আল-আদাবুল মুফরাদ
وَعَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو الْفُقَيْمِيِّ، عَنْ مُنْذِرٍ الثَّوْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ قَالَ : لَيْسَ بِحَكِيمٍ مَنْ لاَ يُعَاشِرُ بِالْمَعْرُوفِ مَنْ لاَ يَجِدُ مِنْ مُعَاشَرَتِهِ بُدًّا، حَتَّى يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُ فَرَجًا أَوْ مَخْرَجًا .
৮৯৭। মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা (রহঃ) বলেন, সেই ব্যক্তি প্রজ্ঞাবান নয় যে সদ্ভাবে বসবাস করতে পারে না, যে তার সমাজের কাছে পরিত্রাণের পথ পায় নাসাঈ, যাবত না আল্লাহ তার জন্য মুক্তির উপায় বা পথ করে দেন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْفَزَارِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا قِنَانُ بْنُ عَبْدِ اللهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ مَنَحَ مَنِيحَةً أَوْ هَدَّى زُقَاقًا، أَوْ قَالَ : طَرِيقًا، كَانَ لَهُ عَدْلُ عِتَاقِ نَسَمَةٍ .
৮৯৮। বারাআ ইবনে আযেব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি দুধ পান করার জন্য পশু ধার (মনীহা) দেয় অথবা পথহারা ব্যক্তিকে পথ বলে দেয়, তার জন্য একটি গোলাম আযাদ করার সমান সওয়াব রয়েছে। (আহমাদ হাঃ ১৮৭০৯, তিরমিযী হাঃ ১৯০৭)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ رَجَاءٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي زُمَيْلٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، يَرْفَعْهُ، قَالَ : ثُمَّ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ : لاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ رَفَعَهُ، قَالَ : إِفْرَاغُكَ مِنْ دَلْوِكَ فِي دَلْوِ أَخِيكَ صَدَقَةٌ، وَأَمْرُكَ بِالْمَعْرُوفِ وَنَهْيُكَ عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ، وَتَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ صَدَقَةٌ، وَإِمَاطَتُكَ الْحَجَرَ وَالشَّوْكَ وَالْعَظْمَ عَنْ طَرِيقِ النَّاسِ لَكَ صَدَقَةٌ، وَهِدَايَتُكَ الرَّجُلَ فِي أَرْضِ الضَّالَّةِ صَدَقَةٌ .
৮৯৯। আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার বালতি থেকে তোমার ভাইয়ের বালতিতে পানি ভর্তি করে দেয়া একটি সদাকা (দান)। সৎকাজের জন্য তোমার আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য তোমার নির্দেশ একটি সদাকা (দান)। তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাত করা একটি সদাকা। জনপথ থেকে তোমার পাথর, কাঁটা ও হাড় অপসারণ করা তোমার পক্ষ থেকে একটি সদাকা। পথহারা পথিককে তোমার রাস্তা বাতলে দেয়াও একটি সদাকা। (তিরমিযী, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لَعَنَ اللَّهُ مَنْ كَمَّهَ أَعْمَى عَنِ السَّبِيلِ .
৯০০। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি অন্ধকে পথহারা করে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেন। (হাকিম, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ، قَالَ : حَدَّثَنَا شَهْرٌ قَالَ : حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ : بَيْنَمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِفِنَاءِ بَيْتِهِ بِمَكَّةَ جَالِسٌ، إِذْ مَرَّ بِهِ عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ، فَكَشَرَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : أَلاَ تَجْلِسُ ؟ قَالَ : بَلَى، فَجَلَسَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُسْتَقْبِلَهُ، فَبَيْنَمَا هُوَ يُحَدِّثُهُ إِذْ شَخَصَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَصَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ : أَتَانِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم آنِفًا، وَأَنْتَ جَالِسٌ، قَالَ : فَمَا قَالَ لَكَ ؟ قَالَ : ( إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ) قَالَ عُثْمَانُ : وَذَلِكَ حِينَ اسْتَقَرَّ الإِيمَانُ فِي قَلْبِي وَأَحْبَبْتُ مُحَمَّدًا .
