হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (1269)


وَعَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ, عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا أَمَّرَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشٍ أَوْصَاهُ بِتَقْوَى اللَّهِ, وَبِمَنْ مَعَهُ مِنْ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا, ثُمَّ قَالَ: «اغْزُوا بِسْمِ اللَّهِ, فِي سَبِيلِ اللَّهِ, قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ, اغْزُوا, وَلَا تَغُلُّوا, وَلَا تَغْدُرُوا, وَلَا تُمَثِّلُوا, وَلَا تَقْتُلُوا وَلِيدًا, وَإِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى ثَلَاثِ خِصَالٍ, فَأَيَّتُهُنَّ أَجَابُوكَ إِلَيْهَا, فَاقْبَلْ مِنْهُمْ, وَكُفَّ عَنْهُمْ:
ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ.
ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ, فَإِنْ أَبَوْا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ, وَلَا يَكُونُ لَهُمْ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَيْءِ شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ.
فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْأَلْهُمْ الْجِزْيَةَ, فَإِنْ هُمْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ, فَإِنْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَقَاتِلْهُمْ.
وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ, فَلَا تَفْعَلْ, وَلَكِنِ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ; فَإِنَّكُمْ إِنْ تُخْفِرُوا ذِمَمَكُمْ أَهْوَنُ مِنْ أَنَّ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ, وَإِذَا أَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِلَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ, فَلَا تَفْعَلْ, بَلْ عَلَى حُكْمِكَ; فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي أَتُصِيبُ فِيهِمْ حُكْمَ اللَّهِ أَمْ لَا». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1731) (3) وقد اختصر الحافظ بعض عباراته




১২৬৯। সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত; তিনি তার পিতা বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন ছোট বা বড় সৈন্যদলের জন্য কাউকে নেতা নির্বাচন করে দিতেন তখন বিশেষভাবে তাকে আল্লাহকে ভয় করার, মুজাহিদ মুসলিমদের সাথে কল্যাণ করার জন্য উপদেশ দিতেন। তারপর বলতেন, আল্লাহর নামে আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর, যে আল্লাহর সাথে কুফরী করছে তার তাথে যুদ্ধ কর, যুদ্ধ করবে, গনিমাতের মালে খিয়ানাত করবে না, প্রতারণা করবে না, অঙ্গহানি করবে না, বালকদের হত্যা করবে না, যখন তুমি মুশরিক শক্ৰদের সাথে মুকাবিলা করবে তখন তাদেরকে তিনটি বিষয়ের দাওয়াত দিবে, তার যে-কোন একটি কুবুল করে নিলে তুমি তা মেনে নেবে- তাদের উপর হাত উঠবে না।



ক) তাদেরকে ইসলাম কুবুল করার দাওয়াত দেবে। যদি তারা তা কুবুল করে তুমি তাদের এ স্বীকৃতি মেনে নেবে। তারপর তাদেরকে মুহাজিরদের কাছে হিজরাত করে আসার জন্য দাওয়াত দেবে। যে, তারা সাধারণ গ্ৰাম্য মুসলিমদের সমশ্রেণীভুক্ত হয়ে থাকবে আর গনিমাত ও ফাই-এর মালে তাদের জন্য কোন অংশ হবে না, তবে যদি তারা মুসলিমদের সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করে (মাত্র তখন পাবে)।



খ) যদি তারা ইসলাম ক্ববুল করতে রাজি না হয় তবে তাদের কাছে জিযইয়া (এক প্রকার ট্যাক্স) দাবি করবে। যদি তারা স্বীকার করে তবে তাদের এ স্বীকৃতি মেনে নেবে (আর তাদের দিকে আক্রমণের হাত বাড়াবে না)। আর যদি তারা জিযইয়া কর দিতে অস্বীকার করে তবে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করবে: ও তাদের সাথে যুদ্ধ করবে। (বিনা যুদ্ধে শত্রুপক্ষের যে মাল হস্তগত হয় তাকে ফাই বলে)।



