হাদীস বিএন


আল-আদাবুল মুফরাদ





আল-আদাবুল মুফরাদ (1257)


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ قَالَ : حَدَّثَتْنَا عَجُوزٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ جَدَّةُ عَلِيِّ بْنِ غُرَابٍ قَالَتْ : حَدَّثَتْنِي أُمُّ الْمُهَاجِرِ قَالَتْ : سُبِيتُ فِي جَوَارِي مِنَ الرُّومِ، فَعَرَضَ عَلَيْنَا عُثْمَانُ الإِسْلاَمَ، فَلَمْ يُسْلِمْ مِنَّا غَيْرِي وَغَيْرُ أُخْرَى، فَقَالَ عُثْمَانُ : اذْهَبُوا فَاخْفِضُوهُمَا، وَطَهِّرُوهُمَا .




১২৫৭। উম্মুল মুহাজির (রহঃ) বলেন, আমি রূম এলাকা (এশিয়া মাইনর) থেকে যুদ্ধবন্দিনীরূপে নীত হই। উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদের ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দেন। আমি এবং অপর একজন ব্যতীত আর কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এই দুই নারীকে নিয়ে যাও, তাদের (ভগাংকুর) নিচু করো এবং তাদের পবিত্র করো।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1258)


حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ حَمْزَةَ قَالَ : أَخْبَرَنِي سَالِمٌ قَالَ : خَتَنَنِي ابْنُ عُمَرَ أَنَا وَنُعَيْمًا، فَذَبَحَ عَلَيْنَا كَبْشًا، فَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَإِنَّا لَنَجْذَلُ بِهِ عَلَى الصِّبْيَانِ أَنْ ذَبَحَ عَنَّا كَبْشًا .




১২৫৮। সালেম (রহঃ) বলেন, ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার ও নাঈমের খতনা করালেন। তিনি আমাদের জন্য একটি মেষ যবেহ করেন। আমাদের স্মরণ আছে যে, আমরা আনন্দভরে শিশুদের বলতাম, আমাদের জন্য একটি মেষ যবেহ করা হয়েছে।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1259)


حَدَّثَنَا أَصْبَغُ قَالَ : أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ بُكَيْرًا حَدَّثَهُ، أَنَّ أُمَّ عَلْقَمَةَ أَخْبَرَتْهُ، أَنَّ بَنَاتَ أَخِي عَائِشَةَ اخْتُتِنَّ، فَقِيلَ لِعَائِشَةَ : أَلاَ نَدْعُو لَهُنَّ مَنْ يُلْهِيهِنَّ ؟ قَالَتْ : بَلَى . فَأَرْسَلْتُ إِلَى عَدِيٍّ فَأَتَاهُنَّ، فَمَرَّتْ عَائِشَةُ فِي الْبَيْتِ فَرَأَتْهُ يَتَغَنَّى وَيُحَرِّكُ رَأْسَهُ طَرَبًا، وَكَانَ ذَا شَعْرٍ كَثِيرٍ، فَقَالَتْ : أُفٍّ، شَيْطَانٌ، أَخْرِجُوهُ، أَخْرِجُوهُ .




১২৫৯। উম্মু আলকামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত।আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র ভ্রাতুষ্পুত্রীদের খতনা করানো হলো। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলা হলো, তাদেরকে ভুলানোর জন্য কাউকে ডাকবো না কি? তিনি বলেন, অবশ্যই। অতএব হুদীর (উট চরানোর গান) গায়ককে ডেকে পাঠানো হলো। সে আসলো। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ঘরে প্রবেশ করে তাকে মাথার চুল ঝাকড়িয়ে গীত পরিবেশন করতে দেখেন। তার মাথায় ছিল পর্যাপ্ত চুল। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আহ! একটি শয়তান, একে বের করে দাও, একে বের করে দাও।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1260)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ أَسْلَمَ مَوْلَى عُمَرَ قَالَ : لَمَّا قَدِمْنَا مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ الشَّامَ أَتَاهُ الدِّهْقَانُ قَالَ : يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنِّي قَدْ صَنَعْتُ لَكَ طَعَامًا، فَأُحِبُّ أَنْ تَأْتِيَنِي بِأَشْرَافِ مَنْ مَعَكَ، فَإِنَّهُ أَقْوَى لِي فِي عَمَلِي، وَأَشْرَفُ لِي، قَالَ : إِنَّا لاَ نَسْتَطِيعُ أَنْ نَدْخُلَ كَنَائِسَكُمْ هَذِهِ مَعَ الصُّوَرِ الَّتِي فِيهَا .




