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ فَاشْتَكَتْ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهَا لَيْسَتْ بِحِيضَةٍ إِنَّمَا هُوَ عِرْقٌ فَإِذَا أَقْبَلَتْ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي قَالَتْ عَائِشَةُ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلَاةٍ ثُمَّ تُصَلِّي قَالَتْ وَكَانَتْ تَقْعُدُ فِي مِرْكَنٍ لِأُخْتِهَا زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حَتَّى إِنَّ حُمْرَةَ الدَّمِ لَتَعْلُو الْمَاءَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮০১. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতে জাহশ, যিনি আব্দুর রহমান ইবনু আউফের স্ত্রী ছিলেন, তিনি সাত বছর যাবত ইসতিহাযার রোগী ছিলেন। ফলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “এটি হায়েয নয়, বরং এটি শিরা থেকে প্রবাহিত রক্ত। ফলে যখন হায়েয আসবে, তখন তুমি সালাত পরিত্যাগ করবে। যখন তা চলে যাবে, তখন তুমি গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।“ আয়িশা বলেন: এরপর তিনি প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করতেন এবং সালাত আদায় করতেন। তিনি আরও বলেন: আর তিনি তার বোন যায়নাব বিনতে জাহশের একটি পাত্রে বসে গোসল করতেন। এমনকি পানি রক্তে লাল হয়ে যেতো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৮৩; আবু ইয়ালা মাউসিলী, আল মুসনাদ ৪৪০৫; মুসনাদুল মাউসিলীতে আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি, সেখানে দেখুন। আরও দেখুন পূর্বোক্ত ৮০২ (৭৯১ আমাদের ক্রমিকে-অনুবাদক) নং হাদীসের টীকাটি এবং পরবর্তী ৮০৮-৮১১ নং হাদীস দেখুন।
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشٍ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ أَفَأَتْرُكُ الصَّلَاةَ قَالَ لَا إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ وَلَيْسَتْ بِالْحِيضَةِ فَإِذَا أَقْبَلَتْ الْحَيْضَةُ فَاتْرُكِي الصَّلَاةَ فَإِذَا ذَهَبَ قَدْرُهَا فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَتَوَضَّئِي وَصَلِّي قَالَ هِشَامٌ فَكَانَ أَبِي يَقُولُ تَغْتَسِلُ غُسْلَ الْأَوَّلِ ثُمَّ مَا يَكُونُ بَعْدَ ذَلِكَ فَإِنَّهَا تَطَّهَّرُ وَتُصَلِّي
৮০২. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, ফাতিমা বিনতে আবী হুবাইশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা। এর জন্য আমি কি সালাত পরিত্যাগ করব? তখন তিনি বললেন: না, বরং এটি শিরা থেকে প্রবাহিত রক্ত। এটি হায়েয নয়। ফলে যখন হায়েয আসবে, তখন তুমি সালাত পরিত্যাগ করবে। যখন তার (হায়েযের) নির্ধারিত দিনগুলি অতিবাহিত হবে, তখন তোমার (দেহ) হতে রক্ত ধুয়ে ফেলবে এবং গোসল করে সালাত আদায় করবে। হিশাম বলেন: আমার পিতা বলতেন: তুমি প্রথমে একবার গোসল করবে, এরপর যা কিছু হবে, তা পবিত্র অবস্থা (ধরে নিতে) হবে এবং zwj;তুমি সালাত আদায় করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০৩; পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন হাদীস নং ৮০১ (আমাদের ক্রমিকে দেখুন ৭৯৭ নং হাদীস এর টীকা-অনুবাদক। )
