হাদীস বিএন


আল-আদাবুল মুফরাদ





আল-আদাবুল মুফরাদ (1137)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ كُبَرَاءِ آلِ زَيْدٍ، أَنَّ زَيْدًا كَتَبَ بِهَذِهِ الرِّسَالَةِ : لِعَبْدِ اللهِ مُعَاوِيَةَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ، مِنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ : سَلاَمٌ عَلَيْكَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكَ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ، أَمَّا بَعْدُ .




১১৩৭। যায়েদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র পরিবারের প্রবীণদের থেকে বর্ণিত। যায়েদ ইবনে সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এই চিঠি লিখেনঃ যায়েদ ইবনে সাবিতের তরফ থেকে আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনীন মুআবিয়াকে। আমীরুল মুমিনীন! আপনাকে সালাম ও আল্লাহর রহমত কামনা করি। আমি আপনার সমীপে আল্লাহর প্রশংসা করি, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, অতঃপর। (বাযযার)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1138)


حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُمَرُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، سَمِعْتُهُ يَقُولُ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ رَجُلاً مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَذَكَرَ الْحَدِيثَ، وَكَتَبَ إِلَيْهِ صَاحِبُهُ : مِنْ فُلاَنٍ إِلَى فُلانٍ .




১১৩৮। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নবী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি..... অতঃপর রাবী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন এবং তার প্রতিপক্ষ তাকে লিখলো, অমুকের তরফ থেকে অমুককে (বুখারীতে কিতাবুল কাফালার প্রথম অনুচ্ছেদ শিরোনামের অধীন হাদীসটি সবিস্তারে উক্ত হয়েছে)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1139)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ الْغَسِيلِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ قَالَ : لَمَّا أُصِيبَ أَكْحُلُ سَعْدٍ يَوْمَ الْخَنْدَقِ فَثَقُلَ، حَوَّلُوهُ عِنْدَ امْرَأَةٍ يُقَالُ لَهَا : رُفَيْدَةُ، وَكَانَتْ تُدَاوِي الْجَرْحَى، فَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا مَرَّ بِهِ يَقُولُ : كَيْفَ أَمْسَيْتَ ؟ ، وَإِذَا أَصْبَحَ : كَيْفَ أَصْبَحْتَ ؟ فَيُخْبِرُهُ .




১১৩৯। মাহমূদ ইবনে লাবীদ (রহঃ) বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন সাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র চোখ আঘাতপ্রাপ্ত হলে এবং তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রাফীদা নাম্নী এক মহিলার নিকট পৌছে দেয়া হলো। তিনি আহতের চিকিৎসা করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল-সন্ধ্যায় সা'দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট দিয়ে যেতে জিজ্ঞেস করতেনঃ তোমার দিন কেমন কাটলো, তোমার রাত কেমন কাটলো? তিনি তাকে (নিজ অবস্থা) অবহিত করতেন। (বুখারীর তারীখ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1140)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يَحْيَى الْكَلْبِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ قَالَ : أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ : وَكَانَ كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ أَحَدَ الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ تِيبَ عَلَيْهِمْ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ خَرَجَ مِنْ عِنْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي وَجَعِهِ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، فَقَالَ النَّاسُ : يَا أَبَا الْحَسَنِ، كَيْفَ أَصْبَحَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟ قَالَ : أَصْبَحَ بِحَمْدِ اللهِ بَارِئًا، قَالَ : فَأَخَذَ عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بِيَدِهِ، فَقَالَ : أَرَأَيْتُكَ ؟ فَأَنْتَ وَاللَّهِ بَعْدَ ثَلاَثٍ عَبْدُ الْعَصَا، وَإِنِّي وَاللَّهِ لَأَرَى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم سَوْفَ يُتَوَفَّى فِي مَرَضِهِ هَذَا، إِنِّي أَعْرِفُ وُجُوهَ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عِنْدَ الْمَوْتِ، فَاذْهَبْ بِنَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَلْنَسْأَلْهُ : فِيمَنْ هَذَا الأَمْرُ ؟ فَإِنْ كَانَ فِينَا عَلِمْنَا ذَلِكَ، وَإِنْ كَانَ فِي غَيْرِنَا كَلَّمْنَاهُ فَأَوْصَى بِنَا، فَقَالَ عَلِيٌّ : إِنَّا وَاللَّهِ إِنْ سَأَلْنَاهُ فَمَنَعَنَاهَا لاَ يُعْطِينَاهَا النَّاسُ بَعْدَهُ أَبَدًا، وَإِنِّي وَاللَّهِ لاَ أَسْأَلُهَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَبَدًا .




