হাদীস বিএন


সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ





সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1541)


1543) .
قال ابن عبد البر:
` لم يلتفت مالك ومن قال بقوله إلى حديث عبد الرحمن بن عطاء هذا، وردوه بحديث عائشة؛ لتواتر طرقه عنها وصحته، وما يصحبه من جهة النظر إلى ثبوته من طريق الأثر `.
ثم ذكر من رواه من التابعين عن عائشة رضي الله عنها، ثم روى بسنده الصحيح عن مسروق قال:
قدت لِعَائِشَة: إن رِجَالًا ههنا يبعثون بالهدي إلى البيت، ويأمرون الذين يبعثونهم أن يُعْرِّفُوهُمْ اليوم الذي يقلدونها، فلا يزالون مُحرِمين حتى يحل الناس!
فصفقت بيدها، فسمعت ذلك من وراء الحجاب فقالت: سبحان الله! لقد كنت أفتل. . . الحديث نحو ما تقدم.
وقد أخرجه البخاري (1700) ، ومسلم (4 / 95) من طريق عمرة بنت عبد الرحمن: أن زياد أبن أبي سفيان أكتب إلى عائشة: أن عبد الله بن عباس
قال: من أهدى هَدَيَا حرم عليه ما يحرم على الحاج حتى ينحر الهدي، وقد بعثت بهديي، فاكتبي إِلَيَّ بأمرك. قالت عمرة: قالت عَائِشَة: ليس كما قال ابن عباس؛ أنا فتلت. . . الحديث.
وما أحسن ما روى البيهقي (5 / 234) عن الزهري قال:
أول من كشف العمى عن الناس وبيّن لهم السنة في ذلك عَائِشَة زوج النبي صلى الله عليه وسلم. . . ثم روى الحديث عن عروة وعمرة عنها، وزاد في آخره:
` فلما بلغ الناس قول عَائِشَة هذا؛ أخذوا بقولها وتركوا فتوى ابن عباس `. قال ابن عبد البر رحمه الله (17 / 221) :
` فيه من الفقه: أن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم كانوا يختلفون في مسائل من الفقه؛
فلا يعيب بعضهم بَعْضًا بأكثر من رد قوله ومخالفته إلى ما عنده من السنة في ذلك. وهكذا يجب على كل مسلم `.
‌‌




১৫৪১। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসমিদ দ্বারা সওম পালন করা অবস্থায় সুরমা লাগাতেন।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ইবনু খুযাইমাহ (২/২০৭) মা'মার ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ওবাইদুল্লাহ ইবনু আবী রাফে হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার পিতা ওবাইদুল্লাহ হতে, তিনি আবু রাফে হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ...।





ইবনু খুযাইমাহ বলেনঃ মামারের কারণে আমি এ সনদের দায়দায়িত্ব থেকে মুক্ত।





আমি (আলবানী) বলছিঃ সনদটি খুবই দুর্বল। যেমনটি ইমাম বুখারীর কথা থেকে বুঝা যায়। কারণ তিনি তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। কিন্তু তিনি এককভাবে বর্ণনা করেননি। হিব্বান ইবনু আলী তার মুতাবা'য়াত করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু ওবাইদুল্লাহ ইবনু আবী রাফে হতে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে।





এটিকে ইবনু সা'দ “আত-ত্ববাকাত” গ্রন্থে (১/৪৮৪), ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে, ইবনু আদী “আলকামেল” গ্রন্থে (১/১০৮) ও তার থেকে বাইহাকী (৪/২৬২) বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হিব্বান হচ্ছেন আনাযী আর তিনিও দুর্বল।





তবে মুহাম্মাদ ইবনু ওবাইদুল্লাহ দ্বারা এ হাদীসের সমস্যা বর্ণনা করাই উত্তম। কারণ তিনি এককভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।





হাইসামী “আলমাজমা” গ্রন্থে (৩/১৬৭) বলেনঃ হাদীসটি ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে হিব্বান ইবনু আলীর বর্ণনায় মুহাম্মাদ ইবনু ওবাইদুল্লাহ ইবনু আবী রাফে হতে বর্ণনা করেছেন। আর তাদের দু’জনকেই নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেয়া হয়েছে। তবে তাদের দু’জনের ব্যাপারে বহু সমালোচনা রয়েছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1542)


` إن من التواضع لله، الرضا بالدون من شرف المجلس `.
ضعيف.
رواه الطبراني في ` المعجم الكبير ` (1 / 63 / 1) : حدثنا يحيى بن عثمان بن صالح، وعنه الضياء المقدسي في ` المختارة ` (1 / 285) وابن عدي في ` الكامل ` (160 / 1) من طريق أحمد بن الفضل بن عبيد الله الصائغ قالا: حدثنا سليمان بن أيوب بن عيسى بن موسى بن طلحة بن عبيد الله: حدثني أبي عن جدي عن موسى بن طلحة عن أبيه طلحة بن عبيد الله: ` أنه أتى مجلس قوم، فأوسعوا له من كل ناحية، فجلس في صدر المجلس في أدناه، ثم قال لهم: إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. ذكره ابن عدي في ترجمة سليمان هذا مع أحاديث أخرى، وقال:
` لا يتابع سليمان عليها أحد `. وأورده الذهبي في ` الضعفاء `، وقال: ` له مناكير عدة `. وساق له في ` الميزان ` من منكراته أحاديث، هذا أحدها. وأبو هـ، وهو أيوب بن سليمان بن عيسى، وجده عيسى لم أجد لهما
ترجمة، إلا أن الأول منهما قد أورده ابن أبي حاتم (1 / 1 / 248) من رواية ابنه سليمان فقط! ولم يذكر توثيقا ولا تجريحا فهو مجهول. وقال الحافظ العراقي في ` تخريج الإحياء ` (2 / 14) : ` الخرائطي في ` مكارم الأخلاق `، وأبو نعيم في ` رياضة المتعلمين ` من حديث طلحة بن عبيد الله بسند جيد `.
كذا قال ولست أدري إذا كان طريق الخرائطي وأبي نعيم هي نفس طريق سليمان بن أيوب، أوغيرها؟ فإن كتاب ` رياضة المتعلمين ` لم أقف عليه مع الأسف، وأما ` المكارم ` للخرائطي، فالمطبوع منه جزء، وفي مخطوطة الظاهرية الجزء الثامن منه، ولم يطبع وليس الحديث في هذا منه، ولا في ذاك.
‌‌




১৫৪২। মজলিসের উঁচু স্থান ছেড়ে নিচু স্থান গ্রহণে সম্ভষ্ট থাকা আল্লাহর জন্য বিনম্রতা প্রকাশ করার অন্তর্ভুক্ত।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে ((১/৬৩/১) ইয়াহইয়া ইবনু উসমান ইবনু সালেহ হতে, আর তার থেকে যিয়া মাকদেসী “আলমুখতারাহ” গ্রন্থে (১/২৮৫) ও ইবনু আদী “আলকামেল” গ্রন্থে (১/১৬০) আহমাদ ইবনুল ফাযল ইবনু ওবাইদুল্লাহ সায়েগ হতে, আর তারা উভয়েই সুলাইমান ইবনু আইউব ইবনু ঈসা ইবনু মূসা ইবনু ত্বলহা ইবনু ওবাইদুল্লাহ হতে, তিনি তার পিতার সূত্রে তার দাদা হতে, তিনি মূসা ইবনু ত্বলহাহ হতে, তিনি তার পিতা ত্বলহা ইবনু ওবাইদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি সম্প্রদায়ের এক মজলিসে আসলে তার জন্য লোকেরা সব দিক থেকেই প্রশস্ত করে দিল। তখন তিনি মূল মজলিসের এক নিচু স্থানে বসলেন। অতঃপর তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ...।





ইবনু আদী বর্ণনাকারী সুলাইমানের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে অন্যান্য হাদীসের সাথে এ হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ এগুলো বর্ণনার ব্যাপারে সুলাইমানের কেউ মুতাবা'য়াত করেননি। তাকে হাফিয যাহাবী “আয়ুযুয়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন তার কতিপয় মুনকার হাদীস রয়েছে। তিনি “আলমীযান” গ্রন্থে তার কতিপয় মুনকার হাদীস উল্লেখ করেছেন, এটি সেগুলোর একটি। তার পিতা হচ্ছে আইউব ইবনু সুলাইমান ইবনু ঈসা। আর তার দাদা হচ্ছে ঈসা। তাদের দু'জনেরই আমি জীবনী পাচ্ছি না। তবে তাদের দু'জনের প্রথমজনকে ইবনু আবী হাতিম (১/১/২৪৮) শুধুমাত্র তার পুত্রের বর্ণনায় উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই বলেননি। অতএব তিনি মাজহুল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1543)