৯০১। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মক্কার বাড়ির আঙ্গিনায় বসা ছিলেন। তখন উসমান ইবনে মাযউন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি কি বসবে না? তিনি বলেন, হাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে মুখ করে বসলেন। তিনি তার সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমানের দিকে তাকিয়ে বলেনঃ এইমাত্র আল্লাহর দূত আমার নিকট আসেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তিনি আপনাকে কি বলেছেন? তিনি বলেনঃ ”নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেন ন্যায়পরায়ণতা, সদাচার ও নিকট আত্মীয়-স্বজনকে দান-খয়রাত করার এবং বারণ করেন অশ্লীলতা, গৰ্হিত কর্ম ও বিদ্রোহ। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, আশা করা যায় তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে” (সূরা নাহলঃ ৯০)। উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এটা তখনকার কথা যখন ঈমান আমার অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি ভালোবাসতে শুরু করেছি। (আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تُدْرِكَا، دَخَلْتُ أَنَا وَهُوَ فِي الْجَنَّةِ كَهَاتَيْنِ، وَأَشَارَ مُحَمَّدٌ بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى .
৯০২। আবু বাকর ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আনাস (রহঃ) থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি দুইটি কন্যা সন্তানকে বালেগ হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করে, আমি এবং সে এই দুটির মতো পাশাপাশি জান্নাতে প্রবেশ করবো। হাদীস বর্ণনাকালে রাবী মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল আযীয (রহঃ) তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলের প্রতি ইঙ্গিত করেন।
وَبَابَانِ يُعَجَّلاَنِ فِي الدُّنْيَا : الْبَغْيُ، وَقَطِيعَةُ الرَّحِمِ .
৯০৩। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দু’টি অপরাধের শাস্তি সত্বর দুনিয়াতেই দেয়া হয় (১) বিদ্রোহ এবং (২) আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা।
حَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ مَعْمَرٍ الْعَوْقِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ الْكَرِيمَ ابْنَ الْكَرِيمِ ابْنِ الْكَرِيمِ ابْنِ الْكَرِيمِ يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ .
৯০৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র অর্থাৎ ইউসুফ (আঃ) হলেন ইয়াকুব (আঃ)-এর পুত্র, তিনি ইসহাক (আঃ)-এর পুত্র এবং তিনি ইবরাহীম (আঃ)-এর পুত্র। (বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ أَوْلِيَائِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُتَّقُونَ، وَإِنْ كَانَ نَسَبٌ أَقْرَبَ مِنْ نَسَبٍ، فَلاَ يَأْتِينِي النَّاسُ بِالأَعْمَالِ وَتَأْتُونَ بِالدُّنْيَا تَحْمِلُونَهَا عَلَى رِقَابِكُمْ، فَتَقُولُونَ : يَا مُحَمَّدُ، فَأَقُولُ هَكَذَا وَهَكَذَا : لاَ، وَأَعْرَضَ فِي كِلا عِطْفَيْهِ .
৯০৫। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন আমার বন্ধু হবে মোত্তাকী পরহেজগারগণ। বংশগত সম্পর্ক অপরের তুলনায় অধিক নিকটতর হলেও তা উপকারে আসবে না। লোকজন আমার নিকট আসবে তাদের আমল নিয়ে, আর তোমরা আসবে দুনিয়াকে তোমাদের কাঁধে তুলে নিয়ে। তোমরা ডেকে বলবে, হে মুহাম্মাদ, হে মুহাম্মাদ! আর আমি এরূপ এরূপ বলবোঃ আমি কোন কাজে আসবো না। আমি সব দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো।
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَطَاءٌ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : لاَ أَرَى أَحَدًا يَعْمَلُ بِهَذِهِ الْآيَةِ : ( يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى ) حَتَّى بَلَغَ : ( إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقَاكُمْ ) ، فَيَقُولُ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ : أَنَا أَكْرَمُ مِنْكَ، فَلَيْسَ أَحَدٌ أَكْرَمَ مِنْ أَحَدٍ إِلا بِتَقْوَى اللهِ .