১১৪০। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুব্যাধিগ্রস্ত অবস্থায় আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার নিকট থেকে বের হয়ে আসলে লোকজন জিজ্ঞেস করে, হে আবুল হাসান! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাত কেমন কাটলো? তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ! তিনি সুস্থ অবস্থায় রাত কাটিয়েছেন। রাবী বলেন, আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার হাত ধরে জিজ্ঞেস করেন, আমি তো দেখছি তুমি তিন দিন পর লাঠির দাস হবে। আল্লাহর শপথ আমি তো দেখছি তিনি তাঁর এই রোগেই মৃত্যুবরণ করবেন। মৃত্যুর পূর্বে আবদুল মুত্তালিব বংশের লোকের চেহারা কেমন হয়ে যায় তা আমি জানি। অতএব চলো, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাই এবং তাকে জিজ্ঞেস করি তাঁর পরে কে তার স্থলাভিষিক্ত হবে? যদি তা আমাদের মধ্যে থাকে তবে তো আমরা তা জেনে গেলাম। আর যদি তা আমাদের বহির্ভূত লোকদের মধ্যে চলে যায় তবে আমরা তাঁর সাথে কথা বলবো, (যাতে) তিনি আমাদের সম্পর্কে ওসিয়াত করে যান। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহর শপথ! যদি আমরা তাকে জিজ্ঞেস করি এবং তিনি আমাদেরকে (ঐ পদে সমাসীন হতে) নিষেধ করেন, তবে তার পরে লোকেরা আর কখনো আমাদেরকে ঐ পদ দিবে না। অতএব আল্লাহর শপথ! আমি এই বিষয়ে কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করবো না। (বুখারী হাঃ ৪০৯৪, আহমাদ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1141)


حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي، أَنَّهُ أَخَذَ هَذِهِ الرِّسَالَةَ مِنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدٍ، وَمِنْ كُبَرَاءِ آلِ زَيْدٍ : بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، لِعَبْدِ اللهِ مُعَاوِيَةَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ، مِنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ : سَلاَمٌ عَلَيْكَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكَ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ، أَمَّا بَعْدُ : فَإِنَّكَ تَسْأَلُنِي عَنْ مِيرَاثِ الْجَدِّ وَالإِخْوَةِ، فَذَكَرَ الرِّسَالَةَ، وَنَسْأَلُ اللَّهَ الْهُدَى وَالْحِفْظَ وَالتَّثَبُّتَ فِي أَمْرِنَا كُلِّهِ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ نَضِلَّ، أَوْ نَجْهَلَ، أَوْ نُكَلَّفَ مَا لَيْسَ لَنَا بِهِ عِلْمٌ، وَالسَّلاَمُ عَلَيْكَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ وَمَغْفِرَتُهُ . وَكَتَبَ وُهَيْبٌ : يَوْمَ الْخَمِيسِ لِثِنْتَيْ عَشْرَةَ بَقِيَتْ مِنْ رَمَضَانَ سَنَةَ اثْنَيْنِ وَأَرْبَعِينَ .




