হাদীস বিএন


সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ





সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (601)


` اتخذوا السراويلات فإنه من أستر ثيابكم، وخصوا بها نساءكم إذا خرجن `.
موضوع.
رواه العقيلي (ص 18) وابن عدي (4 / 1) والديلمي (1 / 2 / 200) وابن عساكر (2 / 380 / 2) عن إبراهيم بن زكريا الضرير العجلي - من أهل البصرة - : حدثنا همام عن قتادة عن قدامة بن وبرة عن الأصبغ بن نباتة عن علي قال:
كنت قاعدا عند النبي صلى الله عليه وسلم بالبقيع في يوم دجن ومطر، قال: فمرت امرأة على حمار ومعها مكاري فهو ت يد الحمار في وهدة من الأرض، فسقطت المرأة، فأعرض النبي عليه السلام بوجهه، فقالوا: يا رسول الله إنها متسرولة. فقال: اللهم اغفر للمتسرولات من أمتي. يا أيها الناس اتخذوا.... الحديث.
ذكره العقيلي في ترجمة إبراهيم هذا، وقال: ` صاحب مناكير وأغاليط، ولا يعرف هذا الحديث إلا به، فلا يتابع عليه `. وقال ابن عدي: ` وهذا الحديث منكر لا يرويه عن همام غير إبراهيم بن زكريا، ولا أعرفه إلا من هذا الوجه، وإبراهيم حدث عن الثقات بالأباطيل `. ومن طريق ابن عدي أورده ابن الجوزي في ` الموضوعات ` (3 / 45) وقال: ` موضوع، والمتهم به إبراهيم `.
ثم ذكر ما تقدم عن العقيلي وابن عدي. فتعقبه السيوطي في ` اللآلي ` (2 / 260) بقوله: ` قلت: أخرجه البزار والبيهقي في ` الأدب ` من هذا الطريق، وإبراهيم بن زكريا المتهم به الذي قال فيه ابن عدي هذا القول هو الواسطي العبدي، وليس هو الذي في إسناد هذا الحديث، إنما هذا إبراهيم بن زكريا العجلي البصري كما أفصح به العقيلي، وقد التبس على طائفة، منهم الذهبي في ` الميزان ` فظنهما واحدا، وفرق بينما غير واحد، منهم ابن حبان، فذكر العجلي في ` الثقات `، والواسطي في ` الضعفاء `.
وكذا فرق أبو أحمد الحاكم في ` الكنى ` والعقيلي والنباتي في ` الحافل ` والذهبي في ` المغني `. قال الحافظ ابن حجر في ` اللسان `: وهو الصواب `. قلت: وهذا التعقب ليس فيه كبير طائل، ذلك لأن العجلي الذي هو صاحب الحديث لم يوثقه غير ابن حبان، وهو مع ما عرف به من التساهل في التوثيق، فقد عارضه من حكمه أقرب إلى الصواب منه، فقد قال العقيلي فيه: ` صاحب مناكير وأغاليط `.
ثم ساق له حديثين، هذا أحدهما. وفيه قال ابن عدي ما نقلته آنفا عنه، خلافا لما زعمه السيوطي أنه قال ذلك في الواسطي العبدي. وإليك نص كلامه لتكون على بينة من الأمر، قال: ` إبراهيم بن زكريا المعلم العبدستاني العجلي الضرير، يكنى أبا إسحاق، حدث عن الثقات بالأباطيل `.
ثم ساق له هذا الحديث، وأعله بما سبق، فاتفاق هذين الإمامين على تضعيف إبراهيم هذا واستنكار حديثه، مقدم على توثيق ابن حبان له المستلزم رد الحكم على حديثه بالوضع أو النكارة - كما ذهب إليه السيوطي، لاسيما وقد ذكر الحافظ النقاد الذهبي أن هذا الحديث من بلايا العجلي! ثم رأيت ابن أبي حاتم ذكر في ` العلل ` (1 / 492 - 493) عن أبيه أنه قال: ` هذا حديث منكر، وإبراهيم مجهول `.
على أن في الحديث علة أخرى من الأعلى، هي بالاعتماد عليها في إعلال الحديث أولى، ومن الغريب أن الذين تكلموا عليه لم يتنبهو الها، مثل ابن الجوزي، وابن عراق في ` تنزيه الشريعة ` (2 / 272) ، ألا وهي الأصبغ بن نباتة، فهو متفق على تضعيفه، بل قال أبو بكر ابن عياش: ` كذاب `. وقال النسائي وابن حبان: ` متروك `. وأورده الذهبي في ` الضعفاء ` وقال: ` قال ابن معين وغيره: ليس بشيء `. وقال الحافظ في ` التقريب `: ` متروك `. وبالجملة فالحديث بهذا الإسناد والسياق موضوع. وقد ذكر له السيوطي شواهد من حديث أبي هريرة وغيره مرفوعا بلفظ: ` اللهم ارحم المتسرولات `. وقال: ` وبمجموع هذه الطرق يرتقي الحديث إلى درجة الحسن `. قلت: وفي ذلك نظر لأن الطرق التي أشار إليها لا تخلومن وضاع أو متهم أو مجهول، مع أن بعضها مرسل.
وبيان ذلك مما لا يتسع له الوقت الآن، فإلى مناسبة أخرى إن شاء الله تعالى.
‌‌




৬০১। তোমরা পায়জামা পরিধান কর। কারণ তা তোমাদের সর্বাপেক্ষা পর্দাকারী কাপড়। বিশেষ করে তোমাদের নারীরা যখন বের হবে তখন তা পরিধান করাও।





হাদীছটি জাল।





এটিকে উকায়লী (পৃ ৪১৮), ইবনু আদী (১/৪), দাইলামী (১/২/২০০) এবং ইবনু আসাকির (২/৩৮০/২) ইবরাহীম ইবনু যাকারিয়া হতে তিনি হুমাম হতে তিনি কাতাদাহ হতে ... বর্ণনা করেছেন।





ইবরাহীমের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে উকায়লী হাদীছটি উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ তিনি বহু মুনকার ও বহু ভুলের অধিকারী। একমাত্র তার মাধ্যমেই এ হাদীছটি জানা যায়। তার মুতাবা'য়াত করা হয়নি। ইবনু আদী বলেনঃ এ হাদীছটি মুনকার। হুমাম হতে একমাত্র ইবরাহীম ইবনু যাকারিয়াই বর্ণনা করেছেন। তাকে একমাত্র এ সূত্রেই চিনি। আর ইবরাহীম নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে বহু বাতিল হাদীছ বর্ণনা করেছেন।





ইবনু আদীর সূত্রে ইবনুল জাওয়ী হাদীছটি “আল-মাওযূ’আত” (৩/৪৫) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি বানোয়াট, ইবরাহীম জাল করার দোষে দোষী। অতঃপর তিনি উকায়লী এবং ইবনু আদীর ভাষ্যগুলো উল্লেখ করেছেন।





সুয়ূতী `আল-লাআলী` (২/২৬০) গ্রন্থে তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ হাদীছটি বাযযার, বাইহাকী “আল-আদাব” গ্রন্থে এ সূত্রেই বর্ণনা করেছেন। যে ইবরাহীমকে ইবনু আদী জাল করার দোষে দোষী করেছেন, তিনি হচ্ছেন ওয়াসেতী আল-আবাদী। তিনি এ হাদীছের সনদে নেই। যিনি আছেন তিনি হচ্ছেন, ইবরাহীম ইবনু যাকারিয়া ইজলী আল-বাসরী। যেমনটি উকায়লী স্পষ্টভাবে বলেছেন। যাহাবী দু'জনকে এক করে ফেলেছেন। অথচ ইবনু হিব্বান ইজলীকে `আছ-ছিকাত` গ্রন্থে আর ওয়াসেতীকে `আয-যোয়াফা` গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সমালোচনা বড় কিছু নয়। কারণ এই ইজলীকে একমাত্র ইবনু হিব্বানই নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আর তিনি নির্ভরযোগ্য বলার ক্ষেত্রে একজন শিথিলতা প্রদর্শনকারী। উকায়লী (যার কথা হাদীছটির হুকুমের ক্ষেত্রে সঠিকের বেশী নিকটবর্তী) তার বিরোধিতা করে বলেছেনঃ তিনি বহু মুনকার ও বহু ভুলের অধিকারী।





অতঃপর তিনি তার দু'টি হাদীছ উল্লেখ করেছেন। এটি সে দু'টির একটি। এটি সম্পর্কে ইবনু আদী কী বলেছেন তা একটু পূর্বেও উল্লেখ করেছি। তিনি বলেনঃ ইবরাহীম ইবনু যাকারিয়া মু'আল্লিম আল-আব্দাস্তানী আল-ইজলী আয-যযারীরের কুনিয়াত হচ্ছে আবু ইসহাক। তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে বাতিল হাদীছ বর্ণনা করেছেন।





অতঃপর তিনি তার এ হাদীছটি উল্লেখ করে পূর্বোল্লেখিত কথা দ্বারা তার সমস্যা বর্ণনা করেছেন। এই দুই ইমাম কর্তৃক ইবরাহীমকে দুর্বল আখ্যাদান এবং তার হাদীছকে মুনকার হিসাবে চিহিত করণ অগ্রাধিকার পাবে ইবনু হিব্বান কর্তৃক তাকে নির্ভরযোগ্য বলার আগে, যেদিকে ইমাম সুয়ূতী গেছেন। বিশেষ করে ইমাম যাহাবী এ হাদীছটিকে ইজলীর বিপদগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।





অতঃপর আমি ইবনু আবী হাতিমের `আল-ইলাল` (১/৪৯২-৪৯৩) গ্রন্থে দেখেছি তিনি তার পিতার উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ এ হাদীছটি মুনকার, ইবরাহীম মাজহুল।





এ হাদীছটিতে আরেকটি সমস্যা আছে, তার দ্বারা সমস্যা বর্ণনা করাই উত্তম। আশ্চর্য ব্যাপার এই যে, যারা এ হাদীছটির ব্যাপারে আলোকপাত করেছেন তারা সে দিকে লক্ষ্যই করেননি। সে সমস্যাটি হচ্ছে বর্ণনাকারী আসবাগ ইবনু নুবাতাহ, তার দুর্বল হওয়ার বিষয়ে সকলেই একমত। বরং আবু বকর ইবনু আইয়াশ বলেছেনঃ তিনি মিথ্যুক। নাসাঈ এবং ইবনু হিব্বান বলেছেনঃ তিনি মাতরূক। ইমাম যাহাবী তাকে `আয-যোয়াফা` গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইবনু মাঈন ও অন্য বিদ্বানগণ তার সম্পর্কে বলেছেনঃ তিনি কিছুই না। হাফিয ইবনু হাজার `আত-তাকরীব` গ্রন্থে বলেছেনঃ তিনি মাতরূক।





মোটকথা হাদীছটি বানোয়াট। ইমাম সুয়ূতী যে শাহেদ উল্লেখ পূর্বক বলেছেনঃ এসব সূত্রগুলো একত্রিত করলে এটি হাসান হাদীছের পর্যায়ভুক্ত হয়ে যায়। তার এ কথায় বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ তিনি যেসব সূত্রগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন সেগুলো জলকারী, মিথ্যার দোষে দোষী ও মাজহুল বর্ণনাকারী হতে মুক্ত নয়। এ ছাড়া তার কোন কোনটি আবার মুরসালও।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (602)


` إن الله عز وجل يقول: أنا الله لا إله إلا أنا، ملك الملوك، ومالك الملوك، قلوب الملوك بيدي، وإن العباد أطاعوني حولت قلوب ملوكهم عليهم بالرأفة والرحمة، وإن العباد عصوني حولت قلوب ملوكهم بالسخط والنقمة فساموهم سوء العذاب، فلا تشغلوا أنفسكم بالدعاء على الملوك، ولكن اشغلوا أنفسكم بالذكر والتضرع أكفكم مولككم `.
ضعيف جدا.
رواه الطبراني وعنه أبو نعيم (2 / 389) وتمام (6 / 77 / 1من مجموع الظاهرية رقم 95) عن أبي عمرو المقدم بن داود قال: حدثنا علي بن معبد قال: حدثنا وهب بن راشد عن مالك بن دينار عن {خلاس} بن عمرو عن أبي الدرداء مرفوعا. قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، المقدم بن داود قال النسائي:
` ليس بثقة `. ووهب بن راشد هو الرقي قال ابن عدي: ` ليس حديثه بالمستقيم،أحاديثه كلها فيها نظر `. وقال الدارقطني: ` متروك `. وقال ابن حبان:
` لا يحل الاحتجاج به بحال `. وقال الهيثمي (5 / 249) : ` رواه الطبراني في ` الأوسط ` وفيه وهب (الأصل: إبراهيم وهو تحريف) ابن راشد وهو متروك `.
قلت: وتعصيب الجناية به وحده ليس بجيد لما علمت أن في الطريق إليه المقداد بن داود، وهو مثله في الضعف.
‌‌




৬০২। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি আল্লাহ আমি ছাড়া সত্যিকার অর্থে অন্য কোন উপাস্য নেই। রাজাদের রাজত্ব, রাজাদের মালিক এবং রাজাদের অন্তরগুলো আমার হাতে। বান্দারা যদি আমার উপাসনা করে তাহলে তাদের রাজাদের হৃদয়গুলো তাদের উপর আমি নরম এবং দয়া প্রবণ করে দিই। বান্দারা যদি আমার নাফারমানী করে তাহলে তাদের রাজাদের হৃদয়গুলোকে রাগাম্বিত এবং শাস্তিমূলক করে দি। ফলে তারা তাদেরকে খারাপ শাস্তি দ্বারা শাস্তি দেয়। অতএব তোমরা রাজাদের বিপক্ষে দো'আ করতে নিজেদেরকে ব্যস্ত করো না। বরং তোমরা তোমাদেরকে যিকর ও আনুগত্যের মাঝে ব্যস্ত রাখো আমি তোমাদের জন্য তোমাদের রাজাদের বিপক্ষে যথেষ্ট।





