আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : رُدُّوا السَّلاَمَ عَلَى مَنْ كَانَ يَهُودِيًّا، أَوْ نَصْرَانِيًّا، أَوْ مَجُوسِيًّا، ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ يَقُولُ : ( وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا ) .
১১১৭। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমরা ইহুদী, খৃষ্টান বা অগ্নি উপাসকদের সালামের উত্তর দিও। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন, ”তোমাদের যখন অভিবাদন বাক্যে স্বাগত জানানো হয় তখন তোমরাও তদপেক্ষা উত্তম বাক্যে স্বাগত জানাও অথবা (অন্তত) তাই প্রত্যপণ করো”। (সূরা নিসাঃ ৮৬)।
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ : أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَكِبَ عَلَى حِمَارٍ عَلَيْهِ إِكَافٌ عَلَى قَطِيفَةٍ فَدَكِيَّةٍ، وَأَرْدَفَ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ وَرَاءَهُ، يَعُودُ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ، حَتَّى مَرَّ بِمَجْلِسٍ فِيهِ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ ابْنُ سَلُولٍ، وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ عَبْدُ اللهِ، فَإِذَا فِي الْمَجْلِسِ أَخْلاَطٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُشْرِكِينَ وَعَبْدَةِ الأَوْثَانِ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ .
১১১৮। উসামা ইবনে যায়েদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিনপোষের উপর ফাদাকের তৈরী চাদর বিছানো গাধার পিঠে সওয়ার হয়ে এবং উসামা ইবনে যায়েদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে তার পেছনে বসিয়ে অসুস্থ সা'দ ইবনে উবাদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে দেখতে গেলেন। তিনি এক জনসমাবেশের নিকট গিয়ে পৌছলেন, যেখানে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলও উপস্থিত ছিল। এটা আল্লাহর এই দুশমনের ইসলাম গ্রহণের আগেকার ঘটনা। উক্ত জনসভায় মুসলিম, মুশরিক ও মূর্তিপূজক সকলেই উপস্থিত ছিল। তিনি তাদের সালাম দেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ : أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ أَخْبَرَهُ : أَرْسَلَ إِلَيْهِ هِرَقْلُ مَلِكُ الرُّومِ، ثُمَّ دَعَا بِكِتَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي أُرْسِلَ بِهِ مَعَ دِحْيَةَ الْكَلْبِيِّ إِلَى عَظِيمِ بُصْرَى، فَدَفَعَهُ إِلَيَّ هِرَقْلُ فَقَرَأَهُ، فَإِذَا فِيهِ : بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، مِنْ مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللهِ وَرَسُولِهِ إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ، سَلاَّمٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى، أَمَّا بَعْدُ، فَإِنِّي أَدْعُوكَ بِدِعَايَةِ الإِسْلاَمِ، أَسْلِمْ تَسْلَمْ، يُؤْتِكَ اللَّهُ أَجْرَكَ مَرَّتَيْنِ، فَإِنْ تَوَلَّيْتَ فَإِنَّ عَلَيْكَ إِثْمَ الأَرِيسِيِّينَ وَ ( يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ ) إِلَى قَوْلِهِ : ( اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ ) .
১১১৯। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রোমের বাদশা হিরাকল (হিরাক্লিয়াস) আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের নিকট লোক পাঠান। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিঠি নিয়ে ডাকেন যা নিয়ে তিনি দিহয়া আল-কালবী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বুসরার শাসকের নিকট পাঠিয়েছিলেন। তিনি চিঠিখানি হিরাকলের নিকট অর্পণ করেন। তিনি তা পাঠ করেন। তাতে ছিলঃ ”বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোমের শাসক হিরাকলকে। যে ব্যক্তি হেদায়াতের অনুসরণ করে তার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর, আমি আপনাকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন নিরাপদ থাকুন। আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ সওয়াব দান করবেন। যদি আপনি পশ্চাতে ফিরে যান তাহলে প্রজাদের সমস্ত পাপের বোঝা আপনাকে বহন করতে হবে”। "হে আহলে কিতাব! তোমরা এমন এক কথায় আসো যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান। ...তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম" (সূরা আল ইমরানঃ ৬৪)। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مَخْلَدٌ، قَالَ : أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا يَقُولُ : سَلَّمَ نَاسٌ مِنَ الْيَهُودِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالُوا : السَّامُ عَلَيْكُمْ، قَالَ : وَعَلَيْكُمْ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا وَغَضِبَتْ : أَلَمْ تَسْمَعْ مَا قَالُوا ؟ قَالَ : بَلَى قَدْ سَمِعْتُ فَرَدَدْتُ عَلَيْهِمْ، نُجَابُ عَلَيْهِمْ، وَلا يُجَابُونَ فِينَا .
