হাদীস বিএন


সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ





সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (561)


` إن الله لم يأذن لمترنم بالقرآن `.
موضوع.
رواه الطبراني في ` الأوسط ` من حديث جابر مرفوعا. قال الهيثمي في ` مجمع الزوائد ` (7 / 170) : ` وفيه سليمان بن داود الشاذكوني، وهو كذاب `. قلت: وروايته مثل هذا الحديث مما يدل على كذبه، فإنه حديث
باطل معارض للحديث الصحيح: ` ما أذن الله لشيء ما أذن لنبي [حسن الصوت] وفي لفظ: حسن الترنم يتغنى بالقرآن [يجهر به] `. رواه الشيخان والطحاوي وغيرهما كما في كتابي صفة النبي صلى الله عليه وسلم (ص 130 الطبعة السابعة) .
‌‌




৫৬১। আল্লাহ তা'আলা মধুর সূরে কুরআন তেলাওয়াতের অনুমতি দেননি।





হাদীছটি জাল।





তাবারানী `আল-মুজামুল আওসাত` গ্রন্থে জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীছ হতে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। হায়ছামী `মাজমাউয যাওয়ায়েদ` (৭/১৭০) গ্রন্থে বলেনঃ তার সনদে সুলায়মান ইবনু দাউদ শাযকূনী রয়েছেন, তিনি মিথ্যুক।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এরূপ হাদীছ বর্ণনা করাই তার মিথ্যুক হওয়ার প্রমাণ বহন করছে। কারণ হাদীছটি বাতিল নিম্নোক্ত সহীহ হাদীছের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়াইঃ





ما أذن الله لشيء ما أذن لنبي [حسن الصوت] وفي لفظ: حسن الترنم يتغنى بالقرآن [يجهر به]





‘আল্লাহ তা'আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুন্দর আওয়াযে (অন্য ভাষায়) সুন্দর করে মধুর সূরে (প্রকাশ করে) যেভাবে কুরআন পাঠের অনুমতি দিয়েছেন এরূপ অনুমতি কোন বস্তুর ক্ষেত্রে দেননি।





এটি বুখারী, মুসলিম, তাহাবী ও অন্য বিদ্বানগণ বর্ণনা করেছেন। আমার কিতাব `সিফাতু সালাতুন্নবী` (পৃঃ ১৩০ সপ্তম সংস্করণ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (562)


` كان يمكن جبهته وأنفه من الأرض، ثم يقوم كأنه السهم لا يعتمد على يديه `.
موضوع.
قال الهيثمي (2 / 135) : ` رواه الطبراني في الكبير عن معاذ بن جبل وفيه الخصيب بن جحدر، وهو كذاب `.
قلت: وهذا الحديث مما يدل على كذبه، روى البخاري في ` صحيحه ` (1 / 241) عنه صلى الله عليه وسلم: ` أنه كان إذا رفع رأسه من السجدة الثانية جلس واعتمد على الأرض ثم قام `.
فهذا خلاف ما روى هذا الكذاب. وهذه الجلسة هي المعروفة بجلسة الاستراحة وهي سنة، وقد رواها بضعة عشر صحابيا عند أبي داود وغيره بسند صحيح، فلا التفات إلى من أنكر استحبابها وزعم أنه صلى الله عليه وسلم إنما فعلها لحاجة أو شيخوخة! وأما تمكين الأنف والجبهة من الأرض، فثابت في غير ما حديث صحيح من فعله صلى الله عليه وسلم وقوله، ولذلك أوردته في ` صفة النبي صلى الله عليه وسلم ` مخرجا، فراجعه إن شئت (ص 149) .
‌‌




৫৬২। তিনি তার কপাল এবং নাককে মাটিতে স্থিরভাবে রাখতেন। অতঃপর তিনি তাঁর দু হাতের উপর ভর না দিয়ে এমনভাবে দাড়াতেন যেন তিনি প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আছেন।





হাদীছটি জাল।





হায়ছামী (২/১৩৫) বলেনঃ হাদীছটি তাবরানী “আল-মুজামুল কাবীর” গ্রন্থে মুয়ায ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। যার সনদে খুসায়েব ইবনু জাহদার রয়েছেন। তিনি মিথ্যুক।





আমি (আলবানী) বলছিঃ বুখারী শরীফে (১/২৪১) বর্ণিত সহীহ হাদীছ এটির মিথ্যা হওয়ার প্রমাণ বহন করছেঃ





নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দ্বিতীয় সিজদাহ হতে তার মাথা উঠাতেন তখন বসতেন এবং যমীনের উপর ভর করে উঠতেন।'





এই বসাকে জালসায়ে ইস্তিরাহাহ বলা হয় যা ১৩ হতে ১৯ জন সাহাবাহ হতে বর্ণিত হয়েছে। তবে নাক ও কপাল স্থিরভাবে যমীনে রাখার বিষয়টি সহীহ হাদীছে সাব্যস্ত হয়েছে। সেটিকে আমি সিফাতু সালাতিন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (563)


` ادفنوا موتاكم وسط قوم صالحين، فإن الميت يتأذى بجار السوء، كما يتأذى الحي بجار السوء `.
موضوع.
رواه القاضي أبو عبد الله الفلاكي في ` الفوائد ` (91 / 1) وأبو نعيم في ` الحلية ` (6 / 354) من طريق سليمان بن عيسى: حدثنا مالك بن أنس عن عمه أبي سهيل عن أبيه عن أبي هريرة مرفوعا. وقال أبو نعيم:
` غريب من حديث مالك لم نكتبه إلا من هذا الوجه `.
قلت: وسليمان هذا كذاب، كما تقدم غير مرة، قال المناوي: ` ومن ثم أورد الجوزقاني الحديث في ` الموضوعات `، وكذا ابن الجوزي وتعقبه المؤلف، وغاية ما أتى به أن له شاهد حاله كحاله! `.
‌‌




৫৬৩। তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের নেককার সম্প্রদায়ের মাঝখানে দাফন কর। কারণ মৃত ব্যক্তি খারাপ প্রতিবেশীর কারণে কষ্ট পায় যেরূপ জীবিত ব্যক্তি মন্দ প্রতিবেশীর কারণে কষ্ট পায়।





হাদীছটি জাল।





এটি আল-কাযী আবু আদিল্লাহ আল-ফালাকী “আল-ফাওয়ায়েদ” (১/৯১) এবং আবু নোয়াইম `আল-হিলইয়্যাহ` (৬/৩৫৪) গ্রন্থে সুলায়মান ইবনু ঈসা সূত্রে মালেক ইবনু আনাস হতে তিনি তার চাচা আবূ সুহায়েল হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। আবু নোয়াইম বলেছেনঃ মালেকের হাদীছ হতে এটি গরীব, আমরা এটিকে একমাত্র এ সূত্রেই লিখেছি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এই সুলায়মান মিথ্যুক। যেমনটি একাধিকবার তার সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। মানবী বলেনঃ এ জন্যই জুযকানী হাদীছটিকে “আল-মাওযূ’আত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে ইবনুল জাওয়ীও উল্লেখ করেছেন। কিন্তু লেখক (সুয়ূতী) তার সমালোচনা করে সর্বোচ্চ যা নিয়ে এসেছেন তা হচ্ছে এ হাদীছটির মতই একটি শাহেদ নিয়ে এসেছেন!











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (564)


` الفقر أزين على المؤمن وأحسن من العذار على خد الفرس `.
ضعيف.
وله طرق:
الأول: عن عبد الرحمن بن زياد بن أنعم عن سعد بن مسعود الكندي مرفوعا. أخرجه ابن المبارك في ` الزهد ` (181 / 2 من الكواكب 575 ورقم 568 - ط) والحربي في ` الغريب ` (5 / 52 / 1) وأبو القاسم
الهمداني في ` الفوائد ` (1 / 202 / 2) . وهذا إسناد ضعيف جدا، من أجل ابن أنعم هذا، وقد مضى القول فيه مرارا، واتهمه ابن حبان فقال (2 / 53) : ` كان يروي الموضوعات عن الثقات، ويأتي عن الأثبات بما ليس من أحاديثهم، وكان يدلس عن محمد بن سعيد بن أبي قيس المصلوب `. والحديث أورده السيوطي في ` الذيل ` (رقم 803 بترقيمي) من رواية ابن عدي وحكى قوله فيه إنه حديث منكر، فتعقبه ابن عراق في ` تنزيه الشريعة ` (359 / 1) بأن هذا لا يقتضي أن يكون موضوعا.
ثم ذكر له الشاهد الآتي عن شداد، وآخر تقدم بلفظ: ` تحفة المؤمن الفقر `. ومن عجائب السيوطي وتناقضه أنه أورد الحديث في ` الجامع الصغير ` أيضا! من طريق الطبراني، مع أنه في ` الذيل ` حكم بوضعه! ثم إن سعد بن مسعود الكندي مختلف في صحبته كما في ` الإصابة ` فراجعه إن شئت.
الثاني: عن أحمد بن عمار: حدثنا مالك بن أنس عن نافع عن ابن عمر مرفوعا.
رواه القاضي الفلاكي (90 / 2) . وهذا ضعيف جدا أيضا، ابن عمار هذا هو الدمشقي أخوهشام بن عمار، قال الدارقطني: ` متروك `. وساق له في ` الميزان ` حديثا ثم قال: ` هذا منكر `.
الثالث: عن شداد بن أنس. رواه الطبراني بسند ضعيف كما في ` المغني ` للحافظ العراقي (4 / 169) ثم قال: ` والمعروف أنه من كلام عبد الرحمن بن زياد بن أنعم، رواه ابن عدي في الكامل هكذا `.
‌‌