হাদীছটি নিতান্তই দুর্বল।





এটি তাবারানী, তার থেকে আবু নোয়াইম (২/৩৮৯) এবং তাম্মাম (৬/৭৭/১) আবু আমর আল-মিকদাম ইবনু দাউদ হতে তিনি আলী ইবনু মা'বাদ হতে তিনি ওয়াহাব ইবনু রাশেদ হতে ... বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি নিতান্তই দুর্বল। এই মিকদাম ইবনু দাউদ সম্পর্কে ইমাম নাসাঈ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন।





ওয়াহাব ইবনু রাশেদ সম্পর্কে ইবনু আদী বলেনঃ তার হাদীছ সঠিক নয়, তার সকল হাদীছে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মাতরূক।





ইবনু হিব্বান বলেনঃ তার দ্বারা কোন অবস্থাতেই দলীল গ্রহণ করা হালাল নয়। হায়ছামী (৫/২৪৯) বলেনঃ হাদীছটি তাবারানী “আল-আওসাত” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তাতে ওয়াহাব ইবনু রাশেদ রয়েছেন, তিনি মাতরূক।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীছটি দুর্বল হওয়ার জন্য শুধুমাত্র ওয়াহাবকে দোষ দেয়া ঠিক হবে না। কারণ মিকদামও তার ন্যায় দুর্বল ।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (603)


` إن لله تعالى مجاهدين في الأرض أفضل من الشهداء، أحياء مرزوقين، يمشون على الأرض، يباهي الله بهم ملائكة السماء، وتزين لهم الجنة كما تزينت أم سلمة لرسول الله صلى الله عليه وسلم، هم الآمرون بالمعروف والناهون عن المنكر، والمحبون في الله، والمبغضون في الله، والذي نفسي بيده إن العبد منهم ليكون
في الغرفة فوق غرف الشهداء، للغرفة منها ثلاثمائة ألف باب، منها الياقوت والزمرد الأخضر، على كل باب نور، وإن الرجل منهم ليتزوج بثلاثمائة ألف حوراء، قاصرات الطرف عين، كلما التفت إلى واحدة منهن فنظر إليها تقول له: أتذكر يوم كذا وكذا أمرت بالمعروف، ونهيت عن المنكر؟ كلما نظر إلى واحدة منهن ذكرت له مقاما أمر فيه بمعروف، ونهى فيه عن منكر `.
لا أصل له.
ذكره الغزالي (2 / 273) من حديث أبي ذر! وقال الحافظ العراقي في ` تخريجه `: ` لم أقف له على أصل، وهو منكر `.
قلت: ولوائح الوضع عليه ظاهرة. والله أعلم.
‌‌




৬০৩। যমীনের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার পথের মুজাহিদরা রয়েছে যারা শহীদদের চেয়েও উত্তম। তাদেরকে জীবিত অবস্থায় রিয্‌ক দেয়া হয়ে থাকে। তারা যমীনের উপর বিচরণ করে। আল্লাহ তাদের নিয়ে আসমানের ফেরেশতাদের সামনে অহংকার করেন এবং তাদের জন্য জান্নাতকে সাজানো হবে যেরূপ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য উম্মু সালামাকে সাজানো হয়েছিল। তারা সৎকাজের নির্দেশ দিবে অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে। তারা আল্লাহর উদ্দেশ্যেই ভালবাসবে আর আল্লাহর উদ্দেশ্যেই ঘৃণা করবে। ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার আত্মা অবশ্যই তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বান্দা বহু ঘরের উপরের ঘরে বাস করবে। শহীদদের ঘরেরও উপরে। সেই সব ঘরের প্রতিটিতে তিন লক্ষটি দরজা থাকবে। যার কোন কোনটি ইয়াকূত পাথরের আবার কোনটি সবুজ যামরাদ পাথরের। প্রত্যেকটি দরজায় আলো থাকবে। তাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তিনলক্ষটি হরকে বিবাহ করবে। যাদের চোখের দৃষ্টি নিম্নমুখী হবে। তাদের যে কোন একজনের দিকে যখন দৃষ্টি দিবে তখন সে তাকে বলবেঃ তুমি কি সেই দিনটিকে স্মরণ করছ যেদিন তুমি সৎ কর্মের নির্দেশ দিয়েছিলে এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করেছিলে? যখনই তাদের মধ্য হতে যে কোন একজনের দিকে দৃষ্টি দিবে, তখনই সে তাকে স্মরণ করিয়ে দিবে এমন এক স্থানের যেখানে সে সৎ কাজের নির্দেশ দিয়েছিল এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করেছিল।





হাদীছটির কোন ভিত্তি নেই।





এটিকে গাযালী (২/২৭৩) আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। হাফিয ইরাকী তার “তাখরাজুল ইহইয়া” গ্রন্থে বলেছেনঃ হাদীছটির ভিত্তি সম্পর্কে আমি অবহিত হইনি। এটি মুনকার।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির জাল হওয়াটাই সুস্পষ্ট।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (604)


` السلطان ظل من ظل الرحمن في الأرض، يأو ي إليه كل مظلوم من عباده، فإن عدل كان له الأجر، وعلى الرعية الشكر، وإن جار، أو حاف، أو ظلم كان عليه الإصر، وعلى الرعية الصبر، وإذا جارت الولاة قحطت السماء، وإذا منعت الزكاة
هلكت المواشي، وإذا ظهر الربا (وفي نسخة: الزنا) ظهر الفقر والمسكنة، وإذا أخفرت الذمة أديل للكفار `.
موضوع.

أخرجه تمام في ` الفوائد ` (5 / 80 - 81 وفي النسخة الأخرى 5 / 49 - 50) وابن عدي في ` الكامل ` (175 / 1) والضياء في ` المنتقى من مسموعاته بمرو` (27 / 2) من طريق سعيد بن سنان عن أبي الزاهرية عن كثير بن مرة عن عبد الله بن عمر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فذكره.
وروى طرفه الأول القضاعي في ` مسند الشهاب ` (ق 22 / 2) والديلمي (2 / 220) . قلت: وهذا إسناد موضوع، سعيد بن سنان هو أبو مهدي الحمصي اتهمه البخاري بقوله: ` منكر الحديث `. وقال الدارقطني: ` يضع الحديث `. وضعفه سائر الأئمة، وقال ابن عدي: ` عامة ما يرويه غير محفوظ `. ولذلك أورده الذهبي
في ` الضعفاء والمتروكين ` وقال: ` هالك `. وقال الحافظ في ` التقريب `: ` متروك، ورماه الدارقطني وغيره بالوضع `.
والحديث أورده السيوطي في ` الجامع ` من رواية البزار والحكيم والبيهقي عن ابن عمر. وتعقبه المناوي
بقوله: ` وقضية صنيع المصنف أن البيهقي خرجه وسكت عليه: والأمر بخلافه، بل تعقبه بما نصه: وأبو المهدي سعيد بن سنان ضعيف عند أهل العلم بالحديث. انتهى.
وسعيد بن سنان هذا ضعفه ابن معين وغيره، وقال البخاري: منكر الحديث.
وساق في ` الميزان ` من مناكيره هذا الحديث، وجزم الحافظ العراقي بضعف سنده `. وقال الهيثمي في ` مجمع الزوائد ` (5 / 196) : ` رواه البزار، وفيه سعيد بن سنان أبو مهدي، وهو متروك `. وأشار الحافظ المنذري في ` الترغيب ` (3 / 137) إلى تضعيف الحديث.
‌‌




৬০৪। যমীনে বাদশা হচ্ছে দয়াময় আল্লাহর ছায়ার একটি ছায়া। তার বান্দাদের থেকে প্রত্যেক অত্যাচারিত ব্যক্তি তার নিকট আশ্রয় নিয়ে থাকে। সে যদি ইনসাফ করে তাহলে তার জন্য রয়েছে সাওয়াব, আর প্রজার কর্তব্য হচ্ছে শুকরিয়া আদায় করা। আর সে যদি অত্যাচার করে বা অবিচার করে বা যুলুম করে, তাহলে তা তার উপর গুনাহস্বরূপ হবে। তখন প্রজাদের উচিত হবে ধৈর্য ধারণ করা। যখন দায়িত্বশীলরা অত্যাচার করবে তখন আসমান হতে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে। যদি যাকাত বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে চতুষ্পদ জন্তুগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে। যখন সুদের (অন্য বর্ণনায় এসেছে) যেনার বিস্তার ঘটবে তখন দরিদ্রতা ছড়িয়ে পড়বে। যখন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হবে তখন কাফেরদেরকে সহযোগিতা করা হবে।





হাদীছটি জাল।





এটি তাম্মাম (আল-ফাওয়ায়েদ” (৫/৮০-৮১ অন্য কপিতে ৫/৪৯-৫০) গ্রন্থে, ইবনু আদী `আল-কামিল` (১/১৭৫) গ্রন্থে, যিয়া `আল-মুন্তাকা মিম মাসমূয়াতিহি বেমারূ` (২/২৭) গ্রন্থে সাঈদ ইবনু সিনান সূত্রে আবুয যাহেরিয়া হতে তিনি কাছীর ইবনু মুররা হতে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





প্রথম অংশটি কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” (কাফ ২/২২) গ্রন্থে এবং দাইলামী (২/২২০) বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি বানোয়াট। সাঈদ ইবনু সিনান হচ্ছেন আবু মাহদী আল-হিমসী। তাকে ইমাম বুখারী নিম্নোক্ত ভাষায় মিথ্যার দোষে দোষী করেছেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীছ। জুযজানী বলেনঃ আমার ভয় হচ্ছে যে, তার হাদীছগুলো বানোয়াট। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি হাদীছ জালকারী। তাকে সকল ইমাম দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু আদী বলেনঃ তার অধিকাংশ বর্ণনাই নিরাপদ নয়। এ কারণেই ইমাম যাহাবী তাকে “আয-যোয়াফা ওয়াল মাতরূকীন” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি হালেক। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব` গ্রন্থে বলেনঃ তিনি মাতরূক। দারাকুতনী ও অন্য বিদ্বানগণ তাকে জাল করার দোষে দোষী করেছেন।





হাদিসটিকে ইমাম সুয়ূতী `আল-জামে` গ্রন্থে বায্‌যার, হাকীম ও বায়হাকীর বর্ণনায় ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে উল্লেখ করেছেন। এ কারণে মানবী তার সমালোচনা করেছেন। (কারণগুলো পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে)।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (605)


` لوقيل لأهل النار: إنكم ماكثون في النار عدد كل حصاة في الدنيا سنة لفرحوا بها، ولوقيل لأهل الجنة: إنكم ماكثون في الجنة عدد كل حصاة في الدنيا سنة لحزنوا، ولكنهم خلقوا للأبد والأمد `.
موضوع.
رواه الطبراني (3 / 75 / 2) وأبو نعيم (4 / 168) من طريق الحكم بن ظهير عن السدي عن مرة عن ابن مسعود مرفوعا: وقال أبو نعيم: ` تفرد به الحكم بن ظهير `. قلت: وهو كذاب عند ابن معين وغيره، وقال ابن
حبان (1 / 245) : ` يروي عن الثقات الأشياء الموضوعات `. ثم ساق له حديثا آخر، وقال الهيثمي في ` المجمع ` (10 / 396) : ` وهو مجمع على ضعفه `. وقال ابن أبي حاتم في ` العلل ` (2 / 224) : ` قال أبي: هذا حديث منكر `.
وقد أورده السيوطي في ` الجامع ` من رواية الطبراني فأساء. ولم يتعقبه المناوي إلا بقول الهيثمي المذكور! والحديث يدل على أبدية الخلود في النار، والآيات القرآنية والأحاديث الصحيحة تغني عنه من هذه الناحية.
‌‌




৬০৫। যদি জাহান্নামীদেরকে বলা হতো দুনিয়াতে যত পাথর অাছে তত বছরের সমপরিমাণ তোমরা জাহান্নামের আগুনে অবস্থান করবে, তাহলে অবশ্যই তারা তাতে আনন্দিত হতো। আর যদি জান্নাতীদের বলা হতো তোমরা জান্নাতে অবস্থান করবে দুনিয়াতে যত পাথর আছে তত বছরের সমপরিমাণ, তাহলে অবশ্যই তারা চিন্তিত হতো। কিন্তু তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে স্থায়িত্বের জন্য, অনন্তকালের জন্য।





হাদীছটি জাল।





এটিকে তাবারানী (৩/৭৫/২) এবং আবু নোয়াইম (৪/১৬৮) হাকাম ইবনু যহীর সূত্রে সুদ্দী হতে তিনি মুররা হতে তিনি ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসাবে বর্ণনা করেছেন। আবু নোয়াইম বলেনঃ হাকাম এককভাবে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনু মাঈন ও অন্য বিদ্বানগণের নিকট তিনি মিথ্যুক। ইবনু হিব্বান (১/২৪৫) বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে বহু বানোয়াট হাদীছ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি তার অন্য একটি হাদীছ উল্লেখ করেছেন। হায়ছামী `আল-মাজমা` (১০/৩৯৬) গ্রন্থে বলেছেনঃ তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” (২/২২৪) গ্রন্থে বলেন, আমার পিতা বলেছেনঃ এ হাদীছটি মুনকার ।





হাদীছটি সুয়ূতী `আল-জামে` গ্রন্থে তাবারানীর বর্ণনায় উল্লেখ করে ক্রটি করেছেন। মানবী শুধুমাত্র হায়ছামীর উপরোল্লেখিত কথা দ্বারা সমালোচনা করেছেন। কুরআনের আয়াত এবং সহীহ হাদীছ যা জাহান্নামে স্থায়ীভাবে থাকার বিবরণ দিয়েছে তাই আমাদেরকে এরূপ জাল হাদীছ হতে মুক্ত রাখতে পারে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (606)