গ) আর যখন কোন দুৰ্গবাসীদের অবরোধ করবে তখন যদি তারা আল্লাহ ও তার রাসূলের জিম্মায় আসার কোন প্রস্তাব তোমার কাছে পেশ করে, তবে তুমি তা স্বীকার করবে না। বরং তুমি তোমার নিজের জিম্মায় তাদের নিতে পারবে।[1] কেননা তোমাদের জিম্মা নষ্ট করা অনেক সহজ ব্যাপার, আল্লাহর জিম্মাকে নষ্ট করার চেয়ে।



আর যদি তারা আল্লাহর ফায়সালায় উপনীত হওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে তুমি তা করবে না। বরং তুমি নিজের ফায়সালার অধীনে তাদেরকে আশ্রয় দেবে। কেননা তুমি অবগত নও যে, তুমি আল্লাহর ফায়সালা তাদের উপর সঠিকভাবে করতে পারবে কি, পারবে না।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] تخفروا শব্দের অর্থ: (প্রতিজ্ঞা) ভঙ্গ করা।

[2] হাফেয ইবনু হাজার আসকালানী উক্ত হাদীসের কিছু ইবারত সংক্ষিপ্ত করেছেন। মুসলিম ১৭৩১, তিরমিযী ১৪০৮, ১৬১৭, আবূ দাউদ ২৬১২, ২৬১৩, ইবনু মাজাহ ২৮৬৮, আহমাদ ২২৪৬৯, ২২৪২১, দারেমী ২৪৩৯।









বুলূগুল মারাম (1270)


وَعَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ إِذَا أَرَادَ غَزْوَةً وَرَّى بِغَيْرِهَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ


تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2947)، ومسلم (2769) (54) ورى: أي سترها وأوهم غيرها




১২৭০। ‘আবদুল্লাহ ইবনু কাব ইবনু মালিক হতে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোথাও যুদ্ধে যাবার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি অন্য দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়ে তা গোপন রাখতেন। (কৌশলে গোপনীয়তা অবলম্বন করতেন।)[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ورى শব্দের অর্থ : নিজের বেশভুষা লুকিয়ে রেখে অন্যকে বিভ্রান্তিতে ফেলা।

বুখারী ২৭৫৮, ২৯৪৮, ২৯৪৯, ২৯৫০, ৩০৮৮, মুসলিম ২৭৬৯, তিরমিযী ৩১০২, নাসায়ী ৩৮২৪, ৩৮২৫, ৩৮২৬, আবূ দাউদ ২২০২, আহমাদ ১৫৩৪৩, ১৫৩৪৫, ১৫৩৪৪।









বুলূগুল মারাম (1271)


وَعَنْ مَعْقِلٍ; أَنَّ النُّعْمَانَ بْنَ مُقَرِّنٍ قَالَ: شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا لَمْ يُقَاتِلْ أَوَّلَ النَّهَارِ أَخَّرَ الْقِتَالِ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ, وَتَهُبَّ الرِّيَاحُ, وَيَنْزِلَ النَّصْرُ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالثَّلَاثَةُ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ. (1) وَأَصْلُهُ فِي الْبُخَارِيِّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (5/ 444 - 445)، وأبو داود (2655)، والنسائي في «الكبرى» (5/ 191)، والحاكم (2/ 116)

رواه البخاري (3160) عنه قال: ولكني شهدت القتال مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، كان إذا لم يقاتل في أول النهار انتظر حتى تهب الأرواح، وتحضر الصلوات




১২৭১। মাকিল (রাঃ) হতে বর্ণিত; নুমান ইবনু মুক্কারিন (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি তিনি যখন দিনের প্রথমাংশে যুদ্ধ না করতেন তখন সূর্য পশ্চিমাকাশে যাওয়ার পরে (স্নিগ্ধ) হাওয়া চললে এবং আল্লাহর সাহায্য অবতরণ হলে যুদ্ধ করতেন। -হাদীসটির মূল বুখারীতে রয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, নু’মান (র.) বলেন, ولكني شهدت القتال مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، كان إذا لم يقاتل في أول النهار انتظر حتى تهب الأرواح، وتحضر الصلوات আমিও আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে অনেক যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। তাঁর নিয়ম এ ছিল যে, যদি দিনের পূর্বাহ্নে যুদ্ধ শুরু না করতেন, তবে তিনি বাতাস প্রবাহিত হওয়া এবং সালাতের সময় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। বুখারী ৭৫৩০, তিরমিযী ১৬১২, ১৬১৩, ২৬৫৪।