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَجُلًا أَخْبَرَهُ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ امْرَأَةً كَانَتْ تُهَرَاقُ الدَّمَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاسْتَفْتَتْ أُمُّ سَلَمَةَ لَهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ لِتَنْظُرْ عَدَدَ اللَّيَالِي وَالْأَيَّامِ الَّتِي كَانَتْ تَحِيضُهُنَّ قَبْلَ أَنْ يَكُونَ بِهَا الَّذِي كَانَ وَقَدْرَهُنَّ مِنْ الشَّهْرِ فَتَتْرُكْ الصَّلَاةَ لِذَلِكَ فَإِذَا خَلَفَتْ ذَلِكَ وَحَضَرَتْ الصَّلَاةُ فَلْتَغْتَسِلْ وَلْتَسْتَثْفِرْ بِثَوْبٍ ثُمَّ تُصَلِّي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده فيه جهالة ولكن الحديث صحيح
৮০৩. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে এক মহিলার রক্ত নির্গত হতেই থাকতো। ফলে উম্মু সালামাহ তার পক্ষ হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ফতোয়া চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “সে এখন যে অবস্থায় (রক্ত ঝরা রোগাবস্থায়), এ অবস্থা শুরু হওয়ার পূর্বে যে কয়দিন হায়েয হতো, সে যেন সেই কয়দিন গণনা করে; কেননা, মাসের সেই কয়দিন তার (হায়েযের) নির্ধারিত সময়। ফলে সেই কয়দিন সে সালাত পরিত্যাগ করবে, আবার যখন এ কয়দিন অতিক্রান্ত হবে, তখন সালাতের সময় উপস্থিত হলে তুমি গোসল করে এবং কাপড় দিয়ে পট্টি বেঁধে সালাত আদায় করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদে জাহালত (অজ্ঞাত রাবী) রয়েছে। তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮৯৪।
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ غَلَبَنِي الدَّمُ قَالَ اغْتَسِلِي وَصَلِّي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮০৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা উম্মু হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার প্রচুর রক্ত নির্গত হয়। তখন তিনি বলেন: “গোসল করো এবং সালাত আদায় করো।“[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৬/১৪১; পূর্ণাঙ্গ তাখরীজের জন্য আগের ৮০৫ (৮০১) নং হাদীসের টীকাটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ أَنَّهَا سَمِعَتْ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَقُولُ جَاءَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ اسْتُحِيضَتْ سَبْعَ سِنِينَ فَاشْتَكَتْ ذَلِكَ إِلَيْهِ وَاسْتَفْتَتْهُ فِيهِ فَقَالَ لَهَا إِنَّ هَذَا لَيْسَ بِالْحِيضَةِ إِنَّمَا هَذَا عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ صَلِّي قَالَتْ عَائِشَةُ وَكَانَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلَاةٍ وَتُصَلِّي وَكَانَتْ تَجْلِسُ فِي الْمِرْكَنِ فَتَعْلُو حُمْرَةُ الدَّمِ الْمَاءَ ثُمَّ تُصَلِّي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮০৫. আম্মারাহ বিনতে আব্দুর রহমান ইবনু সা’দ ইবনু যিরারাহ হতে বর্ণিত, তিনি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বলতে শুনেছেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতে জাহশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এলো। আর তিনি সাত বছর যাবত ইসতিহাযার রোগী ছিলেন। ফলে তিনি এ ব্যাপারে তাঁর নিকট অভিযোগ করলেন এবং তাঁর নিকট ফতোয়া চাইলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “এটি হায়েয নয়, বরং এটি শিরা থেকে প্রবাহিত রক্ত। তুমি গোসল করো এবং সালাত আদায় করো।“ আয়িশা বলেন: এরপর উম্মু হাবীবাহ প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করতেন এবং সালাত আদায় করতেন। আর তিনি একটি পাত্রে বসে গোসল করতেন। এমনকি পানি রক্তে লাল হয়ে যেতো। তারপর তিনি গোসল করতেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবু আউয়ানাহ ১/৩২০; আবু ইয়ালা, আল মুসনাদ নং ৪৪১০; ইবনু হিব্বান, আস সহীহ নং ১৩৫১; আরও দেখুন পূর্বের ৮০৫ নং হাদীসটি। পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন আমার তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল মাউসিলী ও সহীহ ইবনু হিব্বান।