` ليأتين على جهنم يوم تصفق أبوابها، ما فيها من أمة محمد أحد `.
موضوع.
رواه ابن عدي عن العلاء بن زيدل عن أنس مرفوعا. قلت: والعلاء هذا قال الذهبي: ` تالف، قال ابن المدني: كان يضع الحديث `. وقال ابن حبان (2 / 169) : ` يروي عن أنس بن مالك بنسخة كلها موضوعة، لا يحل ذكره في الكتب إلا على سبيل التعجب `. وإنما أوردت الحديث لأن عالمين فاضلين أورداه ساكتين عليه، أحدهما الحافظ ابن حجر في ` تخريج أحاديث الكشاف ` (4 /87، رقم 194) والآخر المناوي ذكره عند شرحه للحديث الذي قبله محتجا به!
ومعنى الحديث صحيح إن كان المراد بـ ` أمة محمد ` فيه أمة الإجابة لا أمة الدعوة كما هو ظاهر. ويؤيده ما ذكره ابن القيم في ` حادي الأرواح ` (2 / 176 - 177) من رواية إسحاق بن راهويه: حدثنا عبيد الله (بن معاذ) : حدثنا أبي: حدثنا شعبة عن يحيى بن أيوب عن أبي زرعة عن أبي هريرة قال: ` ما أنا بالذي لا أقول: إنه سيأتي على جهنم يوم لا يبقى فيها أحد، وقرأ قوله: (فأما الذين شقوا ففي النار لهم فيها زفير وشهيق) الآية.
قال عبيد الله: كان أصحابنا يقولون: يعني به الموحدين `. وقد روي الحديث عن أبي أمامة ولا يصح أيضا وهو:
‌‌




৬০৬। জাহান্নামের জন্য এমন একটি দিন আসবে যেদিন তার দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। তখন উম্মাতে মুহাম্মাদিয়ার কোন ব্যক্তিই তাতে (জাহান্নামে) থাকবে না।





হাদীছটি জাল।





হাদীছটি ইবনু আদী আলা ইবনু যাইদাল সূত্রে আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসাবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এই আলা সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেনঃ তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত। ইবনুল মাদীনী বলেনঃ তিনি হাদীছ জাল করতেন। ইবনু হিব্বান (২/১৬৯) বলেনঃ তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে একটি কপি বর্ণনা করেছেন যার সবগুলোই বানোয়াট। আশ্চর্য হবার উদ্দেশ্য ছাড়া কোন গ্রন্থে তার হাদীছ উল্লেখ করাই হালাল নয়।





হাদীছটি এখানে উল্লেখ করার কারণ এই যে দু'জন সম্মানিত আলেম এটিকে উল্লেখ করে কোন হুকুম না লাগিয়ে চুপ থেকেছেন। একজন হচ্ছেন হাফিয ইবনু হাজার `তাখরাজু আহাদীছিল কাশশাফ` (৪/৮৭ নং ৯৪) গ্রন্থে আর দ্বিতীয়জন হচ্ছেন মানবী।





হাদীছটির অর্থ সঠিক হিসাবে ধরা যেতে পারে যদি উম্মাত দ্বারা উম্মাতুল ইজাবাহ ধরা হয় (অর্থাৎ যারা তার দাওয়াত কবুল করেছে)। আর যদি উম্মাতে দাওয়াহ (যাদেরকে শুধুমাত্র দাওয়াত দেয়া হয়েছে) ধরা হয় তাহলে এটি জালই থাকবে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (607)


` ليأتين على جهنم يوم كأنها زرع هاج، وآخر تخفق أبوابها `.
باطل.

أخرجه الطبراني في ` جزء من حديثه ` رواية أبي نعيم (28 / 1) والخطيب (9 / 122) عن عبد الله بن مسعود بن كدام عن جعفر عن القاسم عن أبي أمامة مرفوعا به. وذكره ابن الجوزي في ` الموضوعات ` (3 / 268) من هذا الوجه وقال: ` هذا حديث موضوع محال، جعفر هو ابن الزبير متروك `. وأقره السيوطي (2 / 466) ثم ابن عراق (391 / 1) .
وأقول: جعفر هذا وضاع، وقد مضى له أحاديث. لكن الراوي عنه ابن مسعر هالك أيضا، وقد أشار لهذا الذهبي في ترجمة جعفر فقال: ` ويروي بإسناد مظلم عنه حديث متنه: يأتي على جهنم.... `.
ثم أعاده في ترجمة ابن مسعر فقال فيه: ` قال أبو حاتم: متروك الحديث. وقال العقيلي: لا يتابع على حديثه.. ` ثم قال: ` وفي معجم الطبراني من حديث هذا التالف عن جعفر بن الزبير (في الأصل ` الزبير بن سعيد ` وهو تحريف) عن القاسم عن أبي أمامة في انقطاع عذاب جهنم، فهذا باطل `. وأقره الحافظ في ` اللسان ` وأورده في ` تخريج أحاديث الكشاف ` (4 / 87 رقم 194) ولم يعزه لأحد! ولعل الحديث أصله موقوف على بعض الصحابة، رفعه هذا التالف أو شيخه عمدا أو خطأ، فقد أخرجه البزار عن أبي بلج عن عمرو بن ميمون عن عبد الله بن عمرو قال: ` يأتي على النار زمان تخفق أبوابها ليس فيه أحد. يعني من الموحدين `.
قال الحافظ: ` كذا فيه، ورجاله ثقات، والتفسير لا أدري ممن هو؟ وهو أولى من تفسير المصنف `. قلت: الظاهر أن التفسير المذكور، من مخرجه البزار، فقد أخرج الفسوي في ` تاريخه ` بسند البزار عينه عن أبي بلج به، وليس فيه التفسير المذكور، هكذا ذكره الذهبي في ترجمة أبي بلج، وكذا الحافظ في ` التهذيب ` عن الفسوي وزاد: ` قال ثابت البناني: سألت الحسن عن هذا؟ فأنكره `.
وأبو بلج هذا في نفسه ثقة، ولكنه ضعيف من قبل حفظه، ولذلك عد الذهبي هذا الأثر من بلاياه! ثم قال: ` وهو منكر `. وجملة القول أن هذا الحديث لا يصح مرفوعا ولا موقوفا.
هذا وتفسير الزمخشري الذي سبقت الإشارة إليه في كلام الحافظ هو قوله في ` تفسيره ` (2 / 236) : ` وقد بلغني أن من الضلال من اغتر بهذا الحديث فاعتقد أن الكفار لا يخلدون في النار، وهذا والعياذ بالله من الخذلان المبين، ولئن صح هذا عن ابن عمرو فمعناه أنهم يخرجون من النار إلى برد الزمهرير، فذلك خلوجهنم وصفق أبوابها `. وهذا تأويل بعيد.
والأقرب ما سبق عن الحافظ، إلا أنني أرى أن الصواب عدم الاشتغال بالتأويل ما دام أن الحديث لم يصح. والله أعلم. واعلم أن من أذناب هؤلاء الضلال في القول بانتهاء عذاب الكفار الطائفة القاديانية، بل هم قد زادوا في ذلك على إخوانهم الضلال، فذهبوا إلى أن مصير الكفار إلى الجنة! نص على ذلك ابن دجالهم الأكبر محمود بشير بن غلام أحمد في كتاب ` الدعوة الأحمدية `. فمن شاء التأكد من ذلك فليراجعها فإني لم أطلها الآن. وإن مما يجب الوقوف عنده، وتحقيق القول فيه ما ذكره ابن القيم في ` حادي الأرواح إلى بلاد الأفراح ` (2 / 171 - 172) من رواية عبد بن حميد (قال) : بإسنادين صحيحين له عن الحسن قال:
قال عمر بن الخطاب: ` لولبث أهل النار عدد رمل عالج، لكان لهم يوم يخرجون فيه `. ذكر ذلك في تفسير قوله تعالى (لابثين فيها أحقابا) .
وقال ابن القيم: ` وحسبك بهذا الإسناد جلالة، والحسن وإن لم يسمع من عمر، فإنما رواه عن بعض التابعين، ولو لم يصح عنده ذلك عن عمر لما جزم به وقال: قال عمر بن الخطاب `.
قلت: هذا كلام خطابي، أستغرب صدوره من ابن القيم رحمه الله. لأنه خلاف ما هو مقرر عند أهل الحديث في تعريف الحديث الصحيح: أنه المسند المتصل برواية العدل الضابط، فإذا اعترف بانقطاعه بين الحسن وعمر، فهو مناف للصحة بله الجلالة! وخلاف المعروف عندهم من ردهم لمراسيل الحسن البصري خاصة، ولذلك قال الحافظ ابن حجر في أثر الحسن هذا نفسه: ` فهو منقطع، ومراسيل الحسن عندهم واهية، لأنه كان يأخذ من كل أحد `! وقوله: ` فإنما رواه عن بعض التابعين،.... ` قلنا: نعم، فكان ماذا؟ أليس كذلك كل مرسل تابعي؟ إنما رواه عن تابعي إن لم يكن عن صحابي؟ فلماذا إذن اعتبر المحدثون الحديث المرسل أو المنقطع من قسم الحديث الضعيف؟ ذلك لاحتمال أن يكون الرجل الساقط من الإسناد مجهولا أو ضعيفا لا يحتج به لوعرف، وهذا بخلاف ما لوكان المرسل لا يروي إلا عن صحابي فإن حديثه حجة، لأن الصحابة كلهم عدول، فهذا المرسل فقط هو الذي يحتج به من بين المراسيل كلها، وهو الذي اختاره الغزالي وصححه الحافظ العلائي في ` جامع التحصيل في أحكام المراسيل ` (7 / 1) ، وأما دعوى البعض أن الإجماع كان على الاحتجاج بالحديث المرسل حتى جاء
الإمام الشافعي، فدعوى باطلة مردودة بأمور منها ما رواه مسلم في مقدمة ` صحيحه ` (1 / 12) عن عبد
الله بن المبارك أنه رد حديث ` إن من البر بعد البر أن تصلي لهما مع صلاتك، وتصوم لهما مع صيامك ` بعلة الإرسال، في قصة له تراجع هناك.
وابن المبارك رحمه الله توفي قبل الشافعي بأكثر من عشرين سنة. وكلام ابن القيم المذكور - مع مخالفته للأصول - يلزمه أن يقبل مراسيل الحسن البصري كلها إذا صح السند إليه بها، وما أخاله يلتزم ذلك، كيف ومنها ما رواه عن سمرة مرفوعا. ` لما حملت حواء طاف بها إبليس، وكان لا يعيش لها ولد، فقال: سميه عبد الحارث. فسمته عبد الحارث، فعاش، وكان ذلك من وحي الشيطان وأمره `.
فهذا إسناده خير من إسناد الحسن عن عمر، لأنه قد قيل أن الحسن سمع من سمرة، بل ثبت أنه سمع منه حديث العقيقة في ` صحيح البخاري `، وهو مع جلالته، مدلس لا يحتج بما عنعنه من الحديث، ولوكان قد لقي الذي دلس عنه كسمرة، فهل يحتج ابن القيم بحديثه هذا عن سمرة ويقول فيه: ` فإنما رواه عن بعض التابعين … `؟ ! كلا إن ابن القيم رحمه الله تعالى أعلم وأفقه من أن يفعل ذلك، مع العلم أن بعضهم قد فسر بهذا الحديث قوله تعالى: (فلما آتاهما صالحا جعلا له شركاء فيما آتاهما)
فأرجع ضمير (جعلا) إلى آدم وحواء عليهما السلام! مع أن الحسن نفسه لم يفسر الآية بحديثه هذا كما بيناه فيما تقدم (رقم 342) ، وكذلك صنع ابن القيم فإنه فسر الآية المذكورة بنحوما فسره الحسن، قال في ` التبيان ` (264) : ` فاستطرد من ذكر الأبو ين إلى ذكر المشركين من أولادهم `.
وكم من حديث من رواية الحسن مرسلا أو منقطعا لم يأخذ به ابن القيم كغيره من أهل العلم بل إن بعضها ثبت عن الحسن الإفتاء بخلافه، وليس هذا مجال بيانه، غير أني أقول: إن هذا الأثر الذي رواه الحسن عن عمر، هو في المعنى كالأثر المتقدم الذي رواه أبو بلج عن عبد الله بن عمرو.
ومع ذلك لما سئل عنه الحسن رحمه الله تعالى أنكره، كما تقدم من رواية الفسوي عن ثابت عنه. وأقول الآن: إن حديث بطلان الصلاة بالقهقهة قد جاء مرسلا عن جماعة من التابعين أشهرهم أبو العالية، ومنهم الحسن البصري، وهو صحيح عنه، فقد قال البيهقي في ` كتاب معرفة السنن والآثار ` (ص 139 - طبع الهند) : ` وقد رواه جماعة عن الحسن البصري مرسلا `.
فهل يأخذ به ابن القيم؟! ويؤسفني أن أقول: إن القاديانية في ضلالهم المشار إليه آنفا (ص 73) يجدون متكئا لهم في بعض ما ذهبوا إليه في بعض كتب أئمتنا من أهل السنة، فقد عقد العلامة ابن القيم في كتابه ` الحادي ` فصلا خاصا في أبدية النار، أطال الكلام فيه جدا، وحكى في ذلك سبعة أقوال، أبطلها كلها سوى قولين منها:
الأول: أن النار لا يخرج منها أحد من الكفار، ولكن الله عز وجل ينفيها، ويزول عذابها. والآخر: أنها لا تفنى، أن عذابها أبدي دائم. وقد ساق فيه أدلة الفريقين وحججهم من المنقول والمعقول، مع مناقشتها، وبيان ما لها وما عليها. والذي يتأمل في طريقة عرضه للأدلة ومناقشته إياها، يستشعر من ذلك أنه يميل إلى القول الأول، ولكنه لم يجزم بذلك، فراجع إن شئت الوقوف على كلامه مفصلا الكتاب المذكور (2 / 167 - 228 طبع الكردي) .
ولكنني وجدته يصرح في بعض كتبه الأخرى بأن نار الكفار لا تفنى وهذا هو الظن به، فقال رحمه الله في ` الوابل الصيب ` (ص 26) ما نصه:
` وأما النار فإنها دار الخبث في الأقوال والأعمال والمآكل والمشارب ودار الخبيثين، فالله تعالى يجمع الخبيث بعضه إلى بعض فيركمه كما يركم الشيء لتراكب بعضه على بعض، ثم يجعله في جهنم مع أهله. فليس فيها إلا خبيث، ولما كان الناس على ثلاث طبقات: طيب لا يشوبه خبث، وخبيث لا طيب فيه، وآخرون فيهم خبث وطيب - كانت دورهم ثلاثة:
دار الطيب المحض، ودار الخبث المحض، وهاتان الداران لا تفنيان. ودار لمن معه خبث وطيب وهي الدار التي تفنى، وهي دار العصاة فإنه لا يبقى في جهنم من عصاة الموحدين أحد، فإنهم إذا عذبوا بقدر جزائهم أخرجوا من النار فأدخلوا الجنة، ولا يبقى إلا دار الطيب المحض، ودار الخبث المحض `. ولشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى قاعدة في الرد على من قال بفناء الجنة والنار، لم نقف عليها، وإنما ذكرها الشيخ يوسف بن عبد الهادي في ` فهرسته ` (ق / 26 / 1) .
‌‌