` إن الله لا يؤخر نفسا إذا جاء أجلها، ولكن زيادة العمر ذرية صالحة يرزقها
الله العبد، فيدعون له من بعده، فيلحقه دعاؤهم في قبره، فذلك زيادة العمر `.
منكر.
رواه العقيلي في ` الضعفاء ` (2 / 134) وابن عدي (160 / 1) وابن حبان في ` الضعفاء ` (1 / 331) عن سليمان بن عطاء عن مسلمة بن عبد الله الجهني عن عمه أبي مشجعة بن ربعي عن أبي الدرداء قال: ذكرنا زيادة العمر عند رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: فذكره. وقال: ` لا يتابع عليه بهذا اللفظ `. يعني سليمان هذا، ويروى عن البخاري أنه قال فيه:
` في حديثه بعض المناكير `. وفي ` الميزان `، قال أبو حاتم: ` ليس بالقوي `. واتهمه ابن حبان وغيره. وذكره ابن كثير (3 / 550) من رواية ابن أبي حاتم من طريق سليمان به، ولكنه وقع فيه (عثمان) مكان (سليمان) وهو خطأ مطبعي، فقد ذكر ابن أبي حاتم في ` الجرح والتعديل ` (4 / 2 / 10) من شيوخه سليمان بن عطاء هذا.
وقال فيه ابن حبان: ` روى أشياء موضوعة لا تشبه حديث الثقات، فلست أدري التخليط فيها منه، أومن مسلمة بن عبد الله؟ `. ثم ساق له أحاديث منكرة هذا منها. وهذا الحديث من الأحاديث الكثيرة الضعيفة التي سود بها الحلبيان كتابيهما ` مختصر تفسير الحافظ ابن كثير `، اللذان التزما ألا يوردا فيهما إلا الأحاديث الصحيحة، وأنى لهما ذلك؟ وهما - مع الأسف - من أجهل من كتب في هذا المجال فيما علمت، وبخاصة الرفاعي منهما، فإنه أجرؤهما إقداما على التصحيح بجهل بالغ، فهو مع إخلاله بذلك الالتزام، فقد وضع فهرسا في آخر كل مجلد من مجلداته الأربعة لأحاديث الكتاب، يصرح غالبا بالتصحيح، ونادرا بالتحسين لتلك الأحاديث وهذا منها (3 / 422) ولا حول ولا قوة إلا بالله.
‌‌




১৫৪৩। আল্লাহ্ তা'য়ালা আত্মাকে (আত্মা কবজ করাকে) পিছিয়ে দিবেন না যে আত্মার মৃত্যুর সময় এসে যাবে। আর বয়স বৃদ্ধির ভাবার্থ হচ্ছে সৎ সস্তান, আল্লাহ্ তা'য়ালা বান্দাকে যা দান করে থাকেন। যারা তার (মৃত্যুর) পর হতে তার জন্য দুয়া করতে থাকে আর তাদের দুয়া কবরে তার নিকট পৌছতে থাকে। আর এটিই হচ্ছে বয়স বৃদ্ধি হওয়া।





হাদীসটি মুনকার।





হাদীসটিকে ওকায়লী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (২/১৩৪), ইবনু আদী (১/১৬০), ইবনু হিব্বান “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (১/৩৩১) সুলাইমান ইবনু আতা হতে, তিনি মাসলামাহ ইবনু আব্দুল্লাহ জুহানী হতে, তিনি তার চাচা আবু মাশজায়াহ ইবনু রিবাঈ হতে, তিনি আবুদ দারদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বয়স বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনা করছিলাম তখন তিনি বলেনঃ ...।





ওকায়লী বলেনঃ এ ভাষায় সুলাইমানের মুতাবায়াত করা হয়নি। বুখারী হতে বর্ণনা করা হয়েছে তিনি তার সম্পর্কে বলেনঃ তার হাদীসে কিছু মুনকার রয়েছে।





“আল-মীযান” গ্রন্থে এসেছে আবু হাতিম বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। ইবনু হিব্বান প্রমুখ তাকে মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী করেছেন।





ইবনু কাসীর হাদীসটিকে (৩/৫৫০) ইবনু আবী হাতিমের বর্ণনায় সুলাইমানের সূত্রে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তাতে সুলাইমানের স্থলে উসমান উল্লেখ করা হয়েছে। এটি মুদ্রণগত ভুল। ইবনু আবী হাতিম “আলজারহু অততা'দীল” গ্রন্থে (৪/২/১০) উল্লেখ করেছেন যে, তার শাইখদের মধ্যে এ সুলাইমান ইবনু আতা রয়েছেন।





আর ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি কতিপয় বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করেছেন যেগুলো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর হাদীসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। আমি জানি না সেগুলোর ব্যাপারে তার থেকে সংমিশ্রন ঘটেছে, নাকি মাসলামাহ ইবনু আব্দুল্লাহ থেকে? অতঃপর তিনি তার কতিপয় মুনকার হাদীস উল্লেখ করেন, এটি সেগুলোর একটি। এ হাদীসটি সেই হাদীসগুলোর অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর দ্বারা দু’হালাবী আলেম তাদের দু'গ্ৰন্থ “মুখতাসারু তাফসীরুল হাফেয ইবনু কাসীর” কে কালিমালিপ্ত করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1544)


` آيات المنافق: إذا حدث كذب وإذا وعد أخلف وإذا ائتمن خان `.
ضعيف جدا.
رواه الطبراني في ` الأوسط ` عن أبي بكر الصديق أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكره. قال الهيثمي (1 / 108) : ` وفيه زنفل العرفي، كذاب `.
قلت: لم أر من رماه بالكذب وأسوأ ما قيل فيه: ` ليس بثقة `. وقد مضى في الحديث (1515) . ويغني عن هذا الحديث حديث أبي هريرة مرفوعا بلفظ: ` أية المنافق ثلاث إذا حدث … ` إلخ. أخرجه الشيخان. انظر `
كتاب الإيمان ` لأبي عبيد القاسم بن سلام (ص 95) .
‌‌




১৫৪৪। মুনাফিকের আলামতসমূহঃ যখন কথা বলে তখন মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদাহ্ করে তখন ওয়াদার বরখেলাফ করে আর (তার কাছে) আমানাত রাখা হলে খিয়ানাত করে।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে আবূ বাকর সিদীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ... । হাইসামী (১/১০৮) বলেনঃ এর সনদে যানফাল আলওরফী রয়েছেন, তিনি মিথ্যুক।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আমি দেখছি না কে তাকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। তার ব্যাপারে সর্ব নিকৃষ্ট কথা যা বলা হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। তার সম্পর্কে (১৫১৫) হাদীসে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।





এ হাদীস থেকে আমাদেরকে মুক্ত রাখতে পারে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত নিম্নের ভাষার মারফু হাদীসঃ





آية المنافق تلاث: إذا حدث كذب وإذا وعد أخلف وإذا اؤتمن خان





“মুনাফিকের আলামাত হচ্ছে তিনটিঃ ...।





এটিকে ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1545)


` آيتان هما قرآن وهما يشفعان، وهما مما يحبهما الله، الآيتان في آخر سورة البقرة `.
ضعيف جدا.

أخرجه الديلمي في ` مسند الفردوس ` عن أبي هريرة مرفوعا.
قال المناوي: ` وفيه محمد بن إبراهيم بن جعفر الجرجاني، فإن كان الفروي فصدوق، أوالكيال فوضاع كما في ` الميزان ` `. قلت: وأغلب الظن أنه الآخر. والله أعلم. ثم وقفت على إسناده في ` مختصر الديلمي ` للحافظ (1 / 1 / 77) فإذا هو من طريق إبراهيم بن أبي يحيى عن صفوان بن سليم عن محمد بن عبد الرحمن بن ثوبان عن أبي هريرة به. وقال الحافظ: ` قلت: ابن أبي يحيى ضعيف `.
قلت: بل هو متروك، كما قال هو نفسه في ` التقريب `.
‌‌




১৫৪৫। দু'টি আয়াত সে দু'টি কুরআন (এর অন্তর্ভুক্ত), সে দু'টি সুপারিশ করবে এবং সে দু'টিকে আল্লাহ্ ভালোবাসেন। আয়াত দুটি হচ্ছে সূরা বাকারার শেষ দু'আয়াত।





হাদিসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে দায়লামী “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে আবূ হুরাইরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মানবী বলেনঃ এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম ইবনু জাফার জুরজানী রয়েছেন। তিনি যদি ফারাবী হন তাহলে তিনি সত্যবাদী। আর তিনি যদি কায়াল হন তাহলে তিনি জালকারী যেমনটি “আলমীযান” গ্রন্থে এসেছে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আমার বেশীর ভাগ ধারণা যে, তিনি দ্বিতীয় জন।





অতঃপর আমি (আলবানী) হাফিযের `মুখতাসারুদ দায়লামী` গ্রন্থে (১/১/৭৭) তার সনদ সম্পর্কে অবগত হয়েছি। এতে বর্ণিত হয়েছে ইবরাহীম ইবনু আবী ইয়াহইয়া সূত্রে সাফওয়ান ইবনু সুলাইম হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু সাওবান হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। হাফিয বলেনঃ ইবনু আবী ইয়াহইয়া দুর্বল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ বরং তিনি মাতরূক যেমনটি তিনি নিজে `আত-তাকরীব` গ্রন্থে বলেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1546)


` آمن شعر أمية بن أبي الصلت وكفر قلبه `.
ضعيف.