১১২০। জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ইহুদীদের একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম দিতে গিয়ে বলে, তোমার মরণ হোক। তিনি বলেনঃ তোমাদেরও। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ক্রোধান্বিত হয়ে বলেন, আপনি কি শুনতে পাননি, তারা কি বলেছে? তিনি বলেনঃ হাঁ, অবশ্যই। আমার বিরুদ্ধে তাদের তাদের দোয়া কবুল হবে না। (মুসলিম)
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا لَقِيتُمُ الْمُشْرِكِينَ فِي الطَّرِيقِ، فَلاَ تَبْدَأُوهُمْ بِالسَّلاَمِ، وَاضْطَرُّوهُمْ إِلَى أَضْيَقِهَا .
১১২১। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চলার পথে মুশরিকদের সাথে তোমাদের সাক্ষাত হলে তোমরা আগে তাদেরকে সালাম দিবে না এবং তাদেরকে রাস্তার সংকীর্ণ পথে চলতে বাধ্য করো। (মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, তাহাবী, আবু আওয়ানা, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ تَلِيدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي عَاصِمُ بْنُ حَكِيمٍ، أَنَّهُ سَمِعَ يَحْيَى بْنَ أَبِي عَمْرٍو السَّيْبَانِيَّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُ مَرَّ بِرَجُلٍ هَيْئَتُهُ هَيْئَةُ مُسْلِمٍ، فَسَلَّمَ، فَرَدَّ عَلَيْهِ : وَعَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، فَقَالَ لَهُ الْغُلاَمُ : إِنَّهُ نَصْرَانِيٌّ، فَقَامَ عُقْبَةُ فَتَبِعَهُ حَتَّى أَدْرَكَهُ فَقَالَ : إِنَّ رَحْمَةَ اللهِ وَبَرَكَاتَهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ، لَكِنْ أَطَالَ اللَّهُ حَيَاتَكَ، وَأَكْثَرَ مَالَكَ وَوَلَدَكَ .
১১২২। উকবা ইবনে আমের আল-জুহানী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি মুসলিমদের বেশভূষাধারী এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যেতে সে তাকে সালাম দিলো এবং তিনিও উত্তরে বলেন, তোমার প্রতিও এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও প্রাচুর্যও। সাথের যুবক তাকে বললো, সে তো খৃস্টান। উকবা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) দাঁড়ালেন, অতঃপর লোকটির পিছে পিছে অগ্রসর হয়ে তাকে পেয়ে গেলেন। তিনি বলেন, নিশ্চয় আল্লাহর রহমত ও তাঁর প্রাচুর্য মুমিনদের উপর বর্ষিত হয়। কিন্তু আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবি করুন এবং তোমার ধন-সম্পত্তি ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দিন।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ ضِرَارِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : لَوْ قَالَ لِي فِرْعَوْنُ : بَارَكَ اللَّهُ فِيكَ، قُلْتُ : وَفِيكَ، وَفِرْعَوْنُ قَدْ مَاتَ .
১১২৩। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ফিরাউনও যদি আমাকে বলতো, আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তবে আমিও বলতাম, তোমাকেও, যদিও ফেরাউন ধ্বংস হয়েছে।
وَعَنْ حَكِيمِ بْنِ دَيْلَمٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ : كَانَ الْيَهُودُ يَتَعَاطَسُونَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَجَاءَ أَنْ يَقُولَ لَهُمْ : يَرْحَمُكُمُ اللَّهُ، فَكَانَ يَقُولُ : يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ .
১১২৪। আবু মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ইহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে হাঁচি দিয়ে আশা করতো যে, তিনি তাদের (হাঁচির জবাবে) বলবেন, আল্লাহ তোমাদের প্রতি সদয় হোন। কিন্তু তিনি বলতেনঃ আল্লাহ তোমাদের হেদায়াত দান করুন এবং তোমাদের অবস্থা সংশোধন করুন। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, হাকিম, তাহাবী)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الْفَرَّاءِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ : مَرَّ ابْنُ عُمَرَ بِنَصْرَانيٍّ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَرَدَّ عَلَيْهِ، فَأُخْبِرَ أَنَّهُ نَصْرَانِيٌّ، فَلَمَّا عَلِمَ رَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ : رُدَّ عَلَيَّ سَلامِي .