৬০৭। জাহান্নামের উপর এমন একদিন আসবে যেন তা পিপাসার্ত ক্ষেত। আরেক দিন আসবে যখন দরজাগুলো শব্দ করতে থাকবে।





হাদীছটি বাতিল।





এটি ইমাম তাবরানী তার `জুযউম মিন হাদীছিহি` গ্রন্থে আবু নোয়াইম (১/২৮) এবং আল-খাতীব কর্তৃক `আত-তারীখ` (৯/১২২) গ্রন্থের বর্ণনা হতে আব্দুল্লাহ ইবনু মিস’আর হতে তিনি জাফার হতে ... বর্ণনা করেছেন। এটিকে ইবনুল জাওয়ী `আল-মাওযুআত` (৩/২৬৮) গ্রন্থে এ সূত্রেই উল্লেখ করে বলেছেনঃ এ হাদীছটি বানোয়াট। জাফার ইবনুয যুবায়ের মাতরূক। সুয়ূতী (২/৪৬৬) এবং ইবনু ইরাক (১/৩৯১) তার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এই জাফার জালকারী। পূর্বেও তার কতিপয় হাদীছ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ইবনু মিস'আরও হালেক । ইমাম যাহাবী জাফারের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেনঃ তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন সনদের বর্ণনাকারী।





তিনি ইবনু মিস'আরের জীবনীতে বলেনঃ আবু হাতিম বলেছেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীছ। উকায়লী বলেনঃ তার হাদীছের মুতাবা'য়াত করা যাবে না। অতঃপর তিনি এ হাদীছটি সম্পর্কে বলেছেনঃ হাদীছটি বাতিল।





হাফিয ইবনু হাজার `আল-লিসান` গ্রন্থে তার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তবে তিনি `তাখরীজু আহাদিছিল কাশশাফ` (৪/৮৭ নং ১৯৪) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেননি কে বর্ণনা করেছেন।





সম্ভবত হাদীছটি কোন সাহাবী হতে মওকুফ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু মওকুফের সনদে বর্ণনাকারী আবু বালজ রয়েছেন। তিনি হেফযের দিক দিয়ে দুর্বল। এ জন্য যাহাবী বলেছেনঃ এটি তার বিপদগুলোর অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর বলেছেনঃ এটি মুনকার।





মোটকথা হাদীছটি মারফূ' এবং মওকুফ উভয় দিক দিয়েই সহীহ নয়।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (608)


` ليؤمكم أحسنكم وجها، فإنه أحرى أن يكون أحسنكم خلقا، وقوا بأموالكم عن أعراضكم، وليصانع أحدكم بلسانه عن دينه `.
موضوع.
رواه ابن عدي (97 / 2) وعنه ابن عساكر (5 / 64 / 1) عن حسين بن المبارك الطبراني: حدثنا إسماعيل بن عياش عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة مرفوعا. وقال ابن عدي: ` حسين هذا حدث بأسانيد ومتون منكرة عن أهل الشام `. ونقل الذهبي وتبعه المناوي عنه أعني ابن عدي أنه قال فيه: ` متهم `. ولم أجد هذا في نسختنا من ` الكامل ` ثم ساق له الذهبي حديثا قال عقبه: `
وهذا كذب `. وتقدم الكلام عليه برقم (191) . والحديث أورده ابن الجوزي في ` الموضوعات ` (1 / 100) من طريق الحضرمي: حدثنا
حسان بن يوسف التميمي حدثنا محمد بن مروان عن هشام بن عروة به وقال: ` موضوع. الحضرمي مجهول، ومحمد بن مروان السدي كذاب، وتابعه حسين بن المبارك عن إسماعيل بن عياش عن هشام، والبلاء من حسين، فإنه يحدث بمنكرات `. والحديث رواه الديلمي من طريق الحسين هذا، كما في ` اللآلي ` (2 / 22) . ورواه ابن عساكر (15 / 240 / 1) من طريق محمد بن صبح بن يوسف: حدثنا إسماعيل بن محمد بن عبد الله بن أبي البحتري عن هشام بن عروة به. أورده في ترجمة محمد بن صبح ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا، ومن بينه وبين هشام لم أعرفهم، وسكت السيوطي عنه! ثم ذكر له شاهدا من حديث عمرو بن أخطب نحوه، وسأتكلم عليه عقب هذا إن شاء الله تعالى.
واعلم أنه ليس في الشرع ما يدل على أن هناك ارتباطا بين حسن الوجه وحسن الخلق، فقد يتلازمان وقد ينفكان، وقد روى أحمد في ` مسنده ` (3 / 492) أن أبا لهب لعنه الله كان وضيء الوجه من أجمل الناس، بل قال ابن كثير: ` وإنما سمي أبا لهب لإشراق وجهه ` ومع ذلك فقد كان من أسوء خلق الله خلقا، وأشدهم إيذاء لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وازدراء به كما هو مشهور عنه، وقد صح عنه صلى الله عليه وسلم قوله: ` إن الله لا ينظر إلى صوركم، ولا إلى أجسامكم، ولا إلى أموالكم، ولكن ينظر إلى قلوبكم وأعمالكم ` رواه مسلم وغيره.
‌‌




৬০৮। তোমাদের ইমামতি করবে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর চেহারার অধিকারী ব্যক্তি। কারণ তোমাদের মধ্যে তার চরিত্রই উত্তম হওয়ার কথা। আর তোমাদের ধন-সম্পদ দ্বারা তোমাদের খ্যাতিকে রক্ষা কর। তোমাদের কোন ব্যক্তি যেন তার যবানকে তার দ্বীনের ব্যাপারে নরম করে।





হাদীছটি জাল।





এটি ইবনু আদী (২/৯৭) এবং তার থেকে ইবনু আসাকির (৫/৬৪/১) হুসাইন ইবনুল মুবারাক আত-তাবরানী হতে তিনি ইসমাঈল ইবনু আইয়াশ হতে ...বর্ণনা করেছেন।





ইবনু আদী বলেনঃ এই হুসাইন শামবাসীদের থেকে মুনকার সনদ এবং মুনকার ভাষা দ্বারা হাদীছ বর্ণনা করেছেন। ইমাম যাহাবী এবং মানবী উভয়ে ইবনু আদী হতে নকল করেছেন, তিনি বলেনঃ তিনি মিথ্যার দোষে দোষী। কিন্তু আমি (আলবানী) “আল-কামিল” গ্রন্থের আমাদের কপিতে পাচ্ছি না। অতঃপর যাহাবী তার আরেকটি হাদীছ উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি মিথ্যা। সেটি সম্পর্কে ১৯১ নং হাদীছে আলোচনা করা হয়েছে। হাদীছটি ইবনুল জাওয়ী “আল-মাওযু’আত” (১/১০০) গ্রন্থে হাযরামীর সূত্রে হাসসান ইবনু ইউসুফ আত-তামীমী হতে তিনি মুহাম্মাদ ইবনু মারওয়ান হতে ... বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটি বানোয়াট। হাযরামী মাজহুল আর মুহাম্মাদ মিথ্যুক। হুসাইন ইবনুল মুবারাক ইসমাঈল ইবনু আইয়াশ হতে তার মুতাবা'য়াত করেছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে হুসানের মধ্যে। কারণ তিনি মুনকার হাদীছ বর্ণনা করেছেন।





হাদীছটি দাইলামী এই হুসাইন সূত্রেই বর্ণনা করেছেন। যেমনটি “আল-লাআলী` (২/২২) গ্রন্থে এসেছে।





ইবনু আসাকির (১৫/২৪০/১) মুহাম্মাদ ইবনু সুবহ সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই মুহাম্মাদের জীবনীতে ভাল-মন্দ কিছুই উল্লেখ করেননি। এ ছাড়া তার ও হিশামের মাঝের বর্ণনাকারী ইসমাঈল ইবনু মুহাম্মাদকে আমি চিনি না। সুয়ুতীও তার ব্যাপারে চুপ থেকেছেন।





জেনে রাখুন! শরীয়তের মধ্যে এমন কিছুর প্রমাণ মিলে না যে, ভাল চেহারার সাথে ভাল চরিত্রের কোন সম্পর্ক রয়েছে। কখনও তা হতেও পারে আবার কখনও বিপরীতও হতে পারে। ইমাম আহমাদ তার `মুসনাদ` (৩/৪৯২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, আবু লাহাব (আল্লাহর অভিশাপ তার উপর)-এর চেহারায় উজ্জ্বলতা ছিল, সে লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর ছিল। ইবনু কাহীর বলেনঃ তার চেহারায় উজ্জ্বলতা থাকার কারণেই আবু লাহাব বলা হতো। অথচ চরিত্রের দিকে দিয়ে আল্লাহর সর্বাপেক্ষ নিকৃষ্ট সৃষ্টি ছিল।





সহীহ হাদীছে বলা হয়েছেঃ





إن الله لا ينظر إلى صوركم، ولا إلى أجسامكم، ولا إلى أموالكم، ولكن ينظر إلى قلوبكم وأعمالكم رواه مسلم وغيره





অর্থঃ 'আল্লাহ তা'আলা তোমাদের আকৃতি, তোমাদের শরীর ও তোমাদের ধন-সম্পদের দিকে দৃষ্টি দিবেন না। বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে দৃষ্টি দিবেন। হাদীছটি ইমাম মুসলিম ও অন্য বিদ্বানগণ বর্ণনা করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (609)


` إذا كانوا ثلاثة فليؤمهم أقرؤهم لكتاب الله، فإن كانوا في القراءة سواء، فأكبرهم سنا، فإن كانوا في السن سواء فأحسنهم وجها `.
منكر لا أصل له.

أخرجه البيهقي (3 / 121) عن عبد العزيز بن معاوية بن عبد العزيز أبي خالد القاضي من ولد عتاب بن أسيد: أنبأ أبو عاصم: أنبأ عزرة بن ثابت عن علباء بن أحمر عن أبي زيد الأنصاري (وهو عمرو بن أخطب) مرفوعا. وأشار البيهقي لضعفه بقوله: ` إن صح `.
وعلته عبد العزيز هذا ذكره ابن حبان في ` الثقات ` واستنكر له هذا الحديث وقال: ` هذا منكر لا أصل له، ولعله أدخل عليه، وما عدا هذا من حديثه يشبه حديث الأثبات `.
ذكره الحافظ في ` تهذيب التهذيب ` وأقره. وقال المناوي: ` وفيه عبد العزيز بن معاوية، غمزه الحاكم بهذا الحديث، وقال: هو خبر منكر. ورده في ` المهذب ` بأن مسلما روى حديثا بهذا السند. انتهى. وبه يعرف أن رمز المصنف لضعفه غير صواب، وأن حكم ابن الجوزي بوضعه تهور `.
قلت: وفيه عديد من الموآخذات:
الأول: أن مسلما لم يحتج بعبد العزيز هذا، وإنما روى له في المقدمة.
الثاني: أن السيوطي نفسه أقر في ` اللآلي ` (2 / 22) الحاكم على غمزه المذكور.
الثالث: أن ابن الجوزي لم يورد هذا الحديث مطلقا وإنما أورد الجملة الأخيرة منه من طريق أخرى في حديث آخر وهو موضوع باعتراف الذهبي صاحب ` المهذب `، وإقرار المناوي نفسه له كما مضى في الحديث الذي قبله. رابعا: أن أبا أحمد الحاكم لميتفرد بإنكار الحديث بل تابعه عليه ابن حبان، وأقره الحافظ، وضعفه البيهقي كما ذكرته عنه آنفا. خامسا: أن هناك أحاديث صحيحة تبين الأحق بالإمامة مثل حديث أبي مسعود البدري مرفوعا: ` يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله، فإن كانوا في القراءة سواء فأعلمهم بالسنة، فإن كانوا في السنة سواء فأقدمهم هجرة، فإن كانوا في الهجرة سواء فأكبرهم سنا `. رواه مسلم وغيره.
وليس فيه ولا في غيره ذكر للأحسن وجها. فهذا من الأدلة على صحة حكم الأئمة المذكورين على هذا الحديث بالإنكار.
فأنى للحديث ما أراده له المناوي من القوة! والله أعلم.
وقد ذهبت بعض المذاهب إلى تقديم الأحسن وجها بعد الاستواء في الشروط الأخرى عملا بهذا الحديث المنكر. بل بالغت بعضها فقالت: ` فالأحسن زوجة لشدة عفته، فأكبرهم رأسا، فأصغرهم عضوا `!
‌‌