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ كَانَتْ اسْتُحِيضَتْ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْغُسْلِ لِكُلِّ صَلَاةٍ فَإِنْ كَانَتْ لَتَنْغَمِسُ فِي الْمِرْكَنِ وَإِنَّهُ لَمَمْلُوءٌ مَاءً ثُمَّ تَخْرُجُ مِنْهُ وَإِنَّ الدَّمَ لَعَالِيهِ فَتُصَلِّي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :في إسناده عنعنة ابن إسحاق
৮০৬. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতে জাহাশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ইস্তিহাযাগ্রস্ত হয়েছিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে যখন সে পানি ভরা একটি পাত্রের মধ্যে বসতো এবং তাতে (শরীরের নিম্নাংশ) ডুবানোর পর পাত্র হতে উঠে আসতো, তখন পানির উপরিভাগ পর্যন্ত রক্তবর্ণ ধারণ করতো। অতঃপর সে সালাত আদায় করতো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদটি ইবনু ইসহাক হতে ‘আন’আন পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে। ফলে এটি যঈফ। কিন্তু হাদীসটি সহীহ যা পূর্বে ৮০৩ (৭৯৮ ) নং এ উল্লেখিত হয়েছে।
তাখরীজ: আহমাদ ৬/২৩৭; এটি ৮০২, ৮০৫ (৭৯৮, ৮০১) নং এ গত হয়েছে।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ الْقَاسِمِ أَنَّهَا كَانَتْ بَادِيَةَ بِنْتَ غَيْلَانَ الثَّقَفِيَّةَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف
৮০৭. কাসিম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: (সেই মহিলা) ছিল বাদিয়্যাহ বিনতে গায়লান আস সাকাফিয়্যাহ।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কারণ, এর সনদে মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক রয়েছে। সে মুদাল্লিস। তিনি আন’আন পদ্ধতিতে এটি বর্ণনা করেছেন। দেখুন, উসদুল গাবাহ ৭/৩৪; আল ইসাবাহ ১২/১৫১-১৫২।
তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক)
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِنَّمَا هِيَ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو اسْتُحِيضَتْ وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ أَمَرَهَا بِالْغُسْلِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ فَلَمَّا جَهَدَهَا ذَلِكَ أَمَرَ أَنْ تَجْمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فِي غُسْلٍ وَاحِدٍ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فِي غُسْلٍ وَاحِدٍ وَتَغْتَسِلَ لِلصُّبْحِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف غير أن الحديث صحيح
৮০৮. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি (ইসতিহাযাগ্রস্ত সেই মহিলা) ছিলো সাহলাহ বিনতে সুহাইল ইবনু আমর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করতে নির্দেশ দেন। ফলে সেটি তার উপর কষ্টদায়ক হলে তিনি তাকে যোহর ও আসর সালাতকে একত্রে এক গোসলে, মাগরিব ও ঈশা’ এক গোসলে এবং ফজর এক গোসলে আদায় করতে নির্দেশ দেন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : (মুহাক্বিক্ব এতে কোনো হুকুম লাগাননি। তবে তাখরীজের শেষে বলেছেন,) ‘তবে হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০১; ইবনু মানদাহ- হাফিজ (ইবনু হাজার) তার আল ইসাবাহ ১২/১৫১-১৫২ অপর সনদে এটি উল্লেখ করেছেন। আর এর সনদটি যঈফ। তবে হাদীসটি সহীহ, যা ৮০৩ (অনুবাদের ক্রমিক নং ৭৯৯) তে গত হয়েছে।