১১৪১। ইবনে আবুয যিনাদ (রহঃ) বলেন, আমার পিতা আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নিম্নোক্ত পত্রটি খারিজা ইবনে যায়েদ (রহঃ) ও যায়েদ পরিবারের প্রবীণদের নিকট থেকে পেয়েছেনঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। যায়েদ ইবনে সাবিতের পক্ষ থেকে আল্লাহর বান্দা ও মুমিনদের নেতা মুআবিয়াকে। আমীরুল মুমিনীন! আপনাকে সালাম ও আল্লাহর রহমত। আমি আপনার সমীপে আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। অতঃপর আপনি আমাকে দাদা বা নানা ও বোনদের ওয়ারিসী স্বত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছেন (অতঃপর চিঠির বিষয়বস্তু উক্ত হয়েছে)। আমরা আল্লাহর নিকট সৎপথ প্রাপ্তি, সুস্থ স্মরণশক্তি ও আমাদের সকল কাজ সুষ্ঠভাবে বুঝবার তৌকীক কামনা করি। অপরদিকে আমরা আল্লাহর কাছে পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে, মূর্খতা প্রসূত আচরণ করা থেকে এবং আমাদের জ্ঞান বহির্ভূত দায়িত্ব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার উপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক এবং তিনি আপনাকে ক্ষমা করুন। উহাইব (রহঃ) এই পত্ৰখানা বিয়াল্লিশ হিজরীর রমযান মাসের বারো দিন অবশিষ্ট থাকতে বৃহস্পতিবার লিপিবদ্ধ করেন। (বাযযার)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1142)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، وَسَلَّمَ عَلَيْهِ رَجُلٌ فَرَدَّ السَّلاَمَ، ثُمَّ سَأَلَ عُمَرُ الرَّجُلَ : كَيْفَ أَنْتَ ؟ فَقَالَ : أَحْمَدُ اللَّهَ إِلَيْكَ، فَقَالَ عُمَرُ : هَذَا الَّذِي أَرَدْتُ مِنْكَ .




১১৪২। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে এক ব্যক্তি সালাম দিলো। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে লোকটিকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কেমন আছো? সে বললো, আমি আপনার সমীপে আল্লাহর প্রশংসা করছি। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি তোমার নিকট এটাই আশা করছিলাম। (মুয়াত্তা মালিক)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1143)


حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ سَلَمَةَ الْمَكِّيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ : قِيلَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : كَيْفَ أَصْبَحْتَ ؟ قَالَ : بِخَيْرٍ مِنْ قَوْمٍ لَمْ يَشْهَدُوا جَنَازَةً، وَلَمْ يَعُودُوا مَرِيضًا .




১১৪৩। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার রাত কেমন কাটলো? তিনি বলেনঃ ভালোভাবেই কেটেছে, এমন জনগোষ্ঠীর তুলনায় যারা কোন জানাযায় উপস্থিত হয়নি এবং রুগ্ন ব্যক্তিকেও দেখতে যায়নি। (ইবনে মাজাহ হাঃ ৩৭১০)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1144)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالَ : حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ مُهَاجِرٍ هُوَ الصَّائِغُ، قَالَ : كُنْتُ أَجْلِسُ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ضَخْمٍ مِنَ الْحَضْرَمِيِّينَ، فَكَانَ إِذَا قِيلَ لَهُ : كَيْفَ أَصْبَحْتَ ؟ قَالَ : لا نُشْرِكُ بِاللَّهِ .




১১৪৪। মুহাজির (রহঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদারামাওতবাসী এক স্থূলকায় সাহাবীর মজলিসে বসতাম। তাকে যখন বলা হতো, আপনার রাত কেমন কেটেছে, তখন তিনি বলতেন, আমরা আল্লাহর সাথে শরীক করি না।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1145)


حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا رِبْعِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْجَارُودِ الْهُذَلِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَيْفُ بْنُ وَهْبٍ قَالَ : قَالَ لِي أَبُو الطُّفَيْلِ : كَمْ أَتَى عَلَيْكَ ؟ قُلْتُ : أَنَا ابْنُ ثَلاَثٍ وَثَلاَثِينَ، قَالَ : أَفَلاَ أُحَدِّثُكَ بِحَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ : إِنَّ رَجُلاً مِنْ مُحَارِبِ خَصَفَةَ، يُقَالُ لَهُ : عَمْرُو بْنُ صُلَيْعٍ، وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ، وَكَانَ بِسِنِّي يَوْمَئِذٍ وَأَنَا بِسِنِّكَ الْيَوْمَ، أَتَيْنَا حُذَيْفَةَ فِي مَسْجِدٍ، فَقَعَدْتُ فِي آخِرِ الْقَوْمِ، فَانْطَلَقَ عَمْرٌو حَتَّى قَامَ بَيْنَ يَدَيْهِ، قَالَ : كَيْفَ أَصْبَحْتَ، أَوْ كَيْفَ أَمْسَيْتَ يَا عَبْدَ اللهِ ؟ قَالَ : أَحْمَدُ اللَّهَ، قَالَ : مَا هَذِهِ الأَحَادِيثُ الَّتِي تَأْتِينَا عَنْكَ ؟ قَالَ : وَمَا بَلَغَكَ عَنِّي يَا عَمْرُو ؟ قَالَ : أَحَادِيثُ لَمْ أَسْمَعْهَا، قَالَ : إِنِّي وَاللَّهِ لَوْ أُحَدِّثُكُمْ بِكُلِّ مَا سَمِعْتُ مَا انْتَظَرْتُمْ بِي جُنْحَ هَذَا اللَّيْلِ، وَلَكِنْ يَا عَمْرُو بْنَ صُلَيْعٍ، إِذَا رَأَيْتَ قَيْسًا تَوَالَتْ بِالشَّامِ فَالْحَذَرَ الْحَذَرَ، فَوَاللَّهِ لاَ تَدَعُ قَيْسٌ عَبْدًا لِلَّهِ مُؤْمِنًا إِلاَّ أَخَافَتْهُ أَوْ قَتَلَتْهُ، وَاللَّهِ لَيَأْتِيَنَّ عَلَيْهِمْ زَمَانٌ لاَ يَمْنَعُونَ فِيهِ ذَنَبَ تَلْعَةٍ، قَالَ : مَا يَنْصِبُكَ عَلَى قَوْمِكَ يَرْحَمُكَ اللَّهُ ؟ قَالَ : ذَاكَ إِلَيَّ، ثُمَّ قَعَدَ .




