আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : النِّعَمُ تُكْفَرُ، وَالرَّحِمُ تُقْطَعُ، وَلَمْ نَرَ مِثْلَ تَقَارُبِ الْقُلُوبِ .
২৬১। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কতো সুখ-সুবিধার শোকরগোযারী করা হয় না। কতো আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হয়। কিন্তু অন্তরসমূহের ঘনিষ্ঠতার মত কিছু আমি দেখেনি (ইতহাফ)।
حَدَّثَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَوْنٍ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ : كُنَّا نَتَحَدَّثُ : إِنَّ أَوَّلَ مَا يُرْفَعُ مِنَ النَّاسِ الأُلْفَةُ .
২৬২। উমাইর ইবনে ইসহাক (রহঃ) বলেন, আমরা আলোচনা করতাম যে, সর্বপ্রথম মানুষের মন থেকে স্নেহ-মমতা তুলে নেয়া হবে।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : أَتَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى بَعْضِ نِسَائِهِ وَمَعَهُنَّ أُمُّ سُلَيْمٍ، فَقَالَ : يَا أَنْجَشَةُ، رُوَيْدًا سَوْقَكَ بِالْقَوَارِيرِ .
২৬৩। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক স্ত্রীর নিকট এলেন। উম্মু সুলাইম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও তাদের সাথে ছিলেন। তিনি বলেনঃ ”ধীরে হে আনজাশা, ধীরে! তোমার চালান যে কাঁচের চালান হে”! রাবী আবু কিলাবা (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন বাক্য উচ্চারণ করলেন, যদি তোমাদের মধ্যকার কেউ তা বলতো, তবে তোমরা নিশ্চয় তাকে দোষারোপ করতে। তাঁর সেই বাক্যটি ছিলঃ ”তোমার চালান যে কাঁচের চালান হে” (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ : حَدَّثَنِي ابْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ أَبِيهِ أَوْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّكَ تُدَاعِبُنَا ؟ قَالَ : إِنِّي لاَ أَقُولُ إِلا حَقًّا .
২৬৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের সাথে রসিকতাও করেন। তিনি বলেনঃ আমি সত্য ছাড়া কিছু বলি না (তিরমিযী, আহমাদ)।
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ حَبِيبٍ أَبِي مُحَمَّدٍ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ : كَانَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَتَبَادَحُونَ بِالْبِطِّيخِ، فَإِذَا كَانَتِ الْحَقَائِقُ كَانُوا هُمُ الرِّجَالَ .
২৬৫। বাকর ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ একে অপরের প্রতি তরমুজ নিক্ষেপ করেও রসিকতা করতেন। কিন্তু তারা কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হলে যোগ্য পুরুষই প্রতিপন্ন হতেন।
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ : مَزَحَتْ عَائِشَةُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ أُمُّهَا : يَا رَسُولَ اللهِ، بَعْضُ دُعَابَاتِ هَذَا الْحَيِّ مِنْ كِنَانَةَ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : بَلْ بَعْضُ مَزْحِنَا هَذَا الْحَيُّ .
২৬৬। ইবনে আবু মুলাইকা (রহঃ) বলেন, আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রসিকতা করলেন। তার মা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই পরিবারের কোন কোন রসিকতা কিনানা গোত্র থেকে এসেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বরং আমাদের কতক রসিকতা ঐ গোত্র থেকেই এসেছে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ حَدَّثَنَا خَالِدٌ هُوَ ابْنُ عَبْدِ اللهِ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَحْمِلُهُ، فَقَالَ : أَنَا حَامِلُكَ عَلَى وَلَدِ نَاقَةٍ، قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَا أَصْنَعُ بِوَلَدِ نَاقَةٍ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : وَهَلْ تَلِدُ الإِبِلَ إِلاَّ النُّوقُ .
২৬৭। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি বাহন চাইতে আসে। তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে একটা উষ্ট্রীর বাচ্চা বাহন হিসেবে দিবো। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! উস্ত্রীর বাচ্চা দিয়ে আমি কি করবো! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উষ্ট্রীই তো উট প্রসব করে (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ)।
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو التَّيَّاحِ قَالَ : سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَيُخَالِطُنَا، حَتَّى يَقُولَ لأَخٍ لِي صَغِيرٍ : يَا أَبَا عُمَيْرٍ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ ؟ .