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ إِنَّمَا جَاءَ اخْتِلَافُهُمْ أَنَّهُنَّ ثَلَاثَتَهُنَّ كُنَّ عِنْدَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ فَقَالَ بَعْضُهُمْ هِيَ أُمُّ حَبِيبَةَ وَقَالَ بَعْضُهُمْ هِيَ بَادِيَةُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ هِيَ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلٍ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮০৯. সা’দ ইবনু ইবরাহীম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: (সেই ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলার নাম সম্পর্কে) লোকদের মধ্যকার মতভেদ যে, তারা ছিল তিন মহিলা- এ সংক্রান্ত বিষয়টি আব্দুর রহমান ইবনু আউফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট পৌঁছেছিলো। তাদের কেউ বললো: ‘তিনি ছিলেন উম্মু হাবীবাহ।’ আবার কেউ বললো: ‘তিনি ছিলেন বাদিয়্যাহ।’ আবার কেউ বললেন: ‘তিনি ছিলেন সাহলাহ বিনতে সুহাইল।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: দেখুন, আগের টীকা দু’টি। এছাড়া উসদুল গাবাহ ৭/৩৪, ১৫৪-১৫৫, ২১৪; এবং হাদীস নং ৮০৩ (অনুবাদের ক্রমিক নং ৭৯৯) এর টীকাটি দেখুন। আরও দেখুন, আল ইসাবাহ ১১২, ১৫১-১৫২, ৩১৯-৩২০, ১৩/১৯২।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى أَنَّ الْقَعْقَاعَ بْنَ حَكِيمٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَأَلَ سَعِيدًا عَنْ الْمُسْتَحَاضَةِ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي مَا بَقِيَ أَحَدٌ أَعْلَمُ بِهَذَا مِنِّي إِذَا أَقْبَلَتْ الْحَيْضَةُ فَلْتَدَعْ الصَّلَاةَ وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَلْتَغْتَسِلْ وَلْتُصَلِّ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح إلى سعيد
৮১০. কা’কা’ ইবনু হাকীম বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ রাহি. কে ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন, হে ভাতিজা! এ ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক অবগত কোনো ব্যক্তি আর অবশিষ্ট নেই। যখন তার (মহিলা) হায়েয হয়, তখন সে যেন সালাত পরিত্যাগ করে; আর যখন হায়েয অতিবাহিত হয়ে যায়, তখন সে যেন গোসল করে এবং সালাত আদায় করে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : সাঈদ পর্যন্ত এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৬-১২৭; বাইহাকী ১/৩৩০ সহীহ সনদে।
أَخْبَرَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمَّارٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَدَعُ الصَّلَاةَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ ثُمَّ تَحْتَشِي وَتَسْتَثْفِرُ ثُمَّ تُصَلِّي فَقَالَ الرَّجُلُ وَإِنْ كَانَ يَسِيلُ قَالَ وَإِنْ كَانَ يَسِيلُ مِثْلَ هَذَا الْمَثْعَبِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮১১. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, (ইতিপূর্বে) যে কয়দিন তার হায়েয হতো, সেই কয়দিন সে সালাত পরিত্যাগ করবে, তারপর গোসল করবে, অতঃপর (গোপনাঙ্গে তুলা) ভরে পুটলি বানিয়ে পট্টি বাঁধবে এরপর সালাত আদায় করবে। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠলো, যদি তার রক্ত ঝরতে থাকে, (তাহলেও কি সে সালাত আদায় করবে)? যদি তার এই নলের (ধারার) মতো রক্ত ঝরতে থাকে, (তবুও সে সালাত আদায় করবে)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ১/২৫২ এটি টীকায় উল্লেখ করেছেন; ইসতিহাযা গ্রস্ত নারীর গোসল করা সম্পর্কে ইবনু আব্বাসের বর্ণনা সমূহ দেখুন নং ৮১৬, ৮২৪, ৮২৭, ৮২৮, ৮৩১ ((৮১২, ৮২০, ৮২৩, ৮২৪, ৮২৭ নং অনুবাদের ক্রম)) হাদীসগুলো দেখুন।