১১৪৫। সাইফ ইবনে ওয়াহব (রহঃ) বলেন, আবু তুফাইল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার বয়স কতো? আমি বললাম, তেত্রিশ বছর। তিনি বলেন, আমি কি তোমার নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করবো না, যা আমি হুযায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট শুনেছি? আমর ইবনে সুলাই (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নামক মুহারিব খাসফার এক ব্যক্তি, যিনি সাহাবী ছিলেন এবং যিনি ছিলেন তখন আমার বয়সী এবং আমি ছিলাম তোমার বয়সী। আমরা এক মসজিদে হুযায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট আসলাম। আমি সমাবেশের একেবারে শেষ প্রান্তে বসলাম। আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উঠে গিয়ে হুযায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর বান্দা! আপনার রাত কেমন কেটেছে বা আপনার দিন কেমন কেটেছে? তিনি বলেন, আমি আল্লাহর প্রশংসা করি। তিনি জিজ্ঞেস করেন, এসব কি কথা যা আপনার বরাতে আমাদের নিকট পৌঁছে?

হুযায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, হে আমর! আমার বরাতে তোমার নিকট কি পৌঁছেছে? তিনি বলেন, এমন কতক হাদীস যা আমি কখনো শুনিনি। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ আমি যদি তোমার নিকট সেইসব হাদীস বর্ণনা করি যা আমি শুনি, তাহলে তোমরা এই রাতের কিয়দংশ-ও তুমি আমার সাথে অপেক্ষা করবে না। কিন্তু হে আমর ইবনে সুলাই! যখন তুমি দেখবে যে, কায়েস গোত্র সিরিয়ার কর্তৃত্ব লাভ করেছে তখন সাবধান, আত্মরক্ষা করো। আল্লাহর শপথ! কায়েস গোত্র আল্লাহর কোনও মুমিন বান্দাকে ভীত-সন্ত্রস্ত অথবা হত্যা না করে ক্ষান্ত হবে না। আল্লাহর শপথ! তাদের সামনে এমন এক যুগ আসবে যখন তারা যে কোন গুনাহের কাজ না করে ছাড়বে না। আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহ আপনাকে দয়া করুন, আপনি আপনার জনগোষ্ঠীকে কিভাবে বশীভূত করবেন? তিনি বলেন, এটা তো আমারও দুশ্চিন্তার বিষয়। আতঃপর তিনি বসে পড়লেন। (হাকিম)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1146)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْمَوَالِي قَالَ : أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ الأَنْصَارِيُّ قَالَ : أُوذِنَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ بِجِنَازَةٍ، قَالَ : فَكَأَنَّهُ تَخَلَّفَ حَتَّى أَخَذَ الْقَوْمُ مَجَالِسَهُمْ، ثُمَّ جَاءَ مَعَهُ، فَلَمَّا رَآهُ الْقَوْمُ تَسَرَّعُوا عَنْهُ، وَقَامَ بَعْضُهُمْ عَنْهُ لِيَجْلِسَ فِي مَجْلِسِهِ، فَقَالَ : لاَ، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : خَيْرُ الْمَجَالِسِ أَوْسَعُهَا، ثُمَّ تَنَحَّى فَجَلَسَ فِي مَجْلِسٍ وَاسِعٍ .




