আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَسْجِدِ، وَأَبُو مُوسَى يَقْرَأُ، فَقَالَ : مَنْ هَذَا ؟ فَقُلْتُ : أَنَا بُرَيْدَةُ، جُعِلْتُ فِدَاكَ، فَقَالَ : قَدْ أُعْطِيَ هَذَا مِزْمَارًا مِنْ مَزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ .
১০৯৭। আবদুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের উদ্দেশে বের হলেন। তখন আবু মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কুরআন পড়ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কে? আমি বললাম, আমি বুরায়দা, আপনার জন্য উৎসর্গপ্রাণ। তিনি বলেনঃ তাকে দাউদ (আঃ) পরিবারের সুমধুর কণ্ঠস্বর থেকে একটি কণ্ঠস্বর দান করা হয়েছে। (মুসলিম, হাকিম)
حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الْفَرَّاءِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُدْعَانَ قَالَ : كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، فَاسْتَأْذَنَ عَلَى أَهْلِ بَيْتٍ، فَقِيلَ : ادْخُلْ بِسَلاَمٍ، فَأَبَى أَنْ يَدْخُلَ عَلَيْهِمْ .
১০৯৮। আবদুর রহমান ইবনে জুদআন (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র সাথে ছিলাম। তিনি এক পরিবারের নিকট প্রবেশানুমতি চাইলেন। বলা হলো, নিরাপদে প্রবেশ করুন। কিন্তু তিনি তাদের ঘরে প্রবেশে অসম্মতি জ্ঞাপন করলেন।
حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ رَبَاحٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِذَا دَخَلَ الْبَصَرُ فَلا إِذْنَ .
১০৯৯। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কারো দৃষ্টি ভেতরে চলে গেলে তার জন্য অনুমতি নাই। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ)
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ , قَالَ : أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ نَذِيرٍ , قَالَ : اسْتَأْذَنَ رَجُلٌ عَلَى حُذَيْفَةَ , فَاطَّلَعَ , وَقَالَ : أَدْخُلُ ؟ ، قَالَ حُذَيْفَةُ : " أَمَّا عَيْنُكَ فَقَدْ دَخَلَتْ ، وَأَمَّا اسْتُكَ فَلَمْ تَدْخُلْ " ، وَقَالَ رَجُلٌ : أَسْتَأْذِنُ عَلَى أُمِّي ؟ ، قَالَ : " إِنْ لَمْ تَسْتَأْذِنْ رَأَيْتَ مَا يَسُوؤُكَ
১১০০। মুসলিম ইবনে নাযীর (রহঃ) বলেন, এক ব্যক্তি হুযায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট প্রবেশানুমতি চেয়ে ভেতর বাড়িতে উঁকি মারলো এবং বললো, আমি কি প্রবেশ করতে পারি? হুযায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমার চোখ তো প্রবেশ করেছে, বাকি আছে তোমার (দেহের) নিম্নাংশ। অতএব তুমি প্রবেশ করো না। এক ব্যক্তি বললো, আমাকে কি আমার মায়ের অনুমতি নিতে হবে? হুযায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তুমি যদি অনুমতি না নিয়ে প্রবেশ করে তবে হয়তো অবাঞ্ছিত কিছু দেখবে।
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ : حَدَّثَنِي يَحْيَى، أَنَّ إِسْحَاقَ بْنَ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَهُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا أَتَى بَيْتَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَلْقَمَ عَيْنَهُ خَصَاصَةَ الْبَابِ، فَأَخَذَ سَهْمًا أَوْ عُودًا مُحَدَّدًا، فَتَوَخَّى الأعْرَابِيَّ، لِيَفْقَأَ عَيْنَ الأعْرَابِيِّ، فَذَهَبَ، فَقَالَ : أَمَا إِنَّكَ لَوْ ثَبَتَّ لَفَقَأْتُ عَيْنَكَ .
১১০১। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক বেদুইন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাড়িতে এসে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারলো। তিনি একটি তীর বা সুচালো কাঠ তুলে নিলেন এবং বেদুইনের চোখ ফুঁড়ে দেয়ার জন্য তা তার দিকে তাক করলেন। অতএব সে চলে গেলো। তিনি বলেনঃ তুমি যদি স্থির থাকতে তবে আমি তোমার চোখ ফুড়ে দিতাম। (নাসাঈ, হাকিম)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ سَعْدٍ التُّجِيبِيِّ قَالَ : قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : مَنْ مَلَأَ عَيْنَيْهِ مِنْ قَاعَةِ بَيْتٍ، قَبْلَ أَنْ يُؤْذَنَ لَهُ، فَقَدْ فَسَقَ .
