সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَمْرَةَ قَالَتْ كَانَتْ عَائِشَةُ تَنْهَى النِّسَاءَ أَنْ يَنْظُرْنَ لَيْلًا فِي الْمَحِيضِ وَتَقُولُ إِنَّهُ قَدْ يَكُونُ الصُّفْرَةَ وَالْكُدْرَةَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮৮১. আমরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হায়েযের সময় মহিলাদেরকে রাতের বেলায় (রক্তস্রাব) পর্যবেক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন: তা (স্রাব) হলুদ রংয়ের এবং ঘোলা (মেটে) রংয়ের হতে পারে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৩; বাইহাকী ১/৩৩৬।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مَوْلَاةِ عَمْرَةَ قَالَتْ كَانَتْ عَمْرَةُ تَأْمُرُ النِّسَاءَ أَنْ لَا يَغْتَسِلْنَ حَتَّى تَخْرُجَ الْقُطْنَةُ بَيْضَاءَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده ضعيف فيه جهالة
৮৮২. ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ দাসী আমরাহ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরাহ মহিলাদেরকে গোসল করতে নিষেধ করতেন যতক্ষণ তুলা সাদা বর্ণ অবস্থায় না বের হয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এতে অজ্ঞাতনামা রাবী রয়েছে।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪ এ সনদটি উল্লিখিত সনদের চেয়েও অধিক যঈফ।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ قَالَ سُفْيَانُ الْكُدْرَةُ وَالصُّفْرَةُ فِي أَيَّامِ الْحَيْضِ حَيْضٌ وَكُلُّ شَيْءٍ رَأَتْهُ بَعْدَ أَيَّامِ الْحَيْضِ مِنْ دَمٍ أَوْ كُدْرَةٍ أَوْ صُفْرَةٍ فَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ سُئِلَ تَأْخُذُ بِقَوْلِ سُفْيَانَ قَالَ نَعَمْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮৮৩. সুফিয়ান রাহি. বলেন, হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলিতে ঘোলা (মেটে) ও হলুদ বর্ণের যা-ই নির্গত হোক, তা হায়েয বলে গণ্য হবে। আর হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলি অতিক্রান্ত হওয়ার পরে রক্তবর্ণ, ঘোলা (মেটে) বর্ণ, কিংবা হলুদ বর্ণের কিছু দেখলে সে ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা বলে গণ্য হবে।[1] আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কি সুফিয়ানের এ মত গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: হাঁ।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২০৩।
أَخْبَرَنَا يَعْلَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ صَاحِبَتِهِ فَاطِمَةَ بِنْتِ مُحَمَّدٍ وَكَانَتْ فِي حِجْرِ عَمْرَةَ قَالَتْ أَرْسَلَتْ امْرَأَةٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِلَى عَمْرَةَ بِكُرْسُفَةِ قُطْنٍ فِيهَا كَالصُّفْرَةِ تَسْأَلُهَا هَلْ تَرَى إِذَا لَمْ تَرَ الْمَرْأَةُ مِنْ الْحِيضَةِ إِلَّا هَذَا أَنْ قَدْ طَهُرَتْ فَقَالَتْ لَا حَتَّى تَرَى الْبَيَاضَ خَالِصًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف محمد بن إسحاق قد عنعن وهو مدلس
৮৮৪. আব্দুল্লাহ ইবনু আবী বাকর থেকে বর্ণিত, তিনি তার স্ত্রী ফাতিমাহ বিনতে মুহাম্মদ হতে বর্ণনা করেন। আর ফাতিমা আমরাহ’র কোলে প্রতিপালিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি কুরাইশদের এক মহিলাকে আমরাহ’র নিকট তুলার পুটলি পাঠিয়েছিলাম- যা হলুদ রং ধারণ করেছিল। সে তাকে জিজ্ঞেস করতো: যখন কোনো মহিলা হায়িযের রক্তস্রাব না দেখে কেবল এটা (হলুদ বর্ণ) দেখে, তাহলে কি সে পবিত্র হয়ে গেছে বলে আপনি মনে করেন? তিনি বলেন: না, যতক্ষণ সে পুরোপুরি সাদা বর্ণ না দেখবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক মুদাল্লিস, তিনি এটি ‘আন‘আন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। ফাতিমাহ বিনতে মুহাম্মদ ইবনু ইসহাকর স্ত্রী ছিলেন, যিনি আয়িশার গৃহে লালিত পালিত হয়েছিলেন- আমরা যতদূর জানতে পেরেছি।