أخرجه أبو بكر بن الأنباري في ` المصاحف ` والخطيب في ` التاريخ ` وابن عساكر، عن ابن عباس. كذا في ` الجامع الصغير `، و` الكبير ` (1 / 3 / 2) ولم أره في ` فهرس الخطيب ` وقد ذكر المناوي في شرحه أن في سنده عند ابن الأنباري أبا بكر الهذلي. قلت: وهو متروك
الحديث كما في ` التقريب `، وأن إسناد الخطيب وابن عساكر ضعيف، ورواه عنه الفاكهي وابن منده. قلت
: قد وقفت على إسناد الفاكهي بواسطة ` الإصابة ` (8 / 156) رواه من طريق الكلبي عن أبي صالح عن ابن عباس. والكلبي متهم بالكذب.
‌‌




১৫৪৬। উমাইয়্যাহ্ ইবনু আবিস সল্তের কবিতা ঈমান আনে আর তার হৃদয় কুফরী করে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদিসটিকে আবূ বাকর ইবনুল আম্বারী `আলমাসাহিফ` গ্রন্থে, খতীব বাগদাদী “আততারীখ” গ্রন্থে ও ইবনু আসাকির আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





এরূপই এসেছে “আলজামেউস সাগীর” ও “কাবীর” গ্রন্থে (১/৩/২)। আমি “ফেহরেসুল খাতীব” গ্রন্থে এটিকে পাচ্ছি না। মানবী তার ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল আম্বারীর নিকট তার সনদে আবূ বাকর হুযালী রয়েছেন। তিনি মাতরূকুল হাদীস যেমনটি “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে। আর খাতীব ও ইবনু আসাকিরের সনদ দুর্বল। তার থেকে ফাকেহী ও ইবনু মান্দাহ্ বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আমি “আলইসাবাহ” গ্রন্থের মাধ্যমে (৮/১৫৬) ফাকেহীর সনদ সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তিনি কালবী সূত্রে আবু সালেহ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। আর কালবী হচ্ছেন মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1547)


` آية العز: ` وقل الحمد لله الذي لم يتخذ ولدا ` الآية `.
ضعيف.
رواه أحمد (3 / 439) والواحدي في ` تفسيره ` (2 / 192 / 1) عن رشدين بن سعد عن زبان بن فائد عن سهل بن معاذ عن أبيه مرفوعا. قلت: وهذا سند فيه ضعف، زبان بن فائد متكلم فيه من قبل حفظه، وقد يحسن حديثه. وقال الحافظ: ` ضعيف الحديث مع صلاحه وعبادته `. ورشدين بن سعد ضعيف أيضا. وقد تابعه ابن لهيعة عند أحمد وهو ضعيف كذلك. وفي ` الفيض `: ` قال الحافظ العراقي: وسنده ضعيف. وقال الهيثمي: رواه أحمد والطبراني من طريقين، في أحدهما رشدين بن سعد وهو ضعيف. وفي الأخرى ابن لهيعة وهو أصلح منه، وقد رمز المؤلف لحسنه `.
‌‌




১৫৪৭। ইযযাতের আয়াত হচ্ছেঃ (وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا) `বল, সকল প্রশংসাই আল্লাহর যিনি সন্তান গ্রহণ করেন না` (সূরা ইসরাঃ ১১১)।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে আহমাদ (৩/৪৩৯) ও ওয়াহেদী তার “তাফসীর” গ্রন্থে (২/১৯২/১) রিশদীন ইবনু সা'দ হতে, তিনি যাবান ইবনু ফায়েদ হতে, তিনি সাহল ইবনু মুয়ায হতে, তিনি তার পিতা হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। হেফয শক্তির দিক থেকে যাবান ইবনু ফায়েদ সমালোচিত ব্যক্তি। কখনও কখনও তার হাদীসকে হাসান আখ্যা দেয়া যায়। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি ভালো এবং আবেদ ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল। রিশদীন ইবনু সাদও দুর্বল। ইমাম আহমাদের নিকট ইবনু লাহীয়াহ তার মুতাবা'য়াত করেছেন আর তিনিও তার মতই দুর্বল।





“আলফায়েয” গ্রন্থে এসেছেঃ হাফিয ইরাকী বলেনঃ তার সনদ দুর্বল। আর হাইসামী বলেনঃ ইমাম আহমাদ ও ত্ববারানী দুটি সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সে দু'টির একটিতে রিশদিন ইবনু সা'দ রয়েছেন, তিনি দুর্বল। আর দ্বিতীয়টিতে ইবনু লাহীয়াহ রয়েছেন, তিনি ইবনু সা'দের চেয়ে বেশী ভালো। লেখক হাদীসটির ব্যাপারে হাসান হওয়ার চিহ্ন ব্যবহার করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1548)


` ستفتح على أمتي من بعدي الشام وشيكا، فإذا فتحها فاحتلها، فأهل الشام مرابطون إلى منتهى الجزيرة: رجالهم ونساؤهم وصبيانهم وعبيدهم، فمن احتل ساحلا من تلك السواحل فهو في جهاد، ومن احتل بيت المقدس فهو في جهاد `.
ضعيف.

أخرجه ابن عساكر في ` تاريخ دمشق ` (1 / 270) من طريق ابن حمير عن سعيد البجلي عن شهر بن حوشب عن أبي الدرداء مرفوعا.
قلت: وهذا إسناد ضعيف من أجل شهر، قال الحافظ: ` كثير الإرسال والأوهام `. وسعيد البجلي لم أعرفه. ورواه هشام بن عمار: أخبرنا أبو مطيع معاوية بن يحيى عن أرطاة بن المنذر عمن حدثه عن أبي الدرداء به، دون ذكر الفتح وبيت المقدس. وهذا ضعيف أيضا، لضعف أبي مطيع، وجهالة شيخ أرطاة.
‌‌




১৫৪৮। আমার পরে আমার উম্মাতের জন্য শাম ও শীকান দেশ মুক্ত করা হবে। যখন তাকে মুক্ত করবে তখন তা স্বাধীন হয়ে যাবে। শামবাসীঃ তাদের পুরুষ, তাদের মহিলা, তাদের শিশু ও দাসরা, জাযীরার শেষপ্রান্ত পর্যন্ত জিহাদের জন্য নিজেদেরকে বেঁধে (সার্বক্ষনিক নিয়োজিত) রেখেছে। যেই সে সমুদ্রকুলগুলোর একটি কূলকে স্বাধীন করবে সেই জিহাদের মধ্যে রয়েছে আর যে বাইতুল মাকদিসকে মুক্ত করবে সে জিহাদের মধ্যে রয়েছে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ইবনু আসাকির “তারীখু দেমাস্ক” গ্রন্থে (১/২৭০) ইবনু হিময়ার সূত্রে সা'ঈদ বাজালী হতে, তিনি শাহর ইবনু হাওশাব হতে, তিনি আবুদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ বর্ণনাকারী শাহরের কারণে এ সনদটি দুর্বল। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি বহু মুরসাল এবং সন্দেহমূলক বর্ণনাকারী। আর সাঈদ বাজালীকে আমি চিনি না।





আর হিশাম ইবনু আম্মার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবু মুতী মুয়াবিয়্যাহ ইবনু ইয়াহইয়া হতে, তিনি আরতাত ইবনুল মুনযির হতে, তিনি সেই ব্যক্তি হতে যে আবুদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন ... ।





এটিও দুর্বল। আবু মুতী দুর্বল আরতাতের শাইখ মাজহুল হওয়ার কারণে











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1549)


` إن الله أمرني بحب أربعة وأخبرني أنه يحبهم، قيل: يا رسول الله! من هم؟ قال: علي منهم، يقول ذلك ثلاثا، وأبو ذر وسلمان والمقداد `.
ضعيف.