১২৬০। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র মুক্তদাস সালেম (রহঃ) বলেন, আমরা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র সাথে সিরিয়ায় পৌঁছলে তার নিকট এক (খৃষ্টান) ভূস্বামী এসে বললো, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি আপনার জন্য আহার্য তৈরি করেছি। আমি আশা করি যে, আপনার সম্ভ্রান্ত পারিষদবর্গসহ আপনি আমার এখানে আসবেন। তা আমার কাজে শক্তি যোগাবে এবং আমার শরাফত বৰ্দ্ধিত হবে। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমাদের গির্যাসমূহে (জীব-জন্তুর) চিত্রাবলী থাকা অবস্থায় আমরা তাতে প্রবেশ করতে পারি না।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1261)


حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ قَالَ : حَدَّثَتْنَا عَجُوزٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ جَدَّةُ عَلِيِّ بْنِ غُرَابٍ قَالَتْ : حَدَّثَتْنِي أُمُّ الْمُهَاجِرِ قَالَتْ : سُبِيتُ وَجَوَارِي مِنَ الرُّومِ، فَعَرَضَ عَلَيْنَا عُثْمَانُ الإِسْلاَمَ، فَلَمْ يُسْلِمْ مِنَّا غَيْرِي وَغَيْرُ أُخْرَى، فَقَالَ : اخْفِضُوهُمَا، وَطَهِّرُوهُمَا فَكُنْتُ أَخْدُمُ عُثْمَانَ .




১২৬১। উম্মুল মুহাজির (রহঃ) বলেন, আমি রুম এলাকায় যুদ্ধবন্দী হই। উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদের ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দেন। আমাদের মধ্যে আমি এবং অপর একজন ব্যতীত কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এই দুই নারীর খতনা করাও এবং তাদের পবিত্র করো। আমি উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র খেদমত করতাম।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1262)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : اخْتَتَنَ إِبْرَاهِيمُ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ ابْنُ عِشْرِينَ وَمِئَةٍ، ثُمَّ عَاشَ بَعْدَ ذَلِكَ ثَمَانِينَ سَنَةً .




১২৬২। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ইবরাহীম (আঃ) এক শত বিশ বছর বয়সে খতনা করেন। অতঃপর তিনি আশি বছর জীবিত ছিলেন। সাঈদ (রহঃ) বলেন, ইবরাহীম (আঃ) হলেন খতনাকারী প্রথম ব্যক্তি, তিনিই প্রথম গোঁফ কাটেন, তিনিই প্রথম নখ কাটেন এবং তিনিই প্রথম সাদা চুল (বার্ধক্যের চিহ্ন) দেখেন। তিনি বলেন, হে প্ৰভু! এটা কি? তিনি বলেন, গাম্ভীর্য ও মর্যাদা। তিনি বলেনঃ হে প্ৰভু! আমার গাম্ভীর্য ও মর্যাদা বৰ্দ্ধিত করুন। (বুখারী, মুসলিম, হাকিম, ইবনে হিব্বান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1263)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مُعْتَمِرٌ قَالَ : حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ أَبِي الذَّيَّالِ، وَكَانَ صَاحِبَ حَدِيثٍ، قَالَ : سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ : أَمَا تَعْجَبُونَ لِهَذَا ؟ يَعْنِي : مَالِكَ بْنَ الْمُنْذِرِ عَمَدَ إِلَى شُيُوخٍ مِنْ أَهْلِ كَسْكَرَ أَسْلَمُوا، فَفَتَّشَهُمْ فَأَمَرَ بِهِمْ فَخُتِنُوا، وَهَذَا الشِّتَاءُ، فَبَلَغَنِي أَنَّ بَعْضَهُمْ مَاتَ، وَلَقَدْ أَسْلَمَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم الرُّومِيُّ وَالْحَبَشِيُّ فَمَا فُتِّشُوا عَنْ شَيْءٍ .




১২৬৩। সালেম ইবনে আবুয যিয়াল (রহঃ) বলেন, আমি হাসান বসরী (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা মালেক ইবনুল মুনযির সম্পর্কে কেন হতবাক হচ্ছে? তিনি কাসকারবাসীদের কতক প্রবীণ লোকের নিকট গেলেন, তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। তিনি তাদের তদারক করে দেখে তাদের নির্দেশ দিলে তারা খতনা করায়। এটা শীত মৌসুমের ঘটনা। আমি জানতে পারলাম যে, তাদের কতক মারা গেছে। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাবশী, রূমী ইত্যাদি জাতির লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে কিন্তু তাদের কোনরূপ তদারক করে দেখা হয়নি (খতনা করেছে কি না)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1264)


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ الأُوَيْسِيُّ قَالَ : حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ : وَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا أَسْلَمَ أُمِرَ بِالِاخْتِتَانِ وَإِنْ كَانَ كَبِيرًا .




