সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ
` إن للشيطان كحلا ولعوقا ونشوقا، فأما لعوقه فالكذب وأما نشوقه فالغضب وأما كحله فالنوم `.
ضعيف جدا.
أخرجه الخرائطي في ` مساوىء الأخلاق ` (2 / 14 / 2) وأبو علي الهروي في الجزء الأول من الثاني من ` الفوائد ` (9 / 2) والقاسم ابن عبد الرحمن ابن عبد العزيز الحلبي في ` حديث السقا ` (3 / 1 - 2) وأبو نعيم في الحلية (6 / 309) والبيهقي في الشعب (2 / 44 / 2) والأصبهاني في ` الترغيب ` (243 / 2) من طرق عن الربيع بن صبيح عن يزيد الرقاشي عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، يزيد - وهو ابن أبان الرقاشي - ضعيف جدا. قال النسائي وغيره: ` متروك `.
وضعفه آخرون. والربيع بن صبيح ضعيف. وأعله المناوي بعاصم بن علي أيضا، وليس بشيء فإنه قد تابعه سفيان الثوري عند الخرائطي وغيره. وتابعه عمر بن حفص العبدي عن يزيد الرقاشي به. أخرجه ابن عدي (246 / 1) . والعبدي هذا متروك كما قال النسائي أيضا.
১৫০১। শয়তানের সুরমা, চেটে খাওয়ার দ্রব্য (অল্প পাথেয়) এবং নাক দিয়ে গ্রহণ করার ঔষধ রয়েছে। তার চেটে খাওয়ার দ্রব্য (অল্প পাথেয়) হচ্ছে মিথ্যা বলা, নাক দিয়ে ঔষধ গ্রহণ করার অর্থ হচ্ছে রাগাম্বিত হওয়া আর তার সুরমা হচ্ছে ঘুমানো।
হাদীসটি খুবই দুর্বল।
হাদীসটিকে আল-খারাইতী “মুসাবিউল আখলাক” গ্রন্থে (২/১৪/২), আবূ আলী আল-হারাবী `আল-ফাওয়াইদ` গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের প্রথম খন্ডে, কাসিম ইবনু আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল আযীয আল-হালাবী `হাদীসুস সাকা` গ্রন্থে (৩/১-২), আবু নাঈম `আল-হিলইয়্যাহ` গ্রন্থে (৬/৩০৯), বাইহাকী “আশশু'আব” গ্রন্থে (২/৪৪/২) ও আসবাহানী “আত-তারগীব” গ্রন্থে (২/২৪৩) বিভিন্ন সূত্রে রাবী' ইবনু সাবীহ হতে, তিনি ইয়াযীদ ইবনু আরবুকাশী হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ....।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। ইয়াযীদ হচ্ছে ইবনু আবান আররুকাশী, তিনি খুবই দুর্বল। তার সম্পর্কে নাসাঈ প্রমুখ বলেনঃ তিনি মাতরুক। আর অন্যরা তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর বর্ণনাকারী রাবী' ইবনু সাবীহ দুর্বল।
ইমাম মানবী অপর বর্ণনাকারী আসেম ইবনু আলীর দ্বারাও হাদীসটির দোষ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, খারায়েতী প্রমুখের নিকট সুফইয়ান সাওরী তার মুতাবা'য়াত করেছেন। উমার ইবনু হাফস আল-আবাদীও ইয়াযীদ আররুকাশী হতে হাদীসটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তার মুতাবা'য়াত করেছেন। এটিকে ইবনু আদী (১/২৪৬) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ আল-আবাদী মাতর্ক যেমনটি ইমাম নাসাঈও বলেছেন।
` سيد القوم خادمهم `.
ضعيف.
روي من حديث ابن عباس وأنس بن مالك وسهل بن سعد.
1 - أما حديث ابن عباس، فيرويه يحيى بن أكثم القاضي عن المأمون قال: حدثني أبي عن جده عن المنصور عن أبيه عن جده عن ابن عباس مرفوعا. وفيه قصة. أخرجه أبو القاسم الشهرزوري في ` الأمالي ` (ق 180 / 2) وأبو عبد الرحمن السلمي
في ` آداب الصحبة ` (ق 139 / 1 مجموع 107) والخطيب في ` تاريخ بغداد ` (10 / 187) من طرق عن يحيى به. وقد اختلفوا عليه، فبعضهم رواه هكذا، وبعضهم جعل عكرمة مكان الجد، وبعضهم جعله من مسند عقبة بن عامر. ولهذا قال الحافظ السخاوي في ` المقاصد الحسنة `: ` وفي سنده ضعف وانقطاع `.
2 - وأما حديث أنس، فيرويه حم بن نوح: حدثنا سلم بن سالم عن عبد الله بن المبارك عن حميد الطويل عن أنس مرفوعا بلفظ: ` خادم القوم سيدهم، وساقيهم آخرهم شربا `. أخرجه المخلص في قطعة من ` الفوائد ` (284) وابن أبي شريح الأنصاري في ` جزء بيبى ` (169 / 1) . قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، علته سلم بن سالم وهو البلخي الزاهد، أجمعوا على ضعفه كما قال الخليلي. وقال ابن حاتم: ` لا يصدق `. وحم بن نوح، ترجمة ابن أبي حاتم (1 / 2 / 319) ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا. والحديث قال السيوطي في ` الجامع الصغير `: ` رواه أبو نعيم في ` الأربعين الصوفية ` عن أنس `. فتعقبه المناوي بقوله: ` في صنيعه إشعار بأن الحديث لا يوجد مخرجا لأحد من الستة، وإلا لما أبعد النجعة، وهو ذهول، فقد خرجه ابن ماجه باللفظ المذكور عن أبي قتادة، ورواه أيضا الديلمي `. وأقول: ليس هو عند ابن ماجه بتمامه، وإنما له منه: ` ساقي القوم آخرهم شربا `.
أخرجه (3434) من طريق أخرى عن أبي قتادة مرفوعا. وهذا القدر منه صحيح، فقد أخرجه مسلم أيضا (2 / 140) من هذا الوجه في حديث نومهم عن صلاة الفجر في السفر. ويبدو لي أن المناوي قلد الديلمي في هذا العزو، فقد قال السخاوي في آخر الكلام
على حديث الترجمة:
` (تنبيه) : قد عزاه الديلمي للترمذي وابن ماجه عن أبي قتادة فوهم `. وقلده السيوطي أيضا، فعزاه في ` الجامع الكبير ` (2 / 51 / 2) لابن ماجه عن أبي قتادة. وأما في ` الجامع الصغير ` فبيض له، فإنه قال: ` عن أبي قتادة `! ولم يذكر مصدره، فقال المناوي: ` وعزاه في ` الدرر المشتهرة ` لابن ماجة من حديث قتادة. وفي ` درر البحار ` للترمذي! وللحديث طريق أخرى عن أنس مرفوعا بلفظ: ` يا ويح الخادم في الدنيا، هو سيد القوم في الآخره `. وهو موضوع.
أخرجه أبو نعيم في ` الحلية ` معلقا، فقال (8 / 53) : ` وحدث أحمد بن عبد الله الفارياناني: حدثنا شقيق بن إبراهيم عن إبراهيم بن أدهم عن عباد ابن كثير عن الحسن عن أنس قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: فذكره `، وقال: ` هذا مما تفرد به الفارياناني بوضعه، وكان وضاعا، مشهورا بالوضع `. واتهمه ابن حبان أيضا بالوضع، فاقتصار الحافظ السخاوي على قوله: ` وإسناده ضعيف جدا `، لا يخلومن تساهل، وذكر أنه منقطع أيضا، يعني بين الحسن وأنس قلت: وعباد بن كثير هو البصري، وقال البخاري: ` تركوه `. وقال النسائي: ` متروك `.
وفي لفظ آخر: ` إذا كان يوم القيامة نادى مناد على رؤوس الأولين والآخرين: من كان خادما للمسلمين في دار الدنيا، فليقم وليمض على الصراط، آمنا غير خائف، وادخلوا الجنة أنتم ومن شئتم من المؤمنين، فليس عليكم حساب، ولا عذاب `.
رواه أبو نعيم بإسناده السابق وهو موضوع كما عرفت، ولوائح الوضع عليه لائحة، وإني لأشم منه أن واضعه صوفي مقيت! 3 - وأما حديث سهل بن سعد، فقد أخرجه الحاكم في ` التاريخ ` بسند ضعيف كما حققته في تعليقي على ` المشكاة ` (3925) .
১৫০২। সম্প্রদায়ের সরদার হচ্ছে তাদের খাদেম।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটি আব্দুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও সাহল ইবনু সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এ তিনজন সাহাবী হতে বর্ণিত হয়েছে।
প্রথমতঃ আব্দুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস। এটিকে ইয়াহইয়া ইবনু আকসাম কাযী- আল-মামূন হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে আমার পিতা তার দাদার সূত্রে মানসূর হতে, তিনি তার পিতার সূত্রে তার দাদা হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে ঘটনা রয়েছে।
এটিকে আবুল কাসেম শাহরাযুরী “আল-আমলী” গ্রন্থে (কাফ ২/১৮০), আবু আব্দুর রহমান সুলামী `আদাবুস সুহবাহ` গ্রন্থে (কাফ ১/১৩৯-১০৭) ও আল-খাতীব “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (১০/১৮৭) বিভিন্ন সূত্রে ইয়াহইয়া হতে বর্ণনা করেছেন। তারা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন।
কেউ হাদীসটি এভাবে বর্ণনা করেছেন, আবার কেউ দাদার স্থলে ইকরিমাকে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ হাদিসটিকে উকবাহ ইবনু আমেরের মুসনাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ কারণে ইমাম সাখাবী “আল মাকাসিদুল হাসানা” গ্রন্থে বলেছেনঃ হাদিসটির সনদে দুর্বলতা এবং বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।
দ্বিতীয়তঃ আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীস। এটিকে হাম্মু ইবনু নূহ, সালাম ইবনু সালেম হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক হতে, তিনি হুমায়েদ আত-ত্ববীল হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে নিম্নের বাক্যে বর্ণনা করেছেনঃ
(خادم القوم سيدهم، وساقيهم آخرهم شربا)
সম্প্রদায়ের খাদেম হচ্ছে তাদের সরদার আর তাদের জন্য পানি পরিবেশনকারী হচ্ছে সর্বশেষে পানি পানকারী।
এ হাদীসটি আল-মুখাল্লেস “আল-ফাওয়াইদ” গ্রন্থে (২৮৪) এবং ইবনু আবী শুরায়হ আনসারী `জুযউ বীবা” গ্রন্থে (১/১৬৯) বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। এর সমস্যা হচ্ছে সালম ইবনু সালেম তিনি হচ্ছেন বলখী আয-যাহেদ, তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যেমনটি খালীলী বলেছেন। আর ইবনু আবী হাতিম বলেনঃ তিনি সত্যবাদী নন।
আর ইবনু আবী হাতিম (১/২/৩১৯) হাম্মু ইবনু নূহ এর জীবনী বর্ণনা করে তার সম্পর্কে ভাল-মন্দ কিছুই বলেননি।
ইবনু মাজাহ (৩৪৩৪) এ হাদীসটির শেষাংশ [সম্প্রদায়ের জন্য পানি পরিবেশনকারী হচ্ছে সর্বশেষে পানি পানকারী] বর্ণনা করেছেন। (প্রথম অংশ) বৰ্ণনা করেননি। যদিও কেউ কেউ বলেছেনঃ ইবনু মাজাহ্ বর্ণনা করেছেন। তিনি (ইবনু মাজাহ) অন্য সূত্রে আবু কাতাদাহ হতে শেষাংশটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ শেষাংশটুকু সহীহ্, ইমাম মুসলিম (৬৮১), তিরমিযী (১৮৯৪) ও আহমাদ (২২০৪০, ২২০৭১) ও দারেমী (২১৩৫) বর্ণনা করেছেন।
সতর্কবাণীঃ আলোচ্য হাদীসটিকে দায়লামী তিরমিযী ও ইবনু মাজার উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। এটি ধারণা মাত্র। ইমাম সুয়ূতীও এ ক্ষেত্রে তার অন্ধ অনুসরণ করে “আল-জামেউস সাগীর” গ্রন্থে (২/৫১/২) বলেছেনঃ হাদীসটি ইবনু মাজাহ্ বর্ণনা করেছেন। ইমাম মানবীও এ ক্ষেত্রে তার অন্ধ অনুসরণ করেছেন। হাদিসটির আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে আরেকটি সুত্র রয়েছে, সেটিতে নিম্নের ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছেঃ
يا ويح الخادم في الدنيا، هو سيد القوم في الآخرة
দুনিয়াতে হায় আফসুস খাদেমের জন্য, তিনি আখেরাতে সম্প্রদায়ের সরদার।
কিন্তু এ হাদীসটি বানোয়াট। হাদীসটিকে আবু নুয়াইম “আলহিলইয়াতুল আওলিয়্যাহ” গ্রন্থে (৮/৫৩) মু'আল্লাকু হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটিকে আহমাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ফারইয়ানানী শাকীক ইবনু ইবরাহীম হতে, তিনি ইবরাহীম ইবনু আদহাম হতে, তিনি আব্বাদ ইবনু কাসীর হতে, তিনি হাসান বাসরী হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে ... বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ এটিকে আহমাদ ফারইয়ানানীই বানিয়েছে। তিনি একজন জালকারী ছিলেন। তিনি জালকারী হিসেবে প্রসিদ্ধ।
ইবনু হিব্বানও তাকে জালকারী হিসেবে দোষারোপ করেছেন। হাফিয সাখাবী যে এ হাদীসটিকে শুধুমাত্র খুবই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন, তিনি তাতে শিথিলতা করেছেন। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন যে, এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, হাসান বাসরী আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে শ্রবণ করেননি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ আব্বাদ ইবনু কাসীর বাসরী। তার সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ তাকে মুহাদ্দিসগণ পরিত্যাগ করেছেন। ইমাম নাসাঈ বলেনঃ তিনি মাতরূক।
অন্য ভাষায় এসেছেঃ
إذا كان يوم القيامة نادى مناد على رؤوس الأولين والآخرين: من كان خادما للمسلمين في دار الدنيا، فليقم وليمض على الصراط، آمنا غير خائف، وادخلوا الجنة أنتم ومن شئتم من المؤمنين، فليس عليكم حساب، ولا عذاب
কিয়ামতের দিন (সৃষ্টির) প্রথম আর শেষের সকলের সামনে আহবানকারী আহবান করে বলবেঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মুসলিমদের খাদেম ছিল সে দাঁড়িয়ে যাও এবং পুলসিরাত অতিক্রম কর ভীতি ছাড়া নিরাপদে এবং তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর, মুমিনদের মধ্য থেকে যাকে চাও তাদেরকে সহকারে। তোমাদের কোন হিসাব নেই, আবার কোন শাস্তিও নেই।
আবূ নুয়াইম এ হাদীসটিকেও পূর্বোক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। সনদটি যে বানোয়াট সে সম্পর্কে আপনারা অবগত হয়েছেন। এটি সুস্পষ্ট বানোয়াট হাদীস।
তৃতীয়তঃ সাহল ইবনু সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীস। এটিকে হাকিম “আত-তারীখ” গ্রন্থে দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। আমি এটি সম্পর্কে
“আল-মিশকাত” গ্রন্থে (৩৯২৫) টীকায় ব্যাখ্যা প্রদান করেছ।
` فضل الصلاة التي يستاك لها، على الصلاة التي لا يستاك لها سبعون ضعفا `.