أخرجه البخاري في ` التاريخ الكبير ` (ص 31 - الكنى) والترمذي (2 / 299) وابن ماجة (149) وأبو نعيم في ` الحلية ` (1 / 172) والحاكم (3 / 130) وأحمد (5 / 356) من طريق شريك عن أبي ربيعة الإيادي عن ابن بريدة عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره.
وقال الترمذي: ` حديث حسن، لا نعرفه إلا من حديث شريك `. قلت: وهو ضعيف لا يحتج به لسوء حفظه، فأنى لحديثه الحسن؟ قال الحافظ في ` التقريب `: ` صدوق، يخطيء كثيرا، تغير حفظه منذ ولي القضاء بالكوفة، وكان عادلا فاضلا عابدا، شديدا على أهل البدع `. وقال الذهبي في ` الضعفاء `: ` قال القطان: ما زال مخلطا، وقال أبو حاتم: له أغاليط، وقال الدارقطني: ليس بالقوي `. وذكر في ` الميزان ` أن مسلما أخرج له متابعة. ومن هذا تعلم خطأ قول الحاكم عقب
الحديث: ` حديث صحيح على شرط مسلم `! ولم يتعقبه الذهبي إلا بقوله: ` قلت: ما خرج (م) لأبي ربيعة `! وهذا تعقب لا طائل تحته، لأن القارىء لا يخرج منه بحكم واضح على الحديث، لأن عدم إخراج مسلم لأبي ربيعة لا يجرحه كما هو معلوم، والذهبي لم يضعفه، فقد يؤخذ منه أنه غير مجروح، وليس كذلك، فقد قال الذهبي نفسه في ` الكنى ` من ` الميزان `: ` قد ذكر مضعفا `. يعني في ` الأسماء `، وقال هناك: ` قال أبو حاتم: منكر الحديث `. فكان الواجب إعلال الحديث به، وبشريك أيضا لما عرفت من ضعفه، وعدم احتجاج مسلم به، لكي لا يتورط أحد ممن لا تحقيق عنده بكلامه، فيتوهم أنه سالم مما يقدح في ثبوته، وليس كذلك كما ترى. ولذلك رأينا المناوي في ` فيضه ` لم يزد في كلامه على الحديث على أن نقل عن الذهبي تعقبه المذكور، بل زاد عليه فقال: ` وهو صدوق `. يعني أبا ربيعة.
وهذا مما يشعر بأنه سالم من غيره، ولعل هذا كله، بالإضافة إلى تحسين الترمذي، كان السبب في تورط الشيخ الغماري حين أورد الحديث في ` كنزه ` (666) ! وساعده على ذلك أنه يشم منه رائحة التشيع! وقد سرق
بعض الوضاعين هذا الحديث فرواه بلفظ: ` إن الله أمرني بحب أربعة من أصحابي، وقال: أحبهم، أبو بكر وعمر وعثمان وعلي `. وهو موضوع. أخرجه ابن عدي (161 / 1) عن سليمان بن عيسى السجزي: حدثنا الليث بن سعد عن نافع عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره، وقال: ` سليمان بن عيسى
يضع الحديث `.
وكذلك قال غيره كما يأتي. وذكر الذهبي أن هذا الحديث من بلاياه! وأورده السيوطي في ` الجامع الكبير ` (4706) . ومن موضوعات هذا الكذاب الحديث الآتي بعد حديث.
‌‌




১৫৪৯। আল্লাহ্ তা'য়ালা আমাকে চার জনকে ভালোবাসার নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনিও তাদেরকে ভালোবাসেন। জিজ্ঞাসা করা হলো হে আল্লাহর রসূল! তারা কারা? তিনি বললেনঃ তাদের মধ্যে আলী রয়েছেন। তিনি তা তিনবার বললেন। আর আবূ যার, সালমান ও মিকদাদ।





হাদিসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ইমাম বুখারী “আততারীখুল কাবীর” গ্রন্থে (পৃঃ ৩১), তিরমিয়ী (২/২৯৯-৩৭১৮), ইবনু মাজাহ (১৪৯), আবু নুয়াইম “আলহিলইয়্যাহ” গ্রন্থে (১/১৭২), হাকিম (৩/১৩০) ও আহমাদ (৫/৩৫৬) শারীক সূত্রে আবূ রাবী'আহ ইয়াদী হতে, তিনি ইবনু বুরাইদাহ হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





ইমাম তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি হাসান। এটিকে একমাত্র শারীকের হাদীস হতেই চিনি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি দুর্বল, তার মন্দ হেফয শক্তির কারণে তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। অতএব কিভাবে তার হাদীস হাসান? হাফিয ইবনু হাজার `আত-তাকরীব` গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী, বহু ভুলকারী। যখন কূফায় তাকে কাযী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় তখন তার হেফযে পরিবর্তন ঘটে। তিনি ন্যায়পরায়ন, সম্মানিত, আবেদ ও বিদ'আতীদের বিপক্ষে কঠোর ছিলেন।





হাফিয যাহাবী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে বলেনঃ কাত্তান বলেনঃ তার সংমিশ্রণ ঘটা (মস্তিষ্ক বিকৃত) অবস্থা ছিল। আবু হাতিম বলেনঃ তার বহু ভুল রয়েছে। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন।





হাফিয যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মুসলিম মুতাবা'য়াত থাকার শর্তে তার থেকে বর্ণনা করেছেন। এ থেকেই বুঝা যায় হাকিম যে হাদীসটির শেষে বলেছেনঃ “মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাদীসটি সহীহ, তা ভুল। হাফিয যাহাবী এ ব্যাপারে শুধুমাত্র বলেছেন যে, আবু রাবী'য়াহ হতে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেননি।





তার এ কথা থেকে বুঝা যায় না যে, তিনি দুর্বল। কারণ ইমাম মুসলিম কর্তৃক কোন বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা না করা তার দুর্বল হওয়ার প্রমাণ বহন করে না। তবে তিনি (যাহাবী) “আলআসমা” গ্রন্থে তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেছেনঃ আবু হাতিম তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস।





কোন জালকারী এ হাদীসটিকে চুরি করে নিম্নের ভাষায় বর্ণনা করেছেনঃ





“আল্লাহ তা'য়ালা আমাকে আমার চার সাহাবীকে ভলোবাসতে নির্দেশ প্রদান করে বলেছেনঃ তুমি তাদেরকে ভালবাস, আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)।”





অথচ এটি বানোয়াট। এটিকে ইবনু আদী (১/১৬১) সুলাইমান ইবনু ঈসা সাজয়ী হতে, তিনি লাইস ইবনু সা'দ হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...৷





ইবনু আদী বলেনঃ সুলাইমান ইবনু ঈসা হাদীস জালকারী। অন্যরাও অনুরূপ কথা বলেছেন যেমনটি সামনে আসবে। হাফিয যাহাবী উল্লেখ করেছেন যে, এ হাদীসটি তার বিপদগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর সুয়ূতী “আলজামেউল কাবীর” গ্রন্থে (৪৭০৬) হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।





এ মিথুকের বানোয়াট হাদীসগুলোর অন্তর্ভুক্ত নিম্নের হাদীসটিও (দেখুন পরেরটি)।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1550)


` أيما امرأة خرجت من بيت زوجها بغير إذنه، لعنها كل شيء طلعت عليه الشمس والقمر، إلا أن يرضى عنها زوجها `.
موضوع.
الديلمي (1 / 2 / 353 - 354) من طريق أبي نعيم عن أبي هدبة عن أنس مرفوعا. قلت: وهذا موضوع، أبو هدبة - واسمه إبراهيم بن هدبة - متروك، حدث بالأباطيل عن أنس. وقد مضى الحديث بنحوه برقم (1020) .
‌‌




১৫৫০। যে নারীই তার স্বামীর গৃহ হতে তার অনুমতি ছাড়া বের হবে প্রতিটি বস্তু যার উপর সূর্য এবং চন্দ্র উদিত হয়েছে তাকে অভিশাপ দিবে। তবে তার স্বামী তার উপর সম্ভষ্ট হয়ে গেলে ভিন্ন কথা।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদীসটিকে দায়লামী (১/২/৩৫৩- ৩৫৪) আবূ নুয়াইম সূত্রে আবু হুদবাহ হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি বানোয়াট। আবু হুদবার নাম হচ্ছে ইবরাহীম ইবনু হুদবাহ। তিনি মাতরূক, আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে তিনি বাতিল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ হাদীস (১০২০) নম্বরে আলোচিত হয়েছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1551)


` من تمنى الغلاء على أمتي ليلة أحبط الله عمله أربعين سنة `.
موضوع.
رواه ابن عدي (161 / 1) وعنه الخطيب (4 / 60) وعن غيره عن سليمان بن عيسى السجزي: حدثنا عبد العزيز بن أبي رواد عن نافع عن ابن عمر مرفوعا وقال ابن عدي: ` سليمان بن عيسى يضع الحديث، وأحاديثه كلها أو عامتها موضوعة `. وقال الخطيب: ` منكر جدا، لا أعلم رواه غير سليمان بن عيسى السجزي، وكان كذابا يضع الحديث `. قلت: ومن طريق الخطيب أورده ابن الجوزي في ` الموضوعات `، وأقره السيوطي في ` اللآليء ` (2 / 145) وابن عراق في ` تنزيه الشريعة ` (2 / 188) .
قلت: وقد سرقه من السجزي بعض الكذابين من أمثاله، فقد رواه ابن عساكر (16 / 122 / 2) عن مأمون بن أحمد السلمي: أخبرنا أحمد بن عبد الله الشيباني أخبرنا بشر بن السري عن عبد العزيز بن أبي رواد عن نافع عن ابن عمر مرفوعا.
قلت: وهذا موضوع أيضا، أورده ابن عساكر في ترجمة مأمون هذا، وقال فيه: ` أحد المشهورين بوضع الحديث، وذكره بعض أهل العلم فقال: هروي كذاب `. قلت: وشيخه أحمد بن عبد الله الشيباني أكذب منه، وهو الجويباري. قال ابن حبان: ` دجال من الدجاجلة، روى عن الأئمة ألوف حديث ما حدثوا بشيء منها `. وقال الذهبي: ` هو ممن يضرب المثل بكذبه `.
قلت: ومع هذا كله فقد سود السيوطي بهذا الحديث ` الجامع الصغير `، فأورده فيه من رواية ابن عساكر هذه مع أنه قال في ` اللآلي ` (2 / 145) بعد
أن ساقه: ` مأمون وشيخه كذابان `. فليت شعري كيف أورده مع علمه بحال الراويين؟! فهل نسي ذلك أم ماذا؟ والعجب من المناوي أنه انتقد السيوطي في عدوله في ` الجامع ` عن عزوالحديث إلى ابن عدي. وفي سنده كذاب واحد! إلى عزوه إلى ابن عساكر وفيه الكذابان. ثم نسي المناوي ذلك، فقال في ` التيسير ` في سند ابن عساكر: ` وفيه وضاع `!!
‌‌