১২৬৪। ইবনে শিহাব (রহঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে সে প্রাপ্তবয়স্ক হলেও তাকে খতনা করার নির্দেশ দেয়া হতো।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1265)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْعُمَرِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ بِلاَلِ بْنِ كَعْبٍ الْعَكِّيِّ قَالَ : زُرْنَا يَحْيَى بْنَ حَسَّانَ فِي قَرْيَتِهِ، أَنَا وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ أَدْهَمَ، وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ قَرِيرٍ، وَمُوسَى بْنُ يَسَارٍ، فَجَاءَنَا بِطَعَامٍ، فَأَمْسَكَ مُوسَى، وَكَانَ صَائِمًا، فَقَالَ يَحْيَى : أَمَّنَا فِي هَذَا الْمَسْجِدِ رَجُلٌ مِنْ بَنِي كِنَانَةَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُكَنَّى أَبَا قِرْصَافَةَ أَرْبَعِينَ سَنَةً، يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا، فَوُلِدَ لأَبِي غُلاَمٌ، فَدَعَاهُ فِي الْيَوْمِ الَّذِي يَصُومُ فِيهِ فَأَفْطَرَ، فَقَامَ إِبْرَاهِيمُ فَكَنَسَهُ بِكِسَائِهِ، وَأَفْطَرَ مُوسَى قَالَ أَبُو عَبْدِ اللهِ : أَبُو قِرْصَافَةَ اسْمُهُ جَنْدَرَةُ بْنُ خَيْشَنَةَ .




১২৬৫। বিলাল ইবনে কাব আল-আককী (রহঃ) বলেন আমি, ইবরাহীম ইবনে আদহাম, আবদুল আযীয ইবনে কুদাইদ ও মূসা ইবনে ইয়াসার (রহঃ) ইয়াহইয়া ইবনে হাসান আল-বাকরী আল-ফালাসতিনীর সাথে তার গ্রামে গিয়ে সাক্ষাত করলাম। তিনি আমাদের জন্য খাবার আনলেন। মূসা রোযাদার হওয়ায় আহার গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। ইয়াহইয়া বলেন, চল্লিশ বছর যাবত এই মসজিদে কিনানা গোত্রীয় আবু কিরসাফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ডাকনামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী আমাদের ইমামতি করেন। তিনি এক দিন রোযা রাখেন এবং এক দিন বিরতি দেন। আমার পিতার একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করলে তিনি তাকে দাওয়াত দেন। সেটি ছিল তার রোযা রাখার দিন। তিনি রোযা ভাংলেন। ইবরাহীম (রহঃ) উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে তার চাদরখানা উপটৌকন দেন এবং মূসাও রোযা ভাংগেন। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, আবু কিরসাফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নাম জানদারা ইবনে খায়শানা।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1266)


حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ : ذَهَبْتُ بِعَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ وُلِدَ، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي عَبَاءَةٍ يَهْنَأُ بَعِيرًا لَهُ، فَقَالَ : مَعَكَ تَمَرَاتٌ ؟ قُلْتُ : نَعَمْ، فَنَاوَلْتُهُ تَمَرَاتٍ فَلاَكَهُنَّ، ثُمَّ فَغَرَ فَا الصَّبِيِّ، وَأَوْجَرَهُنَّ إِيَّاهُ، فَتَلَمَّظَ الصَّبِيُّ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : حُبَّ الأَنْصَارِ التَّمْرَ، وَسَمَّاهُ : عَبْدَ اللهِ .




১২৬৬। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আবু তালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র পুত্র আবদুল্লাহ যেদিন জন্মগ্রহণ করে সেদিন আমি তাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আবা পরিহিত অবস্থায় তাঁর একটি উটের শরীর মালিশ করছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার সাথে খেজুর আছে কি? আমি বললাম, হাঁ। আমি কয়েকটি খেজুর তাঁকে দিলাম। তিনি সেগুলো তাঁর মুখে ভরে চিবালেন, অতঃপর শিশুর মুখ ফাঁক করে তা তার মুখে দিলেন। শিশুটি তা চুষতে লাগলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ খেজুর হলো আনসারদের প্রিয়। তিনি তার নাম রাখেন আবদুল্লাহ। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1267)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا حَزْمٌ قَالَ : سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ قُرَّةَ يَقُولُ : لَمَّا وُلِدَ لِي إِيَاسٌ دَعَوْتُ نَفَرًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَطْعَمْتُهُمْ، فَدَعَوْا، فَقُلْتُ : إِنَّكُمْ قَدْ دَعَوْتُمْ فَبَارَكَ اللَّهُ لَكُمْ فِيمَا دَعَوْتُمْ، وَإِنِّي إِنْ أَدْعُو بِدُعَاءٍ فَأَمِّنُوا، قَالَ : فَدَعَوْتُ لَهُ بِدُعَاءٍ كَثِيرٍ فِي دِينِهِ وَعَقْلِهِ وَكَذَا، قَالَ : فَإِنِّي لَأَتَعَرَّفُ فِيهِ دُعَاءَ يَوْمِئِذٍ .




