আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا تَمَنَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَنْظُرْ مَا يَتَمَنَّى، فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي مَا يُعْطَى .
৮০১। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন কিছু আকাঙ্ক্ষা করে তখন তার লক্ষ্য করা উচিত যে, সে কি আকাঙ্ক্ষা করছে। কেননা সে তো জানে না যে, তাকে কি দেয়া হবে? (আহমাদ, বাযযার)
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمُ : الْكَرْمَ، وَقُولُوا الْحَبَلَةَ، يَعْنِي : الْعِنَبَ .
৮০২। আলকামা ইবনে ওয়াইল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তোমাদের কেউ যেন আঙ্গুরকে ‘কারম’ না বলে, বরং তোমরা হাবালা (আঙ্গুর) বলো। (মুসলিম, দারিমী, আবু আওয়ানা, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمِّهِ مُوسَى بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِرَجُلٍ يَسُوقُ بَدَنَةً، فَقَالَ : ارْكَبْهَا، فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّهَا بَدَنَةٌ، فَقَالَ : ارْكَبْهَا، قَالَ : إِنَّهَا بَدَنَةٌ، قَالَ فِي الثَّالِثَةِ أَوْ فِي الرَّابِعَةِ : وَيْحَكَ ارْكَبْهَا .
৮০৩। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, যে তার কোরবানীর উট হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি বলেনঃ তুমি তাতে আরোহণ করো। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কোরবানীর উট। তিনি পুনরায় বলেনঃ তুমি তাতে আরোহণ করো। সে বললো, তা কোরবানীর উট। তিনি তৃতীয় বা চতুর্থবারে বলেনঃ তোমার জন্য দুঃখ হয়! তুমি তাতে আরোহণ করো। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তাহাবী)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شَرِيكٍ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أُمِّهِ حَمْنَةَ بِنْتِ جَحْشٍ قَالَتْ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : مَا هِيَ ؟ يَا هَنْتَاهُ .
৮০৪। হামনা বিনতে জাহাশ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে শ্যালিকা (বা পাগলী)! এটা কি? (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ صُهْبَانَ الأَسَدِيِّ : رَأَيْتُ عَمَّارًا صَلَّى الْمَكْتُوبَةَ ثُمَّ قَالَ لِرَجُلٍ إِلَى جَنْبِهِ : يَا هَنَاهْ، ثُمَّ قَامَ .
৮০৫। হাবীব ইবনে সাহ্বান আল-আসাদী (রহঃ) বলেন, আমি আম্মার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে ফরয নামায পড়তে দেখলাম। অতঃপর তিনি তার পাশের লোকটিকে বলেন, হে পাগলা! অতঃপর (আবার নামাযে) দাঁড়ালেন। (হাকিম)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : أَرْدَفَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : هَلْ مَعَكَ مِنْ شِعْرِ أُمَيَّةَ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ ؟ قُلْتُ : نَعَمْ . فَأَنْشَدْتُهُ بَيْتًا، فَقَالَ : هِيهِ، حَتَّى أَنْشَدْتُهُ مِئَةَ بَيْتٍ .
৮০৬। আমর ইবনুশ শারীদ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাহনে পেছন দিকে আমাকে তুলে নিলেন। তিনি বলেনঃ তোমার স্মৃতিতে (কবি) উমাইয়্যা ইবনে আবুস সালত-এর কবিতার কোন কিছু আছে কি? আমি বললাম, হাঁ। আমি তাকে একটি পংক্তি আবৃত্তি করে শুনালাম। তিনি বলেনঃ আরও আবৃত্তি করো। শেষ পর্যন্ত আমি তাকে এক শত পংক্তি আবৃত্তি করে শুনলাম। (মুসলিম)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ قَالَ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِي مُوسَى قَالَ : قَالَتْ عَائِشَةُ : لاَ تَدَعْ قِيَامَ اللَّيْلِ، فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَذَرُهُ، وَكَانَ إِذَا مَرِضَ أَوْ كَسِلَ صَلَّى قَاعِدًا .
৮০৭। আবদুল্লাহ ইবনে আবু মূসা (রহঃ) বলেন, আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, রাতে দাঁড়ানো (নফল নামায পড়া) কখনো ত্যাগ করো না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তা ত্যাগ করেননি। তিনি অসুস্থ থাকলে বা ক্লান্তি বোধ করলে বসে বসে নামায পড়তেন। (আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ قَالَ : حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي عَمْرٍو قَالَ : سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ .
৮০৮। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক পরিমাণে বলতেনঃ ”হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখজনক অবস্থা থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে এবং ঋণভার ও লোকের (শত্রুর) আধিপত্য থেকে”। (বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُدْعَانَ قَالَ : سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ : كَانَ أَبُو طَلْحَةَ يَجْثُو بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَيَنْثُرُ كِنَانَتَهُ وَيَقُولُ : وَجْهِي لِوَجْهِكَ الْوِقَاءُ، وَنَفْسِي لِنَفْسِكَ الْفِدَاءُ .
৮০৯। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আবু তালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে হাঁটু গেড়ে বসতেন এবং তার তীরগুলো ছড়িয়ে দিয়ে বলতেন, হে প্রিয় নবী! আমার মুখমণ্ডল আপনার মুখমণ্ডলের ঢালস্বরূপ। আমার জান আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। (ইবনুস সুন্নী)
حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ : فَانْطَلَقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ الْبَقِيعِ، وَانْطَلَقْتُ أَتْلُوهُ، فَالْتَفَتَ فَرَآنِي فَقَالَ : يَا أَبَا ذَرٍّ، فَقُلْتُ : لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ، وَسَعْدَيْكَ، وَأَنَا فِدَاؤُكَ، فَقَالَ : إِنَّ الْمُكْثِرِينَ هُمُ الْمُقِلُّونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، إِلاَّ مَنْ قَالَ هَكَذَا وَهَكَذَا فِي حَقٍّ، قُلْتُ : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، فَقَالَ : هَكَذَا ثَلاَثًا، ثُمَّ عَرَضَ لَنَا أُحُدٌ فَقَالَ : يَا أَبَا ذَرٍّ، فَقُلْتُ : لَبَّيْكَ رَسُولَ اللهِ وَسَعْدَيْكَ، وَأَنَا فِدَاؤُكَ، قَالَ : مَا يَسُرُّنِي أَنَّ أُحُدًا لِآلِ مُحَمَّدٍ ذَهَبًا، فَيُمْسِي عِنْدَهُمْ دِينَارٌ، أَوْ قَالَ : مِثْقَالٌ، ثُمَّ عَرَضَ لَنَا وَادٍ، فَاسْتَنْتَلَ فَظَنَنْتُ أَنَّ لَهُ حَاجَةً، فَجَلَسْتُ عَلَى شَفِيرٍ، وَأَبْطَأَ عَلَيَّ . قَالَ : فَخَشِيتُ عَلَيْهِ، ثُمَّ سَمِعْتُهُ كَأَنَّهُ يُنَاجِي رَجُلاً، ثُمَّ خَرَجَ إِلَيَّ وَحْدَهُ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، مَنِ الرَّجُلُ الَّذِي كُنْتَ تُنَاجِي ؟ فَقَالَ : أَوَ سَمِعْتَهُ ؟ قُلْتُ : نَعَمْ، قَالَ : فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَانِي، فَبَشَّرَنِي أَنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، قُلْتُ : وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ ؟ قَالَ : نَعَمْ .