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ قَالَ كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ قَوْلًا فِي الْمُسْتَحَاضَةِ ثُمَّ رَخَّصَ بَعْدُ أَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ أَدْخُلُ الْكَعْبَةَ وَأَنَا حَائِضٌ قَالَ نَعَمْ وَإِنْ كُنْتِ تَثُجِّينَهُ ثَجًّا اسْتَدْخِلِي ثُمَّ اسْتَثْفِرِي ثُمَّ ادْخُلِي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮১২. আম্মার ইবনু আবী আম্মার হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ইসতিহাযাগ্রস্ত নারীদের ব্যাপারে মতামতের ক্ষেত্রে লোকদের মাঝে সকলের চেয়ে অধিক কঠোর ছিলেন। যদিও তিনি পরে তার নিকট যখন এক মহিলা এসে জিজ্ঞাসা করলো: আমি কি হায়েয অবস্থায় কা’বায় প্রবেশ করতে পারি? এরপর তিনি এর অনুমতি দিয়ে বলেন: হাঁ, যদি তোমার হায়েযের রক্ত প্রবল বেগে প্রবাহিত হতে থাকে, তবে (গোপনাঙ্গে) তুলা দিয়ে পট্টি বেধে নাও, এরপর কা’বায় প্রবেশ করো।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আগের হাদীসের টীকাটি দেখুন। এটি আমি এ ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।
أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ مُجَالِدٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ قَمِيرَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَأَلْتُهَا عَنْ الْمُسْتَحَاضَةِ قَالَتْ تَنْتَظِرُ أَقْرَاءَهَا الَّتِي كَانَتْ تَتْرُكُ فِيهَا الصَّلَاةَ قَبْلَ ذَلِكَ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ طُهْرِهَا الَّذِي كَانَتْ تَطْهُرُ فِيهِ اغْتَسَلَتْ ثُمَّ تَوَضَّأَتْ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَصَلَّتْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف مجالد بن سعيد
৮১৩. (মাসরুকের স্ত্রী) ক্বমীর বিনতে ’ইমরান হতে বর্ণিত, তিনি আয়িশা রা: থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (কমীর) বলেন, আমি তাকে (আয়িশা রা: কে) ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি (আয়িশা রা:) বলেন: ‘এর পূর্বে (হায়েযের সময়) যে কয়দিন সে সালাত পরিত্যাগ করতো, সেই কয়দিন সময় সে অপেক্ষা করবে। অতঃপর বিগত দিনে হায়েয অতিক্রান্ত হয়ে যখন পবিত্র হতো, সেই দিনে সে পবিত্র হবে, গোসল করবে তারপর প্রত্যেক সালাতের সময় ওযু করবে ও সালাত আদায় করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা, মুজালিদ ইবনু সাঈদ যঈফ। কিন্তু তিনি এটি একা বর্ণনা করেননি। বরং তাকে অনুসরণ করে (মুতাবিয়াত) বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবনু মায়সারা এবং বায়ান।
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০৫ এটি আয়িশা রা: থেকে মাওকুফ হিসেবে সহীহ; ইবনু আবী শাইবা ১/১২৬; আব্দুর রাযযাক নং ১১৭০; বাইহাকী ১/৩৪৬; দেখুন সুনান আবু দাউদ ১/২১০-২১১ ৩০০ নং হাদীসের পববর্তী আলোচনা এবং সুনানে বাইহাকী ১/৩৪৬, ৩৪৭; এবং পরবর্তী হাদীসটি দুটিও দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُعْتَمِرٍ عَنْ إِسْمَعِيلَ عَنْ رَجُلٍ مِنْ حَيِّهِ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ مِثْلَ مَا قَالَتْ عَائِشَةُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده ضعيف فيه جهالة