১৫৫১। যে ব্যক্তি আমার উম্মাতের উপর একরাত মূল্যবৃদ্ধি কামনা করবে, আল্লাহ্ তা'য়ালা তার চল্লিশ বছরের আমলকে বাতিল করে দিবেন।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদীসটিকে ইবনু আদী (১/১৬১) ও তার ও অন্যদের থেকে খাতীব বাগদাদী (৪/৬০) সুলাইমান ইবনু ঈসা সাজয়ী হতে, তিনি আব্দুল আযীয ইবনু আবী রাওয়াদ হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





ইবনু আদী বলেনঃ সুলাইমান ইবনু ঈসা জালকারী। তার সব হাদীস অথবা অধিকাংশ হাদীস বানোয়াট।





খাতীব বলেনঃ তিনি খুবই মুনকার। সুলাইমান ইবনু ঈসা সাজয়ী ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমি জানি না। তিনি মিথ্যুক ছিলেন, হাদীস জাল করতেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ খাতীবের সূত্রে ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে “আলমওযুয়াত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর সুয়ূতী “আললাআলী” গ্রন্থে (২/১৪৫) এবং ইবনু ইরাক `তানযীহুশ শারীয়াহ` গ্রন্থে (২/১৮৮) তাকে সমর্থন করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটিকে সাজয়ী হতে তার ন্যায় কোন মিথ্যুক চুরি করেছেন। এটিকে ইবনু আসাকির (১৬/১২২/২) মামূন ইবনু আহমাদ সুলামী হতে, তিনি আহমাদ ইবনু আব্দিল্লাহ শাইবানী হতে, তিনি বিশর ইবনু সারিউ হতে, তিনি আব্দুল আযীয ইবনু আবী রাওয়াদ হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি ইবনু উমার হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এটিও বানোয়াট। এটিকে ইবনু আসাকির এ মামূনের জীবনীতে উল্লেখ করে তার সম্পর্কে বলেছেনঃ হাদীস জাল করার ব্যাপারে তিনি এক প্রসিদ্ধ ব্যক্তি। কোন কোন বিদ্বান তাকে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি ... মিথ্যুক।





আমি (আলবানী) বলছি তার শাইখ আহমাদ ইবনু আবদিল্লাহ শাইবানী তার থেকেও বেশী বড় মিথ্যুক। তিনি হচ্ছেন জুওয়াইবারী। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি দাজ্জালদের এক দাজ্জাল। তিনি ইমামদের উদ্ধৃতিতে হাজার হাজার হাদীস বর্ণনা করেছেন অথচ তারা সেগুলোর কিছুই বর্ণনা করেননি। হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে মিথ্যুকের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এতো কিছু সত্ত্বেও সুয়ূতী হাদীসটিকে “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করে গ্রন্থটিকে কালিমালিপ্ত করেছেন। তিনি তাতে ইবনু আসাকিরের বর্ণনার উল্লেখ করেছেন অথচ তিনি নিজে “আললাআলী” গ্রন্থে (২/১৪৫) হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ মামূন ও তার শাইখ তারা উভয়েই মিথ্যুক।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1552)


` أترعوا الطسوس، وخالفوا المجوس `.
ضعيف جدا.
رواه الخطيب في ` التاريخ ` (5 / 9) وعنه ابن عساكر (2 / 85 / 2) والديلمي في ` مسند الفردوس ` (1 / 1 / 37 - مختصره) والبيهقي في ` الشعب ` (2 / 182 / 2) عن أبي صالح خلف بن محمد بن إسماعيل … المعروف بالخيام: حدثنا أبو هارون
سهل بن شاذويه الحافظ حدثنا جلوان بن سمرة البابني حدثنا عصام أبو مقاتل النحوي عن عيسى بن موسى - غنجار - عن عبد العزيز بن أبي رواد عن نافع عن ابن عمر مرفوعا. وقال البيهقي: ` إسناده ضعيف `. قلت
: بل إسناده ساقط، خلف هذا متهم، قال الحاكم: ` سقط حديثه برواية حديث: (نهى عن الوقاع قبل الملاعبة) `.
قلت: وقد مضى هذا الحديث برقم (426) .
وما بين خلف وغنجار لم أجد من ترجمهم، وقال المناوي تعليقا على قول السيوطي: ` رواه البيهقي والخطيب والديلمي عن ابن عمر `: ` وضعفه البيهقي وقال: في إسناده من يجهل، وقال ابن الجوزي: حديث لا يصح، وأكثر رواته ضعفاء ومجاهيل، لكنه ورد بمعناه في خبر جيد رواه القضاعي في ` مسند الشهاب ` عن أبي هريرة بلفظ: ` اجمعوا وضوءكم جمع الله شملكم `. وقال الحافظ العراقي: إسناده لا بأس به. وروى البيهقي عن أبي هريرة مرفوعا: لا ترفعوا الطسوس حتى تطف، اجمعوا وضوءكم جمع الله شملكم `. قلت: وفي تجويد إسناده نظر لابد من بيانه، تحقيقا للأمر، فانظر الحديث الآتي:
‌‌




১৫৫২। তোমরা হাত ধোয়ার পাত্রগুলোকে পূর্ণরূপে ভর্তি করে ফেলো (অর্থাৎ ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত তাতেই পানি একত্রিত করতে থাক) আর অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো (কারণ তারা ভর্তি না হওয়ার আগেই ফেলে দেয়)।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে খাতীব বাগদাদী “আততারীখ” গ্রন্থে (৫/৯), তার থেকে ইবনু আসাকির (২/৮৫/২), দায়লামী “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে (১/১/৩৭) ও বাইহাকী “আশশুয়াব” গ্রন্থে (২/১৮২/২) আবূ সালেহ খালাফ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (তিনি খাইয়্যাম নামে পরিচিত) হতে, তিনি আবূ হারূন সাহল ইবনু শাযবিয়্যাহ হাফিয হতে, তিনি জালওয়ান ইবনু সামুরাহ হতে, তিনি ইসাম আবূ মুকাতিল নাহবী হতে, তিনি ঈসা ইবনু মূসা গানজার হতে, তিনি আব্দুল আযীয ইবনু আবী রাওয়াদ হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





বাইহাকী বলেনঃ সনদটি দুর্বল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ বরং সনদটি নিক্ষিপ্ত। বর্ণনাকারী খালাফ মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। হাকিম বলেনঃ “তার হাদীস নিক্ষিপ্ত হয়েছে এ হাদীস বর্ণনা করার দ্বারা “তিনি (স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে) খেলাধূলা করার পূর্বেই মিলিত হতে নিষেধ করেছেন।”





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীসটি (৪২৬) নম্বরে আলোচিত হয়েছে। আর খালাফ ও গুনজারের মাঝের বর্ণনাকারীদের জীবনী কে আলোচনা করেছেন পাচ্ছি না। মানবী সুয়ুতীর কথার উপর টীকা লিখে বলেছেনঃ হাদীসটিকে বাইহাকী, খাতীব ও দায়লামী ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে বাইহাকী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন আর বলেছেনঃ এর সনদে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যাকে চেনা যায় না। ইবনুল জাওযী বলেনঃ হাদীসটি সহীহ নয়। এর অধিকাংশ বর্ণনাকারীগণ দুর্বল ও অপরিচিত ... ।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1553)


الصحيحة) .
‌‌




১৫৫৩। তোমরা হাত ধোয়ার পাত্র উঠায়ো না যে পর্যন্ত ভর্তি না হয়ে যায়। আর তোমরা তোমাদের অযুর পানি জমা কর তাহলে আল্লাহ্ তা'য়ালা তোমাদের ঐক্যকে অটুট রাখবেন।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (১/৫৯) ও বাইহাকী “আশশুয়াব” গ্রন্থে (২/১৮২/২) আবূ ‘আলী হিশাম ইবনু আলী সাইরাফী সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু সুলাইমান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব আবূ আমর সবাহী হতে, তিনি ঈসা ইবনু শু'য়াইব হতে, তিনি আম্মার ইবনু আবু আম্মার হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ....।