৮১০। আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আল-বাকী’ নামক কবরস্থানের দিকে গেলেন। আমিও তাঁর অনুগামী হলাম। তিনি পিছনে ফিরে আমাকে দেখতে পেয়ে বলেনঃ হে আবু যার! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সৌভাগ্যময় দরবারে হাযির। আপনার জন্য আমি উৎসর্গিত। তিনি বলেনঃ সম্পদশালীরাই হবে কিয়ামতের দিন দরিদ্র, তবে যারা এরূপ এরূপ (দান-খয়রাত) করবে তারা ব্যতীত। আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সমধিক জ্ঞাত। তিনি এরূপ তিনবার বলেন। অতঃপর উহুদ পাহাড় আমাদের সামনে পড়লো। তিনি বলেনঃ হে আবু যার! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সৌভাগ্যময় দরবারে হাযির। আপনার জন্য আমি উৎসর্গিত। তিনি বলেনঃ ”এই উহুদ পাহাড় যদি মুহাম্মাদের পরিবারের জন্য সোনায় পরিণত হয়, তবে রাত আসা অবধি তাদের নিকট এক দীনার বা এক মিসকাল পরিমাণ সোনা অবশিষ্ট থাকলেও তাতে আমি খুশি হবো না”।
অতঃপর আমরা একটি উন্মুক্ত মাঠে উপনীত হলাম। তিনি মাঠের এক প্রান্তে চলে গেলেন। আমি ভাবলাম, তিনি হয়তো প্রাকৃতিক প্রয়োজন সাড়তে গেছেন। তাই আমি একপাশে বসে থাকলাম। আমার কাছে ফিরে আসতে তাঁর বিলম্ব হলে তাঁর সম্পর্কে আমার (বিপদের) আশংকা হলো। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির সাথে ফিস ফিস করে তাঁর কথা বলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। অতঃপর তিনি একাকী আমার নিকট ফিরে এলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কার সাথে গোপনে কথা বললেন? তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি তা শুনতে পেয়েছো? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ তিনি জিবরীল (আঃ)। তিনি আমার নিকট এসে আমাকে এই সুসংবাদ দিলেন যে, আমার উম্মাতের যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শরীক না করে মারা যাবে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদি সে যেনা করে থাকে, যদি সে চুরি করে থাকে তবুও? তিনি বলেনঃ হাঁ তবুও। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ شَدَّادٍ قَالَ : سَمِعْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ : مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُفَدِّي رَجُلاً بَعْدَ سَعْدٍ، سَمِعْتُهُ يَقُولُ : ارْمِ، فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي
৮১১। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছাড়া আর কারো জন্য ‘ফিদা’ (উৎসর্গ) শব্দ ব্যবহার করতে দেখিনি। আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ তীর নিক্ষেপ করো, আমার পিতা-মাতা তোমার জন্য উৎসর্গিত হোন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ : خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَسْجِدِ وَأَبُو مُوسَى يَقْرَأُ، فَقَالَ : مَنْ هَذَا ؟ فَقُلْتُ : أَنَا بُرَيْدَةُ جُعِلْتُ فِدَاكَ، قَالَ : قَدْ أُعْطِيَ هَذَا مِزْمَارًا مِنْ مَزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ .
৮১২। আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দিকে গেলেন। তখন আবু মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কুরআন মাজীদ পড়ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ এ কে? আমি বললাম, আমি বুরায়দা, আমি আপনার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলাম। তিনি বলেনঃ একে দাউদ (আঃ) এর পরিবারের সুরসমূহের একটি সুর দান করা হয়েছে। (মুসলিম)
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَحْبُوبُ بْنُ مُحْرِزٍ الْكُوفِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا الصَّعْبُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ : أَتَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَجَعَلَ يَقُولُ : يَا ابْنَ أَخِي، ثُمَّ سَأَلَنِي ؟ فَانْتَسَبْتُ لَهُ، فَعَرَفَ أَنَّ أَبِي لَمْ يُدْرِكِ الإِسْلاَمَ، فَجَعَلَ يَقُولُ : يَا بُنَيَّ يَا بُنَيَّ .
৮১৩। সাব ইবনে হাকীম (রহঃ) থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট এলে তিনি বলতে লাগলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! অতঃপর তিনি আমার বংশপরিচয় জিজ্ঞেস করলে আমি তাকে আমার বংশপরিচয় দিলাম। তাতে তিনি বুঝতে পারলেন যে, আমার পিতা ইসলামী যুগ পাননি। তিনি আমাকে ‘হে বৎস’ ‘হে বৎস’ বলে সম্বোধন করতে লাগলেন। (মুসান্নাফ ইবনে শায়বাহ, তারীখুল কাবীর)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ سَلْمٍ الْعَلَوِيِّ قَالَ : سَمِعْتُ أَنَسًا يَقُولُ : كُنْتُ خَادِمًا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ : فَكُنْتُ أَدْخُلُ بِغَيْرِ اسْتِئْذَانٍ، فَجِئْتُ يَوْمًا، فَقَالَ : كَمَا أَنْتَ يَا بُنَيَّ، فَإِنَّهُ قَدْ حَدَثَ بَعْدَكَ أَمْرٌ : لا تَدْخُلَنَّ إِلا بِإِذْنٍ .