৬০৯। যখন তিন ব্যক্তি একত্রিত হবে তখন তাদের মধ্যের কিতাবুল্লাহকে উত্তমরূপে পাঠকারী ব্যক্তি ইমামতি করবে। যদি (কিতাবুল্লাহকে) পাঠ করার ক্ষেত্রে সমান হয়ে যায় তাহলে তাদের মধ্যের বয়সে বড় ব্যক্তি ইমামতি করবে। যদি বয়সের ক্ষেত্রে সমান হয়ে যায় তাহলে তাদের মধ্যে যার চেহারা বেশী সুন্দর সে ইমামতি করবে।





হাদীছটি মুনকার এর কোন ভিত্তি নেই।





এটিকে বাইহাকী (৩/১২১) আব্দুল আযীয ইবনু মায়াবিয়া হতে ...বর্ণনা করে দুর্বল হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।





হাদীছটির সমস্যা হচ্ছে এই আব্দুল আযীয। তাকে ইবনু হিব্বান `আছ-ছিকাত` গ্রন্থে উল্লেখ করে তার এ হাদীছটিকে অস্বীকার করে বলেছেনঃ এটি মুনকার, এর কোন ভিত্তি নেই। সম্ভবত তার উপর এটিকে প্রবেশ করানো হয়েছে। এটি ছাড়া তার হাদীছ নির্ভরযোগ্যদের হাদীছের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। হাফিয ইবনু হাজার হাদীছটি `তাহযীবুত তাহযীব` গ্রন্থে উল্লেখ করে ইবনু হিব্বানের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। মানবী বলেছেনঃ তাতে আব্দুল আযীয রয়েছেন। তাকে হাকিম এ হাদীছ দ্বারা আক্রমণ করে বলেছেনঃ হাদীছটি মনুকার। এ হতেই বুঝা যাচ্ছে যে, শুধুমাত্র দুর্বল বলাটা সঠিক নয়।





এ ছাড়া সহীহ হাদীছে এসেছেঃ `তোমাদের মধ্যে কিতাবুল্লাহকে উত্তমরূপে পাঠকারী ব্যক্তি ইমামতি করবে, যদি (কিতাবুল্লাহকে) পাঠ করার ক্ষেত্রে সমান হয়ে যায় তাহলে তাদের মধ্যের যে ব্যক্তি সুন্নাতের জ্ঞান বেশী রাখে সে ইমামতি করবে। যদি তারা সুন্নাতের জ্ঞানের দিক দিয়ে সমান হয়ে যায়, তাহলে যে আগে হিযরত করেছে সে তাদের ইমামতি করবে। যদি হিযরতের দিক দিয়ে সমান হয়ে যায়, তাহলে তাদের মধ্যে বয়সে বড় ব্যক্তি ইমামতি করবে।` হাদীছটি ইমাম মুসলিম ও অন্য বিদ্বানগণ বর্ণনা করেছেন।





এই সহীহ হাদীছ সহ অন্য কোন সহীহ হাদীছে সুন্দর চেহারার কথা বলা হয়নি। উল্লেখিত ইমামগণ আলোচ্য হাদীছটিকে অস্বীকার করেছেন। কোন কোন মাযহাবের মধ্যে এ মুনকার হাদীছকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করে সুন্দর চেহারার ইমামকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়ে থাকে। বরং তাদের কেউ কেউ বাড়াবাড়ি করে বলেনঃ যার স্ত্রী সুন্দর ইমামতিতে সে অগ্রাধিকার পাবে, কারণ সে নিজকে পবিত্র রাখতে সক্ষম। অতঃপর যার মাথা বড় সে, অতঃপর যার অঙ্গটা (পুরুষাঙ্গ) বেশী ছোট সে ইমামতি করবে।' এ তথ্যের জন্য হানাকী মাযহাবের `মারাকিয়ুল ফালাহ` (পৃঃ ৫৫) গ্রন্থটি দেখুন। কার পুরুষাঙ্গ কত ছোট কিভাবে দেখবেন? গুপ্তাঙ্গ না খুলে কি তা দেখা সম্ভব? এটি কি বিবেকবর্জিত কথা নয়? তার পরেও তার নাম দিয়েছেন এরূপ মতামতকে নাকি বলা হয় ফিকাহ! হে আল্লাহ তোমার হেদায়াত প্রার্থনা করছি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (610)


` ما من مؤمن يعزي أخاه بمصيبة إلا كساه الله سبحانه من حلل الكرامة يوم القيامة `.
ضعيف.

أخرجه ابن ماجه (1 / 486) عن قيس أبي عمارة مولى الأنصار قال: سمعت عبد الله بن أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم يحدث عن أبيه عن جده مرفوعا. وهذا سند ضعيف من أجل قيس هذا. قال البخاري: ` فيه نظر `. وذكره العقيلي في ` الضعفاء ` وأورد له حديثين وقال: ` لا يتابع عليهما `، أحدهما هذا. وأما ابن حبان فذكره في ` الثقات ` فلا يلتفت إليه،
بعد جرح إمام الأئمة له، ولهذا قال الحافظ في ترجمته من ` التقريب `: ` فيه لين `. فمن العجائب أن يسكت الحافظ على الحديث في ` التلخيص ` (5 / 252) ، وتبعه على ذلك السيوطي في ` اللآلي ` (2 / 424) . وأعجب منه قول النووي في ` الأذكار ` (188) : ` إسناده حسن ` وأقره المناوي! ولعل النووي تنبه فيما بعد لعلته فلم يورده في ` الرياض `. والله أعلم.
‌‌




৬১০। যে মুমিন ব্যক্তি বিপদাপদে তার ভাইকে সমবেদনা জানাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাকে কিয়ামতের দিন সম্মানের অলংকার পরিধান করিয়ে দিবেন।





হাদীছটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু মাজাহ কায়েস আবু আম্মারা হতে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আবী বাকর হতে ... বর্ণনা করেছেন। এই কায়েসের কারণে এ সনদটি দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেনঃ তার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। উকায়লী তাকে ঠআয-যোয়াফা` গ্রন্থে উল্লেখ করে তার দু'টি হাদীছ নিয়ে এসেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ হাদীছ দুটির মুতাবা'য়াত করা হয়নি। দুটির একটি হচ্ছে এটি। ইবনু হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন সে দিকে দৃষ্টি দেয়া যাবে না। কারণ পূর্বে বহুবার আলোচনা করা হয়েছে। এ কারণে ইবনু হাজার `আত-তাকরীব` গ্রন্থে বলেনঃ তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে।





আশ্চর্যজনক ব্যাপার এই যে, হাফিয ইবনু হাজার `আত-তালখীস` (৫/২৫২) গ্রন্থে হাদীছটি উল্লেখ করে চুপ থেকেছেন। সুয়ূতীও `আল-লাআলী` (২/৪২৪) গ্রন্থে তাকে অনুসরণ করেছেন। তার চেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, ইমাম নাবাবী “আল-আযকার` (১৮৮) গ্রন্থে বলেছেনঃ সনদটি হাসান। আর মানবী তাকে সমর্থন করেছেন। সম্ভবত ইমাম নাবাবী হাদীছটির সমস্যা সম্পর্কে পরবর্তীতে অবগত হয়েছেন। যার জন্য তিনি “আর-রিয়ায` গ্রন্থে উল্লেখ করেননি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (611)


` ما خاب من استخار، ولا ندم من استشار، ولا عال من اقتصد `.
موضوع.
رواه الطبراني في ` الصغير ` (ص 204) عن عبد القدوس بن عبد السلام بن عبد القدوس: حدثني أبي عن جدي عبد القدوس بن حبيب عن الحسن عن أنس مرفوعا. وقال: ` لم يرو هـ عن الحسن إلا عبد القدوس تفرد به ولده عنه `.
قلت: عبد القدوس الجد: كذاب، وابنه اتهمه بالوضع ابن حبان كما سيأتي في الحديث (767) . والحديث عزاه السيوطي في ` الجامع ` للطبراني في ` الأوسط ` فقط وهو قصور، وكذلك عزاه له الحافظ في ` اللسان `، ومنه تبين أن السند واحد. فلم يحسن السيوطي بإيراده في ` الجامع ` مع تفرد هذا الكذاب به! .
‌‌




৬১১। যে ব্যক্তি ইসতিখারা (মঙ্গল প্রার্থনা) করবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। যে ব্যক্তি পরামর্শ করবে সে অনুতপ্ত হবে না। যে ব্যক্তি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে চলবে সে কারো মুখাপেক্ষী হবে না।





হাদীছটি জাল।





এটি তাবারানী “মুজামুস সাগীর” (পৃঃ ২০৪) গ্রন্থে আব্দুল কুদ্দুস ইবনু আবদিস সালাম ইবনে আব্দিল কুদ্দুস হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি তার দাদা আব্দুল কুদ্দুস ইবনু হাবীব হতে তিনি হাসান হতে ... বর্ণনা করেছেন। তাবারানী বলেনঃ হাসান হতে আব্দুল কুদ্দুস এককভাবে এবং তার ছেলে তার থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ দাদা আব্দুল কুদ্দুস মিথ্যুক। আর ছেলেকে ইবনু হিব্বান জাল করার দোষে দোষী করেছেন। যেমনটি ৭৬৭ নং হাদীছে আসবে।





সুয়ুতী হাদীছটি `আল-জামে` গ্রন্থে শুধুমাত্র তাবরানীর “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে হাফিয ইবনু হাজার “আল-লিসান” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এ হতে বুঝা যাচ্ছে যে সনদ একই। মিথ্যুক ব্যক্তি এককভাবে বর্ণনা করা সত্ত্বেও সুয়ুতী কর্তৃক “আল-জামে” গ্রন্থে উল্লেখ করা সঠিক হয়নি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (612)


` الأكل مع الخادم من التواضع، فمن أكل معه اشتاقت إليه الجنة `.
موضوع.
الديلمي (1 / 2 / 268) عن أبي علي بن الأشعث: حدثنا شريح بن عبد الكريم: حدثنا جعفر بن محمد بن جعفر بن محمد بن علي الحسيني أبو الفضل في كتاب ` العروس `: حدثنا محمد بن كثير القرشي: حدثنا الأوزاعي عن يحيى بن أبي كثير عن أبي سلمة عن أم سلمة مرفوعا.
قلت: أورده السيوطي في ` ذيل الأحاديث الموضوعة ` (ص 195) في جملة أحاديث ذكرها من طريق الديلمي بإسناده عن أبي الفضل هذا، وقال السيوطي: ` ابن الأشعث كذبوه، وقال الديلمي: أسانيد ` كتاب العروس ` واهية لا يعتمد عليها، والأحاديث منكرة جدا `. قلت: ومحمد بن كثير القرشي قال أحمد: ` حرقنا حديثه `، وقال البخاري: ` منكر الحديث `.
وجعفر بن محمد الحسيني قال الجوزقاني في ` كتاب الأباطيل `: ` مجروح `. وبه أعله ابن عراق في ` تنزيه الشريعة ` (2 / 267) وقال في ترجمته من المقدمة (1 / 45) : ` أشار الديلمي إلى اتهامه `. يعني قول الديلمي المتقدم. والحديث قال المناوي: ` سنده ضعيف `. والظاهر أنه اقتصر على تضعيفه بناء منه على قاعدة أن ما تفرد به الديلمي فهو ضعيف، وإلا فإنه لورجع إلى سنده لحكم عليه بالوضع كما صنع السيوطي على تساهله، ومع ذلك فقد تناقض السيوطي، فأورده في ` الجامع الصغير ` أيضا!
‌‌




৬১২। খাদেমের সাথে খাওয়া হচ্ছে বিনম্রতার অন্তর্ভুক্ত। যে তার সাথে খাবে তার জন্য জান্নাত অত্যাধিক আগ্রহ প্রকাশ করবে।





হাদীছটি জাল।





এটি দাইলামী (১/২/২৬৮) আবু আলী ইবনুল আশয়াছ হতে তিনি শুরায়িহ ইবনু আব্দিল কারীম হতে তিনি জাফার ইবনু মুহাম্মাদ হতে ... বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীছটিকে সুয়ূতী “যায়লুল আহাদীছিল মাওযুআহ” (পৃঃ ১৯৫) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ ইবনুল আশয়াছকে তারা (মুহাদ্দিছগণ) মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। দাইলামী বলেনঃ “কিতাবুল আরাস”-এর সনদগুলো খুবই দুর্বল। তার উপর নির্ভর করা যায় না। আর হাদীছগুলো নিতান্তই মুনকার।





আমি (আলবানী) বলছিঃ `কিতাবুল আরূসের` বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু কাছীর আল-কুরাশী সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ তার হাদীছকে আমরা পুড়িয়ে দিয়েছি। ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীছ। জাফর ইবনু মুহাম্মাদ সম্পর্কে জুযকানী “কিতাবুল আবাতীল” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সমালোচিত। তার দ্বারাই ইবনু ইরাক `তানীহুশ শারীয়াহ` (২/২৬৭) গ্রন্থে সমস্যা বর্ণনা করেছেন এবং তার মুকাদ্দিমাতে (১/৪৫) বলেছেনঃ দাইলামী তাকে মিথ্যার দোষে দোষী করেছেন। তা সত্ত্বেও সুয়ূতী “আল-জামেউস সাগীর” গ্রন্থে হাদীছটি উল্লেখ করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (613)


` ادفنوا موتاكم وسط قوم صالحين، فإن الميت يتأذى بجار السوء كما يتأذى الحي بجار السوء `.
موضوع.