ضعيف.
أخرجه ابن خزيمة في ` صحيحه ` (1 / 21 / 2) والحاكم (1 / 146) وأحمد (6 / 146) والبزار في ` مسنده ` (1 / 244 / 501 - كشف الأستار) من طريق محمد بن إسحاق قال: فذكر محمد بن مسلم بن عبد الله بن شهاب الزهري عن عروة عن عائشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. وأشار ابن خزيمة إلى ضعف إسناده بقوله: ` إن صح الخبر `. ثم قال: ` إنما استثنيت صحة هذا الخبر، لأني خائف أن يكون ابن إسحاق لم يسمع من محمد بن مسلم، وإنما دلسه عنه `. وأما الحاكم فقال: ` صحيح على شرط مسلم `! ووافقه الذهبي!
قلت: وهذا من أوهامهما، أوتساهلهما، فإن ابن إسحاق مع كونه مدلسا وقد عنعنه، فإن مسلما لم يحتج به، وإنما روى له متابعة. ومن الجائز أن يكون ابن إسحاق تلقاه عن بعض الضعفاء ثم دلسه، فقد أخرجه أبو يعلى (3 / 1162) والبزار (1 / 244 / 502) من طريقين عن معاوية بن يحيى عن الزهري به، ولفظه:
` ركعتان بسواك أفضل من سبعين ركعة بغير سواك `.
وقال البزار: ` لا نعلم رواه إلا معاوية `. قلت: وهو الصدفي، قال الحافظ: ` ضعيف `. وقد وجدت له طريقا أخرى عن عروة، فقال الحارث بن أبي أسامة في ` مسنده ` (18 / 2 - زوائده) : حدثنا محمد بن عمر حدثنا عبد الله بن أبي يحيي عن أبي الأسود عن عروة به.
لكن محمد بن عمر هذا - وهو الواقدي - كذاب، فلا يفرح بروايته! وقد روي الحديث عن غير عائشة، كابن عباس وجابر وابن عمر، خرجها كلها الحافظ في ` التلخيص الحبير `، وقال: ` وأسانيدها معلولة `.
১৫০৩। যে সালাতের জন্য মিসওয়াক করা হয় সে সালাতের ফাষীলাত সত্তর গুণ বেশী সেই সালাতের চেয়ে যে সালাতের জন্য মিসওয়াক করা হয় না।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটি ইবনু খুযায়মাহ তার “সহীহ” গ্রন্থে (১/২১/২), হাকিম (১/১৪৬), আহমাদ (৬/১৪৬) ও বাযযার (১/২৪৪/৫০১) মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
ইবনু খুযায়মাহ তার এ কথার দ্বারা হাদীসটি দুর্বল হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, 'হাদীসটি যদি সহীহ হয়'। অতঃপর বলেছেনঃ আমি এ কারণে 'যদি সহীহ হয়' বলেছি যে, আমি ভয় করছি যে ইবনু ইসহাক মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম হতে শ্রবণ করেননি বরং তিনি তার থেকে তাদলীস করেছেন।
আর হাকিম বলেছেনঃ হাদীসটি সহীহ ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী! হাফিয যাহাবীও তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন!
আমি (আলবানী) বলছি তারা উভয়েই এ ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন এবং সন্দেহে পড়েছেন। কারণ ইবনু ইসহাক মুদাল্লিস হওয়া সত্ত্বেও আন আন করে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করেননি, বরং তিনি মুতাবায়াতের সময় তার থেকে বর্ণনা করেছেন।
এরূপও হতে পারে যে, ইবনু ইসহাক কোন দুর্বল বর্ণনাকারী থেকে হাদীসটি পেয়েছেন। অতঃপর তিনি তাদলীস করেছেন।
আর হাদীসটি আবু ইয়ালা (৩/১১৬২) ও বাযযার (১/২৪৪/৫০২) দু'টি সূত্রে মুয়াবিয়্যাহ ইবনু ইয়াহইয়া হতে, তিনি যুহরী হতে নিম্নের ভাষায় বর্ণনা করেছেনঃ
`মিসওয়াক করে দুরাকাআত সালাত মিসওয়াক ছাড়া সত্তর রাকাআত সালাতের চেয়েও উত্তম।`
বাযযার বলেনঃ আমার জানা মতে মুয়াবিয়্যাহ ব্যতীত অন্য কেউ এ হাদীসটি বর্ণনা করেননি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি হচ্ছেন সদাফী আর হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি দুর্বল।
আমি (আলবানী) উরওয়া হতে হাদীসটির আরেকটি সূত্র পেয়েছি। হারেস ইবনু আবী উসামাহ্ তার “মুসনাদ’ গ্রন্থে (২/১৮) বলেনঃ আমাদেরকে হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু উমার শুনিয়েছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আবী ইয়াহইয়া হতে, তিনি আবুল আসওয়াদ হতে, তিনি উরওয়াহ হতে বর্ণনা করেছেন।
কিন্তু এই মুহাম্মাদ ইবনু উমার হচ্ছেন আলঅকেদী, তিনি মিথ্যুক, তার বর্ণনার দ্বারা খুশি হওয়ার কিছু নেই।
হাদীসটি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছাড়াও ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হয়েছে। সে সবগুলোই হাফিয ইবনু হাজার `তালখীসুল হাবীব` গ্রন্থে উল্লেখ করেছেনঃ সেগুলোর সনদগুলো ক্রটিযুক্ত।
` نهى أن يدخل الماء إلا بمئزر `.
ضعيف.
أخرجه ابن خزيمة في ` صحيحه ` (1 / 38 / 2) والحاكم (1 / 162) عن الحسن بن بشر الهمداني عن أبي الزبير عن جابر مرفوعا. وقال الحاكم: ` صحيح على شرط الشيخين `! وقال الذهبي: ` على شرط مسلم `. وأقول: بل هو ضعيف الإسناد، لأن الهمداني هذا لم يخرج له مسلم، وهو مختلف فيه، قال الحافظ: ` صدوق يخطىء `. وأبو الزبير - وإن أخرج له مسلم - فهو مدلس، وقد عنعنه. قلت: ولعل المناوي لم يتنبه لهاتين العلتين، أوأنه قلد الحاكم
والذهبي، فقال في ` التيسير `:
` إسناده صحيح `! واغتر به الغماري، فقلده كما هي عادته في ` كنزه `، فأورد الحديث فيه (4193) !
১৫০৪। তিনি লুঙ্গি (পরিধান করা) ছাড়া পানিতে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটি ইবনু খুযায়মাহ তার “সহীহ” গ্রন্থে (১/৩৮/২) ও হাকিম (১/১৬২) হাসান ইবনু বিশর হামদানী হতে, তিনি আবুয যুবায়ের হতে, তিনি জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হাকিম বলেনঃ হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। হাফিয যাহাবী বলেনঃ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
আমি (আলবানী) বলছিঃ বরং হাদীসটির সনদ দুর্বল। কারণ হামদানীর কোন হাদীস ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেননি। তার ব্যাপারে মতভেদ করা হয়েছে। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি সত্যবাদী ভুলকারী।
আর আবুয যুবায়েরের হাদীস যদিও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন তবুও তিনি মুদাল্লিস, তিনি আন আন করে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ সম্ভবত মানবী উপরোক্ত দুটি সমস্যা সম্পর্কে অবগত হননি, অথবা তিনি হাকিম ও যাহাবীর অন্ধ অনুসরণ করে “আততাইসীর” গ্রন্থে বলেছেনঃ হাদীসটির সনদ সহীহ। গামারীও ধোকায় পড়ে “কানয” গ্রন্থে (৪১৯৩) অভ্যাসগতভাবে তার অন্ধ অনুসরণ করেছেন।
` اختضبوا بالحناء، فإنه يسكن الروع، ويطيب الريح `.
ضعيف.
رواه أبو يعلى في ` مسنده ` (من المطبوع 6 / 305) وتمام في ` الفوائد ` (96 / 1) عن الحسن بن دعامة: حدثني عمر بن شريك - يعني ابن أبي نمرة - عن أبيه عن أنس مرفوعا. قلت: وهذا إسناد ضعيف، الحسن بن دعامة وعمر بن شريك مجهولان.
১৫০৫। তোমরা মেহদীর দ্বারা খেযাব লাগাও (চুল রঙ করো), কারণ তা ভয় নিবারণ করে এবং বাতাসকে সুগন্ধ যুক্ত করে।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটি আবু ইয়ালা তার “মুসনাদ’ গ্রন্থে (৬/৩০৫) ও তাম্মাম “আল-ফাওয়াইদ” গ্রন্থে (১/৯৬) হাসান ইবনু দেয়ামাহ হতে, তিনি উমার ইবনু শারীক (ইবনু আবী নামরাহ) হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। হাসান ইবনু দেয়ামাহ এবং উমার ইবনু শারীক তারা উভয়েই মাজহুল (অপরিচিত) বর্ণনাকারী।
` إذا ظهرت البدع، ولعن آخر هذه الأمة أولها، فمن كان عنده علم فلينشره، فإن كاتم العلم يومئذ لكاتم ما أنزل الله على محمد `.