৫৬৪। দরিদ্রতা হচ্ছে মুমিনের সর্বাপেক্ষা বড় অলংকার এবং ঘোড়ার গালের উপরের বর্ধিত লাগামের চেয়েও বেশী উত্তম।





হাদীছটি দুর্বল।





হাদীছটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছেঃ





একঃ আব্দুর রহমান ইবনু যিয়াদ ইবনে আন’আম হতে তিনি সা’আদ ইবনু মাসউদ আল-কিন্দী হতে মারফু' হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এটিকে ইবনুল মুবারাক 'আয-যুহুদ' (২/১৮১) গ্রন্থে, আল-হারবী `আল-গারীব` (৫/৫২/১) গ্রন্থে এবং আবুল কাসেম আল-হামাদানী “আল-ফাওয়ায়েদ” (১/২০২/২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।





এ সনদটি নিতান্তই দুর্বল আব্দুর রহমান ইবনু যিয়াদ ইবনে আন'আমের কারণে। তার সম্পর্কে পূর্বেও আলোচনা করা হয়েছে। ইবনু হিব্বান তার সম্পর্কে (২/৫৩) বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে জাল হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরশীলদের থেকে যেগুলো তাদের হাদীছ নয় সেগুলো নিয়ে এসেছেন। তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ ইবনে আবী কায়েস হতে তাদলীস করতেন।





হাদীছটি সুয়ূতী `আয-যাইল` (নং ৮০৩) গ্রন্থে ইবনু আদীর বর্ণনা হতে উল্লেখ করে তার উদ্ধৃতিতে বলেছেন যে, হাদীছটি মুনকার। আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, সুয়ূতী তাবারানীর সূত্রে `আল-জামেউস সাগীর` লাগিয়েছেন।





দুইঃ হাদীছটি আহমাদ ইবনু আম্মার মালেক ইবনু আনাস হতে তিনি নাফে' হতে তিনি ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এটি কাযী আল-ফালাকী (২/৯০) বর্ণনা করেছেন। এটিও নিতান্তই দুর্বল। ইবনু আম্মার হচ্ছেন দেমাস্কী হিশাম ইবনু আম্মারের ভাই। তার সম্পর্কে দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মাতরূক। যাহাবী তার একটি হাদীছ “আল-মীযান” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি মুনকার।





তিনঃ সাদ্দাদ ইবনু আউস হতে বর্ণিত হয়েছে। এটি তাবারানী দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। যেমনটি হাফিয ইরাকীর “আল-মুগনী” (৪/১৬৯) গ্রন্থে এসেছে। অতঃপর বলেছেনঃ এটি আব্দুর রহমান ইবনু যিয়াদ ইবনে আন’আমের কথা হিসাবে পরিচিত। ইবনু আদী “আল-কামিল` গ্রন্থে এরূপই বর্ণনা করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (565)


` من اتخذ مغفرا ليجاهد به في سبيل الله غفر الله له، ومن اتخذ بيضة بيض الله وجهه يوم القيامة، ومن اتخذ درعا كانت له سترا من النار يوم القيامة `.
منكرا جدا.

أخرجه الخطيب (7 / 128) من طريق بشران بن عبد الملك البغدادي: حدثنا أبو عبد الرحمن دهثم بن جناح: حدثنا عبيد الله بن ضرار عن أبيه عن الحسن البصري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكره، وقال: `منكر جدا مع إرساله، والحمل فيه على من بين بشران والحسن، فإنهم ملطيون، وقد حدثني محمد بن علي الصوري قال: سمعت عبد الغني بن سعيد المصري الحافظ يقول: ليس في الملطيين ثقة `.
وأقره الحافظ في ترجمة دهثم من اللسان `. وعبيد
الله بن ضرار قال الذهبي: ` لا يحتج به ولا كرامة `. وأبوه ضرار وهو ابن
عمرو الملطي، قال الذهبي في ` المغني `: ` متروك الحديث `.
‌‌




৫৬৫। যে ব্যক্তি লোহর টুপি পরে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। যে ব্যক্তি (জিহাদের উদ্দেশ্যে) টুপি পরিধান করবে আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল করে দিবেন। যে ব্যক্তি যুদ্ধের পোষাক পরিধান করবে তা তার জন্য কিয়ামতের দিন জাহান্নাম হতে ঢাল স্বরূপ হয়ে যাবে।





হাদীছটি নিতান্তই মুনকার।





এটিকে আল খাতীব `তারীখু বাগদাদ` (৭/১২৮) গ্রন্থে বিশরান ইবনু আব্দিল মালেক বাগদাদী সূত্রে ... হাসান বাসরী হতে বর্ণনা করেছেন।





আল-খাতীব বলেনঃ মুরসাল হওয়া সত্ত্বেও হাদীছটি নিতান্তই মুনকার। বিশরান এবং হাসানের মধ্যবর্তী সকল বর্ণনাকারী মালতী সম্প্রদায়ভুক্ত। হাফিয আব্দুল গনী ইবনু সাঈদ আল-মিসরী বলেনঃ তারা কেউ নির্ভরযোগ্য নন। হাফিয ইবনু হাজার “আল-লিসান` গ্রন্থে বর্ণনাকারী দাহশামের জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে তার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন।





অপর বর্ণনাকারী ওবাইদুল্লাহ ইবনু যিরার সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। আর তার পিতা যিরার হচ্ছে ইবনু আমর আল-মালতী, তার সম্পর্কে যাহাবী `আল-মুগনী` গ্রন্থে বলেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীছ।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (566)


` إن لي حرفتين اثنتين، فمن أحبهما فقد أحبني، ومن أبغضهما فقد أبغضني: الفقر والجهاد `.
لا أصل له.
قال الحافظ العراقي في ` تخريج الإحياء ` (4 / 168) : ` لم أجد له أصلا `. قلت: وهو منكر عندي، فقد صح عنه صلى الله عليه وسلم أنه تعوذ من الفقر، فكيف يعقل أن يحض صلى الله عليه وسلم أمته على حب ما تعوذ منه؟! .
‌‌




৫৬৬। আমার দুটি পেশা আছে। যে ব্যক্তি সে দুটোকে ভালবাসবে অবশ্যই সে আমাকে ভালবাসল। আর যে ব্যক্তি সে দুটােকে ঘৃণা করবে সে আমাকে ঘৃণা করল। সে দুটো হচ্ছে দরিদ্রতা ও জিহাদ।





হাদীছটির কোন ভিত্তি নেই।





হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” (৪/১৬৮) গ্রন্থে বলেনঃ আমি তার কোন ভিত্তি পাচ্ছি না।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আমার নিকট হাদীছটি মুনকার। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দরিদ্রতা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। অতএব কিভাবে বোধগম্য হয় যে, তিনি তার উম্মাতকে সেই বস্তুকে ভালবাসার জন্য উৎসাহিত করবেন যা থেকে তিনি আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন?











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (567)


` خير هذه الأمة فقراؤها، وأسرعها تضجعا في الجنة ضعفاؤها `.
لا أصل له.
وقال الحافظ العراقي أيضا (4 / 168) ` لم أجد له أصلا `.
‌‌




৫৬৭। এ উম্মাতের সর্বোত্তম ব্যক্তিরা হচ্ছে দরিদ্ররা। আর জান্নাতে স্থান করে নেয়ার ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা ধাবমান হচ্ছে উম্মাতের দুর্বলরা।





হাদীছটির কোন ভিত্তি নেই।





হাফিয ইরাকী (৪/১৬৮) বলেনঃ আমি এর কোন ভিত্তি পাচ্ছি না।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (568)


` من رفع يديه في الصلاة فلا صلاة له `.
موضوع.
أورده ابن طاهر في ` تذكرة الموضوعات ` (ص 87) وقال: ` فيه مأمون بن أحمد الهروي، دجال يضع الحديث `. وقال الذهبي فيه:
` أتى بطامات وفضائح، وضع على الثقات أحاديث هذا منها `.
وفي ` اللسان `: ` وقال أبو نعيم: ` خبيث وضاع، يأتي عن الثقات بالموضوعات `.
قلت: ويظهر لي من الأحاديث التي افتراها أنه حنفي المذهب، متعصب هالك، فإن الأحاديث التي أوردها في ترجمته كلها تدور على الانتصار للإمام أبي حنيفة، والطعن في الإمام الشافعي، فمنها هذا الحديث فهو طعن صريح في المذهب الشافعي الذي يقول بمشروعية رفع اليدين عند الركوع والرفع منه وهو الحق الذي لا ريب فيه كما يأتي، وانتصار مكشوف لمذهب الحنفية القائل بكراهة ذلك، فلم يكتف هذا الخبيث بما عليه مذهبه من القول بالكراهة حتى افترى هذا الحديث، ليشيع بين الناس أن الرفع مبطل للصلاة، ولعله أراد بذلك أن يؤيد رواية مكحول عن أبي حنيفة أنه قال:
من رفع يديه في الصلاة فسدت صلاته ` وهذه الرواية اغتر بها أمير كاتب الاتقاني فبنى عليها رسالة ألفها لبيان بطلان الصلاة بالرفع!
وكذا اغتر بها من سلك مسلكه فحكم بعدم جواز اقتداء الحنفي بالشافعي لأنهم يرفعون أيديهم! مع أن هذه الرواية عن أبي حنيفة باطلة كما حققه العلامة أبو الحسنات اللكنوي في ` الفوائد البهية، في تراجم الحنفية ` (ص 116، 216، 217) .
وهذا الحديث أورده الشيخ القاريء في ` موضوعاته ` وقال (ص 81) : ` هذا الحديث وضعه محمد بن عكاشة الكرماني قبحه الله `. ثم نقل (ص 129) عن ابن القيم أنه قال: ` إنه موضوع `.
قلت: وهذا يخالف ما تقدم أن الواضع له الهروي، فإن ثبت هذا فلعل أحدهما سرقه من الآخر! فتأمل ما يفعل عدم الاعتناء بالسنة، وترك التثبت في الرواية عنه صلى الله عليه وسلم وعن علماء الأمة. (فائدة) الرفع عند الركوع والرفع منه، ورد فيه أحاديث كثيرة جدا عنه صلى الله عليه وسلم، بل هي متواترة عند العلماء بل ثبت الرفع عنه صلى الله عليه وسلم مع كل تكبيرة في أحاديث كثيرة ولم يصح الترك عنه صلى الله عليه وسلم إلا من طريق ابن مسعود رضي الله عنه، فلا ينبغي العمل به لأنه ناف، وقد تقرر عند الحنفية وغيرهم: أن المثبت مقدم على النافي، هذا إذا كان المثبت واحدا فكيف إذا كانوا جماعة كما في هذه المسألة؟ فيلزمهم عملا بهذه القاعدة مع انتفاء المعارض أن يأخذوا بالرفع، وأن لا يتعصبوا للمذهب بعد قيام الحجة، ولكن المؤسف أنه لم يأخذ به منهم إلا أفراد من المتقدمين والمتأخرين حتى صار الترك شعارا لهم! . هذا ومن موضوعات الهروي المذكور آنفا:
‌‌