বুলূগুল মারাম (1272)


وَعَنِ الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنِ الدَّارِ مِنَ الْمُشْرِكِينَ (1) يُبَيِّتُونَ, فَيُصِيبُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ وَذَرَارِيهِمْ, فَقَالَ: «هُمْ مِنْهُمْ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح رواه البخاري (6/ 146 / فتح)، مسلم (1745) يبيتون: أي يغار عليهم بالليل




১২৭২। সাব ইবনু জাসসামাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মুসলিমদের রাত্রিকালীন আক্রমণে মুশরিকদের মহিলা ও শিশুরা নিহত হয়, তবে কী হবে? আল্লাহর রসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বলেন, তারাও তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] يبيتون শব্দের অর্থঃ أي يغار عليهم بالليل অর্থাৎ রাত্রিকালে অভিযান পরিচালনা করা। বুখারী ৩০১২, ২৩৭০, মুসলিম ৭৫৪৫, ১৫১৭, আবূ দাউদ ২৬৭২, ৩০৮৩, ইবনু মাজাহ ২৮৩৯, আহমাদ ২৭৯০২, ২৭৮০৯।









বুলূগুল মারাম (1273)


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا; - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ لِرَجُلٍ تَبِعَهُ يَوْمَ بَدْرٍ: «ارْجِعْ، فَلَنْ أَسْتَعِينَ بِمُشْرِكٍ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1817) وهو بتمامه: عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم؛ أنها قالت: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل بدر، فلما كان بحرة الوبرة أدركه رجل قد كان يذكر منه جرأة ونجدة، ففرح أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم حين رأوه، فلما أدركه قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: جئت لأتبعك، وأصيب معك. قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تؤمن بالله ورسوله؟» قال: لا. قال: ..... فذكر الحديث. وزاد: قالت: ثم مضى، حتى إذا كنا بالشجرة أدركه الرجل. فقال له كما قال أول مرة. فقال له النبي صلى الله عليه وسلم كما قال أول مرة. قال: «فارجع. فلن أستعين بمشرك» ثم رجع فأدركه بالبيداء. فقال له كما قال أول مرة: «تؤمن بالله ورسوله؟» قال: نعم. فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: فانطلق




১২৭৩। আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত; এক (মুশরিক) লোক বদরের যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যাচ্ছিল তিনি ঐ লোকটিকে বলেনঃ তুমি ফিরে যাও, আমি কখনোও মুশরিকের সাহায্য (এ কাজে) নেব না।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৮১৭, তিরমিযী ১৫৫৮, আবূ দাউদ ২৭৩২, ইবনু মাজাহ ২৮৩২, আহমাদ ২৩৮৬৫, ২৪৬৩২, দারেমী ২৪৯৬।









বুলূগুল মারাম (1274)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - رَأَى امْرَأَةً مَقْتُولَةً فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ, فَأَنْكَرَ قَتْلَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (3014)، ومسلم (1774)، وفي رواية لهما أيضًا: «فنهى عن قتل النساء والصبيان




১২৭৪। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন একটি স্ত্রীলোককে তার কোন যুদ্ধে নিহত দেখে মেয়েদের ও বালকদের নিহত হওয়াতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন (অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী এবং মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাঃ) মহিলা এবং বাচ্চাদেরকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। বুখারী ৩০১৪, ৩০১৫, মুসলিম ১৭৪৪, তিরমিযী ১৫৬৯, আবূ দাউদ ২৬৬৮, ইবনু মাজাহ ২৮৪১, আহমাদ ৪৭২৫, ৬০১৯, মালেক ৯৮১, দারেমী ২৪৬২।









বুলূগুল মারাম (1275)


وَعَنْ سَمُرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «اقْتُلُوا شُيُوخَ الْمُشْرِكِينَ, وَاسْتَبْقُوا شَرْخَهُمْ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (2670) واللفظ له، والترمذي (1583) من طريق قتادة، عن الحسن، عن سمرة، به قلت: وهذا سند ضعيف؛ إذ الحسن مدلس، وقد عنعنه