منكر.
أخرجه ابن عساكر في ` تاريخ دمشق ` (15 / 298 / 1) عن محمد بن عبد الرحمن بن رمل الدمشقي: أخبرنا الوليد بن مسلم عن ثور بن يزيد عن خالد بن معدان عن معاذ بن جبل مرفوعا. قلت: وهذا إسناد ضعيف، رجاله ثقات غير
ابن رمل هذا، ترجمة ابن عساكر، ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا. وقد تابعه محمد بن عبد المجيد المفلوج: حدثنا الوليد بن مسلم به نحوه، ولفظه: ` إذا ظهرت الفتن والبدع، وسب أصحابي، فليظهر العالم علمه، فمن لم يفعل ذلك،
فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله له صرفا ولا عدلا `. رواه ابن رزقويه في ` جزء من حديثه ` (ق 2 / 2) . والمفلوج هذا، قال الذهبي: ` ضعفه محمد بن غالب: تمتام، ومن مناكيره … `. ثم ساق له أحاديث
هذا أولها.
وأخرجه الديلمي (1 / 1 / 66) من طريقين عن علي بن بندار: حدثنا محمد بن إسحاق الرملي حدثنا هشام بن عمار حدثنا الوليد بن مسلم به. وهشام فيه ضعف، والرملي لم أعرفه، وابن بندار صوفي متهم عند محمد بن طاهر وضعفه غيره.
وقد روي من حديث جابر نحوه ولفظه: ` إذا لعن آخر هذه الأمة أولها، فمن كتم حديثا، فقد كتم ما أنزل الله `،
১৫০৬। যখন বিদ’আত প্রকাশিত (চালু) হবে, আর এ উম্মাতের শেষ যামানার লোকেরা প্রথম যামানার লোকদেরকে অভিসম্পাত করবে তখন যার নিকট জ্ঞান থাকবে সে যেন তা প্রচার করে। কারণ, সেদিন জ্ঞানকে গোপনকারী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তাকে গোপনকারী হিসেবে গণ্য হবে।
হাদীসটি মুনকার।
হাদীসটি ইবনু আসাকির “তারীখু দেমাস্ক” গ্রন্থে ((১৫/২৯৮/১) মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনে রামাল দেমাস্কী হতে, তিনি আলীদ ইবনু মুসলিম হতে, তিনি সাওর ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি খালেদ ইবনু মি’দান হতে, তিনি মুয়ায ইবনু জাবাল হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। ইবনু রামাল ছাড়া অন্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। ইবনু আসাকির তার জীবনী আলোচনা করে তার সম্পর্কে ভাল-মন্দ কিছুই বলেননি।
ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম হতে বর্ণনা করে মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল মাজীদ আল-মাফলূয নিম্নের ভাষায় তার মুতাবায়াত করেছেনঃ
`যখন ফিতনা আর বিদ'আত প্রকাশিত হবে, আমার সাথীদেরকে গালি দেয়া হবে, তখন যেন আলেম ব্যক্তি তার জ্ঞানকে প্রচার করে। যে ব্যক্তি তা করবে না, তার প্রতি আল্লাহ, ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। আল্লাহ্ তা'আলা তার ফরয ইবাদাত এবং নফল ইবাদাত কবুল করবেন না।`
ইবনু রাযকূইয়াহ তার “জুযউ ফীল হাদীস” গ্রন্থে (কাফ ২/২) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উক্ত মাফলূজ সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু গালেব তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তার কতিপয় মুনকার হাদীস উল্লেখ করেছেন, এটি সেগুলোর প্রথমটি।
হাদীসটি দাইলামী (১/১/৬৬) দুটি সূত্রে আলী ইবনুল হাসান ইবনে বুন্দার হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক রামলী হতে, তিনি হিশাম ইবনু আম্মার হতে, তিনি অলীদ ইবনু মুসলিম হতে বর্ণনা করেছেন।
হিশামের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে আর আমি রামলীকে চিনি না। ইবনু বুনদার একজন সূফী, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু ত্বাহেরের নিকট মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। আর অন্যরা তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত নিম্নের ভাষায় অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করা হয়ে থাকে (দেখুন পরেরটি)
` إذا لعن آخر هذه الأمة أولها، فمن كتم حديثا، فقد كتم ما أنزل الله `.
ضعيف جدا.
أخرجه ابن ماجة (263) : حدثنا الحسين بن أبي السري العسقلاني: حدثنا خلف بن تميم عن عبد الله بن السري عن محمد بن المنكدر عن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره.
قال البوصيري في ` الزوائد `:
` في إسناده حسين بن أبي السري كذاب، وعبد الله بن السري ضعيف، وفي ` الأطراف ` أن عبد الله بن السري لم يدرك محمد بن المنكدر، وذكر أن بينهما وسائط، ففيه انقطاع أيضا `.
قلت: لكن الحسين لم يتفرد به، فقد أخرجه البخاري في ` التاريخ ` (2/1/180، وابن أبي عاصم في ` السنة ` (994 - بتحقيقي) ، وأبو عمرو الداني في ` الفتن ` (ق24/2) ، والعقيلي في ` الضعفاء ` (208) ، وابن بطة في ` الإبانة ` (1/130/2 - 131) ، وابن عدي (220/2) ، والخطيب في ` التاريخ ` (9/471) ، وعبد الغني المقدسي في ` العلم ` (ق28/2) ، وابن عساكر (5/331/2) من طرق أخرى عن خلف بن تميم به أتم منه.
وقال العقيلي:
` عبد الله بن السري لا يتابع عليه ولا يعرف إلا به، وقد رواه غير خلف، فأدخل بين ابن السري وابن المنكدر رجلين مشهورين بالضعف `. وقال ابن عدي:
` قال لنا ابن صاعد: وقد رواه سريج بن يونس وقدماء شيوخنا عن خلف بن تميم هكذا، وكانوا يرون أن عبد الله بن السري هذا شيخ قديم، ممن لقي ابن المنكدر وسمع منه، ومن صنف المسند فقد رسمه باسمه في الشيوخ الذين رووا عن ابن المنكدر، فحدثنا به عن شيخ خلف بن تميم، فإذا هو أصغر منه وإذا خلف قد أسقط من الإسناد ثلاثة نفر! حدثناه موسى بن النعمان أبو هارون بمصر: حدثنا عبد الله بن السري بأنطاكية: حدثنا سعيد بن زكريا عن عنبسة بن عبد الرحمن القرشي عن محمد بن زاذان عن محمد بن المنكدر عن جابر … قال لنا ابن صاعد: وقد حدثونا عن الشيخ الذي حدث به عنه شيخ خلف بن تميم. قال ابن صاعد: حدثناه محمد بن معاوية الأنماطي: حدثنا سعيد بن زكريا عن عنبسة بن عبد الرحمن عن محمد بن زاذان عن محمد بن المنكدر عن جابر … حدثناه الحسين بن الحسن بن سفيان - ببخارى - : حدثنا أحمد بن نصر: حدثنا عبد الله بن السري الأنطاكي: حدثنا سعيد بن زكريا المدائني عن عنبسة بن عبد الرحمن عن محمد بن زاذان عن محمد بن المنكدر … `.
وأخرجه العقيلي من طريق أحمد بن إسحاق البزاز صاحب السلعة: حدثنا عبد الله بن السري عن عنبسة بن عبد الرحمن به. ثم قال: ` وهذا الحديث بهذا الإسناد أشبه وأولى `.
رواه ابن عساكر، وكذا الخطيب (9/472) ، من طريق الطبراني: نا أحمد بن خليد الحلبي: نا عبد الله بن السري الأنطاكي به.
قلت: فتبين من هذه الروايات أن مدار الحديث على عنبسة وابن زاذان، وهما متروكان متهمان بالكذب، وقد أسقط الثاني منهما بعض الضعفاء، فقد أخرجه ابن بطة من طريق نعيم بن حماد قال: حدثنا إسماعيل بن زكريا المدائني قال: حدثنا عنبسة بن عبد الرحمن القرشي عن محمد بن المنكدر به.
(تنبيه) : لقد أورد هذا الحديث الدكتور القلعجي المعلق على ` ضعفاء العقيلي ` في فهرس الأحاديث الصحيحة الذي وضعه في آخر الكتاب بعنوان:
` 2 - الأحاديث الصحيحة، ويدخل فيها الأحاديث التي سردها المصنف عن ضعفاء بإسنادهم الضعيف، أومن وجه غير محفوظ، ثم ذكر أن لها إسنادا قويا، أو رويت من طرق قوية ووجوه صحيحة `!
ولا وجه البتة لإيراده هذا الحديث في هذا الفهرس (ص 503) ، فإن العقيلي رحمه الله لم يذكر له إسنادا آخر قويا، وليس له طريق بله طرق أخرى، فما الذي حمله على هذه الضلالة أن ينسب إليه صلى الله عليه وسلم ما لم يقل؟
الذي أراه - والله أعلم - أنه فهم صحته من قول العقيلي المتقدم:
` وهذا الحديث بهذا الإسناد أشبه وأولى `.
وهو إنما يعني أن ذكر الرجلين الضعيفين بين عبد الله بن السري، ومحمد بن المنكدر أشبه وأولى من رواية خلف التي لم يذكرا فيها، ولا يعني مطلقا صحة الحديث، كيف ومدار الروايات كلها على ابن السري هذا وهو ضعيف؟ وإنما أوقع
الدكتور في هذا الخطأ الفاحش افتئاته على هذا العلم، وظنه أنه يستطيع أن يخوض فيه تصحيحا وتضعيفا بمجرد أنه نال شهادة الدكتوراة
১৫০৭। এ উম্মাতের শেষ যামানার লোকেরা যখন প্রথম যামানার লোকদের অভিসম্পাত দিবে অতঃপর যে ব্যক্তি (সাহাবীদের ফাষীলাতে বর্ণিত) কোন হাদীস গোপন করবে সে আল্লাহ্ কর্তৃক নাযিলকৃত বস্তুকে গোপনকারী হয়ে যাবে।
হাদীসটি খুবই দুর্বল।
হাদীসটি ইবনু মাজাহ্ (২৬৩) হুসাইন ইবনু আবুস সারিউ আসকালানী হতে, তিনি খালাফ ইবনু তামীম হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুস সারিউ হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ....।
বুসয়র “আযযাওয়াইদ” গ্রন্থে বলেনঃ এ সনদের বর্ণনাকারী হুসাইন ইবনু সারিউ মিথ্যুক আর আব্দুল্লাহ ইবনুস সারিউ দুর্বল। “আলআতরাফ” গ্রন্থে এসেছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনুস সারিউ মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদিরকে পাননি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাদের দু'জনের মধ্যে মাধ্যম রয়েছে। এর মধ্যে সনদে বিচ্ছিন্নতাও রয়েছে।
আমি (আলবানী) বলছিঃ কিন্তু হাদীসটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে হুসাইন এককভাবে বর্ণনা করেননি। হাদীসটিকে ইমাম বুখারী “আততারীখ” গ্রন্থে (২/১/১৮০), ইবনু আবী আসেম “আস সুন্নাহ্” গ্রন্থে (৯৯৪), আবু আমর আদদানী “আলফিতান” গ্রন্থে (কাফ ২/২৪), ওকায়লী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (২০৮), ইবনু বাত্তা `আলইবানাহ` গ্রন্থে (১/১৩০/২-১৩১/১), ইবনু আদী (২/২২০), খাতীব বাগদাদী “আততারীখ” গ্রন্থে (৯/৪৭১), আব্দুল গানী মাকদেসী `আলইলম` গ্রন্থে (কাফ ২/২৮) ও ইবনু আসাকির (৫/২৩১/২) অন্যান্য সূত্রে খালাফ ইবনু তামীম হতে ... বর্ণনা করেছেন।
ওকায়লী বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনুস সারিউর কেউ মুতাবা'য়াত করেননি এবং হাদীসটিকে তার মাধ্যম ছাড়া অন্য কোন মাধ্যমে জানা যায় না। খালাফ ছাড়া অন্য কেউ এটিকে বর্ণনা করে ইবনুস সারিউ এবং ইবনুল মুনকাদিরের মাঝে দু'জন প্রসিদ্ধ দুর্বল বর্ণনাকারীর অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন। তারা দু’জন হচ্ছেঃ আম্বাসা ইবনু আব্দুর রহমান কুরাশী এবং তার শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু যাযান। আর তারা উভয়েই মাতরূক এবং মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। [এ সম্পর্কে শাইখ আলবানী আরো বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। দেখুন মূল গ্রন্থ।]
` إذا ظهرت الحية في المسكن فقولوا لها: إنا نسألك بعهد نوح وبعهد سليمان بن داود أن لا تؤذينا، فإن عادت فاقتلوها `.