৯০৬। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমার মতে কোন ব্যক্তি নিম্নোক্ত আয়াত অনুযায়ী আচরণ করে না (অনুবাদঃ) ”হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারীর সমন্বয়ে সৃষ্টি করেছি..... নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট সবচাইতে সম্ভ্রান্ত সেই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সবচাইতে বেশী আল্লাহভীরু” (সূরা হুজুরাতঃ ১৩)। আল্লাহর এই বাণী বিদ্যমান থাকা সত্বেও এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলবে, আমি তোমার চেয়ে অধিক সম্ভ্রান্ত। অথচ তাকওয়া ব্যতীত কেউ কারো চেয়ে অধিক সম্ভ্রান্ত হতে পারে না।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، عَنْ يَزِيدَ قَالَ : قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : مَا تَعُدُّونَ الْكَرَمَ ؟ وَقَدْ بَيَّنَ اللَّهُ الْكَرَمَ، فَأَكْرَمُكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقَاكُمْ، مَا تَعُدُّونَ الْحَسَبَ ؟ أَفْضَلُكُمْ حَسَبًا أَحْسَنُكُمْ خُلُقًا .
৯০৭। ইয়াযীদ ইবনুল আসাম্ম (রহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমরা কাদের সম্ভ্রান্ত গণ্য করো? আল্লাহ অবশ্যই সম্ভ্রান্ত কে তা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেনঃ ”নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সবচাইতে সম্ভ্রান্ত সেই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সবচাইতে বেশী আল্লাহভীরু”। (৪৯ঃ ১৩) তোমরা কাকে মর্যাদাবান গণ্য করো? যার স্বভাব-চরিত্র সর্বোত্তম সে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ قَالَ : حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : الأرْوَاحُ جُنُودٌ مُجَنَّدَةٌ، فَمَا تَعَارَفَ مِنْهَا ائْتَلَفَ، وَمَا تَنَاكَرَ مِنْهَا اخْتَلَفَ .
৯০৮। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মানবাত্মাসমূহ যেন সমবেত সৈন্যদল! (সৃষ্টির সেই আদিতে) যারা পরস্পর পরিচিত হয়েছে, এখানেও তারা পরস্পর পরিচিত হবে। আর সেখানে যারা পরস্পর অপরিচিত ছিল, এখানে তাদের মধ্যে অনৈক্য থাকবে। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আবু ইয়ালা)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ : حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : الأرْوَاحُ جُنُودٌ مُجَنَّدَةٌ، فَمَا تَعَارَفَ مِنْهَا ائْتَلَفَ، وَمَا تَنَاكَرَ مِنْهَا اخْتَلَفَ .
৯০৯। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানবাত্মাসমূহ যেন সমবেত সৈন্যদল। (আদিতে) যারা পরস্পর পরিচিত হয়েছে, এখানেও (দুনিয়ায়) তারা পরস্পর পরিচিত হবে। আর সেখানে যারা পরস্পর অপরিচিত ছিল, এখানে তাদের মধ্যে অনৈক্য হবে। (মুসলিম, আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ الْمِصْرِيُّ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ يَحْيَى الْكَلْبِيِّ، قَالَ : حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، قَالَ : أَخْبَرَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : بَيْنَمَا رَاعٍ فِي غَنَمِهِ، عَدَا عَلَيْهِ الذِّئْبُ فَأَخَذَ مِنْهُ شَاةً، فَطَلَبَهُ الرَّاعِي، فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ الذِّئْبُ فَقَالَ : مَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبُعِ ؟ لَيْسَ لَهَا رَاعٍ غَيْرِي، فَقَالَ النَّاسُ : سُبْحَانَ اللهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : فَإِنِّي أُؤْمِنُ بِذَلِكَ، أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ .
৯১০। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ একদা এক রাখাল ছাগল চরাচ্ছিল। হঠাৎ একটি নেকড়ে বাঘ ছাগলের পালের উপর ঝাপিয়ে পড়লো এবং একটি ছাগী ধরে নিয়ে গেলো। তখন রাখাল তার পিছু ধাওয়া করলো। নেকড়েটি তাকে লক্ষ্য করে বললো, যেদিন হিংস্র শ্বাপদের রাজত্ব হবে সেদিন আমি ছাড়া আর কে তার রক্ষক হবে? উপস্থিত লোকজন বললো, সুবহানাল্লাহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি, আবু বাকর ও উমার তা বিশ্বাস করি। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ قَالَ : سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَيْدَةَ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي جَنَازَةٍ، فَأَخَذَ شَيْئًا فَجَعَلَ يَنْكُتُ بِهِ فِي الأَرْضِ، فَقَالَ : مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ قَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنَ النَّارِ، وَمَقْعَدُهُ مِنَ الْجَنَّةِ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ، أَفَلاَ نَتَّكِلُ عَلَى كِتَابِنَا، وَنَدَعُ الْعَمَلَ ؟ قَالَ : اعْمَلُوا، فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ، قَالَ : أَمَّا مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ فَسَيُيَسَّرُ لِعَمَلِ السَّعَادَةِ، وَأَمَّا مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الشَّقَاوَةِ فَسَيُيَسَّرُ لِعَمَلِ الشَّقَاوَةِ، ثُمَّ قَرَأَ : ( فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى ) .
৯১১। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি একটি জিনিস হাতে নিয়ে তা দিয়ে মাটিতে রেখা টানতে লাগলেন। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার ঠিকানা দোযখ অথবা বেহেশত লিপিবদ্ধ করা হয়নি। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি আমাদের ভাগ্যলিপির উপর নির্ভর করে কাজকর্ম ত্যাগ করবো না? তিনি বলেনঃ তোমরা কাজকর্ম করতে থাকো। কেননা যাকে যেজন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সেটি সহজসাধ্য করা হয়েছে। তিনি আরো বলেনঃ যে ব্যক্তি ভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হবে তার জন্য সৌভাগ্যজনক কাজ সহজসাধ্য করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি হতভাগ্য হবে তার জন্য দুর্ভাগ্যজনক কাজ সহজসাধ্য করা হয়েছে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেনঃ ”অনন্তর যে দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বাণীর সত্যতা ঘোষণা করে ...” (সূরা লাইলঃ ৫-৭)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أُسَيْدِ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ، عَنْ أُمِّهِ قَالَتْ : قُلْتُ لأَبِي قَتَادَةَ : مَا لَكَ لاَ تُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا يُحَدِّثُ عَنْهُ النَّاسُ ؟ فَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيُسَهِّلْ لِجَنْبِهِ مَضْجَعًا مِنَ النَّارِ، وَجَعَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَلِكَ وَيَمْسَحُ الأرْضَ بِيَدِهِ .
৯১২। উসাইদ ইবনে আবু উসাইদ (রহঃ) থেকে তার মায়ের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু কাতাদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললাম, আপনার কি হলো যে, লোকে যেরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস বর্ণনা করেন, আপনি তেমনটি করেন না? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন তার পার্শ্বদেশকে জাহান্নামের বিছানার জন্য সমতল করে নেয়। (একথা বলে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দ্বারা মাটি স্পর্শ করেন। (শাফিঈ)
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ قَالَ : سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ صُهْبَانَ الأَزْدِيَّ يُحَدِّثُ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ الْمُزَنِيِّ قَالَ : نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْخَذْفِ، وَقَالَ : إِنَّهُ لاَ يَقْتُلُ الصَّيْدَ، وَلاَ يُنْكِي الْعَدُوَّ، وَإِنَّهُ يَفْقَأُ الْعَيْنَ، وَيَكْسِرُ السِّنَّ .