১২৭৫। সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুশরিকদের মধ্যে (যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী) বৃদ্ধিদেরকে হত্যা কর এবং তাদের কিশোরদেরকে অব্যাহতি দাও।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ২৬৭০, তিরমিযী ১৫৮৩। ইবনুল কাত্তান তাঁর আল ওয়াহম ওয়াল ঈহাম গ্রন্থে ৪/১৬৭ গ্রন্থে বলেন, এর এক বর্ণনাকারী বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ সম্পর্কে জেনেছি, তার হাদীস পরিত্যাগ করা হয়েছে। এর সানাদে বাকিয়া ইবনুল ওয়ালিদ রয়েছেন যার অবস্থা জানা যায় ও তার থেকে মুনকার হাদীসের বর্ণনা পাওয়া যায়। আর সাঈদ বিন বাশীর এর মাধ্যমে দলীল সাব্যস্ত হয় না।

ইমাম শাওকানী নাইলুল আওত্র ৫/৩৭০ গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৮৭৯ গ্রন্থে সাঈদ বিন বাশরীকে দুর্বল বলেছেন। এছাড়া যঈফ তিরমিযী ১৫৮৩, যঈফ আবূ দাউদ ২৬৭০ গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (1276)


وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه: أَنَّهُمْ تَبَارَزُوا يَوْمَ بَدْرٍ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
وَأَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ مُطَوَّلًا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (3965)
رواه أبو داود (2665)




১২৭৬। ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত; বদরের যুদ্ধে তারা শত্রুর মুকাবিলায় (এককভাবে) সৈন্য দলের মধ্য হতে বের হয়ে লড়েছিলেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩৯৬৭, ৪৭৪৪, ৩৯৬৫।









বুলূগুল মারাম (1277)


وَعَنْ أَبِي أَيُّوبَ - رضي الله عنه - قَالَ: إِنَّمَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِينَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ, يَعْنِي: (وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ) (1) قَالَهُ رَدًّا عَلَى مَنْ أَنْكَرَ عَلَى مَنْ حَمَلَ عَلَى صَفِ الرُّومِ حَتَّى دَخَلَ فِيهِمْ. رَوَاهُ الثَّلَاثَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (2665)
صحيح. رواه أبو داود (2512)، والنسائي في «التفسير» (49) والترمذي (2972)، وابن حبان (1667)، والحاكم (2/ 275) وقال الترمذي: حديث حسن صحيح غريب




১২৭৭। আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, ওয়ালা তুলকু .... আয়াতটি আনসার সম্প্রদায় প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। (আয়াতটির অর্থঃ তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না।) আয়াতটি ঐসব আনসারী মুসলিমদের মনোভাবের প্রতিবাদে অবতীর্ণ হয়েছিল যারা-রোমক সৈন্যের উপর আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুসৈন্যের মধ্যে প্রবেশকারী মুজাহিদদের কাজকে অনুচিত কাজ বলে মন্তব্য করেছিলেন। (অর্থাৎ কুরআনের উপরোক্ত আয়াতে মুসলিমদের যুদ্ধে উৎসাহী ও নিৰ্ভিক হওয়ার জন্য জোর তাগিদ করা হয়েছে এবং ধর্মীয় সংগ্রামকে ধ্বংসের কারণ মনে করার ঘোর প্রতিবাদ করা হয়েছে) এবং যুদ্ধে অংশগ্ৰহণ না করে ঘরে বসে থাকাকে ধ্বংসের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ২৫১২, তিরমিযী ২৯৭২।









বুলূগুল মারাম (1278)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: حَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ, وَقَطَعَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (4031)، ومسلم (1746) وزادا: «وهي البويرة. فأنزل الله عز وجل: مَا قَطَعْتُم مِّن لِّينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَىٰ أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ




১২৭৮। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানু নাযীর গোত্রের খেজুরের গাছ জ্বালিয়ে দেন ও কেটে ফেলেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সে খেজুর গাছটি বুওয়াইরাহ নামক জায়গায় ছিল। এ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়: مَا قَطَعْتُم مِّن لِّينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَىٰ أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ তোমরা যে খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলেছ অথবা যেগুলো কাণ্ডের উপর ঠিক রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে”। বুখারী ২৩২৬, ৩০২১, ৩০৩২, ৪৮৮৪, মুসলিম ১৭৮৬, তিরমিযী ১৫৫২, ৩৩০২, আর দাউদ ২৬১৫, ইবনু মাজাহ ২৮৪৪, ২৮৪৫, আহমাদ ৪৫১৮, ৫১১৫, ৫৪৯৫, দারেমী। ২৪৬০।









বুলূগুল মারাম (1279)


وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا تَغُلُّوا; فَإِنَّ الْغُلُولَ نَارٌ وَعَارٌ عَلَى أَصْحَابِهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. انظر الأصل




১২৭৯। উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গাণীমতের মালে কোন খিয়ানত (অন্যায়ভাবে অধিকার) করবে না। এরূপ করার ফলে ইহকালে ও পরকালে অগ্নি ও লজ্জা উভয়ই ভোগ করতে হবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ ২২১৯১।









বুলূগুল মারাম (1280)


وَعَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَضَى بِالسَّلَبِ لِلْقَاتِلِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ. وَأَصْلُهُ عِنْدَ مُسْلِمٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (2719) في حديث طويل
رواه مسلم (1753) (44)




১২৮০। আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হত্যাকারী মুজাহিদকে (প্রতিপক্ষের নিহত ব্যক্তির) সালাব (পরিত্যক্ত সামগ্ৰী) দেয়ার ফায়সালা দিয়েছিলেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ২৭১৯, ২৭২১, মুসলিম ১৭৫৩, আহমাদ ২৩৪৬৭, ২৩৪৭৭।









বুলূগুল মারাম (1281)


وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ - رضي الله عنه - فِي - قِصَّةِ قَتْلِ أَبِي جَهْلٍ - قَالَ: فَابْتَدَرَاهُ بِسَيْفَيْهِمَا حَتَّى قَتَلَاهُ, ثُمَّ انْصَرَفَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَأَخْبَرَاهُ, فَقَالَ: «أَيُّكُمَا قَتَلَهُ هَلْ مَسَحْتُمَا سَيْفَيْكُمَا» قَالَا: لَا. قَالَ: فَنَظَرَ فِيهِمَا, فَقَالَ: «كِلَاكُمَا قَتَلَهُ, سَلْبُهُ لِمُعَاذِ بْنِ عَمْرِوِ بْنِ الْجَمُوحِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (3141)، ومسلم (1752)، وقد ساقه الحافظ هنا مختصرًا




১২৮১। ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আউফ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আবূ জাহলের হত্যাকারীদ্বয় নিজের তরবারী নিয়ে তার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাকে আঘাত করে হত্যা করল। অতঃপর আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে ফিরে এসে তাঁকে জানালো। তখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে কে তাকে হত্যা করেছে? আল্লাহর রসূল (রাঃ) বললেন, তোমাদের তরবারী তোমরা মুছে ফেলনি তো? তারা উভয়ে বলল, না। তখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের তরবারী দেখলেন এবং বললেন, তোমরা উভয়ে তাকে হত্যা করেছে। অবশ্য তার নিকট হতে প্রাপ্ত মালামাল মুআয ইবনু ‘আমর ইবনু জামূহের জন্য।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩৯৮৮, ৩১৪১, মুসলিম ১৭৫২, আহমাদ ১৬৭৬।









বুলূগুল মারাম (1282)


وَعَنْ مَكْحُولٍ; - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - نَصَبَ الْمَنْجَنِيقَ عَلَى أَهْلِ الطَّائِفِ - أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي «الْمَرَاسِيلِ» وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ
وَوَصَلَهُ الْعُقَيْلِيُّ بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ عَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود في «المراسيل» (335) من طريق سفيان، عن ثور، عن مكحول، به. وهو وإن كان صحيح السند، فهو ضعيف؛ لأنه مرسل. وروي أيضًا بسند صحيح، عن الأوزاعي قال: قلت ليحيى بن أبي كثير: أبلغك أن النبي صلى الله عليه وسلم رماهم بالمنجنيق؟ فأنكر ذلك. وقال: ما يعرف هذا