৫৬৮। যে ব্যক্তি সালাতে তার দু'হাত উঠাবে তার সালাতই হবে না।





হাদীছটি জাল।





হাদীছটি ইবনু তাহের `তাযকিরাতুল মাওষু'আত` (পৃঃ ৮৭) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এর সনদে মামূন ইবনু আহমাদ আল-হারাবী রয়েছেন তিনি দাজ্জাল হাদীছ জালকারী। তার সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেনঃ তিনি মহা বিপদ ও অপদস্থমূলক বস্তু নিয়ে এসেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্যদের বরাতে হাদীছ জাল করেছেন, এটি সেগুলোর একটি।





“আল-লিসান” গ্রন্থে এসেছেঃ আবু নোয়াইম বলেনঃ তিনি জালকারী খাবীছ, তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে জাল হাদীছ বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আমার নিকট স্পষ্ট হচ্ছে যে, এরূপ হাদীছ যিনি জাল করেছেন তিনি হানাফী মাযহাবের অনুসারী, ধ্বংসপ্রাপ্ত গোড়া। কারণ তার জীবনীতে যে সব হাদীছ উল্লেখ করা হয়েছে সবগুলোই ইমাম আবু হানীফা (রহিঃ) এর সমর্থনে আর ইমাম শাফে'ঈর কুৎসা রটনায়। সেগুলোর মধ্যে এ হাদীছটি একটি। কারণ আলোচ্য হাদীছটি শাফে'ঈ মাযহাবের সুস্পষ্ট বিরোধী, যিনি বলেন যে, রুকূ’তে যাবার সময় এবং রুক হতে উঠার সময় রাফউল ইয়াদায়িন করা শরীয়ত সম্মত। নিঃসন্দেহে তার এ কথাই সঠিক। অথচ এই খাবীছ শুধু রাফউল ইয়াদায়িনকে (মাযহাবের সিদ্ধান্তানুযায়ী) মাকরুহ বলেই ক্ষান্ত থাকেননি তিনি এর সমর্থনে হাদীছ জাল করে বুঝাতে চেয়েছেন যে, রাফউল ইয়াদায়িন সালাতকে বাতিল করে দেয়। সম্ভবত তিনি মাকহুলের বর্ণনায় আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত ভাষ্যকে শক্তি যোগাতে চেয়েছেন। ইমাম আবৃ হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ من رفع يديه في الصلاة فسدت صلاته 'যে ব্যক্তি সালাতে তার দু'হাত উঠাবে তার সালাত নষ্ট হয়ে যাবে।' এ বর্ণনার কারণে আমীর কাতেবুল ইতকানী অজ্ঞাতভাবে তার উপর ভিত্তি করে রাফউল ইয়াদায়িন দ্বারা সালাত বাতিল হওয়ার বিবরণ দিয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন। অনুরূপ ভাবে যে ব্যক্তি তার পথে চলেছে, সে এ বর্ণনার দ্বারা অতর্কিত আক্রমণ করে কোন হানাফী ব্যক্তির শাফে'ঈর পিছনে সালাতে ইকতিদা করা না জায়েয হওয়ার ফয়সালা দিয়েছে। কারণ তারা তাদের সালাতে রাফউল ইয়াদায়িন করে! যদিও ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) হতে এ বর্ণনাটি বাতিল, যেমনটি আল্লামা আবুল হাসানাত লাখনুভী `আল-ফাওয়ায়েদুল বাহিয়াহ ফী তারাযেমিল হানাফীয়াহ` (১১৬, ২১৬, ২১৭) গ্রন্থে তাহকীক করেছেন।





এ হাদীছটি শাইখ আল-কারী তার `মাওযুআত` (পৃষ্ঠা নং ৮১) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এ হাদীছটি মুহাম্মাদ ওকাশাহ আল-কারমানী জাল করেছেন (আল্লাহ তার খারাপ পরিণতি করুন)। অতঃপর তিনি ইবনুল কাইয়্যিম হতে নকল করেছেন, তিনি বলেনঃ হাদীছটি জাল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ শাইখ আল-কারীর বক্তব্য হারাবী যে জালকারী তার বিপরীতে হচ্ছে। যদি কিরমানীও জালকারী হয় তাহলে বলতে হবে যে, সম্ভবত তাদের একজন অপরজন হতে চুরি করেছেন।





ভেবে দেখুন! কিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সাব্যস্ত হওয়া সুন্নাতকে ছেড়ে দিয়ে জাল হাদীছকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।





ফায়েদাঃ রুকূ’তে যাবার সময় এবং রুকূ’ হতে উঠার সময় হাত উঠানোর ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনেক সহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। বরং আলেমদের নিকট সেগুলো মুতাওয়াতিরের পর্যায়ভুক্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সূত্র ব্যতীত অন্য কোন মাধ্যমে তা ছেড়ে দেয়ার ব্যপারে সহীহ সুন্নাহ সাব্যস্ত হয়নি। কিন্তু ইবনু মাসউদের হাদীছের উপর আমল করা উচিত হবে না। কারণ তা না-সূচক। কেননা মাযহাবী থিওরীতে বলা হয়েছে, হানাফী ও অন্যদের নিকট যখন হ্যাঁ-সূচক এবং না-সূচকের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দিবে তখন হ্যাঁ-সূচক অগ্রাধিকার পাবে না-সূচকের উপর। এরূপ নীতি বলবৎ হয় যদি হ্যাঁ-সূচকের পক্ষে একজনও হয় তবুও। অতএব যেখানে বিরাট এক জামা'আত হ্যাঁ-সূচকের পক্ষে সেখানে অন্য কোন প্রশ্নই আসতে পারে না। যেমনটি এ মাসআলার ক্ষেত্রে। তাদের উচিত ছিল দলীল সাব্যস্ত হওয়ার পরে আর গোড়ামি না করা। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, তাদের পূর্ববতী এবং পরবর্তী কতিপয় ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা (রাফউল ইয়াদায়িনকে) গ্রহণ করেননি। ফলে ছেড়ে দেয়াটাই তাদের আলামতে পরিণত হয়েছে!





উক্ত হারাবীর আরো একটি জাল হাদীছঃ (দেখুন পরেরটি)











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (569)


` من قرأ خلف الإمام ملئ فوه نارا `.
موضوع.
أورده ابن طاهر في ` التذكرة ` (ص 93) وقال: ` فيه مأمون بن أحمد الهروي دجال يروي الموضوعات `.
قلت: وقد سبقت ترجمته في الحديث الذي قبله. والحديث رواه ابن حبان في ترجمته من ` الضعفاء `، وعده الذهبي من طاماته! وقد اغتر بالحديث بعض الحنفية فاحتج به على تحريم القراءة وراء الإمام مطلقا! قال أبو الحسنات اللكنوي في ` التعليق الممجد على موطأ محمد ` (ص 99) : ` ذكره صاحب ` النهاية ` وغيره مرفوعا بلفظ ` ففي فيه جمرة ` ولا أصل له `. وقال قبيل ذلك: ` لم يرد في حديث مرفوع صحيح النهي عن قراءة
الفاتحة خلف الإمام وكل ما ذكروه مرفوعا فيه، إما لا أصل له وإما لا يصح `.
ثم ذكر الحديث بلفظيه مثالا على ذلك. هذا وقد اختلف العلماء قديما وحديثا في القراءة وراء الإمام على أقوال ثلاثة:
1 - وجوب القراءة في الجهرية والسرية.
2 - وجوب السكوت فيهما.
3 - القراءة في السرية دون الجهرية.
وهذا الأخير أعدل الأقوال وأقربها إلى الصواب وبه تجتمع جميع الأدلة بحيث لا يرد شيء منها وهو مذهب مالك وأحمد، وهو الذي رجحه بعض الحنفية، منهم أبو الحسنات اللكنوي في كتابه المذكور آنفا، فليرجع إليه من شاء التحقيق.
هذا ومن موضوعات هذا الدجال في الطعن على الإمام الشافعي في شخصه:
‌‌‌‌