أخرجه أبو نعيم في ` الحلية ` (6 / 354) وأبو عبد الله الفلاكي في ` الفوائد ` (ق 91 / 1) عن سليمان بن عيسى: حدثنا مالك عن عمه أبي سهيل بن مالك عن أبي هريرة مرفوعا. وقال أبو نعيم: ` غريب لم نكتبه إلا من هذا الوجه `. قلت: وهو موضوع، آفته سليمان هذا وهو السجزي، وهو كذاب كما قال أبو حاتم وغيره، وقال ابن عدي: ` يضع الحديث `.
ومن طريقه أورده ابن الجوزي في ` الموضوعات ` وقال (3 / 237) : ` لا يصح، سليمان كذاب، ورواه داود بن الحصين عن إبراهيم بن الأشعث عن مروان بن معاوية الفزاري عن سهيل بن أبي صالح عن أبيه عن أبي هريرة مرفوعا به. قال ابن حبان: داود يحدث عن الثقات بما لا يشبه حديث الأثبات، يجب مجانبة روايته، والبلية في هذا منه: قال: وهذا خبر باطل لا أصل له من كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم، [ومن روى مثل هذا الخبر عن إبراهيم بن الأشعث عن مروان عن سهيل عن أبيه عن أبي هريرة مرفوعا.
وجب مجانبة روايته، لأن إبراهيم بن الأشعث يقال له: إمام (1) من أهل بخارى ثقة مأمون، والبلية في هذا الحديث من داود هذا] ` (2) .
قلت: لكن تعقبه الدارقطني في تعليقه عليه فقال: ` إبراهيم بن الأشعث ضعيف يحدث عن الثقات بما لا أصل له. وزعموا أنه كان من العباد. ومروان الفزاري لم يسمع من سهيل بن أبي صالح ولا روى عنه مما انتهى إلينا `.
(1) كذا الأصل، وفي ` الجرح والتعديل `: ` ويعرف بـ (لام) `. ولعله الصواب.
(2) زيادة من ` كتاب المجروحين ` لابن حبان (1 / 286) .
قلت: ويؤيد تضعيف الدارقطني لإبراهيم أن ابن حبان نفسه لما أورد إبراهيم في ` الثقات ` قال: ` يغرب وينفرد فيخطئ ويخالف `.
فهذا منه نقض لوصفه إياه بأنه ثقة مأمون، لأنها لا تلقي مع وصفه إياه بأنه يخطئ ويخالف، بل هذا إلى التضعيف أقرب منه إلى التوثيق فتأمل، لاسيما وقد اتهمه ابن أبي حاتم (1 / 1 / 88) عن أبيه بحديث موضوع وقال: ` كنا نظن بإبراهيم الخير فقد جاء بمثل هذا! `.
واعلم أن داود بن الحصين هذا ليس هو الأموي مولاهم فإن ذاك مدني، وهذا من (المنصورة) كما في ` ضعفاء ابن حبان ` و (المنصورة) عدة مواضع، ولعلها هنا مدينة خوارزم القديمة فراجع ` معجم البلدان `.
ثم إن هذا متأخر عن ذاك، فالأموي من أتباع التابعين. وتعقبه السيوطي بما لا يجدي كغالب عادته! فقال في ` اللآلي ` (2 / 439) : ` قلت: له شواهد … `. ثم ذكرها من حديث علي وابن عباس، عند الماليني في ` المؤتلف والمختلف `، ومن حديث أم سلمة عند الديلمي. قلت: وهي شواهد لا تسمن ولا تغني من جوع! ولم يسق السيوطي أسانيدها لننظر فيها إلا الأخير منها، وفيه عبد القدوس بن حبيب الكلاعي وهو متهم بالكذب لا يخفى حاله على مثل السيوطي، قال ابن المبارك وغيره: ` كذاب `.
وقال ابن حبان: ` كان يضع الحديث ` كما يأتي تحت الحديث (767) .
وأما إسناد حديث علي فقد وقفت عليه، أخرجه أبو موسى المديني في ` جزء من أدركه الخلال من أصحاب ابن منده ` (ق 151 / 2) من طريق سليمان بن عيسى بن نجيح: حدثنا سفيان عن عبد الله بن محمد بن عقيل عن ابن الحنفية عن علي بن أبي طالب مرفوعا نحوه: وقال:
` غريب من حديث الثوري `.
قلت: بل هو عندي باطل لم يحدث به الثوري، بل ألصقه به سليمان هذا وهو السجزي الكذاب الذي في الطريق الأولى ليضل به الناس كما فعل في الإسناد الأول، قاتل الله الكذابين وقبحهم.
ورواه الطبراني في ` جزء منحديثه ` (ق 31 / 2) من طريق المقدام بن داود المصري عن عبد الله بن محمد بن المغيرة عن سفيان به. وهذه متابعة لا يفرح بها! فإن ابن المغيرة هذا قال النسائي: ` روى عن الثوري ومالك بن مغول أحاديث كانا أتقى لله من أن يحدثا بها `. وقال العقيلي: ` يحدث بما لا أصل له `.
وساق الذهبي في ترجمته عدة أحاديث، ثم قال: ` وهذه موضوعات `! والمقدام بن داود ليس بثقة كما قال النسائي. فبطلت هذه المتابعة أيضا. وذكر له ابن عراق شاهدا آخر من حديث ابن مسعود وقال (2 / 373) : ` أخرجه ابن عساكر في تاريخه `. وسكت عليه.
وهو عند ابن عساكر (16 / 302 / 2) من طريق المظفر بن الحسن بن المهند: أخبرنا أحمد بن عمر بن جوصا: أخبرنا أبو عامر موسى بن عامر: أخبرنا الوليد بن مسلم: أخبرنا شيبان أبو معاوية عن شقيق بن سلمة عن عبد الله بن مسعود مرفوعا به.
وهذا إسناد واه، وآفته ابن المهند هذا، ففي ترجمته أورده ابن عساكر ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا، ولا ذكر له شيئا من أحواله إلا أنه مات سنة (381) بـ (أشنه) (2) . وأحمد بن عمر بن جوصا، قال الذهبي: ` صدوق له غرائب `. وقال الدارقطني: ` لم يكن بالقوي `.
وقال مسلمة بن قاسم: ` كان عالما بالحديث مشهور ابالرواية، عارفا بالتصنيف، وكانت الرحلة إليه في زمانه، وكان له وراق يتولى القراءة عليه وإخراج كتبه، فساء ما بينهما، فاتخذ وراقا غيره، فأدخل الوراق الأول أحاديث في روايته وليست من حديثه، فحدث بها ابن جوصا، فتكلم الناس فيه، ثم وقف عليها فرجع عنها `. قلت: فلعل هذا الحديث مما دسه عليه ذلك الوراق ليشينه به، هذا إن كان ابن المهند سمعه منه، وحفظه عنه. ثم إن الوليد بن مسلم وإن كان ثقة فقد كان يدلس تدليس التسوية، وقد عنعن في إسناده فلا تقوم الحجة به، إن سلم ممن دونه! وبالجملة، فهذه الطريق خير طرق هذا الحديث، ومع ذلك فلا يثبت الحديث بها لما علمت من العلل التي فيها. واعلم أن الحافظ السخاوي بعد أن أورد الحديث في ` المقاصد ` (ص 31) من الطريق الأولى [وأولها] بقوله: ` وسليمان متروك، بل اتهم بالكذب والوضع `. استدرك فقال: ` ولكن لم يزل عمل السلف والخلف على هذا `.
فينبغي أن يعلم أنه لا يلزم من ذلك أن الحديث صحيح، لأنه تضمن شيئا زائدا على ما جرى عليه العمل، ألا وهو تعليل الدفن وسط القوم الصالحين، وهذا لا يستلزم ثبوت التعليل المذكور
(1) بالضم ثم السكون وضم النون وهاء محضة: بلدة في طرف أذريبجان كما في ` معجم البلدان `. اهـ.
فيه، لاحتمال أن يكون شيئا آخر، وعلى كل حال فعلة الحكم أمر غيبي لا يجوز إثباتها بالظن والرجم بالغيب. أو مجرد جريان العمل على مقتضاها. والله أعلم.
‌‌




৬১৩। তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তিদেরকে নেককারদের মাঝে দাফন কর। কারণ মৃত ব্যক্তি মন্দ প্রতিবেশীর কারণে কষ্টভোগ করে যেরূপ মন্দ প্রতিবেশীর কারণে জীবিত ব্যক্তি কষ্ট পেয়ে থাকে।





হাদীছটি জাল।





এটি আবু নোয়াইম `আল-হিলইয়্যাহ` (৬/৩৫৪) গ্রন্থে এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-ফালাকী `আল-ফাওয়ায়েদ` (কাফ ১/৯১) গ্রন্থে সুলায়মান ইবনু ঈসা হতে তিনি মালেক হতে তিনি তার চাচা হতে ... বর্ণনা করেছেন।





আবু নোয়াইম বলেনঃ এটি গারীব। একমাত্র এ সূত্রেই আমরা হাদীছটি লিখেছি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীছটি বানোয়াট। এর সমস্যা হচ্ছে সুলায়মান আস-সাজযী। তিনি মিথ্যুক, যেমনটি আবু হাতিম ও অন্য বিদ্বানগণ বলেছেন। ইবনু আদী বলেনঃ তিনি হাদীছ জাল করতেন। তার সূত্রেই ইবনুল জাওযী “আল-মাওযু'আত” (৩/২৩৭) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ হাদীছটি সহীহ নয়। সুলায়মান মিথ্যুক। ইবনুল জাওয়ী হাদীছটি দাউদ ইবনুল হুসায়েন হতে তিনি ইবরাহীম ইবনুল আশয়াছ হতে ... বর্ণনা করেছেন। ইবনু হিব্বান বলেনঃ দাউদ নির্ভরশীলদের উদ্ধৃতিতে যা তাদের হাদীছের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয় তাই বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণনাগুলো হতে বেঁচে থাকা ওয়াজিব। এ হাদীছটিতে সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে দাউদই। তিনি বলেনঃ হাদীছটি বাতিল, এর কোন ভিত্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মিলে না। [যে ব্যক্তি এরূপ হাদীছ ইবরাহীম ইবনুল আশয়ছ হতে বর্ণনা করবে তার বর্ণনা থেকে বেঁচে থাকা উচিত। কারণ ইবরাহীম একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম। সমস্যা হচ্ছে দাউদ হতেই।]





আমি (আলবানী) বলছিঃ দারাকুতনী তার সমালোচনা করে বলেনঃ ইবরাহীম দুর্বল, নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে তিনি ভিত্তিহীন হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তাদের ধারণা তিনি একজন আবেদ ছিলেন। এ ছাড়া সনদের আরেক বর্ণনাকারী মারওয়ান আল-ফাযারী সুহায়েল ইবনু আবী সালেহ হতে শ্রবণ করেননি এবং তার থেকে বর্ণনাও করেননি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ দারাকুতনী কর্তৃক ইব্রাহীমকে দুর্বল আখ্যা প্রদান ইবনু হিব্বানের নিজের ভাষাই প্রমাণ করছে। তিনি “আছ-ছিকাত” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি গারীব বর্ণনা করতেন, এককভাবে বর্ণনা করতেন, ভুল করতেন এবং অন্যের বিরোধিতা করে বর্ণনা করতেন। এ হাদীছটি অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু কোনটির দ্বারাই হাদীছটি সাব্যস্ত করা সম্ভব হয়নি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (614)


` إن لله تعالى في كل يوم جمعة ستمائة ألف عتيق من النار، كلهم قد استوجبوا النار `.
منكر.

أخرجه ابن حبان في ` المجروحين ` (1 / 169) وتمام في ` الفوائد ` (236 / 1) وابن عدي في ` الكامل ` (26 / 2) والواحدي في ` التفسير ` (4 / 145 / 1) من طريق يحيى بن سليم الطائفي: حدثنا الأزور بن غالب عن سليمان التيمي عن ثابت البناني عن أنس بن مالك مرفوعا. وأورده ابن عدي وكذا ابن حبان في ترجمة الأزور هذا، وقال: ` كان قليل الحديث إلا أنه روى على قلته عن الثقات ما لم يتابع عليه من المناكير، فكأنه كان يخطيء وهو لا يعلم حتى صار ممن لا يحتج به إذا انفرد `. ثم ساق الحديث وقال: ` هذا متن باطل لا أصل له
`. وأما ابن عدي فقال: ` أحاديثه معدودة يسيرة غير محفوظة، وأرجو أنه لا بأس به `. كذا قال! وفي ` الميزان `: ` منكر الحديث، أتى بما لا يحتمل، فكذب `.
‌‌




৬১৪। প্রত্যেক জুম'আর দিবসে আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের আগুন হতে ছয় লক্ষ লোককে মুক্ত করে দেন। যাদের সবার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গিয়েছিল।





হাদীছটি মুনকার।





এটি ইবনু হিব্বান `আল-মাজরুহীন` (১/১৬৯) গ্রন্থে, তাম্মাম `আল-ফাওয়ায়েদ` (১/২৩৬) গ্রন্থে, ইবনু আদী “আল-কামিল” (২/২৯) গ্রন্থে এবং আলওয়াহেদী “আত-তাফসীর” (৪/১৪৫/১) গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়েম আত-তায়েফী সূত্রে আযওয়ার ইবনু গালিব হতে তিনি সুলায়মান আত-তাইমী হতে ... বর্ণনা করেছেন।





ইবনু হিব্বান এই আযওয়ারের জীবনীতে বলেনঃ তিনি কম সংখ্যক হাদীছই বর্ণনা করেছেন। তা সত্ত্বেও নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে মুনকার হাদীছ বর্ণনা করেছেন যার মুতাবায়াত করা যায় না। সম্ভবত তিনি তার অজান্তে ভুল করতেন। ফলে তিনি যখন এককভাবে বর্ণনা করেছেন তখন তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না।





তিনি তার এ হাদীছটি উল্লেখ করে আরো বলেছেনঃ এ ভাষাটি বাতিল তার কোন ভিত্তি নেই।





ইমাম যাহাবী `আল-মীযান` গ্রন্থে বলেছেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীছ। এমন কিছু নিয়ে এসেছেন যা সঠিক হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। অতএব তিনি মিথ্যা বলেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (615)