বাইহাকী এটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ এর সনদের কোন কোন বর্ণনাকারী অপরিচিত। অনুরূপ ভাবার্থের হাদীস অন্য দুর্বল সনদেও বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ পূর্বের আলোচিত হাদীসটি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। ঈসা ইবনু শু'য়াইব সম্পর্কে আমি প্রথমে ধারণা করেছিলাম যে, তিনি বাণূ দীল মাদানীর দাস ইবনু সাওবান। কারণ তিনি এ স্তরেরই। কিন্তু তারা তার শাইখদের মধ্যে আম্মারকে উল্লেখ করেননি এবং তার থেকে বর্ণনাকারী হিসেবে আবু আমর সবাহীকেও উল্লেখ করেননি। ইবনু আবী হাতিম (৩/২/২৬৯) এ সবাহীর জীবনী আলোচনা করে তার শাইখদের মধ্যে এ ইবনু শুয়াইবকে উল্লেখ করেননি।





এ কারণে আমি এ দিকে যাচ্ছি যে, তিনি অন্য কেউ। অতঃপর বিষয়টি আমার কাছে আরো স্পষ্ট হয়ে যায় যখন দেখলাম যে সামায়ানী সবাহী সম্পর্কে বলেছেনঃ তিনি ঈসা ইবনু শুয়াইব কাসমালী ও আসেম ইবনু সুলাইমান কূফী হতে বর্ণনা করেছেন। আর তার থেকে কাসেম ইবনু নাসর মাখযুমী ও হিশাম ইবনু আলী সাইরাফী বর্ণনা করেছেন। তিনি এর চেয়ে বেশী কিছু বলেননি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ সামায়ানীর কথায় ... কাসমালী উল্লেখ হওয়ায় তা আমাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছে যে, তিনি দীলী নন। অতএব তিনি অন্য ঈসা, অপরিচিত, যাকে চেনা যায় না। (আল্লাহই বেশী জানেন)।





যদি ধরেই নেয়া হয় যে, তিনি দীলী তাহলেও তিনি কাসমালীর মতই অপরিচিত। হাফিয যাহাবী তার (দীলী) সম্পর্কে বলেনঃ তাকে চেনা যায় না। অতঃপর তিনি তার একটি হাদীস উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি বানোয়াট।





আর তার নিকট পৌছতে এ সূত্রে বর্ণনাকারী আবূ ‘আলী সাইরাফী রয়েছেন, তার জীবনী পাচ্ছি না।





উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে, যিনি সনদটিকে ভালো বলেছেন তিনি ভুল করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1554)


` العدة عطية `.
ضعيف.

أخرجه ابن أبي الدنيا في ` الصمت ` (3 / 21 / 2) والخرائطي في ` مكارم الأخلاق ` (ص 34) من طريقين عن يونس عن الحسن: ` أن امرأة سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئا، فلم تجده عنده، فقالت: عدني، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: … ` فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف لإرساله، لاسيما وهو من مراسيل الحسن البصري، وقد قال فيها بعض الأئمة: إنها كالريح! وقد روي مسندا من حديث ابن مسعود، وقباث بن أشيم الليثي.
1 - حديث ابن مسعود، يرويه بقية عن أبي إسحاق الفزاري عن الأعمش عن شقيق عن ابن مسعود قال: ` إذا وعد أحدكم حبيبه فلينجز له، فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:.... ` فذكره.

أخرجه القضاعي في ` مسند الشهاب ` (2 / 1 - 2) وكذا أبو نعيم في ` الحلية ` (8 / 259) وقال: ` غريب من حديث الأعمش، تفرد به الفزاري، ولا أعلم رواه عنه إلا بقية `. قلت: وهو مدلس وقد عنعنه. ومن هذا الوجه ذكره ابن أبي حاتم في ` العلل ` وقال (2 / 437) : ` سمعت أبي يقول: هذا حديث باطل `.
2 - حديث قباث، يرويه أصبغ بن عبد العزيز بن مروان الحمصي: حدثنا أبي عن جدي عن أبان بن سليمان عن أبيه عنه مرفوعا به. أخرجه الطبراني في ` الأوسط ` (1 / 152 / 1 - مجمع البحرين) وقال: ` لا يروى عن
قباث إلا بهذا الإسناد، تفرد به أصبغ `. قلت: قال الهيثمي في ` مجمع الزوائد ` (4 / 166 - 167) :
` قال أبو حاتم: مجهول `. قلت: وأزيد على الهيثمي فأقول: وأبان بن سليمان مجهول الحال، كناه ابن أبي حاتم بأبي عمير الصوري، ولم يزد في بيان حاله على قوله: ` وكان من عباد الله الصالحين، يتكلم بالحكمة `. وأما أبو هـ سليمان، فلم أجد له ترجمة.
‌‌




১৫৫৪। ওয়াদা হচ্ছে হাদিয়্যাহ্।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ইবনু আবিদ দুনিয়া “আসসমত” গ্রন্থে (৩/২১/২) ও খারাইতী “মাকারিমুল আখলাক” গ্রন্থে (পৃঃ ৩৪) দুটি সূত্রে ইউনুস হতে, তিনি হাসান বাসরী হতে বর্ণনা করেছেন যে, এক মহিলা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু চাইলে সে মহিলা তা তার নিকটে পেল না। তখন সে মহিলা বললঃ আপনি আমাকে ওয়াদা দিন। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ মুরসাল হওয়ার কারণে এ সনদটি দুর্বল। তা ছাড়া এটি হাসান বাসরী কর্তৃক বর্ণনাকৃত মুরসাল, যার মুরসালগুলো সম্পর্কে কোন কোন ইমাম বলেছেনঃ সেগুলো বাতাসের মতই।





আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং কুবাস ইবনু উসাইম লাইসী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতে মুসনাদ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।





১। ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস। এটিকে বাকিয়্যাহ্ বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ফাযারী হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি শাকীক হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে। তিনি বলেনঃ “যখন তোমাদের কেউ তার বন্ধুর সাথে ওয়াদা করবে তখন সে যেন তা পূর্ণ করে। কারণ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ...।





এটিকে কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (২/১-২) এবং অনুরূপভাবে আবু নুয়াইম `আলহিলইয়াহ` গ্রন্থে (৮/২৫৯) বর্ণনা করেছেন। আবু নুয়াইম বলেনঃ এটি আ'মাশের হাদীস হতে গারীব। ফাযারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আর তার থেকে হাদীসটিকে বাকিয়্যাহ ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে জানি না।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি (বাকিয়্যাহ্) মুদাল্লিস আন্আন করে বর্ণনা করেছেন। এ সূত্রেই ইবনু আবী হাতিম “আল ইলাল” গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করে (২/৪৩৭) বলেছেনঃ আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছিঃ এ হাদীসটি বাতিল।





২। কুবাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস। এটিকে আসবাগ ইবনু আব্দুল আযীয ইবনু মারওয়ান হিমসী বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে, তিনি আবান ইবনু সুলাইমান হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি কুবাস হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে ত্ববারানী “আলমুজামুল আওসাত” গ্রন্থে (১/১৫২/১) বর্ণনা করে বলেছেনঃ কুবাস হতে একমাত্র এ সনদেই বর্ণনা করা হয়ে থাকে। আসবাগ এটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাইসামী “মাজমাউয যাওয়াইদ” গ্রন্থে (৪/১৬৬-১৬৭) বলেনঃ আবু হাতিম বলেনঃ তিনি (আসবাগ) মাজহুল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আবান ইবনু সুলাইমানের অবস্থা অজ্ঞাত (মাজহুলুল হাল)। ইবনু আবী হাতিম উল্লেখ করেছেন যে, তার কুনিয়াত হচ্ছে আবূ উমায়ের সূরী। তিনি তার অবস্থা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশী বলেননিঃ তিনি আল্লাহর নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত। হিকমাত সম্পর্কে আলোচনা করতেন।





আর তার পিতা সুলাইমানের জীবনী কে আলোচনা করেছেন পাচ্ছি না।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1555)


` الأمانة غنى `.
ضعيف.
رواه القضاعي في ` مسند الشهاب ` (3 / 1) عن يزيد الرقاشي عن أنس بن مالك مرفوعا. قلت: وهذا سند ضعيف، يزيد - وهو ابن أبان الرقاشي - ضعيف، كما قال الحافظ في ` التقريب `.
‌‌




১৫৫৫। আমানাত রক্ষা করা হচ্ছে ধনী (অমুখাপেক্ষী) হওয়ার কারণ।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (৩/১) ইয়াযীদ বুকাশী হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। ইয়াযীদ হচ্ছেন ইবনু আবান রুকাশী। তিনি দুর্বল। যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার “আততাকরীব” গ্রন্থে বলেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1556)


` إذا نزل أحدكم منزلا، فقال فيه، فلا يرتحل حتى يصلي الظهر، وإذا أراد أحدكم أن يسافر يوم الجمعة، وزالت الشمس، فلا يسافر حتى يجمع، إلا أن يكون له عذر، وإذا هجم على أحدكم شهر رمضان فلا يمجد مثله إلا أن يكون له عذر `.
موضوع.