৫৬৯। যে ব্যক্তি ইমামের পিছনে কিছু (সূরা ফাতিহা) পাঠ করবে তার মুখকে আগুন দিয়ে ভরে দেয়া হবে।





হাদীছটি জাল।





এটি ইবনু তাহের `তাযকিরাতুল মাওযুআত` (পৃঃ ৯৩) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটির সনদে মামূন ইবনু আহমাদ আল-হারাবী রয়েছেন। তিনি দাজ্জাল, জাল হাদীছ বর্ণনাকারী।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তার সম্পর্কে পূর্বের হাদীছে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচ্য হাদীছটি ইবনু হিব্বান `আয-যোয়াফা` গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। যাহাবী এটিকে তার বিপদগুলোর একটি হিসাবে গণ্য করেছেন। কোন কোন হানাফী ব্যক্তি অতর্কিতে আক্রমণ করে উক্ত জাল হাদীছ দলীল হিসাবে গ্রহণ পূর্বক ইমামের পিছনে কিরাআত পাঠ করা হারাম হওয়ার দলীল দিয়ে থাকেন। আবুল হাসানাত লাখনুভী `আত-তালীকিল মুমযিদ আল মুওয়াত্তা মুহাম্মাদ` (পৃঃ ৯৯) গ্রন্থে বলেনঃ “আন-নেহায়া” গ্রন্থের লেখকসহ অন্যরা হাদীছটি উল্লেখ করেছেন মারফূ হিসাবে নিম্নের ভাষায়ঃففي فيه جمرة `তার মুখে প্রজ্জ্বলিত আগুনের টুকরা দিয়ে দেয়া হবে।` এটির কোন ভিত্তি নেই।





তার কিছু পূর্বে বলেছেনঃ ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ করা নিষেধ মৰ্মে কোন সহীহ হাদীছ মারফু' হিসাবে বর্ণিত হয়নি। এ বিষয়ে যা কিছু মারফূ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে তা হয় ভিত্তিহীন, অথবা সহীহ নয়। ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্ববতী এবং পরবর্তী আলেমগণ তিনভাগে বিভক্ত হয়েছেন।





১। যেহরী এবং সিররী উভয় ক্ষেত্রে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব।





২। উভয়টিতে চুপ থাকতে হবে।





৩। যেহরী রাকাআতগুলো বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সিররগুলোতে সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে।





আমি (আলবানীর নিকট) শেষোক্তটি সঠিকের বেশী নিকটবর্তী। এটিই ইমাম মালেক ও আহমাদের মাযহাব। এ মতকেই কোন কোন হানাফী মাযহাবের আলেম প্রাধান্য দিয়েছেন। যেমন আবুল হাসানাত লাখনুভী তার আলোচিত গ্রন্থটিতে।





উক্ত দাজ্জাল হারাবীর ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে আরো একটি হাদীছঃ (দেখুন পরেরটি)











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (570)


` يكون في أمتي رجل يقال له محمد بن إدريس أضر على أمتي من إبليس، ويكون في أمتي رجل يقال له أبو حنيفة هو سراج أمتي `.
موضوع.
أورده ابن الجوزي في ` الموضوعات ` (1 / 457) من طريق مأمون بن أحمد السلمي: حدثنا أحمد بن عبد الله الجويباري: أنبأنا عبد الله بن معدان الأزدي عن أنس مرفوعا وقال: ` موضوع، وضعه مأمون أو الجويباري، وذكر الحاكم في ` المدخل ` أن مأمونا قيل له: ألا ترى إلى الشافعي ومن تبعه؟ فقال: حدثنا أحمد إلى آخره، فبان بهذا أنه الواضع له `، قلت: وزاد في ` اللسان `: ` ثم قال الحاكم: ومثل هذه الأحاديث يشهد من رزقه الله أدنى معرفة بأنها موضوعة على رسول الله صلى الله عليه وسلم `.
قلت: وللحديث طرق أخرى، لا يفرح بها إلا الهلكى في التعصب لأبي حنيفة ولو برواية الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإن الطرق المشار إليها مدارها على بعض الكذابين والمجهولين. فمن
الغريب جدا أن يميل العلامة العيني إلى تقوية الحديث بها، وأن ينتصر له الشيخ الكوثري، ولا عجب منه في ذلك،
فإنه مشهور بإغراقه في التعصب للإمام رحمه الله، ولوعلى حساب الطعن في الأئمة الآخرين، وإنما العجب من العيني، فإنه غير مشهور بذلك، وقد رد عليهما، وتكلم على الطرق المشار إليها بما لا تراه مجموعا في كتاب العلامة
المحقق المعلمي اليماني في كتابه القيم ` التنكيل بما في تأنيب الكوثري من الأباطيل ` (ج 1 / 20، 446 - 449 - بتحقيقي) .
‌‌




৫৭০। আমার উম্মাতের মধ্যে এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যাকে বলা হবে মুহাম্মাদ ইবনু ইদরীস। সে আমার উম্মাতের জন্য ইবলীসের চেয়েও বেশী ক্ষতিকর হবে। আর আমার উম্মাতের মধ্যে এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব হবে যাকে বলা হবে আবু হানীফাহ। সে হবে আমার উম্মাতের চেরাগ।





হাদীছটি জাল।





এটিকে ইবনুল জাওয়ী `আল-মাওয়ূ'আত` (১/৪৫৭) গ্রন্থে মামূন ইবনু আহমাদ আস-সুলামী সূত্রে আহমাদ ইবনু আদিল্লাহ আল-যুওয়াইবার হতে ... বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটিকে মামূন ইবনু আহমাদ আস-সুলামী এবং আহমাদ ইবনু আবদিল্লাহ আল-যুওয়াইবার জাল করেছেন। ইমাম হাকিম `আল-মাদখাল` গ্রন্থে বলেনঃ মামূনকে বলা হয়েছিল, ইমাম শাফে'ঈ ও তার অনুসারীর সম্পর্কে আপনার মতামত কী? তিনি উত্তরে উক্ত হাদীছ বর্ণনা করেন। অতএব তিনিই এ হাদীছটি জালকারী।





আমি (আলবানী) বলছিঃ “আল-লিসান” গ্রন্থে কিছু বেশী এসেছেঃ অতঃপর হাকিম বলেছেনঃ এধরনের হাদীছ যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর জাল করা হয়েছে তার সাক্ষ্য প্রদান করে সেই ব্যক্তিও যাকে আল্লাহ তা'আলা সামান্যতম জ্ঞান দান করেছেন। হাদীছটির আরো সূত্র এসেছে, যা দ্বারা সে ব্যক্তিই খুশি হতে পারে যে ইমাম আবু হানীফাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর গোঁড়ামি করতে গিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপণিত হয়েছে। কারণ সে সূত্রগুলো ঘোরপাক করছে কতিপয় মিথ্যুক এবং মাজহুল বর্ণনাকারীর মধ্যে। অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে আল্লামা আইনী সেসব সূত্রগুলো দ্বারা হাদীছটিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়েছেন। আর শাইখ কাওছারী তার থেকে সহযোগিতা নিয়েছেন। কাওছারীর ব্যাপারে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। কারণ তিনি (কাওছারী) ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর গোড়ামি করতে প্রসিদ্ধ ব্যক্তি।





আশ্চর্য হতে হচ্ছে আল্লামা আইনীর ব্যাপারে। কারণ তিনি এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ নন। আল্লামা মুহাক্কিক আল-মুয়াল্লেমী আল-ইয়ামানী `আত-তানকীল বিমা ফী তানীবিল কাওছারী মিনাল আবাতীল` (১/২০, ৪৪৬-৪৪৯) গ্রন্থে তাদের উভয়ের প্রতিবাদ করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (571)


` كم من حوراء عيناء ما كان مهرها إلا قبضة من حنطة، أو مثلها من تمر `.
موضوع.
رواه العقيلي في ` الضعفاء ` (ص 13) وعنه ابن الجوزي في ` الموضوعات ` (3 / 253) وابن حبان في ` الضعفاء ` (1 / 84) عن أبان بن المحبر عن نافع عن ابن عمر مرفوعا. ذكراه في ترجمة أبان هذا وقال العقيلي:
` شامي منكر الحديث `.
وقال ابن حبان: ` روى عن الثقات ما ليس من أحاديثهم، حتى لا يشك المتبحر في هذه الصناعة أنه كان يعملها، لا يجوز الاحتجاج به ولا الرواية عنه `. وقال في حديثه هذا: ` باطل `.
ونقل العسقلاني في ` اللسان ` عن العقيلي أنه قال: ` لا يتابعه عليه إلا من هو مثله أو دونه `.
وهذه الجملة ليست في نسختنا من ` الضعفاء ` للعقيلي والله أعلم. وقال ابن أبي حاتم في ` العلل ` (1 / 22) : قال أبي: هذا حديث باطل، وأبان هذا مجهول ضعيف الحديث `. وأورده ابن الجوزي في ` الموضوعات ` (3 / 253) فأصاب، قال المناوي: ` وأقره عليه المؤلف - يعني السيوطي - في ` مختصرها ` فلم يتعقبه `. انظر ` اللآلي ` للسيوطي (2 / 452) .
‌‌




৫৭১। কতিপয় সাদা চোখ কালো মনি বিশিষ্ট সাদা রঙের নারী রয়েছে যাদের মহর মাত্র এক মুষ্টি পরিমাণ গমের বা তার সমপরিমাণ খেজুরের।