ضعيف الإسناد.
أخرجه أبو داود (2 / 351) والترمذي (1 / 281 طبع بولاق) واللفظ له من طريق ابن أبي ليلى عن ثابت البناني عن عبد الرحمن بن أبي ليلى قال: قال أبو ليلى: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. وقال:
` حديث حسن غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه من حديث ابن أبي ليلى `. قلت: وهو محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى الكوفي القاضي، وهو صدوق سيء الحفظ جدا، فالإسناد من أجل ذلك ضعيف. (تنبيه) : أورد السيوطي الحديث في ` الجامع ` من رواية الترمذي عن ابن أبي ليلى
وأوضحه الشارح المناوي بقوله: ` عن عبد الرحمن (ابن أبي ليلى) الفقيه الكوفي قاضيها: لا يحتج به، وأبو ليلى له صحبة واسمه يسار `. فأوهما أن الحديث ينتهي إسناده إلى ابن أبي ليلى وليس كذلك، بل فوقه تابعيان وصحابي، وزاد المناوي في الإيهام أن زعم أن عبد الرحمن بن أبي ليلى هو الفقيه القاضي، وهو الذي لا يحتج به، وكل هذا خطأ، وإنما هو ابنه محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى كما سبقت الإشارة إليه، وأما والده عبد الرحمن بن أبي ليلى فثقة حجة من رجال الشيخين، وأما جزمه بأن اسم أبي ليلى يسار فغير جيد، فقد ذكر الحافظ في ` التقريب ` خمسة أقوال في اسمه هذا رابعها، ولم يجزم مع ذلك بواحد منها. وإن مما يؤكد وهم المناوي الأول، أنه جعل الحديث في ` التيسير ` أيضا من رواية عبد الرحمن بن أبي ليلى الفقيه الكوفي!
১৫০৮। যখন কোন গৃহে সাপ দেখা যাবে তখন তোমরা তাকে উদ্দেশ্য করে বলোছ “ইন্না নাসআলুকা বি আহদি নুহ অ বিআহদি সুলাইমান ইবনু দাউদ আন-লা তু'যিনা” (অর্থাৎ আমি তোমার নিকট নূহ এবং সুলাইমান ইবনু দাউদের অঙ্গীকারের দ্বারা চাচ্ছি যে, তুমি আমাদেরকে কষ্ট দিও না)। এরপর যদি সে পুনরায় ফিরে আসে তাহলে তোমরা তাকে হত্যা করো।
হাদীসটির সনদ দুর্বল।
হাদীসটিকে আবু দাউদ (২/৩৫১) ও তিরমিযী (১/২৮১) (ভাষাটি তিরমিয়ীর) ইবনু আবী লাইলা সূত্রে সাবেত বুনানী হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আবু লাইলা বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ....।
ইমাম তিরমিয়ী বলেনঃ এটি হাসান গারীব। আমরা এটিকে ইবনু আবী লাইলার হাদীস হতে একমাত্র এ সূত্রেই চিনি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা কূফী কাযী। তিনি সত্যবাদী, তবে তিনি খুবই দুর্বল হেফযের অধিকারী। এ কারণেই সনদটি দুর্বল।
সতর্কবাণীঃ সুয়ূতী “আলজামে” গ্রন্থে হাদীসটিকে ইবনু আবী লাইলা হতে তিরমিযীর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। আর তার ভাষ্যকার মানবী বলেছেনঃ তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা ফাকীহ কূফী (কূফার কাযী) হতে বর্ণনা করেছেন। তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। আর আবু লাইলার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ ঘটেছে, তার নাম হচ্ছে ইয়াসার।
তারা দু’জনই সন্দেহ করেছেন যে, হাদীসটির সনদ ইবনু আবী লাইলা পর্যন্তই শেষ হয়ে গেছে অথচ আসলে তা নয়। কারণ তার উপরে দু’জন তাবোঈ এবং সাহাবী রয়েছেন। মানবী সন্দেহের মধ্যে আরো সংযোগ করেছেন যে, আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলা ফাকীহ ও কাষী আর তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। এ সবগুলোই ভুল। কারণ যার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না তিনি হচ্ছেন তার ছেলে মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা যেমনটি তার দিকে পূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর তার পিতা আব্দুর রহমান ইবনু আবী লাইলা হচ্ছেন নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণীয়, বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারী। এছাড়া আবু লাইলার নাম ইয়াসার দৃঢ়তার সাথে এ কথা বলা সঠিক হবে না। কারণ হাফিয ইবনু হাজার “আততাকরীব” গ্রন্থে এ ব্যক্তির নামের ব্যাপারে পাঁচটি মত উল্লেখ করেছেন এটি চতুর্থ নম্বরটি। আর তিনি (ইবনু হাজার) কোনটিকেই দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেননি।
` ما من شيء إلا وهو ينقص إلا الشر يزداد فيه `.
ضعيف.
رواه أبو عمرو الداني في ` الفتن ` (29 / 1) عن بقية عن أبي بكر بن عبد الله بن أبي مريم عن زيد بن أرطاة قال: حدثنا إخواننا عن أبي الدرداء مرفوعا. قلت: وهذا سند ضعيف، من أجل ابن أبي مريم، فقد كان اختلط. وبقية مدلس وقد عنعنه، لكنه لم يتفرد به، فقال أحمد (6 / 441) : حدثنا محمد بن مصعب قال: حدثني أبو بكر به إلا أنه قال: ` عن بعض إخوانه `. ولذلك قال الهيثمي (7 / 220) : ` رواه أحمد والطبراني وفيه أبو بكر بن أبي مريم وهو
ضعيف، ورجل لم يسم `.
قلت: وابن مصعب - وهو القرقساني - صدوق كثير الغلط، فلعله متابع عند الطبراني، ولذلك سكت عنه الهيثمي! ويغني عن هذا الحديث قوله صلى الله عليه وسلم:
` ما من يوم إلا والذي بعده شر منه حتى تلقوا ربكم `. رواه البخاري.
১৫০৯। এমন কোন কিছু নেই যা কমতে থাকে না, একমাত্র মন্দ বাদে, কারণ তাতে শুধু বৃদ্ধিই হয়।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে আবু আমর আদদানী “আলফিতান” গ্রন্থে (১/২৯) বাকিয়্যাহ হতে, তিনি আবূ বাকর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনে আবূ মারইয়াম হতে, তিনি যায়েদ ইবনু আরতাত হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমাদেরকে আমাদের ভাইয়েরা আবুদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করে শুনিয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনু আবী মারইয়ামের কারণে এ সনদটি দুর্বল। কারণ তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল।
আর বাকিয়্যাহ মুদাল্লিস বর্ণনাকারী, তিনি আন্ আন্ করে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এককভাবে বর্ণনা করেননি। ইমাম আহমাদ (৬/৪৪১) মুহম্মাদ ইবনু মুস'য়াব হতে, তিনি আবু বাকর হতে। তবে তিনি বলেছেনঃ তিনি তার কোন এক ভাই হতে বর্ণনা করেছেন।
এ কারণে হাইসামী (৭/২২০) বলেনঃ হাদীসটি আহমাদ ও ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। এর সনদের মধ্যে আবু বাকর ইবনু আবী মারইয়াম রয়েছেন, তিনি দুর্বল। আরেক নাম না নেয়া ব্যক্তি রয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ আর ইবনু মুস'য়াব হচ্ছেন কুরকুসানী, তিনি সত্যবাদী তবে বহু ভুলকারী। সম্ভবত ত্ববারানীর নিকট তার মুতাবা'য়াত করা হয়েছে। এ কারণে হাইসামী তার ব্যাপারে চুপ থেকেছেন।
এ হাদীস থেকে আমাদেরকে মুক্ত রাখতে পারে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিম্নোক্ত বাণীঃ `এমন কোন দিন নেই যার পরের দিনটা তার চেয়ে নিকৃষ্ট নয় (অর্থাৎ আগত প্রতিটি দিন বিগত দিনের চেয়ে নিকৃষ্ট) আর এভাবেই তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে মিলিত হয়ে যাবে।` [এটিকে ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন]।
` إن الله أجاركم من ثلاث خلال: أن لا يدعوعليكم نبيكم فتهلكوا جميعا، وأن لا يظهر أهل الباطل على أهل الحق، وأن لا تجتمعوا على ضلالة `.
ضعيف بهذا التمام.
أخرجه أبو داود (4253) : حدثنا محمد بن عوف الطائي حدثنا محمد بن إسماعيل حدثني أبي: قال ابن عوف: وقرأت في أصل إسماعيل قال:
حدثني ضمضم عن شريح عن أبي مالك - يعني الأشعري - قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. قلت: وهذا إسناد رجاله ثقات، لكنه منقطع بين شريح - وهو ابن عبيد الحضرمي المصري - وأبي مالك الأشعري، فإنه لم يدركه كما حققه الحافظ في ` التهذيب `، فكأنه ذهل عن هذه الحقيقة حين قال في ` بذل الماعون ` (25 / 1) : ` وسنده حسن، فإنه من رواية إسماعيل بن عياش عن الشاميين، وهي مقبولة. وله شاهد من حديث أبي بصرة الغفاري، أخرجه أحمد، ورجاله ثقات إلا أن في سنده راويا لم يسم `.
قلت: هو شاهد قاصر، لأنه ليس فيه مما في حديث الترجمة إلا الفقرة الأخيرة منه، وهو في ` المسند ` (6 / 396) . وقد رواه إسماعيل بن عياش بإسناد آخر، فقال: عن يحيى عن أبيه عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. أخرجه أبو عمرو الداني في ` الفتن ` (45 / 2) من طريق علي بن معبد قال: حدثنا إسماعيل بن عياش به. ويحيى هذا لعله ابن عبيد الله بن عبد الله بن موهب المدني، فإن يكن هو فهو متروك، وإن يكن غيره، فلم أعرفه.
ثم تأكدت أنه هو حين رأيت الداني ساق حديثا آخر (55 / 2) عن علي بن معبد به صرح فيه بأنه ابن عبيد الله. وبالجملة فالحديث ضعيف الإسناد لانقطاعه، وفقدان الشاهد التام الذي يأخذ بعضده، ويشد من قوته. ثم رأيت حديث الترجمة قد أخرجه الطبراني في ` المعجم الكبير ` (3 / 262 / 3440) وفي ` مسند الشاميين ` (ص 331) : حدثنا هاشم بن مرثد الطبراني حدثنا محمد بن إسماعيل بن عياش به، وزاد: ` فهؤلاء أجاركم الله منهن. وربكم أنذركم
ثلاثا: الدخان، يأخذ المؤمن منه كالزكمة، ويأخذ الكافر فينتفخ، ويخرج من كل مسمع منه، والثانية: الدابة، والثالثة: الدجال `. وهذه زيادة منكرة
تفرد بها هاشم هذا، وليس بشيء كما نقله الذهبي عن ابن حبان. والله أعلم.
لكن جملة الإجماع لها طرق أخرى فتتقوى بها، ولذلك أوردتها في ` الصحيحة ` (1331) وانظر ` ظلال الجنة ` (رقم 80 - 85 و92) .
১৫১০। আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে তিনটি বস্তু হতে রক্ষা করেছেন তোমরা সব ধ্বংস হয়ে যাও, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের বিপক্ষে এ দুআ করবেন না। বাতিলপন্থীরা হকপন্থীদের বিপক্ষে বিজয় লাভ করবে না আর তোমরা ভ্ৰষ্টতার উপরে ঐক্যবদ্ধ হবে না।
হাদীসটি এভাবে পরিসমাপ্তির দ্বারা দুর্বল।
হাদীসটিকে আবু দাউদ (৪২৫৩) মুহাম্মাদ ইবনু আউফ ত্বাঈ হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আউফ বলেনঃ আমি ইসমাঈলের আসলের মধ্যে দেখেছি তিনি বলেনঃ আমাকে যমযম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন শুরাইহ হতে, তিনি আবৃ মালেক আশয়ারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ... ।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। কিন্তু সনদে শুরাইহ ইবনু ওবাইদ হাযরামী মিসরী আর আবু মালেক আশয়ারীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। কারণ শুরাইহ আবু মালেককে পাননি যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার “আততাহযীব” গ্রন্থে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। আর সম্ভবত তিনি এ বাস্তবতা ভুলে গিয়ে “বাযলুল মাউন” গ্রন্থে (১/২৫) বলেনঃ তার সনদটি হাসান। কারণ এটি ইসমাঈল ইবনু আইয়্যাশ কর্তৃক শামীদের থেকে বর্ণনাকৃত। আর এরূপ বর্ণনা গ্রহণযোগ্য। আর আবূ বাসরাহ গিফারীর হাদীস হতে এর একটি শাহেদও রয়েছে। সেটিকে আহমাদ বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তবে তার সনদে একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন যার নাম নেয়া হয়নি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ শাহেদটি ঘাটতি সম্বলিত। কারণ তার মধ্যে আলোচ্য হাদীসটির শুধুমাত্র শেষ অংশটুকু রয়েছে। সেটি “মুসনাদ’ গ্রন্থে (৬/৩৯৬) বর্ণিত হয়েছে। সেটিকে ইসমাঈল ইবনু আইয়্যাশ অন্য সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইয়াহইয়া হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
এটিকে আবু আমর আদদানী `আলফিতান` গ্রন্থে (২/৪৫) আলী ইবনু মাবাদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেনঃ ইসমাঈল ইবনু আইয়্যাশ হাদীসটিকে আমাদের বর্ণনা করে শুনিয়েছেন।
বর্ণনাকারী এ ইয়াহইয়া হচ্ছেন ইবনু ওবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাওহেব মাদানী। ইয়াহইয়া যদি ইনিই হন তাহলে তিনি মাতরূক। আর যদি অন্য কেউ হন তাহলে তাকে আমি চিনি না।
অতঃপর আদদানীকে যখন আমি দেখলাম তিনি অন্য এক হাদীসে আলী ইবনু মা'বাদ হতে বর্ণনা করার সময় (২/৫৫) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এ ইয়াহইয়া হচ্ছেন ইয়াহইয়া ইবনু ওবায়দুল্লাহ, তখন আমি স্পষ্টভাবে জেনে গেলাম যে, ইয়াহইয়া হচ্ছেন ইবনু ওবায়দুল্লাহ্ (অন্য কেউ নন)।
মোটকথাঃ হাদীসটির সনদ দুর্বল সনদে বিচ্ছিন্নতার কারণে এবং পুর্ণাঙ্গরূপে শাহেদ অনুপস্থিত থাকার কারণে, যার দ্বারা হাদিসের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
অতঃপর আমি দেখেছি আলোচ্য হাদীসটিকে ইমাম ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/২৬২/৩৪৪০), `মুসনাদুশ শামেঈন` গ্রন্থে (পৃঃ ৩৩১) হাশেম ইবনু মারসাদ ত্ববারানী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ইবনে আইয়্যাশ হতে বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনায় কিছু বেশী উল্লেখ করা হয়েছে আর এতে উল্লেখিত বর্ধিত অংশ মুনকার।
তবে আলোচ্য হাদীসের শেষাংশ অর্থাৎ “আর তোমরা পথভ্রষ্টতার উপরে ঐক্যবদ্ধ হবে না” এ অংশটুকু সহীহ। এ কারণে আমি এ অংশটুকুকে “সিলসিলাহ সহীহাহ” (১৩৩১) গ্রন্থে এবং “যিলালুল জান্নাহ” গ্রন্থে (৮০, ৮৫, ৯২) উল্লেখ করেছি।
` خير الناس قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم، ثم الآخرون أرذل `.
ضعيف.
أخرجه الطبراني في ` المعجم الكبير ` (1 / 105 / 2 - 106 / 1) والحاكم (3 / 191) من طريق أبي بكر بن أبي شيبة: أخبرنا عبد الله بن إدريس عن
أبيه عن جده عن جعدة بن هبيرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. ثم أخرجه الطبراني من طريق أبي كريب: أخبرنا ابن إدريس به. وسكت
الحاكم عنه، وقال الحافظ في ` الفتح ` (7 / 5) : ` رواه ابن أبي شيبة والطبراني، ورجاله ثقات، إلا أن جعدة مختلف في صحبته `.
وقال الهيثمي (10 / 20) : ` رواه الطبراني، ورجاله رجال الصحيح، إلا أن إدريس بن يزيد الأودي لم يسمع من جعدة. والله أعلم `. كذا قال، والحديث عند الطبراني وكذا الحاكم من رواية عبد الله بن إدريس عن أبيه إدريس عن جده، واسمه يزيد بن عبد الرحمن الأودي، فهو متصل، ولكنه مرسل لما عرفت من الاختلاف في صحبة جعدة، بل قد رجح الحافظ في ترجمته من ` التهذيب ` أنه تابعي، وبه جزم أبو حاتم الرازي. والله أعلم. ثم إن الأودي هذا روى عنه ابنه الآخر: داود ويحيى بن أبي الهيثم العطار، ووثقه العجلي وابن حبان، وقال الحافظ: ` مقبول `.
(تنبيه) : لفظ الحاكم ` أردى ` مكان ` أرذل `. وكذلك أورده الحافظ في ` الفتح `.
১৫১১। সর্বোত্তম লোক হচ্ছে আমার যুগের লোকেরা, অতঃপর যারা তাদের পরে আসবে, অতঃপর যারা এদের পরে আসবে। আর অন্যরা হচ্ছে নিকৃষ্ট।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে ত্ববারানী `আলমুজামুল কাবীর` গ্রন্থে (১/১০৫/২, ১/১০৬) ও হাকিম (৩/১৯১) আবূ বাকর ইবনু আবী শাইবাহ সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু ইদরীস হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে, তিনি জা'দাহ ইবনু হুবাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।
এটিকে ত্ববারানী আবূ কুরায়েব সূত্রে ইবনু ইদরীস হতে বর্ণনা করেছেন। আর হাকিম এ হাদীসের ব্যাপারে কোন হুকুম লাগানো হতে চুপ থেকেছেন। হাফিয ইবনু হাজার “আলফাত্হ” গ্রন্থে (৫/৭) বলেনঃ এটিকে ইবনু আবী শাইবাহ ও ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন আর এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জা'দার সাক্ষাতের বিষয়টি বিতর্কিত।
হাইসামী বলেন (১০/২০): এটিকে ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণনাকারীগণ সহীহ্ বর্ণনাকারী। কিন্তু ইদরীস ইবনু ইয়াযীদ আওদী জা'দাহ হতে শ্ৰবণ করেননি। আল্লাহই বেশী জানেন।
হাদীসটি ত্ববারানী এবং হাকিমের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনু ইদরীসের বর্ণনায় তার পিতা হতে বর্ণিত হয়েছে।
ইদরীস তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন, তার নাম হচ্ছে ইয়াযীদ ইবনু আব্দুর রহমান আওদী। কিন্তু হাদীসটি মুরসাল। কারণ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জা'দার সাক্ষাতের বিষয়টি বিতর্কিত। বরং হাফিয ইবনু হাজার তার জীবনীতে “আততাহযীব” গ্রন্থে অগ্রাধিকার দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একজন তাবেঈ। আবূ হাতিম রাযীও দৃঢ়তার সাথে তা বলেছেন।
উল্লেখ্যঃ হাদীসটির শেষে হাকিম কর্তৃক উল্লেখিত শব্দ হচ্ছে (أردى) আর অন্যরা (أرذل)উল্লেখ করেছেন।
` الهرة لا تقطع الصلاة، لأنها من متاع البيت `.
ضعيف مرفوعا.
أخرجها ابن ماجة (369) والمخلص في ` حديثه ` كما في ` المنتقى منه ` (12 / 64 / 2) وابن خزيمة في ` صحيحه ` (828) وابن عدي
في ` الكامل ` (229 - 230) والحاكم (1 / 254 - 255) من طريق عبيد الله بن عبد المجيد عن عبد الرحمن بن أبي الزناد عن أبيه عن أبي سلمة عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. وقال الحاكم: ` صحيح على شرط مسلم، لاستشهاده بعبد الرحمن بن أبي الزناد مقرونا بغيره `. ووافقه الذهبي. قلت: والصواب أنه ليس على شرط مسلم ما دام أنه تفرد به عبد الرحمن وهو لم يخرج له إلا مقرونا، ثم إن في حفظه كلاما، فالحديث حسن فقط، إن سلم من الوقف والشطر الآخر منه أخرجه أبو محمد المخلدي في ` الفوائد ` (295 / 1) والترقفي في ` حديثه ` (ق 43 / 1) وعنه ابن عدي (101 / 1) من حديث حفص بن عمر العدني: حدثنا
الحكم بن أبان عن عكرمة عن أبي هريرة به. قلت: وهذا سند ضعيف. وأخرجه أبو نعيم في ` أخبار أصبهان ` (2 / 71) من حديث أنس مرفوعا نحوه. وإسناده ضعيف أيضا. ثم وجدت للحديث علة، نبه عليها الإمام ابن خزيمة في ` صحيحه ` فإنه بعد أن قال: ` إن صح الخبر، فإن في القلب من رفعه `، ساقه من هذا الوجه المذكور أعلاه. ثم رواه من طريق ابن وهب عن ابن أبي الزناد بهذا الحديث موقوفا غير مرفوع، ثم قال: ` ابن وهب أعلم بحديث أهل المدينة من عبيد الله بن عبد المجيد `.
وهو كما قال رحمه الله تعالى، وإن كان خالفه مهدي بن عيسى فرواه عن ابن أبي الزناد به مرفوعا. رواه البزار (ص 54) . فإن المهدي هذا مجهول الحال كما قال ابن القطان. والراوي عنه فردوس الواسطي شيخ البزار لم أعرفه. ونحوهذا الحديث في الضعف ما أخرجه أحمد (2 / 327) وغيره عن عيسى بن المسيب: حدثني أبو زرعة عن أبي هريرة قال: ` كان النبي صلى الله عليه وسلم يأتي دار قوم من الأنصار، ودونهم دار قال: فشق ذلك عليهم، فقالوا: يا رسول الله! سبحان الله! تأتي دار فلان ولا تأتي دارنا؟ قال: فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لأن في داركم كلبا، قالوا: فإن في دارهم سنورا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ` إن السنور سبع `. وعيسى هذا ضعفه ابن معين والنسائي وغيرهما.