তাখরীজ: বাইহাকী ১/৩৩৬; পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ قَالَ حَدَّثَتْنِي فَاطِمَةُ عَنْ أَسْمَاءَ قَالَتْ كُنَّا نَكُونُ فِي حِجْرِهَا فَكَانَتْ إِحْدَانَا تَحِيضُ ثُمَّ تَطْهُرُ فَتَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي ثُمَّ تَنْكُسُهَا الصُّفْرَةُ الْيَسِيرَةُ فَتَأْمُرُنَا أَنْ نَعْتَزِلَ الصَّلَاةَ حَتَّى لَا نَرَى إِلَّا الْبَيَاضَ خَالِصًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
৮৮৫. ফাতিমা আসমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণনা করেন। তিনি (ফাতিমা) বলেন, আমরা আসমা রা: এর গৃহে প্রতিপালিত হয়েছি। যখন আমাদের কারো হায়েয হতো, এরপর সে পবিত্র হলে গোসল করতো এবং সালাত আদায় করতো। তারপর পুনরায় হালকা হলুদ বর্ণের স্রাব হতো। তখন তিনি (আসমা রা:) আমাদেরকে নির্দেশ দিতেন যে, যতক্ষণ পুরোপুরি সাদা রং না দেখা যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত সালাত পরিত্যাগ করি।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক যদিও মুদাল্লিস কিন্তু তিনি এখানে ‘হাদ্দাসানা’ তথা সরাসরি ‘আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেন’ বলে উল্লেখ করেছেন, যা তাদলীসের সন্দেহ দূরীভূত করে দেয়।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪; বাইহাকী ১/৩৩৬।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ الْكُدْرَةُ وَالصُّفْرَةُ وَالدَّمُ فِي أَيَّامِ الْحَيْضِ بِمَنْزِلَةِ الْحَيْضِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف ابن جريج قد عنعن
৮৮৬. ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেন: হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলিতে ঘোলা (মেটে) ও হলুদ বর্ণের- যা-ই নির্গত হোক, তা সবই হায়েযের (রক্তস্রাবের) স্থলাভিষিক্ত বলে গণ্য হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। ইবনু জুরাইজ (মুদাল্লিস) ‘আন’আন’ পদ্ধতিতে এটি বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: দেখুন, আব্দুর রাযযাক নং ১১৫৮, ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪।
أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدٍ الدِّمَشْقِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَاشِدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ إِذَا رَأَتْ الدَّمَ فَلْتُمْسِكْ عَنْ الصَّلَاةِ حَتَّى تَرَى الطُّهْرَ أَبْيَضَ كَالْقَصَّةِ ثُمَّ لِتَغْتَسِلْ وَتُصَلِّي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن من أجل سليمان بن موسى
৮৮৭. আতা ইবনু আবী রাবাহ হতে বর্ণিত, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যদি কোন মহিলা রক্তস্রাব দেখে তবে সে সালাত আদায় হতে বিরত থাকবে, যতক্ষণ সে ধবধবে কাপড়ের মতো পুরোপুরি সাদা পবিত্রাবস্থা না দেখবে। অতঃপর সে গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, সুলাইমান ইবনু মূসার কারণে।
তাখরীজ: বাইহাকী ১/৩৩৬, ৩৩৭; মা’রিফাতুস সুনান ২/১৫৫ নং ২১৮৪ আয়িশার দাসী, আলকামাহ’র মাতা হতে সহীহ সনদে; মালিক ৯৯; আব্দুর রাযযাক নং ১১৫৫৯; দেখুন ফাতহুল বারী ১/৪২০।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَامِرٍ الْأَحْوَلِ قَالَ كَانَ الْحَسَنُ لَا يَعُدُّ الصُّفْرَةَ وَالْكُدْرَةَ وَلَا مِثْلَ غُسَالَةِ اللَّحْمِ شَيْئًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮৮৮. হাম্মাদ ইবনু যাইদ হতে বর্ণিত, আমির আল আহওয়াল বলেন, হাসান রাহি. হলুদ ও ঘোলা (মেটে) রং (এর স্রাব)কে কিছুই গণ্য করতেন না, আর গোশত ধোয়া পানির মতো (হালকা লালচে রংকেও) নয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এ আছারটি (হাদীসটি) আমি এখানে ব্যতীত আর কোথাও পাইনি। দেখুন, সামনের ৮৯৪ (অনুবাদে ৮৯০) নং হাদীসটি।