১১৪৬। আবদুর রহমান ইবনে আবু আমরা আল-আনসারী (রহঃ) বলেন, আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে একটি জানাযার খবর দেয়া হলো। তিনি বিলম্ব করলেন। লোকজন এসে নিজ নিজ জায়গায় বসে গেলো। অতঃপর তিনি এলেন। তারা তাকে আসতে দেখেই তাড়াহুড়া করলো এবং কতক লোক দাঁড়িয়ে গেলো, যাতে তিনি তাদের স্থানে বসেন। তিনি বলেন, না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ প্রশস্ত স্থানের বৈঠক উত্তম। অতঃপর তিনি একটু অগ্রসর হয়ে এক প্রশস্ত স্থানে বসলেন। (দারিমী, তিরমিযী)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1147)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ عِمْرَانَ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ مُنْقِذٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : كَانَ أَكْثَرُ جُلُوسِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ وَهُوَ مُسْتَقْبِلٌ الْقِبْلَةَ، فَقَرَأَ يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ قُسَيْطٍ سَجْدَةً بَعْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ فَسَجَدَ وَسَجَدُوا إِلاَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ، فَلَمَّا طَلَعَتِ الشَّمْسُ حَلَّ عَبْدُ اللهِ حَبْوَتَهُ ثُمَّ سَجَدَ وَقَالَ : أَلَمْ تَرَ سَجْدَةَ أَصْحَابِكَ ؟ إِنَّهُمْ سَجَدُوا فِي غَيْرِ حِينِ صَلاةٍ .




১১৪৭। সুফিয়ান ইবনে মুনকিয (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রায়ই কিবলামুখী হয়ে বসতেন। সূর্যোদয়ের পর ইয়াযীদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুসাইত (রহঃ) সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ব্যতীত তিনি এবং উপস্থিত সকলে সিজদা করলেন। তিনি বলেন, তুমি কি তোমার সংগীদের সিজদা লক্ষ্য করেনি? তারা নামায পড়া যায় না এমন সময় সিজদা করেছে।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1148)


حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ قَالَ : حَدَّثَنِي سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَجْلِسِهِ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَيْهِ، فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ .




১১৪৮। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ মজলিস থেকে উঠে গিয়ে পুনরায় তথায় ফিরে এলে সে তার পূর্বোক্ত স্থানে বসার অধিক হকদার। (মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1149)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ : أَتَانَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ صِبْيَانُ، فَسَلَّمَ عَلَيْنَا، وَأَرْسَلَنِي فِي حَاجَةٍ، وَجَلَسَ فِي الطَّرِيقِ يَنْتَظِرُنِي حَتَّى رَجَعْتُ إِلَيْهِ، قَالَ : فَأَبْطَأْتُ عَلَى أُمِّ سُلَيْمٍ، فَقَالَتْ : مَا حَبَسَكَ ؟ فَقُلْتُ : بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي حَاجَةٍ، قَالَتْ : مَا هِيَ ؟ قُلْتُ : إِنَّهَا سِرٌّ، قَالَتْ : فَاحْفَظْ سِرَّ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم .




১১৪৯। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এলেন। আমরা ছিলাম একদল বালক। তিনি আমাদের সালাম দিলেন। তিনি আমাকে তাঁর এক প্রয়োজনে পাঠালেন এবং আমার ফিরে না আসা পর্যন্ত রাস্তায় বসে আমার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলেন। এতে উম্মু সুলাইম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট আমার (বাড়িতে) ফিরে আসতে বিলম্ব হলো। তিনি বিলম্বের কারণ জিজ্ঞেস করলে আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এক প্রয়োজনে আমাকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তা কি? আমি বললাম, সেটা গোপনীয় বিষয়। তিনি বলেন, তাহলে তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপনীয় বিষয়ের হেফাজত করো। (মুসলিম, বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, দারিমী, ইবনে খুজাইমাহ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1150)


حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : لاَ يُقِيمَنَّ أَحَدُكُمُ الرَّجُلَ مِنْ مَجْلِسِهِ، ثُمَّ يَجْلِسُ فِيهِ، وَلَكِنْ تَفَسَّحُوا وَتَوَسَّعُوا .