৮১৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা যা বললেন, আবী জা’ফর থেকেও এর অনুরূপ কথা বর্ণিত হয়েছে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। কারণ এতে জাহালত (অজ্ঞাত পরিচয় রাবী) রয়েছে।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৬ অপর সনদে আবী জা’ফর হতে মাওকুফ হিসেবে সহীহ। যা সামনে ৮২৫ (৮২১ অনুবাদের নং) এ আসছে।
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ عَنْ عَامِرٍ عَنْ قَمِيرَ عَنْ عَائِشَةَ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَنْتَظِرُ أَيَّامَهَا الَّتِي كَانَتْ تَتْرُكُ الصَّلَاةَ فِيهَا فَإِذَا كَانَ يَوْمُ طُهْرِهَا الَّذِي كَانَتْ تَطْهُرُ فِيهِ اغْتَسَلَتْ ثُمَّ تَوَضَّأَتْ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَصَلَّتْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮১৫. আয়িশা রা: হতে বর্ণিত, ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে (তিনি বলেন:) ‘ইতিপূর্বে (হায়েযের সময়) যে কয়দিন সে সালাত পরিত্যাগ করতো, সেই কয়দিন সময় সে অপেক্ষা করবে। অতঃপর বিগত দিনে হায়েয অতিক্রান্ত হয়ে যখন পবিত্র হতো, সেই দিনে সে পবিত্র হবে, গোসল করবে তারপর প্রত্যেক সালাতের সময় ওযু করবে ও সালাত আদায় করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আবু দাউদের ৩০০ নং হাদীসের পরের টীকাটি দেখুন; এবং এর পূর্বর্তী হাদীসটি এবং পরবর্তী ৮২৬ (৮২২ অনুবাদের ক্রমিক) নং হাদীসটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ تَدَعُ الصَّلَاةَ أَيَّامَ حَيْضِهَا فِي كُلِّ شَهْرٍ فَإِذَا كَانَ عِنْدَ انْقِضَائِهَا اغْتَسَلَتْ وَصَلَّتْ وَصَامَتْ وَتَوَضَّأَتْ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف ولكن الحديث صحيح بشواهده
৮১৬. আদী ইবনু ছাবিত তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইসতিহাযাহগ্রস্ত মহিলা প্রত্যেক মাসে তার হায়িয এর দিনগুলিতে সালাত পরিত্যাগ করবে। এরপর যখন এটা সমাপ্ত হবে, তখন সে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে ও সিয়াম পালন করবে। আর সে প্রত্যেক সালাতের সময় ওযু করবে।[1]
[1] তাহ্ক্বীক্ব: এর সনদ যঈফ। কিন্তু হাদীসটির শাহিদ হাদীস থাকায় এটি সহীহ। আয়েশা রা: বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদীসসমূহ দেখুন।
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০২; আবু দাউদ ২৯৭; তিরমিযী ১২৬, ১২৭; ইবনু মাজাহ ৬২৫; বাইহাকী ১/৩৪৭।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ كَثِيرٍ وَحَفْصٍ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ إِذَا طُلِّقَتْ فَيَطُولُ بِهَا الدَّمُ فَإِنَّهَا تَعْتَدُّ قَدْرَ أَقْرَائِهَا ثَلَاثَ حِيَضٍ وَفِي الصَّلَاةِ إِذَا جَاءَ وَقْتُ الْحَيْضِ فِي كُلِّ شَهْرٍ أَمْسَكَتْ عَنْ الصَّلَاةِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮১৭. হাসান রাহিমাহুল্লাহ হতে ইস্তিহাযাহগ্রস্ত মহিলাদের যারা তাদের হায়েযের দিনগুলি অবগত, তাদের সম্পর্কে (তিনি বলেন:) যদি তাকে তালাক প্রদান করা হয়, আর দীর্ঘদিন যাবত তার রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে, তবে সে তিন হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলির সমপরিমাণ সময় (ইদ্দত) গণনা করবে; আর সালাতের ব্যাপারে কথা হলো, প্রত্যেক মাসে যখন হায়েযের নির্ধারিত সময় আসবে তখন সে সালাত আদায় হতে বিরত থাকবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: দেখুন, আব্দুর রাযযাক, ৬/৩৪৫-৩৪৬; ইবনু আবী শাইবা, ৫/১৫৮।