১৫১২। বিড়াল সালাতকে নষ্ট করে না। কারণ সে হচ্ছে গৃহের আসবাব পত্রের অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসটি মারফূ হিসেবে দুর্বল।
হাদীসটিকে ইবনু মাজাহ (৩৬৯), আলমুখলিস তার “হাদীস” গ্রন্থে যেমনটি `আলমুনতাকা মিনহু` গ্রন্থের মধ্যে (২/৬৪/১২), ইবনু খুযায়মাহ তার “সহীহ” গ্রন্থে (৮২৮), ইবনু আদী “আলকামেল” গ্রন্থে (২২৯-২৩০) ও হাকিম (১/২৫৪-২৫৫) ওবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল মাজীদ সূত্রে আব্দুর রহমান ইবনু আবূয যিনাদ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবু সালামাহ হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।
হাকিম বলেনঃ হাদীসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ ...। হাফিয যাহাবীও তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ যেহেতু হাদীসটিকে আব্দুর রহমান এককভাবে বর্ণনা করেছেন সেহেতু সঠিক হচ্ছে এই যে, হাদীসটি মুসলিমের শর্ত মাফিক নয়। কারণ মুসলিম তার হাদীস অন্যের সাথে না মিলিয়ে বর্ণনা করেননি। তা ছাড়াও তার হেফযের ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে। হাদীসটি যদি মওকুফ হওয়া থেকে নিরাপদ হয় তাহলে শুধুমাত্র হাসান।
দ্বিতীয় অংশটুকুকে আবূ মুহাম্মাদ মাখলাদী “আলফাওয়াইদ” গ্রন্থে (১/২৯৫), তারকাফী তার “হাদীস” গ্রন্থে (কাফ ১/৪৩) ও তার থেকে ইবনু আদী (১/১০১) হাফস ইবনু উমার আদানীর হাদীস হতে, তিনি হাকাম ইবনু আবান হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। এটিকে আবু নুয়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/৭১) আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতে মারফু' হিসেবে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। এ সনদটিও দুর্বল।
অতঃপর আমি (আলবানী) হাদীসটির আরেকটি সমস্যা পেয়েছি। যে ব্যাপারে ইবনু খুযায়মাহ তার “সহীহ” গ্রন্থে সতর্ক করেছেন। কারণ তিনি হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ “হাদীসটি যদি সহীহ হয়। কারণ এর মারফু হওয়ার ব্যাপারে হৃদয়ে কিছু কিন্তু জাগে।” তিনি উপরোক্ত এ সূত্রেই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি ইবনু ওয়াহাব সূত্রে ইবনু আবিয যিনাদ হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, মারফু হিসেবে নয়। অতঃপর বলেছেনঃ ইবনু ওয়াহাব মদীনাবাসীর হাদীসের ব্যাপারে বেশী জ্ঞাত ওবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুল মাজীদ থেকে।
হাদীসটি আসলে তিনি যেমন বলেছেন সেরূপই। যদিও মাহদী ইবনু ঈসা তার বিরোধিতা করে ইবনু আবিয যিনাদ হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটিকে বাযযার বর্ণনা করেছেন। কারণ এ মাহদী মাজহুলুল হাল যেমনটি ইবনুল কাত্তান বলেছেন।
আর তার থেকে বর্ণনাকারী হচ্ছে বাযযারের শাইখ ফিরদাউস ওয়াসেতী যাকে আমি চিনি না।
দুর্বল হওয়ার দিক দিয়ে এরূপ আরেকটি হাদীস যেটিকে ইমাম আহমাদ (২/৩২৭) প্রমুখ ঈসা ইবনুল মুসাইয়্যাব হতে, তিনি আবু যুর'য়াহ হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ...।
এ সনদের বর্ণনাকারী ঈসাকে ইবনু মা'ঈন, নাসাঈ প্রমুখ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
` الهوى مغفور لصاحبه ما لم يعمل به أويتكلم `.
منكر.
أخرجه أبو نعيم في ` الحلية ` (2 / 259 و7 / 261) من طريق المسيب بن واضح: حدثنا سفيان بن عيينة عن مسعر عن قتادة عن زرارة بن أبي أوفى عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره، وقال: ` تفرد بهذا اللفظ المسيب عن ابن عيينة، وخالفه أصحاب قتادة منهم شعبة وهمام
وهشام وأبان وشيبان وأبو عوانة وحماد بن سلمة و.. و.. و.. فرووه عنه بلفظ: ` إن الله تجاوز عن أمتى ما وسوست به صدورها ما لم تعمل به أوتتكلم `.
قلت: وهذا هو الصحيح المحفوظ، وأما لفظ المسيب فمنكر، لأنه ضعيف الحفظ مع مخالفته للثقات. وقد وجدت له طريقا أخرى يرويه مهنا بن يحيى السامي: حدثنا أبو أسلم عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة مرفوعا به. أخرجه أبو بكر الكلاباذي في ` مفتاح المعاني ` (ق 288 / 2) . قلت: وهذا إسناد هالك، آفته أبو أسلم هذا
، واسمه محمد بن مخلد الرعيني الحمصي. قال ابن عدي: ` حدث بالأباطيل `.
وقد مضى له بعض الأحاديث الباطلة، فانظر الحديث (410 و1252) .
১৫১৩। সংকল্পকারীর মনের সংকল্পকে ক্ষমা করা হয়েছে যে পর্যন্ত সে তা না করবে, অথবা তা শব্দে প্রকাশ না করবে।
হাদীসটি মুনকার।
হাদীসটিকে আবূ নুয়াইম “আলহিলইয়্যাহ্” গ্রন্থে (২/২৫৯ ও ৭/২৬১) , আলমুসাইয়্যাব ইবনু ওয়াযিহ সূত্রে সুফইয়ান ইবনু ওয়াইনাহ হতে, তিনি মিস'য়ার হতে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি যুরারাহ ইবনু আবী আউফা হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
আবু নুয়াইম বলেনঃ আলমুসাইয়্যাব হতে এ শব্দে ইবনু ওয়াইনাহ হাদীসটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আর কাতাদার সাথীগণ যাদের মধ্যে শু'বাহ, হুমাম, হিশাম, আবান, শাইবান, আবু আওয়ানাহ্ হাম্মাদ ..... প্রমুখ মুসাইয়্যাবের বিরোধিতা করে তার থেকে নিম্নের বাক্যে বর্ণনা করেছেনঃ
`আল্লাহ তা'য়ালা আমার উম্মাতের সেই সব বস্তুকে এড়িয়ে গেছেন যেগুলো তাদের অন্তরসমূহে উদয় হয়েছে যে পর্যন্ত কার্যে পরিণত না করবে অথবা শব্দে প্রকাশ না করবে।`
আমি (আলবানী) বলছিঃ এটিই নিরাপদ ও সহীহ। আর মুসাইয়্যাব কর্তৃক বর্ণিত শব্দ মুনকার। কারণ মুসাইয়্যাব কর্তৃক নির্ভরযোগ্যদের বিরোধিতা করে বর্ণনা করার সাথে সাথে হেফযের দিক দিয়ে তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে।
আমি (আলবানী) তার আরেকটি সূত্র পেয়েছি যেটিকে মুহান্না ইবনু ইয়াহইয়া সামী বর্ণনা করেছেন আবূ আসলাম হতে, তিনি হিশাম ইবনু উরওয়া হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে।
এটিকে আবু বাকর কালাবায়ী “মিফতাহুল মায়ানী” গ্রন্থে (কাফ ২/২৮৮) বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি ধ্বংসপ্রাপ্ত। এর সমস্যা হচ্ছে আবূ আসলাম। আর তার নাম হচ্ছে মুহাম্মাদ মাখলাদ আররু'আইনী হিমসী। ইবনু আদী বলেনঃ তিনি বাতিল হাদীস বর্ণনা করেন।
পূর্বে তার কতিপয় বাতিল হাদীস আলোচিত হয়েছে। দেখুন হাদীস নং (৪১০ ও ১২৫২)।
` عليكم بالشفاءين: العسل، والقرآن `.
ضعيف.
رواه ابن ماجه (2 / رقم 3452) والحاكم (4 / 200 و403) وابن عدي (147 / 1) والخطيب (11 / 385) وابن عساكر (12 / 5 / 2) عن زيد بن الحباب عن سفيان عن أبي إسحاق عن أبي الأحوص عن عبد الله مرفوعا. وقال الحاكم: ` صحيح على شرط الشيخين `. ووافقه الذهبي.
قلت: وإنما هو على شرط مسلم، فإن أبا الأحوص - وهو عوف بن مالك الجشمي - لم يحتج به البخاري في
صحيحه، لكن أبو إسحاق هذا مدلس مع أنه كان اختلط، لكن رواه شعبة عنه عند الخطيب في ` تاريخه `، فبقيت علة العنعنة، مع المخالفة في رفعه، فقد أخرجه الحاكم من طريق وكيع عن سفيان به موقفا. وكذلك رواه أحمد بن الفرات الرازي في ` جزئه ` كما في ` المنتقى منه ` للذهبي
(4 / 1 - 2) موقوفا، فقال: أخبرنا محمد بن عبيد عن الأعمش عن خيثمة عن الأسود عن عبد الله قال: فذكره موقوفا. وكذلك رواه أبو عبيد في ` فضائل القرآن ` (ق 3 / 1 و111 / 2) والواحدي (145 / 2) من طريق أخرى عن ابن مسعود موقوفا. وكذا رواه ابن أبي شيبة في ` المصنف ` (12 / 61 / 2) : أبو معاوية عن الأعمش به. وفي رواية له من طريق أبي الأسود عن عبد الله قال: ` العسل شفاء من كل داء، القرآن شفاء لما في الصدور `.
ولذلك قال البيهقي في ` شعب الإيمان ` كما في ` المشكاة ` (4571) : ` والصحيح موقوف على ابن مسعود `. وقد روي مرفوعا نحوهذا ولفظه: ` عليكم بالشفاء، العسل شفاء من كل داء، والقرآن شفاء لما في الصدور `.
رواه ابن عدي (183 / 2) عن سفيان بن وكيع: حدثنا أبي عن سفيان عن أبي إسحاق عن أبي الأحوص عن عبد الله مرفوعا.
وقال: ` هذا يعرف عن الثوري مرفوعا من رواية زيد بن الحباب عن سفيان، وأما من حديث وكيع مرفوعا لم يروه عنه غير ابنه سفيان، والحديث في الأصل عن الثوري بهذا الإسناد موقوف `. قلت: وبالإضافة إلى الوقف، فإن في المرفوع علة أخرى، وهي عنعنة أبي إسحاق وهو السبيعي، فقد
كان مدلسا، ولذلك فالحديث من حصة هذه السلسلة: ` الضعيفة ` والله أعلم. وخفي هذا التحقيق على المناوي، ففي ` التيسير ` أقر الحاكم على تصحيحه! واغتر بذلك الغماري فأورده في ` كنزه ` برقم (2182) وأما في ` الفيض ` فعقب تصحيح الحاكم بتصحيح البيهقي وقفه، فأصاب.
১৫১৪। তোমরা দুই আরোগ্যকারী বস্তু ধারণ করা মধু এবং কুরআন।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে ইবনু মাজাহ (২/নং ৩৪৫২), হাকিম (৪/২০০, ৪০৩), ইবনু আদী (১/১৪৭), খাতীব (১১/৩৮৫) ও ইবনু আসাকির (১২/৫/২) যায়েদ ইবনুল হুবাব হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি আবূ ইসহাক হতে, তিনি আবুল আহওয়াস হতে, তিনি আব্দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হাকিম বলেনঃ হাদীসটি শাইখায়নের শর্তানুযায়ী সহীহ। হাফিয যাহাবীও তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি শুধুমাত্র ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী বর্ণিত হয়েছে। কারণ আবুল আহওয়াস হচ্ছেন আউফ ইবনু মালেক জাশমী আর তার দ্বারা ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে দলীল গ্রহণ করেননি। আবু ইসহাকের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটা সত্ত্বেও তিনি একজন মুদল্লিস বর্ণনাকারী। কিন্তু শু'বাহ তার থেকে খাতীবের নিকট তার “তারীখ” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ফলে আন আন্ করে বর্ণনা করার সমস্যাটা রয়ে যাচ্ছে। আবার মারফু' হিসেবে বর্ণনা করার বিরোধিতা করে বর্ণনা করাও হয়েছে। এটিকে হাকিম ওয়াকী সূত্রে সুফইয়ান হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অনুরূপভাবে আহমাদ ইবনুল ফুরাত আর-রাযী তার `জুযউ` গ্রন্থে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেমনটি হাফিয যাহাবীর `আলমুনতাকা মিনহু` গ্রন্থে (৪/১-২) এসেছে। তিনি বলেনঃ আমাদেরকে মুহাম্মাদ ইবনু ওবায়েদ বর্ণনা করে শুনিয়েছেন আমাশ হতে, তিনি খায়সামাহ হতে, তিনি আলআসওয়াদ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি বলেনঃ ... মওকুফ হিসেবে।
অনুরূপভাবে আবু ওবায়েদ `ফাযাইলুল কুরআন` গ্রন্থে (কাফ ১/৩, ২/১১১) ও ওয়াহেদী (২/১৪৫) অন্য সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে ইবনু আবী শাইবাহ `আলমুসান্নাফ` গ্রন্থে (১২/৬১/২) আবূ মু'য়াবিয়্যাহ হতে, তিনি আমাশ হতে ... বর্ণনা করেছেন। তার অন্য বর্ণনায় আবুল আসওয়াদ সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ `মধু হচ্ছে সকল রোগের ঔষধ আর কুরআন অন্তরের মধ্যে যা কিছু রয়েছে তার ঔষধ।`
এ কারণে বাইহাকী “শুয়াবুল ঈমান” গ্রন্থে (যেমনটি “মিশকাত” গ্রন্থে (৪৫৭১) এসেছে) বলেনঃ সঠিক হচ্ছে এই যে, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
আর নিম্নের বাক্যে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছেঃ
“তোমরা আরোগ্য লাভ করাকে গ্রহণ কর, মধু হচ্ছে সকল রোগের ঔষধ আর কুরআন অন্তরের মধ্যে যা কিছু রয়েছে তার ঔষধ।”
এটিকে ইবনু আদী (২/১৮৩) সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি আবূ ইসহাক হতে, তিনি আবুল আহওয়াস হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইবনু আদী বলেনঃ এটিকে মারফু হিসেবে সাওরী হতে চেনা যায়, যেটি বর্ণিত হয়েছে যায়েদ ইবনুল হুবাবের বর্ণনায় সুফইয়ান থেকে। আর ওয়াকী'র হাদীস হতে মারফু' হিসেবে তার (ওয়াকী) থেকে একমাত্র তার ছেলে সুফইয়ানই বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি আসলে সাওরী হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
আমি (আলবানী) বলছি মারফু হিসেবে বর্ণিত বর্ণনাটি মওকুফ হওয়া সত্ত্বেও এ মারফুর মধ্যে আরেকটি সমস্যা রয়েছে আর তা হচ্ছে আবূ ইসহাক সুবাই'ঈ কর্তৃক আন আন করে বর্ণনা করা। আর তিনি ছিলেন একজন মুদাল্লিস বর্ণনাকারী। এ কারণেই হাদীসটিকে এ দুর্বল সিরিজের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাখ্যাগুলো মানবীর নিকট গোপনই রয়ে যায়, ফলে তিনি `আত-তায়সীর` গ্রন্থে হাকিম কর্তৃক সহীহ আখ্যা দানকে সমর্থন করেছেন। আর গুমারী এর দ্বারা ধোকায় পড়ে তার “কানয” গ্রন্থে (২১৮২) উল্লেখ করেছেন। কিন্তু মানবী তার `আলফায়েয` গ্রন্থে হাকীমের সহীহ আখ্যা দানের সমালোচনা করেছেন বাইহাকী কর্তৃক মওকুফ হিসেবে সহীহ আখ্যা দানের দ্বারা। ফলে এ গ্রন্থে তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন।
` كان إذا أراد أمرا قال: اللهم خر لي واختر لي `.