৯১৩। আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল আল-মুযানী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নুড়িপাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ তা না পারে শিকার হত্যা করতে, আর না পারে শত্রুকে কাবু করতে। বরং তা চক্ষু নষ্ট করে অথবা দাঁত ভেঙ্গে দেয়। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ : أَخَذَتِ النَّاسَ الرِّيحُ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ، وَعُمَرُ حَاجٌّ، فَاشْتَدَّتْ، فَقَالَ عُمَرُ لِمَنْ حَوْلَهُ : مَا الرِّيحُ ؟ فَلَمْ يَرْجِعُوا بِشَيْءٍ، فَاسْتَحْثَثْتُ رَاحِلَتِي فَأَدْرَكْتُهُ، فَقُلْتُ : بَلَغَنِي أَنَّكَ سَأَلْتَ عَنِ الرِّيحِ، وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : الرِّيحُ مِنْ رَوْحِ اللهِ، تَأْتِي بِالرَّحْمَةِ، وَتَأْتِي بِالْعَذَابِ، فَلاَ تَسُبُّوهَا، وَسَلُوا اللَّهَ خَيْرَهَا، وَعُوذُوا مِنْ شَرِّهَا .
৯১৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, মক্কায় যাবার পথে লোকজন প্রবল বায়ু তাড়িত হলো। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও (তাদের সাথে) হজ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার চারপাশের লোকদের বলেন, এই বায়ু কী? তারা কিছুই উত্তর দিলো না। তখন আমি আমার বাহনটিকে তার দিকে ধাবিত করে তার নিকটে গিয়ে বললাম, আমি জানতে পারলাম যে, আপনি বায়ু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ”বাতাস হলো আল্লাহর রহমতের অন্তর্ভুক্ত। তা রহমতও বয়ে আনে, আবার আযাবও বয়ে আনে। অতএব তোমরা তাকে গালি দিও না, বরং তোমরা আল্লাহর কাছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করো এবং তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো”। (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُ قَالَ : صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ عَلَى أَثَرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلَةِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ : هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ ؟ قَالُوا : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ : أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ، فَأَمَّا مَنْ قَالَ : مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ، فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي كَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ، وَأَمَّا مَنْ قَالَ : بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا، فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي، مُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ .
৯১৫। যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়াতে আমাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায পড়লেন। ঐ রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। নামাযান্তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের দিকে ফিরে বলেনঃ তোমরা কি জানো, তোমাদের প্রভু কী বলেছেন? তারা বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সমধিক জ্ঞাত। আল্লাহ বলেন, ”আমার বান্দারা আমার প্রতি মুমিন ও কাফেররূপে প্রভাতে উপনীত হয়। যে বলে, আল্লাহর করুণা ও দয়ায় বৃষ্টি হয়েছে সে আমার প্রতি মুমিন এবং নক্ষত্রসমূহের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী”। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَى مَخِيلَةً دَخَلَ وَخَرَجَ، وَأَقْبَلَ وَأَدْبَرَ، وَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ، فَإِذَا مَطَرَتِ السَّمَاءُ سُرِّيَ، فَعَرَّفَتْهُ عَائِشَةُ ذَلِكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : وَمَا أَدْرِي لَعَلَّهُ كَمَا قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ : ( فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ ) .
৯১৬। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখলে (চিন্তিত হয়ে) ঘরে ঢোকতেন, আবার বের হতেন, সামনে যেতেন আবার পেছনে ফিরে আসতেন এবং তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেতো। বৃষ্টি হলে পর তাঁর মুখে হাসি ফোটতো। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার এরূপ অবস্থা সম্পর্কে তার সাথে আলাপ করলে তিনি বলেনঃ কি জানি এমনও তো হতে পারে যেরূপ আল্লাহ বলেছেন, ”অতঃপর তারা যখন মেঘমালাকে তাদের উপত্যকা অভিমুখে অগ্রসর হতে দেখলো তখন বললো, এতো সেই মেঘমালা যা আমাদের বৃষ্টি দিবে.....”। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)