৮১৪। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম ছিলাম। আমি অনুমতি না নিয়েই ঘরে প্রবেশ করতাম। এক দিন আমি এলে তিনি বলেনঃ বৎস! থেমে যাও। তোমার অনুপস্থিতিতে একটি ব্যাপার ঘটেছে। এখন থেকে বিনা অনুমতিতে ঘরে প্রবেশ করো না। (তিরমিযী, তাহাবী)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ لَهُ : يَا بُنَيَّ .
৮১৫। আবু সাসাআ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন যে, আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে ‘হে বৎস’ বলে সম্বোধন করেছেন। (বুখারী, নাসাঈ, ইবনে খুজাইমাহ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ : خَبُثَتْ نَفْسِي، وَلَكِنْ لِيَقُلْ : لَقِسَتْ نَفْسِي .
৮১৬। আয়েশ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অবশ্যই তোমাদের কেউ যেন না বলে, আমার আত্মা নাপাক হয়ে গেছে। বরং সে বলতে পারে, আমার আত্মা নাফরমানি করেছে। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ قَالَ : حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ : حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَة َ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ : خَبُثَتْ نَفْسِي، وَلْيَقُلْ : لَقِسَتْ نَفْسِي .
৮১৭। সাহল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে, আমার মন-মানসিকতা কলুষিত হয়ে গেছে। (বলতেই যদি হয় তাহলে) যেন বলে, আমার মন-মানসিকতা খারাপ হয়ে গেছে। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَعْقُوبَ , قَالَ : حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ الْحَارِثِيُّ ، عَنْ أَبِيهِ الْمِقْدَامِ ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ , قَالَ : حَدَّثَنِي هَانِئُ بْنُ يَزِيدَ ، أَنَّهُ لَمَّا وَفَدَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ قَوْمِهِ ، فَسَمِعَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُمْ يُكَنُّونَهُ بِأَبِي الْحَكَمِ ، فَدَعَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : " إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَكَمُ ، وَإِلَيْهِ الْحُكْمُ ، فَلِمَ تَكَنَّيْتَ بِأَبِي الْحَكَمِ ؟ " ، قَالَ : لا ، وَلَكِنَّ قَوْمِي إِذَا اخْتَلَفُوا فِي شَيْءٍ أَتَوْنِي فَحَكَمْتُ بَيْنَهُمْ ، فَرَضِيَ كِلا الْفَرِيقَيْنِ ، قَالَ : " مَا أَحْسَنَ هَذَا " ، ثُمَّ قَالَ : " مَا لَكَ مِنَ الْوَلَدِ ؟ " ، قُلْتُ : لِي شُرَيْحٌ ، وَعَبْدُ اللَّهِ ، وَمُسْلِمٌ ، بَنُو هَانِئٍ ، قَالَ : " فَمَنْ أَكْبَرُهُمْ ؟ " ، قُلْتُ : شُرَيْحٌ ، قَالَ : " فَأَنْتَ أَبُو شُرَيْحٍ " ، وَدَعَا لَهُ وَلِوَلَدِهِ ، وَسَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَوْمًا , يُسَمُّونَ رَجُلا مِنْهُمْ : عَبْدَ الْحَجَرِ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَا اسْمُكَ ؟ " ، قَالَ : عَبْدُ الْحَجَرِ ، قَالَ : " لا ، أَنْتَ عَبْدُ اللَّهِ " ، قَالَ شُرَيْحٌ : وَإِنَّ هَانِئًا لَمَّا حَضَرَ رُجُوعُهُ إِلَى بِلادِهِ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَقَالَ : أَخْبِرْنِي بِأَيِّ شَيْءٍ يُوجِبُ لِيَ الْجَنَّةَ ؟ ، قَالَ : عَلَيْكَ بِحُسْنِ الْكَلامِ ، وَبَذْلِ الطَّعَامِ
৮১৮। হানী ইবনে ইয়াযীদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি তার সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে শুনলেন যে, তারা তাকে ”আবুল হিকাম” ডাকনাম দিয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে এনে বলেনঃ আল্লাহই হলেন হিকাম (হুকুমের মালিক) এবং তিনিই কেবল হুকুম দিতে পারেন। অতএব তুমি নিজের জন্য আবুল হিকাম উপনাম রাখলে কী করে? তিনি বলেন, ব্যাপারটি তা নয়, বরং আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে কোন ব্যাপারে মতানৈক্য হলে তারা আমার কাছে আসে এবং আমি তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেই। উভয় পক্ষই আমার মীমাংসা মেনে নেয়। তিনি বলেনঃ তা তো খুবই উত্তম। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার কি কোন সন্তান আছে? আমি বললাম, শুরায়হ, আবদুল্লাহ ও মুসলিম নামে আমার তিন সন্তান আছে।