أخرجه ابن عدي في ` الكامل ` (161 / 1) من طريق سليمان بن عيسى: حدثنا ابن جريج عن عطاء عن أبي هريرة: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. قلت: وهو موضوع، آفته سليمان هذا، قال فيه ابن عدي وغيره: ` يضع الحديث `. كما تقدم مرارا، أقربها في الحديث (1550) .
والحديث أورد السيوطي في ` جامعيه ` طرفه الأول منه بلفظ: ` ركعتين `! بدل ` الظهر `. ودون ما بعده، وتابعه على ذلك المناوي في ` الفيض ` وبيض لإسناده! وأما في ` التيسير ` فقال:
` وهو ضعيف `. والله أعلم. (تنبيه) : قوله: (تمجد) كذا بإهمال أوله وقع في مخطوطة ` الكامل ` في الظاهرية، ولم أفهمها، وفي المطبوعة (يمجد) بإعجام الأول منه بالمثناة، والمعنى غير ظاهر.
‌‌




১৫৫৬। যখন তোমাদের কেউ কোন স্থানে অবতরণ করবে তখন তার ব্যাপারে তিনি বলেনঃ সে যেন যোহরের সালাত আদায় না করে চলা শুরু না করে। তোমাদের কেউ যখন জুমটয়ার দিনে সফর করার ইচ্ছা করবে এমতাবস্থায় যে সূর্য ঢলে পড়েছে, সে যেন কোন ওযর না থাকলে জুমায়ার সালাত আদায় না করে সফর না করে। তোমাদের কারো নিকট যদি রমযান মাস এসে যায়, তাহলে সে যেন তার ন্যায় মাসকে (সওম পালন করা থেকে বিরত থেকে) অসম্মান না করে তবে যদি কোন কারণ থাকে তাহলে ভিন্ন কথা।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদীসটিকে ইবনু আদী “আলকামেল” গ্রন্থে (১/১৬১) সুলাইমান ইবনু ঈসা সূত্রে ইবনু জুরায়েয হতে, তিনি আতা হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি বানোয়াট। এর সসম্যা হচ্ছে বর্ণনাকারী সুলাইমান। তার সম্পর্কে ইবনু আদী প্রমুখ বলেনঃ তিনি হাদীস জালকারী। যেমনটি তার সম্পর্কে বারবার আলোচনা করা হয়েছে। সর্বাপেক্ষা নিকটে তার সম্পর্কে ১৫৫০ নম্বর হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে।





হাদীসটিকে সুয়ূতী তার দু'জামে গ্রন্থে প্রথম অংশটি উল্লেখ করেছেন যোহরের স্থলে দু'রাক'য়াত শব্দ উল্লেখ করে। পরের অংশগুলো উল্লেখ করেননি।





মানবী “আলফায়েয” গ্রন্থে তার অনুসরণ করেছেন। তবে তিনি “আততায়সীর” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1557)


` السماح رباح، والعسر شؤم `.
منكر.
رواه القضاعي في ` مسند الشهاب ` (3 / 2) عن عبد الله بن إبراهيم: أخبرنا عبد الرحمن بن زيد عن أبيه عن ابن عمر مرفوعا. قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، بل موضوع، فإن عبد الله بن إبراهيم - وهو الغفاري - قال الحافظ: ` متروك، ونسبه ابن حبان إلى الوضع `. وقال الحاكم: ` روى عن جماعة من الضعفاء أحاديث موضوعة، لا يرويها غيره `.
وعبد الرحمن بن زيد - وهو ابن أسلم - ضعيف جدا، وقد اتهم، وهو صاحب حديث توسل آدم عليه السلام بالنبي صلى الله عليه وسلم، وقد تقدم (25) . والحديث رواه الديلمي في ` مسند الفردوس ` من حديث أبي هريرة، كما في ` الجامع `، وكذا ابن نصر وابن لال. وعنهما أورده الديلمي، قال المناوي: ` فلوعزاه المصنف للأصل لكان أولى، وفيه حجاج بن فرافصة، أورده الذهبي في ` الضعفاء `، وقال: قال أبو زرعة: ليس بالقوي. اهـ. ونسبه ابن حبان إلى الوضع، وقال ابن عدي: عامة ما يرويه لا يتابع
عليه، وقال الدارقطني: حديث منكر `.
‌‌




১৫৫৭। ক্ষমা প্রদর্শন করা হচ্ছে লাভজনক আর কঠোরতা করা হচ্ছে অমঙ্গলজনক।





হাদীসটি মুনকার।





হাদীসটিকে কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (৩/২) আব্দুল্লাহ ইবনু ইবরাহীম হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু যায়েদ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। বরং বানোয়াট। কারণ আব্দুল্লাহ ইবনু ইবরাহীম হচ্ছেন গিফারী আর হাফিয ইবনু হাজার তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি মাতরূক। ইবনু হিব্বান তাকে জাল করার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। আর হাকিম বলেনঃ তিনি একদল দুর্বল বর্ণনাকারী থেকে কতিপয় বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করেছেন যেগুলোকে অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।





আর আব্দুর রহমান ইবনু যায়েদ হচ্ছেন ইবনু আসলাম। তিনি খুবই দুর্বল। তাকে মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষীও করা হয়েছে। ইনিই আদম (আঃ) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বারা অসীলা ধরা মর্মে বর্ণিত হাদীসের বর্ণনাকারী। সেটি (২৫) নম্বরে আলোচিত হয়েছে।





আলোচ্য হাদীসটিকে দায়লামী “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতে বর্ণনা করেছেন যেমনটি “আলজামে” গ্রন্থে এসেছে। অনুরূপভাবে ইবনু নাসর ও ইবনু লালও বর্ণনা করেছেন। এদের দু'জন থেকেই দায়লামী বর্ণনা করেছেন।





মানবী বলেনঃ লেখক যদি মূল গ্রন্থের সাথে হাদীসটিকে উদ্ধৃত করতেন তাহলে তাই ভালো ছিল। এর সনদে হাজ্জাজ ইবনু ফারাফিসাহ রয়েছেন। তাকে হাফিয যাহাবী `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ আবূ যুর’য়াহ বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। তাকে ইবনু হিব্বান জাল করার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। ইবনু আদী বলেনঃ তার বর্ণনাকৃত অধিকাংশ হাদীসের মুতাবায়াত করা হয়নি। দারাকুতনী বলেনঃ হাদীসটি মুনকার।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1558)


` القرآن غنى لا فقر بعده، ولا غنى دونه `.
ضعيف.
رواه ابن نصر في ` قيام الليل ` (72) وأبو يعلى (2 / 738) والطبراني (1 / 65 / 2) وابن عساكر (15 / 256 / 2 و16 / 232 / 1) عن شريك عن
الأعمش عن يزيد بن أبان عن الحسن عن أنس مرفوعا. ومن طريق الطبراني رواه ابن عبد الهادي في ` هداية الإنسان ` (135 / 2) .
ورواه محمد بن محمد بن مخلد البزاز في ` حديث ابن السماك ` (1 / 178 / 1) عن شريك عن الأعمش عن يزيد الرقاشي عن بعض أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم مرفوعا به، إلا أنه قال
: ` والأمانة غنى `، بدل ` ولا غنى دونه `.
ورواه القضاعي في ` مسند الشهاب ` (18 / 1) من طريق أبي الحسن علي بن عمر البغدادي قال: حدث الأعمش عن يزيد الرقاشي عن أنس مرفوعا وقال: ` قال الدارقطني: ورواه أبو معاوية عن الأعمش عن يزيد الرقاشي عن الحسن مرسلا، وهو أشبه بالصواب `.
قلت: وهو ضعيف مرسلا وموصولا، لأن مداره على الرقاشي، وهو ضعيف، ومدار الموصول عليه من رواية شريك، وهو ابن عبد الله القاضي، ضعيف.
‌‌




১৫৫৮। কুরআনের মাঝেই রয়েছে স্বয়ংসম্পূর্ণতা (অর্থাৎ কুরআনের আনুগত্যের মধ্যেই রয়েছে মুমিনের হৃদয়ের স্বয়ংসম্পূর্ণতা), যার পরে দরিদ্রতা নেই এবং কুরআন ব্যতীত অন্য কিছুতেই স্বয়ংসম্পূর্ণতা নেই।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ইবনু নাসর “কিয়ামুল লাইল” গ্রন্থে (৭২), আবূ ইয়ালা (২/৭৩৮), ত্ববারানী (১/৬৫/২) ও ইবনু আসাকির (১৫/২৫৬/২, ১৬/২৩২/১) শারীক হতে, তিনি আ'মাশ হতে, তিনি ইয়াযীদ ইবনু আবান হতে, তিনি হাসান হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ত্ববারানীর সূত্রেই ইবনু আব্দুল হাদী “হিদায়াতুল ইনসান” গ্রন্থে (২/১৩৫) বর্ণনা করেছেন।