হাদীছটি জাল।





এটি উকায়লী `আয-যোয়াফা` (পৃঃ ১৩) গ্রন্থে, তার থেকে ইবনুল জাওয়ী “আল-মাওযূ’আত” (৩/২৫৩) গ্রন্থে এবং ইবনু হিব্বান `আয-যোয়াফা` (১/৮৪) গ্রন্থে আবান ইবনুল মুহাব্বার হতে তিনি নাফে' হতে তিনি ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। উকায়লী বলেছেনঃ আবান হচ্ছেন শামী, তিনি মুনকারূল হাদীছ। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যেগুলো তাদের হাদীছ নয়। এমনকি এ বিষয়ে জ্ঞাত ব্যক্তির কোন সন্দেহ থাকার কথা নয় যে, তা তারই কৃতকর্ম। তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা এবং তার থেকে বর্ণনা করা জায়েয নয়। তিনি তার এ হাদীছটি সম্পর্কে বলেনঃ হাদীছটি বাতিল।





হাফিয ইবনু হাজার “আল-লিসান” গ্রন্থে উকায়লী হতে নকল করেছেন, তিনি বলেনঃ তার মত বা তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তি ছাড়া তার মুতাবায়াত করেনি। ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” (১/২২) গ্রন্থে বলেন, আমার পিতা বলেনঃ এ হাদীছটি বাতিল। আবান মাজহুল, হাদীছের ক্ষেত্রে দুর্বল। মানবী বলেনঃ ইবনুল জাওয়ী যে হাদীছটিকে “আল-মাওযূ’আত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, সুয়ূতী তা সমর্থন করেছেন। সুয়ূতীর “আল-লাআলী” (২/৪৫২) গ্রন্থে দেখুন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (572)


577) ، وفي الباب عن أبي ذر عند أحمد (5/154) ،
ورجاله ثقات.
‌‌




৫৭২। তিনটি অভ্যাস যার মধ্যে থাকবে তাকে আল্লাহ তা'আলা সেই দিন আরশের ছায়াতলে ছায়া দান করবেন যেদিন তার (আরশের) ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না। কষ্টের সময় উযু করা, অন্ধকারে মসজিদে যাওয়া এবং ক্ষুধার্তকে আহার করালো।





হাদীছটি জাল।





এটি ইমাম সুয়ূতী “আল-জামেউস সাগীর” গ্রন্থে আবুশ শাইখ কর্তৃক “আস-সাওয়াব` এবং আসবাহানী কর্তৃক `আত-তারগীব` গ্রন্থের বর্ণনা থেকে জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। মানবী তার কোন সমালোচনা করেননি। সম্ভবত তিনি তার সনদটি সম্পর্কে অবহিত হননি। হাদীছটির প্রথম অংশটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন যার বিবরণ ৯২ নং হাদীছে গেছে।





মানবী ইমাম তিরমিয়ীর হাদীছটি বর্ণনা করার সময় সুয়ুতীর সমালোচনা করে তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি জাল করার দোষে দোষী ।





অবস্থাদৃষ্টে দেখা যাচ্ছে যে, দুটি হাদীছ আসলে একটিই হাদীছ। অতএব দুটির হুকুম একই হওয়া বাঞ্ছনীয়। আর তা হচ্ছে হাদীছটি জাল। যদি আলোচ্য হাদীছটির সূত্র ভিন্ন হত তাহলে অবশ্যই তিনি (মানবী) তা বর্ণনা করতেন। কারণ এরূপ বর্ণনা করাই হচ্ছে মুহাদিছগণের নীতি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (573)


575) ، ورددت فيه على قول الشيخ أحمد شاكر رحمه الله:
`ومجموع ما قيل فيه: أنه لا أصل له `! فراجعه إن شئت.
وكيف يصح أن يقال هذا والبزار يقول عقب الحديث:
` لو صح؛ كان له معنى`. وقال الطحاوي - بعد أن ساقه بإسناده مساق
المسلمات - :
`فذكرت هذا الحديث لأحمد بن أبي عمران؟ فقال لي: معناه معنى
صحيح، فـ: (البله) المرادون فيه: هم البله عن محارم الله تعالى؛ لا من سواهم
ممن به نقص العقل بالبله `؟!
‌‌




৫৭৩। যে ব্যক্তি পরহেযগার আলেমের পিছনে সালাত আদায় করলো, সে যেন নবীর পিছনে সালাত আদায় করলো।





হাদীছটির কোন ভিত্তি নেই।





এ কারণেই হাফিয যায়লাঈ “নাসবুর রায়া” (২/২৬) গ্রন্থে তার ভাষায় ইঙ্গিত করেছেন যে, এটি গারীব। যেসব হাদীছের কোন ভিত্তি নেই সেই সব হাদীছের ব্যাপারে এরূপ বলাটা তার অভ্যাস। এটি হেফয করে নিন। কারণ এটি তার ব্যক্তিগত থিওরী।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (574)


نسختي) : ` مجهول يترك حديثه `. وللحديث طريق
أخرى عند الخطيب (4 / 171) وأبي بكر الكلاباذي في ` مفتاح المعاني ` (120 /2) عن الربيع بن بدر: حدثنا أبان عن أنس به. وهذا أشد ضعفا من الذي قبله: الربيع متروك، وأبان وهو ابن أبي عياش متهم بالوضع.
‌‌




৫৭৪। অনারবরা তাদের বাদশাদের সাথে এরূপ করে থাকে (অর্থাৎ হাতে চুমু দেয়া)। আমি বাদশা নই বরং আমি তোমাদেরই একজন।





হাদীছটি জাল।





এ হাদীছটি ৮৯ নম্বর হাদীছের অংশ বিশেষ। সেটির সনদের উপর আলোচনা পূর্বেই করা হয়েছে।





সহীহ হাদীছে কোন কোন ব্যক্তি কর্তৃক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত চুমু দেয়ার কথা এসেছে। তিনি তাদের এরূপ করাকে অস্বীকার করেননি। এটি প্রমাণ করছে যে, আলেমের হাতে চুমু দেয়া যায়। সালাফে সালেহীনগণ তাদের সম্মানিত ব্যক্তিদের সাথে এরূপ করেছেন। এ মর্মে কতিপয় আছার ইমাম আবু দাউদ-এর ছাত্র আবু সাঈদ ইবনুল আরাবীর “আল-কুবলু ওয়াল মুয়ানাকা” গ্রন্থে এবং ইমাম বুখারীর “আদাবুল মুফরাদ` (পৃঃ ১৪২) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।





কিন্তু এর অর্থ এ নয় যে, আলেমরা সাধারণ লোকদের পক্ষ হতে তাদের হাতে চুমু দেয়াকে অভ্যাসে পরিণত করে নিবেন। আর তাদের সাথে যখনই মিলিত হবেন তখনই হাতে চুমু দিবেন, যেমনটি তাদের কেউ কেউ করছেন। কারণ এরূপ অভ্যাস করে নেয়া নিশ্চিতভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ বিরোধী। তার সাথে এরূপ করতেন খুব কম সংখ্যক সাহাবী যারা তার আদর্শ সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না, আর সেটি হচ্ছে মুসাফাহা করা। এ কারণেই তার সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত এবং তার অতি নিকটবর্তী সাহাবী যেমন আবু বাকর সহ দশজন জান্নাতের সার্টিফিকেটপ্রাপ্তদের কেউ তার হাতে চুমু দিয়েছেন এমনটি বর্ণিত হয়নি। অথচ বর্তমান যুগে কোন কোন শাইখের হাতে চুমু না দিলে প্রচণ্ড রাগাম্বিত হন, কিন্তু মুসাফাহ করা ছেড়ে দিলে রাগাম্বিত হন না। অথচ মুসাফাহা করা মুস্তাহাব এবং তাতে বড় ধরনের সাওয়াব রয়েছে। আর হাতে চুমু দেয়ার ব্যাপারে এতোটুকু বলা যেতে পারে যে, সেটি জায়েয।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (575)


` ما تلف مال في بر ولا بحر إلا بحبس الزكاة `.
منكر.
قال الهيثمي في ` المجمع ` (3 / 63) بعد أن ذكره من حديث عمر: ` رواه الطبراني في الأوسط وفيه عمر بن هارون وهو ضعيف `.
قلت: بل هو كذاب كما تقدم غير مرة. لكن الحديث له طريق أخرى، ذكره ابن أبي حاتم في ` العلل ` (1 / 220 - 221) من طريق عراك بن خالد: حدثني أبي قال: سمعت إبراهيم بن أبي عبلة يحدث عن عبادة بن الصامت مرفوعا به. وقال: ` قال أبي: حديث منكر، وإبراهيم لم يدرك عبادة، وعراك منكر الحديث `.
‌‌




৫৭৫। যাকাত দেয়া বন্ধ করে দেয়ার কারণেই ভূপৃষ্ঠে এবং সমুদ্রে সম্পদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।





হাদীছটি মুনকার।





হায়ছামী `আল-মাজমা` (৩/৬৩) গ্রন্থে বলেনঃ হাদীছটি তাবারানী “আল-মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। যার সনদে উমার ইবনু হারূণ রয়েছেন, তিনি দুর্বল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ বরং তিনি মিথ্যুক যেমনটি একাধিকবার পূর্বে তার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তবে হাদীছটির ভিন্ন সূত্র রয়েছে, যেটি ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” (১/২২০-২২১) গ্রন্থে আররাক ইবনু খালেদ সূত্রে তার পিতা হতে বর্ণনা করে বলেন, আমার পিতা বলেছেনঃ হাদীছটি মুনকার। বর্ণনাকারী ইব্রাহীম ওবাদাকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) পাননি। আর আররাক মুনকারূল হাদীছ।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (576)