ضعيف.
أخرجه الترمذي (2 / 266) وابن السني في ` عمل اليوم والليلة ` (591) وابن عدي (151 / 2) وكذا تمام في ` الفوائد ` (ق 277 / 1) والخرائطي في ` مكارم الأخلاق ` (ق 228 / 2) من طريق زنفل بن عبد الله العرفي عن ابن أبي مليكة عن عائشة عن أبي بكر الصديق أن النبي صلى الله عليه وسلم كان … وقال الترمذي: ` حديث غريب، لا نعرفه إلا من حديث زنفل، وهو ضعيف عند أهل الحديث، ولا يتابع عليه `. وذكر ابن عدي نحوه، وأورده الذهبي في ` الضعفاء والمتروكين `، وقال: ` قال النسائي: ليس بثقة، وقال الدارقطني
: ضعيف `. وقول الدارقطني هذا هو الذي اعتمده الحافظ في ` الإصابة `.
১৫১৫। তিনি যখন কোন কিছু করার ইচ্ছা করতেন তখন বলতেনঃ হে আল্লাহ্ তুমি আমার জন্য কল্যাণ কর এবং আমার জন্য সঠিককে চয়ন কর।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে ইমাম তিরমিয়ী (২/২৬৬), ইবনুস সুন্নী `আমলুল ইয়াওম অললাইলাহ` গ্রন্থে (৫৯১), ইবনু আদী (২/১৫১), অনুরূপভাবে তাম্মাম `আলফাওয়াইদ` গ্রন্থে (কাফ ১/২৭৭), খারায়েতী “মাকারিমুল আখলাক” গ্রন্থে (কাফ ২/২২৮) যানফাল ইবনু আব্দুল্লাহ্ আরাফী সূত্রে ইবনু আবী মুলাইকাহ হতে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি আবূ বাকর সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।
ইমাম তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি গারীব। এটিকে আমরা একমাত্র যানফালের হাদীস থেকেই চিনি। আর তিনি হাদীসের পণ্ডিতদের নিকট দুর্বল। তার মুতাবায়াত করা হয়নি। ইবনু আদীও অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন। হাফিয যাহাবী তাকে `আয-যুয়াফা অলমাতরূকীন` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন, নাসাঈ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি দুর্বল।
আর দারাকুতনীর এ কথার উপরেই হাফিয ইবনু হাজার `আলইসাবাহ` গ্রন্থে নির্ভর করেছেন।
` إن الله أعطاني ثلاث خصال لم يعطها أحدا قبلي: الصلاة في الصفوف، والتحية
من تحية أهل الجنة وآمين، إلا أنه أعطى موسى أن يدعو، ويؤمن هارون `.
ضعيف جدا.
رواه ابن خزيمة في ` صحيحه ` (1 / 166 / 2) ورقم (1586 - مطبوعة) وابن عدي (152 / 2) والحارث بن أبي أسامة (19 / 1 - 2 زوائده) عن زربي مولى آل مهلب قال: سمعت أنس مرفوعا. وقال ابن عدي: ` وأحاديث زربي وبعض متون أحاديثه منكرة `. وقال ابن حبان: ` منكر الحديث على قلته، ويروي عن أنس ما لا أصل له فلا يحتج به `. وضعفه البخاري جدا، فقال: ` فيه نظر `.
১৫১৬। আমাকে আল্লাহ্ তা'আলা তিনটি খাসালাত দান করেছেন যেগুলো আমার পূর্বে অন্য কাউকে দেননি; কাতার বন্দী হয়ে সালাত আদায় করা, জান্নাতীদের অভিবাদন (সালাম) দ্বারা অভিবাদন (সালাম) প্রদান করা ও আমীন বলা। তবে তিনি মূসাকে দান করেছিলেন যে, মূসা দুআ করবেন আর হারূন আমীন আমীন বলবেন।
হাদীসটি খুবই দুর্বল।
হাদীসটিকে ইবনু খুযাইমাহ তার “সহীহ” গ্রন্থে (১/১৬৬/২- নং ১৫৮৬), ইবনু আদী (২/১৫২) ও হারেস ইবনু আবী উসামাহ (১৯/১-২) আবূ মুহাল্লাবের মাওলা যারবী হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করতে শুনেছি।
ইবনু আদী বলেনঃ যারবীর হাদীস এবং তার হাদীসের কোন কোনটির ভাষা মুনকার।
ইবনু হিব্বান বলেনঃ তার হাদীস কম হওয়া সত্ত্বেও তিনি মুনকারুল হাদীস। তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে ভিত্তিহীন কিছু বর্ণনা করেছেন। তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। তাকে ইমাম বুখারী খুবই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ তার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে।
` إن الله أعطاني فارس ونساءهم وأبناءهم وسلاحهم وأموالهم، وأعطاني الروم ونساءهم وأبناءهم وسلاحهم وأموالهم، وأمدني بحمير `.
ضعيف.
رواه ابن عساكر (9 / 178 / 2) عن بقية بن الوليد عن يحيى (كذا ولعله بحير) بن سعد عن خالد بن معدان عن عبد الله بن سعد أنه قال: فذكره مرفوعا.
أورده في ترجمة عبد الله بن سعد - وهو الأنصاري الحزامي - وذكر أن له صحبة. قلت: وهذا إسناد ضعيف، بقية بن الوليد مدلس، وقد عنعنه. والحديث رواه أيضا نعيم بن حماد في ` الفتن `، وابن منده، وأبو نعيم في
` المعرفة ` كما في ` الجامع الكبير ` (1 / 141 / 1) .
১৫১৭। আল্লাহ্ তা'য়ালা আমাকে পারস্য দেশ, তাদের স্ত্রীগণ, তাদের সন্তানাদি, তাদের হাতিয়ার (সমরাস্ত্র) ও তাদের সম্পদগুলো দান করেছেন। আর আমাকে রূম দেশ, তাদের স্ত্রীগণ, তাদের সন্তানাদি, তাদের হাতিয়ার (সমরাস্ত্র) ও তাদের সম্পদগুলো দান করেছেন এবং তিনি আমাকে হিমইয়ার দ্বারা সাহায্য করেছেন।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে ইবনু আসাকির (৯/১৭৮/২) বাকিয়্যাহ ইবনুল অলীদ হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু সা'দ হতে, তিনি খালেদ ইবনু মাদান হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি মারফু' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এটিকে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু সা’দ আনসারী হিযামীর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সাহাবী।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। বাকিয়্যাহ্ ইবনুল অলীদ মুদাল্লিস হওয়ার কারণে। কারণ তিনি আন আন করে বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটিকে নাঈম ইবনু হাম্মাদও “আলফিতান” গ্রন্থে, ইবনু মান্দাহ, আবু নুয়াইম “আলমারিফা” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যেমনটি `আলজামে উল কবীর` গ্রন্থে (১/১৪১/১) এসেছে।
` إذا اغتاب أحدكم أخاه فليستغفر الله له، فإن ذلك كفارة له `.
موضوع.
أخرجه ابن عدي في ` الكامل ` (153 / 1) والسكن بن جميع في ` حديثه ` (421) والواحدي في ` تفسيره ` (4 / 82 / 1) من طريق سليمان بن عمرو عن أبي حازم عن سهل بن سعد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم.
فذكره.
قلت: سليمان هذا هو أبو داود النخعي، وهو كذاب مشهور، وفي ترجمته أورده ابن عدي في أحاديث أخرى، وقال: ` وهذه الأحاديث عن أبي حازم، كلها مما وضعه سليمان عليه `. قلت: ويبدو أن بعض من يشبهه في الكذب قد سرقه منه، فقد رأيته في ` مفتاح المعاني ` لأبي بكر الكلاباذي (ق 109 / 2) من طريق عمرو بن الأزهر عن أبان عن أبي حازم به. وأبان - وهو ابن أبي عياش - متروك.
وعمرو بن الأزهر قال البخاري: ` يرمى بالكذب `. وقال النسائي وغيره: ` متروك `. وقال أحمد: ` كان يضع الحديث `.
وقد روي الحديث من طريق أخرى بلفظ آخر، وهو الآتي بعده. (تنبيه) : قد جاء الحديث في ` الجامع الكبير
` للسيوطي بلفظ: ` من اغتاب أخاه المسلم فاستغفر له، فإنها كفارة `. وقال في تخريجه: ` رواه الخطيب في ` المتفق والمفترق ` عن سهل بن سعد، وفيه سليمان بن عمرو النخعي، كذاب `. وبهذا اللفظ رواه السكن بن جميع، لكن وقع في متنه خطأ مطبعي فاحش مفسد للمعنى، لم يتنبه له محققه الدكتور تدمري، فإنه قال: ` ولم يستغفر الله له `! والظاهر أن الأصل: ` واستغفر.. `. فانقلب حرف الألف على الطابع إلى ` لم `!