আর মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মাখলাদ বাযযায “হাদীসু ইবনুস সাম্মাক” গ্রন্থে (১/১৭৮/১) শারীক হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি ইয়াযীদ রুকাশী হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক সাহাবী হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি “অলা গিনা দূনাহু” এর স্থলে “আলআমানাতু গিনান” বলেছেন।





এটিকে কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (১/১৮) আবুল হাসান আলী ইবনু উমার বাগদাদী সূত্রে আমাশ হতে, তিনি ইয়াযীদ রুকাশী হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কাযাঈ বলেনঃ দারাকুতনী বলেনঃ আর আবু মুয়াবিয়্যাহ আমাশ হতে, তিনি ইয়াযীদ রুকাশী হতে, তিনি হাসান (বাসরী) হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর এটিই সঠিকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি মুরসাল এবং মওসূল উভয় দিক থেকেই দুর্বল। কারণ এর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বর্ণনাকার রুকাশী আর তিনি দুর্বল ...।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1559)


` القرآن هو الدواء `.
ضعيف جدا.
رواه القضاعي في ` مسند الشهاب ` (3 / 2) عن الحسن بن رشيق قال: أخبرنا أبو عبد الله الحسين بن علي الحسيني قال: أخبرنا أحمد بن يحيى الأودي قال: أخبرنا محمد بن عتبة قال: أخبرنا علي بن ثابت الدهان عن معاذ عن الحارث عن علي مرفوعا. قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، من أجل الحارث هذا - وهو الأعور - فإنه متهم. وفيه أيضا من لم أعرفه كالأودي. والحسن بن رشيق قال الذهبي في ` الميزان `: ` لينه الحافظ عبد الغني بن سعيد قليلا، ووثقه جماعة، وأنكر عليه الدارقطني أنه كان يصلح في أصله ويغير `.
‌‌




১৫৫৯। কুরআন হচ্ছে ঔষধ।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (৩/২) হাসান ইবনু রাশীক হতে, তিনি আবূ আবদিল্লাহ হুসাইন ইবনু আলী হাসানী হতে, তিনি আহমাদ ইবনু ইয়াহইয়া আওদী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু উতবাহ হতে, তিনি আলী ইবনু সাবেত আদদাহান হতে, তিনি মুয়ায হতে, তিনি হারেস হতে, তিনি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হারেসের কারণে এ সনদটি খুবই দুর্বল। কারণ তিনি হচ্ছেন আ'ওয়ার। কারণ তিনি মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। এর মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যাকে আমি চিনি না যেমন আওদী।





হাসান ইবনু রাশীক সম্পর্কে হাফিয যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তাকে হাফেয আব্দুল গানী ইবনু সাঈদ সামান্য দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর একদল তাকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন। দারাকুতনী তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এ কারণে যে, তিনি তার আসলের মধ্যে ঠিক ঠাক করতেন এবং পরিবর্তন সাধন করতেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1560)


` التدبير نصف العيش والتودد نصف العقل والهم نصف الهرم وقلة العيال أحد اليسارين `.
ضعيف.
رواه القضاعي في ` مسند الشهاب ` (4 / 1) عن إسحاق بن إبراهيم الشامي قال: أخبرنا علي بن حرب قال: أخبرنا موسى بن داود الهاشمي قال: أخبرنا ابن لهيعة عن محمد بن عبد الرحمن بن نوفل عن عامر بن عبد الله بن الزبير
عن أبيه عن علي عليه السلام مرفوعا.
قلت: وهذا إسناد ضعيف، ابن لهيعة - واسمه عبد الله - ضعيف. وإسحاق بن إبراهيم الشامي، لم أعرفه، ويحتمل أن يكون واحدا من هؤلاء:
1 - إسحاق بن إبراهيم بن العلاء الحمصي المعروف بابن زبريق.
2 - إسحاق بن إبراهيم بن يزيد أبو النضر الدمشقي مولى عمر بن عبد العزيز. والأول ضعيف، والآخر حسن الحديث، وقد جزم المناوي بأنه هو، ولم يظهر لي وجهه. والله أعلم. والحديث رواه أيضا الديلمي في ` مسند الفردوس ` من حديث أنس بن مالك، قال المناوي: ` قال العراقي: فيه خلاد بن عيسى، جهله العقيلي، ووثقه ابن معين `. قلت: هو عند الديلمي (2 / 1 / 50) وكذا الخطيب بعضه (12 / 11) من طريق أبي الحسن يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم المخرمي: حدثنا علي بن عيسى كاتب عكرمة القاضي حدثنا خلاد بن عيسى عن ثابت عن أنس مرفوعا به. وفيه علة أخرى، وهي ضعف يعقوب هذا، فقد ترجمه الخطيب (14 / 290) وروى عن الدارقطني أنه ضعيف.
وعن ابن المنادي: ` كتبنا عنه في حياة جدي، ثم ظهر لنا من انبساطه في تصريح الكذب ما أوجب
التحذير عنه، وذلك بعد معاتبة وتوقيف متواتر، فرمينا كل ما كتبنا عنه، نحن وعدة من أهل الحديث `.
وعلي بن عيسى، كأنه مجهول، فإن الخطيب أورده في ` التاريخ ` (12 / 11) من أجل هذا الحديث، ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا.
‌‌‌‌




১৫৬০। খরচ করার পরিণতির দিকে দৃষ্টি দেয়া জীবন ধারণের অর্ধেক, (মানুষকে) ভালোবাসা বিবেকের অর্ধেক, চিন্তামগ্নতা বৃদ্ধ হওয়ার অর্ধেক, আর পরিবারের সদস্য কম হওয়া হচ্ছে দুই স্বয়ংসম্পূর্ণতার একটি।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (১/৪) ইসহাক ইবনু ইবরাহীম শামী হতে, তিনি আলী ইবনু হারব হতে, তিনি মূসা ইবনু দাউদ হাশেমী হতে, তিনি ইবনু লাহী'য়াহ হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু নাওফাল হতে, তিনি আমের ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। ইবনু লাহী'য়ার নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ, আর তিনি দুর্বল। আর ইসহাক ইবনু ইবরাহীম শামীকে আমি (আলবানী) চিনি না। হতে পারে তিনি নিম্নের যে কোন একজনঃ





১। ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম ইবনুল আলী হিমসী, ইবনু যাবরীক নামে পরিচিত।





২। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ইবনু ইয়ায়ীদ আবুন নাযর দেমাস্কী, তিনি উমার ইবনু আব্দুল আযীযের দাস।





প্রথমজন হচ্ছেন দুর্বল। আর দ্বিতীয়জন হচ্ছেন হাদীসের ক্ষেত্রে ভালো। মানবী দৃঢ়তার সাথে বলেছেনঃ তিনি হচ্ছেন দ্বিতীয়জন। কিন্তু এর কোন কারণ আমার নিকট স্পষ্ট হয়নি। (আল্লাহই বেশী জানেন)।





হাদীসটিকে দাইলামীও “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতে বর্ণনা করেছেন। আর মানবী বলেছেনঃ ইরাকী বলেনঃ এর সনদে খাল্লাদ ইবনু ঈসা রয়েছেন, তাকে ওকাইলী মাজহুল (অপরিচিত) আখ্যা দিয়েছেন। আর ইবনু মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি দাইলামীর বর্ণনাতে (২/১/৫০) রয়েছেন। অনুরূপভাবে খাতীবের বর্ণনাতেও (১২/১১) রয়েছেন আবুল হাসান ইয়াকুব ইবনু ইসহাক ইবনু ইবরাহীম মাখরামী সূত্রে কাযী ইকরিমার কাতেব আলী ইবনু ঈসা হতে, তিনি খাল্লাদ ইবনু ঈসা হতে, তিনি সাবেত হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এর মধ্যে আরেকটি সমস্যা রয়েছে আর তা হচ্ছে ইয়াকুবের দুর্বল হওয়া। খাতীব বাগদাদী (১৪/২৯০) তার জীবনী আলোচনা করে দারাকুতনী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দুর্বল। আর তিনি ইবনুল মুনাদী হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ আমার দাদার জীবদ্দশায় আমরা তার থেকে লিখেছি। অতঃপর আমাদের নিকট তিনি যে স্পষ্টভাবে মিথ্যা বলতেন তা প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার ফলে তার থেকে বেঁচে থাকাটা অপরিহার্য হয়ে যায়। তার ব্যাপারে বহু সূত্রে অবগত হওয়ার পর আমরা এবং বহু সংখ্যক হাদীসের পণ্ডিত (মুহাদ্দিস) তার থেকে যা কিছু লিখেছিলাম তার সবই নিক্ষেপ করি (প্রত্যাখ্যান করি)।





আর বর্ণনাকারী আলী ইবনু ঈসা সম্ভবত মাজহুল। কারণ খাতীব বাগদাদী “আততারীখ” গ্রন্থে (১২/১১) তাকে এ হাদীসের কারণেই উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই উল্লেখ করেননি।