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ كُنَّا لَا نَعُدُّ الصُّفْرَةَ وَالْكُدْرَةَ شَيْئًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮৮৯. মুহাম্মদ হতে বর্ণিত, উম্মু আতিয়াহ বলতেন, আমরা হলুদ ও ঘোলা (মেটে) রং (এর স্রাব)কে কোনো কিছুই গণ্য করতাম না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ বুখারী ৩২৬; আবু দাউদ ৩০৭, ৩০৮; নাসাঈ ৩৬৮; ইবনু মাজাহ ৬৪৭; ইবনু আবী শাইবা ১/৯৩; হাকিম, আল মুসতাদরাক ১/১৭৪, ১৭৫; বাইহাকী ১/৩৩৭; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/১৬৭। দেখুন, মা’রিফাতুস সুনান ২/১৫৬; নাইলুল আওতার ১/৩৪৫-৩৪৬ এবং পরবর্তী ৯০০ (অনুবাদের ৮৯৬) নং হাদীসটি।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْمَرْأَةِ تَرَى الدَّمَ فِي أَيَّامِ طُهْرِهَا قَالَ أَرَى أَنْ تَغْتَسِلَ وَتُصَلِّيَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮৯০. মু’তামির তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, যে মহিলা তার পবিত্রাবস্থার দিনগুলিতে রক্ত দেখতে পায়- তার সম্পর্কে হাসান রাহি. বলেন: আমার মত হলো, সে গোসল করবে ও সালাত আদায় করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমি এটি এ শব্দে আর কোথাও পাইনি। তবে ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪ এ হাসান হতে বর্ণনা করেন, যখন সে গোসলের পরে কিছু নির্গত হতে দেখবে, তখন সে ভালভাবে কাপড় বেঁধে নেবে, ওযু করবে এবং সালাত আদায় করবে। এর সনদ হাসান।
وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ لَمْ يَكُونُوا يَرَوْنَ بِالْكُدْرَةِ وَالصُّفْرَةِ بَأْسًا
৮৯১. ইবনু সীরীন বলেন, হলুদ ও ঘোলা (মেটে) রং (এর স্রাব)কে লোকেরা দোষণীয় কিছু মনে করতেন না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদও পূর্বের সনদ একই। (এটিও সহীহ)।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৩-৯৪।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَنَفِيَّةِ فِي الْمَرْأَةِ تَرَى الصُّفْرَةَ بَعْدَ الطُّهْرِ قَالَ تِلْكَ التَّرِيَّةُ تَغْسِلُهُ وَتَوَضَّأُ وَتُصَلِّي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده ضعيف
৮৯২. আব্দুল আ’লা হতে বর্ণিত, ‘যে মহিলা পবিত্র হওয়ার পর হলুদ রং (এর স্রাব) দেখতে পেল, তার সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ বলেন: এটা যতসামান্য (হলুদ বা ঘোলা রং) মাত্র। ফলে সে তা ধুয়ে ফেলবে এবং ওযু করে সালাত আদায় করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৩; এর শব্দগুলো হলো: ‘‘এটি কিছুই নয়।“ অর্থাৎ যতসামান্য হলুদ বা মেটে রং মাত্র।
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ وَحَجَّاجٌ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ يُونُسَ وَحُمَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ لَيْسَ فِي التَّرِيَّةِ شَيْءٌ بَعْدَ الْغُسْلِ إِلَّا الطُّهُورُ قَالَ عَبْد اللَّهِ التَّرِيَّةُ الصُّفْرَةُ وَالْكُدْرَةُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮৯৩. ইউনুস ও হামীদ হতে বর্ণিত, হাসান রাহিমাহুল্লাহ বলেন: গোসলের পরে যতসামান্য স্রাব দেখলেও তা পবিত্রতাবস্থা ব্যতীত অন্য কিছু নয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ; দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪; কিন্তু বাইহাকী যঈফ সনদে হাসান রাহি. হতে বর্ণনা করেছেন: কোনো মহিলা সামান্য স্রাব দেখলে সে সালাত থেকে বিরত থাকবে কেননা, তা হায়েয।’ এর সনদ যঈফ। (সুতরাং এটি প্রমাণিত নয়।-অনুবাদক)
حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ وَعَفَّانُ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ الْحَجَّاجِ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّهُ قَالَ إِذَا رَأَتْ الْمَرْأَةُ التَّرِيَّةَ بَعْدَ الْغُسْلِ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ فَإِنَّهَا تَطَهَّرُ وَتُصَلِّي
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف حجاج هو: ابن أرطاة وهو ضعيف
৮৯৪. হারিছ হতে বর্ণিত, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু্ আনহু বলেন: যদি কোনো মহিলা গোসলের পরে দু’-একদিন যতসামান্য স্রাব দেখে, তবুও তা পবিত্রতাবস্থা বলে গণ্য হবে। আর সে সালাত আদায় করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। হাজ্জাজ ইবনু আরতাহ আবী ইসহাক থেকে কোনো কিছু শ্রবণ করা হতে পিছিয়ে রয়েছেন।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক, নং ১১৬১ অতি লম্বা আকারে, হাসান সনদে; ইবনু আবী শাইবা ১/৯৩ যঈফ সনদে।
কিন্তু পরবর্তী হাদীস দেখুন, যা এটাকে শক্তিশালী করে।
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ قَيْسٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ لَيْسَ فِي التَّرِيَّةِ بَعْدَ الْغُسْلِ إِلَّا الطُّهُورُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮৯৫. কাইস হতে বর্ণিত, আতা রাহি. বলেন: গোসলের পরে যতসামান্য স্রাব দেখলেও তা পবিত্রতাবস্থা ব্যতীত অন্য কিছু নয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪ এর ভাষা: “সে ওযু করবে এবং সালাত আদায় করবে।“ সনদ হাসান । আরও দেখুন, নিচের ৯০৫, ৯০৭ (অনুবাদে ৯০১, ৯০৩) নং হাদীস দু’টি।
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أُمِّ الْهُذَيْلِ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ وَكَانَتْ قَدْ بَايَعَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ كُنَّا لَا نَعْتَدُّ بِالْكُدْرَةِ وَالصُّفْرَةِ بَعْدَ الْغُسْلِ شَيْئًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৮৯৬. উম্মু আতিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে বাইয়াত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমরা গোসলের পর ঘোলা (মেটে) ও হলুদ রং (এর স্রাব)কে কিছুই গণ্য করতাম না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: হাকিম ১/১৭৪; আবু দাউদ ৩০৭; আর সেটি বুখারীতেও রয়েছে, যা ৮৯৩ (৮৮৯) নং এ গত হয়েছৈ। সেখানে আমরা পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি।
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ يُونُسَ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ إِذَا رَأَتْ الْحَائِضُ دَمًا عَبِيطًا بَعْدَ الْغُسْلِ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ فَإِنَّهَا تُمْسِكُ عَنْ الصَّلَاةِ يَوْمًا ثُمَّ هِيَ بَعْدَ ذَلِكَ مُسْتَحَاضَةٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح
৮৯৭. ইউনূস রাহি. হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন, যখন হায়িযগ্রস্ত মহিলা গোসলের পরে দু’-একদিন তাজা রক্ত দেখে, তবে সে অবশ্যই একদিন সালাত হতে বিরত থাকবে। আর এরপর (রক্তস্রাব চলতে থাকলে) সে তখন ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা বলে গণ্য হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ إِذَا تَطَهَّرَتْ الْمَرْأَةُ مِنْ الْمَحِيضِ ثُمَّ رَأَتْ بَعْدَ الطُّهْرِ مَا يَرِيبُهَا فَإِنَّمَا هِيَ رَكْضَةٌ مِنْ الشَّيْطَانِ فِي الرَّحِمِ فَإِذَا رَأَتْ مِثْلَ الرُّعَافِ أَوْ قَطْرَةِ الدَّمِ أَوْ غُسَالَةِ اللَّحْمِ تَوَضَّأَتْ وُضُوءَهَا لِلصَّلَاةِ ثُمَّ تُصَلِّي فَإِنْ كَانَ دَمًا عَبِيطًا الَّذِي لَا خَفَاءَ بِهِ فَلْتَدَعْ الصَّلَاةَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :قَالَ أَبُو مُحَمَّد سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ يَقُولُ إِذَا كَانَ أَيَّامُ الْمَرْأَةِ سَبْعَةً فَرَأَتْ الطُّهْرَ بَيَاضًا فَتَزَوَّجَتْ ثُمَّ رَأَتْ الدَّمَ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْعَشْرِ فَالنِّكَاحُ جَائِزٌ صَحِيحٌ فَإِنْ رَأَتْ الطُّهْرَ دُونَ السَّبْعِ فَتَزَوَّجَتْ ثُمَّ رَأَتْ الدَّمَ فَلَا يَجُوزُ وَهُوَ حَيْضٌ وَسُئِلَ عَبْد اللَّهِ تَقُولُ بِهِ قَالَ نَعَمْ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن من أجل الحارث الأعور
৮৯৮. হারিছ হতে বর্ণিত, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: যখন কোনো মহিলা হায়েয থেকে পবিত্র হয়, তারপর পবিত্রতার পরে (রক্তস্রাব) দেখে, যা তাকে সন্দেহে নিপতিত করে, এটা জরায়ুতে শয়তানের চলাচলের (বা পদাঘাতের) ফলে সৃষ্ট। ফলে যখন সে এরূপ প্রবাহমান রক্ত, রক্তের ফোঁটা কিংবা গোশত ধোয়া পানির মতো রং দেখে, তখন সে সালাতের ওযুর ন্যায় ওযু করবে, এরপর সালাত আদায় করবে। আর তা যদি তাজা রক্ত হয় যা গোপন থাকে না, তবে সে যেন সালাত পরিত্যাগ করে।[1]
আবু মুহাম্মদ বলেন: আমি ইয়াযীদ ইবনু হারুন রাহি. কে বলতে শুনেছি, যদি কোনো মহিলার (হায়েযের) সাতদিন অতিক্রান্ত হয়, আর সে পবিত্র অবস্থার সাদা রং দেখে, ফলে সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, অতঃপর সে দশদিনের মধ্যেই আবার রক্ত দেখে, তবে তার বিবাহ বৈধ ও সঠিক হবে। আর যদি সে সাত দিনের কমে নিজেকে পবিত্র অবস্থায় দেখে, ফলে সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এরপর রক্তস্রাব দেখে, তবে তা (তার বিবাহ) বৈধ হবে না, কারণ এটা হায়েয। আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনিও কি একথা বলেন? তিনি বললেন: হাঁ।
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, হারিছ আল আউর এর কারণে।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৩ যঈফ সনদে।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ فِي الْمَرْأَةِ يَكُونُ حَيْضُهَا سِتَّةَ أَيَّامٍ أَوْ سَبْعَةَ أَيَّامٍ ثُمَّ تَرَى كُدْرَةً أَوْ صُفْرَةً أَوْ تَرَى الْقَطْرَةَ أَوْ الْقَطْرَتَيْنِ مِنْ الدَّمِ أَنَّ ذَلِكَ بَاطِلٌ وَلَا يَضُرُّهَا شَيْءٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف شريك متأخر السماع من أبي إسحاق
৮৯৯. হারিছ হতে বর্ণিত, যে মহিলার ছয় দিন কিংবা সাত দিন হায়েয হয়, অতঃপর সে ঘোলা বর্ণ কিংবা হলুদ বর্ণের স্রাব অথবা দু’-এক ফোঁটা রক্ত দেখতে পায়, আলী রা: এ ধরনের মহিলা সম্পর্কে বলেন: এমতাবস্থায় সেটি অকার্যকর; তা তার (পবিত্রাবস্থার) কোনো ক্ষতি করবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। শারীক আবী ইসহাক থেকে কোনো কিছু শ্রবণ করা থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
তাখরীজ: দেখুন, বিগত ৮৯৮ (অনুবাদে ৮৯৪) নং হাদীসটি।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ قَالَ سَأَلْتُ عَطَاءً عَنْ الْمَرْأَةِ تَغْتَسِلُ مِنْ الْحَيْضِ فَتَرَى الصُّفْرَةَ قَالَ تَوَضَّأُ وَتَنْضَحُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن من أجل شريك
৯০০. আব্দুল কারীম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আতা’কে এমন মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে তার হায়েয হতে পবিত্রতার গোসল করে, অতঃপর হলুদ বর্ণের স্রাব দেখতে পায়, (সে কি করবে)? তিনি বললেন, সে ওযু করবে এবং পানি ছিটিয়ে দেবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান, শারীক এর কারণে।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/৯৪; আরও দেখুন, আব্দুর রাযযাক নং ১১৬৩।