১২৮২। মাকহুল (রহঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়িফবাসীর উপর মিনজানিক (ক্ষেপনাস্ত্ৰ) ব্যবহার করেছিলেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম যাহাবী তাঁর মীযানুল ই’তিদাল ২/৪১৩ গ্রন্থে বলেন, এতে আবদুল্লাহ বিন খাররাশ বিন হাওশাব রয়েছে যার ক্ৰটি বর্ণনা করা হয়েছে। খুলাসাহ আল বাদারুল মুনীর ২/৩৪৫ গ্রন্থে একে মুরসাল বলেছেন। ইবনু হাজার তাঁর আত-তালখীসুল হাবীর ৪/১৪৩৯ গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি মুরসাল, উকাইল ভিন্ন সানাদে আলী থেকে মুত্তাসিলরূপে বর্ণনা করেছেন।

শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব তাঁর আল-হাদীস কিতাবে ৩/২৪৩ গ্রন্থে বলেন, এর বর্ণনাটি মুরসাল। আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৮৮৬ গ্রন্থে একে মুরসাল উল্লেখ করে বলেন, অন্য একটি বর্ণনায় চল্লিশ দিন কথাটি বৃদ্ধি করে বর্ণিত হয়েছে সেটিও মুরসাল তবে তা সহীহ সানাদে বর্ণিত। ইমাম আবূ দাউদ একে তার মারাসীল ৩৯২ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবনু কাসীর তাঁর ইরশাদুল ফাকিয়্যাহ ২/৩০৬ গ্রন্থে এবং ইবনু হাজার তাঁর আদি দিরায়্যাহ ২/১১৫ গ্রন্থে একে মুরসাল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (1283)


وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - دَخَلَ مَكَّةَ وَعَلَى رَأْسِهِ الْمِغْفَرُ, فَلَمَّا نَزَعَهُ جَاءَهُ رَجُلٌ, فَقَالَ: ابْنُ خَطَلٍ مُتَعَلِّقٌ بِأَسْتَارِ الْكَعْبَةِ, فَقَالَ: «اقْتُلُوهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (3044)، ومسلم (1357)




১২৮৩। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। (মাক্কাহ জয়ের বছর) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় শিরস্ত্ৰাণ পরা অবস্থায় প্রবেশ করেন। যখন তিনি তা খুলে ফেললেন, এক ব্যক্তি এসে বললো, ইবনু খাতাল কাবার পর্দা ধরে আছে। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তাকে হত্যা কর। (মুত্তাফাকুন আলাইহি)[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৮৪৬, ৪২৮৬, ৫৮০৮, মুসলিম ১৩৫৭, তিরমিযী ১৬৯৩, নাসায়ী ২৮৬৭, আর দাউদ ২৬৮৫, ইবনু মাজাহ ২৮০৫, আহমাদ ১১৬৫৭, ১২২৭০।









বুলূগুল মারাম (1284)


وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ; - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَتَلَ يَوْمَ بَدْرٍ ثَلَاثَةً صَبْرًا. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي «الْمَرَاسِيلِ» وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف؛ لإرساله. وهو في «المراسيل» برقم (337)




১২৮৪। সাঈদ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধে তিনজনকে বোধে হত্যা করিয়েছিলেন। (আবূ দাউদ তাঁর মারাসীলে বর্ণনা করেন, এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য)[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু উসাইমীন শরহে বুলুগুল মারাম ৫/৪৮৬ গ্রন্থে বলেন, এর সহীহ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। তবে এর শাহেদ হাদীস রয়েছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের দিন তিন ব্যক্তিকে বেঁধে হত্যা করেছিলেন, আল মুতঈম বিন আদী, আন নাযার ইবনুল হারিস ও উকবা বিন আবূ মুঈত। ইবনু হাজার তাঁর আদি দিরায়াহ ২/১১৯ গ্রন্থে মুরসাল বলেছেন, আলবানী ইরওয়াউল গালীলে ১২১৪ একে যঈফ বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (1285)


وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ - رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَدَى رَجُلَيْنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ بِرَجُلٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ. أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ
وَأَصْلُهُ عِنْدَ مُسْلِمٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الترمذي (1568) وقال: «هذا حديث حسن صحيح

رواه مسلم (1641) في حديث طويل من رواية عمران رضي الله عنه، وفيه: أسرت ثقيف رجلين من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأسر أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا. ففدي بالرجلين




১২৮৫। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুজন মুসলিমকে মুক্ত করার জন্য বিনিময়ে একজন মুশরিক বন্দীকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। -তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। হাদীসটির মূল মুসলিমে রয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ মুসলিমের ইমরান (রাঃ) থেকে বর্ণিত একটি লম্বা হাদীসে রয়েছে, أسرت ثقيف رجلين من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأسر أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا ففدي بالرجلين বানু সাকীফ গোত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুজন সাহাবাকে বন্দী করে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণও তাদের একজনকে বন্দী করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জন মুসলিমকে মুক্ত করার জন্য বিনিময়ে একজন মুশরিক বন্দীকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। মুসলিম ১৬৪১, তিরমিযী ১৫৬৮, আহমাদ ১৯৩২৬, দারেমী ২৪৬৬।









বুলূগুল মারাম (1286)


وَعَنْ صَخْرِ بْنِ الْعَيْلَةِ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِنَّ الْقَوْمَ إِذَا أَسْلَمُوا؛ أَحْرَزُوا دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (3067) وهو وإن كان ضعيف السند؛ إلا أن في الباب ما يشهد له




১২৮৬। সাখর ইবনু আইলাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: কোন ক্বাওম যখন ইসলাম ক্ববুল করে তখন তারা তাদের রক্ত ও সম্পদকে নিরাপদ করে নেয়। -হাদীসের রাবীগণ মজবুত।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] উক্ত হাদীসের সানাদ দুর্বল হলেও এর শাহেদ হাদীস থাকার কারণে হাদীসটি হাসান। আবূ দাউদ ৩০৬৭, আহমাদ ১৮৩০১, দারেমী ১৬৭৩।









বুলূগুল মারাম (1287)


وَعَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعَمٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ فِي أُسَارَى بَدْرٍ: «لَوْ كَانَ الْمُطْعِمُ بْنُ عَدِيٍّ حَيًّا, ثُمَّ كَلَّمَنِي فِي هَؤُلَاءِ النَّتْنَى لَتَرَكْتُهُمْ لَهُ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (3139)




১২৮৭। জুবাইর ইবনু মুতয়িম (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধ বন্দীদের ব্যাপারে বলেন, ‘যদি মুতয়িম ইবনু আদী (রাঃ) জীবিত থাকতেন আর আমার নিকট এ সকল নোংরা লোকের জন্যে সুপারিশ করতেন, তবে আমি তাঁর সম্মানার্থে এদের মুক্ত করে দিতাম।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৪০২৪, ৩১৩৯, আবূ দাউদ ২৬৮৯, আহমাদ ২৭৫০৬।









বুলূগুল মারাম (1288)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: أَصَبْنَا سَبَايَا يَوْمَ أَوْطَاسٍ لَهُنَّ أَزْوَاجٌ, فَتَحَرَّجُوا, فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: (وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ) [النساء: 24]. أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1456)




১২৮৮। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: আওতাস নামক যুদ্ধে আমরা এমন কিছু যুদ্ধবন্দিনী লাভ করি যাদের স্বামী রয়েছে। ঐ বন্দিনীদের সাথে সহবাসকে মুসলিমগণ গুনাহের কাজ মনে করলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেন- স্বামীওয়ালা মেয়েরা তোমাদের জন্য হারাম, বন্দিনী দাসী মেয়েদের ক্ষেত্রে তা নয়।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৪৫৬, তিরমিযী ১১৩২, ৩০১৬, ৩০১৭, নাসায়ী ৩৩৩৩, আর দাউদ ২১৫৫, আহমাদ ১১৩৮৮।