তিনি বলেনঃ তাদের মধ্যে বয়জ্যেষ্ঠ কে? আমি বললাম, শুরায়হ। তিনি বলেনঃ তাহলে তুমি আবু শুরায়হ। অতঃপর তিনি তার জন্য এবং তার সন্তানদের জন্য দোয়া করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনতে পেলেন যে, প্রতিনিধি দল তাদের একজনকে ”আবদুল হাজার” (পাথরের দাস) নামে ডাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার নাম কি? সে বললো, আবদুল হাজার। তিনি বলেনঃ না, তোমার নাম আবদুল্লাহ। শুরায়হ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, স্বদেশে ফেরার সময় হলে হানী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে বলুন, কোন জিনিস আমার জন্য জান্নাত অবধারিত করবে। তিনি বলেনঃ তুমি সর্বদা উত্তম কথা বলবে এবং আহার্য দান করবে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান, হাকিম)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ : حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمْلُ بْنُ بَشِيرِ بْنِ أَبِي حَدْرَدٍ قَالَ : حَدَّثَنِي عَمِّي، عَنْ أَبِي حَدْرَدٍ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : مَنْ يَسُوقُ إِبِلَنَا هَذِهِ ؟ أَوْ قَالَ : مَنْ يُبَلِّغُ إِبِلَنَا هَذِهِ ؟ قَالَ رَجُلٌ : أَنَا، فَقَالَ : مَا اسْمُكَ ؟ قَالَ : فُلاَنٌ، قَالَ : اجْلِسْ، ثُمَّ قَامَ آخَرُ، فَقَالَ : مَا اسْمُكَ ؟ قَالَ : فُلاَنٌ، فقَالَ : اجْلِسْ، ثُمَّ قَامَ آخَرُ، فَقَالَ : مَا اسْمُكَ ؟ قَالَ : نَاجِيَةُ، قَالَ : أَنْتَ لَهَا، فَسُقْهَا .
৮১৯। আবু হাদরাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাদের এই উটগুলোকে কে চরাতে নিয়ে যাবে বা (চারণভূমিতে) পৌঁছিয়ে দিবে? এক ব্যক্তি বললো, আমি। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার নাম কি? সে বললো, অমুক। তিনি বলেনঃ তুমি বসো। অতঃপর আর এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালে তিনি বলেনঃ তোমার নাম কি? সে বললো, অমুক। তিনি বলেনঃ তুমিও বসো। অতঃপর আরেক ব্যক্তি দাঁড়ালে তিনি বলেনঃ তোমার নাম কি? সে বললো, নাজিয়া (মুক্তিপ্রাপ্ত)। তিনি বলেনঃ তুমিই তার যোগ্য। তুমি তা (চরাতে) নিয়ে যাও। (হাকিম)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ : أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ قَابُوسَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : أَقْبَلَ نَبِيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم مُسْرِعًا وَنَحْنُ قُعُودٌ، حَتَّى أَفْزَعَنَا سُرْعَتُهُ إِلَيْنَا، فَلَمَّا انْتَهَى إِلَيْنَا سَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ : قَدْ أَقْبَلْتُ إِلَيْكُمْ مُسْرِعًا، لِأُخْبِرَكُمْ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَنَسِيتُهَا فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ، فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأوَاخِرِ .
৮২০। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত গতিতে এসে উপস্থিত হলেন। আমরা তখন বসা অবস্থায় ছিলাম। আমাদের দিকে তাঁর দ্রুত আসায় আমরা শংকিত হলাম। তিনি আমাদের কাছে পৌঁছে সালাম দিলেন, অতঃপর বলেনঃ আমি তোমাদেরকে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে অবহিত করার জন্য তোমাদের দিকে দ্রুতপদে এসেছি, কিন্তু তোমাদের কাছে পৌঁছতে পৌঁছতে তা ভুলে গিয়েছি। অতএব তোমরা তা রমযানের শেষ দশকে খোঁজ করো। (আহমাদ)