১১৫০। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন অপর ব্যক্তিকে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে নিজে সেখানে না বসে। বরং তোমরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে জায়গা প্রশস্ত করে বসো। (মুসলিম, বুখারী, দারিমী, আবু আওয়ানা, ইবনে হিব্বান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1151)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الطُّفَيْلِ، قَالَ : حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ : كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَلَسَ أَحَدُنَا حَيْثُ انْتَهَى .




১১৫১ ৷ জাবের ইবনে সামুরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মজলিসে এসে যেখানে জায়গা (খালি) পাওয়া যেতো, আমাদের যে কেউ সেখানে বসে যেতো। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1152)


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا الْفُرَاتُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَ اثْنَيْنِ، إِلا بِإِذْنِهِمَا .




১১৫২। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তির জন্য দুইজনের মাঝে তাদের অনুমতি ছাড়া ফাঁক করে বসা হালাল নয়। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1153)


حَدَّثَنَا بَيَانُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ : حَدَّثَنَا النَّضْرُ، قَالَ : أَخْبَرَنَا أَبُو عَامِرٍ الْمُزَنِيُّ هُوَ صَالِحُ بْنُ رُسْتُمَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : لَمَّا طُعِنَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كُنْتُ فِيمَنْ حَمَلَهُ حَتَّى أَدْخَلْنَاهُ الدَّارَ، فَقَالَ لِي : يَا ابْنَ أَخِي، اذْهَبْ فَانْظُرْ مَنْ أَصَابَنِي، وَمَنْ أَصَابَ مَعِي، فَذَهَبْتُ فَجِئْتُ لِأُخْبِرُهُ، فَإِذَا الْبَيْتُ مَلْآنُ، فَكَرِهْتُ أَنْ أَتَخَطَّى رِقَابَهُمْ، وَكُنْتُ حَدِيثَ السِّنِّ، فَجَلَسْتُ، وَكَانَ يَأْمُرُ إِذَا أَرْسَلَ أَحَدًا بِالْحَاجَةِ أَنْ يُخْبِرَهُ بِهَا، وَإِذَا هُوَ مُسَجًّى، وَجَاءَ كَعْبٌ فَقَالَ : وَاللَّهِ لَئِنْ دَعَا أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ لَيُبْقِيَنَّهُ اللَّهُ وَلَيَرْفَعَنَّهُ لِهَذِهِ الأُمَّةِ حَتَّى يَفْعَلَ فِيهَا كَذَا وَكَذَا، حَتَّى ذَكَرَ الْمُنَافِقِينَ فَسَمَّى وَكَنَّى، قُلْتُ : أُبَلِّغُهُ مَا تَقُولُ ؟ قَالَ : مَا قُلْتُ إِلاَّ وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ تُبَلِّغَهُ، فَتَشَجَّعْتُ فَقُمْتُ، فَتَخَطَّيْتُ رِقَابَهُمْ حَتَّى جَلَسْتُ عِنْدَ رَأْسِهِ، قُلْتُ : إِنَّكَ أَرْسَلَتْنِي بِكَذَا، وَأَصَابَ مَعَكَ كَذَا، ثَلاَثَةَ عَشَرَ، وَأَصَابَ كُلَيْبًا الْجَزَّارَ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ عِنْدَ الْمِهْرَاسِ، وَإنّ َ كَعْبًا يَحْلِفُ بِاللَّهِ بِكَذَا، فَقَالَ : ادْعُوا كَعْبًا، فَدُعِيَ، فَقَالَ : مَا تَقُولُ ؟ قَالَ : أَقُولُ كَذَا وَكَذَا، قَالَ : لاَ وَاللَّهِ لاَ أَدْعُو، وَلَكِنْ شَقِيٌّ عُمَرُ إِنْ لَمْ يَغْفِرِ اللَّهُ لَهُ .