১১০২। আম্মার ইবনে সাদ আত-তুজীবী (রহঃ) বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, কোন ব্যক্তিকে অনুমতি দেয়ার পূর্বেই তার চক্ষুদ্বয় ঘরের কামরায় প্রবেশ করালে সে পাপাচারে লিপ্ত হলো।
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ الْعَلاَءِ قَالَ : حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ سَالِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ شُرَيْحٍ، أَنَّ أَبَا حَيٍّ الْمُؤَذِّنَ حَدَّثَهُ، أَنَّ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَحِلُّ لِامْرِئٍ مُسْلِمٍ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى جَوْفِ بَيْتٍ حَتَّى يَسْتَأْذِنَ، فَإِنْ فَعَلَ فَقَدْ دَخَلَ . وَلاَ يَؤُمُّ قَوْمًا فَيَخُصُّ نَفْسَهُ بِدَعْوَةٍ دُونَهُمْ حَتَّى يَنْصَرِفَ . وَلاَ يُصَلِّي وَهُوَ حَاقِنٌ حَتَّى يَتَخَفَّفَ .
১১০৩। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস সাওবান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য অনুমতি না নিয়ে কারো ঘরের অভ্যন্তরে তাকানো হালাল নয়। তাই করলে সে যেন ঘরে প্রবেশ করলো। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করে, তার জন্য তাদেরকে বাদ দিয়ে বিশেষভাবে শুধু নিজের জন্য দোয়া করে শেষ করা সমীচীন নয়। কোন ব্যক্তির জন্য প্রাকৃতিক প্রয়োজন চেপে রেখে এবং তা থেকে মুক্ত না হয়ে নামায পড়া হালাল নয়। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ)
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ عُثْمَانُ بْنُ أَبِي الْعَاتِكَةِ قَالَ : حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ حَبِيبٍ الْمُحَارِبِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا أُمَامَةَ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : ثَلاَثَةٌ كُلُّهُمْ ضَامِنٌ عَلَى اللهِ، إِنْ عَاشَ كُفِيَ، وَإِنْ مَاتَ دَخَلَ الْجَنَّةَ : مَنْ دَخَلَ بَيْتَهُ بِسَلاَمٍ فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَمَنْ خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللهِ، وَمَنْ خَرَجَ فِي سَبِيلِ اللهِ فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللهِ .
১১০৪। আবু উমামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন ব্যক্তির প্রত্যেকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর যিম্মায় থাকে। সে বেঁচে থাকলে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট এবং মারা গেলে বেহেশতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি নিজের ঘরে সালাম দিয়ে প্রবেশ করে তার জন্য মহামহিম আল্লাহ যামিন হন। যে ব্যক্তি মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হলো তার জন্যও আল্লাহ যামিন হন। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (জিহাদে) রওয়ানা হলো তার জন্যও আল্লাহ যামিন হন। (আবু দাউদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا يَقُولُ : إِذَا دَخَلْتَ عَلَى أَهْلِكَ فَسَلِّمْ عَلَيْهِمْ تَحِيَّةً مِنْ عِنْدِ اللهِ مُبَارَكَةً طَيْبَةً .
১১০৫। আবু যুবাইর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছেন, তুমি তোমার ঘরে প্রবেশকালে তোমার পরিজনদের সালাম দিও। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ কামনার দোয়া, যা খুবই বরকতপূর্ণ ও পবিত্র। রাবী বলেন, আমার মতে এটা আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যাঃ ”আর যখন তোমাদেরকে সাদর সম্ভাষণ জ্ঞাপন করা হয় তখন তোমরা তদপেক্ষা উত্তম বাক্যে সাদর সম্ভাষণ জ্ঞাপন করো অথবা অন্তত তদনুরূপ উত্তর দাও”। (সূরা নিসাঃ ৮৬)
حَدَّثَنَا خَلِيفَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ، فَذَكَرَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ عِنْدَ دُخُولِهِ، وَعِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ : لاَ مَبِيتَ لَكُمْ وَلاَ عَشَاءَ، وَإِذَا دَخَلَ فَلَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ : أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ، وَإِنْ لَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ : أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَالْعَشَاءَ .
১১০৬। জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ কোন লোক তার ঘরে প্রবেশকালে এবং তার আহার গ্রহণকালে মহামহিম আল্লাহকে স্মরণ করলে, শয়তান (তার সাঙ্গপাঙ্গকে) বলে, তোমরা রাত যাপনের স্থান ও রাতের আহার থেকে বঞ্চিত হলে। সে তার ঘরে প্রবেশকালে আল্লাহকে স্মরণ না করলে শয়তান বলে, তোমরা রাত কাটানোর জায়গা পেয়ে গেলে। সে তার আহার গ্রহণকালে আল্লাহকে স্মরণ না করলে শয়তান বলে, তোমাদের রাত কাটানোর জায়গা এবং রাতের আহার উভয়ের ব্যবস্থা হয়ে গেলো। (মুসলিম, হাকিম, ইবনে হিব্বান, আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَعْيَنُ الْخُوَارِزْمِيُّ قَالَ : أَتَيْنَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، وَهُوَ قَاعِدٌ فِي دِهْلِيزِهِ وَلَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِ صَاحِبِي وَقَالَ : أَدْخُلُ ؟ فَقَالَ أَنَسٌ : ادْخُلْ، هَذَا مَكَانٌ لاَ يَسْتَأْذِنُ فِيهِ أَحَدٌ، فَقَرَّبَ إِلَيْنَا طَعَامًا، فَأَكَلْنَا، فَجَاءَ بِعُسِّ نَبِيذٍ حُلْوٍ فَشَرِبَ، وَسَقَانَا .
১১০৭। আইয়ান আল-খাওয়ারিযমী (রহঃ) বলেন, আমরা আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট আসলাম। তিনি নিঃসঙ্গভাবে তার দহলিজে বসা ছিলেন। আমার সঙ্গী তাকে সালাম দিয়ে বলেন, আমি কি প্রবেশ করতে পারি? আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, প্রবেশ করো। এটা এমন জায়গা যেখানে কারো প্রবেশানুমতি চাওয়ার প্রয়োজন নাই। আমাদের জন্য খাদ্য পরিবেশন করা হলে আমরা তা আহার করলাম। পরিবেশক মিষ্টি নবীযের (খেজুরের শরবত) বিরাট পাত্র নিয়ে এলো। তিনি তা পান করলেন এবং আমাদেরও পান করালেন।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ : كَانَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَسْتَأْذِنُ عَلَى بُيُوتِ السُّوقِ .
১১০৮। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বিপণী বিতানে প্রবেশের জন্য অনুমতি চাইতেন না।
حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصِ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ : حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ قَالَ : كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَسْتَأْذِنُ فِي ظُلَّةِ الْبَزَّازِ .
১১০৯। আতা (রহঃ) বলেন, ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বস্ত্র ব্যবসায়ীদের শামিয়ানায় প্রবেশের জন্য অনুমতি চাইতেন।
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْعَلاَءِ الْخُزَاعِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الْمَلِكِ، مَوْلَى أُمِّ مِسْكِينٍ بِنْتِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ : أَرْسَلَتْنِي مَوْلاَتِي إِلَى أَبِي هُرَيْرَةَ، فَجَاءَ مَعِي، فَلَمَّا قَامَ بِالْبَابِ فقَالَ : أَنْدَرَايِيمْ ؟ قَالَتْ : أَنْدَرُونْ، فَقَالَتْ : يَا أَبَا هُرَيْرَةَ إِنَّهُ يَأْتِينِي الزَّوْرُ بَعْدَ الْعَتَمَةِ فَأَتَحَدَّثُ ؟ قَالَ : تَحَدَّثِي مَا لَمْ تُوتِرِي، فَإِذَا أَوْتَرْتِ فَلاَ حَدِيثَ بَعْدَ الْوِتْرِ .