617) ، ((الإرواء)) (2200) ،
و ((صحيحة)) (2328) ، وهي مركبة من حديثين.
والحديث؛ عزاه السيوطي في ((الجامع الكبير)) لـ (تمتم وابن عساكر عن ابن عمر) ،ووقعت فيه الفقرة السادسة بلفظ:
((ولا يمشي امرؤ علي الأرض شبرًا يبتغي به سلطان الله. . . . . .) . ولعله
الصواب؛ فقد ذكر المعلق علي ((المعجم)) تعليقًا علي قوله: ((بها)) أن الأصل: ((به)) . والله اعلم.
‌‌




৬১৫। গুনাহ হতে তাওবাকারী সেই ব্যক্তির ন্যায় যার কোন গুনাই নেই। আর আল্লাহ তা'আলা যে বান্দাকে ভালবাসেন গুনাহ তার ক্ষতি করতে পারে না।





হাদীছটি দুর্বল।





এটি আল-কুশায়রী `আর-রিসালাহ` (পৃঃ ৫৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর তার সূত্রে ইবনুন নাজ্জার (১০/১৬১/২) আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। একমাত্র দারাকুতনীর শাইখ আহমাদ ইবনু মাহমূদ ইবনে খারযায ছাড়া আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নীচের বর্ণনাকারীদের কারো জীবনী কোন গ্রন্থে পাচ্ছি না। দারাকুতনী তার একটি হাদীছ মালেক হতে তিনি যুহরী হতে আর তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করে বলেছেনঃ এ সনদের এ হাদীছটি বাতিল। ইমাম মালেকের নীচের বর্ণনাকারীগণ দুর্বল। তিনি অন্যত্র বলেনঃ তিনি মাজহুল যেমনটি `আল-লিসান` গ্রন্থে এসেছে। বাহ্যিকতা প্রমাণ করছে যে, তিনিই হচ্ছেন এ হাদীছটির সমস্যা।





হাদীছটি “আল-জামেউস সাগীর” গ্রন্থে সুয়ূতী কুশায়রী এবং ইবনুন নাজ্জারের বর্ণনা হতে উল্লেখ করেছেন। মানবী হাদীছটির ব্যাপারে কোন কথা বলেননি! তবে হাদীছটির প্রথম অংশের আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং আবু সাঈদ আল-আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীছ হতে শাহেদ রয়েছে। এটি ইবনু মাজাহ, তাবারানী, আবু নোয়াইম সহ আরো অনেকে বর্ণনা করেছেন। মোটকথা পূরো হাদীছটি দুর্বল।





তবে হাদীছটির প্রথম অংশটি বিভিন্ন সূত্রগুলো একত্রিত হওয়ার কারণে হাসান হাদীছের অন্তর্ভুক্ত। সাখাবী বলেনঃ আমাদের শাইখ ইবনু হাজার বিভিন্ন শাহেদ থাকার কারণে প্রথম অংশটিকে হাসান আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীছ হতে অন্যরূপ বর্ধিত অংশসহ তার অন্য একটি শাহেদ এসেছে। সেটি হচ্ছে নিম্নেরটি (দেখুন পরের হাদিস)











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (616)


` التائب من الذنب كمن لا ذنب له، والمستغفر من الذنب وهو مقيم عليه كالمستهزئ بربه، ومن آذى مسلما كان عليه من الأثم مثل منابت النخل `.
ضعيف.
رواه البيهقي في ` الشعب ` (2 / 373 / 1) وابن عساكر في المجلس الثاني
والثلاثين في التوبة من ` الأمالي ` (ورقة 4 / 1) من طريق الخطيب بسنده عن سلم بن سالم:
حدثنا سعيد الحمصي عن عاصم الجذامي عن عطاء عن ابن عباس مرفوعا.
ثم رواه في ` التاريخ ` (15 / 295 / 2) من طريق أخرى عن سلم: حدثنا سعيد بن عبد العزيز به.
قلت: وهذا إسناد ضعيف، سلم بن سالم وهو البلخي الزاهد أورده الذهبي في ` الضعفاء ` وقال: قال أحمد والنسائي: ضعيف `. وسعيد الحمصي لم أعرفه، ويحتمل أن يكون سعيد بن سنان أبا مهدي الحمصي وهو ضعيف جدا.
‌‌




৬১৬। গুনাহ হতে তওবাকারী সেই ব্যক্তির ন্যায় যার কোন গুনাই নেই। আর গুনাহের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে গুনাহ হতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী তার প্রতিপালকের সাথে বিদ্রুপকারীর ন্যায়। যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তিকে কষ্ট দিবে যত খেজুর গাছ জন্মিবে তার সমপরিমাণ তার গুনাহ হবে।





হাদীছটি দুর্বল।





এটি বাইহাকী `আল-শু'আব` (২/৩৭৩/১) গ্রন্থে এবং ইবনু আসাকির `আল-আমলী` গ্রন্থের ৩২ নম্বর খণ্ডের তওবা অধ্যায়ে (৪/১) আল-খাতীব সূত্রে তার সনদে সালাম ইবনু সালেম হতে তিনি সাঈদ আল-হিমসী হতে তিনি আসেম আল-জুযামী হতে ... বর্ণনা করেছেন। তঃপর তিনি `আত-তারীখ` (১৫/২৯৫/২) গ্রন্থে অন্য সূত্রে সালাম হতে তিনি সাঈদ ইবনু আব্দিল আযীয হতে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। সালাম ইবনু সালেম হচ্ছেন আল বালখী আয-যাহেদ। ইমাম যাহাবী তাকে `আয-যোয়াফা` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ ইমাম আহমাদ ও নাসাঈ বলেছেনঃ তিনি দুর্বল। আর সাঈদ আল-হিমসীকে আমি চিনি না। হতে পারে তিনি সাঈদ ইবনু সিনান আবূ মাহদী আল-হিমসী। তিনি খুবই দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (617)


موارد) : أخبرنا محمد بن إسحاق بن خزيمة: حدثنا عبد الوارث بن عبد الصمد بن عبد الوارث: حدثني أبي: حدثنا حسين المعلم عن عبد الله بن بريدة: أن عبد الله المزني حدثه: أن رسول الله ? صلى قبل المغرب ركعتين.
كذا أورده الهيثمي في ((الموارد)) وقال: عقبه:
((قلت: فذكر الحديث)) .
قلت: يعني قوله ?:
((صلوا قبل صلاة المغرب [ركعتين] )) . قال في الثالثة:
((لِمَنْ شاءَ)) ؛ كراهية أن يَتَّخِذَهَا الناسُ سُنَّةٌ.

أخرجه البخاري وغيره، وهو مخرج في ((صحيح أبي داود)) (1161) ؛ أخرجوه دون حديث الترجمة، وهي زيادة تفرَّد بها أحد رواة هذا الإسناد عند ابن حبان وكذا ابن نصر في ((القيام)) ، وقد كنت أشرت إلى شذوذها في ((الصحيحة)) رقم الحديث (233) ؛ لمخالفة المشار إليه، والآن اقتضى الأمر توضيح ذلك فأقول:
أولاً: لا أجد في هذا الإسناد من هو أولى بتعصيب الخطأ في هذه الزيادة؛
لأنهم جميعًا ثقات لم يتكلم فيهم أحد بجرح؛ سوى عبد الصمد بن عبد الوارث؛ فإنه مع كونه من رجال الشيخين؛ فقد قال فيه ابن قانع:
((ثقة يخطئ)) . فإن لم يكن هو؛ فابنه عبد الوارث؛ لأنه قد خولف وأبوه توبع؛ كما يأتي.
على أنه قد بدا لي أن في هذا الإسناد انقطاعًا أو سقطًا قديمًا؛ فإن ظاهر قوله: ((ثني أبي)) أنه يعني عبد الصمد بن عبد الوارث، وأن هذا هو القائل: ثنا المعلم. ولم يذكروا أن له رواية عنه، ولا تاريخ وفاتهما يساعد على ذلك؛ فإن وفاة عبد الصمد سنة (207) ، ووفاة حسين سنة (145) ، فبين وفاتيهما (62) سنة. وإنما ذكروا لأبيه عبد الوارث السماع منه، وهو المحفوظ في هذا الإسناد من رواية جمع من الثقات عن عبد الوارث بن سعيد، منهم ابنه عبد الصمد دون الزيادة، وهاك البيان:
1 و 2 - قال أحمد (5 / 55) : ثنا عبد الصمد: حدثني أبي: ثنا حسين، وعفان: ثنا عبد الوارث: ثنا حسين به؛ دون الزيادة.
ومن طريق عفان وحده أخرجه البغوي في ((شرح السنة)) (3 / 471 / 894) .
3 - قال البخاري في ((صحيحه)) (1183) : حدثنا أبو معمر: حدثنا عبد الوارث به.
وأبو معمر هذا اسمه عبد الله بن عمرو بن أبي الحجاج المِنْقَري.
ومن طريقه أخرجه ابن خزيمة في ((صحيحه)) (2 / 267 / 1289) .
4 - قال أبو داود في ((سننه)) (1218) : حدثنا عبيد الله بن عمر: حدثنا
عبد الوارث بن سعيد به.
وعبيد الله هذا هو القواريري.
ومن طريقه أخرجه الدارقطني (1 / 265 / 3) .
ومن طريق أبي داود: البيهقي (2 / 474) .
5 - قال محمد بن نصر (ص 26) : حدثنا محمد بن عبيد: ثنا عبد الوارث ابن سعيد به. ومحمد بن عبيد هو ابن حساب؛ ثقة من شيوخ مسلم.
ومن طريقه أخرجه الإسماعيلي في (مستخرجه) ؛ كما في (فتح الباري) (13 / 339) ؛ لكن وقع فيه (حسان) بالنون بدل الباء؛ وهو خطأ مطبعي.
قلت: فهؤلاء خمسة ثقات اتفقوا على رواية الحديث عن عبد الوارث بن سعيد دون الزيادة، وهذا مما يلقي اليقين في القلب على شذوذها وخطأ من زادها في إسناد ابن حبان عن ابن خزيمة، ولعل مما يؤكد ما ذكرت: أن ابن خزيمة أعرض عن إيرادها في ((صحيحه)) إلى رواية أبي معمر الخالية منها كما تقدم.
من أجل ذلك؛ جزم ابن القيم رحمه الله بنقي ما تضمنته هذه الزيادة؛ فقال في ((زاد المعاد)) :
((وأما الركعتان قبل المغرب؛ فإنه لم ينقل عنه ? أنه كان يصليهما، وصح عنه أنه أقَرَّ أصحابه عليهما. . .)) .
وذكر نحوه الحافظ ابن حجر في ((الفتح)) (2 / 108) .
وقد غفل عن هذا كله المعلق على ((الزاد)) ؛ فإنه قال في حديث ابن حبان:
((وإسناده صحيح)) ! وما أُتي إلا من التقليد، وعدم التحقيق!
ومثل هذا الحديث في الشذوذ - بل النكارة - ما تقدم (2139) بلفظ:
((بين كل أذانين صلاة إلا المغرب)) !
ثم تأكدت من السقط المشار إليه، فراجع ((الصحيحة)) بالرقم المشار إليه الطبعة الجديدة سنة (1415) .
وقد تبين لي أن في إسناد ((الموارد)) سقطًا أيضًا، وهو قول عبد الصمد أيضًا حدثني أبي. . . أي: أن صواب الإسناد هكذا:
((. . حدثنا عبد الوارث بن عبد الصمد بن عبد الوارث: حدثنا أبي: حدثني أبي: حدثنا حسين المعلم. . .)) إلخ.
هكذا هو في ((الإحسان)) في كل من الطبعتين: طبعة بيروت وطبعة عمان. فاتصل الإسناد وزالت علة الانقطاع، ومن الغريب أن هذا الانقطاع في ((قيام الليل)) أيضًا!
وبالجملة، فإذا صح هذا الاتصال، فتكون العلة القادحة هي الشذوذ ومخالفة الثقات، وخفي ذلك على مُخَرِّج طبعة عمان من ((الإحسان)) ؛ فصح إسناده، بل وعزاه للبخاري وغيره! وهو عنده من قوله ? بلفظ الأمر المتقدم، وبلفظ:
((بين كل أذانين صلاة)) .
وهما مخرجان في ((صحيح أبي داود)) (1161، 1163) .
وباللفظ الثاني أخرجه ابن خزيمة أيضًا (1287) ، وابن حبان أيضًا (3 /
48 / 1557 - 1560) ، وزادا في رواية عقبه:
((وكان ابن بريدة يصلي قبل المغرب ركعتين)) .
قلت: وإسناده صحيح. فهذا هو الصواب في هذه الزيادة: أنها من فعل ابن بريدة، أدرجها الراوي في الحديث ورفعه!
‌‌




৬১৭। তোমরা জ্ঞানীর ন্যায় সঠিক পথে চলো সঠিক পথ প্রাপ্ত হবে। তোমরা তার নাফারমানী করো না অনুতপ্ত হবে।





হাদিছটি জাল।





এটি আল-খতীব সুলায়মান ইবনু ঈসা হতে পূর্বোল্লেখিত ৬১৩ ননহ হাদিসের সনদে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এই সুলায়মান মিথ্যুক যেমনটি পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। ইমাম যাহাবী তার জিবনী আলোচনা করতে গিয়ে এ হাদীছটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি সহীহ নয়। এ কথার দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন এটি বানোয়াট।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি এককভাবে এটি বর্ণনা করেননি। আবুল হাসান আন-না'আলী `জুযউম মিন হাদীছিহি` (১/১২৭) গ্রন্থে এবং কাযাঈ `মুসনাদুশ শিহাব` (১/৬১) গ্রন্থে আলী ইবনু যিয়াদ আল-মাত্তুছী হতে তিনি আব্দুল আযীয ইবনু আবী রাজা হতে ... বর্ণনা করেছেন।





এই আব্দুল আযীয সম্পর্কে যাহাবী বলেনঃ দারাকুতনী বলেছেনঃ তিনি মাতরূক, তার রচিত একটি গ্রন্থ রয়েছে যার সবই বানোয়াট।





এ হাদীছটির আরেকটি সূত্র আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে পেয়েছি। যার মধ্যে দাউদ ইবনুল মুহাব্বার এবং আব্বাদ ইবনু কাছীর রয়েছেন। তারা দু’জনই মিথ্যুক।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (618)