১১২৫। আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এক খৃস্টান ব্যক্তির নিকট দিয়ে যেতে তাকে সালাম দেন। সেও তার সালামের জবাব দেয়। পরে তাকে অবহিত করা হলো যে, সে খৃষ্টান। তিনি তা জানতে পেরে ফিরে গিয়ে বলেন, আমার সালাম ফেরত দাও।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا قَالَ : سَمِعْتُ عَامِرًا يَقُولُ : حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهَا : جِبْرِيلُ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلامَ، فَقَالَتْ : وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللهِ .
১১২৬। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, জিবরীল (আঃ) তোমাকে সালাম দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাকেও সালাম এবং আল্লাহর রহমত। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ ذَرِيحٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : إِنِّي لَأَرَى لِجَوَابِ الْكِتَابِ حَقًّا كَرَدِّ السَّلامِ .
১১২৭। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমার মতে চিঠিপত্রের উত্তর দেয়া সালামের উত্তর দেয়ার মতই বাধ্যকর। (ইবনে আবু শায়বাহ, বাযযার, তাবাকাত ইবনে সাদ)
حَدَّثَنَا ابْنُ رَافِعٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ قَالَ : حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ : حَدَّثَتْنَا عَائِشَةُ بِنْتُ طَلْحَةَ قَالَتْ : قُلْتُ لِعَائِشَةَ، وَأَنَا فِي حِجْرِهَا، وَكَانَ النَّاسُ يَأْتُونَهَا مِنْ كُلِّ مِصْرٍ، فَكَانَ الشُّيُوخُ يَنْتَابُونِي لِمَكَانِي مِنْهَا، وَكَانَ الشَّبَابُ يَتَأَخَّوْنِي فَيُهْدُونَ إِلَيَّ، وَيَكْتُبُونَ إِلَيَّ مِنَ الأَمْصَارِ، فَأَقُولُ لِعَائِشَةَ : يَا خَالَةُ، هَذَا كِتَابُ فُلاَنٍ وَهَدِيَّتُهُ، فَتَقُولُ لِي عَائِشَةُ : أَيْ بُنَيَّةُ، فَأَجِيبِيهِ وَأَثِيبِيهِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَكِ ثَوَابٌ أَعْطَيْتُكِ، فَقَالَتْ : فَتُعْطِينِي .
১১২৮। আয়েশা বিনতে তালহা (রহঃ) বলেন, আমি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র তত্ত্বাবধানাধীন থাকাকালে বিভিন্ন শহর থেকে লোকজন তার কাছে আসতো। তার সঙ্গে আমার সম্পর্কের কারণে প্রবীণগণ আমাকে কন্যা বলে সম্বোধন করতো এবং যুবকরা আমাকে বোন বলতো। তারা আমাকে উপহারাদিও দিতো এবং বিভিন্ন শহর থেকে আমাকে চিঠিপত্রও লিখতো। আমি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতাম, হে খালা! এটা অমুকের চিঠি এবং তার উপহার। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বলতেন, হে বেটি! তার চিঠির উত্তর দাও এবং তাকেও উপহারাদি পাঠাও। তোমার কাছে দেয়ার মত কিছু না থাকলে আমি তোমাকে দিবো। আয়েশা (রহঃ) বলেন, অতএব আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে সেই ব্যবস্থা করে দিতেন।
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَتَبَ إِلَى عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ يُبَايِعُهُ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ : بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، لِعَبْدِ الْمَلِكِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ مِنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ : سَلاَمٌ عَلَيْكَ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكَ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ، وَأُقِرُّ لَكَ بِالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ عَلَى سُنَّةِ اللهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ، فِيمَا اسْتَطَعْتُ .
১১২৯৷ আবদুল্লাহ ইবনে দীনার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ানের নিকট বায়আত হওয়ার জন্য তাকে পত্র লিখেন। তিনি তাকে লিখেন, ”বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আবদুল্লাহ ইবনে উমারের পক্ষ থেকে আমীরুল মুমিনীন আবদুল মালেককে। আপনাকে সালাম। আমি আপনার নিকট আল্লাহর প্রশংসা করি, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই এবং আমি যথাসাধ্য আপনার (নির্দেশ) শোনা ও মানার স্বীকারোক্তি করছি—আল্লাহর বিধান ও তাঁর রাসূলের সুন্নাত মোতাবেক। (বুখারী, মুয়াত্তা মালিক)
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ قَالَ : أَرْسَلَنِي أَبِي إِلَى ابْنِ عُمَرَ، فَرَأَيْتُهُ يَكْتُبُ : بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، أَمَّا بَعْدُ .