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قُلْتُ لِقَتَادَةَ امْرَأَةٌ كَانَ حَيْضُهَا مَعْلُومًا فَزَادَتْ عَلَيْهِ خَمْسَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَرْبَعَةَ أَيَّامٍ أَوْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ قَالَ تُصَلِّي قُلْتُ يَوْمَيْنِ قَالَ ذَاكَ مِنْ حَيْضِهَا وَسَأَلْتُ ابْنَ سِيرِينَ قَالَ النِّسَاءُ أَعْلَمُ بِذَلِكَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮১৮. মু’তামির তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তার পিতা বলেন, আমি কাতাদা রাহি. কে বললাম, যে মহিলা তার হায়েযের দিনগুলি নির্দিষ্ট ছিলে; কিন্তু তার (নির্ধারিত সময়ের) চেয়েও পাঁচ দিন কিংবা চারদিন কিংবা তিনদিন অতিরিক্ত (রক্ত) প্রবাহিত হলো। (তাহলে সে কি এ দিনগুলিতে সালাত আদায় করবে)? তিনি জবাবে বললেন: সে সালাত আদায় করবে। আমি বললাম, যদি দুই দিন অতিরিক্ত হয়? তিনি বললেন, তবে সে দু’দিন তার হায়েযের দিনগুলির অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আমি এ বিষয়ে ইবনু সীরীন রাহি. কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: ‘এ ব্যাপারে মহিলারাই ভালো জানে।’[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ২/৫৩৮; সুনানে আবু দাউদ ২৮৬ নং হাদীসের পরবর্তী ব্যাখ্যা; এবং আল মুহাল্লা ২/২০৩; ও আত তামহীদ ১৬/৭৫।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْمَرْأَةِ تَرَى الدَّمَ أَيَّامَ طُهْرِهَا قَالَ أَرَى أَنْ تَغْتَسِلَ وَتُصَلِّيَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح إلى الحسن
৮১৯. মু’তামির তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তার পিতা হাসান রাহি. হতে সেই মহিলা সম্পর্কে বর্ণনা করেন, যে তার পবিত্রতার দিনগুলিতেও রক্ত দেখতে পায়। তিনি (হাসান) বলেন, আমি মনে করি, সে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান পর্যন্ত সহীহ।
তাখরীজ: সামনে ৮৯৪ (অনুবাদের ক্রমিক ৮৯০) নং এ আসছে। আরও দেখুন, মুছান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪।
তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান শাহর ইবনু হাওশাব এর কারণে।
তাখরীজ: আগের ৮১৫ (৮১১ অনুবাদের ক্রমিক) নং হাদীসটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ الْمَرْأَةِ تُسْتَحَاضُ قَالَ تَنْتَظِرُ قَدْرَ مَا كَانَتْ تَحِيضُ فَلْتُحَرِّمْ الصَّلَاةَ ثُمَّ لِتَغْتَسِلْ وَلْتُصَلِّ حَتَّى إِذَا كَانَ أَوَانُهَا الَّذِي تَحِيضُ فِيهِ فَلْتُحَرِّمْ الصَّلَاةَ ثُمَّ لِتَغْتَسِلْ فَإِنَّمَا ذَاكَ مِنْ الشَّيْطَانِ يُرِيدُ أَنْ يُكْفِرَ إِحْدَاهُنَّ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن من أجل شهر بن حوشب
৮২০. শাহর ইবনু হাওশাব বলেন, আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে ইসতিহাযাহগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: যে কয়টা দিন ধরে তার হায়েয হতো, সে সেই কয়টা দিন পরিমাণ সময় অপেক্ষা করবে, এবং তার উপর সালাত আদায় করা হারাম। তারপর সে যেন গোসল করে এবং সালাত আদায় করে সেই সময় পর্যন্ত যতক্ষণ না তার (পূণরায়) হায়েয হয়। (হায়েয হলে) তখন তার উপর সালাত আদায় হারাম। এরপর সে যেন গোসল করে। আর ওটি শয়তানের পক্ষ হতে। সে তাদের দু’জনের একজনকে কাফির বানাতে চায়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান শাহর ইবনু হাওশাব এর কারণে।
তাখরীজ: আগের ৮১৫ (৮১১ অনুবাদের ক্রমিক) নং হাদীসটি দেখুন।