২৬৮। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের (শিশুদের) সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করতেন। তিনি আমার ছোট ভাইকে বলতেনঃ হে আবু উমাইর! কি করলো তোমার নুগায়র! (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا ابْنُ سَلامٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي مُزَرِّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ : أَخَذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِ الْحَسَنِ أَوِ الْحُسَيْنِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، ثُمَّ وَضَعَ قَدَمَيْهِ عَلَى قَدَمَيْهِ، ثُمَّ قَالَ : تَرَقَّ .
২৬৯। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান অথবা হুসাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাত ধরলেন, অতঃপর তার পদদ্বয় নিজের পদদ্বয়ের উপর রাখলেন, অতঃপর বলেনঃ আরোহণ করো।
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ , قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَا مِنْ شَيْءٍ فِي الْمِيزَانِ أَثْقَلَ مِنْ خُلُقٍ حَسَنٍ
২৭০। আবু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ওজনদণ্ডে উত্তম স্বভাব-চরিত্রের চেয়ে অধিক ভারী আর কিছুই হবে না (দারিমী, তিরমিযী, আবু দাউদ, হিব্বান)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَاحِشًا وَلاَ مُتَفَحِّشًا، وَكَانَ يَقُولُ : خِيَارُكُمْ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلاَقًا .
২৭১৷ আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও অশ্লীলভাষী ছিলেন না এবং অশ্লীলতাকে তিনি পছন্দও করতেন না। তিনি বলতেনঃ তোমাদের মধ্যে উত্তম স্বভাব-চরিত্রের লোকই সর্বোত্তম (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ : حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ الْهَادِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : أُخْبِرُكُمْ بِأَحَبِّكُمْ إِلَيَّ، وَأَقْرَبِكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ؟ فَسَكَتَ الْقَوْمُ، فَأَعَادَهَا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا، قَالَ الْقَوْمُ : نَعَمْ يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ : أَحْسَنُكُمْ خُلُقًا .
২৭২। আমর ইবনে শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ আমার নিকট প্রিয়তর এবং কিয়ামতের দিন আমার নিকটবর্তী আসনে উপবিষ্ট হবে তোমাদের মধ্যকার এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আমি কি তোমাদের অবহিত করবো না? লোকজন চুপ থাকলো। তিনি দুই অথবা তিনবার কথাটি বললেন। লোকজন বললো, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যকার সর্বোত্তম স্বভাব-চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ صَالِحَ الأَخْلاقِ .
২৭৩। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সর্বোত্তম স্বভাব-চরিত্রের পূর্ণতা দান করার জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি (আবু দাউদ, হাকিম)।
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ : مَا خُيِّرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَمْرَيْنِ إِلاَّ اخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا، مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا، فَإِذَا كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ، وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِنَفْسِهِ، إِلاَّ أَنْ تُنْتَهَكَ حُرْمَةُ اللهِ تَعَالَى، فَيَنْتَقِمُ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بِهَا .
২৭৪। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুইটি ব্যাপারের একটি বেছে নেয়ার এখতিয়ার দেয়া হয়েছে, তখনই তিনি সহজতরটিকে বেছে নিয়েছেন, যতক্ষণ না তা পাপাচার হতো। যদি তা পাপাচার হতো তবে তিনি লোকজনের চেয়ে তা থেকে সর্বাধিক দূরে থাকতেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। অবশ্য আল্লাহ তাআলার বিধানের পরিপন্থী কোন কিছু হতে দেখলে তিনি মহামহিম আল্লাহর জন্য তার প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন (বুখারী, মুসলিম, মুওয়াত্তা মালিক)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ : إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَخْلاَقَكُمْ، كَمَا قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَرْزَاقَكُمْ، وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يُعْطِي الْمَالَ مَنْ أَحَبَّ وَمَنْ لاَ يُحِبُّ، وَلاَ يُعْطِي الإِيمَانَ إِلاَّ مَنْ يُحِبُّ، فَمَنْ ضَنَّ بِالْمَالِ أَنْ يُنْفِقَهُ، وَخَافَ الْعَدُوَّ أَنْ يُجَاهِدَهُ، وَهَابَ اللَّيْلَ أَنْ يُكَابِدَهُ، فَلْيُكْثِرْ مِنْ قَوْلِ : لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَسُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ .
২৭৫। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের মধ্যে চরিত্র বণ্টন করেছেন যেভাবে তোমাদের মধ্যে রিযিক বণ্টন করেছেন। আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন এবং যাকে ভালোবাসেন না তাদের সকলকেই সম্পদ দান করেছেন। কিন্তু তিনি ঈমান দান করেছেন কেবল যাদেরকে তিনি ভালোবাসেন। অতএব যে ব্যক্তি সম্পদ ব্যয়ে কৃপণ, শক্রর বিরুদ্ধে জিহাদে ভীত এবং ইবাদতের মাধ্যমে রাত জাগরণে দুর্বল, সে যেন বেশি পাঠ করেঃ ”লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া সুবহানাল্লাহি ওয়াল-হামদু লিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার” (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তিনি মহাপবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং আল্লাহ মহান) (আবু দাউদ, হাকিম)।
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لَيْسَ الْغِنَى عَنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ، وَلَكِنَّ الْغِنَى غِنَى النَّفْسِ .
২৭৬। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঐশ্বর্যের প্রাচুর্য থাকলেই মানুষ ধনী হয় না। মনের ঐশ্বর্যই প্রকৃত ঐশ্বর্য (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ)।
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ : خَدَمْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَشْرَ سِنِينَ، فَمَا قَالَ لِي : أُفٍّ، قَطُّ، وَمَا قَالَ لِي لِشَيْءٍ لَمْ أَفْعَلْهُ : أَلاَ كُنْتَ فَعَلْتَهُ ؟ وَلاَ لِشَيْءٍ فَعَلْتُهُ : لِمَ فَعَلْتَهُ ؟ .
২৭৭। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি দশটি বছর যাবত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমত করেছি। কখনো তিনি আমাকে (বিরক্তিসূচক) উফ শব্দটিও বলেননি। তিনি আমাকে কোন কিছু করতে বললে, (যদিও আমি তা করেছি,) কখনো বলেননিঃ তুমি এটা করলে না কেন বা যা করেছি তার জন্যও বলেননি যে, তুমি তা করলে কেন? (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الاسْوَدِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ : حَدَّثَنَا سَحَّامَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَصَمِّ قَالَ : سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَحِيمًا، وَكَانَ لاَ يَأْتِيهِ أَحَدٌ إِلاَّ وَعَدَهُ، وَأَنْجَزَ لَهُ إِنْ كَانَ عِنْدَهُ، وَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ، وَجَاءَهُ أَعْرَابِيٌّ فَأَخَذَ بِثَوْبِهِ فَقَالَ : إِنَّمَا بَقِيَ مِنْ حَاجَتِي يَسِيرَةٌ، وَأَخَافُ أَنْسَاهَا، فَقَامَ مَعَهُ حَتَّى فَرَغَ مِنْ حَاجَتِهِ، ثُمَّ أَقْبَلَ فَصَلَّى .
২৭৮। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। তাঁর কাছে যে-ই আসতো, তিনি তাকে প্রতিশ্রুতি দিতেন। তাঁর কাছে দেয়ার মত কিছু থাকলে তিনি অবশ্যই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করতেন। নামাযের ইকামত হয়ে গেলে এক বেদুইন এসে তাঁর পরিধেয় বস্ত্র চেপে, ধরে বললো, আমার সামান্য একটু প্রয়োজন আছে এবং আমার আশঙ্কা হয় যে, পাছে আমি তা ভুলে না যাই। তখন তিনি তার সাথে গেলেন এবং তার প্রয়োজন সেরে দিয়ে নামাযে মনোনিবেশ করলেন (বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ : مَا سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَقَالَ : لا .
২৭৯। জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনো ”না” বলেননি (মুসলিম, দারিমী, ইবনু হিব্বান)।
حَدَّثَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ قَالَ : أَخْبَرَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ : مَا رَأَيْتُ امْرَأَتَيْنِ أَجْوَدَ مِنْ عَائِشَةَ، وَأَسْمَاءَ، وَجُودُهُمَا مُخْتَلِفٌ، أَمَّا عَائِشَةُ فَكَانَتْ تَجْمَعُ الشَّيْءَ إِلَى الشَّيْءِ، حَتَّى إِذَا كَانَ اجْتَمَعَ عِنْدَهَا قَسَمَتْ، وَأَمَّا أَسْمَاءُ فَكَانَتْ لاَ تُمْسِكُ شَيْئًا لِغَدٍ .
২৮০। আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর চাইতে অধিক দানশীলা আর কোন দুই মহিলাকে দেখিনি। তাদের দু’জনের দানের বৈশিষ্ট্য ছিল দুই রকম। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একটু একটু করে সঞ্চয় করতেন। সঞ্চিত বস্তু উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হলে তিনি তা বণ্টন করে দিতেন। আর আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আগামী দিনের জন্য কিছু তুলে রাখতেন না (সাথে সাথে দান করে দিতেন)।