১২৬৭। মুআবিয়া ইবনে কুররা (রহঃ) বলেন, আমার সন্তান ইয়াস জন্মগ্রহণ করলে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবীকে দাওয়াত করে আহার করাই। তারা দোয়া করলেন। আমি বললাম, আপনারা দোয়া করেছেন। আল্লাহ আপনাদের দোয়ার উসীলায় আপনাদের বরকত দান করুন। আমিও এখন কতগুলো দোয়া করবো এবং আপনারা আমীন বলবেন। রাবী বলেন, আমি তার দ্বীনদারি, জ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ে তার জন্য অনেক দোয়া করলাম। রাবী বলেন, আমি সেদিনের দোয়ার প্রভাব লক্ষ্য করছি।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1268)


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دُكَيْنٍ، سَمِعَ كَثِيرَ بْنَ عُبَيْدٍ قَالَ : كَانَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا إِذَا وُلِدَ فِيهِمْ مَوْلُودٌ، يَعْنِي : فِي أَهْلِهَا، لاَ تَسْأَلُ : غُلاَمًا وَلاَ جَارِيَةً، تَقُولُ : خُلِقَ سَوِيًّا ؟ فَإِذَا قِيلَ : نَعَمْ، قَالَتِ : الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ .




১২৬৮। কাছীর ইবনে উবায়েদ (রহঃ) বলেন, আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র পরিবারে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে তিনি জিজ্ঞেস করতেন না যে, তা পুত্র না কন্যা সন্তান। তিনি জিজ্ঞেস করতেন, তা সুঠামদেহী পয়দা হয়েছে তো? যদি হাঁ বলা হতো, তবে তিনি বলতেন, জগতসমূহের প্রভু আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1269)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجِرْمِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : خَمْسٌ مِنَ الْفِطْرَةِ : قَصُّ الشَّارِبِ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ، وَنَتْفُ الإِبْطِ، وَالسِّوَاكُ .




১২৬৯। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটি স্বভাব সম্মত বিষয়। গোঁফ কর্তন করা, নখ কাটা, নাভীর নিচের লোম কামানো, বগলের নিচের লোম উপড়ানো এবং মিসওয়াক করা। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, তাহাবী, ইবনে হিব্বান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1270)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ : حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي رَوَّادٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يُقَلِّمُ أَظَافِيرَهُ فِي كُلِّ خَمْسَ عَشْرَةَ لَيْلَةً، وَيَسْتَحِدُّ فِي كُلِّ شَهْرٍ .




১২৭০। নাফে (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রতি মাসের পনেরো তারিখে (হাত-পায়ের) নখ কাটতেন এবং প্রতি মাসে ক্ষৌরকার্য করতেন।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1271)


حَدَّثَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُخْتَارِ، عَنْ مَعْرُوفِ بْنِ سُهَيْلٍ الْبُرْجُمِيِّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي الْمُغِيرَةِ قَالَ : نَزَلَ بِي سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ فَقَالَ : حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ كَانَ يُقَالُ : أَيْنَ أَيْسَارُ الْجَزُورِ ؟ فَيَجْتَمِعُ الْعَشَرَةُ، فَيَشْتَرُونَ الْجَزُورَ بِعَشَرَةِ فِصْلاَنٍ إِلَى الْفِصَالِ، فَيُجِيلُونَ السِّهَامَ، فَتَصِيرُ لَتِسْعَةٍ، حَتَّى تَصِيرَ إِلَى وَاحِدٍ، وَيَغْرَمُ الْآخَرُونَ فَصِيلاً فَصِيلاً، إِلَى الْفِصَالِ فَهُوَ الْمَيْسِرُ .