من نسختي وتحقيقي) ، وسكت عليه الحافظ في ` التلخيص ` (ص 10) فلم يُجِد.
‌‌




৫৭৬। দাউদ (আঃ)-এর দৃষ্টিতে ক্রটি ছিল।





হাদীছটি জাল।





আবু বাকর ইবনু আবী আলী আল-মুয়াদিল `আল-আমলী` (কাফ ১/১২) গ্রন্থে এবং আবু নোয়াইম `আহমাদ ইবনু ইসহাকের... কপিতে` (কাফ ২/১৫৮) বর্ণনা করেছেন।





ইমাম যাহাবী এই কপি সম্পর্কে বলেছেনঃ তাতে বিপদ রয়েছে, আহমাদ ইবনু ইসহাক দ্বারা দলীল গ্রহণ করা হালাল নয়, কারণ তিনি মিথ্যুক। হাফিয ইবনু হাজার তার `আল-লিসান` গ্রন্থে তা সমর্থন করেছেন।





কোন কোন মুহাদ্দিছ এই `আল-আমলী` গ্রন্থে হাদীছটির পার্শ্বে লিখেছেনঃ হাদীছটি বানোয়াট ।





পূর্বে এ হাদীছটি ভিন্ন ভাষায় (৩১২) নম্বরে আলোচিত হয়েছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (577)


` إذا رأيتم أمتي تهاب الظالم أن تقول له: إنك أنت ظالم، فقد تودع منهم `.
ضعيف.

أخرجه أحمد (رقم 6520) والحاكم (4 / 96) من طريق أبي الزبير عن عبد الله بن عمرو مرفوعا. قال الحاكم: ` صحيح الإسناد ` ووافقه الذهبي.
وأقول كلا ليس بصحيح، فإن أبا الزبير لم يسمع من ابن عمرو كما قال ابن معين وأبو حاتم، وكأن الحاكم تنبه لهذا فيما بعد فإنه روى (4 / 445) بهذا الإسناد حديثا آخر ثم قال:
` إن كان أبو الزبير سمع من عبد الله بن عمر [و] ، فإنه صحيح ` ووافقه الذهبي. وأما ترجيح صديقنا الشيخ أحمد محمد شاكر رحمه الله في ` التعليق على المسند ` أن أبا الزبير سمع منه، فليس بقوي عندي. ذلك لأنه
بناه على رواية ابن لهيعة عن أبي الزبير قال: ` رأيت العبادلة يرجعون على صدورهم أقدامهم في الصلاة: عبد الله بن عمر، وعبد الله بن عمرو، وعبد الله بن الزبير، وعبد الله بن عباس `.
وابن لهيعة عندنا ضعيف لسوء حفظه، ولذلك ضعفه الجمهور، فلا حجة في روايته لهذه الرؤية، سيما وهي مخالفة لما سبق عن الإمامين ابن معين وأبي حاتم. ثم لوسلمنا بثبوت سماع أبي الزبير من ابن عمرو في الجملة، لما لزم منه اتصال إسناد هذا الحديث وثبوته، لأن أبا الزبير مدلس يروي عمن لقيه ما لم يسمع منه وقصته في ذلك مع الليث ابن سعد مشهورة.
ولذلك فإني أقطع بضعف هذا الإسناد. والله أعلم.
وبعد كتابة ما تقدم رأيت أبا الشيخ روى الحديث في جزء ` أحاديث أبي الزبير عن غير جابر ` (11 / 1) من هذا الوجه، ثم رواه (15 / 2) من طريق أبي الزبير عن عمرو بن شعيب عن عبد الله بن عمر (كذا بدون واوبعد الراء) مرفوعا، فثبت أن أبا الزبير لم يسمعه من عبد الله بن عمرو وأن بينهما عمرو بن شعيب، ثم هو على هذا الوجه الآخر منقطع أيضا لأن عمرو بن شعيب لم يسمع من جد أبيه عبد الله بن عمرو. نعم للحديث شاهد لولا شدة ضعفه لحكمت على الحديث بالحسن، عزاه السيوطي في ` الجامع ` للطبراني في ` الأوسط ` عن جابر، قال المناوي: ` وفيه سيف بن هارون ضعفه النسائي والدارقطني `. قلت: قال الدارقطني في ` سؤالات البرقاني عنه ` (رقم 196 بترقيمي) : ` ضعيف، كوفي متروك `.
قلت: فهو شديد الضعف. والله أعلم.
‌‌




৫৭৭। যখন তোমরা আমার উম্মাতকে দেখবে তারা অত্যাচারীকে এ কথা বলতে ভয় করছে যে, অবশ্যই তুমি অত্যাচারী। তখন সে (অত্যাচারী) তাদের থেকে বিরত থাকবে।





হাদীছটি দুর্বল।





এটি ইমাম আহমাদ (নং ৬৫২০) এবং হাকিম (৪/৪৪৫) আবুয যুবায়ের সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেছেনঃ সনদটি সহীহ। আর ইমাম যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ কখনও নয়। সনদটি সহীহ নয়। কারণ আবুয যুবায়ের ইবনু আমর হতে শুনেননি। যেমনটি ইবনু মাঈন এবং আবু হাতিম বলেছেন। সম্ভবত এ জন্যে হাকিম পরবর্তীতে সতর্ক হয়েছেন। কারণ তিনি এ সনদেই অন্য একটি হাদীছ (৪/৪৪৫) বর্ণনা করার পর বলেছেনঃ যদি আবুয যুবায়ের আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে শুনে থাকেন তাহলে হাদীছটি সহীহ। ইমাম যাহাবীও তার এ কথার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।





আমাদের বন্ধু আহমদ মুহাম্মাদ শাকের (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ আবুয যুবায়ের তার থেকে শুনেছেন। কথাটি শক্তিশালী নয়, কারণ এটির ভিত্তি হচ্ছে ইবনু লাহীয়ার বর্ণনার উপর। তিনি মুখস্থ বিদ্যায় দুর্বল। তাকে জামহুরে ওলামা দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তার বর্ণনা দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। বিশেষ করে শ্রবণ সাব্যস্ত করা দুই ইমাম ইবনু মাঈন এবং আবু হাতিমের বিপরীতে হওয়ার কারণে। যদি ধরে নেই যে আবুয যুবায়ের-এর শ্রবণ ইবনু আমর হতে সাব্যস্ত হয়েছে। তার পরেও এ হাদীছটির সনদ মুত্তাসিল তা বলা যায় না। কারণ আবুয যুবায়ের মুদাল্লিস, তিনি যার সাথে মিলিত হয়েছেন না শুনেও তার থেকে বর্ণনা করেছেন। অতএব দৃঢ়তার সাথে বলছি যে, হাদীছটির সনদটি দুর্বল।





হাদীছটির শাহেদ এসেছে কিন্তু তা নিতান্তই দুর্বল। তা না হলে হাসান বলে হুকুম লাগাতাম। সুয়ূতী `আল-জামে` গ্রন্থে ইমাম তাবারানীর `আল-আওসাত` গ্রন্থের বরাতে জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। মানবী বলেছেনঃ সনদের বর্ণনাকারী সাইফ ইবনু হারুণকে নাসাঈ এবং দারাকুতনী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। দারাকুতনী `সুওয়ালাতুল বারকানী আনহু` (নং ১৯৬) গ্রন্থে বলেছেনঃ তিনি দুর্বল, কুফী মাতরূক।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি অত্যন্ত দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (578)


` أحبوا العرب وبقاءهم، فإن بقاءهم نور في الإسلام، وإن فناءهم ظلمة في الإسلام `.
ضعيف.
رواه أبو نعيم في ` نسخة أحمد بن إسحاق بن إبراهيم بن شريط ` (ق 108 / 1) : حدثني أبي إسحاق قال: حدثني إبراهيم بن نبيط عن جده نبيط مرفوعا.
قلت: وهذه النسخة فيها بلايا كما تقدم في الحديث الذي قبله. لكن له طريق آخر رواه أبو الشيخ في ` كتاب الثواب وفضائل الأعمال ` قال: حدثنا أحمد بن محمد بن الجعد: حدثنا منصور بن أبي مزاحم: حدثنا محمد بن الخطاب عن عطاء بن أبي ميمونة عن أبي هريرة مرفوعا به.
ذكره الحافظ العراقي في ` محجة القرب إلى محبة العرب ` (5 / 2) ثم قال: ` ليس في إسناده محل نظر إلا أن محمد بن الخطاب بن جبير بن حية الثقفي الجبيري البصري ذكره ابن أبي حاتم في ` الجرح والتعديل `، وأن أباه أبا حاتم قال: ` لا أعرفه `. وقال الأزدي: ` منكر الحديث `.
والأزدي ليس بعمدة، وقد زالت جهالة عينه برواية جماعة عنه، فقد روى عنه مسلم بن إبراهيم الفراهيدي وأبو سلمة المنقري، ومنصور بن أبي مزاحم، ذكره ابن حبان في ` الثقات `. قلت: وهو الذي روى حديث ` إذا ذلت العرب ذل الإسلام ` وقد سبق بيان حاله برقم (163) ، وقد أورده العراقي في عقب هذا الحديث، ثم أحال في معرفة ترجمة محمد بن الخطاب عليه.
وقد ذكر تحته ما يتلخص منه أنه مجهول الحال، كما سبق بيانه هناك. ثم وجدت له متابعا، فقال أبو الشيخ في ` تاريخ أصبهان ` (ق 160 / 1) : حدثنا أبو زفر قال: حدثنا أحمد بن يونس قال: حدثنا محمد بن عبد الصمد بن جابر الضبي قال: حدثني أبي عن عطاء بن أبي ميمونة به. قلت: وهذه متابعة واهية فإن عبد الصمد بن جابر الضبي سئل عنه ابن معين فقال: ` ضعيف `، وقال ابن حبان (2 / 142) : ` يخطيء كثيرا ويهم فيما يروي على قلة روايته `. وابنه محمد بن عبد الصمد، قال الذهبي: ` صاحب مناكير، ولم يترك `.
وأبو زفر هو هذيل بن عبيد الله بن عبد الله بن قدامة الضبي، وفي ترجمته أورد له أبو الشيخ هذا الحديث، وقال: ` مات سنة اثنين وعشرين وثلاثمائة ` ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا. ثم بدا لي أن فيه علة أخرى، وهي الانقطاع بين عطاء هذا وأبي هريرة، فإنهم لم يذكروا له رواية عنه أصلا، ويبعد أن يكون سمع منه، بل لعله ولد بعد وفاة أبي هريرة، فإن بين وفاتيهما اثنتين وسبعين سنة على الأقل، فإن أبا هريرة توفي سنة سبع، وقيل ثمان: وقيل: تسع وخمسين، ومات عطاء سنة إحدى وثلاثين ومائة. ولما كانت الطريق الأولى للحديث عن نبيط بن شريط واهية جدا، فإن الحديث يظل على ضعفه. والله أعلم.
‌‌