১১৩০। যায়েদ ইবনে আসলাম (রহঃ) বলেন, ”আমার পিতা আমাকে (আমার দাদা) ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট পাঠান। আমি তাকে লিখতে দেখলাম, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। অতঃপর....। -(বুখারী, মুয়াত্তা মালিক)
حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ قَالَ : رَأَيْتُ رَسَائِلَ مِنْ رَسَائِلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، كُلَّمَا انْقَضَتْ قِصَّةٌ قَالَ : أَمَّا بَعْدُ .
১৯৩১। হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতগুলো চিঠি দেখলাম। যেখানেই কোন বক্তব্য শেষ হয়েছে সেখানে তিনি বলেছেনঃ অতঃপর।
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ كُبَرَاءِ آلِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ كَتَبَ بِهَذِهِ الرِّسَالَةِ : بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، لِعَبْدِ اللهِ مُعَاوِيَةَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ، مِنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، سَلاَمٌ عَلَيْكَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكَ اللَّهَ الَّذِي لا إِلَهَ إلا هُوَ، أَمَّا بَعْدُ .
১১৩২। যায়েদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র পরিবারের প্রবীণদের সূত্র বর্তি। যায়েদ ইবনে সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নিম্নোক্ত চিঠি লিখেনঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। যায়েদ ইবনে সাবিতের পক্ষ থেকে আমীরুল মুমিনীন আল্লাহর বান্দা মুআবিয়াকে। আমীরুল মুমিনীন! আপনাকে সালাম এবং আল্লাহর রহমত। আমি আপনার সমীপে আল্লাহর প্রশংসা করি, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই। অতঃপর.....। (বাযযার)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو مَسْعُودٍ الْجُرَيْرِيُّ قَالَ : سَأَلَ رَجُلٌ الْحَسَنَ عَنْ قِرَاءَةِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ؟ قَالَ : تِلْكَ صُدُورُ الرَّسَائِلِ .
১১৩৩। আবু মাসউদ আল-জুরায়রী (রহঃ) বলেন, এক ব্যক্তি হাসান বসরী (রহঃ)-এর নিকট বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, তা চিঠিপত্রের শিরোনাম।
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ قَالَ : كَانَتْ لِابْنِ عُمَرَ حَاجَةٌ إِلَى مُعَاوِيَةَ، فَأَرَادَ أَنْ يَكْتُبَ إِلَيْهِ، فَقَالُوا : ابْدَأْ بِهِ، فَلَمْ يَزَالُوا بِهِ حَتَّى كَتَبَ : بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، إِلَى مُعَاوِيَةَ .
১১৩৪। নাফে (রহঃ) বলেন, মুআবিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র একটি প্রয়োজন ছিল। তাই তিনি তাকে চিঠি লিখতে মনস্থ করলেন। লোকজন বললো, শুরুতে তার নাম লিখুন এবং তারা একথাই বলতে থাকলো। তিনি লিখেন, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম, মুআবিয়াকে।
وَعَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ : كَتَبْتُ لِابْنِ عُمَرَ، فَقَالَ : اكْتُبْ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، أَمَّا بَعْدُ : إِلَى فُلانٍ .
১১৩৫৷ আনাস ইবনে সীরীন (রহঃ) বলেন, আমি ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র চিঠি লিখে দিতাম। তিনি বলেন, তুমি লিখোঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম, অতঃপর অমুককে।
وَعَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ : كَتَبَ رَجُلٌ بَيْنَ يَدَيِ ابْنِ عُمَرَ : بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، لِفُلاَنٍ، فَنَهَاهُ ابْنُ عُمَرَ وَقَالَ : قُلْ : بِسْمِ اللهِ، هُوَ لَهُ .
১১৩৬। আনাস ইবনে সীরীন (রহঃ) বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র সামনে চিঠি লিখলো, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম, অমুককে। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে এভাবে লিখতে নিষেধ করেন এবং বলেন, বলো, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম, এটি তাকে লিখিত।