১৫১৮। তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের গীবাত করবে তখন সে যেন তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। কারণ তা (ক্ষমা প্রার্থনা করা) তার জন্য কাফফারাহ স্বরূপ।
হাদীসটি বানোয়াট।
হাদীসটিকে ইবনু আদী “আলকামেল” গ্রন্থে (১/১৫৩), সাকান ইবনু জামী' তার “হাদীস” গ্রন্থে (৪২১) ও অহেদী তার “তাফসীর” গ্রন্থে (৪/৮২/১) সুলাইমান ইবনু আমর সূত্রে আবু হযেম হতে, তিনি সাহল ইবনু সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সুলাইমান হচ্ছেন আবু দাউদ নাখা'ঈ। তিনি পরিচিত মিথ্যুক। ইবনু আদী তার জীবনীতে অন্যান্য হাদীসগুলোর মধ্যে এটিকেও উল্লেখ করে বলেছেনঃ এ হাদীসগুলো আবু হযেম হতে বর্ণিত হয়েছে। এগুলোকেই সুলাইমান আবু হাযেমের উদ্ধৃতিতে বানিয়েছে।
আমি (আলবানী) বলছিঃ প্রকাশ থাকে যে, মিথ্যা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তার ন্যায় কোন ব্যক্তি হাদীসটিকে তার থেকে চুরি করেছে। আমি হাদীসটিকে আবু বাকর কালাবাযীর “মিফতাহুল মায়ানী” গ্রন্থে (কাফ ২/১০৯) দেখেছি আমর ইবনুল আযহার সূত্রে আবান হতে, তিনি আবু হাযেম হতে বর্ণনা করেছেন।
এ আবান হচ্ছেন ইবনু আবী আইয়্যাশ, তিনি মাতরূক।
আর আমর ইবনুল আযহার সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ তাকে মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী করা হয়েছে। নাসাঈ প্রমুখ বলেনঃ তিনি মাতরূক। ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি হাদীস জাল করতেন।
হাদীসটিকে অন্য সূত্রে ভিন্ন ভাষায় বর্ণনা করা হয়ে থাকে। সেটি ১৫১৯ নম্বরের হাদীসটি।
সুয়ূতী `আলজামেউল কাবীর` গ্রন্থে নিম্নের ভাষায় হাদিসটি উল্লেখ করেছেনঃ
“যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গীবাত করবে অতঃপর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তা তার জন্য কাফফারাহ স্বরূপ।”
এটিকে তাখরীজ করার সময় তিনি বলেনঃ এটিকে খাতীব “আলমুত্তাফাক অলমুফতারাক” গ্রন্থে সাহল ইবনু সা'দ হতে বর্ণনা করেছেন। আর এর সনদের মধ্যে সুলাইমান ইবনু আমর নাখ'ঈ রয়েছেন, তিনি মিথ্যুক।
এ শব্দেই হাদীসটিকে সাকান ইবনু জামী' বৰ্ণনা করেছেন। কিন্তু তার ভাষায় মুদ্রণগত মারাত্মক ভুল হয়েছে যা ভাবার্থকে পরিবর্তন করে দেয়। সেদিকে তার তাহকীককারী ডঃ তাদমুরী লক্ষ্য না করে বলেছেন (ولم يستغفر الله له) `... এবং তার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে না।` অথচ মূল গ্রহে রয়েছে (واستغفر)।
` كفارة من اغتبت أن تستغفر له `.
ضعيف.
روي عن أنس من طرق:
الأولى: عن عنبسة بن عبد الرحمن القرشي عن خالد بن يزيد اليمامي عنه مرفوعا.
أخرجه الحارث بن أبي أسامة في ` زوائد المسند ` (261) وابن أبي الدنيا في ` الصمت ` (2 / 8 / 1) والخرائطي في ` مساوىء الأخلاق ` (2 / 4 / 1) وأبو بكر الدينوري في ` المجالسة ` (26 / 9 / 1) وأبو بكر الذكواني في ` اثنا عشر مجلسا ` (19 / 2) والضياء المقدسي في ` المنتقى من مسموعاته ` (141 / 2) وأبو جعفر الطوسي الشيعي في ` الأمالي
` (ص 120) .
قلت: وعنبسة هذا، قال البخاري: ` ذاهب الحديث `. وقال أبو حاتم: ` كان يضع الحديث `. وقال ابن حبان: ` صاحب أشياء موضوعة، لا يحل الاحتجاج به `. وفي ` التقريب `: ` متروك، رماه أبو حاتم بالوضع `. وخالد بن يزيد اليمامي لم أعرفه.
الثانية: عن أشعث بن شبيب: حدثنا أبو سليمان الكوفي حدثنا ثابت عن أنس به. أخرجه الخرائطي، وأخرجه الحاكم في ` الكنى ` كما في ` اللآلي ` (2 / 303) من هذا الوجه إلا أنه قال: ` أبو سليمان الكوفي عنبسة `، وزاد في آخره: ` تقول: اللهم اغفر لنا وله `. وعزاه في ` المشكاة ` (4876) للبيهقي في ` الدعوات الكبير `، وذكر أنه ضعفه.
قلت: وهذا إسناد ضعيف مظلم، لم أعرف أبا سليمان هذا، ولا الراوي عنه، وسكت السيوطي عنه، وقال السخاوي في ` المقاصد `: ` وهو ضعيف أيضا `.
الثالثة: عن دينار بن عبد الله عنه مرفوعا. أخرجه الخطيب في ` تاريخ بغداد ` (7 / 303) . قلت: وهذا موضوع، دينار هذا قال الذهبي عنه: ` ذاك التالف المتهم، قال ابن حبان: يروي عن أنس أشياء موضوعة `. وقد روي الحديث بلفظ آخر، وهو:
১৫১৯। তুমি যার গীবত করবে তার কাফফারাহ হচ্ছে এই যে, তুমি তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।
হাদীসটি দুর্বল।
এটিকে আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছেঃ
১) আম্বাসা ইবনু আব্দুর রহমান কুরাশী হতে, তিনি খালেদ ইবনু ইয়াযীদ ইমামী হতে, তিনি আনাস হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এটিকে হারেস ইবনু আবী উসামাহ `যাওয়াইদুল মুসনাদ` গ্রন্থে (২৬১), ইবনু আবিদ দুনিয়া “আস সমত” গ্রন্থে (২/৮/১), খারাইতী “মাসাবিউল আখলাক” গ্রন্থে (২/৪/১), আবু বাকর দীনূরী `আলমুজালাসাহ` গ্রন্থে (১/৯/২৬), আবু বাকর যাকওয়ানী ‘ইসনা আশারা মজলিসান” গ্রন্থে (২/১৯), যিয়া মাকদেসী “আলমুনতাকা মিন মাসমূয়াতিহি” গ্রন্থে (২/১৪১), আবু জাফর আততুসী শী'ঈ “আলআমলী” গ্রন্থে (পৃঃ ১২০) বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এর বর্ণনাকারী আম্বাসা সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি যাহেবুল হাদীস। আবু হাতিম বলেনঃ তিনি হাদীস জাল করতেন। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি বানোয়াট বহু কিছুর মালিক। তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। `আত-তাকরীব` গ্রন্থে এসেছে তিনি মাতরূক। তাকে আবু হাতিম জাল করার দোষে দোষী করেছেন। আর খালেদ ইবনু ইয়াযীদ ইমামীকে আমি চিনি না।
২) আশা'য়াস ইবনু শাবীব হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি আবু সুলাইমান কূফী হতে, তিনি সাবেত হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।
এটিকে খারাইতী আর হাকিম `আলকুনা” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যেমনটি “আললাআলী” গ্রন্থে (২/৩০৩) এ সূত্রেই এসেছে। তবে তিনি বলেছেনঃ আবু সুলাইমান কূফী আম্বাসা এবং শেষে বৃদ্ধি করে বলেছেনঃ “তুমি বলবে, হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে এবং তাকে ক্ষমা কর।”
“মিশকাত” গ্রন্থে (৪৮৭৬) বাইহাকীর `আদ দাওয়াতুল কাবীর` গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছে। আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি (বাইহাকী) হাদিসটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল অন্ধকারাচ্ছন্ন। এ আবূ সুলাইমান ও তার থেকে বর্ণনাকারীকে আমি চিনি না। আর তার (তার থেকে বর্ণনাকারীর) ব্যাপারে সুয়ূতী চুপ থেকেছেন। আর সাখাবী “আলমাকাসিদ” গ্রন্থে বলেছেনঃ তিনিও দুর্বল।
৩) দীনার ইবনু আব্দুল্লাহ সূত্রে আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এটিকে খাতীব “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (৭/৩০৩) উল্লেখ করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি বানোয়াট। এর বর্ণনাকারী দীনার সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তিনি মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী ধ্বংসপ্রাপ্ত। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বানোয়াট বহু কিছু বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটি অন্য ভাষাতেও বর্ণনা করা হয়েছেঃ (দেখুন পরেরটি)।
` من اغتاب رجلا ثم استغفر له غفرت له غيبته `.
موضوع.
رواه أبو بكر الدقاق في ` حديثه ` (2 / 39 / 2 و41 / 2) عن حفص بن عمر بن ميمون عن المفضل بن لاحق عن محمد بن المنكدر عن جابر مرفوعا.
قلت: وهذا إسناد موضوع، آفته حفص هذا وهو الأبلي. قال أبو حاتم: ` كان شيخا كذابا `. وقال الساجي: ` كان يكذب `. وقال العقيلي: ` يحدث عن الأئمة بالبواطيل `. وذكر السيوطي عن الدارقطني أنه قال: ` تفرد به حفص، وهو ضعيف `.
قلت: وفي هذا التضعيف المطلق ما لا يخفى من التساهل، فالرجل أسوأ حالا مما ذكر، وقد اغتر به السخاوي، فقال: ` وحفص ضعيف `. ثم بنى على ذلك قوله: ` وبمجموع هذا يبعد الحكم عليه بالوضع `. ويعنى بذلك مجموع حديث سهل، وأنس بطريقيه، وحديث جابر هذا.
وفيما قاله نظر عندي، فإن جميع طرقه لا تخلومن كذاب، أومتهم بالكذب، باستثناء الطريق الأخرى عن أنس، مع احتمال أن يكون أبو سليمان الكوفي المسمى عنبسة هو عنبسة بن عبد الرحمن الوضاع، ولكني لم أر من كناه بأبي سليمان، ولا من نسبه كوفيا. والله أعلم. وكذلك فإني أرى أن ابن الجوزي لم يبعد عن الصواب حين أورد هذه الأحاديث الثلاثة في ` الموضوعات `.
১৫২০৷ যে, কোন ব্যক্তির গীবাত করবে, অতঃপর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তার গীবাতকে ক্ষমা করে দেয়া হবে।
হাদীসটি বানোয়াট।
হাদীসটিকে আবু বাকর দাকাক তার “হাদীস” গ্রন্থে (২/৩৯/২ ও ২/৪১) হাফস ইবনু উমার ইবনু মায়মূন হতে, তিনি মুফাযযাল ইবনু লাহেক্ব হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদীর হতে, তিনি জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি বানোয়াট। এর সমস্যা হচ্ছে হাফস, তিনি হচ্ছেন উবুল্লী।
আবু হাতিম বলেনঃ তিনি মিথ্যুক শাইখ ছিলেন। সাজী বলেনঃ তিনি মিথ্যা বলতেন। ওকাইলী বলেনঃ তিনি ইমামদের উদ্ধৃতিতে বাতিলগুলো বর্ণনা করতেন।
সুয়ুতী দারাকুতনীর উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেনঃ এটিকে হাফস্ এককভাবে বর্ণনা করেছেন আর তিনি হচ্ছেন দুর্বল।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ দুর্বলতা বর্ণনা করার মধ্যে শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়েছে। কারণ যা উল্লেখ করা হয়েছে এ ব্যক্তির অবস্থা তার চেয়েও বেশী নিকৃষ্ট। এ শিথিলতা প্রদর্শনের ফলে সাখাবী ধোঁকায় পড়ে বলেছেন হাফস্ দুর্বল। অতঃপর এর উপর ভিত্তি করে বলা হয়েছেঃ বিভিন্ন সূত্রগুলো একত্রিত করার দ্বারা এ হাদীসটি বানোয়াটের গণ্ডি হতে দূর হয়ে যায়।
কিন্তু এরূপ কথার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ এ হাদীসের কোন সূত্র মিথ্যুক অথবা মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী হতে মুক্ত নয়। একমাত্র আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত একটি সূত্র ছাড়া। উক্ত সনদের মধ্যেও সম্ভাবনা আছে যে, আবূ সুলাইমান কূফী আম্বাসা হয়তো জলকারী আম্বাসা ইবনু আব্দুর রহমান। কারণ আমি দেখছি না যে, কে আবূ সুলাইমান হিসেবে তার কুনিয়াত দিয়েছেন আর কে তাকে কূফী হিসেবে সম্বোধন করেছেন।
ইবনুল জাওযী কর্তৃক উপরের তিনটি হাদীসকে “আলমাওযুয়াত” গ্রন্থে উল্লেখ করার কারণে আমি তাকে সঠিক থেকে দূরে মনে করছি না।