৫৭৮। তোমরা আরবদেরকে ও তাদের অবশিষ্ট থাকাকে ভালবাস। কারণ তাদের অবশিষ্ট থাকা হচ্ছে ইসলামের জন্য নূর স্বরূপ, আর তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া হচ্ছে ইসলামের জন্য অন্ধকার স্বরূপ।





হাদীছটি দুর্বল।





এটিকে আবু নোয়াইম আহমাদ ইবনু ইসহাকের কপিতে (কাফ ১/১০৮) আবু ইসহাক হতে ... বর্ণনা করেছেন।





এই কপিতে বিপদ রয়েছে। কিন্তু আবুশ শাইখ “কিতাবুছ ছাওয়াব ওয়াল ফাযায়েলুল আ'মাল” গ্রন্থে অন্য সূত্রে আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু জা'আদ হতে তিনি মানসূর ইবনু আবী মাযাহিম হতে তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল খাত্তাব হতে ... বর্ণনা করেছেন। হাদীছটি হাফিয ইরাকী `মুহাজ্জাতুল কুরবে ইলা মুহাব্বাতিল আরাব` (২/৫) গ্রন্থে উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ মুহাম্মদ ইবনুল খাত্তাব ছাড়া অন্য কারো ব্যাপারে সনদে দৃষ্টি দেয়ার কিছু নেই। তাকে ইবনু আবী হাতিম `আল-জারহু ওয়াত-তা'দীল` গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর পিতা আবূ হাতিম তার সম্পর্কে বলেছেনঃ তাকে আমি চিনি না। আযদী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীছ। তাকে ইবনু হিব্বান `আছ-ছিকাত` গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ তিনি তার নিকট নির্ভরযোগ্য।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনিই পূর্বে আলোচিত ১৬৩ নম্বর হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনুল খাত্তাব মাজহুলুল হাল। সেখানে তার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।





এ হাদীছটির একটি মুতাবা'য়াত (অনুগামী হাদীছ) পাওয়া গেছে সেটিকে আবুশ শাইখ “তারীখু আসবাহান” (কাফ ১/১৬০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মুতাবায়াতটি দুর্বল। কারণ তার বর্ণনাকারী আব্দুস সামাদ ইবনু জবের আয-যব্বী সম্পর্কে ইবনু মা'ঈনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেনঃ আব্দুস সামাদ দুর্বল। ইবনু হিব্বান (২/১৪২) বলেনঃ তার বর্ণনা কম হওয়া সত্ত্বেও তিনি বহু ভুল করতেন এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে সন্দেহপ্রবণ ছিলেন। আর তার ছেলে মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুস সামাদ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেনঃ তিনি মুনকারের অধিকারী। এ ছাড়া আরেক বর্ণনাকারী আবু যুফার (হুযায়েল ইবনু ওবাইদুল্লাহ আয-যব্বী) সম্পর্কে ভাল-মন্দ কিছুই জানা যাচ্ছে না। মোটকথা হাদীছটি উভয় সূত্রেই দুর্বল।





এ ছাড়া অন্য সমস্যাও রয়েছে তা হচ্ছে ইনকিতা (সনদে বিচ্ছিন্নতা) আতা এবং আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যে। তারা আবু হুরাইরাহ হতে তার কোন বর্ণনায় উল্লেখ করেননি। কারণ তাদের উভয়ের মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে কমপক্ষে বাহাত্তর বছরের। আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ৫৭/৫৮/৫৯ হিজরীতে আর আতা ১৩১ হিজরীতে মারা যান।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (579)


` هذا أول يوم انتصف فيه العرب من العجم. يعني يوم ذي قار `.
ضعيف.
رواه ابن قانع في ` معجم الصحابة ` (12 / 2) عن سليمان بن داود المنقري حدثنا يحيى بن يمان: حدثنا أبو عبد الله التيمي عن عبد الله بن الأخرم عن أبيه - وكانت له صحبة -
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
فذكره. قلت: وهذا سند موضوع، سليمان هذا هو الشاذكوني كذاب، كذبه في الحديث ابن معين وصالح جزرة. ويحيى بن يمان ضعيف. وشيخه أبو عبد الله التيمي لم أعرفه. وقد رواه الشاذكوني بإسناد آخر أقرب إلى الصواب من هذا فقال الطبراني في ` المعجم الكبير ` (62 / 2) :
حدثنا أبو مسلم الكشي: أخبرنا سليمان بن داود الشاذكوني أخبرنا محمد بن سواء: حدثني الأشهب الضبعي: حدثني بشير بن يزيد الضبعي - وكان قد أدرك الجاهلية - قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم ذي قار فذكره. قال الهيثمي (6 / 211) بعد أن عزاه للطبراني:
` وفيه سليمان بن داود الشاذكوني وهو ضعيف `. قلت بل: كذاب كما عرفت، ولكني وجدت له متابعا قويا، فقال خليفة بن خياط في ` كتاب الطبقات ` (12 / 1) : حدثني محمد بن سواء به. وخليفة هذا ثقة احتج به البخاري وهو أخباري علامة.
والأشهب الضبعي مجهول أورده ابن أبي حاتم في ` الجرح والتعديل ` (1 / 1 / 1342) ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا. وبشير بن يزيد الضبعي، قال ابن أبي حاتم عن أبيه: ` أدرك الجاهلية له صحبة ` وقال البغوي: ` لم أسمع به إلا في هذا الحديث `.
ثم ساقه من طريق الأشهب الضبعي به. وقال الحافظ في ` الإصابة `: ` وأخرجه بقي بن مخلد في ` مسنده ` من هذا الوجه، وكذلك البخاري في ` تاريخه ` وذكره ابن حبان في التابعين فقال: شيخ قديم أدرك الجاهلية يروي المراسيل. قلت: وليس في شيء من طرق حديثه له سماع `.
ثم رواه خليفة من الطريق الأول فقال: وحدثني أبو أمية عمر بن المنخل السدوسي قال: حدثنا يحيى بن اليمان العجلي عن رجل من بني تيم اللات عن عبد الله بن الأخرم به.
قلت: فالظاهر أنه لم تثبت صحبته، وعليه فالحديث له علتان: الإرسال والجهالة. والله أعلم.
فائدة: قال الحافظ: ` ويوم ذي قار من أيام العرب المشهورة كان بين جيش كسرى وبين بكر بن وائل لأسباب يطول شرحها، قد ذكرها الأخباريون، وذكر ابن الكلبي أنها كانت بعد وقعة بدر بأشهر، قال: وأخبرني الكلبي عن أبي صالح عن ابن عباس قال: ذكرت وقعة ذي قار عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال:
ذاك أول يوم انتصف فيه العرب من العجم، وبي نصروا `.
قلت: هذه الكلمة ` وبي نصروا ` رواها الطبراني من طريق خالد بن سعيد بن العاص عن أبيه عن جده فذكر قصة إرسال النبي صلى الله عليه وسلم أبا بكر إلى بكر بن وائل وعرضه الإسلام عليهم وفيه: قالوا: حتى يجيء شيخنا فلان - قال خلاد: ` أحسبه قال: المثنى بن خارجة - فلما جاء شيخهم عرض عليهم أبو بكر رضي الله عنه، قال: إن بيننا وبين الفرس حربا فإذا فرغنا مما بيننا وبينها عدنا فنظرنا، فقال أبو بكر:
أرأيت إن غلبتموهم أتتبعنا على أمرنا؟ قال: لا نشترط لك هذا علينا، ولكن إذا فرغنا فيما بيننا وبينهم عدنا فنظرنا فيما نقول، فلما التقوا يوم ذي قار هم والفرس قال شيخهم: ما اسم الرجل الذي دعاكم إلى الله؟ قالوا: محمد، قالوا: هو شعاركم فنصروا على القوم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: بي نصروا. قال الهيثمي (6 / 211) : ` ورجاله ثقات رجال الصحيح غير خلاد بن عيسى وهو ثقة `.
(تنبيه) : بلغ جهل بعض الناس بالتاريخ والسيرة النبوية في هذا العصر أن أحدهم طبع منشورا يرد فيه على صديقنا الفاضل الأستاذ علي الطنطاوي طلبه من الإذاعة أن تمتنع من إذاعة ما يسمونه بالأناشيد النبوية، لما فيها من وصف جمال النبي صلى الله عليه وسلم بعبارات لا تليق بمقامه صلى الله عليه وسلم، بل فيها ما هو أفظع من ذلك من مثل الاستغاثة به صلى الله عليه وسلم من دون الله تبارك وتعالى، فكتب المشار إليه في نشرته ما نصه بالحرف (ص 4) : ` وها هي (!) الصحابة الكرام رضي الله عنهم كانوا يستصحبون بعض نسائهم لخدمة أنفسهم في الغزوات والحروب، وكانوا يضمدون (!) الجرحى ويهيئون (!) لهم الطعام، وكانوا يوم ذي قار عند اشتداد وطيس الحرب بين الإسلام والفرس كانت النساء تهزج أهازيج وتبعث الحماس في النفوس بقولها: إن تقبلوا نعانق ونفرش النمارق. أو تدبروا نفارق فراق غير وامق. فانظر إلى هذا الجهل ما أبعد مداه! .
فقد جعل المعركة بين الإسلام والفرس، وإنما هي بين المشركين والفرس، ونسب النشيد المذكور لنساء المسلمين في تلك المعركة! وإنما هو لنساء المشركين في غزوة أحد! كن يحمسن المشركين على المسلمين كما هو مروي في كتب السيرة! فقد خلط بين حادثتين متباينتين، وركب منهما ما لا أصل له البتة بجهله أو تجاهله ليتخذ من ذلك دليلا على جواز الأناشيد المزعومة، ولا دليل في ذلك - لوثبت - مطلقا إذ أن الخلاف بين الطنطاوي ومخالفيه ليس هو مجرد مدح النبي بل إنما هو فيما يقترن بمدحه مما لا يليق شرعا كما سبقت الإشارة إليه وغير ذلك مما لا مجال الآن لبيانه، ولكن صدق من قال: ` حبك الشيء يعمي ويصم ` فهؤلاء أحبوا الأناشيد النبوية وقد يكون بعضهم مخلصا في ذلك غير
مغرض فأعماهم ذلك عما اقترن بها من المخالفات الشرعية. ثم إن هذا الرجل اشترك مع رجلين آخرين في تأليف رسالة ضدنا أسموها ` الإصابة في نصرة الخلفاء الراشدين والصحابة ` حشوها بالافتراءات والجهالات التي تنبيء عن هوى وقلة دراية، فحملني ذلك على أن ألفت في الرد عليهم كتابا أسميته ` تسديد الإصابة إلى من زعم نصرة الخلفاء الراشدين والصحابة ` موزعا على ست رسائل صدر منها الرسالة الأولى وهي في بيان بعض افتراءاتهم وأخطائهم، والثانية في ` صلاة التراويح ` والثالثة في أن ` صلاة العيدين في المصلى هي السنة ` ثم أصدرنا الخامسة بعنوان ` تحذير الساجد من اتخاذ القبور مساجد `.
‌‌