১১১০। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র পুত্র আসেম (রহঃ)-এর নাতনি উম্মু মিসকীন বিনতে উমার (রহঃ)-এর মুক্তদাস আবু আবদুল মালেক (রহঃ) বলেন, আমার মনিব আমাকে আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট পাঠান। তিনি আমার সাথেই চলে আসেন। তিনি দরজায় দাঁড়িয়ে বলেন, ভেতরে প্রবেশ করতে পারি কি? উম্মু মিসকীন (রহঃ) বলেন, প্রবেশ করুন। তিনি বলেন, হে আবু হুরায়রা! সে রাতের আহারশেষে আমার নিকট কাঁচাপাকা কথা নিয়ে আসে, আমি কি তার সাথে (তখন) কথাবার্তা বলতে পারি? আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, বিতরের নামায না পড়া পর্যন্ত কথাবার্তা বলতে পারো। কিন্তু তুমি বিতর পড়ার পর আর কথাবার্তা বলো না।
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِشْرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبَّادٌ يَعْنِي ابْنَ عَبَّادٍ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ قَالَ : كَتَبَ أَبُو مُوسَى إِلَى رُهْبَانٍ يُسَلِّمُ عَلَيْهِ فِي كِتَابِهِ، فَقِيلَ لَهُ : أَتُسَلِّمُ عَلَيْهِ وَهُوَ كَافِرٌ ؟ قَالَ : إِنَّهُ كَتَبَ إِلَيَّ فَسَلَّمَ عَلَيَّ، فَرَدَدْتُ عَلَيْهِ .
১১১১। আবু উসমান আন-নাহদী (রহঃ) বলেন, আবু মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাহবানকে চিঠি লিখলেন এবং তাকে সালাম জানালেন। তাকে বলা হলো, সে তো কাফের, তাকে আপনি সালাম দিলেন? তিনি বলেন, সে আমাকে চিঠি লিখেছে এবং আমাকে সালাম দিয়েছে। আমি এর জবাব দিয়েছি।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَرْثَدٍ، عَنْ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنِّي رَاكِبٌ غَدًا إِلَى يَهُودَ، فَلاَ تَبْدَأُوهُمْ بِالسَّلاَمِ، فَإِذَا سَلَّمُوا عَلَيْكُمْ فَقُولُوا : وَعَلَيْكُمْ .
১১১২। আবু বাসরা আল-গিফারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি আগামী কাল সকালে ইহুদীদের এলাকায় যাচ্ছি। অতএব তোমরা তাদেরকে প্রথমে সালাম দিবে না। তারা তোমাদের সালাম দিলে তোমরা বলবে, তোমাদের প্রতিও।
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : أَهْلُ الْكِتَابِ لاَ تَبْدَأُوهُمْ بِالسَّلاَمِ، وَاضْطَرُّوهُمْ إِلَى أَضْيَقِ الطَّرِيقِ .
১১১৩। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আহলে কিতাব সম্প্রদায়কে তোমরা আগে সালাম দিবে না। তোমরা তাদেরকে রাস্তার সংকীর্ণ দিকে পথ চলতে বাধ্য করো। (মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, আবু আওয়ানা, তাহাবী, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ، قَالَ : أَخْبَرَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ : إِنَّمَا سَلَّمَ عَبْدُ اللهِ عَلَى الدَّهَاقِينَ إِشَارَةً .
১১১৪। আলকামা (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) গ্রামবাসী কৃষকদেরকে ইশারায় সালাম দেন।
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ : مَرَّ يَهُودِيٌّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : السَّامُ عَلَيْكُمْ، فَرَدَّ أَصْحَابُهُ السَّلاَمَ، فَقَالَ : قَالَ : السَّامُ عَلَيْكُمْ، فَأُخِذَ الْيَهُودِيُّ فَاعْتَرَفَ، قَالَ : رُدُّوا عَلَيْهِ مَا قَالَ .
১১১৫। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এক ইহুদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় বলে, আসসামু আলাইকুম (তোদের মরণ হোক)। তাঁর সাহাবীগণ সালামের উত্তর দিলে তিনি বলেনঃ সে তো বলেছে, তোদের মরণ হোক। ইহুদীকে গ্রেপ্তার করা হলে সে স্বীকারোক্তি করে। তিনি বলেনঃ সে যেভাবে বলেছে তোমরা তদনুরূপ উত্তর দাও। (মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ الْيَهُودَ إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَحَدُهُمْ، فَإِنَّمَا يَقُولُ : السَّامُ عَلَيْكَ، فَقُولُوا : وَعَلَيْكَ .
১১১৬। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইহুদী সম্প্রদায়ের কেউ তোমাদের কখনো সালাম দিলে অবশ্যই সে বলে, তোর মরণ হোক। অতএব তোমরাও বলো, তোরই মরণ হোক। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী, নাসাঈ)