১২৭১। জাফর ইবনে আবুল মুগীরা (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনে জুবাইর (রহঃ) আমার এখানে মেহমান হলেন। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, বলা হতো, উটের জুয়াড়ীগণ কোথায়? তখন দশজন প্রতিযোগী সমবেত হতো এবং জুয়ার উটটির ক্রয়মূল্য নিৰ্দ্ধারণ করতো দশটি উটশাবক। তারা তীরের জুয়ার পাত্রে তীর স্থাপন করে সেটিকে চক্কর দেয়াতো, তাতে একজন বাদ পড়ে নয়জন অবশিষ্ট থাকতো। এভাবে প্রতি চক্করে একজন করে বাদ পড়ে শেষে মাত্র একজন অবশিষ্ট থাকতো এবং সে বিজয়ী হিসাবে তার শাবকসহ অন্যদের নয়টি শাবকও লাভ করতো। এতে নয়জনের প্রত্যেকে একটি করে শাবক লোকসান দিতো। এটাও এক প্রকার জুয়া।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1272)


حَدَّثَنَا الأُوَيْسِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : الْمَيْسِرُ : الْقِمَارُ .




১২৭২। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তীর নিক্ষেপে বাজী ধরা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। (আবু উবায়দ, ইবনে জারীর, আবু হাতিম, শাওকানীর ফাতহুল কাদীর)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1273)


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ : حَدَّثَنِي مَعْنٌ قَالَ : حَدَّثَنِي ابْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْهُدَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، أَنَّ رَجُلَيْنِ اقْتَمَرَا عَلَى دِيكَيْنِ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ فَأَمَرَ عُمَرُ بِقَتْلِ الدِّيَكَةِ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ : أَتَقْتُلُ أُمَّةً تُسَبِّحُ ؟ فَتَرَكَهَا .




১২৭৩। রবীআ ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র শাসনকালে দুই ব্যক্তি দু’টি মোরগের লড়াইয়ের বাজি ধরে। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মোরগ হত্যার নির্দেশ দেন। এক আনসার ব্যক্তি তাকে বলেন, আপনি কি এমন এক উম্মাতকে হত্যা করবেন যারা (আল্লাহর) গুণগান করে? অতএব তিনি তার নির্দেশ প্রত্যাহার করেন।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1274)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنْ حَلَفَ مِنْكُمْ فَقَالَ فِي حَلِفِهِ : بِاللاَّتِ وَالْعُزَّى، فَلْيَقُلْ : لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَمَنْ قَالَ لِصَاحِبِهِ : تَعَالَ أُقَامِرْكَ، فَلْيَتَصَدَّقْ .




১২৭৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি শপথ করে এবং তার শপথে বলে, লাত ও উহ্যার শপথ, তবে সে যেন বলে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। আর যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলে, এসো তোমার সাথে জুয়া খেলি, সে যেন দান-খয়রাত করে। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1275)


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ حَمْزَةَ الْعُمَرِيِّ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ مُصْعَبٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ لَهُ رَجُلٌ : إِنَّا نَتَرَاهَنُ بِالْحَمَامَيْنِ، فَنَكْرَهُ أَنْ نَجْعَلَ بَيْنَهُمَا مُحَلِّلاً تَخَوُّفَ أَنْ يَذْهَبَ بِهِ الْمُحَلِّلُ ؟ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ : ذَلِكَ مِنْ فِعْلِ الصِّبْيَانِ، وَتُوشِكُونَ أَنْ تَتْرُكُوهُ .




১২৭৫। হুসাইন ইবনে মুসআব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললো, আমরা দুটি কবুতরের বাজিতে শর্ত লাগাই এবং তৃতীয় ব্যক্তিকে সালিশ মানা অপছন্দ করি। এজন্য যে, পাছে সে-ই তা (বাজির জিনিস) হস্তগত করে নিয়ে যায় কিনা। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এটা তো শিশুসুলভ কাজ। অবশ্যই তোমরা তা ত্যাগ করবে।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1276)


حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ الْبَرَاءَ بْنَ مَالِكٍ كَانَ يَحْدُو بِالرِّجَالِ، وَكَانَ أَنْجَشَةُ يَحْدُو بِالنِّسَاءِ، وَكَانَ حَسَنَ الصَّوْتِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : يَا أَنْجَشَةُ، رُوَيْدَكَ سَوْقَكَ بِالْقَوَارِيرِ .




১২৭৬। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। বারাআ ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) পুরুষ যাত্রীদের হুদী গান শুনাতেন এবং আনজাশা মহিলা যাত্রীদের বাহন হুদী গান গেয়ে চালাতেন। তার কণ্ঠস্বর ছিল সুমধুর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আনজাশা! ধীরে চালাও। তোমার যে কাঁচের চালান। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তায়ালিসী)