১১৫৩৷ ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সন্ত্রাসী কর্তৃক আহত হলে যারা তাকে ধরে তার ঘরে নিয়ে আসেন, আমিও তাদের সাথে ছিলাম। তিনি আমাকে বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! বাইরে গিয়ে দেখো, কে আমাকে হামলা করেছে এবং আমার সাথে আর কে আহত হয়েছে? আমি বাইরে গিয়ে তাকে খবর দেয়ার জন্য ফিরে এলাম। দেখি যে, ঘর লোকে লোকারণ্য। তাই আমি তাদের ঘার ডিঙ্গিয়ে সামনে যেতে পছন্দ করলাম না। আমি ছিলাম উঠতি বয়সের যুবক। অতএব আমি বসে পড়লাম। আর তিনি কাউকে কোন কাজে পাঠালে নির্দেশ দিতেন, সে যেন ফিরে এসে তাকে তা অবহিত করে। তখন তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।

ইত্যবসরে কাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এসে বলেন, আল্লাহর শপথ! আমীরুল মুমিনীনের দোয়া করা উচিৎ যাতে আল্লাহ তাকে এই উম্মাতের জন্য জীবিত রাখেন। অন্যথায় তিনি তাকে তুলে নিলে এই এই (অনিষ্ট) ঘটতে পারে। এমনকি কাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মোনাফিকদের নাম-উপনাম ও তাদের সংখ্যা পর্যন্ত উল্লেখ করেন। আমি বললাম, আপনি যা বললেন তা আমি তার নিকট পৌছাবো। কাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তুমি তার কাছে পৌছাবে এই উদ্দেশেই তো আমি বলেছি। এবার আমি (ইবনে আব্বাস) সাহস সঞ্চার করে উঠে দাঁড়ালাম এবং লোকজনের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে তার শিয়রে গিয়ে বসলাম।

আমি বললাম, আপনি আমাকে এজন্য পাঠিয়েছিলেন। আপনার সাথে আরো তেরোজন আহত হয়েছেন। কুলাইব আল-জাযযারও আহত হয়েছেন, তখন তিনি উখলির (পানির চৌবাচ্চা) নিকট উযু করছিলেন। আর কাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আল্লাহর শপথ করে এই এই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কাবকে ডাকো। তিনি কাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে ডাকলেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি বলেছেন? তিনি বলেন, আমি এই এই কথা বলেছি। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, না, আল্লাহর শপথ আমি দোয়া করবো না। আল্লাহ যদি উমারকে ক্ষমা না করেন তবে সে তো হতভাগ্য।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1154)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، عَنِ ابْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، وَعِنْدَهُ الْقَوْمُ جُلُوسٌ، يَتَخَطَّى إِلَيْهِ، فَمَنَعُوهُ، فَقَالَ : اتْرُكُوا الرَّجُلَ، فَجَاءَ حَتَّى جَلَسَ إِلَيْهِ، فَقَالَ : أَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : الْمُسْلِمُ مِنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ .




১১৫৪। শাবী (রহঃ) বলেন, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট এলো। তার নিকট একদল লোক বসা ছিল। সে তাদের ডিঙ্গিয়ে তার নিকট যেতে থাকলে তারা তাকে বাধা দেয়। তিনি বলেন, তোমরা তাকে বাধা দিও না। সে এসে তার নিকট বসার পর বলে, আপনি আমাকে এমন কিছু অবহিত করুন যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ”যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে সে-ই হলো প্রকৃত মুসলিম। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ পরিহার করে সে-ই হলো প্রকৃত মুহাজির”। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, দারিমী, ইবনে হিব্বান, আহমাদ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1155)


حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا السَّائِبُ بْنُ عُمَرَ قَالَ : حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ مُوسَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ : قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : أَكْرَمُ النَّاسِ عَلَيَّ جَلِيسِي .




১১৫৫। মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর (রহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেনঃ লোকজনের মধ্যে আমার সহযোগীরাই আমার নিকট অধিক সম্মানের পাত্র। (নাসাঈ, ইবনে হিব্বান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1156)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُؤَمَّلٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : أَكْرَمُ النَّاسِ عَلَيَّ جَلِيسِي، أَنْ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ حَتَّى يَجْلِسَ إِلَيَّ .




১১৫৬। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমার সঙ্গীরাই অন্যদের চেয়ে আমার নিকট অধিক সম্মানের পাত্র, যদিও তারা লোকজনের ঘাড় টপকিয়ে এসে আমার নিকট বসে। (পূর্বোক্ত বরাত)