` مثل الذي يتعلم العلم في صغره كالنقش في الحجر، ومثل الذي يتعلم العلم في كبره كالذي يكتب على الماء `.
موضوع.
أورده السيوطي في ` الجامع ` من رواية الطبراني في ` الكبير ` عن أبي الدرداء. وقال الشارح المناوي: ` قال المصنف في ` الدرر `: سنده ضعيف، وقال الهيثمي: فيه مروان بن سالم الشامي، ضعفه الشيخان وأبو حاتم. قلت: البخاري ضعفه جدا فقد قال فيه: ` منكر الحديث `.
وكذلك قال مسلم وأبو حاتم، وقد سبق أن ذكرنا أن من قال البخاري فيه: ` منكر الحديث ` فلا تحل الرواية
عنه، ولذلك فإن الاقتصار على تضعيف الرجل قصور، وكذا الاقتصار على تضعيف حديثه، فإنه يفتح الباب لمن لا علم عنده أن يستشهد به، مع أنه من المتفق عليه أن الحديث إذا اشتد ضعفه لا يجوز أن يستشهد به. وأنا أرى أن هذا الحديث موضوع، لأن ابن سالم هذا متهم كما يشير إلى ذلك قول البخاري فيه: ` منكر الحديث `.
ويؤيده قول أبي عروبة الحراني: ` كان يضع الحديث `. وقول الساجي: ` كذاب يضع الحديث `. وقال ابن حبان (2 / 317) : ` يروي المناكير عن المشاهير، ويأتي عن الثقات بما ليس من حديث الأثبات `. والحديث روي من حديث أبي هريرة بلفظ آخر، وهو:
‌‌




৬১৮। যে ব্যক্তি তার বাল্যকালে জ্ঞান শিক্ষা করবে তার উদাহরণ পাথরে নকশা করার ন্যায়। আর যে ব্যক্তি বড় অবস্থায় জ্ঞান শিক্ষা করবে তার উদাহরণ হচ্ছে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে পানির উপর লিখে।





হাদীছটি জাল।





এটি সুয়ূতী `আল-জামে` গ্রন্থে তাবারানীর `আল-মুজামুল কাবীর` গ্রন্থের বর্ণনায় আবুদ দারদা হতে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্যকার মানবী বলেনঃ মুসান্নেফ `আদ-দুরার` গ্রন্থে বলেনঃ সনদটি দুর্বল। হায়ছামী বলেনঃ সনদে মারওয়ান ইবনু সালেম আশ-শামী রয়েছেন- তাকে বুখারী, মুসলিম ও আবু হাতিম দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম বুখারী তাকে নিতান্তই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীছ।





অনুরূপ ভাষ্য ইমাম মুসলিম ও আবু হাতিমও বলেছেন। পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে যে ইমাম বুখারী যার সম্পর্কে মুনকারুল হাদীছ বলেছেন তার থেকে বর্ণনা করাই হালাল নয়। এ জন্য শুধুমাত্র দুর্বল বলাটা ক্রটি। আমার সিদ্ধান্ত এই যে, এ হাদীছটি বানোয়াট। কারণ ইবনু সালেম সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেছেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীছ। আর তার এ কথাকে আবু আরূবাহ আল-হাররানী শক্তি যুগিয়েছেন, তিনি বলেনঃ তিনি হাদীছ জাল করতেন। সাজী বলেনঃ তিনি মিথ্যুক, হাদীছ জালকারী।





ইবনু হিব্বান (২/৩১৭) বলেনঃ তিনি প্রসিদ্ধদের উদ্ধৃতিতে মুনকার হাদীছ বর্ণনাকারী। আর নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে তিনি এমন হাদীছ নিয়ে এসেছেন যা তাদের হাদীছ নয়।





হাদীছটি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে অন্য বাক্যেও বর্ণিত হয়েছে, সেটি হচ্ছে নিম্নোক্ত হাদীছটিঃ (দেখুন পরের হাদিস)











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (619)


` من تعلم العلم وهو شاب كان بمنزلة وسم في حجر، ومن تعلمه بعد كبر فهو بمنزلة كتاب على ظهر الماء `.
موضوع.
رواه ابن الجوزي في ` الموضوعات ` (1 / 218) من طريق هناد بن إبراهيم النسفي بسنده عن بقية بن الوليد عن معمر عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة وقال:
` لا يصح، هناد بن إبراهيم النسفي لا يوثق به، وبقية بن الوليد مدلس `. وأقره على هذا السيوطي في ` اللآليء ` (1 / 196) ، لكن تعقبه بقوله: ` قلت: له شاهد من مرسل إسماعيل بن رافع.

أخرجه البيهقي في ` المدخل ` بهذا اللفظ. ومن طريق أبي الدرداء `. ثم ساق إسناد أبي الدرداء ولفظه، وهو موضوع كما بينته قبل هذا، وأما المرسل فلم يذكر إسناده إلى إسماعيل، على أن كونه من مرسله كاف في إنزال حديثه من رتبة الاستشهاد به، لأنه ضعيف جدا، تركه جماعة، وقال ابن حبان (1 / 112) :
` كان رجل صالحا، إلا أنه كان يقلب الأخبار حتى صار الغالب على حديثه المناكير التي يسبق إلى القلب أنه كان المعتمد لها `. على أن حق العبارة أن يقال: ` من معضل إسماعيل بن رافع ` لأن إسماعيل هذا ليس تابعيا، بل هو يروي عن بعض التابعين، وعليه فقد سقط من السند اثنان فأكثر، فالحديث معضل.
‌‌




৬১৯। যে ব্যক্তি যুবক থাকা অবস্থায় জ্ঞান অর্জন করল সে ব্যক্তি পাথরের উপর অংকণকারীর স্থলাভিষিক্ত। আর যে ব্যক্তি বড় হবার পর জ্ঞান অর্জন করল সে ব্যক্তি পানির উপর লেখকদের স্থলাভিষিক্ত।





হাদীছটি জাল।





এটি ইবনুল জাওয়ী “আল-মাওযূ’আত” (১/২১৮) গ্রন্থে হান্নাদ ইবনু ইবরাহীম আন-নাসাফী সূত্রে তার সনদে বাকিয়াহ ইবনুল ওয়ালীদ হতে তিনি মামার হতে ... বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটি সহীহ নয়। হান্নাদের উপর নির্ভর করা যায় না। আর বাকিয়াহ মুদাল্লিস।





সুয়ুতীও “আল-লাআলী” (১/১৯৬) গ্রন্থে তাকে সমর্থন করেছেন। কিন্তু তিনি নিম্নোক্ত কথা দ্বারা তার সমালোচনা করেছেনঃ ইসমাঈল ইবনু আবী রাফে'র মুরসাল বর্ণনা হতে তার শাহেদ আছে। যেটি বাইহাকী `আল-মাদখাল` গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আবুদ দারদার সূত্র হতেও শাহেদ আছে।





অতঃপর তিনি আবুদ দারদার সনদ ও ভাষাটি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সেটি বানোয়াট। তার বিবরণ পূর্বের হাদীছের আলোচনায় দেয়া হয়েছে। আর তিনি যে মুরসালটির কথা বলেছেন তাতে তিনি ইসমাঈল পর্যন্ত তার সনদই উল্লেখ করেননি। অতএব এটি শাহেদ হওয়ার যোগ্য নয়। কারণ সেটি নিতান্তই দুর্বল।





ইবনু হিব্বান (১/১১২) বলেনঃ ইসমাঈল একজন সৎ লোক ছিলেন। কিন্তু তিনি তার হাদীছগুলো উলট পালট করে ফেলতেন। ফলে তার হাদীছে মুনকারের আধিক্যতা এসে যায়। এমনকি হৃদয়ে মনে হবে যেন তিনি তা ইচ্ছা করেই করতেন। আবার বলা যায় যে এটি মুযাল পর্যায়ভুক্ত। কারণ ইসমাঈল তাবেঈ ছিলেন না। তিনি কোন কোন তাবেঈ হতে বর্ণনা করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (620)


` من أصبح يوم الجمعة صائما، وعاد مريضا، وأطعم مسكينا، وشيع جنازة، لم يتبعه ذنب أربعين سنة `.
موضوع.

أخرجه ابن عدي في ` الكامل ` (122 / 2) ومن طريقه أورده ابن الجوزي في ` الموضوعات ` (2 / 107) عن عمرو بن حمزة البصري: حدثنا خليل بن مرة عن إسماعيل بن إبراهيم عن عطاء بن أبي رباح عن جابر مرفوعا. وقال ابن الجوزي: ` موضوع، عمرو، والخليل وإسماعيل كلهم ضعفاء مجروحون `.
وتعقبه السيوطي بقوله (2 / 28) : ` قلت: هذا لا يقتضي الوضع، وقد وثق أبو زرعة الخليل فقال: شيخ صالح … `. قلت: لكن قد أشار البخاري إلى اتهامه بقوله: ` منكر الحديث `.
وقال في موضع آخر: ` فيه نظر `. ولا يقول هذا إلا فيمن لا تحل الرواية عنه كما تقدم ذكره مرار، وإذا ثبت هذا عن إمام الأئمة فهو جرح واضح. وهو مقدم على التعديل، لاسيما إذا كان المعدل دون البخاري في العلم بالرجال.
ثم إن المحققين من العلماء قديما وحديثا لا يكتفون حين الطعن في الحديث الضعيف سنده على جرحه من جهة إسناده فقط، بل كثيرا ما ينظرون إلى متنه أيضا فإذا وجدوه غير متلائم مع نصوص الشريعة أو قواعدها لم يترددوا في الحكم عليه بالوضع، وإن كان السند وحده لا يقتضي ذلك كهذا الحديث، فإن فيه أن فعل هذه الأمور المستحبة في يوم الجمعة سبب في أن لا يسجل عليه ذنب أربعين سنة! وهذا شيء غريب لا مثيل له في الأحاديث الصحيحة فيما أذكر الآن.
ولهذا أقول:
إن الشواهد التي أوردها السيوطي ههنا لا تشهد للحديث إلا في الجملة. أما بخصوص هذه الجملة الأخيرة: ` ولم يتبعه ذنب أربعين سنة ` فلا، لأنها لم ترد في شيء منها مطلقا، وكلها أطبقت على أن الجزاء: ` وجبت له الجنة `، ولا يخفى أن هذا شيء والجملة المتقدمة شيء آخر، إذ لا يلزم من استحقاق الجنة أن لا يتبعه ذنب أربعين سنة فقد يسجل عليه ذنب بل ذنوب ثم يحاسب عليها فقد يستحق بها النار فيدخلها، ثم يخرج منها فيدخل الجنة جزاء هذه الأعمال الفاضلة، أو بإيمانه.
فظهر الفرق بين الشاهد والمشهو د، وهذا مما يؤكد ما ذهب إليه ابن الجوزي من أن الحديث موضوع. فتأمل فأنه شيء خطر في البال، فإن كان صوابا فمن الله، وإن كان خطأ فمن نفسي.
(تنبيه) : لقد اختلط على المناوي إسناد هذا الحديث بإسناد أحد الشواهد التي سبقت الإشارة إليها، وهو وإن كان ضعيفا أيضا ولكنه خير من هذا ضعفا، وبناء عليه رد على ابن الجوزي حكمه على الحديث بالوضع فقال: ` إذ قصاراه أن فيه عبد العزيز بن عبد الله الأويسي أورده الذهبي في ` الضعفاء `، وفيه ابن لهيعة أيضا `. فأنت ترى أن هذين ليسا في إسناد هذا الحديث الموضوع فاقتضى التنبيه.
ولفظ حديث الأويسي: ` من أصبح يوم الجمعة صائما، وعاد مريضا، وشهد جنازة، وتصدق بصدقة فقد أو جب الجنة `. أخرجه البيهقي وقال: ` الإسناد الأول يؤكد هذا وكلاهما ضعيف `. قلت: وشيخ الأويسي ابن لهيعة ضعيف أيضا. لكن حديثه صحيح بدون ذكر الجمعة، فانظر ` الصحيحة ` (88) .
‌‌




৬২০। যে ব্যক্তি জুম'আর দিবসে রোযা অবস্থায় সকাল করবে, রোগীর সেবা করবে, একজন মিসকীনকে পানাহার করাবে এবং মৃত ব্যক্তিকে বিদায় দেয়ার উদ্দেশ্যে কিছু দূর পর্যন্ত খাটলির পিছনে যাবে চল্লিশ বছর গুনাহ তার অনুসরণ করবে না।





হাদীছটি জাল।





এটি ইবনু আদী `আল-কামিল` (২/১২২) গ্রন্থে এবং তার সূত্র হতে ইবনুল জাওয়ী “আল-মাওযু’আত” (২/১০৭) গ্রন্থে আমর ইবনু হামযাহ বাসরী হতে তিনি আল-খালীল ইবনু মুররাহ হতে তিনি ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম হতে ... বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওয়ী বলেনঃ এটি বানোয়াট। আমর, খালীল ও ইসমাঈল তারা সকলেই দুর্বল এবং ক্রটিযুক্ত। সুয়ূতী তার সমালোচনা করে বলেছেন, এটি জাল হওয়ার প্রমাণ বহন করে না। কারণ আল-খালীলকে আবু যুর'আহ শাইখুন সালেহুন বলে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ কিন্তু ইমাম বুখারী মুনকারুল হাদীছ বলে এবং অন্যত্র তার মধ্যে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে বলে তাকে মিথ্যার দোষে দোষী সাব্যস্তের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি এরূপ মন্তব্য একমাত্র সেই ব্যক্তি সম্পর্কেই করেছেন যার থেকে বর্ণনা করাই হালাল নয়। যেমনটি পূর্বে বহুবার এ ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।





ভাষার দিক দিয়েও হাদীছটি সঠিক নয়। কারণ সহীহ হাদীছে এর কোন নযীর মিলে না।