৫৭৯। এই সেই দিন যাতে আরবরা আযমীদের (অনারবদের) থেকে প্রতিশোধ নিয়েছে। অর্থাৎ যী-কারের দিনকে বুঝানো হচ্ছে।





হাদীছটি দুর্বল।





এটি ইবনু কাফে' “মুজামুস সাহাবাহ` (২/১২) গ্রন্থে সুলায়মান ইবনু দাউদ আল-মুনকের সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামান হতে তিনি আবু আদিল্লাহ আত-তাইমী হতে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল আখরাম হতে তিনি তার পিতা হতে ... বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি জাল। এই সুলায়মান হচ্ছেন শাযকূনী, তিনি মিথ্যুক। তাকে ইবনু মাঈন এবং সালেহ জাযারাহ মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। আর ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামান দুর্বল। এ ছাড়া তার শাইখ আবূ আব্দিল্লাহকে আমি চি নি না।





তাবারানী “আল-মুজামুল কাবীর” (২/৬২) গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সে সনদেও শাযকূনী রয়েছেন। তবে আমি এর একটি শক্তিশালী মুতাবায়াত পেয়েছি। সেটি খালীফাহ ইবনু খাইয়াত “কিতাবুত তাবাকাত` (১/১২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এই খালীফাহ নির্ভরযোগ্য। বুখারী তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন। তিনি একজন ঐতিহাসিক। তবে তার সনদের আল-আশহাব আয-যব'ঈ মাজহুল। ইবনু আবী হাতিম “আল-জারহু ওয়াত-তা'দীল” (১/১/৩৪২) গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভাল-মন্দ কিছুই উল্লেখ করেননি। এ ছাড়া যে সব সূত্রে বর্ণিত হয়েছে কোনটিই দুর্বলতা হতে মুক্ত নয়।





* যী-কারের দিন সেটিই যেদিনে পারস্য এবং মুশরিকদের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এ যুদ্ধে মুশরিকরা (বাকর ইবনু ওয়ায়েল গোত্র) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে সাহায্য প্রাপ্ত হয়েছিল। যারা বলেছেন যে, মুসলিম এবং পারস্যদের সাথে সংঘটিত যুদ্ধকে যী-কার বলা হয় তারা ভুল করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (580)


` ما من امرئ مسلم يرد عن عرض أخيه إلا كان حقا على الله أن يرد عنه نار جهنم يوم القيامة، ثم تلا هذه الآية: (وكان حقا علينا نصر المؤمنين) `.
ضعيف.

أخرجه ابن أبي حاتم من طريق ليث عن شهر بن حوشب عن أم الدرداء عن أبي الدرداء مرفوعا. ورواه أبو الشيخ في ` كتاب الثواب ` كما في ` الترغيب ` (3 / 302) ، وذكره ابن كثير في ` تفسيره ` (3 / 436) وسكت عليه، وذلك لظهور ضعفه، فإن شهر بن حوشب ضعيف، وكذا الراوي عنه ليث وهو ابن أبي سليم،
وقد خولف في إسناده ومتنه فرواه عبيد الله بن أبي زياد عن شهر عن أسماء بنت يزيد مرفوعا نحوه مختصرا دون قوله: ` ثم تلا … `. أخرجه أحمد (6 / 461) وأبو الشيخ في ` الفوائد ` (80 / 2) .
وعبد الله بن أبي زياد فيه ضعف أيضا، قال الحافظ في ` التقريب `: ` ليس بالقوي `.
ومما ذكرنا تعلم أن قول المنذري: ` رواه أحمد بإسناد حسن وابن أبي الدنيا والطبراني ` غير حسن. لكن الحديث له طريق أخرى عن أم الدرداء مختصرا بلفظ: ` من رد عن عرض أخيه رد الله عن وجهه النار يوم القيامة `. أخرجه الترمذي (3 / 124) وأحمد (6 / 450) من طريق أبي بكر النهشلي عن مرزوق أبي بكر التيمي عن أم الدرداء عن أبي الدرداء مرفوعا به. وقال الترمذي: ` هذا حديث حسن `. قلت: لعله حسنه بالذي قبله،
وإلا فمرزوق هذا مجهول. قال الذهبي: ` ما روى عنه سوى أبي بكر النهشلي `. وأبو بكر النهشلي قال الحافظ: ` صدوق ` والله أعلم.
‌‌




৫৮০। কোন মুসলিম ব্যক্তি তার ভাইয়ের বেইজ্জতীকে প্রতিহত করলে আল্লাহর উপর কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন হতে তাকে রক্ষা করা অপরিহার্য হয়ে যায়। অতঃপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেনঃ `আমার উপর মুমিনদেরকে সাহায্য করা অপরিহার্য ছিল।` [সূরা আর-রুমঃ ৪৭]






হাদীছটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু আবী হাতিম লাইছ সূত্রে শাহর ইবনু হাওশাব হতে তিনি উম্মুদ দারদা হতে তিনি আবুদ দারদা হতে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। আবুশ শাইখ “কিতাবুছ ছাওয়াব” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যেমনটি `আত-তারগীব` (৩/৩০২) গ্রন্থে এসেছে। ইবনু কাছীর তার “তাফসীর” (৩/৪৩৬) গ্রন্থে উল্লেখ করে কোন হুকুম না লাগিয়ে চুপ থেকেছেন দুর্বলতা স্পষ্ট হওয়ার কারণে। কারণ শাহর ইবনু হাওশাব দুর্বল। অনুরূপ লাইছ ইবনু আবী সুলায়েমও দুর্বল। ভাষা ও সনদের মধ্যে এর বিপরীত বর্ণনা এসেছে। যেটিকে ইমাম আহমাদ (৬/৪৬১) এবং আবুশ শাইখ “আল-ফাওয়ায়েদ` (২/৮০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।





এটির সনদে আব্দুল্লাহ ইবনু আবী যিয়াদ রয়েছেন। তার মধ্যেও দুর্বলতা রয়েছে। হাফিয ইবনু হাজার `আত-তাকরীব` গ্রন্থে বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। এ জন্য মুনযেরী বলেছেনঃ এটি হাসান, তা সঠিক নয়।





হাদীছটি উম্মুদ দারদা হতে ভিন্ন সূত্রেও সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণিত হয়েছে। যেটি ইমাম তিরমিয়ী (৩/১২৪) এবং আহমাদ (৬/৪৫০) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটির সনদে মারযুক আবু বাকর আত-তাইনী রয়েছেন। তিনি মাজহুল। ইমাম যাহাবী বলেনঃ আবু বাকর আন-নাহশালী ছাড়া অন্য কেউ তার থেকে বর্ণনা করেননি।